Tag: congress

congress

  • Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি-বিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে (Modi Govt) পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশকে। এমতাবস্থায় বিরোধী দল (Rahul Gandhi) কংগ্রেস এক অভ্যন্তরীণ দ্বিধার সম্মুখীন। রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, নিরন্তর তা-ই ভেবে চলেছেন শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেসের মাথারা।

    কংগ্রেসে ফাটল (Rahul Gandhi)

    ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং দেশে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি এই দ্বন্দ্বকে ফের একবার সামনে নিয়ে এসেছে। এই মুহূর্তটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে শুধু কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তর থেকেই উঠে আসা তীব্র মতপার্থক্য। এই বিভেদের কেন্দ্রে রয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করেন। তবে এই সমালোচনার জবাব শুধু শাসকদলই দেয়নি, কংগ্রেসেরই বহু প্রবীণ নেতাও এর বিরোধিতা করেছেন।

    রাহুলের বেফাঁস মন্তব্য

    রাহুল মোদি সরকারের বিদেশনীতিকে “সমঝোতাপূর্ণ” এবং “ক্ষতিগ্রস্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এহেন মন্তব্যটি করেন ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষিতে। তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, দাবি তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনির হত্যার ঘটনার নিন্দে করার। তবে এই অবস্থান দলের ভেতরেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রবীণ নেতা শশী থারুর সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের অবস্থান একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনীতির উদাহরণ।” তাঁর বক্তব্যে কূটনীতির একটি সূক্ষ্ম ও বাস্তববাদী বোঝাপড়া ফুটে ওঠে, যেখানে বৈশ্বিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করাটা ভীষণভাবে জরুরি (Rahul Gandhi)।

    দ্বিধা বিভক্ত কংগ্রেস

    এই মতপার্থক্য শুধু কথার লড়াই নয়, এটি কংগ্রেসের ভেতরে দুটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত—একটি রাজনৈতিক বিরোধিতার ভিত্তি, অন্যটি কৌশলগত বাস্তববাদ (Modi Govt)। থারুর একা নন। প্রবীণ নেতা আনন্দ শর্মা সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে “পরিপক্ব ও দক্ষ” বলে প্রশংসা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক সঙ্কটকালে জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিদেশনীতি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। কংগ্রেস নেতা মনীশ তেওয়ারিও বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সামলাতে সরকার সম্ভবত সঠিক কাজই করছে।” বস্তুত, এটি বিরোধী শিবিরের এক নেতার বিরল স্বীকারোক্তি।

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন দেখা গিয়েছে। এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে কমল নাথ ঘাটতির দাবি নাকচ করে দেন, যা দলের বৃহত্তর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, “সঙ্কটের একটি ধারণা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এতে আদতে উপকৃত হচ্ছে বিজেপি। কারণ এটি শাসক বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছি।” রাহুলের দলের এই বিরোধিতা নতুন কিছু নয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে চালু হওয়া অপারেশন সিঁদুরের পরেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল (Rahul Gandhi)। রাহুল সরকারের “রাজনৈতিক সদিচ্ছা” নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, কংগ্রেসেরই থারুর এবং তেওয়ারি প্রকাশ্যে অভিযানকে সমর্থন করেন, প্রশংসা করেন সেনাবাহিনীর। তাঁদের এই অবস্থানকে দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে (Modi Govt)।

    থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি

    সরকার যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গঠন করে, সেখানে থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি কংগ্রেস নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। থারুরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকায় একটি প্রতিনিধিদলের প্রধান করা হলে এই অস্বস্তি আরও প্রকট হয় (Rahul Gandhi)। সংসদে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কেও থারুর এবং তেওয়ারিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়াও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত আবারও এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতের পরিমিত ও কৌশলী কূটনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। আনন্দ জানান, এই নীতি ভারতকে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করেছে। তিনি পারস্য (আধুনিক ইরান)-এর সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। (Rahul Gandhi)

    এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্য

    কমল নাথের এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্যও দেখায় যে দলের সব নেতা কেন্দ্রীয় অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। এই পরিস্থিতিতে দলে রাহুলের নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। এটি আর কোনও বিচ্ছিন্ন মতভেদ নয়, বরং এমন একটি প্রবণতা, যেখানে অভিজ্ঞ নেতারা তাঁর অবস্থানের সঙ্গে নিঃশর্তভাবে একমত হতে অনিচ্ছুক, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে। থারুর, আনন্দ, কমল নাথ ও তেওয়ারির মতো অভিজ্ঞ নেতাদের প্রকাশ্য মতবিরোধ কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ঐকমত্যের কঙ্কালসার চেহারাটাই তুলে ধরে (Modi Govt)।ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে কংগ্রেস যেন নিজেদের নেতৃত্বকেই যাচাই করছে। এতে দলের সমালোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।

    বড় চ্যালেঞ্জ

    রাজনৈতিক যোগাযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অসঙ্গতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি বিরোধী দলের শক্তি আসে সুসংহত ও পরিষ্কার বার্তা থেকে। কিন্তু যখন দলের প্রবীণ নেতারা ভিন্ন বা পরিমিত মতামত দেন, তখন দলের অবস্থান বিভক্ত হয়ে যায়। কংগ্রেসের এই সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন। সেটি হল, জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ না করে কীভাবে সরকারের সমালোচনা করা যায় (Rahul Gandhi)? থারুর ও শর্মার মতো নেতারা দ্বিদলীয় (bipartisan) দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে, যেখানে ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, রাহুলের অবস্থান বেশি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক একটি কৌশলের প্রতিফলন, যা কখনও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হতে পারে। কংগ্রেসের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার—নেহরুর নিরপেক্ষ আন্দোলন থেকে নরসিমা রাওয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার—এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস

    বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, দল কি তার কৌশলগত ঐতিহ্যকে আধুনিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারবে? অপারেশন সিঁদুর থেকে ইরানের সংঘাত—সব মিলিয়ে কংগ্রেস এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সন্ধিক্ষণে (Modi Govt)। একদিকে আক্রমণাত্মক বিরোধিতা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের সংযত ও বাস্তববাদী অবস্থানের ঘূর্ণিপাকেই ঘুরপাক খাচ্ছে কংগ্রেস (Rahul Gandhi)। এই মতপার্থক্য যদি গঠনমূলক আলোচনার রূপ নেয়, তবে তা ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু যদি এটি গভীর বিভাজনে পরিণত হয়, তবে তা কংগ্রেস ও ভারতের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বর্তমান সময়ে যখন ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতি ক্রমশ জড়িয়ে যাচ্ছে, তখন সুসংহত ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান উপস্থাপন করার ক্ষমতাই নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা।

     

  • PM Modi: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র, কারা কারা উপস্থিত থাকবেন?

    PM Modi: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র, কারা কারা উপস্থিত থাকবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট (West Asia Conflict) নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র। বুধবার বৈঠক হবে বিকেল ৫টায়। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। উপস্থিত থাকতে পারেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও।

    সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক কেন্দ্রের (PM Modi)

    পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই বৈঠক (PM Modi) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের ওপর। উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। মঙ্গলবারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান, তিন বাহিনীর প্রধান, ডিআরডিওর চেয়ারম্যান সমীর কামাত-সহ অন্যরা। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির (CCS) বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের পরিস্থিতি এবং তার মোকাবিলায় নেওয়া প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলি পর্যালোচনা করেন। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মন্ত্রী ও সচিবদের একটি বিশেষ দল গঠনের নির্দেশও দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় ভাষণের পর আয়োজিত হচ্ছে এই সর্বদলীয় বৈঠক। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “জ্বালানি, সরবরাহ ব্যবস্থা, সার-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশল তৈরির জন্য সরকার সাতটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী গঠন করেছে, যাতে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাব কমানো যায়।” সোমবার লোকসভায় তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এজন্য দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত থাকতে হবে, যেমনটি কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ছিল। পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, ব্যাহত হয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজের অনায়াস যাতায়াত। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে (PM Modi)।

    বৈঠকে থাকছেন না রাহুল

    এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যার ফলে সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচল আরও বিঘ্নিত হয়। এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর (West Asia Conflict)। এদিনের সর্বদলীয় বৈঠকে হাজির থাকবেন না লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, কেরালায় একটি নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে এই সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। প্রসঙ্গত, এর আগে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেছিল, “সঙ্কট নিয়ে তাঁর বক্তব্য ছিল নিজের প্রশংসায় ভরা আগেভাগেই তৈরি করে দেওয়া একটি লেখা”। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পশ্চিম এশিয়া ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রায় এক কোটি ভারতীয় সেখানে বসবাস ও কাজ করেন। তাছাড়া এই অঞ্চলের সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিকও কাজ করেন (PM Modi)।”

    ঐক্যবদ্ধ ও সর্বসম্মত বার্তা দিতেই বৈঠক

    তিনি এও বলেন, “এই বিভিন্ন কারণেই ভারতের উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তাই এই সঙ্কট নিয়ে ভারতের সংসদ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সর্বসম্মত বার্তা বিশ্বে পৌঁছনো অত্যন্ত জরুরি।” ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময়ও হয়েছে তাঁদের মধ্যে। তিনি বলেন, “ভারত দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের এবং শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে। হরমুজ প্রণালী খোলা, নিরাপদ এবং সকলের জন্য সহজলভ্য রাখা (West Asia Conflict) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টায় আমরা যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছি (PM Modi)।”

  • Kerala Polls: কেরলে ফের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির, নাম ঘোষণা ১১ জনের

    Kerala Polls: কেরলে ফের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির, নাম ঘোষণা ১১ জনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরল বিধানসভা নির্বাচনের (Kerala Polls) প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrashekhar) বলেন, “এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতার প্রতিফলন, যা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির তুলনায় ভিন্ন”।

    কী বললেন চন্দ্রশেখর (Kerala Polls)

    রবিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চন্দ্রশেখর বলেন, “আপনি স্পষ্টভাবেই দেখতে পাবেন, আমাদের আসন বণ্টন কীভাবে হয়েছে এবং সবকিছু কতটা খোলামেলা ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে, দলের ভেতরে তো বটেই, এনডিএর শরিকদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় কংগ্রেস এবং সিপিআই (মার্ক্সবাদী)-এ যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে, তা একেবারেই ভিন্ন ছবি।” তিনি জানান, এই পদ্ধতি রাজ্যে শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে জোটের উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে। চন্দ্রশেখর বলেন, “এটি কেরলের মানুষকে বোঝাবে আমাদের উদ্দেশ্য কী, আমরা কীভাবে একসঙ্গে রাজ্যে পরিবর্তন আনতে চাই, এবং এটি এনডিএর প্রতিটি কর্মীর লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্প।”

    কোন কেন্দ্রে কে দাঁড়াচ্ছেন?

    প্রসঙ্গত, শনিবার (Kerala Polls) বিজেপি আরও ১১ জন প্রার্থীর নামের তালিকা প্রকাশ করে। তার পরেই এমন মন্তব্য করা হয়, যা ১৪০ আসন বিশিষ্ট কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। নয়া ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, ভি রথীশ (পিরুমেদে), রাভীন্দ্রনাথ বাকাথানাম (পুথুপল্লি), আজিমন (মাভেলিক্কারা), পাণ্ডালাম প্রতাপান (আদুর), কে আর রাজেশ (চাভারা), আর এস অর্জুন রাজ (চাডায়ামঙ্গলাম), বি এস অনুপ (চিরায়িনকীঝু), করামানা জয়ন (তিরুবনন্তপুরম), বিবেক গোপন (আরুভিক্কারা), টিএন সুরেশ (কোভালাম) এবং এস রাজশেখরন নায়ার (নেয়্যাত্তিনকারা)।

    এর আগে ৮৬টি আসনের জন্য দু’দফায় তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল পদ্মশিবিরের তরফে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জর্জ কুরিয়েন, ভি মুরলীধরন, কে সুরেন্দ্রন এবং নব্যা হারিদাস-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন। মুরলীধরন কাজাকুট্টম কেন্দ্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, আর চন্দ্রশেখর নেমম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন (Rajeev Chandrashekhar)। কেরল বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল এক দফায়। ভোটগণনা হবে ৪ মে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২৩ মে (Kerala Polls)।

     

  • কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের (Congress) ভোট চুরির অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শুক্রবার তিনি বলেন, “গত কয়েক দশক ধরে দলটি মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে এবং মিলেনিয়ালরা বিরোধী দলকে শিক্ষা দিয়েছে, এবার জেন জেডও প্রস্তুত”। ‘রাইজিং ভারত সামিটে’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সরকারকেও নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, এই রাজ্য সরকারগুলি কেন্দ্রের কিছু কল্যাণমূলক প্রকল্প আটকে দিয়েছে।

    “শার্টলেস প্রতিবাদ” নিয়ে তোপ (PM Modi)

    এআই সামিট চলাকালীন ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের ‘শার্টলেস’ প্রতিবাদ নিয়ে তিনি কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “বিরোধী দল বিদেশি অতিথিদের সামনে শুধু পোশাকই খোলেনি, নিজেদের মতাদর্শগত দেউলিয়াপনাও প্রকাশ করেছে।” তাঁর অভিযোগ, আদর্শের নামে কংগ্রেস এখন শুধু বিরোধিতার টুলকিটে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেস ও তার মিত্ররা কখনও সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করেনি। গরিব মানুষের কষ্ট নিয়ে তাদের কোনও উদ্বেগ নেই (PM Modi)। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আজ পর্যন্ত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় সারা দেশে দরিদ্রদের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। তামিলনাড়ুতে প্রায় ৯.৫ লক্ষ বাড়ি বরাদ্দ হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে ৩ লক্ষ বাড়ির নির্মাণ আটকে রয়েছে। “কেন? ডিএমকে সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেন?”

    ইন্ডি জোট

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে নির্বাচন হবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে কংগ্রেসের সঙ্গে ইন্ডি জোটের অংশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের প্রতিবাদে মানুষের ক্ষোভ বাড়ায় কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীকে সামনে আনার চেষ্টা করেছে। এআই সামিট ছিল দেশের গর্বের মুহূর্ত। কিন্তু দেশের প্রাচীনতম দল সেই অনুষ্ঠান কলঙ্কিত করতে চেয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, “পাপ ঢাকতে হলে কংগ্রেস (Congress) বাপুকে সামনে আনে, আর কৃতিত্ব নিতে হলে একটি পরিবারের নাম করে।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “কংগ্রেসের ভোট কেউ চুরি করছে না, বরং মানুষ আর তাদের যোগ্য মনে করছে না। ১৯৮৪-র পর থেকেই কংগ্রেসের ভোট কমতে শুরু করেছে। এখন মাত্র চারটি রাজ্যে তাদের ৫০-এর বেশি বিধায়ক রয়েছে।” এর পরেই তিনি বলেন, “প্রথমে মিলেনিয়ালরা শিক্ষা দিয়েছে, এখন জেন জেডও প্রস্তুত।” ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাতি গঠন স্বল্পমেয়াদি চিন্তায় হয় না, এর জন্য প্রয়োজন বড় দৃষ্টি, ধৈর্য ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

    কংগ্রেসকে তোপ

    গণতন্ত্রে বিরোধিতা মানে অন্ধ বিরোধিতা নয়, বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস সব ভালো কাজেরই বিরোধিতা করে, যেমন নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ বা অশোক স্তম্ভের সিংহ প্রতীক (PM Modi)।” তিনি জানান, বিদেশি জাহাজে পণ্য পরিবহণে বছরে ৬ লাখ কোটি টাকা, সার আমদানিতে ২.২৫ লাখ কোটি টাকা এবং পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ১১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই অর্থ আত্মনির্ভরতার পথে আগে বিনিয়োগ করা হলে দেশ আরও শক্তিশালী হত। তিনি বলেন, “দেশীয় জাহাজ ও বন্দর পরিকাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে, সারের উৎপাদন বাড়াতে নয়া কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে, ন্যানো ইউরিয়া, ইথানল মিশ্রণ, গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন, সৌর শক্তি ও ইলেকট্রিক মোবিলিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে (Congress)।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারতে উৎপাদন বাড়ালে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমদানি নয়, রফতানির কথা বলবে। দূরদর্শিতার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমই ২০৪৭ সালের আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ ভারতের ভিত্তি।”

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্ক

    তিনি জানান, তাঁর সরকার ভারতকে বিশ্বের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনে পরিণত করছে এবং উন্নত দেশগুলি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী।ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে জনধন-আধার-মোবাইল ‘ত্রয়ী’ এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ২৪ লাখ কোটি টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারত এখন সৌর শক্তিতে অগ্রণী, রেলব্যবস্থা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ভারত শুধু অনুসারী নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণেও অংশীদার। দেশের নিজস্ব এআই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।” তিনি জানান, কৃষিখাতে ২৮ লাখ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং পিএম-কিষান প্রকল্পে ৪ লাখ কোটিরও বেশি টাকা সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটাই সঠিক সময়। আমাদের রুটিন কাজ নয়, বিশ্বমানের কাজ করতে হবে (Congress)।”

     

  • Delhi Court: “প্রতিবাদের নামে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা যাবে না”, এআই সামিটে বিক্ষোভকারীদের তোপ আদালতের

    Delhi Court: “প্রতিবাদের নামে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা যাবে না”, এআই সামিটে বিক্ষোভকারীদের তোপ আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রতিবাদের নামে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।” এমনই পর্যবেক্ষণ করে এআই সামিটে (AI Summit Disruption) বিক্ষোভকারী কংগ্রেস কর্মীদের তোপ দিল্লি আদালতের (Delhi Court)। দিল্লির একটি আদালত বলেছে, ‘‘বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টেকে বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম এমন অপকর্মে কঠোর তদারকি এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করে তদন্ত প্রয়োজন।’’ উল্লেখ্য এই সামিটে কংগ্রেস কর্মীরা নিজের জামা খুলে ট্রাম্প-মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিশ্বের কাছে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

    গুরুত্বের সাথে বিচার করতে হবে (Delhi Court)

    দিল্লির পাটিয়ালা হাউস আদালত (Delhi Court) জোর দিয়ে বলেছে, “গণতান্ত্রিক ভিন্নমত সুরক্ষিত থাকলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের অবস্থানকে প্রভাবিত করে এমন কোনও আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিচার করতে হবে।” কোর্টের ‘ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট’ এই মন্তব্যগুলি করেন। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এআই (AI) সামিট-এ (AI Summit Disruption) বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া চার অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার সময় আদালত এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক গুরুত্ব

    আদালত (Delhi Court) উল্লেখ করেছে, ভারত যখন এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে, তখন সেখানে বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন এবং এটি বিশ্বমঞ্চে জাতির প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের স্থানে কোনও বিশৃঙ্খলা (AI Summit Disruption) কখনই কাম্য নয়। এটি কূটনৈতিক সম্পর্ক ও জাতীয় মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    সংবিধান ও অধিকার

    আদালত (Delhi Court) আরও জানিয়েছে, নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার থাকলেও, সেই অধিকার সার্বভৌমত্ব, জনশৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধের অধীন। সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ইভেন্টের সময় সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপন্ন করে এমনভাবে প্রতিবাদ করার অনুমতি দেওয়া যায় না।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট

    সরকারি কৌঁসুলির পক্ষে বলা হয়, অভিযুক্তরা ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করে স্লোগান লেখা টি-শার্ট পরে ভারত মণ্ডপমের উচ্চ-নিরাপত্তা বিশিষ্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছিলেন এবং সম্মেলন চলাকালীন স্লোগান দিয়েছিলেন। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা তাদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেয় এবং আক্রমণ করেন। এই ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তারা আহত হয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিঘ্ন সৃষ্টি (AI Summit Disruption) হয়েছে। তদন্তের এই পর্যায়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিশ্লেষণ, যোগাযোগের উৎস খুঁজে বের করা এবং এই ঘটনার পিছনে কোনো আর্থিক মদত আছে কি না তা জানার জন্য অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে সাফ জানিয়েছে আদালত (Delhi Court)।

  • Congress Protest: এআই সামিটে কংগ্রেসের বিক্ষোভ “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ, বলল দিল্লি পুলিশ

    Congress Protest: এআই সামিটে কংগ্রেসের বিক্ষোভ “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ, বলল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সদস্যদের বিক্ষোভের ঘটনাকে “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালতে পেশ করা বক্তব্যে পুলিশ জানায়, এই প্রতিবাদ নেপালের তথাকথিত ‘জেন জি আন্দোলন’ থেকে অনুপ্রাণিত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কংগ্রেস কর্মীদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যা সেখানে সরকার পতনের কারণ হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    নেপালের জেন জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা

    পুলিশের আইনজীবী আদালতে বলেন, “এটি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র। নেপালের জেন জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের একে অপরের সঙ্গে এবং ডিজিটাল প্রমাণের সঙ্গে মুখোমুখি জেরা করা প্রয়োজন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।” পুলিশ আরও জানায়, বিক্ষোভের অর্থায়ন সম্পর্কেও তদন্ত চলছে। ঘটনায় প্রায় ১০ জন যুব কংগ্রেস কর্মী এআই সম্মেলনের ভেন্যুতে ঢুকে শার্ট খুলে বিক্ষোভ দেখান এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভকারীরা সাদা টি-শার্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান প্রদর্শন করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁদের আটক করে। পরে সম্মেলন বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

    “দেশবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা বিক্ষোভকে “দেশবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন। বিজেপি নেতা নিতিন নবীন অভিযোগ করেন, “আমরা প্রায়ই ‘আরবান নকশালবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করি। আগে কিছু দল এতে প্রভাবিত ছিল, এখন তারা পুরোপুরি এর অংশ হয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যখন বিশ্বমঞ্চে ভারতের আলোচনা হচ্ছে, তখন এ ধরনের লজ্জাজনক কাজ দেশের অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।” দিল্লি থেকে মুম্বই—বিভিন্ন শহরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয় বিজেপি। মুম্বইয়ে রাহুল গান্ধীকে কালো পতাকা দেখান বিজেপি কর্মীরা।

    রাহুল গান্ধীকে কালো পতাকা প্রদর্শন

    শনিবার সকালে রাহুল গান্ধী মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে ঠানে জেলার ভিওয়ান্ডিতে একটি ২০১৪ সালের মানহানির মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে যান। বিমানবন্দর চত্বরে বিজেপি সমর্থকেরা কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাজধানী দিল্লিতেও একই চিত্র দেখা যায়। বিজেপি-র নেতা-কর্মীরা আকবর রোডে কংগ্রেসের দফতরের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। দিল্লি বিজেপি সভাপতি বিরেন্দ্র সচদেবা এবং লোকসভা সাংসদ মনোজ তিওয়ারি যুব কংগ্রেসের ওই প্রতিবাদকে “দেশদ্রোহী” কর্মকাণ্ড বলে কটাক্ষ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।

  • AI Impact Summit: এআই সামিটে জামা খুলে প্রতিবাদ কংগ্রেসের! বিশ্বের দরবারে দেশকে ছোট করার চেষ্টা, বলল বিজেপি

    AI Impact Summit: এআই সামিটে জামা খুলে প্রতিবাদ কংগ্রেসের! বিশ্বের দরবারে দেশকে ছোট করার চেষ্টা, বলল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনে (AI Impact Summit) অদ্ভুত আচরণ চার কংগ্রেস যুব নেতার। নিরাপত্তাবাহিনীর নজর এড়িয়ে মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে মোদি ও সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেল যুব কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের। শুক্রবার এই ঘটনায় ৪-৫ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। জানা যাচ্ছে, কংগ্রেসের ১০ জন সদস্য এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গোটা ঘটনায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি।

    কীভাবে বিক্ষোভ কংগ্রেসের

    দিল্লি পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কিউআর-কোড যুক্ত পাশ ব্যবহার করে এই সম্মেলনে (Delhi AI Summit) প্রবেশ করেছিল অভিযুক্তরা। এরপর সকলের অলক্ষে মঞ্চের সামনে গিয়ে নিজেদের জামা খুলে প্রতিবাদ দেখাতে থাকে ১০ প্রতিবাদী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয় পুলিশের তরফে। ঘটনায় ৪ থেকে ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। অভিযুক্তরা নিজেদের যুব কংগ্রেসের সদস্য বলে জানিয়েছেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইওয়াইসি-র জাতীয় সম্পাদক কৃষ্ণ হরি, বিহার প্রদেশ সম্পাদক কুন্দন যাদব, উত্তরপ্রদেশের সহ-সভাপতি অজয় কুমার এবং জাতীয় সমন্বয়ক নরসিংহ যাদব। দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত সিপি দেবেশ কুমার মহলা জানান, বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

    সামিটের কার্যক্রম ব্যাহত

    এই ঘটনায় কয়েক মিনিটের জন্য সামিটের (AI Impact Summit) কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উপস্থিত দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিরা ও শীর্ষ কর্পোরেট কর্তারাও হতচকিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কিছু দর্শকের বচসা এবং হাতাহাতিও হয়। যুব কংগ্রেসের দাবি, সম্প্রতি ঘোষিত ভারত-আমেরিকা শুল্ক চুক্তির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, ওই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। আইওয়াইসি-র জাতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব বলেন, “আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে যে কোনও জায়গায় প্রতিবাদ করতে পারি।”

    দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্য

    বিজেপি এই ঘটনার তীব্র ভাষায় নিন্দা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই বিক্ষোভ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভারতের ক্রমবর্ধমান এআই অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত হয়েই কংগ্রেস এই ধরনের কর্মকাণ্ডে নেমেছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘ভারত গর্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনের (AI Impact Summit) আয়োজন করেছে দেশে। সেখানে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও ভারতের কৃতিত্ব প্রদর্শিত হচ্ছে। এহেন একটি পদক্ষেপকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে কংগ্রেস সেখানে সমস্যা তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।’ পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে তোপ দেগে তিনি আরও লেখেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরা জামা খুলে প্রতিবাদের নামে এই অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটাতে নেমে পড়েছেন। এই ঘটনা আসলে বিশ্বমঞ্চে ভারতকে দুর্নাম করার অপচেষ্টা।’ মালব্যের আরও অভিযোগ, ‘প্রযুক্তিক্ষেত্রে শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারত। সেখানে কংগ্রেসের এই আচরণ তাঁদের জন্য আনন্দের যারা ভারতের পতন দেখতে মুখিয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদ অবশ্যই গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু তার অর্থ বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করা নয়। ভারত ভালো কিছু প্রত্যাশা করে।’

  • BJP: তেলঙ্গনার করিমনগর পুরসভার মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পদে বিজেপি

    BJP: তেলঙ্গনার করিমনগর পুরসভার মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পদে বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেলঙ্গনার (Telangana) করিমনগরে মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পদ দখল করল বিজেপি (BJP)। ভোট হয়েছিল ১১ ফেব্রুয়ারি। ৩৪ জন কর্পোরেটরের সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত হন বিজেপির কর্পোরেটর কোলাগানি শ্রীনিবাস। ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের সুনীল রাও। এর আগে নবনির্বাচিত পরিচালন পর্ষদের সদস্যরা করিমনগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন কার্যালয়ে শপথ গ্রহণ করেন। নির্বাচন আধিকারিক আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। বিশেষ আধিকারিক আরডিও মহেশ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয়, মানাকোন্ডুর বিধায়ক এবং এক্স-অফিসিও সদস্য সত্যনারায়ণ।

    কে কত আসন পেয়েছে (BJP)

    মোট আসন সংখ্যা ৬৬। এর মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৩০টি আসন, আর কংগ্রেস (আইএনসি) ১৪টি। বিআরএস ৯টি, নির্দল প্রার্থী ৮টি, এআইএমআইএম ৩টি এবং অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক ২টি আসন পেয়েছে। জানা গিয়েছে, কংগ্রেস, বিআরএস, এমআইএম, এআইএফবি সদস্য ও নির্দল প্রার্থীরা যে কোনও প্রকারে কর্পোরেশনের রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত মেয়র পদ দখলের চেষ্টাও চালিয়ে যান। ৬৬ আসনের করিমনগর কর্পোরেশনে বিজেপি সর্বাধিক ৩০টি আসন পেলেও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে চেয়ার দখল করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল (Telangana)।

    মেয়র পদ নিয়ে লড়াই

    এই প্রেক্ষিতে হায়দরাবাদের উপকণ্ঠের একটি রিসর্টে পৃথক শিবির করার কথাও জানা গিয়েছে। মেয়র পদ নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সংখ্যার লড়াই চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বিজেপি মেয়রের চেয়ার দখল করে (BJP)। করিমনগরে মেয়র পদ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কৌশলগত ভূমিকা নেন। কংগ্রেসের মেয়র প্রার্থী পান ২১টি ভোট। বিআরএস নিরপেক্ষ থাকে। এক্স হ্যান্ডেলে বন্দি সঞ্জয় লিখেছেন, “এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বিজয় নয়, এটি আবেগের মুহূর্ত। বহু বছর ধরে নীরবে লালিত এক স্বপ্ন যেন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। যে ওয়ার্ডে মজলিস পার্টির কার্যালয় রয়েছে, সেই ওয়ার্ডেই আমাদের কর্মীরা গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেছেন। সেই দৃশ্য আমার স্মৃতিতে চিরকাল থাকবে। এটি সাহসের কথা বলে, পরিবর্তনের কথা বলে (Telangana)।”

    বিজেপি জয়ী

    তিনি বলেন, “করিমনগরের মাটিতে গণতন্ত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি সম্ভব হয়েছে জনগণের সহযোগিতায়।” তিনি এও বলেন, “প্রতিবেশী দলগুলির সঙ্গে কাবাডি কাপের খেলায় বিজেপি জয়ী হয়েছে (BJP)।” কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে তিনি একাধিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। বলেন, “সব কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” করিমনগর পুরসভায় গেরুয়া পতাকা উত্তোলনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, “নির্বাচন পর্যন্তই রাজনীতি। এরপর রাজনীতি পাশে সরিয়ে রাখা উচিত। আমরা করিমনগরের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলাম। উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করব। বিজেপি মেয়র থাকার কারণে রাজ্য সরকার যদি অর্থ না দেয়, তবুও আমরা পিছিয়ে আসব না (Telangana)।”

    বিজেপিকে বঞ্চিত করতে ষড়যন্ত্র?

    তাঁর প্রশ্ন, বিআরএস, এমআইএম ও কংগ্রেস জোট বেঁধে কী লাভ করেছে? তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেও এই তিন দল মিলে মেয়র নির্বাচনে তাদের হারানোর ষড়যন্ত্র করেছিল (BJP)। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি গারু… মন্ত্রী, বিআরএস এবং এমআইএমকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপিকে মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পদ থেকে বঞ্চিত করতে কোনও ষড়যন্ত্রই আপনি বাদ দেননি। কিন্তু বন্দি সঞ্জয়ের রাজনৈতিক কৌশল ও বিজেপি কর্মীদের লড়াকু মনোভাবের সামনে সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে গিয়েছে। যেমন ক্রিকেটে পাকিস্তানের বড় জয়, তেমনি করিমনগর পুরসভা নির্বাচনের কাবাডি খেলায় সবাইকে হারিয়ে কাপ জিতেছে বিজেপি।” দলের এই ফলকে করিমনগরে বিজেপির সাংগঠনিক ও নির্বাচনী ভিত্তি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেলঙ্গনার রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত এই শহর ও জেলায় (Telangana) বিজেপির তৃণমূল স্তরে শক্তি সংহতকরণের প্রতিফলন ঘটেছে (BJP)।

     

  • BJP: “বিষাক্ত মিথ্যা ছড়াচ্ছেন আর বিদেশ যাত্রা করছেন”, রাহুল গান্ধীকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    BJP: “বিষাক্ত মিথ্যা ছড়াচ্ছেন আর বিদেশ যাত্রা করছেন”, রাহুল গান্ধীকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন বিরোধী দলের নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে একেবারে ধুয়ে দিলেন বিজেপির (BJP) মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল (Rahul Gandhi) যাচাই না করেই অভিযোগ করেছেন এবং সংসদে অশোভন আচরণ করেছেন।

    রাহুলের বিষাক্ত মিথ্যা কথা (BJP)

    সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিবেদী অভিযোগ  করেন, রাহুল বিষাক্ত মিথ্যা কথা ছড়িয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় বিশ্বাস করেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেন। ত্রিবেদী বলেন, “বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী যেন বিষাক্ত মিথ্যা কথা ছড়িয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় বিশ্বাস করেন। সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর আচরণ ঠিকঠাক ছিল না। লোকসভায় কংগ্রেসের আচরণ কলতলার ধারে দেখা আচরণের চেয়ে ভালো নয়। এ ধরনের আচরণ সংসদের পক্ষে অশোভন।” রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সময়কার সাম্প্রতিক বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন ত্রিবেদী, যখন কংগ্রেসের মহিলা সাংসদরা লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর আসনের কাছে প্রতিবাদ জানান। পরে স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে লোকসভায় না আসার অনুরোধ জানান, কারণ তিনি আগেই জেনেছিলেন, কংগ্রেস সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর আসনের কাছে গিয়ে “অভূতপূর্ব ঘটনা” ঘটাতে পারেন।

    মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার

    ত্রিবেদী বলেন, “আমরা দেখেছি কীভাবে মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যখন কিছু সদস্য ব্যানার হাতে ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে এগোচ্ছিলেন। এটি শাহিনবাগের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছিল।” অপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীও (BJP) বাজেট বিতর্কে কংগ্রেস নেতার মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “কোনও অভিযোগ করা হলে তা সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। তাঁর নিয়ম বা প্রমাণীকরণের অর্থ সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই। তাই তিনি যা খুশি বলে যান (Rahul Gandhi)।” তাঁর অভিযোগ, রাহুল তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর মনোযোগ দেননি, বরং অসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিষয় উত্থাপন করেছেন। মন্ত্রী বলেন, “তাঁদের (কংগ্রেস) ইতিহাস সম্পর্কে কোনও জ্ঞান নেই। তিনি বাজেট নিয়ে কথা বলেননি।”

    বিরোধী দলের নেতার পদমর্যাদা

    অধিবেশনের সময় সভাপতির আসন নিয়ে করা মন্তব্যের বিরোধিতা করে জোশী বলেন, “যখন কোনও সদস্য সভাপতির আসনে থাকেন, তখন তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন, কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন না। সভাপতির আসনে বসলে তিনি কোনও দলের নন। তাঁকে তাঁর আগের দলীয় পরিচয় উল্লেখ করে অপমান করা বিরোধী দলের নেতার পদমর্যাদাকে খাটো করে। রাজনৈতিক লাভের জন্য তিনি বাজেট ছাড়া সব বিষয়ে কথা বলেছেন (Rahul Gandhi)।” প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর এই মন্তব্যগুলি করা হয়। লোকসভা সচিবালয় সূত্রে খবর (BJP), স্পিকার অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন, ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধী সাংসদদের জমা দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশে কিছু ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। নোটিশে ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর ঘটনার উল্লেখ চারবার করা হয়েছিল, যা নিয়ম অনুযায়ী বাতিলের কারণ হতে পারত। তবে স্পিকার লোকসভার সচিবালয়কে নোটিশের ত্রুটি সংশোধন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

    অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ

    অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ আসে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন বিরোধী দল অভিযোগ করে যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাহুলকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। রাহুল ২০২০ সালের চিন-ভারত সংঘাত প্রসঙ্গে জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’র উল্লেখ করেন। স্পিকার তাঁকে অপ্রকাশিত সাহিত্য উদ্ধৃত না করার নির্দেশ দেন (Rahul Gandhi)। এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার অভিযোগ করেন। প্রশ্ন করেন, তারা কি ভারত বিক্রি করতে লজ্জা পান না? তাঁর অভিযোগ, “ভারতমাতাকে কার্যত বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে (BJP)।”

    রাহুলের অভিযোগ

    তিনি বলেন, “আপনারাই স্বীকার করছেন যে আমরা এক বৈশ্বিক ঝড়ের মুখোমুখি, একক পরাশক্তির যুগ শেষ, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে, এবং জ্বালানি ও অর্থব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবুও আপনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জ্বালানি ও আর্থিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে ব্যবহার করতে দিয়েছেন, যা আমাদের প্রভাবিত করছে। যখন আমেরিকা বলে আমরা কোনও নির্দিষ্ট দেশ থেকে তেল কিনতে পারব না, তখন এর মানে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বাইরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আপনি কি এতে লজ্জিত নন? আমি বলছি, আপনি ভারতের স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন। আপনি কি লজ্জা পান না? যেন আপনি ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছেন (Rahul Gandhi)।”

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করে রাহুল জানান, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না যে প্রধানমন্ত্রী ভারত বিক্রি করবেন, তবে তাঁর ওপর যে বাহ্যিক চাপ রয়েছে তাও মনে করিয়ে দেন রাহুল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর চোখে ভয়ের ছাপ দেখতে পাচ্ছেন এবং “এপস্টাইন ফাইলস” তালাবদ্ধ থাকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে (Rahul Gandhi) ইঙ্গিত করেন, কিছু অপ্রকাশিত চাপ কাজ করছে (BJP)।

     

  • Mamata on CEC Impeachment: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব স্রেফ একটা রাজনৈতিক কৌশল মরিয়া মমতার?

    Mamata on CEC Impeachment: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব স্রেফ একটা রাজনৈতিক কৌশল মরিয়া মমতার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র করল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টিএমসি ইঙ্গিত দিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে তারা অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। বাংলায় এসআইআর শুরুর পর থেকেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নানা ইস্যুতে নিশানা করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata on CEC Impeachment)। মঙ্গলবার বঙ্গ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকের সময় তিনি বললেন, তাঁরা চান জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট হোক। তবে, এর জন্য যা প্রয়োজন, তা করার ক্ষমতা মমতার নেই, বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এর কোনও রাজনৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যাও নেই। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচনের আগে রাজ্যে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের মুখে দেশের সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য তৃণমূল পরিকল্পনা করে এই মিথ্যা কৌশল দেখাচ্ছে।

    তৃণমূলের অবস্থান

    দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, “যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। এতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের এমপিচমেন্টের বিষয়টি বিবেচনা করছি।” এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্বাচিতভাবে তৃণমূল বিধায়কদের কেন্দ্রগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রগুলিতে যেখানে মাত্র ৩,০০০–৪,০০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সেখানে তৃণমূল বিধায়কদের আসনে ৪০,০০০ থেকে শুরু করে এক লক্ষ পর্যন্ত নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নিজের ভবানীপুর কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খসড়া ভোটার তালিকা থেকেই প্রায় ৪০,০০০ নাম বাদ পড়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় তা এক লক্ষে পৌঁছতে পারে। তাঁর আরও দাবি, গোটা রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কোনও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

    অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সব অভিযোগ স্পষ্টভাবে খারিজ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর একটি সংবিধানস্বীকৃত ও নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য হল নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা। কমিশন দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়া সব কেন্দ্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। সোমবারের বৈঠক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সূত্র জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেও কমিশনের শীর্ষ কর্তারা সংযত থেকে আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা দেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বাধা, অফিস ভাঙচুর বা আধিকারিকদের কাজে হস্তক্ষেপ হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

    রাহুলের পাশে মমতা!

    কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বারবার বলছেন, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে রেট্রোস্পেকটিভ আইন আনা হবে। সেকথা জানিয়ে সাংবাদিকরা মমতার কাছে জানতে চান, আপনি কি তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন? বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কি ভবিষ্যতে কোনও আইন আনা হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোনও কিছু যদি জেনুইন হয়, প্র্যাকটিক্যাল হয় এবং জনতার ভালোর জন্য হয়। আমরাও চাইব তাঁর ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের নম্বর নেই। কিন্তু, ইমপিচমেন্ট তো হতে পারে। ধারা তো রয়েছে। রেকর্ড তো হয়ে যাবে। উনি যদি এমন করেন, তবে আমরা আমাদের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থে এককাট্টা হয়ে কাজ করি। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”

    রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা তৃণমূলের

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। ফলত, সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তবে, মৌসম নুরের ইস্তফার পর তৃণমূলের সাংসদ সদস্য সংখ্যা ৪১। সেই জায়গা থেকে যদি তৃণমূল এই লক্ষ্যে এগোয়, তাহললে সম্ভবত ইন্ডি ব্লকের অনেক দলকেই কাছে চাইবে তৃণমূল। এক্ষেত্রে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টিকে ঘাসফুল শিবির পাশে পাবে বলে মনে করছে তৃণমূল। এই জায়গা থেকে রাজনৈতিক ঘূর্ণিতে দুটি দিক উঠে আসছে। সূত্রের খবর, এই ইম্পিচমেন্টের জন্য তৃণমূলের উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারটি, বিজেপি বিরোধী শিবির ইন্ডি ব্লকে তৃণমূলকে উজ্জ্বল জায়গায় রাখবে।

    বিরোধী ইন্ডি জোটের অন্দরেও বিতর্ক

    এই ইমপিচমেন্ট-সংক্রান্ত আলোচনা নতুন করে বিরোধী ইন্ডি জোটের অন্দরেও বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতেই কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী শরিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। তবে সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন প্রক্রিয়া।

    মমতার নাটক, অভিমত শুভেন্দুর

    এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর ও ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গকে “নাটক” বলে কটাক্ষ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘ইমপিচমেন্টের মানে জানেন উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)? কত সংখ্যা লাগে জানেন? ইমপিচমেন্ট কীভাবে পাশ করাতে হয় জানেন? কত সাংসদের ভোট লাগে জানেন? দুভার্গ্য, ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রী, সাতবারের সাংসদ ইমপিচমেন্টের পদ্ধতিই জানেন না। সকাল থেকে উনি শুধু মিথ্যাচারের ন্যারেটিভ তৈরি করছেন।’ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ভোটার তালিকা সংশোধন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে ইমপিচমেন্টের হুমকি ততই রাজ্য রাজনীতির বড় ফ্ল্যাশপয়েন্ট হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    ইমপিচমেন্ট সম্ভব নয়

    আইনজ্ঞরা বলছেন, সিইসি–কে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এটা একটা স্বশাসিত সংস্থা। তাঁর অপসারণের জন‍্য সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ করাতে হবে। এর জন্য সংসদের দুই কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। যদিও এই সংখ্যা বিরোধীদের কাছে নেই। ফলে জ্ঞানেশকে এখনই সরানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না। তবে বাংলা–সহ দেশের পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা ভোটের আগে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আর নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে ভুল বার্তা দিতেই মমতার এই পদক্ষেপ। বিজেপির দাবি, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

LinkedIn
Share