Tag: CPI-Maoist

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব ভারতে নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা। সেই কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Leader) অজয় মাহতো ওরফে “টাইগার”কে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) গিরিডির পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অজয়। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    মিলতে পারে মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Jharkhand)

    অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে রাজ্য পুলিশের অভিযান শাখার কর্তা নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “এটি রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানের বড় সাফল্য।” তাঁর দাবি, অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো, অস্ত্র সরবরাহ চক্র, বিস্ফোরক তৈরির নেটওয়ার্ক, তোলাবাজির উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই তথ্য ঝাড়খণ্ড এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলা নকশালবিরোধী অভিযানে গতি আনবে। নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “আমরা আশা করছি, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সক্রিয় সদস্যদের চিহ্নিত করা, সংগঠনের রসদ জোগানের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের হামলা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।” অজয় গিরিডি জেলার পিরটাঁড় ব্লকের পান্ডেদিহ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে নওয়াদিহ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর বিশেষ কোবরা ইউনিট হারলাডি গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। অভিযানের সময় কোনও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি নিরাপত্তা বাহিনীকে।

    ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অজয় বিহার-ঝাড়খণ্ড বিশেষ এলাকা কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই কমিটি ওই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। তিনি শুধু সংগঠনের সদস্যই ছিলেন না, বরং বড় বড় হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অন্যতম মূল কুশীলব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, বিস্ফোরক হামলা, তোলাবাজি, অবৈধ অস্ত্র আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের একাধিক মামলায়ও রয়েছে তাঁর নাম। তদন্তে উঠে এসেছে সারান্ডা, কোলহান, পশ্চিম সিংভূম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিস্ফোরক পুঁতে রাখা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা, সংগঠনের সদস্যদের পরিচালনা এবং কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ছিলেন (Jharkhand) তিনি। গত ছ’বছরে ঝাড়খণ্ডে একাধিক বড়সড় মাওবাদী হামলায় তাঁর যোগসূত্রের প্রমাণও পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ২০২০ সালে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক গ্রামবাসীকে খুন এবং বন দফতরের কার্যালয়ে বিস্ফোরক হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে।

    একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও যুক্ত

    ২০২১ এবং ২০২২ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তুম্বাহাকা এবং মেরালগড়া এলাকায় বিস্ফোরক হামলায় কোবরা ব্যাটালিয়নের একাধিক জওয়ান জখম হন। ওই ঘটনাগুলির নেপথ্যেও তাঁর দলের ভূমিকা ছিল বলে দাবি (Maoist Leader) তদন্তকারীদের। ওই বছরে বিস্ফোরক লুট, টোন্টো এলাকায় সংঘর্ষে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর আধিকারিক অমিত তিওয়ারি এবং কনস্টেবল গৌতম কুমারের মৃত্যুর ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ায়। হাতিবুরু এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও অজয়ের দল সক্রিয় ছিল। পুলিশের চর সন্দেহে গ্রামবাসীদের হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক বিস্ফোরক হামলা এবং অতর্কিত আক্রমণের একাধিক ঘটনায় তাঁর দলের নাম উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর একাধিক সদস্য নিহত ও জখম হন।

    বিস্ফোরক তৈরিতে দক্ষ

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে সমাথা জঙ্গলে বিস্ফোরণে কোবরা ব্যাটালিয়নের একটি প্রশিক্ষিত কুকুর মারা যায়। ২০২৬ সালের মার্চে মারাংপোঙ্গা এবং কিনবির জঙ্গলে সংঘর্ষ ও পরবর্তী বিস্ফোরণে কোবরা ইউনিটের একাধিক আধিকারিক এবং জওয়ান জখম হন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলাগুলির পরিকল্পনায়ও অজয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, অজয় মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম দক্ষ বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ছিলেন (Jharkhand)। বিস্ফোরক তৈরি ও পুঁতে রাখা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ, তোলাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল। কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বড় হামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, তাঁর গ্রেফতারের ফলে সারান্ডা, কোলহান এবং গিরিডি অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের কার্যকলাপে বড় ধাক্কা লাগবে। সংগঠনের নেতৃত্ব, পরিকল্পনা এবং পরিচালন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার, অস্ত্র সরবরাহের পথ চিহ্নিত করা এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অজয়কে

    বর্তমানে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একাধিক মাওবাদী সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে এবং সক্রিয় নাশকতা চক্রগুলিকেও ভেঙে দেওয়া যাবে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও, অভিযান এখানেই শেষ নয়। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে আমরা এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও জোরদার অভিযান চালিয়ে যাব (Maoist Leader)।” নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, অজয়ের গ্রেফতারি শুধুমাত্র এক কুখ্যাত মাওবাদী নেতার গ্রেফতারি নয়, বরং বামপন্থী উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে চলা লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য। তদন্ত যত এগোবে, ততই মাওবাদী সংগঠনের বাকি থাকা নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে (Jharkhand) পারে এই গ্রেফতারি।

     

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকা কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Commander) রবীন্দ্র গঞ্জুকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরেন্দ্র গঞ্জু এবং মুকেশ গঞ্জু নামেও পরিচিত এই শীর্ষ মাওবাদী নেতার মাথার ওপর ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা (Jharkhand) হয়েছিল। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। লাতেহার জেলার চন্দওয়া থানার অন্তর্গত হেসলা মৌজার বানঝিটোলা গ্রামে পৈতৃক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার মাও নেতা (Jharkhand) 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূত্র মারফত জানা যায়, বহু বছর ধরে আত্মগোপন করে থাকা রবীন্দ্র গঞ্জু গোপনে নিজের গ্রামে ফিরেছেন। তার পরেই লাতেহার জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং কোবরা ২০৯ ব্যাটালিয়নের যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় ওই ২০ লাখি মাওবাদীকে। তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি পিস্তল, আরও একটি রাইফেল, ২৩৯ রাউন্ড গুলি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও নথি ভবিষ্যতের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার

    রবীন্দ্র গঞ্জু নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর আঞ্চলিক কমিটির সদস্য এবং স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এই সময় লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, চতরা, পালামু, গড়ওয়া, রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। ২০১৯-২০ সালের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বাধীন মাওবাদী বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল (Jharkhand)। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত, গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ করলেও, রবীন্দ্র গঞ্জু দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অনেকেই নিহত, গ্রেফতার অথবা আত্মসমর্পণ করায় তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন (Maoist Commander)।

    বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা

    লাতেহারের পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, রবীন্দ্র গঞ্জু ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা। পুলিশের দাবি, অন্তত ১৮ জন পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও, লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, পালামু, রাঁচি-সহ বিভিন্ন জেলার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৫৪টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে এই মামলার সংখ্যা ১৫৬ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।রবীন্দ্র গঞ্জুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, টহলদারি বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ, শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা, তোলাবাজি ও অবৈধ চাঁদা আদায়, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের অস্ত্র লুট, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ (Jharkhand)।

    সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর মামলা

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং তোলাবাজির একাধিক মামলায় রবীন্দ্র গঞ্জুর খোঁজ চালাচ্ছিল। তদন্তে জানা যায়, তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে তিনি নিজের গ্রামে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগে তাঁর বাড়ি বাজেয়াপ্ত ও সিল করে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মাওবাদী সংগঠনের আর্থিক জোগান বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন (Maoist Commander)। ঝাড়খণ্ডে গত এক দশকের একাধিক রক্তক্ষয়ী মাওবাদী হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর লাতেহারের চন্দওয়ার লুকাইয়া মোড়ে পুলিশের একটি টহলদার গাড়ির ওপর হামলায় একজন এএসআই এবং তিন জন হোমগার্ডের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, নিজের স্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই রবীন্দ্র গঞ্জু এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনকে এলাকায় নজরদারি চালানো এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।

    শক্তিশালী বিস্ফোরণেও তাঁর নাম

    ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি বারওয়াডিহ থানার কাটিয়া জঙ্গলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর নাম উঠে আসে। ওই হামলায় ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন, গুরুতর জখম হন ১৪ জন। বিস্ফোরক বিছিয়ে রেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাতেহার-লোহরদাগা সীমান্তবর্তী বুলবুল জঙ্গলে পরিচালিত “অপারেশন ডাবল বুলে”র তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম উঠে আসে। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের জুন মাসে এই মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ (Jharkhand)। এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুধাকরণের সঙ্গে যুক্ত তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম সামনে আসে। অন্য এক মাওবাদী কর্মীর তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং মাওবাদী সাহিত্য তদন্তকারীদের দেয় নতুন তথ্য। পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, “রবীন্দ্র গঞ্জুর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই গ্রেফতার মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা এবং তাদের অবশিষ্ট সাংগঠনিক ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে (Maoist Commander)।”

    পুলিশের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশের তরফে পঙ্কজ কুমার বলেন, “এলাকায় এখন হাতে গোনা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে—আত্মসমর্পণ করা অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর যে অভিযান চলছে, তার মুখোমুখি হওয়া।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্র গঞ্জুর গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁকে জেরা করা হলে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সুবিধা করে দিতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Jharkhand)।

     

  • Naxals: ৩১ মার্চের মধ্যে আরও সক্রিয় নিরাপত্তা বাহিনী, নকশালদের স্মৃতিস্তম্ভগুলিকে ধ্বংসকর্ম চলছে জোরকদমে

    Naxals: ৩১ মার্চের মধ্যে আরও সক্রিয় নিরাপত্তা বাহিনী, নকশালদের স্মৃতিস্তম্ভগুলিকে ধ্বংসকর্ম চলছে জোরকদমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে নকশালমুক্ত ভারত গড়ার কেন্দ্রের লক্ষ্যের দিকে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, নিরাপত্তা বাহিনী শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বীজাপুর জেলায় চারটি মাওবাদী (Naxals) স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দিয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভগুলি ফারসেগড় এবং তারেম থানা এলাকার অধীনে অবস্থিত ছিল, যেখানে সম্প্রতি বছরগুলিতে তীব্র মাওবাদী দমন অভিযান চালানো হয়েছে।

    মাওবাদীদের প্রতীক স্তম্ভগুলি

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছত্তিশগড়ের বাস্তার অঞ্চল মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা বিশাল অঞ্চলের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং শত শত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিল যা এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের প্রতিনিধিত্ব করত। বস্তার অঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পি বলেন, “মাওবাদীদের স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রতীক অপসারণ মাওবাদের প্রভাবের অবসান ঘটাবে। এই এলাকার স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধার, সুশাসন জোরদার এবং সমাজকে মূলধারায় একীভূত করার প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য এটি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। মাওবাদীদের (Naxals) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করার মধ্যে তাদের প্রতীক এবং মানসিক প্রভাব দূর করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগে এই ধরনের স্মৃতিস্তম্ভগুলি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়, আধিপত্য এবং আদর্শকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মাওবাদীরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতো। তাদের অপসারণ স্পষ্ট বার্তা দেয় এই অঞ্চলে রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্ব এবং আইনের শাসন ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে মাওবাদী প্রভাব ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে।”

    ইঁটের মধ্যে থাকা মাওবাদী আদর্শকে খতম

    সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) ডিজি জিপি সিং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, “ইঁটের মধ্যে থাকা মাওবাদী আদর্শকে এক এক করে আমরা প্রতিটি রূপের প্রকাশকে ধ্বংস করে দেব।” এই মাসের গোড়ার দিকে, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) সুকমা (Chhattisgarh) জেলার গোগুন্ডা গ্রামে সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাভুলা শ্রীনিবাস ওরফে রামান্নার একটি স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলে। ৭৪ তম ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ড্যান্ট বলেন,  “এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী (Naxals) প্রভাবের অধীনে ছিল এবং আগে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য আয়ত্তে ছিল না। ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস স্থাপনের পর, বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে এবং একটি যৌথ অভিযানে মাওবাদীদের সংগঠনকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ।

    অমিত শাহ আর ৪৪ দিন দিয়েছেন

    সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আবারও এই বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কয়েক দশক ধরে চলে আসছে শত শত বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য খুন করেছে মাওবাদ। দিল্লি পুলিশের ৭৯তম প্রতিষ্ঠা দিবসে বক্তব্য রাখার সময় শাহ এই আশ্বাস দিয়েছেন। নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য কেন্দ্রের সময়সীমা আগামী ৪৪ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ৪৪টি নকশাল স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে

    মাত্র কয়েকদিন আগে, বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলায় এক বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। গড়চিরোলি পুলিশ এবং সিআরপিএফ যৌথভাবে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৪৪টি নকশাল-নির্মিত (Naxals) স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলে। এই অভিযানে ১৮টি দলের প্রায় ৮০০ জন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল অভিজাত সি-৬০ নকশাল-বিরোধী বাহিনী, বোমা সনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড এবং সিআরপিএফ। স্মৃতিস্তম্ভগুলি বনাঞ্চলে অবস্থিত ছিল। বামপন্থী সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাঁটি, পেঙ্গুন্ডা, কাওয়ান্ডে এবং তুমারকোথির মতো এলাকায় ১৫টি পুলিশ পোস্ট এবং সাব-পোস্ট বাসানো হয়েছে। গডচিরোলি জেলার এটাপল্লিতে ১৮টি, হেদ্রিতে ১৭টি, ভামরাগড়ে পাঁচটি এবং জিমলাগট্ট, ধানোরা এবং পেন্ধারিতে আরও কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুলিশ সুপার নীলোৎপল জানিয়েছেন, মাওবাদী আন্দোলনের পরিকাঠামো ধ্বংস করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই ভাঙন চালানো হয়েছে।  ক্রমাগত নিরাপত্তা অভিযানের কারণে এই অঞ্চলে মাওবাদী কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

    ১৫ দিনে ৫৩টি স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে

    বিজাপুর (Chhattisgarh) এবং গড়চিরোলিতে মাও-ধ্বংস অভিযান একটি বৃহত্তর, যৌথ প্রচেষ্টার অংশ। গত ১৫ দিনেই, সিআরপিএফ ছত্তিশগড়ের সুকমা, বিজাপুর এবং বস্তারে ৫৩টি নকশাল স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি রায়পুরে অনুষ্ঠিত বামপন্থী চরমপন্থা সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ অনুযায়ী এটি করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় পরিচালিত লোকেশন ম্যাপিংয়ের সাহায্যে, নিরাপত্তা বাহিনী ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ এই ধরণের সমস্ত পরিকাঠামো (Naxals) ধ্বংস করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর পরে, জমিটি যাতে আশেপাশের বনের অংশে পরিণত হয় এবং মাওবাদী কার্যকলাপের কোনও চিহ্ন না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

    এই অভিযানে সিআরপিএফ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে, অভ্যন্তরীণ গ্রামগুলিতে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। সম্প্রতি ধ্বংস করা স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের মে মাসে নারায়ণপুরে সিপিআই (মাওবাদী) সাধারণ সম্পাদক নাম্বাল্লা কেশব রাও ওরফে বাসভরাজু এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গড়িয়াবন্দে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র প্রতাপ রেড্ডি ওরফে চালপথীর মৃত্যুর পরে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভগুলি।

    গত তিন বছরে, নিরাপত্তা বাহিনী শুধুমাত্র বাস্তারে ৫২০ জনেরও বেশি মাওবাদীকে হত্যা করেছে এবং ১০০ টিরও বেশি স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করেছে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে, প্রায় ৬০টি স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে, সংখ্যাটি ১১৩-এ পৌঁছেছে, যা তীব্র দমন-পীড়নের ইঙ্গিত দেয়।

    তেলেঙ্গনা সীমান্তের কাছে কোমাটপল্লি গ্রামে অবস্থিত ৬৪ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভ, সবচেয়ে উঁচু স্তম্ভকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ধ্বংস করা হয়। গ্রামটি একসময় বিশাল মাওবাদী সমাবেশের সাক্ষী ছিল। ২০২২ সালে ‘শহিদ সপ্তাহ’ সমাবেশও ছিল, যেখানে সিনিয়র মাওবাদী নেতা এবং পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির ব্যাটালিয়ন ১-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একসময় ওই এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনীর নাগালের বাইরে ছিল, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

    অপারেশন কাগার এবং নকশালমুক্ত ভারতের জন্য কেন্দ্রের উদ্যোগ

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া অপারেশন কাগারের আওতায় এই ধ্বংসযজ্ঞ একটি বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের অংশ। কেন্দ্র  নকশালদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে মাওবাদী ক্যাডারদের সম্পূর্ণরূপে উৎপাটন করার জন্য অভিযান জোরদার করেছে। সরকার সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাওবাদী ক্যাডারদের নির্মূল করার দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে, যার সঙ্গে রাস্তা সম্প্রসারণ, পরিবহণ সুবিধা, জল, বিদ্যুৎ এবং সরকারের অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রামবাসীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো উন্নয়নমুখী কাজও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এই কৌশলের অংশ হিসেবে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র (গড়চিরোলি), ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলঙ্গনা থেকে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য এই অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের আওতায়, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF), এর অভিজাত কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ডস DRG) এবং রাজ্য পুলিশ সহ প্রায় ১ লক্ষ আধা-সামরিক বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করে বামপন্থী সন্ত্রাসবাদ প্রভাবিত এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নকশাল সন্ত্রাসবাদের শেষ অবশিষ্ট ঘাঁটিগুলি থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা যায়।

    নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১০৬ থেকে নেমে ১৮

    কেন্দ্রের নকশাল-বিরোধী অভিযানের সাফল্য ব্যাপক। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১০৬ থেকে কমে ১৮-এ নেমে এসেছে। এই জেলাগুলির মধ্যে ১২টি জেলাকে নকশালবাদ (Naxals) দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত বলে মনে করা হত। তবে, এই সংখ্যা আরও কমে মাত্র ৬টি সবচেয়ে বেশি নকশাল-প্রভাবিত জেলায় দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর, কাঙ্কের, নারায়ণপুর এবং সুকমা, ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম এবং মহারাষ্ট্রের গধচিরোলি।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), বিহার সরকার ঘোষণা করেছে বিহার এখন নকশালমুক্ত। বিশিষ্ট মাওবাদী সুরেশ কোডা, যিনি মুস্তাকিম নামেও পরিচিত, যার বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, তার আত্মসমর্পণের পর বিহার মাওবাদী মুক্ত। একদিন আগে তিনি মুঙ্গের জেলা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এটি লক্ষণীয় যে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুসারে, বামপন্থী চরমপন্থীদের (এলডব্লিউই) দ্বারা প্রভাবিত জেলার সংখ্যাও কমে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে।

  • Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক কৌশল, পরিকাঠামো উন্নয়ন, মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং আত্মসমর্পণ নীতির সমন্বিত প্রয়োগ বামপন্থী চরমপন্থার (Naxals) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইতিবাচক ফল মিলেছে। রবিবার এ কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “৩১ মার্চের আগেই নকশাল সমস্যা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই যেন বিচ্ছিন্নভাবে না হয়।” রায়পুরে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে সভাপতিত্ব করে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযানকে একটি নিরবচ্ছিন্ন ‘গ্রিডে’র মাধ্যমে পরিচালনা করতে, যাতে এক অঞ্চল থেকে বিতাড়িত মাওবাদীরা প্রতিবেশী কোনও রাজ্যে আশ্রয় নিতে না পারে।’

    শাহ উবাচ (Naxals)

    বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, “ছত্তিশগড় এক সময় নকশাল (Naxals) হিংসার শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের অধীনে এখন এটি উন্নয়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।” তিনি বলেন, “ছত্তিশগড়ের যুবসমাজ খেলাধুলা, ফরেনসিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় অগ্রগতি করছে, পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করছে।” তিনি বলেন, “নকশালবাদ বহু প্রজন্মকে দারিদ্র্য ও অশিক্ষার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। ডাবল-ইঞ্জিন সরকার দেশ থেকে নকশালবাদের অভিশাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চেষ্টার কোনও কসুর করছে না, এবং এই সমস্যা এখন প্রায় শেষের পথে।” শাহ বলেন, “নিরাপত্তা ও উন্নয়ন – উভয় ক্ষেত্রেই ছত্তিশগড় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং নকশাল-প্রভাবিত এলাকার (Naxals) মানুষদের জন্য সমান উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।” বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ছত্তিশগড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “মোদী সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও সুযোগ – দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

    উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলের মানুষদের দেশের অন্যান্য অংশের মতোই যে উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত, এ কথাও ফের মনে করিয়ে দেন তিনি। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ সচিব। উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (ITBP) ও জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র শীর্ষ আধিকারিকরা, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও তেলঙ্গনার ডিজিপিরা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা (Naxals)। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই বলেন, “‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সমন্বিত কৌশল—যেখানে নির্ভুল নিরাপত্তা অভিযান, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট ফল দিচ্ছে।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে এবং অমিত শাহের দিশানির্দেশে ছত্তিশগড় দ্রুত ৩১ মার্চের মধ্যে নকশাল-মুক্ত রাজ্য হওয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে (Amit Shah)।

    গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল, যার মধ্যে সাতটি জেলা রয়েছে মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গনা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত কয়েক বছরে সেখানে জোরদার নকশাল-বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে চরমপন্থী আন্দোলন অনেকটাই দুর্বল হয়েছে (Naxals)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত ছত্তিশগড়ে সংঘর্ষে ৫০০-র বেশি নকশাল নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজুও রয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১,৯০০ নকশালকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ২,৫০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে (Amit Shah)। উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের (স্বরাষ্ট্র/ডিজিপি) উপস্থিতিতে রায়পুরে রবিবারের বৈঠকটি ছিল ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের জন্য শেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক।” সোমবার অমিত শাহ দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের জগদলপুরে তিনদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘বস্তার পান্ডুম মহোৎসব’-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন (Naxals)।

     

LinkedIn
Share