Tag: Defence cooperation

  • PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করার যে কোনও চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে।” শুক্রবার এমনই মন্তব্য করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin)। ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন করেন তিনি। বলেন, “সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির নিজেদের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত।” সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ভারত সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে নীতি নির্ধারণ করেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বাইরের কোনও চাপ এলেও ভবিষ্যতেও তাই করবে।

    নিষেধাজ্ঞার হুমকি বুমেরাং হতে পারে (PM Modi)

    তিনি বলেন, “ভারত সবসময় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি ততক্ষণাৎ বুমেরাং হয়ে যাবে।” পুতিন জানান, রাশিয়া আগে ভারতের সঙ্গে Su-57 যুদ্ধবিমান যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সহযোগিতা বাস্তবায়িত না হওয়ায় রাশিয়া একাই বিমানটি তৈরি করে। ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু যে কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাও জানান পুতিন। বলেন, “আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের বিশেষত্ব হল পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আমরা শুধু কেনাবেচা নয়, যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিই।”

    ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগ

    উদাহরণ হিসেবে (PM Modi) তিনি ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারতীয় ও রুশ বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং তা সফল হয়েছে।” আমেরিকা যদি ভারত Su-57 বা S-500 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনতে চায়, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে কি? এই (Putin) প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, “ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের জন্য সবচেয়ে আধুনিক ও উপযুক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। অন্যরা যা-ই বলুক, ভারত সবসময় এই ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি জানান, ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপের বদলে সামরিক প্রয়োজন ও কার্যকারিতার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে (PM Modi)।

    পুরানো সেই দিনের কথা

    পুতিন মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে একসময় নরেন্দ্র মোদিকে আমেরিকায় প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। অথচ বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সবাই সেই সময়ের কথা মনে করি যখন প্রধানমন্ত্রী মোদির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী, সব নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক সফলভাবেই এগোচ্ছে।” তিনি জানান, মোদি নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যাননি এবং এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে ভারত পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও জানান পুতিন (Putin)। বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা, অন্য সব অংশীদারের মতোই, রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না। কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না যে, ভারতের কাছে এটা সরবরাহ করো না।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আমাদের অংশীদারদের, বিশেষ করে ভারতের মতো দেশের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সবসময় রক্ষা করব (PM Modi)।”

  • India Brahmos Missile Deal: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের, জানুন বিশদে

    India Brahmos Missile Deal: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি আরও প্রসারিত করার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং জানান, ভিয়েতনামের (Vietnam Indonesia Agreement) সঙ্গে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি (India Brahmos Missile Deal) ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই রকম আরও একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে।

    সাংগ্রি-লা ডায়ালগ (India Brahmos Missile Deal)

    শনিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাংগ্রি-লা ডায়ালগ (Shangri-La Dialogue)-এর ফাঁকে সাংবাদিক বৈঠকে রাজেশ জানান, হ্যানয় ইতিমধ্যেই ওই মিসাইল কেনা সংক্রান্ত চুক্তিটি সই করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ভিয়েতনামের এক প্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমার ধারণা, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম—উভয় দেশের ক্ষেত্রেই চুক্তিগুলি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও এখনও প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে ব্রহ্মোস প্যাকেজের মূল্য প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সাহায্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অগ্রগতি ভারতের একটি বড় প্রতিরক্ষা রফতানিকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রচেষ্টা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    প্রতিরক্ষা সচিবের বক্তব্য

    জানা গিয়েছে, ফিলিপিন্স ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম বিদেশি ক্রেতা। ২০২৪ সালে ম্যানিলা প্রথম ব্যাচের ক্ষেপণাস্ত্র কেনে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় চালান পায়। এর মাধ্যমে বৃহৎ প্রতিরক্ষা রফতানি চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের ক্ষমতা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রতিরক্ষা সচিব জানান, ভারত আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের সবাইকে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করি, যাদের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া যায়।” তিনি জানান,  সাধারণত উন্নত সামরিক প্রযুক্তি কেবল সেইসব দেশের সঙ্গেই ভাগ করা হয় যাদের ওপর গভীর আস্থা এবং কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে (Vietnam Indonesia Agreement)।

    বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে উন্নত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি কৌশলের অন্যতম প্রধান পণ্য হয়ে উঠেছে (India Brahmos Missile Deal)। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করতে আগ্রহী বিভিন্ন দেশের মধ্যে ব্রহ্মোসের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজেশ বলেন, “ভারত এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অংশের অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল, নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, নিরাপদ সামুদ্রিক পরিবেশ এবং উদ্ভাবনভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে প্রস্তুত।” তিনি জানান, বর্তমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রয়োজনীয়তাগুলির একটি হয়ে উঠেছে (Vietnam Indonesia Agreement)।

    দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করায় জোর

    প্রতিরক্ষা সচিবের এই ঘোষণার আগে আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি হ্যানয় সফর করে এসেছেন। সেখানে তিনি ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফান ভানন জিয়াংয়ের (Phan Van Giang) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন (India Brahmos Missile Deal)। শাংরি-লা ডায়ালগের পাশাপাশি রাজেশ অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং নেদারল্যান্ডসের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এর মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি আরও জোরদার করছে।

    ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সচিব মেঘান কুইন (Meghan Quinn)-এর সঙ্গে আলোচনায় উভয়পক্ষই ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ (India-Australia Comprehensive Strategic Partnership)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। অনুসন্ধান করে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রও। ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য ব্রহ্মোস চুক্তিগুলি ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাবের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এমন একটা সময়ে এই (Vietnam Indonesia Agreement) অগ্রগতি হচ্ছে, যখন অঞ্চলটিতে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে (India Brahmos Missile Deal)।

     

  • Vikram Misri: হোয়াইট হাউসে বৈঠক মিশ্রি-রুবিওর, আগামী মাসে ভারত সফরে মার্কিন বিদেশ সচিব

    Vikram Misri: হোয়াইট হাউসে বৈঠক মিশ্রি-রুবিওর, আগামী মাসে ভারত সফরে মার্কিন বিদেশ সচিব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করতে জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Vikram Misri)। এরই প্রেক্ষিতে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি হোয়াইট হাউসে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর (Marco Rubio) সঙ্গে বৈঠকে বসেন। দুই দেশের ওই বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলেই খবর। এই বৈঠক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই আলোচনা হয়েছে, যখন সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে উভয় দেশই তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে।

    আলোচনার বিষয় (Vikram Misri)

    আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার নয়া উদ্যোগ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক শুল্ক-সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে। উভয় পক্ষ এখন ২০২৬ সালের একটি বাণিজ্য সমঝোতা এগিয়ে নেওয়া, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং উন্নত উৎপাদন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায়, একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (critical minerals) নিয়ে সহযোগিতা, যা এখন বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Vikram Misri)। এই সম্পদগুলি জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য। ভারত ও আমেরিকা একটি স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে। উভয় দেশ যৌথ সামরিক মহড়া বাড়াচ্ছে, পারস্পরিক সামঞ্জস্য উন্নত করছে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে (Vikram Misri)। এই আলোচনা ফের একবার কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়লগের গুরুত্ব তুলে ধরে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে (Marco Rubio)। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের সময়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে, উভয় দেশ উদীয়মান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করার সুযোগ পেয়েছে। জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করা, সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক উত্তেজনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া—এই বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল, যা সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার অভিন্ন ইচ্ছাকে নির্দেশ করে (Vikram Misri)।

    সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো

    মিশ্রির আলিশন হুকারের সঙ্গে সমান্তরাল বৈঠকে ডিসেম্বরের ফরেন অফিস কনসালটেশনসের পরবর্তী অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রগুলিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনায় (Marco Rubio)। এদিকে, রুবিও আগামী মাসে ভারত সফরে আসবেন বলে খবর। একে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই সফর বৃহত্তর কৌশলগত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যার মধ্যে সম্ভাব্য কোয়াড পর্যায়ের বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং এটি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন উদ্যোগের পথ খুলে দিতে পারে।

    সব মিলিয়ে, এই আলোচনা একটি পরিণত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত দেয়, যা ভূ-রাজনীতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অভিন্ন স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত। বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি (Marco Rubio) স্থিতিশীল ও বহু- মেরু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনে ক্রমশ আরও বেশি কাছাকাছি আসছে (Vikram Misri)।

     

  • Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন (US) সফরে যাবেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri)। সেখানে তিনি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হবে, হবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনাও। এটি বিশ্বজুড়ে বহু দেশকে প্রভাবিত করেছে।

    মিশ্রির ওয়াশিংটন সফর (Vikram Misri)

    মিশ্রি ৮ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ওয়াশিংটনে থাকবেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত শুরু হয়, তার পর এই প্রথম কোনও পদস্থ ভারতীয় কর্তা আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন। এই সফরটি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ফেব্রুয়ারি মাসের ওয়াশিংটন সফরের পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতার অংশ বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

    নজিরবিহীন চাপ

    মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরটি ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণ পরিসর পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা চলছে, তাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। মিশ্রি মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, এই সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্কও ছিল (Vikram Misri)। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়। গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত বন্ধে নিজের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের বারবার দাবি সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা

    ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন যে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দিকে কাজ করছে এবং মার্কিন শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে এবং মিশ্রির বৈঠকগুলিতে এটি আলোচনায় আসতে পারে (US)। প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষ দিকে ট্রাম্প মোদিকে ফোন করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত অঞ্চলে দ্রুত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং বৈশ্বিক স্বার্থে হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    ভারত সংঘাত দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও নিশ্চিত করতে চায় ভারত।  কারণ এটি দেশের খাদ্য, জ্বালানি ও সার নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে, পশ্চিম এশিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেখানে বসবাসরত এক (US) কোটিরও বেশি ভারতীয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি (Vikram Misri)।

     

  • Benjamin Netanyahu: ‘মোদি-জ্যাকেট’ পরে নৈশভোজে হাজির নেতানিয়াহু, “চমৎকার” বললেন মোদি

    Benjamin Netanyahu: ‘মোদি-জ্যাকেট’ পরে নৈশভোজে হাজির নেতানিয়াহু, “চমৎকার” বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরে নৈশভোজের আসরে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চমকে দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। বুধবার জেরুজালেমে আয়োজন করা হয়েছিল ওই নৈশভোজের (Traditional Indian Attire)। সেখানেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পাথর-রঙের একটি নেহরু জ্যাকেট বেছে নেন, যা জনপ্রিয়ভাবে ‘মোদি জ্যাকেট’ নামেও পরিচিত। এতে ছিল ব্যান্ড কলার ও নিখুঁত কাটছাঁটের ফিটিং। এর সঙ্গে তিনি পরেছিলেন সাদা, লম্বা হাতাওয়ালা সাধারণ রংয়ের কুর্তা-ধাঁচের একটি শার্ট। গাঢ় নীল রঙের ফরমাল ট্রাউজার এবং পালিশ করা কালো চামড়ার জুতোয় তাঁকে আদ্যোপান্ত ভারতীয় বলেই মনে হচ্ছিল।

    ভারতীয় পোশাকে নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)

    এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে নেতানিয়াহু মোদির প্রতিক্রিয়ার ঝলক শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, “আমাদের যৌথ নৈশভোজের আগে আমি আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরে চমকে দিয়েছি।” কূটনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত একটি দিনের মধ্যেই এই পোশাক-নির্বাচনের বার্তা আসে। এর আগে মোদি নেসেটের বিশেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন, যা তাঁকে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণদানকারী প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করে। নেতানিয়াহুর পোস্টের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদি সেটি ফের শেয়ার করে লেখেন, “চমৎকার! ভারতীয় পোশাকের প্রতি আপনার অনুরাগ আমাদের দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আপনার শ্রদ্ধারই প্রতিফলন।”

    একাধিক মউ সই হওয়ার কথা

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও নেতানিয়াহু আজ, বৃহস্পতিবার যৌথভাবে ইয়াদ ভাশেম পরিদর্শন করবেন এবং পরে কিং ডেভিড হোটেলে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন (Benjamin Netanyahu)। আলোচনায় ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বের সামগ্রিক পর্যালোচনা হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা। পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও দুই নেতা মতামত বিনিময় করবেন (Traditional Indian Attire)। এই সফরকালে অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রজুড়ে একাধিক মউ সই হওয়ার কথা, যা দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যৌথভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিবৃতি দেবেন এবং আলোচনার নির্যাস তুলে ধরবেন। বর্তমানে ভারত ইজরায়েলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করার পথে এগোচ্ছে, যার লক্ষ্য আয়রন ডোম প্রযুক্তি অধিগ্রহণ। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা কেবল সরাসরি ক্রয় নয়, বরং এটি ভারতের নিজস্ব ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (প্রজেক্ট কুশা নামেও পরিচিত)-এর একটি মূল উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে (Benjamin Netanyahu)।

     

  • Maritime Security: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনকে টেক্কা দিতে সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা মোদির

    Maritime Security: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনকে টেক্কা দিতে সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Maritime Security) সহযোগিতা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিল ভারত (Indian Ocean Region)। এই লক্ষ্যে সেশেলসের জন্য ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার কথাও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদির দেশ।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (Maritime Security)

    সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণাটি করা হয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মরিশাস ও কোমোরো-সহ এই অঞ্চলের একাধিক দেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। একই সময়ে অঞ্চলটিতে বেজিংয়ের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব ভারত–সেশেলস সম্পর্কের একটি শক্তিশালী ভিত্তি। আমাদের সব উদ্যোগ সেশেলসের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এই প্যাকেজ সামাজিক আবাসন, ই-মোবিলিটি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলিতে নির্দিষ্ট প্রকল্পকে সাহায্য করবে।”

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা আমাদের অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের পূর্ণ সদস্য হিসেবে সেশেলসকে আমরা স্বাগত জানাই। এর ফলে পারস্পরিক সমন্বয় আরও মজবুত হবে এবং ভারত মহাসাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা জোরদার হবে (Maritime Security)।” আফ্রিকার এই দ্বীপপুঞ্জ রাষ্ট্রে প্যাট্রিক হারমিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি তাঁর প্রথম সরকারি ভারত সফর। ছ’দিনের এই সফরে তিনি ইতিমধ্যেই চেন্নাই ও মুম্বই সফর করেছেন এবং পরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছন। মঙ্গলবার তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এরপর আগ্রা সফর শেষে তাঁর দেশে ফিরে যাওয়ার কথা। পশ্চিম ভারত মহাসাগরের একটি (Indian Ocean Region) গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে অবস্থিত সেশেলস দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে গত দু’দশকে চিনও এই অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি কলেজের গবেষণা সংস্থা এইডডেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চিন সেশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় মোট ১৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য পাঠিয়েছে।

    নয়াদিল্লির কৌশল

    সেশেলসে চিনের আর্থিক সহায়তা অনুদান ও ঋণের সমন্বয়ে গঠিত। ২০১১ সালে লেস মামেলেস এলাকায় ২৪টি আবাসন ইউনিট নির্মাণে চিন ১৮ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অনুদান দেয়। এই এলাকায় ১৮৬৪ সালের ঐতিহাসিক বাতিঘর ‘ফারে দে মামেলেস’ এবং ৫২ মিটার উচ্চ আফ্রিকান রেনেসাঁ স্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত। পরবর্তী সময়ে দ্বীপজুড়ে আরও একাধিক সামাজিক আবাসন প্রকল্পে চিন অনুদান দিয়েছে (Indian Ocean Region)। ভারতের সাম্প্রতিক এই ঘোষণা এবং সোমবার স্বাক্ষরিত মউ – যার আওতায় সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, সমুদ্র পরিষেবা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং সামুদ্রিক গবেষণা পরিচালনার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত, এই অঞ্চলের প্রতি নয়াদিল্লির কৌশলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে (Maritime Security)। সেশেলসে আবাসন প্রকল্প, শিক্ষা, যোগাযোগ, পরিবহণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সরকারি ও নাগরিক সমাজভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগে চিন দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। পাশাপাশি দেশটিকে সার্বিক সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে বেজিং (Indian Ocean Region)।

     

LinkedIn
Share