Tag: Defence Technology

  • India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য পৌঁছেছে রেকর্ড ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়, যা ২০২০-২১ অর্থবর্ষের ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১১০ শতাংশ বেশি। সহজ ভাষায়, ৫ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির অন্যতম দ্রুততম সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সাফল্যকে।

    বৃদ্ধির নেপথ্যে ৫ কারণ

    তবে শুধু সংখ্যার বিচারে এই অগ্রগতি বিচার করলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে কীভাবে ভারত প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এত বড় লাফ দিতে সক্ষম হল? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ— সরকারি নীতিগত সংস্কার, বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার, দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন সুযোগের সৃষ্টি।

    আমদানি-নির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরতার পথে

    দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ ছিল ভারত। যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, আর্টিলারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীলতা ছিল অত্যন্ত বেশি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নির্ভরতা একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে গত এক দশকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নকশা, গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে যেখানে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্থল, জল ও আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ভারত উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই উৎপাদন-সাফল্যকে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা-শিল্পভিত্তির প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা, বেসরকারি শিল্প এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারের সম্মিলিত অবদান।

    নীতিগত সংস্কারেই তৈরি হয়েছে ভিত

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এই লাফের অন্যতম প্রধান কারণ হল ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার। কেন্দ্রীয় সরকার ‘পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট’ চালু করে, যার ফলে শতাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেগুলির ক্রয় দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। এর পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যাতে দেশীয় সংস্থাগুলি দ্রুত চুক্তি পেতে পারে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)-এর সীমাও শিথিল করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হয়েছে ‘ইনোভেশনস্ ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স’ (iDEX) প্রকল্প। ফলে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা এবং স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    বৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি বেসরকারি শিল্প

    ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম হল বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। যদিও এখনও মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ আসে ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (DPSU) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে, তবু বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশীদারিত্ব দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেসরকারি শিল্পের অবদান রেকর্ড ৪২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট উৎপাদনের ২৪ শতাংশ। এক বছর আগে এই অংশীদারিত্ব ছিল ২২ শতাংশ। বড় শিল্পগোষ্ঠী, বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্ট-আপ মিলিয়ে এখন একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা উৎপাদন পরিবেশ গড়ে উঠছে। শিল্পমহলের মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয়করণের মতো উদ্যোগগুলিই এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের বাড়তি অংশগ্রহণ ভারতের কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    দেশীয় যুদ্ধাস্ত্র প্রকল্পের পরিপক্বতা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হল বহু বছর ধরে চলা দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের পালে হাওয়া লাগা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর তৈরি তেজস হালকা যুদ্ধবিমান প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার পর বর্তমানে তেজস এমকে-১এ উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি আরও উন্নত এমকে-২ সংস্করণের কাজও এগোচ্ছে। একইভাবে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের আকাশ-এনজি (Akash-NG) প্রকল্প এর পাল্লা, গতিশীলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ, সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ, রেডার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মতো একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানিতেও নজির গড়েছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা রফতানি পৌঁছেছে রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়। এর ফলে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য শুধু ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নয়, আন্তর্জাতিক বাজারও উন্মুক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে কোনও পণ্যের গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়। বিদেশি ক্রেতারা ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে এখন ক্রমশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার করছে। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ছে, উৎপাদন খরচ কমছে এবং গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ

    ভারতের এই অগ্রগতি এমন সময়ে এসেছে, যখন গোটা বিশ্বে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৮৮৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি টানা একাদশ বছরের বৃদ্ধির রেকর্ড। ভারতও বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ সামরিক ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে। চিন ও পাকিস্তান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৮.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে সামরিক আধুনিকীকরণের প্রবণতা ভারতের মতো উদীয়মান প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রগুলির জন্য নতুন বাজার ও সুযোগ তৈরি করছে।

    সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

    যদিও বর্তমান সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে ভারতের সামনে এখনও বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উন্নত এরো ইঞ্জিন, বিশেষ ধরনের প্রোপালশন প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর, পরবর্তী প্রজন্মের সেন্সর, মাইক্রো-ইলেকট্রনিক্স এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত এখনও বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীল। পরবর্তী ধাপে আরও বড় সাফল্য অর্জনের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো, দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং উচ্চমূল্যের উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা অপরিহার্য।

    আত্মনির্ভরতা থেকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শক্তির পথে

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এই রেকর্ড উৎপাদন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। যে যাত্রা শুরু হয়েছিল আমদানি-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে, তা এখন ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর শিল্পনীতিতে রূপ নিচ্ছে—যার লক্ষ্য ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করা। বিশ্ব যখন ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামরিক আধুনিকীকরণের পথে এগোচ্ছে, তখন ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের এই উত্থান আগামী দশকে দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

  • Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যোগ হল। দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে (Ballistic Missile Defence বা BMD) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টানা তিনটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)।

    অভিনন্দন রাজনাথ সিংয়ের

    একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও সফল পরীক্ষা হয়েছে। এই সাফল্যের পর ভারত এখন বিশ্বের সেই নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় উঠে এসেছে, যারা দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী, শিল্প অংশীদার এবং সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X) তিনি জানান, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচালিত একাধিক জটিল পরীক্ষায় ভারতের বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

    কী কী পরীক্ষা চালানো হয়েছে?

    ১০ এবং ১১ জুন ধারাবাহিকভাবে তিনটি ফ্লাইট টেস্ট পরিচালনা করে ডিআরডিও। এই পরীক্ষাগুলির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের বহুস্তরীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার সময় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে শনাক্ত, অনুসরণ এবং ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলা করা যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, পরীক্ষিত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের ২,০০০ থেকে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে সাধারণত ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল (IRBM) বলা হয়।

    এক্সো-অ্যাটমোস্ফেরিক ও এন্ডো-অ্যাটমোস্ফেরিক প্রতিরক্ষা

    সূত্রের খবর, পরীক্ষায় ব্যবহৃত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি বায়ুমণ্ডলের বাইরে (Exo-atmospheric) এবং অন্যটি বায়ুমণ্ডলের ভিতরে (Endo-atmospheric) শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই দুই স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের বিএমডি শিল্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। কোনও শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ভেদ করলেও দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। ফলে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

    প্রথমবার সফল অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা পরীক্ষা

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরীক্ষার পাশাপাশি মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ডিফেন্স সিস্টেমেরও প্রথম সফল ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সরকার এখনও এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় জোর দিচ্ছে ভারত?

    গত কয়েক বছরে ভারত তার কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে দ্রুত শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিআরডিও অগ্নি-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত সংস্করণের কাজ শুরু করে, যা ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কার বা সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের তৃতীয় অরিহন্ত শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন আইএনএস অরিদ্ধমানকে (INS Aridaman) অন্তর্ভুক্ত করে। এই সাবমেরিন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম।

    পাকিস্তান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব

    প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, পাকিস্তানও সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। ফাতাহ-১ (Fatah-I), ফাতাহ-২ (Fatah-II) এবং চিনা প্রযুক্তিভিত্তিক পি২৮২-র (P282) মতো ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। শুধু পাকিস্তান নয়, এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটেও ভারত তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে আক্রমণাত্মক সক্ষমতার পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বের কোন এলিট ক্লাবে ভারত?

    রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত এখন সেই সীমিত সংখ্যক দেশের দলে যোগ দিয়েছে, যাদের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আইসিবিএম মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে দেশগুলির নাম উল্লেখ করেননি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই ধরনের উন্নত ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স প্রযুক্তি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং ইজরায়েলের মতো কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে। ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্য সেই তালিকায় তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা তিনটি সফল পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন দিকও তুলে ধরেছে। দেশটি এখন শুধু শক্তিশালী আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে না, পাশাপাশি সম্ভাব্য শত্রুর দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতাও দ্রুত গড়ে তুলছে। ডিআরডিওর এই সাফল্য ভবিষ্যতে ভারতের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিবিএম স্তরের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতার দাবি ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতায় বড়সড় সংযোজন ঘটল। দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এসএমপিপি-এর তৈরি ১০৬টি ‘পিসকিপার’ (ভারতে নাম ‘অগ্নিবেগ’) জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সরবরাহের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে মোট ১০৬টি সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০০টি অপারেশনাল ড্রোন এবং ৬টি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ইউনিট। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক লয়টারিং মিউনিশন ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করবে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত।

    নকশা বেলারুশের, উৎপাদন ভারতে

    ২০২৫ সালে বেলারুশ এবং ভারতের মধ্যে প্রায় ১০০টি ‘পিসকিপার’ কামিকাজে ড্রোন সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে ক্রেতা ছিল এসএমপিপি এবং বিক্রেতা ছিল বেলারুশের রাষ্ট্রায়ত্ত বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা বেলস্পেৎসনেশটেকনিকা। প্রযুক্তি হস্তান্তর (Transfer of Technology) চুক্তির আওতায় এসএমপিপি ইতিমধ্যেই কামিকাজে ড্রোনের মিউনিশন (অস্ত্র) অংশের উৎপাদন দেশীয়ভাবে শুরু করেছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। অর্ডারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রোনের বিভিন্ন উপাদান, এমনকি জেট ইঞ্জিন মোটর উৎপাদনের প্রযুক্তিও ভারতে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের খবর, এসএমপিপি ইতিমধ্যেই এই কামিকাজে ড্রোনের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণও প্রস্তাব করেছে, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম।

    কী এই ‘পিসকিপার’?

    ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ একটি টার্বোজেট ইঞ্জিনচালিত কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন, যা শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। প্রচলিত নজরদারি ড্রোনের মতো এটি মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফিরে আসে না। বরং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেই নিজেকে ধ্বংস করে দেয়। এই কারণেই একে ‘কামিকাজে ড্রোন’ বা ‘সুইসাইড ড্রোন’ বলা হয়। বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই ড্রোন শত্রুপক্ষের উচ্চমূল্যের সামরিক কাঠামো, কমান্ড সেন্টার, রেডার স্টেশন, গোলাবারুদ ডিপো কিংবা সাঁজোয়া যানকে নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম।

    ১৮০ কিলোমিটার দূরে নিখুঁত আঘাত

    অগ্নিবেগ ড্রোনের অন্যতম বড় শক্তি তার দীর্ঘ পাল্লা। এটি প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত অভিযান চালাতে পারে। অর্থাৎ সীমান্তের অনেক ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শত্রু লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করার সক্ষমতা রয়েছে এর। শুধু পাল্লাই নয়, গতি এবং নির্ভুলতার দিক থেকেও এটি অত্যন্ত উন্নত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম এই ড্রোনের ‘সার্কুলার এরর প্রোবাব্যল’ (CEP) ৫ মিটারেরও কম। সহজ ভাষায়, নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু থেকে এর বিচ্যুতি অত্যন্ত কম, ফলে অত্যন্ত নির্ভুল হামলা সম্ভব হয়।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্রেও কার্যকর

    বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রশক্তিই নয়, ইলেকট্রনিক যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শত্রুপক্ষ প্রায়ই জ্যামিং এবং স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনের যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করে। তবে ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ-কে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ধরনের ইলেকট্রনিক বাধা অতিক্রম করেও মিশন সম্পন্ন করা যায়। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ড্রোনটি আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিবেশেও সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

    অগ্নিবেগ ড্রোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● আঘাত হানার পাল্লা: সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার
    • ● সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ৪৫০ কিলোমিটার
    • ● নির্ভুলতা: সিইপি- ৫ মিটারের কম
    • ● ইঞ্জিন: দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত টার্বোজেট ইঞ্জিন
    • ● অপারেশন: স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল হামলা
    • ● সক্ষমতা: জ্যামিং ও স্পুফিং প্রতিরোধী

    সেনাবাহিনীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানবচালিত যুদ্ধবিমান বা সেনাদের সরাসরি ঝুঁকিতে না ফেলে শত্রু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সেই ক্ষেত্রে অগ্নিবেগ ড্রোন ভারতীয় সেনাকে কম খরচে, দ্রুত এবং নির্ভুল আঘাত হানার নতুন ক্ষমতা দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সংঘাত বা উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধে এই ধরনের কামিকাজে ড্রোন শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করতে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বড় সাফল্য

    দেশীয় সংস্থা এসএমপিপি-র তৈরি এই ড্রোনের সফল সরবরাহ ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আরেকটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উন্নতমানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করার যে লক্ষ্য ভারত নিয়েছে, ‘অগ্নিবেগ’ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি এই অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোনের অন্তর্ভুক্তি শুধু সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতাই বাড়াবে না, পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা মহলের বিশেষজ্ঞরা।

  • India Missile Launch: অনামী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত, আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ দেখে তোলপাড় বাংলাদেশে

    India Missile Launch: অনামী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত, আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ দেখে তোলপাড় বাংলাদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) শুক্রবার সন্ধ্যায় ওড়িশা উপকূল থেকে একটি পরমাণু অস্ত্রবহন সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) শ্রেণির মিসাইলের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ডিআরডিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার ঘোষণা করেনি, তবে এক প্রতিরক্ষা সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, “এই উৎক্ষেপণটি দেখতে অগ্নি-৬ মিসাইলের মতো না হলেও, আজ যে ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটি আইসিবিএম ক্যাটেগরির।”

    এলিট গ্রুপে ভারত…

    কয়েকদিন আগেই জাতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, ডিআরডিও খুব শীঘ্রই আইসিবিএম শ্রেণির একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে চলেছে। শুক্রবারের উৎক্ষেপণের পর সেই জল্পনাই আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশই আইসিবিএম প্রযুক্তির অধিকারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ১২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার আইসিবিএম রয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের কাছে রয়েছে কার্যকরী পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (SLBM) প্রযুক্তি। ভারত যদি সফলভাবে আইসিবিএম প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে বিশ্বের যে কোনও দেশ, এমনকি আমেরিকাও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে আসবে।

    অগ্নি-৬ ঘিরে ভারতে কৌতুহল তুঙ্গে

    এই উৎক্ষেপণের কয়েকদিন আগেই ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাথ এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে অগ্নি-৬ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “সরকার অনুমতি দিলেই আমরা এগোতে প্রস্তুত। সমস্ত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ।” অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে বিজেপি তাদের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানায়, “অগ্নি-৬: ভারত সুপারপাওয়ার হওয়ার পথে! ১০,০০০+ কিমি স্ট্রাইক রেঞ্জ এবং মার্ভ প্রযুক্তি সহ অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত।” পাশাপাশি একটি ভিডিও-ও পোস্ট করা হয়, যেখানে বলা হয়, “এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি দেশের হাতে আইসিবিএম ক্ষমতা রয়েছে। ভারত খুব শীঘ্রই সেই শক্তিধর দেশগুলির তালিকায় জায়গা করে নিতে চলেছে।”

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    অগ্নি-৬ বা আইসিবিএম প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় কৌশলগত গুরুত্ব হল পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা। অর্থাৎ, কোনও দেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রথমে পরমাণু হামলা চালানোর আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হবে, কারণ ভারত পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। শুধু সামরিক শক্তির দিক থেকেই নয়, আইসিবিএম প্রযুক্তি আয়ত্ত করা মানে জটিল রকেট প্রপালশন, অত্যাধুনিক গাইডেন্স সিস্টেম, মাল্টিপল ইনডিপেনডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল (MIRV), এবং রি-এন্ট্রি প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ইতিমধ্যেই অগ্নি সিরিজের মাধ্যমে মধ্য ও দীর্ঘ পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছে। অগ্নি-৬ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষিত ও সফল ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    বাংলাদেশের আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ 

    বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের এই পরীক্ষা, গোটা অঞ্চলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে। এই পরীক্ষা দেখা গিয়েছে। অনেকেই মোবাইলে সেই ছবি তুলে ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেন। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম)। কক্সবাজার থেকে নোয়াখালি— ৮ মে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সন্ধ্যার আকাশে একটি ‘রহস্যময় আলো’ দেখা যায়। অনেকেই দাবি করেন, এটি মিসাইল। এই আবহে সেই মিসাইলটি অগ্নি ৬ কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

    মিসাইলের ধরণ নিয়ে নীরব ভারত

    ডিআরডিওর তরফে সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রকৃত পরিচয়, রেঞ্জ এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় থাকছে। তবে বঙ্গোপসাগরে আগে থেকেই নোটাম জারি করে রেখেছিল ভারত। রিপোর্ট অনুযায়ী, মিসাইলের পরীক্ষা চালাতে ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ভারত। এই আবহে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— এটাই কি অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম গোপন পরীক্ষা, না হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনও আইসিবিএম প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ? সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করেনি ভারত। আর এই কৌশলগত নীরবতাই সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত এটি একটি নিয়মিত কৌশলগত সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষাও হতে পারে, কিন্তু তার আগেই আন্তর্জাতিক মহলে তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

    পরীক্ষা ঘিরে তুমুল জল্পনা

    বিশেষ করে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অংশ থেকে উৎক্ষেপণটি দৃশ্যমান হওয়ায় এই পরীক্ষার বার্তাবাহী গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষের নজরে আসার ফলে একটি প্রযুক্তিগত সামরিক ঘটনাই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ফলে এটি শুধু প্রতিরক্ষা মহলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জনপরিসরেও ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত প্রতিরোধক্ষমতার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সক্ষমতা অর্জনই যথেষ্ট নয়। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সেই সক্ষমতা বাস্তব সময়ে উপলব্ধি করানো এবং তার বার্তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই সাম্প্রতিক উৎক্ষেপণের দৃশ্যমানতা ও তা ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা কৌশলগত দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share