Tag: Delhi

Delhi

  • India Bangladesh Relation: বাংলাদেশের অস্থির অবস্থার জন্য ভারত দায়ী নয়! স্পষ্ট বার্তা দিল্লির

    India Bangladesh Relation: বাংলাদেশের অস্থির অবস্থার জন্য ভারত দায়ী নয়! স্পষ্ট বার্তা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (India Bangladesh Relation) অস্থির অবস্থার জন্য কোনওভাবেই ভারত দায়ী নয়। এটা আসল সমস্যা থেকে ঢাকার নজর ঘোরানোর চেষ্টা, বলে স্পষ্ট জানাল ভারত। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সাম্প্রতিক অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। ইউনুসের দাবি ছিল, ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী। কিন্তু সাউথ ব্লক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল ছাড়া কিছু নয়।

    প্রকৃত সমস্যা থেকে দূরে

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “আইনশৃঙ্খলা এবং শাসনব্যবস্থার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের। যদি কেউ বলে বাইরের শক্তি এই সমস্যার জন্য দায়ী, তাহলে সেটা আসলে প্রকৃত সমস্যার দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। এই ধরনের বিবৃতি দায়িত্ব এড়ানোর জন্য, সমস্যার সমাধান নয়।” সম্প্রতি ইউনুস নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতকে “বাংলাদেশ ধ্বংসে সচেষ্ট” বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমরা গভীর সঙ্কটে রয়েছি। ভারত এই পরিবর্তন মেনে নিতে পারছে না। যদি সুযোগ পায়, একদিনেই আমাদের ধ্বংস করে দেবে।”

    বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মতে, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষণার পর “একটি নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি” তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের অগ্রগতি থামানো, দেশকে পতনের মুখে ঠেলে দেওয়া, এবং আবারও পরাধীনতার দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।” এর তীব্র প্রতিবাদ করে রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করা দরকার, যাতে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়। তা না করে বাংলাদেশের (India Bangladesh Relation) অন্তর্বর্তী সরকার পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ চরমে পৌঁছাচ্ছে।” ইউনুস জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬-এর মধ্যে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে বিএনপি, দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী দল, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • ISI Agent: গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র পাক হাইকমিশন! প্রার্থী বাছাই থেকে মগজধোলাই, কীভাবে চলত?

    ISI Agent: গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র পাক হাইকমিশন! প্রার্থী বাছাই থেকে মগজধোলাই, কীভাবে চলত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুপ্তচরবৃত্তির (ISI Agent) কেন্দ্র হল পাকিস্তানের হাইকমিশন, গোয়েন্দা রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। ভিসা অফিসার হিসেবে পাকিস্তান আদতে আইএসআই আধিকারিকদেরই নিয়োগ করে দিল্লিতে তাদের হাই কমিশনে (Pakistan High Commission)। ভারত-পাক যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানের হাইকমিশনের কর্মী আহসানুর রহিম ওরফে দানিশকে অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করে দিল্লি। তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রয়েছে যে প্রায় ২৪ জন ব্যক্তিকে পাকিস্তানের ভিসার জন্য আবেদন করিয়েছিল দানিশ। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, দিল্লি পুলিশ এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং পরবর্তীকালে ২৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু সে অর্থে এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক তথ্য না পাওয়া যাওয়াতে, তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    ভিসা অফিসার নয়, দানিশ ছিল আইএসআই আধিকারিক (ISI Agent)

    এক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কোনওভাবেই পাকিস্তান হাইকমিশনের (Pakistan High Commission) ভিসা অফিসার ছিল না দানিশ। আদতে সে ছিল আইএসআইয়ের ইন্সপেক্টর র‍্যাঙ্কের একজন অফিসার (ISI Agent)। জানা যায়, সে নিজের এই সমস্ত কার্যকলাপগুলি রিপোর্টিং করত তার উর্ধ্বতন আইএসআই অফিসারদের। যাদের মধ্যে একজনের নাম হচ্ছে শোয়েব। এদেশে থেকে দানিশ আইএসআইয়ের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করত। এর পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন কোম্পানির সিম কার্ড সংগ্রহ করত। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, দানিশের পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছিল ইসলামাবাদ থেকে। সে ভারতের ভিসা পায় ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি। তথ্য বলছে, আইএসআইয়ের এজেন্ট দানিশের বাড়ি পাকিস্তানের নাড়োয়ালে। বর্তমানে এই স্থান পাকিস্তানের পাঞ্জাবে অবস্থিত। গত ১৩ মে দানিশকে অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করা হয়। কারণ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে সে ভারতের নাগরিকদের আইএসআই এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করছে। এরপাশাপাশি এদেশে পাকিস্তানপন্থী বিভিন্ন ইস্যুকে প্রচারও করছে সে।

    জ্যোতিদের মতো এজেন্টদের নিয়োগ করত পাক হাই কমিশনের আইএসআই আধিকারিকরা

    এই দানিশেরই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল হরিয়ানার জ্যোতি মালহোত্রা। যে কিনা একজন ট্রাভেল ভ্লগার (ভিডিও ব্লগার)। এই ইউটিবারও পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করত। হরিয়ানা থেকে পুলিশ সম্প্রতি তাকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের হাইকমিশনের একটা ইতিহাস রয়েছে, এই ধরনের কার্যকলাপ করার। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ পাক হাইকমিশনের বিরুদ্ধে নতুন নয়। এমনটাই জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা। হাইকমিশনকে ব্যবহার করেই এ দেশে এজেন্ট নিয়োগের কাজ চালিয়ে যায় তারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়োগ (ISI Agent) করা এজেন্টদের পোস্টিং দেওয়া হয়।

    কাদেরকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করত আইএসআই, কীভাবে হত মগজধোলাই?

    দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পাকিস্তান ডেস্ক পাক গুপ্তচরদের বিষয়ে যে তথ্য জোগাড় করেছে, এবং জ্যোতিকে জেরা করে যাা উঠে এসেছে, তার থেকে আইএসআই-এর মোডাস অপারান্ডি বা কার্যপদ্ধতি ফাঁস হয়েছে। জানা যাচ্ছে, দানিশের মতো আইএসআই এজেন্টরা এখানে জ্যোতিদের মতো ব্লগার ও ইনফ্লুয়েন্সারদের মূূলত টার্গেট করত। প্রার্থী বাছাইয়ে জোর দেওয়া হত তিনটি বিষয়ের ওপর। যাদের টাকার প্রয়োজন, ঘুরতে ভালোবাসে এবং একা থাকে— খোঁজা চলত এমন ক্যান্ডিডেটদের। এই শর্তগুলো মিলে গেলেই টোপ ফেলা হত। যেমন প্রথমেই পাকিস্তান ঘুরে আসার আমন্ত্রণ দেওয়া হয়। সহজে ভিসা জোগাড় করা থেকে শুরু করে সেখানে থাকা-খাওয়া-ঘোরার সুবন্দোবস্ত— সবকিছু করে দেয় আইএসআই। শুধু তাই নয়। এর পর ধীরে ধীরে, তাদের বলা হয় পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে আনতে। এই ভাবে ধীরে ধীরে জাল ফেলা হয়। আটকা পড়লে, আসল খেলা শুরু হয়। বলা হয় ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের তথ্য বা ছবি সরবরাহ করতে এবং সামরিক ও কেন্দ্রীয় কর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে গোপন নথি ও তথ্য হাতাতে। আইএসআই-এর টোপ গিলে নেয় জ্যোতি। আরও অনেকের কাছে ফেলা হয়। যারা গেলে না, তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়।

    ভিসা অফিসারের মুখোশে আইএসআই অফিসারদের পাঠানো হয় হাইকমিশনে

    প্রসঙ্গত, আইএসআই (ISI Agent) এভাবেই পাক হাইকমিশনকে ব্যবহার করে। এদেশে তাদের এজেন্ট খোঁজে এবং তাদেরকে বিভিন্ন কাজও দেয়। তথ্য পাচার করার কাজে লাগায় তাদেরকে। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, এই সমস্ত পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স অফিসারদের গুপ্তচরবৃত্তির প্রশিক্ষণ দেয় পাক সেনা। সেনা অফিসাররাই বাছাই করা আইএসআই অফিসারদের গুপ্তচর হিসেবে হাইকমিশন (Pakistan High Commission) গুলিতে পাঠায়। এখানে তারা আসে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে। তারা নিজেদের বলে ভিসা অফিসার। জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের মে মাসে দিল্লি পুলিশের তদন্তে উঠে আসে দুজনের নাম। যারা নিজেদের পরিচয় দেয় ভিসা অফিসার কিন্তু তারা ছিল আইএসআই এজেন্ট। এ দুজনের নাম ছিল আবিদ হোসেন এবং তাহীর খান। এই দুজনকে ভারত থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    পাক যড়যন্ত্র বুঝতে পেরে পাক হাইকমিশনে কর্মী সংখ্যা কমায় দিল্লি

    শুধু তাই নয়, ভিসার জন্য যে সমস্ত ভারতীয়রা পাকিস্তানে যেতে আবেদন করে তাদের কাছ থেকে ভারতীয় ফোনের সিম কার্ডও সংগ্রহ করে আইএসআই। এগুলো বিভিন্নভাবে তারা কাজে লাগায়। ঠিক এই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানের হাই কমিশনের (ISI Agent) কর্মী সংখ্যা ১৮০ থেকে ৯০ নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে এরকম একটি স্টিং অপারেশন চালানো হয়েছিল। যেখানে একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ভিসা অফিসারের মুখোশ খোলা হয়। দেখা যায় হাইকমিশনের ওই কর্মী আসলে আইএসআই এজেন্ট।

    ২০১৬ সালেও সামনে আসে পাক হাইকমিশনের গুপ্তচরবৃত্তি

    ২০১৬ সালের একই ঘটনা ঘটে। যেখানে দিল্লি পুলিশের তদন্তে উঠে আসে আরও এক আইএসআই এজেন্টে। জানা যায়, তার নাম ছিল মেহমুদ আক্তার। ঘটনা ক্রমে, সেও ছিল হাইকমিশনের কর্মী। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে প্রতিটি দেশই নিজেদের হাইকমিশনে বেশ কিছু কূটনৈতিক রক্ষাকবচ পায়। এটাকে ব্যবহার করেই দিল্লির হাইকমিশনকে আইএসআই-এর হাব বানিয়েছে পাকিস্তান। জানা গিয়েছে এই আক্তারকে আইএসআই নিয়োগ করে ২০১৩ সালে এবং হাইকমিশনের কর্মী হিসেবে তখনই পাঠায়।

  • India Pakistan Conflicts: দিল্লিতে বড় নাশকতার ছক! পাকিস্তানে পালানোর আগেই গ্রেফতার আইএসআই স্লিপার সেলের ২ এজেন্ট

    India Pakistan Conflicts: দিল্লিতে বড় নাশকতার ছক! পাকিস্তানে পালানোর আগেই গ্রেফতার আইএসআই স্লিপার সেলের ২ এজেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁওয়ের আগেই দেশের রাজধানী দিল্লিতেই সন্ত্রাস হামলার পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তানের (India Pakistan Conflicts) গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। দিল্লি থেকে আইএসআই-এর দুই এজেন্টের গ্রেফতারিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে এক জনের নাম আনসারুল মিয়া আনসারি। ওই ব্যক্তি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গোপন তথ্য পাচার করত পাকিস্তানে। দিল্লিতে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। তার আগেই গোয়েন্দারা তাদের ধরে ফেলে।

    সেনার বিভিন্ন দফতর, ঘাঁটির তথ্য পাচারই লক্ষ্য

    পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত এই পাকিস্তানি এজেন্টদের সম্পর্কে জানুয়ারি মাসেই খবর এসেছিল। গোপন সূত্রে খবর মিলেছিল, আইএসআই গুপ্তচর নেপালের পথ ধরে ভারতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করবে। ভারতীয় সেনার বিভিন্ন দফতর, ঘাঁটির তথ্য, ছবি ও জিওলোকেশন পাকিস্তানে পাচার করাই তাদের লক্ষ্য ছিল। দিল্লিতে স্লিপার সেল হিসাবে কাজ করছিল এরা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পহেলগাঁও হামলার আগেই দিল্লিতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল পাকিস্তানের স্লিপার সেলের সদস্যরা।

    কে এই আনসারুল

    সূত্রের খবর, ধৃত আনসারুল নেপালি বংশোদ্ভূত। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির (Pak Agents Arrested) অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লির একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ বছরের জানুয়ারি থেকে রাজধানী জুড়ে বিশেষ অভিযানে নামে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল। সেই অভিযানের সময়েই আনসারুলের হদিস পান গোয়েন্দারা। তার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের খবর, আইএসআই-এর মদতে পাকিস্তান থেকে নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল আনসারি। পাকিস্তানে পালানোর চেষ্টাও করে। কিন্তু তার আগেই তাকে ধরে ফেলে পুলিশ।

    কীভাবে ভারতে প্রবেশ করে আনসারুল

    গোয়েন্দা সূত্রের খবর, কাতারে ট্যাক্সিচালকের কাজ করত আনসারি। সেই সময় পাক ‘হ্যান্ডলার’-এর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। কাতার থেকে তার পর পাকিস্তানে যায় আনসারি। সেখানে চরবৃত্তির প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তাকে ভারতে পাঠায় আইএসআই। জেরায় আনসারি জানিয়েছে, কোথায় কোথায় তাদের জাল বিছিয়ে রেখেছে আইএসআই। তা-ই নয়, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলি পাকিস্তানে পাচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। আনসারির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি এবং ‘ডিজিটাল ডিভাইস’-এর ফরেন্সিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। সূত্রের খবর, সেখান থেকে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে।

    রাঁচিতে ধৃত আনসারুলের সঙ্গী 

    আনসারিকে জেরা করে আরও এক সন্দেহভাজন আখলাক আজমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাঁচি থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজমই আনসারিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জোগাড়ে মদত দিত। দু’জনের মোবাইলে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ভারতের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় পাক-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের লজিস্টিক সহায়তা প্রদানকারী স্লিপার সেল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ করে চলেছেন গোয়েন্দারা। এই গোটা চক্রের সঙ্গে পাক হাইকমিশনের আধিকারিক মুজাম্মিল এবং এহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশও যুক্ত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনিতেই দানিশ এবং পাক হাইকমিশনের অন্যান্য আধিকারিকরা যে ভারতে গুপ্তচর বা এজেন্ট নিয়োগ করছিল, তা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আনসারি এবং আজমের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট ফাইল করেছে দিল্লি পুলিশ।

    পাক-চরের খোঁজে অপারেশন মীরজাফর

    ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটি। দেশের বাইরের শত্রুদের শায়েস্তা করেছে সেনা। গোয়েন্দাদের নজরে এবার দেশের ভিতরে থাকা শত্রুরা। যেমন- ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতিরানি মালহোত্রা। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার পরেই শুরু হয় ‘অপারেশন মীরজাফর’। খুঁজে বের করা হয় একের পর এক বিভীষণদের। গোয়েন্দাদের দাবি, ভারত থেকে অনেকেই পাকিস্তানে তথ্য পাঠিয়েছে। দিল্লির পাকিস্তানি দূতাবাস থেকেও এই চরদের সাহায্য করা হয়৷ দিল্লি পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ-সহ আরও কিছু রাজ্যে পাক চর রয়েছে বলেও সন্দেহ ৷ পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা থেকে এখনও পর্যন্ত ১৪ জন পাক চরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হরিয়ানার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ছয় পাক চরকে।

    ‘হানি ট্র্যাপ’ থেকে ‘মানি ট্র্যাপ’

    হরিয়ানার হিসার থেকে গ্রেফতার করা হয় ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতিরানি মালহোত্রাকে ৷ ক্যাথল থেকে দেবেন্দ্র সিং ধিলোঁ-কে ৷ নুহ্ থেকে গ্রেফতার আরমান এবং তারিফ ৷ পঞ্চকুলা থেকেও একজনকে গ্রেফতার করা হয় ৷ পাঞ্জাব থেকে এখনও পর্যন্ত আট পাক চরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভাতিন্ডা সেনা ছাউনি থেকে মুচি সুনীল কুমার এবং দর্জি রকাব ৷ অমৃতসর থেকে পলক মসিহ্ এবং সুরজ মসিহ্ ৷ মালের কোটলা থেকে গাজালা এবং ইয়ামিন ৷ গুরুদাসপুর থেকে সুখপ্রীত সিং এবং করণবীর সিং৷ ‘হানি ট্র্যাপ’ থেকে ‘মানি ট্র্যাপ’। ভারতের ভিতরের খবর জানতে নানা কৌশল নেয় পাকিস্তান। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতরা পাক যোগের কথা স্বীকার করেছে। ভারতের বিভিন্ন বিমানঘাঁটি এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত তথ্য তারা পাকিস্তানে পাচার করেছে। এর জন্য টাকা পেয়েছে।

  • ISI Operative: আইএসআইয়ের হয়ে চরবৃত্তি! পাক হাইকমিশনের কর্তাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিল্লির

    ISI Operative: আইএসআইয়ের হয়ে চরবৃত্তি! পাক হাইকমিশনের কর্তাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে চড়েছে ভারত-পাক উত্তজনার পারদ। ২৭ জন হিন্দু পর্যটককে হত্যার বদলা নিতে পাকিস্তানে (Pakistan) ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় (ISI Operative) ভারত। সেই অপারেশনে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দুরমুশ করে দেওয়া হয় বেশ কিছু জঙ্গি ঘাঁটি। পরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দুই দেশ। তবে তার পরেও যে উত্তেজনার পারা এতটুকুও নামেনি, তার প্রমাণ মিলল মঙ্গলবার। এদিন পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের চরবৃত্তির অভিযোগে দিল্লির পাক হাইকমিশনের এক আধিকারিককে অবাঞ্ছিত (পার্সোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    পাক কূটনীতিককে বহিষ্কার (ISI Operative)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, পাক হাইকমিশনের ওই কর্তা ভারতে তাঁর সরকারি মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। দিল্লির পাক শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন অভিযোগে ওই পাক কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানায়নি বিদেশমন্ত্রক।

    পাকিস্তানি কর্মীকে অবাঞ্ছিত

    সূত্রের খবর, সম্প্রতি পাঞ্জাব পুলিশ দিল্লির পাক দূতাবাসের এক আধিকারিককে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগে এক মহিলা-সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছিল। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পাক হাইকমিশনের ওই কর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাঞ্জাব পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল গৌরব যাদব জানান, সরকারি পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এমন কার্যকলাপে যুক্ত থাকার জন্য নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের হাইকমিশনে কর্মরত এক পাকিস্তানি কর্মীকে অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কর্মীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (ISI Operative)।

    সম্প্রতি পাঞ্জাব পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে, যাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার গোপন তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের কাছে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। ওই হ্যান্ডলার দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত ছিলেন বলে খবর। তাদের জেরা করেই ফাঁস হয় পাকিস্তানি হাইকমিশনের ওই কর্মীর নাম – এহসান উর রহিম ওরফে দানিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের অনলাইন মাধ্যমে টাকা দিয়ে ভারতীয় সেনার স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করানো হত। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দা দফতরের (Pakistan) মতে, এই ঘটনা পাক চরচক্র ভাঙার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য (ISI Operative)।

  • Pahalgam Attack: “যতদিন ইসলাম ধর্ম থাকবে, ততদিন সন্ত্রাসবাদ থাকবে,” বললেন তসলিমা নাসরিন

    Pahalgam Attack: “যতদিন ইসলাম ধর্ম থাকবে, ততদিন সন্ত্রাসবাদ থাকবে,” বললেন তসলিমা নাসরিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “যতদিন ইসলাম ধর্ম থাকবে, ততদিন সন্ত্রাসবাদ থাকবে।” দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার (Pahalgam Attack) পর এমনই প্রতিক্রিয়া জানালেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। বাংলাদেশের এই নির্বাসিত লেখিকা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। দিল্লির সাহিত্য উৎসবের মঞ্চ থেকে পহেলগাঁওকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করলেন তসলিমা। তিনি বলেন, “১৪০০ বছর ধরে ইসলামের কোনও পরিবর্তন হয়নি। যতদিন না এই ধর্মের পরিবর্তন হচ্ছে, এটি সন্ত্রাসবাদের জন্ম দিতেই থাকবে।” পহেলগাঁও হামলার ঘটনাকে তিনি ২০১৬ সালে ঢাকায় হোলি আর্টিজেন বেকারি হামলার সঙ্গে তুলনা করেন। নির্বাসিত এই লেখিকা বলেন, “ঢাকায় মুসলিমদের হত্যা করা হয়েছিল কারণ তাঁরা কলমা পড়তে পারেননি। এমনটাই হয় যখন ভক্তি মানবতার থেকে বড় হয়ে দাঁড়ায়।”

    চতুর্দিকে মসজিদ (Pahalgam Attack)

    গত ২২ এপ্রিল পর্যটকদের ওপর হামলা করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। বেছে বেছে হত্যা করা হয় ২৭ জন হিন্দু পর্যটককে। এক জঙ্গির হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় খুন করা হয় স্থানীয় এক মুসলিম যুবককেও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হিন্দু পর্যটকদের কলমা পড়তে বলা হয়। যাঁরা পড়তে পারেননি, তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয় (Pahalgam Attack)। তসলিমা বলেন, “ইউরোপে গির্জাগুলিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছে। আর মুসলমানরা চতুর্দিকে মসজিদ নির্মাণ করে চলেছেন। হাজার হাজার মসজিদ রয়েছে, অথচ তাঁদের আরও চাই।” তিনি (Taslima Nasrin) বলেন, “মাদ্রাসা তুলে দেওয়া উচিত। একটা নয়, শিশুদের সমস্ত বই পড়ার অধিকার থাকা উচিত।”

    ‘আই লভ ইন্ডিয়া’

    বিতর্কিত এই লেখিকা বলেন, “আমি আমেরিকার স্থায়ী নাগরিক, ১০ বছর সেখানে ছিলাম। তবে সব সময়ই বহিরাগত বলে মনে হত নিজেকে। কলকাতায় এসে ঘরে ফিরেছি বলে মনে হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমায় বের করে দেওয়া হলেও, দিল্লিই দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে যায়। আমার নিজের দেশ আমায় যা দিতে পারেনি, ভারত তা দিয়েছে। আই লভ ইন্ডিয়া। এটাই আমার ঘর।” তসলিমা বলেন, “প্রত্যেক সভ্য দেশে একটি (Pahalgam Attack) অভিন্ন দেওয়ানি বিধি থাকা উচিত। ভারতেও থাকা উচিত। আমি বিষয়টিকে সমর্থন করি (Taslima Nasrin)।”

  • Delhi Police: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস, গ্রেফতার কিংপিন চাঁদ মিঞা

    Delhi Police: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস, গ্রেফতার কিংপিন চাঁদ মিঞা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi Infiltration) বিস্তৃত নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস করল দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) দক্ষিণ-পূর্ব জেলা অ্যান্টি নারকোটিকস স্কোয়াড। গত কয়েকদিন ধরে অভিযান চালিয়ে এই স্কোয়াডই গ্রেফতার করে সব মিলিয়ে মোট ৫২ জনকে। এর মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি। আর পাঁচজন তাদের ভারতীয় সহযোগী। এই সিন্ডিকেটের নেতা চাঁদ মিঞাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চাঁদ মিঞা গত প্রায় ১২ বছর ধরে পলাতক ছিল।

    ভারতে অনুপ্রবেশ (Delhi Police)

    ২০২৫ সালের ১২ মার্চ সূত্র মারফত দিল্লি পুলিশ জানতে পারে বাংলাদেশি নাগরিক আসলাম ওরফে মাসুন ওরফে মাহমুদ সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। সে লুকিয়ে রয়েছে তৈমুর নগরে। অভিযান চালিয়ে পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের টানা জেরায় আসলাম কবুল করে, সে বাংলাদেশের নোয়াখালি জেলার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে একটি জাল আধার কার্ড ও বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়।

    মূল হোতা চাঁদ মিঞা

    আসলামকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে এই অনুপ্রবেশ চক্রের মূল হোতা চাঁদ মিঞা। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করে জানা যায়, চেন্নাইতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে ৩৩ জন বাংলাদেশি। অভিযান চালিয়ে তাদেরও গ্রেফতার করে পুলিশ। এই অভিযান সংক্রান্ত পৃথক এফআইআর দায়ের হয় দিল্লি ও চেন্নাইয়ে। পুলিশ এই অনুপ্রবেশ চক্রের সঙ্গে জড়িত পাঁচ ভারতীয় এজেন্টকেও গ্রেফতার করেছে। এরা দিল্লিতে সাইবার ক্যাফে এবং আধার সেবা কেন্দ্র চালাত। এরাই অনুপ্রবেশকারীদের জাল আধার কার্ড, জন্ম সংক্রান্ত শংসাপত্র এবং জাতিগত শংসাপত্র-সহ নকল পরিচয়পত্র তৈরি করতে সাহায্য করত (Bangladeshi Infiltration)।

    বাজেয়াপ্ত জাল আধার কার্ড

    তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ (Delhi Police) বাজেয়াপ্ত করেছে ১১টি ভুয়ো আধার কার্ড, বাংলাদেশি পরিচয়পত্র, একটি ল্যাপটপ ও চারটি হার্ড ডিস্ক, একটি কালার প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও রেটিনা স্ক্যানার, জাল জাতি ও জন্ম সার্টিফিকেট, ৯টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৯ হাজার ১৭০ টাকা। তদন্তকারীরা জেনেছেন, এই সিন্ডিকেটটি পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয় হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের মধ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে সাহায্য করত। এজন্য জনপ্রতি তারা নিত ২৫ হাজার টাকা করে। চাঁদ মিঞা ব্যক্তিগতভাবে এক সঙ্গে ৮ থেকে ১০ জন অনুপ্রবেশকারীকে নিয়ে যেত। ভারতে প্রবেশের পর অনুপ্রবেশকারীরা প্রথমে অসমে পৌঁছত। সেখান থেকে লুকমান নামের আর এক হ্যান্ডলারের সাহায্যে চলে যেত দিল্লি বা ভারতের অন্যান্য শহরে।

    ভুয়ো কাগজপত্র

    দিল্লিতে পৌঁছনর পর ভারতীয় এজেন্টরা তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করত। বেশিরভাগ অনুপ্রবেশকারীকেই প্রথমে আবর্জনা কুড়ানো বা অন্যান্য ছোটখাট কাজে নিয়োজিত করা হত, যাতে তারা কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে পারে (Bangladeshi Infiltration)। ডিসিপি রবি কুমার সিং জানান, ইন্সপেক্টর বিষ্ণু দত্তের নেতৃত্বে এএনএস দিল্লি, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন শহরে যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে। এই গোষ্ঠীটি দিল্লিকে জাল কাগজপত্র তৈরির মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত। পুলিশের ধারণা, এটি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ১০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক ও তাদের একাধিক ভারতীয় সহযোগী। কর্তৃপক্ষ তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে এই নেটওয়ার্কের বাকি শাখাগুলির টিকি ছোঁয়ার চেষ্টা করছে (Delhi Police)। কয়েক বছর আগেও এই ধরনের চারটি অবৈধ অনুপ্রবেশ চক্র ধ্বংস করেছে পুলিশ। তাতে গ্রেফতার হয়েছিল ৪০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক ও তাদের ভারতীয় এজেন্ট।

    কে এই চাঁদ মিঞা

    জানা গিয়েছে, পঞ্চান্ন বছর বয়সি চাঁদ মিঞা বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মুদ্দু বরিশালের বাসিন্দা। গত ১০-১২ বছর ধরে সে মানব পাচার করছিল। চার বছর বয়সে সে নিজেই ভারতে অনুপ্রবেশ করে। তারা প্রথমে দিল্লির সীমাপুরী ও পরে তৈমুর নগরে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে। বছরের পর বছর ধরে চাঁদ চেন্নাইতে তার ঘাঁটি স্থানান্তরিত করে। তার পর সে এমন একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতে শুরু করে যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বেনাপোল এলাকা এবং মেঘালয়ের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিদের এদেশে অনুপ্রবেশের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এ পর্যন্ত চাঁদ মিঞার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে এফআরআরও-র সাহায্যে বহিষ্কার করা হয়েছে (Delhi Police)।

    প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী আরও পাঁচজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হল মিম আখতার, মিনা বেগম, শেখ মুন্নি, পায়েল শেখ, সোনিয়া আখতার এবং তানিয়া খান। পুলিশের দাবি (Bangladeshi Infiltration), এদের কারও কাছে বৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত কোনও নথিপত্র নেই (Delhi Police)।

  • Delhi: স্কুলে বেআইনি ফি বৃদ্ধি নিয়ে কড়া অবস্থান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার

    Delhi: স্কুলে বেআইনি ফি বৃদ্ধি নিয়ে কড়া অবস্থান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে (Delhi) স্কুল ফি বৃদ্ধি (School Fee Hike) এবং অভিভাবক ও ছাত্রদের হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। সোমবার এক জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ধরনের অন্যায় সহ্য করা হবে না এবং দোষী স্কুলগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ছাত্রদের হুমকি দিয়ে বা অস্বাভাবিকভাবে ফি বাড়ানো যাবে না। ফি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধিনিষেধ আছে এবং সেগুলো না মানলে সেই স্কুলকে ভুগতে হবে। আমরা অভিযুক্ত স্কুলগুলোকে নোটিশ পাঠাবো।”

    বেআইনি ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ

    এদিনের অনুষ্ঠানে কুইন মেরি স্কুল, মডেল টাউনের একদল অভিভাবক অভিযোগ করেন, বেআইনি ফি (School Fee Hike) বৃদ্ধির প্রতিবাদ করার কারণে তাঁদের সন্তানদের স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পরে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী একজন সরকারি আধিকারিককে নির্দেশ দিচ্ছেন ওই স্কুলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আরও বলেন, “দিল্লি (Delhi) সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সমান সুযোগ এবং শিশুদের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যায়, শোষণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের নীতি একদম স্পষ্ট — জিরো টলারেন্স। প্রতিটি শিশুর ন্যায্যতা, সম্মান এবং মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে।”

    কেন এই অবস্থা

    দিল্লি বিজেপি সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেবা সম্প্রতি অভিযোগ করেন, “দিল্লিতে ১,৬৫০-র বেশি বেসরকারি স্কুল রয়েছে, কিন্তু কেজরিওয়াল সরকার বছরে মাত্র ৭৫টি স্কুলের হিসাবই অডিট করতে পেরেছে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অধিকাংশ বেসরকারি স্কুলই ফি বৃদ্ধি (School Fee Hike) করেছে।” এখন দেখার বিষয়, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়। দিল্লির শিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারি স্কুলগুলোর প্রভাব ব্যাপক। তাই এইসব স্কুলে অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। স্কুলগুলি যাতে নিয়মের মধ্যে থাকে এবার সেদিকেই নজর দিয়েছে রাজধানীর বিজেপি সরকার।

  • India Bangladesh Relation: সময়ের মধ্যে উৎপাদিত পোশাক পাঠানোর চাপ! তুলোর জন্য ভারতের ওপরই নির্ভর বাংলাদেশ

    India Bangladesh Relation: সময়ের মধ্যে উৎপাদিত পোশাক পাঠানোর চাপ! তুলোর জন্য ভারতের ওপরই নির্ভর বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ভারত (India Bangladesh Relation) বিরোধিতা ক্রমেই বাড়ছে। হাসিনা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও ভারত-বৈরিতা নিত্যদিনের ঘটনা। তবে দুই দেশের বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে পণ্য আমদানিতে ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে ১৭.২৭ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় তুলো। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্যশস্য। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের সময়সীমা (লিড টাইম) দ্রুত কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ এখন আমদানির জন্য ভারতের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

    প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা

    আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতাদের অর্ডার সম্পাদনের সময়সীমা সারা পৃথিবীতে ৯০ দিন থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৪৫ দিনে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের (India Bangladesh Relation) রফতানিকারক ও উৎপাদকরা দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজতে গিয়ে ভারতের দিকেই ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় কারণ হলো সময়। আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলো ও অন্যান্য কাঁচামাল আনতে যেখানে ৪৫ দিনের বেশি সময় লাগে, সেখানে ভারত থেকে এসব কাঁচামাল পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ২-৩ দিন। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি করা হয় তৈরি পোশাক। এটাই ঢাকার আয়ের মূল ভিত্তি। তাই কম সময়ে ভারত থেকে তুলো নিয়ে গিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

    ভারত নির্ভরতা বাংলাদেশের

    বাংলাদেশ (India Bangladesh Relation) ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে ২.০৯ শতাংশ। যা ২০২৩ সালের একই সময়ে ২.০৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২.৩৬ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) প্রথম দশ মাসে দেশটি থেকে বাংলাদেশের আমদানি করা পণ্যের অর্থমূল্য ছিল ৯৩৯ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জানুয়ারি সময়ে আমদানি হয়েছে ৮৮০ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের পণ্য। শুধু গত জানুয়ারিতেই ভারত থেকে বাংলাদেশ পণ্য আমদানি করেছে ১০৭ কোটি ৫৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের। আর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমদানি হয়েছিল ৯১ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের।

    কেন বাড়ছে ভারত-নির্ভরতা

    তুলো আমদানিই এই বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ (India Bangladesh Relation) বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের তুলো আমদানি করে, যার অর্ধেকের বেশি আসে ভারত থেকে। ২০২৩ অর্থবর্ষে ভারত থেকে বাংলাদেশ তুলো আমদানি করেছিল ১.৯২ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে ২.৩৬ বিলিয়ন ডলার। তুলোর পাশাপাশি, সুতো, কাপড়, টেক্সটাইল কেমিক্যালস এবং হ্যান্ডলুম পণ্যও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভারত থেকে আমদানি করা হয়। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক ও শ্রম অসন্তোষের কারণে বাংলাদেশের অনেক কারখানায় উৎপাদন বিঘ্নিত হয়। এতে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য আমদানি উৎসের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর উন্নতির ফলে এখন ২৪টি স্থলবন্দর এবং তিনটি রেলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন হচ্ছে।এছাড়া, ডলার সংকটের কারণে দূরবর্তী দেশের সঙ্গে লেটার অব ক্রেডিট (LC) খোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারতীয় ব্যবসার সঙ্গে নিকটতা, তুলনামূলক সহজ আর্থিক ব্যবস্থা এবং ভাষা ও বাণিজ্য সংস্কৃতির পরিচিতিও বাণিজ্যে সুবিধা দিচ্ছে।

  • Bangladesh Crisis: ‘‘এসব বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না’’, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশকে ফের সতর্ক করল ভারত

    Bangladesh Crisis: ‘‘এসব বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না’’, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশকে ফের সতর্ক করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যাংককে বিমস্টেকের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের (Bangladesh Crisis) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের। সেই বৈঠকে পড়শি দেশে লাগাতার হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় ভারত (New Delhi) যে উদ্বিগ্ন, ইউনূসকে তা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার বিকেলে এ ব্যাপারে ফের একবার ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে আগেও বাংলাদেশের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা কথা হয়েছে ভারতের। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়, তাঁদের ওপর যে নির্মমতার অভিযোগ উঠে আসে, তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে বাংলাদেশকে।

    বাংলাদেশ পুলিশের দাবি (Bangladesh Crisis)

    গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছিল, সে দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের সিংহভাগ ঘটনাই রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে। পরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছিল, গত ৫ অগাস্ট থেকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অভিযোগ দায়ের হয়েছে ২ হাজার ৩৭৪টি। তার মধ্যে ১ হাজার ২৫৪টি অভিযোগ যাচাই করে দেখেছে পুলিশ। যাচাই করা অভিযোগগুলির ৯৮ শতাংশই রাজনৈতিক কারণে বলে দাবি করেছিল বাংলাদেশ সরকার। তবে এদিন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে দেখিয়ে বা সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জিত বলে ঘটনাগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

    কী বললেন রণধীর জয়সওয়াল

    রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনাগুলিকে কখনও রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে বা সংবাদ মাধ্যমের অতিরঞ্জিত, এসব বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এই ধরনের নৃশংসতায় যারা অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার পদক্ষেপ করবে বলে আমরা আশা করি।” প্রসঙ্গত, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে গত ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis) ছাড়েন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে ভারতের প্রতিবেশী এই দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে আগেও বিভিন্ন সময়ে পদক্ষেপ করার অনুরোধ করেছে ভারত। যদিও ইউনূস প্রশাসন বিভিন্ন সময় জানিয়ে দিয়েছে, সে দেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদেই রয়েছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভিন দেশের মন্তব্য (New Delhi) যে তাদের না-পসন্দ, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছিল ইউনূস সরকার (Bangladesh Crisis)।

  • India Bangladesh Relations: ভারত-বিরোধিতার মাশুল! বাংলাদেশকে মোক্ষম শিক্ষা দিল দিল্লি, মাথায় হাত ইউনূসের

    India Bangladesh Relations: ভারত-বিরোধিতার মাশুল! বাংলাদেশকে মোক্ষম শিক্ষা দিল দিল্লি, মাথায় হাত ইউনূসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব মজবুত করতে তৎপর ইউনূসের বাংলাদেশ। ভারত-বিরোধিতা (India Bangladesh Relations) এখন পদ্মাপাড়ের মূলমন্ত্র। যে মানচিত্র ভারতের হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছিল, সেই মানচিত্রের গ্রাফটাই এখন বদলে গিয়েছে। হাসিনা পরবর্তী যুগে সোনার বাংলাদেশ এখন ছারখার। জঙ্গিদের মুক্তাঞ্চল। তাই চুপ করে কতদিন থাকা যায়! কয়েকদিন আগেই চিনে গিয়ে ভারতের নিন্দা করে এসেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। বলেছিলেন, ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি ‘ল্যান্ড লকড’। তাদের সমুদ্রপথের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। ওই এলাকার সমুদ্রপথের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ। ইউনূসের ওই মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি ভারত। এবার সহজে বাংলাদেশের বাণিজ্যের রাস্তা বন্ধ করে দিল দিল্লি। তৃতীয় কোনও দেশে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি করতে ব্যবহার করা যাবে না ভারতের কোনও বন্দর বা বিমানবন্দরের শুল্ককেন্দ্র। সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। তবে, ছাড় দেওয়া হয়েছে ভুটান ও নেপালের ক্ষেত্রে। ভারতের ভূখণ্ড হয়ে ভুটান ও নেপালে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহণে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে দিল্লি। অর্থাৎ, ভারত দিয়ে এই দুই দেশে আগের মতোই রফতানি করতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, ইউরোপ বা অন্য বাকি দেশে পণ্য পাঠাতে পারবে না ঢাকা।

    ভারতের সিদ্ধান্ত

    কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৮ এপ্রিলের পর থেকে ভারতের উপর দিয়ে ভুটান ও নেপাল বাদ দিয়ে আর কোনও দেশে পণ্য রফতানির জন্য ল্যান্ড কাস্টম স্টেশন (LCS) বা শুল্ক কেন্দ্র ব্যবহার করতে পারবে না বাংলাদেশ (India Bangladesh Relations)। এতদিন এই সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব পণ্য ভারতে নিয়ে এসে এখানকার বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পাঠাতে পারত। এটি দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। বাংলাদেশের সামগ্রী বিশ্বের অন্যান্য দেশে রফতানির জন্য এই ‘‘ট্রান্স-শিপমেন্ট’’ সুবিধা প্রত্যাহার করা হল। এর জন্য কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বোর্ড (সিবিআইসি) ২০২০ সালের জুন মাসের একটি নিয়ম বাতিল করল, যা বাংলাদেশের পণ্য ভিনদেশে রফতানির জন্য ভারতীয় বন্দর ও বিমানবন্দরের ল্যান্ড কাস্টম স্টেশন ব্যবহার করতে দিত। এতে বিভিন্ন দেশে পণ্য পাঠাতে ভারতের পরিকাঠামোকে ব্যবহার করে এক ছাদের নিচে সব সুযোগ সুবিধা পেত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এবার থেকে ওই সব দেশে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়বে। সময়ও বেশি লাগবে। খরচও বেশি হবে।

    কেন এই নির্দেশ

    পড়শি দেশকে (India Bangladesh Relations) এই সুবিধা দেওয়া বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছিল ভারতীয় রফতানিকারক সংস্থাগুলি। বিশেষ করে বস্ত্র রফতানি সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এই অনুরোধ করা হয়েছিল। ২০২০ সালের জুন মাস থেকে বাংলাদেশকে এই সুবিধা দিয়ে আসছিল ভারত। ভিন দেশে পণ্য রফতানির জন্য এই সুবিধা ব্যবহার করত বাংলাদেশ। ৮ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশিকা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে যে সব পণ্য ইতিমধ্যে ভারতে প্রবেশ করেছে, সেগুলিকে পূর্বের নির্দেশিকা অনুসারে ভারত থেকে বেরোতে দেওয়া হবে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে ওই সুবিধা দেওয়ার ফলে এ দেশের বন্দর এবং বিমানবন্দরগুলিতে ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির রফতানিতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণে বাংলাদেশকে ওই সুবিধা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। তবে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, নেপাল এবং ভুটানে পণ্য রফতানি করতে বাংলাদেশের কোনও সমস্যা হবে না।

    ভারতের সুবিধা

    সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় বিমানবন্দর এবং বন্দরগুলির এলসিএস-গুলিতে বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক-শিপমেন্ট এসে ভিড় জমাত। এতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সময় ও টাকা খরচ হচ্ছিল। অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের (AEPC) চেয়ারম্যান সুধীর শেখরি বলেছেন, “ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের নিষ্পত্তি হল। প্রতিদিন ২০-৩০ বাংলাদেশি পণ্য বোঝাই ট্রাক দিল্লিতে এসে অপেক্ষা করত ভিনদেশে যাওয়ার জন্য। এতে আমাদের এক্সপোর্টাররা সমস্যার পড়ছিলেন। কার্গোতে আমাদের পণ্যের পর্যাপ্ত জায়গা হচ্ছিল না।” এই সিদ্ধান্তের ফলে বস্ত্র, জুতো, মূল্যবান পাথর এবং গয়নার ক্ষেত্রে ভারতীয় রফতানিকারক সংস্থাগুলির সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বস্তুত, বস্ত্র রফতানি ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হল বাংলাদেশ। ভারতীয় রফতানি সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশন’ (এফআইইও)-এর মহাপরিচালক অজয় সহায় বলেন, “এর ফলে ভারতীয় রফতানি পণ্যের জন্য বিমানে আরও বেশি জায়গা পাওয়া যাবে। অতীতে রফতানিকারক সংস্থাগুলি প্রায়শই অভিযোগ করত, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য তারা কম জায়গা পাচ্ছে।”

    কূটনীতিকদের অভিমত

    সম্প্রতি চিনে গিয়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরে এসেছিলেন ইউনূস। নিজেদের সমুদ্রের অভিভাবক বলে চিনকে বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বাংলাদেশে (India Bangladesh Relations) এসে ব্যবসার জন্য, প্রচুর জিনিস বানাতে। বিক্রির জন্য বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত। চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের এই বন্ধুত্ব ভারত ভালো চোখে দেখেনি। তার ওপর যখন শিলিগুড়ির চিকেনস্ নেকের কাছে বাংলাদেশের মাটিতে চিনকে বিমানঘাঁটি তৈরির আহ্বান জানিয়ে বসেন ইউনূস, তখন ভারত আর চুপ করে বসে থাকেনি, বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। চিন সফরে গিয়ে ইউনূসকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের পূর্ব প্রান্তের সাতটি রাজ্য, যাদের সেভেন সিস্টার্স বলা হয়। ওই বিরাট অঞ্চল কিন্তু পাহাড় আর স্থলভাগে ঘেরা। সমুদ্রপথে যোগাযোগ করার উপায়ই নেই তাদের। বাংলাদেশই হল সমুদ্রপথের রাজা। তাই ওই এলাকায় চিনা অর্থনীতির বিস্তার ঘটতেই পারে।” এই মন্তব্যের ইঙ্গিত অত্যন্ত স্পষ্ট যে, ভারতের ৭ রাজ্য (সেভেন সিস্টার)কে ভেঙে ফেলতে চায় বাংলাদেশ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এই একই ইচ্ছা চিনের। যদিও সেই চৈনিক চাল বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এবার বাংলাদেশের মুখে এমন মন্তব্যে দুয়ে দুয়ে চার করতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না ভারতের। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কফিনের অন্যতম পেরেক ইউনূসের এই মন্তব্য। তাই এবার ব্যবসার রাস্তা বন্ধ করে ঢাকাকে বার্তা দিল দিল্লি।

    বিপদে বাংলাদেশ

    ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতের এই এক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি ও ব্যবসায় ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে। বিশেষত ঢাকার বস্ত্র রফতানি এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হবে। এতদিন ধরে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর পণ্য পাঠাত বাংলাদেশ, বিশেষত জামাকাপড়। ভারতের মাটি, বায়ুপথ ও বন্দরের শুল্ককেন্দ্র ব্যবহার করে অনেক কম খরচ ও কম সময়ে ভিনদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য পাঠাত বাংলাদেশ। কিন্তু এবার সেই সুযোগ বন্ধ হল। এখন থেকে বাংলাদেশকে সমুদ্রপথ বা আকাশপথে রফতানির বিকল্প ভাবতে হবে, যা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। লজিস্টিক সমস্যা ও সময়ে পণ্য পৌঁছতে দেরি হবে। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে ঢাকা। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলছেন, “বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের রফতানি এবার মার খাবে। এতদিন ভারত যে সুবিধা দিত তাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের শুধু অনেক টাকাই বাঁচত না, সময়ও বাঁচত।” তিনি আরও জানান, গত ২০ বছর ধরে বাংলাদেশকে সন্তানসুলভ প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে ভারত। পণ্যের উপর শূন্য শুল্ক থেকে অগ্রাধিকার— কী না দেওয়া হয়নি। মদ ও সিগারেট ছাড়া নেপাল, ভুটানের মতো দেশে বাংলাদেশ সব পণ্য বিনা শুল্কে এতদিন পাঠিয়ে এসেছে। তাও ভারত-বিরোধিতা (India Bangladesh Relations) করতে পিছপা হননি ইউনূস। তাই পরিবর্তিত বাংলাদেশকে শিক্ষা দিতেই এই পদক্ষেপ ভারতের।

LinkedIn
Share