Tag: Dharmendra Pradhan

Dharmendra Pradhan

  • BJP: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের অংশ বলে দেগে দিলেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন

    BJP: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের অংশ বলে দেগে দিলেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে (Cockroach Janta Party) ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের অংশ বলে দেগে দিলেন বিজেপির (BJP) জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ২৯ জুন, সোমবার তেলঙ্গনার ওয়ারাঙ্গলে এক জনসভায় এই অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের সংগঠন দেশকে দুর্বল ও বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, এই ধরনের ‘ভাইরাস ও ককরোচসদৃশ’ শক্তির বিরুদ্ধে বিজেপি কঠোর পদক্ষেপ করবে।

    নিতিন নবীনের সাফ কথা (BJP)

    ওয়ারাঙ্গলের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিতিন নবীন বলেন, “দেশে ভাইরাস এবং ককরোচের মতো কিছু দল ও গোষ্ঠীর উদ্ভব হচ্ছে। এরা দেশের ভিত ফাঁপা করে দিতে চায়। এই ভাইরাস ও ককরোচসদৃশ মানুষদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এরা ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের অংশ, যারা দেশকে ভাগ করতে চায়। বিজেপি এদের উপযুক্ত জবাব দেবে, এবং দলের প্রতিটি কর্মী তা নিশ্চিত করবে।” উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নামে এই ব্যঙ্গাত্মক প্রচারাভিযানের সূচনা করেন অভিজিৎ দিপকে। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এটি প্রথমে অনলাইন ব্যঙ্গ প্রচার হিসেবে শুরু হলেও, পরে তা বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে ফিল্ড পর্যায়ের কর্মসূচির রূপ নেয়। সম্প্রতি নিট ইউজি (NEET UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একাধিক বিক্ষোভ সমাবেশে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়।

    আড়ালে চলছে রাজনৈতিক প্রচার!

    এদিকে, সমালোচকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের প্রশ্নকে ঢাল করে এই আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে। গত সপ্তাহে যন্তর মন্তরের এক বিক্ষোভে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (JNUSU) যুগ্ম সম্পাদক দানিশ আলি বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ‘আজাদি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এটি পরীক্ষা-সংক্রান্ত দাবির (BJP) আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অভিযোগ আরও জোরালো করে। এর আগে, গত ৬ জুন যন্তর মন্তরে আয়োজিত আর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে খবর করতে যাওয়া কয়েকজন মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় (BJP)। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন বিক্ষোভকারী এক মহিলা সাংবাদিককে ঘিরে স্লোগান দিচ্ছেন, এবং তাঁর উদ্দেশে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করছেন। ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে সাংবাদিক মহলে, তীব্র প্রতিক্রিয়া (Cockroach Janta Party) দেখা দেয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

     

  • Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট (NEET) সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল (Osman Faizan Ali)। এই বিক্ষোভকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলির ভূমিকা নিয়ে।

    ককরোচ জনতা পার্টি (Osman Faizan Ali)

    প্রতিবাদ কর্মসূচিটি হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) উদ্যোগে। আন্দোলনটিকে ছাত্র-যুবদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন পোস্টার ও প্রচারসামগ্রীতে ওসমান ফয়জান আলির ছবি দেখা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে তাঁর পরিচয় হিসেবে লেখা ছিল ‘ইন্ডিয়ান ওসমান ফয়জান আলি – ফ্রম ইউএসএ’। বিক্ষোভকারীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের অনেকেই পোস্টারে থাকা ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কয়েকজন আবার জানান, সংগঠকদের কাছ থেকে তাঁরা পোস্টার পেয়েছেন এবং ছবিতে থাকা ব্যক্তির সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই।

    কে এই ওসমান ফয়জান আলি?

    জানা গিয়েছে, ওসমান মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘@bbm_india_’-এ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ও নিট ইস্যু নিয়ে একাধিক ভিডিও এবং পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব কনটেন্টে আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিতও উঠে এসেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। ১ জুন ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে মন্তব্য করতে গিয়ে ওসমান বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে আবেগ ও উত্তেজনা উসকে দিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। যদিও ভিডিওতে সরাসরি কোনও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ডাক দেওয়া হয়নি (Osman Faizan Ali)। সম্প্রতি প্রকাশিত আরও একটি ভিডিওতে তিনি দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। তবে সেই ভিডিওতেও আন্দোলন আটকে দিলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘Button Ballot Movement by Osman Faizan Ali’-এর পুরনো কিছু কনটেন্টে দেখা গিয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি হায়দরাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদের ভোটারদের এআইএমআইএম (AIMIM) এবং কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যে বিজেপিকে পরাজিত করার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ককরোচ জনতা পার্টি-সমর্থন এবং অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে অবশ্য ওসমানের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি (CJP)।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার যুগে দ্রুত বদলাচ্ছে রাজনৈতিক আন্দোলনের চরিত্র। এখন দেশের বাইরে অবস্থান করেও কোনও ব্যক্তি অনলাইনের মাধ্যমে আন্দোলনের বয়ান গঠন, জনমত প্রভাবিত করা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছেন (Osman Faizan Ali)। যন্তর মন্তরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রচারসামগ্রীর উৎস সম্পর্কে কতটা সচেতন, এবং সর্বোপরি, বিদেশে থেকে অনলাইন সক্রিয়তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনায় অনলাইন প্রচার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং জনআন্দোলনের সম্পর্ক নিয়ে (CJP) আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (Osman Faizan Ali)।

    অতএব, সাধু সাবধান!

     

  • NEET Re Exam: আজ নিট, ২২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা, আস্থার পরীক্ষায় এনটিএ-কেন্দ্রও

    NEET Re Exam: আজ নিট, ২২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা, আস্থার পরীক্ষায় এনটিএ-কেন্দ্রও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট ইউজি ২০২৬ এর রি-টেস্ট আজ, রবিবার (NEET Re Exam)। ২২ লাখেরও বেশি মেডিক্যাল ভর্তি-প্রত্যাশী অংশ নেন এই পরীক্ষায়। এই পরীক্ষাটি কেবল পরীক্ষার্থীদের জন্যই নয়, এনটিএ (National Testing Agency) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ (Security)। কারণ মে মাসে হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং পরবর্তীকালে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছিল আস্থার সঙ্কট। সেই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতেই এবার ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

    কড়া নিরাপত্তায় পরীক্ষা (NEET Re Exam)

    প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ছাত্রদের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও উঠেছিল। কেন্দ্র জানিয়েছিল, স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েই আগের পরীক্ষা বাতিল করে ফের পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। সেই মতো হয় রি-টেস্ট। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের তিন ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হলেও, বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীরা পায় অতিরিক্ত এক ঘণ্টা ৫ মিনিট। এনটিএর তরফে পরীক্ষার্থীদের দুপুর দেড়টার মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আগেই। এদিন যাচাই করা হচ্ছে অ্যাডমিট কার্ড, বৈধ পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট সাইজের দু’টি ছবি। নির্ধারিত সময়ের পরে কোনও পরীক্ষার্থীকেই যে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না, তাও আগেই জানিয়ে দিয়েছিল পরীক্ষক সংস্থা। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় বায়ুসেনার মাধ্যমে সেগুলি বিভিন্ন কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।  দেশজুড়ে ৫,৪৪০টি পরীক্ষাকেন্দ্র এবং বিদেশের ১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট ৫৫১টি শহরে এই পরীক্ষা হচ্ছে।

    ব্রজ্র আঁটুনি

    এনটিএ জানিয়েছে, ৯৫ হাজারেরও বেশি পরীক্ষাকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মোট ১,৩৮,৫৬০টি সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ফিড জাতীয়, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় স্তরে পর্যবেক্ষণ করা (Security) হচ্ছে। ইলেকট্রনিক জালিয়াতি রুখতে ৫১,৩১১টি জ্যামার মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা এবং ডাক বিভাগের কর্মীরাও নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত রয়েছেন (NEET Re Exam)। প্রতি পরীক্ষাকেন্দ্রে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পরীক্ষাকক্ষে থাকছেন দু’জন করে ইনভিজিলেটর। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন ১০ জনেরও বেশি অতিরিক্ত পরীক্ষাকর্মী। পরীক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব যাচাই আরও কড়া করা হয়েছে। প্রায় ৩৮,৭৯৫ জন ফ্রিস্কিং স্টাফ এবং ৪৮,৪৪৮ জন বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পাশাপাশি ফেস অথেনটিকেশন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এনটিএর নির্দেশ মতো প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে একজন করে সেন্টার সিস্টেমস অফিসার (CSO) থাকছেন। তিনি দিনভর সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করবেন।

    সংস্থার প্রধান লক্ষ্য

    এদিকে, পরীক্ষার ঠিক আগের দিন একটি ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। নাগপুরের এক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র আবুধাবিতে। যদিও, ওই পরীক্ষার্থীর দাবি, পছন্দের কেন্দ্র হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন নাগপুর, ওয়ার্ধা এবং ভান্ডারা শহরকে (NEET Re Exam)। অভিযোগ ওঠার পর দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে এনটিএ জানায়, পরীক্ষার্থীর নিজস্ব লগইন থেকেই কেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল, এবং সেই অনুযায়ীই আবুধাবি কেন্দ্র বরাদ্দ হয়েছিল। পরে অনুরোধ পাওয়ার পর তাঁকে নাগপুরেই নতুন কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে। সংস্থার তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কোনও পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা যেন নষ্ট না হয়, সেটাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

    রাহুলের বার্তা

    এদিকে, প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে কেন্দ্রকে সতর্ক করেছেন (NEET Re Exam)। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমি আশা করি তোমাদের পরীক্ষা খুব (Security) ভালো হবে। আমরা তোমাদের পাশে আছি এবং তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চাই।” কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রাহুল বলেন, “দয়া করে নিশ্চিত করুন, এবার যেন কোনও গলদ না হয়। ছাত্রছাত্রীরা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে (NEET Re Exam)।”

     

  • Cockroach Janta Party: যন্তর-মন্তরে ককরোচ পার্টির প্রথম সমাবেশ, ভিড় কই, দাবিই বা কী?…

    Cockroach Janta Party: যন্তর-মন্তরে ককরোচ পার্টির প্রথম সমাবেশ, ভিড় কই, দাবিই বা কী?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক মাস ধরেই ভারতের হতাশ তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে ককরোচ জনতা পার্টি, সংক্ষেপে সিজেপি (Cockroach Janta Party)। ভাইরাল ভিডিও, ইনফ্লুয়েন্সার নেটওয়ার্ক, ইনস্টাগ্রামে প্রচার এবং সরকারবিরোধী বার্তার মাধ্যমে সংগঠনটি নিজেদের দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল যুব আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। তাদের নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছে, সংগঠনের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটি এবং এটি একটি তৃণমূলভিত্তিক গণআন্দোলনের প্রতিফলন।

    ককরোচ জনতা পার্টি, প্রশ্ন যেখানে (Cockroach Janta Party)

    তবে ৬ জুন, দিল্লির যন্তর-মন্তরে (Jantar Mantar) আয়োজিত সংগঠনের প্রথম বড় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবের বড় ফারাকটাই তুলে ধরে। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক ও অনিয়মের তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল অনলাইন ক্ষোভকে বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সক্ষমতা প্রদর্শন করা। কিন্তু সমাবেশের ভিড় নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়—ককরোচ জনতা পার্টি কি সত্যিই একটি গণভিত্তিক আন্দোলন, নাকি এটি মূলত অ্যালগরিদম, ভাইরাল কনটেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল একটি ডিজিটাল ঘটনা?

    সমাবেশে লোকজন কই?

    সিজেপি (Cockroach Janta Party) কোনও প্রচলিত রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠন থেকে গড়ে ওঠেনি। বরং ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবকেন্দ্রিক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল পরিমাণ ফলোয়ার রয়েছে দাবি করে প্রথমবারের মতো বড় জনসমাবেশের আয়োজন করায় ৬ জুনের বিক্ষোভকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে দেখেছিলেন। প্রশ্ন উঠেছিল, কোটি কোটি অনলাইন ফলোয়ার কি হাজার হাজার মানুষকে রাজপথে নামিয়ে আনতে পারবে? সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে? ভাইরাল জনপ্রিয়তা কি দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের ভিত্তি হতে পারবে? বিক্ষোভের জমায়েত দেখে অবশ্য এই সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বিস্তৃত প্রচার ও একাধিক ইনফ্লুয়েন্সারের সক্রিয় অংশগ্রহণ সত্ত্বেও, যন্তর-মন্তরের সমাবেশে উপস্থিতি সংগঠনের দাবি করা বিশাল ফলোয়ারের সংখ্যার তুলনায় নিতান্তই নগন্য (Jantar Mantar)।

    সংগঠনের শক্তি

    বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী, অভিভাবক ও সমর্থকদের দেখা গেলেও, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইউটিউবার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনেকে অনুষ্ঠানের দৃশ্যপট মোবাইলবন্দি করে তৈরি করছিলেন অনলাইন কনটেন্ট (Cockroach Janta Party)। তাই অনেকের কাছে পুরো পরিবেশটি রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি একটি বড় ইনফ্লুয়েন্সার সমাবেশের আকারও নেয়। সিজেপির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা। প্রচলিত ছাত্র আন্দোলনের মতো বিশ্ববিদ্যালয় বা স্থানীয় সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের পরিবর্তে এই সংগঠনের শক্তি মূলত এসেছে অনলাইন প্রচার ও ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট থেকে (Jantar Mantar)।

    কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনে সভা নয়

    সমাবেশে ককরোচ আঁকা মুখোশ, পোস্টার, শিল্পকর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক নানা প্রতীক ব্যাপকভাবে দেখা যায়। সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকের কাছে এটি সমমনা সমর্থক ও অনলাইন পরিচিতদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এটি ডিজিটাল আন্দোলনের একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া অনায়াস হলেও, সেই সমর্থনকে দীর্ঘমেয়াদি ফিল্ড লেভেলের সংগঠনে রূপ দেওয়া অনেক বেশি কঠিন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনিশ্চয়তা এবং নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন (Cockroach Janta Party)। তাঁদের অনেকেই জানান, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনে নয়। শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটি-বিচ্যুতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই তাঁরা উপস্থিত হয়েছেন (Jantar Mantar)।

    সরকারবিরোধী কণ্ঠ

    অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকে আবার এমনও জানিয়েছে, বহু সমর্থক বাস্তবে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, শেয়ার ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের মধ্যেই নিজেদের সমর্থন সীমাবদ্ধ রাখেন। সিজেপির উত্থানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় এই ইনফ্লুয়েন্সার অতীতে বিভিন্ন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য যোগাযোগ এবং নিজেকে সরকারবিরোধী কণ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চার বিষয় হয়েছেন তিনি। বিদেশি ভাষ্যকার এবং পাকিস্তানের কিছু কর্মীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের (Cockroach Janta Party)। সংগঠনটি যদি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করে, তাহলে নেতৃত্ব, আদর্শ, অর্থায়ন, নেটওয়ার্ক ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে (Jantar Mantar)। যন্তর-মন্তরের কর্মসূচিতে প্রধান দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

    দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক উদ্যোগ? 

    সমালোচকদের একাংশের মতে, কেবল একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেই শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, তা নয়। এতে একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে আসে—প্রতীকী জবাবদিহি কি যথেষ্ট, নাকি বাস্তব সংস্কারের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতিগত প্রস্তাব, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক উদ্যোগ? বিক্ষোভে এই প্রশ্নগুলির সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ৬ জুনের এই কর্মসূচি হয়তো তাৎক্ষণিক দাবির চেয়ে বেশি আলোচিত হবে ডিজিটাল যুগের আন্দোলনের শক্তি ও সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে। সিজেপি অনলাইন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে, সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এবং তরুণদের মধ্যে একটি পরিচিত ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে সফল হয়েছে।

    ভাইরাল জনপ্রিয়তা বনাম বাস্তব রাজনৈতিক শক্তি

    কিন্তু সেই জনপ্রিয়তা দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারবে কি না, তা এখনই বলা যাবে না (Cockroach Janta Party)। সংগঠনটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এলেও কোটি কোটি অনলাইন ব্যবহারকারীর দাবি এবং বাস্তব জনসমাগমের ব্যবধানই এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে (Jantar Mantar)। ভবিষ্যতে সেই ব্যবধান কমানো সম্ভব হবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত এই জমায়েত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল জনপ্রিয়তা এবং বাস্তব রাজনৈতিক শক্তি সবসময় এক নয় (Cockroach Janta Party)।

     

  • CBSE OSM Portal: সিবিএসই ওএসএম পোর্টালের দুর্বলতা ধরিয়ে তাক লাগালো তিন তরুণ ‘ভালো’ হ্যাকার, একজন বাঙালি

    CBSE OSM Portal: সিবিএসই ওএসএম পোর্টালের দুর্বলতা ধরিয়ে তাক লাগালো তিন তরুণ ‘ভালো’ হ্যাকার, একজন বাঙালি

    সুশান্ত দাস

    দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা বোর্ড সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)-এর নতুন চালু হওয়া ওএসএম (OSM) ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে গরমিল, এমনকি একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা দিতে টেন্ডারের নিয়ম পরিবর্তনের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাগুলির কেন্দ্রে রয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া তিন কিশোর— নিসর্গ আধিকারী, সার্থক সিদ্ধান্ত এবং বেদান্ত শ্রীবাস্তব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কুয়েট (CUET) পরীক্ষার প্রযুক্তিগত সমস্যার পর এই নতুন বিতর্ক দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

    কী এই অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা?

    সম্প্রতি দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও ডিজিটাল করতে সিবিএসই চালু করে অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় পরীক্ষকদের কাছে উত্তরপত্রের স্ক্যান করা কপি অনলাইনে পাঠানো হয় এবং তাঁরা নির্দিষ্ট পোর্টালে লগ-ইন করে মূল্যায়ন করেন। বোর্ডের দাবি ছিল, এর ফলে মূল্যায়ন দ্রুত হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। কিন্তু চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

    শিলিগুড়ির নিসর্গ আধিকারীর হ্যাকিংয়ে সামনে এল একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি

    শিলিগুড়ির বাসিন্দা ১৯ বছরের ছাত্র এবং সাইবার নিরাপত্তা গবেষক নিসর্গ আধিকারী, যিনি এ বছরই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছেন, ২২ মে একটি ব্লগ পোস্টে ওএসএম (OSM) পোর্টালের একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ করেন। আধিকারীর দাবি, তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পোর্টালটি পরীক্ষা করে বেশ কিছু উদ্বেগজনক দুর্বলতা খুঁজে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে ভারতের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT-In)-কে বিষয়টি জানান। তাঁর ব্লগে উল্লেখ করা হয়েছে, পোর্টালের কোডে একটি ‘‘হার্ডকোডেড মাস্টার পাসওয়ার্ড’’ ছিল। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর আইডি এবং স্কুল কোড জানা থাকলে যে কেউ সেই মাস্টার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারত।

    নিসর্গ আধিকারীর দাবি অনুযায়ী—

    • ● ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা দুর্বল ছিল।
    • ● ওটিপি (One-Time Password) যাচাইকরণ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।
    • ● পরীক্ষকের পরিচয়ে লগ-ইন করা সম্ভব ছিল।
    • ● পোর্টালে প্রবেশের পর মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের সুযোগও তৈরি হতে পারত।

    তিনি জানান, এই তথ্য সার্ট-ইন-কে পাঠানোর পর একটি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া পেলেও পরবর্তী একাধিক অনুস্মারকের কোনও উত্তর পাননি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সিবিএসই প্রথমে অভিযোগগুলি অস্বীকার করলেও পরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানায় এবং অভিযোগ উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানায়।

    উত্তরপত্রে ভয়াবহ গরমিল, অন্য ছাত্রের খাতা পেলেন পরীক্ষার্থী

    ওএসএম ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরদার হয় ১৭ বছরের ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তবের ঘটনার পর। ২৩ মে ২০২৬-এ বেদান্ত সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দাবি করেন, তিনি নিজের উত্তরপত্রের ফটোকপি চাওয়ার পর দেখতে পান যে পদার্থবিদ্যার যে উত্তরপত্র সিবিএসই তাঁকে দিয়েছে, সেটি তাঁর নয়। পরিবারের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। এমনকি তাঁদের ‘‘দেশবিরোধী’’ ও ‘‘পাকিস্তানি’’ বলেও আক্রমণ করা হয়। বেদান্তের ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন নয়, তা-ও সামনে এসেছে। একাধিক পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি ও মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

    টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেন সার্থক সিদ্ধান্ত

    বিতর্কের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয় ৩০ মে, যখন ১৮ বছরের ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্ত একটি বিশদ ব্লগ পোস্টে অভিযোগ করেন যে সিবিএসই ইচ্ছাকৃতভাবে টেন্ডারের শর্ত পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা দিয়েছে। ওএসএম (OSM) অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ‘কোএমপ্ট্ এডুটেক’ (Coempt Edu Teck)। সার্থকের দাবি, সরকারি সংস্থা হিসেবে সিবিএসঅর কোনও নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP)-এর মাধ্যমে সংস্থা নির্বাচন করতে হয়। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছিল—

    ১. কোম্পানির অতীত ব্যর্থতার মূল্যায়ন সংক্রান্ত ধারা বাদ

    যেসব ধারা কোনও সংস্থার অতীত চুক্তিভঙ্গ, আর্থিক ব্যর্থতা বা প্রকল্প মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ দিত, সেগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ২. সফটওয়্যার মান নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড শিথিল

    সফটওয়্যার উন্নয়নের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কেপাবিলিটি ম্যাচুরিটি মডেল ইন্টিগ্রেশন (CMMI)-এর প্রয়োজনীয়তা লেভেল ৫ থেকে কমিয়ে লেভেল ৩ করা হয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, CMMI লেভেল ৫ সর্বোচ্চ মানের সফটওয়্যার প্রক্রিয়া নির্দেশ করে। লেভেল ৩-এ নামিয়ে আনা হলে নিরাপত্তা ও গুণগত মানের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩. স্ক্যানিং অবকাঠামোর মান কমানো

    সার্থকের দাবি, উত্তরপত্র স্ক্যান করার যন্ত্রপাতির মান সংক্রান্ত শর্তও শিথিল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনগুলি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে যোগ্য করে তুলতেই নিয়মগুলি সংশোধন করা হয়েছিল।

    অতীতেও বিতর্কে জড়িয়েছিল সংস্থাটি

    সার্থক তাঁর প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, কোএমপ্ট্ এডুটেক অতীতে তেলঙ্গানা রাজ্যের পরীক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত ২০১৯ সালের একটি বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত ছিল, যেখানে উত্তরপত্র স্ক্যানিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সরকারি তদন্তের ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।

    সিবিএসই-র প্রতিক্রিয়া

    ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মুখে সিবিএসই জানিয়েছে, তারা ওএসএম (OSM) পোর্টালের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়োগ করেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনও নাগরিক বা পরীক্ষার্থী যদি কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয় লক্ষ্য করেন, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    বড় প্রশ্নের মুখে দেশের ডিজিটাল পরীক্ষাব্যবস্থা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পোর্টালের প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয় নয়। এটি দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, কুয়েট-এর প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং এখন সিবিএসই ওএসএম বিতর্ক— এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করা ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থাগুলির ওপর আরও কঠোর প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা, স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে ছাত্র, অভিভাবক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নজর সিবিএসই-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তের ফলাফল এবং সম্ভাব্য সংস্কারই নির্ধারণ করবে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বোর্ড তার ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার উপর হারিয়ে যাওয়া আস্থা কত দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারে।

    নিসর্গ-সার্থকদের কাজকে সাধুবাদ সংসদের স্থায়ী কমিটির

    নিসর্গ, বেদান্ত ও সার্থকের মতো তরুণ এথিক্যাল হ্যাকারদের এই দলটি ছোট হলেও ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এরা নীরবে দেশের শিক্ষা-পরিকাঠামোর নানা ত্রুটি ও নিরাপত্তা দুর্বলতা উন্মোচন করেছে এবং কর্তৃপক্ষকে বহু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছে। সার্থককে সংসদের স্থায়ী কমিটির সামনে হাজির হতে সমন পাঠানো হয়েছিল। তিনিই এই কমিটির সামনে সাক্ষ্যদানকারী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। সেখানে তিনি যাবতীয় তথ্য পেশ করে, আমলা-কর্তাদের চোখ খুলে দেন। এর জন্য যথেষ্ট বাহবাও পেয়েছেন সার্থক। এথিক্যাল হ্যাকার নিসর্গ-সার্থকদের কাজ সংসদীয় কমিটি, সরকার এবং আমলাদের বাধ্য করেছে বিভিন্ন সরকারি পোর্টালের ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে ও পদক্ষেপ নিতে। তাঁরা দেশের সামনে এক নির্মম আয়না তুলে ধরেছেন— আর সেই আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনও উপায় ছিল না পদাধিকারীদের।

  • NEET UG 2026: প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব এনটিএর চেয়ারম্যানকে

    NEET UG 2026: প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব এনটিএর চেয়ারম্যানকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জিজ্ঞাসাবাদ ও পর্যালোচনা বৈঠকের জন্য তলব করা হল এনটিএর (NTA) চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার জোশী এবং শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের। ২১ মে ওই বৈঠকে তাঁদের হাজির থাকতে বলেছে সংসদের পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন (NEET UG 2026) এডুকেশন, উইমেন, চিলড্রেন, ইয়ুথ অ্যান্ড স্পোর্টস। জানা গিয়েছে, দ্বিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় প্যানেল পূর্ববর্তী জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার বিতর্কের পর গঠিত কে রাধাকৃষ্ণণ (K Radhakrishnan) কমিটির সুপারিশ করা সংস্কারগুলির বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করবে। শিক্ষামন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত জোশীকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিতর্ক-সংক্রান্ত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষা সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতেই তলব করা হয়েছে তাঁকে।

    বৈঠকে গুরুত্ব কোন কোন বিষয়ে (NEET UG 2026)

    ওই বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে এনটিএর জবাবদিহি ব্যবস্থা, পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার ওপর জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রস্তাবিত সংস্কার। ৩ মে নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা নিয়েছিল এনটিএ (NTA)। নাম নথিভুক্ত করেছিলেন প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষার পরপরই অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিতর্কের জেরে পরীক্ষা বাতিল করে দেয় এনটিএ। পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ঘোষণা করেন, ওই পরীক্ষাটি ফের নেওয়া হবে ২১ জুন। তিনি এও জানান, আগামী বছর থেকে নিট পরীক্ষা হবে কম্পিউটার-ভিত্তিক পদ্ধতিতে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা যাতে বাড়ে এবং অসদুপায়ের সম্ভাবনা কমে, তাই এই ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, নিট বিতর্ক ছাড়াও কমিটি শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI)  ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করবে। বৈঠকে অংশ নেবেন আইআইটি মাদ্রাজ-সহ আরও কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

    কারা থাকবেন বৈঠকে

    আর একটি বৈঠকে কমিটি আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনোরিটি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউটের আধিকারিকদের সঙ্গে সংরক্ষণ নীতি, শিক্ষকের শূন্যপদ এবং ন্যাশনাল এডুকেশন পলিশি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। এছাড়াও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সংস্কার, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের কার্যকারিতা এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কিত সুপারিশগুলিও পর্যালোচনা করা হবে (NEET UG 2026)। নিট ইউজি ২০২৬ বিতর্কের জেরে লাখ লাখ শিক্ষার্থী প্রভাবিত হওয়ায়, সংসদীয় পর্যালোচনায় এনটিএর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে চলেছে। আগামী দিনের আলোচনা ও সংস্কার প্রস্তাবগুলি ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা (NTA), স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে (NEET UG 2026)।

     

  • NEET CBT Mode: আগামী বছর থেকে অনলাইনে হবে নিট পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের পর কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    NEET CBT Mode: আগামী বছর থেকে অনলাইনে হবে নিট পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের পর কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস বিতর্কে উত্তাল দেশজুড়ে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026)। এই আবহেই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। শুক্রবার তিনি জানান, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ থেকে নিট পরীক্ষা সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক (Computer-Based Test বা CBT) ফরম্যাটে নেওয়া হবে। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় কথিত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, সুরক্ষিত এবং জবাবদিহিমূলক করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকার ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে, বাতিল হওয়া নিট-ইউজি (NEET UG 2026)-এর পুনঃপরীক্ষা আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের জেরে বাতিল করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে চেয়েছে কেন্দ্র।

    আগামী বছর থেকে বদলাচ্ছে নিট-এর ফরম্যাট

    মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে ধমেন্দ্র প্রধান জানান, আগামী বছর থেকে নিট-ইউজিকে ওএমআর (OMR) ভিত্তিক পেন-পেপার মোড থেকে সরিয়ে সিবিটি ফরম্যাটে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর কথায়, “দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থাই এখন সময়ের দাবি।” যদিও ২০২৬ সালের পুনঃপরীক্ষা এখনও ওএমআর শিটের মাধ্যমেই হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ওএমআর শিট পূরণে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

    সিবিআই-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গোড়া পর্যন্ত খতিয়ে দেখা হবে

    প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিবিআই (CBI)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধমেন্দ্র প্রধান জানান, এই তদন্তে শুধু দোষীদের চিহ্নিত করাই নয়, কীভাবে প্রশ্ন বাইরে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কোনও সংঘবদ্ধ শিক্ষা মাফিয়া বা প্রতারণা চক্র সক্রিয় ছিল কি না—সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, “এই অনিয়মের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনো হবে। কোনও যোগ্য ছাত্রছাত্রী যেন প্রতারণার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাই সরকারের অগ্রাধিকার।”

    ‘গেস পেপার’ অভিযোগ থেকেই শুরু তদন্ত

    ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে বিস্তারিত জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, ৩ মে পরীক্ষা হওয়ার পর ৭ মে এনটিএ-র (NTA) কাছে একটি অভিযোগ আসে, যেখানে দাবি করা হয়, বাজারে ছড়িয়ে পড়া একটি তথাকথিত ‘গেস পেপার’ (Guess Paper)-এর কিছু প্রশ্ন হুবহু মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ধমেন্দ্র প্রধান বলেন, “৭ মে অভিযোগ পাওয়ার পরই এনটিএ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে।” পরে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হয়। ১২ মে-র মধ্যে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ‘guess paper’-এর আড়ালে আসলে পরীক্ষার প্রকৃত প্রশ্নই ফাঁস হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, “১২ মে-র মধ্যে আমরা নিশ্চিত হই যে, গেস পেপারের নামে আসল প্রশ্নপত্র বাইরে চলে গিয়েছিল।”

    কেন বাতিল করা হল পরীক্ষা?

    পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ধমেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, সৎ ও মেধাবী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা চাইনি কোনও যোগ্য ছাত্রছাত্রী ভুয়ো পরীক্ষার্থী, প্রতারণা চক্র বা শিক্ষা মাফিয়ার ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক।” এই সিদ্ধান্তের পর বহু পরীক্ষার্থী প্রথমে মানসিক চাপে পড়লেও, নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ধমেন্দ্র প্রধান জানান, অতীতে বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল। সেই রাধাকৃষ্ণন কমিটি-র সুপারিশ ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পরীক্ষায় কার্যকরও করা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, “রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করার পরেও এই ঘটনা ঘটেছে। তাই আমাদের প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল পরীক্ষা বাতিল করা।” এতে স্পষ্ট, ভবিষ্যতে পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও বাড়াতে সরকার অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে চলেছে।

    পুনঃপরীক্ষায় লাগবে না অতিরিক্ত ফি

    পুনঃপরীক্ষা নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। অর্থাৎ যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছিলেন, তাঁরাই বিনামূল্যে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে পারবেন। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার্থীদের নিজেদের পছন্দের পরীক্ষাকেন্দ্রের শহর বেছে নেওয়ার সুযোগ আবার দেওয়া হবে, এবং এই প্রক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা রাখা হয়েছে। সংশোধিত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি আজ সন্ধ্যার মধ্যেই প্রকাশ করবে এনটিএ (NTA)। পাশাপাশি, পুনঃপরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ১৪ জুন প্রকাশ করা হবে।

    উদ্বেগে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া

    নিট-ইউজি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এমবিবিএস, বিডিএস এবং অন্যান্য মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি হতে এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলে পরীক্ষা বাতিল এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন নজর ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষার দিকে। একইসঙ্গে আগামী বছর থেকে সিবিটি ফরম্যাট চালু হলে নিট পরীক্ষার ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, যা পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • NEET-UG 2026 Re-Exam: ২১ জুন ফের পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর নতুন করে নিটের দিন ঘোষণা এনটিএ-র

    NEET-UG 2026 Re-Exam: ২১ জুন ফের পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর নতুন করে নিটের দিন ঘোষণা এনটিএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA) অবশেষে নিট-ইউজি পরীক্ষা (NEET-UG 2026) পুনরায় পরীক্ষার নতুন দিন ঘোষণা করল। প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে আগের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর দেশজুড়ে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ জুন ২০২৬, রবিবার অনুষ্ঠিত হবে নিট-এর পুনরায় পরীক্ষা। সরকারি অনুমোদন নিয়ে জারি করা এনটিএ-র সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

    প্রশ্নফাঁস বিতর্কে দেশজুড়ে ক্ষোভ

    এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লক্ষাধিক মেডিক্যাল পড়ুয়া, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষায় নিরাপত্তার এমন গাফিলতি গোটা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাস্তায় নেমেও বহু জায়গায় বিক্ষোভ দেখা যায়।

    ২১ জুন ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর জন্য

    নতুন সূচি ঘোষণার ফলে এমবিবিএস (MBBS), বিডিএস (BDS) এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পরীক্ষার্থীরা ফের একটি ন্যায্য সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর বহু পড়ুয়া মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা এবং অল্প সময়ের মধ্যে ফের প্রস্তুতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার পরীক্ষার দিকে গোটা দেশের নজর থাকবে, কারণ এই পরীক্ষা শুধু ভর্তি-পর্ব নয়, এনটিএ-র বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক শিক্ষা বিশ্লেষকের কথায়, “এই পুনঃপরীক্ষা শুধুমাত্র আরেকটি পরীক্ষা নয়, বরং পরীক্ষাব্যবস্থার উপর ছাত্রদের আস্থা ফেরানোর পরীক্ষা।”

    শুধুমাত্র সরকারি তথ্যেই ভরসা করার পরামর্শ

    এনটিএ তাদের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) সংক্রান্ত সমস্ত আপডেট শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকেই দেখতে হবে। পরীক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা অন্যান্য মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও যাচাইহীন তথ্য থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন থাকলে এনটিএ-র হেল্পলাইন নম্বর ০১১-৪০৭৫৯০০০ এবং ০১১-৬৯২২৭৭০০-এ যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়াও neet-ug@nta.ac.in আইডিতে ইমেল আইডিতে প্রশ্ন পাঠানো যাবে।

    এবার আরও কড়া নিরাপত্তা?

    প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর ২১ জুনের পুনরায় পরীক্ষায় নিরাপত্তা অনেক বেশি কড়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, পরীক্ষাকেন্দ্রে উন্নত ডিজিটাল নজরদারি, শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা, গোপন নথি পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল চালু হতে পারে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

    নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন সুযোগ

    লক্ষাধিক নিট পরীক্ষার্থীর কাছে ২১ জুন এখন শুধুই আরেকটি পরীক্ষার দিন নয়—এটি নতুন করে লড়াই শুরু করার দিন। কয়েক সপ্তাহের বিতর্ক, হতাশা এবং উদ্বেগের পর আবারও প্রস্তুতিতে ফিরতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। এখন সকলের একটাই আশা—এইবারের নিট পরীক্ষা যেন কোনও বিতর্ক ছাড়াই, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।

  • Parivartan Yatra: শিক্ষক থেকে পুর নিয়োগ, রেশন দুর্নীতি! সর্বত্র তৃণমূলের গুন্ডারা টাকা তুলেছে, মমতাকে তোপ নিতিনের

    Parivartan Yatra: শিক্ষক থেকে পুর নিয়োগ, রেশন দুর্নীতি! সর্বত্র তৃণমূলের গুন্ডারা টাকা তুলেছে, মমতাকে তোপ নিতিনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার (Parivartan Yatra) সূচনা হয়েছে। কোচবিহারে সূচনা করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অপর দিকে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার সূচনা করেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই যাত্রার সূচনা পর্বে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    মানুষের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে (Parivartan Yatra)

    পরিবর্তন যাত্রা (Parivartan Yatra) কোচবিহার থেকে শুরু হয়ে ৫০০০ কিমি পথ অতক্রম করবে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “মমতার সরকার দুর্নীতি, হপ্তা তোলা আর অনুপ্রবেশকারীদের উপর ভর করে চলছে। বাংলার মানুষের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এতদিন মানুষের বাড়িতে শুধু প্রতিশ্রুতি আর অহংকারই পৌঁছেছে। এ বার পৌঁছবে বিশ্বাস ও পরিবর্তনের বার্তা। দিদি, আপনার মমতা অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি, বাংলার মানুষের প্রতি নয়। এই আচরণ আর চলবে না। এ বার বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার গড়ে উন্নয়নের রথ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই মাটির ঐতিহ্য দুর্নীতির সঙ্গে যায় না। বাংলাকে আবার উন্নয়নের পথে ফেরাতে হবে। যেখানে আইটি হাব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে দাদাগিরি চলছে।”

    মমতাকে আক্রমণ নবীনের

    মমতার সরকারকে নিশানা করে নিতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, এসএসসি কেলেঙ্কারি, পুর নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি— এমন কোনও ক্ষেত্র নেই যেখানে তৃণমূলের গুন্ডারা টাকা তোলেনি। আপনার আধ ডজন মন্ত্রী জেলে গিয়েছেন, তাঁরা কি তীর্থ করতে গিয়েছিলেন?” দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বিজেপি সভাপতির দাবি, “দেশের যত দুর্নীতিবাজ নেতা, তাঁদের সমর্থন পান আপনি !” নিতিন আরও বলেন, “মা-মাটি-মানুষের স্লোগান তুলে ক্ষমতায় এসেছেন, কিন্তু মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পারেননি । উল্টে বলছেন, রাতে একা বেরোবেন না!” এর জবাবে মহিলাদের আরও বেশি করে সঙ্ঘবদ্ধভাবে প্রতিবাদ সংগঠিত করার আহ্বানও জানান তিনি ৷ হোলির উদাহরণ টেনে রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন। “৪ মার্চ হোলি খেলব, আর বিধানসভা নির্বাচনের দিন বাংলায় হোলি খেলবেন বিজেপি কর্মীরা।”

    বিজেপি সরকার গড়লে ‘জঙ্গলরাজ’ শেষ হবে

    পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার (Parivartan Yatra) সূচনা মঞ্চ থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে পরিবর্তন আনতেই হবে। বিজেপির বর্তমান ভোটের সঙ্গে আর মাত্র ৫ শতাংশ ভোট যোগ হলেই সরকার গড়া সম্ভব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, আবাসন থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি থেকে মুক্ত করে বিজেপি সরকার গড়লে ‘জঙ্গলরাজ’ শেষ হবে।” অপর দিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “দিল্লি থেকে একটি ইঞ্জিন টান দেবে, আর রাজ্য থেকে আরেকটি ইঞ্জিন ঠেলা দেবে—তাহলেই বাংলার উন্নয়ন দ্রুত হবে। কেন্দ্রের পাঠানো উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকা রাজ্যে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি।”

    মনীষী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু

    রবিবারের সভায় বাংলার মনীষী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি দিয়ে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করা হয়। ১৯৯১ সালে গড়বেতায় যে সব বিজেপি কর্মীদের হত্যা কড়া হয়েছিল তাঁদের ছবি টাঙিয়ে দেওয়া হয়। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়েই বিজেপির এই যাত্রার (Parivartan Yatra) কথা জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। অপর দিকে বিজেপির এদিনের সভায় যোগদান করলেন কুড়মী সংগঠনের সভাপতি রাজেশ মাহাতো। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজে বিজেপির পতাকা তুলে দেন। রাজেশ বলেন, “আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং দাবিপত্র জমা দিয়েছি। আশা করি দাবি পূরণ হবে।”

    তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই লক্ষ্য

    বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক শীর্ষ নেতা অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকরি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবিশ প্রমুখ। রাজ্য বিজেপির  দাবি, এই যাত্রার মাধ্যমে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। রাজ্যের ন’টি আলাদা জায়গা থেকে ন’টি পৃথক র‍্যালি বেরোচ্ছে। তবে ৩ ও ৪ মার্চ ‘দোল যাত্রা’ এবং হোলির কারণে কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। ৫ মার্চ থেকে আবার যাত্রা শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে রাজ্যের সব ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রকে কভার করা হবে। বিজেপির এক রাজ্য কমিটির সদস্য জানিয়েছেন, “১৫ মার্চ ব্রিগেডের জনসভা দিয়েই পরিবর্তন যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে, যদিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে শেষ মুহূর্তে সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।”

  • Pariksha Pe Charcha: পরীক্ষা চাপ নয়, উৎসব! গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘পরীক্ষা পে চর্চা’

    Pariksha Pe Charcha: পরীক্ষা চাপ নয়, উৎসব! গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘পরীক্ষা পে চর্চা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘পরীক্ষা পে চর্চা’র (Pariksha Pe Charcha) মুকুটে নতুন পালক। রেকর্ড সংখ্যক নাম নথিভুক্ত করিয়ে গিনেস বুকে নাম তুলে নিয়েছে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মস্তিকপ্রসূত এই উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৮ সালে। চলতি বছর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’র জন্য সাড়ে ৩ কোটির বেশি নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এই কারণেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ নাম উঠেছে এই উদ্যোগের। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর তরফে দিল্লিতে এই কথা ঘোষনা করেন ঋষি নাথ।

    মানসিক চাপ সরিয়ে পরীক্ষা শিক্ষার উৎসাহ

    কেন্দ্রের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘পরীক্ষা পে চর্চা’র অষ্টম সংস্করণে এক মাসের মধেই ৩ কোটি ৫৩ লক্ষ নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এই স্বীকৃতি পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩ কোটি ৫৩ লক্ষ নাম নথিভুক্ত হয়েছে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র জন্য। এছাড়াও টেলিভিশনের পর্দায় তা দেখেছেন ২১ কোটির বেশি মানুষ। এই অনুষ্ঠান পরীক্ষার মানসিক চাপ সরিয়ে পরীক্ষাকে শিক্ষার উৎসাহে পরিণত করেছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনও চাপ ছাড়াই পরীক্ষায় বসতে পারে, তার জন্য এই পরীক্ষা পে চর্চা শুরু হয়। এখন তা দেশজুড়ে উৎসবের আকার নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরীক্ষা পে চর্চাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড টিমকেও ধন্যবাদ জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী।

    অভিনন্দন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    এই উদ্যোগের সফলতার জন্য পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবক, শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি লেখেন, ‘এটি একটি রেকর্ড-ব্রেকিং কৃতিত্ব যা বিশ্বব্যাপী পড়ুয়াদের জন্য পরীক্ষার চাপ কমানোর ভূমিকা রেখেছে। এই জাতীয় একটি কর্মসূচি মানব সম্পদকে আরও উন্নত করার পথকে ত্বরান্বিত করে। এটি ভারতের জন্য সত্যিই গর্বের একটি দুর্দান্ত মুহূর্ত।’

    পরীক্ষা প্রেরণার উৎস

    প্রসঙ্গত, পরীক্ষা পে চর্চায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব পরীক্ষা পে চর্চাকে একটি অনন্য উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন যা শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের একত্রিত করে সুস্থতা এবং চাপমুক্ত শিক্ষার প্রচার করে। প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘পরীক্ষা পে চর্চা’র অষ্টম সংস্করণটি অনেকগুলো ভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন, ছয় বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার মেরি কম এবং আধ্যাত্মিক নেতা সদগুরুর মতো ব্যক্তিত্বরা যোগ দিয়েছিলেন। শুনিয়েছিলেন তাঁদের লড়াইয়ের কথা, যা প্রেরণা দিয়েছিল ছাত্রছাত্রীদের।

LinkedIn
Share