Tag: Donald Trump

Donald Trump

  • Hungary Election Landslide: হাঙ্গেরির নির্বাচনে গোহারা ভিক্টর অরবান, ক্ষমতায় আসছে পিটার ম্যাগইয়ার সরকার!

    Hungary Election Landslide: হাঙ্গেরির নির্বাচনে গোহারা ভিক্টর অরবান, ক্ষমতায় আসছে পিটার ম্যাগইয়ার সরকার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্ষমতার শাসনের অবসান ঘটল হাঙ্গেরিতে। এতদিন ক্ষমতায় ছিলেন ভিক্টর অরবান। তিনি পরাস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই (Hungary Election Landslide) “নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র” হিসেবে সমালোচিত একটি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তাঁকে গোহারা হারিয়েছেন বছর পঁয়তাল্লিশের প্রাক্তন এক দলীয় সদস্য পিটার ম্যাগইয়ার  (Peter Magyars)। তিনি অধিকাংশ হাঙ্গেরীয় নাগরিককে এই শাসনের অবসান ঘটানো প্রয়োজন বলে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার জেরেই পতন ঘটল অরবান জমানার। দানিউব নদীর তীরে, বুদাপেস্টে রয়েছে হাঙ্গেরির মনোমুগ্ধকর সংসদ ভবন। এই ভবনেরই উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে পিটার ম্যাগইয়ার বলেন, “আমরা পেরেছি। এক সঙ্গে সবাই মিলে হাঙ্গেরির শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করেছি।”

    নির্বাচনী ফল (Hungary Election Landslide) 

    প্রাথমিক নির্বাচনী ফল থেকে জানা গিয়েছে, ৯৮ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনার শেষে, তাঁর টিসজা পার্টি (Tisza Party) পেতে চলেছে ১৩৮টি আসন। আর অরবানের ফিডেজ (Fidesz) পেতে পারে ৫৫টি আসন। ডানপন্থী দল আওয়ার হোমল্যান্ড মুভমেন্ট পাচ্ছে ৬টি আসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল জয় শুধু অরবানের জনপ্রিয় নয়, এমন অভ্যন্তরীণ নীতিগুলি উল্টে দেওয়ার সুযোগই দেবে না, বরং হাঙ্গেরির বৈশ্বিক সম্পর্কও নতুন করে গড়ে তুলবে (Hungary Election Landslide)। জানা গিয়েছে, অরবান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং (Peter Magyars) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাই তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের পক্ষে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

    ম্যাগইয়ারের ক্রেডিট 

    এদিকে, হাঙ্গেরিকে রাশিয়ার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের সঙ্গে ফের সুসম্পর্ক গড়ার পক্ষে ম্যাগইয়ার। গত দু’বছর ধরে তিনি গ্রাম, শহর এবং নগরগুলিতে ঘুরে বেড়িয়ে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বে ক্লান্ত হাঙ্গেরিয়দের সংগঠিত করেন। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক হাঙ্গেরির ইতিহাসে এত বেশি মানুষ আগে কখনও ভোট দেননি, এবং কোনও একক দল এত শক্তিশালী সমর্থন পায়নি।” উল্লেখ্য, হাঙ্গেরির ওই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ৭৯.৫ শতাংশ ভোটার। সেই নির্বাচনেরই ফল বেরল রবিবার রাতে। তার পরেই এমন মন্তব্য করেন ম্যাগইয়ার (Hungary Election Landslide)। অরবানের শাসন চারটি ধারাবাহিক নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও কয়েক মিনিটের মধ্যেই এর পতন স্পষ্ট হয়ে যায়। দানিউব নদীর বুদা অংশে অপেক্ষা করছিলেন ম্যাগইয়ার দলের কর্মী-সমর্থকরা। এই সময় ম্যাগইয়ার ফেসবুকে লেখেন: “ভিক্টর অরবান আমায় ফোন করে আমাদের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।” জানা গিয়েছে, তখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছিল। তখনই তিনি শুনতে পেয়েছিলেন শাসকদলের পরাজয়ের পদধ্বনি (Peter Magyars)।

    ‘ক্ষত সারানোর সময়’

    ম্যাগইয়ার বক্তব্যের খানিক পরেই অরবান নিজেই এক সম্মেলন কেন্দ্রে মঞ্চে উঠে বলেন, “নির্বাচনের ফল স্পষ্ট এবং বেদনাদায়ক।” তিনি প্রায় ২৫ লাখ সমর্থককে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, “আগামী দিনগুলি আমাদের ক্ষত সারানোর সময়।” এদিকে, ম্যাগইয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বহুল সমালোচিত পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থা বাতিল করার। সংবিধান পরিবর্তনের জন্য তাঁর দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার ছিল (১৯৯ আসনের মধ্যে ১৩৩টি)। যদিও তাঁর দল পেতে চলেছে অন্তত ১৩৮টি আসন। জয়-পরাজয়ের প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতেই বুদাপেস্টজুড়ে গাড়ির হর্ন বাজাতে থাকেন বিজয়ী দলের সমর্থকরা। উল্লাসে ফেটে পড়ে আম-জনতা। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এক নয়া যুগের সূচনা উদযাপন করেন তাঁরা (Hungary Election Landslide)।

    কী বললেন আইনজীবী 

    ম্যাগইয়ার সমর্থকদের অনেকেই আগে অরবানের সমর্থক ছিলেন। আইনজীবী অ্যাগনেস বলেন, “তাঁকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু আমরা এখন ভালো কিছুর আশা করতেই পারি।” রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমও বর্তমানে ম্যাগইয়ারের টার্গেট। যদিও এম ওয়ান টিভি এতদিন সরকারপন্থীই ছিল (Peter Magyars)। দীর্ঘদিন ধরে হাঙ্গেরি যেন দুই ভিন্ন বাস্তবতায় বিভক্ত ছিল, একদিকে অরবানের বিজয়ের বিশ্বাস, অন্যদিকে ম্যাগইয়ার বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা। রবিবার রাতে সেই দুই বাস্তবতা মুখোমুখি হয়, প্রমাণিত হয় একটিই সত্য। ম্যাগইয়ার তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়কে ১৮৪৮ সালের হাঙ্গেরি বিপ্লব এবং ১৯৫৬ সালের সোভিয়েতবিরোধী বিদ্রোহের সঙ্গে তুলনা করেন।

    সোভিয়েত দখলের বিরোধিতা

    প্রসঙ্গত, একসময় অরবান নিজেও সোভিয়েত দখলের বিরোধিতা করেছিলেন। যদিও পরে তিনি পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। তাঁর সমর্থকরা স্লোগান দেন, “রাশিয়ানরা, দেশে ফিরে যাও (Hungary Election Landslide)।” এদিকে, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ম্যাগইয়ারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন “রাশিয়ানরা, বাড়ি ফিরে যাও।”  ম্যাগইয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হবে ওয়ারশতে, পোল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে (Peter Magyars)। তিনি ব্রাসেলসেও যাবেন, যেখানে তিনি দুর্নীতির কারণে স্থগিত থাকা প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ফের চালুর চেষ্টা করবেন। অরবানের বয়স ৬২। তিনি এখনও দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াননি এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নয়া সরকার গঠিত হলেই সরে দাঁড়াবেন ম্যাগইয়ার ।

     

  • US Team in Pakistan: পাকিস্তানে নামল মার্কিন বিমান, অচিরেই যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা!

    US Team in Pakistan: পাকিস্তানে নামল মার্কিন বিমান, অচিরেই যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের জেরে যখন কার্যত জ্বলছে এশিয়ার একাংশ, বিশ্ববাসী নজর রাখছেন (US Team in Pakistan) এই জটিল যুদ্ধবিরতি আলোচনা প্রক্রিয়ার দিকে, তখন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি মার্কিন বিমান পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবতরণ (Hormuz Strait) করেছে। ইরানের প্রতিনিধি দল মধ্যরাতের পর সেখানে পৌঁছয়। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন পার্লামেন্টের স্পিকার এমবি গালিবাফ। মার্কিন দলে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার।

    ইরানি দলের বিমানের অবতরণ (US Team in Pakistan)

    গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ৮ এপ্রিল জানিয়েছিল, আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে ‘সিদ্ধান্তমূলক’ বা ‘সবকিছু নির্ধারণকারী’ বলে উল্লেখ করেন।ইরানি দলের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে, তাদের চারপাশে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়, যার মধ্যে ছিল এডাব্লুএসিএস নজরদারি বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিমান এবং এমন যুদ্ধবিমান, যা তাঁদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত পৌঁছে দেয় (Hormuz Strait)।

    প্রতিনিধি দলে কারা

    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্যালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি পৌঁছয় ইসলামাবাদে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলি আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান আব্দোলনাসের হেম্মাতি এবং আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা (US Team in Pakistan)। তাঁদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস আসিম মুনির, বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। এই উপলক্ষে ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকার (যেখানে পার্লামেন্ট ভবন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, বিলাসবহুল হোটেল, দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিস রয়েছে) সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় নিরাপত্তার জন্য (Hormuz Strait)।

    ইরানের ১০ দফা দাবি

    এই আলোচনার মূল বিষয় হল ইরানের ১০ দফা দাবি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় একটি চুক্তি করতে, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে (US Team in Pakistan)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনাকে ‘কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও ইরান আমেরিকার ১৫ দফা প্রস্তাবকে ‘অত্যধিক কঠোর’ বলে অভিহিত করেছে। তারা পাল্টা ১০ দফা দাবি করেছে। ইরানের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, আগ্রাসন না করা, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অনুমোদন, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাতিল, ক্ষতিপূরণ দেওয়া, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা (Hormuz Strait)।

    আমেরিকার ১৫ দফা প্রস্তাব

    অন্যদিকে, আমেরিকার ১৫ দফার প্রস্তাবে রয়েছে, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে, বর্তমানে মজুত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করবে, সমস্ত পারমাণবিক কেন্দ্র পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেবে, হরমুজ প্রণালী ফের খোলা হবে, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে (US Team in Pakistan)। এই প্রস্তাবগুলির ইংরেজি ও ফার্সি সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য থাকায় খানিক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প জানান, শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্য শর্তগুলিই গোপন আলোচনায় বিবেচনা করা হবে। এদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, যুদ্ধবিরতিকে তাঁরা স্বাগত জানালেও, লেবাননে হামলা বন্ধ হবে না। শুধু তা-ই নয়, হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করার অভিযানও চলবে। প্রসঙ্গত, এর আগে, দক্ষিণ লেবাননের মায়ফাদাউন শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইজরায়েলি বিমান (Hormuz Strait) হামলায় তিনজন নিহত হন, ধ্বংস হয় ভবনটিও (US Team in Pakistan)।

     

  • Iran: লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

    Iran: লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পর দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরেই খুলে দেওয়া হয়েছিল হরমুজ প্রণালী। যদিও ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই ফের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হল ওই প্রণালীতে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। তাদের দাবি, লেবাননে হিজবুল্লাদের টার্গেট করে ইজরায়েল ১০০টি বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইজরায়েলের ওই হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস ইরানকে অবিলম্বে প্রণালী খুলে দিতে বলেছে। যদিও হরমুজ প্রণালী বন্ধের আগে দু’টি জাহাজকে প্রণালী পার হতে দেওয়া হয়েছিল।

    লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয় (Iran)

    ইজরায়েলের মতে, লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়, যদিও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তেহরান বলেছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় ইজরায়েলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর হামলা-সহ সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে হবে। এক শীর্ষ ইরানি আধিকারিক লেবাননের বিরুদ্ধে নৃশংস ইহুদি আগ্রাসনের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি সবার জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।” ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা তথা বিদেশনীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজেই এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “লেবাননের বিরুদ্ধে নৃশংস জায়নিস্ট আগ্রাসনের জবাবে এখনই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে হবে… লেবাননের মানুষ আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছে, আমরা তাদের এক মুহূর্তও একা ছেড়ে দিতে পারি না। যুদ্ধবিরতি হয় সব ফ্রন্টে হবে, নয়তো কোথাও নয়।” এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে প্রণালী খুলতে হবে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিয়েছে।

    ইরানি আধিকারিকের বক্তব্য

    প্রবীণ এক ইরানি আধিকারিক জানান, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা হওয়ার আগে বৃহস্পতি বা শুক্রবারের মধ্যে ইরান অবরোধ কিছুটা শিথিল করতে পারে, যদিও জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতি লাগবে। হরমুজ প্রণালী ইরান এবং ওমান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে অবস্থিত একটি সঙ্কীর্ণ জলপথ। এটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্বের দৈনিক তেল এবং এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই হয় এই প্রণালী-পথে। এসবই ঘটে যখন ইজরায়েল লেবাননে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলা চালায় এদিন, যদিও হিজবুল্লাহ উত্তর ইজরায়েলে আক্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল এবং মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তির মধ্যেই ছিল ইজরায়েলি বাহিনীও।

    বেইরুটে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

    এদিন বেইরুটে শক্তিশালী বিস্ফোরণের জেরে শহর কেঁপে ওঠে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার মেঘ। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা সংঘাতের সবচেয়ে বড় যৌথ হামলা চালিয়েছে, যেখানে বেইরুট, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে ১০০টিরও বেশি হিজবুল্লাহ ঘাঁটি টার্গেট করা হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মতে, অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি জখম হয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের ক্ষেত্রে ছ’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননে প্রযোজ্য নয়। তাই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।” উল্লেখ্য, এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ শরিফ বলেছিলেন লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অধিকাংশ হামলা জনবহুল এলাকায় হয়েছে বলে জানিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী।

    বর্বর আগ্রাসন

    এদিকে, হিজবুল্লাহ এই হামলাকে বর্বর আগ্রাসন বলে নিন্দে করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, “বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি কাঠামোর মধ্যে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।” ইরানের ইসলামিক রিভলুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা চললে তার জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হিজবুল্লাহর কারণে লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। তিনি একে আলাদা সংঘর্ষ হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও তিনি বলেন বিষয়টি সমাধান করা হবে। হোয়াইট হাউসের তরফেও একই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে ১,৫০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩০-এরও বেশি শিশু ও ১০০-এরও বেশি নারী রয়েছে। উল্লেখ্য যে, হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইজরায়েলের দিকে রকেট ছোড়া শুরু করেছে।

     

  • Iran: ‘দ্রুত ইরান ছাড়ুন’, যুদ্ধবিরতির আবহে ভারতীয় নাগরিকদের পরামর্শ ভারতের দূতাবাসের

    Iran: ‘দ্রুত ইরান ছাড়ুন’, যুদ্ধবিরতির আবহে ভারতীয় নাগরিকদের পরামর্শ ভারতের দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে তারা যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, তার নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই অপারেশনই আপাতত স্থগিত থাকছে। যুদ্ধবিরতির খবর চাউর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানে (ইরানের রাজধানী) অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জরুরি পরামর্শ জারি করে ভারতীয় নাগরিকদের এই সময়ে  দ্রুত ইরান ছেড়ে চলে যেতে বলে। দূতাবাস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নাগরিকদের অবশ্যই আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নির্ধারিত পথই ব্যবহার করতে হবে।

    কয়েকটি জরুরি যোগাযোগ নম্বর (Iran)

    সতর্কবার্তায় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়, আগাম অনুমতি ছাড়া কোনও আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তে নিজ উদ্যোগে যাওয়া যাবে না। আধিকারিকরা বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের যাতায়াত দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই করতে হবে।” যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলেও জানান তাঁরা। ভারতীয় নাগরিকদের সাহায্যের জন্য দূতাবাস কয়েকটি জরুরি যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করেছে। এগুলি হল—

    • +৯৮৯১২৮১০৯১১৫
    • +৯৮৯১২৮১০৯১০২
    • +৯৮৯১২৮১০৯১০৯
    • +৯৮৯৯৩২১৭৯৩৫৯

    ইরান ছাড়ার পরিকল্পনা করার সময় নাগরিকদের দূতাবাসের কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখান আহ্বানও জানানো হয়েছে।

    কী বলা হয়েছিল আগের নির্দেশিকায়

    নয়া এই নির্দেশনা জারির মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ইরানে থাকা সব ভারতীয় নাগরিককে ৪৮ ঘণ্টা ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। দূতাবাস নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছিল সামরিক ও বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলুন, ভবনের উঁচুতলা থেকে দূরে থাকুন, চলাচল সীমিত রাখুন এবং সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলুন। যাঁরা দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় থাকা আবাসনে রয়েছেন, তাঁদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং সেখানে নিয়োজিত দূতাবাসের দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয়সড়কে যে কোনও ভ্রমণ অবশ্যই আধিকারিকদের জানিয়ে এবং তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে করতে হবে।

  • US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের (US Iran War) সাময়িক বিরতি। খুলছে হরমুজ প্রণালী। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আজ রাতের মধ্যেই গোটা সভ্যতা শেষ হবে।’’ মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি

    মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের মাঝে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখবে। তেহরানও শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং সীমিতভাবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তবে তারাও সামরিক প্রতিরোধ থামাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাশাপাশি নিজেদের ১০ ও ১৫ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক চাপের ফলেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করেছে।

    ইরানের হাত ট্রিগারেই

    দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি মানেই যুদ্ধে ইতি নয়! আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনীকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এক সরকারি বিবৃতিতে মোজতবার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের শেষ নয়। আমেরিকা বা ইজরায়েল— শত্রুপক্ষ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করে, তবে আমাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি কোনও রকম ‘ভুল’ করে, তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও।

    ইরানের ‘ঐতিহাসিক জয়’!

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বুঝিয়েছে, আমেরিকার সামনে কখনওই মাথা নত করেনি ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বার বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে রাজি ছিল না। আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হলে তবেই ইরান যুদ্ধের অবসান মেনে নেবে।’’ তারা জোর দিয়েছে, আলোচনায় তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার কথা কঠোর ভাবে উপস্থাপিত করা হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দফা প্রস্তাব হল হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র শক্তির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় বিষয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার (Highly Enriched Uranium Stockpile) বন্ধ করা। সূত্র বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে ইরান কিছু সীমিত পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই দুটো ইস্যুই তেহরানের সবচেয়ে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার, তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন বাহিনীর জয়!

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী, ‘‘ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’’ আসন্ন দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব। ইরানের মতো আমেরিকাও ‘জয়’ দেখছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর জয়।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব, বাজারে প্রভাব

    হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমেছে, এবং মার্কিন ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মার্কিন ফিউচার মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    এখনও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য!

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব থাকবেই। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে বড় আঞ্চলিক সংকট (Regional Crisis) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে হামলা হলে সমান জবাব (Retaliation) দেওয়া হবে। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমেরিকা-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকেও (US-linked Targets) নিশানা করা হতে পারে।’ ইরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত সংঘাত চলবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি আরব, বাহারাইন এবং কুয়েতে শোনা গিয়েছে মিসাইল অ্যালার্ট অ্যালার্ম। সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত হলেও ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে উপসাগরীয় এলাকায়।

  • Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন (US) সফরে যাবেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri)। সেখানে তিনি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হবে, হবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনাও। এটি বিশ্বজুড়ে বহু দেশকে প্রভাবিত করেছে।

    মিশ্রির ওয়াশিংটন সফর (Vikram Misri)

    মিশ্রি ৮ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ওয়াশিংটনে থাকবেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত শুরু হয়, তার পর এই প্রথম কোনও পদস্থ ভারতীয় কর্তা আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন। এই সফরটি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ফেব্রুয়ারি মাসের ওয়াশিংটন সফরের পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতার অংশ বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

    নজিরবিহীন চাপ

    মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরটি ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণ পরিসর পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা চলছে, তাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। মিশ্রি মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, এই সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্কও ছিল (Vikram Misri)। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়। গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত বন্ধে নিজের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের বারবার দাবি সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা

    ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন যে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দিকে কাজ করছে এবং মার্কিন শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে এবং মিশ্রির বৈঠকগুলিতে এটি আলোচনায় আসতে পারে (US)। প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষ দিকে ট্রাম্প মোদিকে ফোন করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত অঞ্চলে দ্রুত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং বৈশ্বিক স্বার্থে হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    ভারত সংঘাত দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও নিশ্চিত করতে চায় ভারত।  কারণ এটি দেশের খাদ্য, জ্বালানি ও সার নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে, পশ্চিম এশিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেখানে বসবাসরত এক (US) কোটিরও বেশি ভারতীয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি (Vikram Misri)।

     

  • Iran: আমেরিকা-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, কী বলল তেহরান?

    Iran: আমেরিকা-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, কী বলল তেহরান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান (Iran)। সোমবারই ওই প্রস্তাব নাকচ করা হয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল ওই প্রস্তাব (US Ceasefire Plan)। এর পরিবর্তে ইরান যুদ্ধে ইতি টানতে একটি ১০ দফা রূপরেখা প্রস্তাব করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে। এই পরিকল্পনায় তেহরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের শর্তাবলীও তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা, সাময়িক যুদ্ধবিরতির বদলে স্থায়ীভাবে শত্রুতা বন্ধ করা, এবং লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করা। এতে আমেরিকার সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

    প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিক (Iran)

    এই প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল,  উত্তেজনা হ্রাসকে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত করা। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তারা এই কৌশলগত জলপথ ফের খুলে দেবে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি জাহাজের জন্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার ট্রানজিট ফি, ওমানের সঙ্গে আয় ভাগাভাগি, এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। ইরানের প্রস্তাব, এই আয় ক্ষতিপূরণের বদলে পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করা যেতে পারে। এর আগে ইরান আমেরিকার প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনাকে “অত্যধিক দাবি-সম্পন্ন” ও অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা জানিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ হলেই কেবল আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। এ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, সংঘাত দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় ইরান আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে (Iran)।

    মার্কিন অভিযানের বিষয়েও উদ্বেগ 

    তেহরান ইসফাহানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি অভিযানের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই অভিযানটি ইউরেনিয়াম দখলের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। যদিও ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এটি একটি ভূপাতিত এফ-১৫ বিমানের সঙ্গে যুক্ত এক সেনা সদস্যকে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত হয়েছিল। ইরান সতর্ক করেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ আস্থার সঙ্কট তৈরি করতে পারে (US Ceasefire Plan) এবং আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে (Iran)। ইরানের বিদেশমন্ত্রক সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী নিশ্চয়তা ছাড়া কোনও যুদ্ধবিরতি প্রতিপক্ষকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, যে কোনও চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শত্রুতার অবসান নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নিরাপদ নৌ-যাতায়াত নিশ্চিত করতে অব্যাহত রয়েছে ওমানের সঙ্গে আলোচনা।

  • US Iran War: “উই গট হিম”, নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের ক্রু-সদস্যকে উদ্ধারের পর মন্তব্য ট্রাম্পের

    US Iran War: “উই গট হিম”, নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের ক্রু-সদস্যকে উদ্ধারের পর মন্তব্য ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “উই গট হিম।” রবিবার এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US Iran War)। “দুঃসাহসিক” অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে নিখোঁজ এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের মতে, এই উদ্ধার সম্ভব হয়েছে, কারণ মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান মোতায়েন করেছিল (Donald Trump)। শুক্রবার ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান—দুই আসনের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল—ভূপাতিত করে, যাতে একজন পাইলট এবং একজন অস্ত্রব্যবস্থা আধিকারিক ছিলেন। পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও, ওই আধিকারিক নিখোঁজ ছিলেন।

    ট্রাম্পের পোস্ট (US Iran War)

    নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানান, নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর ওই বিমানসেনাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার নির্দেশে, মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান পাঠায় তাঁকে উদ্ধার করতে। তিনি জখম হয়েছেন। তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।” আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাধিক বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্য এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তাঁরা ইরানের গভীরে প্রবেশ করে বিমানসেনাকে উদ্ধার করে এবং তাঁকে নিরাপদে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে (US Iran War)।

    “অলৌকিক” অভিযান

    এই নাটকীয় অভিযানটি অন্ধকারে শুরু হয়ে দিনের আলোয় শেষ হয়, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরোপুরি এগোয়নি। মাঝপথে গোলাগুলি শুরু হয়, আর সেই সংঘর্ষের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ওই বিমানসেনাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দুদিনব্যাপী এই অভিযানে শতাধিক বিশেষ বাহিনী অংশ নিয়েছিল। মার্কিন বিমানগুলি বোমা বর্ষণ ও গুলি চালিয়ে ইরানি বাহিনীকে দূরে রেখে দিয়েছিল (Donald Trump)। এই উদ্ধার অভিযানটিকে ট্রাম্প “অলৌকিক” আখ্যা দিয়েছেন। এটি ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা অঞ্চলের গভীরে, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার হুমকির মধ্যে পরিচালিত হয়। এদিন মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করেছিল এইচএইচ-৬০ ডাব্লু জলি গ্রিন ২ উদ্ধার হেলিকপ্টার, এ-১০ ওয়ারথগ আক্রমণ বিমান, এইচসি-১৩০ মাঝ-আকাশ ট্যাঙ্কার, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, বিশেষ বাহিনী, কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট। এর মধ্যে জলি গ্রিন-২ কপ্টারটি এই অভিযানের প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত। এটি আধুনিক সেন্সর, দীর্ঘ পাল্লা, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি (US Iran War)।

    সিআইএর কৌশল

    এক্সিয়সের (Axios) তথ্য অনুযায়ী, পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়। তবে ওই সময় ইরান একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে আঘাত হানে, যার জেরে কিছু ক্রু সদস্য জখম হন। অস্ত্রব্যবস্থা আধিকারিককে খুঁজে পেতে এক দিনেরও বেশি সময় লাগে (Donald Trump)। জানা গিয়েছে, ওই আধিকারিককে খুঁজে পাওয়ার আগে সিআইএ একটি বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালায়। তারা জানিয়ে দেয়, ওই আধিকারিককে ইতিমধ্যেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছে এবং স্থলপথে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিআইএ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁকে খুঁজে বের করেছে এবং তাঁর সঠিক অবস্থান হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে শেয়ার করে। এরপর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

    কেমন আছেন উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য

    ট্রাম্প বলেন, “উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য একজন অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল। তিনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ। এই সাহসী যোদ্ধা শত্রু এলাকার বিপজ্জনক পাহাড়ে ছিলেন, শত্রুরা তাঁকে খুঁজছিল, কিন্তু তিনি কখনও একা ছিলেন না। ২৪ ঘণ্টা তাঁর অবস্থান নজরদারিতে ছিল এবং তাকে উদ্ধারের পরিকল্পনা চলছিল (US Iran War)।” তিনি আরও জানান, শনিবার আর একজন পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে।  এটি প্রথমে গোপন রাখা হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, ইতিহাসে প্রথমবার দুজন মার্কিন পাইলটকে শত্রু অঞ্চলের কোর এলাকা থেকে আলাদা আলাদাভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। কোনও মার্কিন সেনা নিহত বা গুরুতর জখম হননি। এটি মার্কিন আকাশ আধিপত্যের প্রমাণ। এদিকে, ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজ বিমানসেনাকে জীবিত ধরিয়ে দিলে প্রায় ৬৬,০০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে (Donald Trump)।

    ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের দাবি, একটি মার্কিন অনুসন্ধান বিমান ধ্বংস করা হয়েছে, ইসফাহানের দক্ষিণে সি-১৩০ পরিবহণ বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে একটি ইজরায়েলি ড্রোনও। তাদের আরও দাবি, উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন (US Iran War)।

     

  • US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত পাকিস্তান। পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে, তার প্রেক্ষিতেই এমনতর দাবি করেছে ইসলামাবাদ (Pakistan)। পাকিস্তানের এহেন দাবি খারিজ করে দিয়ে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাক নেতৃত্বাধীন এমন কোনও প্রচেষ্টার (US Iran War) সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। সোমবার মুম্বইয়ে ইরানের কনসুলেট জেনারেল জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কেবল অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি জানানো হয়েছে। কনসুলেট আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের যে কোনও মঞ্চ তাদের নিজস্ব বিষয়, সেখানে ইরান অংশ নেয়নি।

    কনসুলেট জেনারেলের বক্তব্য (US Iran War)

    এক বিবৃতিতে কনসুলেট জেনারেল জানান “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক কিছু দাবি এসেছে। আমেরিকার ‘কূটনীতি’ বারবার অবস্থান বদলায়। তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। পাকিস্তানের মঞ্চ তাদের নিজস্ব। আমরা তাতে অংশ নিইনি। আঞ্চলিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান স্বাগত, তবে মনে রাখতে হবে—কে এই যুদ্ধ শুরু করেছে!”  রবিবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক করার পর এই ঘোষণা করেন। বৈঠকে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সমুদ্র পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও ছিল।

    পাক মন্ত্রীর বক্তব্য

    টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দার বলেন, “আগত মন্ত্রীরা ইসলামাবাদে সম্ভাব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।” দারের দাবি, তিনি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্তাদের সঙ্গে, যেমন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান আমেরিকা প্রশাসনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে। রবিবারের ইসলামাবাদ বৈঠকটি কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল বা ইরানের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না (US Iran War)।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার মতে, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা স্বীকার করেনি। তবে ইসলামাবাদের মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনার একটি প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে (US Iran War)। এদিকে, সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর তাদের হামলা অব্যাহত রাখে। এর জবাবে ইরান কুয়েতের একটি (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ জল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা ফাটায় এবং উত্তর ইসরায়েলের একটি তৈল শোধনাগারেও আঘাত হানে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরান সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে, যা তিনি সম্মানের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সময়ে, ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ২,৫০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েন রয়েছে (US Iran War) এবং সমসংখ্যক আরও একটি বাহিনী পথে রয়েছে। এর (Pakistan) মধ্যে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখলের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

     

  • Donald Trump: ইরান যুদ্ধ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে উত্তাল বিশ্ব, আমেরিকা-ইউরোপে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ

    Donald Trump: ইরান যুদ্ধ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে উত্তাল বিশ্ব, আমেরিকা-ইউরোপে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) কট্টরপন্থী নীতি এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন লাখ লাখ মানুষ। শনিবার আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ‘নো কিংস’ (No Kings) ব্যানারে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন গণতান্ত্রিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে স্বৈরাচারী মনোভাব প্রদর্শন করছে। আমেরিকার ৫০টি রাজ্যেই ৩,১০০টিরও বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    বিক্ষোভের মূল কারণ (Donald Trump)

    সূত্রের খবর, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান (Iran War) এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিবাদে এই জনরোষ তৈরি হয়েছে। ব্রুস স্প্রিংস্টিন “স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস” গানকে বিক্ষোভের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন। নিউ ইয়র্ক থেকে শুরু করে আইডাহোর ছোট শহর ড্রিস— সর্বত্রই মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন। ওয়াশিংটন, বোস্টন, আটলান্টা, শিকাগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো প্রধান শহরগুলিতেও মিছিল হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা পোস্টারে ‘গণতন্ত্র রক্ষা করো’ এবং ‘ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করো’র মতো স্লোগান লেখা দেখা যায়।

    ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

    বিক্ষোভের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো-তে সময় কাটাচ্ছিলেন। বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই (AI) দ্বারা তৈরি কিছু ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তাঁকে রাজমুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য বলেন, আমি কোনও ‘রাজা’ নই, তবুও এই ভিডিওগুলো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেত্রী ন্যান্সি পেলোসি এবং অন্যরা এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এগুলিকে “বামপন্থী অর্থায়নকারী নেটওয়ার্কের” ফসল বলে সমালোচনা করেছেন। এর প্রতি প্রকৃত জনসমর্থন খুবই কম। তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প (Donald Trump) ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশনগুলি নিয়েই শুধু মাথা ঘামায়। এই কাজের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ খরচ করা হয়।

    আন্তর্জাতিক প্রভাব

    কেবল আমেরিকাই নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও এই প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডেও ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের (Iran War) সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ফের ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প (Donald Trump)  প্রশাসনের বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় জনবিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা যুদ্ধের অবসান চান। চান সংবিধানে বর্ণিত জনগণের অধিকারের সুরক্ষা।

LinkedIn
Share