Tag: Donald Trump

Donald Trump

  • Muslim Group: ৯/১১-র ২৫ তম বার্ষিকীতে উত্তপ্ত নিউ ইয়র্ক, সিটি হলের সামনে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি-পাল্টা বিক্ষোভ

    Muslim Group: ৯/১১-র ২৫ তম বার্ষিকীতে উত্তপ্ত নিউ ইয়র্ক, সিটি হলের সামনে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি-পাল্টা বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার (9/11 Anniversary) ২৫ বছর পূর্তিতে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে স্মরণসভা চলছিল, ঠিক তখনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল নিউ ইয়র্ক সিটি হলের বাইরের এলাকা (Muslim Group)। প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানির স্মৃতিতে আয়োজিত এই শোকের আবহেই সিটি হলের বাইরে জড়ো হন একদল মুসলিম বিক্ষোভকারী। তাঁরা বারবার “আল্লাহু আকবর” (যার অর্থ “ঈশ্বর মহান”) ধ্বনি দিতে থাকেন। অন্যদিকে, তাঁদের মুখোমুখি হয়ে একদল আন্দোলনকারী “সব মুসলিমকে বিতাড়িত করো” লেখা ব্যানার নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। জোড়া প্রতিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শোকের অনুষ্ঠান।

    প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত (Muslim Group)

    এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি এবং প্রাক্তন মেয়র রুডি জুলিয়ানির মধ্যের প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত। এদিন ন্যাশনাল ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামের সামনে দু’জনকে হ্যান্ডশেক করতে দেখা গেলেও, ক্ষোভ চেপে রাখেননি জুলিয়ানি। নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানির এই মেমোরিয়ালে উপস্থিতি তাঁকে “অপারগ ও অপমানিত” করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের কিছুদিন আগেই মামদানি ৯/১১ সম্পর্কিত ১৭০,০০০ পাতার গোপন নথি প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের পরে তৎকালীন নেতারা বাতাস বিশুদ্ধ থাকার ভুয়া দাবি করে জনগণের কাছে “মিথ্যা” বলেছিলেন।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদা জঙ্গিদের অপহৃত চারটি বিমানের তাণ্ডবে অন্তত ২,৯৭৭ জন নিহত হন। দুটি বিমান আছড়ে পড়ে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এবং একটি পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভ্যানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে ভেঙে পড়ে (Muslim Group)।

    ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সার্ভিসে যোগ দেননি ট্রাম্প

    এবারের ২৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সার্ভিসে যোগ দেননি। সেখানে তাঁকে বক্তৃতা দিতে না দেওয়ায় তিনি অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে পেন্টাগনে বক্তৃতা দেন। সব মিলিয়ে, এক ঐতিহাসিক শোকের দিনে সিটি হলের বাইরের এই বিভাজনমূলক স্লোগান ও বিক্ষোভ (9/11 Anniversary) গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই যেন আবার একবার তুলে ধরল তামাম বিশ্বের কাছে (Muslim Group)।

     

  • BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার থেকে ভারতে শুরু হতে চলেছে দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একের পর এক আঞ্চলিক সংকটের আবহে এবারের সম্মেলনে সমষ্টিগত স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর (Food Energy Resilience) উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে ভারত। খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল—এই ক্ষেত্রগুলিতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করাই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    বিশ্ব অর্থনীতির নয়া চাপ (BRICS Summit)

    নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলন এমন একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত এখনও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরোধ, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসকে একটি কার্যকর সমন্বয়কারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই ভারতের এবারের সভাপতিত্বে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিত থাকার কথা। ফলে এবারের বৈঠককে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    যৌথ ঘোষণাপত্র

    তবে সম্মেলনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি কি যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে? পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে মতপার্থক্য এখনও রয়েছে। ফলে সম্মেলনের শেষে সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    ব্রিকসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সাধারণত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোট ২০২৪ সালে সম্প্রসারিত হয়। সেই সময় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়।

    গত বছর বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনামকে অংশীদার দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে গঠিত এই জোটের আন্তর্জাতিক প্রভাব আরও বেড়েছে।

    বর্তমানে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশে মিলিয়ে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ বসবাস করে। বিশ্ব মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এই গোষ্ঠী। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্রিকসের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি

    ভারতের এবারের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি চারটি—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। এই চারটি স্তম্ভকে সামনে রেখেই সারা বছর ধরে একাধিক বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। ভারতের মূল ভাবনা হল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এমন একটি জনকেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যার ভিত্তি হবে “মানবতা সর্বাগ্রে”—এই ধারণা (Food Energy Resilience)।

    ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থিতিস্থাপকতার স্তম্ভের অধীনে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলিও আলোচনা করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থ এবং উদ্বেগের জায়গাগুলি নিয়েও রাষ্ট্রনেতারা মতবিনিময় করবেন।

    ব্রিকসের লক্ষ্য

    ভারতের সভাপতিত্বে চলতি বছরে দেশের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টির বেশি বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। এই অংশীদারিত্বের তিনটি মূল স্তম্ভ হল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (BRICS Summit)।

    ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভারত এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত চতুর্থবারের জন্য ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

    বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলনের সূচনা হবে সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে। বৈঠকের বিষয় “অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব পরিচালনব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিকতার শক্তিশালীকরণ”। এরপর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রনেতারা “ভারত উদ্ভাবন প্রদর্শনী” পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপমের প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে হবে আনুষ্ঠানিক আলোকচিত্র গ্রহণ এবং তার পর যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

    শনিবারের কর্মসূচির শেষ পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে (BRICS Summit)।

    রবিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে ব্রিকসের সদস্য দেশ, অংশীদার দেশ এবং আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে হবে আনুষ্ঠানিক দলগত আলোকচিত্র গ্রহণ। এরপর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে মূল উন্মুক্ত অধিবেশন (BRICS Summit)। এর বিষয় “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যৎ নির্মাণ” (Food Energy Resilience)।

    শেষ পর্বের কর্মসূচি

    দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের শেষ পর্বে প্রকাশ করা হবে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র। তবে তার আগে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য কতটা তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের। বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, বাণিজ্যিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তখন ব্রিকস সেই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এবারের সম্মেলনেই তার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশ পাওয়া যেতে পারে (BRICS Summit) বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ (America Act) পাশ করার দাবি তুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ বার সেই দাবির স্বপক্ষে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, ভারতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখানোর নিয়ম রয়েছে। সেই তুলনা টেনেই আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাই এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্পের দাবি, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ট্রাম্প লেখেন, “চলতি মাসের গোড়ায় ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন হতে পারে?”

    ট্রাম্পের মুখে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ (Donald Trump)

    ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন এবং ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, “ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিল! ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল।” ভারতের উদাহরণ টেনে ট্রাম্প ফের তাঁর প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ পাশ করাতে ডাক দেন কংগ্রেসকে। তিনি লেখেন, “আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা আইন পাশ করতে হবে!” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প “সম্পূর্ণ সঠিক” কথা বলেছেন। ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে গোর বলেন, প্রত্যেক ভোটারের পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। একই সঙ্গে আমেরিকান কংগ্রেসকে সেভ আমেরিকা আইন পাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

    ‘সেভ আমেরিকা আইন’

    আমেরিকায় নির্বাচনী নিয়ম আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবিত আইনটি ট্রাম্পের (Donald Trump) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোট দেওয়ার যোগ্যতা হিসেবে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার মতো বিষয়ও এই উদ্যোগের আওতায় রয়েছে। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে আমেরিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তুলনা করে ট্রাম্প মূলত আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে চাইছেন (America Act)। ভারতের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ এবং পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে সামনে রেখে তাঁর এই রাজনৈতিক প্রচার নতুন করে দুই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়েও জন্ম দিয়েছে গভীর চর্চার (Donald Trump)।

     

  • Trump Tariffs: ফের আদালতে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি, প্রভাব ভারতের পণ্যেও

    Trump Tariffs: ফের আদালতে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি, প্রভাব ভারতের পণ্যেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি (Trump Tariffs)। সোমবার ডেমোক্র্যাট-শাসিত ২৫টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য একটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর (India Tariffs) নতুন করে শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন ফের তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। একই ধরনের শুল্ক নিয়ে একাধিক আদালতের রায়ের পরেও প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওই রাজ্যগুলির।

    মার্কিন আদালতে দায়ের মামলা (Trump Tariffs)

    নিউইয়র্কের মার্কিন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এতে গত মাস থেকে কার্যকর হওয়া ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ককে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের রফতানি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতির জন্য নতুন এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষা হতে চলেছে। কারণ, মার্কিন আদালতে একের পর এক ধাক্কা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কৌশল এখনও বহাল রয়েছে।

    আদালতের রায় উপেক্ষা করছেন ট্রাম্প!

    ওরেগন ও নিউইয়র্ক-সহ ২৫টি অঙ্গরাজ্য এই মামলা করেছে। এসব রাজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট গভর্নর অথবা অ্যাটর্নি জেনারেল। রাজ্যগুলির দাবি, আদালত যে ব্যাপক আমদানি শুল্ককে ইতিমধ্যেই বেআইনি বলে রায় দিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার ভিন্ন আইনি যুক্তি ব্যবহার করে কার্যত সেই শুল্কই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে (India Tariffs)। মামলায় বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারা ঐতিহাসিকভাবে নির্দিষ্ট দেশ বা শিল্পের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এই ধারার মাধ্যমে আমেরিকায় আমদানি হওয়া প্রায় সব ধরনের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের নজির নেই। রাজ্যগুলির আরও অভিযোগ, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন এমন শুল্ক ফের চালু করছে, যেগুলি ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে আদালত। রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে এক বিবৃতিতে ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড বলেন, “প্রতিটি ধাপে হেরে যাওয়ার পরেও ট্রাম্প আবারও কর্মজীবী পরিবার এবং ওরেগনের স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসার ওপর আরও বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন (Trump Tariffs)।”

    ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যে নয়া শুল্ক

    গত ২৪ জুলাই নতুন শুল্কের ঘোষণা করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের আমদানিতে এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে কয়েকটি দেশ তাদের নজরদারি ও প্রয়োগব্যবস্থা জোরদার করায় তুলনামূলক কম শুল্কের সুবিধা পেয়েছে। একজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য, ভারতের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে সব পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য নয়। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া পণ্যগুলিকে নতুন শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক ঘোষণার সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “প্রায় এক শতাব্দী ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করি। আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও একই কাজ করার সময় অনেক আগেই এসেছে।”

    নতুন আইনি পথে ট্রাম্প

    আগের শুল্ক নীতিগুলি আদালতে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তার অর্থনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—শুল্কনীতিকে টিকিয়ে রাখতে নতুন আইনি পথ বেছে নিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, International Emergency Economic Powers Act বা IEEPA প্রেসিডেন্টকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এর ফলে ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্যোগ আইনি ধাক্কা খায়।এরপর ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারার আওতায় সাময়িকভাবে বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প (Trump Tariffs)। পরে মার্কিন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেই শুল্ককেও বেআইনি বলে রায় দেয়। যদিও প্রশাসন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় শুল্কগুলি আপাতত কার্যকর রয়েছে (India Tariffs)। এই আইনি পথগুলিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার পর এবার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারার ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিদেশি সরকারের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঐতিহ্যগতভাবে এই ধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদেও চিনের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে এই একই আইনি ধারা ব্যবহার করেছিলেন। সেই শুল্ক নির্দিষ্ট একটি দেশের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছিল বলে আইনি চ্যালেঞ্জের পরেও তা বহাল ছিল।

    শুল্কনীতিতে অনড় ট্রাম্প

    একাধিক আদালতের রায়ে ধাক্কা খেলেও ট্রাম্প আমেরিকার উৎপাদন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কাঠামো বদলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে শুল্কনীতিকে তুলে ধরছেন। গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির সমান। সেই যুক্তিতে তিনি জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে আদালত সেই পদক্ষেপে বাধা দেয়। নতুন মামলার মাধ্যমে ফের স্পষ্ট হল, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কনীতিকে কার্যকর রাখতে একের পর এক আইনি পথ খুঁজছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলি আদালতের মাধ্যমে সেই নীতিকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে (India Tariffs)। ফলে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নয়, মার্কিন (Trump Tariffs) প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা নিয়েও ফের চলে এসেছে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে।

     

  • Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ছ’বছর পরে ভারতে আসতে পারেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে আসতে পারেন তিনি। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা। সফর চূড়ান্ত হলে ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর এটাই হবে জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ওই সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছিল।

    জিনপিংয়ের ভারত সফর (Xi Jinping)

    ২০১৩ সাল থেকে চিনের প্রেসিডেন্টে পদে রয়েছেন জিনপিং। এর আগে তিনবার ভারত সফরে এসেছেন তিনি। তাঁর শেষ ভারত সফর হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এর কয়েক মাস পরেই এলওসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আনে। জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চিন সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেখানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর বৈঠকও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে। এরপর সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ

    বিশেষ প্রতিনিধিদের আসন্ন বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর কাঠামোর অধীনে নতুন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী এবং একটি কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে ভারত ও চিন সম্মত হওয়ার পর এই প্রথম বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে চলেছে। এই আলোচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি ও কূটনৈতিক স্তরে অগ্রগতি ঘটানোর পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের গতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষই যৌথভাবে কাজ করছে। এলওসি বরাবর অমীমাংসিত সমস্যাগুলির সমাধানের পাশাপাশি কৌশলগত আস্থা পুনর্গঠন, নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা এড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোই এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য।

    গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম

    জিনপিংয়ের সফর চূড়ান্ত হলে ব্রিকস সম্মেলনের বাইরেও এর তাৎপর্য থাকবে। প্রায় ছ’বছর পর ভারতে তাঁর উপস্থিতি এবং গলওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম সফর হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়বে। সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের (Xi Jinping) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে তামাম বিশ্বের। সম্ভাব্য বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর বেড়ে চলা অস্থিরতার মধ্যে ভারত ও চিন উভয়কেই নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে (BRICS Summit)। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লি বা বেজিং (Xi Jinping)—কোনও পক্ষেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে সরকারিভাবে ঘোষণা করার সময় পর্যন্ত।

     

  • Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের আবহে ইরানকে শক্তিশালী করতে পাকিস্তানের মাধ্যমে চিনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য প্রায় ৪০০টি এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার (MANPADS) পাঠানো হতে পারে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে চিন। একইভাবে পাকিস্তানও এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তান হয়ে ইরানের কাছে প্রথম চালান পৌঁছতে পারে। চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আওতায় চিনের তৈরি ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (MANPADS) কেনার কথা রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরানের উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিটি হংকং-ভিত্তিক এক মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। যদি এই সরবরাহ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকে ইরানের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে ইসলামাবাদ নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, অন্যদিকে পাকিস্তান ইরানকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মে মাসে এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছিল যে, মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে পাকিস্তান তাদের বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখার অনুমতি দিয়েছিল। তবে চিনের বিদেশ মন্ত্রক এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চিন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অবসানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।”

    ট্রাম্পের হতাশার সুর

    ইরানের কাছে চিনের অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাব্য খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি চিন সত্যিই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে তিনি অত্যন্ত হতাশ হবেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বেজিং এই সংঘাতে জড়াবে না। ট্রাম্পের কথায়, “তিনি (শি জিনপিং) খুব দৃঢ়ভাবে আমাকে বলেছেন যে তাঁরা এতে অংশ নেবেন না। যদি তাঁরা তা করেন, তাহলে আমি অবশ্যই হতাশ হব। তিনি সম্ভবত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন।” এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শি জিনপিং তাঁকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন যে চিন তেহরানে অস্ত্র পাঠাচ্ছে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

  • US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতির পর বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন টার্গেটে ফের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা (US Resumes Airstrikes)। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পর তার জবাবেই এই অভিযান (Missile Attack) শুরু করা হয়েছে। হামলা শুরুর পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে হামলা (US Resumes Airstrikes)

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, “আজ রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের গতকালের হামলার চেষ্টার জোরালো জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।” মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। দ্বীপটির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি বুশেহর-সহ দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    এর কয়েক দিন আগে ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, সবক’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়। ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে মার্কিন কমান্ড বিস্তারিত কিছু না জানালেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও জানিয়েছে, তারা জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং আরও একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এটিই ছিল ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা। ওই বিরতির উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এবার আমাদের পালা। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব।” তবে সামরিক পাল্টা জবাবের কথা বললেও কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, সংঘাত শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক সমঝোতার এখনও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের সামরিক অভিযান (Missile Attack) শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ভালো আলোচনা করছি। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দু’দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব (US Resumes Airstrikes)।”

    মার্কিন সেনার দাবি

    গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার জন্যই ওই বিরতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল। ওই বৈঠকে ইরান ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে (US Resumes Airstrikes)। এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ হামলা চালায়। মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, তিন দিনে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ওয়াশিংটন ওই হামলাগুলির জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে দায়ী করেছে। ইরাকের জনপ্রিয় জনসমাবেশ বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন (US Resumes Airstrikes)।

    ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা!

    এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল কারখানাগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রিয়াধের অভিযোগ, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ওই হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের ক্ষেত্রে এই পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে (Missile Attack)। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে বলে জানা গেলেও, ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ফের শুরু হওয়া এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর নতুন করে তৈরি করেছে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা (US Resumes Airstrikes)।

     

  • Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian Students) প্রথম পছন্দ ছিল আমেরিকা। উন্নত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বহু দশক ধরে দেশটি ছিল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। দীর্ঘদিনের চেনা এই ছবিটাই বদলে যাচ্ছে দ্রুত। কড়া অভিবাসন নীতি, ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইউরোপের নতুন সুযোগ-সুবিধার কারণে ক্রমশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে (US) ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। খবরে প্রকাশ, শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তারা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড এখন আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার (Indian Students)

    এই পরিবর্তন অবশ্য নতুন নয়। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে প্রায় ৬৮.৩৩ শতাংশ। শিক্ষা-প্রযুক্তি সংস্থা জ্ঞানধনের তথ্য বলছে, আমেরিকাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীর হার ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ২৬ শতাংশে, ২০২৫ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। একই সময়ে ইউরোপে পড়াশোনার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু জার্মানিতেই ছিলেন ৪৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা ‘আপগ্র্যাড স্টাডি অ্যাব্রড’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ বিদেশে পড়াশোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের বছর বাইশের এক প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতকের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আমেরিকায় পাঠাতে চাইলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য বেছে নেন জার্মানিকেই।

    ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির পর ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে (Indian Students)। এই চুক্তিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সহজতর ভিসা ব্যবস্থা, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের স্পষ্ট রূপরেখা এবং ভারতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপের কথা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতিশীলতা কাঠামো বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে আকৃষ্ট করে ইউরোপকে আন্তর্জাতিক প্রতিভার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” বিদেশে পড়াশোনার প্ল্যাটফর্ম লিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অনব কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রথমবারের মতো একটি বড় অর্থনৈতিক জোট স্পষ্টভাবে বলছে, তারা বৃহৎ পরিসরে ভারতীয় মেধাকে স্বাগত জানাতে চায়।” তাঁর দাবি, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ভারত থেকে ইউরোপে শিক্ষার্থী ও কর্মীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে (US)।

    কম খরচও বড় কারণ

    শুধু সুযোগ-সুবিধা নয়, খরচের দিক থেকেও ইউরোপ এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা কেসি ওভারসিজের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ার খরচ আমেরিকার তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে খাবারে কাটছাঁট করা, গণপরিবহণের বদলে হেঁটে যাতায়াত করা কিংবা অতিরিক্ত কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে হচ্ছে। ইউরোপ স্টাডি সেন্টারের পরিচালক শিবরামন পাণ্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ইউরোপ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির পর আমাদের কাছে অনুসন্ধানের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।” স্টুডেন্ট অ্যাকোমোডেশন সংস্থা ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন আধিকারিক ময়ঙ্ক মহেশ্বরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ কম শিক্ষাব্যয়, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ, উন্নত কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিকভাবে ভালো সুবিধার কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে।” বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী নিজের পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী দেশ বেছে নিচ্ছেন (Indian Students)। যেমন, প্রযুক্তি-শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের জন্য নেদারল্যান্ডস, ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য ফ্রান্স এবং কম খরচে গবেষণার সুযোগের জন্য পর্তুগাল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    আমেরিকার কড়া নীতিতে কমছে আগ্রহ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতিও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে যে ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত থাকার অনুমতি পান, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিসা চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে (US)। এছাড়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি, ভিসা নবীকরণে কড়াকড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর বাড়তি নজরদারি এবং ভিসার শর্ত ভাঙলে দ্রুত বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিতেও দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী আমেরিকাকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটাই কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজারে।

    ইউরোপে আগ্রহ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে

    ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন ও ভর্তি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২,৬৩০। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩,৭০০-তে পৌঁছেছে। দেশটিতে ভারতীয়রা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। আইনডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Indian Students)।স্পেনও এখন নয়া গন্তব্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের ইউরোপীয় শিক্ষার্থী পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্য  অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১,০৮৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রা ব্যয়, শিক্ষার্থী-বান্ধব ভিসা ব্যবস্থা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইউরোপে পড়াশোনা করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। প্রয়োজন দক্ষতা, স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা (US)।

    চাকরির সুযোগ

    পাণ্ডিয়ান বলেন, “কেউ যদি বলে এই দেশে পড়লেই চাকরি পাবেন, তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। শুধু ওই দেশে পড়াশোনা করলেই চাকরির অধিকার তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন। তবেই সুযোগের দরজা খুলবে।” শিক্ষার্থীদের একাংশ আবার ভাষাগত সমস্যা, আবাসনের সঙ্কট, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের কিছু দেশে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং বিদেশিদের প্রতি কঠোর মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবুও কম খরচ, ইংরেজি মাধ্যমে বাড়তে থাকা পাঠ্যক্রম, স্পষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ অভিবাসন নীতির কারণে ইউরোপ এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে (Indian Students)।

     

  • FIFA World Cup 2026: মঞ্চ ছাড়লেন না ট্রাম্প! স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে উল্লাসে মাতলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ইন্টারনেটে বিদ্রুপের ঝড়

    FIFA World Cup 2026: মঞ্চ ছাড়লেন না ট্রাম্প! স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে উল্লাসে মাতলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ইন্টারনেটে বিদ্রুপের ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে (MetLife Stadium) বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের (Spain) শিরোপা জয়ের আনন্দের মধ্যেই তৈরি হল এক অস্বস্তিকর মুহূর্ত। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে স্পেন অধিনায়ক রদ্রির (Rodri) হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পরও মঞ্চ ছাড়তে দেরি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। স্পেনের সঙ্গেই উল্লাস করলেন ট্রাম্প। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষ পর্যন্ত ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে (Gianni Infantino) হস্তক্ষেপ করতে হয়। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে ট্রাম্প

    খেলার শুরুতে ভিআইপি বক্সে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বসেছিলেন সস্ত্রীক ট্রাম্প। তাঁকে দেখা মাত্র গ্যালারি জুড়ে বিদ্রুপ শুরু হয়। শিস্‌ দেন দর্শকদের একাংশ। ট্রাম্প অবশ্য বিশেষ পাত্তা দেননি। খোশগল্পে মেতেছিলেন তিনি। একটা সময় দেখা যায়, বিশ্বকাপের ট্রফি তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি তা কিছু ক্ষণ কোলে রেখে সামনে রেখে দেন। খেলা শেষে ইনফান্তিনোর সঙ্গেই মাঠে এলেন ট্রাম্প। উঠলেন মঞ্চে। ট্রাম্প মাঠে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আবার বিদ্রুপ শুরু হল। তার মাঝেই ফুটবলারদের গলায় মেডেল পরিয়ে দিলেন ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো। শেষে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দিলেন ট্রাম্প। তার পরেই শুরু নাটক। প্রথমে ফুটবলারদের মধ্যেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ফিফার কয়েক জন কর্তা তাঁকে সরতে বলেন, যাতে স্পেনের ফুটবলারেরা উল্লাস করতে পারেন। ট্রাম্প একটু সরলেন বটে, কিন্তু নামলেন না।

    ট্রাম্পই বিশ্বকাপ জিতলেন!

    এই ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপের সময়েও একই কাজ করেছিলেন ট্রাম্প। চ্যাম্পিয়ন দল চেলসির সঙ্গে উল্লাস শুরু করেছিলেন। সেই সময় চেলসির অধিনায়ক রিসি জেমস প্রায় ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্পকে। এ বার অবশ্য স্পেন তেমন কিছু করেনি। ভিডিওতে দেখা যায়, রদ্রি প্রথমে ইঙ্গিত করে ট্রাম্পকে সরে যেতে বলেন। তবে তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। স্পেনের ফুটবলাররা যখন ট্রফি নিয়ে উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনও ট্রাম্প ক্যামেরার ফ্রেমে ছিলেন। ফলে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন স্প্যানিশ ফুটবলাররা। ট্রাম্প মঞ্চ ছাড়তে দেরি করায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁকে ট্রাম্পের হাত ধরে মঞ্চের এক পাশে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে সেখানেও তিনি পুরোপুরি সরে যাননি। বরং স্পেনের ফুটবলারদের একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পও উল্লাসে মাতলেন। ভাবখানা এমন, যেন তিনিই বিশ্বকাপ জিতেছেন।

    সোশাল মিডিয়ায় কটাক্ষের বন্যা

    ঘটনাটি সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে মজা করেছেন, আবার কেউ তীব্র সমালোচনা করেছেন। একজন লেখেন, ‘‘ফটোশপ তো এখন অনেক উন্নত, তাই সমস্যা হবে না!” আরেকজনের মন্তব্য, “সবকিছুতেই নিজেকে কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চান।’’ আরও এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের কল্পিত প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘‘স্পেনে সবাই আমাকে এত ভালোবাসছিল যে ছবির জন্য থেকে যেতে বলছিল!’’ অন্যদিকে, এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, ‘‘ট্রাম্প গোটা বিশ্বের কাছে লজ্জার কারণ হয়ে উঠেছেন।’’ তবে সবাই সমালোচনা করেননি। একজন লেখেন, ‘‘এটাই ট্রাম্পের স্টাইল, যেন গোটা শহরটাই তাঁর।” আরেকজন বলেন, “এটাই আমেরিকান স্বভাব, সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চায়।’’ এক ব্যবহারকারী গত বছরের চেলসির ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন, ‘‘চেলসি ট্রফি জেতার পরও তিনি এমনভাবেই দলের সদস্যের মতো মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’’

  • US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে ইরান। তাই আপাতত ইরান সফরের পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই নিরাপদ। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ইরানের ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আমেরিকার সঙ্গে বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত পরামর্শে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে অস্থিরতা ও সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ইরান সফর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

    ফের বোমাবর্ষণ আমেরিকার

    ইরানে ফের বোমাবর্ষণ শুরু করেছে আমেরিকা। এই নিয়ে টানা ন’দিন তারা ইরানে হামলা চালাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত আমেরিকান সেনার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন। এর আগে ইরানের হামলায় জর্ডনের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। রবিবার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরাকে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে সেই বোমা ফেটে মৃত্যু হয়েছে আরও এক মার্কিন সেনার। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে ১৭ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হল। জখম হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি। এর পর থেকেই আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই হামলা চলছে, জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের একাধিক শহরে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেইনিতে।

    অশান্ত হরমুজ প্রণালী

    সোমবার সকালে একটি বিবৃতি জারি করে পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকান সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যাতে কোনও বাণিজ্যিক জাহাজে আর হামলা চালাতে না-পারে, সেই কারণে তাদের ক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে সেখানে নতুন করে আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। তবে কোথায় কোথায় বোমা ফেলেছে আমেরিকা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলার বিশদ কোনও বিবরণ মার্কিন সেনাবাহিনী দেয়নি। আমেরিকার হামলার জবাব দিচ্ছে ইরানও। তাদের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী সিরিয়ায় মার্কিন সেনার বিশেষ অভিযানের সদর দফতরে আচমকা হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া, কুয়েতের দু’টি ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানের নিশানায় রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। ইরানে হামলা চালানোর জন্য এই সমস্ত দেশের সেনাঘাঁটিই ব্যবহার করে ওয়াশিংটন।

    দুই তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংসের দাবি

    ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে।

    বাহরিনে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

    ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরিনে মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসের দাবি, তাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ইরান বাহরিনের রাজধানী মানামার কিছু জায়গায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। তাই বাহরিনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ

    ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, যেকোনও উদ্দেশ্যে ইরান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সফর এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের উপলব্ধ বিমান পরিষেবার মাধ্যমে সাময়িকভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। যাঁরা আপাতত ইরানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও সামরিক তৎপরতা চলা এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সব নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসে নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ

    যেসব ভারতীয় এখনও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের অবিলম্বে তা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশিকা নিয়মিত অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    কেন এই সতর্কতা?

    সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের সেতু, লবণাক্ত জল বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। কুয়েত, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এ ধরনের একাধিক হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগেই ভারত সরকারের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ভারতীয় নাবিকদের হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজে না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে সংঘটিত হামলায় অন্তত ১৪ জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহত ভারতীয় নাবিক—সংখ্যা ৯। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার ও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

     

     

     

LinkedIn
Share