Tag: Election Commission

Election Commission

  • Assembly Elections 2026: আইন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ! পুলিশকে হুঁশিয়ারি, সিভিক ভলান্টিয়রদের কী বলল কমিশন?

    Assembly Elections 2026: আইন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ! পুলিশকে হুঁশিয়ারি, সিভিক ভলান্টিয়রদের কী বলল কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন (Assembly Elections 2026) করতে বদ্ধপরিকর কমিশন। ভোটের আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফ থেকে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হল। রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়র, ভিলেজ পুলিশ এবং গ্রিন পুলিশদের নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে কমিশন (Election Commission)। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, ভোটের তিন দিন আগেই এই কর্মীদের ‘রিজার্ভ লাইনে’ পাঠিয়ে দিতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যাতে তাঁদের কোনওভাবেই ব্যবহার করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কেন সরানো হচ্ছে সিভিকদের

    কমিশনের (Election Commission) আশঙ্কা, এই কর্মীরা যদি ভোটের দিন ইউনিফর্ম পরে কর্তব্যরত থাকেন, তবে তাঁরা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারেন বা পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠতে পারে। তাই শুধু রিজার্ভ লাইনে পাঠানোই নয়, স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের দিনগুলোতে (Assembly Elections 2026)যদি বিশেষ প্রয়োজনে তাঁদের মোতায়েন করতেই হয়, তবে কোনওভাবেই পুলিশের পোশাক বা ইউনিফর্ম পরা যাবে না। তাঁদের সাধারণ পোশাকে থাকতে হবে। ভোটের কয়েকদিন আগে এই নির্দেশিকা জারি করে কমিশন বার্তা দিল, কোনও অবস্থাতেই যাতে ভোটারদের ওপর কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার না করা হয়।

    পুলিশ আধিকারিকদের বার্তা

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রে খবর, বিভানসভা ভোটপর্ব (Assembly Elections 2026) শুরুর আগে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের একাংশের তরফে বিভিন্ন থানার ওসি এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও)-দের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কঠোর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে যে, ভোট-সংক্রান্ত অশান্তির ক্ষেত্রে কোনও রকম সহনশীলতা দেখানো হবে না। কোনও ধরনের গন্ডগোল ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এবং এসডিপিও দায়ী থাকবেন। কর্তব্যে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করবে বলে বার্তা দিয়ে কমিশনের (Election Commission) হুঁশিয়ারি— আইন ভাঙার ঘটনায় জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট ওসি বা এসডিপিও-কে বরখাস্ত করা হতে পারে। ভোটের সময় বোমা বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়ে কমিশন বার্তা দিয়েছে, গুরুতর অশান্তির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতে পারে! অর্থাৎ ভোটে অশান্তির ঘটনা ঘটলে তার মূল দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে।

  • PM Modi in Jhargram: “বিনা পয়সায় খাব না”, ঝাড়গ্রামে মোদির অন্য রূপ, শিশুদের সঙ্গে ঝালমুড়ি ভাগ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi in Jhargram: “বিনা পয়সায় খাব না”, ঝাড়গ্রামে মোদির অন্য রূপ, শিশুদের সঙ্গে ঝালমুড়ি ভাগ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এর আগে তাঁকে দেখা গিয়েছিল চায়ের দোকানে। এবার প্রচারের ফাঁকে ঝালমুড়ির দোকানে ঢুকে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মাত্র ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খোশমেজাজে খেতেও দেখা গেল তাঁকে। দোকান থেকে ঝালমুড়ি নিয়ে শুধু নিজেই খাননি, আশপাশে থাকা শিশুদেরও ভাগ করে দেন। কিছু সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে গল্পগুজব করে কাটান। তাঁকে সামনে পেয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়, বিশেষ করে স্থানীয় মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি খেয়ে মোদি (PM Modi in Jhargram) যে খুশি, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান—একদিনে চারটি জনসভার মাঝেই এই ছোট্ট বিরতি ছিল তাঁর জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত।

    আপনার ঝালমুড়ি খাওয়ান!

    রবিবার একটি ভিডিওতেও দেখা যায়, ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে ঝালুড়ির দোকানে ঢুকে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Jhargram) । তিনি বলেন, “ভাই, আমায় আপনার ঝালমুড়ি খাওয়ান।” দাম জিজ্ঞেস করলে দোকানদার জানান ১০ ও ২০ টাকার অপশন আছে। তখন তিনি নিজেই ১০ টাকার নোট এগিয়ে দেন। দোকানদার নিতে না চাইলে তিনি স্পষ্ট করে দেন—বিনা পয়সায় খাবেন না। ঝালমুড়ি মাখার সময় পেঁয়াজ খাবেন কিনা জানতে চাইলে হাস্যরসের সুরে উত্তর দেন, “হ্যাঁ, পেঁয়াজ খাই, শুধু মাথা খাই না।” এদিকে পিছন থেকে সমর্থকদের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শোনা যায়। ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে সভা শেষে ফেরার পথে কলেজ মোড়ের একটি দোকানের এই ছবি সবাইকে চমকে দেয়। দোকানদার বিক্রম সাউ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাম, পরিবার ও আয় সম্পর্কে জানতে চান এবং ঝালমুড়ি খেয়ে প্রশংসাও করেন।

    প্রতিটি সভাতেই তৃণমূলকে নিশানা

    পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে রবিবার একদিনে চারটি সভা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বাঁকুড়ার বড়জোড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার প্রতিটি সভাতেই তৃণমূলকে নিশানা করে মোদি (PM Modi in Jhargram) জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মহিলাদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ, এবং আসন্ন নির্বাচনে মহিলারাই এর জবাব দেবেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ৷ তারা মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা চায় না ৷ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মহিলারা তৃণমূলকে যথোপযুক্ত শাস্তি দেবে ৷”

  • Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করালেও বাংলায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Shamik challenges Mamata)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল স্পষ্ট। এসআইআর মামলায় সুপ্রিম নির্দেশের পর সাফ জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court) জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রয়োগ করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ভোটের ২ দিন আগে ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হলেও দেওয়া যাবে ভোট।

    মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik challenges Mamata)। তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভোট করাতে চাইছেন সেভাবেই করুন। পুরোনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করুন। তাও চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। তৃণমূল চলে গিয়েছে। তৃণমূল শেষ।” এদিন কমিশনের বিরুদ্ধেও খানিক ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে শমীককে। বলেন, “আমরা এই প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নই। আমাদের ফর্ম ৭ এর শুনানি হয়নি। নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা পুরো শোনেননি। আমাদের অভিযোগ, আমাদের অভিমান কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটা সাংবিধানিক সংস্থা। আমরা তাঁদের আধিকারিকদের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি আমরা সন্তুষ্ট নই।”

    কী বলল দেশের শীর্ষ আদালত

    অবশেষে বাংলার এসআইআর মামলায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যে লক্ষ লক্ষ ভোটার, যাঁরা ট্রাইবুনালে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে যাঁদের প্রথম দফার ভোট (২৩ এপ্রিল) রয়েছে, এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যে যাঁদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং যাঁরা যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করবেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ভোটার লিস্টে উঠবে। তার জন্য সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে এবং ২৩ এপ্রিল তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোট হচ্ছে ২৯ এপ্রিল। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত, যাঁদের যাঁদের ভোটার লিস্টে নাম ওঠার জন্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করতে পারবেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। এই ২৭ এপ্রিল অবধি যাঁদের নাম উঠবে, তাঁদের জন্য আলাদা সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করা হবে।

  • Assembly Elections 2026: ভবানীপুর ও ডায়মন্ড হারবারে টহল দিচ্ছে ‘মার্কসম্যান’! ভোটমুখী বাংলায় কাশ্মীর থেকে এল বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    Assembly Elections 2026: ভবানীপুর ও ডায়মন্ড হারবারে টহল দিচ্ছে ‘মার্কসম্যান’! ভোটমুখী বাংলায় কাশ্মীর থেকে এল বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Assembly Elections 2026)। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে অশান্তি ঠেকাতে এবার জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়ি নিয়ে এল নির্বাচন কমিশন। বুধবার ডায়মন্ড হারবার ও ভবানীপুরের রুট মার্চেও এই গাড়ি দেখা গিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় সীমান্তবর্তী বসিরহাট, বাগদা, দেগঙ্গা ও আমডাঙ্গা এলাকায় এই যান মোতায়েন করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের সময় কোথাও গুলি চললে বা পাথর ছো়ড়া হলে এই গাড়ি ব্যবহার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনও ব্যক্তি (ভিআইপি) অশান্তির মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আটকে পড়লেও এই গাড়ি তাঁকে উদ্ধার করতে কাজে লাগানো হবে। কোনও এলাকায় জমায়েত বেশি হলে এই গাড়ি থেকে ধোঁয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ভবানীপুরে এই গাড়ির টহলদারি দেখতে রাস্তার পাশে রীতিমতো ভিড় জমে যায়।

    কী এই বুলেটপ্রুফ ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি

    কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে রাজ্যে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর। ডায়মন্ড হারবারে নামানো হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি। ‘মার্কসম্যান’ (Marksman From Kashmir) মূলত একটি লাইট আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, যা সেনা, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশের জন্য তৈরি। শক্তিশালী বুলেটপ্রুফ সুরক্ষা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বি-৬ স্তরের ব্যালিস্টিক প্রোটেকশন থাকায় ৭.৬২ মিমি পর্যন্ত গুলির আঘাত প্রতিরোধ করতে সক্ষম এই গাড়ি। এমনকি গ্রেনেড বিস্ফোরণের ধাক্কা থেকেও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এর তলার অংশ।

    কী এই বুলেটপ্রুফ ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি

    জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বাংলায় আনা হয়েছে ওই গাড়ি, যার মাথায় মেশিন গান বসানোর জায়গাও রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি ব্যবহৃত হয়। এই গাড়ি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। সম্পূর্ণ রূপে বুলেটপ্রুফ গাড়িটি। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিও প্রতিরোধ করতে পারে। রাস্তার নীচে পোঁতা বিস্ফোরক থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে বিশেষ ভাবে তৈরি গাড়িটি। ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি চালাতে সক্ষম। চারপাশ পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে ভিশন পোর্ট, ফায়ারিং স্লট। চড়াই-উতরাই পেরোতে সক্ষম গাড়িটি। গাড়িতে একসঙ্গে সাত-আটজন সওয়ার থেকে অভিযান চালাতে পারেন।

    কোথায় কোথায় নামল ওই বিশেষ গাড়ি

    বুধবার, বাহিনীর বিশেষ এই গাড়ির টহলদারি ভবানীপুর থানা থেকে শুরু হয়েছিল। তা পদ্মপুকুর, চক্রবেড়িয়া, শরৎ বোস রোড হয়ে হাজরায় গিয়ে শেষ হয়। খাকি রঙের চারচাকা গাড়িটি আদ্যোপান্ত বুলেটনিরোধক। মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় আধা সামরিক বাহিনী বা সিআরপিএফ এই ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। এই গাড়িগুলির নম্বরপ্লেটও জম্মু ও কাশ্মীরেরই। ভবানীপুরের পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় ওই ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি নিয়ে এরিয়া ডমিনেশনের কাজ শুরু করেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। মূলত সন্ত্রাস অধ্যুষিত এলাকা, দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা এবং ভিআইপি-দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ওই গাড়ি ব্যবহার করে ভারতীয় সরকার। এদিন গাড়ির পিছনে দুই জওয়ান ছিলেন। একজন রাইফেল নিয়ে ছিলেন উপরে। গাড়িটি গ্রেনেড হামলা সহ্য করতে পারে। কোনও ক্ষতি হয় না গাড়ির। একে-৪৭ থেকে গুলি চালালেও কিছু হয় না। গাড়ির ভিতরে বসে গুলি চালাতে পারেন জওয়ানরা। উপরে মেশিনগান বসানোর জায়গাও রয়েছে। গাড়ির ভিতর থেকেই নজরদারি চালানো যায়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, হাই রিস্ক বা স্পর্শকাতর বুথগুলিতে ওই গাড়ি ব্য়বহার করা হবে। পাশাপাশি, মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র বাহিনী। এদিন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিভিন্ন জায়গা এরিয়া ডমিনেশনে বেরোতে দেখা যায় সিআরপিএফ জওয়ানদের।

    শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোটের স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    অনেক আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে তারা রুট মার্চ করছে। সঙ্গে রয়েছে পুলিশও। ভবানীপুরে বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ থেকে মাইকে প্রচার চালানো হয়। নির্ভয়ে সকলকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানায় বাহিনী। বলা হয়, ‘‘আপনারা সকলে সকাল সকাল ভোট দিন। নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলি মেনে চলুন। ভবানীপুর থানা, সিআরপিএফ এবং কমিশন সবসময় আপনাদের সঙ্গে আছে। যে কোনও সমস্যায় বা প্রয়োজনে থানায় ফোন করুন। আমরা কেবল একটি ফোনকলের দূরত্বে রয়েছি। আমরা সবরকম ভাবে সাহায্য করব।’’ কমিশন আগেই জানিয়েছে, যে কোনও মূল্যে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করা হবে। কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। তার জন্য এর আগে একাধিক তৎপরতা চোখে পড়েছে। এ বার কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়িও পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হল। খাস কলকাতায় সেই গাড়ি টহলদারি শুরু করে দিয়েছে। ভোটারদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে গাড়ি থেকে।

    কোথায় কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে আগামী ৪ মে। তার আগে জেলায় জেলায় প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।প্রথম দফার ভোটে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, দার্জিলিংয়ে মোতায়েন থাকবে ৬১ কোম্পানি বাহিনী, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে ৪৪ কোম্পানি, কালিম্পংয়ে ২১ কোম্পানি, জলপাইগুড়িতে ৯২ কোম্পানি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে যথাক্রমে ৭৭ ও ১৪৬ কোম্পানি বাহিনী, ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ পুলিশ জেলায় ৬১ ও ৭১ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী, মালদায় ১৭২ কোম্পানি বাহিনী, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদে ৩১৬ কোম্পানি,পূর্ব ও পশ্চিম, ২ মেদিনীপুরে ৪৪৪ কোম্পানি, ঝাড়গ্রামে ৭৪ কোম্পানি, বাঁকুড়ায় ১৯৩ কোম্পানি, পুরুলিয়ায় ১৫১ কোম্পানি, বীরভূমে ১৭৬ কোম্পান, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় মোতায়েন থাকবে ১২৫ কোম্পানি বাহিনী।

  • Constitution Amendment Bill: সংবিধান সংশোধনী বিলে নয়া ডিলিমিটেশনের প্রস্তাব

    Constitution Amendment Bill: সংবিধান সংশোধনী বিলে নয়া ডিলিমিটেশনের প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য বিধানসভাগুলির আকার ও গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সংবিধান (একশত একত্রিশতম সংশোধনী) বিল, ২০২৬। এতে ফের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (delimitation) প্রক্রিয়া (Fresh Delimitation) শুরু করা এবং ১৯৭৬ সাল থেকে কার্যকর থাকা জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের ওপর দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে (Constitution Amendment Bill)। এই বিলটি সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। অধিবেশন শুরু হবে ১৬ এপ্রিল থেকে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলির ফলে রাজ্য বিধানসভাগুলির মোট আসনসংখ্যা জনসংখ্যার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে বদলাবে, রাজ্যের অভ্যন্তরে নির্বাচনী এলাকার সীমানাও নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।

    ডিলিমিটেশন কমিশনকে দায়িত্ব (Constitution Amendment Bill)

    জানা গিয়েছে, এই বিলটি সংবিধানের ১৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব দেয়, যা রাজ্য বিধানসভার গঠন নিয়ন্ত্রণ করে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংসদ নির্ধারিত একটি জনগণনার ভিত্তিতে বিধানসভার আসনসংখ্যা পুনর্নির্ধারণ এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা ফের আঁকার ব্যবস্থা করা হবে। এভাবে ১৯৭৬ সাল থেকে চালু থাকা পুনর্বিন্যাসের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে। বিলটি ১৭০ অনুচ্ছেদের তৃতীয় শর্তটি বাতিল করার প্রস্তাব দেয়, যা ২০২৬ সালের জনগণনার পর পর্যন্ত সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছিল (Constitution Amendment Bill)। এই সংশোধনীর মাধ্যমে আগে যেখানে সংসদ সীমানা নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ ঠিক করত, সেখানে এখন সরাসরি একটি ডিলিমিটেশন কমিশনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে। ১৭০(২) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় ‘জনসংখ্যা’ বলতে সংসদ যে জনগণনাকে গ্রহণ করবে, সেই জনগণনার তথ্য বোঝাবে (Fresh Delimitation)।

    এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য

    জানা গিয়েছে, বিলটি ৩৩৪এ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করে রাজ্য বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর করবে। এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে তখনই, যখন সর্বশেষ প্রকাশিত জনগণনার ভিত্তিতে নতুন করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, সর্বশেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে (Constitution Amendment Bill)। সংরক্ষিত আসনগুলিকে পরবর্তী সীমানা পুনর্নির্ধারণে রাজ্যের মধ্যে ঘুরিয়ে (rotation) দেওয়া হবে। এই সংরক্ষণ ২০২৩ সালের সংবিধান (১০৬তম সংশোধনী) আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, যদি না সংসদ আইন করে এর মেয়াদ বাড়ায়। বিলটিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু রাজ্যে যাতে উপজাতি প্রতিনিধিত্ব কমে না যায়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ৩৩২ অনুচ্ছেদের সংশোধনের মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডে উপজাতিদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে (Constitution Amendment Bill)।

    তফশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসন

    এছাড়া নির্ধারিত হয়েছে যে, তফশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা বর্তমান অনুপাতের নীচে নামবে না (Fresh Delimitation)। এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বিল, ২০২৬ অনুযায়ী। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার একটি সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশন গঠন করবে। এই কমিশনের প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতি। থাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (অথবা নির্বাচন কমিশনের মনোনীত কোনও কমিশনার) এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার। প্রত্যেক রাজ্যে ১০ জন সহযোগী সদস্য থাকবেন। এঁদের মধ্যে ৫ জন লোকসভার সদস্য এবং ৫ জন রাজ্যের বিধায়ক। তাঁরা কমিশনকে সাহায্য করতে পারবেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ভোট দিতে পারবেন না (Constitution Amendment Bill)।

    আসুন, জেনে নেওয়া যাক কমিশনের কাজটি ঠিক কী। কমিশন প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লোকসভার আসন নির্ধারণ করবে, রাজ্য বিধানসভার মোট আসনসংখ্যা ঠিক করবে, সংসদীয় ও বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করবে, তফশিলি জাতি, উপজাতি এবং মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন চিহ্নিত করবে। খসড়া প্রস্তাব জনমত ও আপত্তির জন্য প্রকাশ করা হবে। পরে চূড়ান্ত হলে তা ভারতের গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং আইনের শক্তি পাবে। তখন আর একে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না (Fresh Delimitation)।

    নতুন সীমানাগুলি কমিশনের চূড়ান্ত নির্দেশের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কার্যকর হবে (Constitution Amendment Bill)।

     

  • Assembly Elections 2026: ফের শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র হবে বাংলা! পুরুলিয়ার সভা থেকে তরুণদের উদ্দেশে বার্তা শাহের

    Assembly Elections 2026: ফের শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র হবে বাংলা! পুরুলিয়ার সভা থেকে তরুণদের উদ্দেশে বার্তা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তরুণদের উপার্জনের জন্য ভিন্‌রাজ্যে যেতে হবে না। বাংলা আবার আগের মতো শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র হবে। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এই কথা ঘোষণা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মমতার সরকারকে বিঁধে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ৭০০০ কারখানা বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব কারখানা বাইরে চলে গিয়েছে। আমাদের আদিবাসী, কুড়মি ভাইয়েরা উপার্জন করতে পারেন না। এখান থেকে বেঙ্গালুরু, আহমেদাবাদ, দিল্লি, মুম্বই যেতে হয়। বিজেপির সরকার গঠন করুন। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে আবার আগের মতো শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্পূর্ণ চেষ্টা করব। তত দিন পর্যন্ত সকল বেকারকে মাসে তিন হাজার টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়া হবে।” শাহ বলেন, “এ বার পুরুলিয়ার ৯টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই বিজেপি-কে জেতাতে হবে। ক্লিন সুইপ করে দিন।”

    এসআইআর নিয়ে হুঁশিয়ারি!

    এদিনের সভা থেকে শাহ বলেন, “নির্বাচন কমিশন এসআইআর করছে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। আর মমতা দিদির সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছে। এটা তো সবে শুরু হয়েছে। এখন ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সরকার গড়ুন, আমরা ওদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়াব। বিএসএফ-এর জমি দরকার কাঁটাতার বসানোর জন্য। ১৫ বছর ধরে তিনি জমি দিচ্ছেন না। বিজেপি স্থির করেছে, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়া হবে। অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।” এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বিঁধে শাহ বলেন, “আমাদের জঙ্গলের জমি অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করতে হবে কি হবে না? ভাইপো এটা করতে পারবে? মমতা দিদি করতে পারবে? ওরাই তো এনে রেখেছে। ওদের তো ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু মমতা দিদি, আপনার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। ৫ তারিখ বিজেপির সরকার আসবে। পুরো রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়াব।”

    প্রত্যেক ঘরে নলবাহিত জল!

    শনিবার দুপুরে বাঁকুড়ায় জোড়া জনসভা করেছেন অমিত শাহ। প্রথমে ওন্দায় এবং তার পরে ছাতনায় সভা করেন তিনি। বাঁকুড়ার জোড়া জনসভা শেষ করে অমিত শাহ পৌঁছেন পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে। সেখানে জনসভা থেকে শাহ বলেন, “কংসাবতী, সুবর্ণরেখার মতো পবিত্র নদী থাকার পরেও পুরো এলাকায় সাঁওতালি এবং কুড়মি সমাজকে জলের কষ্টে ভুগতে হয়। আমরা ২৫০ কোটি টাকা খরচ করে পুরুলিয়া এবং আশপাশের এলাকায় প্রত্যেক বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছে দেব। ড়মি এবং সাঁওতালদের মধ্যে সংঘর্ষ করিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৫ তারিখ বিজেপির সরকার গঠন করুন। মহান কুড়মি ভাষাকে আমরা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করব। বিজেপির যে সরকার তৈরি হবে, তা কাটমানি এবং সিন্ডিকেট থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুক্ত করবে।”

  • PM Modi in North Bengal: ‘বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন, তৃণমূল ১৫ বছর, পাঁচ বছর মোদিকে দিন’! বঙ্গবাসীর কাছে আর্জি প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi in North Bengal: ‘বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন, তৃণমূল ১৫ বছর, পাঁচ বছর মোদিকে দিন’! বঙ্গবাসীর কাছে আর্জি প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বামেরা ৩৫ বছর শাসন করেছে। তৃণমূলও ১৫ বছর রাজ্যা চালাল। আগামী পাঁচ বছর বঙ্গবাসীকে মোদির উপর ভরসা রাখার আর্জি জানালেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in North Bengal)। কুশমন্ডির সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বার করা হবে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে আবার বৈভবশালী রাজ্য করবে। তাই আমাদের প্রার্থীদের এখানে হাজির করেছি। বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন, তৃণমূলকে ১৫, ৫ বছর মোদিকে দিয়ে দেখুন। ডবল ইঞ্জিন সরকার যেখানে, সেখানেই উন্নয়ন। বাড়ি পর্যন্ত পানীয় জল যায়, সে জন্য দিল্লি থেকে টাকা এসেছে। কিন্তু তার মাঝেও টিএমসি ঢুকে পড়েছে। আপনারা বিজেপিকে আনুন। মোদী কি গ্যারান্টি। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছোবে।’’

    আদিবাসী সমাজের দ্রুত উন্নয়ন

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘বাংলার রাজবংশী সমাজ, সাঁওতাল সমাজের ভূমিকা রয়েছে ভারতের উন্নতিতে। অনেক নায়ক রয়েছেন। তাঁদের জন্য আমরা গর্বিত। আমাদের নিরন্তর প্রয়াস আদিবাসী সমাজের দ্রুত উন্নয়ন হোক। আগে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ছিলেন আদিবাসীরা। আমাদের সরকার মাওবাদী-মুক্ত সমাজ দিয়েছে। বন্দুক নামিয়ে ছেলে মায়ের কাছে ফিরেছেন। আমাদের মন্ত্রিসভায় আদিবাসী রয়েছেন। ওড়িশায় আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী মুখ, ঝাড়খণ্ডেও তা-ই। এটাই আমাদের ট্র্যাক রেকর্ড। কিন্তু তৃণমূল সাঁওতাল সমাজকে অপমান করে। রাষ্ট্রপতি মুর্মু এসেছিলেন কিছু দিন আগে। তৃণমূল সংবিধানের মর্যাদা দেয়নি। আদিবাসী সমাজকে অপমান করেছে। তৃণমূলকে সবক শেখানো দরকার। তৃণমূল কখনও আদিবাসী উন্নয়নের শরিক হয়নি।’’

    ‘সমস্ত ধর্ষণের মামলার ফাইল খুলব’

    খাগড়াকুড়ির ময়দানের মঞ্চে প্রার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে এদিন মোদি ‘জয় মা কালী’, ‘জয় বাবা ভোলানাথ’ বলে ভাষণ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘‘দক্ষিণ দিনাজপুরের পুণ্যভূমিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণাম জানাচ্ছি। সবার আগে সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। কারণ, সভার যে প্ল্যানিং করেছেন, যে প্যান্ডেল করেছেন, খুব ছোট হয়ে গিয়েছে। যত জন ভিতরে আছেন, তার তিন গুণ বাইরে আছেন। তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। তবে সকলকে আশ্বস্ত করছি, এই পরিশ্রমকে বেকার হতে দেব না। এই ভালবাসা ১০০ গুণ করে ফেরত দেব। উন্নয়নের মাধ্যমে ফেরত দেব। মেয়েদের জন্য মোদির গ্যারান্টি— সমস্ত ধর্ষণের মামলার ফাইল খুলব। খুঁজে খুঁজে হিসেব নেব। কী ভাবে হবে, সেটা ঘোষণাপত্রে বলে দিয়েছে বিজেপি।’’

    বামেদের সব দুর্নীতি তৃণমূলে

    এদিন কুশমুন্ডির সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বরণ করে নেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি জানান, সংকল্পপত্রে যা বলা হয়েছে, সেখান থেকে পরিষ্কার এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের জন্য এত কিছু ভাবেননি। শনিবার বাংলায় একই দিনে তিনটি সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। তৃতীয় সভাটি কুশমন্ডিতে। তিনটি সভাতেই তাঁর দাবি, ‘‘বাংলার মানুষ বামেদের সরিয়েছিল। অনেক আশা নিয়ে মা-মাটি-মানুষের কথা শুনে তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল তো বামেদের কার্বন কপি হয়ে গিয়েছে। সব গুন্ডা তৃণমূলে চলে এসেছে। বামেদের সব দুর্নীতি তৃণমূল নিয়ে নিয়েছে। এখন তারা আবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু ওরা ভুলে যাচ্ছে, এটা নেতাজির মতো বীরের ভূমি। তৃণমূলের ভয়ের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে বিজেপির ভরসা। তাই এ বার তৃণমূলকে বার বার বাংলা বলছে, এই সব চলবে না।’’

  • Amit Sha in Bengal: ‘‘ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীকে ঘর থেকে বেরোতে দেব না’’ বাঁকুড়ার সভা থেকে হুঁশিয়ারি শাহের

    Amit Sha in Bengal: ‘‘ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীকে ঘর থেকে বেরোতে দেব না’’ বাঁকুড়ার সভা থেকে হুঁশিয়ারি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলায় ভোট। ওই দু’দিন তৃণমূলের ‘গুন্ডাবাহিনী’ যেন ঘরের বাইরে পা না রাখে। শনিবার বাঁকুড়ার ওন্দার নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Sha in Bengal)। এদিনের সভায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি থেকে শুরু করে আরজি কর কান্ড নিয়ে মমতা সরকারকে নিশানা করেন আমিত শাহ। এসএসসি, পুরনিয়োগ, গরু, ১০০ দিনের কাজ, পিএম আবাস দুর্নীতি কারা করেছে? এদিনের সভা থেকে মমতাকে খোলা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন শাহ। বিজেপি বাংলায় সরকার গঠন করলে কমিটি করে সব টাকা গরিবদের ফেরানো হবে বলে আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সোনার বাংলা গড়ার ডাক

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হীরক রানী’ বলেও কটাক্ষ করেন মোদির ‘ডেপুটি’। বলেন, ‘‘এই হীরক রানীকে টাটা বাই-বাই করার সময় চলে এসেছে। মোদি সরকার পাঁচ কেজি চাল দিলে তার থেকে ১ কেজি চুরি করে নেয় তৃণমূল সরকার। ওরা ভাবে যা দুর্নীতি করেছে, তার পরে আর কিছু হবে না ওদের। আজ বলছি, সিন্ডিকেটের লোকজন শুনুন, বিজেপির সরকার হলেই গরিবদের সব টাকা ফেরাতে হবে। বাংলার গরিবদের ভোট নিয়ে অনুদান যায় তৃণমূলের গুন্ডাদের ঘরে। মোদিজি লক্ষ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। আপনাদের ঘরে কি গেছে? মোদিজি যে বিকাশের অর্থ পাঠিয়েছিলেন, তা মমতাদিদির সিন্ডিকেট খেয়েছে। ৭০০০ সংস্থা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে। মোদিজি ফিরিয়ে আনবেন। রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা গড়ব আমরা।’’

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি!

    রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনার কথাও বলেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘কারও চার স্ত্রী রয়েছেন। তা কি থাকা উচিত? দিদিরা বলুন। বিজেপির সরকার করুন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনব। সকলের জন্য সমান বিধি হবে। লভ জিহাদ বন্ধ হবে। গর্ভবতী মায়েরা ২১ হাজার টাকা পাবেন। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ দিতে হবে না। বিধবা, প্রবীণ দিব্যাঙ্গজনেরা ২০০০ টাকা করে মাসে পাবেন। উত্তরবঙ্গে এমস হবে। চা শ্রমিকদের ভূমির মালিক করা হবে।’’ রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও কেন বাংলায় সুরক্ষিত নয় মেয়েরা? প্রশ্ন করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘মমতাদিদি, আপনি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, তাও আরজি কর, সন্দেশখালির মতো ঘটনা হয়। মমতাদিদি বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পরে কারও বাইরে যাওয়া উচিত না। বিজেপির সরকার গড়ুন, রাত ১টায় মহিলারা বাইরে নিরাপদে ঘুরতে পারবেন।’’

    জনজাতিদের উন্নয়ন

    এদিন শাহ বলেন, ‘‘মমতা, কংগ্রেস— এরা কেউ জনজাতির কাউকে রাষ্ট্রপতি করেনি। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে নরেন্দ্র মোদীজি সাঁওতাল জনজাতি বোন দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করে জনজাতিদের সম্মান করেছেন। দ্রৌপদীজি এখানে জনজাতিদের সঙ্গে দেখা করার জন্য এসেছিলেন। মমতাজি তাঁর অপমান করেছেন। জনজাতি ভাই-বোনদের বলছি, এই ভোটে জনজাতির মেয়ে দ্রৌপদীর অপমানের বদলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে নিতে হবে। ওঁরা সহ্য করতে পারেন না, যে জনজাতি গরিবের মেয়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। আপনি যা করুন মমতাদিদি, আমরা জনজাতিদের উন্নয়ন করব।’’

    পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে?

    এদিন বাঙালি অস্মিতায় শান দিয়ে শাহ বলেন,‘‘ওরা বলে বেড়াচ্ছে, মোদীজি দিল্লি থেকে শাসন করবে। আমার কথা শুনে রাখুন, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী যিনি হবেন, তিনি এখানে জন্মগ্রহণ করা, বাংলায় কথা বলা এক জন বিজেপি নেতাই হবেন। সব কৃষকদের এখন ৬০০০ টাকা দেন মোদিজি। বিজেপি এখানে সরকার গড়লে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৯০০০ টাকা হবে। ধানের এমএসপি ৩১০০ টাকা করা হবে। ৩০০ জনের বেশি বিজেপি কার্যকর্তার হত্যা হয়েছে। তৃণমূলের গুন্ডারা ভাবে, ওদের কিছু হবে না। ৫ মে বিজেপি সরকার গড়ার পরে হত্যাকারীদের জেলে পাঠানো হবে।’’

    আলুর ফলন নিয়ে তোপ

    এদিন মুখ্যমন্ত্রীর জেদের বশে আলু চাষীদের ক্ষতির কথাও বলেন শাহ। তাঁর দাবি, ‘‘বাঁকুড়ায় আলুর ফলন খুব। মমতাদিদির অহঙ্কার দেখুন! নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, বলেছেন, বাংলার আলু ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডে যাবে না। সেখানকার মানুষ এখানকার মিঠা আলু খেতে চান। পাঠান না। কৃষকদের ২ টাকায় আলু বেচতে বাধ্য করে। বিজেপির সরকার আনুন। ওই দিনই এখানকার আলু পাশের রাজ্যে চলে যাবে। পাঞ্জাব থেকে যাতে আর আলুর বীজ আনতে না হয়, তা দেখব।’’ অনুপ্রবেশকারীরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান ভোটব্যাঙ্ক, অভিযোগ শাহের। তাঁর দাবি, রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চাইছে রাজ্য সরকার। তাই শাহের আহ্বান,‘‘২৩ এপ্রিল পদ্ম চিহ্নে ভোট দিন। জোরে বোতাম চাপুন, যাতে দিল্লিতে শব্দ যায়। যাতে অনুপ্রবেশকারীদের কারেন্ট লাগে।’’

  • PM Modi in Bengal: ‘‘বিজেপি জিতবেই, গুজরাটেও সকাল ১১টায় এমন সভা হয় না’’ কাটোয়ায় জনসমাগমে আপ্লুত মোদি

    PM Modi in Bengal: ‘‘বিজেপি জিতবেই, গুজরাটেও সকাল ১১টায় এমন সভা হয় না’’ কাটোয়ায় জনসমাগমে আপ্লুত মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চৈতন্য মহাপ্রভুর পবিত্র ভূমিতে তৃণমূল পাপের রাজত্ব চালাচ্ছে। কিন্তু এটা আর চলবে না। ১৫ বছরের দুর্নীতির হিসেব হবে। ওরা মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু আর পারবে না। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর জনসভা থেকে হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেই সভায় জনসমুদ্র দেখে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal)। মোদি বলেন, জনপ্লাবন বলে দিচ্ছে, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের (Assembly Election in Bengal) জন্য তৈরি। আরও একবার আমজনতার সামনে তুলে ধরলেন ৬ গ্যারান্টি। আশ্বাস দিলেন বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে মাসে ঢুকবে ৩০০০ টাকা। চাকরি পাবেন বেকাররা। মোদির আশ্বাস, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকারি সমস্ত শূন্যপদ পূরণ হবে। শিল্প আসবে বাংলায়।” সভা মঞ্চ থেকেই মোদির মুখে শোনা গেল নতুন স্লোগান, “ভয় আউট, ভরসা ইন, বিজেপিকে ভোট দিন।”

    গুজরাটেও হয় না, জনসমুদ্র দেখে আপ্লুত

    এদিন পূর্ব বর্ধমানের জেলা নেতৃত্ব কাটোয়ার মঞ্চে স্বাগত জানিয়েছেন মোদিকে। উত্তরীয় পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মোদির সামনে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন শমীক। জানান, বর্ধমানকে ধান উৎপাদনে এক থেকে তিনে নামিয়ে এনেছে শাসকদল। কাটোয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য কয়েক জন শিশু ছবি নিয়ে এসেছিল। তাদের ছবি জমা দিয়ে দিতে বলেন মোদি। জানান, পিছনে নাম ও ঠিকানা লেখা থাকলে তিনি ধন্যবাদবার্তা পাঠাবেন। একই সঙ্গে বলেন, ‘‘গুজরাটেও সকাল ১১-১২টায় এমন সভা আমি করতে পারি না। চাইলেও করা যায় না। আপনারা এখানে আশ্চর্য জমায়েত করেন প্রতি বার। আমি অভিভূত। এ রাজ্যে যে ৪ মে-র পর পরিবর্তন আসছে, তা এই সভা থেকেই নিশ্চিত।’’

    সব দুর্নীতির হিসেব হবে

    এদিন মোদি বলেন, ‘‘আপনাদের ছ’টি গ্যারান্টি দিয়েছিলাম। সেগুলি পূরণের সময় এসেছে। তৃণমূলের নির্মম সরকারের ভয়ের রাজকে সরিয়ে ভরসায় বদলে দেবে আমার গ্যারান্টি। দুর্নীতি নিয়ে বিজেপি শ্বেতপত্র জারি করবে। যাতে তৃণমূলের সব সিন্ডিকেট, সব দুর্নীতিগ্রস্তদের হিসেব করা যায়। ১৫ বছরের হিসেব হবে। সব কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে। একের পর এক মিথ্যা বলছে। বলছে আমরা ক্ষমতায় এলে নাকি সব প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। আসলে তা নয়। আসলে বিজেপি ওদের দুর্নীতির দোকান বন্ধ করবে। লুট বন্ধ করবে।’’

    সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা

    বর্ধমান থেকে মোদি বলেন, ‘‘এখানকার সীতাভোগ আর মিহিদানার সুগন্ধ সারা দুনিয়ায় জনপ্রিয়। তৃণমূলের সরকার আলু চাষিদের বরবাদ করে দিয়েছে। আলু পচছে। এটা চলবে না। বাংলা চুপ থাকবে না।’’ বিজেপি কৃষকদের জন্য ইস্তাহারে অনেক ঘোষণা করেছে বলে জানান মোদি। ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর সুবিধা পাবেন কৃষকেরা। বিজেপি এলে যুবসমাজ লক্ষ লক্ষ চাকরি পাবে। বেকারদের ভাতাও দেওয়া হবে। দুর্নীতির জন্য যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। রোজগার মেলার আয়োজন করা হবে এখানেও। সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন কর্মচারীরা। রাজ্যের সব শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে।’’

    মহিলাদের মাসে তিন হাজার টাকা

    বিজেপির সংকল্প পত্রে মহিলাদের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা, বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াতের ঘোষণা করেছে বিজেপি। সেগুলি উল্লেখ করেন মোদিও। জানান, বিজেপির আমলে এ রাজ্যের মহিলারা নিরাপদে, নির্ভয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। মতুয়াদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘‘মতুয়া, নমঃশূদ্র, সব শরণার্থী পরিবার তৃণমূলের দয়ায় নেই। দেশের সংবিধান আপনাদের সুরক্ষিত করেছে। সিএএ করেছি, যাতে মতুয়া-সহ শরণার্থীরা সুরক্ষা পান। সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত করা হবে।’’

    কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধার অভিযোগ

    এদিন ফের মোদির মুখে শোনা যায় আয়ুষ্মান ভারত-এর কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তৃণমূল রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা দেয়। আয়ুষ্মান ভারত যোজনাতেও বাধা দিয়েছে তৃণমূল। ৪ মে-র পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্প চালু করা হবে, আমার গ্যারান্টি রইল। পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের অধীনে শিল্পীদের কেন্দ্রীয় সরকার প্রশিক্ষণ দেয়। অসমে এক লক্ষ মানুষ এই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বিহারেও পেয়েছেন। প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্যও পেয়েছেন। তৃণমূল এই প্রকল্প এখানে আনতে দেয়নি। অনেক বড় ক্ষতি করে দিয়েছে আপনাদের।’’

  • BJP Sankalp Patra: অনুপ্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’, ৪৫ দিনে সপ্তম বেতন কমিশন! বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র”-এ আর কী কী?

    BJP Sankalp Patra: অনুপ্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’, ৪৫ দিনে সপ্তম বেতন কমিশন! বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র”-এ আর কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন থেকে শুরু করে কৃষকদের সহায়তা বৃদ্ধি, সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন থেকে রাজ্যে নতুন উপনগরী তৈরির বার্তা উঠে এল বিজেপির সংকল্প পত্রে। বাদ যায়নি সিঙ্গুরের পড়ে থাকা জমি থেকে তাজপুরের সমুদ্র বন্দর প্রসঙ্গ। গুরুত্ব পেয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের কথাও। শুধু উন্নয়নের বার্তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে হওয়া দুর্নীতির বিচার ও অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বিজেপির সংকল্প পত্রে। শুক্রবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির এই নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    অনুপ্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’

    বাংলার জন্য সংকল্প পত্রে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব ফের একবার স্পষ্ট করল বিজেপি ৷ সংকল্প পত্রে বলা হয়েছ, ‘‘অনুপ্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’। আমরা ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট নীতির মাধ্যমে বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে বার করব। দেশকে সুরক্ষিত করব।’’ বিজেপির দাবি, ‘‘বাংলায় সকল নাগরিকের জন্য এক আইন নিশ্চিত করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য সীমানা সুরক্ষিত করার পাশাপাশি গরু পাচার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’’

    সংকল্প পত্রে কী কী বলা হল

    ডিএ সুনিশ্চিত: সকল সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ সুনিশ্চিত করা হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে।

    বেকারত্ব ঘুচবে: নতুন রোজগারের পথ খুলবে বিজেপি। তাতে বেকারত্ব ঘুচবে। বেকারদের মাসে তিন হাজার টাকা করে অর্থসাহায্য করা হবে।

    রাজনৈতিক হিংসার তদন্ত: সকল রাজনৈতিক হিংসার তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে কমিটি গড়ে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।

    বিশেষ স্কোয়াড: মহিলাদের সুরক্ষায় বিশেষ স্কোয়াড গঠন করা হবে। আলু চাষিদের জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা করার আশ্বাস রয়েছে বিজেপির ইস্তাহারে।

    নতুন প্রতিষ্ঠান: উত্তরবঙ্গে এমস, আইআইটি, আইআইএম এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে আলাদা আলাদা জেলায়। রাজ্যে বন্দেমাতরম মিউজিয়াম গঠন করার কথাও জানালেন অমিত শাহ।

    মাফিয়ারাজের মোকাবিলা: যে সব জমির কাজ আটকে আছে, ৪৫ দিনের মধ্যেই ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তা ছেড়ে দেবে। মাফিয়ারাজের মোকাবিলার রোড ম্যাপ সরকারে এলে প্রথম ছ’দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

    মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি: সুনির্দিষ্ট ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া, যাঁরা দুর্নীতির জন্য চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

    মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ : রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। সব মণ্ডলে মহিলা থানা থাকবে। প্রতি পুলিশ জেলায় মহিলা ডেস্ক থাকবে। দিনরাত সেখানে কাজ হবে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে কখনও এমন কথা বলতে হবে না যে, মহিলারা কেন রাতে বাইরে বেরিয়েছেন। মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিনা শুল্ক পরিবহণ নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার। সন্দেশখালির মতো ঘটনা আটকাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে তদন্ত হবে।

    প্রধান রফতানি ক্ষেত্র : তাজপুর, কুলপিতে বিশেষ ডিপ সি পোর্ট তৈরির পরিকল্পনা। চা এবং পাট শিল্পেও জোর দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গকে ব্লু ইকনমির প্রধান রফতানি ক্ষেত্র বানানো হবে।

    চারটি নতুন উপনগরী: রাজ‍্যে চারটি নতুন উপনগরী তৈরি করা হবে। জায়গা বেছে করা হবে। আগামীর সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করাই লক্ষ্য। হলদিয়া বন্দরের বিকাশের জন্য আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাকে একসঙ্গে রেখে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন করা হবে। দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পর্যটন শিল্পে জোর দেওয়া হবে। কলকাতাকে সারা বিশ্বের সামনে ‘লিভিং সিটি’ হিসাবে প্রকাশ করা হবে।

    ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গঠন: উত্তরবঙ্গে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হবে। কৃষকদের ধানের মূল্য নির্দিষ্ট করা হবে। আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর যোজনাও যোগ করা হবে। প্রত্যেক গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। উত্তরবঙ্গে নতুন ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি হবে যেখানে সব সুবিধা থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রী কিসান প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রী কিসান প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হবে। কেন্দ্রের ৬০০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের ৩০০০ টাকা যোগ করে মোট ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। চৈতন্য মহাপ্রভু আধ্যাত্মিক সার্কিটের উন্নয়ন হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হবে। থিয়েটারের জন‍্য আধুনিক ইনস্টিটিউট তৈরি করা হবে। থিয়েটারের বার্ষিক অনুদান বাড়িয়ে এক লক্ষ করা হবে।

LinkedIn
Share