Tag: First Phase Voting

  • Election Commission India: বাংলার গণতন্ত্রে নারীশক্তির জয়গান, প্রথম দফায় পুরুষদের ছাপিয়ে গেল মহিলা ভোটারদের হার, শীতলকুচিতে ৯৭.৫৩ শতাংশ

    Election Commission India: বাংলার গণতন্ত্রে নারীশক্তির জয়গান, প্রথম দফায় পুরুষদের ছাপিয়ে গেল মহিলা ভোটারদের হার, শীতলকুচিতে ৯৭.৫৩ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই রাজনৈতিক সচেতনতার (Bengal Assembly Election 2026) নিরিখে অগ্রগণ্য। সম্প্রতি গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় সেই সচেতনতার এক অনন্য প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। বিশেষত জঙ্গলমহল ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে যেখানে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে এক অভূতপূর্ব ভোটদানের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে— পুরুষ ভোটারদের তুলনায় মহিলা ভোটারদের উপস্থিতির হার অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) জানিয়েছে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়েছে। তার মধ্যে ২৩টি কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় মহিলারা বেশি পরিমাণে ভোট প্রদান করেছেন। এটি কেবল একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলার গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরে নারী ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের এক বিরাট ইঙ্গিত।

    পরিসংখ্যানের দর্পণে নারী ভোটাধিকার (Election Commission India)

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার বেশ কিছু কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে যে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন। অনেক কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে, পুরুষদের ভোটের হার যেখানে ৭৯ বা ৮০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, সেখানে মহিলাদের ভোটের হার ৮৩ থেকে ৮৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলোতে এই চিত্র অত্যন্ত স্পষ্ট। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে রোদ উপেক্ষা করেও মহিলাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ (Bengal Assembly Election 2026) প্রমাণ করে যে, নীতি নির্ধারণ এবং সরকার গঠনে নিজেদের ভূমিকার গুরুত্ব তাঁরা উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

    এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কী কারণ?

    সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল মহিলা ভোটের হার বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। যা হল-

    রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রচার

    সবকটি রাজনৈতিক দলই বর্তমানে তাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রে মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রতিশ্রুতি রেখেছে। রাজনৈতিক সভাগুলোতে মহিলাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। নারীদের কেন্দ্র করে যে ধরণের প্রচার চালানো হয়েছে, তা তাঁদের মধ্যে এক ধরণের গুরুত্ববোধ তৈরি করেছে।

    নিরাপদ পরিবেশ

    নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি মহিলাদের মনে সাহস জুগিয়েছে। নির্ভয়ে ভোট (Bengal Assembly Election 2026) দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হওয়ার কারণেই ঘরের কাজ সামলেও গ্রাম বাংলার মহিলারা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছেন।

    গণতন্ত্রের সুফল ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

    ভোটার তালিকায় লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জন্য নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণ থেকে শুরু করে সচেতনতা শিবির—সবক্ষেত্রেই মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার এই পরিসংখ্যান (Election Commission India) সেই প্রচেষ্টারই সাফল্য।

    আসুন দেখে নিই কোন জেলায় ভোটের পরিমাণ কত

    ভোট পড়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ। মোট ভোটদাতার সংখ্যা ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ।

    • শীতলকুচিতে— ৯৭.৫৩ শতাংশ। ভোটদানের হারে তার পরেই রয়েছে ভগবানগোলা— ৯৬.৯৫ শতাংশ, রানিনগর— ৯৬.৯৫ শতাংশ এবং রঘুনাথগঞ্জ— ৯৬.৯ শতাংশ। প্রথম দফার মোট ৪৪টি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
    • কান্দিতে পুরুষ ও মহিলা ভোটদাতার ব্যবধান সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১৫ হাজার। সেখানে মহিলার চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা দু’হাজার কম। ভোট দিয়েছেন ৯১ হাজার পুরুষ এবং ১.০৬ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৮৪.৯৪ শতাংশ।
    • ঘাটালে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা মহিলার চেয়ে প্রায় ছ’হাজার বেশি। তবে সেখানে ভোট বেশি পড়েছে মহিলাদেরই। ১.২৩ লক্ষ মহিলা এবং ১.১৬ লক্ষ পুরুষ ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। পুরুষ ও মহিলা ভোটদাতার ব্যবধান প্রায় সাত লক্ষ।
    • দাসপুরে মহিলাদের চেয়ে প্রায় তিন হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। তবে ১.১৯ লক্ষ পুরুষ ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১.৩১ লক্ষ।
    • ডেবরায় ১.০৭ লক্ষ পুরুষ বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১.০৮ লক্ষ। তবে ভোটার হিসাবে মহিলার চেয়ে পুরুষের সংখ্যা হাজারখানেক বেশি এই কেন্দ্রে।
    • মেদিনীপুরেও মহিলারা বেশি ভোট দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে অবশ্য পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.১৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২২ লক্ষ মহিলা।
    • বাঁকুড়ায় পুরুষ এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যায় তফাত সামান্য। মহিলাদের চেয়ে সেখানে প্রায় ৫০০ জন পুরুষ বেশি রয়েছেন। তবে ভোট মহিলারাই বেশি দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে ১.১৭ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৮ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন।
    • ময়ূরেশ্বরে মহিলার চেয়ে হাজারখানেক পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ১.০৫ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৬ লক্ষ মহিলা সেখানে ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৩.৮৪ শতাংশ।
    • রামপুরহাটে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় দু’হাজার বেশি। এই কেন্দ্রে ১.১৪ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৬ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৪.৫৩ শতাংশ।
    • রামনগরে মহিলার তুলনায় পুরুষ ভোটার বেশি ছ’হাজার। তবে মহিলাদের ভোট বেশি পড়েছে। ১.২০ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২২ লক্ষ মহিলা সেখানে ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯০.০২ শতাংশ।
    • বহরমপুরে পুরুষের চেয়ে চার হাজার বেশি মহিলা ভোটার রয়েছে। ১.০৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১২ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। ভোটের হার ৯১.৭২ শতাংশ।
    • ভরতপুরে মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেশি। কিন্তু সেখানে ১.০৫ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৭ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮৯.১৭ শতাংশ।
    • বড়ঞায় মহিলার চেয়ে ন’হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৯১ হাজার পুরুষ এবং ৯৬ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৮৭.৮০ শতাংশ।
    • খড়গ্রামে মহিলাদের চেয়ে ১০ হাজার পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৯৮ হাজার পুরুষ এবং ১.০৪ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৮৮.৩২ শতাংশ।
    • নবগ্রামে পুরুষের সংখ্যা মহিলার চেয়ে ছ’হাজার বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.০৭ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১২ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯০.৭৩ শতাংশ।
    • শামসেরগঞ্জে মহিলার চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৭৪ হাজার পুরুষ এবং ৮০ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৯৬.০৪ শতাংশ।
    • মালদহের ইংলিশ বাজারে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটার দু’হাজার বেশি। সেখানে ভোট দিয়েছেন ১.১৩ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৭ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯২.৬৮ শতাংশ।
    • মালদায় মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটার বেশি তিন হাজার। ভোট দিয়েছেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৬১ জন পুরুষ এবং ১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৩৪ জন মহিলা। ভোটের হার ৯৪.৬২ শতাংশ।
    • রায়গঞ্জে মহিলার চেয়ে হাজারখানেক পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৮০ হাজার পুরুষ এবং ৮১ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৯২.৯৭ শতাংশ।
    • মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে হাজারখানেক বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.২২ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২৫ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯২.৬৯ শতাংশ।
    • কার্শিয়াঙে মহিলা ভোটারের সংখ্যা চার হাজার বেশি। সেখানে ৮৭ হাজার পুরুষ এবং ৯২ হাজার মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮৩.১৪ শতাংশ।
    • দার্জিলিঙে মহিলা ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে হাজারখানেক বেশি। সেখানে ৮৪ হাজার পুরুষ এবং ৮৬ হাজার মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮২.২৭ শতাংশ।
    • মালকেন্দ্রে মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৪০০ বেশি। সেখানে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৭৮১ জন পুরুষ, ১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৩৯ জন মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৪.১৭ শতাংশ।
    • ঝাড়গ্রামে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা দু’হাজার বেশি। সেখানে ১.০৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৯ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯২.৬৩ শতাংশ।

    মহিলাদের এই বাড়তি হার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় বার্তা। এখন আর কেবল পুরুষদের পছন্দ-অপছন্দের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন জেতা সম্ভব নয়। বরং ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’ যে কোনও দলের ভাগ্য নির্ধারণে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতি উপহার দেবে বলে আশা করা যায়।

    গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত

    প্রথম দফার এই চিত্রটি কেবল একটি নির্বাচনের (Election Commission India) খবর নয়, এটি বাংলার সমাজব্যবস্থার এক ইতিবাচক পরিবর্তনের দলিল। যখন মায়েরা, বোনেরা এবং গৃহবধূরা নিজের অধিকার প্রয়োগে ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হন, তখন সেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হয়। আগামী দফার নির্বাচনগুলোতেও (Bengal Assembly Election 2026) এই নারীশক্তির জয়যাত্রা বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা বিশেষজ্ঞ মহলের। 

  • Amit Shah: ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী’’, শুক্র-সকালে ঘোষণা শাহ-র

    Amit Shah: ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী’’, শুক্র-সকালে ঘোষণা শাহ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি কেন্দ্রে। তার পরের দিন সকালেই নিউ টাউনের হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রথম দফার ‘রিপোর্ট-কার্ড’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়ে দিলেন ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। একইসঙ্গে, তাঁর ঘোষণা, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় জন্ম নেওয়া, একজন বাঙালিই হবেন।

    ‘‘৫ তারিখের পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে’’

    সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেন, ‘‘প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের অনেক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ। ভয় থেকে ভরসার দিকে যাত্রা খুব ভাল ভাবে আপনারা শুরু করেছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটারেরা এই যাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশকে অভিনন্দন। কারণ, বহু যুগ পরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কোনও মৃত্যু হয়নি।’’ তিনি বলেন, ‘‘৫ তারিখের পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। পশ্চিমে বিকাশ হয়েছে। পূর্ব দিক এখনও পিছিয়ে আছে। বিজেপি আসার পর সেখানেও বিকাশের গতি বাড়বে।’’ তিনি বললেন, ‘‘১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। সারা রাত ধরে আমরা বিশ্লেষণ করেছি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা সরকার গড়ব। সারা রাত ধরে বিশ্লেষণ করেছি।’’

    ‘‘রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন’’

    রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দুরবস্থা ও নারী নিরাপত্তার অবনতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ বলেন, ‘‘প্রথম দফাতেই বাংলার মানুষ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে ফেলেছেন। এই মাটি বিকাশকে বেছে নিয়েছেন। মোদির নেতৃত্বে সারা দেশে বিকাশের যাত্রা চলছে। বাংলাও তাতে শামিল হতে চলেছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মেয়েরা কেন বাইরে বেরোচ্ছেন? তাঁর শাসন করার অধিকার নেই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন। কোনও গুণ্ডা আসবে না। মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করার জবাবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে যাবেন।’’

    ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন’’

    বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন বলে ঘোষণা করে দিলেন অমিত শাহ। বললেন, ‘‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে চাই, ৫ তারিখের পর বাংলা মাধ্যমে পড়া, বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা বদলে যাবে। আর কোনও কাজের জন্য কাটমানি দিতে হবে না।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের কাছে পরিবর্তন চেয়েছি। পরিবর্তন মানে বিধায়ক বা দল বদলে দেওয়া হয়। পরিবর্তনের অর্থ দুর্নীতি দূর করা, সিন্ডিকেট রাজ সমাপ্ত করা, প্রশাসনের উপর থেকে রাজনৈতিক চাপ তুলে দেওয়া। পুরনো নির্বাচন ভুলে যান। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করছে কমিশন।’’

    ‘‘ঝালমুড়ি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খান, মোদিজি খেলে আপত্তি কিসের?’’

    অমিত শাহ বলেন, ‘‘দ্বিতীয় দফার আসনগুলি আলাদা করে নয়, পুরো পশ্চিমবঙ্গই আমাদের জন্য কঠিন ছিল। আপাতত ৭৭টি আসনে আমরা বসে আছি। সরকার বিজেপি বানায় না। সরকার বানায় জনগণ। আমি সুনামি দেখতে পাচ্ছি।’’ শাহ বলেন, ‘‘কেউ গঙ্গায় নৌকাভ্রমণ করলে কেন আপত্তি? ঝালমুড়ি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খান। মোদিজি খেলে আপত্তি কিসের?’’ শাহ আরও বলেন, ‘‘এখানে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগেও ছিল। কিন্তু ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছিল না। এ বার পুলিশ, প্রশাসন, কেন্দ্রীয় বাহিনী সুরক্ষার ভাল বন্দোবস্ত করেছে। ভয়মুক্ত পরিবেশ রয়েছে। তাই আমাদের বিশ্বাস, পরিণাম আমাদের পক্ষে আসবে।’’

    ‘‘আমার জীবনের খুব বড় একটা অভিজ্ঞতা’’

    মধ্যমগ্রামের রোড-শোর কথা উঠে আসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলায়। অমিত শাহ বলেন, ‘‘মধ্যমগ্রামের রোড শো-তে যা ভিড় হয়েছিল, আমার কল্পনার বাইরে। এত ধাক্কাধাক্কির মধ্যে এক বয়স্ক মহিলা তার মধ্যেও দাঁড়িয়েছিলেন। এটা আমার জীবনের খুব বড় একটা অভিজ্ঞতা। আমি গাড়ি থেকে নেমে তাঁর কাছে গিয়েছি। ব্যক্তিগত জীবনেও এটা অনেক বড় শক্তি জোগায়। বিরোধীদের গালিগালাজ আর গায়ে লাগে না।’’ প্রথম দফার ভোটে কোনও কোনও বুথে ইভিএম বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শাহ জানান, এ বিষয়ে বিজেপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে এবং আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন।

    ‘‘নতুন যুগের সূচনার স্পষ্ট পূর্বাভাস’’

    এর আগে, অমিত শাহ ইতিমধ্যেই শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। বাংলায় সকল ভোটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মহোৎসবে অংশগ্রহণের সকল রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য রাজ্যের সম্মানিত ভোটারবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন, সকল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। এটি বাংলায় সুশাসনের এক নতুন যুগের সূচনার স্পষ্ট পূর্বাভাস।’’

  • Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটগ্রহণে আক্রান্ত বিজেপি। দিকে দিকে বিজেপি প্রার্থী বা এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে।

    ভাঙল অগ্নিমিত্রার গাড়ির কাচ

    আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের উপর হামলার অভিযোগ। তাঁর গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল দক্ষিণের হীরাপুর থানা এলাকায়। অগ্নিমিত্রার গাড়ির পিছনের দিকের কাচ বেশির ভাগটাই ভেঙে গিয়েছে। হীরাপুর থানায় গিয়ে ইতিমধ্যে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। অগ্নিমিত্রা জানান, তিনি বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। রহমতনগর হাই স্কুলের বুথ পরিদর্শন করে বেরোন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, সেই সময়েই চলন্ত গাড়িতে পিছন থেকে পাথর ছোড়া হয়েছে।

    রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুর

    প্রথম দফার ভোটে রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুরও। মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার এজেন্টের। আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থীর এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। জানা গিয়েছে, বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভ্রমরকল অঞ্চলে ৬৮ নম্বর বুথে সকাল থেকেই অশান্তির খবর আসছিল। সেই অশান্তির খবর পেয়েই বুথ পরিদর্শনে যান বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। তাঁকে ঘিরে ফেলে কিছু লোকজন। অভিযোগ, মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আক্রান্ত বিজেপি নেতাকে। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আজকে আমি বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ফেরার সময়ে আমার উপরে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন হামলা চালায়। আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।’ বিশ্বজিৎ বর্তমানে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্বজিৎ ছাড়াও লাভপুরের প্রার্থীর দেবাশিস ওঝার ছেলে বিশ্বরূপ ওঝাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

    কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে ‘বেধড়ক মার’

    দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের স্বয়ং প্রার্থীকেই মারধরের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। পুলিশের সামনেই কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে কিল-চড়-ঘুষি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। যাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিছু আগেই তাঁর এজেন্টকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ছাঞ্চল্য ছড়ায়! দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করতে দেখা যায় স্বয়ং বিজেপি প্রার্থীকেই। তারা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বলে অভিযোগ ওঠে। কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাল্টা অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন প্রার্থী শুভেন্দু সরকার।

    মালদার চাঁচলে আক্রান্ত বিজেপি

    মালদার চাঁচল বিধানসভার ২২১ নম্বর বুথের ধুম সাডাগী পানপাড়া এলাকায় বিজেপির এক নির্বাচনী এজেন্টের উপর হামলার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ওই এজেন্টের পরনের পাঞ্জাবিও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপির বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলল তৃণমূল। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। শেষে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সিতাই-ঘাটালে আক্রান্ত বিজেপি

    বিজেপির পোলিং এজেন্টকে ছুরি মারার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সিতাই বিধানসভার ২৭০ নম্বর বুথের ঘটনা। বিজেপির পোলিং এজেন্ট বুথ থেকে বাড়িতে খেতে যান। তখনই তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করার অভিযোগ। আহত এজেন্টকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। ঘাটালের মারিচা গ্রামে ‘আক্রান্ত’ বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট। ঘাটালের ৫ নম্বর অঞ্চলের ১৭০ নম্বর বুথে উত্তেজনা। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে, অভিযোগ শীতল কপাটের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হামলাকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে।

LinkedIn
Share