Tag: Flydubai Hijacking

  • US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পিছন থেকে আসছিল একের পর এক আঘাত। প্রথমে ভেবেছিলেন, বিমানের বড় কোনও ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পর পর আঘাত আসতেই বুঝতে পারেন, বিমানে কিছু হয়নি। ককপিটে তাঁর সঙ্গে যিনি আছেন, তিনি কিছু করছেন। এর পর সহকারী পাইলটকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন ফ্লাইদুবায়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার। কিন্তু মাথায় আঘাতের কারণে তাঁর চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। ফলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। মনে মনে আওড়াচ্ছিলেন হনুমান চল্লিশা। হঠাতই সঞ্জীবনী মন্ত্রে তাঁর মাথায় কাজ করে উপস্থিত বুদ্ধি। কোনওরকমে খুলে দেন ককপিটের দরজা। বেঁচে যায় ১৭৪ জন বিমানযাত্রীর জীবন। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন স্মিত। এবার, ভারতীয় পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে উদ্যোগী হল মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস।

    মার্কিন কংগ্রেসে সাহসিকতার পুরস্কার

    স্মিতের সাহসিকতার পাশাপাশি ফ্লাইটের ক্রু ও যাত্রীদের ভূমিকাকেও স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে। গত ৫ অক্টোবর কংগ্রেসম্যান জোশ গটহাইমার এইচ রেস ১৬১২ নামে প্রস্তাবটি হাউসে উত্থাপন করেন। এতে মাইকেল ম্যাককল এবং ডন বেকন সহ-প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রস্তাবটি হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও তা পূর্ণাঙ্গ হাউসে পাস হয়নি। প্রস্তাবটির শিরোনাম— ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এবং ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩-এর ক্রু ও যাত্রীদের সম্মান জানানো এবং বিমানটিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো (Honouring Captain Smit Machchhar and the crew and passengers of Flydubai Flight 1073)।

    মাঝ আকাশে ককপিটে সন্ত্রাসী হামলা

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়ে যায় ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩। বিমানে ছিলেন প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে ২৭ জন শিশু এবং চারজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। উড়ানের মাঝপথে বিমানের ফার্স্ট অফিসার বা সহকারী পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের ওপর জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারায়। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বিমানটি একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার প্রতিরোধ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই পদক্ষেপই পরিস্থিতি বদলে দেয়। বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটরা ককপিটে ঢুকতে পারেন এবং কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে মাটিতে নামতে সক্ষম হন।

    ‘অসাধারণ সাহসিকতার’ প্রশংসা

    মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত প্রস্তাবে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নিজের জীবন বিপন্ন করে তিনি বিমানে থাকা প্রত্যেক মানুষের জীবন রক্ষায় “অসাধারণ সাহসিকতা” দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদেরও প্রশংসা করা হয়েছে। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ককপিট সুরক্ষিত করা এবং বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়েছিল।

    ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে চিহ্নিত

    ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন প্রস্তাবে। ৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে যে ফার্স্ট অফিসার বিমানটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানানো হয়। তবে হামলার উদ্দেশ্য, ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন হাউসের প্রস্তাবে ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর এই হামলাকে গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের দাবি

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের জন্য সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের এই প্রস্তাব। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুতর আহত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি

    ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার আরও কিছু বিবরণ সামনে আসে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি বুঝতে পারেন, ককপিটের দরজা খুলতে পারলে অন্যরা সেখানে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নিজেকে সামলে দরজার কাছে পৌঁছন এবং সেটি খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই সিদ্ধান্তই অন্যদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিমানটি ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। হাসপাতালের শয্যা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলার সময় মচ্ছার সেই মুহূর্তের কথা জানান। আহত অবস্থাতেও কীভাবে নিজেকে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার কাছে পৌঁছনোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন মচ্ছার সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর সাহসিকতার জন্য ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকেও প্রশংসা এসেছে।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে ভারতীয় পাইলট

    ফ্লাইট ১০৭৩-এর ঘটনা শুধু একজন পাইলটের ব্যক্তিগত সাহসিকতার গল্প নয়। এটি আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। একজন ভারতীয় ক্যাপ্টেন, অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং সাধারণ যাত্রীরা একসঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি রুখে দেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত হাউসে পাস হলে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসের স্বীকৃতি পাবে। তবে সেই স্বীকৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার হাল ছাড়েননি। তিনি ককপিটের দরজা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। আর সেই কয়েক মুহূর্তের সাহসই ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচানোর পথ খুলে দিয়েছিল।

  • Flydubai Hijacking: আল-কায়েদা নেতার ছবি, উগ্র মতাদর্শের অভিযোগ! ফ্লাইদুবাই বিমানে কো-পাইলটের হামলা ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ দাবি আমিরাতের

    Flydubai Hijacking: আল-কায়েদা নেতার ছবি, উগ্র মতাদর্শের অভিযোগ! ফ্লাইদুবাই বিমানে কো-পাইলটের হামলা ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ দাবি আমিরাতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-কায়েদা নেতাদের ছবি, উগ্রপন্থী ওয়েবসাইটে যাতায়াতের অভিযোগ, নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস—ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের কথিত হামলার পর তার অতীত নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে ওই সহ-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ৩০ তারিখে ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Hijacking) ওই ফ্লাইটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ঘটনাটি বিমানটি বিধ্বস্ত করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর আগে দাবি করেছিলেন, ওই ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত’ হয়েছিলেন।

    কে এই ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-হামামির বাবা একজন ওমানি ও মা সিরিয়ার বাসিন্দা। জীবনের বড় অংশ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাটিয়েছেন। তবে ওমান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেনি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকতে পারে। এই তথ্য সত্য হলে ইজরায়েলগামী ফ্লাইটের ক্রুতে তিনি কীভাবে যুক্ত হলেন, তা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ফ্লাইদুবাইয়ে (Flydubai Co-Pilot Attacked) যোগ দেওয়ার আগে তিনি ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ওমান এয়ার এবং মরক্কোর জাতীয় বিমান সংস্থা রয়্যাল এয়ার মরক্কো-এ কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ওমান এয়ার-এ থাকাকালীন নজরে?

    প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ওমান এয়ার (Oman Air)-এ কর্মরত থাকাকালীন আল-হামামির উগ্র মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এমনকি তিনি কিছু ‘র‌্যাডিক্যাল’ বা উগ্রপন্থী ওয়েবসাইট পরিদর্শন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাকে উড়ান-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অফিসের কাজে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অফিসের কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে পরবর্তীতে তিনি ওমান এয়ার (Oman Air) ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে। আল-হামামি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ার-এ কাজ করার পর ২০২৫ সালের জুনে রয়্যাল এয়ার মরক্কো (Royal Air Maroc)-এ যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকে চলে যান।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-কায়েদা নেতাদের ছবি

    ঘটনার পর তার নামে থাকা একটি প্রোফাইল নিয়ে বিশেষ আলোচনা শুরু হয়েছে। সিএনএন (CNN)-এর প্রতিবেদনের দাবি, প্রোফাইলে মাত্র দুটি পোস্ট ছিল এবং সেগুলো ঘটনার দিন প্রকাশিত হয়েছিল। পোস্ট দুটি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। একটি ভিডিওতে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স (Boeing 737 Max)-এর ককপিটের দৃশ্য এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইজরায়েলি বিমান সংস্থার একটি বিমানের দৃশ্য ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি ক্লিপে ওমান এয়ার-এর একটি ফ্লাইটের ককপিটের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটিতে ১১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখও দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হিসেবে ভিডিওটির শেষে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি থাকার কথা বলা হয়েছে। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব নেন। ২০২২ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। ভিডিওটিতে ২০০৯ সালের আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত আল-কায়েদা সদস্য হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওয়ির ছবিও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আরেকটি পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের তিন পবিত্র স্থানকে দেখানো একটি ছবি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নারী ও মিশ্র কর্মপরিবেশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

    সিএনএন ২০২১ ও ২০২২ সালে আল-হামামির নামে থাকা কিছু পোস্ট বিশ্লেষণ করেছে বলে জানিয়েছে। এসব পোস্টে নারীদের পোশাক, কর্মক্ষেত্র এবং নারী-পুরুষের মেলামেশা নিয়ে তার রক্ষণশীল ও বিতর্কিত মতামত প্রকাশ পেয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। একটি পোস্টে তিনি নিজের বিয়ের জন্য কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কনের নিকাব পরা এবং বিয়ের পর চাকরি না করার বিষয় ছিল বলে বলা হয়েছে। আরেকটি পোস্টে তিনি নারী-পুরুষের মিশ্র কর্মপরিবেশের বিরোধিতা করে দাবি করেছিলেন, এ ধরনের পরিবেশ নারীদের ওপর ‘ক্ষতিকর প্রভাব’ ফেলতে পারে। তবে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সত্যিই অভিযুক্ত সহ-পাইলটের নিজের লেখা কি না, তা তদন্ত সাপেক্ষ।

    তদন্তে এখন বড় প্রশ্ন

    ঘটনার পর তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কতটা সত্য, সেগুলো বিমান সংস্থাগুলোর নজরে এসেছিল কি না, এবং যদি এসে থাকে তাহলে কী ধরনের নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর তিনি ফের পাইলট হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেন—এসবই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নেতানিয়াহু শুক্রবার বলেন, সময়ের সঙ্গে ঘটনাটির একটি ‘পরিষ্কার ছবি’ সামনে আসছে। তাঁর দাবি, হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদে’ প্রভাবিত হয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, কথিত উগ্র মতাদর্শ বা অতীতের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে আল-হামামির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। তদন্তের ফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, কী কারণে তিনি ওই ফ্লাইটে হামলার চেষ্টা করেছিলেন এবং বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি ছিল।

     

     

     

     

  • Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ভারতীয় পাইলটকে ছুরি দিয়ে (Flydubai Hijacking) আঘাত এবং বিমানটিকে বিপজ্জনকভাবে নীচে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পর ইজরায়েলের প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক শীর্ষ কর্তা রামি ইগ্রা দাবি করেছেন, ওমানি সহ-পাইলট একাই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

    প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থার কর্তার দাবি (Flydubai Hijacking)

    ২ অক্টোবর সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, “এটি একজনের একক হামলা বলেই মনে হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, ওই ব্যক্তি একাই ইসলামি উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে এই কাজ করেছিলেন।” তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি যাতে বোঝা যায় যে সহ-পাইলট কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন। ইগ্রার দাবি, ওমানি সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে ইজরায়েলে প্যালেস্তাইন পক্ষের সমর্থনে লেখা কিছু প্রচারপত্র পাওয়া গিয়েছিল বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ওই সহ-পাইলট অন্য কোনও ব্যক্তি, দেশ বা সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন, তাহলে ঘটনার তাৎপর্য অনেক বড় হবে। তাঁর কথায়, “তিনি কি একাই এই কাজ করেছিলেন, যেমনটা আমি মনে করি, নাকি অন্য কোনও দেশ বা সংগঠন তাঁকে পাঠিয়েছিল—তার উপরেই এই ঘটনার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তাৎপর্য নির্ভর করবে।”

    ইগ্রা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই এই ধরনের ‘একক হামলা’কে দেখতে হবে। তাঁর মতে, ধর্মীয় উগ্রপন্থায় প্রভাবিত কোনও ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলাকে ‘শহিদি’র পথ হিসেবে দেখলে এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য অবশ্য তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ; তদন্তকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে (Flydubai Hijacking) না।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের (ইজরায়েলের রাজধানী) উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতরে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের উপর ওমানি সহ-পাইলট হামলা চালান বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি। এরপর বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। আহত অবস্থাতেও ভারতীয় পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্ব নেন বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট এবং ওমানি সহ-পাইলট—দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওমানি সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাঁর পরিচয় ও নাম সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Flydubai Hijacking)।

    নেতানিয়াহুর দাবি

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ওই ওমানি সহ-পাইলট ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত তথ্য থেকেই এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাইলটকে ছুরি দিয়ে আক্রমণের পর সহ-পাইলট বিমানটি ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে আত্মঘাতী মিশনে ছিলেন।

    নেতানিয়াহুর আরও দাবি, হামলাকারীকে যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তিনি বিমানের কর্মীদের তাঁকে হত্যা করতে বলেছিলেন। নেতানিয়াহু বলেন, “এতে স্পষ্ট যে তিনি আত্মঘাতী ছিলেন।” তাঁর মতে, বিমানটি ভেঙে ফেলার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। তবে এই উদ্দেশ্য ও হামলার পেছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে (Flydubai Hijacking)।

    বৃহত্তর ষড়যন্ত্র?

    ঘটনার পর থেকেই তদন্তকারীদের সামনে অন্যতম বড় প্রশ্ন—ওমানি সহ-পাইলট কি নিজের সিদ্ধান্তেই হামলা চালিয়েছিলেন, নাকি কোনও সংগঠন বা রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ ছিল?

    ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের দাবি, তিনি ‘একক হামলাকারী’। যদিও সম্ভাব্য বৃহত্তর যোগসূত্রের বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ঘটনায় বিমান নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ হামলার অভিযোগ উঠেছে বিমানের এমন এক কর্মীর বিরুদ্ধে, যাঁর ককপিটে সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষার পাশাপাশি বিমানকর্মীদের নিয়োগ, যাচাই এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য উগ্রপন্থী যোগ এবং কোনও সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। ওমানি সহ-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন (Flydubai Hijacking) সৌদি কর্তৃপক্ষ।

     

LinkedIn
Share