Tag: health tips

health tips

  • Weather Change Headache: হঠাৎ গরম, হঠাৎ ঠান্ডা! তাপমাত্রার রকমফেরে কেন বাড়ছে মাথার যন্ত্রণা?

    Weather Change Headache: হঠাৎ গরম, হঠাৎ ঠান্ডা! তাপমাত্রার রকমফেরে কেন বাড়ছে মাথার যন্ত্রণা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দিন কয়েক আগেও তাপমাত্রার পারদ ছিলো উর্ধ্বগামী। কিন্তু হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির দাপটে গরম কিছুটা ব্যাকফুটে! তাপমাত্রার পারদ পতনে বদলে গিয়েছে আবহাওয়া। কিন্তু তাপমাত্রার এই ঘন ঘন পরিবর্তনে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই তীব্র গরম আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়ায়, অনেকেই মাথার যন্ত্রণায় কাবু। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন।

    তাপমাত্রার রকমফেরে কেন মাথার যন্ত্রণা হয়?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে কিংবা হঠাৎ করেই তাপমাত্রার পতন হলে, মাথার যন্ত্রণা হতে পারে। বিশেষত, যারা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের ভোগান্তি বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে বায়ুচাপের পরিবর্তন হয়। দ্রুত বায়ুচাপের পরিবর্তন হলে মস্তিষ্কের রক্তনালীতেও পরিবর্তন হয়। মস্তিষ্কের রক্তনালীতে রক্তচাপের পরিবর্তন হলে মাথা যন্ত্রণা হতে পারে। হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বা কমে গেলে শরীরে জলের পরিমাণের পরিবর্তন ঘটে। মাথা যন্ত্রণার সঙ্গে যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। শরীরে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়লে মাথার যন্ত্রণা বাড়তে পারে। একটানা বৃষ্টি হলে বা বজ্রপাত হলে অনেকেই মাথার যন্ত্রণা অনুভব করেন। মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা থাকলে এই আবহাওয়ার পরিবর্তনে মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি বাড়ে।

    কীভাবে ভোগান্তি কমবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখলে ভোগান্তি কমানো সম্ভব। তাঁরা ঘরোয়া উপকরণের উপরেই ভরসা করছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, প্রতিদিন পর্যান্ত জল খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার রকমফের হলেও শরীরে জলের যাতে ঘাটতি না হয়, সেদিকে নজর জরুরি। শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে মাথা যন্ত্রণার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সে দিকে নজর রাখলে ভোগান্তি কমতে পারে।‌ পরিবর্তিত আবহাওয়াতেও যাতে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়, রক্তনালীতে বাড়তি চাপ না পড়ে, সেই জন্য নিয়মিত যোগাভ্যাসের উপরে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যোগ শরীরের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এর ফলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হয় না। তাই যোগাভ্যাস মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। মাথার যন্ত্রণা হলে আদা কিংবা তুলসি পাতা দেওয়া চা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, আদা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তাই মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি কমাতেও সাহায্য করে। আবার তুলসীও শরীরের জন্য বিশেষ উপকারি। তাই তুলসী পাতা বা আদা দেওয়া চা খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

    কখন বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনে মাথা যন্ত্রণা স্বাভাবিক। এ নিয়ে বাড়তি আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই আবহাওয়ার পরিবর্তন না হলেও প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা হয়। তার সঙ্গে বমি, চোখে অন্ধকার হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তেমন কিছু হলে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। স্ট্রোক কিংবা অন্যান্য জটিল রোগের উপসর্গ হিসাবেও মাথা যন্ত্রণা হয়। তাই যন্ত্রণা কতখানি তীব্র, সেটা বোঝা জরুরি। তাছাড়া, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে মাথা যন্ত্রণা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। কারণ উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Asthma Risk: প্রতি বছর ২ লাখ মৃত্যু! কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অ্যাজমা? কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Asthma Risk: প্রতি বছর ২ লাখ মৃত্যু! কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অ্যাজমা? কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একরত্তি শিশু থেকে প্রৌঢ়, সকলেই প্রায় বিপদের সীমায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন! ফি-বছর উদ্বেগ বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশপাশি বাড়ছে মৃত্যু হার। অ্যাজমা ভারতের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। তাই বিশ্ব অ্যাজমা সচেতনতা দিবসে, এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার পাশপাশি, কীভাবে এই রোগের দাপট নিয়ন্ত্রণে রেখে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো যায়, সেই সম্পর্কেও লাগাতার প্রচার কর্মসূচি চালানোর কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    ভারতে কতখানি বিপজ্জনক এই রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বক্ষঃরোগের দাপট দেশ জুড়ে বাড়ছে। ফুসফুসের একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক, সকলের অ্যাজমার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশের সাড়ে তিন কোটি মানুষ অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। বিশ্বে মোট অ্যাজমা আক্রান্তের ১৩ শতাংশ এ দেশের মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশপাশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মৃত্যু হার। প্রতি বছর ২ লাখ মানুষ অ্যাজমার কারণে মারা যান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে অ্যাজমার কারণে মৃত্যু হার অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ দেশে অ্যাজমা মৃত্যুর অন্যতম কারণ ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হওয়া এবং স্টেরয়েড ইনহেলার ব্যবহার না করা।

    কাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে নতুন করে অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে শিশুদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে নতুন ভাবে অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৫ শতাংশের বয়স ১৪ বছরের কম। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অত্যাধিক বায়ুদূষণ, ধোঁয়া, অ্যালার্জি থেকেই শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যাজমা মানেই মৃত্যু নয়। ঠিকমতো চিকিৎসা হলে এই রোগের জটিলতা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভারতে সময় মতো এই রোগের চিকিৎসা শুরু হয় না। তাই মৃত্যু হার এত বেশি। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, অ্যাজমার জটিলতা কমতে ইনহেলার ব্যবহার করা জরুরি। নিয়মিত প্রয়োজনীয় ইনহেলার ব্যবহার করলে আক্রান্তের শরীর ঠিক থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হবে না। মৃত্যুর আশঙ্কাও কমবে। তবে, ইনহেলার নিয়ে একাধিক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ, ইনহেলার কখন ব্যবহার করতে হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
    • বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ দেশে অ্যাজমা আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরেই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে। আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা জরুরি। আবার মাস্ক ব্যবহার নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    • তবে শিশু হোক বা বয়স্ক, অ্যাজমার মতো রোগ রুখতে ধুমপানে রাশ জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, যেকোনও ভাবেই ধূমপান শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। ফুসফুসের জন্য এই অভ্যাস বড় বিপদ তৈরি করে। পরিবারের কেউ ধূমপান করলে শিশু সেই পরিবেশে থাকলে, তার অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই অ্যাজমার মতো রোগের জটিলতা কমাতে এবং এই রোগের দাপট রুখতে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Adult Vaccination India: ভারতে বিপুল সাফল্য শিশুদের টিকাকরণে! চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা?

    Adult Vaccination India: ভারতে বিপুল সাফল্য শিশুদের টিকাকরণে! চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সুস্থ, রোগ মুক্ত জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা। সেই সতর্কতা এবং সচেতনতার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে টিকাকরণ। টিকাকরণ সম্পর্কে অবগত থাকা এবং সময় মতো টিকা করণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর ভারত গত দু’বছরে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে‌। শিশুদের টিকাকরণে দেশে বিপুল সাফল্য দেখা দিয়েছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা (Adult Vaccination India)। এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ জুড়ে চলে ইমিউনাইজেশন উইক (World Immunization Week)। অর্থাৎ, শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি অটুট রাখতে টিকা করণ জরুরি। সেই টিকা করণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে এবং সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই প্রচার কর্মসূচি চলে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চ্যালেঞ্জের দিকে নজর রেখেই ইমিউনাইজেশন উইকে দেশ জুড়ে কর্মসূচি পালন হবে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে দেশ জুড়ে শিশু টিকাকরণে বিপুল সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। দেশের ৯৪ শতাংশ শিশুর নিয়ম মাফিক টিকা করণ হয়েছে। জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি মেনেই শিশুর সমস্ত টিকা করণ হয়েছে। কোনও কোনও রাজ্যে শিশু টিকাকরণে সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশেরও বেশি। যক্ষ্মা, পোলিও, হেপাটাইটিস বি, রুবেলা, ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাফল্য উল্লেখযোগ্য। জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি মেনে জিরো ডোজ চাইল্ড অর্থাৎ একটিও টিকা পায়নি এমন শিশু ০.০৬ শতাংশ রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তারা অবশ্য জানাচ্ছেন, তাঁদের টার্গেট ১০০ শতাংশ শিশুর টিকা করণ। তাই আরও বেশি নজরদারি দেওয়া হচ্ছে।

    ভারতে সবচেয়ে বড় চ‌্যালেঞ্জ

    তবে, চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করা। করোনা আবহে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণ নিয়ে সচেতনতা বেড়েছিল। যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ী তা যথেষ্ট নয়। এ দেশে শিশু টিকা করণ নিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেলেও, প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণের হার কম। প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণের হার ২ শতাংশ। দেশে নিউমোনিয়ায় বয়স্কদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়লেও, প্রাপ্তবয়স্কদের নিউমো-কক্কাল টিকাকরণের হার ০.৭ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্কদের হেপাটাইটিস বি টিকা করণের হার ২ শতাংশ। টাইফয়েড এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাকরণের হার ১.৫ শতাংশ। বয়স্কদের টিকার করণের হার এত কম হওয়ায় উদ্বিগ্ন দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স্কদের মধ্যে টিকা করণ নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। টিকা শুধুই শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। সুস্থ জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত। এ সম্পর্কে এখনও সব স্তরে ধারণা স্পষ্ট হয়নি। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ এখন ভারতে সবচেয়ে বড় চ‌্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    কোন দিকে বাড়তি গুরুত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চলতি বছরে ইমিউনাইজেশন উইকের মূল ভাবনা হলো, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখবে টিকা। অর্থাৎ, টিকা করণ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির সুরক্ষা কবচ নয়। বরং একটি রোগ নির্মূল করতে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থ জীবনযাপনের পথে নিয়ে যেতেও সাহায্য করে। হেপাটাইটিস, টাইফয়েড কিংবা নিউমোনিয়ার মতো রোগের দাপট কমাতে টিকা করণ জরুরি। পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যের এই রোগ হলে, বাকিদের মধ্যেও, রোগ সংক্রামিত হতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা করণ জরুরি। শৈশবে টিকা নেওয়া না হলে, চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিয়ে, পরবর্তী সময়ে টিকা করণ করা যায়। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখা জরুরি। যাতে দেশ থেকে একাধিক ভাইরাসঘটিত অসুখ নির্মূলের কাজ সহজ হয়। সেদিকে নজর রেখে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণে বাড়তি সচেতনতা প্রসার চালানো হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Summer Fruits: গ্রীষ্মে নিয়মিত এই চার ফল মেনুতে থাকছে তো! কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    Summer Fruits: গ্রীষ্মে নিয়মিত এই চার ফল মেনুতে থাকছে তো! কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। বেলা বাড়তেই রোদের দাপটে জেরবার বঙ্গবাসী। দুপুরে বাইরে থাকতে হলে, অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে চার ফলেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কোন চার ফলেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    গরমে বাড়তে পারে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি। গরমের শরীর ঠাণ্ডা রাখা জরুরি। তবেই শরীর সুস্থ রাখা যাবে।

    তরমুজ!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে তরমুজ খুবই জরুরি। কারণ, তরমুজে ৯০ শতাংশ জল থাকে। তাই এই ফল ডিহাইড্রেশন রুখতে বিশেষ সাহায্য করে‌। শরীরের জলের ঘাটতি গরমে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত গরম এবং ঘামের জেরে যাতে শরীরে জলের ঘাটতি না হয়, তাই এই ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তরমুজ শরীরের ক্লান্তি দূর করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরের ক্লান্তি বাড়ে। তাই তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ তরমুজ শরীরের ক্লান্তি দূর করতে বিশেষ সাহায্য করে। আবার এই ফল হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়। এই আবহাওয়ায় বেশি সময় বাইরে থাকলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই ফল খেলে সেই বিপদ কিছুটা এড়ানো যাবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আম!

    গরমে বাজারে দেদার পাওয়া যায় আম। বাঙালির পছন্দের খাবারের তালিকায় চিরকাল থাকে আম।‌ আম কাঁচা হোক বা পাকা, বাঙালি নানান ভাবেই এই ফল খেতে পছন্দ করে। কখনো কাঁচা আমের সরবত আবার কখনো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পাকা আম, নানা রকম ভাবেই আম খায়। স্বাদের পাশপাশি আম এই গরমে স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আম ভিটামিন এ এবং সি সমৃদ্ধ একটি ফল। তাই এই ফল রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। গরমে নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের দাপট বাড়তে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখা জরুরি। তাই আম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আম খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। তাছাড়া কাঁচা আম শরীর ঠাণ্ডা রাখতে বিশেষ সাহায্য করে‌। যা এই গরমে খুবই জরুরি। আম অতিরিক্ত ঘাম এবং জলের ঘাটতি গরমে দ্রুত পূরণ করে। তাই এই আবহাওয়ায় আম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    শশা!

    শশা ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শশা শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করার পাশপাশি ফাইবারের চাহিদাও মেটায়। তাই এই গরমে নিয়মিত শশা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাছাড়া শশা হজমের জন্য খুবই উপকারি। লিভার ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে শশা খাওয়া বিশেষ উপকারি। তাই শশা গরমে বাড়তি সাহায্য করে। কারণ, গরমে অনেক সময়েই হজমের গোলমাল হয়। তাই এমন খাবার খাওয়া জরুরি, যা অন্ত্র ও লিভার সুস্থ রাখে। তাই নিয়মিত শশা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    বেল!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বেল গরমে বিশেষ উপকারি একটি ফল। এই ফলে থাকে ভালো ব্যাকটেরিয়া। তাই ডায়ারিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে ডায়ারিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই গরমে এই ফল খাওয়া জরুরি। তাছাড়া বেল হজম শক্তি বাড়ায়। গরমে হজমের গোলমাল এড়ানোর দিকে বিশেষ নজরদারি দেওয়া প্রয়োজন। তাই বেল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরম থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর খাওয়া প্রয়োজন। এই চার ফল সেই খাবারের তালিকায় রাখা জরুরি। এতে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। আবার শরীর সুস্থ থাকবে। তবে রাস্তার পাশের কাটা ফল না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কাটা ফেলে রাখা ফলে নানান ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ডায়রিয়া সহ নানান রোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। তাই তাজা ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে ফল কেটে সঙ্গে সঙ্গে খেলে তবেই শরীরের উপকার হবে। গরমে সুস্থ থাকা সম্ভব হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Measles Outbreak Warning: শক্তিবৃদ্ধি রুবেলা ভাইরাসের, গরমে বাড়তে পারে হাম সংক্রমণ! কাদের ঝুঁকি বেশি?

    Measles Outbreak Warning: শক্তিবৃদ্ধি রুবেলা ভাইরাসের, গরমে বাড়তে পারে হাম সংক্রমণ! কাদের ঝুঁকি বেশি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। প্রখর রোদে দিনে নাজেহাল বঙ্গবাসী। শিশু থেকে বয়স্ক, এই আবহাওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অস্বস্তি বাড়ছে। তারমধ্যেই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সময়ে হাম সংক্রমণের দাপট বাড়ছে। রুবেলা ভাইরাসের সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং শক্তি বৃদ্ধি বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষত শিশুদের জন্য এই রোগ বেশি উদ্বেগের। তাই এই আবহাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    গরমে কি বাড়তে পারে হাম?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার সঙ্গে রুবেলা ভাইরাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়লেই যে এই ভাইরাস অধিক সক্রিয় হবে এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু চলতি বছরে শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ বেশি দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে শিশুদের শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। শরীরে জলের অভাব হলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই রুবেলার মতো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাছাড়া বছরের এই সময়ে শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যায়। স্কুল থেকে সহজেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। আবার গরম থেকে রেহাই পেতে অনেকেই একসঙ্গে একটি ঘরে এসি চালিয়ে থাকে‌। বন্ধ ঘর থেকে যেকোনও রোগের সংক্রমণ সহজেই হয়। তাই চলতি বছরে এই সময়ে রুবেলা ভাইরাসের দাপট বেশি দেখা দিচ্ছে।

    শিশুকে সুস্থ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টিকা করণ জরুরি। ঠিকমতো টিকা করণ হলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। তবে এরপরেও কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের হাত ধোয়ার অভ্যাস করা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, হাত থেকেই অধিকাংশ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই খাওয়ার আগে ও পরে ঠিকমতো হাত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। শিশুর হাত পরিষ্কার রয়েছে কিনা সেটা দেখা দরকার।

    অসুস্থ শিশুকে আইসোলেট করা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর হাঁচি-কাশি এবং জ্বর হলে, তাকে স্কুলে পাঠানো উচিত নয়। ভিড় জায়গাতেও নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। এতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আবার আক্রান্ত শিশুর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। শিশুর ব্যবহৃত জিনিস যেমন জামা কাপড়, রুমাল, তোয়ালে নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এই ধরনের জিনিস থেকেই রুবেলার মতো ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাই শিশুকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া জরুরি। বিশেষত রুবেলার মতো ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে শিশুকে নিয়মিত প্রোটিন এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া প্রয়োজন। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, শিশুকে নিয়মিত শাক, পটল, কুমড়ো, পেঁপে, গাজর, টমেটোর মতো সব্জি দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁরা শিশুদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় ডিম, মাছ, পনীর এবং দই রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টিকাকরণ না হলে রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। হামের ভোগান্তি এড়াতে নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে টিকা দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মেনে শিশুদের ন’মাস এবং ১৫ মাস বয়সে এই টিকা দেওয়া হয়। সেই বয়সে টিকা অবশ্যই দিতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কোনো ভাবে নির্দিষ্ট বয়সে টিকা করণ না হলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকা কবে দেওয়া যেতে পারে সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। তবেই এই সংক্রমণের ঝুঁকি সহজে এড়ানো যাবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Liver Health: অভ্যাসেই ঝুঁকি বাড়ছে লিভারের! কোন চার অভ্যাসে রাশ টানলেই লিভার সুস্থ থাকবে?

    Liver Health: অভ্যাসেই ঝুঁকি বাড়ছে লিভারের! কোন চার অভ্যাসে রাশ টানলেই লিভার সুস্থ থাকবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে চিন্তা বাড়াচ্ছে লিভারের অসুখ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক দশকে এ দেশে উল্লেখযোগ্য ভাবে লিভারের রোগের দাপট বেড়েছে। লিভারের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনক। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে শিশুদের লিভারের সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের কয়েকটি অভ্যাস লিভারের সমস্যা তৈরি করছে। লিভারের অসুখ দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠছে।

    ভারতে কতখানি লিভারের রোগের দাপট বেড়েছে? কী বলছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে লিভারের অসুখ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এদেশে লিভারের রোগের হার বেড়েছে ২৫ শতাংশ। বর্তমানে এ দেশের ৫৩ শতাংশ মানুষ লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় লিভারের অসুখে ভুগছেন। ভারতীয়দের মধ্যে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের (NAFL) রোগ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। শিশুদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এ দেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ শিশু ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে লিভারের অসুখের দাপট বেশি। লিভারের অসুখে মৃত্যুর হারও এ দেশে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ভারতে যেসমস্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়, তার প্রথম সারিতেই রয়েছে লিভারের অসুখ। প্রতি বছর কয়েক লাখ ভারতীয় লিভারের অসুখে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

    কোন চার অভ্যাস লিভারের অসুখের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের জীবন যাপনের চার অভ্যাস লিভারের অসুখের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে‌। প্রথম থেকেই এই অভ্যাসে রাশ টানলে বড় বিপদ এড়ানো সহজ‌ হয়।

    অতিরিক্ত ওজনে নিয়ন্ত্রণ!

    অতিরিক্ত ওজন ভারতীয়দের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফ্যাট এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার জেরেই এই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। ভারতীয় শিশুদের লিভারের সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে এই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ওজন বিশেষত পেটে জমা চর্বি লিভারের রোগের অন্যতম কারণ। তাই খাবার নিয়ে সচেতনতা জরুরি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার নয়। ওজন যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেদিকে বিশেষ নজরদারি জরুরি।

    অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস লিভারের বিপদ বাড়াচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বড়দের পাশাপাশি ভারতীয় শিশুরাও অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। নানান রকমের মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি অনেকের নিয়মিত খাবারের তালিকায় থাকে। চিনি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার জেরে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়। অতিরিক্ত মিষ্টি শরীরের জন্য বিপজ্জনক। এই অভ্যাস ভারতীয়দের লিভারের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ডায়াবেটিসের দাপট লিভারের অসুখের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারত ডায়াবেটিস রোগের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে। মহামারির মতো ডায়াবেটিস ছড়িয়ে পড়েছে। বাদ নেই শিশুরাও।‌ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং জিনগত কারণে এদেশে ডায়াবেটিসের দাপট আরও বাড়ছে। আর এই রোগ একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। লিভারের অসুখের নেপথ্যেও থাকে ডায়াবেটিস। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে লিভারের ক্ষমতা কমতে থাকে। এ দেশে শিশুদের মধ্যেও টাইট টু ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। তাই শিশুরাও লিভারের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন।

    মদ্যপানে না!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মদ্যপানের প্রবণতা বাড়ছে। যা সুস্থ জীবনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষত লিভারের অসুখের ঝুঁকি কমাতে মদ্যপান সম্পূর্ণ বর্জন জরুরি। বন্ধুদের জন্মদিন হোক কিংবা নতুন বছরের উদযাপন, যেকোনও উৎসবেই সঙ্গী হয় মদ্যপান। কিন্তু এই অভ্যাস বিপজ্জনক। লিভারের ক্যান্সার থেকে সিরোসিস, একাধিক রোগের কারণ মদ্যপানের অভ্যাস। তাই এই অভ্যাসে রাশ জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সুস্থ দীর্ঘমেয়াদি জীবন যাপনের জন্য লিভারের সুস্থ থাকা জরুরি। লিভারের কার্যক্ষমতা ঠিক না থাকলে সুস্থ জীবন সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত শারীরিক কসরত করা জরুরি। পাশপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করাও প্রয়োজন। শিশুদের খাবারে বিশেষ নজরদারিও জরুরি।

     

  • West Bengal Malaria Threat: চলতি বছর রাজ্যে বাড়তে পারে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলাগুলি

    West Bengal Malaria Threat: চলতি বছর রাজ্যে বাড়তে পারে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলাগুলি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমে নাজেহাল বঙ্গবাসী। কিন্তু এর মধ্যেও ম্যালেরিয়ার চোখরাঙানি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চলতি বছরে বাড়তে পারে বিপদ। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি। মশাবাহিত রোগের দাপটে প্রত্যেক বছরেই রাজ্যবাসীর ভোগান্তি বাড়ে। চলতি বছরে ম্যালেরিয়া (West Bengal Malaria Threat) নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্যের কয়েকটি জেলার গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলতি বছরে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি (Health Alert West Bengal)।

    কোন কোন জেলায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের একাধিক জেলায় চলতি বছরে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, জঙ্গলমহল এলাকা অর্থাৎ— ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুরের কিছুটা অংশে বাড়তে পারে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো জেলায় চলতি বছরে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক অধিকর্তা জানাচ্ছেন, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ সালের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এবং চলতি বছরে সংক্রমণের হার দেখেই এই জেলাগুলোর জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ জানাচ্ছেন, ২০২৪-২৪ সালে রাজ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৪-২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি ছিল। চলতি বছরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার অধিকাংশই দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা। তাই চলতি বছরে এই জেলাগুলো নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হচ্ছে। তবে এর পাশপাশি কলকাতা নিয়েও উদ্বিগ্ন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতায় মশাবাহিত রোগের দাপট বেশি। প্রত্যেক বছর কলকাতায় কয়েক হাজার মানুষ ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখজনক। কলকাতা ঘনবসতিপূর্ণ শহর। তাই ম্যালেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

    কেন ম্যালেরিয়া নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ায় নির্দিষ্ট চিকিৎসা রয়েছে। ডেঙ্গির মতো ম্যালেরিয়া তাই প্রকট হতে পারে না। মৃত্যুর ঝুঁকিও কম থাকে। কিন্তু ম্যালেরিয়া সংক্রমণ হলে শরীরে একাধিক রোগের দাপট বাড়ে।‌ যা পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। তাই ম্যালেরিয়া উদ্বেগ বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম ধাপেই ম্যালেরিয়া চিহ্নিত না হলে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া আক্রান্তের শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। জ্বর, বমি, মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গের পাশপাশি শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস এমনকি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফুসফুস, লিভার এবং মস্তিষ্কের কার্যশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ফলে রোগীর প্রাণ সংশয় দেখা দিতে পারে। তাই ম্যালেরিয়া আক্রান্ত কিনা, সেটা প্রথম পর্যায়ে চিহ্নিত করা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    কীভাবে বিপদ রুখবেন?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া রুখতে হলে প্রথমে মশার দাপট কমানো জরুরি। বাড়ি এবং আশপাশের এলাকার পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজরদারি জরুরি। নিকাশি ব্যবস্থাও ঠিক থাকা প্রয়োজন। জমা জলেই মশার বংশবিস্তার হয়। জনসচেতনতার পাশপাশি তাই স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বারবার জ্বর হলে, জ্বরের সঙ্গে বমি, পেট ও মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো দ্রুত রক্ত পরীক্ষা জরুরি। তবেই রোগ চিহ্নিত হবে। রোগ মোকাবিলা সহজ হবে।

  • Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাজারের খুচরো পয়সার হিসাবে মাঝেমধ্যে গোলমাল হয়ে যায়। আবার কখনও খুব পরিচিত মানুষের নাম-পদবী মনে পড়ে না। এমন নানান ছোটো ছোটো স্মৃতি বিভ্রাট অনেক সময়েই বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার সমস্যা। এই সমস্যা শুধুই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা নয়। বরং, চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া হল মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যা। মস্তিষ্ক আর সক্রিয় থাকতে পারছে না। দেশ জুড়ে এই সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়ার দাপট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ভিটামিনের অভাব!

    কোন ভিটামিনের অভাবে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে?

    চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এই ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে, স্নায়ু সক্রিয় রাখতেও এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি-১২ ঘাটতি ডিমেনসিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ সরাসরি মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর কার্যক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলে। তাই এই ভিটামিনের অভাব ঘটলে মস্তিষ্কের শক্তি কমে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা কমলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া কোনো স্বাভাবিক বার্ধক্যের লক্ষণ নয়। বরং চল্লিশোর্ধ্ব যে কোনও মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। এতে সুস্থ জীবন যাপন ব্যহত হয়। তাই পুষ্টির দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু যাতে সক্রিয় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমবে।

    কীভাবে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ চাহিদা পূরণ করতে হলে খাবারে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। খাবার থেকেই শরীর সহজে এই ভিটামিন সংগ্রহ করতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন বি-১২ চাহিদা মেটাতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিমের কুসুমে ভিটামিন বি-১২ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। দিনে অন্তত একটা থেকে দুটো ডিম খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-১২ সহজেই সংগ্রহ করতে পারে। ডিমের মতোই সামুদ্রিক মাছ এবং মাংস ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ বয়স চল্লিশ পেরলেই নিয়মিত পাতে মাছ বা মাংস থাকা জরুরি। দিনে হোক বা রাতের খাবারে মাছ বা মাংসের একটি পদ‌ থাকলে শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশপাশি ভিটামিন বি-১২ জোগান হয়। দুধ, পনির জাতীয় খাবারেও ভিটামিন বি-১২ থাকে। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিরামিষাশীদের ভিটামিন বি-১২ সহজ উৎস হলো দুধ এবং পনির। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের চিজ থেকেও ভিটামিন বি-১২ পাওয়া যায়।

    ভারতে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ কি বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতে ডিমেনশিয়া জনস্বাস্থ্য সমস্যার আকার নিচ্ছে। ভারতের প্রায় ৮৮ লাখ মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আরও বাড়বে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটির বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হবেন। যা ভারতের সামাজিক জীবনেও বড় প্রভাব ফেলবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া আক্রান্তের মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিক জীবন‌ যাপন সম্পূর্ণ ব্যহত হয়। কার্যশক্তি হারিয়ে যায়। সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন কঠিন হয়ে ওঠে। তাই ডিমেনশিয়ার দাপট বাড়লে তা সামগ্রিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত খাবারের তালিকায় নজর দেওয়া জরুরি। বাড়ির তৈরি কম তেল মশলার প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের একাধিক উপকার হবে। এমনকি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা ও বজায় থাকবে। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করলে তবেই মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Superfood Poha: নিয়মিত পাতে থাকুক চিড়ে! কীভাবে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    Superfood Poha: নিয়মিত পাতে থাকুক চিড়ে! কীভাবে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের স্বাস্থ্যকর জলখাবারের মেনুতে হোক কিংবা সন্ধ্যার মুখোরোচক খাবারের তালিকায়, সবজায়গাতেই তার অবাধ যাতায়াত। বাঙালির চির পরিচিত চিড়ে! শুকনো খাবার হিসাবে কয়েক হাজার বছর ধরেই তার কদর। বহুদূরে যাতায়াতের সময় এক কালে চিড়ে সঙ্গে রাখাই ছিলো দস্তুর। এখন অবশ্য পদের রকমফের বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাঙালির অতি পরিচিত চিড়ে কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি। এমনকি একাধিক রোগ মোকাবিলাতেও বাড়তি সাহায্য করে এই চিড়ে!

    চিড়ে খেলে শরীরে কী উপকার হয়?

    এনার্জি‌ জোগাতে সাহায্য করে!

    চিড়ে থেকে শরীর সহজেই এনার্জি জোগান করতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। শরীরের এনার্জি জোগায় কার্বোহাইড্রেট। তাই চিড়ে খেলে ক্লান্তিবোধ কমে। শরীর সহজেই এনার্জি পায়।

    হজম শক্তি ঠিক রাখে!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে হজম শক্তি বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করে। চিড়ে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই নিয়মিত চিড়ে খেলে হজম শক্তি বাড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে‌।

    দূর্বলতা কমাতে সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিড়ে সহজ পাচ্য খাবার। আবার চিড়ে বাড়তি এনার্জির জোগান দেয়। তাই শিশু হোক বা বয়স্ক, সকলের জন্য চিড়ে উপকারি। বিশেষত অসুস্থ অবস্থায় চিড়ে খুব উপকারি খাবার। কারণ এই খাবার সহজে হজম হয়। আবার এই খাবার খেলে শরীরের দূর্বলতা কমে।

    চিড়ে খেলে কোন রোগের ঝুঁকি কমে?

    • বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত চিড়ে খেলে একাধিক রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্থূলতা এখন অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, কমবেশি সকলেই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। বাড়তি ওজন সুস্থ জীবন যাপনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খাওয়া নিয়ে তাই সচেতনতা জরুরি। তাই চিড়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়েতে কার্বোহাইড্রেট থাকলেও ফ্যাট নেই। তাই শরীরে মেদ জমে না। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জি জোগান দিতে সক্ষম হয়। চিড়ে খেলে সহজেই পেট ভরে থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে চিড়ে খাওয়া উপকারি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
    • চিড়ে কম ফ্যাটযুক্ত এবং হালকা খাবার। তাই চিড়ে হৃদরোগ রুখতেও বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত মশলা জাতীয় ভাজা খাবারে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। যা হৃদরোগের ঝুঁকিও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু চিড়ে সেটা নয়। চিড়ে খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
    • চিড়ে রক্তাল্পতার সমস্যা সমাধানেও বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়ে খেলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে। কারণ চিড়ে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। অধিকাংশ ভারতীয় মেয়েরা রক্তাল্পতার সমস্যায় ভোগেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১২ বছরের পর থেকেই অধিকাংশ মেয়েদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। যার ফলে নানান রোগের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত চিড়ে খেলে এই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা সহজ হয়।

    কীভাবে চিড়ে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফল‌ এবং দইয়ের সঙ্গে চিড়ে খেলে শরীরে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কলা, আপেল, আঙুর কিংবা আমের মতো ফলের সঙ্গে টক দই এবং চিড়ে খেলে শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন এবং কার্বোহাইড্রেটের ঠিকমতো জোগান পাওয়া যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, এটি সুষম খাবার। তাই হজমের পক্ষেও ভালো। তবে শিশুদের জন্য বাদাম বা পেস্তার সঙ্গে দুধ চিড়ে দিলে খুব উপকার পাওয়া যাবে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের শরীরে এই খাবার থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট এবং খনিজ পদার্থের জোগান সহজেই পাওয়া যাবে।

    মুখোরোচক খাবার হিসাবেও চিড়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মটরশুঁটি, গাজর, ক্যাপসিকাম, বিনসের মতো নানান সব্জি সামান্য মাখনে ভেজে সেদ্ধ চিড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এমনকি শিশুদেরও এই খাবার দেওয়া যেতে পারে। এই খাবার সুস্বাদু। আবার পুষ্টিগুণ ভরপুর। নানান সব্জি থাকায় শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সহজেই পাবে। এই খাবারে সামান্য পরিমাণ মাখন দেওয়া থাকে। তাই এই খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ফ্যাট সংগ্রহ সহজ। আবার চিড়ে কার্বোহাইড্রেটের জোগান দেবে। তাই এই খাবার শরীরের জন্য উপকারি।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীর আর মনের সীমানাতেই আটকে নেই সমস্যা। জীবন যাপন এমনকি অর্থনীতির উপরেও প্রভাব ফেলবে এই সঙ্কট। এমনটাই আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে মানসিক চাপে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশে এই সমস্যা একটা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যার রূপ নিয়েছে। তাই এপ্রিল মাস জুড়ে চলছে মানসিক চাপ নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধুই সচেতনতা যথেষ্ট নয়। বরং, প্রয়োজন জীবন যাপনে পরিবর্তন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বছরের স্লোগান, ‘বি দ্যা চেঞ্জ’। নিজের জীবনে কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আবার এক সঙ্গে আশপাশের মানুষের জীবনেও যাতে মানসিক চাপ তৈরি না হয়, সেদিকেও নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি‌। তাঁদের আশঙ্কা পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

    ভারতে কতখানি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। যার অন্যতম কারণ মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৭ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন মানসিক চাপের শিকার। অবসাদ, উদ্বেগ সহ একাধিক মানসিক সমস্যার নেপথ্যে থাকছে মানসিক চাপ। সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের ৫০ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ হল মানসিক চাপ। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার সাহায্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টেলি মানস’ সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ একটা নির্দিষ্ট ফোন কলের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের কাছে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা জানাতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সমাধানের পথ খুঁজে পাবেন। গত এক বছরে ৩৪ লাখের বেশি মানুষ টেলি মানস-এ নিজের মানসিক চাপে শিকারের কথা জানিয়েছেন। যাদের অধিকাংশের সমস্যা যথেষ্ট জটিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ৩৫ বছরের নীচে ৬০ শতাংশ ভারতীয় মানসিক চাপে ভুগছেন।

    কেন শরীর ও মনের পাশপাশি আর্থিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে মানসিক চাপ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মানসিক চাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার পাশপাশি আর্থিক বিপর্যয়ের কারণ হতে চলেছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে কর্মক্ষমতা ও কর্ম দক্ষতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিক চাপ। আগের থেকে কম দক্ষ ও নিপুণতা কমে যাওয়ায় কাজের মান কমছে। অনেক সময়েই মানসিক চাপের কারণে কাজের গুণমান খারাপ হচ্ছে। এর ফলে কাজ হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। আবার মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে মানব সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। তাই এগুলোর প্রভাব সরাসরি অর্থনীতির উপরে পড়ছে। এছাড়া মানসিক চাপ একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। শারীরিক অক্ষমতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। আর্থিক উন্নতিতে এর প্রভাব পড়ছে। তাই মানসিক চাপ কেবল স্বাস্থ্য সঙ্কট নয়। এর প্রভাব আরও গভীর।

    কেন মানসিক চাপ বাড়ছে?

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও মানসিক চাপের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত প্রতিযোগী পরিবেশ, এর অন্যতম কারণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে স্কুল স্তর থেকেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আধুনিক অর্থনীতিতে কর্মজীবনেও তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। কাজের নিশ্চয়তা কমছে। আর্থিক উন্নতির জন্য এক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই যেতে হচ্ছে। এগুলো মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। তাছাড়া শহুরে জীবনে বদলে যাচ্ছে পরিবারের সমীকরণ। নিজের উদ্বেগ, রাগ, দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার মতো সঙ্গী পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ শহুরে ভারতীয় একাকিত্বে ভুগছেন। যা মানসিক চাপ তৈরি করছে। এছাড়াও অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি ভারতে মানসিক চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর জেরে অপর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে। আবার ভার্চুয়াল জগত জীবন যাপনের ধারায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এগুলো মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

    মানসিক চাপ শরীরের জন্য কতখানি বাড়তি বিপজ্জনক?

    মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ, খিটখিটে মেজাজের মতো একাধিক সঙ্কট তৈরির পাশাপাশি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কম বয়সে স্ট্রোকের নেপথ্যেও থাকে মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। তাই একাধিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সেই প্রভাব দেখা যায়। বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে মানসিক চাপ কমাবেন?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। বরং কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে তাকে কমানো এবং নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে যাতে বড় বিপদ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা যেতে পারে। তাঁদের পরামর্শ, মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত শরীর চর্চা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস, ধ্যান করলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। এর ফলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি পর্যাপ্ত ঘুম। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম ঘুম মানেই মানসিক চাপ বাড়বে। নিয়মিত যাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজের জন্য বরাদ্দ জরুরি। অর্থাৎ গান গাওয়া, ছবি আঁকা কিংবা গল্পের বই পড়ার মতো কাজে কিছুটা সময় দিলে মানসিক চাপ কমবে। তবে নিজের কথা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব কমাতে না পারলে মানসিক চাপ বাড়বে। তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share