Tag: health tips

health tips

  • Typhoid in Kolkata: গ্রীষ্মে কলকাতায় বাড়তে পারে টাইফয়েডের ঝুঁকি! কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    Typhoid in Kolkata: গ্রীষ্মে কলকাতায় বাড়তে পারে টাইফয়েডের ঝুঁকি! কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমের আঁচ বাড়ছে! তাপমাত্রার পারদ জানান দিচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যে গরমের প্রকোপ‌ দেখা দেবে। আর এই পরিস্থিতিতে কলকাতা ও তার আশপাশের জেলা নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল। বিশেষত টাইফয়েড জ্বর নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কলকাতায় টাইফয়েডের ঝুঁকি কতটা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশের মধ্যে অন্যতম টাইফয়েড প্রবণ এলাকা হল কলকাতা। তাই কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় টাইফয়েড নিয়ে বাড়তি সতর্কতা দরকার। তবে চলতি বছরে কলকাতার পাশপাশি উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি সহ একাধিক জেলায় টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক। গরমের শুরুতেই টাইফয়েডের দাপট জানান দিচ্ছে, আগামী দিনে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ-র তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। যার একটা বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে থাকেন। তবে টাইফয়েড সাধারণত বর্ষায় প্রকোপ দেখায়। কিন্তু এ বছরে গরমের শুরুতেই টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায়, চলতি বছরে এই রোগের প্রকোপ আরও প্রবল হতে পারে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

    কেন গরমে এই রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। মূলত জলের মাধ্যমেই এই রোগ সংক্রমণ ঘটে। তবে খাবারের মাধ্যমেও এই রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় একাধিক খাবারের দোকান রয়েছে। নিয়মিত অসংখ্য মানুষ এই সব দোকান থেকে খাবার কিনে খান‌। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় খাবারের মান স্বাস্থ্যবিধির মাপকাঠিতে পাশ করে না। গরমে খাবার অনেক সময়েই নষ্ট হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। আর সেই খাবার খাওয়ার ফলে টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়ছে। কলকাতা ও তার আশপাশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টাইফয়েডের ঝুঁকি বেশি। অধিকাংশ জায়গায় দূষণের মাত্রাও মারাত্মক। ফলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। আবার এত বেশি মানুষ বাইরের খাবারে অভ্যস্ত, যে গরমেও টাইফয়েডের জীবাণু সক্রিয় থাকছে। রোগ ছড়াতে সক্ষম হচ্ছে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও মানুষের টাইফয়েড হতে পারে। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে যেকোনও বয়সেই কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশু ও কৈশোরে এই রোগ সবচেয়ে বেশি দাপট দেখায়। তার অন্যতম কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তাই সংক্রামক রোগের প্রকোপও বেশি হয়। তাছাড়া অনেক সময়েই শিশু ও কিশোরদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা হয় না। হাত ঠিকমতো না ধুয়ে খাবার খাওয়া, যেকোনও রঙিন সরবত খাওয়া এগুলো রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে যারা নিয়মিত বাইরে যান, বাইরের খাবার খান, বাইরের জল খান, তাঁদের টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর, বমি, পেট ব্যথার মতো উপসর্গ টাইফয়েডের জানান দেয়। তাই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত রোগ নির্ণয় জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো চললে বড় বিপদ আটকানো সহজ। তবে প্রথম থেকেই সচেতন থাকলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। তাই জল পরিশ্রুত কিনা সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। গরমে অপরিচ্ছন্ন এলাকা থেকে খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। রঙিন সরবত খাওয়া উচিৎ নয়। এছাড়া শৌচালয় ব্যবহারের সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ অপরিচ্ছন্ন শৌচালয় থেকে টাইফয়েড ছড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই দিকে খেয়াল রাখলে এই ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখের দাপট আটকানো সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • World Kidney Day 2026: তিরিশ পেরোলেই চিন্তা বাড়াচ্ছে কিডনি! ভারতে কেন বাড়ছে কিডনির সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা?

    World Kidney Day 2026: তিরিশ পেরোলেই চিন্তা বাড়াচ্ছে কিডনি! ভারতে কেন বাড়ছে কিডনির সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রোগ আর বয়সের সীমারেখা মানছে না। তাই প্রৌঢ় কালের একাধিক রোগ এখন কুড়ির চৌকাঠ পেরনোর পরেই জানান দিচ্ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতোই ভারতে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে কিডনির অসুখ। কম বয়সিদের মধ্যেও কিডনির কার্যকারিতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তিরিশ বছরের পরেই অনেকেই কিডনির নানান সমস্যা নিয়ে ভুগছেন। ১২ মার্চ ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে (World Kidney Day 2026)। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে কিডনির রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিডনির অসুখ রুখতে রোগ সম্পর্কে সচেতনতার পাশপাশি পরিবেশ রক্ষা নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। তবেই সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব।

    কিডনি সুস্থ রাখতে কেন পরিবেশ রক্ষার ডাক দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল?

    ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে উপলক্ষে বিশ্ব জুড়ে কিডনির অসুখ সম্পর্কে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি চলছে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন কীভাবে কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, সে সম্পর্কে সব মহলে পাঠ দেওয়া হচ্ছে। তবে, তার পাশপাশি কিডনি সুস্থ রাখতে পরিবেশ রক্ষা কতখানি জরুরি, সেটাও বোঝানো হচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ সুস্থ না থাকলে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ দূষণ নিয়ে সব মহলের সচেতনতা জরুরি। মারাত্মক দূষণ যেমন ফুসফুস, শ্বাসনালীর একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে, তেমনি দূষণের জেরে কিডনির অসুখের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে পরিবেশ রক্ষা জরুরি। জল দূষণ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিডনির অসুখের ঝুঁকি কমবে। দূষিত পরিবেশ কিডনির উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাছাড়া চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিডনির অসুখ নিরাময়ের অন্যতম উপায় হলো ডায়ালিসিস। যার জন্য প্রচুর পরিমাণ জল এবং বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। পরিবেশ থেকেই এই উপাদান পাওয়া যায়। কিডনির অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে জল ও বিদ্যুতের চাহিদাও আরও বাড়বে। তাই প্রথম থেকেই জীবন যাপন ও পরিবেশ নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। যাতে রোগের বোঝা না বাড়ে‌।

    ভারতে কিডনির সমস্যা কতখানি উদ্বেগের?

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও কিডনি আক্রান্ত উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট প্রাপ্ত বয়স্কদের ১৩ শতাংশ কিডনির অসুখে আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে কিডনির রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে ভারতে ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে তেলেঙ্গানা, গোয়া এবং কেরলে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিও‌ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যের প্রায় ৫০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত।

    কেন কিডনির অসুখের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিডনির অসুখের অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। এ দেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ মারাত্মক হারে বাড়ছে। তাই কিডনির অসুখের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া, অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে কিডনির কার্যকারিতা কমছে। এ দেশের একাংশের মানুষ পরিশ্রুত পানীয় জল পান না। বিষাক্ত খনিজ সমৃদ্ধ অপরিশ্রুত জল খাওয়ার জেরে কিডনির অসুখের ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর করা কতখানি জরুরি, সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে কিডনির রোগের বোঝাও কমবে।

  • Early Diabetes: কৈশোর পেরিয়েই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Early Diabetes: কৈশোর পেরিয়েই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বাড়ছে ডায়াবেটিসের বোঝা! আর গত কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। কৈশোর পার করার পরেই ভারতীয় মেয়েদের শরীরে ডায়াবেটিস হানা দিচ্ছে। আর সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকাই, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। আগামী কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের সুস্থ জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে উঠবে ডায়াবেটিস। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক অসংক্রমিত রোগের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে ডায়াবেটিস। এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটি মানুষ টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ১৫ বছরের উর্ধ্বে ভারতীয় মহিলাদের প্রায় ৫ শতাংশ ডায়াবেটিস আক্রান্ত। ভারতে মোট মহিলা মৃত্যুর ৫ শতাংশ ডায়াবেটিসের কারণে মারা যান। ভারতীয় গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। অর্থাৎ পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, এ দেশে মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। যা আগামী প্রজন্মের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তী জীবনে একাধিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। সুস্থ জীবন যাপনের পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে।

    কেন ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাসের ধরনের জেরেই ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের শারীরিক কার্যকলাপ কমছে। অর্থাৎ নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় ব্যায়াম করা, যোগাভ্যাস করা কিংবা নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস থাকছে না। এর ফলে স্থুলতা বাড়ছে। তাছাড়া চটজলদি প্যাকেটজাত খাবারে অনেকেই কম বয়স থেকেই অভ্যস্থ হয়ে উঠছে। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। হরমোন ঘটিত ভারসাম্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। এগুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    মহিলাদের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, রোগ নির্ণয় না হওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় মহিলার ডায়াবেটিস পরীক্ষা হয় না। ফলে, তিনি আক্রান্ত কিনা সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই রোগের চিকিৎসাও হয় না। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের একাংশ গর্ভবতী হওয়ার পরে জানতে পারেন, তিনি ডায়াবেটিস আক্রান্ত! এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, “অনেকক্ষেত্রে হয়তো মহিলা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে ডায়াবেটিস আক্রান্ত। কিন্তু সে রোগ সম্পর্কে জানেন না। কারণ তাঁর কোনো পরীক্ষা হয়নি। গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা হওয়ার জন্য তিনি পরীক্ষা করে রোগ সম্পর্কে জানতে পারলেন। ফলে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসাও জটিল হয়ে যায়! ” চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে একাধিক লক্ষণ ডায়াবেটিস আক্রান্ত জানান দেয়। কিন্তু সে সম্পর্কে সজাগ না থাকলে বিপদ বাড়ে!

    কীভাবে ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন‌ যাপনের জন্য নিয়মিত ডায়বেটিস পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, বয়স ২৫ পার হলেই ভারতীয় মহিলাদের বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। রোগ নির্ণয় হলে তবেই চিকিৎসা সম্ভব। তাছাড়া প্রথম থেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরতের দিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত শহুরে মেয়েদের শারীরিক কসরতের সুযোগ কমছে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে এক ঘণ্টা যোগাভ্যাস কিংবা হাঁটার মতো এমন কিছু কার্যকলাপ করা জরুরি, যাতে ক্যালোরি ক্ষয় হয়। খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রেও সুষম আহারের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পেট ভরানোর জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত বা রুটি খাওয়া নয়। ভাত-রুটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে সব্জি, ডাল, প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার। বাড়ির তৈরি খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক রোগের ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Childhood Obesity: আমেরিকাকে টপকে ভারত! শৈশবের স্থূলতার বোঝা বাড়ছে দেশে, নেপথ্যে খাবার নাকি মোবাইল আসক্তি?

    Childhood Obesity: আমেরিকাকে টপকে ভারত! শৈশবের স্থূলতার বোঝা বাড়ছে দেশে, নেপথ্যে খাবার নাকি মোবাইল আসক্তি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ওজন! অতিরিক্ত ওজন! যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সময় মতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে স্বাভাবিক জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে উঠবে। ভারতীয় শিশুদের স্থূলতার সমস্যা আমেরিকাকেও টপকে গিয়েছে। চিনের পরেই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় থাকা দেশের তালিকায় ভারত। বিশ্বে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। সাম্প্রতিক তথ্য আগামী প্রজন্মের সুস্থ জীবন‌ যাপন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে এক তথ্যে জানানো হয়েছে, ভারতীয় শিশুদের মধ্যে মারাত্মক ভাবে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুদের নিরিখে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী প্রায় ১৫ মিলিয়ন শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে। আবার ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে ২৬ মিলিয়ন অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটির সমস্যায় আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২০ মিলিয়ন ভারতীয় শিশু স্থূলতার শিকার হবে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

    কেন ভারতীয় শিশুদের মধ্যে স্থূলতার সমস্যা বাড়ছে?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় শিশুদের অতিরিক্ত ওজনের নেপথ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত শারীরিক কসরতের অভাব। ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় ছেলেমেয়েদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ প্রয়োজনীয় শারীরিক কসরত করে না। এর ফলে তাদের শরীরে ক্যালোরি ক্ষয় হয় না। যা অতিরিক্ত ওজনের অন্যতম কারণ।

    ওবেসিটির নেপথ্যে খাদ্যাভাস নাকি মোবাইল আসক্তি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ওবেসিটির নেপথ্যে প্রথম কারণ অবশ্যই খাদ্যাভাস থাকে। তবে ভারতীয় শিশুদের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় উঠে আসছে ভারতীয় শিশুদের প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। অর্থাৎ ৫ বছর বা ১০ বছর বয়সে শিশুর যেমন খাবারের পরিমাণে পরিবর্তন হয়, তেমনি শারীরিক কার্যকলাপেও পরিবর্তন হওয়া উচিত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলা করা, যোগাভ্যাস করা প্রয়োজন। কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয় শিশুর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের পরিমাণ বাড়ছে, আর শারীরিক কার্যকলাপ কমছে। অবসর যাপন মানেই মোবাইলের পর্দায় চোখ আটকে থাকছে। ক্রিকেট, ফুটবল হোক কিংবা কাবাডির মতো মাঠে নেমে দৌড়াদৌড়ি করে খেলার পরিবর্তে বিভিন্ন ভিডিও গেমে আসক্তি বাড়ছে। যা শরীরের জন্য বিপজ্জনক। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ছোটোদের পাশপাশি বড়দের স্থূলতার অন্যতম কারণ খাবার। পিৎজা, বার্গার কিংবা অতিরিক্ত তেল মশলা দেওয়া চটজলদি খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে মেদ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তারমধ্যে এক জায়গায় দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ছোটাছুটি না করার জেরে সেই মেদ ঝরানোর সুযোগ ও থাকছে না। ফলে ওজন মারাত্মক বাড়ছে‌।

    কেন ওবেসিটি উদ্বেগজনক সমস্যা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের অতিরিক্ত ওজন একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে। শৈশব থেকেই এই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে সুস্থ দীর্ঘ জীবন কার্যত মুশকিল। কারণ, স্থূলতা হৃদরোগ, কিডনি, লিভারের অসুখের কারণ হয়ে ওঠে। আবার হরমোনের ভারসাম্য ও নষ্ট করে। ফলে বড় হয়ে ওঠার পর্বে নানান জটিলতা তৈরি হয়।

    কীভাবে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সচেতনতা থাকলেই শিশুদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাঁদের পরামর্শ, নিয়মিত শিশুকে খেলায় অংশগ্রহণে আগ্রহ দিতে হবে। দিনের অন্তত ৩০-৪০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন খেলায় অংশগ্রহণ করাতে হবে। সাঁতার হোক কিংবা মার্শাল আর্ট কিংবা ক্রিকেট-ফুটবল-হকির মতো যেকোনো ধরনের খেলায় অংশগ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত খেললে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরবে। চর্বি জমবে না। অতিরিক্ত ওজন বাড়বে না। অবসর যাপনে মোবাইলের গেম নয়। বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে খেলা জরুরি। এতে শারীরিক ও মানসিক গঠন ঠিক হয়। তাছাড়া খাবারের দিকেও নজরদারি প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত পরিমাণ খাবার খাওয়ানো একেবারেই উচিত নয়। অভিভাবকদের প্রথম থেকেই খাবারের পরিমাণ নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। তাছাড়া ঘরের তৈরি খাবার খাওয়া দরকার। চটজলদি প্যাকেটজাত খাবার নিয়মিত খেলে অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি বাড়বে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Throat Infection: বসন্তে বাড়ছে গলার সংক্রমণ! ঘরোয়া উপাদানেই লুকিয়ে রয়েছে ‘দাওয়াই’?

    Throat Infection: বসন্তে বাড়ছে গলার সংক্রমণ! ঘরোয়া উপাদানেই লুকিয়ে রয়েছে ‘দাওয়াই’?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বসন্তের রঙে সেজে উঠেছে পরিবেশ! পলাশ ফুল আর রঙিন মরশুমে তবে ভোগান্তি কমেনি। বরং বসন্তে হঠাৎ করেই বেড়েছে তাপমাত্রার পারদ। তাই বাতাসে ভাইরাসের দাপট বেড়েছে। তাই সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়েছে। স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, সব বয়সেই কাশি আর গলার ব্যথায় কাবু। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাশি, গলা ব্যথা, গলায় অস্বস্তি ভাবের নেপথ্যে থাকছে ভাইরাস ঘটিত সংক্রমন। ভাইরাসের জেরেই আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্টে সংক্রমণ ঘটছে। অর্থাৎ, শ্বাসনালীর ওপরের অংশে সংক্রমণ ঘটছে। আর তার ফলেই গলা ব্যথা, কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। আর এই গলা ব্যথার জেরে অনেকেই জ্বরে ভুগছেন।

    কেন বসন্তে গলার সংক্রমণ বাড়ে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার হঠাৎ বদলের জেরেই এই ধরনের সংক্রমণ ঘটে। বাতাসে ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তবে এর পাশপাশি বছরের এই সময়ে আবহাওয়া খুবই শুষ্ক হয়ে যায়। তাই বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। যার জেরে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকিও দেখা যায়। শ্বাসনালীর সংক্রামণের পাশপাশি ফুসফুসের সংক্রমণের ফলেও কাশি, গলা ব্যথার মতো ভোগান্তি দেখা দিতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটেছে। হঠাৎ গরম ভাব। আর অনেক স্কুল পড়ুয়াই এই সময়ে আইসক্রিম বা ঠান্ডা নরম পানীয়, ঠান্ডা সরবত খাওয়া শুরু করেছে। যা শ্বাসনালীর সংক্রামণের অন্যতম কারণ। হঠাৎ, এই তাপমাত্রার দাপট শরীরের মানিয়ে নিতে সময় লাগছে। তার মধ্যে হঠাৎ করেই আইসক্রিম বা ঠাণ্ডা সরবত জাতীয় পানীয় বেশি পরিমাণে খেলে, বিপদ বাড়ে। আবার চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় অনেকেই সাময়িক আরাম পেতে এসি চালাচ্ছেন। যা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। শীত শেষের এই সময়ে শরীরকে পরিবর্তিত আবহাওয়া মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দিতে হয়। হঠাৎ করেই কৃত্রিম অতিরিক্ত ঠান্ডা আর বাইরের গরম, শরীর সহ্য করতে পারে না। তখন নানান রোগে আক্রান্ত হয়।

    কোন ঘরোয়া উপাদান গলার ‘দাওয়াই’ হতে পারে?

    • ● মধু: বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মধু গলার জন্য বিশেষ উপকারি। এই আবহাওয়ায় নিয়মিত এক চামচ মধু সরাসরি খেলে বা এক চামচ মধু লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে। শিশু থেকে বয়স্ক, সকলের জন্য এই উপকরণ সাহায্য করবে। কারণ মধুতে থাকে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। তাই মধু গলার সংক্রমণে রেহাই দেয়।
    • ● আদা: বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত উপকরণ হলো আদা। একাধিক রান্নায় এই আদা ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তে গলার ভোগান্তি কমাতে, কাশির দাপট কমাতে আদা বিশেষ সাহায্য করবে। আদা কুচি করে খেলে খুসখুসে কাশির ভোগান্তি কমে। আবার শিশুরা আদা দিয়ে ফোটানো গরম জল খেতে পারে। বয়স্কেরা আদা দিয়ে তৈরি চা দিনে একাধিক বার খেলে গলায় আরাম পাবেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আদা প্রদাহ দান করে। তাই যেকোনো সংক্রমণে আদা বিশেষ উপকারি।
    • তুলসী: ভাইরাস ঘটিত রোগের দাপট কমাতে তুলসী পাতা বিশেষ সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই থেকে চারটে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের দাপট কমে।
    • ● হলুদ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে এই আবহাওয়ায় শরীর সুস্থ রাখতে রান্নায় হলুদ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হলুদ অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই হলুদ মেশানো রান্না খেলে শরীরে বাড়তি উপকার হয়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Holi 2026: বসন্তের রঙিন উৎসবে অসাবধান হলেই বিপদ! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Holi 2026: বসন্তের রঙিন উৎসবে অসাবধান হলেই বিপদ! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আজ দোল। কাল হোলি। দুদিন রঙের উৎসব। কচিকাঁচা থেকে বয়স্ক, সকলেই মেতে উঠবেন দোলের উৎসবে। বসন্তের উৎসবে রং লাগানো, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়ার মাঝে তাল কাটতে পারে অসাবধানতা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দোল উৎসব উদযাপনের সময় কয়েকটি দিকে বিশেষ নজরদারি জরুরি। তবেই সুস্থ ভাবে উৎসব উদযাপন সম্ভব। না হলেই বাড়বে বিপদ। বিশেষত শিশুদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    কোন বিপদের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক মহল?

    দোল উৎসবে অসাবধানতা থেকে সবচেয়ে বেশি বিপদ হয় চামড়ার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রত্যেক বছর দোলের পরে অনেকেই চামড়ায় নানান রকমের লাল দাগ, চুলকানির মতো সমস্যা নিয়ে ভোগেন। অনেকের নানান রকমের অ্যালার্জি হয়‌। তাই রং ব্যবহারের সময় সচেতনতা জরুরি। রং খেলার সময় সবচেয়ে বেশি চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। বিশেষত শিশুরা রং খেলায় অংশ নিলে, কোনো ভাবেই যাতে তাদের চোখে রং না ঢোকে সে দিকে নজর দিতে হবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখে বিশেষত কর্ণিয়ায় রং লাগলে, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করতে পারে। কনজাংটিভাইটিসের মতো চোখের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। রঙের উৎসবে অসাবধানতার জেরে অনেকেই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শুকনো রং নাকে-মুখে ঢুকে অনেক সময়েই হাঁপানির সমস্যা তৈরি করে। রং মেশানো জল কানে ঢুকলে, কানের ভিতরে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    সুস্থ ভাবে উৎসব উদযাপনের কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, উদযাপনের সময় সতর্ক ও সচেতন থাকলেই সমস্ত হয়রানি আটকানো সহজ। তাঁরা জানাচ্ছেন—

    • ● রং কেনার সময় ভেষজ রং কেনা উচিত। ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে তৈরি রং অ্যালার্জি এবং অন্যান্য চামড়ার অসুখের ঝুঁকি কমায়‌
    • ● শিশুদের রং খেলার সময় নজরদারি জরুরি। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিশুরা দোল উৎসব পালন করলে বড় দূর্ঘটনা এড়ানো সহজ হয়।
    • ● এখন দোল উপলক্ষে শিশুদের জন্য নানান মজাদার সানগ্লাস বাজারে দেদার পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো পরে রঙিন উৎসব পালন করলে চোখে রং যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
    • ● রঙ উৎসব পালনের আগে ত্বকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাতে রঙ সহজেই মুছে ফেলা যায়। চামড়ার বড় ক্ষতি হয় না।
    • ● যাদের হাঁপানির সমস্যা রয়েছে, বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের, রঙ খেলার সময় বাড়তি যত্ন জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
  • Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে সময়! জীবন যাপনের অভ্যাস। আর বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকটাই বদলে গিয়েছে আমাদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তাই এগিয়ে এসেছে বয়ঃসন্ধিকাল। কয়েক দশক আগেও বয়ঃসন্ধিকাল বলতে ১৪-১৫ বছরের সময় বোঝানো হতো। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্ত লক্ষণ এখন এগিয়ে আসছে। এখন ১১-১২ বছর বয়স থেকেই ছেলেমেয়েরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে বয়ঃসন্ধিকালে পোঁছে যাচ্ছে। তাই অভিভাবদের ও আলাদা ভাবে প্রস্তুতি প্রয়োজন। সন্তানের সুস্থ দীর্ঘ জীবনের জন্য এই সন্ধিক্ষণের সময়ে সবরকম বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি।

    বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে যাওয়া কাকে বলে?

    ভারতের পাশপাশি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধিকালের লক্ষণ প্রকট হয়েছে। অর্থাৎ, গত কয়েক দশক আগেও যে সময়ে শিশু কৈশোরে পা দিতো, সম্প্রতি কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট বয়সের আগেই সে শারীরিক ও মানসিক ভাবে কৈশোর জীবনে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের ১৭ শতাংশ মেয়েদের ১২ বছরের আগে ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। ২০ শতাংশ ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ৮-১০ বছরের মধ্যেই গোপনীয়তা বোধ, জোরালো মতামত এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ে। এই লক্ষণগুলো মানসিকভাবে বয়ঃসন্ধিক্ষণে থাকার ইঙ্গিত দেয়।
    এই সমীক্ষার তথ্য জানান দিচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে এসেছে। অর্থাৎ ১৪-১৫ বছর বয়সের পরিবর্তন এখন ১০-১২ বছর বয়সেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    কেন এগিয়ে আসছে বয়ঃসন্ধিকাল?

    এই পরিবর্তনের মূলত তিনটি কারণ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ মহল। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসার মূলত কারণ খাদ্যাভ্যাস। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে শিশুদের অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। প্রয়োজনের বেশি প্রাণীজ প্রোটিন তারা নিয়মিত খায়। এর ফলে শরীরে স্থুলতা দেখা দেয়। এই জন্য দ্রুত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন শুরু হয়‌। তাছাড়া অধিকাংশ শিশু প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত। এই খাবারগুলোতে ব্যবহৃত রাসায়নিক শরীরের হরমোন পরিবর্তন ঘটায়। তাই বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসছে।

    শরীরের পাশাপাশি বয়ঃসন্ধিকালে মনের পরিবর্তন হয়। এই মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। ইন্টারনেট ও মোবাইল শিশুর জানার পৃথিবী পরিবর্তন করেছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এখন অনেক কিছুই শিশুর কাছে সহজলভ্য। বড়দের অনেক বিষয় তারা সহজেই জানতে পারছে‌। এর ফলে তাদের মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে। সময়ের আগেই গোপনীয়তা বোধ তৈরি হচ্ছে।

    পরিবারের ধরন বদলে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশু এখন আর যৌথ পরিবারে থাকে না। বাবা-মা এবং সন্তান। অধিকাংশ পরিবারে এখন তিন সদস্য। পরিবারের ছোট্ট সদস‌্য বাবা-মায়ের আলোচনা, কথা শুনেই বড় হচ্ছে। অনেক সময়েই বাবা-মায়ের আলোচনার বিষয় অনেক পরিণত হয়। সেগুলো সন্তানের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। সময়ের আগেই তারা এমন অনেক বিষয় জানতে পারে, যেগুলো পরিণত বয়সে জানা উচিত। পরিবারে একাধিক সদস্য থাকলে ছোটোদের নিজের আলাদা মেলামেশার সুযোগ বাড়ে। কিন্তু ছোটো পরিবারে সেটা সম্ভব নয়। এর ফলেও তাদের মধ্যে দ্রুত মানসিক পরিবর্তন হচ্ছে।

    কীভাবে সন্তানের যত্ন নেবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আর্লি টিনএজ বা সময়ের আগেই দ্রুত বয়ঃসন্ধিকালে দাঁড়ানো, এখন বিশ্বজনীন সমস্যা। তাই এই সঙ্কট মোকাবিলার জন্য অভিভাবকদের আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন। শিশুর ৮-১০ বছর বয়স থেকেই তাকে শরীর ও মনের পরিবর্তন সম্পর্কে জানানো জরুরি। বিশেষত মেয়েদের সেই পাঠ বাড়তি যত্নের সঙ্গে শেখানো জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ বড়‌ কোনো শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে, সন্তান ঘাবড়ে যেতে পারে। তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। জীবনের যে পরিবর্তনগুলো খুবই স্বাভাবিক সে সম্পর্কে জানানো জরুরি। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা প্রয়োজন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা বহু প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়েই জানতে পারে। কিন্তু সেই জানার মধ্যে অনেক ভ্রান্ত ধারণা মিশে থাকে। অভিভাবকদের কথা বলে সেগুলো স্পষ্ট করা জরুরি। তবেই মানসিক গঠন ঠিক মতো হবে। তাছাড়া তাদের মতামত শোনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে তারা আত্মবিশ্বাস পাবে। অকারণ গোপনীয়তা তৈরি হবে না। তবে সন্তান কী ধরনের কন্টেন্ট দেখছে, সেগুলো তার জন্য উপযুক্ত কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। কৈশোরে এমন অনেক বিষয়েই আগ্রহ জন্মায়, যা সময়োপযোগী নয়। কথা বলেই সে সম্পর্কে সজাগ করতে হবে।

    মানসিক চাপ কমানো এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তার পাশপাশি কৈশোরে পা দেওয়ার সময় শরীরের একাধিক পরিবর্তন হয়। তাই শরীর সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত খনিজ পদার্থ খাওয়া জরুরি। খনিজ পদার্থ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। তাই ১০ বছরের পরে ছেলেমেয়েদের নিয়মিত বাদাম, কিসমিস, কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোট জাতীয় খাবার দেওয়া উচিত। যাতে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাহলে শরীর ও মন সুস্থ থাকবে‌।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একরত্তি ছানা! বাবা-মায়ের সঙ্গ পায়নি। অন্যদের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারে না। সময় মতো খাবার পেলেও, সে ভালো নেই। পুষ্টিকর খাবার শরীরের চাহিদা মেটালেও, মনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। সুস্থ রাখতে তাকে দেওয়া হল একখানা পুতুল! আর তাতেই বাজিমাত! সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে উঠল সেই পুতুল! ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে একরত্তি! মিশতে শেখে। মানিয়ে নিতেও শেখে! জাপানের চিড়িয়াখানার সেই একরত্তি ম্যাকাকের (এক প্রজাতির বাঁদর) একাকিত্ব আর সেরে ওঠার ঘটনায় উত্তাল বিশ্ব। তবে তার এই একাকিত্বের সমস্যা কেবল পশুজগতের সমস্যা নয়। মানব শিশুর জীবনেও একাকিত্বের সমস্যা (Loneliness in Children) প্রবল ভাবে বাড়ছে‌।‌ সামাজিক আচরণে (Social Isolation) যার প্রভাব গভীর ভাবে পড়ছে! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণ (Child Mental Health) সংযত ও স্বাভাবিক রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এই একাকিত্ব!

    শিশুর আচরণে কেন সমস্যা হয়ে উঠছে একাকিত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অধিকাংশ পরিবার ছোটো। বাবা-মা দুজনেই কাজে ব্যস্ত থাকেন। দিনের অধিকাংশ সময় তাদের অফিসেই কাটে। পরিবারের একরত্তির সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম। অধিকাংশ শহুরে পরিবারে শিশু পরিবারের সদস্যদের বিশেষ কাছে পায় না। যার ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব শিশুকে আত্মবিশ্বাসহীন করে তোলে। পরিবারের যথেষ্ট সময় না পেলে শিশু হীনমন্যতায় ভোগে। এর ফলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়‌। তাই সে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গেও মিশতে পারে না।

    পরিবারই পৃথিবী, একাকিত্ব শিশুমনে তৈরি করে মানসিক অবসাদ

    একাকিত্ব একধরনের মানসিক অবসাদ তৈরি করে। শিশুর কাছে প্রাথমিক পর্বে, তার পরিবার তার পৃথিবী। পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত যত্ন ও সময় না পেলে, তার মধ্যে অবসাদ তৈরি হবে। যার ফলে সে কোনও কাজ সময় মতো করতে চাইবে না। তার মধ্যে অনীহা তৈরি হবে। স্কুল যাওয়া ও পড়াশোনার প্রতিও অনাগ্রহ বাড়বে। এমনকি বন্ধু তৈরি করার ইচ্ছেও থাকবে না। যা একাকিত্বের সমস্যাকে আরও জটিল করবে। শিশুর একাকিত্ব একদিকে তার সামাজিক যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করে (Social Isolation)। আবার শিশুকে জেদি করে তোলে। এমন মানসিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে সে কোনোভাবেই অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছে হারিয়ে ফেলে। এর ফলে নিজের মতো থাকে। যেকোনও কাজ বললেই একধরনের অনীহা তৈরি হয়‌। জেদ তৈরি হয়।

    সন্তানের একাকিত্ব কাটিয়ে আচরণ ‘স্বাভাবিক’ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের একাকিত্ব কাটাতে এবং সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক রাখতে দিনের অন্তত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করতেই হবে। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের সঙ্গে প্রতি দিন অন্তত ২০ মিনিট গল্প করতে হবে। সন্তানের বয়স অনুযায়ী সেই গল্প হবে। পাঁচ থেকে সাত বছরের শিশুর সঙ্গে বসে গল্পের বই পড়া, সারা দিন তার কেমন কাটলো সেই সম্পর্কে গল্প করা জরুরি। আবার বয়ঃসন্ধিকালে থাকা সন্তানের সঙ্গেও তার কেমন সময় কাটছে সে নিয়ে গল্প করা, বা তার পছন্দের গান শোনা, তার পছন্দের যে কোনও বিষয় নিয়ে গল্প করা জরুরি। এতে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একাকিত্ব গ্রাস করে না। তার মনের অবস্থা (Child Mental Health) সম্পর্কেও অভিভাবক বুঝতে পারে।

    অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে পড়ছে বাড়তি চাপ

    আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সন্তানকে অনেকটা সময় দেওয়া কঠিন। কিন্তু তার বিকল্প কখনই স্ক্রিন টাইম নয়। এমনটাই মত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। খিটখিটে মেজাজ হচ্ছে। তাই স্ক্রিন টাইম নয়। বরং খেলাধুলা সঙ্গে যাতে সন্তান যুক্ত হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের বয়স পাঁচ বছর হলেই যেকোনও ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। এতে শারীরিক বিকাশের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে না। মেলামেশার অভ্যাস তৈরি হয়। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জেদ, একঘেয়েমি দূর হয়।

    সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি

    শিশুর গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি জরুরি বলেই মত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একসঙ্গে অনেকে মিলে নাচ, গান বা নাটক করা। কিংবা যে কোনও ধরনের খেলাধুলা করলে শিশুর সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক ও সংযত হয়। নানান জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য (Child Mental Health) ভালো রাখতে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি। শিশুর সুস্থ মানসিক গঠনের জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তার কথা শুনতে হবে। তাহলেই অনেক সমস্যা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Rubella in Children: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় বিপদ বাড়ছে রুবেলার! ভাইরাস আক্রমণ থেকে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    Rubella in Children: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় বিপদ বাড়ছে রুবেলার! ভাইরাস আক্রমণ থেকে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হঠাৎ করেই বেড়েছে তাপমাত্রার পারদ। বেলা বাড়তেই রোদের দাপট বাড়ছে। এমনকি সন্ধ্যার পরেও অস্বস্তি হচ্ছে। এদিকে ভোরে বেশ ঠান্ডা ভাব। হঠাৎ বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি হলেও তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। আর এই পরিস্থিতিতে বিপদ বাড়াচ্ছে রুবেলা ভাইরাস (Rubella in Children)। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এই আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। বিশেষত পরিবারের খুদে সদস্যকে (Child Immunity Care) সুস্থ রাখার জন্য সজাগ থাকতে হবে। কারণ রুবেলা ভাইরাসের দাপট শিশু শরীরেই সবচেয়ে বেশি হয়।

    কেন এই আবহাওয়ায় রুবেলা ভাইরাসের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্ত ঋতুতে রুবেলা ভাইরাসের (Rubella in Children) দাপট বাড়ে। তার মূল কারণ আবহাওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রা কম থাকে। কিন্তু বসন্ত হলো শীত আর গরমের মাঝের সময়। এই সময়ে শীতের দাপট থাকে না। আবার প্রবল গরমের দাপট ও থাকে না। এই সময়ে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। অর্থাৎ মরশুমের পরিবর্তন হয়। তার ফলে বাতাসে নানান ভাইরাসের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। বিশেষত ফুসফুস কাবু করতে পারে এমন ভাইরাসের দাপট আরও বেশি বাড়তে থাকে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সময়ে রুবেলার মতো ভাইরাসের দাপট বাড়ে।

    স্কুল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সংক্রামক রুবেলা

    তাছাড়া, বছরের এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকায় বহু মানুষ বেড়াতে যান। নানান উৎসব হয়। তাই এই সময়ে যে কোনও সংক্রামক রোগের দাপট বাড়ে। রুবেলা ভাইরাস (Rubella in Children) একটি সংক্রামক রোগ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রামিত হতে পারে। তাই এই ভাইরাসের ক্ষমতা এই সময়ে বাড়ে। বসন্ত ঋতুতে যেমন নানান উৎসব রয়েছে, তেমনি এটা পরীক্ষার মরশুম। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্কুলে শিশুকে পাঠানোর সময় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি (Child Immunity Care)। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর-সর্দি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তবেই স্কুলে পাঠানো উচিত। না হলে অন্যদের মধ্যেও যে কোনও রোগ সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রুবেলার মতো ভাইরাস স্কুল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে।

    রুবেলা ভাইরাসের জেরে কী হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের (Rubella in Children) জেরে হাম হতে পারে। জ্বর-সর্দি-কাশির মতো নানান উপসর্গ দেখা দেওয়ার পাশপাশি হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এই উপসর্গগুলো রুবেলা সংক্রমণের জানান দেয়।

    সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের দাপট রুখতে মূল হাতিয়ার টিকাকরণ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণকের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পরে ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই এমএমআর টিকার (MMR vaccination) প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। যা রুবেলা সংক্রমণ রুখতে পারে। এছাড়াও ১৫ থেকে ১৮ মাসের এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ এবং ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে এই টিকার তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়। সময় মতো নিয়ম মেনে টিকাকরণ করালে শিশুর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

    নিয়মিত মাস্ক পরে থাকা

    তবে বাড়তি কয়েকটি নজরদারি রাখলে রুবেলার (Rubella in Children) মতো যে কোনও ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সহজ হয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুকে নিয়মিত মাস্ক পরার অভ্যাস করানো জরুরি। বাইরে যাওয়ার সময় নাক ও মুখ ঢাকা দেওয়া মাস্ক পরার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে একাধিক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে (Child Immunity Care) । রুবেলা ভাইরাস মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রামিত হয়। তাই এই রোগের দাপট কমবে। শিশুর বারবার জ্বর হলে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। স্কুলে পাঠানোর আগে অভিভাবকদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে অন্যদের শরীরে এই রোগ না ছড়িয়ে পড়ে।

  • Hemicrania Continua: দীর্ঘদিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছেন? হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া নয় তো! কী এই রোগ?

    Hemicrania Continua: দীর্ঘদিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছেন? হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া নয় তো! কী এই রোগ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    মাথার এক পাশে কিংবা পিছনের অংশে ব্যথা। প্রায় যন্ত্রণার তীব্রতা বাড়ে। আবার কখনো তীব্রতা কমে। কিন্তু একটানা যন্ত্রণা (Long-Term Headache) ভোগান্তি বাড়ায়। মাথার ব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা। তবে চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একটানা মাথা ব্যথার নেপথ্যে অনেক সময়েই অন্য কারণ রয়েছে। কিন্তু অবহেলার জেরে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদী মাথা ব্যথার কারণ কী হতে পারে?

    মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা না থাকলেও মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি হতে পারে। তার অন্যতম কারণ হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua)। এটি একটি স্নায়ু ঘটিত সমস্যা। যার জেরে মাথার যে কোনও একটি পাশে বা নির্দিষ্ট কোনও অংশে যন্ত্রণা হয়। অধিকাংশ সময়েই দেখা যায় এই সমস্যায় আক্রান্তের যন্ত্রণায় ভোগান্তির মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসও হতে পারে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যন্ত্রণার তীব্রতা সবসময় এক রকম থাকে না। কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে।

    হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া কী? কেন হয় এই রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) হল মস্তিষ্কের স্নায়ুঘটিত একটা সমস্যা। এই সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণে তৈরি হয় না। বরং এই সমস্যা হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে‌। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তার অন্যতম কারণ হল হরমোন। মহিলাদের শরীরে নানান হরমোনঘটিত পরিবর্তন হয়। বিশেষত ঋতুস্রাব বন্ধ পর্ব বা পোস্ট মেনোপোজ পর্বে শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন হয়। যার জেরে মহিলাদের মস্তিষ্কে এই ধরনের স্নায়বিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে হরমোন ঘটিত সমস্যার পাশপাশি মানসিক চাপ কিংবা অবসাদ এই ধরনের স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    এই সমস্যা কি আরো জটিলতা তৈরি করতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) অন্য রোগের কারণ নয়। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী মাথার যন্ত্রণা চরম ভোগান্তি তৈরি করে। স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। তাছাড়া যেকোনো সাধারণ কাজেও মনঃসংযোগ করতে দেয় না। মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি কাজ করে না। লাগাতার মাথা যন্ত্রণার ফলে খিটখিটে ভাব তৈরি হয়। সবমিলিয়ে জীবন যাপনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তাই মাথা ব্যথা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া শুধুই ব্যথা নিরাময় ওষুধ খাওয়া উচিত নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। কারণ কেন মাথা ব্যথা হচ্ছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা না থাকলে ব্যথা নিরাময় ওষুধ শুধু সাময়িক আরাম দেবে। তার বেশি কিছু নয়।

    কীভাবে এই রোগের দাপট কমবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবনযাপনের ধরন এই রোগের দাপট কমাতে সাহায্য করবে। কয়েক দিন ধরে লাগাতার মাথা যন্ত্রণার ভুগলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) মতো সমস্যা থাকলে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পাশপাশি যোগাভ্যাস জরুরি। যন্ত্রণার তীব্রতা কমাতে নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন বিশেষ সাহায্য করবে। যেমন অধোমুখ শবাসন। প্রথমে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো করে বসতে হবে। হাতের তালু মাটিতে থাকবে, পিঠ উপরের দিকে তুলতে হবে, পায়ের পাতা মাটি স্পর্শ করে থাকবে। দেখতে লাগবে অনেকটা ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষরের মতো লাগবে। মাথা যতটা ঝোঁকাতে যাবে, ততই ভাল। এই ভঙ্গিমায় ২০ সেকেন্ড থাকতে পারলে রক্তচাপ ও শরীরের স্নায়বিক জটিলতা কমবে। তাই এই ধরনের রোগের দাপট কমাতে এই আসন বিশেষ সাহায্য করে।

    সৃজনশীল কাজে নিজেকে বরাদ্দ করুন…

    এছাড়াও রয়েছে পশ্চিমোত্তাসন। প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে দু’হাত তুলে মাথার দু’পাশে উপরের দিকে রাখতে হবে। ধীরে ধীরে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’ হাত দিয়ে জোড়া পায়ের বুড়ো আঙুল ধরতে হবে। দুই পায়ের মাঝখানে কপাল ঠেকাতে হবে। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে মোটামুটি তিরিশ সেকেন্ড থাকতে হবে। তাহলে এই ধরনের মাথার যন্ত্রণার (Hemicrania Continua) তীব্রতা কমানো সহজ হবে। এর পাশপাশি নিয়মিত গান শোনা কিংবা ছবি আঁকার মতো অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ বাড়লে। পরিবার ও কাজের মধ্যে ব্যালেন্স করাই সবচেয়ে বড় মানসিক চাপ হয়ে উঠছে। তাই রুটিন মাফিক চলা একঘেয়ে ব্যস্ত জীবনে একটু সময় সৃজনশীল কাজে বরাদ্দ করতে হবে। তবেই মানসিক চাপ কমবে। মানসিক চাপ কমলে যে কোনও ধরনের মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি কমানো সহজ হয়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share