Tag: health tips

health tips

  • Sleep Disorders in Children: সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত! নেপথ্যে কি অভিভাবকদের মোবাইল আসক্তি?

    Sleep Disorders in Children: সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত! নেপথ্যে কি অভিভাবকদের মোবাইল আসক্তি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    রাতের খাবার ঘড়ির কাঁটা মেপে শেষ হচ্ছে। পরের কয়েক মিনিট মোবাইলে পছন্দের কার্টুন কিংবা ভিডিও গেমের জন্য বরাদ্দ। ঘড়ি মেপে রাত নটা কিংবা দশটার মধ্যে বিছানায় শুয়ে পড়লেও চোখে ঘুম নেই! পরের দিন স্কুল! ভোর হতেই উঠে পড়তে হবে। কিন্তু রাতে ঠিক সময়ে কিছুতেই ঘুম হয় না। বকুনি বা ঘুম পাড়ানি গান, কোনো দাওয়াই কাজে আসছে না। ফলে পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না। এর ফলে দেখা দিচ্ছে নানান সমস্যা। সন্তানের অপর্যাপ্ত ঘুম (Sleep Disorders in Children) নিয়ে চিন্তিত বাবা-মা! কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই অপর্যাপ্ত ঘুমের পিছনে থাকে অভিভাবকদের কয়েকটি অভ্যাস (Parental Mobile Addiction)। যা পরিবর্তন না করলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হবে না। বরং, ঘুমের ঘাটতি নানান বিপদ বাড়াবে।

    অভিভাবকদের কোন অভ্যাস সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাত জেগে মোবাইল দেখা এখন অনেকের অভ্যাস। শিশুদের মধ্যেও বড়দের এই অভ্যাসের গভীর প্রভাব পড়ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বহু শিশু রাত দশটার মধ্যে বিছানায় শুয়ে পড়লেও দুটোর আগে ঘুমোয় না। বাবা-মা জানাচ্ছেন, পরের দিন সকাল সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হয়। কিন্তু রাত দুটোর আগে সন্তানের চোখে ঘুম নেই। এর ফলে দিনের পর দিন অপর্যাপ্ত ঘুম (Sleep Disorders in Children) হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেই শিশুদের অভিভাবকেরাও অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। অধিকাংশ সময়েই তাঁরা শিশুর পাশে শুয়ে মোবাইলের বিনোদনে বুঁদ হয়ে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটান।‌ যা ছয়-সাত বছরের শিশুর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাছাড়া অন্ধকার ঘরে মোবাইলের আলো তীব্র হয়। এর ফলে বাচ্চার ঘুমের পরিবেশ নষ্ট হয়।

    কী উচিত, কী উচিত নয়

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই বাবা-মা প্রয়োজনে কিংবা অন্যান্য কারণে অনেক রাত পর্যন্ত ফোনে কথা বলেন। ফলে, তার জেরেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তবে, সন্তানের ঘুম না হওয়ার (Sleep Disorders in Children) অন্যতম কারণ স্ক্রিন টাইম বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু শিশু ঘুমোতে যাওয়ার আগে মোবাইলে অনেকটা সময় কাটায়। যা একেবারেই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। মোবাইলে যে ধরনের ভিডিও শিশুরা দেখে, তা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে। এর ফলে শিশুরা সহজে ঘুমোতে পারে না। ঘুমোতে যাওয়ার আগে এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে। তাই সন্তানের স্ক্রিন টাইম (Parental Mobile Addiction) নিয়েও সচেতন থাকা জরুরি।

    সন্তানের অপর্যাপ্ত ঘুম বুঝবেন কীভাবে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এর থেকে কম সময় ঘুম হলে, তা অপর্যাপ্ত ঘুম (Sleep Disorders in Children)। নিয়মিত কোনও শিশু যদি আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমোনোর সময় না পায়, তাহলে সেই ঘাটতি, তার শরীর ও মনে গভীর ভাবে পড়ে‌। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সময়ের হিসাব ছাড়াও শিশুর আচরণ দেখেও ঘুমের ঘাটতি আন্দাজ করা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, পাঁচ-ছয় বছরের শিশু দিনের অধিকাংশ সময় ঘ্যানঘ্যান করলে, সব কাজে অনীহা দেখালে কিংবা তার আচরণে মারাত্মক অসংগতি দেখা দিলে বুঝতে হবে, মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছে না।

    কেন ঘুম জরুরি? সন্তানের ‘ভালো’ ঘুম হবে কীভাবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ‘ভালো’ ঘুম সম্পর্কে সচেতনতা নেই। রাতে কোনও রকম ব্যাঘাত ছাড়া একটানা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হল ‘ভালো’ ঘুম। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমোলে তবেই শরীর ও মস্তিষ্কের সমস্ত স্নায়ু ঠিকমতো বিশ্রাম পায়। পেশির বিশ্রাম হয়। হরমোন নিঃসরণ ঠিকমতো হয়। পিটুইটারি গ্রন্থি ঠিকমতো কার্যকর থাকে। যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখে। শরীরের নিজস্ব একটি ঘড়ি রয়েছে। ঘুম ঠিকমতো হলে তবেই সেই ঘড়ি কাজ করবে। দিনভর সময় মতো সমস্ত কাজ হবে। শরীর প্রয়োজনীয় এনার্জি ব্যালেন্স করতে পারবে। অসময়ে ঘুম অর্থাৎ, দিনের বেলা বা সকালে ঘুমোলে স্নায়ু এবং হরমোনের ভারসাম্যে সেই প্রভাব পড়ে না।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য বাবা-মায়ের কয়েকটি অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি। সন্তানের ঘুমের আগে কোনওভাবেই স্ক্রিন টাইম অতিরিক্ত হওয়া চলবে না। বই পড়া বা ডায়েরি লেখার মতো অভ্যাস তৈরি করতে হবে। যাতে মস্তিষ্ক বাড়তি উত্তেজিত না হয়। আবার নিজেদের স্ক্রিন টাইম নিয়েও সচেতন হতে হবে। সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর সময় নিজে মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকলে, তা শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে (Sleep Disorders in Children)। সেই সময় ফোনে কথা বলা বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। তাহলেই ‘ভালো’ ঘুম সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Liver Diseases: লিভারের রোগ বাড়ছে ভারতীয়দের! সতর্কবার্তা আইসিএমআর-এর, কেন চিন্তার বিষয়?

    Liver Diseases: লিভারের রোগ বাড়ছে ভারতীয়দের! সতর্কবার্তা আইসিএমআর-এর, কেন চিন্তার বিষয়?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য পরিমাণ খাবার খেলেও বমি, হজমের অসুবিধা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাই মুশকিল। পেটের চর্বি দিন দিন বাড়ছে। আবার খাবার খাওয়ার পরেই বুকের ভিতরে এক ধরনের অস্বস্তি বোধ হয়। এমন অসুবিধায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষত কম বয়সী ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে এই উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। আবার পঞ্চাশোর্ধ্ব ভারতীয় মহিলাদের অনেকেই এই ধরনের ভোগান্তির শিকার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণ হজমের অসুবিধা বলে এই সমস্যা এড়িয়ে গেলেই বিপদ বাড়বে। ভারতীয়দের লিভারের অসুখ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের মধ্যে লিভারের অসুখ বাড়ছে। বিশেষত কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে এই অসুখ বেশি দেখা দিচ্ছে। এর ফলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-র এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ৪০ শতাংশ ভারতীয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। যাদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৩০-৪০ বছর। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, মদ্যপানে অভ্যস্ত না হলেও কম বয়সী ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের অসুখ দেখা দিচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আবার ঋতুস্রাব পরবর্তী পর্বে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই অসুখ দেখা দিচ্ছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রায় ৪৫ শতাংশ ভারতীয় মহিলা নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক ভারতীয়ের এই অসুখ যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার উদ্বেগজনক রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফ্যাটি লিভার আসলে লিভারের সমস্যা। লিভারে অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট জমে যাওয়ার ফলেই এই রোগ হয়। সাধারণত অতিরিক্ত মদ্যপানে অভ্যস্ত হলে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মদ্যপান না করলেও লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বলা হচ্ছে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলেই লিভারে ক্ষত তৈরি হচ্ছে। ফলে লিভারের কার্যকারিতা কমছে। লিভার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সেটার কার্যকারিতা নষ্ট‌ হলে শরীর সুস্থ থাকবে না। নানান জটিলতা তৈরি হবে। বিশেষত কম বয়সীদের মধ্যে এই নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ দীর্ঘ সুস্থ জীবন‌যাপনের পথে অন্তরায় হয়ে উঠছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক দশকে ভারতীয়দের জীবন যাপনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। খাদ্যাভাসের পরিবর্তন ঘটেছে। অধিকাংশ ভারতীয় এখন চটজলদি খাবারে অভ্যস্ত। আর চটজলদি খাবারে অধিকাংশ সময়েই পুষ্টিগুণ থাকে না। তাই শরীরের অপ্রয়োজনীয় ওজন বাড়ছে। ভারতীয়দের মধ্যে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস। একদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্রোটিন খাবার খাওয়া, আরেকদিকে নিয়মিত শারীরিক কসরত না করা। এই দুইয়ের জন্য ভারতীয়রা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাছাড়া পঞ্চাশ বছরের পরে মহিলাদের শরীরে নানান হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। তাই পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাদের এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি? এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হলে অন্যদের আগাম সতর্ক থাকা জরুরি। তাছাড়া ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই খাবারে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার না খাওয়া, প্রাণীজ প্রোটিনের পাশপাশি সব্জি, ফাইবার জাতীয় খাবার সমান পরিমাণে খাওয়া জরুরি। তাহলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে। আবার ছোটো থেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরতে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। কারণ, তাতে শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি নষ্ট হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাহলে লিভারেও অতিরিক্ত ফ্যাট জমবে না। রোগের ঝুঁকিও কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিদায় নিচ্ছে শীত! আর মাত্র কয়েক দিন! তারপরেই সোয়েটার আর লেপ কম্বলের পর্ব শেষ হতে চলেছে। গরম এবার আগাম পা বাড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। কিন্তু বসন্তেই গরম হাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই আবহাওয়া একাধিক রোগের দাপট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এমনটাই মত চিকিৎসকদের।

    কেন রোগের দাপট বাড়তে পারে?

    শীতে তাপমাত্রার পারদ কম থাকে। চলতি মরশুমে তাপমাত্রার পারদ অনেকখানি কমে গিয়েছিল। কিন্তু গরমের দাপটে আবহাওয়ার অনেকটাই পরিবর্তন হয়। শীত শেষের এই মরশুমে বাতাসে নানান ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তাই সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া বছরের এই সময় শুষ্ক। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। তাই নানান ধরনের অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন শরীর সহজে মেনে নিতে পারে না। পেশি ও মস্তিষ্কের স্নায়ুর পরিবর্তিত পরিবেশ মানিয়ে নিতে সময় লাগে। তার ফলে শরীর বেঁকে বসে। হজমের সমস্যা থেকে পেশির খিঁচুনির মতো নানান ভোগান্তি তৈরি হয়। তাই এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাছাড়া আগামী সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে বোর্ড পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এই অবস্থায় তাদের শরীরের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    সুস্থ থাকার কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    আগাম গরমে বাড়তে পারে ভাইরাসঘটিত জ্বর ও কাশি।‌ তাই সংক্রমণ ঠেকাতে কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীত কমে গেলেও সন্ধ্যার পরে কিংবা ভোরে হালকা ঠান্ডা থাকে। তাই এই সময়ে বাইরে বেরোলে অবশ্যই কান, গলা ঢাকা দেওয়া পোশাক পরা জরুরি। তাহলে আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি কমানো যাবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই এই আবহাওয়ায় কাশি ও গলা ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন। আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন থেকে অনেক সময় জ্বর হয়। ভোগান্তি বাড়ে।

    বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ

    বছরের এই সময়ে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়। ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই শিশু ও বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। তাছাড়া ট্রেন-বাস-অটোর মতো গণপরিবহণ ব্যবহারের সময় সকলকেই মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে অনেকেই কাশি-সর্দি-জ্বরে ভুগছেন। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।

    সংক্রমণ ঠেকাতে হাত ধোয়া জরুরি

    বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই হাত ধোয়া জরুরি। তাতে নানান সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হয় বলেই মত চিকিৎসকদের একাংশের।
    খাবার খাওয়া নিয়েও বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। বিশেষত পরীক্ষার্থীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। এই আবহাওয়ায় পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। ঋতু পরিবর্তনের সময় হজমের গোলমাল হয়। তাপমাত্রার হঠাৎ বদলের জেরে শরীরের একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। তাই হজমের গোলমাল, পেটের অসুখ, বমির মতো ভোগান্তি কমাতে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারি, অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার হজমের সমস্যা তৈরির পাশাপাশি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত‌্যন্ত জরুরি। তাই বিশেষ করে রাতের দিকে তাদের হালকা খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে পেশির খিঁচুনি‌ এড়াতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই আবহাওয়ায় নিয়মিত শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শারীরিক কসরত করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। নানান সমস্যা এড়ানো যায়‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যে বাড়ছে এপিলেপসি (Epilepsy in West Bengal) বা মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গোটা দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি এবং নানান জটিলতা তৈরি করে। তাই প্রথম থেকেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি (Epilepsy Symptoms Prevention) বলেই মত চিকিৎসক মহলের।

    দেশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা কত?

    সর্বভারতীয় এক সমীক্ষায় সম্প্রতি জানা গিয়েছে, গোটা ভারতেই এপিলেপসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সঙ্কট। ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে প্রতি ১০০০ জনে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ জন। শহরে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। প্রতি ১০০০ জনে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ জন। পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় ১০০০ জনে এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) সংখ্যা ১৫ জন। পুরুষদের মধ্যে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেশি। ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ পুরুষদের ১০০০ জনের মধ্যে ৩৭ জন এপিলেপসিতে আক্রান্ত হন। কলকাতা সহ বড় শহরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    কেন রাজ্যে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের একটি বড় অংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। যারা জীবনের কোনও একটা সময় স্নায়বিক সমস্যায় ভুগেছেন। আবার অনেকের স্ট্রোক হয়েছে কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো জটিল সমস্যা রয়েছে। তাই এপিলেপসির (Epilepsy in West Bengal) মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রোকের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিমেনশিয়ার মতো সমস্যাও বাড়ছে। তাই এপিলেপসির মতো জটিলতায় আরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

    কোন বয়সে এপিলেপসি হওয়ার ঝুঁকি থাকে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার সীমারেখা টানতে পারে না। শিশুর জন্মের পরে প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এই রোগ দেখা দিতে পারে। আবার সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ পঞ্চাশ কিংবা পঞ্চান্ন বছর বয়সে নতুন ভাবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হলে বছর বারো বয়সের পরে রোগের প্রকোপ অনেকখানি কমে। শিশুদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তুলনায় বয়স্কদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। ৫০ কিংবা ৬০ বছর বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ তুলনায় জটিল হয়ে ওঠে।

    কেন হয় এপিলেপসি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য একধরনের শক্তি তৈরি হয়। যা শরীরের জন্য অতিরিক্ত। আর তার ফলেই খিঁচুনির মতো রোগ দেখা যায়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এপিলেপসি বলা হয়।
    শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন মস্তিষ্কে ঠিকমতো অক্সিজেন না পৌঁছলে জন্মের পরেই শিশু এপিলেপসি আক্রান্ত (Epilepsy in West Bengal) হতে পারে। এছাড়াও ১-২ বছর বয়সে কোনও জটিল ভাইরাস ঘটিত অসুখ, মেনিনজাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হলে শিশুর এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এপিলেসসি আক্রান্ত হওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে। মূলত স্ট্রোকের কারণেই বয়স্কেরা এই রোগে আক্রান্ত হন। এছাড়া, কোনও ধরনের দূর্ঘটনার ফলেও এই রোগ হতে পারে। পথ দূর্ঘটনা কিংবা অত্যন্ত গভীর মানসিক চাপের জেরে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তার ফলে এপিলেপসি হতে পারে। আবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়ে। তার জেরেও এপিলেপসি হতে পারে।

    ঘুমের মধ্যেই কি রয়েছে সুস্থ থাকার দাওয়াই?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়। তবে এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ (Epilepsy Symptoms Prevention) সম্ভব। ঘন ঘন খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো শরীরের জন্য বিপজ্জনক। তাতে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের সুস্থ থাকা জরুরি। কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের স্নায়ুর বিশ্রাম সবচেয়ে জরুরি। তাই পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্তের নিয়মিত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তাতে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাবে। স্নায়ু অস্বাভাবিক অতিরিক্ত সক্রিয় হবে না। মানসিক চাপ তৈরি হয়, এমন কাজ কখনোই করা উচিত নয়। এপিলেপসি আক্রান্তের পাশপাশি তার পরিবারকেও এদিকে নজর দিতে হবে বলে জানাচ্ছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, মানসিক চাপ স্নায়ুর উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তাঁদের মানসিক চাপ দেওয়া চলবে না। এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে হবে। খাবারে যাতে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং তেল মশলা না থাকে সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এগুলো পর্যাপ্ত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রয়োজনে নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ এতে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কিন্তু স্নায়ু্র কাজ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া চিকিৎস যদি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন, তাহলে নিয়ম মেনে সেই ওষুধ খেতে হবে বলেও পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ মহল।

  • Heart Health in Spring: বসন্তে কি বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি? কেন বাড়তি খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Heart Health in Spring: বসন্তে কি বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি? কেন বাড়তি খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শীত আর বেশি দিন নেই। পলাশ ফুল জানান দিচ্ছে বসন্ত প্রায় দোড়গোড়ায়। বছরের এই সময়ে প্রকৃতি নানান রঙে সেজে ওঠে। শীতের আমেজ সরে গিয়ে, গরমের আভাস দেয় বসন্ত! তবে কবির লেখায় বসন্ত নিয়ে নানান রঙিন শব্দ চয়ন থাকলেও বসন্ত কিন্তু বিপজ্জনক! অন্তত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বসন্তে শরীরের দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। না হলেই বড় বিপদ হতে পারে। বিশেষত হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয় বসন্ত।

    বসন্তে কেন বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা কমে। আর বসন্ত এলেই হঠাৎ করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী হয়। আর আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে রক্তচাপে। শরীরের রক্তচাপ হঠাৎ করেই ওঠানামা করতে থাকে। পেশির সংকোচন ও প্রসারণের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। আর তার জেরেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। রক্তচাপ ঘন ঘন ওঠানামা করলে কিংবা পেশি সংকোচন-প্রসারন ঠিকমতো না হলে হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতার উপরেও প্রভাব পড়ে। তার ফলেই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও বাড়ে। তাই বসন্ত ঋতুতে হৃদপিণ্ডের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

    কাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে ভারতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বয়স আর সীমারেখা মানছে না। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। তাই বয়স নয়, শরীর কেমন আছে, সেদিকে সকলের খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষত পুরুষদের এই বিষয়ে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। কারণ এ দেশে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, মহিলাদের তুলনায় ছেলেরাই হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হন। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে রক্তচাপ স্বাভাবিক কিনা, তা যাচাই করা জরুরি। বয়স কুড়ি হোক বা পঞ্চাশ, বছরের এই সময়ে অন্তত পনেরো দিন অন্তর রক্তচাপ যাচাই জরুরি। রক্তচাপ ঘন ঘন ওঠানামা করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

    খাদ্যাভ্যাসে বাড়তি নজর থাকুক

    বসন্তে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই খাবারে বাড়তি নজরদারি জরুরি। এই সময়ে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভোগেন। হজমের সমস্যা রক্তচাপকেও বাড়িয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই সময়ে কম তেল মশলা জাতীয় হালকা খাবার খাওয়া উচিত। যাতে সহজেই হজম হয়। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, বাদাম জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। এতে পেশির সংকোচন প্রসারণ ঠিকমতো হয়। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা ঠিক হয়। তাছাড়া নিয়মিত সব্জি খাওয়া জরুরি। সবুজ সব্জি একদিকে হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আবার পালং শাক, পটল, ঝিঙের মতো ভিটামিন ও খনিজ সম্পদ ভরপুর সব্জি হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাই যাদের কোলেস্টেরল বেশি, এই সময়ে তাঁদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। দেহের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। স্নায়ু ও পেশির সক্রিয়তা বজায় রাখে। এর ফলে হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা ঠিক থাকে। তাই হৃদরোগ এড়াতে যোগাভ্যাস জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • HIV Alert in West Bengal: এক সপ্তাহে নতুন করে সংক্রমিত শতাধিক! রাজ্যে জোরালো থাবা এইচআইভি-র, কীভাবে বাড়ছে সংক্রমণ?

    HIV Alert in West Bengal: এক সপ্তাহে নতুন করে সংক্রমিত শতাধিক! রাজ্যে জোরালো থাবা এইচআইভি-র, কীভাবে বাড়ছে সংক্রমণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যে এইচআইভি সংক্রমণের জোরালো থাবা। পরিযায়ী শ্রমিক কিংবা ভিন রাজ্য থেকে আসা বাসিন্দাদের থেকে নয়। এই রাজ্যে বসবাসকারী প্রায় শতাধিক ব্যক্তির দেহে এই ভাইরাস নতুনভাবে সংক্রমণ হয়েছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহে প্রায় ১০০-র বেশি মানুষ নতুন করে এইচআইভি সংক্রামিত হয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রশাসনিক মহলের।

    কোন জেলায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এইচআইভি? কী বলছে স্বাস্থ্য দফতর?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানে এক যুবকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, তিনি এইচআইভি আক্রান্ত। তারপরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে আরও একাধিক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। এরপরে প্রায় ৯০ জনের দেহে এই ভাইরাস পাওয়া যায়। যারা বর্ধমানের বাসিন্দা। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং হুগলিতেও নতুন করে এইচআইভি আক্রান্ত পাওয়া গিয়েছে। আক্রান্তের ৯৯ শতাংশ পুরুষ। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। অধিকাংশ আক্রান্ত সমকামী পুরুষ। তাই নতুন করে এইচআইভি আক্রান্তদের অধিকাংশই পুরুষ।

    কেন রাজ্যে হঠাৎ এইচআইভি সংক্রমণ উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ল?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের এক বছর তিরিশের যুবক বেশ কয়েক মাস ধরেই নানান শারীরিক অসুবিধায় ভুগছিলেন। তাঁকে পরীক্ষা করেই এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি জানা যায়। তাঁর সূত্র ধরেই এরপর কয়েকশো মানুষের শারীরিক পরীক্ষা চলে। হঠাৎ করেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ অসচেতনতা। এমনটাই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ আক্রান্ত পরস্পরের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত। সেই পরিচয় থেকেই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিধি না মেনেই তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ফলেই এইচআইভি সংক্রমণ এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় সুরক্ষাবিধি মেনে না চলা এবং একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। তাই একসঙ্গে এত মানুষ নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

    আক্রান্তদের জন্য কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগ নিয়ে নানান সামাজিক ছুৎমার্গ আছে। তাই সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখেই এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু রোগীর এই রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা জরুরি। সময় মতো ওষুধ নেওয়া প্রয়োজন। যাতে রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এইচআইভি ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি নষ্ট করে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত একাধিক রোগে ভুগতে পারেন। এই ভাইরাসের শক্তি কমাতে না পারলে স্বাভাবিক জীবন যাপন কঠিন। তাই রোগের চিকিৎসা জরুরি‌। তাছাড়া এই রোগ রয়েছে কিনা সে সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন। তাই আক্রান্তের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এমন সকলেই যাতে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করান, সে সম্পর্কেও প্রশাসনের তরফে লাগাতার প্রচার জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই রোগ যাতে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য আরও বেশি পরীক্ষা জরুরি। তবেই রোগ নির্ণয় হবে। ফলে সংক্রমণ আটকানো সহজ হবে।

    স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

    স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, পূর্ব বর্ধমানের কালনা সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গত কয়েক সপ্তাহে এইচআইভি ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছে। তাই পূর্ব বর্ধমানে ও তার আশপাশের এলাকায় লাগাতার প্রচার কর্মসূচি করা হচ্ছে। আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলে আরও বেশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তেরা যাতে কোনও রকম সামাজিক হেনস্থার শিকার না হয়, সেদিকেও নজরদারি রয়েছে। পাশপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হতেই অস্বাস্থ্যকর ভাবে, অসুরক্ষিতভাবে ঘনিষ্ঠ হলে কী ধরনের বিপদ হতে পারে, সে নিয়েও সচেতনতা কর্মসূচি চলছে!

  • Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কোথাও রাস্তার পাশে, আবার কোথাও আবর্জনার স্তূপের মাঝেই পড়ে রয়েছে নিথর দেহ! চেন্নাই শহর জুড়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় কয়েক’শো কাকের মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কাকের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলেই জানা গিয়েছে। বিপদ বাড়াচ্ছে মানব দেহের সংক্রমণের (Bird Flu Alert)। তাই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    কাকের মৃত্যু কোন বিপদের ইঙ্গিত করছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এইচ৫এন১ ভাইরাসের (H5N1 Virus) জেরেই কাকের মৃত্যু হচ্ছে। আর এই ভাইরাস ক্ষতিকারক। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাকের মৃত্যু নতুন সংক্রমণের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ভাইরাস পাখির শরীরে সংক্রামিত হয়। আর মৃত পাখির দেহ থেকেই এই রোগ সংক্রমণ অন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে‌ পড়ে। কাকের শরীরেই এই রোগ আটকে থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই ভাইরাস অন্যান্য পাখিদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষত পায়রা, হাঁস, মুরগির শরীরে এই ভাইরাস সহজেই সংক্রামিত হয়।

    মানব দেহে কি এই রোগ ছড়াতে পারে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানব দেহেও এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমণ ঘটতে পারে। মৃত পাখির দেহ স্পর্শ করলে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রিতে কর্মরত ব্যক্তিদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া যারা বর্জ্য পরিষ্কার করেন, তাঁদের ও সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আক্রান্ত পাখির শরীরের লালা ও রস থেকেই মূলত এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ কিংবা মৃত পাখি স্পর্শ করলে এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত (Bird Flu Alert) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে‌ যায়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে কোন সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও সংক্রামক রোগ আটকানোর প্রধান উপায় হলো আগাম সতর্কতা। তাই এই ভাইরাস রুখতেও সতর্কতা জরুরি।‌ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রি ফার্মে কর্মরত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা (Bird Flu Alert) অবলম্বন করতে হবে। হাতে গ্লাভস পরা এবং মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করেই কোনও ফার্মে একাধিক পাখির মৃত্যু হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া মৃত পাখিকে স্পর্শ করার আগে মাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। তারপরে সেই কর্মীর হাত ও পা ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচ্ছন্ন করা জরুরি। যাতে ভাইরাস সংক্রমণ না হতে পারে।

    আক্রান্ত হলে কি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় (Bird Flu Alert) হলে দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই রোগী দেরিতে আসেন। রোগ নির্ণয় করতে অনেকটা সময় চলে যায়। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তারজন্য প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় জরুরি। এলাকায় পাখির মৃত্যু হচ্ছে কিনা সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সঠিক তথ্য থাকা জরুরি। জ্বর, গলা ব্যথা, মাথার যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই উপসর্গ সহ একাধিক রোগী দেখা দিলে প্রশাসনের আগাম সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীদের দ্রুত শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সম্পর্কে দ্রুত নিশ্চিত হতে হবে। তবেই সংক্রামিত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

    রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা নয়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও ভাইরাসঘটিত অসুখ (Avian Flu Alert) সম্পর্কে নানান ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। যা সংক্রমণ আটকানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা যাতে না ছড়ায় প্রশাসনকে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমিত হলেই চিকেন খাওয়া যাবে না। এমন ধারণা ভুল। যেকোনও প্রাণীজ প্রোটিন সব সময় ভালোভাবে পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ রান্না করে খাওয়া উচিত। তাই হাঁস কিংবা মুরগীর মাংস খাওয়ার সময় ঠিকমতো সম্পূর্ণ রান্না করা জরুরি।‌ রান্না মাংস থেকে রোগ ছড়ায় না। ফার্মে কাজ করলেই এই রোগে আক্রান্ত হবে, এমন ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

  • Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্যান্সার (Cancer) রোগ নির্ণয় আর তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া জুড়ে শুধুই রোগী থাকেন না। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া জুড়ে থাকেন তাঁর পরিবার। ক্যান্সার শুধুই একজন ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে না। বরং ক্যান্সারের প্রকোপ সমাজ জুড়ে। তাই ক্যান্সার রুখতেও সামাজিক ঐক্য (Social Unity in Cancer Prevention) জরুরি। একা নয়। ক্যান্সার রুখতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে (World Cancer Day) এই কথাই জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)। ভারত সহ বিশ্বের একধিক দেশে ক্যান্সারের দাপট বাড়ছে। বয়সের সীমারেখায় এই রোগ আটকে নেই। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফুসফুস, লিভার কিংবা অগ্নাশয়ের ক্যান্সার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সমস্ত ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে তরুণ প্রজন্মের হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পুরুষদের মধ্যে যেমন ফুসফুস, গলার ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে, মহিলাদের মধ্যে স্তন এবং জরায়ুর ক্যান্সারের প্রকোপ মারাত্মক। বিশেষত খুব কম বয়সি মহিলারা অর্থাৎ তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বহু মহিলা স্তন ক্যান্সার কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। যা খুবই উদ্বেগজনক। তাই ক্যান্সার রুখতে (Fight Against Cancer) সার্বিক সক্রিয়তা জরুরি। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্যের প্রয়োজনে বাড়তি গুরুত্ব কেন?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হচ্ছে, ক্যান্সার রুখতে হলে শুধুই আক্রান্তের চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সামাজিক পরিবর্তন (Social Action)। বিশ্ব জুড়ে বাড়তে থাকা ক্যান্সারের দাপট রুখতে তাই দুই দিকে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, একদিকে যেমন আক্রান্তের চিকিৎসা জরুরি। তাঁর পরিবারের পাশে থাকা প্রয়োজন। তেমনি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। গত কয়েক দশকে বিশ্ব জুড়ে স্থূলতার সমস্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ওজন ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। লিভার, কিডনি, অগ্নাশয় কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারের কারণ হয়ে উঠছে এই স্থূলতা। দেহের ওজন অতিরিক্ত হয়ে গেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আবার লিভার, পাকস্থলী, অগ্নাশয়ের ওপরেও খারাপ প্রভাব পড়ে‌। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে। তাই ওজন নিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতনতা জরুরি (Fight Against Cancer)। স্কুল স্তর থেকেই ওজন নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত শারীরিক কসরত করা দরকার। খাদ্যাভ্যাসেও নজরদারি প্রয়োজন। এগুলো সামাজিক শিক্ষা। অর্থাৎ, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া খারাপ অভ্যাস, অনিয়মিতভাবে খাওয়া উচিত নয়, নিয়মিত শারীরিক কসরত করার অভ্যাস থাকা জরুরি, এই সবগুলোই সব সময় আলোচনায় থাকা প্রয়োজন। যাতে মানুষ‌ এই সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়। তাহলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি (Fight Against Cancer) অনেকটা কমবে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকে ‘উদযাপন’ কিংবা ‘প্রমোশন’-র পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকেই উদযাপনের মাপকাঠি করার কথাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কু-অভ্যাস ত্যাগ

    ওজনের পাশপাশি ধুমপানের মতো খারাপ অভ্যাস নিয়েও সামাজিক সচেতনতা (Fight Against Cancer) জরুরি। মদ্যপান, ধুমপানের অভ্যাস কখনোই কোনো আনন্দ উদযাপনের অংশ নয়। বরং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। ফুসফুস, গলা রং, মুখ , লিভার সহ একাধিক ক্যান্সারের কারণ। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা (Cancer Awareness) জরুরি। তাই আক্রান্তের পাশে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার রুখতে সামাজিক জোটবদ্ধ সচেতনতাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    ভারতে কোন কোন ক্যান্সার বিপজ্জনক? কোন ক্যান্সার আটকানো সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত কয়েক বছরে অগ্নাশয়, লিভার রং, ফুসফুসের ক্যান্সার মারাত্মকভাবে বেড়েছে। তবে সতর্কতাকে হাতিয়ার করে এই ক্যান্সার আক্রান্তের পরিসংখ্যান পরিবর্তন সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ক্যান্সার চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, লিভার, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপান। এই দুই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমবে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ ধূমপান ও মদ্যপানে আসক্ত। এই আসক্তি অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গলা ও মুখের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ ধূমপানে অভ্যস্ত। লিভারের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীরা মদ্যপানে আসক্ত। তাই এই দুই অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের বোঝা (Fight Against Cancer) কমবে।

    সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার

    এছাড়া পরিবেশ দূষণ নিয়েও সচেতনতা জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে কলকাতা, দিল্লি সহ দেশের একাধিক বড়‌ শহরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বায়ুদূষণ বেড়েছে। এই নিয়ে প্রশাসনের তরফেও আরও বেশি সক্রিয়তা জরুরি। সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশপাশি প্রশাসনের সক্রিয়তা থাকলে তবেই দূষণ রোধ সম্ভব। বায়ুদূষণ ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই দিকেও নজরদারি জরুরি। তাছাড়া ঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হলে ক্যান্সারের জটিলতা এড়ানো সহজ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন ক্যান্সার এবং জরায়ুর ক্যান্সার অনেক সময়েই দেরিতে নির্ণয় হয়। তাই জটিলতা বাড়ে। তাঁদের পরামর্শ, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা (Cancer Awareness) থাকা প্রয়োজন। তাহলে এই দেশে এই রোগ আটকানো (Fight Against Cancer) আরও সহজ হবে।

     

  • Bengali Spices: বাঙালি মশলা আর পদেই নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রণা! রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস আক্রান্তদের জন্য উপকারি কোন খাবার?

    Bengali Spices: বাঙালি মশলা আর পদেই নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রণা! রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস আক্রান্তদের জন্য উপকারি কোন খাবার?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাতের কব্জি, পায়ের পাতা কিংবা হাঁটু হঠাৎ করেই ফুলতে শুরু করে।‌ যন্ত্রণার তীব্রতার জেরে সামান্য কয়েক লাইন লেখা কিংবা ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন হয়ে যায়‌। বয়স এই রোগের সীমারেখা মানে না। পরিস্থিতি অনেক সময়েই এমন হয়ে যায় যে স্বাভাবিক জীবন‌যাপন বেশ কঠিন হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সাধারণ হাড়ের সমস্যা নয়। এই রোগের নাম রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনও বয়সেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। জীবন যাপনের সামান্য কিছু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবশ্য যন্ত্রণাকে কাবু করে স্বাভাবিক জীবন যাপনে সাহায্য করতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হল একধরনের অটোইমিউন রোগ। অর্থাৎ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি নিজের শরীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ শক্তি শরীরের বিভিন্ন সংযোগস্থলের আস্তরণের উপরে হানা দেয়। সেই আস্তরণে ক্ষয় তৈরি করে। এর ফলে হাত, পা, কনুই, হাঁটু, কোমর দুর্বল হয়ে যায়। যন্ত্রণা হয়। হাত-পা অসাড় হয়ে যায়। স্বাভাবিক কাজ করতেও কষ্ট হয়।

    কেন হয় রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও একটি কারণ নেই। তবে মূলত জিনঘটিত কারণে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখা যায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে বংশানুক্রমিক ভাবে এই রোগ পরবর্তী প্রজন্মের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। জিন ঘটিত কারণের পাশপাশি ধূমপানের অভ্যাস এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ধূমপানের অভ্যাস শরীরে একাধিক পরিবর্তন ঘটায়। হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তনের পাশপাশি রক্ত ও স্নায়ুর উপরেও এই অভ্যাস গভীর প্রভাব ফেলে। এর জেরেও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই‌ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। হরমোন ঘটিত কারণেই মহিলাদের এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে তাঁরা জানাচ্ছেন।‌

    কেন এই রোগ বাড়তি উদ্বেগজনক?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ সেরে ওঠা সম্ভব নয়। এই রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। এই রোগে আক্রান্ত হলে স্বাভাবিক জীবন যাপন অনেক সময়েই ব্যহত হতে পারে। দীর্ঘ সময় তীব্র যন্ত্রণায় ভোগার জেরে মানসিক স্বাস্থ্য ও ভেঙে পড়ে। অনেক সময়েই অবসাদ গ্রাস করে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকী, বন্ধ্যত্বের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

    কোন বাঙালি মশলা আর পদ কাবু করতে পারে যন্ত্রণা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বেশ‌ কিছু ঘরোয়া মশলা আর খাবার। আর সেই তালিকায় প্রথমেই থাকছে হলুদ এবং আদার মতো মশলা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হলুদ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলে। তাই রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে রান্নায় নিয়মিত হলুদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। আদা ব্যথা কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আদা প্রদাহ কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই তীব্র যন্ত্রণা হলে রান্নায় আদা বাটা মেশানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত আদা খেলে যেকোনও ধরনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

    নিয়মিত বাদাম খান…

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অটো ইমিউন ডিজিজ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি যাতে শরীরের শত্রু না হয়ে ওঠে সেটা নিয়ন্ত্রণ করাই এই রোগের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর সেই কাজে সাহায্য করে কাঠবাদাম, আখরোটের মতো বাদাম জাতীয় খাবার। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া সিডের মতো খাবার খেলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার সংযোগস্থলের আস্তরণের ক্ষয় কমবে।

    পালং শাক

    বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত পদ হল পালং শাকের তরকারি। আর এই খাবার শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। একাধিক ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে ভরপুর থাকার জেরেই এই উপকার হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, পালং শাক রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ সাহায্য করে।

    পাতিলেবু

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কাবু রাখতে যে কোনও ধরনের লেবু নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, খাবার পাতে পাতিলেবু রাখা বাঙালির চিরকালীন অভ্যাস।‌ গরমে আবার অনেকেই লেবুর সরবত খান। এই ধরনের অভ্যাস রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে বাড়তি উপকার দেবে। পাতিলেবুর পাশপাশি কমলালেবু খেলেও সমান উপকার পাওয়া যাবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • World Leprosy Day 2026: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিশু কুষ্ঠ রোগী! রাজ্যের জন্য কেন বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    World Leprosy Day 2026: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিশু কুষ্ঠ রোগী! রাজ্যের জন্য কেন বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রোগ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু রোগীর সামাজিক হেনস্থা হয়ে উঠছে মূল চ্যালেঞ্জ। ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব কুষ্ঠ রোগ সচেতনতা দিবসে (World Leprosy Day 2026) তাই রোগ ও রোগ সংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারণা রোধেই জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে কুষ্ঠ রোগ শুধুই স্বাস্থ্য সমস্যা নয়। এই রোগ সামাজিক জটিলতাও তৈরি করে। তাই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি কুষ্ঠ নিয়ে যে সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, সে সম্পর্কেও আরও বেশি আলোচনা জরুরি। যাতে ভুল ধারণা নষ্ট হয়। রোগীর সামাজিক হেনস্থা বন্ধ হয়। ভারতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিশু কুষ্ঠ রোগী। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal Child Leprosy Cases) সহ একাধিক রাজ্যে শিশুদের কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যা এই রোগের প্রবল উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত কুষ্ঠ মুক্ত হওয়ার পথে। তবে শিশুদের মধ্যে কুষ্ঠ রোগের উপস্থিতি বাড়তি উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে নতুন করে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে ৪.৬৮ শতাংশ শিশু। যদি তুলনামূলক ভাবে শিশু আক্রান্তের সংখ্যা ২০১৪-১৫ সালের তুলনায় কম। তবুও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু কুষ্ঠ রোগীর পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে সমাজে এই রোগের গভীর উপস্থিতি। তাই এ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হয়।

    রাজ্যের জন্য কেন বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সাতটি রাজ্যে কুষ্ঠ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। আর সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তাই এই রাজ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (West Bengal Child Leprosy Cases)। তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট কুষ্ঠ আক্রান্তের ৭৩ শতাংশ রোগীই ভারতের এই সাত রাজ্যে থাকে। যাকে ‘উচ্চ প্রাদুর্ভাব’ রাজ্য হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রে কুষ্ঠ রোগের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় কুষ্ঠ রোগ যথেষ্ট উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।‌ বিশেষত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরের কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (West Bengal Child Leprosy Cases)। শুধু মাত্র পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রতি বছর কমবেশি ৫৫০ জন নতুন করে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার মধ্যে ৩০ জন শিশু। এছাড়াও ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলেই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কুষ্ঠ রোগ প্রকোপ কমানোর মূল হাতিয়ার সম্পূর্ণ চিকিৎসা করানো। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই রোগের চিকিৎসা করানো হয়। মাল্টি ড্রাগ থেরাপির মাধ্যমে এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগী সম্পূর্ণ চিকিৎসা করান না। সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগী চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এর ফলে জীবাণু সক্রিয় থাকে। সংক্রমণের ঝুঁকিও বজায় থাকে। চিকিৎসা সম্পূর্ণ করালে রোগ নির্মূল হওয়া সম্ভব। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুদের কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। শিশুর ত্বকে কোনও বিশেষ‌ দাগ থাকলে, কোনও নির্দিষ্ট অংশে অনুভূতিহীন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় হলে তবেই চিকিৎসা সম্ভব। দ্রুত স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব।

    কুষ্ঠ নিরাময়ে কোন দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কুষ্ঠ রোগের মূল চ্যালেঞ্জ সামাজিক হেনস্থা বন্ধ করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা (World Leprosy Day 2026) বৃদ্ধি জরুরি। পাশপাশি রোগীর সামাজিক হেনস্থা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। যাতে রোগী রোগ লুকিয়ে না রাখেন।‌ বিশেষত শিশুরা আক্রান্ত হলে , পরবর্তীতে যাতে তাদের কোনো রকম সামাজিক হেনস্থার সম্মুখীন না হতে হয়, সে দিকে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি। কুষ্ঠ ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ। এই রোগ কোনও বংশানুক্রমিক রোগ নয়। কোনো পাপের ফল কুষ্ঠ নয় (West Bengal Child Leprosy Cases)। জীবাণু সংক্রমণের দ্বারা এই রোগ হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সেই সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা কর্মসূচি জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

LinkedIn
Share