Tag: health tips

health tips

  • Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাড় কিংবা পেশির পাশপাশি মস্তিষ্কের শক্তি (Brain Power) কতখানি রয়েছে! বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো থাকছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত চল্লিশ বছরের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বাড়তি নজরদারি জরুরি। না হলেই বাড়বে বিপদ! অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ইংল্যান্ডের একদল চিকিৎসক গবেষক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখেছেন, বিশ্বজুড়ে কমছে স্মৃতিশক্তি। বিশেষত চল্লিশ বছরের পরে মনে রাখার ক্ষমতা হ্রাস (Memory Problems After 40) পাচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। অ্যালজ্যাইমার (Alzheimer’s Disease) কিংবা ডেমেনশিয়ার (Dementia) মতো নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসের (Brain Function Slowing Down) একাধিক কারণের মধ্যে অন্যতম হলো উপযুক্ত খনিজ পদার্থের সরবরাহের অভাব। ফলে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ক্ষমতা কমতে থাকে।

    কোন খনিজের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের (Magnesium Benefits Brain) অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে ম্যাগনেশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশি এবং হাড় মজবুত রাখতে এই খনিজ পদার্থ খুব জরুরি। তবে হাড়-পেশির পাশাপাশি মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতেও এই খনিজ খুব জরুরি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমছে।

    মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে ম্যাগনেশিয়াম কীভাবে সাহায্য করে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের একাধিক জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া ঠিকমতো ভাবে চলতে সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম। এই খনিজ পদার্থের জোগান ঠিকমতো থাকলেই জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া হবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তার উপরেও এর প্রভাব পড়বে।
    ম্যাগনেশিয়াম ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম এই ক্লান্তিবোধ কমায়। ফলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
    মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে উত্তেজনা প্রশমন জরুরি। অতিরিক্ত জেলা উত্তেজিত হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুর উপরে বিশেষ প্রভাব ফেলে। এই উত্তেজনা প্রশমনে বিশেষ সাহায্য করে। তাই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকিও কমে।

    কেন চল্লিশের চৌকাঠে স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ অ্যালজাইমারের শিকার। ভারতেও এই সমস্যা বাড়ছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন‌। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স ৬০-র চৌকাঠ ছুঁলেই অনেকেই এই রোগে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু রোগের জানান পাওয়া যেতে পারে চল্লিশের পরেই। নানান উপসর্গ সম্পর্কে সতর্ক হলেই পরিস্থিতি বোঝা সহজ হয়। আর রোগের ঝুঁকি কমাতে তাই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। চল্লিশ বছরের পর থেকেই তাই স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বিশেষত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা যাতে না কমে সেদিকে নজরদারি জরুরি।

    কীভাবে সহজে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কিছু খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে। শরীরের প্রয়োজনীয়তা চাহিদা মেটাতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও বাদাম জাতীয় খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দেয়। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কাজুবাদাম যে কোনও একধরনের বাদাম নিয়মিত খেলেই ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সহজ হবে। ম্যাগনেশিয়ামের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে নিয়মিত যে কোনও ধরনের ডাল‌ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডালে প্রোটিনের পাশপাশি প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। ডালের পাশাপাশি ছোলা, মটরের মতো দানাশস্য নিয়মিত খাওয়া জরুরি। সব্জির মধ্যে পালং শাক ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সহজেই পূরণ করে‌। এছাড়া কুমড়োর বীজ, অ্যাভোকাডো, টক দই ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। এগুলো নিয়মিত খেলে ম্যাগনেশিয়াম জোগান ঠিকমতো হয়‌।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা হোক কিংবা অন্ত্রের সমস্যা, মানসিক অবসাদ-বিষন্নতার মতো জটিল সমস্যা, সবটাই নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে একটি হরমোন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ডোপামিন হরমোন নামে একটি হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমানো সহজ হয়। ডোপামিন হরমোনকে ‘সুখ’ হরমোন বা ‘feel good’ হরমোন বা ‘happy’ হরমোন বলা হয়ে থাকে। এই সুখ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কয়েকটি বিষয়ে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।

    কোন কোন রোগ নিয়ন্ত্রণে ডোপামিন হরমোন সাহায্য করে?

    রোগ নিরাময়ে সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও ডোপামিন হরমোন একাধিক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা স্বাভাবিক রাখে এই হরমোন। হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে হৃদপিন্ড, ফুসফুস, অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ডোপামিন হরমোন স্ট্রেস হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই জটিল অস্ত্রোপচারের পরে শরীরে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম ডোপামিন হরমোন দেওয়া হয়। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরের নিজস্ব উপায়ে এই হরমোন ক্ষরণ ঠিকমতো হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

    অন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই হরমোন বিশেষ উপকারি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই বারবার মলত্যাগ করার প্রবণতা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমের মতো উপসর্গ কমাতে এই সুখ হরমোন বিশেষ সাহায্য করে। বিপাক ক্রিয়া যাতে ঠিকমতো হয়, সেই কাজেও এই হরমোন বিশেষ উপকারি। ডোপামিন হরমোন সবচেয়ে বেশি উপকারি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে অবসাদ, বিষন্নতা, উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে কোন খাবার সাহায্য করে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখার চাবিকাঠি খাবারের মধ্যেই রয়েছে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক ভাবে হরমোন ক্ষরণ করার জন্য খাবারেই ভরসা রাখছেন তাঁরা।

    • ● পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম, চিকেন, মাছ কিংবা মাংসের পদ খেলে শরীরে এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। টাইরোসিন নামে অ‌্যামিনো অ্যাসিড এই হরমোন উৎপাদনে বিশেষ সাহায্য করে। আর প্রাণীজ প্রোটিনে এই অ্যাসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
    • ● কলা, অ্যাভোকাডো, ব্রোকলি, পালং শাকের মতো সব্জি ও ফল ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে‌। খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিনে ভরপুর এই সব্জি ও ফল বিশেষ উপকারি।
    • ● কাঠবাদাম ও কুমড়োর বীজ ম্যাগনেশিয়াম ও টাইরোসিন ভরপুর। তাই ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য রাখতে বিশেষ সাহায্য করে।
    • ● টক দই, পনীরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে টাইরোসিন থাকে। এই খাবারগুলো ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে।
    • ● তবে খাবারের পাশপাশি শরীরে ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত শারীরিক কসরত করা, ভালো গান শোনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Postpartum Depression: দেশের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার! কেন এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে?

    Postpartum Depression: দেশের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার! কেন এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেই নিঃশব্দে হানা দিচ্ছে। চারপাশের আনন্দের মাঝেও মায়ের মনের গভীরে ক্ষত তৈরি করছে। আর বেশিরভাগ সময়েই সেই রোগের টের পাওয়া যাচ্ছে না। অসচেতনতার জেরেই সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে। রোগ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং রোগের চিকিৎসা না করলে পরবর্তীতে মা, সন্তান ও পরিবারের জন্য বড় সঙ্কট হয়ে উঠতে পারে। এমনটাই জানালেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। দেশজুড়ে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (Postpartum Depression) বা প্রসবোত্তর অবসাদ বা মাতৃত্বকালীন বিষণ্ণতায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সেই রকম তথ্য উঠে এসেছে। জানুয়ারি মাসে ম্যাটারনাল মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস (Maternal Mental Health Awareness) মাস পালন করা হয়। আর চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মায়েদের এই সমস্যা নিঃশব্দে ‘মহামারি’-র আকার ধারণ করছে‌।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য? কোন রাজ্যে সমস্যা বেশি?

    সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম অবসাদের (Depression in New Mothers) শিকার হন।‌ তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে, কর্নাটকের মতো রাজ্যে এই অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে মাতৃত্বকালীন অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। উত্তর ভারতে ১৫ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার হন।‌ দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে সেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক শহুরে জীবন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছোটো পরিবার এবং কাজ-পরিবার ব্যালেন্সের চাপ এই ধরনের অবসাদের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। অত্যাধিক সামাজিক প্রত্যাশা মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করছে।

    কেন পোস্টপার্টাম অবসাদ হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মা হওয়ার পরবর্তী কালে এই অবসাদ খুবই স্বাভাবিক একটি সমস্যা। বহু নতুন মা এই ধরনের সমস্যায় ভোগেন। সন্তানের জন্ম দেওয়ায় পরে মায়ের শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও‌ গভীর প্রভাব পড়ে। তাছাড়া সামাজিক পরিবর্তন মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলে। এই ধরনের অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পিছনে এই সামাজিক কারণকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মহিলা এখন কর্মজীবী। পরিবার ও কাজের মধ্যে ব্যালেন্স করা অনেক সময়েই কঠিন হয়ে পড়ে। সন্তান জন্মের পরে মায়েদের পরিবারে অনেকটাই দায়িত্ব বেড়ে যায়। অনেক সময়েই সেই দায়িত্ব পালনে নানান ত্রুটি হয়। যা তাকে সামাজিক হেনস্থার শিকার করে। ফলে নতুন মায়ের মধ্যে হতাশা জন্মায়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোর্টপার্টাম অবসাদের নেপথ্যে থাকে ‘ভালো মা’ হয়ে ওঠার প্রতিযোগিতা।

    কেন‌ পোস্টপার্টাম অবসাদ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে পোস্টপার্টাম অবসাদের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো এই রোগ সম্পর্কে অবহেলা এবং অসচেতনতা। সন্তানের জন্মের পরে নবজাতকের মতো নতুন মায়ের যত্ন প্রয়োজন। শারীরিক যত্নের পাশপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া জরুরি এই সম্পর্কে সচেতনতা খুব কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন‌ মা অবসাদের শিকার হলে তাকে নানান কটুক্তির শিকার হতে হয়। যা তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। পোস্টপার্টাম অবসাদ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।‌ এর ফলে মায়ের স্নায়ু ও হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা কমতে পারে। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বেড়ে‌ যায়। এমনকি মাতৃত্ব পরবর্তীতে আত্মহত্যার অন্যতম কারণ পোর্স্টপার্টোম অবসাদ‌ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের পাশপাশি আমেরিকা সহ বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশেও সম্প্রতি এই অবসাদ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আমেরিকান কলেজ অফ গাইনোকোলজি (ACOG) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পোস্টপার্টাম অবসাদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ালে নতুন মায়েদের ৬০ শতাংশ মৃত্যু হার কমানো‌ যাবে। তাই ২৩ জানুয়ারি বিশ্ব জুড়ে এই নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি পালনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া গেলে তবেই রোগ নির্ণয় সম্ভব। সন্তান জন্মের পরে সন্তানের দেখভালের সবটুকু মায়ের দায়িত্ব বলে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের দায়িত্ব মা ও বাবা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। পরিবারের অন্যান্যদের মায়ের যত্ন নেওয়া দরকার। নতুন মায়ের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। মা ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে না পারলে তার মানসিক চাপ তৈরি হবে। তাই নবজাতকের পাশপাশি মায়ের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া নতুন মা ছোটো ছোটো কারণে অতিরিক্ত রেগে গেলে, বিরক্ত হলে, একা থাকতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। কারণ পোস্টপার্টাম অবসাদের রুখতে প্রয়োজনীয় থেরাপি প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করলে সেই অবসাদ দীর্ঘমেয়াদি হবে না।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Dengue: নিপা ভাইরাসের মাঝেই রাজ্যে দাপট ডেঙ্গির! তীব্র শীতেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    Dengue: নিপা ভাইরাসের মাঝেই রাজ্যে দাপট ডেঙ্গির! তীব্র শীতেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নিপা সংক্রমণ (Nipah Virus) নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।‌ রাজ্যের একাধিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের শারীরিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিপা ভাইরাস আক্রান্ত নার্সের শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।‌ তারমধ্যেই বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে ডেঙ্গি (Dengue)। এমনটাই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, জানুয়ারি মাসে রাজ্য জুড়ে শীতের দাপট অব্যহত ছিল। কিন্তু এই আবহাওয়াতেও ডেঙ্গি তার উপস্থিতি জানান দিয়েছে। মশাবাহিত এই রোগ থেকে রাজ্যবাসীর রেহাই নেই। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    নতুন বছরে ডেঙ্গি পরিস্থিতি কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হয়েছে। শুধুমাত্র কলকাতাতেই ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩১৬ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতাতে ১ হাজার ৭৩৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি এবং হাওড়াতেও এক রকম ভাবে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেড়েছিলো। নতুন বছরে অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গোটা রাজ্যে প্রায় শতাধিক মানুষ নতুন করে ডেঙ্গি আক্রান্ত (West Bengal Dengue Cases) হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে ডেঙ্গি থেকে রেহাই পাওয়ার আশা করা যায়। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি অন্যরকম। জানুয়ারি মাসে রাজ্যে শীতের ঝড়ো ব্যাটিং চললেও ডেঙ্গির দাপট কমেনি। কারণ রাজ্যের একাধিক জায়গায় ঠিকমতো মশানিধন প্রক্রিয়া হয়নি। তাই শীতের মরশুমেও রাজ্যবাসী মশাবাহিত রোগে কাবু হচ্ছেন।

    নিপা ভাইরাসের আবহে কেন ডেঙ্গি বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রাজ্যে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। নিপা ভাইরাসের আক্রান্তের মৃত্যু হার অনেক বেশি। সুস্থ হলেও আক্রান্তের শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি বাড়তি বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি আক্রান্ত নিপা ভাইরাসে সংক্রামিত হলে তাঁর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আবার ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরে নিপা ভাইরাস সংক্রামিত হলে, ভাইরাসের প্রকৃতি পরিবর্তনও ঘটতে পারে। সেই পরিবর্তন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মহল একেবারেই ওয়াকিবহাল নন। ফলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা কিংবা ডেঙ্গি, এই দুই সংক্রমণের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। ফলে চিকিৎসা খুবই জটিল। মৃত্যু আটকানোও কঠিন। তাই এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে যাতে সংক্রামক রোগ দাপট বাড়াতে না পারে‌ সেই নিয়ে সব মহলের তৎপরতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কী বলছেন স্বাস্থ্য কর্তারা?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি মোকাবিলায় জানুয়ারি মাস থেকেই নানান পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা নজরদারি করবেন। এলাকায় জল জমছে কিনা, অপরিচ্ছন্ন আছে কিনা সেদিকে নজরদারি চালানো‌ হবে। আবার, নিপা নিয়েও সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করা হয়েছে, যাতে খেজুর রস না খাওয়া হয়। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা কিংবা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। আবার ডেঙ্গি হচ্ছে কিনা সে নিয়েও খোঁজ রাখা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি প্রচার করা হচ্ছে।

    যদিও চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে বছরভর প্রচার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেও রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণে নেই, তা জানান দিচ্ছে পরিসংখ্যান। তাই ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা অধিকাংশ জেলায় বেড়েছে। নতুন বছরে জানুয়ারি মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শুধু সচেতনতা প্রসার নয়। সংক্রামক রোগ রুখতে প্রশাসনিক সক্রিয়তাও সমানভাবে জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

  • Nipah Virus: করোনার তুলনায় বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Nipah Virus: করোনার তুলনায় বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যজুড়ে নিপা ভাইরাসের চোখরাঙানি বাড়ছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল ইতিমধ্যেই। গত কয়েকদিন ধরে এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি আছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে একজনের বাড়ি নদিয়ায় ও অপরজনের বাড়ি বর্ধমানের কাটোয়ায়। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটজনক। জানা যাচ্ছে, ওই নার্স কোমায় রয়েছেন। এর মধ্যেই, আক্রান্ত সন্দেহে নতুন করে আরও বর্ধমানের ২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আগে আক্রান্ত কাটোয়া নিবাসী নার্সকে যখন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তাঁর চিকিৎসায় থাকা এক হাউসস্টাফকে এবার নিপা সন্দেহে কলকাতার বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও এক নার্সকে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাই, নিপা ভাইরাস নিয়ে বাড়তি সতর্ক কেন্দ্রীয় সরকার।

    করোনা অতিমারির তুলনায় কতখানি বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস মৃত্যু হারের নিরিখে করোনার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। তাঁদের মতে, মৃত্যু হারের নিরিখে করোনা ভাইরাসের তুলনায় নিপা ভাইরাস বেশি বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের মৃত্যুর হার ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ। অর্থাৎ, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের তুলনায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষমতা কম। তাই করোনা ভাইরাসের মতো অতো দ্রুত এই ভাইরাস ছড়াবে না। এমনটাই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সচেতনতা ও সতর্কতা জরুরি। যদি এই ভাইরাস নিজের প্রকৃতি পরিবর্তনে সক্ষম হয়, তাহলে পরিস্থিতি করোনা মহামারির তুলনায় আরও বেশি সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে।
    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, করোনা হাঁচি-কাশি এবং স্পর্শের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তো। নিপা ভাইরাসের সেই ক্ষমতা তুলনামূলক কম। আক্রান্তের সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমেই এই রোগ একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রামিত হচ্ছে। বিশেষত মূত্র, রক্ত কিংবা লালার মাধ্যমে এই রোগ সংক্রামিত হয়। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় মূল প্রতিবন্ধকতা হলো, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এখনও নেই। তাই নানান রকম পদ্ধতিতে এই রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। তাই নিপা নিয়ে আতঙ্ক নয়। বরং সচেতনতা জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন এই সংক্রমণ নিয়ে কেন্দ্রের বাড়তি উদ্বেগ?

    রাজ্যে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ হতেই সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকার। সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় তার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নিপা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি তৎপর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তার পিছনে মূল কারণ নিপার মৃত্যু হার। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপার মৃত্যু হার অন্যান্য ভাইরাসঘটিত রোগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এই ভাইরাস মানুষের মস্তিষ্ককে দ্রুত অক্ষম করে দেয়। ফলে শরীরের সমস্ত স্নায়ু কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। তাই এই ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিপা সংক্রমণ ছড়ালে মৃত্যু বাড়বে। প্রথম থেকেই সংক্রমণ ঠেকাতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। তাছাড়া এই সংক্রমণ ঠেকানোর মূল হাতিয়ার হলো প্রাথমিক পর্বেই রোগ নির্ণয়। একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থায় সেই শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

    কোন ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর আর সর্দি, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ একেবারেই অবহেলা করা যাবে না।‌ দ্রুত শারীরিক পরীক্ষা জরুরি। প্রশাসনিক মহলে আইসোলেশন নিয়ে কড়া পদক্ষেপ জরুরি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই কোনো নিপা ভাইরাস আক্রান্তের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের আলাদা ভাবে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো ভাবেই যাতে সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পরে সেই জন্য বাড়তি নজরদারি জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাদুরের পাশপাশি শুয়োরের দেহ থেকেও এই রোগ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আপাতত শুয়োরের মাংস খাওয়া উচিত হবে না বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন ফল থেকেও নিপা ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কাটা ফল বা অর্ধেক খাওয়া ফল অথবা ফলে কোনো আঁচড় আছে দেখলে এই সময়ে তা কোনো ভাবেই খাওয়া উচিত নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • Nipah Virus: নিপা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি রাজ্যের দুই নার্স, খেজুর রসেই কি লুকিয়ে বিপদ?

    Nipah Virus: নিপা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি রাজ্যের দুই নার্স, খেজুর রসেই কি লুকিয়ে বিপদ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বছরের শুরুতেই সংক্রামক রোগের চোখরাঙানি। করোনা অতিমারির স্মৃতি এখনও তাজা। আর তার মধ্যেই আরও এক ভাইরাস সংক্রমণ বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিপা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি দুই নার্স। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের দুই নার্সকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রথম থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, নিপা ভাইরাস বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    নিপা সংক্রমণ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস থেকেই হয় নিপা সংক্রমণ। প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তারপরে একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই নিপা ভাইরাস প্রভাব ছড়িয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নিপা ভাইরাস আক্রান্ত দুই নার্সের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা চলছে। তাঁদের ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জনের অবস্থা সঙ্কটজনক।

    কেন খেজুর রসেই বিপদ বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    শীতের মরশুমে নিপা ভাইরাসের দাপট বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে নিপা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। আর তাই খেজুর রস থেকেই বিপদ তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস বাদুর থেকে মানুষের শরীরে পৌঁছয়। প্রাকৃতিক উপায়ে খেজুর গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে রস সংগ্রহ করা হয়। এই সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলাকালীন খেজুর রসের মধ্যে বাদুরের লালা বা মূত্র মিশে যেতে পারে। সেই রস খেলে, সেখান থেকেই নিপা ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই এই মরশুমে নিপা ভাইরাসের দাপট খেজুর রসের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কীভাবে বুঝবেন এই রোগের লক্ষণ? কেন এই রোগ উদ্বেগজনক?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়লে তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কারণ এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা নেই। তবে প্রাথমিক পর্বেই রোগ নির্ণয় করতে পারলে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস মস্তিষ্ক এবং ফুসফুসের উপরে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটলে শরীরের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি‌ তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণ হলে জ্বর হয়। তার সঙ্গে খিঁচুনি, পেশিতে টান লাগার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, বমি, গলা ব্যথার মতো নানান উপসর্গও দেখা দেয়। তাই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। কারণ এই ভাইরাসের রোগ সংক্রমণের ক্ষমতা প্রচুর।

    নিপা ভাইরাসের কবল থেকে বাঁচতে কী করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সংক্রামক রোগ রুখতে পারে সচেতনতা। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের দাপট রুখতেও তাই সচেতনতাকেই তাঁরা হাতিয়ার করছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, খেজুর রস এই সময়ে একেবারেই খাওয়া চলবে না। খেজুর রস থেকে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি খুব বেশি। তাই এই খাবার আপাতত বাদ দিতে হবে। অর্ধেক খাওয়া কোনো ফল খাওয়া যাবে না। অনেক সময়েই ফলে নানান রকমের দাগ থাকে। বাদুরের আঁচড় কাটা ফল খেলে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। ফল সবসময় খুব ভালো ভাবে ধুয়ে তারপরে খেতে হবে। শুকনো খেজুর খাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাত ও পা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেতে হবে। পরিবারের কেউ জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাঁকে আলাদা ভাবে রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায় সেদিকে নজর দেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Thyroid Problem: থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার চাবিকাঠি লুকিয়ে ‘চেক ইয়োর নেক’ মন্ত্রে! কীভাবে সমাধান?

    Thyroid Problem: থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার চাবিকাঠি লুকিয়ে ‘চেক ইয়োর নেক’ মন্ত্রে! কীভাবে সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা বিপজ্জনক। সচেতনতা আর সতর্কতা থাকলে একাধিক বিপদ কাটানো সহজ হয়ে যায়। থাইরয়েডের সমস্যার ক্ষেত্রেও এই পথেই হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে থাইরয়েডের সমস্যা বাড়ছে। বহু মানুষের থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকছে না।‌ এমনকি শিশুদের শরীরেও এই ভারসাম্যের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তাই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। জানুয়ারি মাস থাইরয়েড অ্যাওয়ারনেস মান্থ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, সে সম্পর্কে রোগী অনেক সময়েই জানতে পারেন না। রোগ দেরিতে নির্ণয় হয়। এর ফলে পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জেরে অনেক সময়েই ক্যান্সারের মতো জটিল রোগেও আক্রান্ত হয়। তাই নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তাই এই বছরে প্রথম থেকেই সচেতনতায় বাড়তি জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘চেক ইয়োর নেক’ মন্ত্রেই থাইরয়েডের বিপদ কমানো যাবে। নিজের শরীর সম্পর্কে জানা এবং সে সম্পর্কে সচেতন হলে রোগের জটিলতা আটকানো সহজ।

    কীভাবে মোকাবিলা হবে থাইরয়েড?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, থাইরয়েডের উপসর্গ সম্পর্কে নানান ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তাই এই রোগের উপসর্গ সম্পর্কে সতর্কতা বাড়লে মানুষের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। গলা বা ঘাড় ফুলে গেলে, গলায় লাগাতার অসুবিধা হলে, ঘাড়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভব হলে, মাংস পিন্ড উঁচু হয়ে যাচ্ছে এমন অনুভূতি হলে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে গিলতে অসুবিধা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই ঘাড় বা গলার সমস্যা হলে তাকে ঠান্ডা লাগার সমস্যা বলে অবহেলা করেন। কিন্তু বেশ কিছু দিন লাগাতার ঘাড় বা গলায় সমস্যা হলে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষা করা জরুরি। তবেই দ্রুত রোগ নির্ণয় সম্ভব। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ঘাড় ও গলায় কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা সে নিয়ে নজরদারি করার পরামর্শ দিচ্ছে।

    কেন থাইরয়েড নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    শরীর সুস্থ রাখতে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকা জরুরি। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় না থাকলে শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে শরীরের অন্যান্য হরমোনের ক্ষরণেও গভীর সমস্যা তৈরি হয়। তাই মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব হয়। থাইরয়েড বন্ধ্যাত্বের কারণও তৈরি করতে পারে। আবার থাইরয়েড মানসিক অবসাদ, উদ্বেগের কারণ। যেহেতু এই হরমোন অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট করে, তাই এই থাইরয়েড গ্রন্থিতে সমস্যা থাকলে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি অনিদ্রার সমস্যাও বাড়ে।

    এছাড়া, থাইরয়েডের সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কারণ থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে পেশির দূর্বলতা বাড়ে। পেশির শক্তি কমলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। থাইরয়েড ত্বকের সমস্যা তৈরি করে। ওজন হ্রাস করে। ফলে শরীর দূর্বল হয়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। কার্যশক্তি কমে। ফলে একাধিক জটিলতা তৈরি হয়। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় করে সমস্যা মোকাবিলা জরুরি। দীর্ঘদিন থাইরয়েড অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    ভারতে থাইরয়েড কতখানি বিপজ্জনক?

    ভারতে থাইরয়েডের সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের এই থাইরয়েড সমস্যা কার্যত জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশপাশি শিশুরাও এই সমস্যার শিকার হচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তাই থাইরয়েড নিয়ে সচেনতা জরুরি। রোগ নির্ণয় ও দ্রুত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Dehydration During Winter: শীতেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন! বাড়তি বিপদ শিশুদের, কীভাবে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন?

    Dehydration During Winter: শীতেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন! বাড়তি বিপদ শিশুদের, কীভাবে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    ভোরের আলোর দেখা পাওয়াই মুশকিল। সকালের অনেকটা সময়েই কুয়াশা ঢাকা থাকছে। রাজ্যের সর্বত্র জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। কিন্তু এই আবহাওয়াতেও বিপদ বাড়াচ্ছে ডিহাইড্রেশন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের আবহাওয়াতেও শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ শিশুর নানান রকম রোগের দাপটের নেপথ্যে থাকছে ডিহাইড্রেশন। তাই শীত পড়লেও সন্তানকে সুস্থ রাখতে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।

    কেন শীতেও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় জলের পরিমাণ কমে গেলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শীতের আমেজেও এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তার মূল কারণ কম পরিমাণে জল খাওয়া। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত শিশুদের দুই থেকে তিন লিটার জল খাওয়া জরুরি। কিন্তু এই আবহাওয়ায় অনেকেই এই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাচ্ছেন না। এর ফলে শরীরে জলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। কিন্তু শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি সক্রিয় থাকে। তারা দিনভর ছোটাছুটি করে, নানান রকমের খেলাধুলা করে। তাই তাদের বাড়তি এনার্জি প্রয়োজন। আর শরীরে জলের ঘাটতি হলে সেই এনার্জির ঘাটতি তাড়াতাড়ি হয়। তখন ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

    ডিহাইড্রেশন কোন বিপদ বাড়িয়ে দেয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিহাইড্রেশন হলে শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। শিশুরা বারবার ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত হলে কিডনিতে পাথর, কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসের মতো নানান রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মূত্রনালীতে সংক্রমণের ভোগান্তিও বাড়ায়।‌ বিশেষত এই শীতের আবহাওয়ায় বহু শিশু ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফরমেশনের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার জেরেই এই ধরনের সংক্রমণ হচ্ছে। আবার ডিহাইড্রেশন মস্তিষ্কের উপরেও গভীর প্রভাব ফেলে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের স্নায়ুর কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে জল খুব জরুরি। জল পর্যাপ্ত খেলে তবেই শরীরের সমস্ত পেশি এবং স্নায়ু সক্রিয় থাকবে। ফলে শরীরে ক্লান্তি বোধ কমবে। ডিহাইড্রেশন হলে তাই বারবার মাথা ঘোরা, চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়া কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময়েই শিশুদের ডায়রিয়া ও বমির মতো সমস্যা দেখা যায়। যার নেপথ্যে ডিহাইড্রেশন থাকে বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কীভাবে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, এই আবহাওয়াতেও ডিহাইড্রেশন হচ্ছে। তাই এই সমস্যা এড়াতে এবং সন্তানকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়াতে হবে। গরম হোক বা শীতকাল, শরীর সুস্থ রাখতে জল জরুরি। তাই শিশুকে দিনে দুই থেকে তিন লিটার জল খাওয়াতে হবে। প্রতি ঘণ্টায় শিশু কতখানি জল খাচ্ছে, সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। শীতে নিয়মিত স্নান জরুরি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই শীতে সন্তানকে নিয়মিত স্নান করান না। এটা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। নিয়মিত স্নান করলে শুধু ত্বক পরিষ্কার থাকে এমন নয়। শরীর সুস্থ থাকে। শরীরের শুষ্কতা কমে। জলের পাশপাশি শীতে নানান রকমের স্যুপ খাওয়ায় পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের রাতের কিংবা দুপুরের খাবারের মেনুতে নানান পদের স্যুপ রাখা যেতে পারে। স্যুপে নানান সব্জি থাকে। তরল জাতীয় এই খাবার পুষ্টিকর আবার শরীরে তরলের জোগান দেবে। সবমিলিয়ে একাধিক উপকার পাওয়া যাবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Winter Fatigue: শীত বাড়াচ্ছে ক্লান্তিভাব! এই আবহাওয়ায় কোন পাঁচ খাবার বাড়তি এনার্জি জোগান দেবে?

    Winter Fatigue: শীত বাড়াচ্ছে ক্লান্তিভাব! এই আবহাওয়ায় কোন পাঁচ খাবার বাড়তি এনার্জি জোগান দেবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ কমছে। রাজ্য জুড়ে শীতের দাপট। বিশেষত বর্ধমান, মেদিনীপুর, বীরভূম, পুরুলিয়ার মতো রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষ শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে নাজেহাল। শীতের এই প্রবল দাপট প্রতিদিনের কাজের গতিও কমিয়ে দিচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠা কিংবা সন্ধ্যার পরে বাইরে যাওয়া এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। এমনকি ঘরের ভিতরের নিত্যদিনের কাজ এখন শ্লথ! শীত ক্লান্তি বাড়াচ্ছে। শরীরের এনার্জি কমিয়ে দিচ্ছে। বাড়িয়ে দিচ্ছে জবুথবু ভাব। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও শীতের দাপটে জবুথবু ভাব দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়াতে শরীরে বাড়তি এনার্জির জোগান জরুরি। সেই কাজে কয়েকটি ঘরোয়া খাবারেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কোন খাবার এই শীতে ক্লান্তি কাটাবে?

    সবুজ সব্জি এবং মূল জাতীয় সব্জি করবে বাজিমাত!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে সুস্থ থাকতে এবং প্রয়োজনীয় এনার্জি সংগ্রহের জন্য সবুজ সব্জি এবং মূল জাতীয় সব্জিতেই তাঁরা ভরসা রাখছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিট, গাজর, শাক আলু, মূলোর মতো মূল জাতীয় সব্জি এই আবহাওয়ায় খুব উপকারি। এই ধরনের সব্জিতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ এবং ফাইবার থাকে। পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজ পদার্থ শরীরের ক্লান্তিকে সহজেই দূর করে। তাই এই ধরনের সব্জি খেলে ক্লান্তি বোধ কমে। তাছাড়া, মটরশুঁটি, পালং শাক, সিম কিংবা বাঁধাকপির মতো সবুজ সব্জি খনিজ পদার্থের পাশপাশি ফাইবার ভরপুর। ফাইবার শরীরে এনার্জির জোগান দেয়। তাই শীতকে কাবু করে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য সবুজ সব্জি এবং মূল জাতীয় সব্জি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    নিয়মিত প্রাণীজ প্রোটিন জরুরি!

    প্রাণীজ প্রোটিন শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন শরীরে এনার্জির চাহিদা সহজেই পূরণ করে। তাই শীতের আবহাওয়ায় নিয়মিত পাতে মাছ, মাংস কিংবা ডিমের মতো প্রাণীজ প্রোটিন রাখলে উপকার হবে। এতে পেশি মজবুত হবে। ক্লান্তি ভাব সহজেই কমবে। তবে তাঁদের পরামর্শ, প্রাণীজ প্রোটিন রান্নার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে নিয়মিত প্রাণীজ প্রোটিন রান্না করলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাতে ক্ষতি বেশি। তাই কম তেল ও মশলা ব্যবহার করে স্যুপ বা স্ট্রু জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার।

    সন্ধ্যায় নিয়মিত বাদাম ও বীজ রাতের ঠান্ডা মোকাবিলা করবে!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের আবহাওয়ায় নিয়মিত বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার সন্ধ্যার মেনুতে রাখলে শরীরে বাড়তি উপকার হবে। এই আবহাওয়ায় উপকার পাওয়া যাবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তার মতো বাদামে খনিজ পদার্থের পাশপাশি উপকারি ফ্যাট থাকে। যা শরীরের ক্লান্তি দূর করে। এনার্জির জোগান দেয়। পাশপাশি তিল, তিসি, কুমরো কিংবা সূর্যমুখী ফুলের বীজ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রার পারদ পতন শুধু কাজের গতি শ্লথ করে না। পাশপাশি এই আবহাওয়ায় হৃদরোগ সহ একাধিক জটিল সমস্যার দাপট বাড়ে। সন্ধ্যায় নানান ধরনের বীজ খেলে শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকে। ফলে শরীর সুস্থ থাকে। স্বাভাবিক কাজ করাও সুবিধা হয়।

    লেবু, আদা এবং রসুন বাড়তি উপকারী!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত লেবু খাওয়া জরুরি। কমলালেবু, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, মাল্টা, কিউই এই জাতীয় যেকোনও ধরনের ফল নিয়মিত খেলে শীতে বাড়তি এনার্জি পাওয়া যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে সর্দি-কাশির ভোগান্তিও কমে। আর ক্লান্তি বোধ দূর হয়। জবুথবু ভাব কমে। ফলের পাশপাশি আদা ও রসুনের মতো মশলা বিশেষ উপকারি। এই মশলা শরীরের নানান ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে। বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। শরীরে এনার্জি জোগান করে। তাই রান্নায় এই দুই মশলা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Weight Loss vs Wellness: দ্রুত ওজন কমানো নাকি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা! কোন পথ বাছতে বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    Weight Loss vs Wellness: দ্রুত ওজন কমানো নাকি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা! কোন পথ বাছতে বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স আট হোক কিংবা পঞ্চাশ, শরীর সুস্থ রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওজন! কোন খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কেন অতিরিক্ত ওজন বাড়ছে এই নিয়ে এখন স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, সকলেই কমবেশি উদ্বিগ্ন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ মানুষ পুষ্টি সম্পর্কে ঠিকমতো ওয়াকিবহাল নন। আর তাই ওজন নিয়ে এত ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন, অপুষ্টির মতো সমস্যা এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠছে। তাঁদের পরামর্শ, হেলদি ওয়েট সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ওজন কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে সম্পর্কে ঠিকমতো ওয়াকিবহাল থাকলেই নানান জটিলতা এড়ানো সহজ হয়‌।

    দ্রুত ওজন কমানো কি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার পথে বাধা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মানুষ অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগেন। দেহের অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, হাড়ের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে। তাই অনেকেই দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজেন। কিন্তু তাতেই বিপদ আরও বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব দ্রুত শরীরের ওজন ঝরানোর জন্য অনেকেই ডায়েট করেন, কিংবা অতিরিক্ত সময় জিমে কাটানো শুরু করেন। এর ফলে দ্রুত ওজন কমে গেলেও নানান দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। যা স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করতে পারে।

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অনেকেই নিয়মিত খাবারের তালিকা থেকে প্রোটিন সম্পূর্ণ বাদ দেন। যা শরীরে ভয়ঙ্কর ক্ষতি করে। প্রোটিন শরীরের পেশি মজবুত রাখতে খুব জরুরি। তাছাড়া ক্লান্তি কমিয়ে শরীরে এনার্জি জোগানের জন্য ও প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন বর্জিত খাবার খেলে পেশি দূর্বল হয়ে যায়। হাত-পায়ে খিঁচ ধরে। ক্লান্তি ভাব বাড়ে। ফলে স্বাভাবিক কাজ করাও মুশকিল হয়ে পড়ে।

    শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল, ভিটামিন,ফ্যাট প্রয়োজন। ইচ্ছেমতো যেকোনও উপাদান বাদ দিলেই শরীরে তার গভীর প্রভাব পড়ে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই অসচেতন ভাবেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই ডায়েট চার্ট তৈরি করেন। দ্রুত ওজন কমাতে খাবারের তালিকা থেকে বহু উপাদান বাদ পড়ে। আর এর ফলে অপুষ্টির সমস্যা তৈরি হয়। দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

    তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে অনেকেই কম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত শারীরিক কসরত করার পথ বেছে নেন। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, এর ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত খনিজ এবং জল বেরিয়ে যায়। যার জেরে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    পুষ্টির ঘাটতি এবং পেশির দূর্বলতা শুধু শরীরকে ক্লান্ত করে না, হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশি শিথিল হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ডায়েট মানসিক অবসাদ তৈরি করে। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

    জানুয়ারি মাসে হেলদি ওয়েট অ্যাওয়ারনেস পালন হয়। অতিরিক্ত ওজন কতখানি বিপজ্জনক সে সম্পর্কে সতর্ক করার পাশপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার পথ বাছতে হবে সে সম্পর্কেও সচেতনতা চলে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য প্রয়োজন ঠিকমতো ডায়েট। প্রথম থেকেই বাড়িতে তৈরি, কম তেল মশলার খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি। ভাত, রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার নিয়মিত খেতে হবে। কিন্তু অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, সব্জি, ডাল, ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে অবশ্যই মাছ-মাংস-ডিম কিংবা পনীর-সোয়াবিনের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি। পরিমিত পরিমাণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ। নিয়মিত ফল ও বাদাম জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। তাতে শরীর সুস্থ থাকে। আর প্রতিদিন আধ ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস এবং হাঁটার অভ্যাস নিয়মিত থাকলে হরমোন ক্ষরণ ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এই পথেই চললে সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনকে কাবু করে সুস্থ থাকা সম্ভব বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share