Tag: hindu festivals

hindu festivals

  • Durga Puja 2024: অষ্টমীতে ইলিশ, দশমীতে পান্তা ভোগ খেয়ে মা কৈলাশের উদ্দেশে রওনা দেন

    Durga Puja 2024: অষ্টমীতে ইলিশ, দশমীতে পান্তা ভোগ খেয়ে মা কৈলাশের উদ্দেশে রওনা দেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহ্য এবং নিষ্ঠার অন্যতম নিদর্শন নদিয়ার শান্তিপুরের বনেদি বাড়িগুলির মধ্যে অন্যতম জজ পণ্ডিত বাড়ি (Durga Puja 2024)। আনুমানিক ৬০০ বছরেরও বেশি আগে থেকে এখানে পূজিত হন দেবী দুর্গা। আগে গয়ায় ছিল এই পরিবারের পিতম্বর চ্যাটার্জির জমিদারি। তারপর সেখান থেকে নদিয়ার শান্তিপুর। এখানে আসার পর আবারও পুজোর প্রচলন হয়। যদিও তাঁদের এই জমিদারি পরবর্তীতে আর বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। জমিদারি না থাকলে কী হবে, আজও রীতিনীতি মেনে এবং নিষ্ঠার সঙ্গেই পূজিত হন দেবী দুর্গা।

    নবমীতে কচু শাক, কলার বড়া (Durga Puja 2024)

    দেবী এখানে পূজিত হন তন্ত্র মতে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব হল, দেবী একাই পূজিত হন। আগে পুজোয় ১০৮টি মহিষ বলি দেওয়া হত। তবে বর্তমানে মহিষ বলি আর দেওয়া হয় না, পরিবর্তে আখ, চালকুমড়ো, কলা ইত্যদি ফল বলি দেওয়া হয় দেবীর চরণে। ভোগেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। সপ্তমী থেকে শুরু হয় দেবীর ভোগ। অষ্টমীতে দেবীকে দেওয়া হয় ইলিশ মাছের ভোগ, নবমীতে কচু শাক, কলার বড়া। তবে নবমীর ভোগ, দশমীতে পান্তা হিসেবে দিয়ে মায়ের আরাধনা করা হয়। এই পান্তা ভোগ খেয়েই মা কৈলাশের উদ্দেশে রওনা দেন।

    বেলজিয়াম ফানুসের আলোয় পুজো

    বাড়ির সদস্যা সঞ্চারী শাস্ত্রী জানান, আগে পুজোয় বেলজিয়াম ফানুসের আলোয় দেবী মূর্তি পূজিত হত (Durga Puja 2024)। পরবর্তীকালে সেই ফানুস চুরি হওয়ার পর বর্তমানে ইলেকট্রিক আলো ব্যবহার করা হয় পুজোয়। যদিও বাড়ির মাতৃমূর্তি যে বেদিতে পূজিত হয়, সেটি পঞ্চমুন্ডির আসন। কালের নিয়মে সেই বেদি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সেটি ঠিক করার জন্য একজনকে বরাত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি মাটি খুঁড়তে গিয়েই মৃত্যু হয়। দেবী এই বাড়িতে খুবই জাগ্রত, এমনটাই জানা যায়। সঞ্চারী দেবী জানান, বাড়ির সকলে এই পুজোর কদিন একত্রিত হয়। শান্তিপুরের জজ পণ্ডিত বাড়িতে মহা আনন্দে, রীতি মেনে নিষ্ঠা সহ পূজিত হন মা (Nadia)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: দশমীর দিন পান্তা ভাত, বোয়াল ও রাইখোর মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয় মাকে!

    Durga Puja 2024: দশমীর দিন পান্তা ভাত, বোয়াল ও রাইখোর মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয় মাকে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাল বাড়ির পুজো ৷ বাড়ির পুজো হলেও তা এখন বারোয়ারি হয়ে গিয়েছে কালের নিয়মে৷ তবে পুরনো রীতি মেনেই করা হয় মায়ের আরাধনা ৷ বালুরঘাটের অন্যতম বনেদি বাড়ি ছিল এই পাল বাড়ি ৷ কংগ্রেস পাড়ার পাল বাড়ির এই দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) শুরুটা ঠিক কবে, তা অবশ্য সঠিকভাবে জানা নেই কারোর ৷ তবে স্থানীয়দের কথায়, ৪০০ বছর আগে আত্রেয়ী নদীর পাশে নিজের বাড়িতেই মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন গৌরী পাল। সে সময় থেকে একই নিয়মে হয়ে আসছে মাতৃবন্দনা ৷ স্থানীয়দের বক্তব্য, এক সময় বালুরঘাটের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন গৌরী পাল ৷ তিনিই প্রথম এই পুজোর প্রচলন করেন। খড় ও বাঁশের তৈরি মন্দিরে দেবীর পুজো শুরু হয়। গৌরী পাল এবং তাঁর উত্তরসূরিদের অবর্তমানে আজ থেকে প্রায় 8৫ বছর আগে পাল বাড়ির দুর্গাপুজোর দায়িত্ব নেন প্রতিবেশীরা। বর্তমানে বারোয়ারি কমিটির উদ্যোগে পুজোর আয়োজন করা হয় ৷ তবে বারোয়ারির উদ্যোগে হলেও এখনও এই পুজো পাল বাড়ির দুর্গাপুজো নামেই পরিচিত৷

    পুজো করে আসছেন মহিলারা (Durga Puja 2024)

    কথিত আছে, এখানে নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের কাছে কেউ কিছু মানত করলে তা পূরণ হয় । অন্য জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এই পুজোয় সামিল হন ৷ এই পুজোর বিশেষত্ব, নবমী ও দশমীর দিনে মা-কে পান্তা ভাত, বোয়াল মাছ ও রাইখোর মাছের ভোগ দেওয়া হয়। অন্যদিন অবশ্য নিরামিষ ভোগই দেওয়া হয়। পান্তা ভোগ যেদিন হয়, সেদিন ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মহিলারা এই পুজো করছেন৷

    ষষ্ঠী বলে কিছু নেই

    পাল বাড়ির পুজোর উদ্যোক্তারা বলেন, এই মন্দিরের পাশেই আত্রেয়ী নদী ছিল (Balurghat)৷ পরবর্তীকালে নদীর দিক পরিবর্তনের কারণে এদিকে নদীটি নেই ৷ ইতিহাস সঠিক না জানলেও শুনেছি এক সন্ন্যাসী প্রথম নদীর ধারে এখানে পুজো শুরু করেছিলেন৷ পরবর্তীকালে গৌরী পাল এই পুজো (Durga Puja 2024) শুরু করেন৷ কিন্তু একটা সময় তাঁর বংশধরেরা এই পুজো করতে পারেননি ৷ তখন থেকেই স্থানীয়রা নিজেদের মনে করে এই পুজোর আয়োজন করে আসছেন৷ তবে রীতি মেনেই পুজো করা হয় ৷ তাঁরা বলেন, আমাদের এখানে ষষ্ঠী বলে কিছু নেই ৷ শিব পুজো ও বেল বরণ করে ঠাকুরের অধিবাস হয় ৷ আরতি করে মা-কে বরণ করা হয় ৷ আর দশমীর দিন পান্তা ভাত ও বোয়াল মাছ দিয়ে মাকে ভোগ দেওয়া হয়। পঞ্জিকা মেনে সময়ের মধ্যে পুজো শেষ করার চেষ্টা করা হয়৷

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: মায়ের চোখের জল মোছাতেই চিন্ময়ীর আরাধনা শুরু করেছিলেন সার্থকরাম!

    Durga Puja 2024: মায়ের চোখের জল মোছাতেই চিন্ময়ীর আরাধনা শুরু করেছিলেন সার্থকরাম!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমচুরের টক ও বড়ি দিয়ে ভোগ দেওয়া হয় চিন্ময়ী মাকে। এমন অনেক ঐতিহ্য বহন করে আজও জমজমাট নন্দকুমারের ব্যবত্তাবাটির বনেদি বাড়ির পুজো, যার ইতিহাসও কম চমকপ্রদ নয়। স্বার্থকরাম ছিলেন তাম্রলিপ্ত, অধুনা তমলুকের তাম্রধ্বজ রাজার ব্যবস্থাপক। জানা যায়, স্বার্থকরামের মা বাড়ির অদূরে একটি পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁকে চরম অপমানিত করা হয়। মা বাড়িতে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মায়ের সেই কান্নাকাটি দেখে স্থির থাকতে পারেননি স্বার্থকরাম। মায়ের চোখের জল দেখে বাড়িতেই শুরু করে দেন চিন্ময়ী মায়ের পুজো। সেই থেকে আজও নন্দকুমারের ব্যবত্তাহাটের ব্যবত্তাবাটিতে হয়ে আসছে মা দুর্গার পুজো।

    নিজেরাই পুজো করেন মায়ের

    জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে এক কিলোমিটার দূরে পুরনো ব্যবত্তাহাটে পতিতাপল্লির মাটি নিয়ে এসে মায়ের প্রতিমা গড়া হয়। এদিন গ্রামের ও পরিবারের সদস্য সদস্যারা কাদা মাখার খেলা খেলেন। এই পুজো শুধু বাড়ির পুজো নয়, এলাকার মানুষের প্রাণের পুজো, আদি ও প্রাচীন পুজো। নিয়মনিষ্ঠা মেনে আজও এই  ব্যবত্তাবাটির পুজো হয়ে আসছে। সার্থকরাম রাজা পরিবারের ব্যবস্থাপক ছিলেন বলেই সেই থেকে এই এলাকার নাম হয় ব্যবত্তারহাট। সপ্তমীর দিন মায়ের গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান, যা বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে। ব্রাহ্মণ পরিবারের এই পুজোতে নিজেরাই পুজো করেন মায়ের। গোস্বামী মতে পুজো হয়। বিল্লধিবাস অর্থাৎ ষষ্ঠীর দিন এক মন ছ-সের চালের নৈবেদ্য অর্থাৎ ভোগ হয়, সপ্তমীর দিন ১ মন ৭সের, অষ্টমীর দিন এক মন আট-সের-এরকম করে প্রত্যেকদিন ভোগ দেওয়া হয় মাকে।

    ভোগে থাকে রকমারি বড়ি

    মায়ের ভোগ রান্নার আয়োজন করেন পরিবারের মহিলারা। মায়ের ভোগে থাকে রকমারি বড়ি। সেই বড়ি সারা বছর ধরে মহিলারা প্রস্তুত করেন। বর্তমান সময়ে থিমের রমরমা থাকলেও প্রাচীন সাবেকি পুজোয় মানুষের ঢল নামে। এখনে নিয়ম-নিষ্ঠা মেনে পুজো হয় বলেই দূর দূরান্তের মানুষ পুজোয় ভিড় জমান।পরিবারের সদস্যরা সকলে ভিন রাজ্য, ভিন দেশে কর্মসূত্রে থাকলেও পুজোর সময় সকলে বাড়ি ফিরে উৎসবে মেতে উঠেন। তবে এই বাড়ির মায়ের ভোগে থাকে বিভিন্ন ধরনের বড়ির সঙ্গে আমচুরের টক। যা মায়ের প্রসাদ হিসেবে পেতে প্রতিদিন ভিড় জমান বহু মানুষ। নবীন ও প্রবীণদের মিলিত প্রয়াসে আজও ব্যবত্তাবাটির পুজো জমজমাট। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: স্বপ্নদীপের মৃত্যুই অনুপ্রেরণা, ফেলে দেওয়া পেন-পেন্সিল দিয়ে অভিনব দুর্গাপ্রতিমা

    Durga Puja 2024: স্বপ্নদীপের মৃত্যুই অনুপ্রেরণা, ফেলে দেওয়া পেন-পেন্সিল দিয়ে অভিনব দুর্গাপ্রতিমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে, কোনও কিছুই ফেলে দিতে নেই। ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়েই গড়ে উঠতে পারে অনেক কিছু। এবার হাজার হাজার কালি ফুরানো পেন ও পেন্সিল দিয়ে দৃষ্টিনন্দন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করলেন নদিয়ার এক গৃহবধূ। প্রায় ৯ মাসের প্রচেষ্টায় এখন পুরোপুরি সম্পূর্ণ দুর্গাপ্রতিমা (Durga Puja 2024) তৈরির কাজ। হ্যাঁ, এমনই এক দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিলেন নদিয়ার (Nadia) কৃষ্ণগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সত্যনগর পাড়ার গৃহবধূ পাপিয়া কর। তিনি একজন পেশায় হস্তশিল্পী। যদিও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে তাঁর অনেক। সমাজের পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের দেখাশোনা করেন তিনি এবং নির্দিষ্ট সময় বের করে শিক্ষা প্রদান করে। এই নিয়েই বর্তমানে দিন কাটে পাপিয়ার।

    স্বপ্নদীপের মৃত্যুই নাড়িয়ে দিয়েছিল (Durga Puja 2024)

    প্রায় এক বছর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল নদিয়ার যুবক স্বপ্নদ্বীপের। তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়ার কারণে তাঁর মনে উঠে এসেছিল প্রতিবাদের ভাবনা। তিনি মনে মনে ভেবেছিলেন, এমন কিছু করে দেখাবেন যেখানে দুর্গামূর্তির মধ্যে দিয়ে প্রতিবাদ তুলে ধরতে পারেন। এরপর থেকেই সংগ্রহ করতে থাকেন কালি ফুরিয়ে যাওয়া পেন ও পেন্সিল। তার পর থেকেই শুরু করেন দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ।

    লক্ষ্য, শিক্ষিত অসুরদের বিনাশ

    প্রায় ৩০ হাজার পেন ও পেন্সিল দিয়ে তৈরি করে ফেলেন দুর্গাপ্রতিমা (Durga Puja 2024), সঙ্গে রয়েছে মা দুর্গার চার সন্তান। কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী ও  লক্ষ্মী-প্রত্যেকটি মূর্তি পেন ও পেন্সিল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। নাম দিয়েছেন অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, শুভ শক্তির আগমন হোক, অর্থাৎ কলমকারী দুর্গা। এ প্রসঙ্গে গৃহবধূ পাপিয়ার কথায়,, স্বপ্নদ্বীপের মৃত্যুতে তিনি খুবই ভেঙে পড়েছিলেন, ভেবেছিলেন হয়তো সবাই ঝাঁপিয়ে প্রতিবাদে নামবে। তার পরও ঘটে গেল আরজি করের ডাক্তারি পড়ুয়ার সঙ্গে নৃশংস ঘটনা। তাই শিক্ষিত অসুরদের বিনাশ করতে তিনি প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে দুর্গাপ্রতিমার নাম দিয়েছেন কলমকারী দুর্গা (Durga Puja 2024)। তাঁর তৈরি দুর্গাপ্রতিমা পাড়ি দেবে নদিয়ার রানাঘাট পাইকপাড়া ব্রতী সঙ্ঘের পুজো মণ্ডপে। জানা গিয়েছে, ওই মণ্ডপের থিম তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে, এখন শুধু পুজো আসার অপেক্ষা। একটা সময় কাজের প্রতিভার মধ্যে দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন দিদি নম্বর ওয়ান এবং দাদাগিরির মঞ্চ জি বাংলার রান্নাঘরের মতো জায়গায়। তাঁর পরিচিতি এখন গোটা বাংলা জুড়ে, কারণ তিনি শুধু হস্তশিল্পী নন, প্রতিদিনই অনেক দুঃস্থ পরিবারের ৩০ থেকে ৪০টি বাচ্চার দেখাশোনা করেন। হাতে-কলমে শেখানো হয় পড়াশুনো, পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন তিনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: সেন বাড়ির পুজোয় দেবীর ভোগে ব্যবহৃত হয় না তেল, হলুদ, লবণ! নিষিদ্ধ পশুবলিও

    Durga Puja 2024: সেন বাড়ির পুজোয় দেবীর ভোগে ব্যবহৃত হয় না তেল, হলুদ, লবণ! নিষিদ্ধ পশুবলিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলার খাগড়ায় তিন নম্বর গিরিজা চক্রবর্তী লেনের সেন বাড়ির আদি দুর্গাপুজোর মাহাত্ম্যই আলাদা। বংশধর সুবীর সেন জানালেন, এই বাড়ির উৎসব ১৮৯৬ সালে রাধাকৃষ্ণ সেনের হাত ধরে শুরু হয়েছিল। যদিও এক্ষেত্রে আসল ভূমিকা গ্রহণ করেন তাঁরই বাল্যবিধবা কন্যা বিন্দুবাসিনী দেবী, যিনি অনেক আগে থেকেই এখানে জগদ্ধাত্রী পুজো করতেন বলে জানা যায়। এই পুজোর শুভ সূচনা হয় সোজা রথের দিন। এদিন পুরোহিত এবং মৃৎশিল্পীরা প্রতিমার কাঠামোতে গঙ্গামাটির প্রলেপ দিয়ে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। দুর্গাপ্রতিমা গড়া হয় বাড়ির ঠাকুরদালানে। মূল পুজো শুরু হয় ষষ্ঠীতে কলস এবং গারু সহযোগে ভাগীরথী থেকে ঘট স্নানের মাধ্যমে। বাড়িতে সাত রকমের ফল, বেলপাতা ও সোলার কদম ফুল দিয়ে তৈরি হয় রচনা। ষষ্ঠীর দিন বাড়ির ঠাকুরদালানে এটি টাঙানো হয়। এটি সেন বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    নবমীতে আখ ও চালকুমড়ো বলি

    এই সেন বাড়ি্র পুজোয় বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সন্ধি পুজোতে ১৩৮টি পদ্ম, ১০৮টি ঘিয়ের প্রদীপ এবং ১০৮টি বেলপাতা দেবীকে নিবেদন করা হয়। পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। তাই এই পুজোতে পশুবলি নিষিদ্ধ। তবে নবমীতে আখ ও চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। সেন বাড়ির দশমীর পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য অপরাজিতা পুজোঘট বিসর্জন। দর্পণে বিসর্জনের মাধ্যমে পুজোর সমাপ্তি ঘটে। দশমীর দিন বিকেল বেলায় স্থানীয় মুটিয়াদের কাঁধে চেপে বাড়ির দিকে মুখ করে রওনা দেন মা দুর্গা।

    মাহাত্ম্য কম নয়

    সেন বাড়িতে ভোগ হয় নিরামিষ। এখানে কখনই দেবীকে রান্না করা অন্য ভোগ দেওয়া হয় না। এর পরিবর্তে লুচি, বিভিন্ন তরকারি, শাকভাজা, পাঁপড় ও বাড়িতে তৈরির নারকেলের নাড়ু দেওয়া হয়। নবমীর জন্য পাকা কলার বড়া, পটলপোড়া টক, পালং শাক দেওয়ার রেওয়াজ এখনও রয়েছে। দেবীর ভোগে কোনও রকম তেল, হলুদ, লবণ ব্যবহার করা হয় না। এর পরিবর্তে গাওয়া ঘি  আর লবণের পরিবর্তে সন্দক লবণ ব্যবহার করা হয়। ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন ১৭টি করে নৈবেদ্য দেওয়া হয়। এই দুর্গাপুজোর মাহাত্ম্য কম নয়। শোনা যায়, আজ থেকে বহু বছর আগে সপ্তমীর ঘট ভরে ফেরার পথে কোনও ভাবে ভুলক্রমে পুরোহিতের পা স্পর্শ করে ওই দিনই তাঁর মৃত্যু ঘটে। ঠাকুরের মহিমায় পুজো অতীতের সেই নিয়ম, রীতি-নিষ্ঠা বজায় রেখে আজও চলছে।

    বরাবরই মহিলাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য

    এই বাড়ির পুজো শুরু হয়েছিল বিন্দুবাসিনী দেবীর ইচ্ছা অনুসারে। পরবর্তী সময়ে সুচন্দ বদনী দেবী তাঁর নিষ্ঠা, ভক্তি, একাগ্রতা ও সাধনার মাধ্যমে এই পুজোকে আগলে রেখেছিলেন। মূলত তাঁরই উদ্যোগে এই বাড়িতে কয়েক বছর সন্ধিপুজোর সময় কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হত। পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যুর পর জ্যেষ্ঠ পুত্র বধুশর্মা সেন আমৃত্যু পুজোর প্রতি কর্তব্যে অবিচল ছিলেন। ১৯৭৪ সালে যোগেশচন্দ্র সেন এবং ১৯৭৯ সালে সুচন্দ্র বদনী দেবীর মৃত্যুর পর তাঁদের বংশধররা এই পুজো চালাতে থাকেন। সুচন্দ বদনী দেবীর ষষ্ঠ পুত্র স্বর্গীয় প্রশান্ত কুমার। তিনি সিভিল সার্ভিস অফিসার। প্রশান্তবাবু পুজো পরিচালনা, সংস্কার ও অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। মূলত তাঁরই উদ্যোগে দশমীর সন্ধ্যায় দেবীর নৌকায় ভাগীরথী ভ্রমণ সম্ভব হয়ে উঠেছিল।

    বহু উত্থান-পতন, পারিবারিক কলহ, পরিবারের সদস্যদের পেশাগত কারণে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া তথা জমিদারি প্রথা বিলোপের সাক্ষী সেনবাড়ির এই দুর্গাপুজো। সুবীর সেন বলেন, মহালয়ার দিন মহামায়ার নেত্রদান করা হয়। সবুজ বর্ণের মহিষাসুরের সঙ্গে মহিষ অনুপস্থিত। এই সেন বাড়ির দেবী দুর্গা ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে যে শাল কাঠের কাঠামোতে শুরু হয়েছিল, আজ অবধি সেই শাল কাঠের কাঠামোতেই পুজো হয়ে আসছে বলে জানান সেন বংশের বংশধর সুবীর সেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: গুপ্তিপাড়ার ‘বারো ইয়ার’-এর পুজোই ধীরে ধীরে হয়ে উঠল সর্বজনীন, জানুন সেই ইতিহাস

    Durga Puja 2024: গুপ্তিপাড়ার ‘বারো ইয়ার’-এর পুজোই ধীরে ধীরে হয়ে উঠল সর্বজনীন, জানুন সেই ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় বারোয়ারি শব্দের বহুল ব্যবহার। তাই স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন জাগে, এই কথাটির প্রকৃত অর্থ কী? পুজোর ক্ষেত্রে এই কথাটি এল কীভাবে? আজকের প্রতিবেদনে আমরা এই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব। শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক, এই শব্দের আভিধানিক অর্থ কী? ‘বারোয়ারি’ শব্দটির উৎপত্তি ‘বারো’ এবং ‘ইয়ার’ এই দুটি শব্দ থেকে। ‘ইয়ার’ শব্দের অর্থ বন্ধু। তাহলে বারোয়ারি বলতে বোঝায় বারোজন বন্ধু। বাস্তবে ঘটেওছিল এমনটাই, বারোজন বন্ধুই প্রথম একজোট হয়ে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024) করেছিলেন। তাই এক সঙ্গে যখন অনেকে পুজো করেন, তখন তাকে বলা হয় বারোয়ারি পুজো। এখন অবশ্য ‘বারোয়ারি’ কথাটির বদলে ‘সর্বজনীন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তার কারণ, এখন আর বারোজন মিলে কোনও পুজো করেন না, করেন অনেকে মিলে। কোথাও একটা গোটা পাড়া, কোথাও আবার পাড়ার বাইরেও বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা তোলা হয়। তাই বারোয়ারি পুজো এখন বদলে হয়েছে সর্বজনীন।

    শুরু হুগলির গুপ্তিপাড়ায় (Durga Puja 2024)

    কিন্তু মনে প্রশ্ন থেকেই যায়, প্রথম যে বারোজন মিলে পুজো শুরু করেছিলেন, তাঁরা কারা? কোথায়ই বা তাঁরা সেই পুজো করেছিলেন। এবার আসা যাক সেই ঘটনাতেই (History)। জানা যায়, ১৭৯০ সালে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় বারোজন ব্রাহ্মণ বন্ধু প্রথম চাঁদা তুলে পুজো শুরু করেন। এই পুজোই বারোয়ারি পুজো নামে খ্যাত। মর্ত্যে যখন দুর্গাপুজো শুরু হয়, তখন তা মূলত হত ধনীদের বাড়িতেই। কারণ দুর্গাপুজোর খরচ বিস্তর। পুজোও চার-পাঁচ দিনের। তাই ধনীরা পুজো করতেন। কিছু কিছু ব্রাহ্মণ বাড়িতেও পুজো হত। তবে তা নিতান্তই সাদামাটাভাবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুজো হত পট কিংবা যন্ত্রে। সেখানে ধনী গৃহস্থ বাড়িতে পুজো হত প্রতিমা বানিয়ে।

    কালীপুজো, জগদ্ধাত্রীপুজোও সর্বজনীন

    এক সময় কলকাতায় হাতে গোণা কয়েকটি সর্বজনীন দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024) হত। কালক্রমে পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে আলোর রোশনাই-জৌলুসও। তবে কেবল দুর্গাপুজোই যে সর্বজনীনভাবে হয় তা নয়, বারাসত-বারাকপুরের কালীপুজো, কৃষ্ণনগর, চন্দননগর, বাউড়িয়ার জগদ্ধাত্রীপুজো, উলুবেড়িয়া, কাটোয়া, চুঁচুড়া-বাঁশবেড়িয়া অঞ্চলে কার্তিক পুজো এবং নবদ্বীপের শাক্ত রাসও হয় সর্বজনীনভাবে।

    পুরাণে পুজো নিয়ে কী রয়েছে?

    আগে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরাণ ও শাস্ত্র সহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণই প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন। তার পরে দেবীর আরাধনা করেছিলেন স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মা। তারও পরে দুর্গাপুজো করেছিলেন মহাদেব। পরে আরও অনেক দেবতাই বিপদ থেকে ত্রাণ পাওয়ার জন্য শরণ নিয়েছিলেন মহামায়ার। এ তো গেল দেবতাদের দেবী আরাধনার উপাখ্যান। ব্রহ্মার মানস পুত্র মনু মর্তে দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) প্রচলন করেছিলেন বলে কোনও কোনও শাস্ত্র রচয়িতার দাবি। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: বন্দুকের পর পর গুলির শব্দে দেবীর বোধনের বার্তা পৌঁছে যেত বহু দূরে!

    Durga Puja 2024: বন্দুকের পর পর গুলির শব্দে দেবীর বোধনের বার্তা পৌঁছে যেত বহু দূরে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চণ্ডীমঙ্গল থেকে পালাগান এবং যাত্রাপালার মতো বিনোদনের আসর। সঙ্গে আশপাশের গ্রাম ভেঙে মানুষের ভিড়। সব মিলিয়ে গণ উৎসবে পরিণত হত দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার পতিরাম এলাকার জমিদার বাড়ির পুজো (Durga Puja 2024)। ৩০১ বছরেরও বেশি আগে ঘোষ এস্টেটের জমিদার প্রয়াত রামসুন্দর ঘোষ দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। শূন্যে দোনলা বন্দুকের পর পর গুলির শব্দে দেবীর বোধনের বার্তা পৌঁছে যেত দূরের অঞ্চলে। গরুর গাড়িতে চড়ে, কেউ ছেলে-বউ নিয়ে পায়ে হেঁটে এসে জমিদারের তৈরি অতিথিশালায় ঠাঁই নিতেন। দেবী দুর্গাকে উৎসর্গ করে মণ্ডপে হত মোষ বলি এবং পর পর পাঁঠাবলি। আনন্দের জোয়ারে খুশি প্রজাগণের চওড়া হত মুখের হাসি। পুজোর কটা দিন জমিদার বাড়িতেই পাত পেড়ে দু’বেলা প্রসাদ খাওয়া তো ছিলই। সঙ্গে বড় বড় হ্যাজাকের আলোয় ভরা সামিয়ানায় বসে রাতভর পালাগানের আসরে মজে থাকতেন মানুষ। আর তাঁদের ভিড়ে উৎসবের দিনগুলিতে সকলে মেতে উঠতেন।

    বোধনে নারায়ণ পুজোর রীতি (Durga Puja 2024)

    আজ জমিদারও নেই। নেই সেই জমিদারির জৌলুস। পুরনো সেই মন্দির সংস্কার করে সাত পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ বারেও দু্র্গাপুজোর আয়োজন করছেন বৃদ্ধ বংশধর সাগর ঘোষ। পুরনো দিনের সেই যাত্রাপালা উৎসব আর হয় না। তবে কলকাতা ও জলপাইগুড়ি থেকে আত্মীয় স্বজনরা সময় পেলে পুজোয় আসেন। আত্রেয়ী নদীপথে বাণিজ্যের সুবাদে পূর্ববঙ্গ থেকে পতিরামে এসে জমিদারি পত্তনের সঙ্গেই পারিবারিক দুর্গাপুজো শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। এখনও রীতি মেনে জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় জমিদার বাড়ির প্রতিমা গড়ার কাজ। পঞ্চমীতে দেবীর বোধনে নারায়ণ পুজোর রীতি এখনও ধরে রেখেছেন সাগরবাবু। ঐতিহ্যের নিদর্শন প্রতীকী নৌকাও (Symbolic Boat) মণ্ডপে পুজো হয়।

    অষ্টমীতে চণ্ডীপুজো হলেও বলি প্রথা বন্ধ

    বৃদ্ধের কথায়, ‘‘এক সময় এই পুজো ঘিরে এলাকা-জুড়ে চলত উৎসব। এখন এলাকার ক্লাব কমিটির সাড়ম্বর পুজোয় (Durga Puja 2024) অনেক জৌলুস।’’ লোকবলের অভাব। পাশাপাশি আর্থিক সমস্যার কারণে জৌলুস হারালেও তিথি-নক্ষত্র মেনে নিষ্ঠাচারে দেবীর পুজোর আয়োজন করে জমিদারের বংশধর সাগরবাবু এখনও সাতপুরুষের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন। এবিষয়ে জমিদার বাড়ির উত্তরসূরী সাগরকুমার ঘোষ বলেন, “আমাদের এই পুজো ৭ পুরুষের পুরনো। প্রতিমা বিসর্জনের দিন থেকে পরের বছর পুজোর প্রস্তুতি চলে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনে এই বাড়িতে থাকি। আমরা দুজনে প্রস্তুতির কাজকর্ম করি। আমাদের পুজোতে আগে বলি ছিল। আমরা এখন বলি প্রথাটা উঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের পুজোর বিশেষত্ব হল নৌকাকে ডিঙি করে সেই নৌকাতে পুজো হয়। দশমীর দিন সেই ডিঙিকে (Symbolic Boat) বিভিন্নভাবে সাজিয়ে মণ্ডপে পুজো করে পুজোর পর বাড়িতে যে বয়স্ক মানুষ থাকে, সে মাথায় করে বসত বাড়িতে আনে। এটাই আমাদের পুজোর বিশেষত্ব। পুজোর পাঁচদিন এলাকার সমস্ত মানুষ এখানে এসে আনন্দ করে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: মা দুর্গার আরাধনার পর রাজা ফিরে পেয়েছিলেন রাজত্ব! জানেন সেই কাহিনি?

    Durga Puja 2024: মা দুর্গার আরাধনার পর রাজা ফিরে পেয়েছিলেন রাজত্ব! জানেন সেই কাহিনি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর শিউলি ফুলের গন্ধই বলে দেয়, মা আসছেন। পুজোর এই চারটে দিনের জন্যই যেন সারা বছর হা পিত্যেশ করে বসে থাকা। কিন্তু যে উৎসব ঘিরে এত আয়োজন, এত উন্মাদনা, এত আবেগ, তা শুরু হয়েছিল কার হাতে? এই প্রশ্নটা আমাদের অনেককেই মাঝে মধ্যে ভাবায়। আসুন, পুরাণ ঘেঁটে দেখে নিই, বাংলায় কে প্রথম এই দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) সূচনা করেছিলেন? পুরাণে উল্লেখ রয়েছে বলিপুর নামক একটি জায়গার নাম। অনেকেই জানিয়েছেন, এই বলিপুর আসলে বীরভূম জেলার বোলপুর শহর, যা ছিল রাজা সুরথের রাজধানী‌‌। মার্কন্ডেয় পুরাণ অনুযায়ী, মর্ত্যলোকের এই রাজা মর্ত্যবাসীদের মধ্যে দেবীর মাহাত্ম্য তথা লীলা প্রচার করেছিলেন। তিনিই ছিলেন বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর প্রথম উদ্যোক্তা এবং প্রথম সংগঠক। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন পরিস্থিতিতে, কেন রাজা সুরথ দুর্গাপুজো শুরু করেন? এবং কোথায় তা শুরু করেন?

    দুজনের সাক্ষাৎ যেন দৈব নির্ধারিত ছিল (Durga Puja 2024)

    দেবী মাহাত্ম্যে এবং মার্কন্ডেয় পুরাণে রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্ত বংশীয় রাজা অর্থাৎ চিত্রগুপ্তের বংশধর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাঁর রাজত্ব, সম্পত্তি সব কিছুই হারিয়েছিলেন। দাস-দাসী, আত্মীয়স্বজন, তাঁর পোষ্য জন্তু জানোয়ারদের কাছেও তিনি মর্যাদা হারিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরা কেউ তাঁর কথা শুনত না। অসহায় রাজা মনের দুঃখে রাজ্য ছাড়েন। যদুবংশীয় এই রাজা বৈরাগী হয়েছিলেন। রাজ্য ছাড়ার পর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয় এক বণিকের। ওই বণিকও ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, একেবারে দেউলিয়া ছিলেন তিনি। বণিকের নাম ছিল সমাধি বৈশ্য। তাঁর নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজনের প্রতারণার জন্যই তিনি দেউলিয়া হয়েছিলেন বলে পুরাণে জানা যায়। একদিকে এক ভাগ্যহীন রাজা (King Suratha), অন্যদিকে এক ভাগ্যহীন বণিক। দুজনের সাক্ষাৎ যেন দৈব নির্ধারিত ছিল। তাঁদের সাথে যোগাযোগ হয় মেধস মুনির।

    মেধস মুনির আশ্রম কোথায় ছিল?

    একটি মত অনুযায়ী, মেধস মুনির আশ্রম বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার করলডাঙা পাহাড়ে অবস্থিত। বাংলাদেশের হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান হল এই পাহাড়ের উপর অবস্থিত মেধস মুনির আশ্রম। প্রতি বছর দুর্গাপুজোতে (Durga Puja 2024) ভক্তদের ভিড়ে ঠাসা থাকে এই আশ্রম। শিব মন্দির, চন্ডী মন্দির সমেত অনেকগুলি মন্দির রয়েছে এখানে। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা এই আশ্রম ভেঙে দেয়। পরবর্তীকালে এই আশ্রম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশে হিন্দুদের অন্যতম বড় এই তীর্থস্থান থেকেই বাঙালির সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। অপর একটি মত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর শহরের কাছে গড় জঙ্গল নামক স্থানে ছিল মেধস মুনির আশ্রম‌। আশ্রমের অবস্থান নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে দ্বিমত থাকলেও এই মেধস মুনির আশ্রমেই যে দুর্গাপুজো প্রথম শুরু হয়েছিল, এ ব্যাপারে পন্ডিত থেকে ঐতিহাসিক সকলেই একমত।

    পুজো হয়েছিল বসন্ত কালে (Durga Puja 2024)

    রাজা সুরথ এবং বণিক সমাধি বৈশ্য দুজনে মেধস মুনির শরণাপন্ন হয়ে নিজেদের ভাগ্য বিপর্যয়ের কথা মুনিকে শোনাতে থাকেন। মেধস মুনি তাঁদের দেবী মাহাত্ম্য শোনান। মহিষাসুরমর্দিনীর স্তব করে শোনান। মুনি পরামর্শ দেন, একমাত্র দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার আরাধনা এবং পুজো করলেই তাঁদের ভাগ্য ফিরবে। মুনির পরামর্শ মতো রাজা সুরথ ও বণিক সমাধি বৈশ্য মাটির প্রতিমা নির্মাণ করে ওই আশ্রমেই দুর্গাপুজো করেন। কথিত আছে মাতৃ আরাধনার পর রাজা সুরথ (King Suratha) তাঁর রাজত্ব পুনরায় ফেরত পেয়েছিলেন, পরিবার পরিজনের কাছে তাঁর মর্যাদা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অপরদিকে বণিক সমাধি বৈশ্যও একই ভাবে সৌভাগ্যের অধিকারী হয়ে, হারানো সমস্ত কিছু ফেরত পেয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার মেধস মুনির আশ্রমে এই পুজো বসন্ত কালে সংঘটিত হয়েছিল। শরৎকালের দুর্গাপুজো শ্রী রামচন্দ্রের অকাল বোধনের কারণে হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ! মর্ত্যে মহামায়ার আরাধনা শুরু কবে?

    Durga Puja 2024: প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ! মর্ত্যে মহামায়ার আরাধনা শুরু কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024)। হাতে গোনা আর মাত্র এক মাসের কয়েকটা দিন বেশি বাকি। দেবী দশভুজা চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে মর্তে আসেন। মর্ত্যবাসী তাঁকে নিজের মেয়ের মতো মনে করেই বরণ করে নেন। তাই এখন থেকেই দিকে দিকে তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের অনেকের মনেই যে প্রশ্ন জাগে, তা হল, কবে এই দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়েছিল? এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে পুরাণের (Puranas) দিকে। কারণ বিভিন্ন শাস্ত্রগ্রন্থই এসবের উত্তর বের করার মূল রাস্তা। এছাড়া এ ব্যাপারে আর নির্ভর করার মতো তেমন কিছু নেই।

    প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ

    ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন। তিনি পুজো করেছিলেন বৈকুণ্ঠের মহারাস মণ্ডলে। ওই শাস্ত্রের প্রমাণ বাক্যটি হল, প্রথমে পূজিতা সা চ কৃষ্ণেন পরমাত্মনা। শ্রীকৃষ্ণের পরে দুর্গাপুজো করেছিলেন স্বয়ং ব্রহ্মা। মহামায়ার পুজো করেছিলেন স্বয়ং মহাদেবও। ত্রিপুরাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগে তিনি পুজো করেছিলেন দেবী দুর্গার। মহাদেবীর আরাধনা করেছিলেন দেবরাজ ইন্দ্রও। তার অনেক পরে মর্ত্যে শুরু হয় মহামায়ার আরাধনা (Worship of Mahamaya)।

    দেবী ভাগবত পুরাণ কী বলছে?

    দেবী ভাগবত পুরাণ মতে, ব্রহ্মার মানসপুত্র মনু প্রথম পৃথিবীতে দুর্গাপুজো প্রচলন করেন। শ্রী শ্রী চণ্ডী অনুযায়ী, রাজা সুরথ রাজ্য লাভের আশায় দেবী দুর্গার পুজো করেন। বাল্মীকি রামায়ণে দুর্গাপুজোর কোনও বর্ণনা নেই। তবে কৃত্তিবাস ওঝা বিরচিত রামায়ণে দুর্গাপুজোর উল্লেখ রয়েছে। বাসন্ত কালে দুর্গার পুজো করেছিলেন রাবণও। মৈথিলি কবি বিদ্যাপতি দুর্গা ভক্তি তরঙ্গিনীতে দুর্গাপুজোর উল্লেখ রয়েছে।

    আরও নানা মত (Durga Puja 2024)

    কারও কারও মতে, ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে দিনাজপুরের জমিদার প্রথম দুর্গাপুজো করেন। কারও কারও মতে আবার ষোড়শ শতকে রাজশাহী তাহেরপুর এলাকার রাজা কংস নারাযণ প্রথম দুর্গাপুজো করেন মর্তে। কোচবিহারে ১৫১০ সালে দুর্গাপুজো করেন রাজসিংহ। কেউ কেউ মনে করেন, ১৬০৬ সালে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন নদিয়ার ভবনানন্দ মজুমদার। কলকাতার বরিশাল রায় চৌধুরী পরিবার প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন বলেও মনে করেন অনেকে। আবার কারও কারও মতে, ১৬১০ সালে প্রথম দুর্গাপুজো করেছিল কলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরীর পরিবার। তাঁরা মহিষমর্দিনী দুর্গার পুজো করেননি। ওই পরিবারে দেবীর আগমন (Durga Puja 2024) ঘটেছিল ছেলেমেয়ে সহ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: স্বপ্নাদেশে স্থান বদল গণেশ ও কার্তিকের, লুচি-মিষ্টি-ফল দিয়েই পাঁচদিনের পুজো!

    Durga Puja 2024: স্বপ্নাদেশে স্থান বদল গণেশ ও কার্তিকের, লুচি-মিষ্টি-ফল দিয়েই পাঁচদিনের পুজো!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুরঘাট শহরের আর দশটা পুজোর থেকে একটু আলাদা সাহা বাড়ির পুজো। এবার ১৮৬তম বর্ষে পদার্পণ করল এই পুজো (Durga Puja 2024)। সেই জমিদারি থাকাকালীন শুরু হয়েছিল এই দুর্গাপুজো। তারপর থেকেই পুজো হয়ে আসছে, বংশধররা সেই ধারা বজায় রেখেছেন এখনও পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই প্রচুর ব্যস্ততা শুরু হয়েছে সাহা বাড়িতে। বর্তমান বাংলাদেশের পাবনা জেলার জামির্তা গ্রাম থেকে নৌকাযোগে কোনও এক সময় সাহা পরিবার এসেছিল বালুরঘাটে ব্যবসার জন্য। তারপর এখানেই পরিবারের একটা অংশ থেকে গিয়েছে। ক্রমেই তাদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি হয়েছিল। এমনকী কথিত আছে, কিছুটা অংশের জমিদারিও লাভ করেন পরিবারের বংশধরেরা। তারপর ১৮৬ বছর আগে শুরু হয় দুর্গাপুজো। ক্রমেই তা সাহা পরিবারের সকলের পুজো হয়ে ওঠে।

    প্রচুর মানুষ আজও ভিড় জমান (Durga Puja 2024)

    দেশ ভাগ হওয়ার পরেও বাংলাদেশ থেকে তাঁদের আত্মীয়-স্বজনরা এসেছেন বেশ কয়েকবার। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে সাহা পরিবার কার্যত মিলন মেলায় পরিণত হত। সময় বদলেছে, চলে গিয়েছে জমিদারি, কিন্তু বদলায়নি পুজোর রীতি-রেওয়াজ। স্বপ্নাদেশে গণেশ ও কার্তিকের (Ganesh and Kartik) স্থান বদল হয়েছে। দুর্গা প্রতিমা অর্থাৎ দেবীর ডানদিকে থাকবেন কার্তিক, বাঁদিকে থাকবেন গণেশ। সাহা বাড়ির পুজোর আরও একটি বিশেষত্ব, এখানে কোনও অন্নভোগ হয় না। লুচি-মিষ্টি এবং ফল দিয়েই দেবীর পাঁচদিনের পুজো হয়। জমিদারি যখন ছিল, তখন শাহ বাড়িতে প্রায় প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ প্রসাদ পেতেন। এখন জমিদারি নেই, আর্থিক সচ্ছলতাও কমেছে। পুরনো বাড়িতে এখন শুধুই শূন্যতা। দুর্গামণ্ডপ বহু পুরনো। আগে পুজোর কদিন প্রায় প্রতিদিনই গান-বাজনার আসর বসত। বাইরে থেকে আসতেন শিল্পীরা। এখন এসবও অতীত। নিয়ম মেনে দেবীর পুজো হয়। ব্যতিক্রমী এই পুজো দেখতে এবং প্রতিমা দর্শন করতে প্রচুর মানুষ আজও ভিড় জমান সাহা বাড়ির দুর্গা দালানে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যই সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন এই পাঁচদিনের দুর্গা উৎসবের জন্য।

    কী জানালেন পুজোর উদ্যোক্তারা?

    এই বিষয়ে পুজোর উদ্যোক্তা কালীকৃষ্ণ সাহা চৌধুরী বলেন, আমাদের এবারের দুর্গা পুজো ১৮৬তম বছরে পড়ল (Durga Puja 2024)। আমাদের এই পুজোর উল্লেখযোগ্য বিষয় হল স্বপ্নাদেশে গণেশ ও কার্তিকের স্থান বদল হয়েছে। দুর্গা প্রতিমার অর্থাৎ দেবীর ডানদিকে থাকে কার্তিক, বাঁদিকে থাকে গণেশ এবং আমাদের এই পুজোর আরও একটি বিশেষত্ব, এখানে কোনও অন্নভোগ  হয় না। লুচি-মিষ্টি এবং ফল দিয়েই দেবীর পাঁচদিনের পুজো হয়। তিনি আরও বলেন, এই পুজোতে নবমীর দিন যজ্ঞ করা হয়। তবে কোনও বলি হয় না। আর দশমীর দিন শ্যাপলা ফুল ও ভ্যাটের খৈ দিয়ে মাকে ভোগ দেওয়া হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share