Tag: Hygiene Tips

  • Superfoods for Children: দিনভর পড়াশোনা, টিউশন, খেলাধুলা! ক্লান্তি দূর করে স্কুলপড়ুয়াদের এনার্জি বাড়াবে এই ৭ সুপারফুড

    Superfoods for Children: দিনভর পড়াশোনা, টিউশন, খেলাধুলা! ক্লান্তি দূর করে স্কুলপড়ুয়াদের এনার্জি বাড়াবে এই ৭ সুপারফুড

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভোর থেকে রাত, দিনভর থাকে নানান কাজ! পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, গান শেখা কিংবা সাঁতার-ক্যারাটের মতো খেলা চলে। একদম রুটিন মেনে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ক্লান্তি। শরীর ও মনে এর গভীর প্রভাব পড়ছে। তাই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্কুল পড়ুয়াদের বাড়তি যত্ন জরুরি। বিশেষত তাদের খাবারের দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্কুল পড়ুয়াদের শারীরিক বিকাশে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাদের ঠিকমতো শারীরিক বিকাশ না হলে পরবর্তীতে একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্যেও গভীর প্রভাব পড়ে। মনঃসংযোগ নষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি স্মৃতিশক্তিতেও প্রভাব ফেলে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের পাতে নিয়মিত এমন কিছু খাবার থাকা জরুরি, যাতে তাদের শরীর ও মন ভালো থাকে। দিনভরের ধকল নিতে সক্ষম হয়।

    কোন খাবারে ভরসা রাখছেন পুষ্টিবিদেরা?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর পাতে এমন খাবার দিতে হবে, যা সহজেই হজম হবে। কিন্তু তার পুষ্টিগুণ পর্যাপ্ত থাকবে। এমন একাধিক সব্জি এবং ফল নিয়মিত শিশুকে দেওয়া যেতে পারে, যাতে তার শরীরের সমস্ত চাহিদা পূরণ হয়।

    পালং শাক!

    পুষ্টিকর সব্জির তালিকায় প্রথমেই থাকছে পালং শাক। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, পালং শাক সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাওয়া উচিত। পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন কে সহ একাধিক ভিটামিন। ভারতের অসংখ্য শিশু আয়রনের অভাবে ভোগে। আয়রনের ঘাটতি শিশুর ক্লান্তি বোধ বাড়িয়ে দেয়। রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। এছাড়া ভিটামিন শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ জরুরি। তাই পালং শাকের মতো ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

    গাজর!

    স্কুল পড়ুয়াদের পাতে নিয়মিত গাজর থাকা প্রয়োজন বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ শিশুর দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। চোখ ভালো রাখতে গাজর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত সব্জি হিসাবে কিংবা স্যালাডের সঙ্গে গাজর খাওয়া যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গাজর বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ একটি সব্জি। তাই গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমতে পারে।

    ফুলকপি এবং মিষ্টি আলু!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, মজবুত পেশি এবং স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।‌ ভিটামিন, আয়রনের পাশপাশি শিশুর পাতে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যাতে থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাই ফুলকপি এবং মিষ্টি আলুর মতো সব্জি নিয়মিত শিশুকে খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুলকপি এবং মিষ্টি আলু ভিটামিন এ, সি, কে এবং ফাইবার সমৃদ্ধ দুটো সব্জি। তাই এগুলো নিয়মিত খেলে অন্ত্র, লিভার ভালো থাকবে। আবার পেশি ও স্নায়ুর সচলতা বাড়বে। পাশপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। ফলে শিশুর সহজে ক্লান্তিবোধ হবে না।

    পেয়ারা, কলা, আমের মতো ফলে বাড়বে খেলাধুলার এনার্জি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশুই সাঁতার, ক্রিকেট কিংবা ক্যারাটের মতো নানান ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধূলা চালানোর জন্য বাড়তি এনার্জি জরুরি। শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দিলে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়বে। মনে রাখার ক্ষমতা কমবে। তার সঙ্গে দক্ষতাও কমবে। ফলে শিশুর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের যাতে বাড়তি এনার্জি পাওয়া যায়, এমন কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, পেয়ারা, কলা এবং আমের মতো ফল নিয়মিত খেলে সহজেই বাড়তি এনার্জি পাওয়া যেতে পারে। কলা কার্বোহাইড্রেট এবং পটাশিয়ামের জোগান দেয়। পেয়ারার থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি। আম কার্বোহাইড্রেটের পাশপাশি ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ফল। তাই এই তিন ফলের মধ্যে যেকোনো একটা ফল নিয়মিত খেলেই শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দেবে না।

    কেন সব্জি ও ফলে বাড়তি গুরুত্ব?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অন্যতম বড় সমস্যা স্থুলতা। বিশেষত শিশুদের অতিরিক্ত ওজন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। শিশুদের ওবেসিটির হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর তাই সুস্থ দীর্ঘ জীবন‌ যাপনের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। শিশুদের নিয়মিত এমন কিছু খাবার দেওয়া প্রয়োজন, যা মেদ তৈরি করবে না। বরং পুষ্টির জোগান দেবে। অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া বিশেষত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার জেরেই স্থূলতার সমস্যা বাড়ছে। প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার প্রবণতাই শিশুর সুস্থ জীবনের পরিপন্থী হয়ে উঠছে। তাই প্রোটিনের পাশপাশি শিশুর ভিটামিন, ফাইবার, আয়রন এবং পটাশিয়ামের মতো উপাদানের চাহিদা মিটছে কিনা সেদিকে নজর রাখাও জরুরি।‌ কারণ সেগুলোর ঘাটতি হলে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব নয়। আর তাই ভরসা রামধনু মেনুতে। অর্থাৎ, প্রতিদিন খাবারে নানান রঙের সব্জি থাকবে‌। অর্থাৎ , ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে গাজর, বিট, পালং শাক, কুমড়ো, পটলের মতো নানান রঙের সব্জি থাকবে। যাতে শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়। তবেই সুস্থ দীর্ঘ জীবন সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • India FDC Medicines Ban: জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ১৬টি ওষুধ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! তালিকায় কী কী? কেন এই সিদ্ধান্ত?

    India FDC Medicines Ban: জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ১৬টি ওষুধ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! তালিকায় কী কী? কেন এই সিদ্ধান্ত?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হজমের অসুবিধা হোক কিংবা ভারি খাবার খাওয়ার পরে বমি ভাব! এমন যে কোনও ফি-দিনের অসুবিধায় কিছু ওষুধ নিত্যসঙ্গী। আবার সামান্য জ্বর, পেটে ব্যথার অসুবিধা হলেও দেদার সেই সব ওষুধ খাওয়া হয়। এমন বেশ কিছু সহজলভ্য ওষুধ আসলে বিপদ বাড়াচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের দিকে গুরুত্ব দিয়েই তাই সেই সব ওষুধ বাতিল করল কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রমাণ পেয়েছেন, ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন বা এফডিসি (FDC) ওই ওষুধ নিয়ম মাফিক তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের (Public Health) উপরে এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

    কোন কোন ওষুধ নিষিদ্ধ হল?

    কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health) তরফে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, ১৬টি ওষুধ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ১৬টি ওষুধ উৎপাদন এবং বিক্রি ভারতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    তালিকায় রয়েছে—

    • ১. নিমেসুলাইড ১০০ মিগ্রা + প্যারাসিটামল ৩২৫ মিগ্রা
    • ২. এসিক্লোফেনাক ১০০ মিগ্রা + প্যারাসিটামল ৩২৫ মিগ্রা
    • ৩. সেফিক্সিম ২০০ মিগ্রা + ওফ্লক্সাসিন ২০০ মিগ্রা
    • ৪. সেফট্রিয়াক্সোন ২৫০ মিগ্রা + সালব্যাকটাম ১২৫ মিগ্রা
    • ৫. অ্যামক্সিসিলিন ২৫০ মিগ্রা + ক্ল্যাভুলানিক অ্যাসিড ১২৫ মিগ্রা
    • ৬. সিটিরিজিন ৫ মিগ্রা + ফেনাইলএফ্রিন ১০ মিগ্রা
    • ৭. ডাইক্লোফেনাক ৫০ মিগ্রা + সেরাটিওপেপটিডেজ ১০ মিগ্রা
    • ৮. প্যারাসিটামল ৩২৫ মিগ্রা + ট্রামাডল ৩৭.৫ মিগ্রা
    • ৯. ট্রিপসিন ৪৮ মিগ্রা + ব্রোমেলিন ৯০ মিগ্রা + রুটোসাইড ১০০ মিগ্রা
    • ১০. মেফেনামিক অ্যাসিড ২৫০ মিগ্রা + ডাইসাইক্লোমিন ১০ মিগ্রা
    • ১১. ডাইসাইক্লোমিন ১০ মিগ্রা + প্যারাসিটামল ৫০০ মিগ্রা
    • ১২. মেটফরমিন ৫০০ মিগ্রা + ভোগলিবোজ ০.২ মিগ্রা
    • ১৩. গ্লাইমেপিরাইড ১ মিগ্রা + মেটফরমিন ৫০০ মিগ্রা
    • ১৪. ডমপেরিডন ১০ মিগ্রা + প্যান্টোপ্রাজল ৪০ মিগ্রা
    • ১৫. ক্লোবেটাসল প্রোপিওনেট ০.০৫% + নিওমাইসিন সালফেট ০.৫% + মাইকোনাজল নাইট্রেট ২%
    • ১৬. ক্লিন্ডামাইসিন ১% + নিকোটিনামাইড ৪%

    ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন কী?

    ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন (FDC) হল এমন একটি ওষুধ, যেখানে দুই বা ততোধিক সক্রিয় উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে একসঙ্গে একটি মাত্র ডোজ ফর্মে (যেমন ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল) দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, বাতিল হওয়া এই ১৬টি ওষুধে নির্দিষ্ট পরিমাণ উপাদান ছিল না। ফলে, এর প্রভাব স্বাস্থ্যের উপরে গভীর ভাবে পড়ছিল।

    কেন বাতিল হল এই ১৬টি ওষুধ?

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, রোগ নিরাময়ে এই ১৬টি ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর, সেই প্রমাণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এর ফলে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে কি না তার যথেষ্ট উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের ড্রাগ কন্ট্রোল অথারিটির তরফে জানানো হয়েছে, বাতিল হয়ে যাওয়া এই ওষুধগুলো রোগীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছিল। তার কারণ, এই ওষুধগুলো যে ধরনের ড্রাগ ব্যবহার করে, সেখানে পরিমাণের রকমফের হচ্ছিল। ওষুধে নির্দিষ্ট পরিমাণ ড্রাগ দিতে হবে। পরিমাণের সামান্য হেরফের হলেও স্বাস্থ্যে বড় বিপদ দেখা দিতে পারে। এই ওষুধগুলো সেই ঝুঁকি তৈরি করছিল। ওষুধ বাতিল করার অন্যতম কারণ, রোগীদের মধ্যে একসঙ্গে একাধিক ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছিল। এর ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছিল। যা শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। আবার, ওষুধ ঠিকমতো কাজ না করলে রোগীর আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে। আর এই কারণেই সম্প্রতি ১৬টি ওষুধ বাতিল করা হয়েছে।

    ওষুধ বাতিলের উদ্দেশ্য কী?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওষুধ বাতিল করার মূল কারণ, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখা।‌ বাজারে এমন কোনও ওষুধ যদি সহজলভ্য হয়, যা আসলে রোগীকে শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তাহলে সেটা বন্ধ করা জরুরি। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওষুধ খাওয়ার পরে শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।‌ আবার পাশপাশি নজর রাখা প্রয়োজন ওষুধে কাজ হচ্ছে কিনা। সেটা না হলে রোগীর সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করা হয়। তাই বৈজ্ঞানিক দিক এবং আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গির মাপকাঠিতে বিচার করে তবেই বাজারে ওষুধ বিক্রির সম্মতি পাওয়া যায়‌। এই ১৬টি ওষুধ সেই সম্মতি আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই বাতিল হয়েছে।

  • Waterborne Diseases: ফুচকা থেকে কাটা ফল— বর্ষায় এই খাবারগুলো সবচেয়ে বিপজ্জনক? সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

    Waterborne Diseases: ফুচকা থেকে কাটা ফল— বর্ষায় এই খাবারগুলো সবচেয়ে বিপজ্জনক? সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে কোচিং ক্লাস থেকে ফেরার সময় হোক কিংবা অফিস থেকে বেরিয়ে, দিনভরের ক্লান্তি দূর করতে আর মেজাজ ফুরফুরে রাখতে, রাস্তায় সাজানো থাকে নানান পসরা! জিভে জল আনা খাবারের কমতি নেই সেখানে! রাস্তার পাশে কম দামে সহজেই নানান খাবার! আর তাতেই মজে আট থেকে আশি! স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে অফিস যাত্রী কমবেশি সকলেই সন্ধ্যার মুখরোচক খাবারে নজর থাকে। লেবু আর তেঁতুল জল দেওয়া ফুচকা হোক কিংবা মিষ্টি রঙিন সরবত, দিনের নানান ক্লান্তি কাটাতে, এমন মুখোরোচক খাবারের তুলনা নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই জিভে জল আনা খাবারেই বিপদ বাড়ছে! বিশেষত বর্ষার ভোগান্তি বাড়াবে এই ধরনের খাবার। সাবধানতা বজায় রাখতে না পারলেই সঙ্কট বাড়তে পারে।

    কোন কোন খাবারে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষায় জলবাহিত রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত রাজ্যের একাধিক জায়গায় যেভাবে জমা জলের সমস্যা রয়েছে, তার জেরে বর্ষায় রোগের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় সুস্থ থাকতে তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি বাড়ায় জলবাহিত রোগ।

    ফুচকা

    পেটের অসুখ, টাইফয়েড এমনকি নানান রকমের হেপাটাইটিসের নেপথ্যে থাকে অপরিশ্রুত জল। ফুচকার মতো খাবার থেকে লিভার এবং পাকস্থলীর অসুখের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, ফুচকার সঙ্গে তেঁতুল ও লেবুর রস মেশানো জল খাওয়া হয়। এই জল সব দোকানে সমান পরিশ্রুত থাকে না। ফলে সেই জল থেকে নানান অসুখের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্ষায় যে কোনও জায়গায় জলে সহজেই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ফুচকা থেকে তাই সহজেই রোগ সংক্রমণ হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রঙিন সরবত

    ফুচকার পাশপাশি রঙিন সরবত নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ প্রচন্ড বৃষ্টি হলেও, রোদের পারদ যথেষ্ট থাকছে। আবহাওয়ার রকমফেরে অস্বস্তি বাড়ছে। এর ফলে সাময়িক আরাম পাওয়ার জন্য অনেকেই রাস্তায় নানান রকমের রঙিন সরবত খাচ্ছেন। কিন্তু এই ধরনের রঙিন সরবত ভোগান্তি বাড়াতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, রঙিন সরবতে যে জল ব্যবহার করা হয়, অনেক সময়েই তার গুণমান ঠিক থাকে না। তাছাড়া, রাস্তার ধুলো-বালি মিশে, সেই জলের মানের অবনমন ঘটে। সব মিলিয়ে সেই সরবত থেকে সহজেই লিভারে যে কোনও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

    কাটা ফল

    বর্ষার মরশুমে বাজারে কাটা ফল বা ফ্রুট চাট জাতীয় খাবার বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে ডায়েরিয়া-কলেরার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ে। বর্ষার জমা জল ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এই ধরনের রোগের দাপট বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে খাবারের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সজাগ থাকা জরুরি। রাস্তার কাটা ফল বা ফ্রুট চাট জাতীয় খাবারে যে ধরনের ফল ও মশলা ব্যবহার করা হয়, এতে কলেরার মতো রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, কাটা ফলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তাই এই ধরনের খাবার থেকে বর্ষার রোগের দাপট বাড়তে পারে।

    কোন ধরনের রোগ নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষায় সবচেয়ে বেশি বিপদ বাড়ায় লিভারের অসুখ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস এ-সহ একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও ডায়ারিয়া, টাইফয়েডের মতো রোগের দাপট ও বাড়ে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা এবং খাবার খাওয়ার জেরেই এই ধরনের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। জন্ডিস, টাইফয়েডের মতো রোগে লিভার কিংবা অন্ত্রের জটিল সমস্যার পাশপাশি লিভার বা পাকস্থলীর সংক্রমণ থেকে জ্বর, পেট ব্যথা, বমির মতো দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলেও জানাচ্ছেন তাঁরা। এছাড়াও পেটের সাধারণ রোগ ও হজমের গোলমালের সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কয়েক দিন বৃষ্টি না হলেই তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। অস্বস্তি বাড়ছে। রোদের দাপটে নাজেহাল। আবার একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে হঠাৎ করেই তাপমাত্রার পারদ কমে যাচ্ছে। আবার প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টির জেরে জল জমে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে একদিকে পরিবেশের এই তারতম্য, আরেকদিকে জমা জলের দূর্ভোগ, মানুষের স্বাস্থ্য ভোগান্তিও বাড়াতে পারে। তাই বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ভোগান্তি কমাতে কী করতে হবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার রোগের দাপট কমাতে সবচেয়ে জরুরি সচেতনতা। সতর্ক থাকলেই সংক্রামক রোগের দাপট কমবে। তাই তাঁদের পরামর্শ, খোলা খাবার খাওয়া একেবারেই চলবে না। বরং পরিষ্কার জায়গায় খাবার খাচ্ছেন কিনা, এই আবহাওয়ায় সে নিয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। পরিশ্রুত পানীয় জল খেতে হবে। যাতে জলবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। জল পরিশ্রুত কিনা সেদিকে নজর দেওয়ার পাশপাশি যে পাত্রে জল রাখা হচ্ছে এবং যে পাত্রে জল খাওয়া হচ্ছে, সেটা ঠিক আছে কিনা, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কারণ সেগুলো থেকেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। শৌচালয় ব্যবহারের পরে এবং খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে হাত ধোয়ার ব্যাপারে বাড়তি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যাতে কোনও রকম জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি না হয়।

  • Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা শুধুই শরীরে আটকে থাকছে না। একাধিক শারীরিক অসুবিধার পাশপাশি দেশ জুড়ে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশের নানান শারীরিক অসুখের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মন ও শরীরের একাধিক সমস্যা ঠেকাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যোগাভ্যাস। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানান স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে জীবন যাপনের ধরন। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও খাদ্যাভাসের জেরেই তাঁরা নানান ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের সুস্থ জীবন যাপনের সাহায্য করবে যোগাভ্যাস।

    তরুণ প্রজন্মের কোন সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সাহায্য করবে যোগাভ্যাস?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাজ করেন। হাঁটাচলা কিংবা দৌড়াদৌড়ির সুযোগ কম। তার পাশপাশি আধুনিক খাদ্যাভাসে অতিরিক্ত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অধিকাংশ কম বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে।
    এই ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যায় ভোগেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানান টানাপড়েন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ভারতে যে হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, তাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করতে তাই যোগাভ্যাস আধুনিক জীবনে অত‌্যন্ত জরুরি হয়ে যাচ্ছে।

    মানসিক সমস্যার জেরে হচ্ছে শারীরিক ক্ষতি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরে শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস শরীর এবং মনের উপরে একসঙ্গে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে একদিকে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। তাছাড়া, যোগাভ্যাস স্নায়ু সক্রিয় রাখে। পেশির দূর্বলতা কমায়। আবার যোগাভ্যাস হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। একদিকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হওয়ার জেরে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকায় স্নায়ুঘটিত সমস্যা কমবে। পেশির দূর্বলতা কমলে দিনভরের ক্লান্তি দূর হবে। যেকোনো কাজে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে। এর পাশপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখলে যোগাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব। যোগাভ্যাস স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত যোগাভ্যাস বজায় থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা কমবে।

    কেন যোগাভ্যাসেই বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকোনো বয়সেই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য যোগাভ্যাস জরুরি‌। তবে ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হারে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, সেটা রুখতে যোগাভ্যাসেই ভরসা রাখছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধের উপরে দীর্ঘদিন নির্ভর করে জীবন কাটালে, তার নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বরং দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুস্থ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাসে বাড়তি ভরসা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট এই যোগাভ্যাস করলে, শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে শরীরের পাশপাশি মনের জটিলতা কমাতে পারবে না। মস্তিষ্ক, স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ওষুধ নয়। বরং ভালো অভ্যাস দীর্ঘ জীবন যাপন সহজ করবে। যোগাভ্যাস রোগ রুখতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা আধুনিক জীবনের স্বাস্থ্য সঙ্কট ঠেকাতে যোগাভ্যাসেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    কখন যোগাভ্যাস করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাসের জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। তাহলেই নিয়মিত এই অভ্যাস জারি রাখা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক দিন সকালে যোগাভ্যাস করলে শরীর ও মনে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকালে যোগাভ্যাস করলে একদিকে হজম শক্তি বাড়ে। দিনভর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। মনে রাখতে সুবিধা হয়। যোগাভ্যাস মনে ইতিবাচক শক্তি গড়ে তোলে। তাই সকালে যোগাভ্যাস করলে দিনভর কাজ করার ইচ্ছে থাকে। মানসিক অবসাদ ও বিষন্নতা রুখতেও সাহায্য করে। তবে সকালে যোগাভ্যাস করতে কোনো সমস্যা থাকলে সন্ধ্যায় যোগাভ্যাস করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ভারি খাবার খাওয়ার পরে যোগাভ্যাস করা না হয়‌‌। অতিরিক্ত ভারি খাবার খাওয়ার পরে অন্তত দু’ঘণ্টা যোগাভ্যাস করা উচিৎ নয়। এতে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Mens Health: পুরুষের স্বাস্থ্য সঙ্কটের নেপথ্যে ‘একাকিত্ব’! সমস্যা ভাগ করে নিতে না পারার জেরেই কি বাড়ছে বিপদ?

    Mens Health: পুরুষের স্বাস্থ্য সঙ্কটের নেপথ্যে ‘একাকিত্ব’! সমস্যা ভাগ করে নিতে না পারার জেরেই কি বাড়ছে বিপদ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সবকিছুই সামলে নিতে পারে। অফিসের চাপ থেকে ব্যক্তিগত জীবনের নানান বঞ্চনা। অধিকাংশ সময়েই সে নিয়ে কথা বলা হয় না। বরং নিজের না পাওয়া নিয়ে কথা বলাই যেন একধরনের দূর্বলতার প্রকাশ। পুরুষ মানেই, সে সবকিছু পারবে। ব্যর্থতা যেন লজ্জা। সমাজে পুরুষের এমন এক ইমেজ। নিজের না পাওয়া কিংবা হেনস্থার কথা প্রকাশ করতেও তাই অধিকাংশ পুরুষের কুন্ঠাবোধ হয়। আর এই সমস্যা ভাগ করতে না পারার জন্য বিপদ বাড়ছে। দেখা দিচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জুন মাসের ১৫ থেকে ২১ তারিখ ইন্টারন্যাশনাল মেন হেলথ উইক (International Men’s Health Week) পালন হয়। সপ্তাহ জুড়ে পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে নানান কর্মশালার আয়োজন হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উঠে এসেছে, পুরুষদের স্বাস্থ্য সঙ্কটের নেপথ্যে রয়েছে নিজের সমস্যা অন্যের সঙ্গে ভাগ করতে না পারার ঘটনা।

    সমস্যা ভাগ করতে না পারার জেরেই কেন বিপদ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারত সহ বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশেই পুরুষদের অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা হলো একাকিত্ব‌। এই সমস্যা মানসিক হলেও, শারীরিক ক্ষেত্রেও এর গভীর প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ পুরুষদের হৃদরোগের সমস্যা উর্ধ্বমুখী। ভারতে পুরুষদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হৃদরোগ। কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপের জেরেই কম বয়স থেকেই হৃদরোগের সমস্যা দেখা যায়। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পুরুষেরা নিজেদের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারে না। এর ফলে, মানসিক চাপ, বিষন্নতা, রাগ হয়। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা তৈরি হয়। এগুলো আবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    ভারতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে পুরুষদের আত্মহত্যা!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে উদ্বেগজনক হারে পুরুষদের আত্মহত্যা বাড়ছে। নিজের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে না পারার জেরেই ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে একাকিত্ব, অবসাদ ও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। যার ফলে আত্মহত্যার মতো দূর্ঘটনাও বাড়ছে। অনেক সময়েই পেশাগত জীবন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানান জটিলতায় তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু সেই সমস্যা অন্যের সঙ্গে ভাগ করতে পারছেন না। যার ফলে মানসিক চাপ বাড়ছে। সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, শারীরিক পরীক্ষা না করানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, উপসর্গ দেখা দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো অবহেলা করা হচ্ছে।‌ পরিবারের সদস্যেরাও রোগের উপসর্গ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকছেন না। ফলে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে না। বড় বিপদ আটকানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।

    ভারতীয় পুরুষদের কোন চার রোগের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন?

    ইন্টারন্যাশনাল মেন হেলথ উইকে চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে চারটি রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে হৃদরোগ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ কম বয়সী ভারতীয় পুরুষেরা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখলে এই বিপদ আটকানো সহজ হবে। মানসিক চাপ কমাতে হবে। পরিবারের ছেলে সব সামলে নেবে, সব পারবে, এই চিন্তার বদল জরুরি। অতিরিক্ত প্রত্যাশা মানসিক চাপ তৈরি করছে। তবে এর পাশপাশি খাদ্যাভাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত পরিমাণ তেল মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। বরং স্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত থাকা জরুরি।‌ তাহলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে।

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধূমপানের প্রবণতা

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধূমপানের প্রবণতা। তাই ভারতীয় পুরুষদের ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বেশি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং অন্যান্য সংক্রমণের নেপথ্যে অন্যতম কারণ ধূমপানের অভ্যাস। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই ভারতের ছেলেদের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস গড়ে উঠছে। আধুনিক জীবনে ‘স্মার্ট’ হওয়ার মাপকাঠি হয়ে উঠছে ধূমপান। কিন্তু এই ভ্রান্ত ধারণার বদল জরুরি‌। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস কখনোই আধুনিক জীবনের অংশ হতে পারে না। ধূমপানের অভ্যাস কখনোই ‘স্মার্ট’ হওয়ার মাপকাঠি নয়। বরং যে অভ্যাস না থাকলে দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব, সেটা মেনে চলার মধ্যেই বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ পায়।

    মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা জরুরি

    ভারতীয় পুরুষদের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সচেতনতা জরুরি। এমনটাই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রতি বছর যে হারে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে, তাতে ভারতীয় পুরুষদের মানসিক চাপ ও অবসাদের বিষয়ে সচেতনতা কতখানি জরুরি, সে সম্পর্কে ধারণা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। সবটা একটা সামলে নিতে হবে, এই ভাবনার পরিবর্তে পরিবারে সকলের সঙ্গে বিষয়টি ভাগ করে নিতে হবে, এটা বোঝাও জরুরি। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় পুরুষদের আত্মহত্যার অন্যতম অত্যাধিক মানসিক চাপ।

    ভারতে বাড়ছে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা

    ভারতে বাড়ছে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা। সময় মতো চিকিৎসা শুরু না করলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে বলেও জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় প্রৌঢ়দের মধ্যে এই সমস্যা ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে। বার্ধক্যজনিত কারণে প্রস্টেট গ্রন্থিতে অনেক সময়েই নানান সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই সেই উপসর্গকে পুরুষেরা বিশেষ গুরুত্ব দেন না। এর ফলে সমস্যা থাকলে তা আরও জটিল হয়ে যায়। তাই ভারতীয় পুরুষদের এই নিয়ে আরো বেশি সচেতনতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাহলে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ মোকাবিলা সহজ হবে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Mango Health Risks: পাকা আম খাওয়ার আগে জানুন! এই ২ শ্রেণির মানুষের জন্য ‘ফলের রাজা’ই হতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি

    Mango Health Risks: পাকা আম খাওয়ার আগে জানুন! এই ২ শ্রেণির মানুষের জন্য ‘ফলের রাজা’ই হতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমের জেরে নাজেহাল বঙ্গবাসী! তবে এই অস্বস্তিকর আবহাওয়াতেও ভোজন প্রিয় বাঙালির পাতে পড়ছে প্রিয় ফল! সকালের জলখাবারে হোক কিংবা দুপুরে ভাতের পরে যেকোনো সময়েই সঙ্গী হচ্ছে পাকা আম! অনেকেই দিনে একাধিক পাকা আম খাচ্ছেন। সকাল-বিকেল কিংবা রাতে, এই গরমে পাকা আম খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় বাধা থাকছে না। কিন্তু প্রতিদিন এই ফলের রাজা একাধিকবার পাতে পড়লে বিপদ বাড়তে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কাদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে পাকা আম?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো ঋতুতেই সেই ঋতুর সহজলভ্য ফল খাওয়া উচিত। তাই গরমেও আম, তরমুজের মতো ফল অবশ্যই খাওয়া উচিত। কিন্তু যেদিকে নজর দেওয়া উচিত, সেটা হলো পরিমাণ! অনেক সময়েই এই গরমে অতিরিক্ত পরিমাণ পাকা আম খাওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিপদ বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, গরমে অতিরিক্ত পরিমাণ পাকা আম খেলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত এবং ওবেসিটির সমস্যায় ভোগেন, এমন মানুষদের বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    ডায়াবেটিস আক্রান্তদের কী বিপদ হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পাকা আমে থাকে গ্লুকোজ, সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজের মতো উপাদান। অর্থাৎ পাকা আম প্রাকৃতিক চিনি সমৃদ্ধ একটা ফল। তাই প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণ পাকা আম খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তেরা অতিরিক্ত পরিমাণ পাকা আম খেলে বাড়তি বিপদ তৈরি হতে পারে। ডায়াবেটিস আক্রান্তের অতিরিক্ত পরিমাণ পাকা আম খেলে বারবার প্রস্রাবের সমস্যা হতে পারে। তার সঙ্গে ক্লান্তিবোধ, মাথা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই ধরনের সমস্যা হলে দৈনন্দিন সাধারণ কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হয়।

    স্থূলতার সমস্যায় আক্রান্তের কী সমস্যা হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস আক্রান্তের মতোই ওবেসিটি বা স্থূলতার সমস্যায় ভুক্তভোগীদের পাকা আম বাড়তি বিপদ‌ তৈরি করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অন্যান্য ফলের তুলনায় পাকা আমে ক্যালোরির পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে। এর ফলে শরীরে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নানান চেষ্টা করছেন, তাঁরা যদি অতিরিক্ত পাকা আম খেয়ে ফেলেন, তাহলে হঠাৎ করেই শরীরের বাড়তি ওজন তৈরি হতে পারে। ডায়াবেটিস কিন্তু ওবেসিটির সমস্যা না থাকলেও অতিরিক্ত পাকা আম খেলে নানান শারীরিক সমস্যা হতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত পাকা আম খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। পেটের গোলমাল ও দেখা দিতে পারে।

    কীভাবে পাকা আম খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই গরমে পাকা আম অবশ্যই খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। দিনে সর্বাধিক ১৫০ গ্রাম পাকা আম খাওয়া যেতে পারে। ডায়াবেটিস কিংবা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে ১০০ গ্রামের বেশি পরিমাণ পাকা আম খাওয়া যাবে না। তাঁদের পরামর্শ, পাকা আমের অতিরিক্ত ক্যালোরি যাতে শরীরে বাড়তি বিপদ তৈরি না করে, তার জন্য অন্যান‌্য মিষ্টিজাতীয় খাবার এই সময়ে একেবারেই বাদ দিতে হবে। পাকা আম ছোটো ছোটো টুকরো করে খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু ম্যাঙ্গো সেক জাতীয় পানীয় তৈরি করে খাওয়া উচিত নয়। কারণ এই ধরনের পানীয়তে বাড়তি চিনি দেওয়া হয়। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে আরও বেশি ক্ষতিকারক। তাছাড়া, একসঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণ আম না খেয়ে, ছোটো ছোটো টুকরো করে কয়েক বার খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, পরিমাণ যাতে পরিমিত হয়।

    নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, শারীরিক কসরতের পরামর্শ

    তবে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের শারীরিক জটিলতা এড়াতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করলে রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিকমতো বোঝা যাবে। আম খাওয়ার জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি হচ্ছে কিনা সেটা বোঝাও সহজ হবে। অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় আক্রান্তদের নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, আম খাওয়ার জেরে যে বাড়তি ক্যালোরি শরীরে যাচ্ছে, সেটা ঝরাতে নিয়মিত শারীরিক কসরত, যোগাভ্যাস জরুরি। তাহলেই পাকা আম বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করতে পারবে না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Elder Abuse: জীবন বাড়ছে, সম্মান কমছে! প্রতি ৬ জনে ১ প্রবীণ হেনস্থার শিকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে উদ্বেগ

    Elder Abuse: জীবন বাড়ছে, সম্মান কমছে! প্রতি ৬ জনে ১ প্রবীণ হেনস্থার শিকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে উদ্বেগ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জীবন যাপনের সময় বেড়েছে! আধুনিক চিকিৎসা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার জেরে দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার সুযোগ বেড়েছে! কিন্তু জীবন যাপনের মান বেড়েছে কি? এই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সাম্প্রতিক তথ্য! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে প্রকাশিত এক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মানুষের জীবনকাল বাড়লেও, প্রৌঢ় বয়সে তাঁদের জীবন যাপনের মান বাড়েনি। বরং বিশ্ব জুড়ে বয়স্কদের হেনস্থার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে! যার ফলে, তাদের জীবন যাপন আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব তাঁদের স্বাস্থ্যের উপরেও পড়ছে। তাই ১৫ জুন ওয়ার্ল্ড ওল্ডার অ্যাবিউজ অ্যাওয়ারনেস ডে-তে বিশ্ব জুড়ে নানান সচেতনতা কর্মশালার আয়োজন হয়েছে। হেনস্থা হলে কী করতে হবে, সেই সম্পর্কে জানানোর পাশপাশি এ বছরে জোর দেওয়া হয়েছে, হেনস্থা হওয়ার আগেই কীভাবে সবকিছু আটকে দেওয়া যায়।

    কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সমস্ত দেশেই প্রবীণ নাগরিকদের উপরে হেনস্থা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। অর্থাৎ ৬০ বছরের উর্ধ্বে বয়স্ক মানুষেরা নানান ভাবে হেনস্থার শিকার হন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ৬ জন প্রবীণ নাগরিকের মধ্যে ১ জন হেনস্থার শিকার হন। আমেরিকা এবং ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতেও প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। তবে বাদ নেই ভারত! প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কাজ করা এক সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ১১ শতাংশের বেশি প্রবীণ নাগরিক হেনস্থার শিকার হন। যা তাঁদের স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। সমাজের পক্ষেও এই ঘটনা ঠিক নয়।

    কী ধরনের হেনস্থা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে, সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছেন, অধিকাংশ হেনস্থা হয় মানসিক। একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ বয়স্ক মানুষ পরবর্তী প্রজন্মের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারেন না। ফলে এক ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়। প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গেও মানিয়ে চলতে পারেন না। ফলে তাঁদের অধিকাংশ কাজ করতে অনেকটা সময় লাগে‌। বুঝতেও সময় লাগে‌। অনেক সময়েই তাঁদের ‘বোঝা’ উপলব্ধি করানো হয়। তার ফলে তাঁরা নানান মানসিক সমস্যার শিকার হন। তাঁদের মধ্যে একাকিত্বের সমস্যা বাড়ে‌‌। তাঁরা মানসিক অবসাদে ভোগেন। এগুলো মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি করে। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। মনে রাখার শক্তি হ্রাস পায়। অ্যালজাইমারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে। আবার অনেক সময়েই পরিবারের প্রবীণ মানুষদের দিনের অধিকাংশ সময় একা থাকতে হয়। এর ফলে তাঁদের মধ্যে একটা একাকিত্ব গ্রাস করে। এর ফলেও নানান স্নায়ুঘটিত সমস্যা তৈরি হয়।

    সাইবার অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণার শিকার বয়স্করা

    অনেক সময়েই পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি হেনস্থার জন্য দায়ী বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে অবসর নেওয়ার পরে বহু মানুষ নানান মানসিক জটিলতায় ভোগেন। তাঁরা নিজেদের কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। অনেক সময়েই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। এর ফলে পরিবারে অনেক সময় গুরুত্ব কমতে থাকে। এই গুরুত্ব হারিয়ে ফেলা, তাঁদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। তাঁরা যেকোনো কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে প্রতি দিনের স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য অন্যের উপরে নির্ভর হয়ে পড়েন। এর জেরে তাঁদের হেনস্থার সুযোগ বাড়ে‌। এছাড়াও বিশ্ব জুড়ে প্রৌঢ় হেনস্থার অন্যতম দিক হল আর্থিক হেনস্থা। এমনটাই জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারের প্রৌঢ় সদস্যের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্পত্তি নিয়ে নেওয়া হয়। আবার বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বয়স্কদের প্রযুক্তিগত বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত না থাকার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় তাঁদের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করা হচ্ছে। এগুলো বয়স্কদের আর্থিক ও শারীরিক ভাবে ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    হেনস্থা বন্ধের জন্য কী পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল?

    বিশ্ব জুড়ে চলতে থাকা প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার ঘটনায় নানান আইনি সাহায্য রয়েছে। ভারতেও একাধিক শক্তিশালী আইন রয়েছে। যে আইনের সাহায্যে বয়স্ক মানুষদের হেনস্থাকারীদের শাস্তি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, হেনস্থা হলে কী কী করতে হবে, সেদিকে নজর দেওয়ার পাশপাশি সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে হেনস্থার ঘটনা না ঘটে। তাঁরা জানাচ্ছেন, হেনস্থা কীভাবে আটকানো যায়, সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। আর্থিক প্রতারণা আটকাতে প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে আরো বেশি কর্মশালা জরুরি। প্রযুক্তিগত একাধিক বিষয়ে, তাঁরা অবগত থাকেন না। ফলে, নানানভাবে প্রতারিত হতে পারেন। তাই তাঁদের সতর্ক করতে নানান কর্মশালা জরুরি। সম্পত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও, তাঁরা কোনো রকম হেনস্থার শিকার হলে, কী কী আইনি সাহায্য নেবেন, সে সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি।

    বয়স্কদের বন্ধু থাকা জরুরি

    মানসিক হেনস্থা রুখতে নিজেদের কমিউনিটি গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বয়স্কদের হেনস্থার অন্যতম কারণ একাকিত্ব। তাঁদের সঙ্গে কেউ নেই, এই ভাবনা থেকেই হেনস্থার ঘটনা ঘটছে।‌ তাই বয়স্কদের বন্ধু থাকা জরুরি। যাতে তাঁদের মনের কথা প্রকাশের জায়গা থাকে। তাহলেই অবহেলা বোধ কমবে। দিনের কিছুটা সময় নিজেদের মতো, নিজের বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো জরুরি। এতে আত্মবিশ্বাস বজায় থাকে। একাকিত্বের বোঝাও কমবে। এর ফলে মানসিক অবসাদের ঝুঁকিও কমবে‌। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর উপরে বাড়তি বোঝা পড়বে না। একাধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে‌। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক চিকিৎসা দীর্ঘ জীবনের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু জীবন যাপনের মান বাড়াতে সামাজিক পরিবর্তন জরুরি। প্রৌঢ়কালেও নিজেদের মতো ভালো থাকা যায়, এই আত্মবিশ্বাস জরুরি। বয়স বাড়লেই, অন্যের বোঝা নয়, এই অনুভব করানো প্রয়োজন। তবেই তাঁরা মানসিকভাবে ভালো থাকবেন। মানসিক চাপ ও অবসাদ কমলেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্নায়ুর সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো একাধিক রোগের ঝুঁকি কমবে‌। ভোগান্তি কমবে। স্বাস্থ্য সঙ্কট কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Brain Tumor: নীরব ঘাতক ব্রেন টিউমার! সময়মতো শনাক্ত না হলে কেন কঠিন হয়ে পড়ে চিকিৎসা?

    Brain Tumor: নীরব ঘাতক ব্রেন টিউমার! সময়মতো শনাক্ত না হলে কেন কঠিন হয়ে পড়ে চিকিৎসা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আগাম উপসর্গ দেখা দিলেও, অসচেতনতার জেরে অনেক সময়েই তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিপদ বাড়লেও অসতর্কতা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। মস্তিষ্কের টিউমার ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সঙ্কট। দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার জেরে অনেক সময়েই প্রাণ সংশয় বাড়ছে। চিকিৎসার সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে ভারতের পাশপাশি বিশ্বের একাধিক দেশেই এই সমস্যা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার দেরি। তাই চলতি বছরে ওয়ার্ল্ড ব্রেন টিউমার ডে-র মূল বার্তা, নিবিড় পর্যবেক্ষণেই কমবে বিপদ!

    কেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে বাড়তি গুরুত্ব?

    ওয়ার্ল্ড ব্রেন টিউমার ডে-তে বিশ্ব জুড়ে মস্তিষ্কের টিউমার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে নিবিড় পর্যবেক্ষণের উপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন-র এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ু ঘটিত সমস্যাকে অবহেলা করলে, পরবর্তী সময়ে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই এ বছরে সেই দিকে গুরুত্ব দিয়েই বলা হচ্ছে, ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি রুখতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি। অর্থাৎ, শিশু হোক বা মধ্য বয়সি, যেকোনো মানুষ যদি বারবার কোনো ধরনের স্নায়বিক সমস্যায় ভোগেন, তাহলে সেই উপসর্গকে অবহেলা করা চলবে না। বরং, তাঁর ঠিকমতো শারীরিক পরীক্ষা জরুরি। মস্তিষ্কের টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। সকলেই এই বিষয়ে অবগত হলে, রোগ নির্ণয় সহজ হবে।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি সাধারণ সমস্যা, অনেক সময়েই অবহেলা করা হয়। যা পরবর্তীতে নানান জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেকেই প্রবল মাথা যন্ত্রণার কাবু হন, আবার অনেকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, খিঁচুনির মতো উপসর্গ ও দেখা দেয়‌। এই ধরনের সমস্যা বারবার হলে, তা কখনোই এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। এগুলো মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। আবার, চোখে ঠিকমতো দেখতে না পাওয়া, লক্ষ্য অস্পষ্ট হওয়া, স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে অর্থাৎ খুব সাধারণ তথ্য ও মনে রাখতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দিলে, একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের ভিতরে টিউমার হলে, তা খালি চোখে বোঝা যাবে না। কিন্তু শরীর নানান ভাবে তা জানান দেবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ সেই উপসর্গকে অবহেলা করেন। অসচেতনতার জেরে খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যাকেও অন্যান্য সমস্যা ভেবে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করান না। যার ফলে রোগ নির্ণয় হয় না। তাই নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি।

    কাদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের টিউমার একটি স্নায়বিক সমস্যার জেরে হয়। যেকোনো বয়সে, মহিলা কিংবা পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু জিনগত একটা ইতিহাস মস্তিষ্কের টিউমারের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হলে বংশানুক্রমিক ভাবে তা পরবর্তী প্রজন্মে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, টিউমারের সঙ্গে স্নায়বিক সমস্যার যোগাযোগ রয়েছে। স্নায়বিক সমস্যা কিন্তু অনেক সময়েই জিনগত হয়। তাছাড়া, বেশ কিছু বিরল স্নায়বিক রোগ রয়েছে, যেগুলো জিনগত সমস্যা। সেগুলোও মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে, জিনগত এই জটিলতার পাশপাশি অতিরিক্ত মাথায় উচ্চ মাত্রায় রেডিয়েশন থেরাপি টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক জীবনে বিভিন্ন রকম রেডিয়েশনের ঝুঁকি বাড়ছে। এগুলো কিন্তু মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। ধূমপান মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যারা প্রত্যক্ষ ধূমপান করেন, তাদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি, পরোক্ষভাবে এই ধূমপানের ধোঁয়ার মধ্যে থাকেন তাঁদের ও ঝুঁকি বেশি। অর্থাৎ, পরিবারের কেউ ধূমপান করলে, তার অন্যান্য সদস্যদেরও অনেক সময় সেই ধোঁয়া সহ্য করতে হয়। পরোক্ষভাবে হলেও এই ধোঁয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। তামাকের এই ধোঁয়া, স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করে। তাই ধূমপান মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগ সম্পর্কে সচেতনতাই রোগের ঝুঁকি কমাবে। রোগ নির্ণয় প্রাথমিক পর্বে হলে, তবেই চিকিৎসা ঠিকমতো করা যাবে। মস্তিষ্কের টিউমার চিকিৎসার মূল অন্তরায় হলো চিকিৎসার বিশেষ সুযোগ থাকে না। তাই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তবে মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি কমাতে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম নেওয়া, মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক এড়িয়ে চলা ও ক্ষতিকারক রশ্মি এড়িয়ে চললেছবি নানান শারীরিক বিপদ কমবে। ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। এগুলো স্নায়ু সুস্থ রাখতে সাহায্য করে‌। ফলে মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকিও কমে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের জলখাবারের মেনুতে কিংবা রাতে ভাত-রুটির সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে যায় ডিম! পরিবারের বড়রা তো বটেই, ছোট্ট খুদে সদস্যের ও ডিম অত্যন্ত প্রিয়। তাই নিয়মিত ডিম খেতে একেবারেই আপত্তি নেই। কিন্তু তীব্র ভ্যাপসা গরমে রোজ ডিম খাওয়া কি উচিত? অনেক মায়ের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে! নিয়মিত ডিম খেলে হজমের সমস্যা কিংবা পেটের অসুবিধা হবে না তো? এমন প্রশ্ন ও অনেকের! চিকিৎসকেরা অবশ্য জানাচ্ছেন, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। শিশু হোক বা বয়স্ক, গরমে ডিম খাওয়া নিয়ে কয়েকটি দিক খেয়াল রাখলেই, বিপদ কিছুই হবে না।

    সন্তানের পাতে এই গরমেও কি ডিম দেওয়া যেতে পারে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের বয়স সাত মাস হোক বা সাত বছর, তাকে নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব ছোটো বয়স থেকেই নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। এতে শরীরে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। গরমে হজমের সমস্যার ভয়ে অনেকেই মনে করেন ডিম খাওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ডিম খেলে আলাদা ভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বরং, কীভাবে ডিম খাওয়া হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করছে, শরীর পুষ্টি পাবে নাকি অন্য সমস্যা তৈরি হবে!

    প্রোটিন-ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে ডিম

    তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত জলখাবার হোক কিংবা দুপুরে ভাতের পাতে ডিম দেওয়া যেতে পারে। এই গরমে ডিম সিদ্ধ করে খেলে কোনও অসুবিধা নেই। বরং এই গরমেও শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের এনার্জির জোগান বজায় রাখতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। ডিম নিয়মিত খেলে শরীর ভালো থাকবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ডিম খেলে শিশুর শরীরে প্রোটিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে। শিশুদের পেশির গঠন মজবুত হওয়া জরুরি। নিয়মিত ডিম খেলে পেশির গঠন ভালো হয়। তাছাড়া নিয়মিত ডিম খেলে প্রোটিনের ঘাটতি হয় না। প্রোটিন শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। গরমে অতিরিক্ত ঘামের জেরে অনেকেই সহজে ক্লান্তিবোধ করছেন।‌ ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খেলে এই ক্লান্তি দূর হবে। সেই পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখা যেতেই পারে। আবার নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে একাধিক ভিটামিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হয়। তাই শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে। যে কোনও রোগের বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। গরমে নানান রোগের প্রকোপ বাড়ছে। রোগ থেকে বাঁচতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাই ডিম খাওয়া উচিত। নিয়মিত ডিম খেলে হাড় মজবুত হয়। শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটে। তাই গরমকালেও শিশুদের নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতেই পারে। এতে বাড়তি কোনো অসুবিধা নেই।

    কোন দিকে নজর দিলে তবেই গরমে ডিম খেলে অসুবিধা হবে না?

    গরমেও নিয়মিত ডিম খেলে বাড়তি অসুবিধা হবে না। তবে কয়েকটি দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম প্রাণীজ প্রোটিন। তাই ডিম হজম হতে সময় লাগে। শিশুদের দিনে একাধিক ডিম দেওয়া উচিত নয়। অনেক সময়েই তাদের অতিরিক্ত প্রোটিন হজম করতে অসুবিধা হয়। তাই পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে দিনে একটা ডিম দেওয়াই যথেষ্ট। গরমে হজমের সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। তাই শিশু ডিম বা অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিন খেলে অসুবিধা নেই। তবে হজমের গোলমাল এড়াতে শিশু পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, ডিমের মতো উপকারি প্রাণীজ প্রোটিন শিশুকে সকালে জলখাবারের সঙ্গে দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের প্রথম খাবার পুষ্টিসমৃদ্ধ হলে, তা শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারি হয়। তাছাড়া দিনভর শিশুর নানান শারীরিক কার্যকলাপ থাকে। ফলে হজম করতে সুবিধা হয়। আবার শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জিও জোগান দেয় ডিম। তাই তাঁদের পরামর্শ প্রাতঃরাশেই পাতে থাকুক ডিম।

    সিদ্ধ ডিমে সবচেয়ে বেশি উপকার

    তবে দুপুরে বা রাতের মেনুতেও ডিম রাখা যেতে পারে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, দুপুর বা রাতের মেনুতে ডিম থাকলে, তার সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি থাকা জরুরি। ডিম সিদ্ধের সঙ্গে গাজর, ব্রোকলি, বিনস কিংবা আলুর মতো সব্জি সিদ্ধ করে সামান্য পরিমাণ বাটারে নেড়ে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রাণীজ প্রোটিন সহজে হজম হবে। ভিটামিন ও প্রোটিনের ঠিকমতো ব্যালেন্স হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, শিশুদের ডিম সিদ্ধ দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন হজমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণীজ প্রোটিন অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। তাই মাছ ও মাংস খেলেও অনেকে হজমের সমস্যায় ভোগেন। ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেলে তার সম্পূর্ণ প্রোটিন শরীর পায়‌। আবার সিদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত তেল-মশলার সমস্যাও একদম থাকে না। ফলে শরীর সম্পূর্ণ পুষ্টি পাচ্ছে। ডিমের অমলেট হোক বা পোচ, অনেক সময়েই সেটা শিশুর পক্ষে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই গরমে শিশুকে নিয়মিত একটা সিদ্ধ ডিম দিলে শরীর ভালো থাকবে। উপকার পাওয়া যাবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালে ঘুম ভেঙেও ক্লান্তি যায় না। মাথা ধরে থাকে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়েও ল্যাপটপে চোখ আটকে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কারণ মাথার ভিতরে অসহ্য যন্ত্রণা। সপ্তাহের অধিকাংশ দিনেই কাজে মনোযোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মাথা ব্যথা। এমনকি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়েও ভোগান্তি! শারীরিক পরীক্ষায় জটিল অসুখ ধরা পড়ে না। কিন্তু লাগাতার মাথা ব্যথা শরীরের ভোগান্তি বাড়ায়। আবার কাজের দক্ষতাও কমিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে! এমন সমস্যায় ভুগছেন অধিকাংশ ভারতীয়! বিশেষত ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছে এক সাম্প্রতিক সর্বভারতীয় সমীক্ষা। আর কম বয়সি ভারতীয়দের এই ভোগান্তির নেপথ্যে মূলত দুটো কারণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা!

    ভারতীয়দের মাথা ব্যথা কতখানি বাড়তি বোঝা হয়ে উঠছে? কাদের ভোগান্তি বেশি?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাইগ্রেন এবং অন্যান্য কারণে ভারতীয়দের একটা বড় অংশ মাথা ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। বিশেষত যাদের বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, ভুক্তভোগীদের তালিকায়, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন। কর্ণাটক, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো একাধিক বড় রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মাথা ব্যথার ভোগান্তি বেশি। বিশেষত মাইগ্রেনের সমস্যায় পুরুষের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি ভোগেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০-৪৫ বছর বয়সি ভারতীয় মহিলাদের ৩১ শতাংশ মাইগ্রেনের সমস্যায় কাবু। পুরুষদের ভোগান্তির হার ১৮ শতাংশ। ফলে মাইগ্রেন জাতীয় মাথা ব্যথায় মহিলাদের ভোগান্তি বেশি। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি বেশি। তরুণ প্রজন্মের শহুরে ভারতীয়রা এই সমস্যায় অধিক ভুগছেন। বিশেষত যাদের পেশাগত জীবনে বাড়তি প্রতিযোগিতা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ, বহুজাতিক সংস্থায় সেলস, মার্কেটিংয়ের মতো বিভাগে কর্মরত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই ভোগান্তি বেশি দেখা গিয়েছে।

    মাথা ব্যথার ভোগান্তির নেপথ্যে কোন দুই কারণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। কিন্তু ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ার নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, পরিবেশ দূষণ এবং দ্বিতীয়ত মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা।

    পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে মাথা ব্যথার ভোগান্তি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক। বছরভর নানান উৎসবে বাজি পোড়ানো হয়। তাছাড়াও মানুষের সচেতনতার হার খুবই কম। তাই বায়ুদূষণের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়ছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক উপাদান বেড়ে চলেছে। এছাড়াও ভারতের অধিকাংশ শহরে শব্দ দূষণ মারাত্মক পরিমাণে বেশি। লাগাতার তীব্র শব্দ দূষণ মাইগ্রেন সহ একাধিক ভোগান্তির নেপথ্যে থাকে। ভারতের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের মাথা ব্যথার নেপথ্যে এই দূষণকেই দায়ী করছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, লাগাতার তীব্র আওয়াজ এবং বাতাসের ক্ষতিকারক উপাদান শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একদিকে স্নায়ুকে দূর্বল করে দেয়। আরেকদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মস্তিষ্কের ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে মাথা ব্যথার মতো ভোগান্তি বাড়ে।

    মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা!

    শরীর ও মনের স্বাস্থ্য ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে মানসিক চাপ, অবসাদ এবং একাধিক নানান মানসিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলা করা হয়। অর্থাৎ, স্ট্রেস, ডিপ্রেশনের মতো সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে। শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। মাথার যন্ত্রণার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অবসাদ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মহিলাদের মাথা ব্যথার বিশেষত মাইগ্রেনের মতো স্নায়ুঘটিত সমস্যার নেপথ্যে থাকে দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব এবং একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা। মহিলাদের জীবনে একাধিকবার হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটে। বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা কিংবা তার পরবর্তী পর্বেও নানান পরিবর্তন ঘটে। তার জেরেই মাইগ্রেন এবং অন্যান্য ধরনের মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি বাড়ে।

    ভোগান্তি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমাতে তরুণ প্রজন্মের পরিবেশ সচেতন থাকা জরুরি। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে এমন একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন‌ বিশেষজ্ঞরা। তবে পরিবেশ সচেতনতার পাশপাশি নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। পেশাগত বা ব্যক্তিগত চাপ থাকলেও নিয়ম মাফিক যোগাভ্যাস চালানো প্রয়োজন। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে। যার ফলে অনিদ্রার মতো সমস্যা রুখতে সুবিধা হবে। মস্তিষ্কের ঠিকমতো বিশ্রাম হলেই মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমবে। তাছাড়া মানসিক চাপ, অবসাদের মতো সমস্যা থাকলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। তবেই তরুণ প্রজন্মের এই ভোগান্তি কমবে।

LinkedIn
Share