Tag: International Yoga Day

International Yoga Day

  • PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উজবেকিস্তানের (Uzbekistan) রাজধানী তাশখন্দে ‘যোগ ফেডারেশন অব উজবেকিস্তান’ আয়োজিত একটি যোগ অনুষ্ঠানে আজ, রবিবার অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। উজবেকিস্তানে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন তিনি। ২৯ অগাস্ট তাশখন্দে পৌঁছনোর পর এটি ছিল মধ্য এশিয়ার এই দেশে তাঁর চতুর্থ সফর। চলতি সফরে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে।

    ভারত-ময় উজবেকিস্তান (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে উজবেকিস্তানের রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ভারতীয় জাতীয় পতাকার তেরঙ্গা রঙে সেজে ওঠে। এর মধ্যে ছিল তাশখন্দের অন্যতম পরিচিত হিলটন হোটেলও। যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি তাশখন্দের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যোগপ্রেমীদের সঙ্গে দলীয় ছবিতেও অংশ নেন তিনি। মধ্য এশিয়ার একটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাবের শক্তিকেই তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব যে গোটা বিশ্ব স্বীকার করেছে, তারও প্রতিফলন ঘটেছে এই অনুষ্ঠানে।

    দুই দেশের সেতু

    তাশখন্দের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ভারত ও উজবেকিস্তানের সম্পর্ক আরও গভীর করতে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তাশখন্দের বাসিন্দা ক্রিস্টিনা বলেন, “এটি দারুণ একটি অভিজ্ঞতা ছিল। বিশেষ করে এত বড় একজন ব্যক্তি উজবেকিস্তানে এসেছেন, তাঁর সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে থাকা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয়, যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি দুই দেশকে আরও কাছাকাছি আনবে এবং বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করবে (PM Modi)।”

    আর এক বাসিন্দা মারিয়ামও অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, “এটি খুবই সুন্দর একটি অনুভূতি। এখানে এসে আমি সুস্থ ও অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি। এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-সহ আমরা অনেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। আজকের অনুষ্ঠানটিও খুব ভালো হয়েছে। এখানে আমন্ত্রিত হয়ে এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা ভারতীয় যোগকেন্দ্রে আমাদের দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।”

    ভারতের সফট পাওয়ারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যোগ

    ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ সপ্তধারার সপ্তম শক্তি। যোগের পাশাপাশি হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, খেলাধুলা ও ডিজিটাল বিষয়বস্তু এবং বৃহত্তর সৃজনশীল ক্ষেত্রকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

    উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন দুই নেতা।

    গত কয়েক বছরে নয়াদিল্লি ও তাশখন্দের দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট মিরজিয়য়েভের ভারত সফর এবং ২০১৯ সালে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট বিশ্ব সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।

    উজবেকিস্তান সফর শেষ করে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে (Uzbekistan) বিশকেকে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি অংশ নেবেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে (PM Modi)।

     

  • International Yoga Day: জার্মানির সংসদে যোগ-মেডিটেশন অধিবেশন, ভারতের বিশ্বজয়!

    International Yoga Day: জার্মানির সংসদে যোগ-মেডিটেশন অধিবেশন, ভারতের বিশ্বজয়!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জার্মানির সংসদ বুন্ডেসটাগে (Bundestag) এই প্রথমবারের মতো হল যোগ ও মেডিটেশন অধিবেশন (International Yoga Day)। ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত এই বিশেষ কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে জার্মানিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন ইন্দো-জার্মান পার্লামেন্টারি গ্রুপের (German Parliament) ডেপুটি চেয়ারম্যান হেনরি শ্মিট (Henri Schmidt)। উপস্থিত ছিলেন জার্মানিতে ভারতের রাষ্ট্রদূত অজিত গুপ্তে (Ajit Gupte), জার্মানির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যোগ অনুশীলনকারী এবং প্রবাসী ভারতীয়রা।

    স্বাস্থ্য ও সুস্থতা রক্ষায় যোগব্যায়াম (International Yoga Day)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অজিত গুপ্তে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা রক্ষায় যোগব্যায়ামের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি তিনি ট্র্যাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভারতের নেতৃত্ব এবং জার্মানিতে আয়ুর্বেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোকপাত করেন।প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলেই জার্মান সংসদে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই উদযাপন সম্ভব হয়েছে। সিডিইউ (CDU)-এর সাংসদ হেনরি শ্মিট, বার্লিনে ভারতীয় দূতাবাস এবং ভারতীয় কমিউনিটির সদস্যদের সহযোগিতায় উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়। হামবুর্গের সিডিইউ নেতা রাকেশ ভেউলি (Rakesh Veuli) ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    বিশ্বজুড়ে যোগচর্চার প্রসার

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওভারসিজ বিজেপি ইউরোপের ইন-চার্জ কুলদীপ শেখাওয়াত (Kuldeep Shekhawat) এবং প্রবাসী ভারতীয় সমাজের প্রতিনিধিরা। এই অনুষ্ঠানের (International Yoga Day) আয়োজনকে ভারত-জার্মানি সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে রাষ্ট্রসঙ্ঘে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে যোগচর্চার প্রসার আরও জোরদার হয়েছে। জার্মান বুন্ডেসটাগে এই প্রথম যোগ ও মেডিটেশন সেশন সেই বৈশ্বিক উদ্যোগেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। এদিকে, ২০২৬ সালের ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়েছে ‘যোগ ফর হেলদি এজিং’ (Yoga for Healthy Ageing)’ কনসেপ্ট সামনে রেখে। এর মূল লক্ষ্য ছিল জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সুস্থ (German Parliament), সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে যোগব্যায়ামের ভূমিকা তুলে ধরা। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যার বার্ধক্য বৃদ্ধি, অসংক্রামক রোগ এবং জীবনযাত্রাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকায় এখন শুধু আয়ু বৃদ্ধি নয়, বরং সুস্থ জীবনকাল (Health Span), জীবনমান এবং সামগ্রিক কল্যাণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (International Yoga Day)।

     

  • PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ সফরে শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন— একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে বাংলার মানুষকে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় অবদানের প্রশংসা শোনা যায়। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই দিনটি এমন এক রাজ্যকে উদযাপন করে যা সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। বারবার, অগণিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসেবেই থাকবে। এর পেছনে ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান। ২০২৬ সালে, আমরা ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীও পালন করছি। জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। আমি পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি এবং পশ্চিমবঙ্গবাসীর সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করছি।’’

    ওড়িশা থেকে কলাইকুণ্ডা, তারপর তারকেশ্বর

    প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার, ওড়িশার কর্মসূচি শেষ করে দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছবেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে হুগলির তারকেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় ৫টা পর্যন্ত তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জনসভায় বক্তব্যও রাখতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। অনুষ্ঠান শেষে তারকেশ্বর হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতার রেসকোর্সে পৌঁছবেন মোদি। সেখান থেকে সড়কপথে যাবেন লোকভবনে। শনিবার রাতের জন্য কলকাতাতেই অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারকেশ্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    মাসের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নতুনভাবে সাজানো হবে তারকেশ্বর শহরকে। এই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও। ইতিহাসবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে বজায় রাখার দাবিতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত ছিল তারকেশ্বরের সঙ্গে। তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই এ বছরের পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে তারকেশ্বরকে।

    রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী

    আগামিকাল, রবিবার, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকালে লোকভবন থেকে রেড রোডে পৌঁছবেন তিনি। সরকারি সূচি অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হাজার হাজার যোগাভ্যাসকারীর সঙ্গে যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    গার্ডেনরিচে দেশীয় যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন

    যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফের লোকভবনে ফিরে যাবেন। এরপর তিনি গার্ডেনরিচে যাবেন, যেখানে ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এই উদ্বোধনকে দেখা হচ্ছে। দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গার্ডেনরিচের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর রেসকোর্স থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

  • Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা শুধুই শরীরে আটকে থাকছে না। একাধিক শারীরিক অসুবিধার পাশপাশি দেশ জুড়ে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশের নানান শারীরিক অসুখের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মন ও শরীরের একাধিক সমস্যা ঠেকাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যোগাভ্যাস। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানান স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে জীবন যাপনের ধরন। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও খাদ্যাভাসের জেরেই তাঁরা নানান ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের সুস্থ জীবন যাপনের সাহায্য করবে যোগাভ্যাস।

    তরুণ প্রজন্মের কোন সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সাহায্য করবে যোগাভ্যাস?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাজ করেন। হাঁটাচলা কিংবা দৌড়াদৌড়ির সুযোগ কম। তার পাশপাশি আধুনিক খাদ্যাভাসে অতিরিক্ত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অধিকাংশ কম বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে।
    এই ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যায় ভোগেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানান টানাপড়েন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ভারতে যে হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, তাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করতে তাই যোগাভ্যাস আধুনিক জীবনে অত‌্যন্ত জরুরি হয়ে যাচ্ছে।

    মানসিক সমস্যার জেরে হচ্ছে শারীরিক ক্ষতি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরে শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস শরীর এবং মনের উপরে একসঙ্গে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে একদিকে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। তাছাড়া, যোগাভ্যাস স্নায়ু সক্রিয় রাখে। পেশির দূর্বলতা কমায়। আবার যোগাভ্যাস হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। একদিকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হওয়ার জেরে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকায় স্নায়ুঘটিত সমস্যা কমবে। পেশির দূর্বলতা কমলে দিনভরের ক্লান্তি দূর হবে। যেকোনো কাজে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে। এর পাশপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখলে যোগাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব। যোগাভ্যাস স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত যোগাভ্যাস বজায় থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা কমবে।

    কেন যোগাভ্যাসেই বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকোনো বয়সেই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য যোগাভ্যাস জরুরি‌। তবে ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হারে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, সেটা রুখতে যোগাভ্যাসেই ভরসা রাখছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধের উপরে দীর্ঘদিন নির্ভর করে জীবন কাটালে, তার নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বরং দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুস্থ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাসে বাড়তি ভরসা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট এই যোগাভ্যাস করলে, শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে শরীরের পাশপাশি মনের জটিলতা কমাতে পারবে না। মস্তিষ্ক, স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ওষুধ নয়। বরং ভালো অভ্যাস দীর্ঘ জীবন যাপন সহজ করবে। যোগাভ্যাস রোগ রুখতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা আধুনিক জীবনের স্বাস্থ্য সঙ্কট ঠেকাতে যোগাভ্যাসেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    কখন যোগাভ্যাস করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাসের জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। তাহলেই নিয়মিত এই অভ্যাস জারি রাখা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক দিন সকালে যোগাভ্যাস করলে শরীর ও মনে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকালে যোগাভ্যাস করলে একদিকে হজম শক্তি বাড়ে। দিনভর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। মনে রাখতে সুবিধা হয়। যোগাভ্যাস মনে ইতিবাচক শক্তি গড়ে তোলে। তাই সকালে যোগাভ্যাস করলে দিনভর কাজ করার ইচ্ছে থাকে। মানসিক অবসাদ ও বিষন্নতা রুখতেও সাহায্য করে। তবে সকালে যোগাভ্যাস করতে কোনো সমস্যা থাকলে সন্ধ্যায় যোগাভ্যাস করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ভারি খাবার খাওয়ার পরে যোগাভ্যাস করা না হয়‌‌। অতিরিক্ত ভারি খাবার খাওয়ার পরে অন্তত দু’ঘণ্টা যোগাভ্যাস করা উচিৎ নয়। এতে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টিভেজা শুক্রের সকাল থেকেই শুরু হল ৩ দিন ব্যাপী যোগ দিবসের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। এদিন কলকাতা পুরসভা থেকে ‘দৌড় সে ধ্যান’ ম্যারাথনের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাইটার্স বিল্ডিং পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পথে অনুষ্ঠিত হল এই ম্যারাথন। হাঁটালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আয়ুশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী, রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সহ অন্যরা। দৌড় শেষে হল প্রাণায়ম। যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগচর্চার সূচনা হয়েছিল, তাকে তার যথাযথ মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।

    কী কী চমক যোগ দিবস উপলক্ষে?

    এদিন প্রাণায়াম শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যোগ দিবস পালন শুরু হয়ে গেল। ২ কিলোমিটার ম্যারাথন শুধু কলকাতায় নয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হচ্ছে। নৌকায় যোগা, ড্রোন শো সহ একাধিক চমক রয়েছে। কলকাতা পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডে নানাবিধ অনুষ্ঠান হবে।” শুক্রবার শহরের ১১টি জায়গায় ম্যারাথন হয়েছে। ২০ তারিখ হবে যোগ কার্নিভ্যাল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যোগ দিবস পালন সারা পৃথিবীতে একটি সমাদৃত ও সময়োপযোগী কার্যক্রম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বিশ্বের ১৭৫টির বেশি দেশ যোগ দিবস পালনের মাহাত্ম্যকে গ্রহণ করেছে।

    যোগদিবসে বিশেষ ড্রোন শো

    শনিবার, ২০ জুন মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ ও পালিত হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে পাঁচটার পরে গঙ্গাবক্ষে একটি অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে যোগব্যায়ামের বিষয়ে একটি দৃশ্যের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার আকাশে উড়বে ৩ হাজার ড্রোন। মিলেনিয়াম পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট থেকে এই ড্রোন শো দেখা যাবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতার ৪৫টা আলাদা জায়গায় এলসিডি স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে। যেখানে যোগ দিবসের সমস্ত অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হবে। ড্রোন শো-ও রয়েছে সেই তালিকায়।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ

    আগামী রবিবার, ২১ জুন বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেড রোডে যোগাসন করবেন ৩৫ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। মূল মঞ্চের সামনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কলকাতা পুর এলাকা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মানুষ এই যোগ উৎসবে যোগ দেবেন বলে আশা করছে প্রশাসন। গোটা রাজ্যে ১০ লক্ষ মানুষ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করবেন, বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। ৪৫ মিনিট যোগাসন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন রেড রোডে হবে যোগ প্রদর্শনী। ২১ তারিখ শহরের মোট ৪২টি পার্কে যোগাসন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

    কেন রেড রোডে অনুষ্ঠান

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিটি হবে কলকাতার রেড রোডে। বর্ষাকাল এবং শহরের বিভিন্ন মাঠের কর্দমাক্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।  ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২১ জুন রেড রোডেই অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ফলে রাজপথে আপাতত এই অনুষ্ঠানে কোনও বাধা রইল না। রেড রোড বন্ধ রাখার সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা হয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। তবে জনস্বার্থে পুলিশকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ওই দিন নিটের পরীক্ষা রয়েছে। যোগ দিবসের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা পড়তে হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কারণ যোগ দিবসের পুরো অনুষ্ঠান সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগের সূচনা হয়েছিল, তাকে আবার তার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

    নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত

    ২১ জুন রেড রোডের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। এর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থাকবেন। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিন ধরেই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। কর্মসূচি ঘিরে রেড রোডে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং বৃহৎ পরিসরে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    যোগে নজির গড়বে রাজ্য

    রাজ্য প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই এই যোগ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদ্‌যাপনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের আশা, তিন দিনের এই কর্মসূচি এবং বিশেষ করে ২১ জুনের মূল কর্মসূচি সফল হলে যোগ দিবস উদ্‌যাপনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি নতুন আন্তর্জাতিক নজির গড়তে সক্ষম হবে।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই প্রথম ১২তম যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি ভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গ এই অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই কার্যক্রম সফল হবে।’

  • Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বঙ্গে প্রথম বিজেপি-রাজ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তিনি আসছেন। তাঁর এই সম্ভাব্য সফরের আগে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচি। বুধবার কলকাতার বাগবাজারের মায়ের ঘাটে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘাট পরিষ্কার করার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেওয়া (Swachhata Se Swagat Drive) হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

    স্বচ্ছতা অভিযান (Suvendu Adhikari)

    সূত্রের দাবি, ২০ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলবে এই স্বচ্ছতা অভিযান। প্রধান উদ্দেশ্য পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং গঙ্গার ঘাট-সহ বিভিন্ন জনপরিসরকে জঞ্জালমুক্ত রাখা। বুধবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। কর্মসূচির শুরুতে বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে ঘাট পরিদর্শন করে নিজে হাতে ঝাঁটা নিয়ে নেমে পড়েন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত বিজেপির অন্যান্য নেতাও যোগ দেন স্বচ্ছতা অভিযানে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    পরে সাংবাদিকদের নয়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বৃহত্তর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কোনও একদিনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সকলের নিয়মিত একটি অভ্যাস হওয়া উচিত। সমগ্র কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও জোর দেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা ও গঙ্গার ঘাটগুলিকে দূষণমুক্ত রাখতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুরো কলকাতা, পুরো রাজ্যকে পরিষ্কার করতে হবে। উন্নয়নও হবে। তার সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছতাও জরুরি।’’

    পুজো দিয়ে শুরু সাফাই অভিযান

    ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে এই প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে এগোয়নি। ভবিষ্যতে গঙ্গাকে আরও পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।কয়েক দিন আগেই পাঁচ দিনের স্বচ্ছতা অভিযানের ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই বুধবার বাগবাজার মায়ের ঘাট থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সূচনা করা হয় (Swachhata Se Swagat Drive)। এদিন সাফাই অভিযান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বাগবাজার ঘাটের পাশে থাকা মন্দিরে পুজো দেন, প্রার্থনা করেন মা গঙ্গার আশীর্বাদ। এরপরেই হাতে ঝাঁটা নিয়ে সহকর্মী এবং মন্ত্রীদের নিয়ে ঘাট পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছতা উপহার

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যজুড়েই এই ধরনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। আমাদের সমাজ ও পরিবেশে স্বচ্ছতার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় আসছেন। আমরা তাঁকে এই স্বচ্ছতা উপহার দিয়ে কলকাতায় স্বাগত জানাতে চাই।” তৃণমূল সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিগত সরকারের নেতিবাচক ভাবনার কারণে বাংলায় নমামি গঙ্গা প্রকল্পের কোনও কাজই হয়নি। আমরা আগামী দিনে গঙ্গাকে আরও নির্মল ও দূষণমুক্ত করব। সারা বছর ধরেই এই সাফাই অভিযান ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে জারি থাকবে।” রাজ্যে যে স্বচ্ছতা অভিযান শুরু হবে, তা আগেই জানিয়েছিল নবনির্বাচিত পদ্ম সরকার। সেই মতো এদিন শুরু হয় অভিযান। চলবে পাঁচ দিন ধরে। গঙ্গা পরিষ্কারের পাশাপাশি পরিষ্কার করা হবে কলকাতার প্রতিটি গঙ্গার ঘাটও। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানিয়েছিলেন, ২১ জুন যোগ দিবসে রাজ্যে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে এক স্বচ্ছ কলকাতা উপহার দেওয়া হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছ ভারত অভিযান

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সেই বছরই দেশের শহরগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলার পরিকল্পনা সামনে রেখে ২ অক্টোবর স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (Swachhata Se Swagat Drive)। ঝাঁটা হাতে নিজেই নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়। তখন দিল্লি ভোটের তোড়জোড় চলেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালার দল আম আদমি পার্টির নির্বাচনী প্রতীক ঝাঁটা। বস্তুত, এই ঝাঁটা হাতে তুলে নিয়েই পথে নেমে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সেবার দিল্লির নির্বাচনে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি।

    প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অভিযান

    তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সাফা্ই অভিযান দেশ তো বটেই, বিদেশেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে (Suvendu Adhikari)। এই অভিযানের ১০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ। তিনি জানিয়েছিলেন, প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই মিশন একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ছুঁয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল ডঃ টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাসও স্বচ্ছ ভারত অভিযানের দশ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে মোদীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন (Swachhata Se Swagat Drive)। শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এহেন অভিযানের ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন বিল গেটস।

     

LinkedIn
Share