মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ সফরে শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন— একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে বাংলার মানুষকে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় অবদানের প্রশংসা শোনা যায়। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই দিনটি এমন এক রাজ্যকে উদযাপন করে যা সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। বারবার, অগণিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসেবেই থাকবে। এর পেছনে ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান। ২০২৬ সালে, আমরা ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীও পালন করছি। জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। আমি পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি এবং পশ্চিমবঙ্গবাসীর সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করছি।’’
ওড়িশা থেকে কলাইকুণ্ডা, তারপর তারকেশ্বর
প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার, ওড়িশার কর্মসূচি শেষ করে দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছবেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে হুগলির তারকেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় ৫টা পর্যন্ত তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জনসভায় বক্তব্যও রাখতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। অনুষ্ঠান শেষে তারকেশ্বর হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতার রেসকোর্সে পৌঁছবেন মোদি। সেখান থেকে সড়কপথে যাবেন লোকভবনে। শনিবার রাতের জন্য কলকাতাতেই অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তারকেশ্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য
মাসের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নতুনভাবে সাজানো হবে তারকেশ্বর শহরকে। এই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও। ইতিহাসবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে বজায় রাখার দাবিতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত ছিল তারকেশ্বরের সঙ্গে। তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই এ বছরের পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে তারকেশ্বরকে।
রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী
আগামিকাল, রবিবার, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকালে লোকভবন থেকে রেড রোডে পৌঁছবেন তিনি। সরকারি সূচি অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হাজার হাজার যোগাভ্যাসকারীর সঙ্গে যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
গার্ডেনরিচে দেশীয় যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন
যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফের লোকভবনে ফিরে যাবেন। এরপর তিনি গার্ডেনরিচে যাবেন, যেখানে ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এই উদ্বোধনকে দেখা হচ্ছে। দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গার্ডেনরিচের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর রেসকোর্স থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

Leave a Reply