Tag: Red Road Kolkata

  • Suvendu Adhikari: মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর, তাক করলেন মমতাকেও

    Suvendu Adhikari: মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর, তাক করলেন মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাতঙ্গিনী হাজরার ঐতিহাসিক আত্মবলিদানের ৮৪তম বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কলকাতার রেড রোডে সংলগ্ন মাতঙ্গিনী হাজরার (Matangini Hazra) মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি।

    মাতঙ্গিনীর বলিদান দিবসে এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ওই মূর্তিতে এসে শ্রদ্ধা জানাননি বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “এ যাবৎকালে আগের কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই মহীয়সী নারীর বলিদান দিবসে এখানে এসে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাননি বলেই আমার মনে হয়। রাষ্ট্রবাদী সরকার সম্মান জানাল।”

    মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদানের ইতিহাস (Suvendu Adhikari)

    ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। ভারত ছাড়ো আন্দোলনে উত্তাল অবিভক্ত মেদিনীপুর। ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানোর দাবিতে তমলুক থানা অভিমুখে এগিয়ে চলেছে কয়েক হাজার মানুষের মিছিল। সেই মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরা। হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে বন্দে মাতরম ধ্বনি। মিছিল তমলুক থানার কাছে পৌঁছলে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ব্রিটিশ পুলিশ। গুলিবিদ্ধ হয়েও পিছিয়ে যাননি মাতঙ্গিনী। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা হাতে রেখেই শহিদ হন তিনি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর এই আত্মবলিদান স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

    গান্ধীবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মাতঙ্গিনী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আইন অমান্য আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারত ছাড়ো আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের একাধিক পর্যায়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন ‘গান্ধী বুড়ি’ নামে। বয়সের বাধা উপেক্ষা করে স্বাধীনতার দাবিতে রাজপথে নামার ঘটনা তাঁকে স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পরিচিত চরিত্রে পরিণত করে (Suvendu Adhikari)।

    তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার

    মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদানের পর অবিভক্ত মেদিনীপুরে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন আরও সংগঠিত হয়। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর তমলুকে প্রতিষ্ঠিত হয় তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। বিপ্লবী সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সমান্তরাল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুশীলকুমার ধাড়া ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।

    ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা এই সরকার স্থানীয় স্তরে বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব সংগ্রহ এবং ত্রাণের মতো একাধিক দায়িত্ব পালন করেছিল। প্রায় ২০ মাস সক্রিয় থাকার পর ১৯৪৪ সালের অগাস্টে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে এই সরকারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠিত সমান্তরাল সরকারগুলির মধ্যে এটি দীর্ঘস্থায়ী সরকার হিসেবে পরিচিত।

    তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “মাতঙ্গিনী হাজরার এই বলিদানের পর তাম্রলিপ্ত সরকার গঠিত হয়। ইংরেজদের বিরুদ্ধে চলা সব থেকে শক্তিশালী সমান্তরাল সরকার। পরে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে এই সরকার ভেঙে দেওয়া হয়।”

    মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদান দিবসে রেড রোড সংলগ্ন মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি মমতা। শুভেন্দু বলেন, “১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। কোনও দিন এখানে আসেননি। রাজ্যবাসীকে ভুল বার্তা দিয়েছেন।”

    স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতিরক্ষা এবং তাঁদের যথাযথ সম্মান জানানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দেবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য (Matangini Hazra), বর্তমান রাষ্ট্রবাদী বিজেপি সরকার দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অবদান কোনওভাবেই ভুলে যাবে না। শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) অভিযোগের বিষয়ে মমতা বা তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

     

  • PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ সফরে শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন— একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে বাংলার মানুষকে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় অবদানের প্রশংসা শোনা যায়। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই দিনটি এমন এক রাজ্যকে উদযাপন করে যা সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। বারবার, অগণিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসেবেই থাকবে। এর পেছনে ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান। ২০২৬ সালে, আমরা ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীও পালন করছি। জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। আমি পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি এবং পশ্চিমবঙ্গবাসীর সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করছি।’’

    ওড়িশা থেকে কলাইকুণ্ডা, তারপর তারকেশ্বর

    প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার, ওড়িশার কর্মসূচি শেষ করে দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছবেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে হুগলির তারকেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় ৫টা পর্যন্ত তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জনসভায় বক্তব্যও রাখতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। অনুষ্ঠান শেষে তারকেশ্বর হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতার রেসকোর্সে পৌঁছবেন মোদি। সেখান থেকে সড়কপথে যাবেন লোকভবনে। শনিবার রাতের জন্য কলকাতাতেই অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারকেশ্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    মাসের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নতুনভাবে সাজানো হবে তারকেশ্বর শহরকে। এই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও। ইতিহাসবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে বজায় রাখার দাবিতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত ছিল তারকেশ্বরের সঙ্গে। তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই এ বছরের পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে তারকেশ্বরকে।

    রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী

    আগামিকাল, রবিবার, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকালে লোকভবন থেকে রেড রোডে পৌঁছবেন তিনি। সরকারি সূচি অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হাজার হাজার যোগাভ্যাসকারীর সঙ্গে যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    গার্ডেনরিচে দেশীয় যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন

    যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফের লোকভবনে ফিরে যাবেন। এরপর তিনি গার্ডেনরিচে যাবেন, যেখানে ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এই উদ্বোধনকে দেখা হচ্ছে। দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গার্ডেনরিচের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর রেসকোর্স থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

LinkedIn
Share