Tag: Kali Puja

Kali Puja

  • Anubrata Mondal: ‘কেষ্ট’ গারদে, কালীপুজোয় নেই জাঁকজমক, কমল প্রতিমার গয়নাও!

    Anubrata Mondal: ‘কেষ্ট’ গারদে, কালীপুজোয় নেই জাঁকজমক, কমল প্রতিমার গয়নাও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেষ্ট (Anubrata Mondal) রয়েছে গারদে। দুর্গাপুজো কেটেছে আসালসোলের সংশোধনাগারে। আর এবার কালীপুজোও কাটছে সেখানেই। প্রতিবছর বোলপুর তৃণমূল কার্যালয়ে যে কালীপুজোর আয়োজন করা হয় তা কেষ্টর কালীপুজো নামে পরিচিত এলাকায়। কোনও বছরেই সেই পুজোয় এতটুকু কমতি হয়নি। প্রত্যেক বছর জাঁকজমকভাবে সেই পুজো করা হত। আর মায়ের গায়েও থাকত ভরি ভরি গয়না। কিন্তু এবছর গরুপাচারে কাণ্ডে (Cattle Smuggling Case) হাজতবাস করছেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) ৷ তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে জৌলুস হারাল তাঁর কালী পুজো, আর কমল প্রতিমার গয়নার পরিমাণও।

    সূত্রের খবর অনুযায়ী, যে প্রতিমা গতবছর সেজে উঠেছিল ৫৭০ ভরি সোনার গয়নায়, এবার সেজেছে মাত্র ৪০ ভরিতে। ২০১৮ সালে কালী প্রতিমা সাজানো হয়েছিল ১৮০ ভরি সোনার গয়নায়। ২০১৯ সালে গয়নার পরিমাণ বেড়ে হয়েছিল ২৬০ ভরি। ২০২০ সালে সেই প্রতিমা সাজানো হয়েছিল প্রায় ৩০০ ভরি গয়না দিয়ে। আর ২০২১-এ তার পরিমাণ বেড়ে হয়েছিল ৫৭০ ভরি। মাথায় ছিল সোনার মুকুট। এছাড়াও ছিল সীতাহার, চেন, গলার চিক, চূড়, রতনচূড়, মান্তাসা, বাজুবন্ধ, টায়রা-টিকলিও ইত্যাদি। কিন্তু এবছর এর একেবারে বিপরীত দৃশ্য। মাথায় সোনার মুকুট নেই, কানের দু পাশে কান বালা উধাও, বাজুবন্ধ মানতাসা কিছু পড়ানো হয়নি মাকে। কিছু সীতাহার, সোনার চেন, চারহাতে চারটি বালা, টিকলি,টায়রা পড়িয়ে পুজো করা হল কেষ্টর কালীকে।

    আরও পড়ুন: উপলক্ষ কালীপুজো, তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর, লেক কালী বাড়িতে ভক্ত সমাগম

    এবছর কেষ্ট (Anubrata Mondal) জেলে থাকায় কেষ্টর কালীপুজো কে করবে? কে পরাবে প্রতিমার অলঙ্কার? জাঁকজমকেরই বা কী হবে? প্রশ্ন ছিল একাধিক। শেষে জানা গিয়েছে, কালী মূর্তিকে সোনার গয়নায় সাজালেন পুরোহিত রেবতীরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহকারী। অফিসের দোতলায় কালী মন্দিরে বিকেলেই মাকে সাজানো হল। একে একে হাজির হলেন কর্মীরা। গেটের বাইরে এলইডি আলোর গেট।

    এবারে অতিথিদের খাবারেও কাটছাঁট করা হয়েছে। অতিথিদের খাওয়ার জন্য রাত্রে প্রসাদ হিসাবে খিচুড়ি, পাঁঠার মাংস, ভাজা, তরকারি, চাটনি, পাঁপড় মিষ্টি রয়েছে। তবে বেশ কিছু পদ কমেছে। আবার ভয়ে অনেক নেতা-নেত্রীদের নিমন্ত্রনও করা হয়নি। আবার আসতে চায়নি অনেকে।  অন্যদিকে দলীয় স্তরে জেলা কমিটির সদস্যদের এক হাজার টাকা করে চাঁদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তাকে সামনে রেখে বেশ কিছু নেতা ও অন্যান্যদের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে জেলা নেতাদের কাছে।

  • Kali Puja: জানুন রঘু ডাকাতের কালী পুজোর গল্প

    Kali Puja: জানুন রঘু ডাকাতের কালী পুজোর গল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার কোনও ডাকাত দলের সর্দারের নাম বলুন তো? যে কাউকে এই প্রশ্ন করলে মনের মধ্যে ভেসে ওঠে ‘রঘু ডাকাত’ নামটা। রঘু ডাকাত নামে কত উপন্যাস কত গল্প ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এক কথায় বোঝাতে গেলে বলতে হয় যে, এই নামটি একটি মিথ হয়ে রয়েছে। কিন্তু জানেন কি? রঘু ডাকাত মাত্র একজন ছিল না। বর্ধমান থেকে হুগলি, কলকাতা থেকে উত্তর চব্বিশ পরগনার জঙ্গলগুলোতে একাধিক রঘু ডাকাতের পরিচয় পাওয়া যায়। প্রত্যেক রঘু ডাকাত-ই মা কালীর (Goddess Kali) ভক্ত। কালী আরাধনার (Kali Puja) পরেই তারা ডাকাতি করতে যেত। 

    খগেন্দ্রনাথ মিত্র এবং যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর লেখা থেকেই রঘু ডাকাত সম্পর্কে নানা রোমাঞ্চকর তথ্য পাওয়া যায়। যেমন, নৈহাটির রঘু ডাকাতের কথা। সে সময় নৈহাটি থানার দারোগা ছিলেন দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দারোগাবাবু অনেক চেষ্টা করেও আয়ত্তে আনতে পারছিলেন না রঘু ডাকাতকে। শায়েস্তা করতে পারছিলেন না এই ডাকাতকে। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন যেভাবেই হোক রঘু ডাকাতকে তিনি ধরবেন। হঠাৎ করেই কিছুদিন পর দারোগা বাবুর কাছে একটি চিরকুট এলো। তাতে লেখা রয়েছে, ‘খুব শীঘ্রই আপনার সঙ্গে আমার দেখা হবে দারোগা বাবু’। তলায় লেখা, ইতি আপনার সেবক রঘু‌। 

    আরও পড়ুন: জনশ্রুতি, তাঁর নামেই হয়েছে রানাঘাট শহরের নামকরণ, জানুন রণ ডাকাতের কালীপুজোর গল্প

    এর বেশ কিছুদিন পর এলাকার জমিদার বাবুর নাতির অন্নপ্রাশন। আমন্ত্রিত হয়েও উপস্থিত থাকতে পারেননি দারোগা বাবু। একদিন দুপুরে আহারের পর নিজের চেয়ারে বসে ভাত ঘুম দিচ্ছিলেন দারোগা বাবু‌। সে সময় হঠাৎ এক জেলে উপস্থিত হল দুই হাতে দুটো মাছ নিয়ে এবং নিজের ধুতিতে বেঁধে রাখা এক টুকরো কাগজ বের করে দারোগা বাবুকে দিল যেখানে লেখা ছিল – ‘আমার নাতির অন্নপ্রাশনে আপনি আসতে পারেননি তাই আপনাকে দুটো বড় মাছ পাঠালাম।’ তলায় ছিল জমিদার বাবুর স্বাক্ষর। বেশকিছু দিন পর আবার একটি চিরকুট পেলেন দারোগা বাবু‌। তাতে লেখা রয়েছে – “আপনার সঙ্গে দেখা করে ভালো লাগল, মাছ দুটো কেমন খেলেন?” 

    অন্য কিছু জায়গায়, রঘু ডাকাতের প্রচলিত কাহিনী থেকে জানা যায় যে, তার বাবাকে নীলকর সাহেবরা হত্যা করেছিল। এই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নাকি সে ডাকাত হয় এবং নীলকর সাহেবদের লুঠ করে তা গরীব মানুষের মধ্যে বিতরণ করত। অর্থাৎ বাঙালির রবিনহুড বলতে গেলে সেটা রঘু ডাকাত-ই। জনশ্রুতি রয়েছে, হুগলির রঘু ডাকাত নাকি একবার সারদা মায়ের পথ আটকে ছিল সিঙ্গুরের কাছে। এরপর ভীষণ দর্শনা মা কালী প্রকট হলে, রঘু ডাকাত সারদা মায়ের কাছে ক্ষমা চায়। মাকে রাতে চালকড়াই ভাজা খেতে দেয়। 

    আরও পড়ুন: জানুন, সাতের দশকের কলকাতার ডন ‘ফাটাকেষ্ট ও তাঁর কালীপুজোর গল্প‌’

    অপর এক রঘু ডাকাত বারাসাতের জঙ্গলে থাকত বলে জানা যায়। তার কালীপুজো (Kali Puja) আজও ধুমধাম করে হয়। বারাসাত শহর থেকে দু’কিলোমিটার দূরে কাজিপাড়া অঞ্চলে এই পুজো হয়, বটগাছের ঝুরি দ্বারা ঘেরা ভগ্ন এক মন্দিরে। স্থানীয়রা এই কালীকে জাগ্রত বলে মনে করেন। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার কেতুগ্রামের অট্টহাস সতীপীঠেও নাকি রঘু ডাকাত কালী পুজো করত। তারপর ডাকাতির উদ্দেশ্যে সংলগ্ন এলাকাগুলোতে অভিযান চালাত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, রঘু ডাকাত বৈষ্ণব ছিল তবুও সে শক্তির উপাসনা করত। সাধক রামপ্রসাদের সঙ্গেও রঘু ডাকাতের সাক্ষাতের কথা প্রচলিত রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে, রঘু ডাকাতের কালী পুজোতে নরবলি হতো, তারপরে রঘু ডাকাত ল্যাটা মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে ডাকাতি করতে যেত।

  • Kali Puja: জনশ্রুতি, তাঁর নামেই হয়েছে রানাঘাট শহরের নামকরণ, জানুন রণ ডাকাতের কালীপুজোর গল্প

    Kali Puja: জনশ্রুতি, তাঁর নামেই হয়েছে রানাঘাট শহরের নামকরণ, জানুন রণ ডাকাতের কালীপুজোর গল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝখানে মাত্র আর ক’টা দিন, তারপরই ভক্তরা মা কালীর (Kali Puja) আরাধনায় মেতে উঠবেন। মাতা কালিকা দশম মহাবিদ্যার একটি বিদ্যা। তিনি ভীষণ দর্শনা। শক্তি ও সাহসের দেবী। ডাকাতরা নাকি কোথাও ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা কালীর (Goddess Kali) আরাধনা করত – এমন গল্প তো প্রচলিত রয়েছেই। এ নিয়ে বহু গল্প, উপন্যাস সংকলিত হয়েছে। ‘ডাকাত কালী’ আজও বাঙালির কাছে একটা মিথ হয়ে রয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মতোই নদিয়ার রানাঘাটে সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে মায়ের (Ranaghat Siddheswari Kali) আরাধনা হবে কালীপুজোর নির্দিষ্ট দিনে।

    সপ্তদশ শতকে চূর্ণী নদীর তীরের জঙ্গল। লোক বসতি একদমই নেই। এখানেই থাকতেন ডাকাত দলের সর্দার রণ এবং তাঁর বাহিনী। মায়ের আরাধনা করে তিনি ডাকাতি করতে যেতেন। এমনটাই জনশ্রুতি রয়েছে ওখানে। আরও প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে যে, মা কালী সমস্ত কামনা পূরণ করতেন, তাই রণ ডাকাত এই মায়ের নাম সিদ্ধেশ্বরী রাখেন। মূলত ডাকাত রণ-র নাম অনুসারে চূর্ণী নদীর এই তীর রাণাঘাট নামে পরিচিত হয় বলেও শোনা যায়। 

    আরও পড়ুন: ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী কাল্পনিক নয় বরং ঐতিহাসিক চরিত্র, জানুন তাঁদের কালী পুজোর কথা

    মন্দিরের দেবীমূর্তি দক্ষিণা কালিকা বিগ্রহ। জনশ্রুতি রয়েছে, সেসময় বাংলায় ইংরাজের উত্থান সবে শুরু হয়েছে। একদিন এক ইংরাজ সাহেব প্রাণভয়ে ভীত হয়ে দেবীর মন্দিরে ছুটে এসে ঢুকে পড়েছিলেন এবং আত্মত্রাণের জন্য দেবীর চরণ স্পর্শ করে প্রার্থনা জানিয়েছিলেন। তখন ছিল রাত্রিবেলা। ইংরাজটি সে রাত্রে রক্ষা পেয়েছিল কিন্তু ইংরেজদের তখন ম্লেচ্ছ মানা হতো। তাই ম্লেচ্ছ স্পর্শের কারণে তখনকার সংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের বিবেচনায় দেবীকে নদীগর্ভে বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল, সেই সঙ্গে দেবীর মন্দিরটিও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। 

    এরপর সে সময়কার সেবাইতের চেষ্টায় স্থানীয় ঘটক বংশীয় দুইজন ভক্ত ও জমিদার পাল চৌধুরীদের এক কর্তাব্যক্তির সহায়তায় দেবীর শিলাময়ী মূর্তি কাশীধাম থেকে এনে কোঠা মন্দির অর্থাৎ চাঁদনী জাতীয় মন্দির (বর্তমান মন্দিরের গর্ভগৃহ) নির্মাণ করে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তখন থেকেই শিলাময়ী দক্ষিণা কালীর মূর্তিটিই সিদ্ধেশ্বরী নামে রানাঘাটের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসাবে পূজিতা হচ্ছেন। এই মূর্তিটিও প্রাচীন। বয়স দু’শ বছরের কম নয়। মন্দিরের পাশে ছোট একটি মন্দিরে মহাদেব প্রতিষ্ঠিত আছেন। নাটমন্দির অনেক পরে তৈরি হয়। এ ব্যাপারে কতিপয় স্থানীয় লোকের আর্থিক সাহায্য ছিল। 

    আরও পড়ুন: জানুন, সাতের দশকের কলকাতার ডন ‘ফাটাকেষ্ট ও তাঁর কালীপুজোর গল্প‌’

    জনশ্রুতি আছে, নাটমন্দির তৈরি হওয়ার আগে মন্দিরের দক্ষিণপূর্ব কোণে একটি বিরাট অশ্বত্থ গাছ ছিল। ওই গাছটি নাটমন্দির নির্মাণে বা মন্দিরের অন্যবিধ কাজে বাধা সৃষ্টি করেছিল। অথচ বিপদ-আপদ ঘটে যাওয়ার ভয়ে কেউই গাছটি কাটছিল না। তখন একজন নিঃসন্তান ব্যক্তি গাছটিকে কুঠারাঘাতে কেটে ফেলে। আশ্চর্য তারপর অপুত্রক সেই লোকটির ভাগ্য ফিরে যায় এবং আর্থিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর একাধিক সুন্দর স্বাস্থ্যবান পুত্র লাভ হয়। লোকটির প্রত্যেক পুত্রই সুপুত্র এবং তাঁরা জীবনে যথেষ্ট উন্নতি করেছিলেন। 

    শ্বেতমর্মর প্রস্তরে তৈরি দুই ধাপ-বিশিষ্ট পঞ্চভুজ বা পঞ্চকোণ পঞ্চমুণ্ডের আসনোপরি দেবী-বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত। সিদ্ধেশ্বরী নাম হলেও দেবী মূর্তিটি সিদ্ধেশ্বরী বিগ্রহ নয়, এই মূর্তি উৎকৃষ্ট কষ্টিপাথর দ্বারা নির্মিত এবং শ্বেতপ্রস্তর খোদিত মহাদেব। প্রতি বৎসর দেবী মূর্তি রং দ্বারা অলঙ্কারিত করা হয়। মূর্তি উচ্চতায় তিন হাতের মতো। মন্দির গৃহ সাবেক আমলের-কড়ি বড়গার ছাদ, মর্মর দ্বারা বাঁধান মেঝে। সম্মুখদ্বারাটি যে প্রাচীনকালের তা দেখলেই বোঝা যায়। মন্দিরের সামনে বলিদানের ‘থান’। 

    নাটমন্দিরটি দালান জাতীয় সাদামাটা আচ্ছাদিত স্থান, শিল্প-বৈশিষ্ট্য বর্জিত। সমগ্র মন্দির চত্বরটি বেশ বড়। দেবীর তত্ত্বাবধানের জন্য দেবত্র হিসাবে জায়গা দিয়েছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র। এখন তা নেই। রানাঘাটের জনসাধারণ ও অন্যান্য দূর-দূরান্তরের মানুষ দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে অতিশয় জাগ্রত মনে করে শ্রদ্ধাভক্তি করেন। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, মা সিদ্ধেশ্বরী তাঁদের মনস্কামনা পূর্ণ করেন। কালী পুজোর (Kali Puja) সমস্ত রীতি মেনে এই পুজো সম্পন্ন হয়।

  • Debi Chaudhurani Kali Puja: ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী কাল্পনিক নয় বরং ঐতিহাসিক চরিত্র, জানুন তাঁদের কালী পুজোর কথা

    Debi Chaudhurani Kali Puja: ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী কাল্পনিক নয় বরং ঐতিহাসিক চরিত্র, জানুন তাঁদের কালী পুজোর কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আনন্দ মঠের পর এটাই ছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় কোনও উপন্যাস, যেখানে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রাম এবং চরমপন্থী জাতীয়তাবাদ স্থান পেয়েছিল। ইতিমধ্যে পাঠক হয়তো বুঝতে পেরেছেন, এখানে ‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাসের কথাই বলা হচ্ছে। ১৮৮৪ খ্রীস্টাব্দে লিখিত এই উপন্যাসের চরিত্র হরবল্লভের পুত্রবধূ মানে ব্রজেশ্বর এর স্ত্রী প্রফুল্লর শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়া এবং জঙ্গল মধ্যে ডাকাত দলের সর্দার ভবানী পাঠকের সুনিপুণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘দেবী চৌধুরানী’ হয়ে ওঠার গল্প প্রত্যেক বাঙালির কাছেই এভারগ্রীন। কখনো পুরোনো হয়না‌। শার্লক হোমসের ঠিকানায় (২২১/বি বেকার স্ট্রিট, লন্ডন) একসময় প্রচুর চিঠি পাঠাতেন পাঠকরা। তাঁরা ভাবতেন আর্থার কোনান ডায়েল সৃষ্ট এই চরিত্র কাল্পনিক নয় বরং বাস্তবিক। শার্লক হোমস তো কাল্পনিক ছিল কিন্তু জানেন কি ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানী সত্যিই ঐতিহাসিক চরিত্র ছিলেন এবং তাঁরা মা কালীর আরাধনা করতেন। তাঁদের প্রচলিত কালী পুজো (Debi Chaudhurani Kali Puja) আজও ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে। শুধু তাই নয় জলপাইগুড়ি তে রয়েছে একটি মন্দির যেখানে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর মূর্তি রয়েছে।

    জলপাইগুড়ি জেলার শিকারপুর চা বাগান ঘেরা ছোট্ট গ্রামে ঐতিহাসিক দেবী চৌধুরানী মন্দির। পাশাপাশি দুটি মন্দির রয়েছে এখানে। তার মধ্যে একটি মা কালীর মন্দির (Debi Chaudhurani Kali Puja)। কালী মন্দিরের পাশের মন্দিরে একটি পুরুষ ও নারী মূর্তি রয়েছে। পাশাপাশি বাঘ, শিয়াল ও আরও কিছু বিগ্রহ আছে। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন এটি শিব-পার্বতীর মন্দির। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, বিগ্রহটি ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানীর। মূলত দেবী চৌধুরানীর মন্দিরের খ্যাতিতেই বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা এখানে আসেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে এটি বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এখানকার কালীমন্দিরও জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ বলেই স্থানীয় ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে। এই মন্দিরে রীতিমতো নিয়ম ও নিষ্ঠার সাথে বছরে দুবার কালীপুজো হয়। একবার আষাঢ় মাসে, আরেকবার কার্তিক মাসে।  বরং এখানকার কালীপূজার আলাদা রোমাঞ্চ রয়েছে ভক্তদের কাছে। ঝোপ জঙ্গলে ভরা, অরণ্য মাঝে এই কালী মন্দিরের অবস্থান। শহরের কোলাহল থেকে নির্জন বনে দেবীর উপাসনা ভক্তদের মধ্যে ‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাস কে জীবন্ত করে তোলে‌। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সারারাত জেগে এই পুজো দেখতে যান।

    অন্যদিকে মালদহের রতুয়া ২ নম্বর ব্লকের গোবরজনা গ্রামের কালী মাতা ঠাকুরানি মন্দির (Debi Chaudhurani Kali Puja) । প্রচলিত বিশ্বাস মতে, ঘন অরণ্যে ঘেরা ছিল গোবরজনা গ্রাম। পাশেই বয়ে চলেছে কালিন্দ্রী নদী। একবার ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানী বজরা নিয়ে যাচ্ছিলেন কালিন্দ্রী নদী বেয়ে। তাঁদের গন্তব্য বঙ্গের উত্তরে। কিন্তু তাঁদের বজরা মাঝ পথেই থেমে গেছিল নদীর এক বালিয়াড়িতে। দেবী চৌধুরানী স্বপ্নাদেশ পেলেন মা কালীর। তিনি সেখানে তাঁদের পুজো নিতে চান। ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানী সেখানেই মায়ের মূর্তি তৈরি করে পুজো সম্পন্ন করলেন। এই পুজোয় আজও লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়‌। যদিও, ধুমধাম করে সম্পন্ন হওয়া গোবরজনার এই কালীপুজো দেবী চৌধুরানী চালু করেছিলেন বলে অনেকেই মানতে চাননা‌। ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক ছিলনা‌। রাঢ় বঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের সাথেও জড়িয়ে রয়েছে এই দুই গুরু শিষ্যার নাম। গবেষকরা মনে করেন, দেবী চৌধুরানি যে বজরা নিয়ে ডাকাতি করতে যেতেন, সেই বজরা নিয়ে ভেসে এসে দামোদরের পারে গভীর জঙ্গলে আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে এই জায়গা থেকেই নিজের কাজ চালিয়ে যেতেন ঐতিহাসিক দুই চরিত্র ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানি। বর্তমান দুর্গাপুরের অম্বুজা কলোনিতে রয়েছে ভবানী মাতার মন্দির। এই মন্দিরটি ভবানী পাঠকের মন্দির বলে জনশ্রুতি রয়েছে। একটা সময় এই মন্দিরে এসে আত্মগোপন করেছেন বহু বিপ্লবী। এমনকি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর এখানে এসে রাত্রিযাপনের কথাও প্রচলিত রয়েছে। দুর্গাপুরের এই এলাকায়  জঙ্গল ঘেরা পরিবেশের এই মন্দিরে অনেক ভক্ত আসেন ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর মন্দির দর্শন করতে। তারাপীঠের মায়ের রীতি মেনে শ্যামাকালী পুজোর আগের নিশিরাতে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী আরাধিত এই মা কালীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এই পুজোর বিশেষ রীতি হলো ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি উচ্চারণ।

  • Anubrata Mondal: কেষ্টহীন কালী পুজো কেমন হবে বোলপুরে? নজর সিবিআইয়ের

    Anubrata Mondal: কেষ্টহীন কালী পুজো কেমন হবে বোলপুরে? নজর সিবিআইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) মা কালীর অন্যতম বিশেষত্ব তাঁর রাশি রাশি সোনার গয়না। কালী পুজোর (Kali Pujo) আগের দিন সেই সব গয়না একত্রিত করা হয়। এরপর অনুব্রত মণ্ডলের উপস্থিতিতে সেই গয়না মা কালীর অঙ্গে এক এক করে পরানো হয়। কিন্তু এবার তিনি জেলে। তাহলে কী হবে?  তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে বীরভূম জেলা তৃণমূলের অফিসে (Birbhum TMC)। তবে এই পুজোর দিকে নজর রাখছে সিবিআইও (CBI)।

    আরও পড়ুন: ৮ বছরে আয় বেড়েছে প্রায় ১৭৫ গুণ! অনুব্রত কন্যা সুকন্যার আয়কর রিটার্ন চমকে দেবে আপনাকেও

    গরু-পাচার মামলায় (Cattle Smuggling Case) অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পর কালী প্রতিমার গয়নাও রয়েছে সিবিআইয়ের স্ক্যানারে। গত বছর পর্যন্ত যে পরিমাণ গয়নার হিসাব পাওয়া গিয়েছে তার বর্তমান বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। এত গয়না কোথা থেকে এল, তা জানতে গয়নার ব্যবসায়ীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। প্রতিবছর বোলপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ঘটা করে শ্যামাপুজো করতেন অনুব্রত মণ্ডল।  ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু হওয়া পুজোয় এত জাঁকজমক আগে ছিল না। তবে, রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পুজোর জৌলুস বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বাড়তে শুরু করে অনুব্রতের কালী প্রতিমার সোনার অলংকারও।

    আরও পড়ুন: অনুব্রত ঘনিষ্ঠ প্রমোটার রানা সরকারকে সিবিআইয়ের জেরা! কী জানতে চাইলেন অফিসারেরা

    বিশেষ সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে কালী প্রতিমার সোনার গয়নার পরিমাণ ছিল ১৮০ ভরি। ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয় ২৬০ ভরি। ২০২০ সালে এই  সোনার গয়নার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৬০ ভরি। ঠিক তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে সোনার মুকুট, বাউটি, বাজুবন্ধন, চুর, কানের দুল, গলার হার মিলিয়ে প্রায় ৫৭০ ভরি সোনার গয়নায় কালীমূর্তিকে সাজিয়েছেন অনুব্রত নিজে। এবছর কালীপুজো ২৪ অক্টোবর। অনুব্রতকে আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে হাজির করানোর কথা ২৯ তারিখ। অতএব দুর্গাপুজোর মতো কালীপুজোও হয়ত জেলেই কাটবে কেষ্টর। যদিও পুজো বন্ধ হবে না, বলে জানিয়ে দিয়েছেন অনুব্রতের ঘনিষ্ঠ, বোলপুরের বিধায়ক ও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিং। তাঁর কথায়, ‘‘পুজো যেমন হয় তেমনই হবে। দলের কর্মীরাই দায়িত্ব নিয়ে সেই পুজোর আয়োজন করবেন।”

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

LinkedIn
Share