Tag: Kolkata news

Kolkata news

  • SSC Recruitment Scam: নথি নষ্টের আশঙ্কায় “সিল” এসএসসি দফতর, নিরাপত্তায় সিআরপিএফ, মধ্যরাতে নির্দেশ হাইকোর্টের

    SSC Recruitment Scam: নথি নষ্টের আশঙ্কায় “সিল” এসএসসি দফতর, নিরাপত্তায় সিআরপিএফ, মধ্যরাতে নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নজিরবিহীন! মধ্যরাতে হাইকোর্টের (Calcutta Highcourt) নির্দেশে “সিল” করে দেওয়া হল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (School Service commission) দফতর। গোটা ভবন মুড়ে ফেলা হল কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে। এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডে (SSC frecruitment scam) নাটকীয় মোড় নিল বুধবার মধ্যরাতে।

    শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Teachers Recruitment scam) মামলায় সাড়ে তিন ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ-পর্ব সেরে বুধবার রাত ৯টা নাগাদ নিজাম প্যালেস থেকে বের হন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। তার মধ্যেই, আচমকা এসএসসি (SSC) চেয়ারম্যান পদে রদবদল ঘটে। হঠাৎই চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দেন সিদ্ধার্থ মজুমদার। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৪ মাসের মধ্যেই। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এসএসসি-র চেয়ারম্যান হিসেবে আইএএস অফিসার শুভ্র চক্রবর্তীকে নিয়োগ করে রাজ্য সরকার।

    এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের আশঙ্কা এই পরিস্থিতির মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলা হতে পারে। আদালতের কাছে তাঁদের আর্জি অবিলম্বে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং এসএসসির দফতরে সিআরপিএফ মোতায়েন করা হোক। চাকরিপ্রার্থীদের এই আবেদনে সাড়া দিয়ে এ দিন রাতারাতি রাত সাড়ে দশটায় বেনজিরভাবে হাইকোর্টে শুরু হয় শুনানি।

    বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly) এজলাসে শুনানি শুরু হয়। নিজের চেম্বার থেকেই মামলা শোনেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। মামলাকারীরা জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার ইস্তফা দিয়েছেন। যিনি মঙ্গলবারই রাজ্যের শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতার চাকরি ‘দুর্নীতিতে’ নম্বর জানিয়েছেন। অধ্যাপক মজুমদার ইস্তফা দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

    অবিলম্বে সিআরপিএফ মোতায়েন করে নথি সংরক্ষণের আবেদন করেন এসএসসির (SSC) চাকরিপ্রার্থীরা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, কমিশনের হাতে থাকা হার্ড ডিস্ক-সহ নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি সংরক্ষণ করা হোক।  পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বা তাঁদের লোকজন নথি নষ্ট করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত।

    এরপরই প্রায় মধ্যরাতে বিশেষ নির্দেশ দেয় আদালত। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ শুনে একের পর এক কড়া নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বলেন, বুধবার রাত সাড়ে বারোটা থেকে CRPF’এর নিরাপত্তায় মোড়া থাকবে SSC সদর দফতর আচার্য সদন। বৃহস্পতিবার দুপুর একটা অবধি কোনও সরকারি আধিকারিক, কোনও কর্মী এসএসসি-র অফিসে ঢুকতে পারবেন না কেউ। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর থেকে কে বা কারা দফতরে ঢুকেছে তার সিসি ফুটেজ কাল বেলা ১২টার মধ্যে পেশের নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট। 

    সূত্রের খবর, হাইকোর্টের সেই নির্দেশের পর বিচারপতির চেম্বার থেকেই সিআরপিএফের (CRPF) অফিসে ফোন করা হয়। আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত কথা বলেন।

     

     

  • Paresh Adhikary: কলকাতা না এসে মেয়েকে নিয়ে নামলেন বর্ধমান স্টেশনে, হাইকোর্টে ফের ধাক্কা খেলেন মন্ত্রী পরেশ অধিকারী

    Paresh Adhikary: কলকাতা না এসে মেয়েকে নিয়ে নামলেন বর্ধমান স্টেশনে, হাইকোর্টে ফের ধাক্কা খেলেন মন্ত্রী পরেশ অধিকারী

    মাধ্য়ম নিউজ ডেস্ক: এসএসসি (SSC) শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী (Paresh Adhikary) । কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চে বড় ধাক্কা খেলেন মন্ত্রী। পরেশ অধিকারীর মামলা শুনবে না বিচারপতি হরিশ টন্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলা থেকে অব্যাহতি চাইল বিচারপতি হরিশ টন্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ।

    গতকাল, রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারীর মেয়ের চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে বেআইনিভাবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে অঙ্কিতা মেখলিগঞ্জের ইন্দিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। মামলাকারীদের দাবি, পার্সোনালিটি টেস্টে না বসেও এবং মেধাতালিকায় নাম না থেকেও অঙ্কিতা চাকরি পেয়েছেন। এই ঘটনায় মঙ্গলবার সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।  এই অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার জেরেই পরেশকে সিবিআইয়ের সামনে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত।

    আরও পড়ুন: আজই হয় হাজিরা সিবিআইয়ে নয়তো হেফাজত, গ্রেফতারি এড়াতে ডিভিশন বেঞ্চে মন্ত্রী পার্থ

    নির্দেশকে চ্যালেঞ্চ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান পরেশ অধিকারী। সিবিআই-জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিচারপতি টন্ডনের বেঞ্চের দ্বারস্থ হন তিনি। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মামলা থেকে অব্যাহতি চান বিচারপতি টন্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ।  বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly) সিঙ্গল বেঞ্চ বলেছিল, মঙ্গলবার রাত আটটার মধ্যে নিজাম প্যালেসে (Nizam Palace) হাজিরা দিতে হবে পরেশ অধিকারীকে। কিন্তু, কলকাতায় না থাকায় সেই হাজিরা দেননি রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। সেই সময় তিনি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন।

    এদিকে, পরেশের কলকাতায় আসা নিয়েও তৈরি হয় ধোঁয়াশা। গতকাল আদালত যখন রায় দিচ্ছিল, সেই সময় মেখলিগঞ্জে ছিলেন পরেশ। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তিনি মেয়ে অঙ্কিতাকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন থেকে রাত পৌনে ৮টার পদাতিক এক্সপ্রেসে চড়ে রওনা হন কলকাতার উদ্দেশে। কিন্তু, বুধবার সকালে দেখা যায়, পদাতিক এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে কলকাতায় পৌঁছলেও, তাতে নেই মন্ত্রী পরেশ অধিকারী ও তাঁর মেয়ে অঙ্কিতা। আজ সকাল ৬টা ৪৫-এ শিয়ালদা স্টেশনের ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছয় পদাতিক এক্সপ্রেস। ট্রেন অ্যাটেন্ড্যান্ট জানান, এইচ-১ কামরার নম্বর সি কুপে ছিলেন পরেশ অধিকারী ও তাঁর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী।

    ট্রেনের অ্যাটেন্ড্যান্ট দাবি করেন, মাঝপথেই  ট্রেন থেকে নেমে যান মন্ত্রী ও তাঁর কন্যা। পরে, জানা জায়, বর্ধমান স্টেশনে নেমে যান তাঁরা। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে সেই ছবি। জানা গিয়েছে, ভোর ৪: ৫২ মিনিটে বর্ধমান স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে থামে পদাতিক এক্সপ্রেস৷ মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর সঙ্গে ভোর ৪: ৫৬ মিনিট নাগাদ দেখা যায় পরেশ অধিকারীকে৷ এরপর ভোর ৫:০৪ মিনিট নাগাদ বর্ধমান স্টেশন চত্বর থেকে একটি সাদা স্করপিও গাড়িতে করে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় পরেশ অধিকারীকে৷

    আরও পড়ুন: “সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে কোনও ভুল নেই”, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বহাল সিবিআই তদন্ত

  • SSC Scam: মন্ত্রীই সর্বেসর্বা, ‘অবৈধ’ প্যানেলেও সম্মতি দিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটিকে লিখিত বয়ান শিক্ষাসচিবের

    SSC Scam: মন্ত্রীই সর্বেসর্বা, ‘অবৈধ’ প্যানেলেও সম্মতি দিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটিকে লিখিত বয়ান শিক্ষাসচিবের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (School Service Commission) বা এসএসসি (SSC) নিয়োগ দুর্নীতির (Recruitment scam) তদন্তে সিবিআইয়ের (CBI) সামনে গিয়ে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) জানিয়ে এসেছেন, নিয়োগের অনিয়মের ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা ছিল না। যিনি এসব জানতেন, তিনি হলেন শিক্ষাসচিব মনীশ জৈন (Manish Jain)। মাধ্যম গতকালই জানিয়েছিল, শিক্ষাসচিব তদন্ত কমিটির সামনে কী বলেছেন তাও জানানো হবে। মাধ্যম জেনেছে, শিক্ষাসচিবও তদন্ত কমিটির সামনে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সর্বেসর্বা ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই। সব সিদ্ধান্তে তিনিই সিলমোহর দিয়েছিলেন। বরং তাঁর (মনীশবাবুর) কোনও ক্ষমতাই ছিল না।

    শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Teachers Recruitment scam) তদন্তে বর্তমান শিক্ষাসচিব যাবতীয় দায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপর চাপিয়ে দেওয়াতে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে অনেকেই নানা ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন। অনেকের মতে, হাইকোর্টের সামনে অনিয়মের অভিযোগ স্পষ্ট। সিবিআই সক্রিয়। ফলে পিঠ বাঁচাতে মন্ত্রী বা আমলা কেউই আর দায় নিতে রাজি নন। একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেরা মুক্তি পেতে চাইছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরের চোরাস্ত্রোতের খবর যাঁরা রাখেন, তাঁরা জানাচ্ছেন, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সরকারের প্রভাবশালীরা এখন বলির পাঁঠা খুঁজছেন। সর্বোচ্চ স্তরের ইঙ্গিত না থাকলে বর্তমান শিক্ষাসচিব কখনই লিখিতভাবে তদন্ত কমিটির সামনে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর উপর সব দায় চাপিয়ে দিতেন না।

    আরও পড়ুন: তিনি ‘অজ্ঞ’, সব জানেন শিক্ষাসচিব, সিবিআইকে জানিয়ে এলেন পার্থ

    কোথায়, কী বলেছেন মনীশ জৈন?

    বিকাশ ভবনের খবর, ২০১৬ সালের ৮ অগাস্ট গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল। ২০১৭ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি তার লিখিত পরীক্ষা হয়। স্কুলে গ্রুপ-ডি পদে যোগ দিতে ১১ লক্ষ ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর কমিশনের ওয়েবসাইটে প্যানেল প্রকাশিত হয়। সেখানে ৩৯২৪ জনের নাম নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয় ৯৮৪৭ জনকে। 

    কোনও পরীক্ষার প্যানেল সাধারণত এক বছর ভ্যালিড থাকে। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাতকারণে গ্রুপ-ডির প্যানেল ২০১৯-এর ৪ মে পর্যন্ত সরকারিভাবে ভ্যালিড ছিল। কিন্তু তার পরেও নিয়োগ চলতে থাকে। এ সব নানা গরমিল নিয়েই আদালতে মামলা হয়। আদালত বিচারপতি রণজিৎ বাগের নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি করে দেয়। তদন্ত করে দেখতে বলে পুরো বিষয়টিকে। গত ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল বিচারপতি বাগ তাঁর ৬৮ পাতার মূল রিপোর্টটি কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জমা করেন। সেই রিপোর্ট দেখেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের  (Justice Abhijit Gangyopadhyay) রায় বহাল রাখে ডিভিশন বেঞ্চ। শুরু হয় সিবিআই তদন্ত।

    সূত্রের খবর, বিচারপতি রণজিৎ বাগ কমিটির (Ranjit Bag Committee) কাছেই লিখিতভাবে শিক্ষাসচিব মনীশ জৈন জানিয়ে দেন, নিয়োগের ব্যাপারে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৎকালীন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর হাতে সিদ্ধান্তগ্রহণের কোনও ক্ষমতাই ছিল না। শুধু তাই নয় গ্রুপ-ডি নিয়োগের প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যে মাথায় প্রশাসনিক কমিটি বসিয়ে নিয়োগ চালিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাও বাগ কমিটিকে জানিয়ে দেন মনীশ জৈন। সেই সিদ্ধান্তও যে পার্থবাবুই নিয়েছিলেন তাও স্পষ্ট করে দেন স্কুল শিক্ষাসচিব। বিচারপতি বাগ হাইকোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টের ৫৬-৫৭ পাতায় শিক্ষা সচিবের দেওয়া বয়ান ও নথির কথা উল্লেখ করেছেন। কমিটির মতেও নিয়োগের ব্যাপারে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই ছিলেন সর্বেসর্বা।

    কী বলেছেন মনীশ জৈন?

    বাগ কমিটির রিপোর্টের ৫৬-৫৭ পাতায় বলা হয়েছে, স্কুল শিক্ষাসচিব মন্ত্রী পরিষদের কার্য পরিচালনা এবং সিদ্ধান্তগ্রহণের নানা ফাইলের নোটশিট পেশ করেছেন। শিক্ষাসচিব জানিয়েছেন, সংবিধানের ১৬৬(৩) ধারা মেনে রাজ্য মন্ত্রিসভার কার্য পরিচালনার জন্য ‘রুলস অব বিজনেস’ তৈরি হয়। সেই রুলস অব বিজনেস-এর ১৯ ধারায় বলা রয়েছে, কোনও মন্ত্রী স্ট্যান্ডিং অর্ডার দিয়ে ঘোষণা করবেন দফতর পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় তাঁর নজরে আনতে হবে। সেই নির্দেশিকা প্রকাশ হলে দফতরের আমলারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে স্বাধীন থাকেন। শুধুমাত্র মন্ত্রীর উল্লেখিত বিষয়গুলি ছাড়া সব সিদ্ধান্ত আমলারাই নিতে পারেন। 

    আরও পড়ুন: এসএসসি মামলায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিস, শান্তিপ্রসাদের বাড়িতে সিবিআই

    কিন্তু তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আমলাদের কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেননি। ফলে নিয়োগ সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত মন্ত্রীমশাই নিয়েছেন বলে অকপটে জানিয়ে দিয়েছেন মনীষ জৈন। কেবল তাই নয়, পার্থবাবু যখন নিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ততদিনে গ্রপ-সি এবং গ্রুপ-ডি নিয়োগের প্যানেলের ভ্যালিডিটি শেষ হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ অবৈধ প্যানেল থেকে নিয়োগ করার জন্য পার্থবাবু নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও মনীশ জৈন বাগ কমিটিকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তারই পরিণতিতে সিবিআই (CBI) তদন্ত। সেই তদন্তের মুখোমুখি হয়ে পার্থবাবুর বয়ান, তিনি অজ্ঞ, সব জানেন মনীশ জৈন।   

  • Partha Chatterjee: হাইকোর্টে খারিজ রক্ষাকবচের আবেদন, ফের সিবিআই তলব পার্থকে

    Partha Chatterjee: হাইকোর্টে খারিজ রক্ষাকবচের আবেদন, ফের সিবিআই তলব পার্থকে

    মাধ্য়ম নিউজ ডেস্ক: মিলল না রক্ষাকবচ। হাইকোর্ট থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। এসএসসির নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ফের একবার ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।

    সিবিআই হাজিরা এবং হেফাজত এড়াতে সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি আনন্দকুমার মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে রক্ষাকবচের আবেদন করেছিলেন পার্থ। তাঁর বিরুদ্ধে যাতে কোনও কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, বা তাঁকে যাতে সিবিআই হেফাজতে না নেয় তার জন্যই আর্জি পেশ করা হয়েছিল।  একইসঙ্গে, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ থেকে মন্ত্রীপদ ছেড়ে দেওয়ার সুপারিশের বিষয়টি বাদ দেওয়ার আবেদনও জানান পার্থর আইনজীবী। এদিন জোড়া আবেদন খারিজ করে দেয় বেঞ্চ। ফলে, প্রয়োজনে সিবিআই হেফাজতে নিতে পারবে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে। 

    বুধবার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআই-এর মুখোমুখি হতে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই শুনানির সময় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রীত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়ারও পরামর্শ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দুপুরে আদালতের এই কড়া নির্দেশের পরেই বুধবার সন্ধ্যায় সিবিআই-এর মুখোমুখি হন পার্থ, চলে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ।

    আরও পড়ুন: হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট, রক্ষাকবচের জন্য ছুটছেন মন্ত্রী পার্থ, কিন্তু পাবেন কি?

    বৃহস্পতিবার সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানান পার্থ। সেই মামলা থেকে অব্যহতি চেয়ে নেয় বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তের ডিভিশন বেঞ্চ। তার পরেই প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের সিদ্ধান্ত অনুসারে মামলাটি যায় বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বে়ঞ্চে। সেখানে গৃহীত হয় মামলা। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি না হয়ে, তা হয় শুক্রবার।

    এদিন পার্থর রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ করার পাশাপাশি, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণই বজায় রাখল ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যাযের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখুন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল। সেই অংশটি নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন পার্থর আইনজীবীরা। ডিভিশন বেঞ্চ সেই আপত্তি মানল না। আদালতের তরফ থেকে বলা হল, এই অংশটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে এই অংশটি বাদও যাচ্ছে না। এদিন ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ রাজ্য বা তদন্তকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।”

    আরও পড়ুন: “কান টানলেই মাথা আসবে…”, কার দিকে ইঙ্গিত শুভেন্দুর?

    এরইমধ্যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফের একবার তলব করেছে সিবিআই। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআই দফতরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ তবে এখনও পর্যন্ত সঠিকভাবে দিনটা জানায়নি সিবিআই৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে আরও তথ্য জানতে চায় সিবিআই। প্রথমবার বয়ানে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। তথ্য খতিয়ে দেখার পর যে নতুন প্রশ্ন উঠেছে তারই উত্তর চাইবে সিবিআই। তাই তাঁকে ফের তলব৷

  • SSC Recruitment Scam: এসএসসি দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের ডাকে ফের নিজাম প্যালেসে পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    SSC Recruitment Scam: এসএসসি দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের ডাকে ফের নিজাম প্যালেসে পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (ssc recruitment scam) মামলায় ফের সিবিআই (cbi) দফতরে হাজির প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (partha chatterjee)। বুধবার নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পৌঁছে যান নিজাম প্যালেসে (nizam palace)।

    এর আগে সিবিআই আধিকারিকরা একপ্রস্ত জেরা করেছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে। সূত্রের খবর, সেদিন অনেক প্রশ্নের উত্তরে পার্থ যা বলেছিলেন, তাতে সন্তুষ্ট নন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। সেই কারণেই এদিন ফের দ্বিতীয় দফায় জেরা করা হচ্ছে তাঁকে। এদিকে, আবেদনে বেশ কিছু ত্রুটি থাকায় সুপ্রিম কোর্টে এখনই হচ্ছে না এসএসসি মামলায় পার্থর শুনানি।

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এর আগে গোয়েন্দারা পার্থর কাছে জানতে চেয়েছিলেন উপদেষ্টা কমিটির ওপর কার নিয়ন্ত্রণ ছিল, কার নির্দেশে নিয়োগ হয়েছিল। এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় এদিন ফের পার্থকে তলব করে সিবিআই। এর পাশাপাশি পার্থ এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর আয়কর সংক্রান্ত তথ্যও চেয়েছে সিবিআই।

    আরও পড়ুন : নথি নষ্টের আশঙ্কায় “সিল” এসএসসি দফতর, নিরাপত্তায় সিআরপিএফ, মধ্যরাতে নির্দেশ হাইকোর্টের

    বুধবার সকালে বাড়িতে গিয়ে পার্থের সঙ্গে দেখা করেন তাঁর আইনজীবীরা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এর আগে যেদিন পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, এসএসসির উপদেষ্টা কমিটি গড়লেও, সেই কমিটির ওপর তাঁর কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তিনি কিছু জানতেন না বলেই দাবি করেছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।

    এদিকে, আয়কর দফতরে চিঠি দিয়ে গোয়েন্দারা পার্থ ও পরেশের গত পাঁচ বছরের আয়কর সংক্রান্ত নথি চেয়েছেন। কী কী সম্পত্তির ভিত্তিতে তাঁরা আয়কর দিয়েছেন, প্যান কার্ডের সঙ্গে কী কী সম্পত্তির হিসেব যুক্ত রয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্যও আয়কর দফতরের কাছে চাওয়া হয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, আয়কর দফতর থেকে পাওয়া নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে মন্ত্রীদের দেওয়া নথি। পার্থ এবং পরেশের আত্মীয়দের সম্পত্তি সংক্রান্ত নথিপত্রও চাওয়া হয়েছে।

    আরও পড়ুন : “সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে কোনও ভুল নেই”, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বহাল সিবিআই তদন্ত

    অন্যদিকে, এসএসসি দুর্নীতি মামলায় শীর্ষ আদালতে এখনই হচ্ছে না পার্থর আবেদনের শুনানি। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পার্থ। কিন্তু তাঁর আবদেন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায়, তা ত্রুটিমুক্ত করতে বলা হয়েছে।

    কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ পার্থকে সিবিআই দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আবেদন করেন ডিভিশন বেঞ্চে। পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে সেই মামলা গৃহীত হয়নি। সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল ডিভিশন বেঞ্চ। তার পরেই সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন পার্থ।

     

  • Cossipore BJP Leader Death: বিজেপি যুব নেতার রহস্যমৃত্যু, রণক্ষেত্র কাশীপুর, সিবিআই চাইলেন অমিত শাহ

    Cossipore BJP Leader Death: বিজেপি যুব নেতার রহস্যমৃত্যু, রণক্ষেত্র কাশীপুর, সিবিআই চাইলেন অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  দুদিনের সফরে রাজ্যে এসেছেন অমিত শাহ। আর তাঁর সফরের মধ্যেই খাস কলকাতায় বিজেপি যুব মোর্চা কর্মীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে ধুন্ধুমার বেঁধে গেল কাশীপুরে। মৃত্যুর রহস্যভেদে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছে পরিবার। একইভাবে দলের যুব নেতাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি তুলে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের পক্ষে সওয়াল করলেন খোদ অমিত শাহ।

    শুক্রবার সকালে কাশীপুরে রেল কোয়ার্টারের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ২৬ বছরের অর্জুন চৌরাসিয়ার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বেতন পেয়ে ঘরে ফেরেন অর্জুন চৌরাসিয়া। পরে বাইরে বের হন। কিন্তু মাঝরাত পর্যন্ত ফেরেননি। বারবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।

    মৃতের পরিবারের অভিযোগ, রাতে থানায় গিয়ে অর্জুনের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানালেও গা করেনি পুলিশ। শুক্রবার সকালে মৃতদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে চিৎপুর থানার পুলিশ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিত্যক্ত ঘরেই পড়ে ছিল দেহ। মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পথে আটকায় সাধারণ মানুষ। পুলিসের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় তাঁদের। ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ। দফায় দফায় এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিসের বচসা হয়। 

    পরিবারের অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের সময় থেকেই তৃণমূল হুমকি দিচ্ছিল অর্জুনকে। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই অর্জুনকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়ে গিয়েছে। একই দাবি বিজেপিরও। কাউন্সিলার সজল ঘোষ ও উত্তর কলকাতার বিজেপি সভাপতি কল্যাণ চৌবে কথা বলছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

    বিজেপি সূত্রে খবর, অর্জুন কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিজেপি যুব মোর্চার মণ্ডল সহ-সভাপতি ছিলেন। কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনায় ট্যুইটে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, “অর্জুন চৌরাসিয়াকে খুন করেছে তৃণমূল। খুন করে তাঁকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিজিৎ সরকারের পর আরও এক কর্মী খুন। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করুক।”

    পরিবারের দাবি ছিল, অমিত শাহ না আসা পর্যন্ত দেহ ছুঁতে দেওয়া হবে না পুলিশকে।  ইতিমধ্যেই ওই এলাকা সিল করে দিয়েছে চিৎপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ঘটনাস্থলে কলকাতার পুলিশের ডিসি সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। তাঁদের ঘিরেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এলাকার মানুষ। অবশেষে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর, অমিত শাহ পৌঁছনোর আগেই মৃতদেহ নিয়ে যায় পুলিশ।

    অমিত শাহকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল দলের তরফে। কাশীপুরের ঘটনার জেরে বাতিল করে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর বিজেপির কর্মসূচি। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই সোজা কাশীপুর যান অমিত শাহ। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রমুখ। অর্জুনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরে শাহ বলেন, ‘‘এই হত্যাকাণ্ডের সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর দফতরও যে এই ঘটনায় পদক্ষেপ করছে তা বুঝিয়ে শাহ বলেন, ‘‘আজই রাজ্য সরকারের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রিপোর্ট তলব করছে। এই ঘটনায় দোষীদের সবাইকে কঠোর শাস্তি সুনিশ্চিত করব।’’

    সব মিলিয়ে কাশীপুরের যুবকের মৃত্যু ঘিরে সরগরম হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি।

  • Paresh Adhikary: নির্ধারিত সময়ে সিবিআই হাজিরা দিলেন না, কলকাতা রওনা দিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ

    Paresh Adhikary: নির্ধারিত সময়ে সিবিআই হাজিরা দিলেন না, কলকাতা রওনা দিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষক নিয়োগ মামলায় মুখ পুড়ল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (School Service Commission)। রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারীর (Paresh Adhikary) মেয়ের চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার সিবিআই তদন্তের (CBI probe) নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। পরেশকে সিবিআইয়ের সামনে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, তাঁকে মন্ত্রী পদ সরানোর জন্য রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar) এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা (Mamata) বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালত অনুরোধ করেছে। একইসঙ্গে তদন্তের খাতিরে মামলার সঙ্গে জড়িত যে কোনও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের স্বাধীনতা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। 

    রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Teacher Recruitment) মামলায় বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে বেআইনিভাবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে অঙ্কিতা মেখলিগঞ্জের ইন্দিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। মামলাকারীদের দাবি, পার্সোনালিটি টেস্টে না বসেও এবং মেধাতালিকায় নাম না থেকেও অঙ্কিতা চাকরি পেয়েছেন। 

    এই ঘটনায় মঙ্গলবার সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ।  এই অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার জেরেই পরেশকে সিবিআইয়ের সামনে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly) সিঙ্গল বেঞ্চ বলেছিল, মঙ্গলবার রাত আটটার মধ্যে নিজাম প্যালেসে (Nizam Palace) হাজিরা দিতে হবে পরেশ অধিকারীকে। 

    কিন্তু, সেই হাজিরা দেননি রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, এদিন আদালত যখন রায় দিচ্ছে, তখন মেখলিগঞ্জে ছিলেন পরেশ। সূত্রের খবর, নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তিনি মেয়ে অঙ্কিতাকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। ফলে, ৮টার মধ্যে তিনি যে কলকাতায় হাজির হচ্ছেন না, তা একপ্রকার নিশ্চিত ছিল। 
    তবে, এদিনই জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন থেকে রাত পৌনে ৮টার পদাতিক এক্সপ্রেসে চড়ে রওনা হন কলকাতার উদ্দেশে। 

    তার আগে, আদালতের রায় নিয়ে পরেশকে প্রশ্ন করা হলে, রায় সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। পরেশ বলেন, ‘‘এ প্রসঙ্গে আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা হয়নি। যে হেতু কোর্টের বিষয়, তাই এ প্রসঙ্গে কোনও উত্তর দিতে পারছি না। কোর্টের কাগজপত্র না দেখে কিছু বলতে পারছি না। যা কিছু বলা হচ্ছে, সে তো একতরফা ভাবে বলা হচ্ছে। কোর্টের কাগজ হাতে পাওয়ার পরে নিশ্চয়ই জবাব দেব।’’

    এদিকে, নিজাম প্যালেস সূত্রে খবর, মঙ্গলবার পরেশকে ফোন করা হলেও সে সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর ফোন বন্ধ করা ছিল বলে দাবি। এর পর সিবিআই আধিকারিকরা মন্ত্রীকে মেসেজ করেন। তাতে জানতে চাওয়া হয়, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মতো তিনি কখন কলকাতায় সিবিআই দফতরে আসছেন? ওই সূত্র মারফত খবর, পরেশের জন্য রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন সিবিআই আধিকারিকেরা।

    পরেশ অধিকারীর মেয়ের স্কুল শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জালিয়াতির মামলা কোন দিকে এগোয়, এখন দেখার সেটাই।

  • Partha Chatterjee: হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট, রক্ষাকবচের জন্য ছুটছেন মন্ত্রী পার্থ, কিন্তু পাবেন কি?

    Partha Chatterjee: হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট, রক্ষাকবচের জন্য ছুটছেন মন্ত্রী পার্থ, কিন্তু পাবেন কি?

    মাধ্য়ম নিউজ ডেস্ক: সিবিআই হাজিরা থেকে ‘রক্ষাকবচ’ পেতে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। একইভাবে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চেও তিনি আবেদন করেছেন বর্তমান শিল্পমন্ত্রী। ফলে, আজ শুক্রবার, দুই আদালতে জোড়া শুনানির সম্ভাবনা। 

    এসএসসি দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম উপরে উঠে আসে। নিয়োগ সংক্রান্ত যে উপদেষ্টা কমিটি গঠনের অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সেটিও সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল৷ এই প্রেক্ষিতে, তাঁকে সিবিআই অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

    আরও পড়ুন: নিজাম প্যালেসে সাড়ে তিন-ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে

    সিবিআই-এর হাজিরা এড়ানোর জন্য পার্থবাবু বুধবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও রবীন্দ্রনাথ সামন্তর ডিভিশন বেঞ্চ কোনও নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি। পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে সেই মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। পাশাপাশি, সিঙ্গল বেঞ্চের কাছে এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতি মামলা ফিরিয়ে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। যার জেরে, সেদিন সন্ধ্যায় নিজাম প্যালেসে হাজিরা দিতে হয় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে। সেখানে তাঁকে প্রায় সাড়ে তিন-ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

    সূত্রের খবর, বর্তমানে উপদেষ্টা কমিটির  সঙ্গে তাঁর বক্তব্য মিলিয়ে দেখছে সিবিআই। পার্থ বিলক্ষণ জানেন, এক্ষেত্রে কোনও রকম অসঙ্গতি দেখা দিলে তাঁকে পুনরায় সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হতে পারে। ঘন ঘন ডাকা হতে পারে তাঁকে ৷ এমনকী প্রয়োজন পড়লে তৃণমূল মহাসচিবকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই ৷ সব মিলিয়ে চরম বিপাকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৷ কড়া ব্যবস্থার হাত থেকে বাঁচতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মন্ত্রী।

    আরও পড়ুন: “কান টানলেই মাথা আসবে…”, কার দিকে ইঙ্গিত শুভেন্দুর?

    বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক ডিভিশন বেঞ্চে দ্রুত শুনানির আবেদন করেন পার্থ। কিন্তু, সিবিআই দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে করা তাঁর আবেদন শোনেনি কোনও বেঞ্চই৷ ব্যক্তিগত কারণে এই মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে নেয় বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও রবীন্দ্রনাথ সামন্তের ডিভিশন বেঞ্চ।

    সেই শুরু। মামলাটি ফেরত যায় প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের কাছে। তিনি মামলাটি পাঠিয়ে দেন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চে। সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি গ্রহণ করে। সেখানে পার্থর আইনজীবীর তরফে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করা হলে, বিচারপতি সুব্রত তালুকদার সাফ জানান, কোনওভাবেই বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি সম্ভব নয়। তিনি জানান, শুক্রবার মামলাটি শুনতে পারেন। আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির পরামর্শ আগামীকাল (অর্থাৎ শুক্রবার) চেষ্টা করুন। 

    আরও পড়ুন: নথি নষ্টের আশঙ্কায় “সিল” এসএসসি দফতর, নিরাপত্তায় সিআরপিএফ, মধ্যরাতে নির্দেশ হাইকোর্টের

    এদিকে, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছেন মন্ত্রী৷ বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে তিনি স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তিনি আবেদন করেছেন যে, স্কুল সার্ভিস কমিশন দুর্নীতি মামলায় তাঁকে কখনোই ‘পক্ষ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। কিন্তু বর্তমানে সিবিআই অফিসে যেতে হচ্ছে তাঁকে। 

    এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তৃণমূল নেতা। ফলে আগামীদিনে সেই পদক্ষেপের হাত থেকে বাঁচার জন্য এদিন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানালেন পার্থ। তাঁর সেই আবেদন গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাটির শুনানি হতে পারে। ফলে আজ পার্থর এই জোড়া আবেদনের ফল কী হয় সেদিকেই দৃষ্টি থাকবে সকলের৷

     

  • TMC Syndicate War: সবার উপরে সিন্ডিকেট সত্য, তাহার উপরে নাই!

    TMC Syndicate War: সবার উপরে সিন্ডিকেট সত্য, তাহার উপরে নাই!

    তৃণমূল জমানায় পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেট রাজের বাড়বাড়ন্ত নতুন কথা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শাসক দলের বদান্যতায় রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ কার্যত ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। শহর হোক বা গ্রামাঞ্চল– সর্বত্রই সিন্ডিকেট বিরাজমান। কিন্তু, সাম্প্রতিককালে, সিন্ডিকেটের এই নির্লজ্জ ও খুল্লমখুল্লা আস্ফালন যেভাবে দিকে দিকে প্রতিফলিত হয়েছে বা হচ্ছে, তা সম্ভবত কোনওদিন এরাজ্যে হয়নি।

    গত ডিসেম্বরে বিপুল সংখ্যা নিয়ে কলকাতা পুরভোটে জয়ী হয় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। অথচ, তার পাঁচ মাসের মধ্যেই, পুরসভার ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে শুরু হয়ে গিয়েছে সিন্ডিকেট-দৌরাত্ম্য। বেহালা হোক বা লেক গার্ডেন্স কিংবা বাঁশদ্রোণী– দিকে দিকে সিন্ডিকেটের এই গ্যাং-ওয়ার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থা। 

    বিগত কয়েকদিনের মধ্যেই কলকাতার একাধিক এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা সামনে এসেছে। গত বৃস্পতিবার বেহালাতে চড়ক মেলার দখলদারি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনায় জখম হয় বেশ কয়েকজন।
    অন্যদিকে, সোমবারই লেক গার্ডেন্সেও এমনই বখরার ভাগ নিয়ে গন্ডগোল বাধে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। ঘটনাচক্রে, গন্ডগোলটি ঘটে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের বাড়ির সামনেই। এটাই শেষ নয়। সম্প্রতি, বাঁশদ্রোণীতেও দেখা গিয়েছে একই ছবি। সিন্ডিকেটের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ভরদুপুরে কলকাতার রাস্তায় প্রকাশ্যে চলে গুলি। সেই গুলির আঘাতে জখম হন দুই ব্যক্তি। যার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। 

    সিন্ডিকেটের এই দৌরাত্ম্য কতটা বেড়েছে, তার প্রমাণ বঙ্গবাসী হাতে গরমে পেয়েছে চলতি সপ্তাহে, যেখন সিন্ডিকেট-দুষ্কৃতীদের দুই গোষ্ঠীর গুলির লড়াইয়ে অতিষ্ট হয়ে বাধ্য হয়ে পুলিশকে ফোন করতে হচ্ছে শাসক দলেরই সাংসদকে! তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় থাকেন লেক গার্ডেন্সে। তাঁর বাড়ির পাশেরই সিন্ডিকেটের বিবাদে ধুন্ধুমারকাণ্ড বেঁধে যায় গোটা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর সিন্ডিকেট কার হাতে থাকবে এই নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয় পরস্পর গোষ্ঠীকে। ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত হন ৭ জন। গন্ডগোলের আওয়াজ শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি ফোন করেন লেক থানায়।

    শাসক শিবির যতই বিষয়টিকে “ছোট বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করুক না কেন, সিন্ডিকেট নিয়ে দলের সাংসদের মন্তব্যেই স্পষ্ট, সমস্যা কোন পর্যায়ে গিয়েছে। প্রবীণ এই নেতাকে বলতে শোনা যায়, “এখানে ৬০ বছর আছি। নকশাল আমল দেখেছি। কোনওদিন এরকম ঘটনা দেখিনি। রেল কলোনির আন্দোলন করেছি। লেকগার্ডেন্স এরকম কোনও ঘটনা কখনও ঘটেনি।” ঘটনায় যথেষ্টই ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত সাংসদ সৌগত রায়৷ সংবাদমাধ্যমের সামনে সিন্ডিকেট নিয়ে গন্ডগোলের কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন তিনি৷  

    শাসক শিবির যাই দাবি করুক না কেন, সিন্ডিকেট রোগ তৃণমূলের আজকের নয়। এটা দীর্ঘদিন ধরেই শাসক দলের শীর্ষস্তরের বদান্যতায় ভেতরে-ভেতরে শক্তিবৃদ্ধি করেছে। একটা সময়ে সিন্ডিকেটের বাড়বাড়ন্ত এবং গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে বার বার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল রাজারহাট এবং নিউটাউনের নাম। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল। রাজারহাট – নিউটাউন এলাকায় সিন্ডিকেট ব্যবসা নিয়ে শাসকদলের দুই দু গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই থাকত। সেখানে বিল্ডারদের নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের জন্য এই ‘সিন্ডিকেটগুলির’ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টিএমসি সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং দলের বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের মধ্যে শত্রুতা বাংলায় সুপরিচিত ছিল।

    এখন, রাজারহাট-নিউটাউনের সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্য থাকলেও, কিছুটা নিষ্প্রভ। কিন্তু, শহরের অন্য প্রান্তে তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ফলে, সিন্ডিকেটের এই রোগ — তা সে ভাইরাসই হোক বা ব্যাক্টেরিয়া কিংবা ছত্রাক– শাসক দলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে। বদল হচ্ছে তো শুধু আক্রান্ত এলাকার নাম। 

     

  • Suvendu Adhikari: “কান টানলেই মাথা আসবে…”, কার দিকে ইঙ্গিত শুভেন্দুর?

    Suvendu Adhikari: “কান টানলেই মাথা আসবে…”, কার দিকে ইঙ্গিত শুভেন্দুর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (School Service Commission) শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকে (Teachers Recruitment scam) স্বাধীনতার পর দেশের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হিসেবে উল্লেখ করে রাজ্য সরকারের (Mamata govt) তীব্র সমালোচনা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু (Suvendu) অধিকারী।

    বুধবার এসএসসি দুর্নীতি (SSC scam) মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) ডেকে পাঠায় সিবিআই। এই প্রেক্ষিতে রাজভবনের সামনে থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন নন্দীগ্রামের বিজেপি (BJP) বিধায়ক।  তিনি বলেন, কত বড় দুর্নীতি হয়েছে, তা দিনের আলোর মতো এখন পরিস্কার। দুর্নীতির মূলে আছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কার সুপারিশে পার্থ চট্টোপাধ্যায় হাজার হাজার প্রার্থীকে চাকরি দিয়েছেন, তা এবার তাঁকে জানাতে হবে। 

    আরও পড়ুন: নিজাম প্যালেসে সাড়ে তিন-ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে

    এদিন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর (Paresh Adhikary) মেয়ের বেআইনি নিয়োগ নিয়ে তোপ দাগেন শুভেন্দু। জানান, মেয়ের চাকরি-সহ তিন শর্তে ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন পরেশ অধিকারী। বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘পরেশ অধিকারী যোগদানের সময়ে তিনটি শর্ত রেখেছিলেন। প্রথম, সমস্ত নিয়ম ভেঙে তাঁর মেয়েকে চাকরি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁকে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করতে হবে। তৃতীয়ত, চ্যাংড়াবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান করতে হচ্ছে তাঁকে।’’

    শুভেন্দুর মতে, কোনও আদর্শগত কারণে তিনি তৃণমূলে যোগ দেননি। দেওয়া-নেওয়ার শর্তের ভিত্তিতে তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়া। তাঁর আরও দাবি, ‘‘বিনিময়ের ভিত্তিতে পরেশের এই যোগদান তৃণমূলনেত্রীর নির্দেশ ছাড়া হয়নি। নিয়মের বাইরে গিয়ে পরেশের মেয়েকে নিয়োগ মমতা (Mamata) বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হয়েছে। সেতুবন্ধনের কাজটি করেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।’’

    আরও পড়ুন: কলকাতা না এসে মেয়েকে নিয়ে নামলেন বর্ধমান স্টেশনে, হাইকোর্টে ফের ধাক্কা খেলেন মন্ত্রী পরেশ অধিকারী

     

LinkedIn
Share