Tag: lashkar-e-taiba

lashkar-e-taiba

  • Poonch Landmine Blast: ভারতে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল? পুঞ্চে বিস্ফোরণে মৃত্যু লস্কর কমান্ডার-সহ ৪ পাকিস্তানি জঙ্গির

    Poonch Landmine Blast: ভারতে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল? পুঞ্চে বিস্ফোরণে মৃত্যু লস্কর কমান্ডার-সহ ৪ পাকিস্তানি জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মৃত্যু হল চার পাকিস্তানি জঙ্গির। নিহতদের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার এক শীর্ষ কমান্ডার বলে জানা গিয়েছে। সোমবার কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরের সাতওয়াল-নাকি এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের দিক থেকে একদল সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে বাহিনী।

    কারা নিহত? সামনে লস্কর কমান্ডারের নাম

    প্রাথমিক সূত্রে নিহত চারজনকে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের (PoJK) পুঞ্চ জেলার হাজিরা তেহসিলের মান্ডলা, মদরপুর এলাকার বাসিন্দা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নাম মহম্মদ ইশতিয়াক, মহম্মদ ফয়জান, মহম্মদ ওয়াকাস এবং মহম্মদ আসিম। নিহতদের মধ্যে মহম্মদ ফয়জান লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার বলে দাবি করা হয়েছে। সোমবার নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের পরই ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা মহলে তৎপরতা শুরু হয়।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ সাতওয়াল-নাকি এলাকা?

    পুঞ্চের কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরের সাতওয়াল-নাকি এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতীতেও এই রুট ব্যবহার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রে দাবি। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি সেনাবাহিনীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    নিয়ন্ত্রণরেখার এই অংশে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল এবং দুর্গম পথ নজরদারির ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই ধরনের ভূপ্রকৃতি কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, একটি ভিডিও ফুটেজে (সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম) কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাঠানি পোশাক পরা অবস্থায় জঙ্গলের মধ্যে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের কাছে পিস্তল ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তারা আইইডি পুঁতে রাখার চেষ্টা করছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফুটেজের সত্যতা, সময় এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাধীন ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    বিস্ফোরণের পর দেহ নিয়ে যাওয়ার দাবি

    বিস্ফোরণের পর পাকিস্তানি সেনার সদস্যরা নিহত সন্দেহভাজনদের দেহ সংগ্রহ করে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে নিয়ে গিয়েছেন বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাক সেনার ৬৬ ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতেও এই অঞ্চলে পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম (BAT)-এর ছয় থেকে সাতজন সদস্য একই ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বর্তমান বিস্ফোরণের সঙ্গে অতীতের সেই ঘটনার প্রকৃতি ও পরিস্থিতির মিল কতটা, তা স্পষ্ট নয়।

    নিয়ন্ত্রণরেখায় কেন গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমাইন?

    নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সামনের দিকের বিভিন্ন এলাকায় ল্যান্ডমাইন বসানো থাকে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথগুলিতে সন্দেহভাজনদের চলাচল বাধাগ্রস্ত করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে ল্যান্ডমাইন সব সময় নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির থাকে না। ভারী বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে গেলে বা ভূমিক্ষয় ঘটলে কিছু মাইন মূল অবস্থান থেকে সরে গিয়ে অন্যত্র চলে আসতে পারে। ফলে যেখানে আগে বিস্ফোরক থাকার কথা ছিল না, সেখানেও বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

    নিরাপত্তা বাড়াল বাহিনী, নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণরেখা

    বিস্ফোরণের পর সংশ্লিষ্ট সেক্টরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখছে নিরাপত্তাবাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ দমন এবং অনুপ্রবেশ রুখতে তল্লাশি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানও চালানো হচ্ছে।

    পুঞ্চের ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনছে। প্রথমত, পরিচিত অনুপ্রবেশের রুটগুলিতে নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি। দ্বিতীয়ত, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকা ল্যান্ডমাইনও ভারী বৃষ্টি ও ভূমিক্ষয়ের কারণে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    মেন্ধরেও উদ্ধার দুটি পুরনো ল্যান্ডমাইন

    পুঞ্চের ঘটনাটির পাশাপাশি সোমবার মেন্ধর সেক্টরের বাসোনি এলাকায় সীমান্তের বেড়ার কাছে আরও দুটি পুরনো ল্যান্ডমাইন শনাক্ত করেন ভারতীয় সেনার জওয়ানরা। সূত্রের খবর, রাস্তা বা চলাচলের পথ নির্মাণের কাজ চলাকালীন সকাল ৮টা ২৫ মিনিট এবং দুপুর ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ বিস্ফোরক দুটি নজরে আসে।

    এরপর সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করেন। এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় পুরনো বিস্ফোরক থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকির বিষয়টি।

    বিশেষ করে বর্ষার সময়ে ভারী বৃষ্টিতে মাটি সরে যাওয়া, ভূমিক্ষয় এবং জলস্রোতের কারণে ল্যান্ডমাইন স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্মাণকাজ, টহলদারি এবং নজরদারির সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

  • Budgam Encounter: বডগামে এনকাউন্টারে খতম দীর্ঘদিনের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ শীর্ষ লস্কর কমান্ডার ‘মুসা’

    Budgam Encounter: বডগামে এনকাউন্টারে খতম দীর্ঘদিনের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ শীর্ষ লস্কর কমান্ডার ‘মুসা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে বড়সড় সাফল্য নিরাপত্তাবাহিনীর। বডগাম জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকায় এনকাউন্টারে খতম হল লস্কর-ই-তৈবার (LeT) এক শীর্ষস্তরের জঙ্গি কমান্ডার। নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, নিহত জঙ্গির নাম সুলেমান শাহ, ওরফে ‘মুসা’। তাকে ‘আসিফ ফৌজি’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন রিপোর্টে। একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার যোগ ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে তার খোঁজ চালাচ্ছিল নিরাপত্তাবাহিনী।

    তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভারতীয় সেনার চিনার কর্পস তাদের প্রাথমিক বিবৃতিতে নিহত জঙ্গির পরিচয় প্রকাশ করেনি। সেনা জানিয়েছে, বডগামের ইউসমার্গের কোরাগ এলাকায় নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানের সময় সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে এবং জঙ্গিদের চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা গুলি চালায়। পাল্টা গুলির লড়াইয়ে এক জঙ্গি খতম হয়।

    কোরাগ থেকে দুধপাথরি—কীভাবে শুরু হল অভিযান?

    মঙ্গলবার ইউসমার্গের উঁচু এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পাওয়ার পর অভিযান শুরু করে নিরাপত্তাবাহিনী। ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ দল এলাকায় তল্লাশি চালায়। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, কোরাগ এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে জওয়ানরা এগিয়ে গেলে জঙ্গিরা গুলি চালায়। এরপরই শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এনকাউন্টারের সময় বডগামের প্রত্যন্ত দুধপাথরি জঙ্গল এলাকায় সুলেমান শাহ ওরফে মুসা নিহত হয়। অভিযান শেষ হওয়ার পরও এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়, কারণ আরও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল বাহিনী।

    সেপ্টেম্বরের গোড়াতেও হয়েছিল অভিযান, পালিয়ে গিয়েছিল মুসা

    মুসাকে ঘিরে নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতা অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসের গোড়ায় ইউসমার্গের পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানে মুসা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসির নিহত হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এরপর থেকেই মুসা-সহ তার সহযোগীদের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল বলে আধিকারিকদের দাবি।

    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসির এবং মুসা দু’জনেই পির পঞ্জাল পর্বতশ্রেণির দুর্গম জঙ্গলে সক্রিয় ছিল। নিরাপত্তাবাহিনীর চাপ বাড়ার পর তারা ইউসমার্গের দিকে সরে গিয়েছিল বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। ইয়াসির নিহত হওয়ার পর মুসাকে খুঁজে বের করার অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

    পির পঞ্জালের দুই দিকেই হামলার অভিযোগ

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, সুলেমান শাহ ওরফে মুসা শুধু বডগাম বা কাশ্মীর উপত্যকার কোনও একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। পির পঞ্জাল পর্বতশ্রেণির দুই দিকেই একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার যোগ ছিল বলে অভিযোগ।

    ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পুঞ্চ-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলায় তার সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল বলে আধিকারিকদের দাবি। ওই হামলাগুলিতে একাধিক সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছিলেন।

    এছাড়াও নিরাপত্তা সূত্রগুলি মুসার নাম ২০২৩ সালের ডেরা কি গলি হামলা, ২০২৪ সালের গান্ডেরবাল টানেল হামলা এবং ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত করেছে। তবে এই হামলাগুলিতে তার নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে সীমিত রয়েছে।

    পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ

    বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, মুসা ছিল পাকিস্তানি লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এক সক্রিয় অপারেটিভ। দুর্গম জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার সক্রিয়তার কারণে তাকে ধরতে নিরাপত্তাবাহিনীকে একাধিক অভিযান চালাতে হয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

    তার মৃত্যুতে জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় লস্কর নেটওয়ার্কের উপর কী প্রভাব পড়ে, তা এখন নজরে রাখার বিষয়। বিশেষ করে পির পঞ্জাল সংলগ্ন জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকাগুলিতে মুসার সহযোগীদের গতিবিধি এবং কোনও নতুন অনুপ্রবেশ বা স্লিপার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে নিরাপত্তা মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    অভিযান এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে

    মুসা নিহত হলেও অভিযানকে শুধুমাত্র একজন জঙ্গির মৃত্যুতেই সীমাবদ্ধ রাখছে না নিরাপত্তাবাহিনী। এনকাউন্টারের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। দুর্গম জঙ্গল এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডে আরও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, অস্ত্র বা গোলাবারুদ মজুত রয়েছে কি না—সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, ইউসমার্গ-কোরাগ-দুধপাথরি অঞ্চলে ধারাবাহিক অভিযানের পর লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত এক জঙ্গির মৃত্যু ঘটল। সেপ্টেম্বরের গোড়ায় ইয়াসিরের মৃত্যুর পর এবার মুসারও মৃত্যু হওয়ায় পির পঞ্জাল অঞ্চলে সক্রিয় ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর পরবর্তী গতিবিধির উপর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হওয়া পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ফের গড়ে তোলা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা একাধিক এক্সক্লুসিভ ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে ওই ঘাঁটিগুলিতে নতুন করে নির্মাণকাজের চিহ্ন। নতুন ইট ও নতুন দেওয়াল দিয়ে ফের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সংবাদ প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় ভারতের হামলায় বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা এবং মুজফফরাবাদে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল। এবার সেখানেই নতুন করে নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে।

    লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের ছবি (Operation Sindoor)

    প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রথম ভিডিয়োটি লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের বলে দাবি করা হয়েছে। এই শিবিরটি জঙ্গিদের থাকার জন্য ব্যবহৃত (POK) হত। অপারেশন সিঁদুরের সময় শিবিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সেখানেই ফের শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।

    দ্বিতীয় যে ছবি সামনে এসেছে, সেটি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদের সাইদা বিলাল শিবিরের। এই ঘাঁটিটি জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম কেন্দ্র। অপারেশন সিঁদুরের সময় এখানেও হামলা চালানো হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। এখন সেখানেও নতুন ইট দিয়ে নতুন করে দেওয়াল নির্মাণের ছবি দেখা যাচ্ছে।

    ধ্বংস হওয়া ঘাঁটি ফের গড়ে তোলার চেষ্টা?

    প্রতিরক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টেও ওই জঙ্গিঘাঁটিগুলির উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে এই জঙ্গি পরিকাঠামোগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল।

    তবে নতুন করে নির্মাণের ছবি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের মাটিতে ফের জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে কি না। নতুন দেওয়াল এবং ইটের কাঠামো সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    ‘অপারেশন সিঁদুরে ভারতের অবস্থানে বড় পরিবর্তন’

    গত মাসে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে বলেছিলেন, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযানে শুধু সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করা হয়নি, প্রতিবেশী দেশের গভীরে থাকা জঙ্গিদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    অপারেশন সিঁদুর চালানো হয়েছিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর। নারাভানে বলেন, জঙ্গিদের যারা মদত দেয়, তারা দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, ভারতীয় পদক্ষেপ থেকে তাদেরও রেহাই নেই—এই বার্তাই ওই অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর আগে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। উরি এবং পুলওয়ামার হামলার পরের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নারাভানে বলেন, “এর আগে যখনই এই ধরনের হামলা হয়েছে—উরির পর কিংবা পুলওয়ামার পর বালাকোটে হামলার সময়—আমরা মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকেই টার্গেট করতাম।”

    সির ক্রিকে পাকিস্তানের তৎপরতা নিয়েও মন্তব্য

    সির ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং তথাকথিত ‘অপারেশন আবাবিল’ চালানোর খবর নিয়েও প্রশ্ন করা (Operation Sindoor) হয়েছিল প্রাক্তন সেনাপ্রধানকে। নারাভানে জানান, এই ধরনের কার্যকলাপ হয়ে থাকে। তবে ওই অভিযান সম্পর্কে তাঁর কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও বার্তা নারাভানের

    ভারত-চিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে নারাভানে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাম্প্রতিক বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘদিনের (POK) সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।

    তিনি জানান, এটি দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার আলোচনা। অর্থাৎ এই বৈঠক প্রথমবারের ঘটনা নয়। তাঁর মতে, এই (Operation Sindoor) আলোচনার ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি—ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।

     

  • Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে আসছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit) জীবনে! সেই সময় হুমকি-বার্তা আসত দেওয়ালে টাঙানো তালিকা কিংবা ছাপা কাগজের মাধ্যমে (Jammu Kashmir)। এখন সেসবই আসছে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে। কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে লক্ষ্য করে নতুন করে হুমকি জারি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য পর্যন্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বক্তব্য (Kashmiri Pandit)

    মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত, যাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও শ্রীনগরে রয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও এটাই ছিল তাদের কাজের ধরন। শুধু তখন ইন্টারনেট ছিল না। তালিকা টাইপ করে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হত।”

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অভিযোগ, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) এর নামে জারি করা একাধিক হুমকিপত্রের জেরে উপত্যকায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ হুমকিতে সরকারি চাকরিতে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে প্রাণঘাতী পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন সংগঠন এবং উপত্যকায় পরিবারের সদস্যদের রেখে মুম্বই ও দিল্লিতে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া কাশ্মীরি সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে উপত্যকায় এখনও পরিবারের সদস্য রয়েছেন এমন একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইনজীবী, যাঁর পরিবারের সদস্যরা জম্মুতে থাকেন, বলেন, “আমার পরিবার সরকারি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। এবার হুমকির লক্ষ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা নিরাপদ। উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি এখন যথেষ্ট সাধারণ হয়ে উঠেছে।”

    বিপুল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

    ৭ সেপ্টেম্বর সমাজের পক্ষের এক কণ্ঠস্বর সাবা কৌল সোশ্যল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে “বিরাট এবং উদ্বেগজনক নিরাপত্তা সংকট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএলসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য অনলাইনে ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    কৌল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের দফতরের কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন (Jammu Kashmir)।

    শ্রীনগরভিত্তিক এক প্রবীণ সাংবাদিকও জানিয়েছেন, হুমকিপত্রগুলি প্রথমে গোপন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো বার্তাবাহক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উপত্যকায় থাকা কর্মীদের পাশাপাশি জম্মু এবং দেশের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    এক মাসে পঞ্চম হুমকি

    ১ সেপ্টেম্বর ইউএলসির নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসে। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পরে প্রশাসন অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

    এর আগে ৭ অগাস্টের একটি হুমকিপত্রেও কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার, অবস্থান এবং কর্মস্থলের বিবরণ সংগঠনের হাতে রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কর্মীরা জম্মুতে চলে গেলেও তাঁদের নিশানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও সমাজকর্মী রাকেশ হান্ডুর দাবি, প্রায় ৬ হাজার প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রীনগরের জেওয়ান, অনন্তনাগের মাট্টান এবং ভীরিনাগে মোট ৬ হাজার ৪২টি আবাসন নির্মাণ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র প্রায় ৮০০টি আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে।

    হান্ডু অবিলম্বে বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসন ও ভাড়াবাড়ির নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং “ফিরে আসা ও পুনর্বাসনের অধিকার” নিশ্চিত করার জন্য একটি নীতির দাবিও তুলেছেন। তাঁর মতে, সেই নীতিতে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি জমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে (Kashmiri Pandit)।

    আবাসন নিয়েও প্রশ্ন

    ৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি বার্তায় হান্ডু কুলগামের চৌগাম সড়কের নওয়া এলাকায় সংখ্যালঘু প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ কর্মীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী আবাসনের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু আবাসন বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কোথাও সঠিক রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কোথাও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ঘেরাও নেই।

    কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে এই বাস্তবতার তুলনা করে হান্ডু প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিকতা কার জন্য?” তাঁর যুক্তি, যে কর্মী হুমকিপত্র পেয়েছেন, তাঁর কাছে স্বাভাবিকতার অর্থ শুধু চাকরিতে থাকা নয়। তাঁর প্রয়োজন নিরাপদ ছাদ, সুরক্ষিত আবাসন এবং সম্পূর্ণ পরিকাঠামো।

    ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখার কাছে দেওয়া অভিযোগে হান্ডু ৫ সেপ্টেম্বরের হুমকিপত্রের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তাঁর দাবি, চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে তাঁদের নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে “তাদের মরদেহের ব্যাগ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে”—এমন ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (Jammu Kashmir) বলেও জানান তিনি।

    পুনর্বাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ৩ হাজার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে আরও ৩ হাজার সরকারি চাকরি অনুমোদন করা হয়। ফলে দুই প্রকল্প মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার।

    তবে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের হুমকিপত্র প্রকাশ্যে এলে শুধু উপত্যকায় কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, জম্মু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।

    অগাস্টের একটি হুমকিতে ছ’জন সরকারি কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হলেও, বাস্তবে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী পানুন কাশ্মীর ওই ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে নিরাপত্তা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক অগ্নিশেখর বলেন, হুমকির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত “গুরুতর উদ্বেগের” বিষয় (Kashmiri Pandit)।

    হুমকি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রবীণ হিন্দু আধিকারিকরা একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই হুমকি উপরাজ্যপাল-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয় তৈরি করে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার একটি “ষড়যন্ত্রের” অংশ হতে পারে।

    বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেছে। দলের জাতীয় গণমাধ্যমের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রতি “নরম মনোভাব” নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও নিরাপত্তা-সংকটকে খাটো করে দেখায়।

    অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা তাঁর বাবার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। অগাস্টে প্রথম হুমকি সামনে আসার পর তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং নতুন হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় হুমকির পরও ওমর জানান, হুমকির উৎস কোথায়, তা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ফিরছে নয়ের দশকের স্মৃতি?

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের গোড়ায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিস্তারের সময় লক্ষ্য করে হত্যা, হুমকি এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে সতর্কবার্তার পর বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে জম্মু এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন (Kashmiri Pandit)।

    সরকারি চাকরির মাধ্যমে তাঁদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ তারই অন্যতম অংশ। কিন্তু ২০২২ সালে চাদুরার তহসিল দফতরের ভিতরে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী রাহুল ভাটের হত্যাকাণ্ড এখনও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়াবহ স্মারক হয়ে রয়েছে।

    তাই বর্তমান হুমকিগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সাফল্য কি শুধু কতগুলি চাকরি দেওয়া হয়েছে বা কতগুলি বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁরা উপত্যকায় নিরাপদে বসবাস ও কাজ করতে পারছেন কি না?

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য প্রত্যাবর্তন তখনই অর্থবহ হবে (Jammu Kashmir), যখন চাকরি ও আবাসনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও ফিরবে। সাম্প্রতিক হুমকি সেই আস্থার জায়গাটিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বই কি! (Kashmiri Pandit)।

     

  • Lashkar Commander Killed: ইউসমার্গে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিকেশ লস্কর কমান্ডার ইয়াসির, খতিয়ে দেখা হচ্ছে জঙ্গি-যোগ

    Lashkar Commander Killed: ইউসমার্গে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিকেশ লস্কর কমান্ডার ইয়াসির, খতিয়ে দেখা হচ্ছে জঙ্গি-যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের বাডগাম জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম লস্কর-ই-তৈবার এক পাকিস্তানি কমান্ডার (Lashkar Commander Killed)। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের দাবি, নিহত জঙ্গির নাম ইয়াসির। শনিবার মধ্য কাশ্মীরের ইউসমার্গের দুর্গম উচ্চ পার্বত্য এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় এই সংঘর্ষের (Gunfight) ঘটনা ঘটে। সূত্রের খবর, এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর তল্লাশি অভিযান শুরু করে যৌথ নিরাপত্তাবাহিনী। অভিযানে স্পেশাল ফোর্সেস এবং ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সদস্যরা অংশ নেন। তল্লাশির সময় জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলির লড়াই শুরু হয়। সংঘর্ষেই ইয়াসিরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল ইয়াসির (Lashkar Commander Killed)

    নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইয়াসির লস্কর-ই-তৈবার সুলেমান মুসা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রায় এক বছর আগে সে ওই গোষ্ঠী থেকে আলাদা হয়ে যায়। এরপর নিজের মতো করে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল সে। কিছুদিন ধরে ইউসমার্গ এলাকায় তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা। গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ওই এলাকায় লস্করের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপারেটিভ হিসেবে ইয়াসিরের প্রভাব বাড়ে বলেও সূত্রের দাবি। ইউসমার্গের উঁচু এলাকায় তার উপস্থিতির খবর পেয়েই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানই শেষ পর্যন্ত গড়ায় এনকাউন্টারে। ইয়াসিরের মৃত্যুর পর এবার তার জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লস্কর-ই-তৈবার অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ কতটা ছিল, ওই অঞ্চলে সে কী ধরনের কার্যকলাপ চালাত এবং সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার কোনও ভূমিকা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই ইউসমার্গের এই অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে (Lashkar Commander Killed)।

    কে এই সুলেমান মুসা?

    সুলেমান মুসা, যিনি হাশিম মুসা নামেও পরিচিত, ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলার অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে পরিচিত ছিল (Gunfight)। হামলার কয়েক মাস পরে শ্রীনগরের দাচিগাম অরণ্য এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিকেশ হয় মুসা (Lashkar Commander Killed)।

     

  • Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ফের প্রকাশ্যে হুমকি দিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ইমরান লিয়াকত ভাট্টি। ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে কাসুরের একটি লস্কর শিবির থেকে দেওয়া বলে দাবি করা একটি ভিডিওতে ভাট্টিকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে। সেখানে সে দাবি করে, একদিন দিল্লিকে ‘কনে সাজানো হবে’ এবং ‘মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা উড়বে’। ভিডিও এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ভাট্টি শুধু দিল্লি ও মুম্বই নয়, কাশ্মীর, গুজরাট, হায়দরাবাদ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়েও বিতর্কিত ও আগ্রাসী মন্তব্য করে। তার বক্তব্যে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের ভূখণ্ড দখলের উগ্রপন্থী বয়ান তুলে ধরা হয়। এই ভিডিও আবারও প্রমাণ করল প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছে।

    কাসুরের লস্কর শিবির থেকেই হুমকি

    ঘটনার সময় ও স্থানকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিন ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি কাসুর শহর থেকে এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ভাট্টির বক্তব্যের সঙ্গে একটি লস্কর শিবিরের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে। ভাট্টি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে নিশানা করার অভিযোগ তোলে এবং আফগানিস্তানে ‘অবিশ্বাসীদের’ উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করে। এরপর দেশভাগের ইতিহাসকে সামনে এনে কাশ্মীর-সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বক্তব্য দেয় বলে অভিযোগ।

    মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা

    ভাট্টির বক্তব্যের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ ছিল দিল্লি ও মুম্বইকে ঘিরে তার মন্তব্য। হুমকির সুরে বলে, ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে’ এবং দাবি করে, মুম্বইয়ে একদিন পাকিস্তানের পতাকা উড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিল্লি ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র এবং মুম্বই দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ফলে এই দুই শহরকে নিশানা করে এমন বক্তব্যকে শুধু ভূখণ্ডগত দাবি নয়, ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচার হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, কোনও জঙ্গি নেতার প্রকাশ্য হুমকি নিজে থেকেই আসন্ন হামলার প্রমাণ নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সাধারণত প্রচার, নিয়োগের বার্তা, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হামলার হুমকির মধ্যে পার্থক্য করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে।

    লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে ভাট্টির যোগসূত্র

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইমরান লিয়াকত ভাট্টিকে লস্করের ক্যাডার এবং পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগের (PMML) দক্ষিণ পাঞ্জাবের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বাহাওয়ালপুরে একটি জনসভায় সে হাফিজ মহম্মদ সইদকে পিএমএমএল-এর প্রকৃত নেতা বলে দাবি করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বক্তব্যকে পিএমএমএল-এর সঙ্গে নিষিদ্ধ লস্কর নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্রের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের যোগাযোগের অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মতাদর্শ প্রচার, সমর্থক সংগঠিত করা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    মুম্বই হামলার ছায়া

    ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গেও সংগঠনটির নাম জড়িত। ওই হামলায় মুম্বইয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছিল। ফলে লস্কর ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে দিল্লি ও মুম্বই নিয়ে প্রকাশ্য হুমকি ফের নিরাপত্তা মহলের নজর কাড়ার মতো ঘটনা। বিশেষ করে যখন বক্তব্যের সঙ্গে কাশ্মীর, দেশভাগ এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বয়ান যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি লস্করের পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে জুলাই ২০২৬-এ বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টগুলিতে ভাট্টিকে কাসুরে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কাঠামোকেও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

    নজরে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি

    ভাট্টির বক্তব্যে ভারতের একাধিক অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ শহরকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। ফলে ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরে আসা স্বাভাবিক। ভিডিওর সঙ্গে সোশাল মিডিয়া পোস্টগুলিতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও ট্যাগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু ভাট্টির বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাকিস্তানের মাটিতে নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ব্যক্তিরা কীভাবে প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    পাকিস্তানের জঙ্গি-চ্যালেঞ্জ ফের সামনে

    ইমরান লিয়াকত ভাট্টির কথিত হুমকি পাকিস্তানে সক্রিয় ভারতবিরোধী উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কগুলির একটি বৃহত্তর চিত্র সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক চাপ, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়নের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তানভিত্তিক কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। দিল্লি ও মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানোর দাবি কিংবা কাশ্মীর ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চল ‘দখল’ বা ‘মুক্ত’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থী মতাদর্শ এবং সীমান্তপারের প্রচারের যে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক কাজ করে, তারই আরেকটি দিক সামনে এসেছে। তবে ভাট্টির বক্তব্যকে তাৎক্ষণিক হামলার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে না দেখে, উগ্রপন্থী প্রচার ও হুমকির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করাই নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে এখন মূল বিষয় হল—এই বক্তব্যের পিছনে কোনও বাস্তব অপারেশনাল পরিকল্পনা রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি কীভাবে কাজ করছে, তা খুঁজে দেখা।

  • Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় ফের লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেল্লাম (Kellam) গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিরা দুই পরিযায়ী শ্রমিককে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত দু’জনই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ছদ্ম সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

    কী ঘটেছিল কুলগামের জঙ্গি হামলায়?

    পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলে একাধিক অ-স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিলেন। জঙ্গিরা প্রথমে শ্রমিকদের পরিচয় জানতে চায়। এরপর দুই হিন্দু শ্রমিককে অন্যদের থেকে আলাদা করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। নিহতদের নাম দীপক ও ভূপেন্দ্র। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই দীপকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভূপেন্দ্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। দু’জনেই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    দায় স্বীকার টিআরএফ-এর, নজরে লস্কর যোগও

    হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই এর দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। এই সংগঠনটি লস্কর-ই-তইবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৫ সালের পাহেলগাম জঙ্গি হামলার সঙ্গেও তাদের নাম জড়িয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই হামলায় এক স্থানীয় এবং এক বিদেশি জঙ্গির জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে মহম্মদ লতিফ, যে গত বছর লস্কর-ই-তৈবা বা টিআরএফ-এ যোগ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এখনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি দেয়নি।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় অভিযান

    হামলার পরপরই সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে কেল্লাম গ্রাম ঘিরে ফেলে। শুরু হয় ব্যাপক কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গিদের খোঁজ চলছে। গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল জানান, তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক নলিন প্রভাত-সহ শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জঙ্গিদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    অমরনাথ যাত্রার মাঝেই বাড়ছে উদ্বেগ

    এই হামলার পর উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। এর আগে অনন্তনাগ জেলায় এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকার ৬৭০টি অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর কোম্পানি মোতায়েন করেছে।

    পাহেলগাম হামলার পর আবার টিআরএফ-এর সক্রিয়তা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দায়ী করেছিল ভারত। পরবর্তীতে ভারত অপারেশন সিঁদুর চালায় এবং দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক কুলগাম হামলাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ।

    শোকপ্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনাকে “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ন্যাশনাল কনফারেন্স তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, “এই মানুষগুলো স্রেফ নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে এসেছেন। কোনো সভ্য সমাজে এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দাবির সত্ত্বেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্তম্ভিত করে।” ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তাঁর অভিযোগ, উপত্যকার শান্তি নষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, বিজেপি নেতা রবীন্দর রায়না, আপনি পার্টির সভাপতি আলতাফ বুখারি এবং পিপলস্ কনফারেন্স-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।

    অতীতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা

    কুলগামে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর কুলগামের ওয়ানপোহ এলাকায় বিহারের দুই শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীনগরে পঞ্জাবের দুই অ-স্থানীয় শ্রমিক জঙ্গি হামলায় নিহত হন।

  • Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) শোপিয়ান (Shopian Anti-Terror Operation) জেলায় দীর্ঘ চার দিনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র কমান্ডার জাকির গনাই। বুধবার তার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের মতে, এই অভিযান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ শোপিয়ান জঙ্গিদের ট্রানজিট বা পালানোর পথ হিসেবে আগেও ব্যবহৃত হয়েছে। এই করিডর দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে মধ্য কাশ্মীর ও পীর পাঞ্জাল রেঞ্জকে যুক্ত করে।

    জঙ্গি দমন অভিযান অব্যাহত

    গত ৩ জুলাই শোপিয়ানের একটি ঘন আপেল বাগানে নজরদারি ক্যামেরায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে। শুক্রবার নজরদারি ক্যামেরায় মীমান্দর এলাকায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা প঩ড়ে। এরপরই ওই এলাকার ফলের বাগান ঘিরে ফেলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী। তল্লাশির সময় জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পালটা জবাব দেয় বাহিনী। এরইমধ্যে দুই জঙ্গির পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তারা দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ের বাসিন্দা লতিফ ও জাকির। ২০২৪ সালে লস্করে যোগ দেয় জাকির। লতিফ গত বছর। রাতে জঙ্গিদের গতিবিধি জানতে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি জঙ্গিদমনে বিশেষ পারদর্শী ‘ভিক্টর ফোর্স’কে সেখানে মোতায়েন করা হয়। জঙ্গিদের পালানোর সব পথ সিল করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর, জঙ্গিদের গোপন ডেরা রয়েছে পাহাড় ঘেরা ঘন জঙ্গলে। জঙ্গলের মধ্যে বেশ কয়েকটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ রয়েছে। যেখানে দিনের বেলাতেও ভালোভাবে দেখা যায় না। তারই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ঘনঘন স্থান পালটে ফেলছিল।

    শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি

    এরপরই সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একাধিক গ্রাম ঘিরে চলতে থাকে সাঁড়াশি অভিযান। এনকাউন্টারের পরও এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে গুলির শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জাকির গনাইয়ের সঙ্গে থাকা অপর এক লস্কর জঙ্গি লতিফ এখনও এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি চলছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ভিক্টর ফোর্স অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে সম্ভাব্য পালানোর পথগুলো ঘিরে ফেলেছে। রাতের অভিযান চালাতে আলোকসজ্জারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, গ্রীষ্মকালের ঘন পাতার আচ্ছাদন ও বিস্তীর্ণ ফলের বাগান জঙ্গিদের আত্মগোপনের সুযোগ করে দিচ্ছে, ফলে অভিযান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি জঙ্গিদের পাশাপাশি স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নতুন নিয়োগ রুখতে জাকির গনাইয়ের মৃত্যু ও লতিফকে গ্রেফতার বা নিকেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

  • Pakistan: শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় লস্কর জঙ্গিদের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক

    Pakistan: শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় লস্কর জঙ্গিদের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) জঙ্গি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির প্রভাব এবং তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে (Terror Network Connections) নানা অভিযোগ রয়েছে। এবার পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা পেসার শোয়েব আখতারের (Shoaib Akhtar) পরিবারের একটি শোকানুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে উসকে দিয়েছে সেই বিতর্ক। শোয়েবের বড় ভাই শাহিদ আখতারের (Shahid Akhtar) জানাজায় লস্কর-ই-তৈবার (LeT)-র একাধিক শীর্ষ নেতার উপস্থিতির ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা।

    শোয়েব আখতারের ভাইয়ের মৃত্যু

    গত ২৪ জুন শাহিদ প্রয়াত হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানান শোয়েব। তিনি “Returned to Allah” লিখে শোকপ্রকাশ করেন এবং জানাজার সময় এবং জায়গা সম্পর্কেও তথ্য ভাগ করে নেন। ইসলামাবাদে আয়োজিত ওই জানাজায় বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

    জানাজায় লস্কর নেতারা!

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও এবং ছবিতে দাবি করা হয়েছে, জানাজায় উপস্থিত ছিলেন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ডেপুটি প্রধান সইফুল্লাহ কাসুরি (Saifullah Kasuri)। সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রী তিনি। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ (Pakistan Markazi Muslim League)-এর সভাপতি ইনাম-উর-রহমান কাম্বোহ (Inam-ur-Rehman Kamboh)-কে-ও। উল্লেখ্য, পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগকে লস্কর-ই-তৈবার রাজনৈতিক শাখা হিসেবে দেখা হয়। সংগঠনটি গঠিত হয় জামাত-উদ-দাওয়া (JuD) এবং মিল্লি মুসলিম লিগের (MML) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর। এই দুই সংগঠনের সঙ্গেই রাষ্ট্রসঙ্ঘ ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের (Hafiz Saeed) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ। ভিডিওতে আরও যাঁদের উপস্থিতির দাবি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লস্করের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি আবদুল্লাহ তুর (Abdullah Toor), PMML-এর জোনাল জেনারেল সেক্রেটারি হাফিজ উমর (Hafiz Umar) এবং খিদমত কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ ভাট্টি (Amjad Bhatti)।

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ

    ভারতের দাবি মতো, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল (Pakistan) জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। হামলার দায় কবুল করেছিল ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (The Resistance Front বা TRF), যাকে ভারত লস্কর-ই-তৈবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবেই চিহ্নিত করে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অভিযোগ, সইফুল্লাহ কাসুরি এই (Terror Network Connections) হামলার অন্যতম মূল চক্রী। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাক সরকার।

    নতুন করে উঠছে প্রশ্ন

    জানাজায় লস্কর নেতাদের প্রকাশ্য উপস্থিতির ভিডিও সামনে আসার পর পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ এবং তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উঠছে মেলা প্রশ্ন। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই ধরনের ঘটনা পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রভাব এবং তাদের স্বাধীনভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়টিকেই সামনে তুলে ধরছে। এদিকে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া আর একটি ভিডিওয় সইফুল্লাহ কাসুরিকে দাবি করতে শোনা যায়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাঁকে বিভিন্ন সরকারি বৈঠক ও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায় এবং সেনা সদস্যদের জানাজায় ইমামতি করার অনুরোধও করে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তানের মাটিতে একাধিক জঙ্গি সংগঠন নিরাপদ আশ্রয় ও কার্যকলাপের সুযোগ পেয়ে থাকে। পাকিস্তান অবশ্য (Terror Network Connections) বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সব (Pakistan) ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।

     

  • NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনের তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, সংক্ষেপে এনআইএ (NIA)। ইতিমধ্যেই তারা চার্জশিটও জমা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে লস্কর-ই-তইবা (LeT), দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM), আল-কায়েদা (Al-Qaeda) ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠী, হামাস (Hamas) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য সম্পর্ক (Pahalgam Terror Attack Case) নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনআইএ।

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে হামাস যোগ (NIA)

    চার্জশিটে প্যালেস্তাইনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের উল্লেখ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  কারণ এই প্রথম পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য কার্যকরী সম্পর্কের তদন্তে এনআইএ এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসের নাম উল্লেখ করেছে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত একটি মামলায়।তদন্তকারীরা জানান, তদন্তের এই অংশটি (হামাস যোগ) আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সম্পর্কের প্রকৃতি, পরিসর ও ব্যাপ্তি নির্ধারণের চেষ্টাও চলছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি জম্মু-কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া কোনও জঙ্গি কার্যকলাপে কোনও রকমের সাহায্য, সমর্থন বা প্রভাব বিস্তার করেছে কি না।

    যেসব তথ্য খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্ত বৃহত্তর একটি চেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্যই হল অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চিহ্নিত করা এবং সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিবর্তিত ও বিকশিত হচ্ছে, তা বোঝা। এটা করতে গিয়েই এনআইএ একাধিক সূত্র অনুসরণ করছে (NIA)। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল প্রমাণ, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্তপারের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। এই সব তথ্য সম্ভাব্য সংযোগগুলির ব্যাপ্তি নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে। পহেলগাঁও হামলার পর গোয়েন্দা মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এনআইএ এই নয়া দিকটিতেই বেশি করে নজর দিচ্ছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সম্প্রতি হামাস এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন, যেমন লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছে।

    হামাসের আক্রমণের সঙ্গে মিল!

    এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই সংগঠনগুলির মধ্যে কোনও ধরনের সহযোগিতা, সমন্বয় বা কৌশল শেয়ার করা হয়েছিল কি না। শুধু তা-ই নয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এও জানার চেষ্টা করছে, পহেলগাঁও হামলায় হামাস-স্টাইলের কোনও কৌশলগত বৈশিষ্ট্য ছিল কি না। জানা গিয়েছে, ওই হামলার পরিকল্পনা, টার্গেট ঠিক করা, এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু মিল দেখা গিয়েছে (Pahalgam Terror Attack Case)। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের ওপর হামাসের আক্রমণের সঙ্গেও এর তুলনা করা হয়েছে (NIA)। যদিও এসব সাদৃশ্য সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তদন্তকারীরা বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে সব উপলব্ধ প্রমাণ মূল্যায়ন করে চলেছেন।

    এনআইএর চার্জশিট

    এনআইএর চার্জশিটে স্পষ্ট করা হয়েছে, সম্ভাব্য হামাস-যোগ প্রতিষ্ঠা করা এখনও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয়। আধিকারিকদের মতে, এই তদন্তের ফল পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক জেহাদি সংগঠনগুলির মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য দিতে পারে (Pahalgam Terror Attack Case)। কারণ এনআইএ পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে (NIA)।

     

LinkedIn
Share