Tag: lifestyle diseases

lifestyle diseases

  • Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা শুধুই শরীরে আটকে থাকছে না। একাধিক শারীরিক অসুবিধার পাশপাশি দেশ জুড়ে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশের নানান শারীরিক অসুখের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মন ও শরীরের একাধিক সমস্যা ঠেকাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যোগাভ্যাস। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানান স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে জীবন যাপনের ধরন। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও খাদ্যাভাসের জেরেই তাঁরা নানান ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের সুস্থ জীবন যাপনের সাহায্য করবে যোগাভ্যাস।

    তরুণ প্রজন্মের কোন সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সাহায্য করবে যোগাভ্যাস?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাজ করেন। হাঁটাচলা কিংবা দৌড়াদৌড়ির সুযোগ কম। তার পাশপাশি আধুনিক খাদ্যাভাসে অতিরিক্ত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অধিকাংশ কম বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে।
    এই ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যায় ভোগেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানান টানাপড়েন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ভারতে যে হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, তাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করতে তাই যোগাভ্যাস আধুনিক জীবনে অত‌্যন্ত জরুরি হয়ে যাচ্ছে।

    মানসিক সমস্যার জেরে হচ্ছে শারীরিক ক্ষতি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরে শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস শরীর এবং মনের উপরে একসঙ্গে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে একদিকে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। তাছাড়া, যোগাভ্যাস স্নায়ু সক্রিয় রাখে। পেশির দূর্বলতা কমায়। আবার যোগাভ্যাস হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। একদিকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হওয়ার জেরে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকায় স্নায়ুঘটিত সমস্যা কমবে। পেশির দূর্বলতা কমলে দিনভরের ক্লান্তি দূর হবে। যেকোনো কাজে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে। এর পাশপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখলে যোগাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব। যোগাভ্যাস স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত যোগাভ্যাস বজায় থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা কমবে।

    কেন যোগাভ্যাসেই বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকোনো বয়সেই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য যোগাভ্যাস জরুরি‌। তবে ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হারে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, সেটা রুখতে যোগাভ্যাসেই ভরসা রাখছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধের উপরে দীর্ঘদিন নির্ভর করে জীবন কাটালে, তার নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বরং দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুস্থ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাসে বাড়তি ভরসা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট এই যোগাভ্যাস করলে, শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে শরীরের পাশপাশি মনের জটিলতা কমাতে পারবে না। মস্তিষ্ক, স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ওষুধ নয়। বরং ভালো অভ্যাস দীর্ঘ জীবন যাপন সহজ করবে। যোগাভ্যাস রোগ রুখতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা আধুনিক জীবনের স্বাস্থ্য সঙ্কট ঠেকাতে যোগাভ্যাসেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    কখন যোগাভ্যাস করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাসের জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। তাহলেই নিয়মিত এই অভ্যাস জারি রাখা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক দিন সকালে যোগাভ্যাস করলে শরীর ও মনে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকালে যোগাভ্যাস করলে একদিকে হজম শক্তি বাড়ে। দিনভর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। মনে রাখতে সুবিধা হয়। যোগাভ্যাস মনে ইতিবাচক শক্তি গড়ে তোলে। তাই সকালে যোগাভ্যাস করলে দিনভর কাজ করার ইচ্ছে থাকে। মানসিক অবসাদ ও বিষন্নতা রুখতেও সাহায্য করে। তবে সকালে যোগাভ্যাস করতে কোনো সমস্যা থাকলে সন্ধ্যায় যোগাভ্যাস করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ভারি খাবার খাওয়ার পরে যোগাভ্যাস করা না হয়‌‌। অতিরিক্ত ভারি খাবার খাওয়ার পরে অন্তত দু’ঘণ্টা যোগাভ্যাস করা উচিৎ নয়। এতে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালে ঘুম ভেঙেও ক্লান্তি যায় না। মাথা ধরে থাকে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়েও ল্যাপটপে চোখ আটকে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কারণ মাথার ভিতরে অসহ্য যন্ত্রণা। সপ্তাহের অধিকাংশ দিনেই কাজে মনোযোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মাথা ব্যথা। এমনকি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়েও ভোগান্তি! শারীরিক পরীক্ষায় জটিল অসুখ ধরা পড়ে না। কিন্তু লাগাতার মাথা ব্যথা শরীরের ভোগান্তি বাড়ায়। আবার কাজের দক্ষতাও কমিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে! এমন সমস্যায় ভুগছেন অধিকাংশ ভারতীয়! বিশেষত ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছে এক সাম্প্রতিক সর্বভারতীয় সমীক্ষা। আর কম বয়সি ভারতীয়দের এই ভোগান্তির নেপথ্যে মূলত দুটো কারণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা!

    ভারতীয়দের মাথা ব্যথা কতখানি বাড়তি বোঝা হয়ে উঠছে? কাদের ভোগান্তি বেশি?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাইগ্রেন এবং অন্যান্য কারণে ভারতীয়দের একটা বড় অংশ মাথা ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। বিশেষত যাদের বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, ভুক্তভোগীদের তালিকায়, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন। কর্ণাটক, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো একাধিক বড় রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মাথা ব্যথার ভোগান্তি বেশি। বিশেষত মাইগ্রেনের সমস্যায় পুরুষের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি ভোগেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০-৪৫ বছর বয়সি ভারতীয় মহিলাদের ৩১ শতাংশ মাইগ্রেনের সমস্যায় কাবু। পুরুষদের ভোগান্তির হার ১৮ শতাংশ। ফলে মাইগ্রেন জাতীয় মাথা ব্যথায় মহিলাদের ভোগান্তি বেশি। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি বেশি। তরুণ প্রজন্মের শহুরে ভারতীয়রা এই সমস্যায় অধিক ভুগছেন। বিশেষত যাদের পেশাগত জীবনে বাড়তি প্রতিযোগিতা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ, বহুজাতিক সংস্থায় সেলস, মার্কেটিংয়ের মতো বিভাগে কর্মরত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই ভোগান্তি বেশি দেখা গিয়েছে।

    মাথা ব্যথার ভোগান্তির নেপথ্যে কোন দুই কারণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। কিন্তু ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ার নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, পরিবেশ দূষণ এবং দ্বিতীয়ত মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা।

    পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে মাথা ব্যথার ভোগান্তি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক। বছরভর নানান উৎসবে বাজি পোড়ানো হয়। তাছাড়াও মানুষের সচেতনতার হার খুবই কম। তাই বায়ুদূষণের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়ছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক উপাদান বেড়ে চলেছে। এছাড়াও ভারতের অধিকাংশ শহরে শব্দ দূষণ মারাত্মক পরিমাণে বেশি। লাগাতার তীব্র শব্দ দূষণ মাইগ্রেন সহ একাধিক ভোগান্তির নেপথ্যে থাকে। ভারতের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের মাথা ব্যথার নেপথ্যে এই দূষণকেই দায়ী করছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, লাগাতার তীব্র আওয়াজ এবং বাতাসের ক্ষতিকারক উপাদান শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একদিকে স্নায়ুকে দূর্বল করে দেয়। আরেকদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মস্তিষ্কের ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে মাথা ব্যথার মতো ভোগান্তি বাড়ে।

    মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা!

    শরীর ও মনের স্বাস্থ্য ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে মানসিক চাপ, অবসাদ এবং একাধিক নানান মানসিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলা করা হয়। অর্থাৎ, স্ট্রেস, ডিপ্রেশনের মতো সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে। শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। মাথার যন্ত্রণার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অবসাদ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মহিলাদের মাথা ব্যথার বিশেষত মাইগ্রেনের মতো স্নায়ুঘটিত সমস্যার নেপথ্যে থাকে দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব এবং একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা। মহিলাদের জীবনে একাধিকবার হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটে। বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা কিংবা তার পরবর্তী পর্বেও নানান পরিবর্তন ঘটে। তার জেরেই মাইগ্রেন এবং অন্যান্য ধরনের মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি বাড়ে।

    ভোগান্তি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমাতে তরুণ প্রজন্মের পরিবেশ সচেতন থাকা জরুরি। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে এমন একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন‌ বিশেষজ্ঞরা। তবে পরিবেশ সচেতনতার পাশপাশি নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। পেশাগত বা ব্যক্তিগত চাপ থাকলেও নিয়ম মাফিক যোগাভ্যাস চালানো প্রয়োজন। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে। যার ফলে অনিদ্রার মতো সমস্যা রুখতে সুবিধা হবে। মস্তিষ্কের ঠিকমতো বিশ্রাম হলেই মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমবে। তাছাড়া মানসিক চাপ, অবসাদের মতো সমস্যা থাকলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। তবেই তরুণ প্রজন্মের এই ভোগান্তি কমবে।

  • Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য সতর্কতার অভাবেই বাড়ছে বিপদ! বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য নিঃশব্দে বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্কুল স্তর থেকেই সচেতনতা জরুরি। না হলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এ দেশের জনস্বাস্থ্যে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে থাইরয়েড। গলায় থাকা এই হরমোন গ্রন্থি এখন উদ্বেগের কারণ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করছে।

    ভারতীয় মহিলাদের জন্য কেন বাড়তি উদ্বেগ?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ১৫ শতাংশ মহিলা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা আরও বাড়ছে। বিশেষত বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোলেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভারতীয় পুরুষদের তুলনায় ভারতীয় মহিলারা ৪ গুন বেশি থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হন।

    থাইরয়েডের সমস্যা কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গলার কাছে থাকে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণ হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেশি বা কম হরমোন নিঃসরণ শুরু হলে শরীরের একাধিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। সেটাই থাইরয়েড সমস্যা হয়। ভারতে অধিকাংশ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্তের দেখা গিয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হয়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়ছে।

    কেন ভারতীয় মহিলারা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন?

    জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ভারসাম্যের ব্যাপাক পরিবর্তন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা থাইরয়েড সমস্যায় কয়েক গুণ বেশি ভুগছেন। তার প্রধান কারণ হলো হরমোন ঘটিত পরিবর্তন। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলাদের জীবনের একাধিক সময়ে শরীরে হরমোন ঘটিত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়। তার ফলে একাধিক হরমোন গ্রন্থির সক্রিয়তার সমীকরণ বদলে যায়। বয়ঃসন্ধিকালে ঋতুস্রাব শুরুর সময়, গর্ভাবস্থায়, সন্তান প্রসবের পরে এবং ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরবর্তী সময়ে মহিলাদের শরীরের একাধিক হরমোন ঘটিত পরিবর্তন হয়। এর জেরে থাইরয়েড গ্রন্থির উপরেও গভীর প্রভাব পড়ে। থাইরয়েড নিঃসরণের পরিবর্তন ঘটে। তাই মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। বিশেষত মহিলাদের গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসব পরবর্তীকালে একাধিক শারীরিক পরিবর্তন হয়। তাই সেই সময়ে এই ধরনের হরমোন ঘটিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    আয়রনের ঘাটতি!

    ভারতীয় মহিলারা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগে। ১২ বছরের পর থেকেই অধিকাংশ ভারতীয় মেয়ের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। আয়রনের অভাব মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া, বহু মহিলা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। ভারতীয় মেয়েদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ অপুষ্টি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    মানসিক চাপ এবং অনিদ্রা!

    ভারতীয় মহিলারা অধিকাংশ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ভোগেন। পারিবারিক সমীকরণ এবং কাজের পরিবেশ‌ ভারতে বদলে যাচ্ছে। মহিলাদের জন্য চাপ বাড়ছে। পরিবারের একাধিক দায়িত্ব তাদের সামলানোর পাশপাশি পেশাগত জীবনেও দায়িত্ব বাড়ছে। একদিকে বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন, আবার আরেক দিকে সামাজিক চাপ বেড়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে ভারতীয় মহিলাদের মানসিক চাপ ও অবসাদের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শহুরে ভারতীয় মহিলারা অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। এগুলো শরীরের হরমোন নিঃসরণে প্রভাব ফেলছে। তাই থাইরয়েড গ্রন্থিতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    অটোইমিউন রোগের জেরে বিপদ বাড়ছে!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় মহিলারা অটোইমিউন রোগের শিকার বেশি হন। অর্থাৎ, নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। তাই অটোইমিউন ডিজিজ থাকলে, তার থাইরয়েড গ্রন্থিও সমস্যায় পড়ে। রোগের জটিলতা বাড়ে।

    কেন থাইরয়েড বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনের বেশি বা কম পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হলে শরীরে তার গভীর প্রভাব পড়ে। মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা একাধিক জটিলতা তৈরি করছে—

    • ● চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হলে মহিলাদের একাধিক হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি হয়। যার ফলে মহিলাদের গর্ভধারণ জটিল হয়ে যায়। দেশ জুড়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়ছে। আর তার নেপথ্যে অন্যতম কারণ হলো থাইরয়েডের সমস্যা। এই সমস্যায় আক্রান্ত মহিলা গর্ভধারণ করলেও একাধিক ঝুঁকি ও জটিলতা তৈরি হয়‌। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাছাড়া, গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই রোগের প্রভাব পড়তে পারে।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার রক্তচাপ ওঠানামা করে। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে দ্রুত হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকে। থাইরয়েডের সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলা করলে হাড়ের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজমে শরীরে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে হাড় দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে। এতে ক্যালসিয়াম কমে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে, বিশেষত মেনোপজের পর এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই সময়মতো থাইরয়েড পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা, ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি।
    • ● তবে যে দিকটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে, তা হলো মানসিক স্বাস্থ্য। দেশ জুড়ে একাধিক মানসিক সমস্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অবসাদ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপের মতো নানান মানসিক সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। থাইরয়েডের সমস্যা হলে মানসিক স্বাস্থ্যে তার গভীর প্রভাব পড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই হরমোন ঘটিত সমস্যার জেরে খিটখিটে ভাব বাড়ে, কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়, ক্লান্তি বোধ বাড়ে, আবার রাগ এবং দুশ্চিন্তার মতো সমস্যা বেশি হয়। সব মিলিয়ে আক্রান্তের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। ভারতের এই বিপুল সংখ্যক মহিলার থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হচ্ছে। এর জেরে আরও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    থাইরয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে সচেতনতা জরুরি। স্কুল স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক করলে, সামাজিক সচেতনতার মান বাড়বে। অত্যন্ত বেশি চুল পড়ার সমস্যা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, রুক্ষভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ এবং অকারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকার মতো সমস্যায় দিনের পর দিন ভুগলে, কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। সাধারণ সহজ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়, থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত কিনা! তাই সেই পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাহলেই পরিস্থিতি জটিল হবে না। বর্তমানে ভারতে থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার উপযুক্ত ওষুধ রয়েছে। তাই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রোগ চিহ্নিত হলেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হয়ে যাবে।

  • PCOS Renamed PMOS: পিসিওএস আর নয়! বদলে গেল নাম, এবার থেকে এই নতুন নামে চিনবে চিকিৎসকরা, কেন প্রয়োজন ছিল নামবদলের?

    PCOS Renamed PMOS: পিসিওএস আর নয়! বদলে গেল নাম, এবার থেকে এই নতুন নামে চিনবে চিকিৎসকরা, কেন প্রয়োজন ছিল নামবদলের?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম বললেই এখন আর চলবে না। বরং, রোগ চিহ্নিত হলে রোগীকে জানাতে হবে, সঠিক সমস্যা কোথায়! রোগীর উদ্বেগ এবং সংশয় কমাতেই এই নয়া উদ্যোগ।

    নতুন নামকরণ কী হল? কেন পিসিওডি-র নাম বদল?

    সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা স্থির করেছেন পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) বললে অসংখ্য আক্রান্তের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে। ওভারিতে সিস্ট বা বাড়তি মাংস পিন্ড সরাসরি পাওয়া না গেলেও, কেন তাকে পিসিওডি আক্রান্ত বলে জানানো হচ্ছে, এই নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক এন্ড্রোক্রাইন সোসাইটির পরামর্শে এর নয়া নামকরণ হয়েছে, পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PMOS)। এক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পিসিওডির সমস্যা বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে। তবে আক্রান্তের ওভারিতে অনেক সময়েই সিস্ট পাওয়া যায় না। তবে তার হরমোন ঘটিত সমস্যা হয়। এই নয়া নামকরণের আসল উদ্দেশ্য রোগ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা কমানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, পলি এন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হল শরীরের সমস্ত হরমোন ঘটিত সমস্যা এবং শরীরের নিজস্ব শক্তি ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমস্যা।

    পিসিওডি এবং পিএমওডি মধ্যে ফারাক কোথায়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের যেকোনও হরমোন ঘটিত সমস্যা কিন্তু পিসিওডি নয়। ওভারিতে অতিরিক্ত মাংস পিন্ড থাকলে তবেই সেটা পিসিওডি বলা যেতে পারে। কিন্তু অনেক সময়েই রোগীর ওভারিতে সিস্ট থাকে না। অথচ নানান হরমোন ঘটিত সমস্যা দেখা দেয়। অনিয়মিত ঋতুস্রাব, অতিরিক্ত ওজন, বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হয়। যেগুলো শরীরের হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে ঘটে। তাকে কখনই পিসিওডি বলা ঠিক নয়। বলা উচিত পিএমওডি। রোগ চিহ্নিত করে ঠিকমতো বোঝাতে পারলে তবেই রোগী সচেতন হবেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এই রোগ হয়। তাই রোগীর নিজের সমস্যা সম্পর্কে ঠিকমতো জানা জরুরি। রোগ নিয়ে বাড়তি জটিলতা ও বিভ্রান্তি এড়ানো দরকার।

    কেন এই রোগের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের জেরেই এই ধরনের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ সময়েই বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রম কম করা এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের জন্য এই ধরনের হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি হয়। তবে ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত থাকলে পিএমওএসের দাপট বাড়ে‌। ভারতের মতো দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই পিএমওএসের (PMOS) প্রকোপ ও বাড়ছে। জিনগত কারণেও এই রোগ হয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারে মা-বোন-মাসি এই রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ কী কী?

    ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে পিএমওএস আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ চটজলদি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ বিশেষত কম বয়সিদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবার অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই খাবারে অতিরিক্ত ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে। পিৎজা, বার্গার, হটডগের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরে পুষ্টির জোগান দেয় না। বরং, শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে সাহায্য করে। ফলে, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি হয়। একদিকে এমন খাদ্যাভাস যা শরীরের ওজন বাড়িয়ে দিচ্ছে, আরেকদিকে এমন জীবন যাপন, যেখানে শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ কম। এই দুইয়ের জেরেই হরমোনের ভারসাম্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। ফলে, পিএমওএসের (PMOS) মতো রোগের দাপট বাড়ছে। তাছাড়া, অনিদ্রা, মানসিক অবসাদ এই রোগের দাপট বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কম বয়সি মেয়েদের মধ্যে মানসিক চাপ এবং অবসাদ বাড়ছে। তাঁরা অনিদ্রার সমস্যার শিকার হচ্ছেন। এগুলো শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। শারীরিক শক্তি ক্ষয় হয়। ফলে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    কাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও মহিলাই পিএমওএসে আক্রান্ত হতে পারেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে থাকা মেয়েদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে পরিবারের কেউ পিসিওডি কিংবা পিএমওএসে আক্রান্ত হলে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়। তাছাড়া ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের (PMOS) ঝুঁকি বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তবে স্থূলতার সমস্যা থাকলে, এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

  • Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠে পৌঁছনোর আগেই নিঃশব্দে শরীরে প্রবেশ করছে। গড়ে প্রতি ৩ জন ভারতীয়দের মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। আবার বহু মানুষ জানতেও পারেন না, তার শরীরে নিরবে এই সমস্যা বাসা বেঁধেছে। তাই সতর্কতাও অবলম্বন করতে পারেন না। ভারতীয়দের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে উঠছে হাইপারটেনশন (High Blood Pressure)। ১৭ মে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে (World Hypertension Day)। ভারতীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাইপারটেনশনকে ভারতীয়দের ‘নিরব ঘাতক’ বলেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়স থেকেই ভারতীয়রা এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আর হৃদরোগ, স্ট্রোক সহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই হাইপারটেনশন (Hypertension) ভারতের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে।

    কোন বয়সে বিপদ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণত পঞ্চাশ বছরের পরে হাইপারটেনশনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। কিন্তু ভারতের চল্লিশের আশপাশেই এই সমস্যা বাড়ছে। ভারতীয়দের জীবন যাপনের ধরনের জন্য এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ নুন এবং তেল খাওয়া, বাড়তি ওজন এবং অনিদ্রা সমস্যা বাড়াচ্ছে। এছাড়াও হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ হলো মানসিক চাপ এবং অবসাদ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে প্রচন্ড মানসিক চাপ এবং অবসাদের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে অনিদ্রা এবং হাইপারটেনশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ কী?

    অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সবকিছুই জীবন যাপনের ধরনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ মানুষের খাদ্যাভাস অস্বাস্থ্যকর। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়। এই খাবারে একাধিক ক্ষতিকারক রাসায়নিকের পাশাপাশি থাকছে অতিরিক্ত নুন। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়রা গড়ে প্রতিদিন ৫ গ্রাম অতিরিক্ত নুন খায়। এই বাড়তি নুন হাইপারটেনশনের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ভারতীয়দের একাংশ অতিরিক্ত চটজলদি খাবার খাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শারীরিক কসরত করছে না। তাই দেহের ওজন বাড়ছে। এই অতিরিক্ত ওজনের জেরে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    অনিদ্রা, জীবনে জটিলতা, মদ্যপান এবং ধূমপান

    এছাড়া ভারতীয়দের বড় অংশ অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। তাই হাইপারটেনশনের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরে রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় থাকে না। তাই হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ অনিদ্রা। এছাড়াও পেশাগত জীবনের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা বাড়ছে। এর ফলেও হাইপারটেনশনের সমস্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ মদ্যপান এবং ধূমপানে আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্যান্সার এবং একাধিক সংক্রামক রোগের কারণ হওয়ার পাশপাশি হাইপারটেনশনে আক্রান্ত হওয়ার কারণ। তাই এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

    কেন হাইপারটেনশন উদ্বেগজনক সমস্যা? কেন একে নিরব ঘাতক বলা হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় জানেন না তিনি হাইপারটেনশন আক্রান্ত কিনা। নিয়মিত অধিকাংশ ভারতীয় রক্তচাপ মাপেন না। এর ফলে শরীরে এই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই এই রোগকে নিরব ঘাতক বলা যেতে পারে। এই সমস্যা থাকলে স্ট্রোক এবং হৃদরোগের জটিলতা বাড়তে পারে। ভারতে হঠাৎ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক। আর এই হার্ট অ্যাটাকের নেপথ্যে রয়েছে হাইপারটেনশন। রক্তচাপের ভারসাম্য না থাকলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে স্ট্রোকের দাপট দেখা দিচ্ছে। স্ট্রোকের ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। কর্ম ক্ষমতা কমছে। আবার প্রাণ সংশয় হচ্ছে। তাই এই রোগ রুখতে হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা কমানো দরকার। হাইপারটেনশন বন্ধ্যাত্ব এবং অন্যান্য হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি করে।

    কী পরামর্শ চিকিৎসকদের?

    এই বিপদ কমাতে চিকিৎসকদের পরামর্শ, অতিরিক্ত নুন খাওয়া কমানো জরুরি। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চটজলদি খাওয়া কমালেই বাড়তি নুন খাওয়ার প্রবণতা কমবে। তাছাড়া নিয়মিত শরীরিক কসরত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে। এগুলো হাইপারটেনশন রুখতে সাহায্য করে। ঘুম নিয়েও সচেতনতা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম একাধিক রোগ রুখতে সাহায্য করে। অনিদ্রা হাইপারটেনশনের নেপথ্যে কাজ করে। তাই অনিদ্রার সমস্যা কমলে হাইপারটেনশনের ঝুঁকিও কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Diarrhea Hepatitis Risk: ডায়রিয়া থেকে হেপাটাইটিস, একাধিক রোগের নেপথ্যে এই রোজের অভ্যাস?

    Diarrhea Hepatitis Risk: ডায়রিয়া থেকে হেপাটাইটিস, একাধিক রোগের নেপথ্যে এই রোজের অভ্যাস?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার মাঝেই মায়ের খাবার খাওয়ার জন্য ডাক! হাত ধোয়ার সময় পাওয়াই মুশকিল। তাই তাড়াতাড়ি কোনও মতে খাবার মুখে ঢুকিয়েই আবার ছুটে যাওয়া! কিংবা অফিসের কাজে ল্যাপটপে চোখ আটকে রয়েছে। হাত-মুখ ধোয়ার ফুরসত কোথায়! তাই কাজ করতে করতেই মুখে খাবার চালান হচ্ছে! এমনটা তো প্রায়ই হয়! অনেকেই কমবেশি খাবার আগে বা পরে হাত ধোয়ায় বিশেষ নজর দেন না। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই অভ্যাস বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঠিকমতো হাত পরিষ্কার না করলে একাধিক রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেশি হয়। তাই ঠিকমতো হাত ধোয়া জরুরি। মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে হ্যান্ড হাইজিন নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি পালন হচ্ছে। বিশ্ব জুড়ে হাত পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা বোঝানো হচ্ছে! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, হাত ঠিকমতো পরিষ্কার করলে বিশ্বের ৩০ শতাংশ সংক্রামক রোগের দাপট সহজেই কমানো যাবে‌। শ্বাসযন্ত্র কিংবা লিভারের সংক্রমণ থেকে পেটের অসুখ, বিশ্বের একাধিক রোগের নেপথ্যে থাকে অপরিচ্ছন্ন হাত। কয়েক লাখ মানুষ রোগে আক্রান্ত হন। তাই এই বিষয়ে স্কুল স্তর থেকে সচেতনতা জরুরি।

    কোন রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাত অপরিচ্ছন্ন থাকলে সবচেয়ে বেশি বিপদ বাড়ায় ডায়রিয়া। পেটের অসুখের অন্যতম কারণ অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার খাওয়া‌। তাঁরা জানাচ্ছেন, অপরিচ্ছন্ন হাতে খাবার খেলে শরীরে সহজেই জীবাণু সংক্রমণ ঘটে‌। এর ফলে পেটের সমস্যা দেখা দেয়। ডায়রিয়ার মতো দেখা দিতে পারে। বিশেষত শিশুদের জন্য বাড়তি বিপদ। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, খেলাধুলার সময় শিশুর হাতে একাধিক জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। হাত পরিষ্কার করে না খেলে, সহজেই সেই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তার থেকে ডায়রিয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়‌। শিশুদের শরীরে দ্রুত ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিও থাকে। তাই ডায়রিয়া প্রাণঘাতি হয়ে উঠতে পারে।

      • ● হাত পরিষ্কার করে না ধুলে হেপাটাইটিস এ-র মতো লিভারের অসুখের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। অপরিচ্ছন্ন খাবার এবং জল থেকে লিভারের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে‌। লিভারের সংক্রমণ থেকেই হেপাটাইটিসের মতো রোগ হয়। অপরিচ্ছন্ন হাতে খাবার খেলে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
      • ● অপরিচ্ছন্ন হাত টাইফয়েডের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টাইফয়েড অপরিচ্ছন্ন খাবার ও জল থেকে সংক্রামিত হয়। হাত ঠিকমতো পরিষ্কার না করে খাবার খেলে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে।
      • ● ভাইরাস ঘটিত জ্বর এবং সর্দি-কাশি সংক্রমণের অন্যতম কারণ অপরিচ্ছন্নতা। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনও ভাইরাস ঘটিত জ্বরের সংক্রমণের অন্যতম কারণ অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার খাওয়া এবং সর্দি-কাশি হলে নিজেদের হাত ঠিকমতো না ধোয়ার অভ্যাস। এর ফলে জীবাণু সহজেই সংক্রামিত হয়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কী পরামর্শ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, স্কুল স্তর থেকেই হাতের পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা জরুরি। কখন হাত পরিষ্কার করতে হবে সে সম্পর্কে সচেতনতা দরকার।‌ খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে হাত পরিষ্কার আবশ্যক। পরিষ্কার জলে সাবন দিয়ে অন্তত ১৫ সেকেন্ড হাত পরিষ্কার করতে হবে। তারপরে খাবার খাওয়া উচিত। খাওয়া শেষ হলেও ঠিকমতো হাত ধোয়া জরুরি। বাথরুমে যাওয়ার পরে অবশ্যই হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকতে হবে। শিশুদের এই অভ্যাস গড়ে উঠছে কিনা সেটা নজরদারি প্রয়োজন। শৌচালয় ব্যবহারের পরে হাত পরিষ্কার না করলে নানান জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। আবার বাইরে থেকে ফিরেও হাত পরিষ্কার করা দরকার। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাইরে থেকে ফিরে হাত-মুখ ভালোভাবে না ধুয়ে কিছুই করা উচিত নয়। হাত পরিষ্কার করে ধুলে একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

  • Bitter Gourd: হৃদরোগ থেকে ডায়াবেটিস, একাধিক রোগ রুখবে করলা!

    Bitter Gourd: হৃদরোগ থেকে ডায়াবেটিস, একাধিক রোগ রুখবে করলা!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাদ তেতো হলেও শরীরের জন্য খুবই উপকারি। তাই দুপুরের খাবারের শুরু হোক করলা (Bitter Gourd) দিয়েই। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তরুণ প্রজন্মের একাংশ, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা কিংবা ডায়াবেটিসের মতো নানান জটিল রোগে (Lifestyle Diseases) ভুগছেন। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক জটিল রোগের ঝুঁকি কমাবে এই সব্জি! নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে করলা খেলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়।

    কোন কোন রোগ করলা মোকাবিলা করতে পারে?

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কম বয়সিদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ শরীরে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়ার জেরে এই ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। করলা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদেরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত করলা (Bitter Gourd) খেলে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে!

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ডায়াবেটিস। স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, সব বয়সীদের মধ্যেই ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। ডায়াবেটিস শরীরে একাধিক রোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা জরুরি। আর এই কাজে সাহায্য করে করলার মতো সব্জি। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত করলা খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাঁরা জানাচ্ছেন, করলা (Korola Karela) ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারি। আবার যারা প্রি-ডায়াবেটিক, অর্থাৎ, যাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত করলা খেলে বিপদ কমবে।

    লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়লায় থাকে ডিটক্সিফাইং উপাদান। এই জেরে নিয়মিত করলা (Bitter Gourd) খেলে লিভারের নানান অসুখের ঝুঁকি কমে। লিভার সুস্থ থাকে। হজম শক্তিও বাড়ে। এর পাশপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে।

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়!

    কয়লায় ভিটামিন সি থাকে। তাই পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত করলা খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। যেকোনও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে। আবার সর্দি-কাশির ভোগান্তিও কমবে।

    কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকিও কমায়!

    কিডনিতে পাথর জমার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অসময়ে খাওয়ার অভ্যাস, ঠিকমতো বিশ্রাম না নেওয়া, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, বারবার হজমের সমস্যা ও নানান অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের (Lifestyle Diseases) অভ্যাসের জেরেই কিডনিতে পাথর জমার মতো রোগ দেখা দিচ্ছে। আর কিডনিতে একবার পাথর জমলে, বারবার পাথর তৈরির ঝুঁকিও থাকে। নিয়মিত করলা খেলে এই ঝুঁকি কমে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়লায় থাকা নানান উপাদান কিডনিতে বারবার পাথর তৈরি হতে বাধা দেয়। কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

    পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত ভাতের আগে করলা (Bitter Gourd) খাওয়া যায়। করলার তরকারি বা অন্য পদ তৈরি করে নিয়মিত খেলে শরীরের উপকার হয়। করলা সব বয়সের মানুষের জন্য সমান উপকারি।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Good Sleep: ঘুমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি! স্ট্রোক রুখতে ঘুম কেন জরুরি?

    Good Sleep: ঘুমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি! স্ট্রোক রুখতে ঘুম কেন জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    প্রত্যেক মিনিট জরুরি। দিনের প্রতিটি মিনিট কীভাবে কাটানো হচ্ছে, সেই অভ্যাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, আমরা সুস্থ থাকব কিনা! প্রতিদিন ঘুমের জন্য কতখানি সময় বরাদ্দ হয়, সেই হিসাব অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করে স্ট্রোকের ঝুঁকি! সম্প্রতি ছিল ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক ডে। আর সেই উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা কর্মসূচি পালন হয়। আর সেখানেই উঠে আসে মূলত দুই দাওয়াই। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই দুই পরামর্শ মেনে চললেই স্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

    স্ট্রোকের বিপদ এড়াতে কোন দুই দিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চাই পর্যাপ্ত ঘুম

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্ট্রোকের ঘটনা বাড়ছে। পঞ্চাশের পরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেখা দিত। কিন্তু গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি অন্যরকম। দেখা যাচ্ছে, তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই স্ট্রোকের ঘটনা ঘটছে। এর ফলে পরবর্তী জীবনে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আর কম বয়সিদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার অন্যতম কারণ অপর্যাপ্ত ঘুম। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস। অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। ভোরে ঘুমোতে যান। বেলায় ঘুম থেকে ওঠেন। অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার কারণে নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোনোর সময় পান না। এর ফল হয় মারাত্মক। দীর্ঘদিন অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত ঘুম মস্তিষ্কের উপরে গভীর প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে, মস্তিষ্কের পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। নিয়মিত পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেলে মস্তিষ্কের স্নায়ু সুস্থ থাকে। তাছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তাই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণের ভারসাম্য নষ্ট হয়। যা শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করে।

    উপসর্গের উপরে বাড়তি নজর

    স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে যেমন পর্যাপ্ত ঘুমের উপরে নজর দিচ্ছে তেমনি স্ট্রোকের বড় জটিলতা এড়াতে উপসর্গের উপরে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফেও এ বছরে স্ট্রোক সচেতনতার মূল বার্তা, প্রত্যেক মিনিট জরুরি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্ট্রোকের উপসর্গ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। শরীরে অন্য কোনও জটিলতা রয়েছে কিনা, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, সে সম্পর্কেও সতর্ক থাকা জরুরি। তবেই বড় বিপদ এড়ানো যেতে পারে। স্ট্রোকে আক্রান্ত হলেই দ্রুত চিকিৎসা শুরু প্রয়োজন। তবেই বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট এড়ানো সম্ভব। কিন্তু অনেক সময়েই চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রত্যেক মিনিট গুরুত্বপূর্ণ!

    ভারতে স্ট্রোকের দাপট কতখানি?

    কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্ট্রোকের প্রকোপ বাড়ছে। প্রতি বছর ১৮ লক্ষ ভারতীয় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেশি। ২০১৯ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে, মহিলারা তুলনামূলকভাবে‌ বেশি‌ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ তালিকার প্রথমেই রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্ট্রোকের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হওয়ায় জেরেই এ রাজ্যে স্ট্রোকে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। তাছাড়া তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও জীবন যাপন স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। এ রাজ্যে গত কয়েক বছরে ধূমপান ও মদ্যপানে আসক্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। তাই স্ট্রোক নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোন উপসর্গ স্ট্রোকের জানান দেয়?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রক্তচাপ নিয়ে সচেতনতা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। নিয়মিত রক্তচাপ ওঠা নামা করলে কিংবা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে স্বাস্থ্যকর খাবারে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।‌ কারণ উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া হঠাৎ করেই মাথা ঘোরা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, মস্তিষ্ক ঠিক মতো কাজ করতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সচেতন থাকা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার, কারণ এগুলো স্ট্রোকের লক্ষণ। হাত-পায়ের পেশি ঠিকমতো কাজ না করা, স্নায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তীব্র মাথার যন্ত্রণা স্ট্রোকের উপসর্গ বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • PCOD: ভারতে প্রকোপ বাড়ছে পিসিওডি-র, মোকাবিলায় কোন খাবারে বাড়তি জোর চিকিৎসক মহলের?

    PCOD: ভারতে প্রকোপ বাড়ছে পিসিওডি-র, মোকাবিলায় কোন খাবারে বাড়তি জোর চিকিৎসক মহলের?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জলখাবারেই রয়েছে ‘দাওয়াই’! দেশ জুড়ে বাড়ছে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ বা পিসিওডি (PCOD)! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এটা একধরনের ‘লাইফস্টাইল’ ডিজিজ (Lifestyle Dieases)। তাঁরা জানাচ্ছেন, দেহের ওজন অতিরিক্ত বেড়ে গেলে, কিংবা রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে মহিলাদের জরায়ুতে একাধিক সিস্ট তৈরি হয়। এই সমস্যাকেই পিসিওডি বলা হয়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে থাকা মেয়েদের এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। অনেক সময়েই এই সমস্যা আজীবন থাকে। এই সমস্যা আরও জটিল রোগ তৈরি করে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। প্রতি দশ জন মহিলার মধ্যে একজন পিসিওডি সমস্যায় ভুগছেন। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রথম থেকেই জীবন যাপনের ধরন এবং খাদ্যাভাস ঠিকমতো রাখলেই এই রোগের প্রকোপ আটকানো সহজ‌ হবে।

    কেন পিসিওডি বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি করছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পিসিওডি একটি জীবন যাপন সংক্রান্ত রোগ। ঠিকমতো পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এই রোগ মোকাবিলা করতে পারবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পিসিওডি-তে আক্রান্ত হলে ওভারিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। এর ফলে, স্বাভাবিক হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে না। নিয়মিত ঋতুস্রাব হয় না। এর জেরে শারীরিক বিকাশেও সমস্যা হতে পারে। বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা‌ও দেখা দিতে পারে। পিসিওডি-র মতো সমস্যায় স্বাভাবিক জীবন যাপনে নানান সমস্যা দেখা দেয়। তাই এই সমস্যা বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে।

    কীভাবে জলখাবারে রয়েছে পিসিওডি (PCOD) মোকাবিলার চাবিকাঠি?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সুস্থ থাকার চাবিকাঠি রয়েছে জলখাবারের মধ্যে। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালের খাবার শরীরে বাড়তি পুষ্টি জোগায়। দিনের প্রথম খাবার, তাই শরীরে তার প্রভাব ও বাড়তি পড়ে। তাই জীবন যাপন সংক্রান্ত রোগ রুখতে সকালের জলখাবার খুবই জরুরি। কারণ এই খাবারেই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সাহায্য করে‌। ফলে, পিসিওডি-র মতো রোগ মোকাবিলাও সহজ হয়। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, সকালের জলখাবারে পরিমিত প্রোটিন এবং নূন্যতম কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে পিসিওডি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তাঁদের পরামর্শ, নিয়মিত জলখাবারে এমন খাবার নির্বাচন করতে হবে, যাতে শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কার্বোহাইড্রেট বাড়তি না পৌঁছয়। তবেই পিসিওডি-র মতো রোগের প্রকোপ কমবে।

    কাঠবাদাম এবং ওটস

    পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, সকালে কাঠবাদাম এবং ওটসের মতো‌ খাবার পিসিওডি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, কাঠবাদামে রয়েছে প্রোটিন। তবে শুধু প্রোটিন নয়। বরং, তার পাশপাশি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ। ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়ামের মতো নানান খনিজ পদার্থ। এর ফলে শরীরে বাড়তি এনার্জির জোগান হয়। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কারণ, ওটস এবং কাঠবাদামে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ পর্যাপ্ত থাকলেও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ খুব কম থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

    দানাশস্যের তৈরি রুটি

    এছাড়াও বাজরা, জোয়ার, মিলেট, রাগি জাতীয় দানাশস্যের তৈরি রুটির সঙ্গে সবুজ সব্জি খেলে পিসিওডি (PCOD) রুখতে সাহায্য হয়। কারণ, সবুজ সব্জিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ। আর দানাশস্যে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার। এই খনিজ পদার্থ, ভিটামিন ও ফাইবার সকালে শরীরে পৌঁছলে একদিকে শরীরে এনার্জির জোগান‌ বজায় থাকবে। হজম ঠিকমতো হবে। আবার স্থূলতার সমস্যা ও সহজেই আটকানো সম্ভব। তাই দানাশস্যে তৈরি রুটি এবং রঙিন সব্জি অর্থাৎ, গাজর, পালং শাক, রাঙা আলু, বিনসের মতো নানান রঙের মতো সব্জি দিয়ে তৈরি তরকারি খেলে পিসিওডি-র মতো রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ।

    ডালের চিল্লা

    যে কোনও ডালের চিল্লা বানিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মুগ কিংবা মুসুর ডালে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং প্রোটিন। কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। তাই সকালের জলখাবারের মেনুতে কড়াইয়ে সামান্য পরিমাণ বাটার দিয়ে তাতে মুগ কিংবা মুসুর ডালের পেস্ট ছড়িয়ে দিতে হবে। তার উপরে সামান্য পনির কুচি, পিঁয়াজ কিংবা শশা কুচি মিশিয়ে তৈরি করলেই অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার তৈরি হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অত্যন্ত কম। আবার পর্যাপ্ত ভিটামিন, প্রোটিন শরীর সহজেই পাবে। তাই এই ধরনের খাবার সহজেই শরীরকে পুষ্টি দেয়।

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, পিসিওডি-র‌ মতো রোগ প্রতিরোধ করতে শরীরের ওজন নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। ওজন নিয়ন্ত্রণে করতে পারলে এই রোগ (PCOD) মোকাবিলা সহজ হবে। তাই খাওয়ার সময় প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত খাওয়া জরুরি। কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ ওজন বাড়লেই এই ধরনের রোগ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Lifestyle Diseases: রাতে অফিস, দিনে ঘুম! নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন না তো?

    Lifestyle Diseases: রাতে অফিস, দিনে ঘুম! নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন না তো?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আধুনিক জীবনে বদলে গিয়েছে অনেক কিছু! আর সবচেয়ে বড় বদল হয়েছে দিন-রাতের হিসাবে! দিনভর খাটুনি শেষে রাতে শান্তির বিশ্রাম! এ হিসাব এখন আর মেলে না! তাই বদলে যাচ্ছে শরীর! চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, রাত জাগার গভীর প্রভাব পড়ছে শরীরে (Lifestyle Diseases)!

    সমস্যা কোথায় (Lifestyle Diseases)? 

    ইনফরমেশন টেকনোলজির জগত হোক কিংবা বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, যে কোনও ক্ষেত্রে রাত জেগে কাজ এখন স্বাভাবিক! অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্লায়েন্ট আমেরিকার শিকাগো কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে থাকেন। আর কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের দিন-রাতের সময়ের বিস্তর ফারাক। কিন্তু ক্লায়েন্টের চাহিদা মেনেই রাত বারোটার পরে ল্যাপটপ খোলে। অধিকাংশের কাজ যখন শেষ হয়, তখন সূর্যের আলো আকাশ ছুঁয়ে ফেলে! একদিন বা দু’দিন নয়। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশের বছরের পর বছর এভাবেই অফিস চলছে। রাতভর চলে অফিস আর দিনে ঘুম! ফলে, একদিকে রাত আর দিনের কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকছে। খাওয়ার সময়ও বদলে যাচ্ছে। তাই একাধিক সমস্যা (Lifestyle Diseases) দেখা দিচ্ছে।

    কোন কোন রোগের (Lifestyle Diseases) ঝুঁকি বাড়ছে? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, রাত জেগে মাসের পর মাস কাজ করা এবং দিনের বেলা ঘুমানো একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আর শরীরের একাধিক অঙ্গ তার জানান দিচ্ছে। লাগাতার রাত জাগার ফলে হজমের সমস্যা হয়। অধিকাংশের বমি, বুক জ্বালার মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন হজমের সমস্যার জেরে লিভার এবং অন্ত্রে খারাপ প্রভাব পড়ে। 
    হজমের সমস্যার পাশপাশি দীর্ঘ সময় রাত জাগার ফলে কিডনির উপরও চাপ পড়ে। সমস্যা হয় রক্তচাপের এবং হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে। 
    চিকিৎসকদের একাংশের মতে, রাতের পর রাত জেগে থাকলে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয় না। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। ফলে, হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাতে ঘুমানোর সময় মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয়। যার জেরে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। দিনের বেলা যতই গভীর ঘুম হোক, পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ওই হরমোন নিঃসরণ হয় না। ফলে, দীর্ঘ সময় রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে (Lifestyle Diseases)। পাশপাশি হয় অনীদ্রার সমস্যা।

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, রাত জাগা এবং দিনে ঘুম, অভ্যাস হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে রাতে ঘুম ঠিকমতো হয় না। কাজ না থাকলেও রাতে ঘুমানোর ইচ্ছে চলে যায়। দেখা দেয় অনীদ্রা রোগ। আর এই রোগ একাধিক মানসিক সমস্যা তৈরি করে। উদ্বেগ, মানসিক চাপ, অবসাদের মতো একাধিক সমস্যা দেখা দেয়।

    বিপদ (Lifestyle Diseases) এড়াতে কী করতে হবে? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অফিসের জন্য জেগে থাকতে হলে, কিছু বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতেই হবে। তা না হলে একাধিক শারীরিক সমস্যা বাড়বে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জাগতে হলে রাতের খাবার আটটার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে। ভারী, অতিরিক্ত তেলমশলা যুক্ত প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাবার একেবারেই চলবে না। বিরিয়ানি, পিৎজার মতো খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার সন্ধ্যার মধ্যে খেতে হবে। যাতে রাত জাগার ফলে হজমের সমস্যা না হয়। রাত দশটার পরে খুব হালকা খাবার যেমন দুধ, কুকিজ, ড্রাই ফ্রুটস খাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হালকা খাবার খেলে এবং হজমের সমস্যা কমানো গেলে হার্ট, লিভার, অন্ত্রের মতো একাধিক অঙ্গের বিপদ (Lifestyle Diseases) কমানো যাবে। 
    যাদের নিয়মিত রাত জাগতে হচ্ছে, তাদের জল পানের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। লাগাতার রাত জেগে থাকলে কিডনি থেকে ত্বক, সব কিছুর উপরেই কুপ্রভাব পড়ে। তাই বেশি পরিমাণে জল খেতে হবে। তাতে কিডনিতে পাথর থেকে চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল সহ একাধিক সমস্যার মোকাবিলা সহজ হবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। 
    পাশপাশি নিয়মিত যোগাসনের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনীদ্রার মতো সমস্যা এড়াতে, মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে যোগাসন সাহায্য করে। তাই নিয়মিত যোগাসন জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

     
    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।
LinkedIn
Share