Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • The Bengal Files: কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে প্রদর্শিত হল ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’

    The Bengal Files: কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে প্রদর্শিত হল ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত হল পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর (The Bengal Files) বিশেষ প্রদর্শনী। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রদর্শনী ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও টানটান উত্তেজনা। আয়োজকদের দাবি, ছবিটি পশ্চিমবঙ্গে কার্যত এক অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার মুখে, তাই প্রদর্শনীর দিন সকাল থেকেই লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে মোতায়েন করা হয় সিআরপিএফ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভাষা ভবন অডিটোরিয়ামে হয় প্রদর্শনী

    প্রদর্শনীটি হয় ন্যাশনাল লাইব্রেরি চত্বরে অবস্থিত ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভাষা ভবন অডিটোরিয়ামে। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠান ছিল শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের (The Bengal Files) জন্য। প্রায় ৫০০ জন দর্শক আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে প্রবেশ করেন। প্রবেশের আগে প্রত্যেকের ব্যাগ ও পরিচয়পত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

    কী বললেন স্বপন দাশগুপ্ত?

    সাংস্কৃতিক সংগঠন খোলা হাওয়া এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি তথা বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্ত এনিয়ে বলেন, বাংলার মানুষ এই ছবি দেখার অধিকার রাখে (The Bengal Files)। এই ছবির প্রদর্শনী আটকানো গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। আমরা চাই মানুষ নিজেরাই ছবিটি দেখে মতামত তৈরি করুন।

    কী বললেন বিবেক অগ্নিহোত্রী (Vivek Agnihotri)

    প্রদর্শনীর শেষে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন (The Bengal Files)। তিনি বলেন, “বাংলায় ছবিটি নিষিদ্ধ করে সরকার প্রমাণ করেছে এখানে দুটি সংবিধান চলছে—একটি ভারতের সংবিধান, আরেকটি অঘোষিত সংবিধান, যা ছবিটিকে আটকে রেখেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আজকের প্রদর্শনী একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পরিবেশটা যুদ্ধক্ষেত্রের মতো মনে হচ্ছিল। কিন্তু বাংলার ত্যাগ ও ১৯৪৬ সালের ইতিহাস আজ সারা দেশ জানল।” বিবেক অগ্নিহোত্রী আরও দাবি করেন, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ শুধু একটি ছবি নয়, এটি বাংলার মানুষের আত্মত্যাগ ও ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র ঘটনার সত্য তুলে ধরেছে

    ছবিকে ঘিরে বিতর্ক

    ছবিটি ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র দাঙ্গা নিয়ে তৈরি, যেখানে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। গোপাল মুখার্জি ওরফে ‘গোপাল পাঁঠা’র ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ছবি। খোলা হাওয়া সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা, যার মধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও আছেন। তাদের বক্তব্য, ছবিটি আটকে দেওয়া গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপ। এটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উদ্যোগ।

    বাংলায় কার্যত নিষিদ্ধ

    ছবিটিতে অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী, অনুপম খের, দর্শন কুমার ও পল্লবী যোশী। দেশজুড়ে ৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেলেও পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি কার্যত অনিশ্চিত। ছবির প্রচারের জন্য কলকাতায় পরিকল্পিত কিছু অনুষ্ঠানও বাতিল হয়েছে বলে অভিযোগ। অগ্নিহোত্রী জানিয়েছেন, ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠান পুলিশ আটকে দেয়, এমনকি প্রদর্শনীর সরঞ্জামও (The Bengal Files) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

  • London News: অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল লন্ডন, সংঘর্ষ পুলিশের সঙ্গে

    London News: অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল লন্ডন, সংঘর্ষ পুলিশের সঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার লন্ডনে (London News) টমি রবিনসনের নেতৃত্বে (Tommy Robinsons) আয়োজিত “ইউনাইট দ্য কিংডম” শীর্ষক বিক্ষোভে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। অভিবাসন বিরোধী এই বিক্ষোভ শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে উত্তেজনা ছড়ায়। রবিনসনের কিছু সমর্থক পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশের উপর বোতল ছোড়া হয়, কয়েকজন অফিসারকে ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে ২৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন, এর মধ্যে চারজন গুরুতরভাবে আহত—কারও দাঁত ভেঙে যায়, কারও মাথায় আঘাত লাগে, আবার কারও নাক ও মেরুদণ্ডে চোট পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পাল্টা বিক্ষোভ (London News)

    একই সময়ে বামপন্থী সংগঠন “স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম” আয়োজিত “মার্চ এগেইনস্ট ফ্যাসিজম” শীর্ষক পাল্টা বিক্ষোভে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা হাতে প্ল্যাকার্ডে লিখেছিলেন—“শরণার্থীরা স্বাগতম”, “ফ্যাসিবাদ ভাঙো”। অন্যদিকে রবিনসনের সমর্থকরা স্লোগান দেন—“আমরা আমাদের দেশ ফেরত চাই”, “স্টপ দ্য বোটস”, “ওদের ফেরত পাঠাও”। দুই পক্ষের বিক্ষোভ একই দিনে হওয়ায় রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিকেল গড়াতে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বারবার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেট্রোপলিটন পুলিশকে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়।

    ভিডিও বার্তা দেন ইলন মাস্ক

    সভায় ভিডিও বার্তায় যোগ দেন টেসলার মালিক ইলন মাস্ক। তিনি বলেন, অভিবাসনের কারণে ব্রিটেন ধ্বংসের পথে (London News)। সভায় বক্তব্য রাখেন ফ্রান্সের ডানপন্থী রাজনীতিক এরিক জেমুরও, যিনি ইউরোপে মুসলিম অভিবাসনের সমালোচনা করেন। রবিনসন নিজেও অভিযোগ করেন, অভিবাসীরা এখন আদালতে ব্রিটিশ নাগরিকদের চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। সভায় নিহত মার্কিন রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ককে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিক্ষোভে ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জ পতাকা ও যুক্তরাজ্যের ইউনিয়ন জ্যাক উড়তে দেখা যায়। নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ জোর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

  • Daily Horoscope 14 September 2025: পড়াশোনা ও আধ্যাত্মিকতায় রুচি বাড়বে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 14 September 2025: পড়াশোনা ও আধ্যাত্মিকতায় রুচি বাড়বে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) নিজের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

    ২) আজ ভাগ্যোন্নতি হবে।

    ৩) আর্থিক সমস্যা থেকেও মুক্তি পাবেন।

    বৃষ

    ১) কোনও শুভ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের পরামর্শ নেবেন।

    ২) সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে অতিথি আগমন হবে।

    ৩) জীবনযাপন প্রণালী উন্নত করার চেষ্টা করবেন।

    মিথুন

    ১) নিজের উন্নতি স্থায়ী করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

    ২) অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে দূরে থাকুন।

    ৩) ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় বন্ধুদের সহযোগিতা পাবেন।

    কর্কট

    ১) জীবনসঙ্গীর সহযোগিতা পাবেন।

    ২) আর্থিক পরিস্থিতির কারণে চিন্তিত হতে পারেন।

    ৩) ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    সিংহ

    ১) ব্যবসার কারণে বিশেষ ভাবে চিন্তিত থাকবেন।

    ২) পারিবারিক কারণে অস্থির থাকবেন।

    ৩) বাবা ও বয়স্কদের পরামর্শে ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন।

    কন্যা

    ১) উৎসাহের সঙ্গে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করবেন।

    ২) স্বস্তি পাবেন নিজের কর্মক্ষেত্রে।

    ৩) সন্ধ্যাবেলা বন্ধুদের সঙ্গে ধর্মীয় স্থানে যেতে পারেন।

    তুলা

    ১) শত্রুদের পরাজিত করতে পারবেন।

    ২) নিজের দুর্বলতা ত্যাগ করুন।

    ৩) বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন।

    বৃশ্চিক

    ১) ব্যবসায়িক কারণে অবসাদের শিকার হতে পারেন।

    ২) দিনটি প্রতিকূল।

    ৩) কোনও পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজান।

    ধনু

    ১) জিনিস কেনাকাটায় সময় কাটাবেন।

    ২) আজ অধিক পরিমাণে অর্থ ব্যয় হবে।

    ৩) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রেম বাড়বে।

    মকর

    ১) ব্যবসায় ভালো লাভ হবে।

    ২) কোনও সুসংবাদ পাবেন।

    ৩) বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড় ও কৌতুকে সময় কাটাবেন।

    কুম্ভ

    ১) আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মে রুচি বাড়বে।

    ২) ধর্মীয় স্থানে যেতে পারেন।

    ৩) সময়ের সদ্ব্যবহার করুন।

    মীন

    ১) পড়াশোনা ও আধ্যাত্মিকতায় রুচি বাড়বে।

    ২) শত্রুদের থেকে সতর্ক থাকুন।

    ৩) পারিবারিক বিবাদ হতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • PM Modi in Manipur: ‘সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে শান্তির পথে এগোতে হবে’, মণিপুরবাসীকে বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi in Manipur: ‘সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে শান্তির পথে এগোতে হবে’, মণিপুরবাসীকে বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তিই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। মণিপুর মানেই সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। শনিবার হিংসা বিধ্বস্ত মণিপুরে পা রেখে এমনই অভিমত প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মণিপুর সফরে গিয়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মোদি। মণিপুরের মানুষের অদম্য মনোবলকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মণিপুরের এই পাহাড়সমৃদ্ধ ভূমি প্রকৃতির অমূল্য উপহার। একই সঙ্গে এটি আপনার পরিশ্রমের প্রতীক। আমি মণিপুরের মানুষের মনোবলের প্রতি স্যালুট জানাই।” এদিন মণিপুরে ঘরছাড়া মানুষদের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী। শুনলেন তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা। বিগত দুই বছরে কী কী হয়েছে মণিপুরে, তা তাদের কাছ থেকেই জানলেন। ২ বছর ধরে হিংসার আগুনে জ্বলেছে মণিপুর। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। রাষ্ট্রপতির শাসন চলছে মণিপুরে।

    ঘরছাড়াদের সঙ্গে কথা প্রধানমন্ত্রীর

    ২০২৩ সালের ৩ মে হিংসার আগুন জ্বলেছিল মণিপুরে। কুকি ও মেতেই জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, তা মাসের পর মাস, বছর পার করেও চলে। মণিপুরের হিংসায় এখনও পর্যন্ত ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘরছাড়া ৬০ হাজার মানুষ। শনিবার মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে নেমেই দুর্যোগের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ভারী বৃষ্টির মধ্যেই সেখান থেকে সড়কপথে ৬৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে চুড়াচন্দপুরের পিস গ্রাউন্ডের ত্রাণ শিবিরে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা। হিংসার মূলকেন্দ্র চুড়াচন্দপুরে ঘরছাড়া বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি, তাদের হাতে আঁকা ছবি ও ফুলের তোড়া নেন। উপহার দেওয়া পালকের টুপিও পরেন প্রধানমন্ত্রী। চুড়াচন্দপুরে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, মহিলাদের হস্টেল সহ ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এর জন্য খরচ হবে ৭৩০০ কোটি টাকা।

    মণিপুরের নামেই ‘মণি’

    মণিপুরের নামেই ‘মণি’ রয়েছে, যা আগামী দিনে পুরো উত্তরের আভা বাড়াবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, কেন্দ্র সরকার মণিপুরের রেল ও সড়ক সংযোগ প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, “ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে, এবং আমাদের লক্ষ্য যে উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছক।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৪ সাল থেকে মণিপুরে সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, মোট ৪,৭৪৬ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যপরিষেবা, শিক্ষা এবং ডিজিটাল উন্নয়ন।

    শান্তি বজায় রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী মোদি সকল সম্প্রদায়ের কাছে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে শান্তির পথে এগোতে হবে। মণিপুরের এই অঞ্চলে হিংসার প্রভাব পড়েছিল, কিন্তু এখন সকল সম্প্রদায় শান্তির পথে এগোচ্ছে। আমি সকল সংগঠন এবং গোষ্ঠীকে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সাথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই। ভারত সরকার মণিপুরের জনগণের পাশে আছে।”

    রেলপথে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে জুড়ল আইজল

    এদিন রেলপথে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে জুড়ে গেল আইজল। ৮০৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বৈরাবি-সায়রাং রেললাইনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উত্তর মিজোরামের বৈরাবি রেলপথ অসমের শিলচরের সঙ্গে যুক্ত। এই রেলপথ ধরে প্রথম বারের জন্য ট্রেনের চাকা গড়াতে চলেছে মিজোরামে। এই রেলপ্রকল্পের উদ্বোধন করে মোদি বলেন, “আজ থেকে মিজোরামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটল।” শনিবার আইজলে মোট ৯০০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। পাহাড়ি পথে বৈরাবি-সায়রাং রেললাইন তৈরি করতে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। নিজের বক্তৃতায় বৈরাবি-সায়রাং রেললাইন তৈরির জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের ধন্যবাদ জানান মোদি। তিনি বলেন, “পাহাড়ি রাস্তায় বহু প্রতিকূলতার সঙ্গে মোকাবিলা করে আজ এই রেললাইনের উদ্বোধন হল। আমাদের ইঞ্জিনিয়র এবং কর্মীদের মনোবলের জন্যই এটা সম্ভব হল।” বিরোধীদের নিশানা করে মোদি বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরে কিছু রাজনৈতিক দল ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করে এসেছে। কেবল ভোট আর আসন নিয়েই তারা ভেবে এসেছ‌ে। গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত, মিজোরামের মতো রাজ্য এই মনোভাবের জন্য এত কাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

  • Lanza-N Radar: ঘুম উড়বে শত্রুর! ভারতের হাতে এল বিশ্বের সেরা থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার ‘ল্যাঞ্জা-এন’

    Lanza-N Radar: ঘুম উড়বে শত্রুর! ভারতের হাতে এল বিশ্বের সেরা থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার ‘ল্যাঞ্জা-এন’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় বিরাট লাফ ভারতের। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর দুরন্ত প্রতিফলন। আকাশপথে শত্রুর হামলা ঠেকাতে ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) হাতে এল বিশ্বের অন্যতম সেরা থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার (3D-ASR) সিস্টেম।

    ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে লাগল ‘ল্যাঞ্জা-এন’

    পোশাকি নাম ‘ল্যাঞ্জা-এন’ (Lanza-N Radar)। ভারতীয় নৌসেনার জন্য স্পেনের সংস্থা ‘ইন্দ্রা-ল্যাঞ্জা’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতেই এই সর্বাধুনিক আকাশ নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করেছে দেশীয় কোম্পানি ‘টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড’ (টিএএসএল)। ইতিমধ্যেই প্রথম রেডার সিস্টেমটি নৌসেনার (Indian Navy) একটি রণতরীতে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্রমশ, এধরনের আরও ১৯টি থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার সিস্টেম মোতায়েন করা হবে দেশের যুদ্ধজাহাজগুলিতে।

    কর্নাটকে টাটার কারখানায় তৈরি হচ্ছে

    জানা গিয়েছে, এটি ল্যাঞ্জা-এন আসলে ইন্দ্রার তৈরি ল্যাঞ্জা থ্রিডি রেডারেরই নৌ-সংস্করণ। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে কর্নাটকে টাটার কারখানাতে এই রেডারগুলি তৈরি হচ্ছে। এই প্রথম স্পেনের বাইরে ল্যাঞ্জা-এন রেডার (Lanza-N Radar) কাজ করতে চলেছে। ২০২০ সালে হওয়া প্রায় ১৪ কোটি ডলারের (প্রায় ১২৮০ কোটি টাকা) চুক্তির আওতায় অবশেষে এটি মাঠে নামছে। কর্নাটকে টাটার কারখানায় এই রেডারগুলি তৈরি করবে। টিএএসএল জানিয়েছে, প্রথম কমিশনিংয়ের পর, ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার এবং বিমানবাহী রণতরীতে অতিরিক্ত এই রেডার সিস্টেমকে জুড়ে ফেলা হবে।

    বিশ্বের সেরা এয়ার ডিফেন্স রেডারগুলির অন্যতম

    বিশ্বের সেরা দূরপাল্লার এয়ার ডিফেন্স এবং ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী রেডারগুলির মধ্যে এই রেডারের (Lanza-N Radar) স্থান একেবারে উপরের দিকে। এটি ত্রিমাত্রিক মডিউলে কাজ করে। ফলে, আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের উভয় লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে। রেডারটির সীমা প্রায় ৪৭০ কিমি। এটি ড্রোন, সুপারসনিক যুদ্ধবিমান, বিকিরণ-রোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নজর রাখতে পারে। পাশাপাশি নৌ প্ল্যাটফর্মও সনাক্ত করতে পারে এই রেডার। যে কারণে, দূরপাল্লার নজরদারির ক্ষেত্রেও যেমন এর জুড়ি মেলা ভার।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের জয়জয়কার

    বর্তমানে দেশে তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সংখ্যা বেড়েই চলেছে ভারতে। কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগের ফলে, বিদেশি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলি ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে তৈরি করছে একাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। সেই ক্ষেত্রে এই বড় সাফল্য পেল টিএএসএল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Atmanirbhar Bharat) স্লোগানের অন্যতম ফসল এই ত্রিমাত্রিক রেডার। টিএএসএল-এর তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই কৃতিত্ব অর্জন ভারতের প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্থানীয়করণের সঙ্গে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও অ্যাসেম্বলির ক্ষেত্রে এটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।”

  • India vs Pakistan: ‘কেন্দ্রের নীতি মেনেই খেলা হবে’, রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত ভারত

    India vs Pakistan: ‘কেন্দ্রের নীতি মেনেই খেলা হবে’, রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপার সানডে! রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান মহারণ। এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত এবং পাকিস্তান শেষ বার মুখোমুখি হয়েছিল গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচের এক বছর তিন মাস পর আবার তারা মুখোমুখি। অপারেশন সিঁদুরের পর বাইশগজে প্রথম লড়াই।

    ভারত সরকারের নীতিই মানবে বিসিসিআই

    শুক্রবার আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল দুই দলের লড়াইয়ের আগে টিম ইন্ডিয়াকে শুভকামনা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, টিম ইন্ডিয়া কেবল সরকারের নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পটভূমিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে ধুমাল বলেন, “টিম ইন্ডিয়ার জন্য শুভকামনা। সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে খেলব না। তবে এসিসি কিংবা আইসিসি ইভেন্টে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলব। তাই সরকার যা বলবে সেটাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।”

    এশিয়া কাপে আধিপত্যের লড়াই

    এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দল নামাতে চলেছে বিসিসিআই। যা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা দ্বিধাবিভক্ত। একটা অংশের মত, হিংসা আর খেলাধুলো একসঙ্গে চলতে পারে না। আবার কেউ কেউ ক্রিকেটীয় সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। এই আবহে অরুণ ধুমালের মন্তব্য। রবিবাসরীয় দ্বৈরথে পাকিস্তানকে দুরমুশ করে এশিয়া কাপে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া ভারত। শেষ টি-টোয়েন্টি সাক্ষাতের পর দুই দলেই অনেক বদল এসেছে। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা যেমন ভারতের হয়ে আর খেলেন না, তেমনই পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়েছেন বাবর আজম, মহম্মদ রিজওয়ানেরা। ফলে রবিবার যে দুই দল খেলবে, সেখানে অনেকেই নতুন মুখ।

    পাকিস্তানের চিন্তা ব্যাটিং, আফ্রিদি-কে আটকানো লক্ষ্য ভারতের

    জয় দিয়েই এশিয়া কাপ অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান। ওমানকে হারিয়েছে ৯৩ রানে। তবে, পাকিস্তানকে ১৬০ রানের বেশি এগোতে দেয়নি ওমানের বোলিং। পাকিস্তানকে চিন্তায় রেখেছে তাদের ব্যাটিং। পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ব্যাটার ফকর জামান। ভারতের বিরুদ্ধে তিনি ভালো খেলেন। তবে বরুণ চক্রবর্তীর বোলিং সামলানো তাঁর কাছে কঠিন কাজ হতে চলেছে। বরুণের বলে বৈচিত্র এতই বেশি যে আগে থেকে অনুমান করা যায় না পরের বলটা কেমন হতে চলেছে। বরুণের দায়িত্ব থাকবে পাকিস্তানের মিডল অর্ডারকে শান্ত রাখার। ওমান ম্যাচে মহম্মদ হ্যারিসের ইনিংস নজর কেড়েছে। দলের সর্বোচ্চ রান করেছিলেন তিনিই। তার থেকেও বড় কথা, স্ট্রাইক রেটও ভাল রেখেছিলেন। টি-টোয়েন্টিতে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার তিনি। রবিবারের ম্যাচে পাকিস্তান আগে ব্যাট করুক বা পরে, হ্যারিসকে দ্রুত ফেরানোর লক্ষ্য থাকবে ভারতের। আর সেই কাজে যিনি সাহায্য করতে পারেন তিনি কুলদীপ। হ্যারিসের অভ্যাস রয়েছে চালিয়ে খেলার। তাই কুলদীপ বোকা বানিয়ে বোল্ড করার সুযোগ পাবেন। কুলদীপের আঙুলের হালকা মোচড় হ্যারিসকে সাজঘরে ফেরাতে পারে। অন্যদিকে এশিয়া কাপে দুরন্ত শুরু করেছে ভারত। তবে পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি বা সুফিয়ান মুকিম-কে ধরে খেলতে হবে সূর্যকুমারদের।

  • Made in India Rafale: ‘ভারতেই তৈরি হোক ১১৪টি রাফাল’, প্রস্তাব বায়ুসেনার, খতিয়ে দেখছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

    Made in India Rafale: ‘ভারতেই তৈরি হোক ১১৪টি রাফাল’, প্রস্তাব বায়ুসেনার, খতিয়ে দেখছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতেই তৈরি হোক ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান! প্রস্তাব ভারতীয় বায়ুসেনার।

    কেন্দ্রকে অভিনব প্রস্তাব বায়ুসেনার

    চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিচ্ছে মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমান। অবসরের দিকে এগোচ্ছে মিগ-২৯, জাগুয়ার ও মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানগুলিও। সেই যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে যে তেজস মার্ক-১এ অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল, তা দীর্ঘ বিলম্বের শিকার। মোট ১৮০টি তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমানের বরাত দেওয়া রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই একাধিকবার উষ্মাপ্রকাশ করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এহেন পরিস্থিতিতে দেশে যুদ্ধবিমানের সংখ্যা হ্রাসের মোকাবিলা এবং বাহিনীর শক্তি দ্রুত বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এমনই একটি অভিনব প্রস্তাব কেন্দ্রকে দিল ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)।

    ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ রাফাল যুদ্ধবিমান

    সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ১১৪টি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ রাফাল যুদ্ধবিমান (Made in India Rafale) কিনতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে সুপারিশ করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। যুদ্ধবিমানগুলি রাফাল নির্মাণকারী ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একাধিক ভারতীয় সংস্থা তৈরি করবে। বায়ুসেনার পাঠানো স্টেটমেন্ট অফ কেস বা প্রস্তাবটির আর্থিক পরিমাণ ধরা হচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি, যেখানে দেশীয় উপাদানের অংশগ্রহণ থাকবে ৬০ শতাংশেরও বেশি।

    অপারেশন সিঁদুর-এ রাফালের ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুর-এ রাফাল যুদ্ধবিমান কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, তা নিজেদের প্রস্তাবে রাখে বায়ুসেনা। সেখানে রাফাল যুদ্ধবিমানের সাফল্যকে তুলে ধরা হয়। সূত্রের খবর, বায়ুসেনার নোটে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুর অভিযানে রাফাল তার অত্যাধুনিক স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট ব্যবহার করে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চিনা পিএল-১৫ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলকে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছে।

    আরও উন্নত অস্ত্রে সজ্জিত

    সূত্রের খবর, বর্তমান রাফালে যে স্ক্যাল্প মিসাইল আছে, তার থেকে আরও উন্নত, অধিক দূরপাল্লার এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল থাকতে পারে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ রাফালে (Made in India Rafale)। এই স্ক্যাল্প ব্যবহার করেই পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক এবং জঙ্গিদের ঘাঁটিতে নিশানা করেছিল ভারত। ফরাসি সংস্থা ভারতে তৈরি করবে ইঞ্জিন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের আধুনিক কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই হায়দরাবাদে রাফালে ব্যবহৃত এম-৮৮ ইঞ্জিনের জন্য এমআরও ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। উৎপাদনে অংশ নেবে টাটা-সহ একাধিক ভারতীয় সংস্থা।

    খতিয়ে দেখছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

    সূত্রের খবর, বায়ুসেনার (Indian Air Force) থেকে পাওয়া সুপারিশ নিয়ে বর্তমানে প্রতিরক্ষা অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন শাখা এনিয়ে কাজ করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বে ডিফেন্স প্রোকিউরমেন্ট বোর্ডের বৈঠক বসতে পারে। তার পরে, এই বিষয়ে আলোচনায় বসবে রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল। যদি শেষ পর্যন্ত সেই সুপারিশ গৃহীত হয়, তাহলে সেটি ভারত সরকারের স্বাক্ষরিত সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে রাফালে বিমানের (Made in India Rafale) সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৬। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনা ৩৬টি রাফালে পেয়েছে এবং ভারতীয় নৌবাহিনী চুক্তির মাধ্যমে আরও ২৬টি অর্ডার করেছে।

  • India-US Relation: “ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেছে”! ৫০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে সুর নরম করলেন ট্রাম্প

    India-US Relation: “ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেছে”! ৫০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে সুর নরম করলেন ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের (India-US Relation) উপর শুল্ক চাপানো যে সহজ নয়, তা মানলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ করা “সহজ কাজ নয়” কারণ এটি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে। শুল্কের কাঁটায় ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়েছে তিক্ত। এ কথা নিজেই স্বীকার করে নিলেন ট্রাম্প (Donald Trump)।

    কী বললেন ট্রাম্প

    ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “দেখুন, ভারত ওদের (রাশিয়া) সবথেকে বড় গ্রাহক ছিল। আমি ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক (Trump Tariff on India) চাপিয়েছি কারণ ওরা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে। এটা সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু আমি তা করেছি। আমি অনেক করেছি। মনে রাখবেন, এটা আমাদের সমস্যার থেকেও বেশি ইউরোপের সমস্যা।” শুক্রবার ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি ইতিমধ্যেই অনেক কিছু করেছি। আমি সাতটা যুদ্ধ সমাধান করেছি। আমি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যেকার উত্তেজনাসহ অনেক কিছু সমাধান করেছি। যেগুলো অসম্ভব মনে করা হত যেমন কঙ্গো আর রুয়ান্ডা। আমি তা সমাধান করেছি। এটি ৩১ বছর ধরে চলছিল, লাখ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। আমি এমন যুদ্ধও শেষ করেছি, যেগুলোকে বলা হত সমাধান অযোগ্য।”

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি

    একদিকে শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক অবনতি হওয়ার কথা বলছেন, সেখানেই বৃহস্পতিবার তাঁরই মনোনীত ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্গিও গোর বলেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন চায় ভারত রাশিয়ার থেকে তেল ও ক্রুড পণ্য না কিনে, তা আমেরিকার থেকে কিনুক। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের আলোচনা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত, ভারতের উপরে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই যুক্তিই দিয়েছিলেন যে ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কিনছে। ভারত ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছে এবং এই সিদ্ধান্তকে অনৈতিক বলে উল্লেখ করেছে। সম্প্রতি চিন-রাশিয়া ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়াতেই আবার সুর নরম করেছেন ট্রাম্প। বারবার উল্লেখ করেছেন বন্ধুত্ব ও দীর্ঘ সম্পর্কের কথা। সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেন যে, ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত এগোতে পারে। লুটনিক বলেন, “আসলে আমরা ভারতের ব্যাপারটা সমাধান করব, সেখানে বিশেষ কোনও সমস্যা হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করছে ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করছে কিনা তার ওপর।

  • India Welcomes Nepal: সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার’ আশা, নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানাল ভারত

    India Welcomes Nepal: সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার’ আশা, নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত (India Welcomes Nepal)। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির (Sushila Karki) নেতৃত্বাধীন এই সরকারকে “শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছে নয়াদিল্লি। সরকার পতনের পর শুক্রবার অগ্নিগর্ভ নেপালের হাল ধরলেন সে দেশের প্রাক্তন বিচারপতি ৭৩ বছরের সুশীলা কার্কি। এদিন রাতে নেপালের রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য প্রধানদের উপস্থিতিতে শপথ নিলেন তিনি। কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবন শীতল আবাস থেকে বিবৃতি জারি করে সে কথা জানানো হয়েছে।

    স্বাগত বার্তা ভারতের

    নেপালের অন্তর্বতী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রাথমিকভাবে কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহের নাম উঠছিল। কিন্তু ‘জেন জি’-র তরফে তাঁর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এরপরই কার্কির নাম ওঠে এবং তাঁর পক্ষেই সবচেয়ে বেশি সমর্থন মেলে। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী, নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি শুক্রবার রাতে শপথগ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হলেন। সুশীলা (Sushila Karki) নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে দিল্লি। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “আমরা নেপালে সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমরা আশাবাদী যে এই সরকার নেপালে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনার পথে সহায়ক হবে। নিকট প্রতিবেশী, একত্রে গণতান্ত্রিক দেশ এবং দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে, ভারত নেপালের জনগণ এবং দেশের সমৃদ্ধির জন্য ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে।”

    নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী

    নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পোদেল শুক্রবার কাঠমান্ডুতে এক অনুষ্ঠানে সুশীলা কার্কিকে (Sushila Karki) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করান। উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। ৭৩ বছর বয়সি কার্কি ছয় মাসের মধ্যে নতুন সংসদীয় নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন। সৎ ও স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত কার্কি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পরই কার্কির নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। ওলি দেশজুড়ে নেপালের যুব সমাজের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়ে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। এই বিক্ষোভ শুরু হয় ওলির সরকারের বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ঘিরে — যা নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন বলে বিবেচিত। রাষ্ট্রপতি, সেনাবাহিনী এবং “জেনারেশন জেড” আন্দোলনকারীদের মধ্যে একাধিক বৈঠকের পরই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য চূড়ান্ত করা হয়।

    ভারতকে পাশে থাকার আহ্বান

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলার নাম কার্যত নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, “মোদিকে আমি নমস্কার জানাই। আমি তাঁকে সম্মান করি। ভারতের প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা এবং স্নেহ রয়েছে। কারণ, তাঁরা সর্বদা নেপালের পাশে থেকেছেন।” নেপালে সরকার পতনের তিন দিনের মাথায় গঠিত হল অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার রাতে তিনি রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের (Ramchandra Poudal) কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন ৭২ বছর বয়সি সুশীলা (Sushila Karki)। তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি রাম সহায় এবং প্রধান বিচারপতি প্রকাশ সিং রাওয়াত। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাবুরাম ভট্টরাই।

    নেপালে পরবর্তী নির্বাচন কবে

    বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সুশীলা কার্কিকে (Sushila Karki) মনোনীত করেন আন্দোলনকারী ছাত্র যুবরা। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় তাঁর কাছে এই প্রস্তাবে সম্মতি চাওয়া হলে তিনি প্রস্তাব বিবেচনার জন্য কমপক্ষে ১ হাজার স্বাক্ষর চেয়েছিলেন। পরে তাঁর পক্ষে প্রায় ২ হাজার ৫০০ স্বাক্ষর জমা পড়ে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে সম্মত হন সুশীলা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কির নিয়োগের কড়া সমালোচনা করেছে নেপালের মাওয়িস্ট পার্টি। শুক্রবার রাতে সুশীলা কার্কির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করে নেপালি সংসদের দুই কক্ষের প্রধানরা। রাষ্ট্রপতির পক্ষে থেকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও স্পিকার দেবরাজ ঘিমিরে এবং জাতীয় সংসদের চেয়ারম্যান নারায়ণ দাহাল শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। নেপালের জেন জি আন্দোলকারীদের কোর কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আগামী নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দেবার কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে নেপালের পরবর্তী নির্বাচন করতে হবে। সূত্র অনুসারে, ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নেপালের পরবর্তী নির্বাচন হবার কথা।

  • Supreme Court: ধর্ষণ ও সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্কের পার্থক্য খুঁজতে হাইকোর্টগুলিকে চার ধাপের সুপ্রিম নির্দেশ

    Supreme Court: ধর্ষণ ও সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্কের পার্থক্য খুঁজতে হাইকোর্টগুলিকে চার ধাপের সুপ্রিম নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, ধর্ষণ ও সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্কের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। শীর্ষ আদালতের মতে, যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিযোগ যাচাই করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার, কারণ সব অভিযোগকে একইভাবে দেখা যায় না। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বিয়ে করার ইচ্ছা না রেখেও কেবলমাত্র যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এদিন স্পষ্ট হল, শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে ভিত্তি করে প্রতিটি যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যায় না। কারণ অনেক সময় সম্পর্ক ভেঙে গেলে বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে অভিযোগ ওঠে, যা সবসময় ধর্ষণের আওতায় পড়ে না।

    কী বললেন বিচারপতিরা?

    এই মামলায় বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, মিথ্যা বা অযথা অভিযোগ কেবল অভিযুক্তের ভাবমূর্তি নষ্ট করে না, বরং বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার ঘটায়। আদালতের ভাষায়, “ভিত্তিহীন অভিযোগে সমন জারি করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, যা অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্মানকে কলঙ্কিত করে।”

    মামলার প্রেক্ষাপট (Supreme Court)

    ২০১৪ সালে এক মহিলা অভিযোগ করেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০১০ সাল থেকে তার উপর ধর্ষণ, অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক, শারীরিক নির্যাতন এবং জাতিগত অপমান চালিয়েছেন। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তের বাবা-মাকেও মামলায় জড়ানো হয়। চার বছর পর মামলা দায়ের হওয়ায় অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ম্যাজিস্ট্রেট ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৬ (ধর্ষণ) অনুযায়ী সমন জারি করেন, যা পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বহাল রাখে।

    সম্মতিসূচক সম্পর্ক ছিল, দাবি অভিযুক্তের আইনজীবীর

    অভিযুক্ত ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। তাঁর পক্ষের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাহুল কৌশিক জানান, সম্পর্কটি ছিল সম্পূর্ণ সম্মতিসূচক, কিন্তু ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিশোধমূলকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ (Supreme Court)

    সুপ্রিম কোর্ট অভিযোগ খারিজ করে জানায়, মামলায় কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বা স্থানের উল্লেখ নেই এবং কেন চার বছর পরে অভিযোগ দায়ের করা হলো তারও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শীর্ষ আদালত বলেছে, এই ধরনের অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই এবং মূলত এটি ভাঙা সম্পর্কের একটা প্রতিশোধমূলক রূপ।

    চার ধাপের পরীক্ষা

    এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court), হাইকোর্টগুলোর (High Courts) জন্য একটি চার ধাপের পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে, যা ধারা ৪৮২ সিআরপিসি (বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ধারা ৫২৮) অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

    প্রথমত – অভিযুক্ত যে প্রমাণ দিচ্ছে, সেটা একেবারে পরিষ্কার, নিখুঁত এবং সন্দেহহীন হতে হবে।

    দ্বিতীয়ত – যদি ওই প্রমাণকে সত্যি ধরা হয়, তাহলে অভিযোগের ভিত্তি পুরো নষ্ট হচ্ছে কিনা, আর সাধারণভাবে একজন মানুষ ওই অভিযোগকে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করবে কি না, সেটা দেখতে হবে।

    তৃতীয়ত – অভিযোগকারী সেই প্রমাণের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে পারছে কি না, বা প্রমাণটা এমন যা বাস্তবে কোনওভাবেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

    চতুর্থত – আদালতকে দেখতে হবে মামলাটা চালিয়ে গেলে সেটা কি বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার হবে, আর ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করবে কি না।

    এই চারটি শর্ত পূর্ণ হলে, হাইকোর্টের উচিত মামলা খারিজ করে দেওয়া। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি অকারণ হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন এবং আদালতের মূল্যবান সময়ও সাশ্রয় হবে।

    সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের গুরুত্ব

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় শুধু এই মামলার জন্য নয়, ভবিষ্যতের বহু মামলার ক্ষেত্রেও পথ দেখাবে। দেশে প্রায়ই দেখা যায়, ভালোবাসার সম্পর্কে থাকাকালীন শারীরিক সম্পর্ক হয়। সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে অনেক সময় ক্ষোভ বা প্রতিশোধ থেকে ধর্ষণের মামলা করা হয়। এতে আসল ধর্ষণ মামলার গুরুত্ব কমে যায় এবং আইনের অপব্যবহার বাড়ে। সুপ্রিম কোর্ট এবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, সব অভিযোগকে অন্ধভাবে গ্রহণ করা যাবে না। আদালতকে ভালো করে দেখতে হবে—অভিযোগ কতটা বিশ্বাসযোগ্য, প্রমাণ কতটা পরিষ্কার, আর অভিযোগকারিণী কেন দেরি করে মামলা করেছেন। এসব খুঁটিনাটি না দেখলে নির্দোষ মানুষ অকারণে ফেঁসে যায়, সমাজে তাঁর সম্মান নষ্ট হয় এবং বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে মিথ্যা বা প্রতিশোধমূলক অভিযোগ কমবে। আদালতগুলো এখন থেকে আরও সতর্কভাবে প্রতিটি মামলা খতিয়ে দেখবে। এতে একদিকে যেমন নির্দোষ মানুষ অন্যায়ভাবে হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন, তেমনি সত্যিকারের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাওয়া আরও সহজ হবে। ফলে বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে এই রায় একটি বড় দিশা হয়ে থাকবে।

LinkedIn
Share