Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Anti-Stealth Radar Grid: এফ-৩৫ থেকে জে-৩৫— এখন নজরে সবাই, অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার প্রযুক্তিতে বিরাট লাফ ভারতের

    Anti-Stealth Radar Grid: এফ-৩৫ থেকে জে-৩৫— এখন নজরে সবাই, অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার প্রযুক্তিতে বিরাট লাফ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট (FGFA) মোকাবিলায় ভারত এমন এক অত্যাধুনিক অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিড (Anti-Stealth Radar Grid) উন্মোচন করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ (F-35), রাশিয়ার সু-৫৭ (Su-57) এবং চিনের জে-৩৫ (J-35) স্টেলথ যুদ্ধবিমান সনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম।

    ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ঘোষণা

    অপারেশন ‘সিন্দুর’-এর (Operation Sindoor) পর ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র (DRDO) নেতৃত্বে ভারত সরকার ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (Mission Sudarshan Chakra) ঘোষণা করেছে। এই মিশনের অধীনে ডিআরডিও-সহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সংস্থাকে পরবর্তী প্রজন্মের রেডার প্রযুক্তি উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য স্টেলথ বিমান ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন সহ আকাশ-পথে ধেয়ে আসা হুমকির মোকাবিলা করা।

    স্টেলথ-বিপদের মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি

    স্টেলথ প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানগুলির রেডার ক্রস-সেকশন (Radar Cross-Section) অত্যন্ত কম, ফলে প্রচলিত রেডার ও এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক (India Air Defence) এড়িয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে সহজ হয়। বিশ্বজুড়ে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার দৌড়ে ভারতও পিছিয়ে নেই। একদিকে যেমন অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (এএমসিএ) প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশ, তেমনই অন্যদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার-স্টেলথ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে।

    অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিডের বৈশিষ্ট্য

    ভারতের নতুন অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিডটি (Anti-Stealth Radar Grid) প্যাসিভ কোহেরেন্ট লোকেশন রেডার (PCLR) প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই প্রযুক্তিকে জাতীয় ‘লো অবজারভেবল ডিটেকশন নেটওয়ার্ক’ (LODN)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

    কীভাবে কাজ করে পিসিএলআর?

    পিসিএলআর একটি প্যাসিভ মাল্টি-স্ট্যাটিক রেডার ব্যবস্থা, যা নিজে কোনও রেডিও সিগন্যাল ছোড়ে না। প্রচলিত রেডারের মতো তরঙ্গ পাঠিয়ে প্রতিফলন শোনার পরিবর্তে, এই ব্যবস্থা পরিবেশে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান সিগন্যাল—যেমন এফএম রেডিও সম্প্রচার—ব্যবহার করে, তাদের সনাক্তকরণ করে। আকাশে কোনও বিমান চলাচল করলে ওই সিগন্যালের মধ্যে যে ব্যাঘাত ঘটে, তা বিশ্লেষণ করে বিমান সনাক্ত ও ট্র্যাক করা হয়। ফলে রেডারের অবস্থান গোপন থাকে।

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় শক্তিবৃদ্ধি

    নতুন অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিডটি আকাশ প্রতিরক্ষায় ভারতের বিদ্যমান দেশীয় ও আমদানিকৃত ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। এর মধ্যে রয়েছে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ (S-400), বারাক-৮ এবং স্পাইডার সিস্টেম। এই সমন্বয়ের মাধ্যমে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিড (Anti-Stealth Radar Grid) ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে এবং ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে দেশকে কৌশলগত বাড়তি সুবিধা দেবে।

  • S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তান। তাদের পাশে না দাঁড়ানোর জন্য পোল্যান্ডকে বিশেষ বার্তা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। পাকিস্তানের জঙ্গিনীতি থেকে দূরে থাকাই উচিত ওয়ারশ রাজনীতির। সোমবার পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কিকে এই বার্তায় দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কি। সোমবার ছিল তার সফরের শেষদিন। আর এই সফর শেষের আগে বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে পোল্যান্ডকে সাফ বার্তা ভারতের।

    জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ, সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তা

    সূত্রের খবর, ভারত ও পোল্যান্ড দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে এসেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ। আর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরের সমস্যা মেটাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলেও জানায় ভারত। এমনকি সন্ত্রাসবাদে মদত না দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সরাসরি ইসলামাবাদের নাম না নিলেও পাকিস্তানকে তোপ দেগেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর বলেন-“আমরা আশাবাদী, পোল্যান্ড সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই চলবে।” জয়শঙ্করের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান সফরের সময় পোল্যান্ড কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর বলেন, পোল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়টি জানে। তিনি বলেন, “উপপ্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অঞ্চল সম্পর্কে অবগত এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানেন। পোল্যান্ডের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং আমাদের প্রতিবেশী সন্ত্রাসী পরিকাঠামোকে কোনওভাবেই উৎসাহ না দেওয়া।”

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের পর সিকোরস্কি সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি জানান, পোল্যান্ড নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসমূলক হামলার শিকার হয়েছে। সিকোরস্কি বলেন, “সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথে চলন্ত ট্রেনের নিচে বিস্ফোরণ ঘটে, যা কার্যত রাষ্ট্র-সন্ত্রাসের উদাহরণ।” ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসে অর্থ জোগানো এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে সতর্ক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত।

    রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক ও প্যারিসে আগেও আমি ইউক্রেন সংঘাত ও তার প্রভাব নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। একই সঙ্গে বলেছি, ভারতের বিরুদ্ধে এই নির্বাচনীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া অন্যায় ও অযৌক্তিক। আজও আমি সেই কথাই পুনরায় বলছি।” জবাবে সিকোরস্কি বলেন, “নির্বাচনী টার্গেটিং শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আরও নানা রূপ রয়েছে।”

     

     

     

     

     

  • India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সম্পর্কে আরও উষ্ণতা যোগ হল আবু ধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের (India UAE meeting) ভারত সফরে। মাত্র দুই ঘণ্টার সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট, ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক (India UAE relation) এখন শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।

    ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক

    সোমবার সুদূর সংযুক্ত আমিরশাহি থেকে ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতেই চলে বৈঠক। আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই ঝটিকা সফরের কিছু মুহূর্ত নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্য়ান্ডেলে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদি লিখেছেন, ‘আমার ভাই, প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক।’

    ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী বৈঠক

    নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষায় ভারতে এসেছিলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। ছিলেন মাত্র তিন ঘণ্টা। এর মধ্য়েই নানা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে দু’পক্ষের মধ্যে। জায়েদের সফর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগ থেকে মহাকাশ গবেষণা — নানাবিধ বিষয়ে হাত মেলাতে প্রস্তুত হয়েছে ভারত এবং আরব আমিরশাহি। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমিত এবং বর্ধিত পরিসরের আলোচনা হয়। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রের কথায়, বৈঠকের সময় কম হলেও সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট সই হয়, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। মহাকাশ ক্ষেত্রে দু’টি লঞ্চ সুবিধা এবং স্যাটেলাইট প্রস্তুত কারখানা তৈরির জন্যও চুক্তি হয়েছে, যা দু’দেশের যৌথ মহাকাশ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা

    বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। শক্তি খাতে আমিরাত প্রতি বছর ভারতের জন্য ০.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএই দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা নেবে। ভারত ও আমিরশাহি স্বাগত জানিয়েছে এইচপিসিএল (HPCL) এবং এডিএনওসি (ADNOC Gas)–এর মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি (LNG) সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরকে (India UAE energy deal)। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে ভারত বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে। এর ফলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা আরও স্থিতিশীল হবে।

    পরমাণু শক্তি ব্যবহার

    শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার দরজা খোলা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবারের মতো দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের নতুন শান্তি (SHANTI) আইন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ করবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করেছে।

    এআই, ডেটা ও ডিজিটাল সহযোগিতা

    অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের পক্ষ থেকে গুজরাটের ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন, ডেটা সেন্টার, সুপার কম্পিউটিং এবং এআই সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। ‘ডেটা এম্বাসি’ ধারণা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে, যা সার্বভৌম ডেটা ব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে (India UAE AI cooperation)। দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে একটি সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। আমিরশাহি ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডিজিটাল এমবাসি নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। শেখ মহম্মদ ২০২৬ সালে ভারতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (AI Impact Summit) আয়োজনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    মহাকাশ গবেষণা

    একই ভাবে মহাকাশ গবেষণার স্বার্থেও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত-আরব আমিরশাহি। এর ফলে উপগ্রহ তৈরি থেকে লঞ্চিং- স্পেস সেক্টরে যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ

    খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা ভারতীয় কৃষক ও আমিরাতের খাদ্য সরবরাহ চাহিদা। উভয় দিকেই সুবিধা দেবে। এই আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০৩২ সালের মধ্য়ে ভারত-আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবি। টার্গেট ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গুজরাটে তৈরি হবে আবু ধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস। বাড়বে কর্মসংস্থান, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একমত

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রাথমিক চুক্তিপত্র (Letter of Intent) সই করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সফর ও যৌথ মহড়া দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। দুই নেতা সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন।

    ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠা

    আবুধাবিতে ৪৫ লক্ষ ভারতীয় বাসিন্দার জন্য ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য বৃদ্ধি, যুব বিনিময় কর্মসূচি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, এসব বিষয়েও দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়

    ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিও রয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবির। ২০১৯ সালের অগস্টে মোদির আবু ধাবি সফরের সময় তাঁর হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জায়েদ’ তুলে দিয়ে, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবির তৎকালীন শাসক জায়েদ ২০২২ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরশাহি ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস (BRICS) সভাপতিত্বকে সমর্থন করেছে। ভারত সমর্থন করেছে আমিরশাহির জল সম্মেলন (UN Water Conference 2026)-কে।

  • Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা হোক কিংবা অন্ত্রের সমস্যা, মানসিক অবসাদ-বিষন্নতার মতো জটিল সমস্যা, সবটাই নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে একটি হরমোন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ডোপামিন হরমোন নামে একটি হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমানো সহজ হয়। ডোপামিন হরমোনকে ‘সুখ’ হরমোন বা ‘feel good’ হরমোন বা ‘happy’ হরমোন বলা হয়ে থাকে। এই সুখ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কয়েকটি বিষয়ে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।

    কোন কোন রোগ নিয়ন্ত্রণে ডোপামিন হরমোন সাহায্য করে?

    রোগ নিরাময়ে সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও ডোপামিন হরমোন একাধিক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা স্বাভাবিক রাখে এই হরমোন। হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে হৃদপিন্ড, ফুসফুস, অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ডোপামিন হরমোন স্ট্রেস হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই জটিল অস্ত্রোপচারের পরে শরীরে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম ডোপামিন হরমোন দেওয়া হয়। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরের নিজস্ব উপায়ে এই হরমোন ক্ষরণ ঠিকমতো হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

    অন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই হরমোন বিশেষ উপকারি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই বারবার মলত্যাগ করার প্রবণতা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমের মতো উপসর্গ কমাতে এই সুখ হরমোন বিশেষ সাহায্য করে। বিপাক ক্রিয়া যাতে ঠিকমতো হয়, সেই কাজেও এই হরমোন বিশেষ উপকারি। ডোপামিন হরমোন সবচেয়ে বেশি উপকারি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে অবসাদ, বিষন্নতা, উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে কোন খাবার সাহায্য করে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখার চাবিকাঠি খাবারের মধ্যেই রয়েছে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক ভাবে হরমোন ক্ষরণ করার জন্য খাবারেই ভরসা রাখছেন তাঁরা।

    • ● পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম, চিকেন, মাছ কিংবা মাংসের পদ খেলে শরীরে এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। টাইরোসিন নামে অ‌্যামিনো অ্যাসিড এই হরমোন উৎপাদনে বিশেষ সাহায্য করে। আর প্রাণীজ প্রোটিনে এই অ্যাসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
    • ● কলা, অ্যাভোকাডো, ব্রোকলি, পালং শাকের মতো সব্জি ও ফল ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে‌। খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিনে ভরপুর এই সব্জি ও ফল বিশেষ উপকারি।
    • ● কাঠবাদাম ও কুমড়োর বীজ ম্যাগনেশিয়াম ও টাইরোসিন ভরপুর। তাই ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য রাখতে বিশেষ সাহায্য করে।
    • ● টক দই, পনীরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে টাইরোসিন থাকে। এই খাবারগুলো ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে।
    • ● তবে খাবারের পাশপাশি শরীরে ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত শারীরিক কসরত করা, ভালো গান শোনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Daily Horoscope 20 January 2026: আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 20 January 2026: আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) নানান কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তবে ভয় পাবেন না।

    ২) প্রচুর দায়িত্ব থাকবে, সাহসের সঙ্গে নিজের সেই দায়িত্ব পূরণ করতে পারবেন।

    ৩) যে কোনও কাজ সম্পন্ন হতে থাকবে।

    বৃষ

    ১) কোনও নতুন কাজ শুরুর পরিকল্পনা করে থাকলে সময় অনুকূল নয়।

    ২) ভাগ্য আপনার পাশে থাকবে না।

    ৩) সারাদিনের কাজ সম্পন্ন করে সন্ধ্যাবেলা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

    মিথুন

    ১) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ২) ব্যবসায়ীদের জন্য আজকের দিনটি সাধারণ।

    ৩) ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের আশীর্বাদ পাবেন।

    কর্কট

    ১) শুভ কাজে রুচি দেখাবেন।

    ২) আপনার সিদ্ধান্তের দ্বারা ভবিষ্যতে লাভান্বিত হবেন।

    ৩) কোনও সঙ্গী ব্যবসায়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

    সিংহ

    ১) পুরনো বিবাদের সমাধান হবে।

    ২) মনের মধ্যে আনন্দ জাগবে।

    ৩) প্রেমীর কাছ থেকে কোনও উপহার পেতে পারেন।

    কন্যা

    ১) সেবা ও শুভ কাজে অর্থ ব্যয় করবেন।

    ২) মনের মধ্যে আনন্দ অনুভূতি থাকবে।

    ৩) জীবনসঙ্গীর ওপর কোনও কারণে রেগে থাকবেন।

    তুলা

    ১) অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাপের কারণে পারিবারিক জীবনে অশান্তি থাকবে।

    ২) সন্ধ্যাবেলা স্বস্তি অনুভব করতে পারেন।

    ৩) পরিবারের সদস্যের স্বাস্থ্য সমস্যা থাকবে।

    বৃশ্চিক

    ১) আজকের দিনটি চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ থাকবে।

    ২) গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা ও চুক্তি আপনার অনুকূলে থাকবে।

    ৩) বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভালো সময় কাটাবেন।

    ধনু

    ১) বন্ধুদের কাছ থেকে ধন লাভ।

    ২) সন্ধ্যাবেলা পরিজনদের সঙ্গে শুভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

    ৩) পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটাবেন।

    মকর

    ১) আটকে থাকা টাকা ফিরে পেতে পারেন।

    ২) উচ্চাধিকারিকদের সাহায্যে জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও বিবাদের সমাধান হবে।

    ৩) ব্যবসায়ে ভালো মুনাফা হবে।

    কুম্ভ

    ১) ব্যবসায়ে কোনও বয়স্ক মহিলার আশীর্বাদ পেতে পারেন।

    ২) আজ উন্নতির বিশেষ সুযোগ পাবেন।

    ৩) ধনলাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মীন

    ১) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ২) ভবিষ্যৎ চিন্তা কমবে।

    ৩) ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করতে পারবেন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না

  • Kishtwar Encounter: কিশতওয়ারে ফের গুলির লড়াই, মৃত্যু সেনা জওয়ানের! ৩ জইশ জঙ্গির খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান

    Kishtwar Encounter: কিশতওয়ারে ফের গুলির লড়াই, মৃত্যু সেনা জওয়ানের! ৩ জইশ জঙ্গির খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) কিশতওয়ার (Kishtwar encounter) জেলায় সিংহপোড়া এলাকায় সোন্নার গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ও পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে এক সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সংঘর্ষের সময় ভারী গুলিবর্ষণে আরও সাতজন জওয়ান আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তান সমর্থিত জইশ-ই-মহম্মদের তিনজন জঙ্গি (Jaish-e-Mohammed terrorists) গ্রেনেড ছুড়ে বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

    সেনা -জওয়ান নিহত

    পুলিশ সূত্রে খবর, পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) দু’ থেকে তিনজন জঙ্গি ওই অঞ্চলে লুকিয়ে রয়েছে—এই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই দুপুর নাগাদ সোন্নার গ্রামে অভিযান শুরু করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। অপারেশনটির (Kishtwar encounter) নেতৃত্ব দেয় জম্মু-ভিত্তিক সেনা ইউনিট হোয়াইট নাইট কোর। গুলির লড়াই চলাকালীন আটজন জওয়ান স্প্লিন্টার ইনজুরিতে আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা চলাকালীন একজন জওয়ানের মৃত্যু হয়। জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে ভারতীয় সেনার স্পেশাল ফোর্সেস (SF)-এর এক প্যারাট্রুপার শহিদ হয়েছেন। সোমবার সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। শহিদ সেনার নাম হাবিলদার গজেন্দ্র সিং। সেনা কর্মকর্তাদের মতে, সন্ত্রাস দমন অভিযানের সময় তিনি গুরুতর আহত হন। ভারতীয় সেনার হোয়াইট নাইট কোর তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, “হোয়াইট নাইট কোরের জিওসি এবং সমস্ত পদমর্যাদার সেনাকর্মীরা স্পেশাল ফোর্সেসের হাবিলদার গজেন্দ্র সিংকে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ১৮–১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যরাতে চলমান অপারেশন ‘ ত্রাসি–১’-এর আওতায় সিংপুরা এলাকায় সন্ত্রাস দমন অভিযানে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা তাঁর অদম্য সাহস, বীরত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং এই গভীর শোকের মুহূর্তে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।”

    চলছে তল্লাশি অভিযান

    কিশতওয়ার জেলার (Kishtwar encounter) ওই এলাকায় এখনও তল্লাশি ও অভিযান চলছে। যাতে জঙ্গিরা কোনওভাবেই পালাতে না পারে, তার জন্য ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা। পুলিশ ও সেনা সূত্র জানাচ্ছে, মানদ্রাল–সিংহপোড়া অঞ্চলের কাছে চাট্রুর সোন্নার গ্রামে ‘অপারেশন ত্রাশি–১’-এর অংশ হিসেবে চলছিল কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। দুপুর নাগাদ তল্লাশি অভিযান চলাকালীন আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। জওয়ানরা জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করতেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গিদের গুলির জবাব দিতে গিয়ে কঠিন ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জওয়ানরা ‘অসাধারণ পেশাদারিত্ব’ দেখিয়েছেন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে। কঠিন ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল ও খাড়া ঢালের কারণে রবিবার গভীর রাতে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে সোমবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই কিশতওয়ার জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকায় ফের তল্লাশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। সেনা, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর একাধিক দল ড্রোন ও স্নিফার ডগের সাহায্যে এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না পারে, সে জন্য পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসে বাড়ছে সংঘর্ষ

    চলতি বছর এই নিয়ে তৃতীয়বার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছে জম্মু এলাকায় (Jammu Kashmir)। এর আগে ৭ জানুয়ারি এবং ১৩ জানুয়ারিও গুলির লড়াই হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কিশতওয়ারের চাট্রু এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে জঙ্গিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল সেনা ও পুলিশ। অপারেশন সিঁদুরের পরেই নতুন করে ‘ঘাতক’ হয়ে উঠেছে জইশ সন্ত্রাসীরা। শ্রীনগরে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে হয়ে পড়েছে কৌশলী।

    তীব্র শীতেও সতর্ক সেনা

    সাধারণত ‘চিল্লাই কলান’-এ (অতিরিক্ত শীতের সময়) অভিযান কিছুটা কমে। তবে এবারে সেনা নতুন কৌশলে বরফে ঢাকা উঁচু এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। ধারণা, জঙ্গিরা সেখানেই ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করছে। থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি রাতের অভিযান এবং বিপজ্জনক ভূখণ্ডে অপারেশন চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। তাঁর কথায়, “এই প্রযুক্তি আর সেনার ভূখণ্ড–পরিচিতি মিলিয়ে এখন কোনও এলাকাই নজরদারির বাইরে থাকছে না।” সেনা সূত্রে খবর, অভিযান (Kishtwar encounter) শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও নজর রাখা হচ্ছে। সেনাদের বক্তব্য, অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হলেও জঙ্গিদের পালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। সেনা আধিকারিকদের মতে শান্তি বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।

  • Supreme Court on SSC: এসএসসি মামলায় বয়সে ছাড় নয় এখনই! হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court on SSC: এসএসসি মামলায় বয়সে ছাড় নয় এখনই! হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (Supreme Court on SSC) মামলায় বয়সে ছাড় নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাঁরা সুযোগ পাননি বা যোগ্য কিন্তু চাকরি পাননি, তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বয়সের ছাড় পাবেন। এদিকে সোমবার সেই নির্দেশকেই স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ।

    বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ!

    ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on SSC) জানিয়েছিল, যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত বা দাগি নন (আনটেন্টেড), তাঁরা বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন এবং নির্ধারিত বয়ঃসীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন। এই যুক্তি দেখিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েক জন চাকরিপ্রার্থী। ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাঁরা ছিলেন না। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া যায়নি। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে এই নতুন প্রার্থীরা বয়সে ছাড় চেয়েছিলেন। সেই সময় এই মামলার শুনানি হয়েছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে। যার ভিত্তিতে গত ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাঁদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরেই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।

    শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার শীর্ষ আদালত এই মামলার সকল পক্ষকেই নোটিস জারি করেছে। শুধুমাত্র যে সকল যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা কর্মরত অবস্থায় চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই বয়সের ছাড় প্রযোজ্য় রেখেছে শীর্ষ আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৯ মার্চ। তবে পরবর্তী শুনানির আগে সব পক্ষকেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on SSC)। এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া যোগ্য ও আনসিলেক্টডদের বয়সের ছাড় সংক্রান্ত রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। সুপ্রিম কোর্ট আপাতত শুধুমাত্র চাকরি হারানো প্রার্থীদের বয়সের ছাড়াই বহাল রেখেছে। বাকিদের জন্য বয়সের ছাড় থাকছে না। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল যে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি করছিলেন, কিন্তু প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরি চলে গিয়েছে, তাঁরা নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় পাবেন। কিন্তু যাঁরা যোগ্য অথচ ওই পরীক্ষায় নির্বাচিত হননি, তাঁদের জন্য বয়সের ছাড়ের কথা বলা হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্টের বয়স সংক্রান্ত ছাড়ের রায়ে স্থগিতদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

  • Bhairav Battalion: প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘ভৈরব’ কমান্ডো বাহিনী, জানেন তাদের সম্বন্ধে?

    Bhairav Battalion: প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘ভৈরব’ কমান্ডো বাহিনী, জানেন তাদের সম্বন্ধে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র যখন প্রতিরক্ষা বাহিনীর পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছে, সেই সময়ই আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army) তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রূপান্তর সম্পন্ন করেছে। এই রূপান্তরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীতে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ভৈরব’ লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়নকে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্ভূত নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশনাল কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রতীক হল ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন (Bhairav Light Commando Battalion)। কারণ, এই বিশেষ বাহিনীকে আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী, ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্য পথের কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে নতুন গড়ে ওঠা ভৈরব ব্যাটালিয়নের মার্চপাস্ট।

    ভগবান শিবের ভয়ংকর রূপ ‘ভৈরব’

    ভগবান শিবের ভয়ংকর রূপ ‘ভৈরব’-এর নামে নামকরণ করা এই ইউনিটগুলি সুরক্ষা ও ধ্বংসের প্রতীকী শক্তিকে ধারণ করে—যার মূলে রয়েছে দ্রুততা, নিখুঁত আঘাত এবং ক্ষিপ্র প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা। সেনাবাহিনীর সামগ্রিক আধুনিকীকরণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গঠিত ভৈরব ব্যাটালিয়নগুলি (Bhairav Battalion) প্রচলিত পদাতিক বাহিনী ও অভিজাত প্যারা স্পেশাল ফোর্সের (স্থলসেনার কমান্ডো বাহিনী) মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণ করবে, বিশেষ করে সংবেদনশীল সীমান্তে দ্রুত কৌশলগত অভিযানের জন্য। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যই ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ এবং শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডের ভেতরে ঘাঁটি ও বাহিনীকে লক্ষ্য করে বাস্তব অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করতে সক্ষম।

    ২৫ ব্যাটালিয়ন গড়ার লক্ষ্যে…

    সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী গত বছর ২৬ জুলাই, দ্রাসে কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপনের সময় ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। বিশ্বব্যাপী সংঘর্ষ এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া শিক্ষার ভিত্তিতে সেনা সদর দফতরের উদ্যোগে ‘ভৈরব’ ব্যাটালিয়নগুলো গঠন করা হয়েছে। উচ্চগতির আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে স্পেশাল ফোর্সের দায়িত্ব পালনের জন্য একটি নিবেদিত বাহিনী গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে, সেনাবাহিনী রুদ্র অল-আর্মস ব্রিগেড ও শক্তিবাণ আর্টিলারি রেজিমেন্টের মতো সহায়ক কাঠামোরও সূচনা হয়। এই ব্রিগেডগুলো অল-আর্মস ফরমেশন— অর্থাৎ যেখানে পদাতিক, মেকানাইজড ইউনিট, যুদ্ধট্যাঙ্ক, আর্টিলারি, স্পেশাল ফোর্স এবং ড্রোন ব্যবস্থার পাশাপাশি নিবেদিত লজিস্টিক ও কমব্যাট সাপোর্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রায় ১৫টি ‘ভৈরব’ ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। এগুলোকে দুই সীমান্তেই বিভিন্ন ফরমেশনে মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিকট ভবিষ্যতে মোট প্রায় ২৫টি ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    উদ্দেশ্য ও ভূমিকা

    ভৈরব ব্যাটালিয়নের প্রধান লক্ষ্য হল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত আঘাত, রেকি (গোয়েন্দা নজরদারি) এবং বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযান পরিচালনা করা। সাব-কনভেনশনাল যুদ্ধে উপযোগী করে নকশা করা এই ইউনিটগুলি রাজনৈতিক-সামরিক অভিযানে “লিন অ্যান্ড লিথাল” বিকল্প হিসেবে কাজ করে—যেখানে বড় ফর্মেশনের জটিল লজিস্টিক ছাড়াই তাৎক্ষণিক ‘শক ইমপ্যাক্ট’ প্রয়োজন।
    এই ইউনিটগুলি প্রচলিত পদাতিক ব্যাটালিয়ন (যাদের ভূমিকা দীর্ঘস্থায়ী লড়াই) ও প্যারা স্পেশাল ফোর্স (যারা গভীর, গোপন সীমান্তপার অভিযানের জন্য সংরক্ষিত)—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী অপারেশনাল ব্যবধান পূরণ করে। কার্যত, ভৈরব ইউনিটগুলি সীমান্তের এপারের কৌশলগত দায়িত্ব স্পেশাল ফোর্সের কাঁধ থেকে সরিয়ে দেয়, ফলে তারা কৌশলগত ও গভীর অভিযানে মনোযোগ দিতে পারে। এতে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন ও প্রিসিশন অস্ত্রনির্ভর সংঘাতের জন্য সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি আরও মজবুত হয় এবং চিনের ‘আনরেস্ট্রিক্টেড ওয়ারফেয়ার’ মতবাদসহ আধুনিক হুমকি মোকাবিলা সম্ভব হয়।

    কাঠামো ও সংগঠন

    প্রতিটি ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়নে প্রায় ২৫০ জন সদস্য থাকে, যার মধ্যে ৭–৮ জন অফিসার—যা প্রায় ৮০০ সদস্যের প্রচলিত পদাতিক ব্যাটালিয়নের তুলনায় অনেক ছোট ও অধিক গতিশীল। কর্নেল পদমর্যাদার একজন অফিসারের নেতৃত্বে এই ইউনিটগুলিতে বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে— যেমন এয়ার ডিফেন্স থেকে ৫ জন, আর্টিলারি থেকে ৪ জন এবং সিগন্যালস থেকে ২ জন। এই বিশেষ বাহিনী গঠনে ‘সেভ অ্যান্ড রেইজ’ ধারণা অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ, সেনাবাহিনীর বিদ্যমান ৪১৫টি পদাতিক ব্যাটালিয়ন থেকে প্রত্যেকটি প্রায় ১১ জন করে জওয়ান নির্বাচিত করা হয়। ফলে নতুন নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। প্রাথমিক মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে—নর্দার্ন কমান্ডের অধীনে তিনটি ইউনিট (লেহে ১৪ কোর, শ্রীনগরে ১৫ কোর এবং নাগরোটায় ১৬ কোর), পশ্চিম সেক্টরের মরুভূমি অঞ্চলের জন্য একটি এবং পূর্ব সেক্টরের পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য একটি। সেনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হল, পাকিস্তান ও চিন সীমান্তজুড়ে ২৩–২৫টি ব্যাটালিয়ন গঠন। এই ব্যাটালিয়নগুলি সেনার বিদ্যমান ‘ঘাতক’ প্লাটুন (প্রতি পদাতিক ইউনিটে ২০ জনের আক্রমণ দল) থেকে আলাদা এবং সেগুলির বিকল্প হিসেবে নয়।

    প্রশিক্ষণ ও নির্বাচন

    ভৈরব ইউনিটের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘সন্স অব দ্য সয়েল’ নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিতে অভ্যস্ত সৈন্যদের অগ্রাধিকার, যাতে অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ে। নির্বাচিত সদস্যরা প্রথমে নিজ নিজ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারে ২–৩ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। যেখানে গতি, নমনীয়তা ও কৌশলগত দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়। এরপর এক মাসের জন্য অপারেশনাল থিয়েটারে স্পেশাল ফোর্স ইউনিটের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে উচ্চ-প্রভাবযুক্ত অভিযানের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে মাল্টি-ডোমেন অপারেশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং ড্রোন ব্যবহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, যাতে সৈন্যরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ও গোপন অভিযানে দক্ষ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ব্যাটালিয়নের মতোই প্রতিস্থাপন ব্যবস্থাপনা করা হয়, যেখানে ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টগুলি নির্বাচন ও প্রস্তুতির দায়িত্ব নেয়।

    সরঞ্জাম ও সক্ষমতা

    ভৈরব ব্যাটালিয়নগুলিকে ড্রোন-সক্ষম দ্রুত আঘাতের অভিযানের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নজরদারি ড্রোন, লয়টারিং মিউনিশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম, হালকা যান, মর্টার এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল। সম্প্রতি, বাহিনীকে ৫.৫৬×৪৫ মিমি ক্যালিবারের ৪.২৫ লক্ষ ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটল (CQB) কারবাইন সরবরাহ করেছে ভারত ফোর্জ ও পিএলআর সিস্টেমস। এই কারবাইনগুলো হালকা ও শহুরে/সন্ত্রাস দমন অভিযানের জন্য উপযোগী।পাশাপাশি, জরুরি ভিত্তিতে ১০৪টি জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল ও ১২টি লঞ্চার কেনা হচ্ছে। ড্রোন-সজ্জিত ‘অশনি’ প্লাটুনের মাধ্যমে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড রিকনাইস্যান্স (ISR) সক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে। ন্যূনতম লজিস্টিক সহায়তায় পরিস্থিতিগত সচেতনতা তৈরি ও নিখুঁত আঘাত হানতে এই ইউনিটগুলি বিশেষভাবে দক্ষ—যা হাইব্রিড যুদ্ধপরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর।

    মোতায়েন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    প্রাথমিকভাবে উচ্চ-হুমকিপূর্ণ এলাকায় মোতায়েনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান ও চিন সীমান্তবর্তী সেক্টরগুলিতে ইতিমধ্যেই ইউনিটগুলি কার্যকর। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ছয় মাসের মধ্যে সব ২৫টি ব্যাটালিয়ন কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে বিস্তৃত কভারেজ নিশ্চিত হয়। ভবিষ্যতে বৃহত্তর ফর্মেশনের সঙ্গে এই ব্যাটালিয়নগুলির সংযুক্তিকরণ করা হবে, যাতে দ্রুত ও বহুমুখী আক্রমণ সমর্থন করা যায়। এটি সেনাবাহিনীর জনবল সংকট (১ লক্ষের বেশি ঘাটতি) মোকাবিলা এবং পদাতিক ইউনিটে অননুমোদিত সংযুক্তি কমানোর লক্ষ্যকেও সহায়তা করবে।

    অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে সম্পর্ক

    ভৈরব ব্যাটালিয়নগুলি রুদ্র ব্রিগেডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। রুদ্র ব্রিগেড হলো অল-আর্মস ফর্মেশন, যেখানে পদাতিক, মেকানাইজড উপাদান, আর্মার্ড, আর্টিলারি, স্পেশাল ফোর্স এবং ইউএভি একত্রে কাজ করে। বিদ্যমান দুটি পদাতিক ব্রিগেডকে রুদ্র ইউনিটে রূপান্তর করা হয়েছে, যা কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিনের আওতায় আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ায়। এই কাঠামোতে ভৈরব ইউনিটগুলি বিশেষায়িত কমান্ডো সহায়তা দেয় এবং শক্তিবাণ আর্টিলারি ও পদাতিক জুড়ে ডেডিকেটেড ‘অশনি’ ড্রোন প্লাটুনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে। এর ফলে ১০ প্যারা (স্পেশাল ফোর্স) ও ৫ প্যারা (এয়ারবোর্ন) ব্যাটালিয়নকে সীমান্তপার অভিযানের জন্য মুক্ত রাখা সম্ভব হয়, যা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে।

    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে—যেখানে দ্রুততা ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় আধুনিক হুমকি মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি। দ্রুত ও উচ্চ-প্রভাবযুক্ত অভিযানের মাধ্যমে এই ইউনিটগুলি ভারতের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য ভারতের প্রস্তুতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী যখন এই ফর্মেশনগুলিকে আরও বিস্তৃত ও পরিমার্জিত করছে, তখন ভৈরব ব্যাটালিয়ন জাতীয় নিরাপত্তায় কৌশলগত উদ্ভাবনের এক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।

  • T20 World Cup 2026: টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! টাইগার্সদের খেলতে হবে ভারতেই, জানাল আইসিসি

    T20 World Cup 2026: টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! টাইগার্সদের খেলতে হবে ভারতেই, জানাল আইসিসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতেই খেলতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বাংলাদেশকে (Bangladesh) চুড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বাংলাদেশকে শেষবার সতর্ক করল আইসিসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করে আইসিসি বলেছে, হয় ভারতে খেলুন না হলে অন্য দলকে সুযোগ করে দেওয়া হবে। আইসিসি বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এর মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত না নিলে অন্য কোনও দলকে বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হবে।

    বাংলাদেশকে বার্তা

    গত শনিবার ঢাকায় বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইসিসি’র দুই শীর্ষ কর্তা। বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল, বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় (Srilanka) স্থানান্তর করা হোক। কেন তারা ভারতে (India) খেলতে আসতে চায় না, তা নিয়ে বাংলাদেশে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ক্রিকেটার, সমর্থক সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলদেশ সরকার। তা আইসিসি-র প্রতিনিধিদের জানিয়েছে বিসিবি। এই বৈঠকে বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের কোনও প্রস্তাবে সায় নেই আইসিসি-র। ফলে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ যদি টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে বিকল্প দেশকে নেওয়া হতে পারে তাদের জায়গায়।

    বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড!

    ২০২৬ আইপিএল টুর্নামেন্ট থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই বিসিসিআই (BCCI) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। ইতিমধ্যে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের মাটিতে তারা আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না। ব্যাপারটা নিয়ে ইতিমধ্যে আইসিসি-র সঙ্গে যথেষ্ট টানাপোড়েন চলছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ (ICC T20I World Cup 2026)। আইসিসি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা স্বল্প সময়ের নোটিসে টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে আগ্রহী নয়। সূত্রের খবর, আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো স্থানান্তরের কোনও কারণ দেখছে না। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের কোনও বিপদ নেই। আর সেকারণে ভেন্যু বদলের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত সেই পুরনো কাসুন্দিই ঘেঁটে যাচ্ছে। যদি বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই তাদের বিদায় নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে ব়্যাঙ্কিং অনুসারে, স্কটল্যান্ড ক্রিকেট দল ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

  • Jayrambati New Train: মা সারদার জন্মভিটেতে গড়াল রেলের চাকা, জয়রামবাটিতে খুশির জোয়ার

    Jayrambati New Train: মা সারদার জন্মভিটেতে গড়াল রেলের চাকা, জয়রামবাটিতে খুশির জোয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। মা সারদার জন্মভিটেয় পৌঁছল রেলের চাকা। জটিলতা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর রেল যোগাযোগ। ০৮০৯৫ জয়রামবাটি-বাঁকুড়া মেমু আজ, ১৯ জানুয়ারি থেকে বাঁকুড়া ও জয়রামবাটীর মধ্যে আপ ও ডাউন একবার করে চলবে। ট্রেনটি দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ছেড়ে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে বাঁকুড়া পৌঁছনোর কথা।

    জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ

    মা সারদার পবিত্র জন্মভূমি জয়রামবাটিতে গড়াল বহু প্রতিক্ষিত রেলের চাকা। জীবদ্দশায় মা সারদা কলকাতা যাতায়াত করতেন বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে। এজন্য তাঁকে জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুর স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা যাতায়াত করতে হত গরুর গাড়িতে। সেই জয়রামবাটিকে রেলপথে যুক্ত করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ভাবাদিঘির জমিজটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত থমকে ছিল রেলপথ নির্মাণের কাজ। চলতি বছরের মার্চ মাসে এই জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ২৭ মার্চ জয়রামবাটি পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চালিয়ে ওই লাইনে ট্রেন চলাচলে সবুজ সংকেত দেয় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। এরপরে জোরকদমে শুরু হয় ট্রেন চলাচলের অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরীর কাজ।

    প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ট্রেন চলাচলের সূচনা

    রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরে এসে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা করার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীবাহী একটি ট্রেন মা এর গাঁ হিসেবে পরিচিত জয়রামবাটি স্টেশন থেকে ছেড়ে বাঁকুড়ার উদ্যেশ্যে রওনা দেয়। রেলের তরফে জানানো হয়েছে আপাতত একটি ট্রেন প্রতিদিন বাঁকুড়া থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত যাতায়াত করবে। অদূর ভবিষ্যতে এই রেল লাইন তারকেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হলে সরাসরি হাওড়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর ফলে শুধু এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির বদল হবে তাই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনেরও যথেষ্ট বিকাশ ঘটবে। জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা লগ্নে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন ও মন্দিরের সাধু-সন্ন্যাসীরা। ছিলেন জয়রামবাটি-সহ আশপাশের বহু এলাকার মানুষ। বহু গুণীজন ও মা সারদার ভক্তরা স্বপ্নপুরণের সাক্ষী থাকতে হাজির হয়েছিলেন মাতৃ মন্দিরের আদলে তৈরী সুদৃশ্য জয়রামবাটি স্টেশনে।

LinkedIn
Share