Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • ICC T-20 Ranking: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সিংহাসনে ভারত, দু মাস মাঠে না নেমেও আইসিসির তালিকায় শীর্ষে বিশ্বজয়ীরা

    ICC T-20 Ranking: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সিংহাসনে ভারত, দু মাস মাঠে না নেমেও আইসিসির তালিকায় শীর্ষে বিশ্বজয়ীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC Ranking) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রমতালিকায় শীর্ষ স্থানে ভারত। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। মাঠের মতো আইসিসির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রমতালিকাতেও এখন সেরা সূর্যকুমারেরা। মঙ্গলবার আইসিসি দলগুলির যে ক্রমতালিকা প্রকাশ করেছে তাতে শীর্ষে রয়েছে ভারত। ভারতীয় দলের রেটিং ২৭৫। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়া ইংল্যান্ড। তাদের রেটিং ২৬২।

    ক্রম তালিকায় কে কোথায়

    গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রানার্স নিউজিল্যান্ড রয়েছে চতুর্থ স্থানে। মিচেল স্যান্টনারের দলের রেটিং ২৪৭। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব বিদায় নিলেও ক্রমতালিকায় তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং ২৫৮। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকাও রয়েছে ক্রমতালিকায় পঞ্চম স্থানে। প্রোটিয়াদের রেটিং ২৪৪। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। তাদের রেটিং ২৪০। দু’বারের বিশ্বজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩৩ রেটিং নিয়ে সপ্তম স্থানে। বিশ্বকাপ না খেলা বাংলাদেশ রয়েছে ক্রমতালিকায় আট নম্বরে। লিটন দাসের দলের রেটিং ২২৫। নয় এবং দশ নম্বরে রয়েছে এশিয়ার অন্য দুই দেশ শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান। এই দু’দেশের রেটিং যথাক্রমে ২২১ এবং ২২০।

    সেরা ব্যাটার অভিষেক

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সূর্যকুমার যাদবের দল এখনও মাঠে নামেনি। ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ থেকেই এই ফরম্যাটে সেরা ভারত। ২০২৪ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এই দু’বছরে একটাও সিরিজ হারেনি টিম ইন্ডিয়া। এমনকী, ২০২৬ বিশ্বকাপটাও ভারত খেতাব জেতে। যার সুফল টিম ইন্ডিয়া পেয়েছে আইসিসি ক্রমতালিকাতেও। ব্যক্তিগত ক্রমতালিকাতেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেই ভারতীয়রাই। ব্যাটারদের ক্রমতালিকায় প্রথম তালিকায় রয়েছেন অভিষেক শর্মাই। দু’নম্বরে ভালো ফর্মে থাকা ঈশান কিষান। পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান তৃতীয় স্থানে। বোলারদের শীর্ষস্থান অবশ্য খুইয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। তিনি রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। যশপ্রীত বুমরা রয়েছেন পঞ্চম স্থানে।

  • TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ১৫ বছরের সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হতেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে দোষারোপের পালা। দীর্ঘদিন ধরে মনের ভিতর জমে থাকা ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোতে শুরু করেছে। এঁদের মধ্যে কেউ জেলাস্তরের দলের সাংগঠনিক নেতা, তো কেউ বঞ্চিত টিকিটপ্রার্থী। নির্বাচনে তৃণমূল পর্যুদস্ত হতেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে এক এক করে যাবতীয় রাগ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলের এই নেতানেত্রীরা। কারও মুখে দলের পরাজয়ের কারণ, তো কেউ ফাঁস করছেন টিকিট নিয়ে কালোবাজারির কথা। কেউ কেউ তো আবার সরাসরি হারের জন্য নাম করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের ভোট-কুশলী সংস্থা আই-প্যাককে দায়ীও করেছেন।

    ‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’

    এবারের নির্বাচনে গোটা উত্তরবঙ্গ পদ্মময়। কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল। এই প্রেক্ষিতে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানত্রী পাপিয়া ঘোষের সাফ কথা, “তৃণমূলে আমরা ছিলাম চাকর। তাই এমন হওয়ার ছিল। গত ৫ বছরে দল চলেছে শুধু-মালিক আর চাকর হিসাবে। আমাদের কাজ ছিল চাকর হয়ে নির্দেশ মানা।” তৃণমূলের এই দাপুটে নেত্রী বলেন, ‘‘২০২১ থেকে ২০২৬, এই পাঁচ বছর দল আর আগের মতো সিস্টেমে চলেনি। কোথাও যেন মনে হয়েছে গোটা দলটাই মালিক আর চাকরের হয়ে গিয়েছে। এই সময়কালে সিন্ডিকেট-রাজ মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে। আমাদের তো কথা বলার জায়গাই ছিল না। যে এজেন্সি এসেছিল তাঁদের হয়তো যাঁরা মিষ্টির প্যাকেট দিতে পারতেন তাঁদের কথা উপরে যেত।’’ তাঁর মতে, বাংলার সাধারণ মানুষ তৃণমূলের মতো দলকে প্রত্যাখ্যান করেনি। প্রত্যাখ্যান করেছে দাম্ভিক, অহংকারী নেতাদের।

    ‘অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক’

    উত্তরবঙ্গের আরও এক তৃণমূল নেতা হারের জন্য সরাসরি অভিষেককে দায়ী করেছেন। শিলিগুড়ি জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অত্রিদেও শর্মার দাবি, শওকত, জাহাঙ্গিরের মতো অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। মানুষ এসব ভালোভাবে নেয়নি। আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা ছিল। রাজ্যস্তরের নেতারা কিছুই করতে পারছিল না। সব এদের মাধ্যমে হচ্ছিল। ফলে কোনও কিছুই সংগঠিতভাবে ছিল না। সবার দম্ভ দেখে মনে হয়েছিল আমরা যেভাবে চাইব সেভাবেই নির্বাচন হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রচেষ্টায়, নির্বাচন কমিশনের তীক্ষ্ণ নজরে আমরা আমাদের মতো ভোট করাতে পারিনি।”

    ‘দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’

    ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও সরাসরি তোপ দেগেছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “একজন ব্যক্তি দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” কৃষ্ণেন্দুবাবুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ করে রাখা হয়েছিল। টিভিতে নেত্রীর লাঞ্ছনার দৃশ্য দেখে ব্যথিত এই প্রবীণ নেতা বলেন, “মমতাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমন দৃশ্য রাজনৈতিক জীবনে দেখিনি।” প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভিষেককে একহাত নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, হরিশ্চন্দ্রপুরে এমন একজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে যাঁর ভাষাজ্ঞান নেই, আবার রতুয়ায় দাঁড়িয়েছেন ৮৪ বছরের এক অশক্ত বৃদ্ধ। এই ভুল সিদ্ধান্তের মাসুলই দিচ্ছে দল।

    ‘ঔদ্ধত্ব ও অহংকার…পতনের মূল কারণ’

    চুঁচুড়া আসন নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। পোড়খাওয়া ও বর্ষীয়ান নেতা অসিত মজুমদারকে সাইডলাইন করে তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‘আমরা অনেক দক্ষ লোক ছেড়ে, অদক্ষ লোক নিয়ে সংগঠন তৈরি করার চেষ্টা করেছিলাম। একবারে সমস্ত পুরনো নেতাদের বাদ দেওয়া দলের কর্মীরা ভালো চোখে নেয়নি। অনেকের ঔদ্ধত্ব ও অহংকার হয়ে গিয়েছিল যে, আমরাই হয়তো শেষ কথা বলার লোক। সেটাও মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। আর এটাই পতনের মূল কারণ।’’ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোট কুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর সাফ কথা, দলের পুরনো ও অভিজ্ঞ ঘোড়াদের বসিয়ে দিয়ে ‘ভাড়াটে’ দিয়ে দল চালাতে যাওয়ার মাসুল দিতে হয়েছে এই নির্বাচনে। অসিত বলেন, ‘‘যাঁদের বাদ দেওয়া হল, তাঁদের সঙ্গে অন্তত আলোচনার প্রয়োজন ছিল। আই-প্যাকের প্রয়োজন আমাদের কখনও হয়নি। সিপিএমের চরম অত্যাচারের সময় যখন আমরা দুটো নির্বাচন জিতেছি, তখন তো কোনও ভাড়ার লোক লাগেনি!’’

    ‘আগে ভদ্র লোকেরা তৃণমূল করত’

    বর্ধমানের তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান তৃণমূলের এই পরাজয়ের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তোলাবাজদের সংস্থার মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠন করা, মাতাল গাঁজাখোরদের এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়া হলে এটাই হবে। তাঁর দাবি, ‘‘আগে ভদ্র লোকেরা পার্টি করত, কিন্তু এখন যাদের হাতে পার্টিটা দিয়েছে, তারা কেউ কোনও দিন তৃণমূল করেনি। কেউ ১০১২, কেউ ২০১৬-এ দলে এসেছে। তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পর দলে এসেছে। এই অহংকার ও দাম্ভিকতার জন্য তৃণমূলের এই হাল।’’

    ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’

    অসিতের মতোই এবারের নির্বাচনে টিকিট পাননি প্রাক্তন ক্রিকেটার-বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি। তাঁর বদলে তৃণমূল এবার শিবপুরে প্রার্থী করেছিল রানা চট্টোপাধ্যায়কে। ঘাসফুলের সেই শক্ত ঘাঁটিতেই ফুল ফুটিয়েছেন বিজেপি-র রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। পাঁচ বছর আগে, একুশের বিধানসভা ভোটে হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী রথীন চক্রবর্তীকে তিরিশ হাজারের উপর ভোটে হারিয়েই বিধায়ক হন তিনি। এরপর মনোজকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার, তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর মনোজের ইঙ্গিতবাহী পোস্ট— ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’। মনোজ জানিয়েছেন, শুধু তারাই টিকিট কিনতে পেরেছেন, যাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা দিতে পেরেছেন। এবার অন্তত ৭০-৭২ জন প্রার্থী টিকিট পাওয়ার জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। মনোজের দাবি, তাঁকেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় টিকিট পাননি। মনোজের আরও অভিযোগ, তৃণমূলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে। ক্রিকেটারের সংযোজন, ‘‘আমাকে ‘এমওএস’ (প্রতিমন্ত্রী) পদের একটি ললিপপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার কার্যত কোনও অর্থই ছিল না। আমি যদি উঠে দাঁড়িয়ে বলতাম, দিদি, আমি একটি নির্দিষ্ট সমস্যার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, তিনি মাঝপথেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলতেন, তোমাদের মতো লোকের জন্য আমার কাছে কোনও সময় নেই।’’ মনোজ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও ধুয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘অরূপদা তো খেলার এ-বি-সি-ডি’ই জানেন না। নিজের হীনমন্যতা বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমাকে আমার মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করতে দেননি।’’

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিদ্রোহ কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। একদিকে কর্পোরেট সংস্কৃতি আর অন্যদিকে প্রবীণদের ব্রাত্য করে রাখা, এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই যে বাংলার মসনদ হারাতে হলো তৃণমূলকে, তা এখন ঘরোয়া কোন্দলেই স্পষ্ট।

  • BJP in Bengal: ‘‘অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না’’ স্পষ্ট বার্তা রাজ্য নেতৃত্বের

    BJP in Bengal: ‘‘অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না’’ স্পষ্ট বার্তা রাজ্য নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল ঘটে গিয়েছে। ক্ষমতার ধারেকাছে থাকার চেষ্টায় এবার দল বদলের পালা। অতীতেও এমন ছবি দেখা গিয়েছে রাজ্য-রাজনীতি থেকে জাতীয় স্তরে। তবে, দলবদলের-স্রোতে এখনই নিজেদের ঘর ভাসাতে রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব (BJP in Bengal)। সংগঠনের সব স্তরে সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। অন্য দল থেকে বিজেপিতে কাউকে যোগদান করানোয় ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করে দেওয়া হয়েছে।

    বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি

    বিজেপি সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ মিটে যাওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু এলাকায় বিজেপি নেতারা ফোন পেতে শুরু করেছিলেন। সে সব ফোন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মী, পঞ্চায়েত সদস্য, কাউন্সিলরদের। ৪ মে-র পর প্রয়োজনে হলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দরজা যাতে খোলা থাকে, সেই অনুরোধ সংবলিত ফোন। ৪ মে ইভিএম খোলার পর দেখা যায়, ২০০-র বেশি আসন নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এ হেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি আরও বেড়েছে।

    তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে বিজেপিতে নয়

    বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অনেকেই অবিলম্বে বিজেপিতে শামিল হয়ে যেতে চাইছেন। এই ‘স্রোত’ তথা ‘বেনোজল’ আপাতত রুখতে চায় বিজেপি। যাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং ক্রোধের কারণে রাজ্যবাসী বিপুল সংখ্যায় বিজেপি-কে ভোট দিলেন, রাতারাতি তাঁরাই বিজেপিতে ঢুকে পড়ে নতুন শাসকদলের ‘মাতব্বর’ হয়ে উঠলে জনতা বিজেপির উপর ক্রুদ্ধ হবে বলে পদ্মনেতারা মনে করছেন। তাই আপাতত তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে কাউকে বিজেপিতে শামিল করানোর উপরে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না

    রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘যোগদান করানো একদম বন্ধ! অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া যাবে না। সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তরে আমরা সে বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি।’’ তা হলে কি বিজেপিতে আর কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন না? পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজনীতি বিষয়ক বিভাগের প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘‘কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন কি না, দল সে সব পরে স্থির করবে। কিন্তু আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশ না-যাওয়া পর্যন্ত সব যোগদান বন্ধ।’’

    যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিলেন, তাঁদের দলে নয়

    মমতার মুখে অবশ্য বিজেপির অন্য ‘ভূমিকা’র কথা শোনা গিয়েছে। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের অনেককে ফোন করে বিজেপিতে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। মমতার কথায়, ‘‘কেউ যদি নিজের নিরাপত্তার জন্য যেতে চান, আমি বাধা দেব না।’’ মমতার এই অভিযোগকে অবশ্য বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব গুরুত্ব দিতে চাননি। বিজেপির একাধিক বিধায়ক মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিলেন, তাঁরাই রাতারাতি বিজেপি হয়ে গিয়ে আবার সাধারণ জনতার উপরে অত্যাচার শুরু করবেন, এ আমরা হতে দিতে পারি না। তাই নেতৃত্বের নির্দেশ শিরোধার্য। পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত কাউকে দলে নেওয়া হবে না।’’

    অশোকনগর এলাকায় ছাঁকনি প্রতিবাদ

    দলীয় নির্দেশকে সামনে রেখে হাতে চায়ের ছাঁকনি, মাথায় গেরুয়া আবির, আর পিছনে দলীয় পতাকা নিয়ে, এই ভাবেই রাস্তায় নামলেন বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার রাতে এমনই দৃশ্য দেখলেন উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকার বাসিন্দারা। বিজেপি কর্মীদের এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে কিছুটা অবাকই হন এলাকার লোকজন। বিজেপি কর্মীরা জানিয়েছেন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি, ভাঙচুর এবং দখলদারির ঘটনা বেড়েছে। অভিযোগ, তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর থেকে শুরু করে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গেই রাতারাতি দলবদল করে চলে আসছেন অনেকেই। দলের পুরনো কর্মীদের পাশ কাটিয়ে রাতারাতি দলবদল করে আসা কিছু সমর্থকই এই অশান্তির সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি তাঁদের। এই কারণেই ‘ছাঁকনি প্রতিবাদ’। ওই বিজেপি (BJP) কর্মীরা জানিয়েছেন, ছাকনিকে প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে এর মাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন তাঁরা।

    কেন প্রতিবাদের হাতিয়ার ছাঁকনি

    ওই বিজেপি কর্মীরা বলেন, ‘ছাঁকনি দিয়ে নোংরা অংশ বাদ দেওয়া যায়। যাতে দরকারি জিনিসের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অংশ চলে না আসে তা নিশ্চিত করা যায়। তেমনই দলে হঠাৎ আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবাদের মাধ্যমে।’ মঙ্গলবার রাতে এই অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয় অশোকনগর চৌরঙ্গী মোড় এলাকায়। বিজেপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জয়ী বিধায়কের তরফে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

    দলবদলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা হাবরায়

    দলবদলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে হাবরা এলাকাতেও। এই আসনে বিজেপির দেবদাস মণ্ডলের কাছে হেরে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তার পরেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেকেই রাতারাতি দলবদল করেছেন। বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস দখল এবং অশান্তি সৃষ্টি করছেন তারা বলে অভিযোগ। এই নিয়ে হাবরা থানার সামনে দাঁড়িয়েই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকার নবনির্বাচিত বিধায়ক। তাঁর দাবি, এই অশান্তির ঘটনায় প্রকৃত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূল সমর্থকরাই দলবদল করে এই অশান্তি ঘটাচ্ছে। যারা এই ধরনের অরাজকতায় যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

  • Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জয় নিশ্চিত করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত করার পর তাঁর এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি এক অবিস্মরণীয় নাম। তবে ২০২১ সালের প্রেক্ষাপটে এই কেন্দ্রটি কেবল একটি নির্বাচনী ক্ষেত্র নয়, বরং হয়ে উঠেছিল মর্যাদার লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত রণাঙ্গন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের (Nandigram) মানুষ আমায় বিশ্বাস করেছেন, আমি তাঁদের সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করব না।”

    জয়ের নেপথ্যে জনগণের রায় (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁর বক্তব্যে বারংবার নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র হওয়ার আবেগকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই জয় কেবল কোনও রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়, বরং এটি নন্দীগ্রামের (Nandigram) আত্মসম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জয়। ভূমিপুত্র বনাম বহিরাগত তত্ত্বে ভূমি পুত্রের জয় হয়েছে। জনগণের জনাদেশ সেই ভাবাবেগকেই সিলমোহর দিয়েছে। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব। তবে আমার আবেদন, শান্তি বজায় রাখুন। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, মানুষ তাকে কামড়ায় না। তাই আইন কেউ হাতে নেবেন না।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বহিরাগত শক্তির আক্রমণ রুখে দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষ যে আস্থা তাঁর ওপর রেখেছেন, তার প্রতি তিনি চিরকাল দায়বদ্ধ থাকবেন।

    গণতন্ত্র ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) ফলাফল ঘোষণা নিয়ে ভোট গণনার দিন যে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কারোর অজানা নয়। শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের খবর চাউর হলেও, শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জয়ী হয়েছিলেন। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে শাসকদলের পক্ষ থেকে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার জবাবে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর আস্থার কথাকেই প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের শংসাপত্রই শেষ কথা এবং কোনও প্রকার ভয়ভীতি বা আইনি চাপের কাছে মাথা আমরা নত করব না। ২০১১ সালের পরিবর্তনেও আমি ছিলাম, আর এবারের আসল পরিবর্তনেও আমিই রয়েছি।”

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে আগামীর লক্ষ্য

    নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের (Nandigram) প্রতিনিধি হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কেবল তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের কথাই বলেননি, বরং সমগ্র বাংলার বিরোধী রাজনীতির একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। তাঁর ভাষণে বলেন, “আগামী ১ বছরের মধ্যে রাজ্যের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন। মোদির গ্যারান্টি, অমিত শাহর ঘোষিত সংকল্পপত্র অক্ষরে অক্ষরে সময় মতো পূরণ করার ক্ষেত্রে বিজেপি দায়বদ্ধ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে আইন মেনে প্রত্যেকটি পুরনো মামলা পুনরায় চালু করবে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কর্মীদের মুক্তি ও আইনি বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। গুন্ডাবাহিনীকে মোকাবিলা করার দায়িত্ব আমার নিজের কাঁধে।”

    উন্নয়নের রাজনীতি

    শুভেন্দু বলেন, ‘‘মহিলারা দরকারে যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরোবেন। রাতে বেরনো যাবে না, এরকম কথা আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো আগামীর মুখ্য়মন্ত্রী বলবেন না।’’ ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক সক্রিয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন শুভেন্দু। দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি বারবার অভয় দিয়েছেন যে, জয়ী প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সর্বদা তাঁদের পাশে থাকবেন। নন্দীগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ও সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হবে।

    কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের মতো একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে পরাজিত করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুঃসাধ্য ছিল। শুভেন্দুর মতে, এটি কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর মানুষের সাথে মিশে থাকা এবং তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হওয়ার ফল।

    বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নন্দীগ্রাম (Nandigram) জয়ের পরবর্তী অবস্থান কেবল বিজয়োল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর মার্জিত অথচ কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী দিনগুলোতে তিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে শাসকদলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন। নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’ আগামী দিনেও প্রাসঙ্গিক থাকবে এবং তাঁর এই জয় আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সোপান হিসেবে কাজ করবে।

  • South 24 Parganas: ক্যানিংয়ে হাসপাতালের ওটি থেকে তৃণমূল নেতার প্রচুর পরিমাণে টাকা, সোনা উদ্ধার, কীভাবে পৌঁছল?

    South 24 Parganas: ক্যানিংয়ে হাসপাতালের ওটি থেকে তৃণমূল নেতার প্রচুর পরিমাণে টাকা, সোনা উদ্ধার, কীভাবে পৌঁছল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) ক্যানিং পূর্বের মঠেরদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (OT) ভেতর থেকে একটি সুটকেস উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।  যার কাছে এই টাকা উদ্ধার হয়েছে তিনি তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ হোসেন গাজি (TMC Leader) বলে জানা গিয়েছে।

    সুটকেসটি তল্লাশি করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার (South 24 Parganas)

    নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে একটি পরিত্যক্ত সুটকেস লক্ষ্য করা যায়। খবর পেয়ে জীবনতলা (South 24 Parganas) থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সুটকেসটি তল্লাশি করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নগদ, প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণালঙ্কার, বেশ কিছু আধার কার্ড এবং একটি গাড়ির চাবি উদ্ধার করে। সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে কীভাবে এই বিপুল সম্পত্তি পৌঁছাল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রাথমিক তদন্ত ও চিকিৎসককে আটক

    হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ শাহরুখ হোসেন বলেন, “স্থানীয় তৃণমূল বুথ সভাপতির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে সভাপতির ছেলেই এই ব্যাগটি আমার কাছে রেখে গিয়েছিলেন।” বিজেপির দাবি, ডাক্তার শাহরুখ হোসেন এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত অত্যন্ত প্রভাবশালী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজের চেয়ে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ পালনেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

    পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালেরই (South 24 Parganas) এক অ্যাম্বুলেন্স চালক ওই সুটকেসটি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের এক চিকিৎসকের জিম্মায় রাখতে দিয়েছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে আটক করেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক সংযোগ ও অভিযোগ

    বিজেপির অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল সম্পত্তি স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ হোসেন গাজির। ভোটের ফল প্রকাশের পর লুটের আশঙ্কায় বা আইনি জটিলতা এড়াতে ওই নেতা তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকজনের মাধ্যমে হাসপাতালের নিরাপদ স্থানে সম্পদ গচ্ছিত রেখেছিলেন। বর্তমানে ওই তৃণমূল নেতা (TMC Leader) এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা (South 24 Parganas) হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস এবং এর নেপথ্যে কাদের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত এই রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

  • Vande Mataram: ‘জনগণমন’ ও ‘বন্দে মাতরম’ সমমর্যাদার, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, অবমাননা করলেই…

    Vande Mataram: ‘জনগণমন’ ও ‘বন্দে মাতরম’ সমমর্যাদার, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, অবমাননা করলেই…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে (Vande Mataram) কেন্দ্র করে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই গানটিকে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র সমমর্যাদায় উন্নীত করার পথে হাঁটল কেন্দ্র।

    আইনি সংশোধন ও দণ্ডবিধি (Vande Mataram)

    এতদিন পর্যন্ত ‘ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ বা জাতীয় সম্মান রক্ষা আইন অনুযায়ী জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সংগীতের অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবার এই আইনের সেকশন ৩ সংশোধনের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-কেও একই আইনি সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে, বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গাওয়ার ক্ষেত্রে অনিচ্ছা প্রকাশ বা কোনও প্রকার অসম্মান প্রদর্শন করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আর্থিক জরিমানা এবং সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও পালনীয় নিয়ম

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাষ্ট্রীয় গীত পরিবেশনের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেখানে বলা হয়েছে—

    পূর্ণাঙ্গ রূপ

    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Vande Mataram) মূল রচনার ছয়টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    পরিবেশনার ক্রম

    • কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে যদি জাতীয় সংগীত ও রাষ্ট্রীয় গীত উভয়ই পরিবেশিত হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বা বাজাতে হবে।

    মর্যাদা প্রদর্শন

    • জাতীয় সংগীতের মতো রাষ্ট্রীয় গীত চলাকালীনও উপস্থিত সকল শ্রোতাকে সসম্মানে উঠে দাঁড়াতে হবে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    বন্দে মাতরম-এর (Vande Mataram) সার্ধশতবর্ষ দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সংকল্প নিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার (PM Modi)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবং বিজেপির বাংলা জয়ের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্কিমচন্দ্রের এই কালজয়ী সৃষ্টিকে জাতীয় মর্যাদার শীর্ষে স্থাপন করা কেবল দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে।

  • Mamata Close Aides Resign: মমতা ইস্তফা না দিলেও, এক-এক করে পদত্যাগ তাঁর পছন্দের আমলা-শীর্ষকর্তাদের

    Mamata Close Aides Resign: মমতা ইস্তফা না দিলেও, এক-এক করে পদত্যাগ তাঁর পছন্দের আমলা-শীর্ষকর্তাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ১৫ বছরের সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হতেই শুরু হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত সদ্যপ্রাক্তন রাজ্য সরকার-নিযুক্ত আমলা, শীর্ষকর্তাদের পদত্যাগের হিড়িক। সেদিন থেকেই এক-এক করে ইস্তফা দিচ্ছেন রাজ্যের একাধিক শীর্ষস্তরের আমলা, কর্তা ও পদাধিকারীরা।

    পদত্যাগ আলাপন-হরিকৃষ্ণ-মনোজের…

    মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা ঘোষণা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেবেন না। তবে, তাঁর নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষস্তরে নিযুক্ত হওয়া তাঁর পছন্দের ও কাছের আমলা-কর্তারা এক-এক করে নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন। যেমন, ক্ষমতার পালাবদলের পরে এ বার (সদ্যপ্রাক্তন) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ‍্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দুই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। নবান্ন সূত্রে খবর, আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই একদা রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। অবসরের পরে ওই দুই আমলাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ‍্য উপদেষ্টা হিসাবে বিশেষ পদ দেওয়া হয়েছিল। আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতার আস্থাভাজন হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থ।

    পদত্যাগ রাজ্যের এজি কিশোর দত্তর

    তার আগেই, একেবারে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার দিনই, তৃণমূলের পরাজয়ের পরেই পদত্যাগ করছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত। মঙ্গলবার তিনি রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন কিশোর দত্ত৷ মঙ্গলবার সকালেই বিজেপির লিগাল সেলের পক্ষ থেকে আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রাজ্য সরকার সম্পর্কিত সমস্ত মামলায় রায়দান যেন স্থগিত রাখা হয়৷ প্রধান বিচারপতি সেই আশ্বাস দেন৷ এরপর বেলা বাড়তেই খবর পাওয়া যায় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পদত্যাগ করেছেন৷ উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তারপরই কিশোর দত্তকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর নয়া সরকার গদিতে বসার আগেই নিজে থেকে কিশোর পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগ অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের…

    এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল পরাজয়ের পরেই রাজ্য সরকারের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার। মঙ্গলবার রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগম এবং স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদ থেকে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর নৈকট্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অতীতে একাধিকবার চর্চা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রাজ্যে বিপুল পট পরিবর্তনের কারণে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক ও বিভিন্ন পর্ষদের পদাধিকারীরা ইস্তফার পথে হাঁটতে পারেন।

    এদিকে, নবান্ন থেকে এক জারি হওয়া এক নির্দেশের মাধ্যমে অবসরের পরও দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বুধবার থেকে অফিসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। সচিবরা নিজের নিজের দফতরে মৌখিকভাবে এই নির্দেশ জারি করেছেন। লোক ভবন থেকে আসা এই নির্দেশ মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা সব দফতরের সচিবদের জানিয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রের খবর। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে।

  • Abhishek Security Revoked: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়ের নিরাপত্তায় কাটছাঁট! বাড়ির সামনে থেকে প্রত্যাহার করা হল অতিরিক্ত পুলিশ

    Abhishek Security Revoked: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়ের নিরাপত্তায় কাটছাঁট! বাড়ির সামনে থেকে প্রত্যাহার করা হল অতিরিক্ত পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Security Revoked) অফিস এবং বাড়ির বাইরের অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিল লালবাজার। উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেড প্লাস ক্যাটাগোরির নিরাপত্তা পান। তবে পুলিশের তরফ থেকে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জেড প্লাস ক্যাটাগোরিরও অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। এই আবহে সেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। বুধবার ৬ মে সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে।

    কোথায় অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট তোলার নির্দেশ

    ভোটে পরাজিত হওয়ার পরই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির সামনে থেকে গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হয়। আর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিস এবং বাড়ির বাইরের অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট তুলে নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হল। লালবাজার সূত্রে খবর, ১৮৮ এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির বাইরের পিকেট, ১২১ কালীঘাট রোডের অফিস আর বাড়ির বাইরের পিকেট। একই সঙ্গে ৯ ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বাইরের পুলিশ পিকেট তুলে নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই আবহে বুধবার সকালেই অতিরিক্ত পুলিশকর্মীরা চলে যান। অভিষেকের বাড়ির সামনে থাকা পুলিশের কিয়স্ক খালি করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পুলিশের জন্য রাখা স্ট্যান্ড ফ্যান সরানো হয়েছে। এখন সেখানে কয়েকটা ব্যারিকেড রয়েছে। আগে ফুটপাথ জুড়ে পুলিশদের বসার জায়গা ছিল। সেখানে চেয়ার-টেবিল রাখা ছিল। সেগুলোও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    নিরাপত্তা সরাতে খুশি স্থানীয়রা

    বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছেই রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়। কালীঘাটের পটুয়া পাড়ার সেই এলাকাও এখন ছেয়ে গিয়েছে বিজেপির পতাকায়। রাজ্যের পালা বদল হতেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন শিল্পীরা। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই কার্যালয়ের পাশে এত হাই-সিকিউরিটি থাকে সেই কারণে। এক শিল্পী বলেন, “এটা কালীঘাট রোড। এটা কারও বাবার রাস্তা নয়। কোনও গাড়ি দাঁড়াতে দেয় না। এখানেই ওঁর বাড়ি। ওঁরা তো আমাদের জন্য ছিলেন, এখন আমাদের পিছনে লাথি মারছেন? মানুষ অতিষ্ঠ। আমরাই তো দিদিকে এনেছি।” শিল্পীদের দাবি, অভিষেকের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে এমন সব ব্যবস্থা হয়েছিল তাতে নাভিশ্বাস উঠছিল পটুয়া পাড়ার। তবে ভোটের ফলাফল ঘুরতেই দেখা গেল নিরাপত্তাও কমানো হচ্ছে অভিষেকের।

  • Post Poll Violence in Bengal: অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কড়া কমিশন

    Post Poll Violence in Bengal: অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কড়া কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা (Post Poll Violence in Bengal) রুখতেও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কোথাও ভাঙচুর বা হিংসার ঘটনা দেখলেই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেলকে সতর্ক থাকতে বলেছেন জ্ঞানেশ (CEC Gyanesh Kumar)। সর্বদা নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে জেলাশাসক এবং পুলিশকর্তাদেরও।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা কোথায় কোথায়

    ভোটের ফলপ্রকাশ হয়েছে সোমবার। আর রাত গড়াতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর মিলতে শুরু করে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ভোট–পরবর্তী হিংসায় চার জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। সূত্রের খবর, তাঁদের মধ্যে দু’জন তৃণমূল ও দু’জন বিজেপির কর্মী। মঙ্গলবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির রাজবাড়ি এলাকায় ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে জখম হন ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন কর। সূত্রের খবর, তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ওই পুলিশ অফিসার। সেই সময়ে দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলি তাঁর পায়ে লাগে, তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মিনাখাঁর এসডিও-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। কলকাতা–সহ প্রায় গোটা রাজ্য উত্তপ্ত। বিজয়ী দল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের তরফে এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশ এবং দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শান্তি বজায় রাখার জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ কমিশনের

    ভোটের নির্ঘণ্টা ঘোষণার সময়ই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, ভোট-পর্ব মিটে যাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বাংলায়। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার এই নিয়ে আরও কড়া বার্তা দিলেন তিনি। ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানিদাতা এবং ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। বাংলায় ভোটের ফল বেরনোর পর বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। এই নিয়েই এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার ​এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ডিজি-সহ সমস্ত ডিএম, এসপি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের হিংসা রোধে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিরবচ্ছিন্ন টহল দিতে হবে বলে জানিয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশ,​ ভাঙচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানিদাতারাও ছাড় পাবেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। রাজনীতির রং না-দেখে হিংসার ঘটনায় পদক্ষেপ করার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছে আর্জি জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও।

  • Writers’ Building: চলছে প্রস্তুতি! নবান্নে নয়, নতুন সরকারের কাজ চলবে ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই

    Writers’ Building: চলছে প্রস্তুতি! নবান্নে নয়, নতুন সরকারের কাজ চলবে ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার বদল হতেই, বদলে যাচ্ছে প্রশাসনিক ভবন। নবান্ন নয়, বরং ঐতিহ্যের রাইটার্স বিল্ডিং (Writers’ Building) ওরফে মহাকরণ থেকে ফের পরিচালিত হবে বাংলা। ২০০-র বেশি আসন পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি। সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন শপথ গ্রহণ করতে পারেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যেই রাইটার্স বিল্ডিং পরিদর্শনে গেল পূর্ত দফতরের একটি টিম। মহাকরণের পরিস্থিতি, সুরক্ষা খতিয়ে দেখতেই এই পরিদর্শন বলে জানা যাচ্ছে। সব ঠিক থাকলে নবান্ন থেকে দফতর সরানো হতে পারে রাইটার্সে। মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রীর দফতর হতে পারে রাইটার্সে।

    রাইটার্স-এর ঐতিহ্য

    ১৭৭৬ সালে টমাস লিয়নের পরিকল্পনায় গড়ে উঠেছিল লালবাড়ি রাইটার্স, ওই বাড়িই প্রশাসনিক ভবন হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে লাল দিঘির পাড়ে গড়ে ওঠে লাল ইটের বাড়িটি। সেখানে আগে ছিল কলকাতায় ব্রিটিশদের তৈরি প্রথম উপাসনাস্থল। সেই পরিত্যক্ত গির্জার জমিতে গড়ে ওঠে করণিকদের কর্মস্থলটি। কেরানিরা এখানে বসে কাজ করতেন, তাই নাম হল ‘মহাকরণ’। কেরানিদের বলা হত ‘রাইটার’, তাই ব্রিটিশদের তৈরি সেই ভবনের নাম হয়ে যায় রাইটার্স বিল্ডিং। তারপর থেকেই এই লাল বাড়িটিতে স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক সদর দফতর হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যে গঙ্গা দিয়ে জল বয়ে গিয়েছে অনেক। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর দখল নেয় মহাকরণ (রাইটার্স বিল্ডিং) মহাকরণের আমূল সংস্কারের জন্য সচিবালয় সরিয়ে নিয়ে যায় গঙ্গার ওপারে। নাম দেওয়া হয় নবান্ন। সেখান থেকেই ১৫ বছর শাসন চালিয়েছে মমতা সরকার। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার কি ফের আলো জ্বলে উঠবে ঐতিহ্যবাহী সেই রাইটার্সে?

    এখনই কাজ শুরু করা সম্ভব নয়!

    তবে মহাকরণের যা অবস্থা, তাতে এখনই কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। ভবনের মেরামতির কাজ সেরে তবেই সরকারি কাজ শুরু করা সম্ভব। আর সেটা করতে বছর ঘুরে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে আপাতত কোথাও কাজ শুরু করতে হবে। জানা যাচ্ছে, লালদিঘির কাছে অর্থাৎ যেখানে রাইটার্স ভবন অবস্থিত, সেখানেই একটি ভবন নেওয়া হচ্ছে সচিবালয় তৈরি করার জন্য। সেখানেই আপাতত কাজ শুরু করতে পারে নতুন সরকার। নবান্নে না বসার সম্ভাবনা বেশি। ২৫ বৈশাখ বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। বিজেপি (BJP in Bengal) সরকার গঠন করবে রাজ্যে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। সেই কথাই জানা গিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের সরকার নবান্ন থেকে নয়, রাইটার্স থেকে পরিচালনা হবে। এটা আমরা আগেই বলেছিলাম।”

LinkedIn
Share