Tag: Madhyom

Madhyom

  • BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল যুদ্ধ, বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সদস্য দেশগুলির তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেও জোটের ঐক্য ধরে রাখা। একই সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে ব্রিকসকে (BRICS Delhi Summit) কোনওভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়াও ছিল নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

    ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন জোটের দুই সদস্য দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ জড়িয়ে রয়েছে। সম্মেলনের মাত্র কয়েক মাস আগেই পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। রিও দে জেনেইরোতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছনো যায়নি। ফলে পাঁচ সদস্যের জোট (Global South) থেকে ২০২৫ সালে ১১ সদস্যের ব্রিকসে পরিণত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের পরস্পরবিরোধী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

    ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা (Global South)

    কিন্তু সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর করে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ব্রিকস নেতারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলারও সম্মিলিত নিন্দা জানায় জোট। একই সঙ্গে ভারত ব্রিকসের বৃহত্তর কর্মসূচিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থকেন্দ্রিক রাখতে সক্ষম হয় এবং জোটটিকে সরাসরি পশ্চিম-বিরোধী মঞ্চে পরিণত হতে দেয়নি।

    অর্থনীতিবিদ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি স্যাকস সম্মেলনকে সফল বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, ঘোষণা প্রমাণ করেছে যে ব্রিকসের দেশগুলি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অত্যন্ত কঠিন সময়েও নয়াদিল্লি আবারও ঐকমত্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।”

    তিন দিনে, অর্থাৎ সম্মেলনের আগের দিন এবং সম্মেলনের দুই দিনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ১৫টি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ফলে সম্মেলনটি ভারতের জন্য বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।

    ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বৈঠকের মঞ্চ হল নয়াদিল্লি

    সম্মেলনের সামনে সবচেয়ে (BRICS Delhi Summit) তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ ছিল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই সংঘাত নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। ফলে ব্রিকসের অভ্যন্তরেও দুই দেশের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজনরেখায় পরিণত হয়েছিল।

    এর আগে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষা চেয়েছিল। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কিছু অবস্থানের বিরোধিতা করেছিল।

    ফলে সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক থেকে ঐকমত্যের ঘোষণা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। পর্যবেক্ষক গবেষণা ফাউন্ডেশনের গবেষণা ও বিদেশনীতি বিভাগের সহ-সভাপতি হর্ষভি পন্তও সম্মেলনের আগে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উত্তেজনা যৌথ ঘোষণা আটকে দিতে পারে।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিভাজন ব্রিকসের বৃহত্তর ঐক্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দু’দেশই পশ্চিম এশিয়ায় সংযমের আহ্বান জানানো ব্রিকসের বিবৃতিতে সই করে (BRICS Delhi Summit)।

    এর পর সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংঘাত শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলির অন্যতম।

    ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য এখানেই—ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দ্বন্দ্বকে বৃহত্তর ব্রিকস-বিভাজনে পরিণত হতে না দেওয়া এবং নয়াদিল্লিকে দুই দেশের আলোচনার মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরা।

    ঐকমত্য ফিরিয়ে এনে ব্রিকসকে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দিল ভারত

    ভারতের দ্বিতীয় এবং সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল ব্রিকসের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।

    জোট সম্প্রসারিত হওয়ার পর ঐকমত্যে পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠেছিল। ২০২৫ সালের রিও দে জেনেইরো বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন সভাপতি ব্রাজিলের পক্ষ থেকে পরিবর্তে সভাপতির বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তাই নয়াদিল্লি সম্মেলনের সামনে বড় প্রশ্ন ছিল—আগে যে কাজ সম্ভব হয়নি, তা কি এবার করা যাবে? উত্তর মিলেছে ইতিবাচকভাবেই। নয়াদিল্লি ঘোষণা শুধু ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানায়নি, বরং বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথাও বলেছে।

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বেরও প্রশংসা করা হয়েছে এবং সম্মেলন আয়োজনের জন্য নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

    এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত কোনও জোটের ক্ষেত্রে সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা নিছক আনুষ্ঠানিক দলিল নয়। মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলি যে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে থেকে একটি সাধারণ অবস্থানে পৌঁছতে পারে, এই ঘোষণা তারই প্রমাণ।

    হর্ষভি পন্ত সম্মেলনের আগে বলেছিলেন, ব্রিকসের বিশ্বাসযোগ্যতা এখানে বড় পরীক্ষার মুখে। তাঁর মতে, “অনেক দেশ ব্রিকসের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।” যৌথ বিবৃতি প্রকাশে ব্যর্থতা সেই আশাকে দুর্বল করতে পারত (BRICS Delhi Summit)।

    পহেলগাঁও হামলার নিন্দা ভারতের বড় কূটনৈতিক সাফল্য

    নয়াদিল্লি ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ জখম হন।

    ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওই জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জোট। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঘোষণায় পাকিস্তানের নাম করা হয়নি। কিন্তু পহেলগাঁও হামলাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি এবং তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রাসঙ্গিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

    চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি পহেলগাঁও হামলাকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, নিরাপদ আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহির বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছে (Global South)।

    বৃহত্তর ব্রিকস কর্মসূচিতে ভারতের অগ্রাধিকার

    ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার, উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের দাবি গুরুত্ব পেয়েছে।

    তবে প্রদত্ত প্রতিবেদনে তৃতীয় সাফল্যটি আলাদা করে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী অংশে সরাসরি চতুর্থ সাফল্য হিসেবে ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Delhi Summit)।

    ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দিল না ভারত

    ভারতের আর একটি বড় সাফল্য ছিল তুলনামূলকভাবে সূক্ষ্ম। উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে সামনে রাখলেও নয়াদিল্লি ব্রিকসকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দেয়নি।

    নয়াদিল্লি ঘোষণা বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি চিন ও রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে, ভারত ও ব্রাজিলের বৃহত্তর ভূমিকার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানেও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    একই সঙ্গে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী একতরফা চাপের বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, এর ফলে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও উন্মুক্ত, ন্যায্য এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত। অন্যদিকে চিন বিশ্ব বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দুই দেশের চাপ ব্রিকসকে পশ্চিম-বিরোধী জোটের দিকে ঠেলে দিতে পারত।

    কিন্তু প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিকরি শনিবার ভারতের অবস্থানকে পশ্চিম-বিরোধী নয়, বরং পশ্চিমের বাইরে থাকা অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, “আমরা পশ্চিম-বিরোধী নই; আমরা এক পৃথিবী হিসেবে বাঁচতে চাই।” নয়াদিল্লি ঘোষণাতেও সেই ভারসাম্যই স্পষ্ট হয়েছে (Global South)।

    যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও বৈচিত্র্যময় জোটকে সামলাল ভারত

    ভারতের পঞ্চম সাফল্যটি সবচেয়ে বিস্তৃত। ২০২৬ সালের ব্রিকস আর আগের পাঁচ সদস্যের জোট নয়। সম্প্রসারণের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের দেশগুলি একই মঞ্চে এসেছে।

    চলতি বছরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ জোটের দুই সদস্য সরাসরি বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।

    এই যুদ্ধগুলির প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও পড়েছে। জ্বালানি বাজার, নৌপরিবহণ, সরবরাহ শৃঙ্খল, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মূল্যবৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

    তার মধ্যেও নয়াদিল্লি ঘোষণায় পরস্পরবিরোধী স্বার্থগুলিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সর্বোচ্চ সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে আলোচনা, পরামর্শ এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পেয়েছে স্থিতিস্থাপকতা, উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন।

    যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিভাজন এবং বৃহৎ শক্তিগুলির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্রিকস যখন ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মুখে, তখন ভারত ঐকমত্য গড়ে তুলে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল নিশ্চিত করেছে। নয়াদিল্লি দেখিয়ে দিয়েছে, গভীর (BRICS Delhi Summit) মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসকে কার্যকর রাখা সম্ভব।

    এখন পরবর্তী পরীক্ষা চিনের। ২০২৭ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব চিনের হাতে যাবে। ভারত যে ঐকমত্য তৈরি (Global South) করেছে, বেজিং সেটি কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই দেখার।

     

  • Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হওয়া পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ফের গড়ে তোলা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা একাধিক এক্সক্লুসিভ ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে ওই ঘাঁটিগুলিতে নতুন করে নির্মাণকাজের চিহ্ন। নতুন ইট ও নতুন দেওয়াল দিয়ে ফের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সংবাদ প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় ভারতের হামলায় বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা এবং মুজফফরাবাদে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল। এবার সেখানেই নতুন করে নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে।

    লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের ছবি (Operation Sindoor)

    প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রথম ভিডিয়োটি লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের বলে দাবি করা হয়েছে। এই শিবিরটি জঙ্গিদের থাকার জন্য ব্যবহৃত (POK) হত। অপারেশন সিঁদুরের সময় শিবিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সেখানেই ফের শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।

    দ্বিতীয় যে ছবি সামনে এসেছে, সেটি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদের সাইদা বিলাল শিবিরের। এই ঘাঁটিটি জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম কেন্দ্র। অপারেশন সিঁদুরের সময় এখানেও হামলা চালানো হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। এখন সেখানেও নতুন ইট দিয়ে নতুন করে দেওয়াল নির্মাণের ছবি দেখা যাচ্ছে।

    ধ্বংস হওয়া ঘাঁটি ফের গড়ে তোলার চেষ্টা?

    প্রতিরক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টেও ওই জঙ্গিঘাঁটিগুলির উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে এই জঙ্গি পরিকাঠামোগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল।

    তবে নতুন করে নির্মাণের ছবি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের মাটিতে ফের জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে কি না। নতুন দেওয়াল এবং ইটের কাঠামো সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের অবস্থানে বড় পরিবর্তন’

    গত মাসে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে বলেছিলেন, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযানে শুধু সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করা হয়নি, প্রতিবেশী দেশের গভীরে থাকা জঙ্গিদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    অপারেশন সিঁদুর চালানো হয়েছিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর। নারাভানে বলেন, জঙ্গিদের যারা মদত দেয়, তারা দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, ভারতীয় পদক্ষেপ থেকে তাদেরও রেহাই নেই—এই বার্তাই ওই অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর আগে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। উরি এবং পুলওয়ামার হামলার পরের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নারাভানে বলেন, “এর আগে যখনই এই ধরনের হামলা হয়েছে—উরির পর কিংবা পুলওয়ামার পর বালাকোটে হামলার সময়—আমরা মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকেই টার্গেট করতাম।”

    সির ক্রিকে পাকিস্তানের তৎপরতা নিয়েও মন্তব্য

    সির ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং তথাকথিত ‘অপারেশন আবাবিল’ চালানোর খবর নিয়েও প্রশ্ন করা (Operation Sindoor) হয়েছিল প্রাক্তন সেনাপ্রধানকে। নারাভানে জানান, এই ধরনের কার্যকলাপ হয়ে থাকে। তবে ওই অভিযান সম্পর্কে তাঁর কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও বার্তা নারাভানের

    ভারত-চিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে নারাভানে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাম্প্রতিক বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘদিনের (POK) সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।

    তিনি জানান, এটি দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার আলোচনা। অর্থাৎ এই বৈঠক প্রথমবারের ঘটনা নয়। তাঁর মতে, এই (Operation Sindoor) আলোচনার ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি—ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।

     

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও নেপালকে সাহায্য ভারতের, গুয়াহাটিতে অনুশীলন নেপালি বক্সারদের

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও নেপালকে সাহায্য ভারতের, গুয়াহাটিতে অনুশীলন নেপালি বক্সারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল ক্রীড়া সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এশিয়ান গেমসের আগে নেপালের বক্সিং দলকে বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে ভারত। স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (SAI) গুয়াহাটি ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্সে (NCOE) দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমানের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিয়েছেন নেপালের বক্সাররা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানে শুরু হতে চলেছে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। তার আগে নেপাল বক্সিং ফেডারেশনের অনুরোধে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাত জন বক্সার এবং দুই জন কোচ নিয়ে নেপালের দলটি গত ১০ আগস্ট থেকে গুয়াহাটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শিবির শেষ করে এখান থেকেই সরাসরি জাপানের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তাদের।

    নেপালের দলে ৭ বক্সার

    নেপাল দলের সাত বক্সার হলেন রামিশা শ্রেষ্ঠা, অস্মিতা দুওয়াল, কুসুম তামাং, চন্দ্র বাহাদুর থাপা, খগেন্দ্র রোকা মাগার, দান বাহাদুর দারলামি এবং রবিন নেপাল। তাঁরা বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সাই-এর কোচ নরেন্দ্র রানা, ত্রিদীপ বোরা এবং প্রণমিকা বোরার তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁদের প্রশিক্ষণ। বক্সারদের টেকনিকের উন্নতি, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার জন্য মানসিকভাবে তৈরি করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মেঘালয়ের বক্সারদের সঙ্গে নেপালের খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও স্প্যারিংয়ের সুযোগ। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের বক্সিং স্টাইল ও কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নেপালের বক্সাররা। নেপালের বক্সার রামিশা শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, গুয়াহাটিতে কঠোর অনুশীলন এবং দক্ষ ভারতীয় বক্সারদের সঙ্গে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমসের আগে তাঁদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “এখানে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কঠোর হয়েছে। অসাধারণ ও দক্ষ বক্সারদের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি। ফলে এশিয়ান গেমসের জন্য আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও প্রস্তুত।” ভারতীয় খেলোয়াড় ও সাই-এর কর্মীদের আতিথেয়তারও প্রশংসা করেন তিনি।

    ভারত ও নেপালের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক

    সাই-এর গুয়াহাটির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর ডি কে মিত্তল বলেন, প্রথমবার নেপালের বক্সিং দল গুয়াহাটিতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছে। তাঁর আশা, এই শিবির থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা জাপানে নেপালের বক্সারদের ভাল ফল করতে সাহায্য করবে। তিনি জানান, শিবির চলাকালীন প্রায় পাঁচ দিনের একটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছিল, যা ভারত ও নেপাল—দুই দেশের বক্সারদেরই উপকৃত করেছে। সাই (SAI)-এর উপর কোনও আর্থিক বোঝা না রেখেই এই শিবির পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যাতায়াত, ভিসা, চিকিৎসা বিমা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করছে নেপাল বক্সিং ফেডারেশন। নেপালের বক্সারদের এই প্রশিক্ষণ শিবির শুধু এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেই সাহায্য করছে না, ভারত ও নেপালের মধ্যে ক্রীড়া এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গুয়াহাটির গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে।

  • Rajouri Terror Module: রাজৌরিতে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি মডিউল ভাঙল পুলিশ, গ্রেফতার ৩

    Rajouri Terror Module: রাজৌরিতে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি মডিউল ভাঙল পুলিশ, গ্রেফতার ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় লস্কর-ই-তৈবার (LeT)-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ‘ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ (OGW) নেটওয়ার্কের হদিশ পেয়ে তা ভেঙে দিল রাজৌরি পুলিশ। এই ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের লজিস্টিক সহায়তা, নিরাপদে যাতায়াত এবং অন্যান্য মাটির স্তরের সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন জাকির হুসেন, গুলাম হুসেনের ছেলে, রাজৌরির কোটচরওয়াল তেরিয়াথের বাসিন্দা; মোহাম্মদ আজম, আলি বাহাদুরের ছেলে, একই এলাকার বাসিন্দা; এবং মোহাম্মদ মুস্তাক, মোহাম্মদ ইকবালের ছেলে, রাজৌরির উদান এলাকার বাসিন্দা।

    কীভাবে জঙ্গিদের সহায়তা

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পীর পাঞ্জাল অঞ্চলে সক্রিয় একটি জঙ্গি মডিউলের তদন্তের সময় এই নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ, ধৃতরা জঙ্গিদের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করতেন। এমনকি তাঁরা গাইড হিসেবে কাজ করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে কাশ্মীর উপত্যকার দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। একাধিক হাই-প্রোফাইল হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদেরও তাঁরা প্রাথমিক স্তরে সহযোগিতা করেছেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। এর মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো হামলার ঘটনাও রয়েছে।

    এই মডিউলের সম্পূর্ণ পরিধির খোঁজ চলছে

    তদন্তের সময় এক অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা ওই বিস্ফোরকটি ধৃত ব্যক্তির হাতে নিরাপদে রাখার জন্য তুলে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তা কোনও নির্দিষ্ট হামলায় ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ। আইইডি উদ্ধারের পাশাপাশি তিনজনের গ্রেফতারি পীর পাঞ্জাল অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছে রাজৌরি পুলিশ। এখন এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং জঙ্গি কার্যকলাপে এই মডিউলের সম্পূর্ণ পরিধি কতটা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জঙ্গিদের সহযোগী কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে রাজৌরি পুলিশ। তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

  • Meta: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাবে মেটা

    Meta: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাবে মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনা এবং শিশু সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সরাসরি তথ্য জানানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে মেটা (Meta)। মঙ্গলবার সরকারি সূত্রেই এই তথ্য জানা গিয়েছে।

    এতদিন মেটার পক্ষ থেকে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য উপাদানের তথ্য শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন বা এনসিএমইসিকে জানানো হত (Child Sexual Abuse Case)। পরে ওই সংস্থাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করত। নতুন ব্যবস্থায় ভারত-সংক্রান্ত এই ধরনের ঘটনাগুলি সরাসরি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছেও পাঠাবে মেটা।

    সরকারের বক্তব্য (Meta)

    এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “ভারতে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা একটি মৌলিক নীতি। এই বিষয়ে কোনও আপস করা যাবে না।”

    তবে সরকারের তরফে এই পদক্ষেপকে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ওই আধিকারিকের কথায়, “শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার পরিসরকে নিরাপদ করার পথে এটি প্রথম পদক্ষেপ। এখনও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।”

    সরকারি সূত্রে খবর, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদান শনাক্ত করে তা সরিয়ে ফেলার বিষয়ে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা চলছে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্রিয় পদক্ষেপ না নেওয়া সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে এক আধিকারিক বলেন, “যেসব সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।”

    মেটার সঙ্গে সরকারের এই আলোচনা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছিল। গত ৫ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া একাধিক বৈঠকে মেটার শীর্ষ কর্তারা সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। সংস্থার প্রধান বৈশ্বিক বিষয়ক আধিকারিক জোয়েল কাপলানও সেই আলোচনায় অংশ নেন।

    সরকারের দুয়ারে মেটা কর্তারা

    কাপলানের সঙ্গে ছিলেন মেটার জননীতি বিভাগের সহ-সভাপতি নীল পটস, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জননীতি বিভাগের প্রধান রাফায়েল ফ্র্যাঙ্কেল, ভারতে জননীতি বিভাগের প্রধান আমান জৈন-সহ (Meta) অন্যান্য আধিকারিক।

    এর আগে জুলাই মাসে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদানের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটার আধিকারিকদের তলব করেছিল।

    ৩ জুলাই প্রকাশিত বিবিসি আই-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র নজরদারি শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদান প্রচারের জন্য অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।

    অনুসন্ধানে প্রায় ১০ মাসের একটি সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ছবি-সহ ৩৩২টি বিজ্ঞাপনের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮৪টি বিজ্ঞাপন ভারতে দেখা গিয়েছিল। টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্টের দাবি, ভারতের ওই ৮৪টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ৭৮টি এমন সময়ে প্রচারিত হয়েছিল, যখন জুলাই মাসেই সরকার মেটাকে এই ধরনের উপাদান সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল।

    বিবিসির ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন নিজ উদ্যোগে বিষয়টি গ্রহণ করে। ৩ জুলাই মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেডকে নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এক সপ্তাহ পরে মেটার পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে জবাব দেওয়া হয়।

    কমিশনের সামনে মেটা কর্তারা

    সেই জবাব পর্যালোচনা করার পর কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে মেটা ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধানকে ৯ সেপ্টেম্বর কমিশনের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে মেটা ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা কমিশনের সামনে হাজির হন।

    এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দিল্লি পুলিশকে অভিযোগগুলির তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে (Child Sexual Abuse Case) সুরক্ষা আইনের আওতায় মেটা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের তথ্য জানানোর আইনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে (Meta)।

     

  • Nandigram By Poll: এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ের প্রত্যাশা! নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ

    Nandigram By Poll: এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ের প্রত্যাশা! নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। নন্দীগ্রামে  (Nandigram By Poll)  হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরে (Rejinagar By Poll) শাখারভ সরকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। মঙ্গলবার হলদিয়ায় হাসিরানি রথকে পাশে নিয়ে একটি সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের দায়িত্ব আমার। এখানকার সকলের মাথায় ছাদ, হাতে কাজ, পেটে ভাত আমার অঙ্গীকার। আমি পূরণ করবই।” জয় যে নিশ্চিত তা বুঝিয়ে শুভেন্দু বললেন, “আমি ভোট করাতে জানি, এমন মার্জিনে বিজেপি জিতবে, কেউ ভাবতে পারেনি। এবারও এমন মার্জিনে জিতব কেউ ভাবতে পারছেন না।” এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বললেন, “ওর পাড়ায় গিয়ে ওকে হারিয়ে দিয়ে এসেছি।”

    মনোনয়ন জমা, জানকীনাথ মন্দিরে পুজো

    মঙ্গলবার বিশাল মিছিল ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান তিনি। তার আগে এদিন সকালে নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিখ্যাত জানকীনাথ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রথম অনুভূতি এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন হাসি রানি রথ। তিনি বলেন, “প্রথম অনুভূতি বলতে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে আমার সমস্ত কর্মী, বিজেপির কর্মীরা এবং সংগঠনকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ ভালোবাসা এবং বড়দের জানাই প্রণাম। দল আমাকে প্রার্থী করেছে, কিন্তু এখানকার সংগঠন আমার সঙ্গে রয়েছে। আমি সবার সহযোগিতা চাইব, যাতে নন্দীগ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি।” মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা। মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামের সঙ্গে আছেন, আমাদের সঙ্গে আছেন। শুধু আমার সঙ্গে নয়, নন্দীগ্রামবাসীর সঙ্গে শুভেন্দু বাবু যে আছেন, সেটাই আজ সবার সবচেয়ে বড় পাওনা।”

    হাসিরানি রথ নতুন মুখ নয়

    গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি কেন্দ্র থেকে জেতার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ রাখেন এবং নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরও একটি আসন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজিনগরের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। ফলে দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচন হচ্ছে। নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে আগে থেকেই বিজেপির অন্দরে জল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁকেই টিকিট দিল দল। হাসিরানি রথ হলেন বিজেপির প্রয়াত নেতা এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। এর আগে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পরিবারের অভিভাবক। তিনি কোনও দায়িত্ব দিলে তা গ্রহণ করবেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়।

    ১ লক্ষের বেশি ভোটে জয় লাভের আশা

    চন্দ্রনাথ রথকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁকে গাড়ির মধ্যে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে তাঁর পরিবারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। এবার সেই পরিবারের হাসিরানি রথকেই ভোটের ময়দানে নামাল বিজেপি। তবে রাজনৈতিক মাঠে হাসি রানি রথ মোটেও নতুন মুখ নন। ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি দু’বার পঞ্চায়েত সদস্য এবং তিনবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ রাজ্যের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর।  ভোটে জয়ের মার্জিন কত হতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে হাসিরানি জানান, সংগঠনের সঙ্গে বসে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দলের মূল লক্ষ্য যে নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটে জয়লাভ করা, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

    রেজিনগরের প্রার্থী নির্বাচনেও চমক

    অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরের বিজেপির পরিচিতি মুখ শাখারভ সরকার। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। কয়েকমাস আগেই বহরমপুরে রামমন্দিরের শিলান্যাসের সময়েও তাঁর নাম নিয়ে বিতর্ক চলেছিল। উপনির্বাচনে প্রার্থী করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শাখারভ। বর্তমান রাজ্য বিজেপির পরিচিত মুখ তিনি। শাখারভ বহুদিনের বিজেপি কর্মী। তিনি মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এখন তাঁকে বিজেপি রেজিনগরে প্রার্থী করল। তাঁকেই কঠিন আসনে জয় ছিনিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। আর নয়া চ্যালেঞ্জ পেয়ে প্রত্যয়ী শাখারভ। তিনি বিশ্বাসী, ‘এবারের নির্বাচনে রেজিনগরের মানুষ প্রকৃত উন্নয়নের জন্য তৈরি। ব্রিজ চাই ও কলেজ চাই। ডেভেলপমেন্ট চাই। সেই সংকল্প নিয়েই রেজিনগরের মানুষ ভোটদান করবেন। এখানকার মানুষ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ভোট দেবেন।’ হুমায়ুন কবীরের হোম গ্রাউন্ডে, তাঁরই ছেড়ে দেওয়া আসনে লড়াই। হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে লড়বেন তাঁরই ছেলে গোলাম নবি আজাদ। নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও, এই কেন্দ্রে লড়াই কঠিন হবে, বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের। এখন দেখার রেজিনগরের মানুষ কাকে বেছে নেন।

  • Kolkata Metro: বদলাতে পারে কলকাতার একাধিক মেট্রো স্টেশনের নাম, প্রস্তাব দিতে চলেছেন তথাগত রায়

    Kolkata Metro: বদলাতে পারে কলকাতার একাধিক মেট্রো স্টেশনের নাম, প্রস্তাব দিতে চলেছেন তথাগত রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যক্তির নামে মেট্রো স্টেশনের নামকরণ নিয়ে আপত্তি। সেই কারণে সরকারি কমিটির কাছে কলকাতার একাধিক মেট্রো (Kolkata Metro) স্টেশনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা দিতে চলেছেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথাগত রায়। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি কমিটির কাছে (Mahanayak Uttam Kumar) এই প্রস্তাব পেশ করতে পারেন। প্রস্তাব গৃহীত হলে মহানায়ক উত্তম কুমার মেট্রো স্টেশনের নাম ফের ‘টালিগঞ্জ’ করা হতে পারে।

    শুধু মহানায়ক উত্তম কুমার নয়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর নামাঙ্কিত মেট্রো স্টেশনের নামও পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকতে পারে। জনসাধারণের সুবিধার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় এলাকার নাম অনুসারেই ওই স্টেশনগুলির নতুন নামকরণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    নেতাজি ভবন নাম নিয়েও আপত্তি (Kolkata Metro)

    ভবানীপুর মেট্রো স্টেশনের নাম ‘নেতাজি ভবন’ হওয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে তথাগতর। তাঁর বক্তব্য, স্টেশনটি নেতাজি ভবন থেকে যথেষ্ট দূরে। ফলে স্টেশনের নামের সঙ্গে এলাকার বাস্তব অবস্থানের সামঞ্জস্য নেই বলেই তাঁর মত। তাই এই স্টেশনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও তিনি দিতে পারেন।

    একইভাবে বেলেঘাটা মেট্রো স্টেশনের নাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। তাঁর যুক্তি, বেলেঘাটার মূল অঞ্চল থেকে বর্তমান মেট্রো স্টেশনটি অনেকটাই দূরে। তাই মেট্রো স্টেশনের নাম ব্যক্তির নামে না রেখে সংশ্লিষ্ট এলাকার নাম অনুসারে রাখার পক্ষে তিনি।

    সূত্রের খবর, ‘স্বপ্ন ভোর’ মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও প্রস্তাবের তালিকায় থাকতে পারে। সেক্ষেত্রেও এলাকার পরিচিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নাম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রাস্তার নাম বদলের প্রস্তাবও

    মেট্রো স্টেশনের পাশাপাশি কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিতে পারেন তথাগত। ইতিমধ্যেই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সোহরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জি রোড করা হয়েছে।

    এবার লেনিন সরণির নাম পরিবর্তন করে দেবপ্রসাদ ঘোষের নামে রাস্তার নামকরণের প্রস্তাব দিতে পারেন তথাগত। কার্ল মার্কস সরণির নাম পরিবর্তন করে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় অথবা মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে করার প্রস্তাবও আসতে পারে (Kolkata Metro)।

    হো-চি-মিন সরণির নাম পরিবর্তন করে মার্টিন লুথার কিংয়ের নামে করার বিষয়েও প্রস্তাব আসতে পারে বলে সূত্রের খবর।

    সব মিলিয়ে, কলকাতার মেট্রো স্টেশন এবং রাস্তার নামকরণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। ব্যক্তির নামে নামকরণের পরিবর্তে এলাকার ঐতিহাসিক বা (Mahanayak Uttam Kumar) ভৌগোলিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার যে ভাবনা সামনে এসেছে, তা সরকারি কমিটি কতটা গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার (Kolkata Metro)।

     

  • Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Modi Xi Meeting) বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। দুই দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পার্টনার হিসেবে দেখবে—এই বিষয়টিকেই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে তুলে ধরেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)।

    গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে আসা জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। উচ্ছ্বসিত ওয়াং জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চিন সম্পর্কের কৌশলগত, দীর্ঘমেয়াদি এবং বৃহত্তর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেন।

    ভারত-চিন অংশীদারিত্বে জোর (Modi Xi Meeting)

    ওয়াং বলেন, দুই নেতার মধ্যে যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা হল ভারত ও চিনকে পরস্পরের অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। চিনের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বৈঠকে বলেন, দুই দেশ একে অপরের শক্তির সদ্ব্যবহার করতে পারে, পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারে এবং যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

    ওয়াং আরও বলেন, মোদি এবং জিনপিংয়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্কের যে উন্নতি হয়েছে, তা শুধুমাত্র সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার পর্যায়ে নেই; বরং তা নয়া উচ্চতায় উন্নীত হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রও।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বার্তা

    ভারত ও চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা যৌথভাবে বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াং। তিনি বলেন, দুই পক্ষ রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মতপার্থক্য ও বিরোধগুলি যথাযথভাবে পরিচালনা করার এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

    মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে বাধাগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভারত-চিন সম্পর্ক এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে অগ্রগতির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর মতে, এই দুই ক্ষেত্রে অগ্রগতি পরস্পরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    ওয়াং জানিয়েছেন, জিনপিংয়ের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিবাচক সাড়া দেন। মোদি স্পষ্ট করেন, ভারত কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই চিনের সঙ্গে সম্পর্ককে দেখে (Modi Xi Meeting)।

    চিনের প্রতিপক্ষ নয়, অংশীদার হতে প্রস্তুত ভারত

    বৈঠকের বিষয়ে ওয়াংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারত চিনের প্রতিপক্ষ নয়, পার্টনার হতে প্রস্তুত। মোদি আরও বলেছেন, দুই দেশের উন্নয়নকে ভারত কোনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে একটি সুযোগ হিসেবেই দেখতে চায়। ওয়াং বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে চিনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদান বজায় রাখা, কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    ব্রিকস-সহ বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা

    ব্রিকসে একে অপরের সভাপতিত্বকে সমর্থন করার বিষয়েও মোদি ও জিনপিং একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওয়াং (Wang Yi)। রাষ্ট্রসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং জি২০-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও জনসংযোগমূলক আদান-প্রদান এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। ওয়াং বলেন, ভারত ও চিনের উচিত পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা (Modi Xi Meeting)।

    ঐকমত্য বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে চিন

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, মোদি ও জিনপিংয়ের বৈঠকে যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বেজিং। তিনি বলেন, সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও আদান-প্রদান আরও গভীর করা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলিতে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে (Modi Xi Meeting)।

    গুও আরও জানান, ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য চিন তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশ পরস্পরের উন্নয়নকে সমর্থন করবে, যাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা যায়।

    ব্রিকস বৈঠকের পর চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং (Wang Yi) ফের জোর দিয়ে বলেন, ভারত ও চিনের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত অংশীদারিত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। সীমান্তে শান্তি, ব্রিকসে সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে (Modi Xi Meeting)।

  • BRICS Summit Success: ব্রিকসের সাফল্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস! ৫ রাজ্যে আসন্ন ভোটে বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করতে হাতিয়ার বিজেপির

    BRICS Summit Success: ব্রিকসের সাফল্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস! ৫ রাজ্যে আসন্ন ভোটে বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করতে হাতিয়ার বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সাফল্য দেশবাসীর কাছে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা ফের প্রমাণ করেছে। সফলভাবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit Success) আয়োজনের পর কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির আত্মবিশ্বাস এখন পাহাড়ের চূড়ায়। এমনই অভিমত রাজনৈতিক মহলের। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে জি-২০-র পর ফের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনকে মোদি সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। দলের আশা, এই সাফল্য নিট বিতর্ক ও ছাত্র আন্দোলনের ধাক্কা কাটিয়ে ফের বিজেপির জমি শক্ত করবে।

    ব্রিকসের বাজিমাত

    সফলভাবে ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit Success) আয়োজন ভারতের আন্তর্জাতিক প্রভাব ফের সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি। সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশকে ভারতীয় কূটনীতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ঘোষণাপত্রে পাহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দাও ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছিল। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসের লাগাতার আক্রমণের জেরে সংসদের বাদল অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ওই অধিবেশনে সরকার কোনও বড় সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারেনি। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট পেশও পিছিয়ে দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সাফল্যে বিজেপি বাজিমাত করেছে বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

    ভারতের দাবির পক্ষে রাশিয়া ও চিন

    রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দাবির পক্ষে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বিজেপি। সম্মেলনের ফাঁকে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইরানের মধ্যে আলোচনা, ইরানের প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা এবং টানা তৃতীয় বছর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাকে কংগ্রেসও স্বাগত জানিয়েছে, যদিও দলের তরফে কিছু আপত্তি ও শর্তের কথা জানানো হয়েছে।

    ব্রিকস সম্মেলনের কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    আয়োজক দেশের নেতা হিসেবে তিন দিন ধরে ব্রিকস সম্মেলনের কেন্দ্রে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে তাঁর উষ্ণ সম্পর্ক এবং ব্যস্ত কর্মসূচি বিশেষ নজর কেড়েছে। তিন দিনে ১৫ জন রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। পাশাপাশি একাধিক অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও অংশ নেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর ছিল আন্তর্জাতিক মহলের। বিজেপির মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত যে এই ধরনের বৃহৎ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষমতা রাখে, তাও প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য ভারতের দাবিও আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছে দলটি।

    আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচি

    আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে ঘিরে দেশীয় রাজনৈতিক আবহ বদলে দেওয়া অবশ্য মোদি সরকারের জন্য নতুন ঘটনা নয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সফল জি-২০ সম্মেলনের সময়ও সরকারের বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। এর আগে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে রোডশো আয়োজনের ঘটনাও দেখা গিয়েছে। বিজেপির কাছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর এই কৌশল যথেষ্ট কার্যকর বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন ব্রিকসের সাফল্যকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই বিজেপি ও সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন।

    ব্রিকস নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা

    দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন থেকে শুরু হতে চলা এক মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এ ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী মোদির জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তির বিষয়টিও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হবে। তাঁর বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক সাফল্যের তালিকায় ব্রিকস সম্মেলনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেছে বিজেপি। সম্মেলনের আগে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম ব্রিকস আয়োজন করে ভারতের কী লাভ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই বক্তব্যকেই হাতিয়ার করে বিরোধীদের আক্রমণ করতে চাইছে বিজেপি।

    ব্রিকস থেকে ভারতের প্রাপ্তি

    ব্রিকস থেকে ভারতের প্রাপ্তি এবং সম্মেলনের সাফল্য দেশজুড়ে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। একই সঙ্গে ব্রিকসের নৈশভোজে সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু নিয়ে রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতাদের সমালোচনাকেও কটাক্ষ করছে বিজেপি। দলের নেতাদের বক্তব্য, এত বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সমালোচনা করার মতো বিষয় না পেয়ে শুধুমাত্র নৈশভোজের মেনু নিয়ে আপত্তি তোলাই বিরোধীদের অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যেই সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ডিলিমিটেশন বিল নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সংসদ এখনও স্থগিত বা প্রোয়োগ করা হয়নি। ফলে প্রয়োজনে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করাতে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা খোলা রয়েছে।

    বিধানসভা নির্বাচনে ব্রিকস নিয়ে প্রচার

    একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়েও আলোচনা চলছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন টিম গঠনের পর দলের সংসদীয় বোর্ড, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি, জাতীয় কার্যনির্বাহী এবং জাতীয় পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি চলছে বলে খবর। সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে বিজেপি। এর পাশাপাশি আগামী বছরের গোড়ায় পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে দল।

  • UPI: ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে কোনও চার্জ নয়, স্পষ্ট করল কেন্দ্র

    UPI: ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে কোনও চার্জ নয়, স্পষ্ট করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের (UPI) মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ব্যাঙ্ক কোনও ধরনের চার্জ নিতে পারবে না। একইসঙ্গে রুপে-চালিত ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্টের (Free Bank Charges) ক্ষেত্রেও কোনও চার্জ নেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

    সরকারের বিজ্ঞপ্তি (UPI)

    সরকারের প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে টাকা পাঠানো বা গ্রহণকারী কোনও ব্যক্তির উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও চার্জ চাপাতে পারবে না কোনও ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা।

    ইউপিআই লেনদেনে চার্জ সংক্রান্ত নিয়ম আরও স্পষ্ট করতে অর্থমন্ত্রক পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস্ আইনের আওতায় এই পরিবর্তন এনেছে। বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেন এবং রুপে-চালিত ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্টকে নির্দিষ্টভাবে “ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    এর আগে গত মাসে কেন্দ্র জানিয়েছিল, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের জন্য সাধারণ গ্রাহকদের কোনও চার্জ দিতে হবে না। তবে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সীমার বেশি কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে বণিকদের কাছ থেকে সীমিত পরিসরে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

    ইউপিআই লেনদেন

    অর্থমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে হওয়া সমস্ত ইউপিআই লেনদেন আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে। ব্যবসায়ীদের উপরও কোনও সার্বিক এমডিআর চাপানো হবে না।

    সরকার আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও ধরনের চার্জ চালু করা হলেও তা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনে বর্তমানে প্রযোজ্য মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে (UPI)।

    ২০০৭ সালের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইনে সাম্প্রতিক সংশোধনের পর ইউপিআই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে চার্জ নেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের এই অবস্থান সামনে (Free Bank Charges) এল। নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই ও রুপে ডেবিট কার্ডের লেনদেনে কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চার্জ নেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে (UPI)।

     

LinkedIn
Share