Tag: Madhyom

Madhyom

  • Daily Horoscope 07 September 2025: বাণী নিয়ন্ত্রণে রাখুন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 07 September 2025: বাণী নিয়ন্ত্রণে রাখুন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) উচ্চপদ লাভ করতে পারেন।

    ২) কিছু কাজ সম্পন্ন না-হওয়ায় মেজাজ খিটখিটে হবে, সতর্ক থাকুন।

    ৩) মায়ের তরফে ধন লাভ হতে পারে।

    বৃষ

    ১) পরিবারে সুখ-শান্তির পরিবেশ থাকবে।

    ২) পরিবারে শুভ অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে পারে।

    ৩) বয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে ধন লাভ।

    মিথুন

    ১) নিজের সন্তানের কাজ দেখে আনন্দিত হবেন।

    ২) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ৩) চাকরি ও ব্যবসায়ে অংশীদার এবং সহকর্মীদের পূর্ণ সহযোগিতা লাভ করবেন।

    কর্কট

    ১) সন্তান সুখ বৃদ্ধি পাবে।

    ২) আত্মীয়দের কাছ থেকে বস্ত্র উপহার পেতে পারেন।

    ৩) বন্ধুদের সাহায্যে মনের হতাশা সমাপ্ত হবে।

    সিংহ

    ১) স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে।

    ২) পেট খারাপ হতে পারে, বদহজমের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) খাওয়া-দাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ রাখুন।

    কন্যা

    ১) কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হবে।

    ২) আপনাদের সমস্ত কাজ সম্পন্ন হবে।

    ৩) আয় বৃদ্ধি হওয়ায় আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    তুলা

    ১) কঠিন পরিস্থিতির শিকার হবেন।

    ২) আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও কাজ হতে পারে, এর ফলে মন অশান্ত হবে।

    ৩) পরিবারে সমস্ত কিছু ভালো থাকবে, আপনাদের মনোবল বাড়বে।

    বৃশ্চিক

    ১) আপনজনদের সহযোগিতা লাভ করবেন।

    ২) বড় কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

    ৩) কোনও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাহায্যে আটকে থাকা টাকা ফিরে পেতে পারেন।

    ধনু

    ১) কর্মক্ষেত্রে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে, তখনই সাফল্য লাভ সম্ভব।

    ২) বাণী নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    ৩) সম্পত্তির কারণে বিবাদ হতে পারে।

    মকর

    ১) অর্থ ও যশ বৃদ্ধি পাবে।

    ২) কাজ বাড়বে।

    ৩) শত্রু ধ্বংস হবে।

    কুম্ভ

    ১) সতর্ক থাকলে কাজ সম্পন্ন হবে।

    ২) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতভেদ উৎপন্ন হতে পারে।

    ৩) ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

    মীন

    ১) বাড়িতে কোনও বন্ধু বা আত্মীয়ের আগমন হতে পারে।

    ২) সম্পত্তির মাধ্যমে আয়ের নতুন উৎস আসবে।

    ৩) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দিনটি ভালো।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Afghanistan Earthquake: ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ে কাতরালেও, উদ্ধার করেনি কেউ, করুণ ছবি আফগান মহিলাদের

    Afghanistan Earthquake: ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ে কাতরালেও, উদ্ধার করেনি কেউ, করুণ ছবি আফগান মহিলাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে (Afghanistan Earthquake) লিঙ্গ বৈষম্যের বিষময় ফল প্রত্যক্ষ করল তামাম বিশ্ব। নারীদের স্পর্শ করা যাবে না (Taliban Gender Laws)। তালিবান সরকারের এই ফতোয়ার কারণে ভূমিকম্পের পরে দুর্বিষহ ছবি এল প্রকাশ্যে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকা পড়ে কাতরালেও, উদ্ধার করা হচ্ছে না কোনও মহিলাকে, উদ্ধার করা হচ্ছে কেবল পুরুষ ও শিশুদের। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্টে হতবাক গোটা দুনিয়া।

    ভূমিকম্পে ধ্বস্ত আফগানিস্তান (Afghanistan Earthquake)

    সম্প্রতি ভূমিকম্পের জেরে কেঁপে ওঠে আফগানিস্তান। মৃতের সংখ্যা তিন হাজার। ধ্বংসস্তূপের নীচেও চাপা পড়ে রয়েছেন বহু মানুষ। ধর্মীয় ফতোয়ার জেরে উদ্ধার করা যাচ্ছে না মহিলাদের। তালিবানি নিয়ম অনুযায়ী, একই পরিবারের সদস্য না হলে কোনও মহিলা এবং পুরুষের মধ্যে শারীরিক সংযোগ ঘটতে পারে না। তাঁরা একে অপরকে স্পর্শ করতেই পারেন না। নারী-পুরুষের শারীরিক সংস্পর্শ কেবলমাত্র স্বীকৃত পারিবারিক যোগের ক্ষেত্রেই। তালিবান সরকারের ফতোয়া, জরুরি পরিস্থিতিতেও এই নিয়মের ব্যতয় হবে না। তাই ভূমিকম্পে ধ্বস্ত আফগানিস্তানে চাইলেও, মহিলাদের উদ্ধার করতে পারছে না পুরুষদের নিয়ে গঠিত উদ্ধারকারী দল। কেবল পুরুষ ও শিশুদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। খিদে-তৃষ্ণা-যন্ত্রণায় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে উদ্ধারের আশায় কাতরেই চলেছেন মহিলারা।

    উদ্ধারকারী দলের সদস্যের বক্তব্য

    উদ্ধারকারী দলের সদস্য তাহজিবুল্লা মুহাজেব সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “আমাদের মেডিক্যাল টিমের সব সদস্যই পুরুষ। সরকারি ফতোয়ার কারণে ভেঙে পড়া বাড়ির নীচে আটকে পড়া মহিলাদের টেনে বের করার সাহস পাননি তাঁরা। ফলে জখম মহিলা বা কিশোরীরা পাথরের নীচে আটকে ছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অন্য গ্রাম থেকে মেয়েরা কখন উদ্ধার করতে আসবেন, তার জন্য অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের।” তিনি বলেন, “আমাদের মনে হচ্ছিল, মহিলারা যেন অদৃশ্য। পুরুষ ও শিশুদের চিকিৎসা করা হচ্ছিল। কিন্তু মহিলারা জখম অবস্থায় পাশে বসেছিলেন, অপেক্ষা করছিলেন।”

    কুনার প্রদেশের (Afghanistan Earthquake) আন্দারলুকাক গ্রামের বাসিন্দা বছর উনিশের আয়েশা বলেন, “উদ্ধারকারী দলে কোনও মহিলা ছিলেন না। ওরা এল। আমাদের মধ্যে অনেকেই রক্তাক্ত, আহত। তা (Taliban Gender Laws) সত্ত্বেও কোনও মহিলাকে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। আমাদের কী প্রয়োজন, তাও কেউ জিজ্ঞেস করেনি পর্যন্ত (Afghanistan Earthquake)।”

  • China: মোদি-ম্যাজিকেই বাজিমাত! পাকিস্তানের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াল চিন

    China: মোদি-ম্যাজিকেই বাজিমাত! পাকিস্তানের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াল চিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোদি-ম্যাজিকেই বাজিমাত! এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিনে (China) গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। পড়শি দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরপরই ‘দুঃসংবাদ’ পেল পাকিস্তান। তারা জানল, পাকিস্তানের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেশ। চিনের এই সিদ্ধান্তের জেরে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড় ইসলামাবাদের।

    এমএল-১ প্রজেক্ট (China)

    প্রায় এক দশক ধরে টাকার অভাবে আটকে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি থেকে পেশোয়ার যাওয়ার রেল উন্নয়নের কাজ। নাম এমএল-১ প্রজেক্ট। বর্তমানে এই পথে একটি রেলরুট রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহের মতো কাজে তা ব্যবহারের অযোগ্য। তাই খাইবার পাখতুন প্রদেশ হয়ে যাওয়া ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথের উন্নয়নের জন্য চিনের কাছ থেকে ঋণ চেয়েছিল শাহবাজ শরিফের সরকার। পাকিস্তানে রেল নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে অর্থায়ন করার প্রকল্প এমএল-১ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে এসেছে চিন। বস্তুত, দুই বন্ধুর স্বপ্নের চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপেক) প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল এই রেল নেটওয়ার্ক প্রকল্পটি। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনাও হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

    বিশ বাঁও জলে পাকিস্তান

    প্রত্যাশিতভাবেই চিন হাত তুলে নেওয়ায় আপাতত বিশ বাঁও জলে পাকিস্তানের এই প্রকল্পের কাজ। এমএল-১ প্রকল্প থেকে চিন সরে যাওয়ার পর এখন ওই প্রকল্পে টাকা ঢালার জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) দ্বারস্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। এমএল-১ প্রকল্পের করাচি-রোহরি রেল যোগাযোগ উন্নত করতে এডিবির কাছ থেকে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ চেয়েছে অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান। এমএল-১ প্রকল্পে এডিবির হস্তক্ষেপ করার অর্থ পাকিস্তান প্রথমবারের জন্য একটি বহুপাক্ষিক ঋণদাতাকে এমন একটি প্রকল্পে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে, যা এক সময় চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মূল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হত।

    পাকিস্তানের পরিকাঠামো পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা

    কিছু দিন আগেই চিনের হাইপ্রোফাইল সামরিক প্যারেডে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং আর্মি চিফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁরা সাক্ষাৎ করেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও। তাঁরাই এখন বুঝতে পেরেছেন, এমএল-১ রেলওয়ে প্রকল্পের ২ মার্কিন বিলিয়ন ডলারের তহবিল দেবে না। জিনপিং সরকারের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের পরিকাঠামো পরিকল্পনার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ইসলামাবাদকে জরুরি ভিত্তিতে এডিবির কাছ থেকে অর্থ জোগাড়ে বাধ্য করছে, যাতে সিপেক করিডরের দ্বিতীয় পর্যায়টা অন্তত রক্ষা করা যায় (Pakistan)। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে ইতিমধ্যেই কোটি কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে চিন। সেই প্রকল্পগুলির আর্থিক কার্যকারিতা নিয়ে বেজিংয়ের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকট এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের অনীহা দেখেও এমএল-১ প্রকল্পে এখন আর টাকা ঢালতে চাইছে না চিনা সরকার।

    অর্থনৈতিক করিডরের বিরোধিতা ভারতের

    প্রথম থেকেই এই অর্থনৈতিক করিডরের বিরোধিতা করেছে ভারত। কারণ সিপেকের একটা অংশ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই অংশটি ভারতের বলেই দাবি করে আসছে নয়াদিল্লি। তাই চিনের এই প্রকল্প ভারতের সার্বভৌমত্বে আঘাত বলেই মনে করে বিদেশমন্ত্রক। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সিপেক থেকে এখনও পুরোপুরি সরে দাঁড়ায়নি বেজিং। তবে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত বদলালেও বদলাতে পারে (Pakistan)। আপাতত এই প্রকল্পের অংশ এমএল-১ রেল উন্নয়ন প্রকল্পে যে তারা টাকা ঢালতে নারাজ সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছে চিন (China)। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দেশের বাইরে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছে চিন। কারণ কিছু ক্ষেত্রে চিন নিজেই মুখোমুখি হয়েছে অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার। পকেট বাঁচাতে তাই আপাতত প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে থাকা বিদেশি প্রকল্পগুলির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে চিন। শোনা যাচ্ছে, ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, এমন দেশগুলিতে মোটা অঙ্কের টাকা লগ্নি থেকেও সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিনপিংয়ের সরকার। আর সে ক্ষেত্রে ভিখিরি পাকিস্তানকে যে সাহায্য না করার তালিকায় চিন প্রথমে রাখবে, তা বলাই বাহুল্য (China)।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সম্প্রতি চিনে আয়োজিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মোদি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন নেতা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। সেখানে (Pakistan) খানিকটা উপেক্ষিতই হন পাক প্রধানমন্ত্রী। এহেন আবহে চিনের এমএল-১ প্রকল্প থেকে চিনের সরে আসার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে (China)।

  • Operation Sindoor: ‘‘১০ মে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ থামেনি’’, অপারেশন সিঁদুরের অনেক না বলা কথা শোনালেন সেনাপ্রধান

    Operation Sindoor: ‘‘১০ মে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ থামেনি’’, অপারেশন সিঁদুরের অনেক না বলা কথা শোনালেন সেনাপ্রধান

    মাধ্য়ম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার জবাবে ৭ মে শুরু হওয়া ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) কেবলমাত্র তিন দিনের মধ্যে শেষ হয়নি, বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। শুক্রবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আপনারা হয়ত ভাবছেন ১০ মে যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছে; না, তা নয়। এটি আরও অনেক দিন ধরে চলেছে, অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যার সবকিছু বলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, সীমান্তে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাস এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশের চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

    সীমান্তে অনুপ্রবেশ এখনও বন্ধ হয়নি

    শুক্রবার দিল্লিতে একটি বই উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে জেনারেল দ্বিবেদী জানান, সিঁদুর অভিযানের প্রভাব সীমান্তে কতটা পড়েছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কারণ, সীমান্তে অনুপ্রবেশ এখনও বন্ধ হয়নি। পাকিস্তানের সন্ত্রাসে মদত দেওয়াও চলছে। তাঁর কথায়, ‘‘নিয়ন্ত্রণ রেখার পরিস্থিতির উপরে সিঁদুর অভিযানের প্রভাব কতটা পড়েছে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না। পাকিস্তানের মদতে সন্ত্রাস কি বন্ধ হয়েছে? আমি মনে করি না। কারণ, নিয়ন্ত্রণরেখায় এখনও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে। আমরা সকলে জানি, কত জন জঙ্গি নিহত হয়েছে, কত জন পালিয়ে গিয়েছে।’’

    অপারেশন সিঁদুর: দ্য আনটোল্ড স্টোরি

    পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা, তার জবাবে গত ৭ মে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা (Indian Army)। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে সংঘাত শুরু হয়। অবশেষে ১০ মে পাকিস্তানের (Pakistan) অনুরোধেই দুই দেশের ডিজিএমও (DGMO) স্তরে বৈঠক হয়। তারপরই সংঘর্ষ বিরতি হয়। অপারেশন সিঁদুরে (Operation Sindoor) কী কী হয়েছিল, তা নিয়েই বই প্রকাশ করলেন সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। সেখানেই তিনি জানালেন যে ১০ মে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হয়নি। ‘অপারেশন সিঁদুর: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব ইন্ডিয়া’জ ডিপ স্ট্রাইক ইনসাইড পাকিস্তান’ শীর্ষক বইটি প্রকাশিত হয় শুক্রবার। এই বইটি লিখেছেন প্রাক্তন সেনা কর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেজিএস ধিলন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই অভিযান শুধুমাত্র ভারতীয় সেনার সামরিক অভিযানই ছিল না, একইসঙ্গে সেনার সাহসিকতা, পেশাদারিত্বকেও তুলে ধরেছিল। জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “এই দিকগুলি সাধারণত না শোনা, না বলা থেকে যায়, কারণ উর্দিধারীরা এই কথাগুলি বলতে পারেন না। নিয়ন্ত্রণ রেখায় এই ধরনের সংঘাতে আমরা অভ্যস্ত কিন্তু আমরা বুঝি না যে এর অনুভূতি, ক্ষতি, লাভ ও কী কী প্রতিবন্ধকতা থাকে। অপারেশন সিঁদুরেও না বলা কাহিনি ছিল।”

    বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়

    সিঁদুর অভিযানের সময় ভারতের বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয়েরও প্রশংসা করেছেন দ্বিবেদী। তিনি জানিয়েছেন, প্রত্যেক বাহিনীর আধিকারিকেরা নিজেদের নির্দেশ নিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে অবহিত ছিলেন। সেই মতো পদক্ষেপ করেছেন তাঁরা। তিনি বায়ু, নৌ এবং স্থলসেনাকে এক কমান্ডারের অধীনে (থিয়েটারাইজেশন) নিয়ে আসার বিষয়েও সওয়াল করেছেন। তাঁর মতে, কাজ সম্পাদনের জন্য এক জন কমান্ডার থাকা প্রয়োজন। অভিযান চলাকালীন তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়কে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন এবং ভারতীয় সেনার সমন্বিত অগ্রযাত্রাকে “একটি ছন্দময় তরঙ্গের মতো” বলে আখ্যা দেন, যেখানে “প্রত্যেকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বিত ছিল এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিল।” তিনি ব্যাখ্যা করেন যে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে, যেখানে তিন বাহিনী ছাড়াও অসামরিক ও সাইবার সংস্থাগুলো যুক্ত থাকে, সেখানে একীভূত কমান্ড কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “এত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হলে থিয়েটারাইজেশনই সমাধান। ঐক্যবদ্ধ কমান্ড অপরিহার্য; কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য একজন মাত্র কমান্ডার থাকা প্রয়োজন।”

    জিএসটি সংস্কারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত

    কেন্দ্রীয় সরকারের জিএসটি সংস্কারের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। ড্রোনের উপরে জিএসটি ১৮ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন জেনারেল দ্বিবেদী। জেনারেল দ্বিবেদী সাম্প্রতিক জিএসটি সংস্কারকে সেনার আধুনিকীকরণে ত্বরান্বিত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ড্রোনে জিএসটি ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা “বৃহৎ পরিসরে ক্রয়” সম্ভব করবে। তিনি আরও বলেন, এই সংস্কার প্রতিরক্ষা করিডরগুলিকে শক্তিশালী করবে এবং ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির অংশগ্রহণ বাড়াবে। “আমাদের প্রতিরক্ষা করিডরগুলো বড় ধাক্কা পাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং স্টার্ট-আপগুলো, যাদের প্রায়ই সীমিত সম্পদ থাকে, তারা এই জিএসটি কাট থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।”

  • Nirmala Sitharaman: “অর্থনীতিতে আবার প্রাণ ফিরে আসবে’’, ভবিষ্যতে হতে পারে জিএসটি ৩.০, ইঙ্গিত সীতারামনের

    Nirmala Sitharaman: “অর্থনীতিতে আবার প্রাণ ফিরে আসবে’’, ভবিষ্যতে হতে পারে জিএসটি ৩.০, ইঙ্গিত সীতারামনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “যাঁরা এক সময় জিএসটিকে গব্বর সিং ট্যাক্স বলেছিলেন, তাঁরাই আজ আবার সংস্কারের কৃতিত্ব দাবি করছেন।” কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের নিশানা করে কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। তিনি বলেন, “জিএসটির (GST) প্রথম পর্যায় ছিল ঐক্যের জন্য, দ্বিতীয় পর্যায় সরলতার জন্য।” কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানান, এখন তিনি মূলত সবার কাছে সহজে বোধগম্য করার দিকেই নজর দিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের জিএসটি সংস্কারকে নিয়ে নানা সময় বিজেপিকে নিশানা করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, এই কর ব্যবস্থায় তাদের দলের কৃতিত্ব রয়েছে।

    সীতারামনের সাফ কথা (Nirmala Sitharaman)

    শুক্রবার সীতারামন বলেন, “আমার কাছে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জিএসটিকে সহজ করা। সেই সহজতার প্রভাব প্রত্যেক ভোক্তাই অনুভব করবেন। আমি সেই দিকেই কাজ করছি।” রাহুল গান্ধীর দলকে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “কংগ্রেস এতদিন ক্ষমতায় থেকেও কেন এই সংস্কার কার্যকর করতে পারেনি? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ভারতে আয়করের হার ছিল বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চগুলির মধ্যে একটি।” কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান সরকারের কাছে এই সংস্কার একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা দেশব্যাপী একক কর ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব প্রক্রিয়াকে অনায়াস করেছে।

    কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ইঙ্গিত

    কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ইঙ্গিত, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই জিএসটির তৃতীয় পর্যায়ের কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে কেমন হতে পারে সেই তৃতীয় ধাপ, সে বিষয়ে এখনই কিছু খোলসা করেননি নির্মলা। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ী ও সংস্থাগুলিকে অবশ্যই কর হ্রাসের সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ২২ সেপ্টেম্বরের পর আমাদের বড় নজরদারির কাজ শুরু হবে। কম করের সুবিধা যেন সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছয়। সরকারি সংস্থাগুলির ওপরও কড়া নজর রাখা হবে।”

    জিএসটি ৩.০-র ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নির্মলা (Nirmala Sitharaman) বলেন, “তৃতীয় পর্যায় হবে সরলীকরণকে ধরে রাখা এবং আরও কার্যকর করে তোলা। জিএসটি ১.০-র উদ্দেশ্য ছিল ঐক্যমত হওয়া, জিএসটি ২.০ তে সহজ করা হল, আর জিএসটি ৩-র মূল লক্ষ্য হবে স্থিতিশীলতা, ন্যায়সঙ্গত কর হার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ব্যবস্থা।” তিনি বলেন, “অর্থনীতিতে আবার প্রাণ ফিরে (GST) আসবে। এই সংস্কারের উদ্দেশ্যই হল অর্থনীতিকে রক্ষা ও চাঙা রাখা (Nirmala Sitharaman)।”

  • PM Modi: রাষ্ট্রসংঘের সভায় যোগ দিতে আমেরিকা যাবেন না মোদি! সুকৌশলে কি বার্তা ট্রাম্পকে?

    PM Modi: রাষ্ট্রসংঘের সভায় যোগ দিতে আমেরিকা যাবেন না মোদি! সুকৌশলে কি বার্তা ট্রাম্পকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুচিন্তিত পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi)। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে (UNGA Session) যোগ দেবেন না প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পরিবর্তে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভাষণ দেবেন। এর আগে ঠিক ছিল, ২৬ সেপ্টেম্বর মোদি ভাষণ দেবেন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবর্তে বিদেশমন্ত্রী ভাষণ দেবেন ২৭ সেপ্টেম্বর। মার্কিন শুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বের মাঝে সুপরিকল্পিত ভাবে আমেরিকা সফর এড়িয়ে গেলন প্রধানমন্ত্রী মোদি এমনই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

    কেন গেলেন না মোদি

    প্রথমত, এই সময় মার্কিন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে বেরিয়ে এলে, তা সরাসরি বিরোধ বা সংঘাতের সামিল হত। যা ভারত এখনও পর্যন্ত এড়িয়ে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা কোনও মন্তব্যের প্রকাশ্যে প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটেনি ভারত। পাল্টা শুল্ক চাপায়নি। শুধু চুপ করে বসে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে দিল্লি। ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হলে করমর্দন করতে হত, সৌজন্যতা বজায়ের জন্য সেই কাজ করলে জনমানসে ভুল বার্তা যেত। বিশেষ করে, ট্রাম্প যখন ‘‘চিন রাশিয়ার কাছে ভারতকে হারিয়ে ফেলেছি’’ বলে দাবি করে বসেছেন। দ্বিতীয়ত, হতেই পারে, মোদি আমেরিকা যাচ্ছেন শুনে ট্রাম্প আগবাড়িয়ে আচমকা ঘোষণা করে বসলেন। বলে দিতেই পারেন যে, মোদির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁরা দেখা করতে চলেছেন। মোদি রাজি হয়েছেন এরকম নানা কথা। এমনকি বৈঠকের দিনক্ষণ জায়গাও প্রকাশ করে ফেলতে পারতেন। কারণ অতীতে এমন অনেক কিছুই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা বারবার দাবি করেছেন ট্রাম্প, যা আদতে মিথ্যে বলে দাবি করেছে ভারত।

    শেষ কবে রাষ্ট্রসংঘে মোদি

    জুলাই মাসে প্রকাশিত তালিকায় জানা গিয়েছিল চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশের প্রশাসনিক প্রধানদের সঙ্গে ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। কিন্তু এবার জানা গেল, মোদির পরিবর্ত হিসেবে জয়শঙ্করের কথা। প্রসঙ্গত, এবারের অধিবেশনে প্রথম বক্তব্য রাখার কথা ব্রাজিলের। এরপরই আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাষণ দেবেন। ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর এটাই রাষ্ট্রসংঘে তাঁর অধিবেশন। নিউ ইয়র্কে হতে চলা ওই অধিবেশনে ট্রাম্প কী বলবেন, সেদিকে কড়া নজর থাকবে নয়াদিল্লির। তথ্য বলছে, শেষবার ২০২১ সালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় গিয়েছিলেন মোদি। গত বছর রাষ্ট্রসংঘের হেডকোয়ার্টারেও তিনি যান। তবে সভায় যোগ দেননি। তারপর ২০২২ সাল থেকেই রাষ্ট্রসংঘের ডিবেটে ভারতের হয়ে ময়দানে নেমেছেন এস জয়শংকর। শুক্রবারই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার উচ্চ পর্যায়ের ডিবেটে স্পিকারদের নাম প্রকাশ্যে আসে। সেখানে লেখা রয়েছে ভারতের তরফে এক ‘মন্ত্রী’ সেখানে যো দেবেন। জানা যাচ্ছে, ২৭ সেপ্টেম্বর, যেদিন দেশে দুর্গাপুজোর পঞ্চমী পালিত হবে, সেদিন রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখবেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর।

    এক ঢিলে দুই পাখি

    শুল্কযুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের নানা বক্তব্যে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের বিবিধ টানাপোড়েন সামনে এসেছে। সম্প্রতি এসসিও বৈঠকে মোদিকে পুতিন ও জিনপিংয়ের পাশে দেখে ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে রাশিয়া ও ভারতকে অন্ধকার চিনের কাছে হারিয়ে ফেলেছি।’ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এই পোস্ট নিয়ে কিছু বলার নেই এখনও পর্যন্ত।’ এর আগে প্রাক্তন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেছেন, ট্রাম্প ও মোদির সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে। এবার ফের ট্রাম্পকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে। পরে ট্রাম্প ব্যাখ্যা করে বলেছেন, তাঁর এই ধরনের মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর হতাশা। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন মুলুকে পা রাখলে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। মার্কিন কূটনীতির কারবারিরা মোদি-ট্রাম্পকে পাশাপাশি বসিয়ে আলোচনার চেষ্টা করবেন। তখন প্রধানমন্ত্রী মোদির সামনে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মোদি সুকৌশলে সেই রাস্তাই বন্ধ করে দিলেন। একই সঙ্গে এক ঢিলে দুই পাখি মারল দিল্লি। এক, ট্রাম্পের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো গেল। দুই, ট্রাম্পকে ঘুরিয়ে বার্তা দেওয়া হল যে, ভারত মাথা নত করবে না।

  • PM Modi: “ওঁর অনুভূতিকে অনুভব করি”, ট্রাম্পের ‘‘বন্ধু’’ মন্তব্যের ছোট্ট প্রতিক্রিয়া মোদির

    PM Modi: “ওঁর অনুভূতিকে অনুভব করি”, ট্রাম্পের ‘‘বন্ধু’’ মন্তব্যের ছোট্ট প্রতিক্রিয়া মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় পণ্যের ওপর দু’দফায় ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ট্রাম্পের এই চড়া শুল্কনীতির জেরে এক অক্ষে চলে আসে ভারত-রাশিয়া ও চিন। এতেই প্রমাদ গোনে ট্রাম্প প্রশাসন। ঘরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তারপরেই তিনি বলেন, “আমি সব সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বন্ধু। নরেন্দ্র মোদি আমার বিশেষ বন্ধু। সব সময় বিশেষই থাকবেন। আমি তাঁকে খুব পছন্দ করি।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “নরেন্দ্র মোদি আমার বিশেষ বন্ধু। সব সময় বিশেষ থাকবেন। আমি তাঁকে খুব পছন্দ করি। কিন্তু এই মুহূর্তে তিনি যা করছেন, সেটা ঠিক নয়। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।” ট্রাম্পের এহেন মন্তব্যের জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, তিনি ট্রাম্পের অনুভূতিকে অনুভব করেন।

    মোদির ট্যুইট বার্তা (PM Modi)

    প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য এল এমন একটা সময়ে, যখন ট্রাম্প বলেন, তিনি সর্বদা মোদির বন্ধু থাকবেন। অথচ এর ঠিক একদিন আগেই তিনি দাবি করেছিলেন, ‘আমেরিকা ভারতকে সব চেয়ে গভীর, অন্ধকার চিনের হাতে হারিয়ে ফেলেছে।’ প্রত্যুত্তরে ট্যুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুভূতি ও আমাদের সম্পর্কের ইতিবাচক মূল্যায়নের গভীর প্রশংসা করি এবং সম্পূর্ণভাবে অনুভব করি। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎমুখী সামগ্রিক ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে।” তবে প্রধানমন্ত্রী যখন বললেন যে তিনি ট্রাম্পের অনুভূতির “প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন”, তখন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তার বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করতে এড়িয়ে গিয়েছেন। যার অর্থ হল, এই সম্পর্কের উত্তাপ শিথিল করতে হলে পেছনের দিকে কিছু কাজ করতে হবে।

    ইতিবাচক বাক্য বিনিময়

    দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে ইতিবাচক (PM Modi) এই বাক্য বিনিময় এই ধারণাকে জোরালো করে যে, ট্রাম্প ও তাঁর আধিকারিকদের ভারতবিরোধী উত্তেজক মন্তব্যের ঝড় সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্ক মেরামত করার দরজা এখনও খোলা রয়েছে। ট্রাম্প ও তাঁর আধিকারিকরা একাধিকবার ভারত বিরোধী মন্তব্য (Donald Trump) করলেও, ভারত সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করেনি, করেনি কোনও পদক্ষেপও। ট্রাম্পের সমালোচনাও করেনি। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে অপরিশোধিত তেল কেনায় ভারতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাত আমেরিকার জন্য খোলার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় আটকে গিয়েছে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি, যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সম্পর্কের শীতলতা। শুক্রবারও ট্রাম্প ভারতকে নিশানা করে জানান, যখন তিনি চিনে অনুষ্ঠিত এসসিও (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তিয়ানজিনে হাসিমুখে একে অন্যের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ছবি প্রদর্শন করার পর আরও বিব্রত বোধ করেন ট্রাম্প।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    এর পরেই মোদি, পুতিন ও শি জিনপিংকে এক (PM Modi) সঙ্গে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে এমন একটি ছবি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে আমরা ভারত ও রাশিয়াকে হারিয়েছি সবচেয়ে গাঢ়, অন্ধকার চিনের কাছে। তারা যেন এক সঙ্গে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ কাটায়!’ এরই কয়েক ঘণ্টা পরে ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, সম্পর্কটি এখনও ‘বিশেষ’ এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে শক্তিশালী বন্ধন বজায় রেখেছেন। ট্রাম্প (Donald Trump) বলেন, “আমি সর্বদা (প্রধানমন্ত্রী) মোদির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব। তিনি একজন মহান প্রধানমন্ত্রী। আমি সর্বদা বন্ধু থাকব। তবে আমি ঠিক এই বিশেষ মুহূর্তে তিনি যা করছেন তা পছন্দ করি না। কিন্তু ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। চিন্তার কিছু নেই। মাঝে মাঝে আমাদের মতবিরোধ হয় (PM Modi)।”

    ট্রাম্পের ভোল বদল

    সম্প্রতি ট্রাম্প ও তাঁর সহকারীরা ভারতের ব্যাপারে আরও সংযত ভাষা ব্যবহার করেছেন। অথচ গোটা সপ্তাহটা ধরে ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতকে “ক্রেমলিনের লন্ড্রোম্যাট”ও বলা হয়েছিল, রাশিয়া ইউক্রেন সংঘর্ষকে বলা হয়েছিল “মোদি যুদ্ধ”। গত সপ্তাহেই ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্ক খুব ভালো। যদিও তিনি এই সম্পর্ককে “একতরফা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য অসমতার কারণে। আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও (Donald Trump) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের শক্তি এবং স্থায়ীত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় দিনের শেষে, দু’টি মহান দেশ এটি সমাধান করবে (PM Modi)।”

  • Daily Horoscope 06 September 2025: বন্ধুদের সাহায্য পাবেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 06 September 2025: বন্ধুদের সাহায্য পাবেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) বুদ্ধির ভুলের জন্য ক্ষতি হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় কর্মচারীদের সঙ্গে বিবাদ।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    বৃষ

    ১) মিথ্যা বদনাম থেকে সাবধান।

    ২) প্রেমে আনন্দ লাভ।

    ৩) বন্ধুদের সাহায্য পাবেন।

    মিথুন

    ১) দাম্পত্য কলহের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ২) ব্যবসায় লাভের পরিমাণ বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা।

    ৩) সখপূরণ হবে।

    কর্কট

    ১) পারিবারিক ভ্রমণে বাধা পড়তে পারে।

    ২) প্রেমের ক্ষেত্রে সুখের দিন।

    ৩) বিবাদে জড়াবেন না।

    সিংহ

    ১) ব্যবসায় বিবাদের যোগ থাকলেও লাভ বাড়তে পারে।

    ২) কৃষিকাজে সাফল্য পাবেন।

    ৩) গুরুজনদের পরামর্শ মেনে চলুন।

    কন্যা

    ১) ব্যবসায় অর্থাভাব ও শত্রুর দ্বারা ক্ষতির সম্ভাবনা।

    ২) স্ত্রীর কারণে প্রচুর খরচ হওয়ার সম্ভাবনা।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    তুলা

    ১) আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

    ২) কোনও প্রতিবেশীর জন্য সম্মানহানি।

    ৩) পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।

    বৃশ্চিক

    ১) সকালের দিকে কোনও দুশ্চিন্তা মাথা খারাপ করবে।

    ২) শিক্ষকদের জন্য ভালো খবর।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    ধনু

    ১) বিষয়-সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে গুরুজনের সঙ্গে মনোমালিন্য।

    ২) কোনও মহিলার জন্য আনন্দ লাভ।

    ৩) ধৈর্য ধরুন।

    মকর

    ১) সকালের দিকে পেটের ব্যথায় কষ্ট পেতে পারেন।

    ২) কেনাকাটার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    কুম্ভ

    ১) সম্মানহানির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ২) কোনও কাজে সময় নষ্ট হতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মীন

    ১) মা-বাবার সঙ্গে জরুরি বিষয়ে আলোচনা।

    ২) ব্যবসায় লাভের যোগ।

    ৩) ভালোই কাটবে দিনটি।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • TET: টেট পাশ না করলে শিক্ষকদের চাকরি যাবে, সুপ্রিম নির্দেশে কাদের ছাড়?

    TET: টেট পাশ না করলে শিক্ষকদের চাকরি যাবে, সুপ্রিম নির্দেশে কাদের ছাড়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষকতায় পদোন্নতি বা চাকরি চালিয়ে যেতে হলে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক – এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, পাঁচ বছরের বেশি চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলেও টেট পাশ না করলে শিক্ষকতায় থাকা যাবে না। তবে যে সব শিক্ষক ২০০৯ সালের শিশুদের বাধ্যতামূলক এবং বিনামূল্যে শিক্ষা অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার আগে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের টেট পাশ করার জন্য ২ বছরের সময় দেওয়া হয়েছে।

    টেট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

    সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যে শিক্ষকরা টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন না, তাঁরা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন বা টার্মিনাল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরের জন্য আবেদন করতে পারেন। আসলে ২০১১-র ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন ঘোষণা করেছিল শিক্ষকপদে নিয়োগে যোগ্য হতে টেট বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবের কথা মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট এও জানিয়েছে, যাঁদের অবসর পেতে আর পাঁচ বছর বাকি, তাঁদের জন্য ছাড়। তাঁরা টেট না পাশ করলেও চাকরি করে অবসর নিতে পারবেন। কিন্তু এই সময়ে পদোন্নতি পাবেন না। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় এসেছে একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে। তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য সরকারও এই বিষয়ে মামলা করেছিল। প্রশ্ন ছিল – শিক্ষকতার জন্য টেট আদৌ বাধ্যতামূলক কিনা। এনসিটিই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য যখন ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করেছিল, তখনই টেট চালু হয়।

    সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে করণীয়

    তবে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও টেট বাধ্যতামূলক হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, স্কুলের প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের জন্য কয়েকটি ন্যূনতম শর্ত তৈরি করেছিল ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (এনসিটিই)। তারপর চালু করা হয়েছিল টেট। পশ্চিমবঙ্গেও টেট পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হয়। যদিও পরীক্ষার পর দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া না এগোনো এবং দুর্নীতির অভিযোগে একাধিকবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

  • India US Relation: ভারতের সঙ্গে ট্রাম্পের আচরণের সমালোচনা মার্কিন মুলুকে, কী বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট?

    India US Relation: ভারতের সঙ্গে ট্রাম্পের আচরণের সমালোচনা মার্কিন মুলুকে, কী বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ট্রাম্প জমানায় মার্কিন বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করলেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব। রাজধানী হেলসিঙ্কিতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপ এবং আমেরিকাকে গ্লোবাল সাউথ এবং ভারতের প্রতি সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নইলে আমরা হেরে যাব।’’ পরাজয় কোন দিক থেকে আসবে, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি আলেকজান্ডার। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, স্টাবের এই মন্তব্যের সময় তাঁর পাশে ছিলেন লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গীতানাস নৌসেদা। ভারতের সঙ্গে ট্রাম্পের আচরণের (India US Relation) সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা রো খান্না। প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) জেক সুলিভানও ট্রাম্পের ভারতের উপর আরোপিত শুল্কনীতি এবং একতরফা ভূ-রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

    ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ স্টাবের আশঙ্কা

    চলতি বছরের ৩১ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চিনের তিয়ানজিনে চলা ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ বা এসসিওর বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (India US Relation)। সেখানে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাদা করে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, মোদিকে নিজের গাড়িতে করে হোটেলে নিয়ে যান পুতিন। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নয়াদিল্লি ও ক্রেমলিনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কাটাছেঁড়ায় বসে একাধিক পশ্চিমি দেশ। গত ২৭ অগাস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ করে শুল্ক ধার্য করেছে ট্রাম্পের আমেরিকা। শুধু তা-ই নয়, নয়াদিল্লি অবিলম্বে রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল ‘উরাল ক্রুড’ কেনা বন্ধ না করলে নিষেধাজ্ঞার অঙ্ক আরও বৃদ্ধি পাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। যদিও এই হুমকির কাছে মাথা নোয়াতে নারাজ মোদি সরকার। কেন্দ্রের সাফ যুক্তি, জাতীয় স্বার্থে মস্কোর থেকে সস্তা দরে ‘তরল সোনা’ আমদানি করা হচ্ছে, যা কোনও অবস্থাতেই বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। ভারতীয় পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কের অঙ্ক বৃদ্ধি করতেই বিকল্প বাজারের সন্ধানে কোমর বেঁধে লেগে পড়ে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে সাত বছর পর প্রধানমন্ত্রী মোদির চিন সফরের দিকে তাকিয়েছিল গোটা বিশ্ব। সেখানে শি এবং পুতিনের সঙ্গে তাঁকে খোশগল্প করতে দেখে প্রমাদ গুনেছে ফিনল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মতো রুশ সীমান্ত লাগোয়া পূর্ব ইউরোপের একাধিক দেশ। মস্কোর দিকে নয়াদিল্লির এ ভাবে ঝুঁকে পড়ার জন্য সম্পূর্ণ ভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করছে তারা। ফিনল্যান্ড প্রেসিডেন্ট স্টাবের কথায়, ‘‘চিনের বৈঠকে কী হয়েছে সেটা আমরা সবাই দেখেছি। পশ্চিম ইউরোপ কিন্তু যথেষ্ট ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভারতের মতো উদীয়মান শক্তির সঙ্গে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে সমূহ বিপদ। আমাদের পুরনো ব্যবস্থার কথা মাথায় রাখতে হবে।’’

    স্টাবস-ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতা

    স্টাবস নেহাতই কোনও দেশের প্রেসিডেন্ট নন, তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতা আছে। একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়, সারা বিশ্বে যে কয়েকজন পশ্চিমী রাষ্ট্রনেতার (বিরল তালিকা) কথায় পাত্তা দেন ট্রাম্প, তাঁদের মধ্যে আছেন ফিনল্যান্ড প্রেসিডেন্ট। এমনকী ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউক্রেনের যে আলোচনা চলছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিনল্যান্ড। শুধু তাই নয়, গত মার্চে ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো রিসর্টে ট্রাম্পের সঙ্গে সাত ঘণ্টা গলফ খেলেছিলেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট।

    নোবেল না পাওয়াতেই ভারতকে শাস্তি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসম্যান রো খান্না এক্স-এ এক পোস্টে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন না করায়, ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০% শুল্ক বসিয়েছেন, যা চিনের উপর আরোপিত শুল্কের থেকেও কঠোর।” তিনি অভিযোগ করেন, “ট্রাম্প নিজের স্বার্থে তিন দশকের মার্কিন-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্ব ধ্বংস করছেন। এটা শুধু ভারতের রফতানি খাতকে নয়, মার্কিন নির্মাতা ও আমেরিকার অর্থনীতিকেও বিপর্যস্ত করছে।”

    পাকিস্তানে পারিবারিক ব্যবসার স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে ভাঙন

    আমেরিকার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভানও ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে বলেন, “ট্রাম্প নিজের পরিবারের ব্যবসা রক্ষা করতে পাকিস্তানের সঙ্গে আঁতাত করেছেন এবং ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক নষ্ট করেছেন।” তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে দ্বিদলীয় সমর্থনে ভারতের সঙ্গে একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই সম্পর্ক প্রযুক্তি, প্রতিভা, অর্থনীতি ও চিন মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প সব কিছু এক লহমায় নষ্ট করে দিয়েছেন।” সুলিভান আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়াল ইঙ্ক (World Liberty Financial Inc বা WLFI) পাকিস্তানের ক্রিপ্টো কাউন্সিলের (PCC) সঙ্গে একাধিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। আমেরিকান অর্থনীতিবিদ রিচার্ড উলফ, জেফরি স্যাকস ও প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালিও ট্রাম্পের ভারতের উপর শুল্কনীতি ও একতরফা আচরণকে “কৌশলগত ভুল”, “আত্মঘাতী পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন।

LinkedIn
Share