Tag: Madhyom

Madhyom

  • West Bengal Elections 2026: একজোট হতে হবে জেলার ৩০ শতাংশ হিন্দুকে, মুর্শিদাবাদে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানের ঢল

    West Bengal Elections 2026: একজোট হতে হবে জেলার ৩০ শতাংশ হিন্দুকে, মুর্শিদাবাদে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানের ঢল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট প্রচারে রাজ্যজুড়ে উঠেছে গেরুয়া ঝড়। নির্বাচনী প্রচার পথে-ঘাটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বিজেপি প্রার্থীরা। আর তাতেই তৃণমূলের অপশাসনের অবসান ঘটাতে প্রকাশ্যে সোচ্চার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তৃণমূলসহ বিরোধীদলগুলি ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের ঢল নেমেছে রাজ্যজুড়ে। আর সেই প্রবণতা প্রবল ভাবে দেখা গিয়েছে মুর্শিদাবাদেও (Murshidabad)। হুমায়ুন কবিরের ঘোষণা করা আমরা ৭০ ওরা ৩০-এর জেলায় বিজেপিই যে শেষ ভরসা তা বুঝে গিয়েছেন হিন্দুরা। কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওইয়া হবে হিন্দুদের! চরম আতঙ্ক দেখেছে ওয়াকফের আন্দলনে। তাই প্রচার চলাকালীনই প্রার্থীর হাত ধরে হাতে তুলে নিচ্ছেন গেরুয়া পতাকা। ভরতপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষের হাত থেকে বিজেপির (West Benagl BJP) পতাকা হাতে তুলে নিলেন বহু তৃণমূল কর্মী।

    স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান বিজেপিতে (Murshidabad)

    অন্যান্য দিনের মতো প্রচারে বেরিয়ে বিজেপির পুরনো কর্মী তথা ভরতপুরে দলীয় প্রার্থী অনামিকাদেবী। ভরতপুর (Murshidabad) ২ নম্বর ব্লকের সালু গ্রামের পথে পথে জনসংযোগ সারছিলেন তিনি। কথা বলছিলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তাদের অভাব অভিযোগ মন দিয়ে শুনছিলেন তিনি, আর তখনই বিজেপিতে (West Benagl BJP) যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন কয়েকজন তৃণমূলকর্মী। বিধানসভা নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে বিজেপির প্রচারের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তাঁরা। স্বতঃস্ফূর্ত এই সমর্থনে আপ্লুত প্রার্থী ও সঙ্গে থাকা বিজেপি নেতারা সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বিজেপিতে যোগদান করান। হাতে তুলে দেওয়া হয় দলীয় পতাকা। ওঠে জয় শ্রী রাম স্লোগান।

    ভাগিরথীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা

    বিজেপির (West Benagl BJP) অভিযোগ, তৃণমূলের মদতে লাগাতার অনুপ্রবেশের জেরে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জনবিন্যাস যে পরিকল্পিতভাবে বদলে ফেলা হয়েছে তা এখন বড় সমস্যা এই জেলার। এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যে সব থেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে এই জেলা থেকেই। হিন্দুদের কেটে ভাগিরথীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা বললেও দলের বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে দেওয়াল লিখনে স্পষ্ট, মুর্শিদাবাদে হিন্দুদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে একজোট হতে হবে জেলার ৩০ শতাংশ হিন্দুকে।

    তবে শুধু হিন্দুরা নন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে তাঁদের তেজপাতার মতো ব্যবহার করছেন তা বুঝতে পারছেন মুর্শিদাবাদের মুসলিমরাও। তৃণমূলের প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে তাদেরও। তৃণমূলের হুমকি উপেক্ষা করে তাদের অনেকেও যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে।

  • Palak Gulia-Mukesh Nelavalli: শুটিং বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জয়! তেরঙা ওড়ালেন দুই ভারতীয় শুটার পলক ও মুকেশ

    Palak Gulia-Mukesh Nelavalli: শুটিং বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জয়! তেরঙা ওড়ালেন দুই ভারতীয় শুটার পলক ও মুকেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন (ISSF) আয়োজিত বিশ্বকাপে এক অভাবনীয় কৃতিত্বের নজির গড়ল ভারত। ১০ মিটার এয়ার পিস্তল মিক্সড টিম ইভেন্টে কেবল সোনা জয়ই নয়, বরং বিশ্বরেকর্ড গড়ে (Palak Gulia-Mukesh Nelavalli) ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ভারতের দুই কনিষ্ঠ শুটার পলক গুলিয়া এবং মুকেশ নেলাভল্লি। তাদের এই অবিস্মরণীয় জয় ভারতীয় ক্রীড়া মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক যোগ করল।

    অদম্য লড়াই (Palak Gulia-Mukesh Nelavalli)

    প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই পলক ও মুকেশ অসামান্য একাগ্রতা ও লক্ষ্যভেদ প্রদর্শন করেন। ফাইনালে প্রতিপক্ষকে কার্যত কোনও সুযোগ না দিয়েই তাঁরা শীর্ষস্থান দখল করে নেন। সোনা জয়ের পথে তাঁরা যে স্কোর খাড়া করেছেন, তা এই ইভেন্টের বিশ্বরেকর্ডকে (Palak Gulia-Mukesh Nelavalli) ভেঙে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে চাপের মুখে পলকের শান্ত মেজাজ এবং মুকেশের নির্ভুল নিশানাবাজি দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। বিদেশের প্রতিকূল কন্ডিশনে এই দুই ভারতীয় তারকার জয় প্রমাণ করে দিল যে ভারতের তরুণ প্রজন্মের শুটাররা বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব (ISSF) করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

    জুটির মধ্যে বোঝাপড়া আসল

    সোনাজয়ী পলক বলেছেন, “মিক্সড টিম ইভেন্টে জুটির মধ্যে বোঝাপড়া আসল। নতুন ফরম্যাটে চারটে দল ফাইনালে খেলে। ফলে লড়াই আরও বেশি। ফলে শুরুটা ভালো হওয়া জরুরি। আমরা সেটা করতে পেরেছি। আমি অবশ্য মুকেশের সঙ্গে নয়, আমার নিজের সঙ্গে লড়াই করছিলাম। মুকেশ আমার কাজটা সহজ করে দিয়েছে।” একই ভাবে সোনাজয়ী মুকেশ বলেন, “ভারতের হয়ে সিনিয়র স্তরে এটা আমার প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। নিজের সেরাটা দিয়েছি। ফাইনালে স্নায়ুর চাপ ধরে রেখেছিলাম। আমি আর পলক নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছিলাম। কে বেশি স্কোর করতে পারে সেই লড়াই চলছিল। সেই লড়াই করতে গিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।”

    ক্রীড়ামহলে উদ্দীপনা

    পলক এবং মুকেশের এই অভাবনীয় সাফল্যে (Palak Gulia-Mukesh Nelavalli) ভারতের জাতীয় রাইফেল সংস্থা এবং ক্রীড়ামন্ত্রক অভিনন্দন জানিয়েছে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, অলিম্পিকের আগে এই ধরনের সাফল্য ভারতীয় শুটিং দলের (ISSF) আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। তাঁদের এই কৃতিত্ব কেবল স্বর্ণপদকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা আগামীর তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

  • BCB: বিসিসিআই-এর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতির উদ্যোগ! বিসিবি-র দায়িত্বে তামিম ইকবাল, অপসারিত বুলবুল

    BCB: বিসিসিআই-এর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতির উদ্যোগ! বিসিবি-র দায়িত্বে তামিম ইকবাল, অপসারিত বুলবুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় পরিবর্তন। প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal)-কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করল সরকার। একই সঙ্গে অপসারিত হলেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam Bulbul)। ভেঙে দেওয়া হয়েছে বিসিবি-র পরিচালন পর্ষদও। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSC) একটি ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন তামিম। এই কমিটির মূল দায়িত্ব আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিসিবি-র নির্বাচন সম্পন্ন করা।

    কেন এই বড় সিদ্ধান্ত?

    এনএসসির ডিরেক্টর আমিনুল এহসান বলেছেন, ‘‘তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে বিসিবির নির্বাচন হবে। আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালন পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাকে (আইসিসি) জানানো হয়েছে।’’ সূত্রের খবর, টি-২০ বিশ্বকাপ ঘিরে বিতর্কই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। সেই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (Asif Nazrul) ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচ খেলতে অনুমতি দেননি। তাঁর দাবি ছিল, আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman)-কে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানো হোক। এই পরিস্থিতিতে বুলবুলের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ে বোর্ডের ভেতরে। ইতিমধ্যেই বিসিবি-র ছয়জন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, তামিম ইকবালের হাতে বিসিবি-র দায়িত্ব তুলে দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। যার অন্যতম লক্ষ্য ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক আরও মজবুত করা।

    বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত

    এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে হল, যখন বিসিবি ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যোগাযোগ করেছে। নতুন সভাপতি হিসেবে তামিমের নিয়োগ সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট মহল। তামিমের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন (Minhajul Abedin)এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহর আলি খান (Athar Ali Khan)-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-কে জানানো হয়েছে। যদিও আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়, তবুও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন করার আশ্বাস থাকায় কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • Jammu Kashmir: বানচাল নাশকতার ছক! আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসের পর্দা ফাঁস, কাশ্মীরে গ্রেফতার দুই পাক মদতপুষ্ট-সহ ৫ জঙ্গি

    Jammu Kashmir: বানচাল নাশকতার ছক! আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসের পর্দা ফাঁস, কাশ্মীরে গ্রেফতার দুই পাক মদতপুষ্ট-সহ ৫ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ধ্বংসের অভিযানে বড় সাফল্য পেল জম্মু কাশ্মীরের পুলিশ (Jammu and Kashmir Police)। মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করল জম্মু কাশ্মীরের পুলিশ। তাদের মধ্যে আছে দু’জন পাকিস্তানি জঙ্গিও। ধৃতদের মধ্যে আছে আবদুল্লা ওরফে আবু হুরেইরা। গত ১৬ বছর ধরে তার খোঁজ করছিল পুলিশ। জম্মু-কাশ্মীরের বাইরে থেকেই সেখানে হামলার ছক করত সে। তাকে পাঞ্জাব রাজ্যের এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য তিনজন শ্রীনগরের। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণের পর এই চক্রটির হদিস মেলে। তদন্তে উঠে এসেছে, লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এই মডিউলটি একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত ছিল এবং সুসংগঠিত ভাবে কাজ করছিল।

    পহেলগাঁও হামলার মতোই পরিকল্পনা!

    গত বছর এই এপ্রিল মাসেই পহেলগাঁওয়ে নিরীহ হিন্দু পর্যটকদের উপর গুলি চালিয়েছিল জঙ্গিরা। চলতি বছরেও পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তি হিসেবে উপত্যকায় বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল জঙ্গিরা। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে ফের সাফল্য পেল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে লস্কর-ই-তৈবার পাঁচ সদস্যকে। ধৃতরা সেখানে বড় ধরনের হামলার ছক কষেছিল। তার আগেই আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসের ( terror module) পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই পাকিস্তানি-সহ লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)-র পাঁচ সদস্যকে। যাদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ পাক অপারেটিভ আবদুল্লা ওরফে আবু হুরেইরা।

    আবু হুরেইরা কে?

    পুলিশ সূত্রে খবর, জম্মু-কাশ্মীর এলাকার বাইরে ঘাঁটি গেড়েছিল আবদুল্লা ওরফে আবু হুরেইরা। সেখান থেকেই এত দিন বিভিন্ন সন্ত্রাসমূলক কাজ পরিচালনা করত সে। আড়ালে থেকেই সেখানে বিভিন্ন সন্ত্রাসমুলক কাজের নির্দেশ দিত পাকিস্তানি এই লস্কর-ই-তৈবা সদস্য। আবদুল্লার সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছে আরও এক পাকিস্তানি জঙ্গি ( Pakistani terrorist) উসমান ওরফে খুবাইব-কে। পুলিশের দাবি, জম্মু কাশ্মীরে পুলিশ এবং সেনার উপর হামলার বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে এই দু’জন জড়িত। পাঞ্জাবের মালেরকোটলা এলাকা থেকে ধরা হয়েছে দু’জনকে। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের খবর, খুবাইব প্রায় ১৬ বছর আগে ভারতে অনুপ্রবেশে করেছিল। তখন থেকেই সে গোয়ান্দাদের নজরে ছিল। বারবার সে তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছে। সূত্রের খবর, পহেলগাঁও বর্ষপূর্তির আগে ভারতকে ফের রক্তাক্ত করার ছক করছিল এই জঙ্গিদলটি। গ্রেফতার হওয়া বাকি তিনজন শ্রীনগরের বাসিন্দা—মহম্মদ নাকিব ভাট, আদিল রশিদ ভাট এবং গুলাম মহম্মদ মীর ওরফে ‘মামা’। অভিযোগ, তারা জঙ্গিদের আশ্রয়, খাবার এবং অন্যান্য সহায়তা দিত।

    আবু হুরেইরার ভূমিকা

    পুলিশ সূত্রে খবর, আবু হুরেইরা ২০১১ সাল থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ছিল এবং ধীরে ধীরে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। তদন্তে উঠে এসেছে, আবু হুরেইরা লস্করের অর্থায়ন ও অপারেশনাল কার্যকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। সে মূলত বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করত এবং শ্রীনগর অঞ্চলে ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (OGWs) সঙ্গে সমন্বয় রাখত। পুলিশের দাবি, সে প্রায় ৪০ জন বিদেশি জঙ্গিকে পরিচালনা করেছে, যাদের অধিকাংশই পরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। এছাড়া পরিবহন, অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ জোগাড়ের ক্ষেত্রেও সে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করত। জানা গিয়েছে, শ্রীনগরের হারওয়ান এলাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে সে কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ। তদন্ত এখনও চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    লস্কর-ই-তৈবা-র এক গভীর নেটওয়ার্কের সন্ধান

    সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তাদের কাছে খবর ছিল, উপত্যকায় লুকিয়ে রয়েছে একটি জঙ্গি দল। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে যোগ রয়েছে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান (Rajasthan) এবং হরিয়ানা (Haryana)-সহ ১৯টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। ওই তল্লাশিতেই উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন আপত্তিকর সামগ্রী। এই তদন্তে লস্কর-ই-তৈবা-র একটি গভীর শিকড়যুক্ত নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তাদের রসদ ও আর্থিক সাহায্য করা করত তার খোঁজও পাওয়া গিয়েছে এই তল্লাশি অভিযানে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সাহায্যে এক বিদেশি জঙ্গি ভুয়ো নথি ও পরিচয় ব্যবহার করে বিদেশে যাতায়াত করেছিল। এছাড়াও, ধৃত জঙ্গিরা প্রায় ১৫–১৬ বছর আগে ভারতে অনুপ্রবেশ করে কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় ছিল। এই নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। ওই জঙ্গিদের আর কী ছক ছিল এবং অন্য সদস্যরা কোথায় গা-ঢাকা দিয়ে আছে তার খোঁজ চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

     

  • India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার দিকে নজর দিলে পাকিস্তানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। পাকিস্তানের তরফে কলকাতায় হামলার হুমকির জবাবে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif) মন্তব্য করেছিলেন, ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত হলে ইসলামাবাদ কলকাতায় হামলা চালাতে পারে। সেই মন্তব্যেরই জবাবে ব্যারাকপুরে এক জনসভা থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করা উচিত হয়নি। ৫৫ বছর আগে তারা এর ফল ভুগেছে, যখন পাকিস্তান দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। এবার যদি বাংলার দিকে নজর দেয়, তবে কত ভাগে ভাঙবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন।”

    ইসলামাবাদকে জবাব

    ৫৫ বছর আগে কী হয়েছিল মনে আছে তো? ভোটপ্রচারে ব্যারাকপুরে এসে পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বললেন, ‘৫৫ বছর আগের কথা মনে রাখা উচিত পাকিস্তানের। কী করে দু’টুকরো হয়েছিল! আবার কিছু করার চেষ্টা করলে পরিণতি কী হবে, সেটা ওরাই বুঝতে পারবে।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী এখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যখন ভারতের সামরিক পদক্ষেপের পর পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। এদিন তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত সর্বদা প্রস্তুত। পাকিস্তান যদি কোনও রকম ‘মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ করে, তবে ভারত নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না।

    কী বলেছিল পাকিস্তান

    গত বৃহস্পতিবার ভোটমুখী কেরালায় দলের প্রচারে গিয়ে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছিলেন রাজনাথ। বলেছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তান আবার কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হবে। রাজনাথের এই মন্তব্যের পরেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ দাবি করেন, ভারত ফের সাজানো হামলার ছক কষছে। তাতে ভারতীয়দের পাশাপাশি ভারতের জেলে বন্দি পাকিস্তানিদেরও ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গেই খোয়াজা কলকাতাকে টেনেছেন। সেই সূত্রে তাঁর দাবি, ‘এর পর কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে পাকিস্তান!’ এ বার তার জবাব দিলেন রাজনাথ। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ভারত-পাক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

  • West Bengal Elections 2026: ভোটগ্রহণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, বুথ নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেবে নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Elections 2026: ভোটগ্রহণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, বুথ নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেবে নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের গণতন্ত্রের উৎসবে (West Bengal Elections 2026) স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আসন্ন নির্বাচনে বুথ পর্যায়ের নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবার সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত স্পর্শকাতর বুথগুলোতে যেকোনও ধরনের কারচুপি বা অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতেই এই উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

    লাইভ ওয়েবকাস্টিং ও এআই বিশ্লেষণ

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এআই মানুষের উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে তাঁকে ‘মার্ক’ করতে পারবে। মানুষের অস্তিত্ব টের পেয়ে তাঁকে কাল্পনিক আয়তক্ষেত্র দিয়ে ঘিরে স্ক্রিনে মার্ক করে সংকেত দেবে। কী ভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? মনে করুন যাক, বুথের ভিতরে ১০ জন লোকের থাকার কথা। দেখা গেল ১১ জন রয়েছেন। এআই সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে জানাবে, ওই বুথে ১১ জন লোক রয়েছেন।

    ইভিএমের সামনে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি প্রায় ২ মিনিট দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তখনও কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল দেবে এআই। ওই ব্যক্তিকে মার্ক করে রাখবে প্রযুক্তি। তার পরে কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল পাঠাবে। তখন সেই সেক্টর অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসারের নম্বর উঠে যাবে স্ক্রিনে।

    বুথ জ্যামে খবর দেবে

    প্রতিটি বুথ থেকে সরাসরি ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে ফুটেজ (West Bengal Elections 2026) সংগ্রহ করা হবে। কন্ট্রোল রুমে বসে সেই ভিডিওগুলো কেবল মানুষের চোখে নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হবে। বুথের ভেতরে বা আশেপাশে কোনও অস্বাভাবিক জমায়েত, বারবার একই ব্যক্তির প্রবেশ অথবা বুথ জ্যামের মতো ঘটনা ঘটলে এআই সিস্টেম তৎক্ষণাৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা (Alert) পাঠাবে।

    একসঙ্গে ৫০০টি বুথের ছবি দেখতে পারবেন মাইক্রো অবজার্ভারেরা। সেখানে ১০টি টেলিফোন লাইন রাখা থাকবে। টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে ৭২টি স্ক্রিন থাকবে পর্যবেক্ষণের জন্য। সেই সঙ্গে আরও ১৮টি স্ক্রিনে দেখা যাবে এসএসটি বা স্ট্যাটিক সার্ভেলান্স টিম এবং এফএসটি বা ফ্লায়িং সার্ভেলান্স টিম-র গাড়িতে বসানো ক্যামেরায় তোলা ছবি। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে প্রায় ২০০ জনের মতো মাইক্রো অবজ়ার্ভার থাকবেন। ফ্লাইং স্কোয়াড, কুইক রেসপন্স টিম, স্ট্যাটিক সার্ভেলান্স টিম বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সব সময়ের জন্য থাকবে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট নজরদারি-গাড়ির মাথায় সবদিক দেখার ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। সবটাই কমিশন কন্ট্রোল রুম থেকেই পরিচালনা করবে।

    কেন এই প্রযুক্তির প্রয়োজন?

    প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে রিটার্নিং অফিসার বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকরা (West Bengal Elections 2026) মুহূর্তের মধ্যে ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে পারবেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। চিরাচরিত পদ্ধতিতে হাজার হাজার বুথের ফুটেজ একসঙ্গে মানুষের পক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ।

    এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে (AI) এই বিশাল পরিমাণ তথ্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এবং দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে ভোটদাতাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    কেন সতর্ক? 

    গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, পঞ্চায়েত নির্বাচন, পুরনির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভাবে মনোনয়ন, ভোটলুট, বুথ জ্যাম, গণনায় কারচুপির অভিযোগ ব্যাপক ভাবে উঠেছিল। বিরোধীরা বার বার শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির দেগে ছিল। তবে শাসকদলের এই ভূমিকায় পুলিশ প্রশাসন নিজের নিরেপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগও আনা  হয়েছিল। এইবার যাতে স্বচ্ছ ভোট হয় তাই কমিশন নিজের ভূমিকায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এমনটাই মনে করেছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোকজন।

  • Bharatiya Janata Party: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন! বিজেপিতে যোগদান পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধিদের, বঙ্গে আরও শক্তিশালী পদ্ম

    Bharatiya Janata Party: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন! বিজেপিতে যোগদান পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধিদের, বঙ্গে আরও শক্তিশালী পদ্ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) জেলা, যা দীর্ঘকাল ধরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে জেলার একটি বড় অংশের পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা শাসক দল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (Bharatiya Janata Party) যোগদান করেছেন। এদিন বিজেপির কার্যালয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই যোগদান সম্পর্কে বলেন, “কেউ আমার সঙ্গে, কেউ সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে, কেউ বিপ্লব দেবের সঙ্গে, কেউ শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমরা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের মতামত নিয়ে স্থির করেছি যে, কাদের দলে স্বাগত জানানো যায়।”

    দলবদল করে বিজেপিতে যোগদান (Bharatiya Janata Party)

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) বিভিন্ন ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পদাধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পদ্ম শিবিরে (Bharatiya Janata Party) নাম লিখিয়েছেন। মূলত সাংগঠনিক স্তরে ক্ষোভ এবং উন্নয়নের নিরিখে মতপার্থক্যের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। শুভেন্দু আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতির অভিযোগ নেই এমন ব্যক্তিদেরকেই দলে যোগদান করানো হয়েছে।

    যাঁরা যোগদান করলেন…

    • শৈবাল লাহিড়ী— বর্তমান ব্লক প্রেসিডেন্ট (তৃণমূল) ক্যানিং ১ ব্লক, প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ২০১৩-২০১৮ এবং বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ ২০১৮ থেকে ২০২৩, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ।
    • সিরাজউদ্দিন দেওয়ান— প্রাক্তন উপ-প্রধান
    • প্রতিমা সর্দার—প্রাক্তন প্রধান ২০১৩ থেকে ২০২৩, হাটপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত
    • রফিক শেখ— বর্তমান জয়েন্ট কনভেনর, নিকারীঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েত
    • আসমত মোল্লা— বর্তমান অঞ্চল প্রেসিডেন্ট, গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
    • নন্দকিশোর সর্দার— প্রাক্তন প্রধান, গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
    • বদরুদ্দোজা শেখ— প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ, ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতি
    • অর্ণব রায়— প্রাক্তন প্রধান, দিঘিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
    • সঞ্জয় নস্কর— গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য।

    এঁরা ছাড়াও পদ্ম শিবিরে যোগ দেন— সালাউদ্দিন সর্দার, শম্ভু বৈদ্য, গণেশ মণ্ডল, কালীচরণ সর্দার, মদন নস্কর, বিষ্ণু নস্কর, কার্তিক মণ্ডল, অসিত মণ্ডল, ধনঞ্জয় সাঁপুই, দীপঙ্কর মণ্ডল, মনোরঞ্জন দাস, ফণীভূষণ সর্দার।

    বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার

    এদিনের যোগদান সভায় বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যোগদান সম্পর্কে বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বরাবরই এ রাজ্যের ভোটের প্রবণতা বুঝিয়ে দেয়। পূর্ব মেদিনীপুরে তো আমরা এমনিতেই জিতে রয়েছি। এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনাও বার্তা দেওয়া শুরু করল। গোসাবা ব্লক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস শূন্য হয়ে গেল বলতে পারি। গোটা সুন্দরবনে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা খাতা খুলতে দেব না। সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সাগর পর্যন্ত একটা আসনও তৃণমূল পাবে না। আজ তার সূচনা করলাম।”

    এই যোগদানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজেপির  (Bharatiya Janata Party) সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এবং ক্যানিং মহকুমার বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই যোগদানকে ‘মানুষের মোহভঙ্গ’ এবং ‘পরিবর্তনের ইঙ্গিত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের প্রতি আস্থা হারিয়েই নিচুতলার কর্মীরা সরব (Bharatiya Janata Party) হচ্ছেন।

    দুর্বল হয়ে পড়বে তৃণমূল কংগ্রেস

    শাসক দলের জেলা (South 24 Parganas) নেতৃত্বের মতে, এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে পারছেন না, তারাই দল ছাড়ছেন। সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাশেই আছেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের শক্তিক্ষয় তৃণমূলের সাংগঠনিক সংহতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

  • US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের (US Iran War) সাময়িক বিরতি। খুলছে হরমুজ প্রণালী। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আজ রাতের মধ্যেই গোটা সভ্যতা শেষ হবে।’’ মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি

    মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের মাঝে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখবে। তেহরানও শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং সীমিতভাবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তবে তারাও সামরিক প্রতিরোধ থামাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাশাপাশি নিজেদের ১০ ও ১৫ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক চাপের ফলেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করেছে।

    ইরানের হাত ট্রিগারেই

    দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি মানেই যুদ্ধে ইতি নয়! আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনীকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এক সরকারি বিবৃতিতে মোজতবার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের শেষ নয়। আমেরিকা বা ইজরায়েল— শত্রুপক্ষ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করে, তবে আমাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি কোনও রকম ‘ভুল’ করে, তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও।

    ইরানের ‘ঐতিহাসিক জয়’!

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বুঝিয়েছে, আমেরিকার সামনে কখনওই মাথা নত করেনি ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বার বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে রাজি ছিল না। আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হলে তবেই ইরান যুদ্ধের অবসান মেনে নেবে।’’ তারা জোর দিয়েছে, আলোচনায় তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার কথা কঠোর ভাবে উপস্থাপিত করা হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দফা প্রস্তাব হল হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র শক্তির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় বিষয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার (Highly Enriched Uranium Stockpile) বন্ধ করা। সূত্র বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে ইরান কিছু সীমিত পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই দুটো ইস্যুই তেহরানের সবচেয়ে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার, তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন বাহিনীর জয়!

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী, ‘‘ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’’ আসন্ন দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব। ইরানের মতো আমেরিকাও ‘জয়’ দেখছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর জয়।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব, বাজারে প্রভাব

    হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমেছে, এবং মার্কিন ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মার্কিন ফিউচার মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    এখনও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য!

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব থাকবেই। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে বড় আঞ্চলিক সংকট (Regional Crisis) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে হামলা হলে সমান জবাব (Retaliation) দেওয়া হবে। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমেরিকা-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকেও (US-linked Targets) নিশানা করা হতে পারে।’ ইরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত সংঘাত চলবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি আরব, বাহারাইন এবং কুয়েতে শোনা গিয়েছে মিসাইল অ্যালার্ট অ্যালার্ম। সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত হলেও ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে উপসাগরীয় এলাকায়।

  • Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীর আর মনের সীমানাতেই আটকে নেই সমস্যা। জীবন যাপন এমনকি অর্থনীতির উপরেও প্রভাব ফেলবে এই সঙ্কট। এমনটাই আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে মানসিক চাপে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশে এই সমস্যা একটা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যার রূপ নিয়েছে। তাই এপ্রিল মাস জুড়ে চলছে মানসিক চাপ নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধুই সচেতনতা যথেষ্ট নয়। বরং, প্রয়োজন জীবন যাপনে পরিবর্তন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বছরের স্লোগান, ‘বি দ্যা চেঞ্জ’। নিজের জীবনে কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আবার এক সঙ্গে আশপাশের মানুষের জীবনেও যাতে মানসিক চাপ তৈরি না হয়, সেদিকেও নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি‌। তাঁদের আশঙ্কা পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

    ভারতে কতখানি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। যার অন্যতম কারণ মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৭ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন মানসিক চাপের শিকার। অবসাদ, উদ্বেগ সহ একাধিক মানসিক সমস্যার নেপথ্যে থাকছে মানসিক চাপ। সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের ৫০ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ হল মানসিক চাপ। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার সাহায্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টেলি মানস’ সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ একটা নির্দিষ্ট ফোন কলের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের কাছে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা জানাতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সমাধানের পথ খুঁজে পাবেন। গত এক বছরে ৩৪ লাখের বেশি মানুষ টেলি মানস-এ নিজের মানসিক চাপে শিকারের কথা জানিয়েছেন। যাদের অধিকাংশের সমস্যা যথেষ্ট জটিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ৩৫ বছরের নীচে ৬০ শতাংশ ভারতীয় মানসিক চাপে ভুগছেন।

    কেন শরীর ও মনের পাশপাশি আর্থিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে মানসিক চাপ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মানসিক চাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার পাশপাশি আর্থিক বিপর্যয়ের কারণ হতে চলেছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে কর্মক্ষমতা ও কর্ম দক্ষতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিক চাপ। আগের থেকে কম দক্ষ ও নিপুণতা কমে যাওয়ায় কাজের মান কমছে। অনেক সময়েই মানসিক চাপের কারণে কাজের গুণমান খারাপ হচ্ছে। এর ফলে কাজ হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। আবার মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে মানব সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। তাই এগুলোর প্রভাব সরাসরি অর্থনীতির উপরে পড়ছে। এছাড়া মানসিক চাপ একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। শারীরিক অক্ষমতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। আর্থিক উন্নতিতে এর প্রভাব পড়ছে। তাই মানসিক চাপ কেবল স্বাস্থ্য সঙ্কট নয়। এর প্রভাব আরও গভীর।

    কেন মানসিক চাপ বাড়ছে?

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও মানসিক চাপের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত প্রতিযোগী পরিবেশ, এর অন্যতম কারণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে স্কুল স্তর থেকেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আধুনিক অর্থনীতিতে কর্মজীবনেও তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। কাজের নিশ্চয়তা কমছে। আর্থিক উন্নতির জন্য এক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই যেতে হচ্ছে। এগুলো মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। তাছাড়া শহুরে জীবনে বদলে যাচ্ছে পরিবারের সমীকরণ। নিজের উদ্বেগ, রাগ, দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার মতো সঙ্গী পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ শহুরে ভারতীয় একাকিত্বে ভুগছেন। যা মানসিক চাপ তৈরি করছে। এছাড়াও অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি ভারতে মানসিক চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর জেরে অপর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে। আবার ভার্চুয়াল জগত জীবন যাপনের ধারায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এগুলো মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

    মানসিক চাপ শরীরের জন্য কতখানি বাড়তি বিপজ্জনক?

    মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ, খিটখিটে মেজাজের মতো একাধিক সঙ্কট তৈরির পাশাপাশি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কম বয়সে স্ট্রোকের নেপথ্যেও থাকে মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। তাই একাধিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সেই প্রভাব দেখা যায়। বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে মানসিক চাপ কমাবেন?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। বরং কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে তাকে কমানো এবং নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে যাতে বড় বিপদ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা যেতে পারে। তাঁদের পরামর্শ, মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত শরীর চর্চা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস, ধ্যান করলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। এর ফলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি পর্যাপ্ত ঘুম। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম ঘুম মানেই মানসিক চাপ বাড়বে। নিয়মিত যাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজের জন্য বরাদ্দ জরুরি। অর্থাৎ গান গাওয়া, ছবি আঁকা কিংবা গল্পের বই পড়ার মতো কাজে কিছুটা সময় দিলে মানসিক চাপ কমবে। তবে নিজের কথা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব কমাতে না পারলে মানসিক চাপ বাড়বে। তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Daily Horoscope 08 April 2026: কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা পেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 08 April 2026: কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা পেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    মেষ
    ১) নতুন কোনও যোগাযোগ ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।
    ২) কাজের চাপ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনায় সামলে উঠবেন।
    ৩) পরিবারে ছোটখাটো আনন্দের খবর আসতে পারে।

    বৃষ
    ১) আর্থিক বিষয়ে সতর্ক থাকুন, অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলুন।
    ২) কর্মক্ষেত্রে কারও সাহায্য পেতে পারেন।
    ৩) স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা করবেন না।

    মিথুন
    ১) নতুন আইডিয়া থেকে লাভ হতে পারে।
    ২) বন্ধুর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি মিটবে।
    ৩) ভ্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    কর্কট
    ১) মানসিক চাপ কিছুটা বাড়তে পারে, শান্ত থাকুন।
    ২) পুরনো কোনও কাজ সম্পূর্ণ হবে।
    ৩) পরিবারের কারও পরামর্শ উপকারী হবে।

    সিংহ
    ১) কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা পেতে পারেন।
    ২) নতুন দায়িত্ব নিতে হতে পারে।
    ৩) আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন, সাফল্য আসবে।

    কন্যা
    ১) অর্থলাভের সুযোগ আসতে পারে।
    ২) পরিকল্পনা মতো কাজ এগোবে।
    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।

    তুলা
    ১) সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে ভাবুন।
    ২) কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
    ৩) শরীরচর্চা শুরু করলে উপকার পাবেন।

    বৃশ্চিক
    ১) গোপন শত্রু থেকে সাবধান থাকুন।
    ২) কাজের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ আসবে।
    ৩) পরিবারে শান্তি বজায় থাকবে।

    ধনু
    ১) ভ্রমণ শুভ হতে পারে।
    ২) শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য আসবে।
    ৩) নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাবেন।

    মকর
    ১) আর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা।
    ২) সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখুন।
    ৩) ধৈর্য ধরলে সমস্যা কেটে যাবে।

    কুম্ভ
    ১) নতুন উদ্যোগে সাফল্যের সম্ভাবনা।
    ২) বন্ধুর সাহায্যে কাজ সহজ হবে।
    ৩) মানসিক শান্তি বজায় থাকবে।

    মীন
    ১) সৃজনশীল কাজে মন বসবে।
    ২) অর্থনৈতিক দিক ভালো থাকবে।
    ৩) পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালে ভালো লাগবে।

LinkedIn
Share