Tag: Madhyom

Madhyom

  • Holi 2026: বসন্তের রঙিন উৎসবে অসাবধান হলেই বিপদ! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Holi 2026: বসন্তের রঙিন উৎসবে অসাবধান হলেই বিপদ! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আজ দোল। কাল হোলি। দুদিন রঙের উৎসব। কচিকাঁচা থেকে বয়স্ক, সকলেই মেতে উঠবেন দোলের উৎসবে। বসন্তের উৎসবে রং লাগানো, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়ার মাঝে তাল কাটতে পারে অসাবধানতা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দোল উৎসব উদযাপনের সময় কয়েকটি দিকে বিশেষ নজরদারি জরুরি। তবেই সুস্থ ভাবে উৎসব উদযাপন সম্ভব। না হলেই বাড়বে বিপদ। বিশেষত শিশুদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    কোন বিপদের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক মহল?

    দোল উৎসবে অসাবধানতা থেকে সবচেয়ে বেশি বিপদ হয় চামড়ার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রত্যেক বছর দোলের পরে অনেকেই চামড়ায় নানান রকমের লাল দাগ, চুলকানির মতো সমস্যা নিয়ে ভোগেন। অনেকের নানান রকমের অ্যালার্জি হয়‌। তাই রং ব্যবহারের সময় সচেতনতা জরুরি। রং খেলার সময় সবচেয়ে বেশি চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। বিশেষত শিশুরা রং খেলায় অংশ নিলে, কোনো ভাবেই যাতে তাদের চোখে রং না ঢোকে সে দিকে নজর দিতে হবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখে বিশেষত কর্ণিয়ায় রং লাগলে, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করতে পারে। কনজাংটিভাইটিসের মতো চোখের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। রঙের উৎসবে অসাবধানতার জেরে অনেকেই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শুকনো রং নাকে-মুখে ঢুকে অনেক সময়েই হাঁপানির সমস্যা তৈরি করে। রং মেশানো জল কানে ঢুকলে, কানের ভিতরে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    সুস্থ ভাবে উৎসব উদযাপনের কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, উদযাপনের সময় সতর্ক ও সচেতন থাকলেই সমস্ত হয়রানি আটকানো সহজ। তাঁরা জানাচ্ছেন—

    • ● রং কেনার সময় ভেষজ রং কেনা উচিত। ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে তৈরি রং অ্যালার্জি এবং অন্যান্য চামড়ার অসুখের ঝুঁকি কমায়‌
    • ● শিশুদের রং খেলার সময় নজরদারি জরুরি। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিশুরা দোল উৎসব পালন করলে বড় দূর্ঘটনা এড়ানো সহজ হয়।
    • ● এখন দোল উপলক্ষে শিশুদের জন্য নানান মজাদার সানগ্লাস বাজারে দেদার পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো পরে রঙিন উৎসব পালন করলে চোখে রং যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
    • ● রঙ উৎসব পালনের আগে ত্বকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাতে রঙ সহজেই মুছে ফেলা যায়। চামড়ার বড় ক্ষতি হয় না।
    • ● যাদের হাঁপানির সমস্যা রয়েছে, বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের, রঙ খেলার সময় বাড়তি যত্ন জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
  • Daily Horoscope 03 March 2026: অর্শ-জাতীয় রোগ বাড়তে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 03 March 2026: অর্শ-জাতীয় রোগ বাড়তে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

     

     

    মেষ

    ১) ভ্রমণে গিয়ে শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা।

    ২) প্রেমের প্রতি ঘৃণা বোধ করতে পারেন।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃষ

    ১) প্রেমের ব্যাপারে অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশ থেকে সংযত থাকুন। শরীরে ক্ষয় বৃদ্ধি।

    ২) অর্শ-জাতীয় রোগ বাড়তে পারে।

    ৩) দিনটিতে বিবাদে জড়াবেন না।

    মিথুন

    ১) খরচ বাড়তে পারে।

    ২) বৈরী মনোভাবের জন্য ব্যবসায় শত্রু বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

     

     

    কর্কট

    ১) আপনার বিষয়ে সমালোচনা বৃদ্ধি পাবে।

    ২) কাজের ব্যাপারে ভালো যোগাযোগ হতে পারে।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    সিংহ

    ১) রক্তাল্পতায় ভুগতে হতে পারে।

    ২) বাইরের লোকের জন্য দাম্পত্য কলহ।

    ৩) ধৈর্য্য ধরতে হবে বেশি।

     

     

    কন্যা

    ১) বিলাসিতার কারণে খরচ বাড়তে পারে।

    ২) বাড়িতে বিবাদের জন্য মনঃকষ্ট।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    তুলা

    ১) অতিরিক্ত কাজের চাপে ক্লান্তিবোধ।

    ২) সন্তানের জন্য সম্মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃশ্চিক

    ১) ধর্ম সংক্রান্ত ব্যাপারে তর্কে জড়াতে পারেন।

    ২) মা-বাবার সঙ্গে সামান্য কারণে তর্ক হতে পারে।

    ৩) ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    ধনু

    ১) কর্মস্থানে সহকর্মীদের বিরোধিতা আপনাকে চিন্তায় ফেলবে।

    ২) বুদ্ধির ভুলের জন্য চাপ বৃদ্ধি।

    ৩) সংযমী হতে হবে। ভেবেচিন্তে কথা বলুন।

    মকর

    ১) ব্যবসায় মুনাফা বৃদ্ধি পাবে।

    ২) ঋণমুক্তির সুযোগ পাবেন।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ।

    কুম্ভ

     

     

    ১) প্রেমে নৈরাশ্য থেকে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) প্রতিবেশীর অশান্তির দায় আপনার কাঁধে চাপতে পারে।

    ৩) বন্ধুদের সাহায্য পাবেন।

    মীন

    ১) সকালের দিকে বন্ধুদের দ্বারা বিব্রত হতে পারেন।

    ২) শরীরে ব্যথাবেদনা বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) ভালোই কাটবে দিন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক ইরান হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির মৃত্যুর প্রেক্ষিতে ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ)। সম্ভাব্য সহিংসতা ও ছিটেফোঁটা বিক্ষোভের আশঙ্কায় রাজ্যগুলিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ‘আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

    শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে বিক্ষোভ

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, কর্নাটক এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন স্থানে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব ও ডিজির কাছে কাছে পাঠানো এক বার্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, ইরানপন্থী ও বিরোধী উভয় গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জমায়েতের ওপর নজর রাখতে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর

    বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলির সামনে প্রতিবাদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এছাড়া ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়া হতে পারে’ এমন ইরানপন্থী কট্টরপন্থী ধর্মীয় বক্তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ইরানপন্থী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্টগুলির ওপর নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানপন্থী ছাত্র সংগঠন ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলির কার্যকলাপের দিকেও নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন যেমন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-কায়েদা ভারতে মার্কিন ও ইজরায়েলি দূতাবাস-কনস্যুলেট, তাদের কর্মী, প্রতিনিধি দল, ব্যবসায়ী, পর্যটনকেন্দ্র, পশ্চিমের দেশগুলির নাগরিকদের যাতায়াতের স্থান, সিনাগগ, চাবাড হাউস ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষদের জমায়েতের স্থানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। একইভাবে ইরানের দূতাবাস, কনস্যুলেট ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিও নিশানায় থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যগুলিকে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করার পাশাপাশি দূতাবাস, কনস্যুলেট ও বিদেশি পর্যটকদের ভিড় থাকে এমন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং বিস্ফোরক বা আইইডি-র উপস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

  • Modi on Iran Israel War: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে শান্তির আহ্বান! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা মোদির

    Modi on Iran Israel War: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে শান্তির আহ্বান! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে সদা সতর্ক ভারত (Modi on Iran Israel War)। রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি (ক্যাবিনেট কমিটি অফ সিকিয়োরিটি)-র বৈঠক আয়োজন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে আসার বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, বলে খবর। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার রাতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ৷ অসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার উপর তিনি বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত এই হানাহানি বন্ধ করার কথাও বলেন ৷ প্রধানমন্ত্রী মোদি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৷ এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

    ভারতীয়দের নিরাপদে উদ্ধার নিয়ে আলোচনা

    ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য রবিবার রাতেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) একটি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ মন্ত্রিসভা কমিটি সমস্ত বিভাগকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়ার কথা বলেছে ৷ দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসার উপরও জোর দিয়েছে ভারত ৷ দু’দিনের সফরে গুজরাট, রাজস্থান, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু সফর সেরে রবিবার রাতে দিল্লি ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৯টায় দিল্লিতে ফিরেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে যোগ দেন মোদি। সূত্রের দাবি, রবিবার রাতের বৈঠকে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি

    ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলভাগ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। বিশ্বের মোট রফতানিযোগ্য এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ ধরেই রফতানি করা হয়। আর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। তা ছাড়া, ভারত অভ্যন্তরীণ জ্বালানি-চাহিদা পূরণে ৮০ শতাংশ তেল অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে থাকে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে তেল কেনে ভারত। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উপায় নিয়েও রবিবার রাতের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

    মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বিবৃতি

    সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য সিসিএস বৈঠক হয়েছে ৷ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই অঞ্চলে বৃহৎ ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি ৷” বৈঠকে এই অঞ্চলে যাতায়াতকারী সাধারণ ভারতীয় পর্যটক, শিক্ষার্থীদের অসুবিধা, সেইসঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর কী কী প্রভাব পড়বে তা নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সিসিএস সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে এই ঘটনাবলীর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় এবং সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত শত্রুতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসার গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছে কমিটি ৷” সিসিএস সভায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র এবং শক্তিকান্ত দাস, প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব টিভি সোমনাথন এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি উপস্থিত ছিলেন।

    দুবাই হামলার তীব্র নিন্দা

    এছাড়াও ইরানের দুবাই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi on West Asia Crisis)৷ রবিবার রাতে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন৷ জানান যে, এই কঠিন সময়ে সংহতির সঙ্গে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পাশে থাকবে। নরেন্দ্র মোদি দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা প্রদানের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ৷ তিনি বলেছেন যে, নয়াদিল্লি উত্তেজনা হ্রাস, আঞ্চলিক শান্তি, সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা সমর্থন করে। এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, “সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট, আমার ভাই শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এই হামলায় প্রাণহানির জন্য সমবেদনা জানাই। এই কঠিন সময়ে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে থাকবে৷ সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আমরা উত্তেজনা কমানো, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা সমর্থন করি।”

    বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা

    ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। পালটা হামলা চালাচ্ছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা পরিষদের (ক্যাবিনেট কমিটি অফ সিকিয়োরিটি) জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ইরান-ইজরায়েল-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানো, যুদ্ধে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মোদি। সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে ভারত যথেষ্ট উদ্বেগ তাও তাঁকে জানানো হয়েছে ৷ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে ৷”

    ভারতীয় নাগরিকদের আশ্বাস বিদেশমন্ত্রকের

    সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত এবং বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। সামরিক উত্তেজনার জেরে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুবাই, দোহা-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শতাধিক ভারতীয় যাত্রী আটকে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বর্তমানে ইরানে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বাস, পড়াশোনা ও কাজ করেন এবং ইজরায়েলে রয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয়। উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মোট প্রায় ৯০ লক্ষ ভারতীয় বসবাস করেন। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলি সেখানকার ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়া-সহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভারত সফলভাবে তার নাগরিকদের উদ্ধার করেছে বলেও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • US Central Command: ইরানে আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন সেনার

    US Central Command: ইরানে আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন সেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার আবহে সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলাকে তারা “সাপের মাথা কেটে ফেলা” বলে আখ্যা দিয়েছে।

    “সাপের মাথাটাকেই কেটে দিয়েছি”

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর এক্স (X) হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মার্কিন নৌজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর একটি শহুরে কম্পাউন্ড সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, “গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) ১০০০-এরও বেশি মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছে৷ গতকাল, একটা বড় বিমান অভিযানে সেই সাপের মাথাটাকেই কেটে দিয়েছি।” সেন্টকম আরও দাবি করেছে, “আমেরিকার সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং এখন আইআরজিসি-এর আর কোনও সদর দফতর নেই।” বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি-র সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অর্থ—

    • ● ইরানের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আঘাত
    • ● মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল
    • ● অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ সৃষ্টি

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বিমান হামলা ও বিমান অভিযানের সাইরেনের খবর মিলছে। প্রতিশোধমূলক অভিযানে তেহরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। এর জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান ও ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইযের মৃত্যু তিনটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে—

    • ● ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক শূন্যতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
    • ● আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর আরও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া
    • ● সংঘাতকে “রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র” যুদ্ধের স্তরে নিয়ে যাওয়া

    এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে অভিযান, বললেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। আমাদের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মজুত আছে।” আরও এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এটি শুরু থেকেই চার সপ্তাহের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিকল্পিত ছিল।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান সীমিত প্রতিশোধমূলক হামলা নয়, বরং পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে দ্রুত শেষ করার বদলে কৌশলগত চাপে রাখতে চাইছে। এর আগে দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় এবং তিনি তাতে সম্মত হয়েছেন। তবে কবে ও কার সঙ্গে এই আলোচনা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

    প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

    ইরান সরকার জানিয়েছে, আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর হত্যাকাণ্ড “মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমান।” ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, “এই ঐতিহাসিক অপরাধের নেপথ্যের কারিগরদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের ন্যায্য অধিকার ও কর্তব্য।” এদিকে আইআরজিসি-ও “বৃহৎ পরিসরের হামলা” চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি বলেন, “আজ আমরা এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনও অনুভব করেনি।” বর্তমানে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের আশঙ্কা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

  • T20 World Cup 2026: সুপার-সঞ্জুর ছন্দে ইডেনে উঠল মেক্সিকান ওয়েভ, ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামিয়ে সেমিফাইনালে ভারত

    T20 World Cup 2026: সুপার-সঞ্জুর ছন্দে ইডেনে উঠল মেক্সিকান ওয়েভ, ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামিয়ে সেমিফাইনালে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়েক দিন আগে যে ব্যাটারকে দেখে মনে হচ্ছিল, বেঞ্চে বসেই বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) শেষ হয়ে যাবে, সেই ব্যাটারই ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেন। ইডেনে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারাল ভারত (India vs West Indies)। ৯৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন সঞ্জু। ভাঙলেন কিং কোহলির রেকর্ডও। ক্রিকেটের নন্দন কাননে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সমীকরণ স্পষ্ট ছিল। দুই যুযুধান প্রতিপক্ষের মধ্যে জয়ী দলই সেমিফাইনালের টিকিট পাকা করবে। সপ্তাহান্তের টানটান ম্যাচে সুপার সঞ্জুর দাপটে এই নিয়ে ষষ্ঠবার ভারত টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল।

    সঞ্জুর চওড়া ব্যাটেই শেষ চারে

    ১৯৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। টিম ইন্ডিয়ার হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন সঞ্জু স্য়ামসন এবং অভিষেক শর্মা। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে ভারত হারায় অভিষেক শর্মার উইকেট। অভিষেক ১১ বলে ১০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন ঈশান কিষানও। শুরুতেই জোড়া উইকেট হারিয়ে বেশ খানিকটা চাপে পড়ে যায় ভারত। ইডেনের গ্যালারিতে তখন নিস্তব্ধতা। ছোটদের মুখে হতাশা, বড়রা ব্যস্ত ভুল-ত্রুটি বাছতে। প্রশ্ন উঠছিল টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়া নিয়েও। কিন্তু অধিনায়ক সূর্য যে ফিল্ডিং নিয়ে ভুল করেননি তা প্রমাণ করলেন সূর্য। দেখালেন ক্রিজে টিকে থাকলে এই পিচে ব্যাট করা বেশ সহজ। ঈশান কিষান ফিরতেই দলের হাল ধরেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং সঞ্জু স্যামসন। ২৬ বলে ঝকঝকে হাফসেঞ্চুরি বেরিয়ে এল সঞ্জুর ব্যাট থেকে। এরপরই তৃতীয় ধাক্কা খেল ভারত। ১৬ বলে ১৮ রান করে ফিরে যান সূর্যকুমার যাদব। তবে ভারতের রানের গতি থামেনি। ১১ ওভার শেষে ১০০ রান পূরণ করে ফেলে। মিডল অর্ডারে কিছুটা হলেও ভরসা দিয়েছিলেন তিলক বর্মা। ১৫ বলে ২৭ রান করে তিনিও ফিরে যান। ১৭ রান করে আউট হয়ে যান হার্দিকও। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেন সঞ্জু স্যামসন। তিনি ৯৭ রানে শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। চার বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে জেতালেন টিম ইন্ডিয়াকে।

    অনেককে জবাব দেওয়ার ছিল সঞ্জুর

    কয়েক দিন আগে এই সঞ্জুকে খেলানো নিয়ে প্রশ্নের জবাব অধিনায়ক সূর্য বলেছিলেন, “আপনি চাইছেন আমি অভিষেককে বসিয়ে সঞ্জুকে খেলাই।” সেই কথার মধ্যে কোথাও একটি তাচ্ছিল্য মেশানো ছিল। ফলে অনেককে জবাব দেওয়ার ছিল সঞ্জুর। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে মঞ্চ করে তুললেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, সুযোগ পেলে তা কীভাবে কাজে লাগাতে হয়। এই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কোনও সুযোগ দেননি সঞ্জু। ক্রিকেটের পরিভাষায় ক্লিনিক্যাল ইনিংস যাকে বলে। ঝুঁকি নিয়ে একটিও শট খেলেননি। যখন বড় শট খেলেছেন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছেন। যত সময় গড়াচ্ছিল, তত ভারত জয়ের পথে এগোচ্ছিল। তার মধ্যে হার্দিকের ক্যাচ ফস্কান হোল্ডার। তত ক্ষণ ভাল ফিল্ডিং করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু কঠিন সময়ে চাপ সামলাতে পারল না তারা। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে দলকে জেতালেন সঞ্জু। ৫০ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকলেন। ১২ চার ও চার ছক্কা মারেন। ৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও এই ইনিংস শতরানের থেকে কম নয়। দলকে জিতিয়েও কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাননি সঞ্জু। পিচে হাঁটু মুড়ে বসে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। হাতজোড় করে প্রণাম করলেন। তার পর মাঠ ছাড়লেন।

    ‘‘এই ইনিংসটা আমার কাছে গোটা পৃথিবী’’

    সেরার পুরস্কারটা নিতে এসে বললেন, ‘‘এই ইনিংসটা আসলে আমার কাছে গোটা পৃথিবী। যেদিন থেকে আমি খেলা শুরু করেছি, সেদিন থেকেই দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। এমন একটা ইনিংসের জন্যই আমি এতদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। এই যাত্রাটা এককথায় অসাধারণ। রাস্তায় অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে। কখনও নিজের উপর সন্দেহ হয়েছে। আশঙ্কা দানা বেঁধেছিল, আদৌ দায়িত্ব পূরণ করতে পারব কি না? তবে আজ ঈশ্বর যেভাবে আমাকে আশীর্বাদ করেছেন, সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ।’’ একইসঙ্গে, রোহিত-কোহলিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেন, ‘‘এই ফরম্য়াটে আমি অনেকদিন ধরে খেলছি। কোহলি, ধোনি, রোহিত শর্মাদের মতো কিংবদন্তীদের থেকে অনেককিছু শিখেছি। পরিস্থিতি অনুসারে কীভাবে খেলা বদলাতে হয়, তা জেনেছি। আজকের দিনটা আমার জীবনে অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরিস্থিতি অনুসারে ব্যাট করেছি। প্রত্যেকটা বলের মেরিট অনুসারে খেলেছি।’’

    ভাঙলেন কোহলির রেকর্ড

    ইডেনে রান তাড়া করতে নেমে একটি রেকর্ডও গড়লেন সঞ্জু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এত দিন ভারতের হয়ে রান তাড়া করতে নেমে সবচেয়ে বেশি রান ছিল বিরাট কোহলির দখলে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৮২ রান করেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ড এই ম্যাচে ভেঙে দিলেন সঞ্জু। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন সূর্য। ব্রেন্ডন কিং না থাকায় এই ম্যাচে হোপের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন রস্টন চেজ। পাওয়ার প্লে-তে সাবধানি ব্যাটিং করেন দু’জনে। রান তোলার গতি খুব বেশি না থাকলেও উইকেট পড়েনি। তবে পড়তে পারত। জসপ্রীত বুমরার বলে ক্যাচ তোলেন চেজ। বলের নীচে পৌঁছেও গিয়েছিলেন অভিশেক শর্মা। কিন্তু সহজ ক্যাচ ফেলেন তিনি। সেই ক্যাচ ধরা নয়, ফস্কানো কঠিন। অভিষেক সেটাই করে দেখান। সুযোগ কাজে লাগান চেজ।

    বুমরার বলে বাজিমাত

    ওপেনিং জুটিতে ৬৮ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জুটি ভাঙেন বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর বল পিছনের পায়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন হোপ। ৩৩ বলে ৩২ রান করেন তিনি। তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারলেও ১৭টি ডট বল খেলেন তিনি। হোপ আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন শিমরন হেটমায়ার। চলতি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা ব্যাটার। শুরু থেকেই হাত খুলে শট মারতে শুরু করেন তিনি। এক ধাক্কায় দলের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন তিনি। বাধ্য হয়ে বুমরার হাতে বল তুলে দেন সূর্য। অধিনায়ককে নিরাশ করেননি বুমরা। আউট করেন হেটমায়ারকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৩ বল করেছেন বুমরা। আউট করেছেন ছ’বার। ১২ বলে ২৭ রানে আউট হন হেটমায়ার। দু’বল পরেই বুমরা ফেরান চেজকে। তিনি করেন ২৫ বলে ৪০ রান।

    সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি ভারতের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়। এর আগে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭৩ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। ১২ বছর পর সেই নজির ভাঙল। ১০ বছর পর একটি বদলাও নিল ভারত। ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ১৯২ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিদায় নিয়েছিল ভারত। সেই হারের বদলা ইডেনে নিল ভারত।

    সেমিফাইনালে কারা

    বিশের বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) খেতাব জয়ের থেকে চার দলই কেবল দুই জয় দূরে দাঁড়িয়ে। একদিকে যেখানে ভারত আর ইংল্যান্ড রেকর্ড তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে, সেখানে নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবার বিশের বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া। চার সেমিফাইনালিস্ট। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সুপার এইটে গ্রুপ ১-র শীর্ষে শেষ করা দল গ্রুপ ২-র রানার্সের বিরুদ্ধে খেলবে এবং আরেক সেমিফাইনালে গ্রুপ ২-র শীর্ষে থাকা দল খেলবে গ্রুপ ১-র রানার্স আপের বিরুদ্ধে। এই সমীকরণ অনুযায়ী বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুম্বইয়ে ভারত মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের, আর ইডেনে নিউজিল্যান্ড খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। সেমিফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইডেনও। তবে, রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ইডেন ছিল আপন ছন্দে। ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামিয়ে সঞ্জুর প্রতিটা শটে উঠেছে মেক্সিকান ওয়েভ। সূর্য-হার্দিকদের সঙ্গে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার উল্লাসে মেতেছে ইডেনের গ্যালারি।

  • Daily Horoscope 02 March 2026: ঋণমুক্তির সুযোগ পাবেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 02 March 2026: ঋণমুক্তির সুযোগ পাবেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) ব্যবসায় মুনাফা বৃদ্ধি পাবে।

    ২) ঋণমুক্তির সুযোগ পাবেন।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    বৃষ

    ১) প্রেমে নৈরাশ্য থেকে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) প্রতিবেশীর অশান্তির দায় আপনার কাঁধে চাপতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মিথুন

    ১) সকালের দিকে বন্ধুদের দ্বারা বিব্রত হতে পারেন।

    ২) শরীরে ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) চিকিৎসকের কাছে যেতে হতে পারে।

    কর্কট

    ১) ভ্রমণে গিয়ে শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা।

    ২) প্রেমের প্রতি ঘৃণাবোধ দেখা দিতে পারে।

    ৩) ধৈর্য্য ধরতে হবে অনেক বেশি।

    সিংহ

    ১) প্রেমের ব্যাপারে আবেগ সংযত রাখুন।

    ২) শরীরে ক্ষয় বৃদ্ধি।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    কন্যা

    ১) খরচ বাড়তে পারে।

    ২) বৈরী মনোভাবের জন্য ব্যবসায় শত্রু বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) ব্যবসায় লোকসান হবে।

    তুলা

    ১) আপনার বিষয়ে সমালোচনা বৃদ্ধি পাবে।

    ২) সকালের দিকে একই খরচ বার বার হবে।

    ৩) নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিন।

    বৃশ্চিক

    ১) রক্তশূ্ন্যতা বাড়তে পারে।

    ২) বাইরের লোকের জন্য দাম্পত্য সম্পর্কে বিবাদ।

    ৩) চিন্তিত থাকবেন।

    ধনু

    ১) বিলাসিতার কারণে খরচ বাড়তে পারে।

    ২) বাড়িতে বিবাদের জন্য মনঃকষ্ট।

    ৩) কোনও ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    মকর

    ১) অতিরিক্ত কাজের চাপে ক্লান্তিবোধ।

    ২) সন্তানের জন্য সম্মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা।

    ৩) ধৈর্য্য ধরুন।

    কুম্ভ

    ১) ধর্ম সংক্রান্ত ব্যাপারে তর্কে জড়াতে পারেন।

    ২) মা-বাবার সঙ্গে সামান্য কারণে তর্ক হতে পারে।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    মীন

    ১) কর্মস্থানে বন্ধুদের বিরোধিতা আপনাকে চিন্তায় ফেলবে।

    ২) বুদ্ধির ভুলের জন্য চাপ বৃদ্ধি।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Daily Horoscope 31 March 2026: পুরনো কোনও সমস্যা মিটে যেতে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 31 March 2026: পুরনো কোনও সমস্যা মিটে যেতে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ
    ১) নতুন দায়িত্ব আপনাকে ব্যস্ত রাখবে।
    ২) সহকর্মীদের সঙ্গে বোঝাপড়া জরুরি।
    ৩) তাড়াহুড়ো করলে ভুল হতে পারে।

    বৃষ
    ১) অর্থনৈতিক দিক স্থিতিশীল থাকতে পারে।
    ২) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
    ৩) অতিরিক্ত খরচ এড়িয়ে চলুন।

    মিথুন
    ১) কাজে নতুনত্ব আনতে পারবেন।
    ২) যোগাযোগের মাধ্যমে ভালো সুযোগ আসতে পারে।
    ৩) মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    কর্কট
    ১) পারিবারিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
    ২) পুরনো কোনও সমস্যা মিটে যেতে পারে।
    ৩) নিজের উপর ভরসা রাখুন।

    সিংহ
    ১) কর্মক্ষেত্রে আপনার গুরুত্ব বাড়বে।
    ২) নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুত থাকুন।
    ৩) অহেতুক তর্কে জড়াবেন না।

    কন্যা
    ১) কাজের চাপ বাড়লেও সামলে নিতে পারবেন।
    ২) অর্থ সংক্রান্ত পরিকল্পনা সফল হতে পারে।
    ৩) নিজের সময় বের করা জরুরি।

    তুলা
    ১) নতুন যোগাযোগ ভবিষ্যতে লাভ দেবে।
    ২) সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
    ৩) সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাবুন।

    বৃশ্চিক
    ১) কাজের ক্ষেত্রে সাফল্যের সম্ভাবনা।
    ২) গোপন শত্রুর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
    ৩) রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    ধনু
    ১) ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে।
    ২) নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বাড়বে।
    ৩) খরচের দিকে নজর দিন।

    মকর
    ১) পরিশ্রমের ফল পেতে পারেন।
    ২) দায়িত্ব বাড়লেও সফল হবেন।
    ৩) স্বাস্থ্য অবহেলা করবেন না।

    কুম্ভ
    ১) সৃজনশীল কাজে উন্নতি হবে।
    ২) বন্ধুদের সঙ্গে সময় ভালো কাটবে।
    ৩) সময় নষ্ট না করাই ভালো।

    মীন
    ১) নতুন চিন্তা আপনাকে এগিয়ে দেবে।
    ২) ব্যক্তিগত জীবনে সুখের মুহূর্ত আসবে।
    ৩) তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলুন।

  • P-75I: চেয়েছিল পাকিস্তানও, আগ্রহ দেখায়নি বার্লিন! জার্মানির সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সাবমেরিন চুক্তির পথে ভারত! কী এই ‘প্রজেক্ট ৭৫আই’?

    P-75I: চেয়েছিল পাকিস্তানও, আগ্রহ দেখায়নি বার্লিন! জার্মানির সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সাবমেরিন চুক্তির পথে ভারত! কী এই ‘প্রজেক্ট ৭৫আই’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) সাবমেরিন শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্পে অবশেষে বড় অগ্রগতি ঘটল। ভারতীয় নৌবাহিনী এবং জার্মান সংস্থা টুসেনক্রপ মারিনা সিস্টেমস্ (TKMS)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা খরচ সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হয়েছে। সূত্রের মতে, আগামী অর্থবছরের শুরুতেই এই বহুচর্চিত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব

    প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্পের আওতায় ভারতে ছয়টি আধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন তৈরি হবে, যেগুলিতে থাকবে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তির ফলে সাবমেরিন দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকতে পারবে, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে। এই প্রকল্প শুধুমাত্র একটি ডুবোজাহাজ কেনার চুক্তি নয়, বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ, চুক্তিটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গে এটি সরাসরি সংযুক্ত হতে চলেছে।

    খরচ ও দরকষাকষির বাস্তবতা

    প্রকল্পটির চূড়ান্ত মূল্য প্রকাশ না হলেও অনুমান করা হচ্ছে, মোট ব্যয় কমপক্ষে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা)। এটিই হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রচলিত শক্তিচালিত সাবমেরিন চুক্তি। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা মাঝগাঁও ডকইয়ার্ড লিমিটেড (MDL) ও টুসেনক্রপ-এর দর ছিল ১.২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ২০১৮ সালে প্রকল্পের ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র ৪৩,০০০ কোটি টাকা। ফলে ব্যয়ের এই বিপুল বৃদ্ধি নিয়ে প্রতিরক্ষা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে, জার্মান সংস্থার সঙ্গে নতুন করে দর-কষাকষি করে খরচের ভার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয় এমডিএলের নতুন ম্যানেজমেন্ট। নৌসেনার লক্ষ্য ছিল ৬০,০০০–৭০,০০০ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তা ৮০ থকে ৮২ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলে অনুমান।

    কানাডার চুক্তির সঙ্গে তুলনা

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের এই প্রকল্পের খরচকে ব্যতিক্রমী বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, কানাডা জার্মানির থেকে ১২টি এই একই ‘টাইপ-২১৪’ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন কিনছে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি ডলারে। অর্থাৎ, প্রতিটি সাবমেরিনের খরচ আনুমানিক ১ লক্ষ কোটি ডলার। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষেত্রে এই দর পড়ছে প্রায় দেড়গুণ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ার মূল কারণ প্রযুক্তি হস্তান্তর (Technology Transfer) এবং দেশীয় উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব। অন্যদিকে কানাডার ক্ষেত্রে সব সাবমেরিন জার্মানিতেই তৈরি হবে, প্রযুক্তি স্থানান্তরেরও কোনও শর্ত নেই। ফলে, সেই দিক দিয়ে দাম ঠিক আছে।

    প্রক্রিয়াগত বাধা ও সময়সীমা

    সূত্র জানাচ্ছে, খরচ সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হলেও এখনও কিছু প্রশাসনিক ধাপ বাকি রয়েছে। ফাইলটি অর্থমন্ত্রক হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা-বিষয়ক মন্ত্রিসভার কমিটি (CCS)-এর অনুমোদনের জন্য যাবে। এই প্রক্রিয়ার কারণেই চুক্তি স্বাক্ষর চলতি অর্থবছর থেকে পিছিয়ে পরবর্তী অর্থবছরে যেতে পারে। রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সাত বছরের মধ্যে প্রথম সাবমেরিন সরবরাহ করতে হবে, যেখানে ৪৫ শতাংশ দেশীয় উপাদান থাকবে। পরবর্তী বছরগুলিতে একটির পর একটি সাবমেরিন যুক্ত হবে এবং দেশীয়করণের হার ধীরে ধীরে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

    এই সাবমেরিন পাকিস্তানও চেয়েছিল, পাত্তা দেয়নি জার্মানি

    এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক তাৎপর্যও রয়েছে। অতীতে পাকিস্তানও জার্মান সাবমেরিন প্রযুক্তি অর্জনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, যার মধ্যে টাইপ ২১৪ প্ল্যাটফর্মও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসলামাবাদের সঙ্গে জ্বালানি, জলবায়ু প্রকল্প ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা চালায় বার্লিন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহায়তাও প্রদান করে। তবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে জার্মানি এত সহজে পাকিস্তানের মতো দেশকে সন্তুষ্ট করবে না। ফলে, বার্লিন এই নিয়ে আগ্রহই দেখায়নি। সেখানে ভারতেই তৈরি হবে এই ৬টি সাবমেরিন। যার জন্য ভারতকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তর করতেও রাজি বার্লিন। এখানেই তফাত।

    সাবমেরিনের ক্ষেত্রে ভারত-জার্মানি দীর্ঘ সম্পর্ক

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সাবমেরিন নির্মাণ ও উন্নত সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে জার্মানির প্রধান অংশীদার হিসেবে ভারত উঠে এসেছে। এই প্রথম নয় যে, ভারত জার্মানির থেকে সাবমেরিন নিচ্ছে। এর আগে জার্মানি থেকে শিশুমার শ্রেণির ৪টি ডিজেল-বিদ্যুৎ ডুবোজাহাজ কিনেছিল ভারতীয় নৌসেনা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে। ফলত, জার্মান প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই মজবুত করছে না, বরং অঞ্চলজুড়ে সাবমেরিন শক্তির সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত এখন জার্মানির উন্নত সাবমেরিন প্রযুক্তির প্রধান গ্রাহক ও অংশীদার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজ অবস্থান সুদৃঢ় করছে।

    ভারতের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্প ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও সামুদ্রিক কৌশলের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যদিও এর উচ্চ ব্যয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবু প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার দিক থেকে এটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু সাবমেরিন শক্তিতে নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্প মানচিত্রেও একটি শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে (IOR) ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও সাবমেরিন মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) প্রকল্পের সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্রতল যুদ্ধক্ষমতায় একটি কৌশলগত সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উন্নতমানের সাবমেরিনগুলি কেবল প্রতিরক্ষা শক্তিই বাড়াবে না, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে অন্যান্য নৌশক্তির দ্রুত সম্প্রসারিত সাবমেরিন বহর ভারতের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া (P-75I) সাবমেরিন যুক্ত হওয়ায় ভারতের দীর্ঘপাল্লার টহল ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি সমুদ্রের গভীরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ভারতীয় নৌবাহিনী অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া-ডিনায়াল (A2/AD) কৌশলকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হবে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনী সমুদ্রতলের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বাসযোগ্য শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Daily Horoscope 01 March 2026: শরীরে ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধি পাবে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 01 March 2026: শরীরে ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধি পাবে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) কাজে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ২) শত্রু থেকে সাবধান।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    বৃষ

    ১) প্রেমে নৈরাশ্য থেকে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) প্রতিবেশীর অশান্তির দায় আপনার কাঁধে চাপতে পারে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    মিথুন

    ১) সকালের দিকে বন্ধুদের দ্বারা বিব্রত হতে পারেন।

    ২) শরীরে ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) প্রতিকূল কাটবে দিনটি।

    কর্কট

    ১) ভ্রমণে গিয়ে শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা।

    ২) প্রেমের ব্যাপারে ঘৃণা জন্মাতে পারে।

    ৩) নিজেকে সময় দিন।

    সিংহ

    ১) প্রেমের ব্যাপারে আবেগ সংযত থাকুন।

    ২) শরীরে ক্ষয় বৃদ্ধি।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    কন্যা

    ১) বাড়তি কিছু খরচ হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় শত্রু বৃদ্ধি পাবে এবং তার ফলে ভাল সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারবেন না।

    ৩) ধৈর্য ধরুন।

    তুলা

    ১) আপনার বিষয়ে সমালোচনা হতে পারে।

    ২) সকালের দিকে একই খরচ বার বার হবে।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করবেন।

    বৃশ্চিক

    ১) রক্তাল্পতায় ভুগতে পারেন।

    ২) কোনও ব্যক্তির জন্য দাম্পত্য কলহ।

    ৩) গুরুজনের পরামর্শ মেনে চলুন।

    ধনু

    ১) বিলাসিতার কারণে খরচ বাড়তে পারে।

    ২) বাড়িতে বিবাদের জন্য মনঃকষ্ট।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    মকর

    ১) অতিরিক্ত কাজের চাপে ক্লান্তিবোধ।

    ২) সন্তানের জন্য সম্মানহানি হওয়ার সম্ভাবনা।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কুম্ভ

    ১) ধর্ম সংক্রান্ত ব্যাপারে তর্কে জড়াতে পারেন।

    ২) মা-বাবার সঙ্গে সামান্য কারণে তর্ক হতে পারে।

    ৩) বন্ধুদের পাশে পাবেন।

    মীন

    ১) কর্মস্থানে সহকর্মীদের বিরোধিতা আপনাকে চিন্তায় ফেলবে।

    ২) বুদ্ধির ভুলের জন্য চাপ বৃদ্ধি।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

LinkedIn
Share