Tag: Madhyom

Madhyom

  • Rahul Gandhi: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে “বিশ্বাসঘাতক” কটাক্ষ রাহুলের, পাল্টা পেলেন “দেশ কে দুশমন” তকমা

    Rahul Gandhi: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে “বিশ্বাসঘাতক” কটাক্ষ রাহুলের, পাল্টা পেলেন “দেশ কে দুশমন” তকমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার সংসদের সিঁড়িতে এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু (Ravneet Singh Bittu) জনসমক্ষে একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম।)

    “দেশ কে দুশমন” (Rahul Gandhi)

    সংসদে নিয়ম ভঙ্গের অপরাধে আটজন সাংসদকে বরখাস্ত করার ঘটনায় লোকসভা মুলতবি করার পর এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস নেতারা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সংসদের মকরা দ্বারের কাছে জড়ো হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিট্টু (Ravneet Singh Bittu), সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় তাঁকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে আক্রমণ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। বলেন, “এই যে একজন বিশ্বাসঘাতক ঠিক পাশ দিয়ে হেঁটে আসছে। মুখের দিকে তাকান…”। তারপর, ঠাট্টা-বিদ্রুপের মিশ্রণে তিনি বিট্টুর দিকে হাত বাড়িয়ে বলেন, “হ্যালো ভাই, আমার বিশ্বাসঘাতক বন্ধু। চিন্তা করো না, তুমি কংগ্রেস ফিরে আসবে।” সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিট্টু রাহুলের করমর্দন প্রত্যাখ্যান করেন। বরং, তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “দেশ কে দুশমন, গান্ধীকে জাতির শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে।” ক্যামেরায় ধারণকৃত এই কথোপকথন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়।

    বার বার অসংসদীয় আচরণ

    সংসদে উত্তেজনা বৃদ্ধির পটভূমিতে এই ঝগড়া শুরু হয়। মঙ্গলবার, লোকসভায় রাহুল গান্ধী বক্তৃতা দেওয়ার সময় সংসদীয় নিয়ম ভঙ্গ করেন। সংসদের কাজে বার বার বাধা প্রদান করেন। শুধু তাই নয়, অধ্যক্ষের চেয়ারের দিকে কাগজপত্র ছোড়ার অভিযোগে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময় আটজন সাংসদকে বরখাস্ত করা হয়। বিরোধী সদস্যদের তীব্র স্লোগানের মধ্যে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

    আট সাংসদ বরখাস্ত

    বরখাস্ত হওয়া সাংসদরা হলেন কংগ্রেস নেতা হিবি ইডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম ঠাকুর, গুরজিৎ সিং আউজলা, প্রশান্ত ইয়াদোরাও পাডোলে, চামালা কিরণ কুমার রেড্ডি, ডিন কুরিয়াকোস এবং সিপিআই(এম) সাংসদ এস ভেঙ্কটেসন। সকলেই পরে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ করেন।

    রাহুলের (Rahul Gandhi) পক্ষে দাঁড়িয়ে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ আনন্দ ভাদৌরিয়া অভিযোগ করে বলেন, “শাসক দল বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। বিরোধী দলনেতা তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করেন যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন এবং মতবিরোধ দমনের ষড়যন্ত্র চলছে। যুক্তি দিয়ে কথা বলতে সরকার জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলিতে কথা বলতে ভয় পায়।”

    ম্যাগাজিন নিবন্ধ বা অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা উদ্ধৃত করা যায় না

    রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের বিতর্কের সময় পূর্ব লাদাখে ২০২০ সালে চিনের সঙ্গে সংঘর্ষের উল্লেখ উত্থাপনের জন্য রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিকৃত তথ্য উত্থাপনই হল বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। কোনও ম্যাগাজিন নিবন্ধ বা অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা উদ্ধৃত করা যায় না। কিন্তু রাহুল তাতে অনড় ছিলেন। সরকার তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলে, অপ্রকাশিত উপাদানের উল্লেখ অনুমোদিত নয়। নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে  বক্তৃতা দিতে হবে। এরপর নিয়ম ভঙ্গ করায় কড়া অবস্থান নেন লোকসভার অধ্যক্ষ।

  • New MCC laws: অবৈধ ব্যাট এবার বৈধ! নতুন আইন আনছে এমসিসি, অক্টোবর থেকে ক্রিকেটে ১০টি বড় পরিবর্তন

    New MCC laws: অবৈধ ব্যাট এবার বৈধ! নতুন আইন আনছে এমসিসি, অক্টোবর থেকে ক্রিকেটে ১০টি বড় পরিবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বসে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তা নতুন করে প্রমাণ করল মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (New MCC laws)। ক্রিকেটের আইন সংশোধনের সর্বশেষ সংস্করণ কার্যকর হচ্ছে অক্টোবর ২০২৬ থেকে। ২০২২ সালের পর এই প্রথম বড় সংশোধন, যেখানে আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতা ও অন্তর্ভুক্তিকেই মূল লক্ষ্য করা হয়েছে। এমসিসির ভাষায়, নতুন আইনগুলো শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং আরও সহজ ও স্পষ্ট—যাতে খেলোয়াড়, আম্পায়ার এবং সমর্থকরা সবাই আইন ভালোভাবে বুঝতে পারেন। মোট ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হলেও, তার মধ্যে ১০টি নিয়ম সরাসরি খেলায় প্রভাব ফেলবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বলবৎ হবে নতুন নিয়মগুলি।

    ল্যামিনেটেড ব্যাট বৈধ

    এখন থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ক্রিকেটেও ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড বা টাইপ ডি ব্যাট। একাধিক কাঠের টুকরো জোড়া দিয়ে তৈরি এই ব্যাট মূলত খরচ কমানো ও উইলোর অপচয় রোধের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক টুকরো ব্যাটই জনপ্রিয় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান উপকরণ ব্যাট। ব্যাটের দাম ক্রমশ বেড়ে চলায় উদ্বিগ্ন ক্রিকেট কর্তারা। দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেলে ক্রিকেটের প্রসারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই আগে নিষিদ্ধ হওয়া কয়েক ধরনের ব্যাটকে বৈধতার কথা বলা হয়েছে নতুন নিয়মে। এ বার থেকে ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড বা কয়েক স্তরের কাঠ দিয়ে তৈরি ব্যাট। যা এক দিন শুধু জুনিয়র ক্রিকেটে অনুমোদিত ছিল। নতুন নিয়মে সব ধরনের অপেশাদার ক্রিকেটেই ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহার করা যাবে। এমসিসির বক্তব্য, ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারে ক্রিকেটের গতিপ্রকৃতির তেমন হেরফের হবে না। তবে খরচ অনেকটাই কমবে। এমসিসির তরফে ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, ‘‘ইংলিশ উইলোর এখন বেশ সংকট। আমরা গাছের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য না এনেই যদি সাধারণ মানুষের নাগালে খেলাটাকে রাখা যায়, তবে সেটিই বুদ্ধিমানের কাজ।’’

    মহিলা ও জুনিয়র ক্রিকেট বলের স্পষ্ট মানদণ্ড

    আগে মহিলা ক্রিকেট ও জুনিয়র ক্রিকেটে বলের আকার ও ওজনের সীমা ছিল তুলনামূলকভাবে ঢিলেঢালা। ফলে একই বল দুই বিভাগেই ব্যবহার করা যেত। ২০২৬ থেকে বলকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হচ্ছে—সাইজ ১, সাইজ ২ ও সাইজ ৩। পুরুষদের ক্রিকেটে বল অপরিবর্তিত থাকলেও, মহিলা ও জুনিয়র ক্রিকেটে আলাদা ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড চালু হচ্ছে।

    দিনের শেষ ওভার সম্পূর্ণ করতেই হবে

    মাল্টি-ডে ক্রিকেট বা টেস্ট ক্রিকেটে এতদিন দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে সঙ্গে সঙ্গে খেলা শেষ হয়ে যেত। নতুন আইন অনুযায়ী, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে শেষ ওভার সম্পূর্ণ করতেই হবে। এতে ফিল্ডিং দলের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে এমসিসি।

    শর্ট রান নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা

    ইচ্ছাকৃত প্রতারণা ও প্রকৃত সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত শর্ট রান হলে আগের শাস্তির পাশাপাশি এবার ফিল্ডিং দল ঠিক করবে পরের বলে কোন ব্যাটার স্ট্রাইকে থাকবে। কোনও ব্যাটার ইচ্ছাকৃত শর্ট রান নিলে শাস্তি হিসাবে ৫ রান জরিমানা হয়। এবার থেকে শর্ট রানের পরের বল কোন ব্যাটার খেলবেন তা-ও ঠিক করবে ফিল্ডিং করা দল। ভুলবশত রান পূর্ণ না করলে অবশ্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

    বাউন্ডারিতে ‘বানি হপ’ ক্যাচে কড়াকড়ি

    বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে একাধিকবার বল ছোঁয়ার প্রবণতায় লাগাম টানা হয়েছে। নতুন নিয়মে, বাইরে থেকে লাফ দিলে ফিল্ডার একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন এবং তারপর পুরোপুরি মাঠের ভেতরে অবতরণ করতে হবে। আইসিসি আগেই প্লেয়িং কন্ডিশনে এই নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করেছে।

    ওভারথ্রোর সংজ্ঞা নির্দিষ্ট

    প্রথমবারের মতো ওভারথ্রো কী, তার স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। স্টাম্প লক্ষ্য করে থ্রো করলে তবেই তা ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে। সাধারণ মিসফিল্ড এতে পড়বে না।

    বল কখন ‘ডেড’—নতুন ব্যাখ্যা

    এখন বল ‘ডেড’ হতে পারে যে কোনও ফিল্ডারের হাতে থাকলে বা মাটিতে স্থির অবস্থায় থাকলে। শুধু বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বল কখন ‘ডেড’ হবে তা এখন মূলত নির্ভর করে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের উপর। এখন থেকে বল শুধু বোলার বা উইকেটরক্ষকের হাতে গেলেই ‘ডেড’ হবে না। কোনও ফিল্ডারের হাতে বল থাকলেও খেলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ‘ডেড’ ঘোষণা করতে পারবেন আম্পায়ারেরা।

    উইকেটকিপারের অবস্থানে ছাড়

    বোলারের দৌড়ের সময় উইকেটকিপারের গ্লাভস স্টাম্পের সামনে থাকলে আর নো-বল হবে না। বল ছোড়ার পর থেকেই নিয়ম কার্যকর হবে।

    হিট উইকেট আইনে স্পষ্টতা

    শট খেলার পর ব্যাটার ভারসাম্য ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তাকে এখনও ‘শট খেলার প্রক্রিয়ায়’ ধরা হবে। এই সময় স্টাম্প ভাঙলে আউট হবে। তবে ফিল্ডারের ধাক্কায় স্টাম্পে পড়লে ব্যাটার আউট হবেন না।

    বল নিয়ন্ত্রণের নতুন সংজ্ঞা

    রান আউট বা স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু বল ছোঁয়া যথেষ্ট নয়। ক্যাচের মতোই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে—বল ধরে রাখার এবং ইচ্ছামতো ছাড়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

    ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা

    এখন থেকে ম্যাচের শেষ ইনিংসে অধিনায়কেরা ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা বা ডিক্লেয়ার করতে পারবেন না।

    লিঙ্গ নিরপেক্ষ ভাষা

    ক্রিকেটে এখন থেকে পুরুষ বা নারীবাচক শব্দের বদলে লিঙ্গ নিরপেক্ষ শব্দ ব্যবহার করা হবে। যেমন ‘ব্যাটসম্যান’-এর বদলে সর্বত্র শুধু ‘ব্যাটার’ শব্দটিই ব্যবহার করা যাবে।

    ডিক্লেরেশন

    নতুন নিয়মে ম্যাচের শেষ ইনিংসে কোনও অধিনায়ক ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা বা ডিক্লেয়ার করতে পারবেন না।

    এমসিসির ২০২৬ সালের আইন (New MCC laws) বিপ্লব নয়, বরং পরিশীলন। অস্পষ্টতা দূর করা, ন্যায্যতা বাড়ানো এবং আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতার সঙ্গে আইনকে মানানসই করাই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য। ঐতিহ্যই ক্রিকেটের শক্তি, তবে এমসিসির বার্তা স্পষ্ট—খেলার চেতনাকে টিকিয়ে রাখতে হলে আইন হতে হবে নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সময়োপযোগী। আইনপ্রণেতা এমসিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্রিকেট আইনের সর্বশেষ সংস্করণে ৪২টি আইনের কিছু ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ অপেশাদার ক্রিকেটারদের কাছে ক্রিকেটকে সস্তা ও সহজলভ্য করা। সে কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Dhurandhar: খোদ পাকিস্তানেই সুপারহিট পাক-বিরোধী ভারতীয় ছবি ‘ধুরন্ধর’! কীভাবে সম্ভব হল?

    Dhurandhar: খোদ পাকিস্তানেই সুপারহিট পাক-বিরোধী ভারতীয় ছবি ‘ধুরন্ধর’! কীভাবে সম্ভব হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-বিরোধী (Pakistan) বক্তব্যের জন্য সমালোচিত ভারতীয় বলিউড ছবি ‘ধুরন্ধর’ পাকিস্তানের নেটফ্লিক্স (Dhurandhar)চার্টে এক নম্বর স্থানে পৌঁছে গিয়েছে। আর এই খবর ফলাও করে প্রকাশ করেছে সেদেশেরই সংবাদমাধ্যম।  পাক সংবাদ মাধ্যম ‘পাকিস্তান টুডে’ প্রকাশিত খবরে আবারও মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। এই ভারতীয় সিনেমা পাকিস্তানের জন্য রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত অস্বস্তির। ভারতের বিরুদ্ধে হাজার ষড়যন্ত্র করেও ভারতীয় ছবিটি পাকিস্তানি দর্শকদের পছন্দের তালিকায় এক নম্বর স্থান দখল করে নিয়েছে।

    পাক বিরোধী অ্যাকশন-ভিত্তিক সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar)

    পাকিস্তান (Pakistan) টুডে নিজের একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদী থিমকে কেন্দ্র করে নির্মিত অ্যাকশন-ভিত্তিক সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ (Film Dhurandhar) বর্তমানে পাকিস্তানে নেটফ্লিক্সের সর্বাধিক দেখা সিনেমাগুলির শীর্ষে রয়েছে। ছবিটিতে পাকিস্তানকে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক শত্রুতার পরিচিত রূপগুলি তুলে ধরা হয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার ভারতীয় সিনেমার একটি অংশ পাকিস্তানের কার্যকলাপকে এই ভাবেই চিহ্নিত করা হয়। তবে পাকিস্তানে এই ছবির বিপুল জনপ্রিয় হওয়ার বিষয়টি অনেক সমালোচকদের রীতিমতো অবাক করেছে। কারণ এই ধরণের আখ্যান নতুন নয়, বরং ছবিটি কোথায় এবং কীভাবে কোন বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে সেটাও বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এমনটাই মনে করেছেন অনেক সিনেমা সমালোচকরা।

    এক অদ্ভুত বৈপরীত্য

    যখন পাকিস্তান ও ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক চরম  উত্তেজনাপূর্ণ  অবস্থায় রয়েছে, ঠিক সেই সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বৈরী দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্মিত একটি ভারতীয় ছবির পাকিস্তানেরই স্ট্রিমিং চার্টে সাফল্য ডিজিটাল যুগের এক অদ্ভুত বৈপরীত্যকে তুলে ধরছে। জাতীয় শত্রুতার আবহে নির্মিত একটি ছবিই এখন সবচেয়ে বেশি দেখা হচ্ছে সেই দেশের দর্শকদের মধ্যেই, যাদের লক্ষ্য করেই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে, তা বিস্ময়ের বৈকি! পাকিস্তান বিরোধিতার উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি ভারতীয় ছবি পাক দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষিত করেছে— এই ট্রেন্ড নির্ঘাত পাক প্রশাসনের রাতের ঘুম উড়িয়ে নিয়েছে।

    নেটফ্লিক্সে পাক নাগরিকদের ব্যাপক ভিড়

    শিল্প বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, নেটফ্লিক্সের র‍্যাঙ্কিং অনুমোদন মোট দর্শক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। কৌতূহল, বিতর্ক এবং সোশ্যাল মিডিয়া আলোচনার ফলে প্রায়শই দর্শকদের দেখার আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। তবে ছবির বার্তার সঙ্গে সকলে একমত হবেন এমনটা নাও হতে পারে। ‘ধুরন্ধর’ (Film Dhurandhar) সিনামা যখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল সেই সময় পাক সরকার সিনেমার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেলে পাকিস্তানে (Pakistan) ঐতিহাসিকভাবে আগ্রহ দেখা যায়। সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে নেটফ্লিক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে পাক দর্শকরা ভিড় জমান। কৌশলগত ভাবে এটাও ঠিক।

    বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হচ্ছে

    এই সিনেমা সমসাময়িক মিডিয়াকে ব্যবহারের মধ্যে একটি বৃহত্তর দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছে। আধিপত্য বা শত্রুতাকে জাহির করার জন্য তৈরি জাতীয় আখ্যানগুলি আর সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হচ্ছে। পাকিস্তানে (Pakistan) ‘ধুরন্ধর’ (Film Dhurandhar)  যখন ট্রেন্ডিং করে চলেছে, তখন এর সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্ট্রিমিং যুগে সাংস্কৃতিক প্রভাব আর কেবল উদ্দেশ্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। চলচ্চিত্র শক্তি প্রদর্শনের জন্য তৈরি করা যেতে পারে। সীমান্তের ওপারে ওপারের দর্শকের সংখ্যাটাও তুলনামূলক কম নয়। ভাবনাকে প্রভাবিত করতে সিনেমার ভাষা কতটা শক্তিশালী তা আরও একবার প্রমাণিত হয়।

    বিশদে জানতে পড়ুন…

    Anti-Pakistan film Dhurandhar tops Netflix chart in Pakistan, highlighting a streaming-era irony

  • Saif Al Islam Gaddafi: লিবিয়ার প্রয়াত স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা

    Saif Al Islam Gaddafi: লিবিয়ার প্রয়াত স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লিবিয়ার (Libya) প্রয়াত স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার ফেসবুকে দুটি পৃথক পোস্টে ৫৩ বছর বয়সি সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির (Saif Al Islam Gaddafi) মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন তাঁর আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, অজ্ঞাত পরিচয় চারজন অস্ত্র-সশস্ত্র নিয়ে নজরদারিতে রাখা ক্যামেরাকে প্রথমে নিষ্ক্রিয় করে। এরপর সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির বাসভবনে হামলা চালায় এবং তারপর তাঁকে হত্যা করা হয়।  এই খবর আল-আহরার টিভি চ্যানেলকে জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান আবদুর রহিম।

    কমান্ডো ইউনিট এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে (Saif Al Islam Gaddafi)

    আল-আহরার টিভি খবর অনুযায়ী, জাইদি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিবিয়ার (Libya) জিনতান শহরে সাইফ গদ্দাফির বাড়িতে চার সদস্যের কমান্ডো ইউনিট এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে। গদ্দাফির (Saif Al Islam Gaddafi)  মৃত্যু সম্পর্কিত আর কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আবার বিবিসি অনুসারে জানা গিয়েছে, সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির বোন নিজে এই মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাগুলির ভিন্ন বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। একই ভাবে লিবিয়ান টিভিকে বলেছেন, “আলজেরিয়ার কাছে লিবিয়ার সীমান্তের কাছে মারা গেছেন আল-ইসলাম গদ্দাফি।” আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি সংস্থা ত্রিপোলি-ভিত্তিক হাই স্টেট কাউন্সিলের প্রাক্তন প্রধান খালেদ আল-মিশরি সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির হত্যার প্রয়োজনীয় ও স্বচ্ছ তদন্ত করার দাবি তুলেছেন।

    বাবার মৃত্যুর পর ছেলেকেও রাখা হয়েছিল জেলে

    ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (এনটিসি) কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফিকে (Saif Al Islam Gaddafi)  তাঁর পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কোনও সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না, তবুও তিনি তাঁর পিতার পরে একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। লিবিয়াকে নিজের হাতের মুঠোয় রেখেছিলেন মুয়াম্মার গদ্দাফি। ১৯৬৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত লিবিয়া শাসন করেছিলেন। সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সাল থেকে লিবিয়ায় (Libya) গদ্দাফি শাসনের পতন না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমাদের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর, সরকার বিরোধী বিক্ষোভের নৃশংস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিযোগে তাঁকে জিনতানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া প্রায় ছয় বছর ধরে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

    মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০১১ সালে বিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে চেয়েছিল। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত একই অপরাধের জন্য তাঁকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যেখানে জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকার রায় দেয়। দুই বছর পর টোব্রুক থেকে সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। গদ্দাফির পতনের পর থেকে, লিবিয়া বিভিন্ন মিলিশিয়া শাসিত অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এটি দুটো সরকার পরস্পর বিরোধী। এই অবস্থায় গদ্দাফির ছেলের মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগের।

  • Chicken’s Neck: মাটির তলা দিয়েই যাবে সেনার রসদ! চিকেন’স নেক রক্ষায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ, মাস্টার স্ট্রোক ভারতের

    Chicken’s Neck: মাটির তলা দিয়েই যাবে সেনার রসদ! চিকেন’স নেক রক্ষায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ, মাস্টার স্ট্রোক ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর অন্যতম ‘চিকেন’স নেক’ (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডর। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংকীর্ণ ভূখণ্ড ভারতের জন্য এক বড় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এবার সেই দুর্বলতাকেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিলিগুড়ি করিডরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশে ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলমন্ত্রী জানান, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রক্ষায় এই করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান রেললাইন চার লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি ২০–২৪ মিটার গভীরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ বসানোর কাজ চলছে। এই ভূগর্ভস্থ রেললাইনটি পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

    কেন তিন মাইল হাট–রাঙাপানি?

    ভৌগোলিক কারণেই রাঙাপানি ও তিন মাইল হাট এই দুই স্টেশনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিন মাইল হাট শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এবং বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি। বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা এখান থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে এই অংশটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ। চিকেন নেকের (Chicken’s Neck) সুরক্ষায় বছর দেড়েক আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ (Underground railway) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রস্তাব মেনে স্পর্শকাতর এলাকায় সমীক্ষাও করে রেল ও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের যৌথ দল। মাস ছয়েক আগে সেই সমীক্ষা রিপোর্ট জমা হয় কেন্দ্রের কাছে। সেইমতো উত্তর দিনাজপুরের তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ির রাঙাপানি পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরির কথা ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। সেনা সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ রেলপথ অসম পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হতে পারে। জাতীয় সুরক্ষায় ওই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই জানিয়েছেন সেনাকর্তারা।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন’স নেক’?

    চিকেন’স নেক হল প্রায় ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা ভারতের মূল অংশকে আটটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে। জাতীয় সড়ক, রেললাইন, জ্বালানি পাইপলাইন এবং সামরিক রসদের প্রধান সরবরাহ পথ এই করিডরের মধ্য দিয়েই যায়। এই করিডরের দক্ষিণে বাংলাদেশ, পশ্চিমে নেপাল এবং উত্তরে চিনের চুম্বি ভ্যালি। চুম্বি ভ্যালিতে চিনের সেনাবাহিনীর কৌশলগত সুবিধা থাকায় সংকটের সময় একাধিক দিক থেকে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই করিডরে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই উত্তর-পূর্ব ভারত কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে ভারতের সামরিক অবস্থানেও।

    ভূগর্ভস্থ রেল কেন এত জরুরি?

    রেলপথই দ্রুততম পণ্য ও সেনা পরিবহণের মাধ্যম—একটি মালবাহী ট্রেন প্রায় ৩০০টি ট্রাকের সমান বোঝা বহন করতে পারে। বর্তমানে চিকেন’স নেকের বেশিরভাগ পরিকাঠামোই ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত, যা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ রেলপথ হলে আকাশ, আর্টিলারি বা ড্রোন হামলা থেকে তা অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। সংঘর্ষের পরিস্থিতিতেও সেনা, জ্বালানি ও জরুরি সামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন পরিবহণ সম্ভব হবে। তাঁর কথায়, “ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামো শনাক্ত করা কঠিন এবং প্রথম আঘাত সামলানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর।”

    আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

    গত এক দশকে চিন ডোকলাম ও অরুণাচল সীমান্তে ব্যাপক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কিছু চরমপন্থী মহল থেকে চিকেন’স নেক বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও শোনা গেছে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের রংপুরের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ—যা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি—নয়াদিল্লির কৌশলগত মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    ভারতের পাল্টা প্রস্তুতি

    এই পরিস্থিতিতে ভারতও একাধিক পদক্ষেপ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায় থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিগুলি ফের চালু করা হচ্ছে। বাংলার চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ ও অসমের লাচিত বরফুকনে নতুন সেনাঘাঁটি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। গত বছর রেলভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার থেকে ‘অগ্নি প্রাইম’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত, যা রেলপথে ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহণ ও মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

    শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট

    শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব যে দিল্লির কাছে কতটা, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। রেলের অন্দরমহলের খবর, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড করিডর’-এর সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপও করা হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা যায়, তার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ দল গড়বে রেল। রেলমন্ত্রী স্পষ্টই জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য টাকার কোনও অভাব হবে না। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল ইতিমধ্যেই ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু করেছে। যেহেতু শিলিগুড়ির মাটি পাথুরে নয় এবং এলাকাটি সমতল, তাই এখানে টানেলের জন্য মাটি কাটা অনেক সহজ হবে। রেলের বাস্তুকারদের দাবি, কাজ শুরু হলে খুব দ্রুতই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শেষ করা যাবে।

    যুদ্ধের সময় সেনার ‘লাইফলাইন’

    এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ শুধুমাত্র একটি পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নয় এর গুরুত্ব ব্যাপক। চিন ও বাংলাদেশের দিক থেকে সম্ভাব্য দ্বিমুখী চাপের মুখে দীর্ঘদিনের কৌশলগত দুর্বলতাকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়ে রূপান্তর করার দিকেই ভারতের এই উদ্যোগ। এক কথায়, ‘চিকেন’স নেক’কে দুর্বল গলা নয়, এবার শক্ত মেরুদণ্ডে পরিণত করার পথে এগোচ্ছে ভারত। যুদ্ধের সময় সেনার ‘লাইফলাইন’ হতে পারে ওই সুড়ঙ্গপথ। প্রাক্তন সেনাকর্তারা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন আর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কত ট্যাঙ্ক বা সেনা পাঠানো হচ্ছে সব ওপর থেকে দেখে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু মাটির নীচে রেললাইন থাকলে শত্রুর চোখে ধুলো দেওয়া সহজ হবে। সুড়ঙ্গপথে সেনা আর রসদ সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া যাবে। বাগডোগরা বিমানঘাঁটি কাছে থাকলেও খারাপ আবহাওয়ায় আকাশপথ সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। তাই অনেকসময় রেলই হয়ে ওঠে মূল ভরসা।

    চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয়

    ইতিমধ্যে চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নতুন ডিজাইনের বেড়ায় ঢেকেছে ৭৫ শতাংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। আধুনিক বেড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। সীমান্তে পাতা পড়লেও এখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নজরে আসবে। সেই সঙ্গে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে সীমান্তে। এছাড়াও ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত চিকেনস নেক রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অসমের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।

    চিকেনস নেক মাস্টারস্ট্রোক দিল মোদি সরকারের

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতকে দুর্বল করতে শিলিগুড়ি করিডরকেই পাখির চোখ করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথে অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক কষেছে জঙ্গিরা! পাশাপাশি সীমান্তের ছিদ্রপথে সন্ত্রাসবাদীদের এদেশে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এই চিকেনস নেক টার্গেট পাকিস্তানেরও। এই অঞ্চলকে ভারতের থেকে আলাদা করে দিতে চায় চিনও। ওই কারণে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জরুরি অপারেশনাল সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ অথবা বিমানঘাঁটি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লি। এবার মাটির তলায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর গড়ার কথা ঘোষণা রেল মন্ত্রকের। বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের ‘শকুনের চোখ’ শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন’স নেক-এর দিকে। বার বার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টেনেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ভারত তো আর চুপ করে বসে থাকবে না। ইতিমধ্যেই চিকেনস নেক-এ সেনা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এবার রেলপথেও মাস্টার স্ট্রোক দিল মোদি সরকার। যার নির্যাস, শত্রুরা কোনও ভাবে হামলা করলেও রেল যোগাযোগে সেনার কাছে সহজেই রসদ পৌঁছে যাবে। রেলপথে কোনও প্রভাব পড়বে না।

  • RSS: “সংঘকে বুঝতে হলে অনুভব করতে হবে, সকল স্বয়ংসেবকদের স্বতন্ত্রতা দেয় সংঘ”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    RSS: “সংঘকে বুঝতে হলে অনুভব করতে হবে, সকল স্বয়ংসেবকদের স্বতন্ত্রতা দেয় সংঘ”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাগ্যনগরে (হায়দরাবাদ) ‘সংঘের ১০০ বছরের যাত্রা–নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের উদ্দেশে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (RSS) সঠিকভাবে বোঝার জন্য সংঘের অংশ হয়ে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রয়োজন। স্বয়ংসেবকদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না সংঘ। সম্পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসনের দ্বারা সকলে কাজ করেন। সংঘের আদর্শ এবং মূল্যবোধের দ্বারা কাজ করে প্রত্যেক স্বয়ংসেবক।”

    সংঘকে বোঝা সহজ নয় (RSS)

    সংঘের (RSS) কাজ গত ১০-২০ বছরে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভাগবত সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সংঘকে বোঝা সহজ কাজ নয় এবং সমাজে সংঘের সমতুল্য অন্য কোনও প্রকার কাজ নেই। ওপর ওপর দেখে বিচার করলে সংঘ (Mohan Bhagwat) সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই সংঘের অংশ হয়েই এর কাজকে প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব। সংঘের শাখায় এসে সংঘের আদর্শকে বুঝতে হবে।”

    ব্যক্তি গঠন ও দেশ গড়া

    ভাগবত জানান, সংঘের (RSS) মূল নীতি হল ব্যক্তির চরিত্র গঠন, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল, একটি শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র নির্মাণ করা। সংঘ সম্পূর্ণভাবে এই কাজের ওপরই আলোকপাত করে। ব্যক্তি যে ভাবে নির্মিত হয় তাঁকে সেই ভাবেই জীবন যাপন করতে হয়। এই কাজে অনেক সময় নেয় কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে পারেন উক্ত ব্যক্তি। সংঘ সব সময় ব্যক্তি নির্মাণের উপর কাজ করে। ব্যক্তি নির্মাণ হলে তবেই সংঘের আদর্শ বাস্তবায়ন হয়।

    সেবামূলক কাজের ধরণ

    সর সংঘ সঙ্ঘ (RSS) চালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বর্তমানে স্বয়ংসেবকরা সারা দেশে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় সেবা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন। সংঘ কেবল একটি সেবা সংস্থা নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। শাখাগুলোতে লাঠি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও এটি কোনও সাধারণ আখড়া নয়। একইভাবে সংঘের নিয়ম শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মতো হলেও এটি কোনও প্রকার আধাসামরিক বাহিনী নয়।”

    পঞ্চ পরিবর্তন

    জাতির সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) পাঁচটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। যথা-

     ১. কুটুম্ব প্রবোধন: ভজন, ভোজন, ভাষা, ভূষা, ভবন ও ভ্রমণের মাধ্যমে পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। ২. পরিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কাজ করা। ৩. সামাজিক সমরসতা: জাতিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ৪. স্বদেশী: দেশীয় পণ্য ব্যবহার ও স্বনির্ভরতা। ৫. নাগরিক কর্তব্য: সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করা।

    সাংস্কৃতিক জাগরণ

    আরএসএস (RSS) প্রধান ভাগবত স্পষ্ট করে বলেন, “সংঘ কোনো রাজনৈতিক লাভালাভের জন্য কাজ করে না। এর মূল লক্ষ্য হলো সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সঠিক মানসিকতার মানুষ ও সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা।”

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

    ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “প্রতিটি দেশ তার জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী চলে এবং ভারতকেও নিজের স্বার্থে আপষহীন হতে হবে। ভারত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী হলেই বিশ্ব দরবারে প্রভাব ফেলতে পারবে।”

    ভাগবত পরিশেষে বলেন, সংঘের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। সমাজকে জাগ্রত করার এই প্রক্রিয়া জারি থাকবে। যারা সংঘের (RSS) মতো কাজ স্বতন্ত্রভাবে করছেন, তাদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান। তিনি আহ্বান জানান, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যেন নিজেদের আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করেন, যাতে সমাজ তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারে।

  • T20 World Cup 2026: ভারত-পাক ম্যাচ বয়কট, নকভির নয়া রাজনীতি! বাংলাদেশ নির্বাচন শেষে ইউ-টার্ন নিতে পারে পিসিবি?

    T20 World Cup 2026: ভারত-পাক ম্যাচ বয়কট, নকভির নয়া রাজনীতি! বাংলাদেশ নির্বাচন শেষে ইউ-টার্ন নিতে পারে পিসিবি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারত-পাক ম্যাচ (India vs Pakistan)বয়কট নিয়ে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। তাই কূটনৈতিক ফায়দা তুলে বাংলাদেশের নির্বাচন মিটলেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-ম্যাচ নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন মহসিন নকভি। ভারত-ম্যাচ বয়কটের নেপথ্যে পাকিস্তান ক্রিকেটের স্বার্থের থেকে বেশি রয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার কৌশল। এমনই দাবি খোদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক কর্তার। মহসিন নকভি তো ক্রিকেট প্রশাসকের থেকেও আগে একজন রাজনীতিবিদ। জাতীয় দলকে নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নন নকভি, এমনই মত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিসিবির এক কর্তার।

    পিসিবির একাংশ ক্ষুব্ধ

    ভারত-ম্যাচ বয়কট নিয়ে পিসিবির একাংশ ক্ষুব্ধ। এই সিদ্ধান্ত বুঝে শুনে পাক ক্রিকেটকে বিপদে ফেলে দেওয়ার মতো। সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে উপমহাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। বাংলাদেশের নির্বাচন মিটে গেলেও পিসিবি চেয়ারম্যান মত বদলে ফেলতে পারেন বলে মনে করছে পিসিবি কর্তাদের একাংশ। ওই কর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘নকভি যতটা ক্রিকেট প্রশাসক তার চেয়েও বেশি রাজনীতিবিদ। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী। উপমহাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। পাকিস্তানের জাতীয় দলের উন্নতি নিয়ে উনি খুব একটা আন্তরিক নন। বরং বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বেশি আগ্রহী। নির্বাচনের আগে পাকিস্তান মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের পাশে থাকতে চাইছে। এই সুযোগে নকভি নিজের নম্বর বাড়িয়ে নিতে চান। বাংলাদেশের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। ভারত-পাক ম্যাচ ১৫ ফেব্রুয়ারি। মাঝে দু’দিন থাকবে। তার মধ্যে নকভি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন। না খেললে পাকিস্তানকে আইসিসি বহিষ্কার করতে পারে। সেই ঝুঁকি না-ও নিতে পারেন তিনি।’’

    বিক্ষুব্ধ পাক ক্রিকেটাররাও

    পিসিবির ওই কর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে জরিমানার কথা বলা হচ্ছে। বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী সংস্থাকে দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। এ সবের বিরুদ্ধে ডিআরসিতে গেলেও লাভ হবে না বলেও জানানো হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, পিসিবির দাবি মেনে নিরপেক্ষ দেশে ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তার পরও সরকারের নির্দেশে ভারত-ম্যাচ না খেললে চুক্তিভঙ্গ হবে। আইসিসির বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।’’ পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বকাপ নিয়ে বৈঠক করার আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গেও আলোচনা করেননি নকভি। যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সলমন আলি আঘাদের মধ্যেও।

    কলম্বোয় যাবে ভারতীয় দল

    পিটিআইয়ের রিপোর্টের এই দাবি কিন্তু সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। পাকিস্তান সেই ম্যাচ খেলুক বা না খেলুক, ভারত কিন্তু এমনিও সেই ম্যাচের জন্য শ্রীলঙ্কায় সফর করবে। নিয়ম কিন্তু তাই দাবি করছে। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ভারতকে সেদিন নিয়মমত মাঠে পৌঁছতে হবে। এমনকী সূর্যকুমারকে টস করতেও নামতে হবে মাঠে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যদি পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা মাঠে না থাকেন। তাহলে তখন ম্যাচ রেফার সেই ম্যাচ ওয়াকওভার ঘোষণা করবেন। আর ভারত পয়েন্ট ঝুলিতে পুরে নেবে। অর্থাৎ পাকিস্তান শুধু বয়কট করে দিল বলেই যে পয়েন্ট ঢুকে যাবে ভারতের ঝুলিতে, তা কিন্তু নয়। টিম ইন্ডিয়াকে কলম্বোয় পৌঁছতে হবে ও মাঠেও নামতে হবে। বিসিসিআইয়ের সূত্র মারফতও জানা গিয়েছে যে ভারত ১৫ ফেব্রুয়ারির সেই ম্যাচের আগে যথারীতি অনুশীলন, সাংবাদিক বৈঠক সারবে এবং ম্যাচের দিনও মাঠে উপস্থিত থাকবেন সূর্যকুমার যাদবরা। ফলে পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলালে ম্যাচ আয়োজিত হতেই পারে।

  • DRDO SFDR Test: র‌্যামজেট প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী অগ্রগতি, ডিআরডিও-র পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক ভারতের

    DRDO SFDR Test: র‌্যামজেট প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী অগ্রগতি, ডিআরডিও-র পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ভারত আরও এক ধাপ এগোল। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) সফলভাবে সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেট (SFDR) প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে। বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি দেশই এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছে। সেই এলিট গ্রুপের নবতম সদস্য হল ভারত।

    ডিআরডিও সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ওড়িশার উপকূলবর্তী চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এ এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এই সাফল্যের ফলে ভারত সেই বিশেষ দেশগুলির তালিকায় প্রবেশ করল, যারা র‌্যামজেট-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অধিকারী। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    র‌্যামজেট প্রযুক্তি ঠিক কী?

    র‌্যামজেট একটি এয়ার-ব্রিদিং জেট ইঞ্জিন, যেখানে প্রচলিত জেট ইঞ্জিনের মতো ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে না। ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব উচ্চগতিকে ব্যবহার করে বাতাসকে সংকুচিত (কমপ্রেসড্) করা হয়। সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেটে কঠিন জ্বালানি নিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বালানো হয় এবং বাইরের বাতাস ইঞ্জিনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ গতিতে শক্তিশালী থ্রাস্ট সরবরাহ করে। প্রচলিত রকেট মোটর যেখানে দ্রুত জ্বালানি পুড়িয়ে গতি হারায়, সেখানে র‌্যামজেট-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চগতিতে উড়তে পারে— বিশেষ করে শেষ পর্যায়ে। ফলে এগুলি আরও দ্রুত, অধিক কৌশলী এবং শত্রু বিমান দ্বারা এড়ানো কঠিন হয়ে ওঠে।

    কীভাবে পরীক্ষা চালাল ডিআরডিও?

    ডিআরডিও জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় প্রথমে একটি ভূমিভিত্তিক বুস্টারের সাহায্যে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছানো হয়। নির্ধারিত ম্যাক সংখ্যায় পৌঁছানোর পর র‌্যামজেট সিস্টেম সক্রিয় হয়। পরীক্ষার সময় নজেলহীন বুস্টার, সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেট মোটর এবং ফুয়েল ফ্লো কন্ট্রোলার-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেম পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছে বলে জানিয়েছে ডিআরডিও। ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণের জন্য বঙ্গোপসাগর উপকূলে একাধিক উন্নত ট্র্যাকিং যন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছিল। উড়ানের সময় সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তির সাফল্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রোপালশন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে এই পরীক্ষায়। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি (DRDL), হাই এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (HEMRL), রিসার্চ সেন্টার ইমারাত (RCI) এবং ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-সহ ডিআরডিও-র একাধিক ল্যাবের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা সরাসরি এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করেন।

    কেন ভারতের জন্য এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। র‌্যামজেট-চালিত আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উচ্চ শক্তি বজায় রাখে। এর ফলে যুদ্ধবিমানগুলি বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ (BVR) যুদ্ধে আরও বেশি সুবিধা পাবে। যুদ্ধবিমানের পাইলটরা বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ যুদ্ধে শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে আরও আগে এবং আরও নিরাপদ দূরত্ব থেকে আক্রমণ চালাতে পারবেন।

    কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ জয়

    বিশ্বজুড়ে খুব কম দেশই এই জটিল প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে, কারণ অধিক উচ্চগতিতে ক্ষেপণাস্ত্রে স্থিতিশীল দহন বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। ভারতের এই সাফল্য বিদেশি প্রযুক্তির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাবে এবং স্বদেশি প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে। ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের একাধিক ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে, যা ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে এবং উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

  • Mamata on CEC Impeachment: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব স্রেফ একটা রাজনৈতিক কৌশল মরিয়া মমতার?

    Mamata on CEC Impeachment: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব স্রেফ একটা রাজনৈতিক কৌশল মরিয়া মমতার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র করল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টিএমসি ইঙ্গিত দিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে তারা অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। বাংলায় এসআইআর শুরুর পর থেকেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নানা ইস্যুতে নিশানা করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata on CEC Impeachment)। মঙ্গলবার বঙ্গ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকের সময় তিনি বললেন, তাঁরা চান জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট হোক। তবে, এর জন্য যা প্রয়োজন, তা করার ক্ষমতা মমতার নেই, বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এর কোনও রাজনৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যাও নেই। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচনের আগে রাজ্যে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের মুখে দেশের সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য তৃণমূল পরিকল্পনা করে এই মিথ্যা কৌশল দেখাচ্ছে।

    তৃণমূলের অবস্থান

    দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, “যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। এতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের এমপিচমেন্টের বিষয়টি বিবেচনা করছি।” এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্বাচিতভাবে তৃণমূল বিধায়কদের কেন্দ্রগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রগুলিতে যেখানে মাত্র ৩,০০০–৪,০০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সেখানে তৃণমূল বিধায়কদের আসনে ৪০,০০০ থেকে শুরু করে এক লক্ষ পর্যন্ত নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নিজের ভবানীপুর কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খসড়া ভোটার তালিকা থেকেই প্রায় ৪০,০০০ নাম বাদ পড়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় তা এক লক্ষে পৌঁছতে পারে। তাঁর আরও দাবি, গোটা রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কোনও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

    অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সব অভিযোগ স্পষ্টভাবে খারিজ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর একটি সংবিধানস্বীকৃত ও নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য হল নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা। কমিশন দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়া সব কেন্দ্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। সোমবারের বৈঠক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সূত্র জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেও কমিশনের শীর্ষ কর্তারা সংযত থেকে আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা দেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বাধা, অফিস ভাঙচুর বা আধিকারিকদের কাজে হস্তক্ষেপ হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

    রাহুলের পাশে মমতা!

    কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বারবার বলছেন, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে রেট্রোস্পেকটিভ আইন আনা হবে। সেকথা জানিয়ে সাংবাদিকরা মমতার কাছে জানতে চান, আপনি কি তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন? বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কি ভবিষ্যতে কোনও আইন আনা হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোনও কিছু যদি জেনুইন হয়, প্র্যাকটিক্যাল হয় এবং জনতার ভালোর জন্য হয়। আমরাও চাইব তাঁর ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের নম্বর নেই। কিন্তু, ইমপিচমেন্ট তো হতে পারে। ধারা তো রয়েছে। রেকর্ড তো হয়ে যাবে। উনি যদি এমন করেন, তবে আমরা আমাদের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থে এককাট্টা হয়ে কাজ করি। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”

    রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা তৃণমূলের

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। ফলত, সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তবে, মৌসম নুরের ইস্তফার পর তৃণমূলের সাংসদ সদস্য সংখ্যা ৪১। সেই জায়গা থেকে যদি তৃণমূল এই লক্ষ্যে এগোয়, তাহললে সম্ভবত ইন্ডি ব্লকের অনেক দলকেই কাছে চাইবে তৃণমূল। এক্ষেত্রে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টিকে ঘাসফুল শিবির পাশে পাবে বলে মনে করছে তৃণমূল। এই জায়গা থেকে রাজনৈতিক ঘূর্ণিতে দুটি দিক উঠে আসছে। সূত্রের খবর, এই ইম্পিচমেন্টের জন্য তৃণমূলের উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারটি, বিজেপি বিরোধী শিবির ইন্ডি ব্লকে তৃণমূলকে উজ্জ্বল জায়গায় রাখবে।

    বিরোধী ইন্ডি জোটের অন্দরেও বিতর্ক

    এই ইমপিচমেন্ট-সংক্রান্ত আলোচনা নতুন করে বিরোধী ইন্ডি জোটের অন্দরেও বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতেই কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী শরিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। তবে সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন প্রক্রিয়া।

    মমতার নাটক, অভিমত শুভেন্দুর

    এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর ও ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গকে “নাটক” বলে কটাক্ষ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘ইমপিচমেন্টের মানে জানেন উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)? কত সংখ্যা লাগে জানেন? ইমপিচমেন্ট কীভাবে পাশ করাতে হয় জানেন? কত সাংসদের ভোট লাগে জানেন? দুভার্গ্য, ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রী, সাতবারের সাংসদ ইমপিচমেন্টের পদ্ধতিই জানেন না। সকাল থেকে উনি শুধু মিথ্যাচারের ন্যারেটিভ তৈরি করছেন।’ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ভোটার তালিকা সংশোধন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে ইমপিচমেন্টের হুমকি ততই রাজ্য রাজনীতির বড় ফ্ল্যাশপয়েন্ট হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    ইমপিচমেন্ট সম্ভব নয়

    আইনজ্ঞরা বলছেন, সিইসি–কে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এটা একটা স্বশাসিত সংস্থা। তাঁর অপসারণের জন‍্য সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ করাতে হবে। এর জন্য সংসদের দুই কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। যদিও এই সংখ্যা বিরোধীদের কাছে নেই। ফলে জ্ঞানেশকে এখনই সরানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না। তবে বাংলা–সহ দেশের পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা ভোটের আগে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আর নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে ভুল বার্তা দিতেই মমতার এই পদক্ষেপ। বিজেপির দাবি, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

  • Bengali Spices: বাঙালি মশলা আর পদেই নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রণা! রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস আক্রান্তদের জন্য উপকারি কোন খাবার?

    Bengali Spices: বাঙালি মশলা আর পদেই নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রণা! রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস আক্রান্তদের জন্য উপকারি কোন খাবার?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাতের কব্জি, পায়ের পাতা কিংবা হাঁটু হঠাৎ করেই ফুলতে শুরু করে।‌ যন্ত্রণার তীব্রতার জেরে সামান্য কয়েক লাইন লেখা কিংবা ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন হয়ে যায়‌। বয়স এই রোগের সীমারেখা মানে না। পরিস্থিতি অনেক সময়েই এমন হয়ে যায় যে স্বাভাবিক জীবন‌যাপন বেশ কঠিন হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সাধারণ হাড়ের সমস্যা নয়। এই রোগের নাম রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনও বয়সেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। জীবন যাপনের সামান্য কিছু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবশ্য যন্ত্রণাকে কাবু করে স্বাভাবিক জীবন যাপনে সাহায্য করতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হল একধরনের অটোইমিউন রোগ। অর্থাৎ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি নিজের শরীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ শক্তি শরীরের বিভিন্ন সংযোগস্থলের আস্তরণের উপরে হানা দেয়। সেই আস্তরণে ক্ষয় তৈরি করে। এর ফলে হাত, পা, কনুই, হাঁটু, কোমর দুর্বল হয়ে যায়। যন্ত্রণা হয়। হাত-পা অসাড় হয়ে যায়। স্বাভাবিক কাজ করতেও কষ্ট হয়।

    কেন হয় রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও একটি কারণ নেই। তবে মূলত জিনঘটিত কারণে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখা যায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে বংশানুক্রমিক ভাবে এই রোগ পরবর্তী প্রজন্মের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। জিন ঘটিত কারণের পাশপাশি ধূমপানের অভ্যাস এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ধূমপানের অভ্যাস শরীরে একাধিক পরিবর্তন ঘটায়। হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তনের পাশপাশি রক্ত ও স্নায়ুর উপরেও এই অভ্যাস গভীর প্রভাব ফেলে। এর জেরেও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই‌ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। হরমোন ঘটিত কারণেই মহিলাদের এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে তাঁরা জানাচ্ছেন।‌

    কেন এই রোগ বাড়তি উদ্বেগজনক?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ সেরে ওঠা সম্ভব নয়। এই রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। এই রোগে আক্রান্ত হলে স্বাভাবিক জীবন যাপন অনেক সময়েই ব্যহত হতে পারে। দীর্ঘ সময় তীব্র যন্ত্রণায় ভোগার জেরে মানসিক স্বাস্থ্য ও ভেঙে পড়ে। অনেক সময়েই অবসাদ গ্রাস করে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকী, বন্ধ্যত্বের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

    কোন বাঙালি মশলা আর পদ কাবু করতে পারে যন্ত্রণা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বেশ‌ কিছু ঘরোয়া মশলা আর খাবার। আর সেই তালিকায় প্রথমেই থাকছে হলুদ এবং আদার মতো মশলা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হলুদ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলে। তাই রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে রান্নায় নিয়মিত হলুদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। আদা ব্যথা কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আদা প্রদাহ কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই তীব্র যন্ত্রণা হলে রান্নায় আদা বাটা মেশানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত আদা খেলে যেকোনও ধরনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

    নিয়মিত বাদাম খান…

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অটো ইমিউন ডিজিজ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি যাতে শরীরের শত্রু না হয়ে ওঠে সেটা নিয়ন্ত্রণ করাই এই রোগের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর সেই কাজে সাহায্য করে কাঠবাদাম, আখরোটের মতো বাদাম জাতীয় খাবার। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া সিডের মতো খাবার খেলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার সংযোগস্থলের আস্তরণের ক্ষয় কমবে।

    পালং শাক

    বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত পদ হল পালং শাকের তরকারি। আর এই খাবার শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। একাধিক ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে ভরপুর থাকার জেরেই এই উপকার হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, পালং শাক রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ সাহায্য করে।

    পাতিলেবু

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কাবু রাখতে যে কোনও ধরনের লেবু নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, খাবার পাতে পাতিলেবু রাখা বাঙালির চিরকালীন অভ্যাস।‌ গরমে আবার অনেকেই লেবুর সরবত খান। এই ধরনের অভ্যাস রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে বাড়তি উপকার দেবে। পাতিলেবুর পাশপাশি কমলালেবু খেলেও সমান উপকার পাওয়া যাবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share