Tag: Make in India

Make in India

  • Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    সুশান্ত দাস

    ভারতের বিরল মাটি খনিজ (Rare Earth Elements) শিল্পে বড়সড় অগ্রগতির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হতে চলেছে। জাপানের শীর্ষস্থানীয় উন্নত উপকরণ প্রস্তুতকারী সংস্থা প্রোটেরিয়াল (Proterial) অন্ধ্রপ্রদেশে ২ হাজার ২৫০ কোটি বিনিয়োগ করে একটি স্থায়ী চুম্বক (Permanent Magnet) উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে বিরল মাটি-ভিত্তিক চুম্বকের (Rare Earth Magnets) উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং চিনের ওপর আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশের অনাকাপল্লি জেলার আচ্যুতাপুরম (Achutapuram) এলাকায় এই উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাজ্যের স্টেট ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন মিলেছে। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বছরে ১২০০ টন বিরল মাটি চুম্বক উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত কারখানায় ‘সিন্টার্ড’ (গুঁড়ো ধাতুকে উচ্চ তাপ ও উচ্চ চাপের মধ্য দিয়ে কঠিন পদার্থে পরিণত করা) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিওডিমিয়াম-আয়রন-বোরন (NdFeB) স্থায়ী চুম্বক উৎপাদন করা হবে। কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১.২ কিলোটন বা ১,২০০ টন। বিশ্বজুড়ে নিওডিমিয়াম চুম্বককে (Rare Earth Magnets) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উন্নত বিরল খনিজ চুম্বকগুলির অন্যতম বলে মনে করা হয়। বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থায়ী চুম্বক। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই চুম্বকের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানে পরিণত হয়েছে।

    বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই অপরিহার্য

    নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বহু শিল্পে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এর ব্যবহার দেখা যায়—

    • ● বৈদ্যুতিক যানবাহন(EV)
    • ● বায়ুশক্তি বা উইন্ড টারবাইন
    • ● শিল্প কারখানার মোটর
    • ● দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ও গ্যাজেট
    • ● মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি
    • ● প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম

    এই চুম্বকের শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষমতা উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতিকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করে তোলে। বিশ্বজুড়ে যখন শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুতায়ন এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনের প্রবণতা বাড়ছে, তখন নিওডিমিয়াম চুম্বকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

    বিরল মাটি চুম্বক আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    বর্তমানে বিরল মাটি চুম্বকের (Rare Earth Magnets) ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ চিন। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয় বিরল মাটি শিল্পের উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। খনিজ আহরণ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ এবং চুম্বক উৎপাদন— পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে দেশীয়ভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও কৌশলগত নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করবে।

    কেন্দ্রের নতুন প্রণোদনা প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয়ভাবে সিন্টার্ড বিরল মাটি স্থায়ী চুম্বক (Rare Earth Magnets) উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক পরিবহণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ দেশে উৎপাদন করা। প্রোটেরিয়ালের বিনিয়োগ সেই নীতিগত উদ্যোগের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কে এই প্রোটেরিয়াল?

    প্রোটেরিয়াল বিশ্বব্যাপী উন্নত চৌম্বকীয় উপকরণ এবং বিশেষায়িত ধাতব প্রযুক্তির অন্যতম শীর্ষ সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব নাম ছিল ‘হিটাচি মেটালস’ (Hitachi Metals)। নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক প্রযুক্তির পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এটি অন্যতম হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন দক্ষতার মাধ্যমে সংস্থাটি বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, চিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। গত অর্থবছরে সংস্থার একত্রিত আয় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি ছিল বলে জানা গেছে।

    কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশে এই বৃহৎ বিনিয়োগের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশীয় সরবরাহকারী, প্রযুক্তি সংস্থা এবং সহায়ক শিল্পগুলিও উপকৃত হবে। ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে বিরল মাটি চুম্বকের চাহিদা আগামী বছরগুলিতে আরও বাড়বে। সেই চাহিদা পূরণে এই কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    বিশ্বব্যাপী বিরল মাটি সরবরাহ: ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হবে

    বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির প্রসারের ফলে বিরল মাটি চুম্বক (Rare Earth Magnets) এখন কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রোটেরিয়ালের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার ভারতমুখী বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্বও বাড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু আমদানি কমাতেই সক্ষম হবে না, ভবিষ্যতে বিরল মাটি-ভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য পৌঁছেছে রেকর্ড ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়, যা ২০২০-২১ অর্থবর্ষের ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১১০ শতাংশ বেশি। সহজ ভাষায়, ৫ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির অন্যতম দ্রুততম সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সাফল্যকে।

    বৃদ্ধির নেপথ্যে ৫ কারণ

    তবে শুধু সংখ্যার বিচারে এই অগ্রগতি বিচার করলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে কীভাবে ভারত প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এত বড় লাফ দিতে সক্ষম হল? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ— সরকারি নীতিগত সংস্কার, বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার, দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন সুযোগের সৃষ্টি।

    আমদানি-নির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরতার পথে

    দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ ছিল ভারত। যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, আর্টিলারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীলতা ছিল অত্যন্ত বেশি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নির্ভরতা একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে গত এক দশকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নকশা, গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে যেখানে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্থল, জল ও আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ভারত উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই উৎপাদন-সাফল্যকে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা-শিল্পভিত্তির প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা, বেসরকারি শিল্প এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারের সম্মিলিত অবদান।

    নীতিগত সংস্কারেই তৈরি হয়েছে ভিত

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এই লাফের অন্যতম প্রধান কারণ হল ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার। কেন্দ্রীয় সরকার ‘পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট’ চালু করে, যার ফলে শতাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেগুলির ক্রয় দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। এর পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যাতে দেশীয় সংস্থাগুলি দ্রুত চুক্তি পেতে পারে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)-এর সীমাও শিথিল করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হয়েছে ‘ইনোভেশনস্ ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স’ (iDEX) প্রকল্প। ফলে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা এবং স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    বৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি বেসরকারি শিল্প

    ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম হল বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। যদিও এখনও মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ আসে ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (DPSU) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে, তবু বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশীদারিত্ব দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেসরকারি শিল্পের অবদান রেকর্ড ৪২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট উৎপাদনের ২৪ শতাংশ। এক বছর আগে এই অংশীদারিত্ব ছিল ২২ শতাংশ। বড় শিল্পগোষ্ঠী, বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্ট-আপ মিলিয়ে এখন একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা উৎপাদন পরিবেশ গড়ে উঠছে। শিল্পমহলের মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয়করণের মতো উদ্যোগগুলিই এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের বাড়তি অংশগ্রহণ ভারতের কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    দেশীয় যুদ্ধাস্ত্র প্রকল্পের পরিপক্বতা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হল বহু বছর ধরে চলা দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের পালে হাওয়া লাগা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর তৈরি তেজস হালকা যুদ্ধবিমান প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার পর বর্তমানে তেজস এমকে-১এ উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি আরও উন্নত এমকে-২ সংস্করণের কাজও এগোচ্ছে। একইভাবে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের আকাশ-এনজি (Akash-NG) প্রকল্প এর পাল্লা, গতিশীলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ, সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ, রেডার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মতো একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানিতেও নজির গড়েছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা রফতানি পৌঁছেছে রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়। এর ফলে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য শুধু ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নয়, আন্তর্জাতিক বাজারও উন্মুক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে কোনও পণ্যের গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়। বিদেশি ক্রেতারা ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে এখন ক্রমশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার করছে। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ছে, উৎপাদন খরচ কমছে এবং গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ

    ভারতের এই অগ্রগতি এমন সময়ে এসেছে, যখন গোটা বিশ্বে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৮৮৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি টানা একাদশ বছরের বৃদ্ধির রেকর্ড। ভারতও বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ সামরিক ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে। চিন ও পাকিস্তান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৮.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে সামরিক আধুনিকীকরণের প্রবণতা ভারতের মতো উদীয়মান প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রগুলির জন্য নতুন বাজার ও সুযোগ তৈরি করছে।

    সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

    যদিও বর্তমান সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে ভারতের সামনে এখনও বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উন্নত এরো ইঞ্জিন, বিশেষ ধরনের প্রোপালশন প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর, পরবর্তী প্রজন্মের সেন্সর, মাইক্রো-ইলেকট্রনিক্স এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত এখনও বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীল। পরবর্তী ধাপে আরও বড় সাফল্য অর্জনের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো, দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং উচ্চমূল্যের উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা অপরিহার্য।

    আত্মনির্ভরতা থেকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শক্তির পথে

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এই রেকর্ড উৎপাদন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। যে যাত্রা শুরু হয়েছিল আমদানি-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে, তা এখন ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর শিল্পনীতিতে রূপ নিচ্ছে—যার লক্ষ্য ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করা। বিশ্ব যখন ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামরিক আধুনিকীকরণের পথে এগোচ্ছে, তখন ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের এই উত্থান আগামী দশকে দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

  • Modi Govt: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহরুকে ছাপিয়ে গেলেন মোদি, জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন নেওয়ার পথে ভারত

    Modi Govt: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহরুকে ছাপিয়ে গেলেন মোদি, জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন নেওয়ার পথে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা এক যুগ ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi Govt)। এই মাইলফলক শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ নয়, বরং গত ১২ বছরে ভারতের (India) অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের মূল্যায়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।

    আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব (Modi Govt)

    গত এক দশকে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার প্রায় ৬৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত পরিবর্তন শুধু অর্থনীতির আকারে নয়, বরং দেশের প্রশাসনিক কাঠামো এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনে।

    মোদি সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য

    মোদি সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য হল ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলা। আধার, জনধন অ্যাকাউন্ট, ইউপিআই, জিএসটি এবং ডিবিটি (সরাসরি ভর্তুকি স্থানান্তর)-কে একত্রিত করে বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে জনধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৫৮ কোটিরও বেশি, আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য কার্ড ইস্যু হয়েছে প্রায় ৪৪ কোটি। ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি পৌঁছে যাওয়ায় সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও অপচয় অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে ইউপিআই (UPI) ভারতের অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন এনেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২৩.২ বিলিয়ন লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা। ছোট দোকান থেকে বড় ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল পেমেন্ট এখন দৈনন্দিন বাস্তবতা (India)। বিশ্বের একাধিক দেশও এখন ভারতের এই ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো গ্রহণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি (Modi Govt)।

    পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক সরকারি বিনিয়োগ

    মোদি সরকারের আর একটি বড় নীতি হল পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক সরকারি বিনিয়োগ। ২০১৫ সালে যেখানে মূলধনী ব্যয় ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তা বেড়ে পৌঁছেছে ১২.২ লাখ কোটি টাকায়। জাতীয় সড়ক, রেলপথ, বন্দর, বিমানবন্দর এবং মালবাহী করিডর নির্মাণে গত এক দশকে নজিরবিহীন বিনিয়োগ হয়েছে। বর্তমানে ব্রডগেজ রেলপথের ৯৯ শতাংশেরও বেশি অংশে বিদ্যুতায়িত হয়েছে। দেশে চালু রয়েছে ১৬৪টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পরিষেবা। সরকারের আশা, এই পরিকাঠামো উন্নয়ন ভবিষ্যতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে। তবে উৎপাদন খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এখনও অধরা। ২০১৪ সালে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল উৎপাদন শিল্পের অংশীদারিত্ব জিডিপির ২৫ শতাংশে উন্নীত করা। কিন্তু ১২ বছর পরেও তা ১৩ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে (Modi Govt)।

    ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য

    চিন, ভিয়েতনাম কিংবা মালয়েশিয়ার তুলনায় ভারতের উৎপাদন খাত এখনও অনেক পিছিয়ে। যদিও প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) প্রকল্পের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে, তবুও সামগ্রিক শিল্পায়নের গতি প্রত্যাশিত নয় (India)। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উৎপাদন মিশনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ বেকারত্বের হার ৩.১ শতাংশ হলেও, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিক বেকারত্বের হার প্রায় ১৪.৩ শতাংশ।

    উৎপাদন শিল্পে কর্মসংস্থান

    প্রতি বছর শ্রমবাজারে নতুন কয়েক মিলিয়ন মানুষ যুক্ত হলেও, সেই তুলনায় পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন এবং স্থায়ী চাকরি তৈরি হয়নি। উৎপাদন শিল্পে কর্মসংস্থানের ঘাটতি অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Modi Govt)।অর্থনীতিবিদদের মতে, গত ১২ বছরে ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ব্যাঙ্কিং সংস্কার এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পরিবর্তন এসেছে। অবশ্য মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখনও দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অসম্পূর্ণ লক্ষ্য (India)। আগামী দশকে যদি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হয়, তাহলে মোদি যুগকে ভারতের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার ভিত্তি হিসেবেই দেখা হবে। অন্যথায় সম্ভাবনা ও বাস্তবতার ব্যবধানই ভারতের অর্থনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে (Modi Govt)।

     

  • Indian Navy Modernisation: প্রতি ৪০ দিনে নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশন বাহিনীতে! নজিরবিহীন গতিতে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    Indian Navy Modernisation: প্রতি ৪০ দিনে নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশন বাহিনীতে! নজিরবিহীন গতিতে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ কর্মসূচির ঘোষণা করলেন ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎস্যায়ন (Sanjay Vatsayan)। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ৪৫টি নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। পাশাপাশি আগামীদিনে আরও ১৯৫টি অতিরিক্ত জাহাজ নির্মাণ ও অধিগ্রহণের অনুমোদনও মিলেছে। এর মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ১৭৫ থেকে ২০০-তে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি, কলকাতায় গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (Garden Reach Shipbuilders & Engineers)-এর কারখানায় ভারতের প্রথম নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল (NGOPV) ‘সঙ্ঘমিত্রা’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চিফ অফ নেভাল স্টাফ বা নৌসেনা উপপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় ভাটসায়ন। সেখানেই তিনি নৌবাহিনীর এই বৃহৎ আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন।

    চলতি বছর ১৯টি নতুন জাহাজ কমিশন

    বর্তমানে দেশের ছয়টি জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য মোট ৫৪টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে। শুধু চলতি বছরেই ১৯টি নতুন জাহাজ কমিশন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে এক বছরে সর্বাধিক সংযোজন। ২০২৭ সালেও আরও ১৩টি জাহাজ সরবরাহ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল ইতিমধ্যেই প্রায় ২.৩৫ লক্ষ কোটি টাকার ৭৪টি অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৫টি সারফেস শিপ এবং ৯টি সাবমেরিন। ভারতের এই সমগ্র নৌ-আধুনিকীকরণ কর্মসূচি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৯৯,৫০০ কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ভবিষ্যতের সমস্ত যুদ্ধজাহাজ দেশেই তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে। রাশিয়া থেকে নির্মিত শেষ বিদেশি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস তমাল (INS Tamal) ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কমিশন হওয়ার পর বিদেশ নির্ভরতা পুরোপুরি বন্ধ হবে।

    প্রতি ৪০ দিনে একটি নতুন জাহাজ কমিশন

    নতুন প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে নীলগিরি শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট, ১১ হাজার টন ওজনের নেক্সট জেনারেশন ডেস্ট্রয়ার, অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ভেসেল এবং আধুনিক প্যাট্রোল জাহাজ। বর্তমানে গড়ে প্রতি ৪০ দিনে একটি করে নতুন জাহাজ কমিশন করছে ভারতীয় নৌবাহিনী, যা দেশের সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎস্যায়ন বলেন, ভারতীয় নৌবাহিনী এখন শুধু যুদ্ধ প্রস্তুত বাহিনী নয়, বরং সমুদ্র নিরাপত্তা, কৌশলগত উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর কথায়, “এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল প্রকল্প অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”

    কোথায় উপযোগী এনজিওপিভি?

    জিআরএসই-র উদ্বোধন করা ‘সঙ্ঘমিত্রা’ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নির্মীয়মাণ চারটি এনজিওপিভি-র মধ্যে প্রথম জাহাজ। নৌবাহিনীর দাবি, এই এনজিওপিভিগুলি প্রচলিত অফশোর প্যাট্রোল ভেসেলের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক। প্রায় ১১৩ মিটার দীর্ঘ এবং ১৪.৬ মিটার প্রশস্ত এই জাহাজের ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ৩,০০০ টন। ১৪ নট গতিতে চললে এর অপারেশনাল রেঞ্জ ৮,৫০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩ নট। মাত্র চার মিটার ড্রাফটের (জলের নিচে থাকা অংশ) কারণে উপকূলীয় অগভীর জলেও এই জাহাজ সহজে মোতায়েন করা যাবে।

    কেন কার্যকরী হবে এনজিওপিভি?

    অফশোর সম্পদের সুরক্ষা, সামুদ্রিক নজরদারি, মাইন ওয়ারফেয়ার, ভিজিট-বোর্ড-সার্চ-সিজার (VBSS) অপারেশন এবং বিশেষ সামরিক অভিযানে এই জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে ভাইস চিফ গার্ডেনরিচের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, গত আর্থিক বছরে সংস্থাটি ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে মোট আটটি জাহাজ তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শক্তিকে মোকাবিলা করতেই ভারত এই বৃহৎ নৌ সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ৪৩৫-এ পৌঁছে যাবে।

  • Union Cabinet: ‘সারফেস কয়লা/লিগনাইট গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প প্রসার স্কিমে’ বরাদ্দ ৩৭,৫০০ কোটি টাকা

    Union Cabinet: ‘সারফেস কয়লা/লিগনাইট গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প প্রসার স্কিমে’ বরাদ্দ ৩৭,৫০০ কোটি টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালী অবরোধের জেরে বিশ্বজুড়ে ব্যাহত হয়েছে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা। এমতাবস্থায় ভারতের জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা (Union Cabinet) বুধবার অনুমোদন করল ৩৭,৫০০ কোটি টাকার “সারফেস কয়লা/লিগনাইট গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প প্রসার স্কিম”। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ভারতের বিপুল পরিমাণ (Coal Lignite Gasification Scheme) কয়লা ও লিগনাইট ভান্ডার কাজে লাগিয়ে দেশীয়ভাবে সিনগ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন টন কয়লার গ্যাসিফিকেশন করা এবং আমদানি করা এলএনজি, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ও মিথানলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো।

    এই স্কিমের সুবিধা (Union Cabinet)

    এই স্কিমের আওতায় নয়া সারফেস কয়লা ও লিগনাইট গ্যাসিফিকেশন প্রকল্পগুলিকে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়া হবে। প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির খরচের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য করা হবে। প্রকল্পের অগ্রগতির বিভিন্ন ধাপের সঙ্গে যুক্ত চারটি সমান কিস্তিতে এই সাহায্য দেওয়া হবে। অংশগ্রহণে ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ৫,০০০ কোটি টাকা, একটি পণ্যের জন্য (সিন্থেটিক ন্যাচারাল গ্যাস ও ইউরিয়া বাদে) ৯,০০০ কোটি টাকা এবং একটি কর্পোরেট গোষ্ঠীর জন্য ১২,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সাহায্য দেওয়া যাবে। সরকার “প্রোডাকশন অব সিনগ্যাস লিডিং টু কোল গ্যাসিফিকেশন” উপ-ক্ষেত্রের অধীনে নন-রেগুলেটেড সেক্টর লিংকেজ অকশন কাঠামোয় কয়লা সংযোগের মেয়াদ ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা দেবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ এবং দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    “আত্মনির্ভর ভারত”

    সরকার এই সিদ্ধান্তকে জ্বালানি ক্ষেত্রে “আত্মনির্ভর ভারতে”র দিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে। ভারতের কাছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কয়লা ভান্ডার থাকলেও, বর্তমানে দেশটি তার এলএনজির ৫০ শতাংশের বেশি, প্রায় সমস্ত অ্যামোনিয়া এবং ৮০-৯০ শতাংশ মিথানল আমদানি করে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই বিকল্পযোগ্য পণ্যগুলির মোট আমদানি ব্যয় প্রায় ২.৭৭ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন-ইরান সংঘাতের ফলে এ বছরের শুরুতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া, ভারতের এই দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে। এই অবরোধের জেরে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশকে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। ফলে ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে বিকল্প সরবরাহের জন্য হিমশিম খেতে হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যয় (Union Cabinet) বেড়েছে এবং সার ও পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষক ও শিল্পক্ষেত্রের ওপর।

    কয়লাকে সিনগ্যাসে রূপান্তর

    দেশীয় কয়লাকে সিনগ্যাসে রূপান্তর করার মাধ্যমে, যা থেকে সিন্থেটিক ন্যাচারাল গ্যাস, ইউরিয়া, মিথানল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উৎপাদন করা যায়, এই প্রকল্প অর্থনীতিকে ভবিষ্যতের এমনতর ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেবে। ভারতের কাছে প্রায় ৪০১ বিলিয়ন টন কয়লা এবং প্রায় ৪৭ বিলিয়ন টন লিগনাইট মজুত রয়েছে। তাই ভারত গ্যাসিফিকেশন আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। সরকারের অনুমান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২.৫-৩ লাখ কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, কয়লাভিত্তিক অঞ্চলে প্রায় ৫০,০০০ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ৭৫ মিলিয়ন টন কয়লার গ্যাসিফিকেশন থেকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার বছরে প্রায় ৬,৩০০ কোটি টাকা আয় করবে। বাড়বে জিএসটি আদায়ের (Coal Lignite Gasification Scheme) পরিমাণও।

    ন্যাশনাল কোল গ্যাসিফিকেশন মিশন

    এই পদক্ষেপটি ২০২১ সালে চালু হওয়া ন্যাশনাল কোল গ্যাসিফিকেশন মিশন এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত ৮,৫০০ কোটি টাকার পূর্ববর্তী স্কিমের ধারাবাহিকতা, যার অধীনে ইতিমধ্যেই আটটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সীমিত থাকায় কমে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি। নয়াদিল্লিকে রাশিয়া ও অন্যান্য দূরবর্তী দেশ থেকে পরিবহণ খরচ বাবদ বেশি টাকা খরচ করে তেল কিনতে হচ্ছে (Union Cabinet)।

    নয়া গ্যাসিফিকেশন কর্মসূচির সুবিধা

    নয়া গ্যাসিফিকেশন কর্মসূচি শুধু দীর্ঘমেয়াদে এই আমদানির বিকল্প তৈরি করবে না, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের দরকষাকষির ক্ষমতাও বাড়াবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি হ্রাস ও “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন (Coal Lignite Gasification Scheme)।

     

  • India New Zealand FTA: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, কী কী সুবিধে মিলবে?

    India New Zealand FTA: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, কী কী সুবিধে মিলবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে (India New Zealand Relation) একটি বিরাট কৌশলগত মাইলফলক। ১৬ মার্চ ২০২৫ সালে শুরু হয়ে রেকর্ড সময়ে সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে সমর্থন (India New Zealand Relation)

    এই অংশীদারিত্বের একটি প্রধান স্তম্ভ হল, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে সাহায্য করবে। ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য পরিকল্পিত এই মূলধন প্রবাহ। চুক্তিতে উৎপাদন, পরিকাঠামো, পরিষেবা এবং উদ্ভাবন খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চুক্তিটি নিউজিল্যান্ডের ১০০ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শুল্ক তুলে দিয়ে ভারতীয় শিল্পকে তাৎক্ষণিক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই শূন্য-শুল্ক সুবিধা সরাসরি শ্রমনির্ভর খাতগুলিকে সাহায্য করবে। এর মধ্যে রয়েছে বস্ত্রশিল্প, পোশাক শিল্প, চামড়া শিল্প, জুতো শিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং অটোমোবাইল শিল্প। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় ভারত গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন উপকরণে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কাঠের লগ, কোকিং কয়লা এবং ধাতব স্ক্র্যাপ।

    ওষুধ শিল্পের জন্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদন

    জানা গিয়েছে, এই চুক্তি ভারতীয় ওষুধ শিল্পের জন্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদন দ্রুত করবে। বিশ্বমানের সমমানের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শন রিপোর্ট গ্রহণ করা হবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভবিষ্যতমুখী কাঠামো গড়ে তুলেছে, যেখানে (FTA) ভারতকে বৈশ্বিক প্রতিভার প্রধান সরবরাহকারী দেশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে (India New Zealand Relation)। এদিকে, একটি নতুন অস্থায়ী কর্মসংস্থান প্রবেশ পথ চালু করা হয়েছে, যেখানে যে কোনও সময় ৫,০০০ ভারতীয় পেশাজীবীর জন্য নির্দিষ্ট কোটা থাকবে। এর অধীনে রয়েছে, আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, আয়ূষ চিকিৎসক, যোগ প্রশিক্ষক এবং ভারতীয় শেফ। এই চুক্তির ফলে সংখ্যাগত সীমা ছাড়াই ভারতীয় শিক্ষার্থীরা উন্নত পোস্ট-স্টাডির অধিকার পাবে। এসটিইএম ব্যাচেলর ও মাস্টার্স স্নাতকরা সর্বোচ্চ ৩ বছর কাজ করতে পারবেন, ডক্টরাল গবেষকরা সর্বোচ্চ ৪ বছর কাজ করতে পারবেন।

    ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে ভিসা

    দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে ১,০০০ ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে ভিসাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষার জন্য এই এফটিএতে কঠোর ব্যতিক্রম ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে (FTA)। সংবেদনশীল বিভিন্ন খাতকে বাজার প্রবেশাধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুধ, ক্রিম, চিজ, দই, চিনি, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ এবং মসলা (India New Zealand Relation)। কেবল বাণিজ্য নয়, এই চুক্তি উৎপাদনশীলতা অংশীদারিত্বে জোর দিয়েছে। আপেল, কিউই ফল এবং মধুর জন্য উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রযুক্তি হস্তান্তর ও গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতীয় কৃষকদের আয় বাড়ানোই এর লক্ষ্য।

    কী বললেন পীযূষ গোয়েল?

    এই সহযোগিতার সঙ্গে কোটা এবং ন্যূনতম আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে নিউজিল্যান্ডের পণ্যের সীমিত বাজার প্রবেশাধিকারও যুক্ত থাকবে (FTA)। ভারত ১১৮টি খাতজুড়ে পরিষেবা সুবিধা অর্জন করেছে এবং ১৩৯টি উপ-খাতে মোস্ট ফেভারর্ড নেশন (MFN) প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। প্রধান ক্ষেত্রগুলি হল, আইটি-সক্ষম পরিষেবা, পেশাগত পরিষেবা, নির্মাণ এবং পর্যটন। এর ফলে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ সৃষ্টি হবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য গড়ে তোলা।” তিনি এও বলেন, “এই চুক্তি ভারতের যুবসমাজ, উদ্যোক্তা এবং কৃষকদের জন্য বৈশ্বিক সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে (India New Zealand Relation)।”

  • Vande Bharat Railway: বন্দে ভারতের পর এবার লক্ষ্য ২২০ কিমি গতিবেগ, আরও দ্রুতগামী দুটি নতুন ট্রেন তৈরির পথে ভারতীয় রেল

    Vande Bharat Railway: বন্দে ভারতের পর এবার লক্ষ্য ২২০ কিমি গতিবেগ, আরও দ্রুতগামী দুটি নতুন ট্রেন তৈরির পথে ভারতীয় রেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের (Vande Bharat Railway) সাফল্যের পর এবার দ্রুতগতির ট্রেনের দুনিয়ায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে ভারতীয় রেল। রেল সূত্রে খবর, এবার এমন দুটি অত্যাধুনিক ট্রেন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেগুলির নকশা বা ডিজাইন স্পিড হবে ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার। মূলত দ্রুতগতির করিডোরগুলোতে ট্রেনের গতি বাড়াতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে (Make in India) তৈরি হবে এই ট্রেন।

    বিস্ময়কর গতি (Vande Bharat Railway)

    বর্তমানে ভারতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Vande Bharat Railway) সর্বোচ্চ ১৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে চলার ক্ষমতা রাখলেও, এই নতুন ট্রেন দুটি ২২০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে দৌড়ানোর ক্ষমতা রাখবে। যদিও রেললাইনের পরিকাঠামো অনুযায়ী বাণিজ্যিক চলাচলের সময় গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

    মেক ইন ইন্ডিয়া (Make in India)

    চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF) এই ট্রেন দুটির বডি তৈরি করা হবে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই উচ্চগতির ট্রেন তৈরি রেলের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। ট্রেনের (Make in India) ওজন কমাতে এবং গতি বাড়াতে স্টিলের বদলে বিশেষ ধরনের অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় ব্যবহার করা হতে পারে। এতে ট্রেনটি হালকা হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ীও হবে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    এই ট্রেনগুলি (Make in India) মূলত স্টপ-টু-স্টপ যাত্রার সময় কমিয়ে আনবে। দিল্লি-বারাণসী বা মুম্বই-আহমেদাবাদের মতো রুটে ভবিষ্যতে এই ধরণের ট্রেন চলাচলের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। রেল মন্ত্রকের আধিকারিকদের মতে, কেবল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও গতি নিশ্চিত করাই এখন লক্ষ্য। বন্দে ভারত যেখানে ভারতের রেলযাত্রার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে, সেখানে ২২০ কিমি গতির এই ট্রেন (Make in India) ভারতকে গ্লোবাল রেল স্ট্যান্ডার্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

    আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই ট্রেন দুটির নির্মাণ কাজ শেষ করে পরীক্ষামূলক ট্রায়াল শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে রেল বোর্ড। এর ফলে দূরপাল্লার যাতায়াত আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • PM Modi: “ভারতে ১০টি নয়া সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প উৎপাদনে এসেছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “ভারতে ১০টি নয়া সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প উৎপাদনে এসেছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতে ১০টি নতুন সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প উৎপাদনে আসার ফলে এর বহুগুণ প্রভাব ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, স্টার্টআপ এবং ইলেকট্রনিক শিল্পের পুরো ভ্যালু চেইনে পৌঁছে যাবে (Micron Plant Inauguration)।” মাইক্রনের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশ্বের কাছে বার্তা পৌঁছে গিয়েছে—ভারত সক্ষম, প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী ও ভারতের অংশীদারদের আশ্বস্ত করছি যে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার—উভয়ই আপনাদের পাশে রয়েছে।”

    দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব (PM Modi)

    বর্তমান প্রযুক্তিগত দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই দশক ভারতের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জন্য এক মোড় পরিবর্তনের সময় হিসেবে প্রমাণিত হবে।” বিশ্ব প্রযুক্তি শক্তির পরিবর্তন প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিপ্লবের শতাব্দী। সেমিকন্ডাক্টর এই বিপ্লবের একটি প্রধান সেতুবন্ধন। গত শতাব্দীতে যেমন তেল ছিল নিয়ন্ত্রক শক্তি, এই শতাব্দীতে মাইক্রোচিপ হবে নিয়ন্ত্রক।” তিনি আরও বলেন, “যখন বিশ্ব কোভিড মহামারির সঙ্গে লড়াই করছিল, তখনই ভারত সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প ঘোষণা করেছিল। মহামারির সময় সবকিছু ভেঙে পড়ছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু আমরা যে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বীজ বপন করেছিলাম, তা এখন অঙ্কুরিত হয়ে ফল দিচ্ছে (PM Modi)।” দেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা ও উৎপাদন বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতের বিশাল জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন (Micron Plant Inauguration) গ্যাজেটের বড় ভোক্তা হয়ে উঠছে এবং দেশে চাহিদা বাড়ছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে। গত ১১ বছরে ইলেকট্রনিক উৎপাদন ও রফতানি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।”

    বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের সেবা

    সানন্দে নির্মিত এই উৎপাদন কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে প্রায় ৫ লাখ বর্গফুট ক্লিনরুম স্পেস থাকবে, যা বিশ্বের বৃহত্তম রেইজড-ফ্লোর ক্লিনরুমগুলোর একটি হবে। এই কেন্দ্রটি বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের সেবা দেবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে মেমোরি ও স্টোরেজ সমাধানের যে বাড়তি বৈশ্বিক চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে সহায়তা করবে (PM Modi)। মোট ২২,৫০০ কোটিরও বেশি রুপি বিনিয়োগে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ অনুমোদনের পরপরই শুরু হয়, যা দেশে কৌশলগত সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই উৎপাদন কেন্দ্রের স্থাপন ও কার্যক্রম শুরু হওয়া প্রমাণ করে যে ভারত এখন সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি (Micron Plant Inauguration) দেশে একটি স্থিতিশীল ও আত্মনির্ভর প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রধানমন্ত্রীর ভিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ (PM Modi)।

     

  • Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ভারত সফরে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্র মিলিয়ে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। তার মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত একাধিক চুক্তি হয়েছে। ভারতে এইচ১২৫ হেলিকপ্টার তৈরির জন্য এয়ারবাস ও টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন কারখানার সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মাক্রঁ। এর পাশাপাশি, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্যেই দুই দেশের সংস্থার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে ভারতেই ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার পথও প্রশস্ত করা হল। চলতি সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে রাজনাথ সিং ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁর উপস্থিতিতে এই মউ স্বাক্ষরিত হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে কথা হচ্ছে। সম্প্রতি, এই মর্মে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফেও। সূত্রের খবর, এর মধ্যে অধিকাংশ যুদ্ধবিমান তৈরি হওয়ার কথা ভারতেই। তার আগে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ, রাফাল যুদ্ধবিমানেই এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ব্যবহৃত হবে। এর আগে, এই যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের জন্য বজড পরিমাণে স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল ও মিটিয়র এয়ার-টু-এয়ার বিভিআর মিসাইল কেনার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এবার, রাফালের জন্য ‘হাতুড়ি’ ক্ষেপণাস্ত্রও ভারতে তৈরি করার চুক্তি হয়ে গেল।

    ৫০-৫০ অংশীদারিত্ব চুক্তি বেল-সাফরাঁর

    জানা গিয়েছে, ভারতে হ্যামার প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) গঠনে সম্মত হয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এবং ফ্রান্সের সাফরাঁ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর নেতৃত্বে হওয়া আলোচনার পর এই অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত হয়। এর লক্ষ্য ভারতের ঘরোয়া প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্র আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দেশের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা। এই যৌথ উদ্যোগে উভয় সংস্থার সমান অংশীদারিত্ব থাকবে। এটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি হস্তান্তর (technology transfer) সহজ করবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যৌথ উদ্যোগটির প্রাথমিক অনুমোদিত শেয়ার মূলধন হবে ১ লক্ষ টাকা, যেখানে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের ১,০০০টি ইকুইটি শেয়ার থাকবে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী এই মূলধন ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। শেয়ারহোল্ডিং সমানভাবে বিভক্ত থাকবে, অর্থাৎ বেল এবং সাফরাঁ— উভয়েরই ৫০ শতাংশ করে অংশীদারিত্ব থাকবে।

    জঙ্গি ঘাটিগুলিতে হাতুড়ির আঘাত

    ‘হ্যামার’ কোনও একক ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং একটি মডুলার কিট, যা সাধারণ আনগাইডেড বোমাকে অত্যাধুনিক প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্রে রূপান্তর করে। এতে থাকে একটি নোজ-মাউন্টেড গাইডেন্স ইউনিট, যা নেভিগেশন ও টার্গেটিংয়ের কাজ করে, এবং একটি টেল-মাউন্টেড রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট, যেখানে সলিড-ফুয়েল রকেট বুস্টার ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উইংলেট সংযুক্ত থাকে। ২০১১ সালে এর নামকরণ করা হয় হ্যমার। শব্দটি একটি অ্যাক্রোনিম, যার পূর্ণ অর্থ— ‘হাইলি এজাইল মডুলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ’। হ্যামার নামটি এসেছে “হাতুড়ির আঘাতে কোনও পৃষ্ঠ চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া”-এই ধারণা থেকে, যা লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার ক্ষমতার প্রতীক। একে মাঝারি-পাল্লার আকাশ-থেকে-ভূমি অস্ত্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। একে প্রায়ই “গ্লাইড বোমা” বলা হয়, কারণ এটি সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ২৫০ কেজি, ৫০০ কেজি ও ১,০০০ কেজি ওজনের স্ট্যান্ডার্ড বোমার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।

    কোন কোন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হবে ভারতে?

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে দুটি আধুনিক ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করা হবে—

    • হ্যামার ২৫০ এক্সএলআর (HAMMER 250 XLR) – ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি স্ট্যান্ড-অফ রেঞ্জ
    • হ্যামার ১০০০ এক্সএলআর (HAMMER 1000 XLR) – প্রায় ১৫০ কিলোমিটার রেঞ্জ

    এগুলি অত্যাধুনিক, সব ধরনের আবহাওয়ায় ব্যবহারের উপযোগী প্রিসিশন মিসাইল, যা যুদ্ধবিমান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিক্ষেপ করা যায়।

    বছরে ১০০০ ইউনিট উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগের (JV) অধীনে প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১০০০ ইউনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ কেবল অ্যাসেম্বলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এতে প্রযুক্তি হস্তান্তর (ToT) এবং দেশীয় দক্ষতা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রাফালের জন্য বড় শক্তি

    এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পার্বত্য অঞ্চলে এবং ভারীভাবে সুরক্ষিত বাঙ্কারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত অস্ত্র। বিশ্ব ইতিমধ্যেই হ্যামার সিস্টেমের কার্যকারিতা দেখেছে। সূত্রের খবর, অপারেশন সিদুঁর-এর সময় ভারতের যুদ্ধবিমানগুলো হ্যামার এবং স্ক্যাল্প মিসাইল ব্যবহার করে শত্রু ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালায়। এই অভিযানে ভারতের বায়ুসেনা নয়টি স্থানে মোট ২১টি সন্ত্রাসী শিবিরে আঘাত হানে। এই অভিযানে ব্যবহৃত নির্ভুল অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল রাফাল যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত হ্যমার সিস্টেম। ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্রটির স্বয়ংক্রিয় গাইডেন্স ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধ ক্ষমতা একে শক্তপোক্ত লক্ষ্যবস্তু—বিশেষ করে পাকিস্তানে অবস্থিত জৈশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী করে তুলেছে। একটি রাফাল একসঙ্গে ৬টি ২৫০ কেজির হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। ফলে, হ্যামার দিয়ে একসঙ্গে ৬টি পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম রাফাল।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    এই মিসাইল উৎপাদনের কৌশলগত গুরুত্ব হল, এটি ভারতের “আত্মনির্ভর ভারত” প্রতিরক্ষা অভিযানে বড় শক্তি জোগাবে। একই সঙ্গে ভারতের মতো বড় প্রতিরক্ষা বাজারে ফ্রান্সের উপস্থিতি আরও মজবুত হবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচিত হবে। ভারতে হ্যামার এক্সএলআর উৎপাদনকে দুই দেশের গভীরতর কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি বড় প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য সরবরাহের গতি বাড়বে, আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।

  • Adani Defence: মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে গতি, ভারতে হেলিকপ্টার উৎপাদন বাড়াতে আদানি ডিফেন্স–লিওনার্দোর সমঝোতা

    Adani Defence: মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে গতি, ভারতে হেলিকপ্টার উৎপাদন বাড়াতে আদানি ডিফেন্স–লিওনার্দোর সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে বড়সড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ও ইতালির প্রতিরক্ষা সংস্থা লিওনার্দো একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঘোষণা করেছে। এই অংশীদারিত্বের আওতায় ভারতে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত হেলিকপ্টার উৎপাদন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দুই সংস্থার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী, ভারতে সামরিক হেলিকপ্টারের উন্নয়ন, উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে ভারতকে ভবিষ্যতে রোটরক্রাফ্ট উৎপাদনের একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান অপারেশনাল চাহিদা পূরণ করবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ ক্ষেত্রে মোদি সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সহযোগিতার মূল লক্ষ্য

    সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হবে লিওনার্দোর উন্নত সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ভারতীয় বাহিনীর চাহিদা পূরণ করা। প্রকল্পটির অধীনে ধাপে ধাপে দেশীয়করণ (indigenisation), ভারতে পূর্ণাঙ্গ মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (MRO) সুবিধা স্থাপন এবং পাইলট প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে এই ইকোসিস্টেমটি অসামরিক হেলিকপ্টার বাজারের চাহিদা পূরণ এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেনের সঙ্গেও যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। লিওনার্দোর হেলিকপ্টার নকশা ও প্রকৌশল দক্ষতার সঙ্গে আদানি ডিফেন্সের উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটি শক্তিশালী, হেলিকপ্টার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মতে, এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৌশল, উৎপাদন, লজিস্টিকস ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবায় হাজার হাজার উচ্চদক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

    মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে গতি

    আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের ডিরেক্টর জিত আদানি বলেন, এই অংশীদারিত্ব একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী হেলিকপ্টার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর মতে, বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং ভারতের শিল্পগত গতি একত্রিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সংযোজন, দক্ষ কর্মসংস্থান ও কৌশলগত আত্মনির্ভরতা নিশ্চিত করবে। আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের সিইও আশিস রাজবংশী জানান, আগামী এক দশকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে ১,০০০টিরও বেশি হেলিকপ্টার। এই অংশীদারিত্ব দেশীয়করণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে, অভ্যন্তরীণ সাপ্লাই চেনকে শক্তিশালী করবে এবং ভারতকে বিশ্বমানের হেলিকপ্টার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। লিওনার্দো হেলিকপ্টার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিয়ান পিয়েরো কুটিল্লো বলেন, ভারতের রোটরক্রাফ্ট শিল্প শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশটির উদ্যোগে সহায়তা করতে পেরে তারা আনন্দিত। তাঁর বক্তব্য, এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই সংস্থার পরিপূরক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারত আধুনিক হেলিকপ্টার প্রযুক্তি ও উন্নত অপারেশনাল সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। এই ঘোষণা ভারতের ক্রমবিকাশমান মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি একদিকে প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা জোরদার করবে, অন্যদিকে ভারতকে বৈশ্বিক স্তরে হেলিকপ্টার উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের একটি বিশ্বাসযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত করার ভিত্তি তৈরি করবে।

LinkedIn
Share