Tag: Mamata Banerjee

Mamata Banerjee

  • C V Ananda Bose: নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন সি ভি আনন্দ বোস

    C V Ananda Bose: নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন সি ভি আনন্দ বোস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন সি ভি আনন্দ বোস। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব। শপথবাক্য পাঠে বাংলার মানুষের ভালো-মন্দের দেখভালের প্রতিশ্রুতি দিলেন নয়া রাজ্যপাল। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ রাজভবনে হয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্য়ায়,পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীও। তবে সংঘাতের আবহে রাজ্যপালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বসার জন্য আসনবিন্যাস নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এদিন সকালে ট্যুইটও করেন তিনি। নয়া রাজ্যপালের সময় অনুযায়ী, তিনি পরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে আসার কথা জানান।

    রসগোল্লা উপহার

    আগের রাজ্যপালের সঙ্গে সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না রাজ্যের।  সিভি আনন্দ বোসের পূর্বসূরি জগদীপ ধনখড় রাজ্যপাল থাকাকালীন নবান্ন ও রাজভবনের সংঘাত প্রায় রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এবারের নয়া রাজ্যপালের সঙ্গে সম্পর্ক সুমধুর করতে বদ্ধ পরিকর রাজ্য। তাই শপথ গ্রহণের দিন সকাল সকাল এক হাড়ি রসগোল্লা পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের নয়া ফার্স্ট সিটিজেনকে বিশেষ উপহার পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। সি ভি আনন্দ বোসের জন্য নীল হাঁড়িতে ১০০টি রসোগোল্লা পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন রাজ্যপালের সঙ্গে প্রথম দিন থেকেই তিক্ততা ভুলে মিষ্টি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে নবান্ন। এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। এ প্রসঙ্গে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘মিষ্টি খাইয়ে লাভ নেই, তাঁর যোগ্যতা-অভিজ্ঞতাকে যেন কাজে লাগায় রাজ্য সরকার’। তিনি আরও বলেন,“আমরা চাইব এরকম একজন বিদ্বান, দূরদর্শী মানুষকে আমরা রাজ্যপাল হিসাবে পেয়েছি, তার যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা, সেটা যেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাজে লাগায় ।” 

    আরও পড়ুন: সাংসদ ও বিধায়কেরা শাসক শিবির ছেড়ে বিজেপিতে আসতে চাইছেন! দাবি মহাগুরু মিঠুনের

    কালীঘাট মন্দির দর্শন

    শপথগ্রহণের আগের দিন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে গিয়ে মায়ের দর্শনও করেন নতুন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ কালীঘাটে আসেন সি ভি আনন্দ বোস। প্রথমে কালীঘাট প্রসাদের দোকানগুলির সামনে দেখা যায় তাঁকে। তারপর মায়ের পুজো দেন। মায়ের পুজো দেওয়া পর গোটা মন্দির চত্বর ঘুরে দেখেন। পুরোহিতদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান,মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে কথা বলেন । বেশ কিছুক্ষণ ছিলেন কালীঘাট মন্দিরে। তবে মায়ের আরতির আগেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান রাজ্যপাল। ৭১ বছর বয়সি মালয়ালি, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার আনন্দ বোসের প্রশাসক হিসেবে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। মেঘালয় সরকারের উপদেষ্টা পদেও তিনি কাজ করেছিলেন। সূত্রের খবর, শীঘ্রই আনন্দ বোস দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ-পর্ব সেরে আসবেন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Suvendu Adhikari: বিধানসভা ভোটের পর ২৬টি মিথ্যা মামলা! নিজের বই ‘১৯৫৬’ প্রকাশ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: বিধানসভা ভোটের পর ২৬টি মিথ্যা মামলা! নিজের বই ‘১৯৫৬’ প্রকাশ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘোষণা ছিল আগেই। সেই মতোই মঙ্গলবার নিজের লেখা বই প্রকাশ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বইয়ের নামও আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি, ‘১৯৫৬’। মঙ্গলবার তিন ভাষায় প্রকাশিত হল সেই বই। শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘‘এই প্রথম একই কেন্দ্র থেকে জয়ী ও পরাজিত প্রার্থী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।

    বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ করা হচ্ছে, সেই অভিযোগ তুলে এ বার পুস্তিকা বার করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়ের ব্যবধান ছিল ১৯৫৬, সেটাই বইয়ের শিরোনাম। মামলার তথ্য দিয়ে এবং নানা জায়গায় বিরোধী দলনেতাকে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের ছবি-সহ ঘটনা উল্লেখ করে তিন ভাষায় লেখা ওই পুস্তিকা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতাকে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।

    বইপ্রকাশের পর বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) বলেন, “রাজ্যের গণতন্ত্র কেমন? আমি ১৯৫৬ নামে তিন ভাষায় একটি বই প্রকাশ করেছি। আমাকে কীভাবে দিনের পর দিন আটকানো হয়েছে তার ছবি দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৫ মে-র পর থেকে ২৬টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।  ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে আগে কোনও মামলা ছিল না। সব হয়েছে ৫ মে’র পরে। যেগুলো হাইকোর্ট গিয়েছে, সেগুলি তুলে ধরেছি।” আগেই বইপ্রকাশের কথা বলে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata) তাঁকে যে উপহারগুলি দিয়েছেন, সেগুলি পুস্তক আকারে তিনি প্রকাশ করবেন। 

    কী বলেছেন শুভেন্দু? 

    শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “৫-৭ বছরের পুরনো মামলাও রয়েছে। এমনকি হেয়ার স্ট্রিট থানাতেও আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ছাড়াও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এবং অন্যান্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে পাঠাব এই বই।” এই বইয়ে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলির কথা তুলে ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু স্মৃতিচারণ করে  বলেন, “প্রায় দশটির বেশি জায়গায় রাস্তায় শয়ে শয়ে পুলিশ দিয়ে আটকানো হয়েছে, সেই ছবিগুলি আমি দিয়েছি। আমি কয়েকটি ছবি দিতে পেরেছি। অত ছাপানোর আর্থিক ক্ষমতা আমার নেই।”

    আরও পড়ুন: ডিএলএডের প্রশ্ন ফাঁস, ‘বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে’ দাবি পর্ষদ সভাপতির

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘ডিসেম্বর সিনড্রোম’! ভয় পেয়েই কি বিরোধী দলনেতাকে নিজের ঘরে ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী?

    Suvendu Adhikari: ‘ডিসেম্বর সিনড্রোম’! ভয় পেয়েই কি বিরোধী দলনেতাকে নিজের ঘরে ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির (BJP) শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) চায়ের নেমতন্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)! তার পরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। বিরোধীদের প্রশ্ন, ‘ডিসেম্বর সিনড্রোমে’র ভয়েই কি বিরোধী দলনেতাকে নিজের ঘরে ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী?

    শুভেন্দুকে চা খেতে ডেকেছিলাম…

    বুধবার শপথ নিয়েছেন নয়া রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট ‘অপমানজনক’ হওয়ায় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে তৃণমূলে যাওয়া দুই দলবদলু বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস এবং কৃষ্ণকল্যাণীর সঙ্গে এক পঙক্তিতে বসতে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এর পর আজ, শুক্রবার বিধানসভায় সাক্ষাৎ হয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেন্দুর। মমতাই চায়ের নেমতন্ন করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। পরে তিনি বলেন, শুভেন্দুকে চা খেতে ডেকেছিলাম। আর শুভেন্দুর দাবি, চা খাওয়া হয়নি। এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের চা খেতে বলেছিলেন। কিন্তু বিধানসভায় অধিবেশন চলায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদেরও ব্যস্ততার কারণে চা খাওয়া হয়নি। প্রসঙ্গত, এদিন শুভেন্দুর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়েছিলেন বিধায়ক বিজেপির অশোক লাহিড়ি, অগ্নিমিত্রা পল ও মনোজ টিগ্গা।

    এদিন ছিল সংবিধান দিবস। সেই উপলক্ষেই বক্তৃতা দিচ্ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari)। কিন্তু শুভেন্দুর বক্তব্য শুরু হতে না হতেই তৃণমূল বিধায়কদের বসার জায়গা থেকে গোলমাল শুরু হয়। কানে আসতেই রুখে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ বাধা দেবে না। সবাই চুপ করে থাক। কোনও কোনও তৃণমূল বিধায়ক টিকা-টিপ্পনীও কাটতে শুরু করেছিলেন। মমতা তাঁদেরও কড়া ভাষায় কথা বলতে নিষেধ করেন। সঙ্গে সঙ্গেই থেমে যায় গোলমাল। নির্বিঘ্নে বক্তৃতা শেষ করেন শুভেন্দু। তার পরেই আসে চায়ের নেমতন্ন। নেমতন্ন রক্ষা করতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে যান বিরোধী দলনেতা।

    আরও পড়ুন: এনআইএ কাজ করছে দেশদ্রোহীরা সাবধান! শাসক দলকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মমতা-শুভেন্দুর এই সাক্ষাৎকার পর্ব জন্ম দিয়েছে একাধিক জল্পনার। নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তার পর থেকে দু জনের সম্পর্ক আক্ষরিক অর্থেই অহি-নকুলের। সম্প্রতি শুভেন্দুকে বলতে শোনা যায়, এই ডিসেম্বরেই পড়ে যাবে তৃণমূল সরকার। তিনি এও জানিয়েছিলেন, জোর করে সরকার ফেলবেন না তাঁরা। সরকার পড়ে যাবে আপনা থেকেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই কারণেই মোদির ডাকা বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন মমতা। সেই একই কারণে শুভেন্দুকে করতে হচ্ছে চায়ের নেমতন্ন। তাঁকে সম্বোধন করতে হচ্ছে ‘ভাই’ বলে!

    একেই বলে ‘ডিসেম্বর সিনড্রোম’!

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Suvendu Adhikari: এনআইএ কাজ করছে দেশদ্রোহীরা সাবধান! শাসক দলকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: এনআইএ কাজ করছে দেশদ্রোহীরা সাবধান! শাসক দলকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খেজুরিতে এখনও জীবিত আছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ, দেশদ্রোহীরা সাবধান। বৃহস্পতিবার ‘হার্মাদ মুক্ত দিবস’ উপলক্ষে মিছিলে যোগ দিয়ে শাসকদলকে  হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ইডি ও সিবিআই-এর মতো সংস্থা রাজ্যে একাধিক মামলার তদন্ত করছে। এবার এনআইএ-এর কথা শোনালেন শুভেন্দু।

    হার্মাদ মুক্ত দিবস পালন

    প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বর, খেজুরি থেকে সিপিএমকে ‘উৎখাত’ করেছিল তৃণমূল। সেই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তার পর থেকেই প্রতি বছর এই দিনে খেজুরিতে ‘হার্মাদ মুক্ত দিবস’ পালন করেন শুভেন্দু। তবে এখন বাংলায় বিজেপির মুখ তিনি। এদিন তৃণমূলকে আক্রমণ করতে গিয়ে বাম আমলের প্রসঙ্গও টেনে আনেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, একসময় বামপন্থীরা যা করেছিল, তাতে তিনি না থাকলে তৃণমূল শেষ হয়ে যেত। শুভেন্দু আরও বলেন, ‘বামপন্থীরা খারাপ নয়। এখন লজ্জা লাগে আমার। সেদিনকার বামপন্থীদের হার্মাদ বলতাম!’ তৃণমূলের নেতারা তাঁদের ছাপিয়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু।

    আরও পড়ুন: হাইকোর্টে ধাক্কা খেল স্কুল সার্ভিস কমিশন! এবার কি সুপ্রিম দুয়ারে যাবে রাজ্য সরকার?

    কী বললেন শুভেন্দু

    বৃহস্পতিবার খেজুরিতে বিশাল মিছিল করে বিজেপি। তারপরই সভা থেকে শাসক দলকে বার্তা দেন তিনি। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) এদিন বলেন, ‘আমি ১ তারিখে খেজুরিতে আসছি। বুঝিয়ে দেব শুভেন্দু কে? আরে এনআইএ তো সবে শুরু করেছে কাজ। সমর মণ্ডল অপেক্ষা করুন, সবে তো ১২টা বাজে, এখনও তো সূর্য ডোবেনি।’ সম্প্রতি এখানে বিজেপি কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘খেজুরিতে কে এক জন শেখ ইয়াসিন ঘোলাবাড়ের বিজেপি কর্মী সুরজকে মেরেছে। মাননীয় ইয়াসিনবাবু, আপনার যা যা ওষুধ লাগবে ডাক্তারবাবু সব জানে। আমি এই দায়িত্বটা নিলাম।’’ গত ৩ জানুয়ারি পশ্চিম ভাঙনমারি গ্রামে কঙ্কন করণ নামে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তার জেরে মৃত্যু হয় অনুপ দাস নামে এক তৃণমূল কর্মীর। বেশ কয়েক জন জখম হন। বোমা বাঁধতে গিয়েই এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। এর পর স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক তা নিয়ে এনআইএ তদন্তের দাবি তোলেন। তিনি বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে লিখিত আবেদনও করেন। এর পর ওই বিস্ফোরণ-কাণ্ডের তদন্তভার নেয় এনআইএ। ওই ঘটনায় জনকা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান সমরশঙ্কর মণ্ডল-সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। বৃহস্পতিবার শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই প্রসঙ্গই।

  • Suvendu Adhikari: ‘‘অপেক্ষা করুন, ছবি আসছে, সব সামনে আসবে!’’ শুভেন্দুর নিশানায় কে?

    Suvendu Adhikari: ‘‘অপেক্ষা করুন, ছবি আসছে, সব সামনে আসবে!’’ শুভেন্দুর নিশানায় কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারদা-তদন্ত পুরনো হয়নি। অপেক্ষা করুন ছবিটা সামনে আসবে। নাম না করে ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একের পর এক দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন বিজেপি নেতা। সারদার ছবি বিক্রির টাকা নিয়ে প্রশ্নও তুললেন শুভেন্দু অধিকারী।

    সারদা প্রসঙ্গে শুভেন্দু

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে তৃণমূলের মন্ত্রী অখিল গিরির মন্তব্য, নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও পাচার কাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার ডাকে সোমবার কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিল হয়। পরে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের সভায় শুভেন্দু বলেন,সারদা মামলা ও ছবি বিক্রির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “এই তো সবে সকাল। ছবি কেনাটা তো আসছে। সুদীপ্ত সেন, গৌতম কুণ্ডুরা কার ছবি কিনেছিলেন? লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির? ভেবেছিলেন সারদা পুরনো হয়ে গিয়েছে। অপেক্ষা করুন। ছবি আসছে। সব সামনে আসবে।” ফের তথ্য ফাঁসের হুঁশিয়ারিও দেন শুভেন্দু। পাশাপাশি এদিন চাকরিপ্রার্থীদের হয়েও সুর চড়ান তিনি। ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রীকে বারবার বলতে শোনা গিয়েছিল, ”ছবি বিক্রির টাকায় আমি দল চালাব।” কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবির মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চিত্রকলা বিশেষজ্ঞরা। এবার তাই নিয়ে তৃণমূল শিবিরকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু।  তিনি বলেন, ”সারদাকাণ্ড নিয়ে ফের এগোবে ইডি। সারদাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত রজত মজুমদারের ২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছেন গোয়েন্দারা। শুক্রবারও গভীর রাত পর্যন্ত জেরা করা হয়েছে তাঁকে।”

    আরও পড়ুন: রাজ্যে সরকারের পতন আসন্ন! ফের ডিসেম্বর ডেডলাইনের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    সারদা-মন্তব্যে সমালোচনা

    মা সারদা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে চলতি বছরের জুনে উলুবেড়িয়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক চিকিৎসক নির্মল মাঝি-র মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মা সারদার কথা টেনে বিতর্ক বাঁধিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। তারই প্রেক্ষিতে নির্মলের নাম না করে কড়া সমালোচনা করেছিল রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন কর্তৃপক্ষ। কেন সারদা মায়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা? ব্যাখ্যা চেয়েছিল মিশন কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সোমবার নির্মল মাঝিকেও আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘তোলামূলের সংস্কৃতি কী? বলছে মা সারদা নাকি জন্মেছেন কালীঘাটে (Kalighat)’? মহুয়া মৈত্রকে আলট্রা মডার্ন-অতিশিক্ষিত তৃণমূলের জনপ্রিয় সাংসদ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, তাঁর সাম্প্রতিক বিতর্কিত কালী মন্তব্যের কথাও তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বলেন, “এই কথা যদি উত্তর প্রদেশে বা রাজস্থানে বলতেন, দোকানে আলকাতরা থাকত না। আজ এদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।”

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে সরকারের পতন আসন্ন! ফের ডিসেম্বর ডেডলাইনের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে সরকারের পতন আসন্ন! ফের ডিসেম্বর ডেডলাইনের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে খুব শীঘ্রই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতন হবে। রাজ্যে সরকার ‘আর টিকবে না’ বলে আবারও হুমকি দিলেন বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়,’দেখতে থাকুন, মহারাষ্ট্রের পর ঝাড়খণ্ড, ঝাড়খণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গ। দেখতে থাকুন।’ ফের ডিসেম্বর ডেডলাইনের উপরই জোড় দিলেন বিজেপি নেতা। শিক্ষক নিয়োগ, কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে কয়লা পাচার, গরু পাচার হরেক দুর্নীতিতে জর্জরিত তৃণমূল সরকার। তাই এই সরকারের আয়ু আর বেশি দিন নেই বলেই অভিমত, শুভেন্দুর।

    আরও পড়ুন: ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি! আদালতে ফের সরব শুভেন্দু

    কী বললেন শুভেন্দু

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে তৃণমূলের মন্ত্রী অখিল গিরির মন্তব্য, নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও পাচার কাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার ডাকে সোমবার কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিল হয়। পরে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের সভায় শুভেন্দু বলেন, “মানুষ সব দেখছে। এই সরকার আর টিকবে না। মহারাষ্ট্র,ঝাড়খণ্ডের পরই পশ্চিমবঙ্গ। আপনারা শুধু অপেক্ষা করুন আর দেখতে থাকুন।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি না করে তাঁর দাবি, “শুধু ভাতিজা (ভাইপো) নয়, বুয়াকেও (পিসি) ভেতরে (জেলে) যেতে হবে।” শুভেন্দুর আরও দাবি, “রাজ্যের একাধিক শিল্পপতি, সুদীপ্ত সেন, গৌতম কুণ্ডুরা কেন বাংলার লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির ছবি কিনেছে সব সামনে আসবে। অপেক্ষা করুন।” 

    আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতিকে কুরুচিকর মন্তব্যের জের, প্রতিবাদে পথে জনজাতি সমাজ

    সুকান্তর নিশানা

    এদিন মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, মোর্চার সভানেত্রী তনুজা চক্রবর্তী প্রমুখ। লকেটের অভিযোগ, “মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর আমলে প্রতিদিন রাজ্যে নারী নির্যাতন বাড়ছে। নারীরা সুরক্ষিত নন।” অখিলের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সুকান্ত বলেন, “ডিসেম্বরে যত ঠান্ডা পড়বে ততই কাঁপুনি বাড়বে তৃণমূলের। গোটা মন্ত্রিসভা জেলের ভেতরে থাকবে।” বেশ কয়েক মাস ধরেই বারবার ডিসেম্বর-ডেডলাইনের কথা শোনা যাচ্ছে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের গলায়! গত  অগাস্ট মাসেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন,’ছ’মাস তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে না৷ তার আগেই ডিসেম্বরের মধ্যে ঝাপ গুটিয়ে যাবে তৃণমূলের’। গত সেপ্টেম্বরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষও বলেন, ‘ভোট এখন নেই, হয়তো ডিসেম্বরের বিধানসভা ভোটটা  হয়ে যেতে পারে’। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Panchayat Elections 2023: হাইকোর্টে ধাক্কা রাজ্য প্রশাসনের! শুভেন্দুকে সভার অনুমতি আদালতের

    Panchayat Elections 2023: হাইকোর্টে ধাক্কা রাজ্য প্রশাসনের! শুভেন্দুকে সভার অনুমতি আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন। রাজ্যে তাপমাত্রা নামলেও রাজনীতির পারদ চড়ছে। মঙ্গলবার রাজ্য-রাজনীতিতে তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর সভা রয়েছে জঙ্গলমহলে। মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি কর্মিসভা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। একইদিনে জঙ্গলমহল অঞ্চলের গোপীবল্লভপুরে সুকান্ত মজুমদারের সভা রয়েছে। মঙ্গলবারই বাঁকুড়ায় শুভেন্দু অধিকারীরও সভা রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর সভা নিয়েই উত্তাল রাজ্য। প্রশাসন বিরোধী দলনেতার সভা বাতিল করলেও অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

    হাইকোর্টের অনুমতি

    শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির তরফে রাইপুরে আগামী ১৫ নভেম্বর সভা করার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। ১০ নভেম্বর প্রথমে অনুমতি দেওয়া হলেও পরে ১১ তারিখ সেই আবেদন খারিজ করে প্রশাসন। এরপরই বিজেপি সভার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ, রাইপুরে নির্ধারিত দিনেই বিজেপির সভা হবে। শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পান। সভায় শুভেন্দুবাবুকে সিআইএসএফ-ই নিরাপত্তা দেবে। রাজ্য পুলিশ সহযোগিতা করবে।আদালতের নির্দেশ স্বস্তিতে পদ্ম শিবির। শুভেন্দুর সভা বাতিল প্রসঙ্গে পুলিশের যুক্তি ছিল,১৫ নভেম্বর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বাহিনী দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সভার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে এই রায় দেয় আদালত।

    রাজ্যে বেহাল গণতন্ত্র

    হাইকোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি, সুকান্ত মজুমদার বলেন,”আদালতের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হল যে, স্কুলে শিক্ষকের চাকরি থেকে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশের অনুমতিও কোর্টের কাছ থেকে নিতে হচ্ছে। তাহলে প্রশাসন থাকার কী প্রয়োজন? বিরোধী দলনেতা সভা করবেন, সেই সভার অনুমতি কোর্ট থেকে নিতে হচ্ছে, এতেই প্রমাণিত হয় বাংলায় গণতন্ত্র নেই। আরও একবার কোর্ট রাজ্য সরকারের গালে চপেটাঘাত করল। কোর্ট আছে বলে বাংলায় গণতন্ত্র অবশিষ্ট আছে।”

    আরও পড়ুন: অখিল গিরির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের

    জঙ্গলমহলে অন্য সভা

    ১৫ নভেম্বর আদিবাসী নেতা বিরসা মুণ্ডার জন্মদিনের অনুষ্ঠান। ওই দিন ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। একই দিনে গোপীবল্লভপুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সভা ও মিছিল। উপলক্ষ এক। বিরসা মুন্ডার জন্মদিন উদযাপন । ওইদিনই বাঁকুড়ার রাইপুরে সভা করবেন শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে মমতা- সুকান্ত- শুভেন্দু, এই তিন হেভিওয়েটদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে শীতের জঙ্গলমহলে রাজনীতির পারদ চড়ছে। তিন হেভিওয়েট কী বার্তা দেন, সেদিকেই এখন নজর সবার।

  • Suvendu Adhikari: ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

    Suvendu Adhikari: ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পেও দুর্নীতি! এমন অভিযোগ আগেই করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর এবারে ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ১০০ দিনের কাজে রাজ্য সরকার কারচুপি করে টাকা নয়ছয় করেছে, এমনটা অভিযোগ এনে আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। আর এবারে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছে গিয়েছেন ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা তছরুপ করার অভিযোগ এনে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

    ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে দুর্নীতি

    রাজ্যে ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে, এমন অভিযোগ আগেই উঠেছিল। আর এই নিয়ে অনেক সমালোচনারও সৃষ্টি হয়েছিল। আর এই নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি দাবি করেছেন যে, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র থেকে যে টাকা রাজ্য সরকারকে দেওয়া হয়, সেই টাকা নিয়ে নয়ছয় করেছে রাজ্য সরকার। কোনও কাজ না দিয়েই অন্য জায়গায় টাকা খরচ করার পর দুর্নীতি লুকোতে মানুষকে ভুল শংসাপত্র দিয়েছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। আর এমনটাই জানানো হয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো চিঠিতে।

    আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতিকে কুরুচিকর মন্তব্যের জের, প্রতিবাদে পথে জনজাতি সমাজ

    জনস্বার্থ মামলা দায়ের

    এই ইস্যুতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, তথ্যে কারচুপি করা হচ্ছে। টেন্ডার না হওয়া তথ্য তুলে ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এলাকায় প্রকৃত জনসংখ্যার থেকে বেশি সংখ্যক জব কার্ড হোল্ডার রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

    তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে দেওয়ার আর্জি

    মামলা দায়ের করার পাশাপাশি বিষয়টির তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আর্জিও করেছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। সূত্রের খবর অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে বলে সম্ভাবনা রয়েছে। 

    আরও পড়ুন: হাইকোর্টে ধাক্কা রাজ্য প্রশাসনের! শুভেন্দুকে সভার অনুমতি আদালতের 

  • No Jobs in Bengal: আগে কাজ জোটাত কলকাতা, এখন মজুর খাটতে বাঙালি যাচ্ছে মিজোরামেও

    No Jobs in Bengal: আগে কাজ জোটাত কলকাতা, এখন মজুর খাটতে বাঙালি যাচ্ছে মিজোরামেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় কাজ নেই তাই রোজগারের আশায় উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন পাঁচ তরতাজা বাঙালি যুবক। সেখানেই পাথর-খাদানে ধস নেমে সমাধিস্থ হলেন নদিয়া জেলার চার বাসিন্দা। তেহট্ট কালীতলা পাড়ার বুদ্ধদেব মণ্ডল (২৫), মিন্টু মণ্ডল (২২) ও রাকেশ বিশ্বাস (২১) এবং চাপড়া পিঁপরেগাছির বাসিন্দা মদন দাস। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ঢোলখালি গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত রপ্তান (২৪)। একটি ঠিকাদার সংস্থার অধীনে মিজোরামে জাতীয় সড়ক নির্মাণের কাজ  করতে যান তাঁরা। রাস্তা নির্মাণের সময় খাদান থেকে পাথর আনার কাজ করছিলেন ১৩ জন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন বুদ্ধদেবরা।

    মৃতদের পরিচয়

    টাকি গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে স্নাতক হয়েছিলেন বছর চব্বিশের সুব্রত রপ্তান। তেমন কোনও চাকরি না পেয়ে পরিবারের আর্থিক অনটন মেটাতে শ্রমিকের কাজ জোগাড় করে চলে যান ভিন্‌ রাজ্যে। ছেলে কাজ পাওয়ায় পরিবারের কিছুটা আর্থিক সুরাহা হয়েছিল। আগে ঝাড়খণ্ডে পাথর খাদানে কাজ করেছেন। দুর্গাপুজোয় বাড়ি এসেছিলেন। ভাইফোঁটার পরে ফের কাজে যান। এবার গন্তব্য ছিল মিজোরাম। সুব্রতের বাবা শ্যামল তামিলনাড়ুতে শ্রমিকের কাজ করেন। দুই দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে মা মালতি একাই থাকেন। কিন্তু এখন সব শেষ। সোমবার সন্ধ্যায় সুব্রতর এক বন্ধু বাড়িতে দুর্ঘটনার খবর দেন। এবার সুব্রতর নিথর দেহ কফিনবন্দি হয়ে সন্দেশখালির গ্রামের বাড়িতে ফিরবে। সুব্রতর কাকিমা অনিমা রপ্তান বলেন, ‘‘কোনও কাজ না পেয়ে সুব্রত শ্রমিকের কাজে যেতে বাধ্য হয়েছিল। দেহ বাড়িতে আনার ক্ষমতাও নেই ওঁদের।’’ 

    একুশ বছরের ছেলে রাকেশ বিশ্বাসকে হারিয়ে বাবা কালু বিশ্বাসের কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘‘এখানে কোনও কাজ পাচ্ছিল না। তাই ওরা কাজে যায়। ওর জামাইবাবুর সঙ্গে রবিবার শেষ কথা হয়। আজ এই খবর পেলাম।’’ বুদ্ধদেবের বাবা মধুসূদন মণ্ডলের বক্তব্য, ‘‘ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজে গিয়েছিল। তার পর আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। আজ ঠিকাদার সংস্থার তরফ থেকে খবর পেয়ে জানতে পারলাম যে,ও আর বেঁচে নেই।’’ওই ঠিকাদারি সংস্থায় কাজ করতেন স্থানীয় আরেক যুবক অমিত মণ্ডল। তিনি ছুটিতে বাড়ি ফিরেছিলেন। দুপুরে তাঁকেই ফোন করে মৃত্যুর খবর দেন সংস্থার কোনও আধিকারিক। অমিত জানান, ‘‘ছুটিতে বাড়ি না এলে আমারও হয়তো একই ভাবে মৃত্যু হত।’’

    চাকরির সন্ধানে সুকতলা ক্ষয়ে যায়

    শিক্ষিত বাঙালি যুবকদের কি এই পরিণতিই ভবিতব্য? ভিন্‌ রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে কাজে গিয়ে প্রাণ হারানো। এই ঘটনাই প্রথম নয় এবং দুর্ভাগ্যবশত এটাই শেষ ঘটনা হবে এমনটা নয়। এক বছরেই রয়েছে এমন বহু করুণ ঘটনা।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২: ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় উত্তর দিনাজপুর জেলার চার পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃত শ্রমিকদের নাম হাকিমুল শেখ, আব্দুল্লা শেখ, মহম্মদ রাহুল ও মকিম আলম। এঁদের মধ্যে তিন জনের বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়া থানার সিরসি গ্রামে এবং একজনের বাড়ি ডুমুরিয়া এলাকায়। মধ্যপ্রদেশের ঝাঁসি স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে পিক-আপ ভ্যান উল্টে গিয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। চার জনেই পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে মধ্যপ্রদেশ গিয়েছিলেন।

    ১৮ এপ্রিল, ২০২২: দক্ষিণ কর্নাটকের বাজপেয়ী থানা এলাকায় শ্রী উল্কা লিমিটেড নামে এক মাছের সংস্থায় কর্মরত ছিলেন দেগঙ্গার প্রায় ৩০ জন বাসিন্দা। সেখানে প্যাকেজিং এর কাজ করতেন তাঁরা। এদের মধ্যে কয়েকজন একটি ম্যানহোলে ড্রেন পরিস্কার করতে নেমেছিলেন। ম্যানহোলের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন তাঁরা। মৃতরা হলেন ওমর ফারুক(৩১), সামিউল ইসলাম(১৭) নুর নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফাজিলপুরের বাসিন্দা, নিজামুদ্দিন সাহাজি (১৯) আমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রায় পুরের বাসিন্দা, সরাফাতা আলি (২২) ও মিরাজুল ইসলাম (২৩) দেগঙ্গা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দোগাছিয়ার বাসিন্দা।

    ১২ মে, ২০২২: মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার প্রদীপ ডাঙা বেলতলা পাড়া এলাকার বছর কুড়ির বাসিন্দা কবিরুল শেখ বেঙ্গালুরুতে পাইপ লাইনের কাজে গিয়েছিলেন। ওই পরিযায়ী শ্রমিক কাজের সাইটে পাইপ লাইনের কাজ করছিলেন একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায়। সেই সময় কাজ করতে গিয়েই তিনি কোনওভাবে বিদ্যুতের তারের উপর পড়ে যান। তাঁর হাতে ছিল লোহার পাইপ। বিদ্যুতের তারে পড়ে গিয়েই বিদ্যুৎপৃষ্ট হন তিনি। অন্যান্য শ্রমিকরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ২৮ মে, ২০২২: পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গী ব্লকের ফরিদপুর অঞ্চলের ইদুল হাসান (৫২) কেরলে প্রেম্বাবুর থানা এলাকায় মারা যান। পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি।

    ১০ জুন, ২০২২: মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার রামগড় পূর্ব হাট পাড়ার বাসিন্দা মোহনলাল মহলদার (২৩) মৃত্যু হল গুজরাটে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে। গুজরাটের জামনগর অডিনার জেটিতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজে গিয়েছিলেন মোহনলাল। জেটির ওপর কাজ করার সময় অসাবধানতার ফলে মাথায় রডের আঘাত লেগে জেটির ওপর থেকে সমুদ্রে পড়ে যান উনি। অন্যান্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২: বীরভূমের নলাহাটি থানার শীতল গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু মাল (২৮) মুম্বইয়ের একটি আবাসনে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করছিলেন। সেই সময়ে মাথায় খসে পড়ল চাঙর। আহত অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে পিন্টুকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

    ৭ নভেম্বর, ২০২২: নামখানা ব্লকের হরিপুর এলাকার বাসিন্দা রাজেশ মণ্ডল, কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে লিফট থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান। রাজেশ যে বহুতলে কাজ করছিলেন সেই বহুতলের লিফটের একটি তার ছিঁড়ে যায়। সহকর্মীরা তড়িঘড়ি রাজেশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    আরও পড়ুন: সীমান্তে ‘বিপজ্জনক’ ২৩৩ মাদ্রাসার হদিশ রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের, নবান্ন চুপ

    হিমশৈলের চূড়া মাত্র

    এরকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ভুরি ভুরি ঘটছে। যে ঘটনাগুলির উল্লেখ করা হয়েছে তা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে নিযুক্ত। এতদিন জানা যেত যে গুজরাট, তামিলনাড়ু, কেরল, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র হলো বেশির ভাগ পরিযায়ী শ্রমিকদের গন্তব্য। মিজোরামের পাথর খাদানের দুর্ঘটনা বাংলার কর্মসংস্থানের দৈন্যদশা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। দক্ষিণ মিজোরামের যে প্রত্যন্ত এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে কলকাতা থেকে পৌঁছতেই লেগে যাবে প্রায় ৩-৪ দিন। আজ বাঙালির দুর্ভাগ্য যে প্রাণ হাতে নিয়ে এই রকম সুদূর দুর্গম এলাকায় ছুটে যেতে হচ্ছে রুজি রোজগার ও সংসারের অনটন মেটানোর জন্য। মিজোরাম কর্মসংস্থান যোগাচ্ছে বাংলাকে, এটাই হচ্ছে সাড়ে তিন দশকের বামফ্রন্ট শাসনের ও সাড়ে ১১ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বের প্রাপ্তি।

    সত্যই মানবিক!

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “মানবিক” মুখ কিন্তু এই ঘটনাতেও প্রচারের আলোয়। ট্যুইট করে উনি সমবেদনা জানিয়েছেন ও শোকপ্রকাশ করেছেন; ‘‘মিজোরামে পাথরখাদানে ধস নেমে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ শ্রমিক-সহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমরা পাঁচ শ্রমিকের দেহ আনার ব‌্যাপারে মিজোরাম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মৃতদের পরিবারকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা।’’

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই মঙ্গলবার সুব্রতর বাড়িতে আসেন সন্দেশখালি পঞ্চায়েতের প্রধান দিলীপ মল্লিক, সন্দেশখালি ২ যুগ্ম বিডিও অর্ক মান্ডি। বিডিও অর্ণব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে, দেহ বিমানে করে এ রাজ্যে আনার। পরিবারটি যাতে ক্ষতিপূরণ পায়,তা প্রশাসন দেখছে।’’অর্থাৎ যে বিএ পাস করা যুবক কাজের অভাবে ৩-৪ দিনের পথ অতিক্রম করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাথর খাদানে কাজ করতে গিয়ে মারা গেলো তার নিথর দেহ কয়েক ঘণ্টায় বিমানে করে কলকাতায় এনে বাড়ি পৌঁছে দিয়েই সরকার তার দায়িত্ব পালন করে ফেলবেন এবং হয়তো আগামী বছরের কোনো “স্কচ অ্যাওয়ার্ড” পেয়ে যাবেন এতটা মানবিক হওয়ার জন্য।

    কোটি টাকার প্রশ্ন

    এই সরকারই দাবি করে যে পশ্চিমবঙ্গে নাকি চল্লিশ শতাংশ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হয়েছে। খাতায় কলমে হয়তো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়? এমন দুর্ঘটনার খবর রোজ প্রকাশিত হয় না, কারণ তা মূলধারার সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় না। যদি প্রতিদিন এমন খবর খোঁজ নিয়ে প্রকাশিত করা যেত তাহলে জনমানসে তার প্রভাব ফেলতে কোনো মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি প্রাঙ্গণ, গান্ধী মূর্তির পাদদেশ অথবা করুণাময়ীর বিকাশ ভবনের সামনে অনশন বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে লাগতো না। বেকারত্বের এমন বিজ্ঞাপন বাঙালিদের বিবেকবোধকে নাড়িয়ে দিত।

    বাঙালির এই দুর্দশা কবে ঘুচবে তা কেউ জানে না। সরকার বদলে গেলেও প্রায় ৫০ বছরের এই গভীর ক্ষত সরিয়ে তুলতে যে সময় ব্যয় হবে তাতে আর কটা প্রজন্মকে ভুগতে হবে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Mental Hospital: কেন্দ্রের বরাদ্দ পেলেও জুটছে না খাবার, মানসিক রোগীদের পরিষেবার উন্নতি নেই রাজ্যে

    Mental Hospital: কেন্দ্রের বরাদ্দ পেলেও জুটছে না খাবার, মানসিক রোগীদের পরিষেবার উন্নতি নেই রাজ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেউ মাস খানেকের বাসিন্দা। আবার কেউ বছরের পর বছর পার হলেও থেকে গিয়েছেন। তবে, দিন কয়েকের মধ্যেই তাঁরা বুঝতে পারেন, ওষুধ পেলেও পথ্য তথৈবচ! দু’বেলা পেট ভরে খাবারও জোটে না। এদিকে একাধিক স্নায়ুর সমস্যার ওষুধ (Medicine) খাওয়ার জন্য দেহের ওজনও কমছে। শরীর সুস্থ রাখতে দরকার পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু ভাতের সঙ্গে নিয়মিত ডিম আর ডালও দেওয়া হচ্ছে না।

    সরকারি মানসিক হাসপাতালের অবস্থা…

    রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি মানসিক হাসপাতালের (Mental Hospital) অবস্থা এই একরকম। প্রথমে কলকাতার পাভলভ মানসিক হাসপাতালে অভিযোগ উঠেছিল। অধিকাংশ রোগীর পরিজনের অভিযোগ ছিল, রোগীদের ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয় না (State Deprives Mental Patients)। মানসিক সমস্যার জন্য স্নায়ুর একাধিক ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয় না। ফলে, রোগীরা শারীরিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েন। এক রোগীর পরিজনের কথায়, “ছেলেকে যখন ভর্তি করেছিলাম ৭২ কেজি ওজন ছিল। কয়েক মাস হাসপাতালে থেকে যখন বাড়ি যাচ্ছে, তখন ৪২ কেজি ওজন হয়েছে। কিছুই খেতে দেয় না।”

    আরও পড়ুন: ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

    পাভলভ কর্তৃপক্ষের একাধিক কাজে নানান অভিযোগ ওঠায় সম্প্রতি বদলি করা হয় পাভলভের সুপারকে। যদিও স্বাস্থ্য ভবনের সুপার বদলের নিদানেও পরিবর্তন হয়নি পরিস্থিতি। অন্তত রোগীর পরিজনদের এমনি অভিযোগ। পাভলভ মানসিক হাসপাতাল কোনও ব্যতিক্রম নয় বলেই জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁরা জানান, রাজ্যের অন্যান্য মানসিক হাসপাতালেও পরিষেবা অত্যন্ত নিম্নমানের (State Deprives Mental Patients)। শুধু খাবারের নয়। অনেক সময়ই মানসিক রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন কর্তব্যরত স্বাস্থ্য কর্মীরা। পর্যাপ্ত পরিষেবা তাঁরা পান না। আবার স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, মানসিক হাসপাতালগুলোতে মারাত্মক কর্মীসঙ্কট। তাই অনেক রোগীকে একসঙ্গে দেখভাল করতে গিয়ে নানান সমস্যা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবন অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। এক স্বাস্থ্য কর্তা বলেন, “পাভলভ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরে সুপার বদল হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অন্য কোনও হাসপাতালেও কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দফতর বিষয়টি দেখবে। “

    দেশ জুড়ে মানসিক রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য একাধিক প্রকল্প নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু হাসপাতালে ভর্তি মানসিক রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতি করাই নয়, মানসিক রোগ নিয়ে চর্চার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার এজন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ করেছে। এমবিবিএস কোর্স থেকেই যাতে চিকিৎসকেরা অবসাদ, মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো বিষয়গুলোর চিকিৎসায় বিশেষ পারদর্শী হয়ে, তার জন্য আলাদা ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। তাছাড়া, মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় যাতে আর্থিক সমস্যা বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তার জন্যও একাধিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে মানসিক রোগীদের ওষুধ ও খাবারের জন্য আলাদাভাবে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাশপাশি মানসিক রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে নানান সৃজনশীল প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    দিন কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র আর্থিক বঞ্চনা করেছে। রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ পাঠাচ্ছে না। তাই রাজ্যের একাধিক কাজ আটকে থাকছে। রাজ্যের উন্নতিতেও সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যবাসীর একাংশের প্রশ্ন, কেন্দ্র যে অর্থ পাঠাচ্ছে, তা ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে তো? যে অর্থ আছে, তা ঠিক খাতে দেওয়া হচ্ছে? অন্তত মানসিক হাসপাতালের (Mental Hospital) ক্ষেত্রে তার সদ্ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Facebook এবং Twitter পেজ। 

LinkedIn
Share