Tag: mohan bhagwat

mohan bhagwat

  • Mohan Bhagwat: “ভারত মানবতার নিয়ম মেনে চলে, যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করতে পারে”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: “ভারত মানবতার নিয়ম মেনে চলে, যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করতে পারে”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে মানবতার পাঠ দিলেন সরসংঘ চালক মোহন ভাগবত। আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহে আরএসএস (RSS) প্রধান বললেন, “ভারত মানবতার নিয়ম মেনে চলে, যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করতে পারে।” পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঘনীভূত সংঘাতের আবহে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) ভারতের শান্তিদূতের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেছেন।

    ভারত সর্বদা ‘মানবতার ধর্ম (Mohan Bhagwat)

    নাগপুরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বিশ্বের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে ভারতই একমাত্র দেশ যারা শান্তি ও সংহতির বার্তা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে।” সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ভারত সর্বদা ‘মানবতার ধর্ম’ বা মানবতার নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতি সমাপ্ত করতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভারতের সংস্কৃতি এবং ডিএনএ-তে হিংসা নয়, বরং শান্তি ও পরোপকার মিশে আছে। ভারত (RSS) কোনো দেশকে জয় করতে চায় না, বরং ভারত হৃদয় জয় করতে চায়।”

    বিশ্ব শান্তিতে ভারতের ভূমিকা

    আমেরিকা ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কথা উল্লেখ করে সরসংঘ (RSS) চালক মোহন ভাগবত বলেন, “যখন বিশ্বজুড়ে বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থ সংঘাতে লিপ্ত, তখন ভারত মানবতার স্বার্থে মধ্যস্থতা করার ক্ষমতা রাখে। ভারতের প্রাচীন জ্ঞান এবং বর্তমান কৌশলগত অবস্থান দুই পক্ষকেই শান্ত করতে সহায়ক হতে পারে। ভারত কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। ভারতের কাছে ধর্ম মানে হল মানবতা। এই আদর্শকে পাথেয় করেই ভারত অতীতেও বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেখাবে।”

    বর্তমান প্রেক্ষাপট

    মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা, হুমকি, পাল্টা হুমকির ফলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে ভারতের নিরপেক্ষ এবং মানবিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। ভারত কোনো পক্ষ নেয় না, ভারত ন্যায়ের পক্ষ নেয়। আরএসএস (RSS) প্রধানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট বড় প্রভাব ফেলছে। তাঁর মতে, ভারত যদি নিজের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়ায়, তবে বর্তমান বিশ্বের বড় বড় যুদ্ধ ও বিবাদ মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রথম রাষ্ট্রদূত হুসেন হাসান মির্জাও বলেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটিমাত্র ফোনেই সংঘাতের সমাধান করতে পারেন। ইরান ও ইজরায়েলে মোদির একটি ফোন কলই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।”

  • RSS: “আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলিতে সমাজের প্রতিক্রিয়া উৎসাহজনক”, বললেন সহ সরকার্যবাহ মুকুন্দ

    RSS: “আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলিতে সমাজের প্রতিক্রিয়া উৎসাহজনক”, বললেন সহ সরকার্যবাহ মুকুন্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলিতে সমাজের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত উৎসাহজনক এবং অনুপ্রেরণামূলক”, বললেন সহ সরকার্যবাহ সিআর মুকুন্দ। আরএসএসের জাতীয় স্তরের বার্ষিক সাধারণ সভা অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা শুরু হয়ছে কেরলের সমালখায়। কেরালায় স্বয়ংসেবকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজার হাজার মুসলিম ও খ্রিস্টান পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন (Centenary Programmes)। সেখানে তাঁদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করা হয়। সভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় আজ, শুক্রবার, ১৩ মার্চ। ভারতমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে সভার উদ্বোধন করেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত এবং সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে।

    কেরলে আরএসএসের তিনদিনের সভা (RSS)

    তিনদিনের এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেরলের সমালখার পট্টিকল্যাণায় অবস্থিত মাধব সৃষ্টি ক্যাম্পাসে। সহ সরকার্যবাহ সিআর মুকুন্দ সাংবাদিকদের সভার উদ্বোধন এবং সভা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় ও কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রচার প্রধান সুনীল আম্বেকরও। মুকুন্দ জানান, যেহেতু এই সভাটি আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই সারা দেশ থেকে ১৪০০-রও বেশি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। সভার শুরুতে সম্প্রতি প্রয়াত কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এঁদের মধ্যে ছিলেন শিবকথা বর্ণনাকারী সৎগুরু দাস মহারাজ, পরিবেশবিদ মাধব গাডগিল, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা লোকসভার স্পিকার শিবরাজ পাটিল, পরিবেশকর্মী সালুমারাদা থিম্মাক্কা, প্রত্নতত্ত্ববিদ কেএন দীক্ষিত, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, অভিনেতা ধর্মেন্দ্র দেওল, তামিল চলচ্চিত্র প্রযোজক এভিএম সারাভানন, মিজোরামের প্রাক্তন রাজ্যপাল স্বরাজ কৌশল, শিক্ষাবিদ বিনয় হেগড়ে, কমিউনিস্ট নেতা আর নল্লাকান্নু এবং প্রবীণ সাংবাদিক তথা সম্পাদক প্রফুল্ল গোবিন্দ বরুয়া।

    কী জানালেন সহ সরকার্যবাহ

    সহ সরকার্যবাহ জানান, আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সমাজের সজ্জন শক্তির সমর্থন ও অংশগ্রহণ স্বয়ংসেবকদের অত্যন্ত উৎসাহিত করেছে (Centenary Programmes)। আরএসএসের শতবর্ষ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ২ অক্টোবর ২০২৫ নাগপুরে শুরু হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। এর একদিন আগে ভারত সরকার আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট এবং একটি স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করে। তিনি জানান যে আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে দুই ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে-এক, সংগঠনের বিস্তার এবং দুই, সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করে সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানো। এই প্রেক্ষিতেই গৃহ সম্পর্ক অভিযান চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কিছু প্রান্তে স্বয়ংসেবকরা ১০ কোটিরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছেছেন এবং প্রায় ৩.৯ লক্ষ গ্রামে গিয়েছেন। অন্যান্য অঞ্চলেও এই কর্মসূচি চলছে (RSS)। এই কর্মসূচিতে স্বয়ংসেবকরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কোনও জাতি বা সম্প্রদায়গত পক্ষপাত ছাড়াই আরএসএস সম্পর্কে আলোচনা করেন।

    সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করাই লক্ষ্য

    কেরালার উদাহরণ দিয়ে মুকুন্দ জানান, সেখানে স্বয়ংসেবকরা ৫৫,০০০-এরও বেশি মুসলিম পরিবার এবং ৫৪,০০০-এরও বেশি খ্রিস্টান পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা আন্তরিকভাবে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন (Centenary Programmes)। তিনি এও জানান, সারা দেশে এখনও পর্যন্ত ৩৬,০০০-এরও বেশি হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলি শহর, গ্রাম এবং দূরবর্তী জনজাতি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তাঁরা প্রথমবার এমন উষ্ণতা ও আত্মীয়তার অনুভূতি পাচ্ছেন। মুকুন্দ জানান, সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে নাগরিক সংগোষ্ঠীরও আয়োজন করা হয়েছে।

    পঞ্চ পরিবর্তন বাস্তবায়নের পরিবেশ

    এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে সমাজে পঞ্চ পরিবর্তন বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এই পাঁচটি পরিবর্তন হল, সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা, আত্মগৌরব ও স্বদেশি ভাবনা, পরিবার ব্যবস্থা সংরক্ষণ এবং নাগরিক কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা। এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই জাতি ও সমাজকে মহান করা সম্ভব (RSS)। তিনি জানান, সরসংঘচালক মোহন ভাগবত রাজ্য রাজধানী ও চারটি প্রধান বড় শহরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চার মহানগরের অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ১০০০-এরও বেশি প্রশ্নের উত্তর দেন। এই প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে (Centenary Programmes)।

    ক্রমেই বাড়ছে আরএসএসের শাখা

    সংগঠনের বিস্তার সম্পর্কে তিনি জানান, গত এক বছরে দেশের বহু নতুন জায়গায় নতুন শাখা শুরু হয়েছে। আগামী বছরগুলিতে গ্রাম ও ছোট শহরে আরও বেশি শাখা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে (RSS)। আরএসএস নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। মণিপুরে শান্তি ও স্থিতিশীলতার উন্নত পরিস্থিতিও উৎসাহজনক। এই প্রচেষ্টায় আরএসএস স্বয়ংসেবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও জানান তিনি। পড়শি দেশ বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুকুন্দ। যদিও আশা করেন, আগামী দিনে তাঁদের অবস্থার উন্নতি হবে। মুকুন্দ বলেন, “আরএসএসের উদ্দেশ্য হল সমাজের গঠনমূলক শক্তিগুলিকে একত্রিত করে জাতি গঠনের কাজে এগিয়ে যাওয়া।”

    আরএসএসের শতবর্ষ কর্মসূচি

    আরএসএসের শতবর্ষ কর্মসূচি চলবে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে (RSS)।তিনি জানান, আরএসএস সারা বিশ্বের মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে (Centenary Programmes)। এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় সহ প্রচার প্রধান নরেন্দ্র ঠাকুর, প্রদীপ জোশি এবং অন্যান্য কর্মকর্তা। আরএসএসের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশের ৫১,৭৪০টি জায়গায় ৮৩,১২৯টি শাখা পরিচালিত হয়েছিল। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৫৫,৬৮৩ টি জায়গায় ৮৮,৯৪৯টি শাখা। অর্থাৎ এক বছরে ৩,৯৪৩টি নয়া জায়গা যেমন যুক্ত হয়েছে, তেমনি মোট শাখাও বেড়েছে ৫,৮২০টি। এটি সংগঠনের ধারাবাহিক বিস্তারকে নির্দেশ করে।

    জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭,০৪৮টি হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষ। এই সম্মেলনগুলি শহর, গ্রাম, জনজাতি ও দূরবর্তী অঞ্চলেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে পঞ্চ পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যার মূল বিষয় হল সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশ সচেতনতা (Centenary Programmes), কুটুম্ব প্রবোধন, আত্মগৌরব এবং নাগরিক কর্তব্য পালন (RSS)।

     

  • RSS: “সনাতন ধর্ম কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা,” বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “সনাতন ধর্ম কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা,” বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) জোর দিয়ে বলেছেন যে, সনাতন ধর্মের উন্নতি ও পুনরুত্থানের যে নিরন্তর প্রক্রিয়া চলছে। সংঘ তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, “সনাতন ধর্ম কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা যা বিশ্বজুড়ে মানবতাকে পথ দেখায়। সংঘকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে বরং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখুন যাতে এটি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।”

    সনাতন ও ভারত (RSS)

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) উল্লেখ করে বলেন, “ভারত ও সনাতন ধর্ম একে অপরের পরিপূরক। ভারতের অস্তিত্ব ও পরিচিতি সনাতন ধর্মের আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই টিকে আছে। ভারত জাগরিত হলে সনাতন ধর্মও জাগরিত হয়। সনাতন জাগ্রহ হলে দেশ এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।” রাজস্থানে সংঘের (RSS) একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন মোহন ভাগবত।

    সংঘের ভূমিকা

    সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “সংঘ (RSS) কোনো নতুন মতাদর্শ প্রচার করছে না, বরং সনাতন ধর্মের প্রাচীন ও শাশ্বত মূল্যবোধগুলোকেই সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।” তিনি তাই স্বয়ংসেবকদের আহ্বান করে বলেন, “তারা ব্যক্তি চরিত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ গঠনে ব্রতী হন। সমাজ গঠন আর পুনঃনির্মাণ হলে ভারত রাষ্ট্রও সঙ্ঘবদ্ধ হবে।”

    তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা চলছে, তার সমাধান কেবল সনাতন ধর্মের প্রদর্শিত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ অর্থাৎ বিশ্বই এক পরিবার দর্শনের মাধ্যমেই সম্ভব। আরএসএস এই একতার ভাবধারাকে শক্তিশালী করতেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।”

    সাংস্কৃতিক জাগরণ

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি মনে করেন, যখন প্রতিটি ভারতীয় নিজের শিকড় ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, তখনই ভারত প্রকৃত অর্থে ‘বিশ্বগুরু’র আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবে।

    ভারতের সাংস্কৃতিক সংহতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং দাদা গুরু ঐতিহ্যের অবদান শীর্ষক একটি জাতীয় স্তরের সিস্পোজিয়াম ৭ এবং ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। যোধপুর বিশ্ববিদ্যালয় রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকৃত ভারতী ইন্সটিউট এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক অধ্যায়ন কেন্দ্র সহ বেশ কয়েকটি নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞান অংশীদার হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। বিভিন্ন আচার্য সন্ন্যাসী এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন। এখানে সরসংঘ (RSS) চালক বিশেষ ভাষণ রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।

  • RSS: “বাংলাদেশে ১.২৫ কোটি হিন্দু নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করলেই নির্যাতন বন্ধ হবে”, বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “বাংলাদেশে ১.২৫ কোটি হিন্দু নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করলেই নির্যাতন বন্ধ হবে”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইতে আরএসএস-এর (RSS) ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাঃ মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সেখানকার ১.২৫ কোটি হিন্দু নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিলে তারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দুদের সমর্থন পাবে।” বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের বিপক্ষে বেশি পরিমাণে হিন্দুরা একজোট হলে তবেই নির্যাতন বন্ধ হবে।

    বাংলাদেশ প্রসঙ্গে (Mohan Bhagwat)

    রবিবার মুম্বাইয়ের ওরলিতে অবস্থিত নেহেরু সেন্টারে আয়োজিত ‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক ব্যাখ্যানমালার দ্বিতীয় দিনে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ১.২৫ কোটি হিন্দু আছে। তারা যদি সেখানে থেকে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন, তবেই নির্যাতন বন্ধ হবে। বিশ্বের সমস্ত হিন্দুরা তাদের সাহায্য করবে। পাশে দাঁড়াবে। ধর্ম এবং অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় গোটা বিশ্ব চিন্তিত।

    জনসংখ্যা ও অনুপ্রবেশ

    আরএসএস (RSS) প্রধান (Mohan Bhagwat) বলেন, “অতীতের সরকারগুলো ভারতের জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনের বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি জন্মহার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশই দায়ী। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে এবং তা সফল হবে। দেশের উন্নতি এবং প্রগতিতে জনসংখ্যার ভারসাম্য অবশ্যই দরকার।”

    ভারতের অখণ্ডতা

    একই ভাবে ভাগবত কড়া ভাষায় দেশের অখণ্ডতা প্রসঙ্গে বলেন, “ভারতকে এখন আর দুর্বল করা যাবে না। যারা ভারতকে ভাঙার চেষ্টা করবে, তারা নিজেরাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।”

    সংঘের অর্থায়ন ও জীবনযাত্রা

    সংঘের তহবিল নিয়ে অনেকের কৌতূহল দূর করতে গিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat)  জানান, “আরএসএস (RSS) কোনো কর্পোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক টাকা নেয় না। সংঘের কর্মীরা নিজেরাই তহবিল সংগ্রহ করেন। ভ্রমণের সময় সংঘের কর্মীরা হোটেলে না থেকে অন্য কর্মীদের বাড়িতে থাকেন এবং নিজেদের টিফিন সাথে রাখেন।

    জাতিভেদ ও নেতৃত্ব

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) স্পষ্ট করে দেন, “আরএসএস-এ কোনো বৈষম্য নেই। যেকোনো জাতির মানুষই আরএসএস (RSS) প্রধান হতে পারেন। তফশিলি জাতি বা উপজাতি হওয়া কোনো অযোগ্যতা নয়, আবার ব্রাহ্মণ হওয়া কোনো বিশেষ যোগ্যতা নয়। সংঘ সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য কাজ করে।”

    মুসলিম প্রধান এলাকা প্রসঙ্গে

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “মুসলিম প্রধান এলাকায় কোনো চ্যালেঞ্জ আসলে সংঘ সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায় না। প্রতিপক্ষ গালিগালাজ করলেও সঙ্ঘের কর্মীরা শান্ত থেকে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করেন। সংঘের একমাত্র লক্ষ্য হলো সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং এটি কোনো বিশেষ শক্তি বা রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার স্বার্থে কাজ করে না।

  • RSS: “সংঘ যাত্রার ১০০ বছর–নতুন দিগন্ত: ভারত কোনও ভূগোল নয়, এটি একটি ‘স্ব-ভাব’-এর নাম”, বললেন ভাগবত

    RSS: “সংঘ যাত্রার ১০০ বছর–নতুন দিগন্ত: ভারত কোনও ভূগোল নয়, এটি একটি ‘স্ব-ভাব’-এর নাম”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত “সংঘ (RSS) যাত্রার ১০০ বছর–নতুন দিগন্ত” (100 Years of Sangh Journey – New Horizons) শীর্ষক ব্যাখ্যানমালায় মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) আরএসএসের আদর্শগত ভিত্তি, শাখার ভূমিকা, হিন্দু পরিচয়ের ধারণা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর এই বক্তব্য শোনার জন্য উপস্থিত ছিলেন মুম্বইয়ের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরুতে এই ধরনের ব্যাখানমালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংঘ শতবর্ষে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়াই সংঘের কর্তব্য বলে জানিয়েছেন ভাগবত।

    সঙ্ঘের কাজের অনন্যতা (RSS)

    মুম্বইয়ে এদিনের ব্যাখান মালায় ভাগবত বলেন (Mohan Bhagwat), “সংঘের (RSS) কাজ বিশ্বে অনন্য। তথাগত বুদ্ধের পর ভারতের ইতিহাসে সংঘের মতো কাজ আর দেখা যায়নি। সংঘ কোনও আধাসামরিক বাহিনী বা রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতার বিষয়। সংঘ কারওর বিরোধিতার জন্য বা ক্ষমতার জন্য গঠিত হয়নি, বরং দেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে।”

    ইতিহাস ও সমাজ সংস্কার

    ভাষণ দিতে গিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “এও হিউম ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ব্রিটিশদের একটি ‘সেফটি ভালভ’ হিসেবে, কিন্তু ভারতীয়রা একে স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করেছিল।” তাঁর প্রশ্ন, আমাদের সমাজ কি সত্যিই একতাবদ্ধ? সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, কুসংস্কার এবং নিরক্ষরতা দূর না হওয়া পর্যন্ত জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। তাই এই লক্ষ্যে কাজ করাই আমাদের প্রধান কাজ।”

    হেডগেওয়ার ও সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা

    সংঘের (RSS) প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ার সম্পর্কে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “হেডগেওয়ার ছিলেন একজন জন্মগত দেশপ্রেমিক। ১৯২৫ সালের বিজয়াদশমীর দিন তিনি হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে সংঘের যাত্রার সূচনা করেন। সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা আজ দেশে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি সেবা প্রকল্প পরিচালনা করছেন কোনও সরকারি সাহায্য ছাড়াই। অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন করেন। ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় গ্রেফতার করেছিল।”

    শাখার ধারণা ও ঐক্য

    শাখা মানে দিনের মধ্যে এক ঘণ্টা সময় বের করে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে ভগবদ্ ধ্বজের নীচে দাঁড়ানো। সেখানে জাতি, বর্ণ বা শিক্ষার কোনও পার্থক্য নেই। এটি শরীর, মন ও বুদ্ধিকে শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম।

    হিন্দু পরিচয় ও ভারত

    ভাগবতের (Mohan Bhagwat) মতে, “ভারতে যাঁরা বাস করেন তাঁরা সবাই হিন্দু। এখানে ‘হিন্দু’ কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নাম নয়, বরং এটি একটি বিশেষণ। তিনি গুরু নানকের বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, ভারত হলো ‘ধর্ম-প্রাণ’ দেশ। ‘ধর্ম-নিরপেক্ষতা’র চেয়ে ‘পন্থ-নিরপেক্ষতা’ শব্দটি বেশি সঠিক।”

    ভারত ও বিশ্বগুরু

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “ভারত কোনও ভৌগোলিক অভিব্যক্তি নয়, এটি একটি স্বভাব বা সংস্কৃতির নাম। ভারতের লক্ষ্য হল বিশ্বকে ধর্মের পথে চালিত করা এবং সেবা করা। ভারত কোনও ‘মহাশক্তি’ (Superpower) হয়ে অন্যদের ওপর দাদাগিরি করতে চায় না, বরং এটি ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে বিশ্বকে সঠিক পথ দেখাতে চায়।” ভাগবত তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও চরিত্র থেকে সারা বিশ্ব শিক্ষা নেবে। শিবাজি মহারাজের মতো মহান ব্যক্তিত্বের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের সমাজকে শক্তিশালী করতে হবে। সংঘ (RSS) গত শত বর্ষ ব্যাপী এই কাজই করছে।”

  • RSS: “সংঘকে বুঝতে হলে অনুভব করতে হবে, সকল স্বয়ংসেবকদের স্বতন্ত্রতা দেয় সংঘ”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    RSS: “সংঘকে বুঝতে হলে অনুভব করতে হবে, সকল স্বয়ংসেবকদের স্বতন্ত্রতা দেয় সংঘ”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাগ্যনগরে (হায়দরাবাদ) ‘সংঘের ১০০ বছরের যাত্রা–নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের উদ্দেশে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (RSS) সঠিকভাবে বোঝার জন্য সংঘের অংশ হয়ে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রয়োজন। স্বয়ংসেবকদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না সংঘ। সম্পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসনের দ্বারা সকলে কাজ করেন। সংঘের আদর্শ এবং মূল্যবোধের দ্বারা কাজ করে প্রত্যেক স্বয়ংসেবক।”

    সংঘকে বোঝা সহজ নয় (RSS)

    সংঘের (RSS) কাজ গত ১০-২০ বছরে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভাগবত সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সংঘকে বোঝা সহজ কাজ নয় এবং সমাজে সংঘের সমতুল্য অন্য কোনও প্রকার কাজ নেই। ওপর ওপর দেখে বিচার করলে সংঘ (Mohan Bhagwat) সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই সংঘের অংশ হয়েই এর কাজকে প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব। সংঘের শাখায় এসে সংঘের আদর্শকে বুঝতে হবে।”

    ব্যক্তি গঠন ও দেশ গড়া

    ভাগবত জানান, সংঘের (RSS) মূল নীতি হল ব্যক্তির চরিত্র গঠন, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল, একটি শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র নির্মাণ করা। সংঘ সম্পূর্ণভাবে এই কাজের ওপরই আলোকপাত করে। ব্যক্তি যে ভাবে নির্মিত হয় তাঁকে সেই ভাবেই জীবন যাপন করতে হয়। এই কাজে অনেক সময় নেয় কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে পারেন উক্ত ব্যক্তি। সংঘ সব সময় ব্যক্তি নির্মাণের উপর কাজ করে। ব্যক্তি নির্মাণ হলে তবেই সংঘের আদর্শ বাস্তবায়ন হয়।

    সেবামূলক কাজের ধরণ

    সর সংঘ সঙ্ঘ (RSS) চালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বর্তমানে স্বয়ংসেবকরা সারা দেশে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় সেবা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন। সংঘ কেবল একটি সেবা সংস্থা নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। শাখাগুলোতে লাঠি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও এটি কোনও সাধারণ আখড়া নয়। একইভাবে সংঘের নিয়ম শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মতো হলেও এটি কোনও প্রকার আধাসামরিক বাহিনী নয়।”

    পঞ্চ পরিবর্তন

    জাতির সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) পাঁচটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। যথা-

     ১. কুটুম্ব প্রবোধন: ভজন, ভোজন, ভাষা, ভূষা, ভবন ও ভ্রমণের মাধ্যমে পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। ২. পরিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কাজ করা। ৩. সামাজিক সমরসতা: জাতিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ৪. স্বদেশী: দেশীয় পণ্য ব্যবহার ও স্বনির্ভরতা। ৫. নাগরিক কর্তব্য: সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করা।

    সাংস্কৃতিক জাগরণ

    আরএসএস (RSS) প্রধান ভাগবত স্পষ্ট করে বলেন, “সংঘ কোনো রাজনৈতিক লাভালাভের জন্য কাজ করে না। এর মূল লক্ষ্য হলো সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সঠিক মানসিকতার মানুষ ও সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা।”

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

    ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “প্রতিটি দেশ তার জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী চলে এবং ভারতকেও নিজের স্বার্থে আপষহীন হতে হবে। ভারত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী হলেই বিশ্ব দরবারে প্রভাব ফেলতে পারবে।”

    ভাগবত পরিশেষে বলেন, সংঘের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। সমাজকে জাগ্রত করার এই প্রক্রিয়া জারি থাকবে। যারা সংঘের (RSS) মতো কাজ স্বতন্ত্রভাবে করছেন, তাদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান। তিনি আহ্বান জানান, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যেন নিজেদের আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করেন, যাতে সমাজ তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারে।

  • Mohan Bhagwat: “জাতীয় ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হিন্দু সমাজের ঐক্যই মূল চাবিকাঠি,” বললেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “জাতীয় ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হিন্দু সমাজের ঐক্যই মূল চাবিকাঠি,” বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতকে এগিয়ে যেতে হবে এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূল হলেও চ্যালেঞ্জও কম নয়। ভারতের অগ্রগতিতে কিছু দেশ অস্বস্তি বোধ করছে, কারণ তারা ভয় পাচ্ছে যে এতে তাদের নিজেদের ‘দোকান’ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা ভারতের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।” মুজাফফরপুরে ‘সামাজিক সদ্ভাব গোষ্ঠী’-তে ভাষণ দেওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসংঘ চালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) এই কথাগুলি বলেন। তাই তাঁর কথায়, “ভয় জয় করতে স্বনির্ভরতা অপরিহার্য এবং স্বনির্ভরতার মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।”

    সামাজিক সম্প্রীতি (Mohan Bhagwat)

    সংঘের (RSS) সর সংঘ চালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) জোর দিয়ে বলেন, “বিশ্বে সামাজিক সম্প্রীতি অত্যন্ত প্রয়োজন। সম্প্রীতি না থাকলে মানুষ একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের ধ্বংস করে ফেলবে। কোনও বিদেশি শক্তি কেবল গায়ের জোরে ভারতকে পরাধীন করতে পারেনি। তারা সফল হয়েছিল আমাদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগ নিয়ে। যখন সমাজে সম্প্রীতি বজায় থাকে, তখন মানুষ একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয় এবং অনেক সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হয়ে যায়।”

    সমাজের জাগরণ

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) সমাজ জাগরণ প্রসঙ্গে বলেন, “সমাজ এখন জাগ্রত হচ্ছে এবং দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য ব্লক বা মহকুমা স্তরের নেতাদের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। সমাজ নিজেই এখন উদ্যোগ নিতে পারে।”

    সিস্টেম বনাম সমাজ

    সিস্টেম সম্পর্কে বলতে গিয়ে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “সমস্যা কেবল ব্যবস্থার (System) মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। সমস্যার হাত থেকে মুক্তি তখনই আসবে যখন সমাজ একসঙ্গে বসে আলোচনা করবে। সংঘ সমাজকে জাগিয়ে তোলার কাজ করছে। ব্লক স্তরে যারা সামাজিক ও জাতিগত সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের উচিত সমাজের বস্তুগত ও নৈতিক উন্নতির কথা ভাবা।

    সেবা ও ঐক্য

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “কেবল বিত্তবানরাই যে সমাজের সেবা করেন তা নয়। যাঁদের মধ্যে সম্প্রীতির ভাব গড়ে ওঠে, তাঁরাই প্রকৃত অর্থে আর্ত ও বঞ্চিতদের সেবা করতে পারেন। গ্রাম ও ব্লক স্তরে সংঘ বৈঠকের আয়োজন করবে যাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এক হয়ে বসে আলোচনা করতে পারে। যখন সবাই একসঙ্গে বসে সমস্যা নিয়ে ভাববে, তখন কোনও বিদেশি শক্তি হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করতে পারবে না।

    জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও হিন্দু রাষ্ট্র

    জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু সমাজকে তিনটি সন্তান নিতে কেউ বাধা দেয়নি, যদিও সরকার ২.১ প্রতিস্থাপন হারের (replacement rate) সুপারিশ করে। ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ (RSS) ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি ইতিমধ্যেই একটি হিন্দু রাষ্ট্র।

    বিভাজন দূরীকরণ

    সামাজিক বিভাজন নিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “ব্রিটিশরা বিভাজন বাড়িয়ে রাজত্ব করেছিল। এখন সেই বিভাজনগুলো দূর করে হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের চেয়ে হিন্দু সমাজের ঐক্য (RSS) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সমৃদ্ধির জন্য এই ঐক্য অপরিহার্য।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক ও জাতিগত সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় বিভিন্ন সেবাধর্মী সংস্থা কাজ করেছে। দরিদ্র কন্যাদের বিবাহ দেওয়া, শিশুদের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান বিষয়ে একাধিক সংগঠন কাজ করেছে। তাই বিভাজন দূরকরে সকলের পাশে দাঁড়িয়ে সকলের সঙ্গে ভাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

  • Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাতীয় স্বার্থ কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের একচেটিয়া বিষয় হতে পারে না। এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এদিন তিনি সৌরাষ্ট্র–কচ্ছ অঞ্চলের রাজকোটে অনুষ্ঠিত ‘প্রমুখজন বিচার গোষ্ঠী’তে ভাষণ দেন। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    সংঘের কার্যপ্রণালী (Mohan Bhagwat)

    ভাগবত বলেন, “অবহেলা, বিরোধিতা ও বারবার নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, আরএসএস যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা একমাত্র হিন্দু সমাজের আশীর্বাদেই সম্ভব হয়েছে। যাঁরা জাতির জন্য কাজ করেন, তাঁরা সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকুন বা না থাকুন, আরএসএস তাঁদের নিজেদের স্বয়ংসেবক হিসেবেই মনে করে।” সংঘের কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করে ভাগবত বলেন, “আরএসএস কাউকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা করে না। সংঘের কাজের ভিত্তি হল সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক স্নেহ ও আত্মীয়তার অনুভূতি। শাখা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূল্যবোধ সঞ্চার করা হয় এবং স্বয়ংসেবকদের প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীকালে তাঁরা নিজেদের বিবেক ও বিচক্ষণতার ভিত্তিতে সমাজকল্যাণের সিদ্ধান্ত নেন।”

    হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা

    হিন্দুত্বের ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা। সংঘ ভারতের সংবিধানের সঙ্গে একই দার্শনিক ভিত্তিতে কাজ করে। ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র, এই কারণেই এখানে সব পথ, সম্প্রদায় ও ঐতিহ্যকে স্বাগত জানানো হয় এবং সম্মান করা হয়।” সরসংঘ চালক বলেন, “‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, এই ভারতীয় নীতি সত্যিকারের বিশ্বায়নের প্রতীক। অন্য দেশগুলি বিশ্বকে বাজার হিসেবে দেখে (RSS), আর আমরা বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখি (Mohan Bhagwat)।” প্রশ্নোত্তর পর্বে সরসংঘচালক বলেন, “জেন-জেড প্রজন্মের তরুণরা ‘সাদা খাতা’র মতো এবং তারা গভীরভাবে সৎ। সমাজকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল রপ্ত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভু হতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন মানুষের প্রভু না হয়ে ওঠে, এবং তা জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে।”

    মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তির প্রয়োজন

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রতিবেশী এক দেশে হিন্দু–মুসলিম বিদ্বেষ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে, এমন বিভাজনমূলক চিন্তা ভারতে ছড়াতে দেওয়া যাবে না।” তিনি বলেন, “দুর্নীতি ব্যবস্থার চেয়ে মানুষের মনে বেশি বিদ্যমান, আর মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তি গড়ে উঠলেই দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব।” রাজকোটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে বিশেষ পরিবেশবান্ধব কলম ব্যবহার করা হয়, ব্যবহার শেষে সেগুলি টবে রোপণ করা হলে মাটিতে মিশে গিয়ে উদ্ভিদে পরিণত হয়। এই উপলক্ষে পশ্চিম ক্ষেত্র সংঘচালক জয়ন্তিভাই ভাদেশিয়া, সৌরাষ্ট্র প্রান্ত সংঘচালক মুকেশভাই মালাকান-সহ (RSS) শিল্পপতি, চিকিৎসক, আইনজীবী ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন (Mohan Bhagwat)।

  • Mohan Bhagwat: “সংঘের উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত করা”, বললেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “সংঘের উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত করা”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কৃষ্ণচেতন সমাজ সংগঠন ইসকনের (ISKCON) প্রবক্তা শীল প্রভুপাদের ভক্তিবেদান্ত সমগ্র জীবন মানবজাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতনী মূল্যবোধ ও ভগবত গীতার সার্বজনীন বার্তা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ইসকন সমগ্র মানব সমাজকে নতুন দিক দেখিয়েছে— এভাবেই মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এর সরসংঘ চালক মোহন ভগবত। সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে সরসংঘ চালক মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, সংঘের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ধর্মীয় কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

    বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ভারত(Mohan Bhagwat)

    গত ১০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে চন্দ্রোদয় মন্দিরে যান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এরপর সংঘের কাজ সম্পর্কে বলেন, “সংঘ এবং চন্দ্রোদয় মন্দিরের (ISKCON) সঙ্গে যুক্ত ভক্তদের উদ্দেশ্য শুধু ধর্মীয় কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ নয় বরং ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, মানশীল শিক্ষাদান, সমাজসেবার মাধ্যমে ও সামাজিক সামঞ্জস্য রক্ষা করে ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। সমাজ, দেশ এবং রাষ্ট্রের জন্য সম্পূর্ণ সমর্পণ ভাব হল ধর্মীয় উপলব্ধির প্রধান উদ্দেশ্যে। তাই ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্রভক্তি একান্ত অপরিহার্য।”

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি বার্তালাপে পড়ুয়াদের শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সেবার গুরুত্ব উপলব্ধির বিষয়কে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়েছে আলোচনা করেছে। পড়ুয়াদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সরসংঘ চালক বিশেষ ভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি মন্দিরে শ্রী রাধা বৃন্দাবন চন্দ্রের দর্শনও করেছেন এবং সমাজের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেছেন।

    ভগবতগীতা অ্যাজ ইট ইজ- গ্রন্থ পরিদর্শন

    চন্দ্রোদয় (ISKCON) মন্দিরের জনসংযোগ প্রধান ভারতারিষভ দাস জানিয়েছেন, মন্দির পরিদর্শনের পর মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) শ্রীল প্রভুপাদকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। “ভগবতগীতা অ্যাজ ইট ইজ”- গ্রন্থের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত সংস্করণগুলো পরিদর্শন করে দেখেছেন। একাধিক নির্মাণাধীন মন্দির ভবনের মডেলও দর্শন করেছেন। সেই সঙ্গে মন্দিরের আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যও ব্যাখ্যা করেছেন। এদিন মোহন ভাগবতের সঙ্গে সংঘের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • RSS: “সংঘের পরিবর্তন হচ্ছে না, ধীরে ধীরে বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করছে”, বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “সংঘের পরিবর্তন হচ্ছে না, ধীরে ধীরে বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করছে”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সংঘ বিকশিত হচ্ছে এবং নতুন রূপে নিজেকে প্রকাশ করছে, আর একেই জনসমাজ মনে করে যে সংঘ পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে, সংঘ পরিবর্তিত হচ্ছে না, এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন রূপে নিজেকে প্রকাশ করছে। ঠিক একটি বীজ থেকে গাছ হওয়ার প্রক্রিয়ার মতো।” রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক ড. মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) দিল্লিতে কেশব কুঞ্জ, ঝাণ্ডেওয়ালায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে “১০০ ইয়ার্স অফ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ–শতক” সিনেমাকে ঘিরে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। এই সিনেমার দুটি গান—“ভারত মা কে বাচ্চে” এবং “ভগওয়া হ্যায় মেরি পেহচান” প্রকাশিত হয়। এই গানগুলিতে কণ্ঠ দিয়েছেন গায়ক সুখবিন্দর সিং।

    জন্ম থেকেই দেশপ্রেমিক ছিলেন ডাক্তারজি (Mohan Bhagwat)

    “শতবর্ষ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ” অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে ড. মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)  বলেন, “সংঘ এবং ডাক্তার সাহেব সমার্থক। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের মনস্তত্ত্ব গবেষণা ও অধ্যয়নের বিষয়। যখন ডাক্তার সাহেবের বাবা-মা একই দিনে, এক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যান, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। এত অল্প বয়সে, এমন একটি মারাত্মক ধাক্কা সাধারণত মানসিক বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে চলে যায়। তবে, এই আঘাত ডাক্তারজীর মনে বিরূপ প্রভাব ফেলেনি। তিনি নিশ্চয়ই অপরিমেয় দুঃখ অনুভব করেছিলেন, যা কল্পনাও করা যায় না, কিন্তু তাঁর প্রকৃতি বা ব্যক্তিত্বের উপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ডাক্তারজি জন্ম থেকেই দেশপ্রেমিক ছিলেন। মনকে বিচলিত না হতে দিয়ে বড় আঘাতগুলিও সহ্য করার ক্ষমতা তাঁর সহজাত ভাবেই হয়তো ছিল। তিনি একজন শক্তিশালী এবং সুস্থ মনের প্রতিবিম্ব।”

    অটল দেশপ্রেম এবং শক্তি প্রদর্শন

    ড. মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) আরও বলেন, “ডাক্তার হেডগেওয়ারের জীবন আরএসএস-এর চেতনাকে মূর্ত করে তুলেছিলেন। তাঁর কাছে সংকল্প ছিল সর্বদা ভারত প্রথমে। ‘শতক’ সিনেমা এবং এর গান ‘ভগওয়া হ্যায় আপনি পেহচান’ অটল দেশপ্রেম এবং শক্তি প্রদর্শন করে। আরএসএস পরিবর্তিত হচ্ছে না; এটি বিকশিত হচ্ছে, তার মূলে অখণ্ড সনাতন সত্য রয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি না বলা গল্পগুলিকে প্রকাশিত করেছে। ড. হেডগেওয়ার মানুষকে একত্রিত করার এবং জীবনের চ্যালেঞ্জগুলিকে শান্তভাবে সামলানোর জন্য ক্ষমতাকে কীভাবে অর্জন করতে হবে সেই কথা বলেন। তাই আজকের এই প্রভাবশালী উদ্যোগের জন্য আমার পক্ষ থেকে দলের প্রতি শুভ কামনা রইল।”

    দেশসেবার সমতুল্য

    অনুষ্ঠানে যোগদান করে গায়ক সুখবিন্দর সিং বলেন, “মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)  জির হাত ধরে আমার গান ‘ভগওয়া হ্যায় আপনি পেহচান’ প্রকাশ হওয়ায় আমি অভিভূত। তাঁর উপস্থিতি একটি আশীর্বাদ এবং তাঁর দূরদর্শিতা আমাদের অনুপ্রাণিত করে সবসময়। আমি পরিচালকের ভাবনাকে পছন্দ করেছি। সরলতা কিন্তু প্রভাব রয়েছে। ইতিহাসকে ফিরে দেখে সিদ্ধান্তগুলিকে মূল্যায়ন করা উচিত। এই গানটি কেবল একটি পেশাগত কারণে গান নয়, সম্পূর্ণ ভাবে দেশসেবার সমতুল্য। আমি এতে আমার হৃদয় ঢেলে দিয়েছি, আশা করি এটি সবার কাছে পৌঁছাবে। এই গানটি হিন্দুস্তানের আসল চেতনাকে তুলে ধরে।”

    “১০০ ইয়ার্স অফ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ–শতক” চলচ্চিত্রটি বীর কাপুর এবং আশীষ মাল পরিচালনা করেছেন। এদিনের অনুষ্ঠানে আরএসএস অখিল ভারতীয় কার্যকারিনি সদস্য সুরেশ জোশী, গায়ক সুখবিন্দর সিং এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

LinkedIn
Share