মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় আয়োজিত “সংঘের ১০০ বছরের যাত্রা – নতুন দিগন্ত” শীর্ষক বক্তৃতামালার প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ভূমিকা, উদ্দেশ্য ও ভাবনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবত। রবিবার সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তিনি সংঘকে ঘিরে প্রচলিত নানা ভুল ধারণার জবাব দেন।
সংঘ কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়
ড. ভাগবত বলেন, সংঘের স্বয়ংসেবকেরা (RSS) প্যারেড করেন ঠিকই, কিন্তু তাদের প্যারামিলিটারি সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি জানান, স্বয়ংসেবকেরা দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবামূলক কাজ করেন। তিনি বলেন, সংঘের বহু কর্মী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে কাজ করেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সংঘ কোনও রাজনৈতিক সংগঠন। সংঘ কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়নি। এটি কোনও প্রতিক্রিয়ার ফলও নয়।
সংঘের (RSS) কোনও শত্রু নেই
সরসংঘচালকের কথায়, সংঘের কোনও শত্রু নেই। তবে সংঘ বড় হলে যাঁদের স্বার্থে আঘাত লাগে, তাঁরাই বিরোধিতা করেন এবং মিথ্যা প্রচার চালান। সংঘ চায়, মানুষ যেন বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সংঘকে বিচার করে, ভুল প্রচারের ভিত্তিতে নয়। ড. ভাগবত বলেন, সংঘের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এমন একটি সমাজ গড়ার জন্য, যা ভবিষ্যতে বিশ্বে ভারতের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ভারত বিশ্বগুরু হবে—এই লক্ষ্যেই সমাজকে প্রস্তুত করার প্রয়াস সংঘের।
হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার কাজ করে (RSS)
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংঘ বিশুদ্ধভাবে হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার জন্য শুরু হয়েছিল। কাউকে ধ্বংস করা বা বিরোধিতা করা সংঘের লক্ষ্য নয়। সম্পূর্ণ হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করাই উদ্দেশ্য। ড. ভাগবত জানান, ১৮৫৭ সালের বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ার পর একটি বড় প্রশ্ন উঠে আসে—যোগ্য যোদ্ধা, শাসক ও বিদ্বান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অল্প কয়েকজন ইংরেজ ভারত শাসন করল। এই চিন্তা থেকেই সংগঠনের ভাবনা তৈরি হয়।
হেডগেওয়ারের জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন
তিনি (Mohan Bhagwat) ড. হেডগেওয়ারের জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। জানান, মাত্র ১১ বছর বয়সে ড. হেডগেওয়ার বাবা-মাকে হারান। তাঁরা প্লেগ রোগীদের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও ড. হেডগেওয়ার মেধাবী ছাত্র ছিলেন। দেশসেবাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। ড. ভাগবত বলেন, ড. হেডগেওয়ার কখনও ব্রিটিশ শাসন মেনে নেননি। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, স্বাধীনতা আমাদের জন্মগত অধিকার। তিনি চাকরি করেননি, বিবাহ করেননি। গ্রামে গ্রামে ঘুরে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নেন এবং রাজদ্রোহের মামলার মুখোমুখি হন।
ভারত চিরকাল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দেশ
সরসংঘচালক (Mohan Bhagwat) বলেন, ভারত কোনও নতুন রাষ্ট্র নয়। ইংরেজদের আগেও এই দেশ ছিল। ভারত চিরকাল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দেশ। হিন্দু কোনও একক ধর্ম বা উপাসনা পদ্ধতি নয়। হিন্দু একটি স্বভাব। যে এই সংস্কৃতি, এই ভূমিকে মানে, সে-ই হিন্দু। তিনি বলেন, হিন্দু মানে সর্বসমাবেশী চিন্তা। সকলের মঙ্গল ভাবাই হিন্দু স্বভাব। এই বৈচিত্র্যই ভারতের সৌন্দর্য। ড. ভাগবত জানান, সংঘের কাজের পদ্ধতি অনন্য। ব্যক্তি গঠনের মাধ্যমে সমাজকে সংগঠিত করাই লক্ষ্য। সংঘের শাখা মানে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ভুলে এক ঘণ্টা দেশের কথা ভাবা। তিনি বলেন, সংঘ সমাজের ভেতরে আলাদা কোনও শক্তিকেন্দ্র গড়তে চায় না। সমাজকেই সংগঠিত করতে চায়। ভালো কাজ যেখানে হচ্ছে, সেখানে নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতা করাই সংঘের নীতি। সবশেষে ড. ভাগবত বলেন, সংঘ থেকে তৈরি হওয়া স্বয়ংসেবকেরা সমাজের সব ক্ষেত্রে কাজ করছেন। দেশের কল্যাণে যে কোনও সৎ উদ্যোগে সংঘ সবসময় পাশে থাকে।







