Tag: Monsoon diseases

Monsoon diseases

  • Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বৃষ্টির দাপট অব্যাহত! উত্তর থেকে দক্ষিণ একটানা বৃষ্টি চলছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর পাশাপাশি দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও একনাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। এই পরিস্থিতিতে টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেই জনস্বাস্থ্যে বড় সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোথায় টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে গত এক মাসে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বেশি। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয়। এক স্বাস্থ্য কর্তা জানান, আগষ্ট মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে টাইফয়েড। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশি শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টাইফয়েড রুখতেও প্রশাসন বাড়তি সতর্ক ও সক্রিয় থাকছে।

    কী বলছে আইসিএমআর?

    দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষা বলছে, গত কয়েক বছরে দেশ জুড়ে টাইফয়েডের দাপট অব্যাহত। গত বছরেও দেশে ৪৭ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারমধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষ এই রোগে মারা যান। তাই টাইফয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। তবেই বড় বিপদ আটকানো যাবে।

    কেন টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া নামে এক ব্যাকটেরিয়ার জেরেই টাইফয়েড হয়। এই ব্যাকটেরিয়া বারবার প্রকৃতি বদল করছে। এর ফলে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে। আবার চিকিৎসা করাও বেশ কঠিন হয়ে উঠছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির জল জমে আবার নিকাশি ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত কাজ করে না। সব মিলিয়ে চারপাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর তার জেরেই টাইফয়েড রোগের প্রকোপ বাড়ছে। টাইফয়েড মূলত জলবাহিত অসুখ। অপরিচ্ছন্ন জল থেকেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। তারপরে জটিল রোগ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    কী কী দাওয়াই স্বাস্থ্য দফতরের ?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, টাইফয়েড রুখতে রাজ্য জুড়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বর্ষার মরশুমে এ রাজ্যে টাইফয়েডের প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই রাজ্য জুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হবে।

    জনসচেতনতায় বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, টাইফয়েডের মতো রোগ রুখতে জনসচেতনতা খুবই জরুরি।‌ পচা ও বাসি খাবার, অপরিশ্রুত জল থেকেই টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়। তাই এই মরশুমে খাবার ও জল নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। প্রত্যেক এলাকায় এই নিয়ে সচেতনতা চালাবেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। শিশুদের খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা, পরিশ্রুত জল খাওয়ার দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হবে। খাবারের পাশপাশি শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতনতা চলবে। শৌচালয় থেকে একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাড়ির শৌচালয় যাতে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সে নিয়েও প্রচার কর্মসূচি চলবে। টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়ার দাপট কমানো যায়।

    এলাকা পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি নজরদারি!

    বর্ষার মরশুমে যেকোনো রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এলাকার পরিচ্ছন্নতা। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ হোক কিংবা টাইফয়েডের মতো ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ, যেকোনো রোগের নেপথ্যে থাকছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ‌। তাই পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে একযোগে সমন্বয় রেখে স্বাস্থ্য দফতর এই কাজ চালিয়ে যাবে। যাতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য সংক্রমণের দাপট না বাড়ে, সে দিকে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

    স্কুল স্তর থেকেই স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে সচেতনতা!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলস্তর থেকেই এবার স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। শৌচালয়ে ঠিকমতো জলের ব্যবহার, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধির নানান দিক সম্পর্কে শিশুরা অবগত হলে টাইফয়েডের দাপট কমানো সহজ হবে‌ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বাড়তি গুরুত্ব!

    টাইফয়েডে বড় বিপদ রুখতে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করানোয় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।‌ স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই আক্রান্ত দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছয়। ফলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তাই টানা তিন‌দিন জ্বর হলেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে। রোগীর হয়রানি কমাতে সমস্ত হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। তবে মশাবাহিত এই রোগে শুধু সংক্রমণের দাপটের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে না। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগের বদলে যাওয়া প্রকৃতি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে, রোগের চরিত্র বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ম্যালেরিয়ার দাপটকে কাবু করতে আরো সক্রিয় ওষুধ তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। খোদ কলকাতাতেই পরীক্ষা চলছে। আক্রান্তের কাছে একটা ডোজ পৌঁছে গেলেই, ম্যালেরিয়ার দাপট কমবে। গবেষকেরা এমনটাই আশা করছেন।

    কেন ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার বদল হচ্ছে। পৃথিবী জুড়েই জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ইউরোপের দেশগুলোর পাশপাশি ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিশাল প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যে। একাধিক রোগের প্রকৃতি বদল হচ্ছে। নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার চরিত্র ও বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের জেরে বদলে গিয়েছে ম্যালেরিয়ার চরিত্র। মশাবাহিত এই রোগ আগের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

    বদলে যাওয়া রূপে কতখানি বিপদ বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাই ম্যালেরিয়া তুলনামূলক কম বিপজ্জনক বলেই মনে হয়। কিন্তু চরিত্র বদল করে ম্যালেরিয়া ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাধারণত দুই তিন দিন জ্বরের পরে পরীক্ষা করিয়ে আক্রান্ত সংক্রমণের বিষয়ে জানতে পারেন। তারপরে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু নতুন চরিত্রের এই ম্যালেরিয়া মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই শরীরে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত অন্ত্র, লিভার, মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে, শরীরের সক্রিয়তা কমছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বাজার চলতি ওষুধে রোগ প্রতিরোধ করতে যে সময় নিচ্ছে, তাতে আক্রান্তের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠছে। ফলে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ম্যালেরিয়া সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

    নয়া দাওয়াইয়ে কেন বাড়তি ভরসা?

    কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন ওষুধের পরীক্ষা চলছে। প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শেষের দিকে। কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ওষুধ ম্যালেরিয়ার বাড়তি সঙ্কটের বোঝা কমাতে পারবে। তাঁরা আশাবাদী, ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হয়ে যাওয়ায়, যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নতুন ওষুধ বাড়তি সাহায্য করবে। নতুন ওষুধের চতুর্থ পর্বের ট্রায়াল চলছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ওষুধ মাত্র একটা ডোজেই কাজ করবে। যে কোনও রকমের ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে এক ডোজেই সাহায্য হবে। বাজার চলতি ম্যালেরিয়ার ওষুধ একাধিকবার খেতে হয়। ম্যালেরিয়া এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত নিরাময় জরুরি। না হলেই লিভার, অন্ত্র ও মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই ম্যালেরিয়া দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করবে, এমন ওষুধ প্রয়োজন। নতুন ওষুধ সেই কাজে সক্ষম হবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কলকাতা ও তার আশপাশে কেন বাড়ছে ম্যালেরিয়ার দাপট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছরেই ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে একদিকে ম্যালেরিয়া আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আবার আরেকদিকে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জনসচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া সহ একাধিক জেলায় দাপট বাড়াচ্ছে। গত বছরেও জুন মাস থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরেও এই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় অধিকাংশ জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় মারাত্মক জল জমে। একদিন বৃষ্টি হলেই কয়েক দিন ধরে জমা জলের ভোগান্তি থাকে। এগুলো মশার বংশবিস্তার করে। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন বাগান, বাড়ির আশপাশের এলাকায় জল জমলেও মশাবাহিত রোগের দাপট বাড়তে থাকে। তাই ম্যালেরিয়ার দাপট ও বাড়ে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রচন্ড জ্বর, তীব্র মাথার যন্ত্রণা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে ম্যালেরিয়া মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

  • Waterborne Diseases: ফুচকা থেকে কাটা ফল— বর্ষায় এই খাবারগুলো সবচেয়ে বিপজ্জনক? সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

    Waterborne Diseases: ফুচকা থেকে কাটা ফল— বর্ষায় এই খাবারগুলো সবচেয়ে বিপজ্জনক? সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে কোচিং ক্লাস থেকে ফেরার সময় হোক কিংবা অফিস থেকে বেরিয়ে, দিনভরের ক্লান্তি দূর করতে আর মেজাজ ফুরফুরে রাখতে, রাস্তায় সাজানো থাকে নানান পসরা! জিভে জল আনা খাবারের কমতি নেই সেখানে! রাস্তার পাশে কম দামে সহজেই নানান খাবার! আর তাতেই মজে আট থেকে আশি! স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে অফিস যাত্রী কমবেশি সকলেই সন্ধ্যার মুখরোচক খাবারে নজর থাকে। লেবু আর তেঁতুল জল দেওয়া ফুচকা হোক কিংবা মিষ্টি রঙিন সরবত, দিনের নানান ক্লান্তি কাটাতে, এমন মুখোরোচক খাবারের তুলনা নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই জিভে জল আনা খাবারেই বিপদ বাড়ছে! বিশেষত বর্ষার ভোগান্তি বাড়াবে এই ধরনের খাবার। সাবধানতা বজায় রাখতে না পারলেই সঙ্কট বাড়তে পারে।

    কোন কোন খাবারে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষায় জলবাহিত রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত রাজ্যের একাধিক জায়গায় যেভাবে জমা জলের সমস্যা রয়েছে, তার জেরে বর্ষায় রোগের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় সুস্থ থাকতে তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি বাড়ায় জলবাহিত রোগ।

    ফুচকা

    পেটের অসুখ, টাইফয়েড এমনকি নানান রকমের হেপাটাইটিসের নেপথ্যে থাকে অপরিশ্রুত জল। ফুচকার মতো খাবার থেকে লিভার এবং পাকস্থলীর অসুখের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, ফুচকার সঙ্গে তেঁতুল ও লেবুর রস মেশানো জল খাওয়া হয়। এই জল সব দোকানে সমান পরিশ্রুত থাকে না। ফলে সেই জল থেকে নানান অসুখের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্ষায় যে কোনও জায়গায় জলে সহজেই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ফুচকা থেকে তাই সহজেই রোগ সংক্রমণ হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রঙিন সরবত

    ফুচকার পাশপাশি রঙিন সরবত নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ প্রচন্ড বৃষ্টি হলেও, রোদের পারদ যথেষ্ট থাকছে। আবহাওয়ার রকমফেরে অস্বস্তি বাড়ছে। এর ফলে সাময়িক আরাম পাওয়ার জন্য অনেকেই রাস্তায় নানান রকমের রঙিন সরবত খাচ্ছেন। কিন্তু এই ধরনের রঙিন সরবত ভোগান্তি বাড়াতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, রঙিন সরবতে যে জল ব্যবহার করা হয়, অনেক সময়েই তার গুণমান ঠিক থাকে না। তাছাড়া, রাস্তার ধুলো-বালি মিশে, সেই জলের মানের অবনমন ঘটে। সব মিলিয়ে সেই সরবত থেকে সহজেই লিভারে যে কোনও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

    কাটা ফল

    বর্ষার মরশুমে বাজারে কাটা ফল বা ফ্রুট চাট জাতীয় খাবার বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে ডায়েরিয়া-কলেরার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ে। বর্ষার জমা জল ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এই ধরনের রোগের দাপট বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে খাবারের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সজাগ থাকা জরুরি। রাস্তার কাটা ফল বা ফ্রুট চাট জাতীয় খাবারে যে ধরনের ফল ও মশলা ব্যবহার করা হয়, এতে কলেরার মতো রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, কাটা ফলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তাই এই ধরনের খাবার থেকে বর্ষার রোগের দাপট বাড়তে পারে।

    কোন ধরনের রোগ নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষায় সবচেয়ে বেশি বিপদ বাড়ায় লিভারের অসুখ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস এ-সহ একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও ডায়ারিয়া, টাইফয়েডের মতো রোগের দাপট ও বাড়ে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা এবং খাবার খাওয়ার জেরেই এই ধরনের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। জন্ডিস, টাইফয়েডের মতো রোগে লিভার কিংবা অন্ত্রের জটিল সমস্যার পাশপাশি লিভার বা পাকস্থলীর সংক্রমণ থেকে জ্বর, পেট ব্যথা, বমির মতো দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলেও জানাচ্ছেন তাঁরা। এছাড়াও পেটের সাধারণ রোগ ও হজমের গোলমালের সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কয়েক দিন বৃষ্টি না হলেই তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। অস্বস্তি বাড়ছে। রোদের দাপটে নাজেহাল। আবার একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে হঠাৎ করেই তাপমাত্রার পারদ কমে যাচ্ছে। আবার প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টির জেরে জল জমে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে একদিকে পরিবেশের এই তারতম্য, আরেকদিকে জমা জলের দূর্ভোগ, মানুষের স্বাস্থ্য ভোগান্তিও বাড়াতে পারে। তাই বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ভোগান্তি কমাতে কী করতে হবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার রোগের দাপট কমাতে সবচেয়ে জরুরি সচেতনতা। সতর্ক থাকলেই সংক্রামক রোগের দাপট কমবে। তাই তাঁদের পরামর্শ, খোলা খাবার খাওয়া একেবারেই চলবে না। বরং পরিষ্কার জায়গায় খাবার খাচ্ছেন কিনা, এই আবহাওয়ায় সে নিয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। পরিশ্রুত পানীয় জল খেতে হবে। যাতে জলবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। জল পরিশ্রুত কিনা সেদিকে নজর দেওয়ার পাশপাশি যে পাত্রে জল রাখা হচ্ছে এবং যে পাত্রে জল খাওয়া হচ্ছে, সেটা ঠিক আছে কিনা, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কারণ সেগুলো থেকেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। শৌচালয় ব্যবহারের পরে এবং খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে হাত ধোয়ার ব্যাপারে বাড়তি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যাতে কোনও রকম জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি না হয়।

LinkedIn
Share