Tag: NASA

NASA

  • Sunita Willams: মহাকাশে ৯ মাস সঙ্গী ছিল গণেশ মূর্তি, গীতা থেকেই প্রেরণা পেয়েছিলেন সুনীতা

    Sunita Willams: মহাকাশে ৯ মাস সঙ্গী ছিল গণেশ মূর্তি, গীতা থেকেই প্রেরণা পেয়েছিলেন সুনীতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আট দিনের জন্য মহাকাশে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ ৯ মাস ইন্ট্যারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে কাটান সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Willams)। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতাকে মহাশূন্যে প্রেরণা দিয়েছিল ভগবদ্গীতা (Bhagvad Gita)। পৃথিবীর বাইরে এই দীর্ঘ সময় নিজের শিকড় ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে ধরে রেখেছিলেন সুনীতা। নিজের সঙ্গে একটি গণেশ মূর্তি নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সুনীতা জানান, ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় প্রতীক তাঁকে মানসিক শান্তি দেয় এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি আরও মনোনিবেশ করার শক্তি জোগায়।

    গীতার বার্তা ও আধ্যাত্মিক শক্তির আশ্রয়

    প্রথম মহাকাশ অভিযানে (২০০৬ সালে) সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Willams) ভগবদ্গীতার (Bhagvad Gita) একটি কপি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, গীতার কর্মযোগের বার্তা জীবনের প্রতিটি সংগ্রামে জয়ী হতে সাহায্য করে। মহাশূন্যের নিঃসঙ্গতা ও চাপের পরিস্থিতিতেও গীতার শিক্ষা তাঁকে মানসিকভাবে শক্তিশালী রেখেছে। ২০১২ সালে দ্বিতীয়বার মহাকাশ ভ্রমণের সময় তিনি শিবের একটি ছবি এবং ওঁ প্রতীক সঙ্গে রেখেছিলেন। মহাশূন্যে এই আধ্যাত্মিক শক্তির সংস্পর্শে থাকায় তিনি আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য ধরে রাখতে পেরেছিলেন।

    গণেশের প্রতি বিশ্বাস

    ২০২৪ সালের অভিযানে যাওয়ার সময়ও সুনীতা গণেশের একটি মূর্তি তাঁর সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, গণেশের আশীর্বাদ তাঁকে সমস্ত বাধা থেকে রক্ষা করে। মহাকাশযানের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ৯ মাস মহাকাশে আটকে থাকলেও গণেশের প্রতি তাঁর বিশ্বাস অটুট ছিল। তিনি মনে করেন, গণেশ তাঁর জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক এবং সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের শক্তি।

    দোল মাতার আশীর্বাদ

    সুনীতা উইলিয়ামসের (Sunita Willams) পৈতৃক গ্রাম ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগরের কাছে ঝুলসান। এখানে অবস্থিত কুলদেবী দোল মাতার মন্দিরের প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাস। প্রথম অভিযানের আগে তিনি এই মন্দির থেকে প্রসাদ হিসেবে একটি চুনারি নিয়ে গিয়েছিলেন। মহাকাশযাত্রায় যাওয়ার আগে তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য গ্রামে দোল মাতার মন্দিরে টানা ৯ মাস ধরে বিশেষ প্রার্থনা চলেছে। মন্দিরে অখণ্ড জ্যোতি প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছিল এবং তাঁর নিরাপত্তার জন্য ধারাবাহিক প্রার্থনা করা হয়েছিল।

    মহাকাশে ভরসা আধ্যাত্মিকতা 

    সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Willams) শুধু একজন বিজ্ঞানী বা মহাকাশচারী নন, বরং তিনি আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী এক সাহসী নারী। মহাকাশের নিঃসঙ্গতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি আধ্যাত্মিক বিশ্বাসকে শক্তির উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুনীতার কথায়, এই ধর্মীয় উপকরণ তাঁকে মহাকাশের নির্জন পরিবেশে মনের জোর ধরে রাখতে সাহায্য করে।

  • Sunita Williams: ‘‘পৃথিবী আপনাদের মিস করছিল’’, সুনীতা ফিরতেই উচ্ছ্বাস প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Sunita Williams: ‘‘পৃথিবী আপনাদের মিস করছিল’’, সুনীতা ফিরতেই উচ্ছ্বাস প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:ঘরের মেয়ে গিয়েছিল মহাকাশ-জয়ে। মহাশূন্যেই আটকে পড়েছিল দীর্ঘ ৯ মাস। অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাঃস। পৃথিবীতে ফিরলেন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর। সঙ্গে আরও ২ নভশ্চর। তাঁদের স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। লিখলেন, “ওয়েলকাম ব্যাক, ক্রু৯! পৃথিবী আপনাদের মিস করছিল।” ভারতের সঙ্গে যে নাসার (NASA) মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের (Sunita Williams) নিবিড় যোগ রয়েছে তা সকলের জানা। তাই দীর্ঘ ৯ মাস পর তাঁর সুরক্ষিতভাবে মহাকাশ থেকে ফিরে আসায় উচ্ছ্বসিত প্রত্যেক ভারতবাসীও। চলতি বছরেই ভারতে আসতে পারেন সুনীতা, এমনই খবর দিলেন তাঁর পরিবারের লোকেরা।

    অধ্যবসায়ের আসল অর্থ বোঝালেন সুনীতা

    বুধবার ভোর-রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ ফ্লোরিডায় অবতরণ করে স্পেস এক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফ্ট। ৯ মাস পর পৃথিবীর মাটিতে পা রাখেন সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর। তাঁদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) ও ক্রু৯ মহাকাশচারীরা আরও একবার দেখালেন যে অধ্যবসায়ের আসল অর্থ কী। অজানার সম্মুখীন হয়েও যে একাগ্রতা দেখিয়েছেন, তা লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।” তিনি আরও বলেন, “মহাকাশ গবেষণা হল মানুষের সম্ভাবনার সীমাকে পার করা, স্বপ্ন দেখার সাহস দেখানো এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা। সুনীতা উইলিয়ামস, একজন আইকন, তিনি নিজের কেরিয়ারকে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরলেন। যাঁরা তাঁদের (সুনীতা ও বুচ) নিরাপদভাবে ফিরিয়ে আনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, আমরা তাঁদের উপরও গর্বিত। তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন যে, নির্ভুলতার সঙ্গে প্যাশন এবং প্রযুক্তির সঙ্গে দৃঢ়তা মিলে গেলে কী হয়।”

    সুনীতাকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ

    মোদি আরও বলেন, “অন্তঃরীক্ষ ভ্রমণ তাঁদের জন্যই, যাঁরা স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার সাহস দেখান। সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) তাঁর কেরিয়ারে সেটাই বারবার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। সুনীতাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সকলের জন্য আমরা খুব গর্বিত। তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন লক্ষ্যে অবিচল থাকলে কতটা সাফল্য আসতে পারে।” উল্লেখ্য, এর আগে সুনীতাকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১ মার্চের সেই চিঠি গতকাল মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। ১৪০ কোটি ভারতীয় সুনীতার কর্মকাণ্ডের জন্য গর্বিত বলে জানান মোদি। সুনীতার মা বনি পাণ্ডিয়া মেয়ের আসার অধীর অপেক্ষা করছেন বলে জানান মোদি। প্রয়াত বাবার আশীর্বাদও সুনীতার সঙ্গে সর্বদা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ঘরের মেয়ে’ সম্বোধন করে সুনীতাকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি।

    সুনীতার পৈতৃক বাড়ি গুজরাট

    প্রসঙ্গত, সুনীতার বাবা দীপক পাণ্ডিয়া প্রধানমন্ত্রী মোদিরই রাজ্য অর্থাৎ গুজরাটের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি প্রয়াত হন। তাঁদের আলাপেরই একটি ছবি দিয়ে সুনীতা উইলিয়ামসকে ফের একবার পৃথিবীতে স্বাগত জানিয়েছেন মোদি (PM Modi)। প্রসঙ্গত, মাত্র ৮ দিনের মহাকাশে গিয়ে ৯ মাস ধরে আটকে ছিলেন সুনীতা এবং তাঁর সহকর্মী ব্যারি উইলমোর। শেষমেশ নাসা-স্পেস এক্সের রকেট তাঁদের উদ্ধার করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে। এই প্রথমবার মহাকাশ যাননি সুনীতা বা উইলমোর কেউই। দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকা, স্পেসওয়াক করার রেকর্ড রয়েছে তাঁদের। তবে, ৮ দিনের জন্য গিয়ে ৯ মাস আটকে থাকা তাঁদের দুজনের কাছেই প্রথম।

    পৈতৃক গ্রামে আনন্দোচ্ছ্বাস

    সুনীতা (Sunita Williams) পৃথিবীতেই ফিরতেই আনন্দে আত্মহারা সুনীতার পৈতৃক গ্রাম ঝুলাসান। গুজরাটের এই গ্রামের সাধারণ মানুষ পথে নেমে এসেছেন উদযাপন করতে। তাঁদের দেখা গিয়েছে আতশবাজি ফাটিয়ে উৎসবে মেতে উঠতে। সুনীতার ভ্রাতৃবধূ ফাল্গুনী পাণ্ডিয়া বলছেন, ‘‘একদম সঠিক কোনও তারিখ বলতে পারছি না। তবে এটা নিশ্চিত, অতি শিগগিরিই ও ভারতে আসবে। এই বছরের মধ্যেই।’’ আর সুনীতা গ্রামে ফিরলেই হবে সামোসা পার্টি। এত কিছু থাকতে সামোসাই কেন? ‘‘আসলে হৃদয়ে ভারতীয়ত্বের ছোঁয়ায় সুনীতা সামোসার বিরাট ফ্যান। মহাকাশ স্টেশনেও তাঁর খাদ্য তালিকায় ছিল এই সামোস বা সিঙ্গারা। আর তাই তিনি এদেশে এলে পার্টি দেওয়া হবে সামোসারই।’’ বলছেন ফাল্গুনী।

  • Sunita Williams: ন’মাসের অপেক্ষার অবসান, পৃথিবীতে ফিরলেন সুনীতারা

    Sunita Williams: ন’মাসের অপেক্ষার অবসান, পৃথিবীতে ফিরলেন সুনীতারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে ৯ মাসের অপেক্ষার অবসান। নিরাপদেই পৃথিবীতে ফিরলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) এবং তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোর। আজ, ১৯ মার্চ বুধবার, ভোর ৩টে ২৭ মিনিট নাগাদ (ভারতীয় সময়) তাঁদের নিয়ে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশযান ফ্লরিডার সমুদ্রে অবতরণ করে। মহাকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সুনীতাদের এই প্রত্যাবর্তনে কোনও রকম ত্রুটি হয়নি বলেই জানিয়েছে নাসা। সুনীতাদের (Sunita Williams) সঙ্গে একই মহাকাশযানে ফিরেছেন নাসার নিক হগ এবং রুশ নভশ্চর আলেকজান্ডার গর্বুনভ। প্রসঙ্গত, গত বছর জুন মাসে সুনীতারা মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেসময় সফর ছিল ৮ দিনের। পরে মহাকাশযানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায়, আটকে পড়েন সুনীতারা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে (ভারতীয় সময়) সুনীতাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) ছাড়ে স্পেসএক্সের ড্রাগন যান। পরে বুধবার অতলান্তিক মহাসাগরের ফ্লোরিডা উপকূলে মহাকাশচারীরা নিরাপদে অবতরণ করেন। তাঁদের জন্য আগে থেকেই রাখা ছিল মার্কিন নৌসেনা বাহিনীর বোট।

    পরিবারের সঙ্গে এখনই দেখা নয় (Sunita Williams)

    এর পরেই মডিউল-সহ সুনীতাদের একেবারে জাহাজের কাছে নিয়ে আসে নৌবাহিনী। মহাকাশচারীদের হাইড্রলিক পদ্ধতিতে তোলা হয় জাহাজের ভিতর। সেখানে ড্রাগন ক্যাপসুলের দরজা খোলা হয়। প্রথমে বেরিয়ে আসেন নিক হগ। তার প্রায় ৫ মিনিট পরে ভারতীয় সময় ভোর ৪টে ২২ নাগাদ হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন সুনীতা উইলিয়ামস। এর পরেই জাহাজ পাড়ি দেয় স্থলভাগের উদ্দেশে। জানা যাচ্ছে, পৃথিবীতে ফিরলেও এখনই নিজেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না মহাকাশচারীরা। তাঁদের থাকতে হবে ক্রু- কোয়ার্টারে। সেখানেই বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। তার পরে সুনীতা (Sunita Williams) ও বুচের সঙ্গে দেখা করার সম্মতি মিলবে পরিবার ও আত্মীয়দের। সুনীতাদের অবতরণের পরেই ভারতের বিভিন্ন জায়গাতেও দেখা দিয়েছে উন্মাদনা।

    নাসার সাংবাদিক বৈঠক

    মহাকাশচারীদের অবতরণের পরেই এদিন নাসার পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ভারতীয় সময় ভোর ৫টা ৫ মিনিট নাগাদ এই সাংবাদিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। নাসার উপ সহযোগী প্রশাসক জোয়েল মনটালবানো ও কার্যক্রম সমন্বয় ব্যবস্থাপক বিল স্পিচ বলেন, ‘‘নাসার গর্বের সঙ্গীরা নিরাপদ ভাবে অবতরণ করেছেন। ৯ মাসে ৯০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ১৫০টি বিষয়ের গবেষণা করা হয়েছে।’’

    কীভাবে ফেরত মহাকাশ থেকে

    নিরাপদে ফিরে এসেছেন সুনীতারা। প্রথমেই তাঁদের স্পেসক্রাফটের (SpaceX Crew 9) ইঞ্জিন চালু করা হয়। তা পৃথক হয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে। এরপর তা ধাপে ধাপে নীচের কক্ষপথে নেমে আসে। এর গতিবেগকে কমিয়ে দেওয়া হয়। তার কারণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে এই যানের গতি এমনিতেই বেশি হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই এই মহাকাশযানের সর্বোচ্চ গতি হয়ে যায় প্রতি ঘণ্টায় ২৮ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। এই বিপুল গতিতে ফিরতে স্বাভাবিকভাবে তীব্র ঘর্ষণ শুরু হয় মহাকাশযানে। এর ফলে এর তাপমাত্রাও বেড়ে যায়। এই কারণে তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থাও করা হয় যন্ত্রে। এই সময়ে মহাকাশচারীরা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির পাঁচগুণ বেশি টান অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এরপরে মহাকাশযান থেকে ক্যাপসুল ও বড় প্যারাসুটের মাধ্যমে সমুদ্রে সফট ল্যান্ডিং করানো হয় স্পেসএক্স-র যানকে।

    রবিবার মহাকাশে পৌঁছায় ইলন মাস্কের যান (SpaceX Crew 9)

    প্রসঙ্গত, ৫ জুন সুনীতাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বোয়িং স্টারলাইনার। কিন্তু পরে এই মহাকাশযানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে সেখানেই আটকে পড়েন সুনীতারা। তার পর থেকে একাধিক বার তাঁদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বার বার তা নানা কারণে পিছিয়ে গিয়েছে। আট দিনের সফর দীর্ঘায়িত হয়েছে ন’মাসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেন গত জানুয়ারিতে। এরপরেই তিনি ইলন মাস্ককে সুনীতাদের বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেছিলেন। তার পর মহাকাশে স্পেসএক্সের যান পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করা হয়। গত শনিবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ফ্যালকন ৯ রকেটকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে রকেটটি মহাকাশ স্টেশনে ডকিং করে। তাতে ছিলেন নাসার অ্যান ম্যাক্লেন, নিকোল আইয়ার্স, জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সার প্রতিনিধি টাকুয়া ওনিশি এবং রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের প্রতিনিধি কিরিল পেসকভ। তাঁদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে এরপর পৃথিবীতে ফিরে এলেন সুনীতারা (Sunita Williams)।

  • Sunita Williams: সুনীতাদের আনতে মহাকাশে পৌঁছল স্পেসএক্সের যান, ফিরছেন বুধবার

    Sunita Williams: সুনীতাদের আনতে মহাকাশে পৌঁছল স্পেসএক্সের যান, ফিরছেন বুধবার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীতে ফিরছেন সুনীতারা (Sunita Williams)। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (International Space Station) পৌঁছে গিয়েছে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশযান। সুনীতাদের আনতে ক্রিউ-১০-এর চার মহাকাশচারী সেখানে নেমেছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকার নভশ্চর সুনীতা উইলিয়াম এবং তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোরের সঙ্গে তাঁদের দেখাও হয়েছে। ইতিমধ্যে সেই মুহূর্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত করা হয়েছে। এত দিন পরে সহকর্মীদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন সুনীতারা। তাঁদের উচ্ছ্বাসের বিভিন্ন মুহূর্ত ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।

    নাসার তরফে সমাজমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ (Sunita Williams)

    নাসার তরফে সমাজমাধ্যমে ওই ভিডিও প্রকাশও করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মহাকাশযানের দরজা খুলে একে একে বেরিয়ে আসছেন চার মহাকাশচারী। মহাকাশে ভাসতে ভাসতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন তাঁরা। কেউ কেউ উচ্ছ্বাসে হাততালিও দিয়ে উঠছেন। সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরেই সুনীতা (Sunita Williams) জানান, তাঁদের আসতে দেখে তিনি ভীষণ খুশি। এটি ‘একটি অসাধারণ দিন’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। নাসা ইতিমধ্যে জানিয়েছে, স্পেসএক্সের ড্র্যাগন মহাকাশযানের দরজা খুলেছে রবিবার ভারতীয় সময় সকাল ১১টা ৫ মিনিটে। এদিন ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ওই মহাকাশযানটি মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছয়।

    আগামী বুধবার ভারতীয় সময় দুপুর আড়াইটে নাগাদ ফেরার কথা

    নাসা সূত্রে খবর, আগামী বুধবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী দুপুর দেড়টা নাগাদ সুনীতা (Sunita Williams)-সহ চার জনকে নিয়ে আবার পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা দেবে স্পেসএক্সের মহাকাশযান। সুনীতাদের সঙ্গে ফিরবেন নাসার নিক হগ এবং রুশ নভশ্চর আলেকজান্ডার গর্বুনভ। গত বছরের অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুন মাসে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন সুনীতা এবং বুচ।মাত্র আট দিন পরেই তাঁদের পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু যে মহাকাশযানে চড়ে তাঁরা গিয়েছিলেন, সেই বোয়িং স্টারলাইনারে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে তাতে সুনীতাদের প্রত্যাবর্তন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এরপরে নাসা সিদ্ধান্ত নেয়, ওই মহাকাশযানে সুনীতারা ফিরবেন না। ফলে মহাকাশে আটকে পড়েন সুনীতা এবং বুচ। তাঁদের আট দিনের মহাকাশ সফর দীর্ঘায়িত হয়ে গেল ন’মাসে।

  • NASA: ইসরোর সাফল্য থেকে এলিয়েন অস্তিত্ব, কী বলছেন নাসার বাঙালি বিজ্ঞানী গৌতম?

    NASA: ইসরোর সাফল্য থেকে এলিয়েন অস্তিত্ব, কী বলছেন নাসার বাঙালি বিজ্ঞানী গৌতম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুনীতা ইউলিয়ামসদের পৃথিবীতে ফেরা, চন্দ্রাভিযানে ইসরো সাফল্য সহ এলিয়নদের অস্তিত্ব নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিলেন নাসার নাসার (NASA) সিনিয়র বিজ্ঞানী গৌতম চট্টোপাধ্যায় (Goutam Chattopadhyay)। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহাকাশ গবেষণার খুঁটিনাটি নানা দিক নিয়ে আলোচনা করলেন এই বাঙালি বিজ্ঞানী।

    কোন্নগরের নবগ্রাম বিদ্যাপীঠে শুরু পড়াশোনা (NASA)

    ছোট থেকেই মেধাবী গৌতমবাবুর জন্ম কোন্নগরের নবগ্রামে। সেখানেই কেটেছে শৈশব। নবগ্রাম বিদ্যাপীঠে শুরু পড়াশোনা। শিবপুর বিই কলেজে ইলেকট্রনিক্স নিয়ে স্নাতকোত্তর, তারপর বেঙ্গালুরু হয়ে পাড়ি দেন আমেরিকায়। মর্কিন দেশে করেন ডক্টরেট করতে। বিগত ১৪ বছর ধরে তিনি কর্মরত রয়েছেন নাসা’তে (NASA)। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা প্রতিবছর মহাকাশ বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে সম্মানিত করে থাকে। ২০২৩ সালে তরুণ বিজ্ঞানী হিসেবে নাসার পিপলস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন গৌতমবাবু।

    নাসার (NASA) আসল কাজ বিজ্ঞানের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া

    বিজ্ঞানী গৌতম চট্টোপাধ্যায় একাধিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানা যায়। তাঁর মতে, নাসার (NASA) আসল কাজ হচ্ছে বিজ্ঞানের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। সংবাদমাধ্যকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘জল ও প্রাণ কোথা থেকে এল। ধুমকেতু কি পৃথিবীতে জল এনেছে ? পৃথিবীতে জল কোথা থেকে এল বা প্রাণের সন্ধান কিভাবে এল? সেটার সন্ধান করলেই মঙ্গল গ্রহ বা অন্যান্য গ্রহে জল বা প্রাণ আছে কি না, সেটার অনেকটা উত্তর পাওয়া যাবে। এই সব খোঁজার জন্যই আমি একটা যন্ত্র তৈরি করেছি, যার নাম হোয়াটস আপ।’’

    মঙ্গল গ্রহে প্রাণ নিয়ে কী বললেন?

    গৌতম বাবু বলেন, ‘‘মঙ্গল গ্রহের ক্ষেত্রে আমরা যেটা করছি, মঙ্গলে কি প্রাণ আছে বা কখনও ছিল সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। নাসার (NASA) তরফে মঙ্গল গ্রহে একাধিক ছোট-বড় রোভার পাঠানো হয়েছে। তাতে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি লাগানো হচ্ছে। ২০২০ সালে নাসা থেকে রোভার গিয়েছিল। যে জায়গায় রোভারটি ল্যান্ড করেছিল, সেখানে আগে একটি লেক ছিল। যদিও নাসা এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণের সন্ধান পায়নি।’’ এলিয়েন নিয়ে তাঁর মত হল, ‘‘পৃথিবীর বাইরে কোথাও প্রাণের সন্ধান পাওয়া যায়নি তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হয় এলিয়েন আছে, তার সম্ভাবনাও আছে। যদিও তা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।’’

    প্রসঙ্গ সুনীতা ইউলিয়ামসদের পৃথিবীতে ফেরা

    নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সুনীতার এখনও পৃথিবীতে ফেরেননি। এই প্রসঙ্গে নাসার (NASA) বিজ্ঞানী গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এখান থেকে একটা ক্যাপসুলে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওখানে যাওয়ার পর একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়। ঝুঁকি না-নেওয়ার জন্যই এই বিলম্ব। এখনও পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে ১৯ মার্চ অন্য একটি ক্যাপসুলে করে সুনীতা উইলিয়ামস ও অন্যান্যদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। ওনারা সুস্থভাবেই পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এই ঘটনায় একদিক থেকে সুবিধাই হয়েছে। পরবর্তীকালে যদি মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানো হয়, তাহলে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক কি প্রতিক্রিয়া হবে তা দেখা গেল। কারণ মঙ্গলগ্রহে যেতে আসতে ১৪ মাস সময় লাগে। সুনীতা উইলিয়ামস বা অন্যান্যরা যখনই অভিযানে যান, তাঁরা এই ধরনের ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকেন।’’

    ইসরোর সাফল্য

    বাঙালি বিজ্ঞানীর (Goutam Chattopadhyay) মতে, ‘‘ইসরো যেভাবে সফলতা পেয়েছে খুবই খুশির ব্যাপার। মহাকাশ গবেষণার জন্য বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যেতে হবে। নাসার সঙ্গে ইসরোর কোলাবরেশন আছে। এ বছরই আমরা নিসার মিশনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছি। কোথাও যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, তারজন্য এই যন্ত্র সাহায্য করবে। ভারতীয় হিসেবে এটা গর্বের ব্যাপার।’’

  • 2024 yr4: হিরোশিমার থেকে শক্তি বেশি ১০ গুণ! পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল গ্রহাণু

    2024 yr4: হিরোশিমার থেকে শক্তি বেশি ১০ গুণ! পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল গ্রহাণু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল বড় এক গ্রহাণু। হিরোশিমায় যে পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল তার থেকে ১০০ গুণ বেশি এর শক্তি। ২০২৪ ওয়াইআর৪ নামে ওই বিশাল অ্যাস্টেরয়েড ২ ডিসেম্বর ২০৩২-এ পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটাতে পারে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নাসা-অর্থিত টেলিস্কোপ ব্যবহার করে অ্যাস্টেরয়েড ২০২৪ ওয়াইআর৪ আবিষ্কার করে। প্রথমে এর সংঘর্ষের সম্ভাবনা ছিল ১.২%, তবে সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী এটি ২.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।

    কত বড় এই গ্রহাণু

    বর্তমানে, নাসা ও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি হাজার হাজার অ্যাস্টেরয়েড পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ২০২৪ ওয়াইআর৪ একমাত্র অ্যাস্টেরয়েড যার সংঘর্ষের সম্ভাবনা ১%-এর বেশি। এটি বর্তমানে টোরিনো ইমপ্যাক্ট হ্যাজার্ড স্কেলে ৩ নম্বরে রয়েছে। এই স্কেলটি ০ থেকে ১০ পর্যন্ত, যেখানে ০ মানে কোন বিপদ নেই এবং ১০ মানে সভ্যতা শেষের সম্ভাবনা হতে পারে। এর আগের যে অ্যাস্টেরয়েডটি এই স্কেলে বেশি রেটিং পেয়েছিল, তা পরবর্তীতে ক্ষতিকর নয় বলে জানা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অ্যাস্টরয়েডের ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা ১.৮% থেকে ২.৩% হতে পারে। এই অ্যাস্টরয়েডের সাইজ প্রায় ৩০০ ফুট (৯০মিটার) পর্যন্ত হতে পারে। যে সাইজের অ্যাস্টরয়েড আসছে তা পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে একটি পুরো শহরকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে৷ ১৯০৮ সালে সাইবেরিয়া তুঙ্গুস্কাতে যে অ্যাস্টরয়েড পড়েছিল এই গ্রহাণুর সাইজটিও সেইটার মতোই বড়৷

    সম্ভাব্য প্রভাব এবং ধ্বংসযজ্ঞ

    যদি ২০২৪ ওয়াইআর৪ পৃথিবীতে আঘাত হানে, তবে বিস্ফোরণের শক্তি ১৫ মেগাটন টিএনটি-এর সমান হবে, যা হিরোশিমা বোমার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি। সংঘর্ষের ক্ষেত্র থেকে ৫.৭ কিলোমিটার পর্যন্ত ধ্বংসাত্মক প্রভাব অনুভূত হবে। আরো বেশি ধ্বংস ৮.৮ কিলোমিটার এলাকায় হতে পারে, এবং মৃত্যু ঘটতে পারে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত। লন্ডনে সরাসরি আঘাত হানলে, ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ক্রোয়ডন পর্যন্ত পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে। ম্যানচেস্টার, বেলফাস্ট, অথবা এডিনবরা শহরেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হবে। এমনকি ছোট শহরগুলোও কয়েক মাইল জুড়ে বিধ্বস্ত হবে। তবে,বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এখনও সংঘর্ষের সম্ভাবনা কম। পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশই জলাশয়, তাই সাগরের উপর আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি। এর আগে অনেক অ্যাস্টেরয়েডের সংঘর্ষের ঝুঁকি কমে গিয়েছে হিসেব-নিকেশের মাধ্যমে।

  • Shubhanshu Shukla: রাকেশ শর্মার পর প্রথম ভারতীয়, নাসার হাত ধরে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন শুভাংশু

    Shubhanshu Shukla: রাকেশ শর্মার পর প্রথম ভারতীয়, নাসার হাত ধরে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন শুভাংশু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে যেতে চলেছেন শুভাংশু শুক্ল। ১৯৮৪-তে রাকেশ শর্মার পর এবার মহাকাশে পাড়ি জমাবে কোনও ভারতীয়। নাসার মহাকাশ অভিযানে যাবেন উইং কমান্ডার শুভাংশু। নাসার অ্যাক্সিয়ম মিশন ৪ অভিযানে অংশ নিতে চলেছেন তিনি। এটি একটি বেসরকারি মহাকাশ অভিযান, যা স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানের সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ হবে।

    ইতিহাসের দরজায় ভারত

    দেখতে দেখতে ৪০ টা বছর পার হয়ে গেল। ভারতের মুকুটে পালক লাগল আবার। ভারতের গগনযান অভিযানের জন্য ইসরো ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশুকে মহাকাশচারী হিসেবে বেছে নিয়েছিল। এই মিশনের জন্য ইসরো, নাসা এবং অ্যাক্সিওম স্পেস একসঙ্গে কাজ করছে। নাসার অ্যাক্সিয়ম মিশন ৪ অভিযানে পাইলটের ভূমিকায় কাজ করবেন শুভাংশু শুক্ল। সঙ্গে থাকবেন আরও তিনজন মহাকাশচারী। অভিজ্ঞ মার্কিন মহাকাশচারী ও মিশন কমান্ডার পেগি হুইটসন, পোল্যান্ডের স্লাওসুজ উজনানস্কি-উইসনিয়েভস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু।

    শুভাংশুর সফর

    শুভাংশু শুক্লর জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পাইলট হিসেবে শুভাংশু মোট ২০০০ ঘণ্টা আকাশে থেকেছেন। ২০০৬ সালে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসার হিসেবে কমিশন পান। তিনি যুদ্ধবিমানের টেস্ট পাইলট এবং কমব্যাট লিডার। সুখোই-৩০, মিগ ২১, মগ ২৯, জাগুয়ার, হক, ডর্নিয়ার সহ বিভিন্ন ধরনের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।

    ইসোরোর ঘোষণা

    এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর আমেরিকা সফরকালে ঘোষণা করেছিলেন এই অভিযানের কথা। মোদি বলেছিলেন, ভারতের একজন মহাকাশচারী খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যাবেন। সেই ঘোষণাই অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে জানিয়েছে ইসরো। তারা একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, আমেরিকার একটি বেসরকারি সংস্থা অ্যাক্সিয়ম স্পেস ইনকর্পোরেশনের সঙ্গে এ ব্যাপারে চুক্তি হয়েছিল তাদের। সেই চুক্তি অনুযায়ীই দু’জন ‘গগনযাত্রী’কে বেছে নিয়েছে ন্যাশনাল মিশন অ্যাসাইনমেন্ট বোর্ড। মূল মহাকাশচারী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে গ্রুপ ক্যাপটেন শুভাংশুকে। তাঁর বিকল্প হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে গ্রুপ ক্যাপটেন প্রশান্ত বালাকৃষ্ণন নায়ারকে। শীঘ্রই এই অভিযানের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করবেন দু’জনে। তাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দেবেন স্পেসএক্সের রকেটে।

  • Mahakumbh 2025: মহাকাশ থেকে কতটা উজ্জ্বল রাতের মহাকুম্ভ? আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন পাঠাল ছবি

    Mahakumbh 2025: মহাকাশ থেকে কতটা উজ্জ্বল রাতের মহাকুম্ভ? আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন পাঠাল ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকুম্ভের (Mahakumbh 2025) কারণে কোটি কোটি মানুষের সমাগম চলছে প্রয়াগরাজে। মহাকুম্ভ পরিণত হওয়ার ফলে এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের বৃহত্তম ইভেন্টে পরিণত হয়েছে মহাকুম্ভ। মহাকাশ (Mahakumbh 2025) থেকে কেমন লাগছে প্রয়াগরাজকে? সেই ছবিই প্রকাশ করল নাসা (NASA)। দুনিয়াজুড়ে ইতিমধ্যেই সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (International Space Station) থেকে নাসার মহাকাশচারী ডন পেটিট মহাকুম্ভের একটি ছবি শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘রাতের আইএসএস থেকে মহাকুম্ভের ছবি। সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানুষের জমায়েত।’’

     

    বিভিন্ন মত উঠে এসেছে (Mahakumbh 2025)

    এমন ছবি দেখার পর স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। নানা মন্তব্য ভেসে এসেছে, এক ব্যবহারকারী লিখছেন, মনে হচ্ছে মহাকাশে বড় কোনও তারার বিস্ফোরণ ঘটেছে। কেউ আবার এত আলো দেখে মুগ্ধ হয়ে এটিকে কোনও গ্যালাক্সির সঙ্গে তুলনা করছেন। প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগেই মহাকুম্ভের (Mahakumbh 2025) একাধিক উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করা হয়েছিল ইসরোর তরফ থেকে। হায়দরাবাদের ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টারও পরপর ছবি নিয়েছে এই মহাকুম্ভ মেলার। সেই ছবিতেই ফুটে উঠেছে মেলার একাধিক তাঁবু, পার্কিং লট এবং অন্য একাধিক প্রস্তুতির ছবি। এবার ছবি এল নাসার আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (International Space Station) থেকে।

     

    ৪ হাজার হেক্টর জমির ওপর আয়োজন করা হয়েছে মহাকুম্ভ (Mahakumbh 2025)

    প্রসঙ্গত, ১২টা পূর্ণ কুম্ভে হয় একটা মহাকুম্ভ (Mahakumbh 2025)। ১৪৪ বছর পর মহাযোগ। ৪৫ দিনের এই মেলায় ৪০ কোটি বা তার বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলেই অনুমান করা হয়েছে প্রশাসনেরক তরফ থেকে। এখনও পর্যন্ত হিসেব করে দেখা গিয়েছে, কুম্ভমেলা থেকে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের লাভ হতে পারে অন্তত ২ লক্ষ কোটি টাকা! এই সংখ্যাটা ৪ লক্ষ কোটিও হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ৪ হাজার হেক্টর জমির ওপর আয়োজন করা হয়েছে মহাকুম্ভ। শুরু হয়েছে ১৩ জানুয়ারি থেকে চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ৪৫ দিনের এই মেলার জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারের বাজেট ৭ হাজার কোটি টাকা।

  • Sunita Williams: দিনে দিনে কমছে ওজন! মহাকাশে সুনীতার ছবি দেখে উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী, সতর্ক নাসা

    Sunita Williams: দিনে দিনে কমছে ওজন! মহাকাশে সুনীতার ছবি দেখে উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী, সতর্ক নাসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দিন ধরে মহাকাশে আটকে থাকায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) ও বুচ উইলমোরের। সম্প্রতি নাসার পক্ষ থেকে সুনীতার যে ক’টি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভোচরের স্বাস্থ্যের অবনতি লক্ষ করার মতো। এই পাঁচ মাসে তাঁর ওজন এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে সুনীতাকে অত্যন্ত শীর্ণকায় লাগছে। তাঁর এতটাই ওজন হ্রাস পেয়েছে, যা চিন্তা বাড়িয়েছে নাসারও।

    শীর্ণকায় সুনীতা

    গত পাঁচ মাস ধরে মহাকাশযানের ছোট্ট গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ সুনীতা উইলিয়ামসের (Sunita Williams) দুনিয়া। এক দিন এক দিন করে মহাকাশে ১৫০ দিন পার করে ফেলেছেন সুনীতা ও তাঁর সঙ্গী বুচ। মহাকাশকে নিজের ‘হ্যাপি প্লেস’ বলে বর্ণনা করেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। বোয়িং স্টারলাইনারের যান্ত্রিক ত্রুটি সত্ত্বেও কখনও পৃথিবীতে ফেরা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েননি। তবে তাঁর ওজন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় চিন্তিত নাসা। এই মিশনের সঙ্গে জড়িত নাসার এক কর্মীর কথায়, ‘ওঁর চামড়া ঝুলে গিয়েছে এবং হাড় ক্ষয়েছে। বর্তমানে শরীরের ওজন স্থিতিশীল করা সর্বাপেক্ষা জরুরি।’ ওই কর্মীর সংযোজন, ‘সুনীতার সর্বশেষ ছবি দেখে আমি আঁতকে উঠেছিলাম। যা দেখলাম তাতে উদ্বেগ হওয়া খুব স্বাভাবিক। বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’ সুনীতার ওজন দ্রুত স্থিতিশীল করা দরকার এবং এই মুহূর্তে তাঁদের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন নাসার ওই কর্তা।

    সুনীতার স্বাস্থ্যে নজর

    সুনীতার স্বাস্থ্যের উপর কড়া নজর রাখছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। মহাকাশ যাত্রা শুরুর সময় গত ৫ জুন সুনীতার (Sunita Williams) ওজন ছিল ৬৩ কেজি। দিন যতই গড়িয়েছে ওজন ক্রমেই কমেছে সুনীতার। মহাকাশে ওজন স্থিতিশীল রাখতে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেতে হয় মহাকাশচারীদের। শুধুমাত্র ওজন বজায় রাখার জন্য মহাকাশ সফরের সময় প্রতি দিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার ক্যালোরির খাবার খেতে হয় নভোচরদের। সেই পরিমাণ খাবার শরীরকে না দিলে শরীর ভাঙতে শুরু করে ও দ্রুত ওজন কমতে থাকে।

    আরও পড়ুন: নিমেষে ধ্বংস হবে হাজার কিমি দূরের যুদ্ধজাহাজ, ডিআরডিও-র নয়া মিসাইলের পরীক্ষা শীঘ্রই

    সুনীতার সমস্যা

    মহাকাশ ভ্রমণের সময় বিপাকের পরিবর্তনের কারণে পুরুষ নভোচরদের তুলনায় দ্রুত পেশি ক্ষয় অনুভব করেন মহিলা মহাকাশচারীরা। শরীরের ওপর অভিকর্ষের নিরবচ্ছিন্ন টান না থাকায় মহাকাশে মানবদেহের পেশি ও হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। দুই সপ্তাহ পরেই পেশির ঘনত্ব ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ছয় মাস থাকলে তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। খুব বেশি দিন মহাকাশে থাকলে দ্রুত হারে কমতে থাকে লাল রক্তকণিকার পরিমাণ। সে ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে রক্তাল্পতার মতো শারীরিক সমস্যাও। গবেষণা বলছে, মহাকাশে থাককালীন প্রতি সেকেন্ডে ২ লক্ষের বদলে ৩ লক্ষ লোহিত কণিকা ধ্বংস হয়ে যায় নভোচরদের। পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে আইএসএসে রয়েছেন সুনীতারা। সেখানে বসেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তিনি। নিজের শারীরিক সমস্যা নিয়েও চিন্তিত নন সুনীতা। মহাকাশেই ঘর বানিয়েছেন তিনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • ISRO: লাদাখে দেশের প্রথম অ্যানালগ স্পেস মিশন চালু করল ইসরো, কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ?

    ISRO: লাদাখে দেশের প্রথম অ্যানালগ স্পেস মিশন চালু করল ইসরো, কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার লাদাখে প্রথম অ্যানালগ স্পেস মিশন চালু করার কথা ঘোষণা করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো (ISRO)। ইসরোর এই হিউম্যান স্পেসফ্লাইট সেন্টার (Human Spaceflight Centre) মিশনের পেছনে এএকেএ স্পেস স্টুডিও, লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি বম্বে এবং লাদাখের স্বশাসিত পার্বত্য উন্নয়ন কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগ রয়েছে। তবে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা এই মিশন নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে, ইসরোর চন্দ্রযান ৩, গগনযান, আদিত্য এল-১, মঙ্গলযান অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছে ভারত। বিশেষ করে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ডিং নাসাকেও চমক দিয়েছে। মহাকাশ গবেষণায় কেন্দ্রের মোদি সরকার যে সজাগ নজর রেখে চলেছে তাতেও অনেক বিজ্ঞানীরা উৎসাহী বলে জানিয়েছেন। নাসাও একাধিক গবেষণায় ইসরোকে পাশে চায় বলে অভিজ্ঞতার কথা বিনিময় করেছে। ফলে ভারত মহাকাশ গবেষণায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

    মূল লক্ষ্য হল আন্তঃগ্রহের আবাসস্থলে প্রাণের সন্ধান (ISRO)

    ইসরোর (ISRO) পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে বলা হয়েছে, “লাদাখে এই হিউম্যান স্পেসফ্লাইট সেন্টারের (Human Spaceflight Centre) মিশনের মূল লক্ষ্য হল ভিন্গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের খোঁজ করা। একই ভাবে পৃথিবীর বাইরে একটি স্পেস স্টেশন নির্মাণের জন্য সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করার ভাবনা রয়েছে। এই মিশন ভারতের প্রথম অ্যানালগ স্পেস মিশন, যা লে-তে শুরু হয়েছে। একই কাজে এএকেএ স্পেস স্টুডিও, লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি বম্বে এবং লাদাখের স্বশাসিত পার্বত্য উন্নয়ন কাউন্সিল বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করবে।”

    মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা

    ইসরো (ISRO) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মিশন হল মঙ্গল এবং চাঁদে অভিযানের মতো একটি বড় পদক্ষেপ। লাদাখের জলবায়ু, আবহাওয়া, ভূ-প্রকৃতি এবং আনুসঙ্গিক নানা উপকরণের প্রতিবন্ধকতা মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। এই জায়গার সমস্যাকে সামনে রেখে মহাকাশের নানাবিধ প্রতিরোধ সম্পর্কে গবেষণা করতে অনেক সহজ হবে। যে কোনও গবেষণায় ভীষণ উপযোগী এই লাদাখের উচ্চ ভূ-মণ্ডল। এই মিশন ভারতের গগনযান এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। লাদাখের শুষ্ক জলবায়ু, ভৌগলিক উচ্চতা এবং অনুর্বর জমির সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে মঙ্গল এবং চাঁদের ভৌগলিক ও ভূতত্ত্বের। তাই এই ধরনের অ্যানালগ গবেষণা, ভারতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানী ডক্টর আলোক কুমার প্রথম এই ধরনের গবেষণার জন্য বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ঠিক তারপর থেকেই একই ভাবনাকে প্রসারিত করা হয়।

    অ্যানালগ মিশন কী?

    নাসার মতে অ্যানালগ মিশন (Human Spaceflight Centre) হল, পৃথিবীর মধ্যেই পরিবেশের উপর পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ সংগ্রহ করা। অর্থাৎ মহাকাশের অনুরূপ পরিবেশ এবং পরিস্থিতিকে অনুসরণ করে বিস্তর গবেষণা করা যায় মিশনে। এই মিশন ভূ-মণ্ডলের মধ্যে উপযুক্ত পরিবেশ নির্মাণ করে। যার মাধ্যমে মানুষ বা রোবট অথবা যন্ত্রাংশকে কীভাবে মহাকাশের মতো উপযুক্ত অনুকুল পরিবেশে রাখা যায় তা নির্ণয় করা যায়। এতে যে কোনও রকম মহাকাশ অভিযানের আগে থেকেই সমস্যা এবং সমস্যা থেকে মুক্তির পথকে অনুসন্ধান করা যায়। প্রযুক্তিবিদ এবং প্রকৌশলীরা নিজেদের অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই আগে থেকে ভালো-মন্দ বা সাফল্যকে আন্দাজ করতে পারেন। নাসাও এই ধরনের একাধিক মিশনে কাজ করে থাকে। আগে থেকে উপযুক্ত পরিবেশ এবং জায়গা ঠিক করে একাধিক সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করে থাকে। এবার ভারতের লাদাখেও এমন একটি পরিকল্পনা করেছে ইসরো (ISRO)। সেই সঙ্গে বিজ্ঞনীরাও এনিয়ে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

    আরও পড়ুনঃ আজ দেশজুড়ে ভক্তরা মেতে উঠেছেন গোবর্ধন পুজোয়, জানুন এর মাহাত্ম্য

    পরীক্ষালব্ধ এলাকায় কী কী থাকে?

    এই অ্যানালগ মিশনের (Human Spaceflight Centre) মধ্যে পরীক্ষা করতে যে সব উপকরণ লাগে তার মধ্যে রয়েছে, নতুন প্রযুক্তি, রবোটিক সরঞ্জাম, যানবাহন, পরিবহণ, বাসস্থান, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ পরিষেবা, উৎপাদন, গতিশীলতা, পরিকাঠামো, মানবশ্রম এবং স্টোরেজ। এই মিশনের কাজ এবং প্রশিক্ষণ মূল গবেষণার কাজের গতিকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। একই ভাবে উদ্ভূত সমস্যার কথা তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের বিষয়েও প্রস্তুতি নিতে সহায়ক হয়। গভীর মহাকাশে গিয়ে কী ধরনের মুহূর্ত হবে, সেই দিকগুলির উপর পুঙ্খানুপুঙ্খ নজর রাখা হয় মিশনে। এই রকম মিশনের আরও পরীক্ষালব্ধ এলাকা হতে পারে, যেমন-মহাসাগর, মরুভূমি, আগ্নেয়গিরি ইত্যাদি। তবে ইসরো (ISRO) গবেষণার জন্য লাদাখকেই বেছে নিয়ে কাজ শুরু করছে।    

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share