Tag: news in bengali

news in bengali

  • Alzheimer’s in Indian Women: নাম-ঠিকানাও ভুলে যাচ্ছেন? ভারতে বাড়ছে অ্যালজাইমার, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মহিলারা

    Alzheimer’s in Indian Women: নাম-ঠিকানাও ভুলে যাচ্ছেন? ভারতে বাড়ছে অ্যালজাইমার, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মহিলারা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নিঃশব্দেই শরীরে উপস্থিত হচ্ছে। কিন্তু যখন তার উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে, অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। ফলে, পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হয়ে যাচ্ছে। জীবন যাপন কঠিন হয়ে উঠছে। আক্রান্ত ব্যক্তির পাশপাশি, তার পরিবারের সদস্যরাও সমানভাবেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বিপদ বাড়াচ্ছে অ্যালজাইমার। তাঁরা জানাচ্ছেন, যে হারে ভারতবাসীর মধ্যে এই সমস্যা বাড়ছে, তাতে আগামীদিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

    অ্যালজাইমার কী? কেন এই নিয়ে এত উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমার হল স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। আক্রান্ত মনে রাখার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। নিজের নাম, পরিচয়, ঠিকানাও মনে রাখতে পারেন না। দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। ফলে, স্নান করা, শৌচালয় যাওয়া কিংবা খাওয়ার ক্ষমতাও থাকে না। স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। এই সমস্যায় আক্রান্তের পাশপাশি, তার পরিবারকেও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক কেউ এমন সমস্যায় আক্রান্ত হলে, তাকে সব সময় একজনের সাহায্য প্রয়োজন হয়। সেই সাহায্যদানকারী কেয়ার গিভারেও স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

    কী বলছে গবেষণা?

    সম্প্রতি Longitudinal Aging Study in India (LASI) রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ৬০ বছরের উর্ধ্বে থাকা ৮০ লাখ মানুষ এই অ্যালজাইমার সমস্যায় আক্রান্ত। ষাটোর্ধ্ব প্রায় ৮ শতাংশ ভারতীয় অ্যালজাইমারের সমস্যায় ভুগছেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যায় আক্রান্তের হার ৯ শতাংশ। তুলনায় পুরুষদের আক্রান্তের সংখ্যা ৫.৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় মানুষ দীর্ঘ জীবন লাভ করছেন। বয়স্কদের অধিকাংশ ৮০ বছরের অধিক বেঁচে থাকছেন। কিন্তু ৬০-এর পরেই এই ধরনের স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে, এমন পরিস্থিতিতেই তাঁরা ১০-১৫ বছর বেঁচে থাকছেন।‌ যখন তাঁদের জীবন যাপনের মান কমে যাচ্ছে। বেঁচে থাকলেও সুস্থ জীবন যাপন হচ্ছে না। যা সমাজের পক্ষেও ভালো নয়। দেশের প্রবীণ নাগরিকেরা এমন অসুস্থ জীবন যাপন করলে, সেটা দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্র নিয়ে যথেষ্ট চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন,সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০-র পরে সমস্যা প্রকট হলেও চল্লিশ বছরের পর থেকেই এর লক্ষণ অল্প হলেও দেখা দেয়। তাই স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত কোনো রকম সমস্যা হলে তা নিয়ে সতর্কতা জরুরি।

    কেন মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে?

    হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমারের সমস্যা মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা দিচ্ছে। এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরবর্তী কালে অর্থাৎ মেনোপজের পরে মহিলাদের শরীরে একাধিক পরিবর্তন হয়। শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। এর প্রভাব যথেষ্ট গভীর। মস্তিষ্কের উপরে এই হরমোনের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে এবং মস্তিষ্ককে সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ইস্ট্রোজেন। শরীরে সেই হরমোনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অ্যালজাইমারের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

    জিনগত কারণও দায়ী

    মহিলাদের যে কোনও জিনগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পরিবারের কেউ অ্যালজাইমারে আক্রান্ত হলে পরবর্তী প্রজন্মের এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সেই জিনগত কারণেও মহিলারা এই সমস্যায় বেশি ভুগছেন হলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। দেশের দীর্ঘ ইতিহাসে দেখা যায়, এ দেশে মহিলাদের শিক্ষার সুযোগ সমান ছিলো না। এমনকি মহিলাদের শিক্ষার পথে একাধিক অন্তরায় ছিলো। এখনো রয়েছে। তাই মহিলাদের কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়ানোর সুযোগ কম। এগুলো প্রৌঢ় কালে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে উঠছে। ফলে অ্যালজাইমারের মতো রোগের দাপট বাড়ছে।

    কগনিটিভ রিজার্ভ কী? কেন অ্যালজাইমার রুখতে কগনিটিভ রিজার্ভে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কগনিটিভ রিজার্ভ হল মস্তিষ্কের এক বিশেষ ক্ষমতা। যেকোনো সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ এলেও মস্তিষ্ক নিজের কাজ ঠিকমতো চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। স্বাভাবিক গতিতেই কাজ করতে পারে। বার্ধক্য মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে চায়। কিন্তু কগনিটিভ রিজার্ভ মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করে। অ্যালজাইমার রুখতে তাই কগনিটিভ রিজার্ভে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমারের মতো সমস্যা রুখতে হলে মস্তিষ্ক সচল রাখা জরুরি।‌ ধাঁধা বা ব্রেন গেম নয়। বরং নতুন কিছু শেখা জরুরি। নতুন কিছু শিখলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কগনিটিভ রিজার্ভ তৈরি হয়। অর্থাৎ মস্তিষ্ক তার কাজ করার ক্ষমতা বজায় রাখে। তাই চল্লিশ বছরের পরেই ভারতীয়দের নতুন কিছু শেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নতুন ভাষা শেখা, কিংবা বাদ্যযন্ত্র শেখা জরুরি।

    কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    • ● বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ভাষা শিখলে মনোযোগের প্রয়োজন হয়। ফলে মস্তিষ্ক সজাগ থাকে। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। চল্লিশ বছরের পরে যে কোনও নতুন ভাষা শেখার অভ্যাস তৈরি হলে অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমবে।
    • ● যে কোনও বাদ্যযন্ত্র শেখার অভ্যাস তৈরি হলে হাতের স্নায়ু ও মস্তিষ্কের স্নায়ুর যোগাযোগ আরো ভালো হবে। পেশির কাজ হবে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকবে। এর ফলে অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমবে।
    • ● বয়স বাড়লে নতুন কিছু শেখা সম্ভব না হলে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত বই পড়লে কগনিটিভ রিজার্ভ ভালো থাকে। এতে মনে রাখার অভ্যাস তৈরি হয়। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
    • ● যে কোনও সামাজিক কিংবা শিক্ষামূলক গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়াতে এবং অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমাতে ছবি আঁকার স্কুল, কিংবা নাচ, গান বা সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয় এমন ক্লাবে যোগ দেওয়া উচিত। এতে একাকিত্ব কমে। ফলে মস্তিষ্কের উপরে চাপ পড়ে না। আবার নিজের মতামত জানানো, অন্যের কথা শোনা এবং আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়। তাছাড়া সৃজনশীল কাজ মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়ায়। তাই অ্যালজাইমারের মতো সমস্যার ঝুঁকিও কমে‌।
    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

     

  • Ramakrishna 660: “প্রেম-ভক্তির পথে থাকলে দেহে মন আসে, তা না হলে আমি কে? মানুষও নই—দেবতাও নই—আমার সুখও নাই, দুঃখও নাই”

    Ramakrishna 660: “প্রেম-ভক্তির পথে থাকলে দেহে মন আসে, তা না হলে আমি কে? মানুষও নই—দেবতাও নই—আমার সুখও নাই, দুঃখও নাই”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৮ই এপ্রিল

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    “তুমি কেবল দুঃখটাই মনে করে রেখেছো। তিনি যে এত সুখ দিয়েছেন — তা ভুলে যাও কেন? তাঁর কত কৃপা! তিনটি বড় বড় জিনিস আমাদের দিয়েছেন—মানুষজন্ম, ঈশ্বরকে জানবার ব্যাকুলতা, আর মহাপুরুষের সঙ্গ দিয়েছেন। মনুষ্যত্বং মুমুক্ষুত্বং মহাপুরুষসংশ্রয়ঃ।”

    সকলে চুপ করিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আমার কিন্তু বেশ বোধ হয়, ভিতরে একটি আছে।

    রাজেন্দ্রলাল দত্ত আসিয়া বসিলেন। হোমিওপ্যাথিক মতে ঠাকুরের চিকিৎসা করিতেছেন। ঔষধাদির কথা হইয়া গেলে, ঠাকুর (Kathamrita) অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া মনোমোহনকে দেখাইতেছেন।

    ডাক্তার রাজেন্দ্র — উনি আমার মামাতো ভাইয়ের ছেলে।

    নরেন্দ্র নিচে আসিয়াছেন। আপনা-আপনি গান গাহিতেছেন:

    সব দুঃখ দূর করিলে দরশন দিয়ে, মোহিলে প্রাণ।
    সপ্তলোক ভুলে শোক, তোমারে পাইয়ে,
    কোথা আমি অতি দীন-হীন।

    নরেন্দ্রের একটু পেটের অসুখ করিয়াছে। মাস্টারকে বলিতেছেন — “প্রেম-ভক্তির পথে থাকলে দেহে মন আসে। তা না হলে আমি কে? মানুষও নই — দেবতাও নই — আমার সুখও নাই, দুঃখও নাই।”

    ঠাকুরের আত্মপূজা—সুরেন্দ্রকে প্রসাদ—সুরেন্দ্রের সেবা

    রাত্রি নয়টা হইল। সুরেন্দ্র প্রভৃতি ভক্তেরা ঠাকুরের কাছে পুষ্পমালা আনিয়া নিবেদন করিয়াছেন! ঘরে বাবুরাম, সুরেন্দ্র, লাটু, মাস্টার প্রভৃতি আছেন।

    ঠাকুর (Ramakrishna) সুরেন্দ্রের মালা নিজে গলায় ধারণ করিয়াছেন, সকলেই চুপ করিয়া বসিয়া আছেন। যিনি অন্তরে আছেন, ঠাকুর তাঁহারই বুঝি পূজা করিতেছেন!

    হঠাৎ সুরেন্দ্রকে ইঙ্গিত করিয়া ডাকিতেছেন। সুরেন্দ্র শয্যার কাছে আসিলে প্রসাদীমালা (যে মালা নিজে পরিয়াছিলেন) লইয়া নিজে তাঁহার গলায় পরাইয়া দিলেন!

    সুরেন্দ্র মালা পাইয়া প্রণাম করিলেন। ঠাকুর আবার তাঁহাকে ইঙ্গিত করিয়া পায়ে হাত বুলাইয়া দিতে বলিতেছেন। সুরেন্দ্র কিয়ৎক্ষণ ঠাকুরের (Kathamrita) পদসেবা করিলেন।

    কাশীপুর উদ্যানে ভক্তগণের সংকীর্তন

    ঠাকুর (Ramakrishna) যে ঘরে আছেন, তাহার পশ্চিমদিকে একটি পুষ্করিণী আছে। এই পুষ্করিনীর ঘাটের চাতালে কয়েকটি ভক্ত খোল-করতাল লইয়া গান গাইতেছেন। ঠাকুর লাটুকে দিয়া বলিয়া পাঠাইলেন — “তোমরা একটু হরিনাম কর।”

    মাস্টার, বাবুরাম প্রভৃতি এখনও ঠাকুরের কাছে বসিয়া আছেন। তাঁহারা শুনিতেছেন, ভক্তেরা গাইতেছেন:

    হরি বোলে আমার গৌর নাচে।

    ঠাকুর গান শুনিতে শুনিতে বাবুরাম, মাস্টার প্রভৃতিকে ইঙ্গিত করিয়া বলিতেছেন — “তোমরা নিচে যাও। ওদের সঙ্গে গান কর, — আর নাচবে।”

    তাঁহারা নিচে আসিয়া কীর্তনে যোগদান করিলেন।

    কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর আবার লোক পাঠাইয়াছেন। বলেছেন (Kathamrita), এই আখরগুলি দেবে — “গৌর নাচতেও জানে রে! গৌরের ভাবের বালাই যাই রে! গৌর আমার নাচে দুই বাহু তুলে!”

    কীর্তন সমাপ্ত হইল। সুরেন্দ্র (Ramakrishna)  ভাবাবিষ্টপ্রায় হইয়া গাইতেছেন —

             আমার পাগল বাবা, পাগলী আমার মা।
    আমি তাদের পাগল ছেলে, আমার মায়ের নাম শ্যামা ॥
    বাবা বব বম্‌ বলে, মদ খেয়ে মা গায়ে পড়ে ঢলে,
    শ্যামার এলোকেশে দোলে;
    রাঙা পায়ে ভ্রমর গাজে, ওই নূপুর বাজে শুন না।

  • CID: সই-জালকাণ্ডে ফের অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি, গরহাজিরার কী কারণ দর্শালেন তৃণমূল সাংসদ?

    CID: সই-জালকাণ্ডে ফের অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি, গরহাজিরার কী কারণ দর্শালেন তৃণমূল সাংসদ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সই-জালকাণ্ডে ফের তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গেল সিআইডি (CID)। শনিবারই তাঁর ১৮৮-এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে নোটিশ লটকে দিয়ে এসেছিলেন তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। পরে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটে বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতেই নোটিশ ধরিয়ে আসেন তাঁরা। আজ, সোমবার তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল ভবানীভবনে, সিআইডির দফতরে। যদিও গরহাজির ছিলেন তৃণমূল সাংসদ। সিআইডিকে পাঠানো চিঠিতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শান।

    অভিষেকের বাড়িতে ফের সিআইডি (CID)

    এর পরেই এদিন বিকেল ৬টা নাগাদ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যায় সিআইডির টিম (CID)। যদিও বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পারেননি আধিকারিকরা। তাই বাড়িতেই নোটিশ টাঙিয়ে ফিরে যান তাঁরা। সিআইডি-কে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। চিঠিতে অসুস্থতার কারণ জানানো হয়েছে বলে খবর। এদিন আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আধিকারিকরা অভিষেকের বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করেন। তার পরেও অভিষেকে দেখা যায়নি। পরে ভাতিজার বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন অয়ন ঘোষ নামে একজন। তিনি সিআইডির কাছ থেকে একটি নোটিশ নিয়ে ভেতরে চলে যান। সিআইটির টিমও ফিরে যান। খানিকক্ষণ পরে ফের বাইরে আসেন অয়ন। তিনি জানান, নোটিশে সই করে রিসিভ করেছেন অভিষেক। জানা গিয়েছে, অভিষেক ভবানীভবনে যাওয়ার জন্য কয়েকদিন সময় চেয়েছেন। যদিও সিআইডির তরফে এনিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সূত্রের খবর, ৮ জুন বেলা ১২টায় ভবানীভবনে ফের তলব করা হয়েছে ‘ডায়মন্ড মডেলের গর্বিত’ জনক অভিষেককে (Abhishek Banerjee)।

    সই জাল কাণ্ড

    প্রসঙ্গত, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হবেন, সম্প্রতি এই মর্মে একটি রেজোলিউশন নিয়েছিল তৃণমূল। দলীয় বিধায়কদের সই-সহ সেই রেজোলিউশন জমাও দেওয়া হয় বিধানসভায়। কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই নিয়ে সন্দেহ হয় বিধানসভার আধিকারিকদের। অভিযোগ দায়ের হয় হেয়ার স্ট্রিট থানায়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট এমএলএর বাড়িতে হানা দেন। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে যান সিআইডির হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্টও। এই (Abhishek Banerjee) সই-কাণ্ডেই তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করেছে সিআইডি (CID)।

     

  • CM Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই মিলবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা, ঘোষণা নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই মিলবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা, ঘোষণা নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকল্পের নাম ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakshmir Bhandar Fraud), মহিলাদের জন্য। অথচ তার সুবিধা পাচ্ছে ‘পেঁচা’রাও! অন্নপূর্ণা ভান্ডারে কেন ১১ পাতার ফর্ম ফিল-আপ করতে হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই বিতর্কে জল ঢালতেই হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “অনেক বড় রহস্য ফাঁস হয়েছে।” সোমবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে লক্ষ্মীর ভান্ডারে হওয়া ‘কেলেঙ্কারির বাক্স’ খুলতে সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ দিতে গিয়ে ‘পেঁচা’র খোঁজ (CM Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু বলেন, “অনেক বড় রহস্য ফাঁস হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে পুরুষরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিচ্ছে। এমন আরও অনেক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যাবে বলে অনুমান। ১৫টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তুলিকার। ৬টি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে তারিকুল রহমানের। কেবলমাত্র জঙ্গিপুরেই ৩ হাজার ভুয়ো নাম বেরবে। কী চিটিংবাজ! যোগ্য প্রাপকরা নিশ্চয়ই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।” তিনি বলেন, “বাজার থেকে একটা ঢ়্যাড়স কিনতে গেলেও টিপে দেখেন, তাহলে ফর্মে তথ্য যাচাই করা হবে না? ৩৬ হাজার টাকা দেবে সরকার, একটু সহযোগিতা করে দেখুন না! একটু ভরসা করে দেখুন!” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভুয়ো বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতা নেওয়ার জন্য (Lakshmir Bhandar Fraud) গ্রেফতার করা হয়েছে চন্দ্রকোণার টিএমসি নেতা উত্তম সাউকে।

    ১১ পাতার ফর্ম কেন, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    অন্নপূর্ণ যোজনার সুবিধা পেতে গেলে কেন ১১ পাতার ফর্ম ফিল-আপ করতে হবে, এদিন তার ব্যাখ্যাও দেন শুভেন্দু। বলেন, “জনগণের দ্বারা রিজেক্টেড নেতা ও তাঁর দলের লোকেদের বলব, অপপ্রচার না করে বুঝে নিন কেন ১১ পাতার ফর্ম ফিল-আপ করতে হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছেই, মহিলা নন তৃণমূলের এমন হাজার হাজার লোক লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা লুট করছে। সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। এসআইআরে বাদ যাওয়া অন্তত ৩০ লাখ মানুষও ভুয়ো লক্ষ্মীর ভান্ডারে নাম তুলছেন। কত হাজার কোটি টাকা জনগণের কীভাবে লুট করেছে এই লুটেরাদের পার্টি, এটাই তার প্রমাণ। তৃণমূল স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করব।”

    লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে বিস্তর ঘাপলা

    প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল-আপ করতে গিয়েই ভিরমি খাওয়ার জোগাড় আবেদনকারীদের। সেই সুযোগটাকেই কৌশলে কাজে লাগাচ্ছে কোনও কোনও রাজনৈতিক দল। তারা প্রচার করছে, ৩ হাজার টাকা দিতে গিয়ে হাঁড়ির খবর নিয়ে নিচ্ছে সরকার! যদিও রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বক্তব্য, লক্ষ্মীর ভান্ডারে বহু ভুয়ো নাম ঢুকেছিল। তাই প্রতিটি পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করেই দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতিশ্রুত অর্থ (CM Suvendu Adhikari)। অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের ঘোষণা করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অগ্নিমিত্রা পাল দু’জনেই জানিয়েছিলেন, যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প পাচ্ছেন, তাঁদের ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা যোজনায়। ফর্ম ফিল-আপের প্রয়োজন পড়বে না। পরে প্রকল্প চালু করতে গিয়ে শুভেন্দুর সরকার দেখে, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে বিস্তর ঘাপলা হয়েছে। তার পরেই শুরু হয় চাল থেকে কাঁকর বাছার প্রক্রিয়া (Lakshmir Bhandar Fraud)। তাতেই উঠতে শুরু করেছে রাঘব-বোয়ালরা।

    বুধবার থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা

    বুধবার থেকেই যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকতে শুরু করবে, এদিন তাও জানিয়ে দেন পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘গত দু’-তিন ধরে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি, কিছু মিথ্যা প্রচার যাঁরা চালিয়েছিলেন, এখন তাঁরা নিজেরাই ফর্ম ফিল-আপের জন্য এগিয়ে এসেছেন। আমরা এর আগে অফলাইনে চালু করেছিলাম। আজ থেকে অনলাইনেও চালু হয়ে গিয়েছে। ২০ জন আধিকারিক জেলায় জেলায় গিয়ে এই কাজ নজরদারি করছেন। আমরা আশা করছি, বুধবার বড় সংখ্যায় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে শুরু করব (CM Suvendu Adhikari)।’’

    ফি মাসে ৩০ লাখ টাকা গায়েব!

    শুভেন্দুর সরকার কেন বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে, এদিন তার ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। টেনে আনেন রাকিবুল শেখের প্রসঙ্গ। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা রাকিবুল দীর্ঘ দিন ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ। কীভাবে একজন পুরুষ হয়ে রকিবুল এই প্রকল্পের সুবিধা পান, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই পুলিশ রাজ্যজুড়ে ‘লক্ষ্মীর পেঁচা’দের খোঁজ শুরু করেছে (CM Suvendu Adhikari)। আরও কয়েক জনের খোঁজও মেলে। তৃণমূল জমানার সেই সব দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই তালিকা অনেক বড় হবে। পুলিশকে তদন্তের গতি আরও বাড়াতে বলেছি। সংখ্যাটা ঠিক কত হবে, আমি জানি না। অনুপ্রবেশকারীরা তো পেতেনই, হাজার হাজার তৃণমূল নেতাও মহিলা না হয়েও, লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিচ্ছিলেন। যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের (Lakshmir Bhandar Fraud) টাকা লুট করছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়ব না। আমি ডিজিপিকে বলেছি সিট গঠন করতে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা হিসেব করে দেখেছি, ভুয়োভাবে অন্তত ৩০ লাখ টাকা তোলা হচ্ছিল। আইনের মাধ্যমে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে এই দুর্নীতি রোধ করব (CM Suvendu Adhikari)।’’

     

  • Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ফের মিলল পাক-যোগের প্রমাণ! তদন্তকারীরা জেনেছেন, জঙ্গিদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনের উৎস পাকিস্তান। ২০২১ সালে আমদানি করা একটি চালানের সঙ্গেই সেটি এসেছিল ভারতে। এই চালানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছিল করাচির একটি ব্যাঙ্ক। অতীতেও সন্ত্রাস-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের এই ব্যাঙ্কের নাম। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ (NIA) এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।

    বাজেয়াপ্ত ২ ফোন (Karachi Bank)

    সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা জেনেছেন, পহেলগাঁও হামলায় জড়িত সন্ত্রাসবাদীরা দু’টি Xiaomi Redmi সিরিজের ফোন ব্যবহার করছিল। এর মধ্যে একটি ছিল Redmi 9T। ২০২১ সালে এটি আমদানি করা হয়েছিল পাকিস্তানে। অন্য ফোনটি ছিল Redmi Note 12, আমদানি করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ফোন দু’টি উদ্ধার হয় ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই, জম্মু-কাশ্মীরের দাচিগাম জঙ্গলে মুলনার মহাদেব এলাকায়। সেখানেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয় তিন জঙ্গি—ফয়সাল জাট ওরফে সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান এবং হামজা আফগানির কাছ থেকে। আরও জানা গিয়েছে, Redmi 9T ফোনটি পাকিস্তানের করাচির ক্লিফটন রোডের Tech Sirat Pvt Ltd নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা চালানের অংশ ছিল। Xiaomi Global-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চালানটি ১ জানুয়ারি ২০২১ সালে পাকিস্তানে পৌঁছেছিল।

    ফোন পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিদের হাতে

    এই চালানের লজিস্টিকস ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বড় ইসলামিক ব্যাঙ্ক ফয়জল ব্যাঙ্ক লিমিটেড (Faysal Bank Ltd)। চালান ডেলিভারির ঠিকানায় লেখা ছিল: “ফয়জল হাউস, মেন ব্রাঞ্চ, সাহারা-ই-ফয়জল, করাচি।” তদন্তকারীদের অনুমান, সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া, যেমন লেটার অফ ক্রেডিটের মাধ্যমে আমদানিতে অর্থায়ন করা হয়েছিল। ফোনটি ওই চালান থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে পরে পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গিদের হাতে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মধ্যে একজন বলেন, “পহেলগাঁও হামলায় ব্যবহৃত ফোনটি সম্ভবত এই চালান থেকেই পাচার হয়ে লস্কর-ই-তৈবার হাতে পৌঁছেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২১ সালে আমদানির পর থেকে ফোনটি চালুই করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার সময়ই সেটি প্রথম চালু হয়।”

    ফয়জল ব্যাঙ্কে জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট

    তদন্তকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, এখনও অব্দি ফয়জল ব্যাঙ্ককে সরাসরি পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে অতীতের বিভিন্ন সন্ত্রাসে অর্থায়ন-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের ওই ব্যাঙ্কটির নাম। ২০০৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফয়জল ব্যাঙ্কে লস্কর-ই-তৈবা এবং লাজনাত-আল-দাওয়া-সহ কয়েকটি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট ছিল। যদিও ব্যাঙ্কটির হোল্ডিং কোম্পানি সেই সময় স্পষ্ট জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই নেই। এও জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর তাদের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই ফোন চালু

    তদন্তকারীরা ৯/১১ হামলার পর প্রকাশিত পুরানো কিছু রিপোর্টের দিকেও নজর দিচ্ছেন। ওই প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানের কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই দেশেরই বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে, এর মধ্যে ফয়জল ব্যাঙ্কও ছিল।জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় ফোনটি পাকিস্তানেরই লাহোরভিত্তিক এয়ার লিঙ্ক কমিউনিকেশনস লিমিটেড আমদানি করেছিল।তদন্তকারীরা জেনেছেন, কেনার পর এই ফোনটিও কয়েক বছর চালু করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই প্রথম চালু করা হয়।

    ফোনে মিলল ছবি

    ফোন দু’টিতে নিয়মিত কল আসা-যাওয়া কিংবা ইন্টারনেট যোগাযোগের তথ্যও মেলেনি। কারণ জঙ্গিরা মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের বদলে দূর-পাল্লার রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করত। তাই তারা নিশ্চিন্তে যোগাযোগ করতে পেরেছে এবং সাধারণ কল বা ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও ডিজিটাল ট্রেইল রেখে যায়নি। তদন্তকারীরা অবশ্য ওই ফোন দু’টি থেকে কিছু ছবি এবং মানচিত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ছিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন মেডোজ এবং আশপাশ এলাকার ছবিও। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জঙ্গিরা একটি তাঁবু পেতেছিল। এটি হামলার কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁবুটি এমন একটি উঁচু জায়গায় ফেলা হয়েছিল যেখান থেকে সহজেই নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখা যায়।

     

  • Suvendu Adhikari: “জাল সই-কাণ্ডের পর্দাফাঁস করেছেন তৃণমূলেরই ২ বিধায়ক”! তাঁরা কারা? নাম ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: “জাল সই-কাণ্ডের পর্দাফাঁস করেছেন তৃণমূলেরই ২ বিধায়ক”! তাঁরা কারা? নাম ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এরা প্রতিষ্ঠিত চোর। নিজেদের দলের বিধায়কের সইও জাল করেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, দলের দুই বিধায়ক আবার সেই অভিযোগ স্বীকারও করে নিয়েছেন।” বিধানসভার সই জাল (TMC MLA Signature Mismatch) বিতর্কে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    দুয়ারে সিআইডি (Suvendu Adhikari)

    শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হবেন-এই মর্মে একটি রেজোলিউশন নিয়েছিল তৃণমূল। দলীয় বিধায়কদের স্বাক্ষর-সহ সেই রেজোলিউশন জমাও দেওয়া হয় বিধানসভায়। কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই নিয়ে সন্দেহ হয় বিধানসভার আধিকারিকদের। অভিযোগ দায়ের হয় হেয়ার স্ট্রিট থানায়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট এমএলএর বাড়িতে হানা দেন। তাঁদের সঙ্গে পৌঁছে যান সিআইডির হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্টও। এই সই-কাণ্ডেই তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করেছে সিআইডি।

    মুখ্যমন্ত্রীর তোপ

    সেই প্রসঙ্গেই এবার তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি জানান, এই বিষয়ে বিরোধী দল তৃণমূল অনেক সময় দাবি করছে, এটা নাকি বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। সেই অভিযোগ উড়িয়ে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা-ই এই বিষয়ে অভিযোগ জানান। তাঁদের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই  হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। তদন্তে সিআইডির হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্টদের সাহায্য নেয় পুলিশ (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু বলেন, “তদন্তের স্বার্থে আঞ্চলিক দলের ‘সর্বভারতীয়’ সাধারণ সম্পাদককে হাজিরার নোটিস দিয়েছিল সিআইডি। যদিও নির্ধারিত দিনে হাজিরা দেননি তিনি। এত বড় দুর্নীতিগ্রস্ত একটা দল তদন্তের মুখোমুখি হতেও ভয় পাচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হারের পরেও চুরির অভ্যেস যায়নি, দলের বিধায়কদেরই সই জাল! সই জালিয়াতির কথা স্বীকারও করেছেন তৃণমূলেরই ২ বিধায়ক। ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে কথা হয়েছে।”

    জাল করা হয়েছে সই!

    প্রসঙ্গত, শনিবারই অভিষেকের ১৮৮-এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে হানা দেন তদন্তকারীরা। সেখানে না পেয়ে তাঁরা যান অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে। সেখানে নীচে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সাংসদকে ডেকে পাঠান তদন্তকারীরা। অভিষেক নীচে নামলে তাঁর হাতেই নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই নোটিশে আজ, সোমবার তাঁকে হাজিরা (TMC MLA Signature Mismatch) দিতে বলেছিল সিআইডি। যদিও উপস্থিত হননি অভিষেক। জানা গিয়েছে, বাহরুল ইসলাম, শুভাশিস দাস ও অরূপ রায় স্বীকার করেছেন যে, তাঁদের সই নকল করা হয়েছে। বাহরুল এও জানান, তিনি কলকাতায় যাননি, বাড়িতেই ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিআইডির সামনে তিন জন স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁরা কেন ফাঁসবেন? রেজোলিউশন তো আমাদেরও দিতে হয়েছিল ২০২১ সালে। এরা এত দুর্নীতিগ্রস্ত!” মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

     

  • FIFA World Cup 2026: আর চিন্তা নেই! ভারতে দেখা যাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, শেষ মুহূর্তে বড় ঘোষণা জি-র

    FIFA World Cup 2026: আর চিন্তা নেই! ভারতে দেখা যাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, শেষ মুহূর্তে বড় ঘোষণা জি-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করল জি এন্টারটেইনমেন্ট (Zee Entertainment)। সোমবার সংস্থার তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ভারতের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী নিশ্চিন্ত হলেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরের ম্যাচগুলি তাঁরা দেশের মাটিতে বসেই দেখতে পারবেন।

    বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোয় যৌথভাবে শুরু হবে ফুটবলের মহারণ। অথচ এতদিন পর্যন্ত ভারত ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার, যেখানে এখনও কোনও সরকারি সম্প্রচারকারী চূড়ান্ত হয়নি। ফিফা এবং সম্ভাব্য সম্প্রচার সংস্থাগুলির মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত জি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

    ২০৩৪ সাল পর্যন্ত একাধিক ফিফা টুর্নামেন্টের স্বত্ব

    শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপই নয়, এই চুক্তির মাধ্যমে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত মোট ৩৮টি ফিফা ইভেন্ট সম্প্রচারের অধিকারও পেয়েছে জি। ফলে আগামী আট বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা ভারতীয় দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে সংস্থাটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচার বাজারে একটি বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। কারণ, ফিফার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপ, মহিলা বিশ্বকাপ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সম্প্রচারও এখন জি-র হাতে চলে গেল।

    কত টাকায় হল চুক্তি?

    চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভারতীয় বাজারের জন্য ২০২৬ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ প্রথমে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা) দাবি করেছিল ফিফা। পরে সেই দাবি কমিয়ে প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলারে নামিয়ে আনা হয়। সূত্রের খবর, ভারতের বৃহত্তম ক্রীড়া সম্প্রচার সংস্থা জিওস্টার (JioStar) এই স্বত্বের জন্য প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিফা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারকারী সনি (Sony)-ও আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিড জমা দেয়নি।

    প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ

    ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে চলেছে। এবার প্রথমবারের মতো ৩২ দলের বদলে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নাটকীয়তা এবং ফুটবল উৎসব। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম তিন দেশের যৌথ আয়োজিত সংস্করণ।

    নতুন ক্রীড়া চ্যানেল চালু করল জি

    ফিফার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি নিজেদের ক্রীড়া সম্প্রচার ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চারটি নতুন স্পোর্টস চ্যানেল চালুর ঘোষণা করেছে জি এন্টারটেইনমেন্ট।

    নতুন চ্যানেলগুলি হল—

    • ● Unite8 Sports 1
    • ● Unite8 Sports 1 HD
    • ● Unite8 Sports 2
    • ● Unite8 Sports 2 HD

    সংস্থার দাবি, এই নতুন চ্যানেলগুলির মাধ্যমে ভারতীয় দর্শকদের আরও উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন ক্রীড়া দেখার অভিজ্ঞতা দেওয়া হবে। আগামী কয়েক বছরে ফুটবলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সম্প্রচারে এই চ্যানেলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    জি-র জন্য বড় কৌশলগত সাফল্য

    বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া জি এন্টারটেইনমেন্টের জন্য একটি বড় ব্যবসায়িক এবং কৌশলগত সাফল্য। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ক্রীড়া সম্প্রচার বাজারে জিওস্টার ও সনির মতো বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে এই চুক্তি জি-র অবস্থানকে অনেকটাই শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও এটি সুখবর। কারণ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে পর্যন্ত সম্প্রচার নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা দূর হল। ফলে ১১ জুন থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের লড়াই উপভোগ করতে আর কোনও বাধা থাকল না।

  • Terror Outfits: কাশ্মীরে কৌশল বদলাচ্ছে আইএসআই, জঙ্গিদের ভিড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে! সতর্ক করলেন গোয়েন্দারা

    Terror Outfits: কাশ্মীরে কৌশল বদলাচ্ছে আইএসআই, জঙ্গিদের ভিড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে! সতর্ক করলেন গোয়েন্দারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশল বদলানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপের তদন্ত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিরন্তর অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে জম্মু-কাশ্মীরে তাদের ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার (OGW) নেটওয়ার্ককে মূলধারার জাতীয় রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে মিশে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান আধিকারিকরা।

    আইএসআইয়ের কৌশল পরিবর্তনের চেষ্টা (Terror Outfits)

    আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর নজরদারিতে রয়েছে পাকিস্তান। সেই কারণেও আইএসআইয়ের কৌশল পরিবর্তনের চেষ্টা। এরই অংশ হিসেবে তারা নয়ের দশকের শুরুতে স্থানীয়ভাবে গঠিত এবং বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সক্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গি কার্যকলাপগুলির ‘ভারতীয়করণে’র রূপ দিতে এবং পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদত দেওয়ার বিষয়টিকে আড়াল করতেই এই পন্থা অবলম্বন করছে পাক-চর সংস্থা।

    জেরায় কী জানিয়েছে জঙ্গিরা?

    কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকদের মতে, সম্প্রতি শ্রীনগর পুলিশ পাকড়াও করেছে কয়েকজন ওজিডব্লিউকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই জানা গিয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জাতীয় রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিল। জঙ্গি সংগঠনগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সহায়তা, নিয়োগ এবং অর্থায়নকারী সমর্থকদের বৈধ রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ভিড়িয়ে দিয়ে আইএসআই তাদের এজেন্টদের নিরাপত্তা অভিযানের হাত থেকে রক্ষা করতে চাইছে।

    জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কোমর ভেঙে গিয়েছে

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আধিকারিক জানান, এই কৌশলটি মূলত হতাশা থেকে নেওয়া। কারণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবল চাপে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কোমর ভেঙে গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে নয়া প্রক্সি সংগঠনগুলির প্রতি স্থানীয়দের সমর্থনও। পুরানো সংগঠনগুলির নাম পুনরুজ্জীবিত করে এবং তাদের কর্মীদের মূলধারার রাজনীতির স্রোতে মিশিয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মের যুবকদের আকৃষ্ট করতে এবং একই সঙ্গে তাদের কর্মীদের রাজনৈতিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে চাইছে আইএসআই। আধিকারিকদের মতে, যখন কোনও ওজিডব্লিউ ঘেরাও এবং তল্লাশি অভিযানে ধরা পড়ে, তখন তারা অনেক সময় জাতীয় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সদস্যপদের ‘প্রমাণপত্র’ দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে।

    জঙ্গিদের ছল

    নিরাপত্তা আধিকারিকরা লক্ষ্য করেছেন, জঙ্গিদের এই কৌশল বদলেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। নয়ের দশকের শেষ দিকে সন্দেহভাজনরা পুলিশের হাত এড়াতে ভোটারকার্ড ব্যবহার করত। পরে তদন্ত এড়াতে তারা আধার কার্ডও ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। যদিও তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কখনও এই ধরনের লোকজনকে রক্ষা করতে হস্তক্ষেপ করেনি। এদিকে, ওজিডব্লিউ কার্যকলাপের মাধ্যমে ১৯৯৩ সালের পর প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কিছু সংগঠনকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা করতেও দেখা যাচ্ছে।

    আইএসআইয়ের কৌশল

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বর্তমানে ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে জম্মু- কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত পুরোনো সংগঠনগুলির নাম ফের সামনে আসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই সব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে আল-উমর মুজাহিদিন, আল বদর, এবং তেহরিক-উল-মুজাহিদিনও। আধিকারিকদের মতে, এই পুরোনো স্থানীয় পরিচয়ের সংগঠনগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে আইএসআই এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি করতে চায় যে জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গি কার্যকলাপ একটি অভ্যন্তরীণ এবং স্থানীয় আন্দোলন, সীমান্তপারের পরিকল্পিত ছায়াযুদ্ধ নয়।

    বহাল তবিয়তে রয়েছে জঙ্গিদের মাথারা

    তাঁরা এও জানান, পুনরুজ্জীবিত এই সব সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নিরাপদে রয়েছে। যদিও তারা ফিল্ড লেভেলের নেটওয়ার্ক প্রচার, অর্থ জোগাড় এবং উগ্রপন্থায় প্ররোচনা দেওয়ার কাজে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জঙ্গিদের এসব তৎপরতার ওপর কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং ফের সক্রিয় হওয়া ওজিডব্লিউ নেটওয়ার্কের লজিস্টিক সহায়তা ব্যবস্থাকে নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছে। একই সঙ্গে, জঙ্গিদের সমর্থকদের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে উগ্র মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও প্রতিরোধ করা হচ্ছে। অর্জিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানান গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কর্তারা।

     

  • Khokan Das: ভ্যানে করে পৌঁছে দিতেন কয়লা, এখন প্রাসাদোপম বাড়ির মালিক! ‘বর্ধমানের ত্রাস’ খোকন দাসের প্রতিপত্তি কীভাবে?

    Khokan Das: ভ্যানে করে পৌঁছে দিতেন কয়লা, এখন প্রাসাদোপম বাড়ির মালিক! ‘বর্ধমানের ত্রাস’ খোকন দাসের প্রতিপত্তি কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক হাই-প্রোফাইল অভিযানে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার হলেন বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস (Khokan Das)। রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এই অভিযান চালায়। গ্রেফতারের (Arrest TMC MLA) পর ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট ও গ্রেফতারি (Khokan Das)

    বেশ কিছু দিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন এই প্রভাবশালী প্রাক্তন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খোকন দাস। সুনির্দিষ্ট কিছু ফৌজদারি অভিযোগ এবং মামলার ভিত্তিতে তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ (Arrest TMC MLA)। শেষ পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত হওয়ার পর, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁকে হেপাজতে নেওয়া হয়।

    • অভিযোগের প্রকৃতি: তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, উস্কানিমূলক আচরণসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
    • আইনি প্রক্রিয়া: উত্তরপ্রদেশের সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে ইতিমধ্যেই তাঁর ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
    • পরবর্তী পদক্ষেপ: রাজ্যে ফিরিয়ে আনার পর তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

    রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া ও চাঞ্চল্য

    খোকন দাসের এই আকস্মিক গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।  ভ্যান-ঠেলাগাড়িতে বাড়ি বাড়ি কয়লা পৌঁছে দেওয়ার কাজ দিয়েই খোকন দাসের (Khokan Das) জীবনের লড়াই শুরু। এরপর ধীরে ধীরে রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ। বাম আমল থেকেই কয়লা ও বালি ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করে সামান্য কাউন্সিলরের পদ থেকে ক্রমে বর্ধমানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উত্থান। বাম আমলে প্রথমবার বর্ধমান পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন খোকন। ২০১৩ সালেও এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সেবার পুরপ্রধান হয়েছিলেন তৃণমূলের স্বরূপ দত্ত। কিন্ত ক্ষমতার বলে খোকন দাসই পুরসভার ‘ডি-ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হয়ে ওঠেন। দৌরাত্ম্য বাড়ে ক্রমশ। বেআইনি বালি কারবার, সুদের কারবার, ঠিকাদারি থেকে শুরু করে সমস্ত বেআইনি নির্মাণের মতো কাজে সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আজ তাঁর সম্পদের তালিকায় রয়েছে বহুতল প্রাসাদোপম বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ির বহর এবং ইএম বাইপাস সংলগ্ন বিস্তীর্ণ জমি।  বর্ধমানের কাঞ্চননগরে বলিউড শিল্পীদের নিয়ে প্রতি বছর কাঞ্চন উৎসবের নামে কয়েক কোটি টাকা খরচ করতেন। ২০২১ সালে বর্ধমান শহরে ভোটবর্তী হিংসায় বহু মানুষ ঘরছাড়া হন, বাড়ি ভাঙচুর হয়, হামলার শিকার হন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন খোকনকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল। সিবিআই তদন্ত হলেও এতদিন গ্রেফতার হননি খোকন। এবার পুলিশের জালে (Arrest TMC MLA) দাগি তৃণমূল নেতা। এদিকে, খোকনের গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই কাঞ্চননগরে উল্লাসে মেতে ওঠেন স্থানীয়রা। ‘খোকন চোর’ গান বাজিয়ে, গেরুয়া আবির খেলে, লাড্ডু বিলিয়ে প্রাক্তন বিধায়কের জেলযাত্রা সেলিব্রেট করেন এলাকাবাসী।

  • Annapurna Yojana: অনলাইনেও শুরু হয়ে গেল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম ফিল-আপ, কীভাবে করবেন আবেদন?

    Annapurna Yojana: অনলাইনেও শুরু হয়ে গেল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম ফিল-আপ, কীভাবে করবেন আবেদন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অফলাইনে আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম ফিল-আপের কাজ। আজ, ১ জুন থেকে ফর্ম পূরণ করা যাবে অনলাইনেও (Application Guide)। আবেদন করা যাবে ৯০ দিন ধরে। ১২ পাতার ফর্ম। ফর্মে আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, পরিবারে কারা রয়েছেন, সন্তান-সন্ততির সংখ্যা, তাদের টিকাকরণের স্টেটাস, জমির পরিমাণ ইত্যাদি।

    প্রয়োজনীয় নথি (Annapurna Yojana)

    ফর্ম ফিল-আপ করার সময় হাতের কাছে রাখতে হবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, অ্যাকাউন্টের তথ্য, বসবাসের প্রমাণপত্র হিসেবে বিদ্যুৎ কিংবা জলের বিল, এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি। এবার জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে অনলাইনে পূরণ করবেন অন্নপূর্ণ যোজনার ফর্ম। প্রথমে রাজ্য সরকারের পোর্টাল থেকে ফর্ম ডাউনলোড করতে হবে। পূরণ করা ফর্ম জমা দিতে হবে অনলাইনেই। আবেদন করতে হবে রাজ্য সরকারের সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে। আবেদনের জন্য  https://socialsecurity.wb.gov.in/ ওয়েসাইটে যেতে হবে। এই ওয়েবসাইটেরই নাম দেওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টাল। পোর্টালে গেলেই আবেদনকারী তাঁর নিজের ভাষা অনুযায়ী ফর্ম ডাউনলোড করতে পারবেন। পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করতে হবে মোবাইল নম্বর দিয়ে। ফর্ম ফিল-আপের পর সেটি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে পোর্টালেই। ফর্মের সঙ্গে স্ক্যান করে জমা দিতে হবে প্রয়োজনীয় নথিও।

    কোন কোন তথ্য জানাতে হবে

    ২৭ মে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পেতে হলে পূরণ করতে হবে এই ফর্ম। একটি পরিবার একটিই ফর্ম পাবে। যদিও সেখানে একাধিক নামের জায়গা রয়েছে। ফর্মের প্রথমেই রয়েছে আবেদনকারীর পরিবারের নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, লিঙ্গ, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল ফোনের নম্বর লিখতে হবে। উল্লেখ করতে হবে পরিবারের অন্য সদস্যদের যাবতীয় তথ্য এবং গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কী, তা। পরিবারের সদস্যদের কারও ব্যক্তিগত চার চাকার গাড়ি থাকলে ফর্মে উল্লেখ করতে হবে তাও (Annapurna Yojana)। আবেদনকারী এখন রাজ্য সরকারের কোনও সুবিধা পান কিনা এবং পরিবারের কোনও সদস্যের স্বাস্থ্যবিমা, কিষান ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড এবং শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড থাকলে, সে সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। পরিবারের সদস্যরা পেশায় কী, তাও উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

    এই প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া (Application Guide) বাধ্যতামূলক করায় সচেতনভাবেই গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে রাজনীতির কারবারিদের একাংশ। যদিও পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সংক্রান্ত কোনও গুজবে কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকের বাড়িতে ফর্ম পূরণের জন্য লোক যাবেন। তাঁরাই ফর্ম পূরণ করিয়ে দেবেন। বিভ্রান্ত না হওয়ার আবেদনও জানান (Annapurna Yojana) নয়া মুখ্যমন্ত্রী।

LinkedIn
Share