Tag: news in bengali

news in bengali

  • PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতির ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধিকে দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন বলে প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে দেশবাসীকে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর প্রচার আরও জোরদার করার আহ্বান জানালেন তিনি। অপ্রয়োজনীয় বিদেশি খরচ, বিশেষ করে অবকাশযাপন, বিদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এবং প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনার মতো ব্যয় কমানোর বার্তাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, নানা সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাঁর মতে, এই সাফল্য কোনও একজনের নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের সংকল্প ও পরিশ্রমের ফল।

    সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন

    ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “দেশের মানুষকে অনেক অভিনন্দন। ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। দেশ আনন্দে ভরে উঠেছে। তবে দেশের মানুষের সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানাই। এটি সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন।” বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় থেকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বে স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধের খবর আসছে, বিশ্ব একাধিক সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মোদি বলেন, “২০২০ সালে কোভিডের সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোথাও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, চারদিকে সংকট। সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত। তা সত্ত্বেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।”

    ভোকাল ফর লোকাল

    বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাজারে। তখন সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে ভারতীয় অর্থনীতি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি GDP) বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ। ভারতের অর্থনীতির এই সাফল্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষকে দেশীয় পণ্য ও পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি ব্যয় কমিয়ে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-কে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    মেড ইন ইন্ডিয়া

    ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ভারতকে পুরোপুরি ‘আত্মনির্ভর’ হতে হবে এবং ‘স্বদেশী’ মন্ত্র মেনে কাজ করতে হবে। তিনি দেশবাসীকে অনুরোধ জানান, যেন তারা বিদেশে গিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত বা অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বদলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ মন্ত্রকে জীবনে আপন করে নেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা বন্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, আমরা যত বেশি দেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হব, স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছে দেশের যুবসমাজকে তত সুন্দর এক নতুন ভারত উপহার দিতে পারব।

    ভারত আবারও বিকশিত হল

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত GDP (মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। সোমবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই তথ্য সামনে আসার পরই এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশের অসাধারণ জিডিপি বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সাফল্য। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দামের ধাক্কা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার মধ্যেও দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তিই ভারতকে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহায্য করেছে।” এরপরই ভারতীয় অর্থনীতির সমালোচকদের নিশানা করে মোদি লেখেন, “হতাশাবাদীদের ভবিষ্যদ্বাণী মুখ থুবড়ে পড়ল, ভারত আবারও বিকশিত হল।” প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, যাঁরা ভারতের অর্থনীতি নিয়ে হতাশার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাঁদের সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

    আরবিআই-এর পূর্বাভাস

    প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে সেটাই হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি (GDP)-র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। জিডিপি বৃদ্ধির এই হার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) ৭ শতাংশ পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকের জন্য আরবিআই ৭ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

    তরুণ প্রজন্মকে বার্তা

    অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্ম নিয়েও আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আজ যে পরিশ্রম করা হচ্ছে, তার সুফল ভবিষ্যতে দেশের যুব সমাজ পাবে। মোদি বলেন, তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করাই দেশের অন্যতম বড় লক্ষ্য। আজকের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আগামী দিনের ভারত তৈরি হবে। তিনি দেশবাসীকে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সরকারের নীতি সঠিক পথে রয়েছে। উদ্দেশ্যও স্পষ্ট। আর ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শক্তি ভারতকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার মূল সুর হল—দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকেও নিজেদের কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং জীবনযাপনের কিছু সিদ্ধান্তে দেশীয় ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

  • Suvendu Adhikari: প্রতারণা রুখতে কড়া পদক্ষেপ, ফ্ল্যাট জালিয়াতি থেকে খাবারে ভেজাল—জিরো টলারেন্সের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: প্রতারণা রুখতে কড়া পদক্ষেপ, ফ্ল্যাট জালিয়াতি থেকে খাবারে ভেজাল—জিরো টলারেন্সের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা। এমন অভিযোগ তুলে উপভোক্তা অধিকার রক্ষায় কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’। হগ মার্কেট চত্বরে এই কর্মসূচির সূচনা করে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, ফ্ল্যাট জালিয়াতি, মাছ-সবজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার, মাপে কারচুপি কিংবা অন্য কোনও অসাধু কারবার— কোনও ক্ষেত্রেই আপস করা হবে না (Consumer Rights Week)।

    দীর্ঘদিন অবহেলায় ক্রেতা সুরক্ষা দফতর (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে আগের সরকারগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ করা হয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ক্রেতা সুরক্ষা দফতর কার্যত অবহেলিত ছিল।

    শাক-সবজি, মাছ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সময় দাঁড়িপাল্লা থেকে আধুনিক বৈদ্যুতিন মাপযন্ত্রে কারচুপি, পণ্য কেনার পর রসিদ না দেওয়া— বিভিন্ন উপায়ে ক্রেতাদের প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফ্ল্যাটের নামে প্রতারণা, বাড়ছে অভিযোগ

    ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের টাকা প্রতারণা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সল্টলেকে দলীয় কার্যালয়ে ‘জনতার দরবার’ এবং মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ গ্রহণকেন্দ্রে প্রতিদিন এ সংক্রান্ত বহু অভিযোগ জমা পড়ছে বলে জানানো হয়েছে।

    অভিযোগ, ভুয়ো বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে অগ্রিম টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নাম করে টাকা নেওয়ার পর বহু ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। এই ধরনের প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    অনলাইন প্রতারণা চক্রের হদিস, গ্রেফতার ১২০

    অনলাইন প্রতারণার একটি ঘটনার উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, মাত্র ১০ দিন আগে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট নিউ টাউনের একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে ১২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, একটি চক্র বিভিন্ন পরিচিত খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী সংস্থার নাম ব্যবহার করে ভুয়ো বুকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করছিল।

    অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    আনাজ-মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক, নজরদারিতে প্রশাসন

    খাদ্যে ভেজাল ও কালোবাজারি রুখতে সম্প্রতি নবান্নে বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক হয়। বৈঠকে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর, খাদ্য পরিদর্শক, এনফোর্সমেন্ট শাখা, দুর্নীতি দমন শাখা এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    আনাজ ও চিনির দাম আচমকা বেড়ে যাওয়ার পর প্রশাসনের পদক্ষেপে বাজারদর কিছুটা কমেছে বলে জানানো হয়েছে। চালের দাম অকারণে বাড়ানোর কোনও কারণ নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    এছাড়াও নামী রেস্তোরাঁ, হোটেল ও মিষ্টির দোকানে খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙের ব্যবহার বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। মাছ ও সবজিকে সতেজ দেখাতে বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে।

    অভিযোগ, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কিছু ব্যবসায়ী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা ও অসাধু আধিকারিকদের একাংশের যোগসাজশে এই ধরনের কারবার চলছিল। এই ধরনের অনিয়ম আর বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    বাউল গান থেকে পথনাটিকা, সচেতনতা প্রচারে নানা উদ্যোগ

    উপভোক্তা সুরক্ষা আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে রাজ্যজুড়ে সপ্তাহব্যাপী প্রচার চালানো হচ্ছে। বাউল গান, পথনাটিকা, লিফলেট বিতরণ, প্রচার-সজ্জিত ট্যাবলো, বাজারে গিয়ে মাপযন্ত্র পরীক্ষা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক শিবির ও স্টলও করা হবে। ক্রেতারা যাতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন এবং প্রতারণার শিকার হলে কোথায় অভিযোগ জানাবেন, সে বিষয়ে তাঁদের সচেতন করাই এই (Suvendu Adhikari) কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

    দফতরকে আরও সক্রিয় করতে একাধিক পদক্ষেপ

    ক্রেতা সুরক্ষা দফতরকে আরও গতিশীল করতে একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ, সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে দ্রুত নতুন আধিকারিক নিয়োগ, গুণমান ও পরিমাপ পরীক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এনফোর্সমেন্ট শাখা ও দুর্নীতি দমন শাখার পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

    প্রশাসনের বার্তা, ক্রেতা প্রতারণা, ভেজাল, মাপে কারচুপি কিংবা অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে আগামী দিনে আরও কড়া নজরদারি চলবে (Consumer Rights Week)। সাধারণ মানুষের স্বার্থে উপভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করাই সরকারের লক্ষ্য (Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata New Civic Rules: থুতু ১০০, প্রস্রাব ২০০,..! রাস্তায় এই ৫ ভুল করলেই গুনতে হবে জরিমানা, চালু হল নতুন নিয়ম, বদলে ফেলুন অভ্যাস

    Kolkata New Civic Rules: থুতু ১০০, প্রস্রাব ২০০,..! রাস্তায় এই ৫ ভুল করলেই গুনতে হবে জরিমানা, চালু হল নতুন নিয়ম, বদলে ফেলুন অভ্যাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা-সহ রাজ্যের শহরাঞ্চলকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার নাগরিকদের অভ্যাস বদলের উপর জোর দিল রাজ্য সরকার। রাস্তায় যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা, প্রকাশ্যে থুতু ফেলা কিংবা মল-মূত্র ত্যাগের মতো ঘটনায় এবার আর শুধু সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গুনতে হবে জরিমানা। পাশাপাশি নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলাবে অভ্যাস, বদলাবে কলকাতা’—এই বার্তাকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উদ্যোগে শহর ও নগরাঞ্চলে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

    কোন কোন কাজে জরিমানা?

    রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় একাধিক নাগরিক আচরণকে জরিমানার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • প্রকাশ্যে থুতু ফেলা: রাস্তায় বা জনসমক্ষে থুতু ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
    • প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগ: যত্রতত্র প্রস্রাব বা মলত্যাগ করে পরিবেশ নোংরা করলে ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে।
    • যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা: রাস্তায় বা নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া অন্যত্র আবর্জনা ফেললেও জরিমানার মুখে পড়তে হবে। আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে ২০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
    • নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার: নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করলেও ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ।

    এছাড়াও নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ছাড়া যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করানো বা বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও জরিমানার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে।

    কোথায় কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম?

    ১ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যের পুরসভা, পুরনিগম এবং নোটিফায়েড এরিয়া-গুলিতে এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের কাছে নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।শহরাঞ্চলের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করতে প্রচার চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র জরিমানা করাই নয়, কোন কোন কাজ করলে জরিমানা হতে পারে, তা সাধারণ মানুষকে জানানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    কোথায় নজরদারি বেশি?

    সরকারের নজরদারির আওতায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে জনসমাগম বেশি হয় এমন এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে বাজার, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় স্থান এবং সরকারি অফিসের আশপাশের রাস্তা ও নর্দমা। এই এলাকাগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

    নগদে নয়, অনলাইনে জমা দিতে হবে জরিমানা

    নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, জরিমানার টাকা নগদে নেওয়া হবে না। নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনলাইনে জরিমানা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    শুধু প্রশাসন নয়, দায়িত্ব নাগরিকদেরও

    পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে শুধু পুরসভা বা প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রচারে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পরিষ্কার শহর শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব। রাস্তা পরিষ্কার রাখা, নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলা, নিষিদ্ধ প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা এবং প্রকাশ্যে থুতু বা মল-মূত্র ত্যাগ না করার মতো দৈনন্দিন অভ্যাস বদলের উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, নিয়মের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়লে কলকাতা-সহ রাজ্যের শহরাঞ্চল আরও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

    নাগরিক সমস্যায় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন

    এদিকে নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮০০-৩৪৫-০৯৩৮ চালুর কথাও জানানো হয়েছে। আপাতত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকার কথা। পরবর্তী সময়ে পরিষেবাটি ২৪ ঘণ্টা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই নম্বরে ফোন করে নাগরিক সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

    সব মিলিয়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে একদিকে যেমন শহর ও নগরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মকানুন আরও কড়া করা হচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাইরে বেরিয়ে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস বদলানোই এখন নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বড় বার্তা।

  • PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi at SCO Summit)। মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একসঙ্গে, একই সুরে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধান যুদ্ধের ময়দানে নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসসিও-র (SCO) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।

    সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙতে হবে

    সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রসঙ্গের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে এবং এক ভাষায় কথা বলতে হবে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ‘দুমুখো নীতি’ মেনে নেওয়া যায় না। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই হবে না, তাদের সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে—সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এককথায়, পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসে সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙার কথা বলেন মোদি। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও দ্বিচারিতার জায়গা থাকা উচিত নয়। সন্ত্রাসের গোটা পরিকাঠামো—অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—ধ্বংস করতে হবে।”

    ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না

    মোদির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগ তুলে এসেছে। এসসিও-র মঞ্চে তাই ‘দুমুখো নীতি’র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে পাকিস্তানের উদ্দেশে কূটনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শেহবাজ শরিফ যখন একই হলে উপস্থিত, তখন এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পাকিস্তানের সরকারি তথ্যও নিশ্চিত করে যে শেহবাজ শরিফ এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের পটভূমিতে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা-সহ সীমান্তপারের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ও তাকে মদত দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেয়। এসসিও-র আগের সম্মেলনেও মোদি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেওয়া বা সমর্থন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না। মোদির কথায়, যে দেশগুলি রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহযোগিতা দেয়, তাদের কাছে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। “সন্ত্রাসবাদ কখনও কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান

    আন্তর্জাতিক সংঘাত প্রসঙ্গে মোদির বক্তব্য, যুদ্ধের ময়দানে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাত আলোচনার টেবিল এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে জানান তিনি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কোনও একটি অঞ্চলের সংঘাত আর সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার প্রভাব পড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। এই ধরনের অস্থিরতার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হয় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে হবে একমাত্র আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই।

    মাদক পাচার নিয়েও উদ্বেগ

    মাদক পাচারকে শুধুমাত্র অপরাধ হিসেবে দেখলে হবে না বলেও সতর্ক করেন মোদি। তাঁর মতে, মাদক পাচার তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তা গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে।

    আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর জোর

    শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইউরেশিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সরাসরি যুক্ত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আফগানিস্তানের মানুষের উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় ভারত ধারাবাহিকভাবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব

    আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বাজারকে সংযুক্ত করা, বাণিজ্য সহজ করা এবং উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করার সমস্ত উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে। তবে একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এসসিও-র সনদেরও এটাই মৌলিক চেতনা। আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে। শুধু সড়ক, রেল ও বিমানপথ নয়, শুল্ক প্রক্রিয়া সরল করা, ডিজিটাল নথিপত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থা আরও দক্ষ করার উপরও জোর দিতে হবে।

    বিশ্ব-শান্তি ও উন্নয়নই ভারতের লক্ষ্য

    অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানিয়ে পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা পাকিস্তানের দখল করা কাশ্মীরের উপর দিয়ে যাওয়া ‘চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (সিপিইসি)-এর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এই মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালে গঠিত ১০ সদস্যের এসসিও জোটে ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। চলতি বছরের এই শীর্ষ সম্মেলনটি সম্প্রসারিত ‘এসসিও-প্লাস’ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে তুরস্ক, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, মঙ্গোলিয়া সহ এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নিয়েছেন। এসসিও (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান উঠে এসেছে, অন্যদিকে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি, আঞ্চলিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

  • PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ব্যক্তিগত কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত (SCO Summit) দেখা গেল। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে পারিবারিক ছবি তোলার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে খানিক সময়ের জন্য হাত মেলাতে দেখা গেল। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অবস্থিত ইরিস অর্দো কংগ্রেস হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যামেরার সামনে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত ছিলেন।

    সৌজন্য বিনিময় (PM Modi)

    ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময় এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন দুই দেশই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। সীমান্তে একাধিক পর্যায়ে সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলিকেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের প্রেসিডেন্টকে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ভারত চলতি মাসের শেষ দিকে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে। মোদির আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিনপিং, আশ্বাস দেন চিনের পক্ষ থেকে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রতি সমর্থনের। এই ঘটনাকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত বিরোধ। সেই পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    চিনা সাংবাদিকের বক্তব্য

    ভারত-চিন সম্পর্ক এবং আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিনা বিশ্ব টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ঝাও ইউনফেই মঙ্গলবার বলেন, দুই দেশের উচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ঝাও ইউনফেইয়ের মতে, এই দুই আন্তর্জাতিক মঞ্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি হওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এর ফলে দুই প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারত ও চিন প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সত্যিই ভালো হবে। চিন সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরা প্রতিবেশী, তাই আমাদের সমস্ত মতপার্থক্য মিটিয়ে এক সঙ্গে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।” সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সত্যিই একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। আশা করি, ব্রিকসও দুই পক্ষের জন্য একটি ভালো মঞ্চ হবে।”

    ভারতে আসবেন জিনপিং!

    ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট ভারতে আসবেন কি না, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝাও বলেন, চিনা নেতার কর্মসূচি সম্পর্কে (SCO Summit) তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন (PM Modi)।

    ঝাও বলেন, “আমাদের কাছে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা আশা করছি, প্রেসিডেন্ট শি-র কর্মসূচি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে। অবশ্যই ব্রিকস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সদস্যরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলির প্রতিনিধিত্ব করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে।”

    ভারত ও চিনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। গত ২৬ অগাস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে জেনারেল স্তরের ব্যবস্থা বা সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক করার জন্য আরও দু’টি বৈঠকস্থল নির্ধারণে সম্মত হয়েছে।

    গলছে সম্পর্কের বরফ!

    এর পাশাপাশি সীমান্তের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে সামরিক হটলাইন যোগাযোগের জন্য আরও দু’টি ব্যবস্থা চালু করার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই সিদ্ধান্ত ভারত ও চিনের সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২৫তম দফার আলোচনায় অর্জিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্যের অংশ। বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন (SCO Summit)।

    সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামরিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ভারত-চিন সম্পর্কের জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

    দূর সীমান্তে আশার আলো

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সীমান্ত সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান না হলেও, সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্তরে শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সম্ভাবনা দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই যোগাযোগ কতটা স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করবে সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক আস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর (PM Modi)।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে মোদি ও জিনপিংয়ের করমর্দন যেমন প্রতীকী বার্তা বহন করছে, তেমনই ব্রিকসের আসন্ন মঞ্চ দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ দিতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা—দুই দেশের সামনে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফলে আগামী দিনে (SCO Summit) বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলি ভারত-চিন সম্পর্কের নয়া কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন (PM Modi)।

     

  • PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে সব ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানই বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব এই (Ukraine War) যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ‘যুদ্ধের অবসান হোক’ (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই বৈঠকের পরেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। মোদির বক্তব্যকে কয়েক বছর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া তাঁর ‘‘এটি যুদ্ধের যুগ নয়’’ বার্তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সেই বক্তব্য যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, “আমাদের ‘অন্তহীন যুদ্ধে’র পরিস্থিতি থেকে ‘যুদ্ধের অবসানে’র দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান হোক।” ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা যখন শেষবার দেখা করেছিলাম, তখনও আপনি পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সব ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।” ভারতের অবস্থান যে কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট করে মোদি বলেন, “ভারত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মানবতার স্বার্থে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় (PM Modi)।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় ভারত বারবার জানিয়েছে, যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। ২০২২ সালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মোদি একই ধরনের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এটি যুদ্ধের যুগ নয়। মানবতার সামনে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলায় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। তাই ভারত কূটনীতি ও আলোচনায় বিশ্বাস করে।”

    মোদির মুখে শান্তির ললিত বাণী

    সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ভারত বুদ্ধের ভূমি। সহমর্মিতা ভারতীয়দের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের কোনও দেশে যখনই সংকট দেখা দেয়, ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে। বুদ্ধের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ভারত যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পক্ষেই অবস্থান করে (Ukraine War)। এবারও মোদির বক্তব্যে মানবতার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয় এবং আমাদের অবশ্যই শত্রুতা ও সংঘাতের অবসানের জন্য কাজ করতে হবে (PM Modi)।” ভারতের শান্তির বার্তার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের আদর্শের সম্পর্কও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গান্ধীর ভূমি এবং বুদ্ধের ভূমি একই বার্তা বহন করে—শান্তির পথ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপ এবং পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করে শান্তিপূর্ণ সমাধান, আলোচনা এবং কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানই আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য যে যুদ্ধের সমর্থন নয়, বরং সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তির পরিবেশ তৈরি করা—তা তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি অংশেই স্পষ্ট হয়েছে।

    শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারত বরাবরই জানিয়েছে, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সংঘাতের অবসান সম্ভব (PM Modi)। এদিকে পুতিনের সঙ্গে মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ এর এক সপ্তাহ পরেই রুশ প্রেসিডেন্টের নয়াদিল্লি সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরে তিনি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশকেকে মোদি-পুতিন বৈঠককে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (Ukraine War)।

    নয়াদিল্লির অবস্থান

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে ভারতের এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। যুদ্ধের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে শান্তির পথ—এই নীতিকেই ভারত সামনে রেখে এগোতে চাইছে বলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট (PM Modi)।

  • Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর একই গাড়িতে চড়ে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Modi-Putin Car Diplomacy)। সোমবার বিশকেক অ্যারেনায় ষষ্ঠ ‘ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুই রাষ্ট্রনেতার এই গাড়ি সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছে। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’র আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর গাড়ির ভিতর থেকে পুতিনের সঙ্গে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের পথে।”

    পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত

    মোদির বিদেশ সফরে এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক গাড়ি সফর অবশ্য নতুন নয়। এর আগে উজবেকিস্তান সফরেও প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে। তাসখন্দে পৌঁছনোর পর মিরজিয়য়েভ নিজে মোদিকে অভ্যর্থনা জানান এবং পরে দু’জনকে একসঙ্গে গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা যায়। দুই নেতার এই আনুষ্ঠানিক মুহূর্ত তাঁদের পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কেরই ইঙ্গিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের (Modi-Putin Meet) মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারত-রাশিয়া ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

    মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ নতুন নয়

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একসঙ্গে গাড়িতে সফর এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার দুই রাষ্ট্রনেতাকে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে যা ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। গত বছর চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের পর পুতিনের লিমুজিনে একসঙ্গে সফর করেছিলেন মোদি ও পুতিন। জানা যায়, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থান হোটেলে যাওয়ার সময় দুই নেতাকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন নিজেই। গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কথোপকথন হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর ফের একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় পুতিনের ভারত সফরের সময়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রোটোকল ভেঙে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পুতিনকে স্বাগত জানাতে নিজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিমানবন্দর থেকে দু’নেতা একসঙ্গে গাড়িতে করে ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে মোদি ও পুতিনের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজও হয়। মোদি-পুতিনের ফের একই গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতা ও দুই নেতার ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।

  • Lionel Messi: অগাস্টে শুরু, অগাস্টেই শেষ! বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা মেসির

    Lionel Messi: অগাস্টে শুরু, অগাস্টেই শেষ! বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা মেসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক যুগের অবসান! আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi Retirement। ৩১ অগাস্ট, ২০২৬। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারে পাকাপাকিভাবে ইতি টানলেন নব্য ফুটবলের জাদুকর। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে ১-০ গোলে পরাজয়ের ঠিক ছ’সপ্তাহ পর এল এই ঘোষণা। আকস্মিক ঠিকই কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়৷ শুরু হয়েছিল ২১ বছর আগের অগাস্ট মাসে। ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট, হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্রের। সেই অগাস্টেই আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রায় ইতি টানলেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন মেসি। ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২৬ সালে সেই সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্য ছিল তাঁর। কিন্তু তা হয়নি। তবে, ২০৩০-আর নয়। থামতেও জানতে হয়। সঠিক সময়েই থামলেন রাজপুত্র।

    কবে নিয়েছিলেন অবসরের সিদ্ধান্ত

    মেসি জানিয়েছেন, স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের মাত্র দু’দিন পরই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। সেই সময় তাঁর পরিবারও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আগস্টে ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। ইন্টার মায়ামিতে ফিরে ক্লাব ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর অবশেষে নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেন মেসি। সোমবার, যখন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ অবসরের বার্তাটি সামনে আসে, বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন! কিন্তু কেউ জানত না, এই চিঠি লেখা হয়েছিল পাক্কা ৪১ দিন আগে! খোলা চিঠিতে মেসি নিজেই স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাস্ত হওয়ার ঠিক দু’দিন পর, অর্থাৎ ২১ জুলাই তিনি এই বয়ান ড্রাফট করেছিলেন। দ্রুতই সেটি পোস্ট করার কথা ছিল। কিন্তু আচমকা নেমে আসে এক ভয়ংকর পারিবারিক বিপর্যয়। গত ৭ অগাস্ট রাতে রোজারিওর এক ক্লিনিকে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৮ বছর বয়সে মারা যান বাবা জর্জ মেসি (Jorge Messi Death)। তাঁর শেষ সময়ে পাশে থাকতে মায়ামি থেকে তড়িঘড়ি ছুটে গিয়েছিলেন লিও। জর্জ নিছক বাবা নন, ছিলেন মেসির কেরিয়ারের মূল স্থপতি। ২০০০ সালে গ্রোথ-হরমোনের সমস্যায় ভোগা ১৩ বছরের কিশোরকে রোজারিও থেকে বার্সেলোনায় নিয়ে যাওয়া, ন্যাপকিনে প্রথম চুক্তির সই—সবই তাঁর হাত ধরে। শোকস্তব্ধ লিও (Argentina National Football Team) নিজেকে সব ধরনের জনসমক্ষ থেকে গুটিয়ে নেন। অবশেষে ৩১ অগাস্ট চিঠিটি প্রকাশের সময় নীচে একটি ব্যক্তিগত নোট জুড়ে দেন তিনি। জানান, বাবার মৃত্যু তাঁর সিদ্ধান্ত বদলায়নি, বরং সঠিক সময়ে ১০ নম্বর জার্সি তুলে রাখার বিষয়ে তাঁকে ‘আগের চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী’ করে তুলেছে। মেসির কথায়, সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত কষ্টের ছিল এবং এখনও সেই কষ্ট রয়েছে। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এবার সেই অধ্যায় বন্ধ করার সময় এসেছে।

    অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান

    ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে মেসি রেখে গেলেন এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৫। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল ও ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করলেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা ছিল সাফল্য ও হতাশার এক অনন্য মিশেল। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়—একসময় জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি পান মেসি। এর পরের বছরই আসে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। ফাইনালে জোড়া গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি গোল করে মেসি জেতেন গোল্ডেন বল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপেও তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও মেসির নাম লেখা থাকবে বিশেষ জায়গায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তিনি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করেছেন। তাঁর আগে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দু’জনেই ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের পুরনো গোলের রেকর্ড পেরিয়ে যান।

    তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার

    মেসির বিদায়ের খবরে চোখে জল বিশ্ব জুড়ে ফুটবল প্রেমিদের। মহাতারকার অবসরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তাঁর প্রাক্তন ও বর্তমান সতীর্থরাও। কোপা জয় হোক আর বিশ্বকাপ জয়, দেশের জার্সিতে মেসির ট্রফি জয়ের সাফল্যে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার অবদান কতটা তা সকলের জানা। সেই বয়স ভিত্তিক দল থেকে মেসির সঙ্গে জুটিতে খেলেছেন ডি মারিয়া। মেসির অবসরে আবেগাপ্লুত তিনি। মেসির অবসরের পোস্টে কমেন্টে একদা সতীর্থ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের সেরা করার জন্য ধন্যবাদ। তুমি তো অন্য দলকেও বেছে নিতে পারতে। কিন্তু তুমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছ। সব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ অধিনায়ক। তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার।’ তাঁকে বলা হয় মেসির ‘বডিগার্ড’। প্রিয় বন্ধুর অবসরে মেসির সতীর্থ রড্রিগো ডি পল লিখেছেন, ‘তুমি কখনও যুদ্ধ থেকে পালাওনি। তোমার নেতৃত্বের জন্য আমরা এত ভালো খেলতাম। তোমাকে শুধু ধন্যবাদ বলতে চাই। তুমি নিজেও জানো না, কত মানুষের মুখে তুমি হাসি ফুটিয়েছ। তুমি চিরকালীন। সর্বকালের সেরা তুমি। আমাদের এতটা খুশি করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। তুমি সর্বসেরা।’

    আমরা তোমায় ভালোবাসি

    ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গে খেলা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অধিনায়কের অবসরের লিখেছেন, “সত্যি বলতে, খুব খারাপ লাগছে। কখনও এ রকম মুহূর্তের জন্য আমাদের তৈরি থাকতে বলোনি। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে জানাচ্ছি, ধন্যবাদ!! তুমি আমার কাছে এবং গোটা বিশ্বের কাছে একটা উদাহরণ। ফুটবলের বিজয়ী এবং জীবনের বিজয়ী!! ওর বাবা যে অসাধারণ একটা দলের সদস্য ছিল, এটা ভেবে আমার মেয়ে খুব গর্বিত হবে। তুমি বিশ্বের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ। কারণ ফুটবলের তুলনা টানতে গেলে, তোমার মতো কেউ নেই। তোমাকে খুব ভালোবাসি।” বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি করে ১০ ম্যাচ নির্বাসিত হয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মেসির অবসরে তিনিও চুপ থাকেননি। লিখেছেন, “সব কিছুর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ!!! তুমি ছিলে এবং বরাবরের জন্য সর্বকালের সেরাই থাকবে। অধিনায়ক, আমরা তোমায় ভালোবাসি।” আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। তারা লেখে, “আমাদের জীবনের অন্যতম সুন্দর একটা যাত্রার জন্য তোমায় ধন্যবাদ। তোমার উত্তরাধিকার এবং পেশাদারিত্ব সারাজীবন আমাদের হৃদয়ে থেকে যাবে। ধন্যবাদ অধিনায়ক। আমরা তোমায় ভালোবাসি।” ফিফা থেকেও ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়েছে, ‘গ্রাসিয়াস’।

    ফুটবল মাঠে এখনও মেসি ম্যানিয়া

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর না খেললেও ফুটবলকে এখনই বিদায় বলছেন না আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে, আর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিতে দেখা যাবে না এল এম টেন-কে। বিদায়-বার্তায় মেসি লিখেছেন, “আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। চলো, আর্জেন্টিনা।”

  • West Bengal Weather: নিম্নচাপও সরছে না, বৃষ্টিও থামছে না! মঙ্গলবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে দিনভর বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৪ জেলায় সতর্কতা

    West Bengal Weather: নিম্নচাপও সরছে না, বৃষ্টিও থামছে না! মঙ্গলবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে দিনভর বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৪ জেলায় সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাব কাটার বদলে আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সোমবার রাত থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ফের শুরু হয়েছে দফায় দফায় বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালেও সেই পরিস্থিতির কোনও বড় পরিবর্তন হয়নি। ভোর থেকেই মুখ ভার আকাশের, সঙ্গে চলছে একটানা বৃষ্টি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজও রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, আবার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    এখনও দক্ষিণবঙ্গের উপরেই নিম্নচাপ

    প্রাথমিক পূর্বাভাসে মনে করা হয়েছিল, সোমবারের মধ্যেই নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গ থেকে সরে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি তেমন হয়নি। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গের উপর সক্রিয় রয়েছে। এর জেরেই বৃষ্টির পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। এই নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে উত্তর ওড়িশা হয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখাও। নিম্নচাপ ও মৌসুমি অক্ষরেখার যুগল প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।

    পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

    মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা সর্বত্র এক রকম হবে না। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এর মধ্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও বীরভূমে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। মধ্যবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় মূলত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি দফায় দফায় চলতে পারে।

    কলকাতায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?

    কলকাতাতেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তবে মহানগরে আজ খুব ভারী বা অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি চললে শহরের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। অফিসের ব্যস্ত সময়ে বৃষ্টির সঙ্গে জলজট তৈরি হলে রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। ফলে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গেও বাড়ছে বৃষ্টির দাপট

    দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় ও সমতল—দুই এলাকাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে ধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলায় তুলনামূলকভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আগামী কয়েক ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস।

    নজরে আজকের আবহাওয়া

    সব মিলিয়ে মঙ্গলবার রাজ্যের আবহাওয়ায় এখনই বড়সড় স্বস্তির ইঙ্গিত নেই। দক্ষিণবঙ্গের উপর নিম্নচাপের অবস্থান এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বৃষ্টি চলবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও কলকাতায় মূলত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিই হওয়ার সম্ভাবনা। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির জেরে ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরও নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

  • Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি! তবে একা ডেঙ্গি নয়! কলকাতা ও তার আশপাশের জেলায় মশাবাহিত জোড়া রোগ, ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রমণে প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে। তাই বাড়তি সক্রিয়তার পথে হাঁটছে প্রশাসন। আজ, মঙ্গলবার, প্রশাসনের শীর্ষ মহলের জরুরি বৈঠক হতে চলেছে! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পরামর্শ করে এবার ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে কয়েকটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য দফতর।

    কেন প্রশাসনের উদ্বেগ?

    বছরের এই মরশুমে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসেই রাজ্যে ভেক্টর বোর্ন ডিজিজের প্রকোপ বাড়ে। অর্থাৎ, বিভিন্ন পতঙ্গ বাহিত রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত মশাবাহিত রোগের প্রকোপে জেরবার হয় বঙ্গবাসী। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম নয়। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়া। তাই সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই প্রশাসন কড়া হাতে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। অক্টোবর মাসে ডেঙ্গির দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমাতে তাই সবরকম প্রশাসনিক পরিকল্পনা জরুরি। সেটা আগাম না করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই ডেঙ্গি রুখতে বিশেষ বৈঠক হবে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, অগাস্ট মাসে রাজ্যে নতুন করে ১০০০ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছে কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং দুই চব্বিশ পরগনায়। ইতিমধ্যে ৭ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু তালিকায় রয়েছে ১১ বছরের স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়! আর এই মৃত্যু মিছিল রুখতেই প্রশাসনের বাড়তি সক্রিয়তা। ডেঙ্গির পাশপাশি কলকাতার কসবা, যাদবপুর, শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, কলেজ স্ট্রিট সহ একাধিক এলাকায় ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনক। আবার হাওড়াতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা জানান, কলকাতায় একসঙ্গে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত একাধিক কেস পাওয়া যাচ্ছে। এক ব্যক্তি একসঙ্গে এই দুই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তখন পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে যায়।

    ডেঙ্গি রুখতে কী নয়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার?

    ডেঙ্গি রিভিউ মিটিংয়ে সমন্বয়ে জোর দেওয়া হতে পারে!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের সঙ্গে ডেঙ্গি নিয়ে রিভিউ মিটিং করবেন। বিশেষত কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার এলাকাগুলো নিয়ে বাড়তি জোর দেওয়া হবে। কারণ এই দুই এলাকাতেই গত এক মাসে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় জোড়া দাপট বেশি দেখা গিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তাদের পাশপাশি বৈঠকে অন্যান্য বিভাগের কর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। যাতে ডেঙ্গি রুখতে সমস্ত বিভাগের মধ্যে ঠিকঠাক সমন্বয় থাকে। কোনো রকম জটিলতা তৈরি না হয়‌।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই পরিকল্পনা!

    চলতি বছরে ডেঙ্গি কতখানি ভয়ানক হতে পারে সে নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানাচ্ছেন প্রশাসনের একাংশ। এক কর্তা জানান, ২০২৩ সালে এই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ডেঙ্গি পরিস্থিতি হয়েছিল। চলতি বছরে এই মশাবাহিত রোগ কতটা দাপট বাড়াতে পারে, সে সম্পর্কে আগাম ধারনা করা জরুরি। তাই এই বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। তাঁরা রোগ ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রশাসনকে রোগের দাপট সম্পর্কে একটা ধারনা দেবেন। তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হবে।

    বাড়ি-বাড়ি নজরদারিতে বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে বাড়ি বাড়ি নজরদারির উপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এলাকার কোথায় জল জমেছে, কোথায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে, সে সম্পর্কে সমস্ত তথ্য থাকা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
    এলাকায় ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে কে কে আক্রান্ত হচ্ছেন, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য থাকা প্রয়োজন। সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই পুর কর্মীরা নিজেদের এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করবেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। যাতে জ্বর হলে তাঁদের কাছে তথ্য থাকে। ডেঙ্গি সংক্রমণের খবর থাকলে, সেই এলাকায় বাড়তি নজর দেওয়া হবে। যাতে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে। সংক্রমণ দ্রুত আটকানো সম্ভব হয়।
    স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, ডেঙ্গি টিকা এলেও চলতি বছরে নানান আইনি জটিলতার জন্য সেই টিকা করণ সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রচলিত পদ্ধতিতেই ডেঙ্গি মোকাবিলা হবে। প্রশাসন সক্রিয় থাকবে। এলাকার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া হবে আবার জনসচেতনতাতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

LinkedIn
Share