Tag: news in bengali

news in bengali

  • Ramakrishna 617: “তাঁর কৃপা হলে জ্ঞানের অভাব থাকে না, মূর্খ বিদ্বান হয়, বোবার কথা ফুটে! তাই বলছি, বই পড়লেই পণ্ডিত হয় না”

    Ramakrishna 617: “তাঁর কৃপা হলে জ্ঞানের অভাব থাকে না, মূর্খ বিদ্বান হয়, বোবার কথা ফুটে! তাই বলছি, বই পড়লেই পণ্ডিত হয় না”

     শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৬শে অক্টোবর
    ভক্তসঙ্গে — শুধু পাণ্ডিত্যে কি আছে?

    সকলে বিশ্বাস করে ওই দোকানেই আসে, ভাবে এরা পরমভক্ত, কখনও ঠকাতে যাবে না। একদল খদ্দের এলে দেখত কোনও কারিগর বলছে ‘কেশব!’ (Ramakrishna) ‘কেশব!’ আর-একজন কারিগর খানিক পরে নাম করছে ‘গোপাল!’ ‘গোপাল!’ আবার খানিকক্ষণ পরে একজন কারিগর বলছে, ‘হরি’, ‘হরি’, তারপর কেউ বলছে (Kathamrita) ‘হর; হর!’ কাজে কাজেই এত ভগবানের নাম দেখে খরিদ্দারেরা সহজেই মনে করত, এ-স্যাকরা অতি উত্তম লোক। — কিন্তু ব্যাপারটা কি জানো? যে বললে, ‘কেশব, কেশব!’ তার মনের ভাব, এ-সব (খদ্দের) কে? যে বললে ‘গোপাল! গোপাল!’ তার অর্থ এই যে আমি এদের চেয়ে চেয়ে দেখলুম, এরা গরুর পাল। (হাস্য)

    যে বললে ‘হরি হরি’—তার অর্থ এই যে, যদি গরুর পাল, তবে হরি অর্থাৎ হরণ করি। (হাস্য) যে বললে, ‘হর হর!’—তার মানে এই—তবে হরণ কর, হরণ কর; এরা তো গরুর পাল! (হাস্য)

    “সেজোবাবুর সঙ্গে আর-একজায়গায় গিয়েছিলাম (Kathamrita); অনেক পণ্ডিত আমার সঙ্গে বিচার করতে এসেছিল। আমি তো মুখ্যু! (সকলের হাস্য) তারা আমার সেই অবস্থা দেখলে, আর আমার সঙ্গে কথাবার্তা হলে বললে, মহাশয়! আগে যা পড়েছি, তোমার সঙ্গে কথা কয়ে সে সব পড়া বিদ্যা সব থু হয়ে গেল! এখন বুঝেছি, তাঁর কৃপা হলে জ্ঞানের অভাব থাকে না, মূর্খ বিদ্বান হয়, বোবার কথা ফুটে! তাই বলছি, বই পড়লেই পণ্ডিত হয় না।”

    পূর্বকথা—প্রথম সমাধি—আবির্ভাব ও মূর্খের কণ্ঠে সরস্বতী

    “হাঁ, তাঁর কৃপা হলে জ্ঞানের কি আর অভাব থাকে? দেখ না, আমি মুখ্যু, কিছুই জানি না, তবে এ-সব কথা বলে কে? আবার এ-জ্ঞানের ভাণ্ডার অক্ষয় (Ramakrishna)। ও দেশে ধান মাপে, ‘রামে রাম, রামে রাম’, বলতে বলতে। একজন মাপে, আর যাই ফুরিয়ে আসে, আর-একজন রাশ ঠেলে দেয়। তার কর্মই ওই, ফুরালেই রাশ ঠেলে। আমিও যা কথা কয়ে যাই, ফুরিয়ে আসে আসে হয়, মা আমার অমনি তাঁর অক্ষয় জ্ঞান-ভাণ্ডারের রাশ ঠেলে দেন!

    “ছেলেবেলায় তাঁর আর্বিভাব হয়েছিল। এগারো বছরের সময় মাঠের উপর কি দেখলুম! সবাই বললে, বেহুঁশ হয়ে গিছলুম, কোন সাড় ছিল না। সেই দিন থেকে আর-একরকম হয়ে গেলুম। নিজের ভিতর আর-একজনকে দেখতে লাগলাম! যখন ঠাকুর পূজা করতে যেতুম, হাতটা অনেক সময় ঠাকুরের দিকে না গিয়ে নিজের মাথার উপর আসত, আর ফুল মাথায় দিতুম! যে ছোকরা আমার কাছে থাকত, সে আমার কাছে আসত না; বলত, তোমার মুখে কি এক জ্যোতিঃ দেখছি, তোমার বেশি কাছে যেতে ভয় হয়!”

    কলিকাতা বেনেটোলা নিবাসী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পরমভক্ত শ্রীঅধরলাল সেনের বাটীতে শ্রীযুক্ত বঙ্কিমচন্দ্র চাটুজ্যের সহিত শ্রীশ্রীপরমহংসদেবের (Ramakrishna) দেখা হইয়াছিল। বঙ্কিমবাবু তাঁহাকে এই একবার মাত্র দর্শন করিয়াছিলেন।

  • West Bengal Assembly Elections: তৃণমূল প্রার্থীর হয়েই প্রচার করছিলেন, মমতার কপ্টারের কাছে ড্রোনকাণ্ডে স্বীকারোক্তি তিন ধৃতের!

    West Bengal Assembly Elections: তৃণমূল প্রার্থীর হয়েই প্রচার করছিলেন, মমতার কপ্টারের কাছে ড্রোনকাণ্ডে স্বীকারোক্তি তিন ধৃতের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেলিকপ্টারে করে তৃণমূলের প্রচারে যাচ্ছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সময় তাঁর সেই কপ্টার ওড়ার সময় একটি উড়ন্ত ড্রোন দেখা যায় (West Bengal Assembly Elections)। এর পরেই ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা বিহারের বাসিন্দা বলে খবর। রবিবার হরিশচন্দ্রপুরে তৃণমূলের সভায় উপস্থিত ছিলেন ওই তিনজন। ধৃতদের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের কাজই করছিলেন।

    কপ্টারের আগে আগে ড্রোন (West Bengal Assembly Elections)

    শনিবার মালদায় দলীয় প্রার্থীদের জন্য প্রচারে গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই সময় সামসিতে মমতার হেলিকপ্টারের আগে আগে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ মমতা। হেলিকপ্টারে ওঠার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “হেলিকপ্টারটা অ্যাক্সিডেন্টে ধ্বংস হয়ে যেত। কারা করছে এসব? পুলিশের নজর রাখা দরকার। যারা করেছে, তাদের আইডেন্টিফাই করা দরকার।” এটি ছাড়াও আরও একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যাতে দেখা যায়, কপ্টারে ওঠার আগে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মমতা। আকাশে উড়ন্ত ড্রোনটিকে নিরীক্ষণ করছেন তিনি। সেই সময়ই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই ভিড়ের মধ্যে থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে করা হয় গ্রেফতার।

    ‘আমরা ড্রোন উড়িয়েছি’

    ধৃতেরা হল অঙ্কিতকুমার পাসোয়ান, শ্রীকান্ত মণ্ডল এবং নুর আখতার। হরিশচন্দ্রপুরে তৃণমূলের সভায় যোগ দিয়েছিল তারা। ধৃতদের একজন বলে, “হ্যাঁ আমরা ড্রোন উড়িয়েছি।” পাশের জনের দিকে আঙুল উঁচিয়ে সে বলে, “এ ওড়াচ্ছিল। জানত না। আমরা কাজ করছি, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেনের জন্য। বারণ করেছিলাম (Mamata Banerjee)। আইডিয়া ছিল না। তাও বেস্ট ফুটেজের জন্য ড্রোন উড়িয়ে ফেলে।” ধৃতদের দাবি, তাঁরা তৃণমূল প্রার্থীর হয়েই প্রচার করছিলেন। তবে দলের তরফে এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি (West Bengal Assembly Elections)। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের সামনে ড্রোন ওড়ানোকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। গত ২৬ মার্চ দুর্যোগে আটকে পড়েছিল মমতার বিমান। প্রচার সেরে কলকাতায় নামার সময় আটকে পড়ে বিমানটি। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে দুর্যোগ এত তীব্র আকার ধারণ করেছিল যে অবতরণ করতে না পেরে আকাশে চক্কর কাটতে থাকে বিমানটি। প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে সেই অবস্থায় আকাশে চক্কর কেটে শেষ পর্যন্ত মাটি ছোঁয় মমতার (Mamata Banerjee) বিমান।

    কলকাতা বিমানবন্দরে নামার সময় বিপত্তি

    সেবার দুবরাজপুরে প্রচার সেরে অন্ডাল থেকে ছোট আকারের বিমানটিতে সওয়ার হন মমতা। কলকাতা বিমানবন্দরে নামার সময় বিপত্তি দেখা দেয়। পরে দুই পাইলটের ভূয়সী প্রশংসা করেন মমতা। জানান, পাইলটরাই বিমানে সওয়ার সকলের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। সেই ঘটনার পরই কপ্টারের সামনে ড্রোন ওড়ানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রশ্ন ওঠে মমতার নিরাপত্তা নিয়েই (West Bengal Assembly Elections)।এদিকে, ধৃত তিনজন জানান, হরিশচন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমানের হয়ে প্রচার করেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যই ড্রোন উড়িয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ‘গরিবের বন্ধু’ বলে ফেসবুকে পরিচিত মতিবুর একজন ইনফ্লুয়েন্সারও। প্রচুর (Mamata Banerjee) ফলোয়ার রয়েছে তাঁর। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মিউজিক ভিডিও পাবলিশ হয় প্রতিদিনই। সেই মতিবুরের জন্য ভিডিও তৈরিতে ভালো শটের আশায় ড্রোন উড়িয়েছিল বলে স্বীকার করে ধৃতেরা।

    ‘আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না’

    যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলতেই ড্রোন ওড়ানো হয়েছিল। পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ের সভায় মমতা বলেন, “আমি যখন মিটিং করে আসছিলাম মালদা থেকে। আমার হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ধাক্কা খেলে হেলিকপ্টারটা ধ্বংস হত। কারা ওড়াচ্ছিল? বিহারের তিনজন ধরা পড়েছে। টার্গেটটা কী? আমার জীবন কাড়ার জন্য? কেড়ে নিন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু যতক্ষণ বেঁচে থাকব, আপনাদের বিরুদ্ধে গলা ফাটাব। আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না।” প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে এ রাজ্যে সভা করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ। তিনি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার (Mamata Banerjee) চেষ্টা করেন। তবে এই ভিকটিম কার্ডের রাজনীতি বাংলার মানুষ ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছেন। এভাবে কমিশনের বিরুদ্ধ গালিগালাজ করা বাংলার সংস্কৃতি নয় (West Bengal Assembly Elections)।”

     

  • PM Modi: “দমন-পীড়ন সয়েও দলকে শক্তিশালী করেছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “দমন-পীড়ন সয়েও দলকে শক্তিশালী করেছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জরুরি অবস্থা থেকে শুরু করে কংগ্রেস আমলের দমন-পীড়ন এবং বাংলার মতো রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা—সব কিছু সহ্য করেও তাঁরা দলকে শক্তিশালী করেছেন এবং দেশের সেবা করেছেন।” সোমবার বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে (BJPs Foundation Day) কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বিজেপির কর্মীদের নিষ্ঠা ও ত্যাগের প্রশংসা করতে গিয়েই এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি তুলে ধরতে বিজেপি কর্মীরা কখনও পিছপা হন না। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ভারতের ভবিষ্যৎকে উন্নত করবে। তাই কর্মীরা সব ধরনের কষ্ট সহ্য করেছেন—তা জরুরি অবস্থার সময় হোক বা কংগ্রেস আমলের অত্যাচার। অনেক কর্মী নিজেদের জীবনও উৎসর্গ করেছেন। আমরা বাংলার মতো রাজ্যে দেখেছি, যেখানে হিংসা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।”

    জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

    রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রাথমিক সময়ের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সেই সময় ভুলতে পারি না, যখন ১৯৮৪ সালে কংগ্রেস রেকর্ড সংখ্যক আসন জিতেছিল, কিন্তু একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাও করেছিল। এর ফলে মানুষের বিজেপির প্রতি আস্থা বাড়ে এবং ধীরে ধীরে আমরা আসন জিততে শুরু করি।” ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আদর্শগত পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেই সময় দুটি মতাদর্শ সামনে আসে—একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং অন্যটি সেবাভিত্তিক রাজনীতি (PM Modi)।”

    আরএসএস থেকে প্রেরণা

    তিনি জানান, বিজেপি আরএসএস থেকে প্রেরণা পেয়েছে (BJPs Foundation Day)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আরএসএসের বিশাল ও পবিত্র বটবৃক্ষের ছায়ায় আমরা নিঃস্বার্থ উদ্দেশ্য ও সততার সঙ্গে রাজনীতিতে প্রবেশের প্রেরণা পেয়েছি। প্রথম কয়েক দশকে আমরা সংগঠনের নীতিনির্ধারণে নিজেদের শক্তি নিয়োজিত করেছি। পরে সময় আসে, যখন বিজেপি নিজেকে একটি শক্তিশালী কর্মীভিত্তিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করে।” তিনি বলেন, “আমরা এমন এক বিশাল কর্মীবাহিনী গড়ে তুলেছি যারা সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করে, দলের আদর্শকে নিজেদের জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং কোনও পরিস্থিতিতেই নিজেদের মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করেনি (PM Modi)।”

    আমরা দলকে মায়ের মতো মনে করি

    বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসের আবেগঘন তাৎপর্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যেখানে আমরা দলকে মায়ের মতো মনে করি। তাই এই দিনটি শুধু রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, প্রতিটি কর্মীর জন্য আবেগের দিন। এই দিনটি আমাদের দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ দেয় (BJPs Foundation Day)।” বিজেপির সভাপতি নীতিন নবীনকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আমি বিশেষভাবে আমাদের সভাপতি শ্রী নবীনজিকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি সভাপতি হওয়ার পর এটি দলের প্রথম প্রতিষ্ঠা দিবস। বর্তমানে পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন চলছে, সেখানে আমরা দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখতে পাচ্ছি। মনে হচ্ছে নবীনজি দলে নতুনত্ব ও সতেজ শক্তি এনেছেন।”

    বিজেপির প্রাণপ্রতিষ্ঠা

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আজ বিজেপি যে শিখরে দাঁড়িয়ে আছে, তা সকলেই দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু লাখ লাখ কর্মীর পরিশ্রম, তাঁদের ত্যাগ ও কঠোর সাধনা—এগুলি সত্যিকারভাবে কেবল সেই ব্যক্তি বুঝতে পারেন, যিনি নিজে এই যাত্রার অংশ ছিলেন।” বিজেপির (PM Modi) উৎপত্তি জনসংঘ থেকে, যা ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার পর কংগ্রেসকে পরাজিত করার লক্ষ্যে জনতা পার্টির সঙ্গে একীভূত হয়। পরে আরএসএস এবং জনসংঘের সদস্যদের দ্বৈত সদস্যপদ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর ফলে জনসংঘের সদস্যরা জনতা পার্টি ছেড়ে ৬ এপ্রিল ১৯৮০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি প্রতিষ্ঠা করেন (BJPs Foundation Day)। গঠনের পর থেকে বিজেপি দুজন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছে—অটল বিহারি বাজপেয়ী এবং নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)।

     

  • Iran: ‘সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি-স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে ভারত’, আশা ইরানের

    Iran: ‘সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি-স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে ভারত’, আশা ইরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে তাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এহেন দাবি খারিজ করে দিয়েছে ইরান (Iran)। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এসব প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। ইরানের মতে, বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে (India Global Powers) বৃহত্তর একটি কৌশলের অংশ এটি। ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আবদুল মাজিদ হাকিম এলাহি, বিহারের পাটনায় এক শোকসভায় অংশ নিতে গিয়ে এ কথা বলেন।

    এলাহির সাফ কথা (Iran)

    এলাহি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তানের কোনও ভূমিকাই নেই। তিনি বলেন, “ইসলামাবাদের  মধ্যস্থতায় কোনও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে না। কিছু পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক বাজারকে প্রভাবিত করা যায়।” তাঁর মতে, মধ্যস্থতার দাবি বাড়িয়ে বলা হয়েছে। এটি করা হয়েছে  কূটনৈতিক অগ্রগতির একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে এবং প্রকৃত আলোচনার অভাব সত্ত্বেও তেলের দাম যাতে স্থিতিশীল রাখা যায়, তা-ই। এলাহির অভিযোগ, পাকিস্তান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যথেষ্ট আন্তরিক নয়, কেবল একটি প্রতীকী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আলোচনার যে ধারণা তৈরি করা হয়েছে, তা প্রকৃত অগ্রগতির ভান সৃষ্টি করার জন্য, যদিও বাস্তবে কোনও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা আলোচনা চলছে না। আলোচনার প্রস্তুতির যে খবর ঘোষণা করা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর। বাস্তব পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করেও এই ঘোষণা করা হচ্ছে না।

    সংঘাতের উৎস

    বর্তমান সংঘাতের উৎস সম্পর্কে এলাহি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়েছে। তাঁর মতে, ইরানের যুদ্ধ শুরু করার কোনও ইচ্ছেই ছিল না। তারা আসলে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ করার আহ্বানও জানান (Iran), বিশেষ করে হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক এলাকায় যাতে হামলা বন্ধ করা যায়, সেই জন্য (India Global Powers)। এলাহি বলেন, “যারা এই হামলা শুরু করেছে, তারা থামলে সংঘাতের অবসান সম্ভব।” তাঁর আশা, ভারত-সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশ্বনেতাদের এক সঙ্গে এসে যুদ্ধ শেষ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

    হরমুজ প্রণালীর ওপর জোরদার নিয়ন্ত্রণ

    পশ্চিম এশিয়ার এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যার খবর প্রকাশের পর ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ সঙ্কটকে আরও ঘোরালো করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। অথচ, তামাম বিশ্বে জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এটি। এই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বেড়েছে (India Global Powers)। কারণ এই পথের যে কোনও বিঘ্ন সরাসরি তেল এবং এলপিজি সরবরাহে প্রভাব ফেলে (Iran)।

    হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে ভারতীয় জাহাজ

    যদিও উত্তেজনা জারি থাকা সত্ত্বেও, ইরান জানিয়েছে, অশত্রু মনোভাবাপন্ন দেশগুলির জাহাজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে, যদি তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই আশ্বাস আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকেও জানানো হয়েছে। বর্তমান সংঘাত ও নৌ-অবরোধের আশঙ্কার মধ্যেও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলি নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে। ‘গ্রিন আশা’ নামের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার সম্প্রতি নিরাপদে প্রণালী পার হয়েছে, যা সংঘাত শুরু হওয়ার পর নবম ভারতীয় জাহাজ। জানা গিয়েছে, এই পথে চলাচলকারী প্রায় ৬০ শতাংশ পণ্যবাহী জাহাজ ইরান থেকে আসছে বা ইরানের দিকে যাচ্ছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলে ভারতের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

    এসেছে একাধিক এলপিজি ভর্তি জাহাজ

    গ্রিন আশার আগে আরও আটটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে বিডাব্লু টায়ার এবং বিডাব্লু এলএম নামের এলপিজি জাহাজ প্রায় ৯৪,০০০ টন পণ্য পরিবহণ করেছে। এছাড়াও, পাইন গ্যাস এবং জাক বসন্ত নামের দুটি জাহাজ ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে মোট ৯২,৬১২ টন এলপিজি বহন করেছে (Iran)। এর আগে এমটি শিবালিক এবং এমটি নন্দাদেবী প্রায় ৯২,৭১২ টন এলপিজি গুজরাটের মুন্দ্রা ও কান্ডলা বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে। জাগ লাডকি নামের আর একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ৮০,৮৮৬ টন অপরিশোধিত তেল মুন্দ্রায় নিয়ে এসেছে। আর জাগ প্রকাশ নামের একটি পেট্রোল ভর্তি জাহাজ ওমান থেকে আফ্রিকায় পৌঁছতে গিয়ে নিরাপদে পার হয়েছে হরমুজ প্রণালী (India Global Powers)।

    গ্রিন সনভি নামের আর একটি জাহাজ সম্প্রতি প্রায় ৪৬,৬৫০ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করে এই পথ অতিক্রম করেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী এই জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। বর্তমানে ভারত ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে তাদের জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে, যদিও পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি (India Global Powers) এখনও অস্থির রয়েছে (Iran)।

     

  • India Bangladesh Border: বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় সাপ ও কুমির! অনুপ্রবেশ রুখতে নয়া ভাবনা বিএসএফ-এর

    India Bangladesh Border: বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় সাপ ও কুমির! অনুপ্রবেশ রুখতে নয়া ভাবনা বিএসএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারা দেবে সাপ ও কুমির। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে অভিনব পরিকল্পনার কথা ভাবছে বিএসএফ (Border Security Force)। সূত্রের খবর, নদী ও জলাভূমি অঞ্চলগুলিতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে সাপ ও কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ স্তরে আলোচনা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি। বিএসএফ সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    কেন সাপ ও কুমির ব্যবহারের ভাবনা

    ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমি ঘেরা। এইসব জায়গায় প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়া বসানো কঠিন হওয়ায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও বেআইনি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই ‘ডিটারেন্স-ফার্স্ট’ বা ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা ভাবা হচ্ছে। সীমান্ত-সুরক্ষার কৌশল হিসেবে এই পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে। একটি সূত্র জানিয়েছে যে, বিএসএফ-এর সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ৯ ফেব্রুয়ারি ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পেশ করা হয়েছিল। জানা গেছে, ২০ মার্চ নয়াদিল্লিতে বিএসএফ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত আরেকটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাবটি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা হয়। এরপর পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সেক্টরের সীমান্ত পর্যায়ের কর্তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়। এরকমই একটি নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নদী তীরবর্তী এলাকায় সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের উপর একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

    সীমান্তে নজরদারি

    বিএসএফ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তার নজরদারি পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। জানা গেছে যে, সৈন্যরা নাইট-ভিশন ক্ষমতাসম্পন্ন ৫,০০০-এর বেশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। এছাড়াও, সীমান্ত বরাবর যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য এআই-সক্ষম নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের আঙুলের ছাপ এবং আইরিস স্ক্যান সংগ্রহ করার জন্য বায়োমেট্রিক ডিভাইসও ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের মতো রাজ্যগুলোর সীমান্তের বিভিন্ন অংশে দ্রুত অ্যান্টি-কাট ও অ্যান্টি-ক্লাইম্ব বেড়া, নজরদারি ড্রোন, জিপিএস-সক্ষম ট্র্যাকিং সিস্টেম, থার্মাল ইমেজার এবং বিদ্যুতায়িত বেড়া স্থাপন। বিশেষভাবে সংবেদনশীল নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে বিএসএফ নজরদারি আরও জোরদার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বোল্ড-কিউআইটি (BOLD-QIT) প্রকল্প, যা ২৪x৭ নজরদারির জন্য সেন্সর, ইনফ্রারেড ও নাইট-ভিশন ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করে।

    অন্ধকার অঞ্চলে বিশেষ মনোযোগ

    নদী তীরবর্তী এলাকায় অভিযানের জন্য বাহিনী বর্তমানে বিশেষ জলযান, স্পিডবোট এবং ভাসমান বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) মোতায়েন করেছে। নিয়মিত টহল দেওয়া হয়। সরীসৃপ মোতায়েনের প্রস্তাবের পাশাপাশি, ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে পূর্ব ভারতের সেক্টর সদর দফতরগুলোকে এমন সব ‘ডার্ক জোন’-এ অবস্থিত সীমান্ত চৌকি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেখানে কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটিকে যতই গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হোক না কেন, বেশ কিছু বাস্তব প্রশ্ন অমীমাংসিতই থেকে যায়। কোন সংস্থা বা কর্মীদের সাপ বা কুমির ধরা এবং সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হবে, কতগুলো সরীসৃপ ছাড়া হবে এবং সীমান্তের কোন কোন জায়গায় সেগুলোকে ছাড়া হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    সীমান্তে বিএসএফ-এর সাফল্য

    সম্প্রতি সীমান্তে চোরাচালান রুখতে একাধিক সাফল্য পেয়েছে বিএসএফ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় একটি বড় অভিযানে প্রায় ১ কোটি টাকার সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা অভিযানে নেমে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নদিয়াতেই একটি ঘটনায় এক বাংলাদেশি পাচারকারী নিহত হয়। অভিযোগ, বিএসএফের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গুলি চালানো হলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, ফেনসিডিলের বোতল এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ সবচেয়ে বেশি

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ২০২৫ সালে ১,১০৪ বার অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা হয়েছে। যা গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে ৯৭৭টি অনুপ্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছিল। এই সীমান্তে অনুপ্রবেশের ব্যাপকতা অন্যান্য সীমান্তে হওয়া চেষ্টাগুলিকে ম্লান করে দিয়েছে। ২০২৫ সালে পাকিস্তান ৩২টি অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। মায়ানমার ৯৫টি এবং নেপাল ও ভুটান একত্রে ৫৪টি। অর্থাৎ, বর্তমানে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে ভারতীয় সংস্থাগুলি অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করায় ২,৫৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৩৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেপ্টেম্বরে ৩৩০ জন এবং নভেম্বরে ৩০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    অনুপ্রবেশের চেষ্টা, কঠোর সরকার

    অন্যদিকে, অনুপ্রবেশের চেষ্টাও বেশি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১২৭টি এবং অক্টোবরে ১২৫টি ঘটনা ঘটে। মাসিক গ্রেফতারের সংখ্যা ৮৯ থেকে ১১০-এর মধ্যে ছিল। এই ঘটনায় প্রমাণ করে অরক্ষিত সীমান্ত এলাকার সুযোগ নিয়ে সংগঠিত চোরাচালান চক্রের বাড়বাড়ন্তের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ বাড়ছে। এই আবহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় সরীসৃপ ব্যবহারের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে এযাবৎকালের অন্যতম কৌশলগত পদক্ষেপ। এটি কঠিন নিরাপত্তা ঘাটতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কতটা দূর যেতে প্রস্তুত, তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

  • Mani Kumar Chhetri: প্রয়াত বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মণি ছেত্রী, চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া

    Mani Kumar Chhetri: প্রয়াত বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মণি ছেত্রী, চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই পেরিয়েছিলেন ১০৫ বছরের গন্ডি। সেদিনও তিনি শুভানুধ্যায়ীদের দীর্ঘায়ু হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (Doctor) মণিকুমার ছেত্রী (Mani Kumar Chhetri) প্রয়াত হলেন রবিবার, নিজের বাড়িতেই। বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বিশ্বশ্রুত এই চিকিৎসকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চিকিৎসক মহল।

    মণি ছেত্রীর জীবনালেখ্য (Mani Kumar Chhetri) 

    ১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিংয়ে জন্ম মণিকুমারের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমে এমবিবিএস এবং এমডি, তারও পরে লন্ডন থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। তাঁর মেধা, ক্লিনিক্যাল জ্ঞান ও মানবিক বোধ তাঁকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর চিকিৎসক ছিলেন মণি ছেত্রী। হয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তাও। এসএসকেএম হাসপাতালে (পিজি) সার্জেন-সুপারিনটেনডেন্ট পদে ছিলেন। আইপিজিএমইআরে কার্ডিওলজি এবং মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর-ডিরেক্টর হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি। পরে যুক্ত হয়েছিলেন একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে। ১৯৭৪ সালে প্রখ্যাত এই চিকিৎসককে দেওয়া হয় পদ্মশ্রী। চিকিৎসকমহলে তিনি ছিলেন (West Bengal) ভীষণ জনপ্রিয়। তাঁর হাতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, সমৃদ্ধ হয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্র। ছেত্রীর চিকিৎসায় উপকৃত হয়েছেন অগণিত রোগী।

    রাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন তিনি

    বেসরকারি হাসপাতাল আমরিতে অগ্নিকাণ্ডের জেরে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। তখন তিনি ছিলেন ওই হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। পরে অবশ্য আদালত তাঁকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। ১৯৮২ সালে অবসর নেন ছেত্রী।  যদিও পেশাদারিত্ব ও রোগীদের সেবার দায়িত্ব ছাড়তে পারেননি। অবসরের পরেও চিকিৎসার (Mani Kumar Chhetri) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কিছুদিন আগেই বালিগঞ্জ প্লেসের বাড়িতে পড়ে গিয়ে আঘাত পান মণি ছেত্রী। বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি বাড়ি ফিরলেও শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। রবিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রথিতযশা এই চিকিৎসক (Doctor)। এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা থাকাকালীন এই চিকিৎসকের হাত ধরেই রাজ্যে আধুনিক চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট (ITU) তৈরি হয়েছিল তাঁরই উদ্যোগে। কার্ডিওলজি থেকে নেফ্রোলজি, একাধিক বিশেষ বিভাগ চালু করে তিনি সরকারি (West Bengal) স্বাস্থ্য পরিষেবাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন (Mani Kumar Chhetri)।

     

  • PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের (Assembly Election 2026) মাধ্যমে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। এখান থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার শপথ নিলেন তিনি। ভোট ঘোষণার পর প্রথমবার বাংলায় এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। বললেন, “বাংলায় এসেই বুঝে গেছি তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের পাপের হিসেব করা হবে। বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে।”

    মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি

    এদিন কোচবিহারে রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar) কালিয়াচক-প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “মালদায় যা হয়েছে, সেটা গোটা দেশ দেখেছে। দেশের মানুষ স্তম্ভিত। কীভাবে মালদায় বিচারকদেরই বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তৃণমূলের শাসনে বিচারকেরাও রেহাই পান না। এটা কোন সরকার, কোন প্রশাসন, কোন ব্যবস্থা। যেখানে বিচারক, সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই সুরক্ষিত নয়। বাংলার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এদের থেকে কীভাবে আশা করা যায়? মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি।” এ প্রসঙ্গেই মোদির সংযোজন, “এটাই প্রমাণ করছে, এখানে জঙ্গলরাজ চলছে। তৃণমূল সংবিধানের গলা টিপে ধরছে। তৃণমূলের সন্ত্রাসের মোকাবিলায় আপনাদের ভরসা বিজেপি। এখানে যা হচ্ছে, তাতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকেই হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।”

    ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar) বলেন, “এত বছর ধরে বাংলার মানুষের পয়সা লুট করা হয়েছে। সকল দুর্নীতিবাজদের এই টাকা ফেরত দিতে হবে। ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা করেছিলাম। মানুষের সেই ভিড়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট ঘাবড়ে গিয়েছে। ব্রিগেডের বিউগল কোচবিহারে আরও বেশি হয়েছে। টিএমসির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ। পাল্টানো দরকার। এটাই নতুন বাংলার দিশা। বিজেপি এখানে সরকার গড়বে।” রাজ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন। প্রথম দফা ভোটের আগে এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সভা। ব্রিগেডে জনসভার পর এবারেই প্রথমবার রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উন্নয়ন বনাম অত্যাচার

    রাজ্যে তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ে নিয়েও এদিন সরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “এবার বাংলায় একদিকে তৃণমূলের ভয় রয়েছে, অন্যদিকে মোকাবিলা করার জন্য বিজেপির ভরসা রয়েছে। একদিকে তৃণমূলের কাটমানি রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপির বিকাশের ভরসা। একদিকে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা, অন্যদিকে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর সংকল্প নিয়েছে বিজেপি। একদিকে সিন্ডিকেট রাজে সম্পত্তি হারানোর ভয় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে বিজেপির উন্নয়ন। একদিকে সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর অত্যাচার, অন্যদিকে মহিলাদের অত্যাচার রুখতে মোদির গ্যারান্টি রয়েছে।” এদিন আইনের ওপর ভরসা রাখার কথা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, “একদিকে বেকারত্ব রয়েছে অন্যদিকে সুশাসন রোজগারের দিশা রয়েছে। ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা যতই ভয় দেখাক আপনাকে আইনের সাহায্য নিতে হবে। এবার ভোটে ভয় পালাবে। বিজেপি জিতবে। ৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ করবে। বিজেপি বাংলার মানুষের জন্যেই আসরে নেমেছে। মহিলারা এরপর সঠিক বিচার পাবেন। গোটা দেশের মহিলারা বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। বিজেপি মহিলাদের পাশে রয়েছে। তবে দেশের উন্নতির ভাগ বাংলায় আসে না। এবার বাংলার উন্নতি হবে।”

    অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই! বাঙালি ঐতিহ্য

    পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়েছে তৃণমূল। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে। এর ফলে বাংলার মানুষের নিরাপত্তা বিপদের মুখে।” বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশকারীদের রোখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। বক্তৃতার শুরুতেই বাংলায় বলেছিলেন, “সবাইকে আমি নমস্কার জানাই।” তার পর একাধিক বার কাটা কাটা বাংলায় বক্তৃতা করতে শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। কখনও তিনি বলেছেন, “বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার।” কখনও বলেছেন, “জঙ্গলরাজের অন্ত হবে।” এই সূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল তাদের ঘোষণাপত্রের নাম বাংলায় রাখেনি। মোদির কথায়, “তৃণমূল ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যার নাম বাংলায় রাখেনি। বরং ইস্তাহার বলা হচ্ছে। ভেবে দেখুন কেমন ভাবে বাংলার পরিচয় বদলে দিচ্ছে।”

    তৃণমূলকে দুর্নীতি-তির 

    তৃণমূলের দুর্নীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্রহণ নেমে এসেছে’ বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যগুলি এগিয়ে যাচ্ছে, আর বাংলাকে পিছনে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল। এখানে সরকারি চাকরির উপরেও তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। বাংলার যুবসমাজ জানে, এই সরকার কত বড় নিয়োগ দুর্নীতি করেছে। কারা এতে শামিল ছিল! তৃণমূলের নিজের মন্ত্রী, বিধায়ক। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত গোটা তৃণমূল দুর্নীতিতে যুক্ত ছিল। কাটমানি, কমিশন আর দুর্নীতি করে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে এরা।”

    মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস

    গত কয়েকটি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মহিলাদের ভোট মূলত তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে। এ বার সেই ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চায় পদ্মশিবির। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই কোচবিহারের সভায় ‘মা-বোনেদের’ বার্তা দেন মোদি। বলেন, “বিজেপি এলে মহিলারা স্বনির্ভর হবেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মা-বোনেদের সব সুবিধা দিয়েছে। ৩ কোটি মহিলাকে লাখপতি বানিয়েছে। আমাদের সরকার লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার আইন এনেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এর সুবিধা মিলবে।” বিজেপি ‘মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস’ বলেও জানান মোদি।

    মোদিতে মাতোয়ারা

    রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে পৌঁছন মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে রাসমেলার মাঠে সভায় পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে রাসমেলার মাঠ, প্রায় দেড় কিলোমিটারের রাস্তায় অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন দু’পাশে তাঁকে দেখার জন্য। নির্বাচন (Assembly Election 2026) ঘোষণা হওয়ার পরে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকেই প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ৪ মে-র পর বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার হবে। কোচবিহার এবং উত্তরবঙ্গের আর অন্যায় হবে না। এটা মোদির গ্যারান্টি।

  • Suvendu Adhikari: তাঁর ওপর নজর রাখছে সাদা পোশাকের পুলিশ! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, কমিশকে দিলেন চিঠি

    Suvendu Adhikari: তাঁর ওপর নজর রাখছে সাদা পোশাকের পুলিশ! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, কমিশকে দিলেন চিঠি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের নির্বাচনে (Bengal Elections 2026) হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর (Bhabanipur Assembly Constituency)। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে ভবানীপুরে বিজেপির বাজি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুই হেভিওয়েটের মুখোমুখি লড়াইয়ে (Suvendu vs Mamata) ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) উপস্থিতি এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করেছে।

    অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক

    এই আবহেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর তোলা এক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রবিবার তিনি ইমেলের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি, ভবানীপুরে বাড়ি বাড়ি প্রচারের সময় সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা তাঁকে অনুসরণ করছেন, তাঁর উপর নজরদারি চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, যেসব সাধারণ ভোটার তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন বা কথা বলছেন, তাঁদের নাম, ঠিকানা ও পরিচয় নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

    ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ

    শুভেন্দুর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে পারে ভবিষ্যতে ওই ভোটারদের ভয় দেখানো। তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা সাহস করে আমার সঙ্গে দেখা করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং ভোটারদের উপর পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভবানীপুরে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কলকাতা পুলিশকে শাসকদল তাদের ‘নজরদারি বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা।

    সমাজমাধ্যমে সরব শুভেন্দু

    এই অভিযোগের সমর্থনে নিজের সমাজমাধ্যমেও একটি বিস্তারিত পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি লেখেন, “ভবানীপুরে আক্রান্ত গণতন্ত্র। কলকাতা পুলিশকে তৃণমূল ব্যক্তিগত নজরদারি বাহিনী হিসেবে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করছে।” তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রচারের সময় তাঁকে অনুসরণ করা হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করা প্রতিটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি বড় বাধা বলে দাবি ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থীর। যদিও এই সব কৌশল আর কাজ করবে না বলে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের কৌশল আর কাজ করবে না। রাজ্যে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষের পথে। ভবানীপুরের ভোটাররা এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।”

    ছবি প্রকাশ শুভেন্দুর, নজর কমিশনের দিকে

    উল্লেখযোগ্যভাবে, শুভেন্দু অধিকারী দু’জন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছেন, যাঁদের তিনি পুলিশকর্মী বলে দাবি করেছেন। তাঁদের নাম, পদ এবং সংশ্লিষ্ট থানার তথ্যও তিনি উল্লেখ করেছেন। যদিও এই ছবিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য প্রশাসন বা কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে। এখন নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  • Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বেলা বাড়তেই রোদের দাপট বাড়ছে। চৈত্র মাসের শেষ জানান দিচ্ছে, চলতি বছর গরমের প্রকোপ বাড়বে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, তীব্র রোদ আর অস্বস্তিকর আবহাওয়া শরীরে গভীর প্রভাব ফেলবে। বিশেষত, রক্তচাপ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা থাকছে। গরমে বাড়তে পারে রক্তচাপ। কমবয়সী থেকে প্রৌঢ়, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই আবহাওয়া তাঁদের জন্য যেমন বাড়তি সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনি হঠাৎ করেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়ে, অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন গরমে রক্তচাপ বাড়ে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার সঙ্গে শরীরের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত তাপমাত্রার পরিবর্তনে শরীরে গভীর প্রভাব পড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ঘাম হয়। এর ফলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়। শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণ জল কমে গেলে,রক্ত ঘন হয়ে যায়। তখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
    • গরমে অস্বস্তি বাড়ে। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতাও বাড়ে। তাই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
    • গরমের ঘাম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মানসিক চাপ বাড়ায়। স্ট্রেস হরমোনের সঙ্গে শরীরের রক্তচাপের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই স্ট্রেস বাড়লেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়।
    • গরমে সাময়িক আরাম পেতে অনেকেই বারবার প্যাকেটজাত পানীয় খায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ধরনের পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে লবন, মিষ্টি এবং নানান প্রক্রিয়াজাত পদার্থ থাকে। এগুলি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

    হঠাৎ রক্তচাপ বাড়লে কী বিপদ হতে পারে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে গেলে শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। হৃদপিণ্ডের ওপরে সরাসরি প্রভাব পড়ে। হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
    • হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। তার নেপথ্যে থাকে হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
    • রক্তচাপ বাড়লে চোখের ওপরে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রক্তচাপ হঠাৎ বাড়লে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়।
    • তাছাড়া রক্তচাপ বাড়লে কিডনির উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। কিডনির কার্যকারিতা কমে। তাছাড়া বমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও হতে পারে।

    কীভাবে এই আবহাওয়ায় রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখবন?

    • চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুক্তভোগীদের এই আবহাওয়ায় নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি।
    • নিয়মিত পরীক্ষা করলে তাঁদের রক্তচাপ কতখানি ওঠানামা করছে, সেটা স্পষ্ট বোঝা যাবে। ফলে, আগাম সতর্কতা নেওয়া সহজ হবে। বড় বিপদ এড়ানো‌ যাবে।
    • লাগাতার প্রচন্ড মাথা যন্ত্রণা, বমি ভাব, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
    • গরমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে হবে। তবে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। আরামের জন্য প্যাকেটজাত পানীয় নয়। ডাবের জল, টক দইয়ের সরবত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    • অতিরিক্ত লবন দেওয়া খাবার নয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার নয়। বরং নিয়মিত খাবারের তালিকায় সব্জি, ফল রাখা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এতে অস্বস্তি কমবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোলে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আধ ঘন্টা হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত হাঁটলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Ramakrishna 616: “কি রকম ভক্ত আছে গো? ‘গোপাল!’ ‘গোপাল!’ যারা বলেছিল, সেইরকম ভক্ত নাকি?”

    Ramakrishna 616: “কি রকম ভক্ত আছে গো? ‘গোপাল!’ ‘গোপাল!’ যারা বলেছিল, সেইরকম ভক্ত নাকি?”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৬শে অক্টোবর
    ভক্তসঙ্গে — শুধু পাণ্ডিত্যে কি আছে?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— বঙ্কিম তোমাদের একজন পণ্ডিত। বঙ্কিমের সঙ্গে দেখা হয়েছিল — আমি জিজ্ঞাসা করলুম, মানুষের কর্তব্য কি? তা বলে (Kathamrita), ‘আহার, নিদ্রা আর মৈথুন।’ এই সকল কথাবার্তা শুনে আমার ঘৃণা হল। বললুম যে, তোমার এ কিরকম কথা! তুমি তো বড় ছ্যাঁচ্‌ড়া। যা সব রাতদিন চিন্তা করছো, কাজে করছো, তাই আবার মুখ দিয়ে বেরুচ্চে। মূলো খেলেই মূলোর ঢেঁকুর উঠে। তারপর অনেক ঈশ্বরীয় কথা হল। ঘরে সংকীর্তন হল। আমি আবার নাচলুম। তখন বলে, মহাশয়! আমাদের ওখানে একবার যাবেন। আমি বললুম, সে ঈশ্বরের ইচ্ছা। তখন বলে, আমাদের সেখানেও ভক্ত আছে, দেখবেন। আমি হাসতে হাসতে বললুম, কি রকম ভক্ত আছে গো? ‘গোপাল!’ ‘গোপাল!’ যারা বলেছিল, সেইরকম ভক্ত নাকি?

    ডাক্তার — ‘গোপাল!’ ‘গোপাল।’ সে ব্যাপারটা কি?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— একটি স্যাকরার দোকান ছিল। বড় ভক্ত, পরম বৈষ্ণব — গলায় মালা, কপালে তিলক, হস্তে হরিনামের মালা। সকলে বিশ্বাস করে ওই দোকানেই আসে, ভাবে এরা পরমভক্ত, কখনও ঠকাতে যাবে না। একদল খদ্দের এলে দেখত কোনও কারিগর বলছে ‘কেশব!’ ‘কেশব!’ আর-একজন কারিগর খানিক পরে নাম করছে ‘গোপাল!’ ‘গোপাল!’ আবার খানিকক্ষণ পরে একজন কারিগর বলছে, ‘হরি’, ‘হরি’, তারপর কেউ বলছে ‘হর; হর!’ কাজে কাজেই এত ভগবানের নাম দেখে খরিদ্দারেরা সহজেই মনে করত, এ-স্যাকরা অতি উত্তম লোক। — কিন্তু ব্যাপারটা কি জানো? যে বললে, ‘কেশব, কেশব!’ তার মনের ভাব, এ-সব (খদ্দের) কে? যে বললে ‘গোপাল! গোপাল!’ তার অর্থ এই যে আমি এদের চেয়ে চেয়ে দেখলুম, এরা গরুর পাল। (হাস্য)

    যে বললে ‘হরি হরি’ — তার অর্থ এই যে, যদি গরুর পাল(Kathamrita), তবে হরি অর্থাৎ হরণ করি। (হাস্য) যে বললে, ‘হর হর!’ — তার মানে এই — তবে হরণ কর, হরণ কর; এরা তো গরুর পাল! (হাস্য)

LinkedIn
Share