Tag: news in bengali

news in bengali

  • Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliachak Incident) সাতজন বিচারপতির আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি (BJP)। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “তৃণমূলের (TMC) কারনে বাংলার মানুষ নয় দেশের মানুষ নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। ১২ রাজ্যে এসআইআর চলছে। কেরলের মত অবিজেপি রাজ্যেও চলছে। কিন্তু যবে থেকে বাংলায় শুরু হয়েছে তখন থেকে তৃণমূল ধর্মীয় বিভাজন শুরু করেছে। যে রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়, সেই রাজ্যে আইনের শাসন থাকে না। আমরা দেখেছি হাইকোর্টের মহিলা বিচারপতির কাছে হুমকি এসেছে। বিচার ব্যবস্থার নিচুতলার কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

    পুরো ঘটনা পরিকল্পিত, চক্রান্ত

    দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পুরো ঘটনা পরিকল্পিত। সাংবাদিক বৈঠকে শমীক বলেন, “কোনও স্থানীয় মানুষের জনরোষ নয়। এটা পরিকল্পিত। উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রয়াস চলছে।” এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা জরুরি, তা বোঝাতে শমীক বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। বিনাযুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত চলছে। মুর্শিদাবাদ, মালদাকে এপিসেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জাল নোট। সম্প্রতি লস্করের জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে থেকেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কোভিডকালে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি কোচবিহারে মডিউল তৈরি করেছে। সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায়।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করার অভিযোগ তুলে শমীক বলেন, “দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বার বার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে খবর পাঠিয়েছে যে কোচবিহার থেকে সন্ত্রাসবাদী মডিউল ছড়াচ্ছে। কিন্তু এখানকার সরকার কান দেয়নি। যেভাবে কিছু মানুষ সীমান্তের ওপার থেকে বলছেন, যে কোনও মুল্যে চিকেনস্ নেক-কে সরিয়ে দিয়ে আমরা এখান থেকে বাংলা এবং ভারতের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনব, তার সামগ্রিক প্রতিফলন হয়েছে কালিয়াচকের ঘটনায়।”

    প্রগতিশীল মুসলিমরাও চিন্তা করুন

    সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গকে ‘পোলারাইজড’ বলে উল্লেখ করেছে। সেই পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে শমীক বলেন, “হিন্দুদের সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল মুসলিমদেরও চিন্তা করার সময় এসেছে। ওপারে যা ঘটেছে, এপারেও তারই প্রতিফলন।” শমীক বলেন, “বাংলার সরকার বাবরদের সরকার, মৌলবাদিদের সরকার।” তিনি আরও বলেন, ‘‘বাঙালি মুসলিমদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। হিন্দুদের সঙ্গে মুক্তমনা মুসলিম ভাইদেরও ভাবতে হবে তারা কাকে সমর্থন করবেন। মা কালিকে আজ অ্যারেস্ট করা হচ্ছে বাংলায়।’’ বিজেপি সভাপতির দাবি, এটা পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কোনও বাহিনী এসে শান্তিরক্ষার স্বার্থে গুলি চালায়। আর তা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তি। পুরো প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শমীক। তিনি যোগ করেন, ‘‘বাংলার মানুষ ঠিক করে নিয়েছে বাংলাকে যদি ভারতের সঙ্গে রাখতে হয় তাহলে তৃণমূলকে সরাতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলা বলা মানুষ এই সরকারকে উৎখাত করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গ ধর্মশালা নয়। যে কেউ, যখন খুশি এসে নাম তুলবে।’’

  • Kaliachak Incident: আজই রাজ্যে তদন্তকারী দল! কালিয়াচকের ঘটনায় এনআইএ-কে তদন্তভার দিল নির্বাচন কমিশন

    Kaliachak Incident: আজই রাজ্যে তদন্তকারী দল! কালিয়াচকের ঘটনায় এনআইএ-কে তদন্তভার দিল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (NIA Kaliachak Incident) বিচারবিভাগের আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এনআইএ-কে (National Investigation Agency)। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এনআইএ-র একটি দল রাজ্যে আসার কথা।

    এনআইএ-র মাধ্যমে তদন্ত

    বুধবার রাতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন কালিয়াচকে (NIA Kaliachak Incident) তিন মহিলা-সহ সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখা হয়। অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে এমন লোকজনও ছিলেন, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তারা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, বলে খবর। গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছে আধিকারিকদের উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার অভিযানের সময় তাদের গাড়িতে হামলার চেষ্টা এবং রাস্তা অবরোধের ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কড়া অবস্থান নেয়। এটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির স্পষ্ট প্রমাণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক, বলে দাবি শীর্ষ আদালতের। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে নির্দেশ দেয়, সিবিআই বা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করাতে হবে। সেই অনুযায়ী এনআইএ তদন্ত শুরু করবে। এই ঘটনা বিচারকদের উপর ভয়ের প্রভাব ফেলবে বলে মামলার শুনানিতে জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

    এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ

    এই ঘটনায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এই নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। ঘটনায় জড়িত সকলকে চিহ্নিত করে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেন তিনি। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। এছাড়া, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনে তাঁদের পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

  • Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুদিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভ (Deputy PM Manturov)। আজ, ২ এপ্রিল ভারত সফরে এসেছেন তিনি, যা দুই দিনের একটি সরকারি সফর। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। তিনি ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতিত্ব করবেন, যা আদতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক্স-এ (X) একটি পোস্টে জানায়, “রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতি ডেনিস মান্তুরভকে নয়াদিল্লিতে আন্তরিক স্বাগত। সফরের সময় তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অংশ নেবেন অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়ও।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা (Russia)

    ভারতে রাশিয়ার দূতাবাসের তরফেও তাঁর আসার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, চলতি সফরে রুশ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক আলোচনা হবে। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মান্তুরভ বলেন, “এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক সম্প্রসারণ (Deputy PM Manturov)।” তিনি এও বলেন, “পারস্পরিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, লজিস্টিক চেন শক্তিশালী করা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ উন্নত করা এবং নতুন বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পকে উৎসাহিত করা—এই বিষয়গুলি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ২০৩০ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।”

    সফরের বহুমুখী গুরুত্ব

    নয়াদিল্লতে থাকার সময় মান্তুরভ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, যা এই সফরের বহুমুখী গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে (Deputy PM Manturov)। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার রফতানি ছিল ৬৩.৮ বিলিয়নেরও বেশি, আর ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ বিলিয়নের কম। এই ভারসাম্যহীনতার প্রধান কারণ ভারতীয় বাজারে সস্তা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের আমদানি বৃদ্ধি।

    ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ

    ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের তেল আমদানির মাত্র ২.৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৮ শতাংশ হয়েছে। এটি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের একটি কৌশলের অংশ (Deputy PM Manturov)। ভারত ও রাশিয়া এখন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা। এছাড়া বাণিজ্যের কাঠামোগত বাধা দূর করা এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (EAEU) সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত একই সঙ্গে তার জ্বালানি আমদানির উৎস ২৭ দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১ দেশে সম্প্রসারণ করেছে, যাতে নির্ভরতা কমে।

    ব্রিকস সম্মেলন

    রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রে রুডেনকো জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তিনি জানান, মস্কো এই সম্মেলনে ঐকমত্য গঠনে ভারতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। তিনি আরও জানান, রাশিয়া ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পেট্রোল রফতানি নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে যে তেল চুক্তি রয়েছে, তাকেও সম্মান করবে (Deputy PM Manturov)। রুডেনকো বলেন, “ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে নিয়মিত এবং ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে রাশিয়া সফর করবেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন। এবার পরবর্তী সম্মেলন মস্কোয় হবে। সেখানেই ফের একবার মুখোমুখি হতে পারেন পুতিন-মোদির (Deputy PM Manturov)।

     

  • Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর পাঁচ জনের মতো পরিচিত ছন্দে জীবন কাটে না। নিজের কথা বোঝানোর ভঙ্গি আলাদা। আনন্দ-দুঃখ-যন্ত্রণা প্রকাশের ধরণ ভিন্ন। তবে অধিকাংশের থেকে আলাদা হলেও, মানবাধিকারের প্রশ্নে কিন্তু তারা সকলের সঙ্গে এক সারিতেই রয়েছেন‌। ২ এপ্রিল ছিল অটিজম সচেতনতা দিবস। আর চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, অটিজম সচেতনতায় আক্রান্তদের মানবাধিকার নিয়ে সচেতনতা প্রসার সবচেয়ে জরুরি। এ বছরের থিম, ‘autism and humanity: every life has value.’ আর পাঁচজনের থেকে ব্যতিক্রম বলেই, মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যায় না। অটিজম আক্রান্তের প্রতি মানবিক থাকা জরুরি।‌ কারণ প্রত্যেক জীবন মূল্যবান। অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। অটিজম নিয়ে আরো বেশি সচেতনতা জরুরি। তার সঙ্গে সঙ্গে সমাজে এই মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠাও জরুরি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    অটিজম কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম হলো মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এর নেপথ্যে থাকে দিন ঘটিত কারণ। এই সমস্যা শিশুর কথা বলা, অন্যদের মনের ভাব প্রকাশ, সামাজিক মেলামেশায় প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ অটিজম আক্রান্ত অন্যদের দেখে কোনও কাজ করতে শিখতে পারে না। তাঁরা এক কাজ বারবার করেন। তীব্র আলো, শব্দে তাঁদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাঁরা অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।

    ভারতে কি অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩৬ জন শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজম আক্রান্ত।‌ গত এক দশকে এই সমস্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

    কেন ভারতে অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত এক দশকে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বছর দশেক আগেও এই সমস্যা সম্পর্কে অধিকাংশ পরিবার অসচেতন ছিলেন। এর ফলে শিশু আক্রান্ত হলেও, চিহ্নিত হত না। কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এই সমস্যা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারছে। লাগাতার স্ক্রিনিং হচ্ছে। আর তার ফলেই শিশুদের এই সমস্যা রয়েছে কিনা, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া স্ক্রিনিং পদ্ধতিও উন্নত হচ্ছে। তাই মাইল্ড অটিজম অর্থাৎ খুব সামান্য সমস্যা থাকলেও, সেটা বোঝা সম্ভব হচ্ছে।

    অটিজম সচেতনতায় মূল চ্যালেঞ্জ কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের জীবন যাপনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সামাজিক অসচেতনতা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আর পাঁচ জনের থেকে ভিন্ন হলেও, আক্রান্তের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে, এ নিয়ে সচেতনতা কম। আক্রান্তের শিক্ষার অধিকার রয়েছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা তলানিতে‌। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ স্কুলে অটিজম আক্রান্তের শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। ফলে, সমাজের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ অটিজম আক্রান্তদের কমে যায়। এর ফলে, তাঁদের জীবন যাপন আরো জটিল হয়ে যায়। তাঁদের সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা আরো কমে যায়। তাছাড়া, অনেকক্ষেত্রে আক্রান্তদের মানবিক সম্মান দেওয়া হয় না। তাঁদের কথা বলার সমস্যা নিয়ে বা সামাজিক যোগাযোগের জটিলতা নিয়ে কটুক্তি করা হয়। এর ফলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস আরও কমে যায়। লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পারবে, এই সমস্যা কমাতে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত, এ নিয়ে সচেতনতা প্রসার জরুরি।‌ অটিজম আক্রান্ত শিশুর শিক্ষার অধিকার রয়েছে। তারা খেলবে, আঁকবে, সবকিছু করবে। তাঁদের সমস্ত কাজে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিতে হবে। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা প্রসার জরুরি। তবেই আক্রান্তেরা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারবেন। প্রতিকূলতা কমবে।

     

  • Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত চলছে। ফলে সতর্ক এশিয়া মহাদেশের দেশগুলো। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে কূটকৌশল অবলম্বন করে পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না ভারত। প্রতিবেশী দেশকে স্পষ্ট বার্তা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। বৃহস্পতিবার কেরলের সৈনিক সম্মান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফায়দা তুলে পাকিস্তান যদি ভারতের সীমান্তে কোনও অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে, তবে ভারতের জবাব হবে অভাবনীয় এবং চূড়ান্ত। কেরলে জওয়ানদের সম্মেলনে রাজনাথ (Rajnath Singh) বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতিবেশী কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে ভারতের প্রতিক্রিয়া হবে দৃঢ়, নজিরবিহীন।’’

    কেন এই আগাম হুঁশিয়ারি

    পাকিস্তান কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করছে কি না সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দেননি রাজনাথ। তবে তিনি এই মন্তব্য করলেন এমন সময় যখন, পাকিস্তানের মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ভারত নাকি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন পরিকল্পনা করছে। তবে, এই বিষয়ে কোনও প্রমাণ নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি করাণ। গত বছরের এক রক্তাক্ত স্মৃতি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ২০২৫ সালের সেই ভয়াবহ পহেলগাঁও হামলার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর জঙ্গিদের গুলিতে ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর ভারত যে প্রত্যাঘাত করেছিল, ইতিহাসে তা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত।

    ভারতের প্রত্যাঘাত মনে রাখা উচিত

    রাজনাথ সিং এদিন অপারেশন সিঁদুর অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দেন যে, মাত্র ২২ মিনিটের ঝোড়ো আক্রমণে ভারতের বীর সেনারা পাকিস্তানকে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য করেছিল। তিন দিনব্যাপী সেই অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে থাকা নয়টি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের সেনারা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যা এখনও মেরামত করে উঠতে পারেনি ইসলামাবাদ। এরপর পাকিস্তন ১০ মে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়। রাজনাথের কথায়, ‘‘উরি আক্রমণের পর সার্জিক্যাল হামলা থেকে অপারেশন সিঁদুর, আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বারবার প্রত্যাঘাত করেছি। সেই কথা প্রতিবেশী দেশের মনে রাখা উচিত।’’ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এদিন সাফ বলেন, ভারত এখন আর শুধু আত্মরক্ষায় বিশ্বাসী নয়, প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে ঢুকে আঘাত করতেও জানে।

    মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের

    যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পাকিস্তান নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করেছে। কিন্তু ইরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। এতে মুখ পুড়েছে ইসলামাবাদের। ধারণা করা হচ্ছে, এর থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান কোনও ধরনের প্রক্সি যুদ্ধ বা সীমান্তে প্ররোচনামূলক কাজ করতে পারে—এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই রাজনাথ সিং আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়ে যায়নি, অর্থাৎ ভারত সবসময় সতর্ক এবং প্রয়োজনে ফের একইরকম কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছুপা হবে না।

     

     

     

     

  • Ramakrishna 6134: “অহংকার যদি থাকে, কিছুদিনের মধ্যে আর থাকবে না, তাঁর কাছে বসলে জীবের অহংকার পলায়ন করে অহংকার চূর্ণ হয়”

    Ramakrishna 6134: “অহংকার যদি থাকে, কিছুদিনের মধ্যে আর থাকবে না, তাঁর কাছে বসলে জীবের অহংকার পলায়ন করে অহংকার চূর্ণ হয়”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    একবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৬শে অক্টোবর
    মাস্টার ও ডাক্তার সংবাদ

    ডাক্তার—হাঁ, তা বটে।

    ডাক্তার গাড়িতে উঠিলেন, দু-চারিটি রোগী দেখিয়া পরমহংসদেবকে দেখিতে যাইবেন। পথে আবার মাস্টারের সঙ্গে কথা হইতে লাগিল। ‘চক্রবর্তীর অহংকার’ ডাক্তার এই কথা তুলিলেন।

    মাস্টার — পরমহংসদেবের (Ramakrishna) কাছে তাঁর যাওয়া-আসা আছে। অহংকার যদি থাকে, কিছুদিনের মধ্যে আর থাকবে না। তাঁর কাছে বসলে জীবের অহংকার পলায়ন করে অহংকার চূর্ণ হয়। ওখানে অহংকার নাই কি না, তাই। নিরহংকারের নিকট আসলে অহংকার পালিয়ে খায়। দেখুন, বিদ্যাসাগর মহাশয় অত বড়লোক, কত বিনয় আর নম্রতা দেখিয়েছেন। পরমহংসদেব তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন, বাদুড়বাগানের বাড়িতে। যখন বিদায় লন, রাত তখন ৯টা। বিদ্যাসাগর লাইব্রেরীঘর থেকে বরাবর সঙ্গে সঙ্গে, নিজে এক-একবার বাতি ধরে, এসে গাড়িতে তুলে দিলেন; আর বিদায়ের (Kathamrita) সময় হাতজোড় করে রহিলেন।

    ডাক্তার — আচ্ছা, এঁর বিষয় বিদ্যাসাগর মহাশয়ের কি মত?

    মাস্টার — সেদিন খুব ভক্তি করেছিলেন। তবে কথা কয়ে দেখেছি, বৈষ্ণবেরা যাকে ভাব-টাব বলে, সে বড় ভালবাসেন না। আপনার মতের মতো।

    ডাক্তার — হাতজোড় করা, পায়ে মাথা দেওয়া, আমি ও-সব ভালবাসি না। মাথাও যা, পাও তা। তবে যার পা অন্য জ্ঞান আছে, সে করুক।

    মাস্টার — আপনি ভাব-টাব ভালবাসেন না। পরমহংসদেব (Ramakrishna) আপনাকে ‘গম্ভীরাত্মা’ মাঝে মাঝে বলেন, বোধ হয় মনে আছে। তিই কাল আপনাকে বলেছিলেন যে, ডোবাতে হাতি নামলে জল তোলপাড় হয়, কিন্তু সায়ের দীঘি বড়, তাতে হাতি নামলে জল নড়েও না। গম্ভীরাত্মার ভিতর ভাবহস্তী নামলে তার কিছু করতে পারে না। তিনি বলেন, আপনি ‘গম্ভীরাত্মা’।

    ডাক্তার — I don’t deserve the Compliment, ভাব আর কি? feelings; ভক্তি, আর অন্যান্য feelings — বেশি হলে কেউ চাপতে পারে, কেউ পারে না (Kathamrita)।

    মাস্টার — Explanation কেউ দিতে পারে একরকম করে — কেউ পারে না; কিন্তু মহাশয়, ভাবভক্তি জিনিসটা অপূর্ব সামগ্রী। Stebbing on Darwinism আপনার library-তে দেখলাম। Stebbing বলেন, Human mind যার দ্বারাই হউক — evolution দ্বারাই হোক বা ঈশ্বর আলাদা বসে সৃষ্টিই করুন — equally wonderful. তিনি একটি বেশ উপমা দিয়েছেন — theory of light. Whether you know the undulatory theory of light or not, light in either case is equally wonderful.

  • Operation Sindoor: ‘আর মাত্র কয়েক মিনিটের দূরে…’! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানকে আক্রমণ নিয়ে‌ কী বললেন নৌসেনা প্রধান?

    Operation Sindoor: ‘আর মাত্র কয়েক মিনিটের দূরে…’! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানকে আক্রমণ নিয়ে‌ কী বললেন নৌসেনা প্রধান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল ভারতীয় নৌসেনা। কিন্তু পাকিস্তানের অনুরোধে অভিযান থেকে বিরত ছিল তারা। বুধবার এমনই দাবি করলেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী। মুম্বইয়ে নৌসেনার সংবর্ধনা কর্মসূচিতে বুধবার অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) সিঁদুর অভিযানের সময় অসাধারণ অবদানের জন্য দুই অফিসারকে সেবা পদক প্রদান করেন। সেখানেই তিনি বলেন, ‘‘আমরা আঘাত হানায় আর মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিলাম।’’

    পাকিস্তানের অনুরোধে আক্রমণ থেকে বিরত

    নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী বলেন, ২০২৫ সালের ৭-১০ মে সিঁদুর (Operation Sindoor) অভিযান চলাকালীন ভারতীয় নৌসেনা আগাগোড়া আগ্রাসী অবস্থান বজায় রেখেছিল। তিনি বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদূরের সময় ভারতীয় নৌবাহিনী সমুদ্র থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আঘাত হানার মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিল। ইসলামাবাদ আক্রমণাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করার অনুরোধ করেছিল।’’ তাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আক্রমণ থেকে বিরত থাকা হয়।

    ভারতীয় নৌসেনা জাতির আস্থা

    অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতীয় নৌসেনা জাতির আস্থা এবং তাদের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেও দাবি করেন অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi)। পহেলগাঁওতে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হানার পর পাল্টা পাকিস্তানের বুকে পর পর জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। সেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ কার্যত কুপোকাত হয়েছিল পাকিস্তান। অভিযানের সময় মে মাসের সেই রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান যখন একের পর এক পাকিস্তানি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন ভারতীয় নৌসেনার আগ্রাসী অবস্থানে কার্যত নিজেদের উপকূল প্রান্ত বাঁচাতে মরিয়া ছিল পাকিস্তান।

    ভয় পেয়েছিল পাকিস্তান

    অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী বলেন,‘‘অপারেশন সিঁদুরের সময় ক্যারিয়ার ব্যাটেল গ্রুপের মোতায়েনের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ পাকিস্তান নৌবাহিনীকে তাদের বন্দরের কাছাকাছি বা মাকরান উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বাধ্য করেছিল।’’ একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’, এখনও শেষ হয়নি। তিনি সাফ বলেন, এই অপারেশন এখনও চলছে। ভারতের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠীর কথায়, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে কারণ যুদ্ধের পর বহু বাণিজ্যিক জাহাজ পাকিস্তানে ভ্রমণ এড়িয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানগামী জাহাজের বীমা খরচও বেড়ে গিয়েছিল।

    পশ্চিম উপকূলে ভারতীয় নৌসেনার অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি

    শুধু অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) প্রসঙ্গেই নয়, অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদুরের পাশাপাশি, বছরভর পশ্চিম উপকূলে ভারতীয় নৌসেনার অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি বজায় রয়েছে।’’ ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হানাদারি, পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে বলেও জানান তিনি। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সমুদ্র এখন আর গৌণ নয়, বরং প্রধান কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে—এমনটাই জানান ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান। তিনি বলেন, ভারতীয় নৌসেনার অপারেশনাল দক্ষতা গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অভিযানে প্রতিফলিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ১৭ ঘণ্টার ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রা

    অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) আরও জানান, পশ্চিম উপকূলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ১৭ ঘণ্টার ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে নৌবাহিনী তাদের প্রস্তুতি ও শক্তি প্রদর্শন করেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভাঙন ও উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, এবং এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র এখন প্রথম সারির সংঘর্ষক্ষেত্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি জানান, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে, প্রায় ১,৯০০টি জাহাজ আটকে রয়েছে এবং প্রতিদিনের জাহাজ চলাচল ১৩০ থেকে কমে মাত্র ৬–৭টিতে নেমে এসেছে।

    হরমুজ পাহারায় নৌসেনা

    অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) জানান, হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে ভারতীয় নৌসেনা সক্রিয় রয়েছে। তারা জাহাজ পাহারা দিচ্ছে। ভারত সরকারের একাধিক উদ্যোগে নৌসেনা সহায়তা করছে। ভারতমুখী জাহাজগুলিকে রক্ষাকবচ দিতে ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’ চালু করেছে নৌসেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যার পুরোটাই নির্ভর করছে ভারতীয় নৌবাহিনীর দক্ষতার উপর।

    বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে দেশগুলির উপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতে এসেছে বেশ কয়েকটি জাহাজ। ভারত-ইরান সম্পর্কের খাতিরেই হরমুজ থেকে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে অনুমতি মিলেছে। তবে শুধু জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা নয়, বরং ভবিষ্যতের জরুরি অবস্থার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। নতুন পরিকল্পনার আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। দিনকয়েক আগেই উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজগুলিকে এসকর্ট করার জন্য দুটি টাস্ক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল। এখন, ভারতীয় নৌবাহিনী আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে। এই মোতায়েনের উদ্দেশ্য শুধু এলপিজি ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই নয়, বরং ভবিষ্যতে যে কোনও মোতায়েনের জন্য পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি থাকা।

  • West Bengal Assembly Election: শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র পেশ শুভেন্দুর, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে কালীঘাটে ধুন্ধুমার

    West Bengal Assembly Election: শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র পেশ শুভেন্দুর, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে কালীঘাটে ধুন্ধুমার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আগেই। তার পর বৃহস্পতিবার দুুপুরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও মনোনয়নপত্র জমা দিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন পেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ছিলেন রাসবিহারী ও  বালিগঞ্জ কেন্দ্রের কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরাও। মনোনয়নপত্র (West Bengal Assembly Election) জমা দিয়েই শাহকে প্রণাম করে এই কেন্দ্রে জয়ের জন্য আশীর্বাদ চেয়ে নেন শুভেন্দু৷

    হাজরা মোড় থেকে শুরু রোড-শো

    এদিন শুভেন্দুর মনোনয়নপত্র পেশ উপলক্ষে রোড-শো শুরু হয় হাজরা মোড় থেকে। রোড-শোয়ের গাড়িতে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ-ও। তার আগে, হাজরা মোড়ে দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে বক্তৃতা দেন শাহ। ভবানীপুরবাসীর উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তো পরিবর্তন হবেই। ভবানীপুরে পরিবর্তন করতে হবে কি হবে না? আমি হাতজোড় করে আপনাদের বলছি, পুরো রাজ্যের মুক্তির জন্য আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন।” বক্তৃতার পর হাজরা মোড় থেকে শুরু হয় বিজেপির এই মেগা রোড শো৷

    বিজয় সংকল্প সভা

    শোভাযাত্রার নাম দেওয়া হয় বিজয় সংকল্প সভা৷ বিরাট ট্যাবলো গাড়ি করে তাতে সওয়ার হন শুভেন্দু অধিকারী৷ তাঁর পাশে আগাগোড়া ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ তাঁরা গোলাপ ফুল ছড়াতে ছড়াতে এগিয়ে যান আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে৷ ট্যাবলোয় ছিলেন রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত এবং বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রর বিজেপি প্রার্থী শতরূপাও৷ শুভেন্দু অধিকারীর এই মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে হাজরা মোড়ে এদিন ছিল উপচে পড়া ভিড়৷ গেরুয়া ঝান্ডায় ছেয়ে যায় এলাকা৷ বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো৷ ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান সহযোগে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রোড শো এগিয়ে যায়৷

    কালীঘাটে রোড-শো পৌঁছোতেই উত্তেজনা 

    শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে আলিপুর ও ভবানীপুর চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মোতায়েন ছিল র‍্যাফ ও প্রচুর সংখ্যক পুলিশ কর্মী (West Bengal Assembly Election)। তা সত্ত্বেও, কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে বিজেপির মিছিল যাওয়ার সময় তৈরি হয় উত্তেজনা। বিজেপির রোড শোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা৷ স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা৷ যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন ছিল পুলিশ৷

    প্রচারগাড়ি থেকে নেমে পড়েন অমিত শাহ

    বিজেপির দাবি, অমিত শাহ-শুভেন্দুর রোড-শো যে পথ দিয়ে এগোনোর কথা, কালীঘাটে সেই পথের ধারে জড়ো হন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির মুখে জমায়েতও করেন তাঁরা। মুহুর্মুহু দেওয়া হয় স্লোগান। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের  সঙ্গে বচসা, তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। হাতাহাতিও হয়। তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রোড শোয়ের প্রচারগাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়িতে চেপে সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে রওনা দেন শাহ এবং শুভেন্দু। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এর পর সার্ভে  বিল্ডিংয়ের কাছে মাইক বাজানো নিয়েও শুরু হয় বিবাদ। জানা গিয়েছে, এদিন সার্ভে বিল্ডিংয়ের কাছে জড়ো হওয়া তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা আচমকাই হামলা চালায় বিজেপির মিছিলে। জখম হন এক বিজেপি কর্মী। তাঁর চোখে আঘাত লেগেছে।  সেখানেও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ভবানীপুরের এই উত্তাপ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে এই কেন্দ্রে লড়াই হতে চলেছে অত্যন্ত সেয়ানে সেয়ানে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্রেই (West Bengal Assembly Election) লড়ছেন শুভেন্দু। তিনি কি আরও একবার ‘জায়ান্ট কিলারে’র তকমা পাবেন? উঠছে প্রশ্ন।

  • Artemis-II: পাঁচ দশক পরে চাঁদে মানুষ পাঠাল নাসা! চার মহাকাশচারীকে নিয়ে আর্টেমিস ২-এর সফল উৎক্ষেপণ

    Artemis-II: পাঁচ দশক পরে চাঁদে মানুষ পাঠাল নাসা! চার মহাকাশচারীকে নিয়ে আর্টেমিস ২-এর সফল উৎক্ষেপণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ দশক পরে চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা। চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিল নাসার মহাকাশ-যান। আমেরিকার তিন এবং কানাডার এক মহাকাশচারীকে নিয়ে রওনা দিল ‘আর্টিমিস ২’। ৫৪ বছর পর আবারও পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে গভীর মহাকাশে পা রাখল মানুষ। ‘ইন্টেগ্রিটি’ ক্যাপসুলে যাত্রা শুরু করেছে নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন (Artemis-II)। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ (Apollo 17 mission)-এর পর এটাই প্রথম মানববাহী মিশন যা চাঁদের পথে রওনা দিল। ২ এপ্রিল ভোর ৩:৫৪ মিনিটে (ভারতীয় সময়) ফ্লরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বিশাল এসএলএস রকেটটিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। পুরো উৎক্ষেপণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, চারজন মহাকাশচারীই নিরাপদে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছেন।

    কারা পাড়ি দিলেন?

    • রিড ওয়াইসম্যান (কমান্ডার): প্রাক্তন নৌসেনা পাইলট। ১৬৫ দিন মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
    • ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট): নাসার ক্রু-১ অভিযানে সামিল হয়েছিলেন।
    • ক্রিস্টিনা কচ (অভিযান বিশেষজ্ঞ): মহিলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় স্পেসফ্লাইট চালিয়েছেন।
    • জেরেমি হানসেন: কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার মহাকাশচারী। প্রথম বার মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন।

    একটি ১০-দিনের পরীক্ষামূলক অভিযান

    এই চারজন এখন ওরিয়ন ক্যাপসুলে বসে চাঁদের দিকে এগিয়ে চলেছেন। এই মহাকাশচারীরা মূলত চাঁদের একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যাচ্ছেন। আর্টেমিস-২ মিশন কোনও অবতরণ অভিযান নয়। এটি একটি ১০-দিনের পরীক্ষামূলক অভিযান। মহাকাশচারীরা ঘণ্টায় প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের খুব কাছ দিয়ে ভ্রমণ করবে, চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে এবং তারপর পৃথিবীতে ফিরে আসবে। ফেরার পথে ওরিয়ন ঘণ্টায় ৪০,০০০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। এই সময়ে ওরিয়ন ক্যাপসুলের গভীর মহাকাশে চলার ক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তাপ নিরোধক ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হবে।

    চাঁদে মানুষের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি

    এর আগে শেষবার ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে নভশ্চরদের পাঠানো হয়। ওই অভিযানের পর এবারই প্রথম নতুন করে মানুষ্যবাহী যান চাঁদের অভিমুখে যাত্রা করল। এই মিশনের সাফল্যের পর, নাসার আর্টেমিস-৩ চাঁদে মানুষ অবতরণ করবে। পাশাপাশি চাঁদে মানুষের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির যাবতীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এমনকি পরবর্তীতে মঙ্গল অভিযানের ভিত্তিও তৈরি হচ্ছে এই মিশনের মাধ্যমেই।

    ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার পথ ভ্রমণ

    নাসা এই বিষয়টি নিয়ে একটি রিল আপলোড করেছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে। সেখানে একটি গ্রাফিক্স ভিডিওর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে পুরো বিষয়টি। সেখানে দেখা গিয়েছে উৎক্ষেপণের পর প্রথমে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্ট। তারপর সেটি চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে ফের ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসবে। ওই রিলের ডেসক্রিপশনে নাসা লিখেছে, “আমাদের আর্টেমিস-২ ক্রু চাঁদের আশপাশে যাচ্ছে…কিন্তু তাঁরা সবসময় ঘরে ফিরে আসার পথ খুঁজবেন।” এরপর একটি পৃথিবীর ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছে। নাসা জানিয়েছে, চার জন ক্রু সদস্য ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার মাইল ভ্রমণ করবেন।

    মহাকাশচারীরা কী কী খাবেন

    মহাকাশচারীরা কী কী খাবেন তাও জানিয়েছে নাসা (NASA)৷ তাঁদের সঙ্গে থাকবে, কফি, গ্রিন-টি, ম্যাঙ্গো-পিচ স্মুদি, ভ্যানিলা ব্রেকফাস্ট ড্রিঙ্ক, গমের রুটি, ব্রেকফাস্ট সসেজ, ম্যাঙ্গো স্যালাড, আমন্ড, ফুলকপি ইত্যাদি৷

    মহাকাশচারীদের কমলা রঙের পোশাক কেন

    কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ) থেকে পাওয়া নভশ্চরদের ছবিতে অনেকের কাছেই প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়েছে তা হলো তাদের উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাক। এই রঙটির আনুষ্ঠানিক নাম ইন্টারন্যাশনাল অরেঞ্জ – যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন গেট ব্রিজের কুয়াশারোধী আবরণের রঙের মতোই। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিখুঁত দৃষ্টি তৈরি করা। বিশাল, অন্ধকার সমুদ্রে, ক্যাপসুলটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিফলক কমলা রঙ উদ্ধারকারী বাহিনীকে মুহূর্তের মধ্যেমহাকাশচারীদের সহজে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। নাসার মতে, এর আলোকীয় কার্যকারিতা ছাড়াও, এই অভিযানে নভোচারীদের পরিহিত কমলা রঙের পোশাকটি ওরিয়ন ক্রু সারভাইভাল সিস্টেম (OCSS) নামেও পরিচিত। এই স্পেসস্যুটটি প্রত্যেক মহাকাশচারীর শরীরে নিখুঁতভাবে ফিট হওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এটি এমন সব প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যে সজ্জিত যা উৎক্ষেপণের দিনে, জরুরি পরিস্থিতিতে, চাঁদের কাছাকাছি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের সময় নভশ্চরদের সুরক্ষা দেয় এবং পৃথিবীতে দ্রুত প্রত্যাবর্তনে সহায়তা করে। এছাড়াও, নাসার মতে, যদি গভীর মহাকাশে কোনো ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ডের আঘাতে ওরিয়ন মহাকাশযানের ক্যাপসুলটি হঠাৎ ছিদ্র হয়ে যায় এবং এর ভেতরের চাপ সম্পূর্ণ চলে যায়, তাহলে ওসিএসএস স্যুটটি সঙ্গে সঙ্গে স্ফীত হয়ে একটি ব্যক্তিগত জীবনরক্ষাকারী ক্যাপসুলে পরিণত হবে। এতে একটি স্বাধীন অক্সিজেন সরবরাহ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা মহাকাশযানটি পৃথিবীতে ফিরে না আসা পর্যন্ত শূন্যস্থানে টানা ছয় দিন নভোচারীদের জীবন টিকিয়ে রাখতে সক্ষম।

    চাঁদের সব থেকে দূরবর্তী অংশে মহাকাশচারীরা

    চার জনের মহাকাশচারী দলটি এখন বেশ কয়েকদিন ধরে চাঁদের দিকে নিজেদের যাত্রা অব্যাহত রাখবে। তারা চাঁদের সব থেকে দূরবর্তী অংশের উপর দিয়েও যাবে, যেখানে পৃথিবীর সঙ্গে রেডিও কানেকশন সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এই যাত্রাপথে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। প্রায় ১০ দিন পর, ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্যারাসুটের সাহায্যে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। এর আগে একাধিকবার আর্টেমিস ২ (Artemis II) মিশন বাতিল হয়ে যায় ৷ মূলত প্রতিকূল আবহাওয়া তারমধ্যে অন্যতম কারণ ছিল ৷ লঞ্চ প্যাডের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল ৷ সেই কারণে বাতিল হয় এই অভিযান ৷ এর সঙ্গে যান্ত্রিক গোলযোগও ছিল ৷ তবে এবার উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে৷

  • Pratik Jain: কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাক যোগ! প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে তলব ইডির

    Pratik Jain: কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাক যোগ! প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে তলব ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাকের (I-PAC) যোগ থাকার অভিযোগে তদন্ত জোরদার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। কলকাতায় সিবিআই এবং ইডির অফিস তদন্তের জন‍্য সুরক্ষিত নয়। ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ‍্য প্রমাণ। তাই আইপ্যাকের কর্ণধার ও এক কর্তাকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য দিল্লিতে ডাকা হয়েছে, বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    কেন দিল্লিতে তলব, জানাল ইডি

    গত ৮ জানুয়ারি ইডি আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উপস্থিতিকে ‘তদন্তে বাধা’ হিসেবে দেখিয়ে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে ইডি, যার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে চলছে। এরই মধ্যে দিল্লি হাইকোর্টে ইডি দাবি করেছে যে কলকাতায় সিবিআই ও ইডির অফিস তদন্তের জন্য নিরাপদ নয়। তাদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে। এই সংক্রান্ত একটি মামলা বুধবার বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভামবানির বেঞ্চে ওঠে। শুনানিতে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এস.ভি. রাজু আইপ্যাক অফিসে অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর ‘বাধা দেওয়ার’ অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

    নথির গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা

    অন্যদিকে, প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিং দিল্লিতে হাজিরার সমনের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনী কৌশল তৈরির কাজে ব্যস্ত, তাই দিল্লিতে না গিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বা কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়া হোক। তবে ইডি এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নথির গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ বছর ধরে চলা এই তদন্তে এখনই কেন জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। পাশাপাশি কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদ সম্ভব নয় কেন—এই বিষয়ে ইডিকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইডির তরফে জানানো হয়েছে, ২ এপ্রিলের পর কোনও একদিন প্রতীক জৈনকে দিল্লির অফিসে হাজিরা দিতে বলা হতে পারে।

LinkedIn
Share