Tag: news in bengali

news in bengali

  • Earthquake: ফের ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, পাশে থাকার আশ্বাস ভারতের

    Earthquake: ফের ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, পাশে থাকার আশ্বাস ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূমিকম্পের জেরে বুধবার কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি হয়েছিল মাটির ১৪০ কিলোমিটার গভীরে। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টেই এ খবর জানিয়েছে এনসিএস। গত ১২ এপ্রিলও ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল আফগানিস্তান। সেদিনও কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। তার উৎসস্থল ছিল ১৫০ কিলোমিটার গভীরে। এর আগে ৬ এপ্রিল, ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারত বন্যা ও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত আফগানিস্তানকে মানবিক সাহায্য দিয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Earthquake)

    এক্স হ্যান্ডেলে আর একটি পোস্টে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারত মানবিক সাহায্য ও দুর্যোগ ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে ছিল রান্নার সেট, স্বাস্থ্যবিধি কিট, প্লাস্টিক শিট, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ এবং আরও অন্যান্য সামগ্রী।” তিনি বলেন, “ভারত আফগানিস্তানের জনগণের পাশে রয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে মানবিক সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” টোলো (TOLO) নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুদিনে আফগানিস্তানের ২৫টি প্রদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫-এ। জখম হয়েছেন ৫২ জন। রেড ক্রসের মতে, আফগানিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়, বিশেষ করে হিন্দুকুশ অঞ্চলে, যা অত্যন্ত সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চলের অন্তর্গত।

    আফগানিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণতা

    আফগানিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণতা এর অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ এটি রয়েছে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে। এছাড়া, একটি প্রধান ফল্ট লাইন দেশের বিভিন্ন অংশ দিয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে হেরাত অঞ্চলও রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (UNOCHA) জানিয়েছে, আফগানিস্তান এখনও ভূমিকম্প, ভূমিধস এবং বন্যা-সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার কম্পন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে, বিশেষ করে সেইসব সম্প্রদায়ের জন্য যারা বহু বছরের সংঘাত ও সীমিত উন্নয়নের কারণে ইতিমধ্যেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

     

  • Constitution Amendment Bill: সংবিধান সংশোধনী বিলে নয়া ডিলিমিটেশনের প্রস্তাব

    Constitution Amendment Bill: সংবিধান সংশোধনী বিলে নয়া ডিলিমিটেশনের প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য বিধানসভাগুলির আকার ও গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সংবিধান (একশত একত্রিশতম সংশোধনী) বিল, ২০২৬। এতে ফের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (delimitation) প্রক্রিয়া (Fresh Delimitation) শুরু করা এবং ১৯৭৬ সাল থেকে কার্যকর থাকা জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের ওপর দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে (Constitution Amendment Bill)। এই বিলটি সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। অধিবেশন শুরু হবে ১৬ এপ্রিল থেকে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলির ফলে রাজ্য বিধানসভাগুলির মোট আসনসংখ্যা জনসংখ্যার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে বদলাবে, রাজ্যের অভ্যন্তরে নির্বাচনী এলাকার সীমানাও নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।

    ডিলিমিটেশন কমিশনকে দায়িত্ব (Constitution Amendment Bill)

    জানা গিয়েছে, এই বিলটি সংবিধানের ১৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব দেয়, যা রাজ্য বিধানসভার গঠন নিয়ন্ত্রণ করে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংসদ নির্ধারিত একটি জনগণনার ভিত্তিতে বিধানসভার আসনসংখ্যা পুনর্নির্ধারণ এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা ফের আঁকার ব্যবস্থা করা হবে। এভাবে ১৯৭৬ সাল থেকে চালু থাকা পুনর্বিন্যাসের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে। বিলটি ১৭০ অনুচ্ছেদের তৃতীয় শর্তটি বাতিল করার প্রস্তাব দেয়, যা ২০২৬ সালের জনগণনার পর পর্যন্ত সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছিল (Constitution Amendment Bill)। এই সংশোধনীর মাধ্যমে আগে যেখানে সংসদ সীমানা নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ ঠিক করত, সেখানে এখন সরাসরি একটি ডিলিমিটেশন কমিশনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে। ১৭০(২) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় ‘জনসংখ্যা’ বলতে সংসদ যে জনগণনাকে গ্রহণ করবে, সেই জনগণনার তথ্য বোঝাবে (Fresh Delimitation)।

    এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য

    জানা গিয়েছে, বিলটি ৩৩৪এ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করে রাজ্য বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর করবে। এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে তখনই, যখন সর্বশেষ প্রকাশিত জনগণনার ভিত্তিতে নতুন করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, সর্বশেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে (Constitution Amendment Bill)। সংরক্ষিত আসনগুলিকে পরবর্তী সীমানা পুনর্নির্ধারণে রাজ্যের মধ্যে ঘুরিয়ে (rotation) দেওয়া হবে। এই সংরক্ষণ ২০২৩ সালের সংবিধান (১০৬তম সংশোধনী) আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, যদি না সংসদ আইন করে এর মেয়াদ বাড়ায়। বিলটিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু রাজ্যে যাতে উপজাতি প্রতিনিধিত্ব কমে না যায়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ৩৩২ অনুচ্ছেদের সংশোধনের মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডে উপজাতিদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে (Constitution Amendment Bill)।

    তফশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসন

    এছাড়া নির্ধারিত হয়েছে যে, তফশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা বর্তমান অনুপাতের নীচে নামবে না (Fresh Delimitation)। এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বিল, ২০২৬ অনুযায়ী। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার একটি সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশন গঠন করবে। এই কমিশনের প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতি। থাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (অথবা নির্বাচন কমিশনের মনোনীত কোনও কমিশনার) এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার। প্রত্যেক রাজ্যে ১০ জন সহযোগী সদস্য থাকবেন। এঁদের মধ্যে ৫ জন লোকসভার সদস্য এবং ৫ জন রাজ্যের বিধায়ক। তাঁরা কমিশনকে সাহায্য করতে পারবেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ভোট দিতে পারবেন না (Constitution Amendment Bill)।

    আসুন, জেনে নেওয়া যাক কমিশনের কাজটি ঠিক কী। কমিশন প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লোকসভার আসন নির্ধারণ করবে, রাজ্য বিধানসভার মোট আসনসংখ্যা ঠিক করবে, সংসদীয় ও বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করবে, তফশিলি জাতি, উপজাতি এবং মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন চিহ্নিত করবে। খসড়া প্রস্তাব জনমত ও আপত্তির জন্য প্রকাশ করা হবে। পরে চূড়ান্ত হলে তা ভারতের গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং আইনের শক্তি পাবে। তখন আর একে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না (Fresh Delimitation)।

    নতুন সীমানাগুলি কমিশনের চূড়ান্ত নির্দেশের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কার্যকর হবে (Constitution Amendment Bill)।

     

  • TCS Nashik: নাসিকে টিসিএসে এইচআর এজিএম গ্রেফতার, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ৭৮টি ইমেল ও চ্যাট

    TCS Nashik: নাসিকে টিসিএসে এইচআর এজিএম গ্রেফতার, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ৭৮টি ইমেল ও চ্যাট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস-এর বিপিও ইউনিটে এক বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আটজন মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থা, মানসিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ সামনে আনায় পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ইতিমধ্যে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং মোট সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থার এক সিনিয়র এইচআর ম্যানেজার অশ্বিনী, যিনি পস (Prevention of Sexual Harassment) কমিটির সদস্যও ছিলেন। ফলে সংস্থার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

    অভিযোগের মূল দিক

    অভিযোগকারী কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের উপর মানসিক ও যৌন নির্যাতন চলছিল। বারবার অভিযোগ জানানোর পরও এইচআর বিভাগ নাকি কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি, ফলে নির্যাতন অব্যাহত ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে চলা ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৯টি এফআইআর খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ চাপা দেওয়া বা ভুলভাবে পরিচালনার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

    ধর্মীয় চাপের অভিযোগ

    মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরীশ মহাজন দাবি করেছেন, ভুক্তভোগীদের নামাজ পড়তে বাধ্য করা, গরুর মাংস খেতে চাপ দেওয়া এবং ধর্মান্তরের চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পরে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার একটি বড় চক্র থাকতে পারে।

    ৭৮টি ইমেল ও চ্যাট তদন্তের কেন্দ্রে

    সরকারি কৌঁসুলি কিরণ বেন্ধভারের বক্তব্য অনুযায়ী, সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইমেল আদান-প্রদান এখন তদন্তের মূল বিষয়। পুলিশ ইতিমধ্যে ৭৮টি ইমেল ও চ্যাট রেকর্ড জব্দ করেছে। এছাড়া অভিযুক্তদের ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। অফিসের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের তথ্যও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা বা চাপা দেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আন্ডারকভার অপারেশন

    তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গোপন অভিযান চালায়। মহিলা কনস্টেবলদের হাউসকিপিং স্টাফ সেজে অফিসে রাখা হয়। এই অভিযানে হেনস্থা ও ধর্মীয় চাপের প্রমাণ মেলে বলে দাবি তদন্তকারীদের। অভিযুক্তদের মধ্যে ড্যানিশ শেখ নামে এক কর্মীর বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা, ধর্ষণ এবং ধর্মীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৌসিফ আত্তারের ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া ছবির ভিত্তিতে আরও অভিযোগ সামনে আসে। টিসিএস (Tata Consultancy Services) জানিয়েছে, সংস্থা “যেকোনও ধরনের হেনস্থা বা জোরজবরদস্তির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি” মেনে চলে। সমস্ত অভিযুক্ত কর্মীকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছে।

  • PM Modi: ‘‘বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়’’ ভোটের আগে বুথকর্মীদের ভোকাল টনিক মোদির

    PM Modi: ‘‘বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়’’ ভোটের আগে বুথকর্মীদের ভোকাল টনিক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুথ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, আর গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়।’মেরা বুথ, সবসে মজবুত’ কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বুথের কর্মীদের এই কথাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুথকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রায় ১ ঘণ্টা কথা বলেন মোদি (PM Modi)। কর্মীদের পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান তিনি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বাংলা সফরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

    বুথে বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে

    হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরেই বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগে বুথস্তরে আলাদা করে নজর বিজেপির। আগের ভোটগুলি দেখলেও দেখা যাবে বরাবরই নির্বাচনের আগে বুথস্তরে সবথেকে বেশি জোর দিয়েছে পদ্ম শিবির। এবারও তার অন্যথা হল না। এবার বাংলার বুথ কর্মীদের সঙ্গে কথা বললেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলছেন, বুথে বুথে গিয়ে মানুষকে বোঝান। যেখানে যেখানে বিজেপির সরকার আছে সেখানে কোনও সিন্ডিকেট রাজ নেই। কর্মীদের এই বার্তাও দেন মোদি। বুথ স্তরে কর্মীদের উদ্দেশ্যে মোদির সাফ কথা, বাংলায় ভয়ের পরিবেশ রয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা থেকে দুর্নীতি যত খারাপ জিনিস হয় সব বাংলায় চরম সীমায় রয়েছে। সব এতে অতিষ্ট। মহিলা ও যুবদের মধ্যে প্রভাব সর্বাধিক। তাঁদের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনারা তৃণমূল স্তরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের এরকমই ক্ষোভ দেখতে পান। মানুষকে বোঝাতে হবে নির্মম সরকার থাকলে কোনও উন্নয়ন হবে না। বুথে বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে।

    বাংলার সঙ্গে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক

    এদিন মোদি জানান, বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর কণ্ঠে ছিল আবেগ, আর সেই আবেগের মধ্যেই ছিল বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক বাংলার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে তিনি মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত শক্তি, উৎসাহ এবং পরিবর্তনের ইচ্ছা অনুভব করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই শক্তির ভিত্তি হল বুথ স্তরের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং মানুষের অটুট বিশ্বাস।’মেরা বুথ, সবসে মজবুত’ শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, বরং গণতন্ত্রকে তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী করার এক বাস্তব আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেন মোদি।

    সাধারণ মানুষ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের চাপে ভুগছেন

    কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, শ্রমিকরা শোষণের শিকার হচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের চাপে ভুগছেন। তিনি এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের যেসব রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে সেখানে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। বাংলার মানুষও সেই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। সেই শক্তি বাংলার মানুষের মধ্যে রয়েছে। যুব সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলার বহু যুবক আজ নিজের রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অত্যন্ত কষ্টের। তিনি আশ্বাস দেন, এমন এক পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা হবে যেখানে যুবকদের স্বপ্ন পূরণ হবে নিজের মাটিতেই।

    ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’

    ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ২০২১-এর ‘ভুল’ করতে চাইছে না বিজেপি। ‘আমার বুথ, সবচেয়ে মজবুত’ ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’ কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। বুথস্তরে শক্তির মূল্যায়ন করা হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডল ধরে। বুথে বুথে শক্তি বাড়ানোর যে ব্লু প্রিন্ট বিজেপি তৈরি করেছে, তাতে কমিটিতে কারা থাকবেন, কত জন থাকবেন এবং কার কী কাজ হবে তা-ও সবিস্তার বলা রয়েছে। ১১ জনের বুথ কমিটি গড়ার পাশাপাশি নির্দেশ প্রতিটি কমিটিতে ২০ জন সদস্য থাকা চাই। যাঁরা ওই বুথের ভোটার তালিকার এক একটি পাতার দায়িত্বে থাকবেন। তাঁদের বলা হবে পৃষ্ঠা প্রমুখ। এঁরা ওই পাতায় নাম থাকা পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন ও দলের হয়ে কথা বলবেন। গড়ে পাঁচটি করে বুথ নিয়ে একটি করে শক্তিকেন্দ্র বানিয়ে তারও এক জন প্রধান থাকবেন। সকলে মিলে এলাকার ভোটারদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন। কোনও বুথ এলাকায় তফসিলি জাতি, জনজাতি সম্প্রদায়ের বসবাস হলে তাঁদেরও বুথ কমিটিতে রাখতে হবে।

    বিধানসভায় জেতার অঙ্ক

    প্রধানমন্ত্রী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বুথ স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে হবে, উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে ছিল কৌশল, দিকনির্দেশনা এবং এক প্রবল অনুপ্রেরণা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সাধারণ মানুষের কাছে কোন কোন বিষয় নিয়ে যাবেন বুথ স্তরের কর্মীরা তাও একবার পরিষ্কার করে দিলেন স্বয়ং মোদি। কারণ, বুথে বুথে এগিয়ে থাকতে পারলেই সংশ্লিষ্ট বিধানসভায় জেতার অঙ্কটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

     

  • Mayawati: ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীর

    Mayawati: ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার জন্য প্রস্তাবিত ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল (Womens Reservation Bill) সমর্থন করেছেন বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতী (Mayawati)। এই বিলটি পাশ করাতে কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ। এই অধিবেশনেই মহিলাদের সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা ও পাস করা হবে। এই প্রেক্ষিতে বহুজন সমাজ পার্টি সুপ্রিমোর ভিন্ন সুরে যারপরনাই খুশি বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। মায়াবতী বলেন, “এটি অন্তত মহিলাদের প্রাপ্য প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার একটি সূচনা।
    সংখ্যাটা হয়তো কম, কিন্তু এটি একটি শুরু, এবং আমরা একে স্বাগত জানাই। ৫০ না হলেও, ৩৩ শতাংশই চলবে।”

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য (Mayawati)

    উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দল বিএসপি আগে থেকেই মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্য কোনও দল এতে রাজি হয়নি, ভবিষ্যতেও সম্মত হবে বলে মনে হয় না। আমরা শ্রদ্ধেয় বিআর আম্বেদকরকেও ধন্যবাদ জানাই, যিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করেছিলেন।” তিনি জানান, ২০২৩ সালে প্রথম পাশ হওয়া আইন বাস্তবায়িত হতে দেরি হলেও তার দল একে স্বাগত জানায় এবং ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যদিও দেরি হয়েছে, তবুও আমরা একে স্বাগত জানাই। যদি প্রকৃতপক্ষে শোষিত ও বঞ্চিত মহিলাদের—বিশেষত এসসি, এসটি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ দেওয়া হয়, তবে তা যথাযথ ও ঐতিহাসিক (Mayawati) হবে।”

    নারী ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা

    মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মায়াবতী বলেন, “মহিলাদের অধিকার নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও সুস্পষ্ট নীতি ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। আগামীকাল থেকে সংসদের তিন দিনের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও সঠিক নীতি ও ইচ্ছেশক্তির অভাবে তা যথাযথভাবে এগোয়নি। অন্যান্য (Womens Reservation Bill) বঞ্চিত গোষ্ঠীর মতো মহিলারাও এখনও বিভিন্ন অপরাধ ও হিংসার শিকার হচ্ছেন (Mayawati)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা মায়াবতীর

    কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর দলটির নীতিতে জাতিভেদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং এর ফলে মহিলাদের সংরক্ষণ বিলম্বিত হয়েছে।” মায়াবতী বলেন, “তৎকালীন কংগ্রেস সরকার জাতিভেদের কারণে এটি গ্রহণ করেনি এবং পরে ধাপে ধাপে তা পাশ করে। ফলে আম্বেদকরকে দেশের প্রথম আইনমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। কারণ ওবিসিদের জন্য সংরক্ষণ এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ও উন্নতির জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” প্রসঙ্গত, এর আগে মঙ্গলবার, সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত হবে বলে সূত্রের খবর। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি আসন রয়েছে। সরকার ১৬, ১৭ এবং ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে চায়, যাতে ২০২৯ থেকে লোকসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যায় (Mayawati)। প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে সব রাজ্যের আসন সংখ্যা বাড়বে। এই বিশেষ অধিবেশনে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩ সংশোধন এবং প্রস্তাবিত (Womens Reservation Bill) ডিলিমিটেশন বিলও নিয়ে আলোচনা হবে।

     

  • Poila Baisakh: হারিয়ে যাচ্ছে হালখাতা! বড়দের প্রণাম-মিষ্টিমুখ-মাছভাত ছেড়ে দিনের শেষে রেস্তরাঁ, নবরূপে নববর্ষ

    Poila Baisakh: হারিয়ে যাচ্ছে হালখাতা! বড়দের প্রণাম-মিষ্টিমুখ-মাছভাত ছেড়ে দিনের শেষে রেস্তরাঁ, নবরূপে নববর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা নববর্ষের (Poila Baisakh) সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা প্রাচীন ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক রীতি ‘হালখাতা’। বাংলার ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রথম দিনটাকে হালখাতা হিসেবে পালন করে থাকেন। তার সঙ্গে দোকানে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো ও ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এই হালখাতা। সময়ের স্রোতে এখন অনেকটাই ম্লান এই উৎসব। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে কাগজের খাতার প্রয়োজনীয়তা কমেছে। ডিজিটালের ছোঁয়ায় পয়লা বৈশাখের সেই হালখাতার উৎসব ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার পথে। এখন হালখাতা উৎসব যেন পরিণত হয়েছে নিয়ম রক্ষার উৎসবে। দোকানগুলোতে আর নেই সেই আলোকসজ্জা। হালখাতার কার্ড ছাপানোয় নেই সেই তড়িঘড়ি।

    ডিজিটালে বাঁধা জীবন

    দোকান সাজিয়ে খরিদ্দারকে আপ্যায়ন করার দিন শেষ। ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন শপিং, অনলাইনে পেমেন্ট করার ধাক্কায় হালখাতার পলেস্তারা খসছে দিনকে দিন। পুরনো বছরের বকেয়া শোধ করাতে আর খে্রোর খাতা খোলার দরকার নেই, ধারকর্যের হিসেবটা মনে করাতে এসে গিয়েছে ‘স্মার্ট পেমেন্ট রিমাইন্ডার’। এখনকার সময়ের ডিজিটাল হালখাতা বলা যেতে পারে। এআই অ্যাপ স্বয়ংক্রিয় ভাবে গ্রাহকদের ধার শোধ করার বার্তা পাঠায় হোয়াট্‌সঅ্যাপ বা এসএমএসে। পয়লা বৈশাখে গণেশ পুজোর পর প্রথম টাকা নেওয়া এখন ই-ওয়ালেটে হয়। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন সরাসরি ব্যাঙ্কে জমা হয় এবং ডিজিটাল লেজারে তার হিসেব সংরক্ষিত হয়ে থাকে। ভুল হওয়ার বা গড়মিলের কোনও জায়গাই নেই।

    বাড়িতে নয়, স্বাদ বদল রেস্তরাঁয়

    একটা সময় পয়লা বৈশাখ মানেই ছিল দিনের শুরুতে নতুন জামা পরে পরিবারের বড়দের প্রণাম করা, দুপুরে বাড়িতে ঘরোয়া ভাবেই খাওয়াদাওয়ার বিশেষ আয়োজন আর সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজনের জমায়েত। এখন বাঙালির কাছে পয়লা বৈশাখ মানে সারাদিনের কাজকর্ম সেরে কোনও এক বাঙালি রেস্তরাঁয় খেতে যাওয়া। বড়দের প্রণাম করাটাও এখন ফোনে ফোনেই সেরে ফেলা হয়। তাই বাংলা নববর্ষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে হালখাতা। তবে আগের থেকে এখনকার দিনে হালখাতার উদযাপন অনেকটাই কমে এসেছে। আগে অনেক দোকানী হালখাতা উপলক্ষ্যে রীতিমত নিমন্ত্রণ পত্র ছাপিয়ে উত্‍সবের আয়োজন করতেন। এখন বিভিন্ন অ্যাপ ও অনলাইন শপিং-এর কারণে হালখাতার সেই আগেকার দিনের জৌলুস কমে এসেছে। কম্পিউটারেই ব্যবসার হিসেব রাখেন বেশিরভাগ দোকানীরা। তাই খাতার ব্যবহারও কমে গিয়েছে অনেকটাই।

    ধর্মীয় রীতি এখনও এক

    সময়ের চাকায় বদল এলেও উৎসব আছে। রয়েছে মঙ্গলময় ভাবনা। নববর্ষের প্রথম দিনে দোকান পরিষ্কার করে, ফুল দিয়ে সাজিয়ে, লক্ষ্মী গণশের পুজো করা হয়ে থাকে। তার সঙ্গে থাকে ক্রেতাদের জন্য সামান্য হলেও মিষ্টিমুখের আয়োজন ও একটা বাংলা ক্যালেন্ডার। নতুন বছরে নতুন যে খাতায় ব্যবসার হিসেব রাখা হবে, সেই খাতাটি কোনও মন্দিরে নিয়ে গিয়ে পুজো করিয়ে আনার প্রথা আছে। খাতার প্রথম পাতায় সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ব এঁকে দেন পুরোহিতরা। কালীঘাট মন্দিরে এদিন ভিড় উপচে পড়ে ব্যবসায়ীদের। হিন্দুধর্মে স্বস্তিক চিহ্ন বিশেষ মঙ্গল বার্তা বহন করে। তাই যে কোনও পুজো বা শুভ অনুষ্ঠানে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক এঁকে দেওয়া হয়।

    পাড়ার মোড়ে  প্রভাতফেরি কোথায়

    ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ২০২৬ সাল। আজ পয়লা বৈশাখ। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের শ্রেষ্ঠ উৎসব। তবে উৎসবের মেজাজ এক থাকলেও, যান্ত্রিকতা আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে পালনের ধরন। ফিরে তাকালে দেখা যায়, বিশ শতকের শেষার্ধ বা একুশ শতকের শুরুর সেই সাবেকিয়ানা আর আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের বৈশাখের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আগেকার দিনে পয়লা বৈশাখ মানেই ছিল সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে নতুন জামা পরে গুরুজনদের প্রণাম করা। পাড়ার মোড়ে মোড়ে তখন চলত প্রভাতফেরি। শান্তিনিকেতনী ঘরানায় গান-কবিতায় বরণ করে নেওয়া হতো নতুন বছরকে। বৈশাখের আগের মাস জুড়ে চলত ‘চৈত্র সেল’। আর পয়লা বৈশাখে গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র বসত মেলা। নাগরদোলা, মাটির পুতুল আর জিলিপির গন্ধে ম ম করত মেলার মাঠ।

    নববর্ষে সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ

    ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে চিত্রটা অনেকটাই আধুনিক। এখন আর নিমন্ত্রণ পত্রের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ডিজিটাল কার্ড’ পাঠাতেই মানুষ বেশি অভ্যস্ত। তবুও বাঙালির আবেগে খুব একটা ভাটা পড়েনি। কেনাকাটার ধরণ বদলেছে। চৈত্র সেলের ভিড় এখন অনেকটাই স্থানান্তরিত হয়েছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে।  এখন মানুষ সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিডিও কলে প্রবাসী পরিজনদের সাথে উৎসবে সামিল হয়। পাড়ার সেই জলসা আজ হয়তো কম দেখা যায়, কিন্তু তার জায়গা করে নিয়েছে বর্ণাঢ্য মেগা ইভেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ। রূপ বদলালেও নস্টালজিয়া রয়েছে। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো হলেও, নববর্ষের আলাদা গুরুত্ব আছে। বর্তমানে এই বিশেষ দিন উপলক্ষে সেজে ওঠে সমস্ত শপিং মল থেকে শহরের রাস্তাঘাট। সকলে রাগ-অভিমান, দুঃখ -কষ্ট ভুলে গা ভাসান উৎসবের আনন্দে।

     

  • Bengali New Year: বাংলা পঞ্জিকার প্রবর্তন করেছিলেন আকবর! কে ভুলিয়ে দিতে চাইছে ইতিহাস?

    Bengali New Year: বাংলা পঞ্জিকার প্রবর্তন করেছিলেন আকবর! কে ভুলিয়ে দিতে চাইছে ইতিহাস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই পয়লা বৈশাখ (Bengali New Year)। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এদিন থেকেই শুরু হয়েছে বঙ্গাব্দ (Shashanka Dynasty)। এক দলের মতে, বাংলা পঞ্জিকার প্রবর্তন করেছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর। রাজস্ব আদায় স্থানীয় ঋতুচক্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিতেই তিনি এটি করেছিলেন। বর্তমানে আমরা রয়েছি ১৪২৬ বঙ্গাব্দে। স্বাগত জানাতে চলেছি ১৪২৭কে। আর আকবরের শাসন কাল শুরু হয়েছিল ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে। যার অর্থ, মুঘল সম্রাট আকবরের রাজ্যাভিষেক হওয়ার অনেক আগেই চালু হয়ে গিয়েছিল বংলা পঞ্জিকা।

    বঙ্গাব্দের সূচনা (Bengali New Year)

    বঙ্গাব্দের সূচনা হয়েছিল ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে। তখন শাসক ছিলেন মহাসামন্ত, পরে গৌড়েশ্বর শশাঙ্কই বসেন রাজসিংহাসনে। অনুমান, তিনি ছিলেন মগধের পরবর্তী গুপ্তদের অধীনস্থ বা তাঁদের বংশধর। যাই হোক, পঞ্চম শতকের শেষে তিনি মগধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলার প্রথম ঐতিহাসিক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই গৌড় রাজ্যেরই রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ, যা আজকের মুর্শিদাবাদ। বাংলা পঞ্জিকার প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক উল্লেখ পাওয়া যায় বাঁকুড়া জেলার ডিহারগ্রাম ও সোনাতাপান গ্রামের কয়েকটি প্রাচীন টেরাকোটা শিবমন্দিরে, যা বহিরাগত আক্রমণের আগেকার সময়ের।

    বঙ্গাব্দ চালুর কৃতিত্ব আকবরের!

    সমালোচকদের একাংশ বঙ্গাব্দ চালুর কৃতিত্ব দিতে চান ষোড়শ শতকের আকবর বা ১৫–১৬শ শতকের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহকে (Shashanka Dynasty)। প্রশ্ন হল, একটা পুরো হাজার বছরকে কি এভাবে কর্পূরের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে দেওয়া যায়? তাদের যুক্তি, হিজরি (৬২২ খ্রিস্টাব্দ) চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তর করে কৃষি-রাজস্বের সুবিধা করা হয়েছিল। এসব করা হয়েছিল কিছু দেশীয় পঞ্জিকার সাহায্যে। প্রশ্ন হল, শশাঙ্কের ক্রেডিটকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হবে না?

    শশাঙ্কের চালু করা দেশীয় পঞ্জিকা

    এঁদের মতে, শশাঙ্কের চালু করা দেশীয় পঞ্জিকার ধারণাই অনেক বেশি স্বাভাবিক এবং সহজবোধ্য। অন্য একটি অংশের মতে, পূর্ব পাকিস্তানের সময় একটি ‘বাঙালি মুসলিম পরিচয়ে’র সঙ্গে মানানসই ক্যালেন্ডার খোঁজার প্রবণতা ছিল (Bengali New Year)। স্বাধীনতার পরেও বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হয়। এই প্রেক্ষিতে, একটি সম্পূর্ণ দেশীয়, ইসলাম-পূর্ব উৎসের বাংলা পঞ্জিকার ধারণা কিছু গোষ্ঠীর কাছে অস্বস্তিকর হতে পারে, এমন অভিমতও ব্যক্ত করেন অনেকে। এঁদের মতে, বাঙালি ও ভারতীয় সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বোঝা এবং ইতিহাসকে সঠিকভাবে জানার গুরুত্ব রয়েছে। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ইতিহাসকে বিকৃতি থেকে মুক্ত রাখা প্রয়োজন, এমন আহ্বানও করা হয়েছে এখানে। তাদের বক্তব্য, বাঙালি তার গৌরব বজায় রাখুক, তবে ইতিহাসের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে। শশাঙ্কের মতো একজন ঐতিহাসিক শাসকের অবদান জানলে গৌরবের অনুভূতি আরও দৃঢ় হতে পারে। শশাঙ্ক (Shashanka Dynasty) বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার ও অসমের কিছু অংশকে একত্রিত করেছিলেন (Bengali New Year)। এটি আঞ্চলিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

     

  • Vikram Misri’s US Visit: ভারত-আমেরিকা জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর মার্কিন সফরে নয়া দিক

    Vikram Misri’s US Visit: ভারত-আমেরিকা জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর মার্কিন সফরে নয়া দিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো আসতে পারেন ভারত সফরে। তিনদিনের আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী (Vikram Misri’s US Visit)। সেখানে বাণিজ্য এবং ‘কোয়াড’-সহ নানা বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তার পরই আমেরিকার বিদেশ সচিবের ভারত সফরের বিষয়টি গতি পেয়েছে। বিক্রমের আমেরিকা সফরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকগুলিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোরে। তিনি পরে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘বিক্রম মিস্রীকে স্বাগত জানাই। মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রুবিয়ো ভারত সফরে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন’।

    পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা

    বিক্রম মিস্রী-র (Vikram Misri) সাম্প্রতিক এই সফর (৮–১০ এপ্রিল) ভারত–মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক ও জ্বালানি সহযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট (Chris Wright)-এর সঙ্গে বৈঠকে উভয় দেশ অসামরিক পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অগ্রগতির মূল ভিত্তি হল ভারতের নতুন পরমাণু আইন, যা গত ডিসেম্বর মাসে পাস হয়েছে।

    শান্তি আইন (SHANTI) কী

    ভারতের পরমাণু শক্তি খাতে বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রবেশের পথ প্রশস্ত করেছে ‘সাসটেনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (SHANTI)’ আইন। এই আইনের প্রধান লক্ষ্য, স্বাধীনতার ১০০ বছর তথা ২০৪৭-এ পরমাণু বিদ্যুতের পরিমাণ ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ভারতের ‘শান্তি’ আইন ২০২৫-কে স্বাগত জানিয়েছে। বিলটি পাশ হওয়ার পরেই এটিকে ‘শক্তিশালী শক্তি নিরাপত্তা অংশীদারি’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা’র দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে আমেরিকা। কেন্দ্রের দাবি, এখন ৮.৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ২০৪৭-এ তা ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া, যাতে পেট্রল-ডিজ়েল আমদানির উপরে নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়, সে জন্যই পরমাণু বিদ্যুৎক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নি প্রয়োজন।

    পরমাণু খাতে বড় সংস্কার

    নতুন শান্তি আইন (SHANTI) ভারতের পরমাণু নীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এতদিন এই খাত পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এখন থেকে বেসরকারি সংস্থাগুলিও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। এই আইনের ফলে—
    বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। পরমাণু উৎপাদন ক্ষেত্রে মার্কিন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ সহজ হবে। পরমাণু শক্তি উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই আইনি সংস্কার ভারত–মার্কিন শক্তি সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

    ২০৪৭ লক্ষ্য: ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি

    ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে— আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর সফরে শুধু জ্বালানি নয়, আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে— বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) উপর জোড় দিয়েছে দুই দেশ। ইন্দো-প্যাসিফিক ও পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়।

    বাণিজ্য চুক্তি

    চলতি মাসের শেষেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছে এক উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল। লক্ষ্য, দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্য চুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এই খবর জানিয়েছেন। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক নীতিগুলি সফল করতে মার্কিন প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে তাঁর ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে। সার্জিও গর বলেন, “ভারত ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি হয়েছে। এই মাসেই ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে ওয়াশিংটনে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি

    বিদেশ মন্ত্রক একটি সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বিদেশ সচিবের ওয়াশিংটন ডিসি সফরের ফলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করার এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এই সফরে বিদেশ সচিব মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত এমন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসে।”

  • Ramakrishna 623: “শ্রীরামকৃষ্ণ—বঙ্কিম ছেলেটি কেমন? এখানে যদি আসতে না পারে, তুমি না হয় তারে সব বলবে—চৈতন্য হবে”

    Ramakrishna 623: “শ্রীরামকৃষ্ণ—বঙ্কিম ছেলেটি কেমন? এখানে যদি আসতে না পারে, তুমি না হয় তারে সব বলবে—চৈতন্য হবে”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

                          পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৭শে অক্টোবর

    শ্যামপুকুর বাটীতে নরেন্দ্র, মণি প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    অসুখ কেন? নরেন্দ্রের প্রতি সন্ন্যাসের উপদেশ

    ঠাকুর (Ramakrishna) শ্যামপুকুরের বাটীতে নরেন্দ্র প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। বেলা দশটা। আজ ২৭থে অক্টোবর, ১৮৮৫, মঙ্গলবার, আশ্বিন কৃষ্ণা চতুর্থী, ১২ই কার্তিক।

    ঠাকুর নরেন্দ্র, মণি প্রভৃতির সহিত কথা কহিতেছেন।

    নরেন্দ্র — ডাক্তার কাল কি করে গেল।

    একজন ভক্ত — সুতোয় মাছ গিঁথেছিল, ছিঁড়ে গেল।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — বঁড়শি বেঁধা আছে — মরে ভেসে উঠবে।

    নরেন্দ্র একটু বাহিরে গেলেন, আবার আসিবেন। ঠাকুর মণির সহিত পূর্ণ সম্বন্ধে কথা কহিতেছেন —

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita)— তোমায় বলছি — এ-সব জীবের শুনতে নাই — প্রকৃতিভাবে পুরুষকে (ঈশ্বরকে) আলিঙ্গন, চুম্বন করতে ইচ্ছা হয়।

    মণি — নানারকম খেলা — আপনার রোগ পর্যন্ত খেলার মধ্যে। এই রোগ হয়েছে বলে এখানে নূতন নূতন ভক্ত আসছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — ভূপতি বলে, রোগ না হলে শুধু বাড়িভাড়া করলে লোকে কি বলত — আচ্ছা, ডাক্তারের কি হল?

    মণি — এদিকে দাস্য মানা আছে —‘আমি দাস, তুমি প্রভু।’ আবার বলে — মানুষ-উপমা আনো কেন!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita) — দেখলে! আজ কি আর তুমি তার কাছে যাবে?

    মণি — খপর দিতে যদি হয়, তবে যাব।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—বঙ্কিম ছেলেটি কেমন? এখানে যদি আসতে না পারে, তুমি না হয় তারে সব বলবে—চৈতন্য হবে।

    আগে সংসারের গোছগাছ, না ঈশ্বর? কেশব ও নরেন্দ্রকে ইঙ্গিত

    নরেন্দ্র (Ramakrishna) আসিয়া কাছে বসিলেন। নরেন্দ্রের পিতার পরলোকপ্রাপ্তি হওয়াতে বড়ই ব্যতিব্যস্ত হইয়াছেন। মা ও ভাই এরা আছেন, তাহাদের ভরণপোষণ করিতে হইবে। নরেন্দ্র আইন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হইতেছেন। মধ্যে বিদ্যাসাগরের বউবাজারের স্কুলে কয়েক মাস শিক্ষকতা করিয়াছিলেন। বাটীর একটা ব্যবস্থা করিয়া দিয়া নিশ্চিন্ত হইবেন — এই চেষ্টা কেবল করিতেছেন।

    ঠাকুর সমস্তই অবগত আছেন — নরেন্দ্রকে একদৃষ্টে সস্নেহে দেখিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারকে) — আচ্ছা, কেশব সেনকে বললাম, — যদৃচ্ছালাভ। যে বড় ঘরের ছেলে, তার খাবার জন্য ভাবনা হয় না — সে মাসে মাসে মুসোহারা পায়। তবে নরেন্দ্রের অত উঁচু ঘর, তবু হয় না কেন? ভগবানে মন সব সমর্পণ করলে তিনি তো সব জোগাড় করে দিবেন!

    মাস্টার — আজ্ঞা হবে; এখনও তো সব সময় যায় নাই।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কিন্তু তীব্র বৈরাগ্য হলে ও-সব হিসাব থাকে না। ‘বাড়ির সব বন্দোবস্ত করে দিব, তারপরে সাধনা করব’ — তীব্র বৈরাগ্য হলে এরূপ মনে হয় না। (সহাস্যে) গোঁসাই লেকচার দিয়েছিল। তা বলে, দশ হাজার টাকা হলে ওই থেকে খাওয়া-দাওয়া এই সব হয় — তখন নিশ্চিন্ত হয়ে ঈশ্বরকে বেশ ডাকা যেতে পারে।

  • India: ভারতে ক্রমেই বাড়ছে ইউপিআইয়ের ব্যবহার, লেনদেনের পরিমাণ জানেন?

    India: ভারতে ক্রমেই বাড়ছে ইউপিআইয়ের ব্যবহার, লেনদেনের পরিমাণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের (India) ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় দেখা গেল একটি ট্রান্সফর্মেটিভ বছর। ২০২৫ সালে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের  (UPI) মাধ্যমে মোট ২২৮.৫ বিলিয়ন টাকা লেনদেন হয়েছে। এটি গত বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ডলাইনে’র একটি প্রতিবেদনে। জানা গিয়েছে, মোট লেনদেনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৯৯.৭৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা দৈনন্দিন লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউপিআইকে ভারতের প্রধান পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    ডিজিটাল পেমেন্টই ভরসা (India)

    ‘ওয়ার্ল্ডলাইনে’র বার্ষিক রিপোর্ট “ইন্ডিয়া ডিজিটাল পেমেন্টস রিপোর্ট-ইয়ার ২০২৫ ইন রিভিউ থেকে। প্রতিবেদনটিতে দেখা গিয়েছে, ভারত একটি মাইক্রো-ট্রানজ্যাকশন অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে, যেখানে ছোট অঙ্কের নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে—পাড়ার দোকান থেকে শুরু করে পরিবহণ ও দৈনন্দিন পরিষেবা পর্যন্ত, সব ক্ষেত্রেই। জানা গিয়েছে, ইউপিআই (UPI) লেনদেনের গড় মূল্য (ATS) কমে গিয়েছে, যা দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটায় এর ব্যবহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। মোট এটিএস ৯ শতাংশ কমে ১,৩১৪ টাকায় নেমেছে, আর ব্যবসায়ী পেমেন্টের এটিএস কমে হয়েছে ৫৯২ টাকা।

    ভারতের পেমেন্ট ব্যবস্থায় আধিপত্য

    ইউপিআই এখনও ভারতের পেমেন্ট ব্যবস্থায় আধিপত্য বজায় রেখেছে, যেখানে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি (P2P) এবং ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী (P2M) উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। P2M লেনদেন ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৩.৮২ বিলিয়নে পৌঁছেছে (India)। ব্যবসায়ীদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য পরিকাঠামোও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউপিআই কিউআর কোডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩১.৩৮ মিলিয়নে, এবং পিওএস টার্মিনালের সংখ্যা ১১.৪৮ মিলিয়নে পৌঁছেছে। যদিও দৈনন্দিন পেমেন্টে ইউপিআই প্রাধান্য পাচ্ছে, তবুও বড় অঙ্কের এবং অনলাইন কেনাকাটায় কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। ক্রেডিট কার্ড লেনদেন ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৬৯ বিলিয়নে পৌঁছেছে, আর ডেবিট কার্ড ব্যবহার কমেছে ২৩ শতাংশ, যা ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউপিআইতে স্থানান্তরের ইঙ্গিত দেয় (UPI)।

    ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ

    অনলাইন ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪.৫৩ ট্রিলিয়ন টাকা, যা ই-কমার্স এবং উচ্চমূল্যের কেনাকাটায় কার্ডের গুরুত্বকে আরও জোরদার করেছে। পুনরাবৃত্ত ডিজিটাল পেমেন্টও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ব্যবস্থায় ভারতের লেনদেন ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.০৫ বিলিয়নে পৌঁছেছে। এর মোট মূল্য ১৪.৮৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা আদতে নির্দেশ করে ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি (India)। এই প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা ফি, বিমা, ইএমআই এবং সাবস্ক্রিপশন পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যা “সেট অ্যান্ড ফরগেট” পেমেন্ট মডেলের উত্থান নির্দেশ করে। ওয়ার্ল্ডলাইন ইন্ডিয়ার সিইও রমেশ নরসিংহন বলেন, “ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এখন একটি নতুন পরিণত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ব্যাপকতার সঙ্গে কাঠামোগত উন্নয়ন ঘটছে। ইউপিআই, কার্ড এবং পুনরাবৃত্ত পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে স্পষ্ট ভূমিকা তৈরি হচ্ছে, যা দ্রুত সম্প্রসারিত পরিকাঠামোর দ্বারা সমর্থিত।”

LinkedIn
Share