Tag: news in bengali

news in bengali

  • Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই মধ্যে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযোগে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, তৎকালীন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের হওয়া এই অভিযোগে বিজেপি নেতার দাবি, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের নামে ওষুধ কেনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধের উৎস, ব্যবহার এবং কেন সেগুলি মাটির নীচে চাপা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

    মাটি খুঁড়ে ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ জুন ডায়মন্ড হারবারের সরিষা-হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন। পরে পারুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেও, অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও পৃথক মামলা রুজু করা হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, ওই উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির সঙ্গে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।

    কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?

    নতুন অভিযোগে প্রথমেই নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার, জাহাঙ্গির খান, শামিম আহমেদ মোল্লা, গৌতম অধিকারী, মেহবুব গায়েন-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে। এছাড়াও তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কী কী অভিযোগ তুলেছে বিজেপি?

    অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগ, সরকারি ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য শিবিরের নামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ খোলা বাজার থেকে কেনা হয়েছিল কি না, সেই প্রক্রিয়ায় কোনও আর্থিক অনিয়ম বা তছরুপ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ওষুধ কী কারণে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র ওষুধ সংরক্ষণের গাফিলতি নয়, বরং এর সঙ্গে ওষুধ পাচার বা অন্য কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন

    বিজেপি নেতার দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে কিছু ওষুধের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, আবার কিছু ওষুধের মেয়াদ তখনও বাকি ছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও দেওয়া হয়েছিল কি না। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া কিছু ওষুধের বাজারদর এবং সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP)-এর মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান ছিল। তাঁর অভিযোগ, যে ওষুধের প্রকৃত বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম, তার এমআরপি অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। এ ধরনের ওষুধ স্থানীয় সংস্থার তৈরি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন।

    বিজেপি নেতার দাবি

    অভিজিৎ দাস ববির বক্তব্য, কারা এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নীচে চাপা দিয়েছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে কোটি কোটি টাকার ওষুধ গোপনে মাটির নীচে চাপা দিতে হল? তাঁর মতে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং তাদের ভূমিকা কী, তা তদন্ত করলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

    এখনও দলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি

    এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পুলিশের তরফেও নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হবে, সে সম্পর্কেও এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত এগোলে এই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে (New Delhi Terror Module) পাকিস্তান-সমর্থিত দুই পৃথক জঙ্গি মডিউলের হদিশ পেল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির নির্দেশে কাজ করছিল। একটি মডিউলের লক্ষ্য ছিল দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা বা পুলিশ প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো, অন্যটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে। ধৃতদের জেরা করে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং ভারতে তাদের সহযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

    আইএসআই-এর প্রচ্ছন্ন মদতে চলত কাজ

    দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রমোদ সিং কুশওয়াহ জানান, প্রথম মডিউলটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হ্যান্ডলার রানা হুনাইনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। রানা হুনাইন শাহজাদ ভাট্টির ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও দাবি পুলিশের। এই মডিউলকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা পুলিশ ভবনে পেট্রোল বোমা হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় বিজয় ঘাট এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি পেট্রোল বোমা এবং ২,০০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ধৃতরা হল উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরনগরের বাসিন্দা ২৪ বছরের দানিশ ওরফে চাঁদ মিয়া এবং ২০ বছরের সালমান। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দানিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রানা হুনাইনের সংস্পর্শে আসে। তাকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পুলিশ প্রতিষ্ঠানের রেকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই কাজ সম্পন্ন করলে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। দানিশের বন্ধু সালমানকে হামলার ভিডিও ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকেও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় মডিউলটি সীমান্ত (Pak Based Terror Module) পেরিয়ে পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে পাঠানো অস্ত্র ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। এই চক্রটি আইএসআই-এর আরেক হ্যান্ডলার হাসান গুজ্জরের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। গুজ্জরও শাহজাদ ভাট্টির সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় কালিন্দি কুঞ্জ এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম তায়্যাব (২৭), জুবায়ের খান (২৪), আলি ফজল (২৬) এবং মালকিয়াত সিং (৩৬)। তদন্তে জানা গিয়েছে, তায়্যাবও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হাসান গুজ্জরের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। গুজ্জরের নির্দেশে জুবায়ের খান অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ করে এবং পরে তা আলি ফজলের হাতে তুলে দেয়। অভিযোগ, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে ক্রেতাদের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া পাকিস্তান থেকে পাঠানো অর্থ ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বারুইপুর নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক শুভেন্দুর

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর রওনা হওয়ার আগে মঙ্গলবার সকালে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এখনও কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আগেই পৌঁছল বিজেপির প্রতিনিধি দল

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আগের সরকার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিনি। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’’ একইসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তদন্তে গতি, গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিনিধিরাও গেলেন

    মঙ্গলবার সকালে বিজেপির প্রতিনিধি দল বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক নেতা। এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বচসা বাধে। পরে স্থানীয় সাংসদ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    রবিবার থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর

    গত রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বারুইপুরে। দফায় দফায় বিক্ষোভে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই কিশোরীর খুনের সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুও হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও এসআইটি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    সোমবারই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, “নির্যাতিতার বাবা যা যা চেয়েছেন, সবটাই করা হবে। পরিবার আমাদের উপর আস্থা রেখেছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” মঙ্গলবারের সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করতে পারেন বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

  • Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    সুশান্ত দাস

    ভবিষ্যতের যুদ্ধ যে ড্রোনকেন্দ্রিক হতে চলেছে, সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার সেনার বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন অপারেশনকে আরও শক্তিশালী করতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ (Baaz Battalions)। এই নতুন ইউনিটের মূল কাজ হবে দীর্ঘক্ষণ আকাশপথে নজরদারি, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ, লইটারিং মিউনিশন পরিচালনা এবং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনা (Indian Army Drone Warfare)। সদ্যপ্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। অপারেশন সিঁদুর-এর অভিজ্ঞতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘর্ষ বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সেনা সূত্রের দাবি। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শুধু স্থলসেনাই নয়, আকাশে থাকা মানববিহীন ড্রোনও যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

    কেন আলাদা ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’?

    এতদিন ভারতীয় সেনার বিভিন্ন ইনফ্যান্ট্রি, আর্টিলারি বা অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে ছোট ড্রোন ডিটাচমেন্ট যুক্ত থাকত। তাদের প্রধান কাজ ছিল নজরদারি, শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আর্টিলারিকে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, ড্রোনের ব্যবহার এখন অনেক বেশি বিস্তৃত।

    বর্তমানে ড্রোনের মাধ্যমে—

    • ● শত্রুপক্ষের গভীরে নজরদারি চালানো যায়।
    • ● ট্যাঙ্ক, বাঙ্কার ও আর্টিলারি ধ্বংসে নির্ভুল হামলা চালানো সম্ভব।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন বা কামিকাজে (সুইসাইড ড্রোন) হিসেবে সরাসরি আঘাত হানা যায়।
    • ● একসঙ্গে বহু ড্রোন ব্যবহার করে সোয়ার্ম অ্যাটাক (Swarm Attack) চালানো যায়।
    • ● হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন (Battle Damage Assessment) করা সম্ভব।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে শত্রুর যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত ও ব্যাহত করা যায়।

    এই বহুমুখী দায়িত্ব পালনের জন্যই শুধুমাত্র ড্রোন অপারেশনের উদ্দেশ্যে পৃথক, বিশেষ প্রশিক্ষিত এবং স্বাধীন ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

    কী কাজ করবে বাজ ব্যাটালিয়ন?

    সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই কাজ করবে।

    এই ইউনিটগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে—

    • ● দীর্ঘমেয়াদি ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স ও রিকনেস্যান্স (ISR) পরিচালনা।
    • ● দূরপাল্লার আকাশ নজরদারি।
    • ● নির্ভুল ড্রোন হামলা।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন পরিচালনা।
    • ● আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয়।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযান।
    • ● আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—উভয় ধরনের অভিযানে পদাতিক বাহিনীকে সহায়তা।

    প্রতিটি ব্যাটালিয়নে এক ধরনের নয়, বরং একাধিক শ্রেণির মানববিহীন আকাশযান (UAV) মোতায়েন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ‘অশ্বিনী’ প্রকল্পের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

    অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সেনার অশ্বিনী (Ashini) প্রকল্প থাকতেই আবার নতুন ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’-এর প্রয়োজন কেন? আসলে দুটি উদ্যোগের উদ্দেশ্য এক নয়। অশ্বিনী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের কাছে ছোট আকারের ট্যাকটিক্যাল ড্রোন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলি মূলত সীমিত দূরত্বে নজরদারি, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়।

    অন্যদিকে, বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বিশেষায়িত ড্রোন যুদ্ধ ইউনিট। এগুলির কাজ শুধুমাত্র নজরদারিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দীর্ঘপাল্লার অপারেশন, নির্ভুল হামলা, লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহার এবং বৃহৎ পরিসরে ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনাই হবে মূল লক্ষ্য। সহজভাবে বললে, অশ্বিনী যেখানে সামনের সারির সেনাদের হাতে ‘চোখ’ তুলে দেয়, সেখানে Baaz Battalions ভারতীয় সেনার পূর্ণাঙ্গ ড্রোন যুদ্ধক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতি

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিন্দুর-এর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘর্ষের সাম্প্রতিক প্রবণতা ভারতীয় সেনাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন আর কেবল সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের অন্যতম নির্ণায়ক অস্ত্র। সেই কারণেই ড্রোনকে শুধুমাত্র নজরদারির মাধ্যম হিসেবে না দেখে, গোয়েন্দা অভিযান, নির্ভুল আঘাত, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সমন্বিত যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসছে ভারতীয় সেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গঠন সেই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক রূপান্তরেরই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রবাদী সরকার হলে রাষ্ট্রনায়করা সম্মান পায়। তাদের বিচারধারা দর্শন অনুযায়ী সরকার চালিত হয়। কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিমত প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মিলন মেলায় সোমবার সাড়ম্বরে পালিত হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (PM Modi on Shyama Prasad) জন্মজয়ন্তী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে আজ তাঁকে স্মরণ করছে গোটা দেশ। দেশের চারদিকে যে বিচারধারা ছড়িয়ে পড়েছে, তার বীজকে আজ স্মরণ করছে দেশ।”

    বাংলায় শ্যামপ্রসাদের জন্মদিন পালন

    বিজেপির প্রাণপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। অথচ তাঁর রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেই এতদিন ধুমধাম করে বিজেপি শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন পালন করতে পারেনি বলে অভিযোগ। বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বিজেপির উদ্যোগে সরকারি ও দলগত ভাবে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মদিবস উদযাপন ছিল নজরকাড়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সশরীর এ দিন হাজির ছিলেন কলকাতায়। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতা দখলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন এ রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি বসবে। একই সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন ৬ জুলাইকে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করেন তিনি। তার জন্য সোমবার কলকাতায় এসে বাং‍লার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন শাহ। ইএম বাইপাসের ধারে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলে‍ন, ‘এ রাজ্যে বিজেপির সরকার তৈরির পরে আমি শুভেন্দুদাকে ফোন করে বলেছিলাম, শ্যামাপ্রসাদের একটি মূর্তি বানানোর জন্য এবং তাঁর জন্মদিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন।’

    বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি

    সোমবারই ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘৬ জুলাই জাতীয়তাবাদ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে বিশ্বাসী কোটি কোটি দেশবাসীর কাছে বিশেষ একটি দিন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল পাণ্ডিত্য, জনসেবা এবং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের এক অসাধারণ মিশ্রণ। আধুনিক ভারতের খুব কম নেতার মধ্যেই এতগুলি গুণ একসঙ্গে দেখা যায়।’ প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, ‘শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ায় তাঁর যে দূরদর্শী ভাবনা ছিল, তা আজও আমাদের নতুন উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। শ্রেষ্ঠ ভারতের যে স্বপ্ন শ্যামাপ্রসাদ দেখেছিলেন, আজ আমাদের কাঁধে তা পূরণ করার দায়িত্ব। বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু উনি জনমত তৈরি করেন, আন্দোলন করেন। পশ্চিমবঙ্গের পবিত্র ভূমি থেকে জাতীয়তাবাদের যে তুফান গোটা বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি, সেই বিস্মৃত অধ্যায় আজ সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।’ মোদির কথায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন একটি জন আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছে। ভারতে এক দার্শনিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। জনসঙ্ঘ যে সময় তৈরি হয়, সেই সময় চারিদিকে কংগ্রেসের জয়জয়কার জনপ্রিয়তা ছিল। ভিন্ন ভাবধারার কোনও জায়গা ছিল না। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেই প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করেই সংগঠন তৈরি করেছেন।

    ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিবেদিত

    সমাজমাধ্যমে ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনে জ্ঞানচর্চা, সাহস এবং জাতির সেবার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের সংকল্প ছিল। তিনি ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।’’ প্রয়াত জনসঙ্ঘ-প্রতিষ্ঠাতার অবদান সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত ছিল জানিয়ে মোদি লিখেছেন, ‘‘তিনি (শ্যামাপ্রসাদ) ছিলেন একজন অসাধারণ চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ, যিনি উদ্ভাবনমুখী ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিল্পে স্বনির্ভরতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্র এবং তাঁর সম্পর্কিত জীবিকা যেন সমৃদ্ধ হয়, তা নিশ্চিত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর মানবিক প্রচেষ্টা সঙ্কটাপন্ন মানুষের প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতির প্রতিফলন। সর্বোপরি, ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার আজও অনুপ্রেরণার এক চিরস্থায়ী উৎস হয়ে রয়েছে। আমরা যখন একটি বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছি, তাঁর দূরদর্শিতা আমাদের পথকে আলোকিত করে চলেছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর রহস্যমৃত্যু

    শ্যামাপ্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতায় এসে ভারত ভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে নিশানা করলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে। তুললেন, শ্যামাপ্রসাদের ‘রহস্যমৃত্যু’র প্রসঙ্গও। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে শাহের বক্তৃতায় গোড়াতেই এসেছে নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদের ইস্তফার ঘোষিত ও প্রত্যক্ষ কারণ— ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত ‘নেহেরু-লিয়াকত (পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) চুক্তি’ বা ‘দিল্লি চুক্তি’। শাহ বলেন, ‘‘আমি সেই পদত্যাগপত্র দেখেছি। চুক্তিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অধ্যয়ন করে বলেছিলেন যে, তাতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের কথা চিন্তাই করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভারতে থেকে যাওয়া মুসলমানদের কথা চিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান, বাংলাদেশের হিন্দুদের কথা ভাবা হয়নি। এই চুক্তি একতরফা। তাই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।’’ জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে শাহের মন্তব্য, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই স্বপ্নই পূরণ করছেন।’’ সেই সঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘‘ভারতের জমি থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বার করে ভারতকে পূর্ণ সুরক্ষিত বানাব।’’ নেহরুর জমানায় কাশ্মীরের জেলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’ হয়েছিল জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কিন্তু কংগ্রেস কোনও দিন তার তদন্ত করায়নি।’’

    মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ তাঁর রাজ্যের

    ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকার সিএএ এনে হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দু আমাদের রোজ বলছেন। তাঁকে বলছি, নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ যেটুকু বাকি আছে, তা-ও দ্রুত করে দেব।’’ মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁর স্মারক তৈরি হচ্ছে জানিয়ে শাহ সোমবার বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গকে আবার যিনি সমগ্র ভারতের প্রেরণাকেন্দ্র বানানোর কাজ শুরু করেছেন, আমার সেই মিত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অভিনন্দন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দলের সরকার হল। তাঁর বিচারধারার সরকার হল। দেশভক্তদের সরকার হল। তাই শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউট

    সোমবার দুপুরে নিউ টাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদের (Amit Shah on Shyama Prasad) মূর্তির ভিত্তিস্থাপন করেন শাহ। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিপুজো নয়। এটা সোনার বাংলার সঙ্কল্পকে বাস্তবায়িত করার ভূমিপুজো। শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অনেক অভিনন্দন। যেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গবেষণা করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউটও হবে।’ শাহের দাবি, শ্যামাপ্রসাদ এমন বীজ বপন করেছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের রূপে, যা ভারতের সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করেছিল। তাঁর বপন করা বীজ আজ বটবৃক্ষের রূপ নিয়ে গোটা দেশকে ফল দিচ্ছে। এদিন ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতেও যান শাহ।

    শ্যামাপ্রসাদ মিউজিয়াম

    এর সূত্র ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেটি সরকার কিনে নিয়েছে। সেখানে মিউজিয়াম হবে। সূর্যকে যেমন চাপা দিয়ে রাখা যায় না, তেমনই শ্যামাপ্রসাদের আদর্শকেও চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।’ বন্দে মাতরম রচনার ১৫০ বছর, শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ বছর জন্মদিবস এসেছে একই বছরে। শাহের কথায়, ‘এই ঘটনা বিধির বড় সঙ্কেত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে বন্দে মাতরমের রচনা করেছিলেন, তার মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ভিত তৈরির কাজ হয়েছিল। এর চেয়ে ভাল মণিকাঞ্চন যোগ কোথাও হয় না।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ হোক, অখণ্ড ভারতের সঙ্কল্প হোক, সব বিচারধারার একটাই গঙ্গোত্রী— শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

     

     

     

     

     

  • PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, ব্লু ইকোনমি এবং প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি ও জাকার্তা। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবয়ো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সোনালি অধ্যায়’-এর সূচনা হল। তাঁর দাবি, এই নতুন অধ্যায় শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, ২১ শতকের বিশ্ব ও মানবতার জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মোদির কথায়, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস যত বাড়ছে, ততই প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় জোর

    বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিনিময় কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের কোস্ট গার্ড যৌথভাবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, বন্দর উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

    মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান

    এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা মেডেল অব অনার’ প্রদান। সম্মান গ্রহণের পর মোদি বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত নয়, ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয়র সম্মান। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং সে দেশের জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    ২০১৮ সালের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী

    মোদি জানান, ২০১৮ সালে গঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়ার কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ এখন আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েছে। উন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতা

    দুই দেশের আলোচনায় স্বাস্থ্য পরিষেবাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের সাশ্রয়ী ও উন্নত মানের ওষুধ ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা হবে। শুধু তাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভারত সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, মিড-ডে মিল এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

    দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকের শেষে প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ব্লু ইকোনমি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে আরও কৌশলগত গুরুত্ব দেবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের সমন্বয়কে নতুন মাত্রা দেবে।

  • Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের রাজনীতিতে বহু দশক ধরে অসমীয়া ও বাঙালি সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ছিল সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত। ভাষা, অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন, নাগরিকত্ব এবং কর্মসংস্থানকে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতের ফলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) নেতৃত্বে সেই সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলেই দাবি রাজ্যের শাসক শিবিরের। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তু এবং অনুপ্রবেশকারী মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরার রাজনৈতিক বার্তা এই পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেই সামনে এসেছে।

    কী বলছে হিমন্তর সরকার (Himanta Biswa Sarma)

    সরকারের বক্তব্য, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে পূর্ব পাকিস্তান বা পরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বেআইনি অভিবাসীদের এক শ্রেণিতে ফেলা উচিত নয়। এই অবস্থানকে সামনে রেখেই গত কয়েক বছরে অসমে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হয়েছে। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমে আইডিয়া এক্সচেঞ্জ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত সন্দেহভাজন ভোটারদের প্রসঙ্গে বলেন, “এখন বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। এক সময় এই সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ। ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, এবং আমি মনে করি খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি এও বলেন, “আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে একজনও বাঙালি হিন্দু নেই। এটাই সবচেয়ে ভালো খবর। সবার আধার হয়েছে। আগে যেখানে সাড়ে চার লাখের মতো মানুষ ছিলেন, এখন তা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধগুলির নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।”

    যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    এই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক সময় হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায় মিলিয়ে এই সংখ্যা ছিল ১২ থেকে ১৪ লাখের মধ্যে। বর্তমানে তা কমে ৩.৫৪ লাখ হয়েছে এবং তার মধ্যে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যা এক লাখেরও কম। তবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (nrc) প্রকাশিত হলে প্রথমদিকে আবার কিছু মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাঙালি হিন্দুরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করতে পারবেন। বিষয়টি কিছুটা জটিল হলেও, আমরা ধাপে ধাপে এর সমাধান করছি।” রাজ্য সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (caa) নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি করেছে। সেই কারণেই বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের বিষয়টি বেআইনি অনুপ্রবেশের প্রশ্নের থেকে (Himanta Biswa Sarma) আলাদা করে দেখা উচিত বলেই দাবি সরকারের।

    নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

    এই অবস্থানের পাশাপাশি অসম চুক্তিতে নির্ধারিত ২৪ মার্চ ১৯৭১-কে বেআইনি অনুপ্রবেশ চিহ্নিত করার গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা হিসেবেও বারবার তুলে ধরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পঞ্জির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে যাঁরা প্রকৃত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে অসমীয়া হিন্দু এবং বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কমানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। অসমের শাসক দল বিজেপির দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনকে ব্যবহার করলেও, বর্তমানে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি (Himanta Biswa Sarma) হয়েছে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ।

    গলেছে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু সম্পর্কের বরফ

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন বিভিন্ন জনসভায়ও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে পদ্ম শিবিরের তরফে। ২০২৫ সালের অগাস্টে শিলচরে হিমন্তর সভায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। একইভাবে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর একাধিক সভায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। শাসক শিবিরের মতে, অসমে ভাষাগত বিভাজনের পরিবর্তে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর ঐক্যের বার্তাই এখন রাজনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। ফলে এই ইস্যু এখনও জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে (Himanta Biswa Sarma)।

    অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য

    প্রসঙ্গত, অনেক আগেই হিমন্ত অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, হিন্দু বাঙালিরা, যাঁরা নিজেদের ‘ধর্ম’ রক্ষার জন্য পৈতৃক সম্পত্তি এবং শত শত বছরের বংশানুক্রমিক সম্পদ খুইয়েছিলেন, তাঁরা অবশেষে তাঁদের বহু-প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনও হিন্দু বাঙালিকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দেওয়া হবে না বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “হিন্দু বাঙালিদের বিদেশি হিসেবে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই, কারণ তাঁরা ১৯৭১ সালের আগেই এসেছেন। তাই অসমে সিএএর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই।” ২০১৯ সালে অসমে যখন জাতীয় এনআরসির ত্রুটিপূর্ণ খসড়া প্রকাশিত হয়, এবং প্রায় ১২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ পড়ে তালিকা থেকে, তখনই হিমন্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই প্রক্রিয়াটি ছিল ‘মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’। নতুন করে এনআরসি করার ডাকও দিয়েছিলেন অসমের পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী (Himanta Biswa Sarma)।

     

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) স্বপ্নই রয়ে গেল। ইচ্ছাপূরণ হল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পর্তুগাল। একমাত্র গোল মিকেল মেরিনোর, যিনি পরিবর্ত হিসাবে নেমে নিয়মিত গোল করার কারণে ‘সুপার সাব’ নামে অভিহিত হন। তাঁর গোলেই রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। ৪১ বছরের ফুটবলারকে অবসর নিতে হচ্ছে বিশ্বকাপ ছাড়াই। গত দু’দিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় ছিল আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক। বসনিয়া ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরেও তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। জানা যায়, হোয়াইট হাউসের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানান, তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানায় বেলজিয়াম। লিখিত আবেদনও করে তারা। তাতে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলায়নি। কিন্তু এদিন বেলজিয়াম বুঝিয়ে দিল, জোর করে কাউকে জেতানো যায় না। মাঠের বাইরে যা-ই হোক না কেন, আসল খেলাটা হয় মাঠে। ৯০ মিনিটে। সেখানেই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম। ৪-১ গোলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বেলজিয়াম। সেখানে তাদের সামনে স্পেন।

    বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে

    ডালাস স্টেডিয়ামে রেফারি অ্যান্টনি টেলরের শেষ বাঁশিটা বাজার বেশ কিছু ক্ষণ ইস্পাতকঠিন মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। শুকনো মুখে এ দিক-ও দিক তাকালেন। বোধহয় বোঝার চেষ্টা করছিলেন কী ঘটে গিয়েছে। সতীর্থ থেকে বিপক্ষ, সকলেই এসে একে একে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুই ছুঁতে পারছিল না তাঁকে। এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তবে দলের হয়ে হয়তো খেলবেন আরও কিছুদিন। চোখে জল নিয়ে রোনাল্ডো বলেন, “এ ভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে। আমি সবটা দিয়েছি। নিজের সেরাটা দিয়েছি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। হ্যাঁ, আমার বিশ্বকাপ কেরিয়ার শেষ।” কয়েক সেকেন্ড থেমে রোনাল্ডো আবার বলেন, “কিন্তু দেশের হয়ে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। তার পর সিদ্ধান্ত নেব।” ৪১ বছরের রোনাল্ডো জানিয়েছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না। কারণ, এই দলের এখনও তাঁকে প্রয়োজন রয়েছে। রোনাল্ডো বলেন, “আমি তাড়়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। রাগ বা আবেগের মাথায় কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সব দিক ভেবে সিদ্ধান্ত নেব। পর্তুগালের হয়ে তো ভালই খেলছি। দলকে এখনও আমার দরকার।”

    দল ভালো খেলেছে, ভাগ্য খারাপ

    পর্তুগাল ভক্ত নন। অথচ অনেকেই এ দিন চাইছিলেন রোনাল্ডো জিতুন। বিশ্বকাপ হাতে তুলতে না পারুন। অন্তত আরও কিছু দিন বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু ফাইনালের দু’সপ্তাহ আগেই রোনাল্ডোর যাত্রা থেমে গেল। থামিয়ে দিল প্রতিবেশী দেশ স্পেন। এই দলের বিরুদ্ধেই ২০১৮-য় হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই রোনাল্ডো এবং এই রোনাল্ডোর মধ্যে অনেক তফাত। এই রোনাল্ডোর ক্ষিপ্রতা, আগ্রাসন, গতি— সব কিছুই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। এ দিন দু’-একটি এমন বল পেলেন যেখানে থেকে বছর দুয়েক আগেও অনায়াসে গোল করতে পারতেন। মিস্ করার পর হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে যতই বোঝাতে চান যে ইঞ্চিখানেকের ব্যবধান, রোনাল্ডো জানতেন অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা আর তাঁর নেই। অথচ পর্তুগাল যে হারার মতো খেলেছে এ কথা বলা যাবে না। বরং ম্যাচের বেশ কিছুটা সময় তাদের আধিপত্য ছিল। গ্রুপ পর্বে বা নকআউট পর্বের ম্যাচগুলিতে পর্তুগালের খোলনলচে বেরিয়ে পড়লেও, স্পেনের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছিল সমানে-সমানে। সংযুক্তি সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে জিতেছে স্পেন। রোনাল্ডোর মতে, তাঁদের ভাগ্য খারাপ ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের দল খুব ভাল খেলেছে। খেলার ফল যে কোনও দিকে যেতে পারত। ওদের ভাগ্য ভাল ছিল। আমরা হেরেছি ঠিক। কিন্তু মাথা উঁচু করে বিদায় নেব।” যতই বলুন চোখের জল বাধ মানছিল না। রোনাল্ডো বুঝতে পারছিলেন, এই মঞ্চে আর আসা হবে না। এটাই শেষ বার। আরও এক বার খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে।

    বেলজিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারলেন না বালোগুন

    জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনে তাঁকে সপাটে জবাব দিল বেলজিয়াম। প্রতিপক্ষের সর্বাধিক গোলদাতাকে জোর করে খেলানোর সিদ্ধান্তই বোধহয় তাতিয়ে দিয়েছিল রুডি গার্সিয়ার দলকে। নইলে যে বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে রাউন্ড অফ ৩২ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিতেছে, তারাই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল। গোটা ম্যাচে এক বারের জন্যও মনে হয়নি বেলজিয়াম চাপে রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ম্যাচ খেলল তারা। উল্টে বালোগুনকেই দেখে মনে হল নিজেকে খোলসের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলেছেন। হয়তো লাল কার্ড বিতর্ক তাঁর মাথায় এখনও রয়েছে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের খুব বেশি চ্যালেঞ্জ করলেন না। যে কয়েকটি সুযোগ পেলেন কাজে লাগাতে পারলেন না। শেষ দিকে একটি শট মারলেও তা থেকে গোল হয়নি। বালোগুনকে জোর করে খেলিয়ে খুব একটা লাভ হল না মৌরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দলের। উল্টে ৯০ মিনিট ধরে আমেরিকার খেলায় একটা অস্বস্তি চোখে পড়ল।

    ফিফাকে জবাব বেলজিয়ামের

    বেলজিয়াম যেন জবাব দেওয়ার জন্য নেমেছিল। প্রথম ১০ মিনিটেই আমেরিকার গোলে পাঁচটি শট মারে তারা। মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ হিমশিম খাচ্ছিলেন। একই অবস্থা ছিল দলের রক্ষণের। আগের ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে যে ডি কেটেলায়েরেকে দেখতে পাওয়া যায়নি, বেলজিয়ামের সেই স্ট্রাইকার এই ম্য়াচে দাপট দেখালেন। জোড়া গোল করলেন তিনি। প্রথমার্ধে ফ্রি কিক থেকে অবশ্য এক গোল শোধ করেন টিলমান। ব্যস, সে টুকুই। তার বেশি কিছু করতে দেখা যায়নি আমেরিকাকে। গোটা ম্যাচে আমেরিকার রক্ষণ সমস্যায় ফেলেছে। বেলজিয়ামের তৃতীয় গোল তারই ফসল। বক্সের বাইরে বেরিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তা তুলে দেন ফ্রিজ। ভানাকেন দূর থেকেই শট মারেন। জালে জড়ায় বল। প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি রোমেলু লুকাকু। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, গোল করতে বেশি ক্ষণ সময় তাঁর লাগে না।

     

     

     

     

  • Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভিটামিন, ফাইবারের মতোই সমান জরুরি খনিজ! শরীর সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘ জীবন যাপনের জন্য শরীরের প্রয়োজন, পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ পদার্থের জোগান। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরে খনিজ পদার্থের সামান্য চাহিদা থাকে। তবে এই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেই একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চোখের নীচে কালো দাগ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদরোগের সমস্যা, এমন একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশপাশি মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো নানান মানসিক সমস্যাও তৈরি একটি একটি খনিজের ঘাটতি! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শরীরে প্রতিদিন ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেও একাধিক বিপদ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রতিদিন মাত্র ৩১০-৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

    ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঝুঁকি শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করে‌। পেশিতে টান ধরে। বারবার খিঁচুনির মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে পেশির সক্রিয়তা কমে। আবার হাত-পায়ে দূর্বলতা বোধ হয়। তাই ক্লান্তি গ্রাস করে। যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মহিলাদের ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলারা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন। তাই তাঁদের হাড়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ম্যাগনেশিয়াম বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের পাশপাশি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যা দেখা যায়। ফলে যেকোনো কাজে মনোসংযোগ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঠিকমতো পুষ্টির অভাবে যেকেউ ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগতে পারেন। কিন্তু ডায়াবেটিস আক্রান্তদের এই ধরনের খনিজের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। তাছাড়া, দীর্ঘদিন অন্ত্রের সমস্যায় ভুগলে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স্কদের শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। আবার মদ্যপানে আসক্তদের শরীরেও এই খনিজের ঘাটতি হয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কীভাবে এই খনিজের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে?

    পালংশাক

    আয়রন, ভিটামিন এ-র পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে পালংশাকও। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার সমৃদ্ধ এই শাকটি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এক কাপ বা ১৮০ গ্রাম সেদ্ধ বা রান্না করা পালংশাকে প্রায় ১৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।

    কাঠবাদাম

    ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদাপূরণে সকালে উঠে কাঠবাদাম ভেজানো খেতে পারেন। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালে ভেজানো কাঠবাদাম বা সন্ধ্যের জলখাবারে শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া কাঠবাদামও খাওয়া যায়। মোটামুটি ২০-২২টি কাঠবাদামে ৭৬-৮১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যাবে।

    ডার্ক চকোলেট

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়াম কোকো থেকে তৈরি হওয়া ডার্ক চকোলেট থেকেও পাওয়া যায়। কতটা পরিমাণ কোকোর ব্যবহার হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা।

    কাজুবাদাম

    সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাবারের তালিকায় থাকুক কাজুবাদামও। এমনটাই পরামর্শ পুষ্টিবিদদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ আউন্স অর্থাৎ ১৭-১৮টি কাজুবাদামে প্রায় ৮৩ মিলিগ্রামের মতো ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিনে অন্তত ৮-১০টি করে কাজু খেলে শুধু ম্যাগনেশিয়াম নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাবে শরীর। হৃদ্‌যন্ত্র ভাল রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জরুরি।

    কুমড়োর বীজ

    কুমড়ো বীজে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। হৃদ্‌যন্ত্র ঠিক রাখার জন্য, ম্যাগনেশিয়াম জরুরি উপাদান। উচ্চরক্তচাপ কমাতে, রক্তবাহী নালিকার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে খনিজটি সাহায্য করে। ২০ গ্রাম কুমড়ো বীজে ১০০-১১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। দৈনন্দিন চাহিদার অনেকটাই পূরণ হতে পারে, দিনে অল্প কিছু কুমড়োবীজ খেলে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুদিন কুমড়োর বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share