Tag: news in bengali

news in bengali

  • Mangala Gauri Vrat: শ্রাবণী মঙ্গলবারে পালন করুন মঙ্গলা গৌরী ব্রত, জানেন এর মাহাত্ম্য?

    Mangala Gauri Vrat: শ্রাবণী মঙ্গলবারে পালন করুন মঙ্গলা গৌরী ব্রত, জানেন এর মাহাত্ম্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট, তৃতীয় মঙ্গলা গৌরী ব্রত (Mangala Gauri Vrat)। শ্রাবণ মাসে এই ব্রত পালন করলে তবেই সোমবারের পুণ্য লাভ হয়। এই ব্রত এবং উপবাস পালনের কিছু নিয়ম রয়েছে। বিবাহিত মহিলারা সাধারণত এই ব্রত পালন করে থাকেন। সংসারের উন্নতি, স্বামীর আয়ুতে মঙ্গল কামনা এবং দাম্পত্য জীবনে সুখ-সমৃদ্ধির জন্য এই ব্রত পালন করা হয়। আসুন জেনে নিই এই ব্রতর নিয়ম।

    কোন কোন দিন পালিত হবে মঙ্গলা গৌরী ব্রত (Mangala Gauri Vrat)

    হিন্দু পঞ্জিকা মতে, এই বছর ৪টি মঙ্গলা গৌরী (Mangala Gauri Vrat) উপবাস পালিত হবে। প্রত্যেক শ্রাবণী সোমবারের পরের মঙ্গলবারে পালিত হয় ব্রত। ২৩ জুলাই, ৩০ জুলাই, ৬ অগাস্ট, ১৩ অগাস্ট — হল এই ব্রতের নির্ধারিত দিন। আজ, ৬ অগাস্ট, তৃতীয় ব্রতপালনের দিন। এই ব্রত মূলত শিবপত্নী পার্বতীর পুজো। শিব তো পার্বতী ছাড়া অসম্পূর্ণ, তাই সোমের পর মঙ্গলে শক্তির পুজো করতে হয়। তবে গৌরী ব্রত শুধু যে বিবাহিত মহিলারা করেন তাই নয়, একই ভাবে অবিবাহিত মহিলারাও পালন করে থাকেন। শ্রাবণ মাসে দেবাদিদেব এবং দেবী পার্বতীকে একসঙ্গে পুজো করার নিয়ম থাকে। মঙ্গলবার মঙ্গলা গৌরী ব্রত পুজোর অভিজিৎ মুহূর্ত হল দুপুর ১২টা থেকে ১২.৫৫ মিনিট পর্যন্ত। বিজয় মুহূর্ত দুপুর ২টা ৪৪ মিনিট থেকে ৩.৩৯ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। দ্বিপুষ্কর যোগও এদিন গঠিত হয়েছে। ফলে আজকের এই বিশেষ দিন থাকবে সকাল ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে, যা চলবে ১০টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত।

    আরও পড়ুনঃ RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    শ্রাবণ মাসে পাঁচ সোমবার

    এই বছর শ্রাবণ মাসে মোট সোমবার পড়েছে ৫টি। বাংলায় শ্রাবণ মাস (Mangala Gauri Vrat) শুরু হয়েছে গত ২২ জুলাই থেকে এবং চলবে ১৯ অগাস্ট পর্যন্ত। এই এক মাসে সোমবার পড়ছে ২২ জুলাই, ২৯ জুলাই, ৫ অগাস্ট, ১২ অগাস্ট এবং ১৯ অগাস্ট। ভোলা মহেশ্বরের মাথায় জল ঢেলে মনস্কামনা করে থাকেন শৈব ভক্তরা। এই মাসে আবার নক্ষত্র পূর্ণিমাও রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Waqf Act Amendment: গরীব ও মুসলিম মহিলাদের ক্ষমতায়ণের জন্যই ওয়াকফ সংশোধনী, দাবি কেন্দ্রের

    Waqf Act Amendment: গরীব ও মুসলিম মহিলাদের ক্ষমতায়ণের জন্যই ওয়াকফ সংশোধনী, দাবি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গরীব এবং মুসলিম মহিলাদের ক্ষমতায়ণের উদ্দেশ্য নিয়ে ওয়াকফ আইন সংশোধন (Waqf Act Amendment) করা হবে। এমনটাই জানিয়ে দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সংসদের চলতি অধিবেশনে ওয়াকফ বোর্ড সংশোধনী আইন আনতে চলেছে কেন্দ্র। বিরোধীরা বিল আসার আগে থেকেই এই সংশোধনীর বিরোধিতা শুরু করছে। তবে ওয়াকফ বোর্ডের ট্র্যাক রেকর্ড (Waqf Disputes) তাতে সংশোধনী আনা ছাড়া সরকারের হাতে আর কোন উপায় ছিল না। সরকারের দাবি মুসলিমদের পক্ষেই হবে এই সংশোধনী।

    ভূ-মাফিয়া বোর্ড (Waqf Act Amendment)

    অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গরিব মুসলিমদের জমিও (Waqf Disputes) হাতিয়ে নিয়েছে ওয়াকফ বোর্ড। পুরাতাত্ত্বিক ধরোহর থেকে সরকারি সম্পত্তি সবেতেই হয়েছে ওয়াকফের কব্জা। যেহেতু ওয়াকফ বোর্ডের হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে, তাই যে কোনও মানুষের জমি বা সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবি করতে পারে ওয়াকফ বোর্ড। এই বোর্ডে মুসলিম মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি নেই। একতরফা পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে সকলকে নিয়ে সমান সুযোগ দিতে (Waqf Act Amendment) চায় কেন্দ্রীয় সরকার। মনে করা হচ্ছে, ওয়াকফ বোর্ডের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা সংকুচিত হবে এই সংশোধনের মাধ্যমে। ওয়াকফ সংক্রান্ত প্রায় ৪০টি সংশোধনী আনা হবে এই বিলে। যার অন্যতম উদ্দেশ্য সরকারিভাবে যাচাই ছাড়া যাতে ওয়াকফ বোর্ড আর কোনও নতুন সম্পত্তি বা জমি কব্জা না করতে পারে।

    ওয়াকফের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Waqf Disputes)

    প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালে ওয়াকফ বোর্ড আত্মপ্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এই বোর্ডের সৃষ্টি করেছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৯৫ এবং ২০১৩ সালে দু-বার সরকার বোর্ডের নিয়ম-কানুন সংশোধন করে। দু-বারের সংশোধনে ওয়াকফ বোর্ডকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়। এরপরই ওয়াকফ বোর্ড ভূ-মাফিয়া (Waqf Disputes) হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। তাজমহল থেকে শুরু করে তামিলনাডুর হাজার বছর পুরনো মন্দির, এমনকী থিরুচি জেলায় হিন্দুদের ৬টি গ্রাম সবই কব্জা করার চেষ্টা করে এই বোর্ড। পুরাতত্ত্ব বিভাগের আওতায় থাকা বহু রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি এবং সরকারি সম্পত্তি ওয়াকফ বোর্ড নিজেদের বলে দাবি করেছে এবং বহু ক্ষেত্রে কব্জাও করেছে। এই ঘটনাতে তিতি-বিরক্ত সরকার ওয়াকফ বোর্ডকে (Waqf Act Amendment) গরিব এবং মুসলিম মহিলাদের উপকারের জন্য নিয়োজিত বোর্ডে পরিণত করতে চায়।

    ওয়াকফের রাজস্ব আদায় খুবই কম

    প্রসঙ্গত রেলওয়ে এবং প্রতিরক্ষার পর ওয়াকফ বোর্ড ভারতবর্ষের তৃতীয় সবচেয়ে বড় ভূখণ্ডের অধিকারী। অথচ ওয়াকফ বোর্ড থেকে যে রাজস্ব আদয় হয় তা খুবই কম। এত বড় ভূখণ্ড তাঁদের হাতে থাকলেও ২০০ কোটির চেয়েও কম রাজস্ব আদায় হচ্ছে। ফলে নয়া সংশোধনীতে (Waqf Act Amendment) এই বিষয়টিও দেখা হবে। যাতে ওই ভূখণ্ডগুলি থেকে রাজস্ব আদয় হয়। এত কম রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দুটি তত্ব উঠে আসছে। হতে পারে ওয়াকফ বোর্ড রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে আগ্রহী নয়।

    আরও পড়ুন: চাপিয়ে দেওয়া নয়, ৩৭০ ধারা নিয়ে সিদ্ধান্ত জনগণের সম্মতিতে, জানালেন মোদি

    অন্যথা, রাজস্ব যা আদায় হচ্ছে তা হয়তো খাতায়-কলমে (Waqf Disputes) দেখানো হচ্ছে না, একথাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নয়া সংশোধনীতে জেলাশাসককে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে যুক্ত করা হতে পারে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Waqf Act: ওয়াকফ আইনই বেআব্রু করে দিয়েছিল নেহরুর মুসলমান প্রীতি

    Waqf Act: ওয়াকফ আইনই বেআব্রু করে দিয়েছিল নেহরুর মুসলমান প্রীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীন ভারতকে সংবিধান দিয়েছিল ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার। তবে তা ঠিকঠাক মেনে চলা হয় না বলে অভিযোগ। বিশেষত প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট এবং ধর্মীয় অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে। ১৯৫৪ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু (Congress) ওয়াকফ আইন (Waqf Act) প্রণয়ন করেছিলেন। সেই থেকে বিতর্কের কেন্দ্রে এই আইন। আইনটির উদ্দেশ্য হল, ইসলামিক চ্যারিটেবল ট্রাস্ট বা এনডাওমেন্টগুলিকে (ওয়াকফ) সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি সংস্থায় একত্রিত করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে রাখা।

    ওয়াকফ আইন সংশোধনী

    ১৯৬৪ সালে পাশ হয় সংশোধনী। এর বলে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল। ১৯৯৫ সালে আরও একটি সংশোধনী পাশ হয়। এতে প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ওয়াকফ বোর্ড তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। সমালোচকদের মতে, সরকার যদি ইসলাম ধর্মাবলমন্বীদের মতো অন্য ধর্মের সম্পত্তি রক্ষায় সক্রিয় হত, তাহলে ভালো হত। হিন্দু মন্দির পরিচালনার জন্য পৃথিবীতে কোথাও কোনও হিন্দু বোর্ড নেই। রাষ্ট্রীয় তত্ত্ববধানেও কোনও মন্দির পরিচালিত হয় না। এরই উল্টো দিকে যদি ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ অ্যাক্ট দেখি, তাহলে দেখব, আইনটি মুসলিমবাদী। সংশোধনীতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলির সাহায্যে ধর্মীয় সংগঠনটির অতিথি সদস্যরা হবেন পাবলিক অফিসার। এটিও অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ওয়াকফ বোর্ড নামে যে ইসলামিক বোর্ড রয়েছে তাদের নামে সম্পত্তি কীভাবে হয়, সে প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকদের মতে, যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার অভাব রয়েছে। এই জাতীয় সন্দেহজনক কার্যকলাপের মধ্যে তাজমহলকেও অনেকে ওয়াকফ কিংবা এনডাওমেন্টের সম্পত্তি বলে দাবি করে।

    তুষ্টিকরণের রাজনীতির পর্দা ফাঁস

    নেহরুর ১৯৫৪ সালের আইনের অন্তঃস্থলে যে মুসলমান তোষণের বীজ রোপিত হয়েছিল, কংগ্রেসের পরবর্তী জমানায় বস্তুত তা মহীরুহে পরিণত হয়। যার প্রমাণ মেলে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়। এই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের মনমোহন সিং বলেছিলেন, “আমি এখনও বিশ্বাস করি, আমাদের সম্পদের ওপর প্রথম দাবি মুসলমানদের।” মনমোহনের এহেন মন্তব্যে মুখোশ খুলে যায় কংগ্রেসের। সমালোচকদের মতে, মনমোহনের এহেন মন্তব্যের অর্থ হল, মুসলমান তোষণ কংগ্রেসের একটি সুষ্পষ্ট নীতি। সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কীভাবে মুসলমানদের আরও বেশি সুবিধা দেওয়া যায়, দশকের পর দশক ধরে সেই চেষ্টাই করে গিয়েছে সোনিয়া গান্ধীর দল। রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসের (Congress) লক্ষ্য মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখা। তা করতে গিয়েই নির্লজ্জভাবে একাধিক পদক্ষেপ করেছে গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি। মুসলমানদের জন্য একাধিক পদক্ষেপ কংগ্রেস সরকার নিলেও, মুসলমানদের আর্থ-সামজিক অবস্থার (Waqf Act) পরিবর্তন হয়েছে খুব সামান্যই। মুসলমানদের কেন এই হাল, সে প্রশ্নও ওঠে বই কি! দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের দখলে থাকা ১২৩টি সম্পত্তির দখল যখন কেন্দ্রীয় হাউজিং অ্যান্ড আরবান অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রক নেয়, তখন বোর্ডের অন্দরেই দেখা গিয়েছিল বিতর্ক।

    ওয়াকফ কী

    ওয়াকফ (Waqf Act) বলতে বোঝায় সেই সব সম্পত্তি বোঝায়, যেগুলি ধর্মীয় কিংবা দাতব্যের উদ্দেশ্যে ইসলামকে দেওয়া হয়েছে। এই সম্পত্তি স্থাবর কিংবা অস্থাবর হতে পারে। মানুষ যখন ওয়াকফকে কোনও সম্পদ দেয়, সেটা চিরকালের জন্য দেয়। জানা গিয়েছে, ভারতে বর্তমানে ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রায় ৮.৫ লাখ সম্পত্তি রেকর্ড করেছে। সম্পত্তির বহরের হিসেবে ধরলে ওয়াকফের সম্পত্তির পরিমাণ সেনাবাহিনী এবং রেলের সম্পত্তির পরেই। ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ অ্যাক্ট অনুযায়ী এই সব সম্পত্তির ওপর গভর্ননেন্স করা হয়েছে সার্ভে কমিশনের দ্বারা। সম্পত্তিগুলি নথিভুক্ত করতেই এই পন্থা অবলম্বন করা হয়েছিল। মুত্তাওয়ালিশ নামে একটি ট্রাস্টি এই সব সম্পত্তি ম্যানেজ করত। রাজ্যস্তরে তাদের ওপর নজরদারি চালাত ওয়াকফ বোর্ড। এগুলি স্থাপন করেছিল সেন্ট্রাল ওয়াকফ কাউন্সিল। এই কাউন্সিল সরকারকে ওয়াকফ সম্পত্তির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে পরামর্শ দেয়।

    ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বিস্তর ফারাক

    সম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বিস্তর ফারাক। ২০২০ সালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ দলিত স্টাডিজের করা সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, দেশের মোট সম্পদের ৪১ শতাংশ রয়েছে হিন্দুদের হাতে। এর মধ্যে আবার হিন্দু ওবিসিদের হাতে রয়েছে ৩১ শতাংশ। বাকিদের হাতে বাকি ১০ শতাংশ। মুসলমানদের হাতে রয়েছে ৮ শতাংশ। তফশিলি জাতি এবং উপজাতিদের হাতে রয়েছে যথাক্রমে ৭.৩ এবং ৩.৭ শতাংশ। যা আদতে জনসংখ্যার মধ্যে বৈষম্যকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

    আরও পড়ুন: বোনকে নিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে হাসিনা, আপাতত ক্ষমতায় সেনা, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী?

    ওয়াকফ বোর্ডের ভূমিকা কেন্দ্রীভূত কেবল সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণেই। তার জেরে মুসলমানদের যে আর্থ-রাজনৈতিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি কংগ্রেস জমানায় হয়নি, সেদিকে নজর নেই তাদের। যার জন্য বৈষম্য বেড়েই চলেছে কংগ্রেস আমলে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ওয়াকফ সম্পত্তির কিছু অংশও যদি শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হত, তাহলে পরিবর্তন হত মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের। উন্নতি হত (Congress) দেশের জিডিপি। যার সুফল ভোগ (Waqf Act) করতেন আদতে তামাম ভারতবাসীই।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Sheikh Hasina: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, দেশ ছেড়েছেন হাসিনা, সীমান্তে নজরদারি বাড়াল ভারত

    Sheikh Hasina: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, দেশ ছেড়েছেন হাসিনা, সীমান্তে নজরদারি বাড়াল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশ এখন অগ্নিগর্ভ। সারা দেশের আন্দোলন এখন হিংসাত্মক এবং সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়েছে। ঢাকার গণভবনে চলছে ব্যাপক লুটপাট। একাধিক জায়গায় ভাঙা হয়েছে শেখ মজিবুর রহমানের মূর্তি, হামলা করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতেও। আওয়ামী লিগের অবশ্য দাবি, সবটাই জামাত-এ-ইসলামির ইন্ধনে হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান ঘোষণা করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশ চালানো হবে। তাই এই আবহে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। ভারতের পূর্বাঞ্চলের সীমান্তে ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। কলকাতা থেকে এডিজি ইস্টার্ন কমান্ড বাহিনীকে সবরকম প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সীমান্তে। বিএসএফের ডিজি ইতিমধ্যে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন।

    হাসিনার সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে বিএসএফ (Sheikh Hasina)

    সূত্রের খরব, শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ভারতের আগরতলায় অবতরণ করে সেখান থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন বলে খবর। ভারতে শেখ হাসিনা পদার্পণ করা পর্যন্ত তাঁর যাবতীয় নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার দায়িত্ব নেয় বিএসএফ। ভারতীয় সেনা সবটা দেখলেও মূল পরিচালনার কাজ করবে বিএসএফ। হাসিনা এবং তাঁর পরিজনরা যাতে ভারতে সুরক্ষিত ভাবে প্রবেশ করতে পারেন, সেই দিকে নজর রাখা হয়েছে। একই ভাবে আন্দোলনকারীরা যাতে ভারতে প্রবেশ করে অশান্তি না করতে পারে, সেই দিকেও খেয়াল রাখছে বিএসএফ।

    আরও পড়ুনঃ নেতার পর এবার সাংবাদিক! অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে হিন্দু নিধন হয়েই চলছে

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সম্পূর্ণ দখল নিয়েছে বিএসএফ

    উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেনি। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি (Sheikh Hasina) একটি আভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই বিষয়ে ভারত মন্তব্য করেনি। কিন্তু সে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তীব্র সঙ্কটে। যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরায়। এই জন্য সীমান্তে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফ। জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। এদিকে, বাংলাদেশের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে দিল্লির নর্থ ব্লক এবং সাউথ ব্লকে চরম তৎপরতা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, বিদেশমন্ত্রক, প্রতিরক্ষামন্ত্রক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সবগুলিই এই এলাকায়। তবে কী ধরনের তৎপরতা রয়েছে তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট হয়নি। সীমান্তে যদি বাংলাদেশিরা প্রবেশ করতে চায় তাহলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ হতে পারে, তা ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • PM Modi: চাপিয়ে দেওয়া নয়, ৩৭০ ধারা নিয়ে সিদ্ধান্ত জনগণের সম্মতিতে, জানালেন মোদি

    PM Modi: চাপিয়ে দেওয়া নয়, ৩৭০ ধারা নিয়ে সিদ্ধান্ত জনগণের সম্মতিতে, জানালেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩৭০ ধারা (Article 370) নিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে জনগণের সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পেঙ্গুইন এন্টারপ্রাইজের প্রকাশনায় ‘৩৭০: আনডুয়িং দ্য আনজাস্ট, এ নিউ ফিউচার ফর জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর’- বইটিতে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, বইটি এই মাসেই প্রকাশিত হতে চলেছে। 

    এই বইটির বিষয়বস্তু কী? (Article 370)  

    জানা গিয়েছে, বইটিতে বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কীভাবে মোদি নিজের লক্ষ্য অর্জন করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে প্রকাশকরা বলেছেন, ”ভারতের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ সাংবিধানিক কীর্তি। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) কীভাবে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন তার ভিতরের ইতিহাস বর্ণিত আছে এই বইতে।” অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদের খসড়া তৈরি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সব কিছুরই উল্লেখ আছে এই বইতে। 

    আরও পড়ুন: বোনকে নিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে হাসিনা, আপাতত ক্ষমতায় সেনা, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী?

    কাশ্মীরের ইতিহাস

    ১৯৪৭ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদের খসড়া তৈরি করেছিলেন শেখ আবদুল্লা। সেই সময় তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁকে নিয়োগ করেছিলেন মহারাজা হরি সিং এবং জওহরলাল নেহরু। তবে অস্থায়ী ভাবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার ব্যাপারে রাজি ছিলেন না আবদুল্লা। তিনি স্থায়ীভাবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। তবে তাতে রাজি ছিল না কেন্দ্র।  

    অগ্রিম প্রশংসা বিদেশমন্ত্রীর 

    বইটির জন্য অগ্রিম প্রশংসা করে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিশিষ্ট বিবরণ যা জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার পটভূমিকে সঠিক ভাবে প্রকাশ করেছে। এই বইটির মাধ্যমে কীভাবে পূর্ববর্তী যুগের রাজনৈতিক গণনা এবং ব্যক্তিগত প্ররোচনাগুলি শেষ পর্যন্ত জাতীয় অনুভূতি দ্বারা প্রতিহত হয়েছিল তা প্রকাশিত হয়েছে।” 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sexual Assault: উত্তর প্রদেশের মাদ্রাসায় নাবালক ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ! পলাতক মৌলানা

    Sexual Assault: উত্তর প্রদেশের মাদ্রাসায় নাবালক ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ! পলাতক মৌলানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাদ্রাসায় নাবালক ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের (Sexual Assault) অভিযোগ শিক্ষক মৌলানার বিরুদ্ধেই। অভিযুক্ত মাদ্রাসার মৌলবির নাম চাঁদ মোহম্মদ। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মৌলানা পলাতক। ফলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh)। আবার গাড়ি পুখতা থানার ইনচার্জ প্রবেশ কুমার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনার তদন্তে নেমে কাজ শুরু করেছি।

    গোপনাঙ্গে তেল দিয়ে মালিশ করার অভিযোগ (Sexual Assault)

    উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) শামলি জেলার মুমতাজনগরের গুরানা গ্রামে ‘জামিয়া আরাবিয়া তালিমুল কুরআন’ নামে একটি মাদ্রাসায় এক নাবালক ছাত্রের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত মৌলানা চাঁদ মোহম্মদ, এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিজে শিক্ষকতার কাজে যুক্ত ছিল বলে জানা গিয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক বাচ্চাকে দিয়ে নিজের গোপনাঙ্গে তেল দিয়ে মালিশ করার অভিযোগও রয়েছে। ইতিমধ্যে ছাত্রের যৌন নির্যাতনের (Sexual Assault) অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই, এই অভিযুক্ত মৌলানা এলাকা থেকে পালিয়াছে। অপর দিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করেছে বলে জানিয়েছে। তবে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে শিশুদের মধ্যে নিছক ঝগড়া বলে অভিহিত করেছে। গ্রামের বাইরে থেকেও অনেক পড়ুয়ারা এই মাদ্রাসায় পড়তে আসে। নির্যাতনের শিকার এই বাচ্চা ছেলেটি তার বাবা-মাকে আগেই হারিয়েছিল। তার দাদু-দিদার বাড়িতে থেকে পড়াশুনার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল। আগেও এই বাচ্চাকে একাধিকবার অভিযুক্ত মৌলানা নিজের লালসার শিকার করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

    আরও পড়ুনঃ বিচার ব্যবস্থা হবে আরও শক্তিশালী, ৩টি নতুন অ্যাপ চালু অমিত শাহের

    বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলত

    স্থানীয়দের (Uttar Pradesh) দাবি, “চাঁদ মোহম্মদ অন্যান্য ছাত্রদেরকেও যৌন শোষণ (Sexual Assault) করেছে। ক্লাস শেষে ছোট বাচ্চাদের তার ঘরে ডেকে গোপনাঙ্গ মালিশ করতে বলত। সেই সঙ্গে বাচ্চাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাতো। অসহায় বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলত। চাঁদ মোহম্মদের এই অত্যাচারে সকলেই চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অবশেষে আজ বিষয়টি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও পুলিশ এখনও প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sheikh Hasina: বোনকে নিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে হাসিনা, আপাতত ক্ষমতায় সেনা, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী?

    Sheikh Hasina: বোনকে নিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে হাসিনা, আপাতত ক্ষমতায় সেনা, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের উত্তপ্ত বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত গণভবন এখন আন্দোলনকারীদের দখলে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে পড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। আর এরই মধ্যে খবর,  বোন রেহানাকে নিয়ে ঢাকার বাসভবন তথা ‘গণভবন’ ছেড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। সূত্রের খবর, দেশ ছাড়ার আগে হাসিনা একটি ভাষণ রেকর্ড করে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ তিনি পাননি। সোমবার সকালে হাসিনা ও রেহানা তাঁদের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে চলে যান। সেখান থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে উড়ে যান দুই বোন। 

    গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশে সরকার বিরোধী আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের একটাই দাবি ছিল— হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের পদত্যাগ। রবিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি ক্রমে জটিল হচ্ছিল। আর এরই মধ্যে সোমবার বোনকে নিয়ে দেশ ছাড়লেন হাসিনা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই দেশ ছেড়েছেন তিনি।  পরে, সেনাপ্রধান সেই খবরে সিলমোহর দেন। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আপনারা শান্তি-শৃঙ্খলার পথে ফিরে আসুন।’’ 

    গণভবন এখন আন্দোলনকারীদের দখলে

    ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের (Bangladesh) রাস্তার দখল নিয়েছে সেনাবাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে পড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের মূর্তি ভাঙছেন তাঁরা। ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গণভবনে লুট চালাচ্ছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। কারও হাতে দামি জিনিসপত্র, কারও হাতে মুরগি। কেউ বা ছুটছেন চেয়ার হাতে। যদিও, সেই ভিডিওর সত্যতায় যাচাই করেনি মাধ্যম। সব মিলিয়ে তুমুল অশান্ত গোটা বাংলাদেশ। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আবার ধানমন্ডিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের মোবাইল পরিষেবা। পুলিশের পরিবর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে সেনাবাহিনী। রাস্তায় নেমে পড়েছে সাঁজোয়া গাড়ি। 

    জাতির উদ্দেশে ভাষণ সেনাপ্রধানের

    হাসিনা ঢাকা ছাড়ার আগেই বাংলাদেশের (Bangladesh) সেনাবাহিনীর তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার আগে বাংলাদেশের বিশিষ্টজন এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াকার উজ জামান। প্রতিটি হত্যার বিচার হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জনতাকে বলেছেন, হিংসা পরিহার করে সংযত হওয়ার এবং শান্তি বজায় রাখার।  

    আরও পড়ুন: ‘জামাতের হাতে রাশ, নেপথ্যে পাকিস্তান’! হিংসা নিয়ে দিল্লিকে কী জানাল ঢাকা?

    সেনার অধীনে তদারকি সরকার গঠিত হতে পারে (Bangladesh) 

    এদিন ভাষণে বাংলাদেশের জনতার উদ্দেশে সেনাপ্রধানের আর্জি, ”আপনারা শান্তি বজায় রাখুন। ভাঙচুর করবেন না। আমি নির্দেশ দিয়েছি পুলিশ বা সেনাবাহিনী গুলি চালাবে না। আমরা এর আগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বিশিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করব। আপনারা সেনাবাহিনীর উপর আস্থা রাখুন। সশস্ত্র বাহিনীর উপর আস্থা রাখুন, আমরা সমস্ত দায় দায়িত্ব নিচ্ছি। আপনাদের আমি কথা দিচ্ছি। আপনারা এখনই আশাহত হবেন না। আপনাদের যত দাবি আছে, তা আমরা পূরণ করব এবং দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব।” 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 95: “তিনি আসিয়াছেন, চারিদিকের লোক তাঁহাকে মণ্ডলাকারে ঘেরিতেছে”

    Ramakrishna 95: “তিনি আসিয়াছেন, চারিদিকের লোক তাঁহাকে মণ্ডলাকারে ঘেরিতেছে”

    সিঁথি ব্রাহ্মসমাজ-দর্শন ও শ্রীযুক্ত শিবনাথ প্রভৃতি ব্রাহ্মভক্তদিগের সহিত কথোপকথন ও আনন্দ

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    উৎসবমন্দিরে শ্রীরামকৃষ্ণ

    অপরাহ্ণে বাগানটি বহুলোক সমাকীর্ণ হইয়াছে। কেহ লতামণ্ডপচ্ছায়ায় কাষ্ঠাসনে উপবিষ্ট। কেহ বা সুন্দর বাপীতটে বন্ধু সমভিব্যবহারে বিচরণ করিতেছেন। অনেকেই সমাজগৃহে শ্রীরামকৃষ্ণের (Ramakrishna) আগমন প্রতীক্ষায় পূর্ব হইতেই উত্তম আসন অধিকার করিয়া বসিয়া আছেন। উদ্যানের প্রবেশদ্বারে পানের দোকান। প্রবেশ করিয়া বোধ হয় পূজাবাড়ি—রাত্রিকালে যাত্রা হইবে। চতুর্দিক আনন্দে পরিপূর্ণ। শরতের নীল আকাশে আনন্দ প্রতিভাসিত হইতেছে। উদ্যানের বৃক্ষলতাগুল্মমধ্যে প্রভাত হইতে আনন্দের সমীকরণ বহিতেছে। আকাশ, জীবজন্তু, বৃক্ষলতা, যেন একতানে গান (Kathamrita) করিতেছেঃ

    আজি কি হরষ সমীর বহে প্রাণে—ভগবৎ মঙ্গল কিরণে!

    সকলেই যেন ভগবদ্দর্শন-পিপাসু। এমন সময়ে শ্রীশ্রীপরমহংসদেবের (Ramakrishna) গাড়ি আসিয়া সমাজগৃহের সম্মুখে উপস্থিত হইল।

    সকললেই গাত্রোত্থান করিয়া মহাপুরুষের অভ্যর্থনা করিতেছেন। তিনি আসিয়াছেন। চারিদিকের লোক তাঁহাকে মণ্ডলাকারে ঘেরিতেছে।

    সমাজগৃহের প্রধান প্রকোষ্ঠমধ্যে বেদী রচনা হইয়াছে। সে-স্থান লোকে পরিপূর্ণ। সম্মুখে দালান, সেখানে পরমহংসদেব (Ramakrishna) সমাসীন, সেখানেও লোক। আর দালানের দুই পার্শ্বস্থিত দুই ঘর—সে ঘরেও লোক—ঘরের দ্বারদেশে উদগ্রীব হইয়া লোকে দণ্ডায়মান। দালানে উঠিবার সোপানপরম্পরা একপ্রান্ত হইতে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই সোপানও লোকে লোককীর্ণ; সোপানের অনতিদূরে ২/৩ টি বৃক্ষ পার্শ্বে লতামণ্ডপ—সেখানে কয়েকখানি কাষ্ঠাসন। তথা হইতেও উদগ্রীব ও উৎকীর্ণ হইয়া মহাপুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত করিতেছে। সারিসারি ফুল ও পুস্পের বৃক্ষ, মধ্যে পথ। বৃক্ষ সকল সমীকরণে ঈষৎ হেলিতেছে দুলিতেছে, যেন আনন্দভরে মস্তক অবনত করিয়া তাঁহাকে অভ্যর্থনা করিতেছে।  

    ঠাকুর পরমহংসদেবের হাসিতে হাসিতে (Kathamrita) আসন গ্রহণ করিলেন। এখন সব চক্ষু এককালে তাঁহার আনন্দমূর্তির উপর পতিত হইল। যেমন, যতক্ষণ নাট্যশালার অভিনয় আরাম্ভ না হয়, ততক্ষণ দর্শকবৃন্দের মধ্যে কেহ হাসিতেছে, কেহ বিষয়কর্মের কথা কহিতেছে, কেহ একাকী অথবা বন্ধুসঙ্গে পাদচারণ করিতেছে, কেহ পান খাইতেছে, কেহ বা তামাক খাইতেছে, কিন্তু যাই ড্রপসিন উঠিয়া গেল, অমনি সকলে সব কথাবার্তা বন্ধ করিয়া অনন্যমন হইয়া একদৃষ্টে নাট্যরঙ্গ দেখিতে থাকে! অথবা যেমন, নানা পুষ্প-পরিভ্রমণকারী ষট্‌পদবৃন্দ পদ্মের সন্ধান পাইলে অন্য কুসুম ত্যাগ করিয়া পদ্মমধু পান করিতে ছুটিয়া আসে!

    আরও পড়ুনঃ “সেই মধুর সংকীর্তন শুনিতে ও দেবদুর্লভ হরিপ্রেমময় নৃত্য দেখিতে পাইবেন”

    আরও পড়ুনঃ “বিবেক, বৈরাগ্যরূপ হলুদ মাখলে তারা আর তোমাকে ছোঁবে না”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “পশ্চিমে বিবাহের সময় বরের হাতে ছুরি থাকে, বাংলাদেশে জাঁতি থাকে”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Wayanad Landslide: “আমার কিছুই আর নেই!” ভূমিধসে পরিবারে ১৬ জনকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ মনসুর

    Wayanad Landslide: “আমার কিছুই আর নেই!” ভূমিধসে পরিবারে ১৬ জনকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ মনসুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়েনাড়ে (Wayanad Landslide) ভূমিধসে বিপর্যয়ের শিকার হয়ে এক পরিবারের ১৬ জনকে হারিয়ে মর্মান্তিক দুঃখের কথা প্রকাশ করলেন ৪২ বছরের মনসুর। তিনি বলেছেন, “আমার কিছুই নেই, সব হারিয়ে ফেলেছি, নিঃস্ব করেছে আমাকে।” এরপর রীতিমতো কান্নায় তিনি ভেঙে পড়েছেন তিনি। গত ৩০ জুলাই বর্ষার অতিভারী বৃষ্টি এবং ভূমিধস অকল্পনীয় ক্ষতি সাধন করেছে। শতশত মানুষের ধসের নিচে চাপা পরে মৃত্যু হয়েছে। বাড়িঘর, গাছপালা, ফসল এবং সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি (Landslide) হয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারের কাজে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনা জওয়ান সহ একাধিক সংস্থা জোর কদমে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    চোখের জলই এখন সম্বল (Wayanad Landslide)

    শোকস্তব্ধ মনসুর বলেছেন, “এই প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞের কবলে মা, স্ত্রী, দুই সন্তান, বোন এবং এক পিসির পরিবারের ১১ জন সদস্য সহ মোট পরিবারের ১৬ জনকে কেড়ে নিয়েছে। এই ধস এবং বন্যা পরিবারের সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে। আমার তো বেঁচে থাকার কোনও রসদ রইল না। আমার ঘুম আসছে না, শুধু এই চোখের জলই এখন সম্বল। তবে দুর্ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। একটা কাজে বাড়ির বাইরে ছিলাম। আমার মেয়ের মৃতদেহ এখনও পর্যন্ত পাইনি। চারটি মৃতদেহ পেয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে আমার স্ত্রী, ছেলে, বোন এবং মায়ের দেহ। আমি এখনও আমার মেয়েকে খুঁজে পাইনি। আপাতত আমি ভাইয়ের সঙ্গে রয়েছি।”

    মায়ের দেহাবশেষ শনাক্ত করলাম

    অপর দিকে মনসুরের ভাই নাসির তাঁদের পরিবারের ওপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের (Wayanad Landslide) প্রভাব সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, “আজ সকালেই আমাদের মায়ের দেহাবশেষ শনাক্ত করলাম। মোট চারজনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে। পরিবারের এখনও ১২জন সদস্যের কোনও খোঁজ নেই। ঘটনার দিন আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, মা, বোনেরা বাড়িতেই ছিলেন। তবে এমন বিপর্যয় হবে, প্রশাসনের তরফ থেকে আগে কোনও সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি। আচমকা জলের স্তর বাড়তে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মর্মান্তিকভাবে বিপর্যয় ঘটে যায়। তাঁদেরকে আমার বাড়িতে আসতে বলেছিলাম, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে পুরো এলাকা। আমার ভাই ওঁর পরিবারের সবাইকে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছেন।”

    আরও পড়ুনঃ মদের ‘সারোগেট’ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার পথে মোদি সরকার, পার পাবেন না সেলিব্রিটিরাও

    চলছে উদ্ধার কাজ

    ইতিমধ্যে কেরলের টাস্ক ফোর্স ক্ষতিগ্রস্থ (Wayanad Landslide) এলাকা পরিদর্শন করে এখন মোট সাতটি এলাকাকে চিহ্নিত করে দ্রুত উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মুন্ডক্কাই, পুঞ্চিরিমাত্তম এবং চুরামালায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি (Landslide) হয়েছে। এদিকে, মাটির নিচে ধসে আটকে থাকা লোকজনকে উদ্ধার করতে অত্যন্ত তৎপর হয়ে কাজ করে চলেছে।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যে কোনও সংগঠন চালাতে গেলে খরচ বিস্তর। অন্যান্য সংগঠন চাঁদা তুলে সংগঠন চালায়। এ পথে হাঁটে না রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ, সংক্ষেপে আরএসএস (RSS)। ১৯২৫ সালে জন্ম ইস্তক আর পাঁচটা সংগঠনের পথে না হেঁটে সম্পূণ ভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে আসছে আরএসএস। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য করতে গুরুদক্ষিণার (Guru Dakshina) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে আরএসএস।

    আরএসএসে গুরুর স্থান

    সনাতন শাস্ত্রে গুরুর স্থান সবার ওপরে। আরএসএসও গুরুকে ভীষণ গুরুত্ব দেয়। তাই সংগঠনের প্রতিটি শাখা আয়োজন করে ‘গুরুদক্ষিণা’ অনুষ্ঠানের। বছরের একটি বিশেষ দিনে স্বয়ং সেবকদের জন্য আয়োজন করা হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের। হিন্দুদের গুরুপূর্ণিমার দিন থেকে শুরু করে তিন-চার সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন শাখায় আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। চলতি বছর গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে ২১ জুন। এদিনই ছিল গুরুপূর্ণিমা। এই দিনেই গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান আয়োজন করার কারণ মূলত দুটি। একটি, সুপ্রাচীন কাল থেকে গুরু-শিষ্যের যে পরম্পরা সনাতন ভারতে চলে আসছে, তা বজায় রাখা। সেই সময় শিষ্যরা থাকতেন গুরুর আশ্রমে। ব্রহ্মচর্য-পর্ব শেষে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা দিতেন গুরুদক্ষিণা। হিন্দু পরম্পরায় শিষ্য গুরুকে কী দিলেন, সেটা বিষয় নয়, যেটা বিষয়, সেটা হল শিষ্য গুরুর কৃপায় যে জ্ঞান অর্জন করেছেন, সেজন্য গুরুর কাছে তিনি কতটা কৃতজ্ঞ, তা যাচাই করা। গুরুদক্ষিণা হিসেবে শিষ্য যা-ই দিতেন, তা-ই সাদরে গ্রহণ করতেন গুরু।

    গুরু পরম্পরা

    সনাতনী এই পরম্পরাই বিভিন্ন শাখায় বাঁচিয়ে রেখেছে আরএসএস (RSS)। আজ্ঞে হ্যাঁ, জন্ম ইস্তক এই পরম্পরাই ধরে রেখেছে আরএসএস। আরএসএসে গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানটি পালিত হয় নিতান্তই সাদামাটাভাবে। সচরাচর অনুষ্ঠানটি হয় একটি হল ঘরে, যেখানে ৫০-১০০ জনের ব্যবস্থা হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকালে। এদিন প্রত্যেকেই ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে সাদা পোশাক পরে আসেন। গুরুদক্ষিণার দিন স্বয়ংসেবকরা পাজামা-পাঞ্জাবি কিংবা ধুতি-পাঞ্জাবি পরেন। যে হলঘরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, সেখানে প্রথমে উত্তোলন করা হয় সংগঠনের গৈরিক পতাকা। জ্বালানো হয় মাটির প্রদীপ। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রথম সরসঙ্ঘচালক কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক যিনি আরএসএসে গুরুজি নামে খ্যাত তাঁদের বাঁধানো ছবি রাখা হয় অডিটোরিয়ামে।

    গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান

    শারীরিকভাবে সক্ষম স্বয়ংসেবকরা মেঝেয় বসেন। মেঝেয় পাতা থাকে পাতলা কাপড় দিয়ে তৈরি ‘দড়িস’(আসন)এবং কাপড়ের পাতলা চাদর। তার আগে অবশ্য ঘর পরিষ্কার করা হয়। স্বয়ংসেবকরা খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ। তাই এদিন তাঁরা চলে আসেন অনুষ্ঠান (Guru Dakshina) শুরুর ঢের আগে, নির্দিষ্ট সময়ে। তার পরেই হল ঘরে আগে থেকে বিছানো দরিস (পাটি বিশেষ) পেতে বসেন তাঁরা, সারিবদ্ধভাবে। এই সময় অনুষ্ঠান স্থলে শোনা যায় পিন-পতনের শব্দও। অনুষ্ঠান শুরুর আগে তাদের নাম লেখা একটি করে সাদা খাম দেওয়া হয়। এই কাজটি করেন শাখা প্রধান, সঙ্ঘের(RSS) ভাষায় যিনি মুখ্য শিক্ষক বা শাখাকার্যবাহ নামে পরিচিত। প্রায়ই এই খামগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের বাড়িতে। সেই খাম যে গুরুদক্ষিণা দানের জন্য পাঠানো হয়েছে, তাও জানিয়ে দেওয়া হয়। যেসব স্বয়ংসেবক একবার শাখার এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, তাঁদেরও এ ব্যাপারে জানানো হয়। কর্মক্ষেত্রের দায়বদ্ধতার কারণে যাঁরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন না কিংবা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন না, তাঁদেরও গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    কেন নিশানই গুরু

    আরএসএসের গুরুদক্ষিণার (Guru Dakshina) এই অনুষ্ঠানে যাঁরা প্রথমে যোগ দেন, তাঁদের পক্ষে খুবই আনন্দদায়ক। খোলা মনে যাঁরা একবার গুরুদক্ষিণার এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন, তাঁদের মনে এর একটা গভীর ছাপ থেকে যায়, বিশেষত তরুণ মনে। যেহেতু মানুষ মাত্রেই ভুল করে, এবং কোনও মানুষই ত্রুটিহীন নন, তাই আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ঠিক করেছিলেন, কেউই একা গুরু নন। আরএসএসে সঙ্ঘের পতাকাকেই গুরু মেনে চলা হয়। সেই কারণেই আরএসএসের প্রতিটি শাখায় নিত্য দিনের প্রথম কাজ হল গৈরিক পতাকা উত্তোলন। শাখার স্বেচ্ছাসেবকরা দিন শুরু করেন সঙ্ঘের পতাকার সামনে মাথা নত করে। সূর্য অস্ত গেলেও পালন করা হয় একই প্রথা।

    সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনার শপথ

    গুরুদক্ষিণার এই অনুষ্ঠান বছরভর সঙ্ঘের গৈরিক নিশানকে গুরু বলে মনে করায়। মাটির প্রদীপ ও ধূপ জ্বালিয়ে শুরু হয় গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান। গোটা হলে তখন অদ্ভুত নীরবতা, প্রশান্তি। এই সময় সংস্কৃতে লেখা কিছু গুরু-স্তুতি পাঠ করা হয়। জানানো হয় গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা। ভারতের সোনালি যুগের কথা স্মরণ (RSS) করায় যেসব গান, সেগুলোও গান স্বয়ংসেবকরা। দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে সেই সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনার শপথও নেন তাঁরা। এর পরেই একের পর স্বয়ংসেবক যান পতাকা তলে। সেখানে ট্রেতে রাখা ফুলের পাপড়ি তাঁরা ছড়িয়ে দেন পতাকা দণ্ডের পায়ের কাছে। মাথা নতও করেন স্বয়ংসেবকরা। এই সময় ডান হাত আনত থাকে ভূমি বরাবর। সঙ্ঘের গৈরিক নিশানকে এভাবেই নিত্যদিন শ্রদ্ধা জানান স্বয়ংসেবকরা। সঙ্ঘের (RSS) পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ধ্বজা প্রণা’ম। বাংলা তর্জমা করলে যার অর্থ দাঁড়ায় গেরুয়া পাতাকাকে শ্রদ্ধা জানানো। এর পরেই স্বয়ংসেবকরা খামে করে কিছু টাকা কিংবা ফুলের পাপড়ি রেখে দেন।

    গুরুদক্ষিণা কত

    গুরুদক্ষিণা হিসেবে কত টাকা দিতে হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক নেই। কেউ কাউকে জিজ্ঞেসও করেন না, গুরুদক্ষিণা বাবদ কে কত দিলেন। যেহেতু খামের মুখ বন্ধ করা থাকে, তাই কেউই জানেন না, খামে কে কত টাকা দিয়েছেন। দক্ষিণান্তে স্বয়ংসেবকরা ফের একবার ধ্বজা প্রণাম করেন। ফিরে আসেন নিজের আসনে। একইভাবে তাঁর পরের স্বয়ংসেবকও পালন করেন গুরুদক্ষিণার পরম্পরা। উপস্থিত প্রত্যেক স্বয়ংসেবকের (RSS) গুরুদক্ষিণা দেওয়া হয়ে গেলে হয় বক্তৃতা পর্ব। ভাষণ দেন হয় আরএসএসের কোনও প্রবীণ কর্মকর্তা কিংবা এমন কোনও ব্যক্তি, যাঁকে ওই দিনের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কোনও অধ্যাপক, চিকিৎসক, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী কিংবা এমন কোনও ব্যক্তি যিনি প্রমিনেন্ট, শাখা প্রধানদের তাঁদেরই প্রধান অতিথি করে আনতে বলা হয়। এই অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তাও তিনিই। এটা করা হয়, যাতে যাঁরা আরএসএস-মনস্ক নন, তাঁরাও যাতে সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

    আরও পড়ুন: পরপর মন্দিরে হামলা, নেতাকে হত্যা! বাংলাদেশে ফের টার্গেট হিন্দুরা

    সঙ্ঘের ভাবাদর্শ প্রচারে সহায়ক

    সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে জানা গিয়েছে, যাঁরা একবার আরএসএসের গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন, তাঁরা এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরেন, যাতে সারা জীবনের জন্য তাঁরা আরএসএসের সদস্য পদ গ্রহণ করেন কিংবা আরএসএসের বন্ধু বা সমর্থক হয়ে যান। গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান শেষে হয় আরএসএসের প্রার্থনা। তার পর প্রত্যেককে তাঁদের প্রাপ্য দেওয়া হয়। যাঁরা নতুন করে আরএসএসের প্রোগ্রামে যোগ দেন, তাঁদের জন্য স্বয়ংসেবকরা কখনও কখনও চা কিংবা কফি এবং স্ন্যাক্সের ব্যবস্থা করেন। এটা অবশ্য সব সময় হয় না, হয় মাঝে মধ্যে। যাঁরা আরএসএসের কোনও প্রোগ্রামে আগে যোগ দেননি কিংবা আরএসএসের সঙ্গে সঙ্গ ছিন্ন করেছেন, মূলত তাঁদের জন্যই আয়োজন করা হয় চা কিংবা কফি চক্রের।

    গুরুদক্ষিণা একটা ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য আরএসএস (RSS) কখনওই ভাঙেনি। তাদের কাছে এটি হল সব চেয়ে শ্রদ্ধার ও পবিত্র একটি অনুষ্ঠান। মৌলিক এই পদ্ধতিতেই অর্থ সংগ্রহ করে আরএসএস। তাই বজায় রাখতে পারে সঙ্ঘের স্বাধীনতা। আরএসএসের প্রসার (Guru Dakshina) ঘটাতেও এটি একটি কার্যকরী মাধ্যম বলে বিবেচিত হয় (RSS)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share