Tag: news in bengali

news in bengali

  • PM Modi Israel Visit: বুধে নেতানিয়াহুর দেশে যাচ্ছেন মোদি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় হতে চলেছে ভারত-ইজরায়েল নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

    PM Modi Israel Visit: বুধে নেতানিয়াহুর দেশে যাচ্ছেন মোদি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় হতে চলেছে ভারত-ইজরায়েল নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানয়াহুর আমন্ত্রণে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দুদিনের ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দিনের ইজরায়েল সফরে প্রতিরক্ষা সহ একাধিক বিষয়ে ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    কী লিখলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী?

    রবিবার, নিজের এক্স হ্যান্ডলে মোদির আসন্ন ইজরায়েল সফরের কথা জানিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু মোদির বুধবারের ইজরায়েল সফর নিয়ে আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কথা হয়েছে। আমরা উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং একটি যৌথ কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে অংশীদার। একসঙ্গে আমরা স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর একটি শক্তিশালী অক্ষ গড়ে তুলছি।” নেতানিয়াহুর পোস্টের জবাবে নিজের এক্স হ্যান্ডলে মোদি লেখেন, “ধন্যবাদ, আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে থাকা বন্ধন এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমাত্রিক চরিত্র নিয়ে আপনার বক্তব্যের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। বিশ্বাস, উদ্ভাবন এবং শান্তি ও অগ্রগতির প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে আমরা অত্যন্ত মূল্য দিই। আমার আসন্ন ইজরায়েল সফরের সময় আপনার সঙ্গে আলোচনার জন্য আমি আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।”

    প্রতিরক্ষায় কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে মোদি-নেতানিয়াহু আলোচনা

    প্রতিরক্ষায় কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও দৃঢ় করতে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি চালাচ্ছে দুতরফেই। আলোচনার কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্র প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা। তবে, নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা থাকলেও, মোদির এই সফরে কোনও বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হবে না। অন্তত এমনটাই জানা যাচ্ছে সরকারি সূত্রের মাধ্যমে। বরং তাঁদের মতে, এই সফরকে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রোডম্যাপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কৌশলগত প্রেক্ষাপট: কেন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ

    এখনও পর্যন্ত জানা যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র আলোচনায় প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা অগ্রাধিকার পাবে। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হল ভারতের ‘মিশন সুদর্শন’ উদ্যোগের আওতায় যৌথভাবে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, যার লক্ষ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি থেকে ভারতের ভূখণ্ডকে সুরক্ষা দেওয়া। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইজরায়েলকে ‘বিশ্বনেতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ইজরায়েলের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে—

    • ● দূরপাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— অ্যারো (Arrow)
    • ● মাঝারি পাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— ডেভিড’স স্লিং (David’s Sling)
    • ● স্বল্প পাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— আয়রন ডোম (Iron Dome)

    এই ব্যবস্থাগুলি বাস্তব যুদ্ধপরিস্থিতিতে বহুবার পরীক্ষিত এবং বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত। ভারতের ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় এবং নিজস্ব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধপ্রযুক্তিতে সহযোগিতা

    ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার বাইরে ভারত যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চায়, সেগুলি হল—

    • ● উচ্চ-শক্তির লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
    • ● দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ প্রিসিশন মিসাইল
    • ● সশস্ত্র ড্রোন ও লয়টারিং মিউনিশন

    কেনা ও যৌথ উন্নয়ন: বহু-মাত্রিক কৌশল

    গত বছরের নভেম্বরে প্রতিরক্ষা সচিব আরকে সিংহের ইজরায়েল সফরের সময় উন্নত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সম্প্রসারিত অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি হয়। আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ থেকে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার অস্ত্র ব্যবস্থা কেনা ও যৌথ উন্নয়ন বিবেচনা করছে ভারত।

    আলোচনাধীন ব্যবস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● ‘স্পাইস-১০০০’ (Spice-1000) প্রিসিশন গাইডেড বোমা
    • ● ‘র‌্যামপেজ’ (Rampage) এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল
    • ● ‘লোরা’ (LORA) এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল
    • ● ‘আইস-ব্রেকার’ (Ice-Breaker) দীর্ঘ-পাল্লার প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল
    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য সম্প্রসারিত পাল্লার ‘বারাক-৮’(Barak-8)

    এই অস্ত্রব্যবস্থাগুলি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা বলয় অতিক্রম করে উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে।

    প্রতিরক্ষার বাইরে বিস্তৃত কৌশলগত আলোচনা

    প্রতিরক্ষার পাশাপাশি দুই দেশ আলোচনা করবে—

    • ● বিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তি
    • ● কৃষি উদ্ভাবন
    • ● বিশুদ্ধ পানীয় জল সমাধান
    • ● কোয়ান্টাম কম্পিউটিং

    এতে বোঝা যায়, ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক কেবল সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে অসামরিক উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায়!

    এই সফরটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক ক্রমে ক্রেতা-বিক্রেতা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক থেকে যৌথ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির অংশীদারিত্বে রূপ নিচ্ছে। বড় অস্ত্রচুক্তির ঘোষণা না করে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে জোর দেওয়াই এই সফরের মূল বৈশিষ্ট্য। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তার প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গঠনের লক্ষ্যকে সমর্থন দেবে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের জন্য ভারত এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে থেকে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, মোদি-নেতানিয়াহু বৈঠক ভারত-ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সংহত করবে এবং প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গভীরতর সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Kishtwar Encounter: ২০ বার সেনার চোখে ধুলো! চারপেয়ে সৈনিক টাইসন-এর ‘টিপসে’ই কিশতওয়ারে খতম কাশ্মীরের ত্রাস সইফুল্লা

    Kishtwar Encounter: ২০ বার সেনার চোখে ধুলো! চারপেয়ে সৈনিক টাইসন-এর ‘টিপসে’ই কিশতওয়ারে খতম কাশ্মীরের ত্রাস সইফুল্লা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুলিবিদ্ধ হয়েও হাল ছাড়েনি সে, রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় অভিযান (Army Dog Tyson) চালিয়ে গিয়ে কাশ্মীরে (Kashmir Operation) জঙ্গিদের লুকোনো আস্তানা চিহ্নিত করল ‘টাইসন’। তার সূত্র ধরে কিশতওয়ারে সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হল পাক জঙ্গি সইফুল্লা-সহ তিন জইশ কমান্ডার (Jaish terrorists killed Kishtwar)। ভারতীয় সেনার এই সাফল্যের পর এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই

    জম্মু-কাশ্মীরের কিশতওয়ারে সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে তিন জঙ্গি। তাদের মধ্যে জইশের কমান্ডার সইফুল্লা রয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর। অন্য জন এক জন সইফুল্লার সঙ্গী। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলেছে। তৃতীয় জনেরও পরিচয় জানা যায়নি। কাশ্মীরের ত্রাস ছিল সইফুল্লা। শনিবার তাদের ছত্রুর জঙ্গলে দেখা যায়। তার পরই রবিবার সকাল থেকে জঙ্গি দমন অভিযানে নামে সেনা। পাহাড়ি এই জঙ্গলে এর আগেও জঙ্গিদের সঙ্গে বেশ কয়েক বার সংঘর্ষ হয়েছে বাহিনীর। রবিবার সকাল থেকেই জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। সেনা সূত্রে জানানো হয়, জঙ্গিরা সংখ্যায় ২-৩ জন ছিলেন। আর কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, জঙ্গল ঘিরে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

    টাইসনের টেক্কা

    জঙ্গি দমনে আবারও নজির গড়ল ভারতীয় সেনার প্রশিক্ষিত কুকুর। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনা (Indian Army)-র ২ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস)-এর প্রশিক্ষিত জার্মান শেফার্ড টাইসন এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তৈরি জঙ্গিদের লুকোনো ডেরায় ঢুকে পড়ে সে। ঠিক সেই সময়ই গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। গুলিতে আহত হয় টাইসন – তার পায়ে গুলি লাগে। কিন্তু সেখানেই থামেনি সে। আহত অবস্থাতেই এগিয়ে গিয়ে জঙ্গিদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় সেনাকে। ফলে দ্রুত ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী, এবং শেষ পর্যন্ত খতম করা হয় তিন জঙ্গিকে। আহত টাইসনকে এয়ারলিফট করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

    সেনার ‘চারপেয়ে সৈনিক’-এর গুরুত্ব

    এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, জঙ্গি দমন অভিযানে প্রশিক্ষিত কুকুরদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন ভূখণ্ডে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে এদের দক্ষতা অপরিসীম। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক অনুরূপ অভিযানে প্রাণ দিয়েছিল ‘ফ্যান্টম’ নামে এক বেলজিয়ান ম্যালিনয়। জঙ্গিদের সঙ্গে এনকাউন্টারে নিজের হ্যান্ডলার ও সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেয় সে, আর সেই অভিযানে শেষ পর্যন্ত খতম করা হয়েছিল জঙ্গিদের। টাইসনের বীরত্ব শুধু একটি সফল অভিযানের গল্প নয় – এটি সেনার সেই নীরব যোদ্ধাদের কথা মনে করিয়ে দেয়, যারা কথা বলতে পারে না, কিন্তু দায়িত্ব পালনে কখনও পিছিয়ে যায় না।

    কুখ্যাত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সইফুল্লা

    গত কয়েক বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে অশান্তির অন্যতম কারণ সইফুল্লা। কমপক্ষে ২০ বার সেনা-পুলিশের চোখে ধুলো দিয়েছিল সে। এমনকী দাড়ি কামিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ারও চেষ্টা করে। অবশেষে রবিবার কিশতওয়ারে সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ অপারেশনে নিকেশ হল ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জইশ-এ-মহম্মদ জঙ্গি সইফুল্লা। সেনা সূত্রে খবর, সইফুল্লা পাকিস্তানি নাগরিক। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে উত্থান তার। এক সময় আইএসআইয়ের মদতে পাহাড়-জঙ্গলের পথে ভারতে ঢোকে সে। এর পর একাধিক ষড়যন্ত্র চালায়। গত মাস দুয়েক ধরে উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা জইশ জঙ্গিদের খোঁজে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। সে রকমই এক অভিযানে সম্প্রতি আদিল নামে এক জইশ জঙ্গি নিহত হয়। নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে খবর, আদিল সইফুল্লার ‘ডান হাত’ ছিল। তার মৃত্যুর পরেই উপত্যকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছিল সইফুল্লা। এর জন্য দাড়ি কেটে ভোল বদলে ছিল সে। যদিও সেনার তৎপরতায় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয় জইশ জঙ্গি। এদিন সেখানেই গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় সইফুল্লার।

    নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা

    পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী জইশ-এ-মহম্মদের বেশ কয়েক জন জঙ্গি কিশতওয়ারের জঙ্গলে গা-ঢাকা দিয়েছে, এই খবর পেয়ে রবিবার সকালে ছত্রু বেল্টের পাসারকুট এলাকায় অপরাশেন চালায় সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। পাহাড়ের পাদদেশে একটি মাটির ঘরের ভেতর লুকিয়ে ছিল জঙ্গিরা। কাছাকাছি পৌঁছতেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। পালটা গুলি চালায় যৌথ বাহিনী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সইফুল্লা-সহ ৩ জঙ্গি নিহত হয়েছে গুলির লড়াইয়ে। অভিযান শেষে জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় দু’টি একে-৪৭ রাইফেল, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং অন্যান্য সামগ্রী। দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলছিল সইফুল্লা, কিন্তু টাইসনের তৎপরতায় শেষমেশ তার খোঁজ মেলে।

    কিশতওয়ারের জঙ্গলেই জঙ্গিদের আস্তানা

    প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে কিশতওয়ারে ‘অপারেশন ছত্রু’ শুরু করে। সেই অভিযানে বেশ কয়েক জন জঙ্গিকে খতম করে সেনা। কিশতওয়ারের এই জঙ্গলে মাঝেমধ্যেই জঙ্গিদের আশ্রয় নেওয়ার খবর আসে। তার পরই অভিযান চলে। রবিবারেও ছত্রুর সেই জঙ্গলে জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর আসতেই অভিযানে নেমেছে সেনা। এ মাসের গোড়াতে উধমপুরে জইশের দুই জঙ্গিকে নিকেশ করে সেনা। তাদের মধ্যে এক জন জইশের কমান্ডার ছিল। তাদের কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়। পাহাড়ি জঙ্গলে একটি গুহায় গোপন ডেরা বানিয়েছিল জঙ্গিরা। গত কয়েক বছর ধরে ওই এলাকাতে সক্রিয় ছিল জইশের এই কমান্ডার আবু মাভিয়া। গত জানুয়ারিতে কাঠুয়া এবং কিশতওয়ারের ছত্রু এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াইয়ের সাতটি ঘটনা ঘটেছে। সেই সংঘর্ষগুলির একটিতে পাকিস্তানে জইশ কমান্ডার উসমানের মৃত্যু হয়। ছত্রুতে আরও দুই জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়। জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ত্রাশি-১’ মূলত কিশতওয়ার জেলার দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গি দমনের লক্ষ্যে চালানো হচ্ছে। ছত্রু ছাড়াও সন্নার, দোলগাম এবং দিচ্ছর এলাকায় একাধিক সার্চ অপারেশন ও আক্রমণ চালানো হয়েছে।

  • T20 World Cup 2026: থামল বিজয়রথ! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হতাশাজনক হারের পরও বিশ্বকাপ নিয়ে প্রত্যয়ী সূর্য

    T20 World Cup 2026: থামল বিজয়রথ! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হতাশাজনক হারের পরও বিশ্বকাপ নিয়ে প্রত্যয়ী সূর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিনা লড়াইয়ে থামল সূর্যের বিজয়রথ। সুপার এইটে বড় ধাক্কা। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) কাছে ৭৬ রানে হেরে গেল ভারত। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১১ রানে অল আউট টিম ইন্ডিয়া। ১২ ম্যাচে জয়ের পর হার। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) স্পষ্ট দাবি—হারের দায় ব্যাটিংয়ের। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে এই আমেদাবাদেই ভারতের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, রোহিতদের বিজয়রথ থেমেছিল, সেখানেই ফের মুখ থুবড়ে পড়ল সূর্যের ভারত (Indian Cricket Team)। শুধু হার নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়া এতই বড় ব্যবধানে পরাজিত হলে যে ভারতের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়ে গেল।

    ২০২২ সালের পর আইসিসি টি-টোয়েন্টি-তে হার

    দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে রবিবার মাত্র ১১১ রানেই অল আউট হয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। গ্রুপ পর্বে অপেক্ষাকৃত কমজোরি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও রকমে সামাল দেওয়া গিয়েছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনও ম্যাচেই সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি গুরু গম্ভীরের ছাত্ররা। সুপার এইটে নামতেই বাস্তব পরিস্থিতির সামনে পড়ল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বিরাট ব্যবধানে হেরে গেল সূর্যকুমার যাদবের দল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর এই প্রথম কোনও একাধিক দেশের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে পরাজিত হল ভারতীয় দল। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের পর এই প্রথম আইসিসি প্রতিযোিগতার ম্যাচে হারের সম্মুখীন হল মেন ইন ব্লু-রা।

    পাওয়ারপ্লেতেই ভাঙন

    রান চেজের শুরুতেই ভাঙন। প্রথম ওভারে শূন্য রানে আউট ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan)। তিলক বর্মা (Tilak Varma) ১, অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ১৫—পাওয়ারপ্লের শেষে স্কোর ৩১/৩। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। এই কারণে ম্যাচের পর সূর্যকুমার বলেন, ‘১৮৮ তাড়া করতে গেলে পাওয়ারপ্লেতে ম্যাচ জেতা না গেলেও হেরে যাওয়া যায়। আমরা এই পর্যায়েই বেশি উইকেট হারিয়েছি। ছোট ছোট জুটি গড়তে পারিনি।’ পরিসংখ্যান বলছে, কাল ভারতের ব্যাটাররা থিতু হতে পারেননি। বড় শট খেলতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট পড়েছে। স্ট্রাইক রোটেশনও হয়নি ঠিকমতো। ফলে রান তোলার চাপ ক্রমশ বেড়েছে।

    মিডল অর্ডারে ধীরগতি

    পাওয়ার-প্লে-তে ব্যাকফুটে চলে গিয়েও নিজেদের কৌশল থেকে সরলেন না গম্ভীর, সূর্যকুমাররা। ঈশান, অভিষেক ফিরে যাওয়ার পরেও চলল সেই টুকটুক করে ব্যাটিং। পরিস্থিতির বিচার না করেই ধরে খেলতে গিয়ে বিপদ ঘনিয়ে এল। দক্ষিণ আফ্রিকাও ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল। তাই বলে ডেভিড মিলার এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ‘টেস্ট’ খেলার রাস্তায় হাঁটেননি। পাল্টা মারের রাস্তায় হেঁটে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। ভারত সেটাই করতে পারল না। ধরে খেলতে গিয়ে নিজেদের উপর চাপ এতটাই বাড়িয়ে ফেলল যে পরের দিকে আর সামলানো গেল না।

    ব্যাটিং ব্যর্থতাই দায়ী

    ম্যাচ শেষে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন অধিনায়ক সূর্য কুমার। কিন্তু পরিকল্পনা কই? ভারতের ব্যাটারদের খেলা নিয়ে প্রতি ম্যাচেই প্রশ্ন থাকছে। কেউ না কেউ পারফরম্যান্স করে ম্যাচ বার করে দিচ্ছিলেন ঠিক, কিন্তু কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে সেই চাল চলে না। তখন টি-টোয়েন্টি হোক বা টেস্ট, ক্রিকেট বুঝিয়ে দেয় এটা ওয়ান-ম্যান গেম নয়, টিম গেম। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা যেখানে একের পর এক মন্থর বল করছেন, তা খেলার জন্য কেন পরিকল্পনা থাকবে না ব্যাটারদের? অনুশীলনে ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকের কাজটা কী? আগের চারটি ম্যাচে ওপেনিং জুটি টিকতে পারেননি। মূলত অভিষেক শর্মার ব্যর্থতার জন্যই। এ দিন সেই তালিকায় নাম লেখালেন ঈশান কিশন। অভিষেকের বদলে তিনি স্ট্রাইক নিয়েছিলেন। চতুর্থ বলেই তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন এডেন মার্করাম। অভিষেক কোনও মতে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ১৫ রান করলেন। তবে যে বলে আউট হলেন তাতে শিক্ষানবিশ ক্রিকেটারও লজ্জা পাবেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচে ওপেনারেরা এ ভাবে ব্যর্থ হলে সাফল্যের আশা করা যায় না।

    কেন নেই অক্ষর প্যাটেল

    আমেদাবাদের পিচে কী ভাবে বোলিং করতে হয়, তা ভারতকে শিখিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। কেশব মহারাজের মতো বোলার যেখানে এক ওভারে তিনটি উইকেট তুলে নিলেন, সেখানে ভারতের স্পিনারদের প্রাপ্তি মাত্র একটি উইকেট। বরুণ চক্রবর্তী ভারতের স্ট্রাইক বোলার। তিনি এমন বল করলেন যে লোকানো যাচ্ছিল না। শেষ ওভারে ডেভিড মিলারকে আউট করলেন ঠিকই। তত ক্ষণে মিলার যা ক্ষতি করার করে দিয়েছেন। আমেদাবাদের পিচে খেলে বড় হয়েছেন অক্ষর প্যাটেল। মাঠ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে নাদিয়াদে থাকেন। তিনি দলের সহ-অধিনায়কও বটে। তাঁকেই কি না এই ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হল? যে কোনও দিন অলরাউন্ডার হিসেবে ওয়াশিংটনের থেকে অক্ষর এগিয়ে থাকবেন। তার উপর তাঁর ঘরের মাঠে দলের বাইরে অক্ষর। মাঠে বল হাতে থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার আরও ২০ রান হয়তো কমতে পারত। যে ২০ রানই ২০ ওভারের ক্রিকেটে মানসিক ফারাক গড়ে দেয়।

    সূর্যদের শেষ-চারের পথ

    এই পরাজয়ের পর ভারতের আর ভুলত্রুটির কোনও অবকাশ নেই। সুপার এইটে সব দলই তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। ভারতীয় দল নিজেদের পরের ম্যাচগুলি খেলবে জিম্বাবোয়ে (Zimbabwe) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) বিরুদ্ধে। ভারতীয় দলকে এই দুই ম্যাচে জিততে তো হবেই। পাশাপাশি টিম ইন্ডিয়াকে আশা করতে হবে প্রোটিয়া দলও যেন বাকি দুই প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে। তাহলে সেক্ষেত্রে দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপ ১ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে টিম ইন্ডিয়া। তবে এর অন্যথা হলে? দক্ষিণ আফ্রিকা যদি জিম্বাবোয়ে বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরাজিত হয়, তাহলে সমস্যায় পড়বে ভারত।

    বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

    প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে এত বড় ব্যবধানে হারের ফলে ভারতের (India vs South Africa) নেট রান রেটও বেশ ধাক্কা খেয়েছে। এই হারে ভারতের নেট রান রেট নেমে গেছে মাইনাস ৩.৮০০-তে। সুপার এইটে এখন পরিস্থিতি জটিল। তাই ভারতীয় দলকে সেক্ষেত্রে নিজেদের ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিততে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পরাজয় শুধু পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাসেও ধাক্কা। তবে অধিনায়ক সূর্যকুমার পরিষ্কার জানিয়েছেন, এটা ঘাবড়ানোর নয়, ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। সূর্য বলেন, ‘আমরা আমাদের ব্র্যান্ডের ক্রিকেটই খেলব। ব্যাট, বল, ফিল্ডিং—সব বিভাগেই উন্নতি করতে হবে। তারপর সময় বলবে।’

  • Mukul Roy Demise: প্রয়াত মুকুল রায়, কেন তাঁকে বলা হত ‘বাংলার রাজনীতির চাণক্য’?

    Mukul Roy Demise: প্রয়াত মুকুল রায়, কেন তাঁকে বলা হত ‘বাংলার রাজনীতির চাণক্য’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের মৃত্যুতে এক দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল। রবিবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭১ বছর বয়সে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়ান কেবল একজন নেতার মৃত্যু নয়, বরং এমন এক রাজনৈতিক কৌশলবিদের অবসান, যিনি তিন দশক ধরে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছিলেন। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী থেকে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ কৌশলবিদ হয়ে ওঠেন এবং পরে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন মুকুল রায়।

    সংগঠক থেকে ক্ষমতার কুশীলব

    মুকুল রায়ের রাজনৈতিক উত্থান ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক বিস্তারের সঙ্গে। ১৯৯৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম হয়ে তিনি জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন এবং বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত করেন। তাঁর কৌশলগত দক্ষতার জন্যই তিনি “বাংলার রাজনীতির চাণক্য” নামে পরিচিত হন। জেলা স্তরে দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। দলবদল করানো, জোট গঠন এবং ভোটের অঙ্ক কষায় তাঁর পারদর্শিতা ছিল অসাধারণ। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনিক পর্ব

    দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি তাঁকে রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরে পরিচিতি দেয়। প্রথমে জাহাজ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে ২০১২ সালে রেলমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই সময় থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাঙনের ভিত্তি তৈরি করে।

    বিজেপিতে যোগ ও বিরোধী শক্তির উত্থান

    ২০১৭ সালে তাঁর বিজেপিতে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে বড় মোড় আনে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। তিনি বিজেপির অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হয়ে ওঠেন। রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করেন। তাঁর সংগঠন গড়ার অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান বিজেপিকে দ্রুত শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এর ফল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্পষ্ট হয়, যখন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করে এবং তৃণমূলের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। এই সাফল্যের নেপথ্যে মুকুল রায়ের কৌশলগত ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রভাব হ্রাস ও তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপিতে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমতে থাকে। সেবারের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণনগর থেকে জয়ী হন মুকুল। তবে, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে বিরোধী দলনেতা হওয়ার এক মাসের মধ্যেই মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা আদর্শের চেয়ে প্রভাব ও অবস্থানের উপর বেশি নির্ভরশীল ছিল।

    অবসর ও অসুস্থতা

    শেষ কয়েক বছরে গুরুতর অসুস্থতা ও ডিমেনশিয়ার কারণে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে সরে যান। বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও শারীরিক অবনতিই তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়কে চিহ্নিত করে। মুকুল রায়কে মনে রাখা হবে একজন দক্ষ রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে, যিনি তৃণমূলের উত্থান, বিজেপির বিস্তার এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্র—এই তিন পর্বেরই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও নির্মাতা ছিলেন।

  • Daily Horoscope 23 February 2026: প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 23 February 2026: প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) বাড়তি ব্যবসা থাকলে বিনিয়োগ করবেন না।

    ২) মা-বাবার সঙ্গে জরুরি আলোচনা হতে পারে।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    বৃষ

    ১) বুদ্ধির ভুলে ক্ষতি হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় কর্মচারীদের সঙ্গে বিবাদে যাবেন না।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    মিথুন

    ১) মনের মতো স্থানে ভ্রমণের জন্য আনন্দ লাভ।

    ২) মিথ্যা বদনাম থেকে সাবধান।

    ৩) ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    কর্কট

    ১) কর্মক্ষেত্রে উন্নতি শেষ মুহূর্তে গিয়ে আটকে যাওয়ায় মানসিক চাপ বৃদ্ধি।

    ২) সকাল থেকে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    সিংহ

    ১) খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) সপরিবার ভ্রমণে বাধা।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কন্যা

    ১) কোনও নিকটাত্মীয়ের চক্রান্তে সংসারে বিবাদ।

    ২) ব্যবসায় লাভ বাড়তে পারে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    তুলা

    ১) মনে দুর্বুদ্ধির উদয় হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় শত্রুর দ্বারা ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) ধৈর্য্য ধরুন।

    বৃশ্চিক

    ১) ব্যবসার ক্ষেত্রে তর্ক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    ২) আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    ধনু

    ১) কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের সুযোগ।

    ২) আর্থিক উন্নতির জন্য খুব ভালো সময়।

    ৩) বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান।

    মকর

    ১) বিষয়সম্পত্তি কেনাবেচা নিয়ে গুরুজনের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে বাড়িতে বিবাদ হতে পারে।

    ২) কোনও মহিলার জন্য পরিবারে আনন্দ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩) সখ পূরণ হবে।

    কুম্ভ

    ১) সকালের দিকে পেটের ব্যথা নিয়ে কষ্ট বাড়তে পারে।

    ২) কিছু কেনার জন্য খরচ হতে পারে।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    মীন

    ১) সপরিবার ভ্রমণে যাওয়ার আলোচনা এখন বন্ধ রাখাই ভালো।

    ২) সম্মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) ধৈর্য ধরুন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 588: “ঘোড়ার চক্ষের দুইদিকে ঠুলি না দিলে, ঘোড়া কি এগুতে চায়? রিপু বশ না হলে কি ঈশ্বরকে পাওয়া যায়?”

    Ramakrishna 588: “ঘোড়ার চক্ষের দুইদিকে ঠুলি না দিলে, ঘোড়া কি এগুতে চায়? রিপু বশ না হলে কি ঈশ্বরকে পাওয়া যায়?”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২২শে অক্টোবর
    যুগধর্ম কথাপ্রসঙ্গে—জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ

    ডাক্তার—কিন্তু বাপ ছেলের হাত ধরা ভাল নয়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—তা নয়। মহাপুরুষদের বালক স্বভাব। ঈশ্বরের কাছে তারা সর্বদাই বালক, তাদের অহংকার থাকে না। তাদের সব শক্তি ঈশ্বরের শক্তি, বাপের শক্তি, নিজের কিছুই নয়। এইটি তাদের দৃঢ় বিশ্বাস (Kathamrita)।

    বিচারপথ ও আনন্দপথ—জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ

    ডাক্তার—আগে ঘোড়ার চক্ষের দুইদিকে ঠুলি না দিলে, ঘোড়া কি এগুতে চায়? রিপু বশ না হলে কি ঈশ্বরকে পাওয়া যায়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ—তুমি যা বলছো, ওকে বিচারপথ বলে—জ্ঞানযোগ বলে। ও-পথেও ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। জ্ঞানীরা বলে, আগে চিত্তশুদ্ধি হওয়া দরকার। আগে সাধন চাই, তবে জ্ঞান হবে।

    “ভক্তিপথেও তাঁকে পাওয়া যায়। যদি ঈশ্বরের পাদপদ্মে একবার ভক্তি হয়, যদি তাঁর নামগূনগান করতে ভাল লাগে (Kathamrita), ইন্দ্রিয় সংযম আর চেষ্টা করে করতে হয় না। রিপুবশ আপনা-আপনি হয়ে যায়।

    “যদি কারও পুত্রশোক হয়, সেদিন সে কি আর লোকের সঙ্গে ঝগড়া করতে পারে, না, নিমন্ত্রণে গিয়ে খেতে পারে? সে কি লোকের সামনে অহংকার করে বেড়াতে পারে, না, সুখ সম্ভোগ করতে পারে?

    “বাদুলে পোকা যদি একবার আলো দেখতে পায়, তাহলে কি সে আর অন্ধকারে থাকে? ডাক্তার (সহাস্যে)—তা পুড়েই মরুক সেও স্বীকার।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— না গো! ভক্ত কিন্তু বাদুলে পোকার মতো পুড়ে মরে না। ভক্ত যে আলো দেখে ছুটে যায়, সে যে মণির আলো! মণির আলো খুব উজ্জ্বল বটে, কিন্তু স্নিগ্ধ আর শীতল। এ-আলোতে গা পুড়ে না, এ-আলোতে শান্তি হয়, আনন্দ হয়।

    জ্ঞানযোগ বড় কঠিন

    “বিচারপথে জ্ঞানযোগের পথে, তাঁকে পাওয়া যায়। কিন্তু এ-পথ বড় কঠিন। আমি শরীর নই, মন নই, বুদ্ধি নই। আমার রোগ নাই, শোক নাই, অশান্তি নাই; আমি সচ্চিদানন্দস্বরূপ, আমি সুখ-দুঃখের অতীত, আমি ইন্দ্রিয়ের বশ নই, এ-সব কথা মুখে বলা খুব সোজা। কাজে করা, ধারণা হওয়া বড় কঠিন। কাঁটাতে হাত কেটে যাচ্ছে, দরদর করে রক্ত পড়ছে, অথচ বলছি, কই কাঁটায় আমার হাত কাটে নাই, আমি বেশ আছি। এ-সব বলা সাজে না। আগে ওই কাঁটাকে জ্ঞানাগ্নিতে পোড়াতে হবে তো।”

    বইপড়া জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য—ঠাকুরের শিক্ষাপ্রণালী

    “অনেকে মনে করে, বই না পড়ে বুঝি জ্ঞান হয় না, বিদ্যা হয় না। কিন্তু পড়ার চেয়ে শুনা ভাল, শুনার চেয়ে দেখা ভাল। কাশীর (Ramakrishna) বিষয় পড়া, কাশীর বিষয় শুনা, আর কাশীদর্শন অনেক তফাত।

  • Maoist Leaders: তেলঙ্গনা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ দুই মাও শীর্ষ নেতার

    Maoist Leaders: তেলঙ্গনা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ দুই মাও শীর্ষ নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রবীণ মাওবাদী নেতা দেবজি এবং মল্লা রাজু রেড্ডি, যিনি ‘সংগ্রাম’ নামেও পরিচিত, তেলঙ্গনা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। রবিবার একথা জানিয়েছেন ছত্তিশগড়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় শর্মা। নকশালবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটিকে তিনি একটি বড় সাফল্য বলেই উল্লেখ করেন। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শর্মা জানান, বসভারাজুর পর দেবজি সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব নেন এবং তিনি বহু বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন। শর্মা বলেন, “প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বসভারাজুর পর সাধারণ সম্পাদক হওয়া দেবজি তেলঙ্গনা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।”

    শীর্ষ মাওবাদী নেতা (Maoist Leaders)

    তিনি আরও বলেন, “মল্লা রাজু রেড্ডিও ছত্তিশগড়ের আবুজমাড় অঞ্চলে এবং পার্শ্ববর্তী গড়চিরোলি এলাকায় বহু দশক ধরে সক্রিয় শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।” এই আত্মসমর্পণকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য আখ্যা দিয়ে শর্মা বলেন, “নকশালবিরোধী অভিযান এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমার বিশ্বাস, নকশালবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে আমরা পৌঁছে গিয়েছি। শীর্ষ পর্যায়ের মাত্র একজন নেতা বাকি রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত বয়স্ক। তাঁকে বাদ দিলে আরও এক-দু’জন আছেন, কিন্তু তাঁরা এই দু’জনের মতো সক্রিয় নন। বাকি ব্যক্তিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে।”

    অভিযানের প্রসঙ্গ

    করেগুট্টায় চলমান অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে শর্মা জানান, তল্লাশি অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ৮৯টি আইইডি (তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক যন্ত্র) উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, “সেখানে নকশালদের যে ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে পড়ার মুখে। আমরা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যেই নকশালবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হবে।” এ পর্যন্ত অগ্রগতির জন্য তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রণীত কৌশল এবং মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাইয়ের দেওয়া কার্যকরী স্বাধীনতাকে কৃতিত্ব দেন।

     

  • PM Modi: এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রবিবার তিনি একে দেশের সম্মানহানি ঘটানো লজ্জাজনক প্রদর্শন বলে অভিহিত করেন। সংবাদমাধ্যমকে সঠিকভাবে প্রতিবেদন (AI Summit) করার আহ্বানও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী এআই সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে এবং ভারত–মার্কিন অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় যুব কংগ্রেসের প্রতিবাদের নিন্দে করেন।

    কংগ্রেস পার্টির সঙ্গেই যুক্ত (PM Modi)

    মীরাটে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেখুন কী দুর্ভাগ্য। এত পুরানো একটি দলের নেতারা লজ্জা পাওয়ার বদলে, যারা দেশের অসম্মান করছে তাদের নির্লজ্জভাবে সমর্থন করছেন। এই বিষয়টি কংগ্রেস পার্টির সঙ্গেই যুক্ত।” প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমি সব সময় প্রার্থনা করি ঈশ্বর যেন আমাকে সংবাদমাধ্যমকে সবরকমভাবে সহ্য করার শক্তি দেন। কিন্তু আজ আমি সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করছি— যখন আমরা এ ধরনের কাজের সমালোচনা করি, তখন দয়া করে এমন শিরোনাম করবেন না যে মোদি বিরোধীদের পরাজিত করেছেন। কংগ্রেসকে বাঁচানোর এই কৌশল বন্ধ করুন।”

    কংগ্রেসের পাপ রক্ষার কাজ

    নির্বাচিত প্রতিবেদন এবং কংগ্রেসের পাপ রক্ষার কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিরোধীরা বিরোধী সেজে কংগ্রেসকে রক্ষা করছে। পাপ করে কংগ্রেস, ফল ভোগ করতে হয় তাদেরই। কিন্তু মিডিয়া ‘কংগ্রেস’ শব্দটি দেখে না, শুধু ‘বিরোধী’ শব্দটি দেখে। কেন? কেন কংগ্রেসকে রক্ষা করছেন (PM Modi)?” তিনি জানান, অন্য বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় অংশ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ কি এই পাপ করেছে? না (AI Summit)। ডিএমকে সদস্যরা? বিএসপি সদস্যরা? ফারুক আবদুল্লার দল? না। শুধু এবং শুধু ‘সিরফিরা’ (উন্মাদ) ও ‘বেলাগাম’ (বেপরোয়া) কংগ্রেস নেতারাই দেশ ধ্বংসে উঠেপড়ে লেগেছে।”

    বিরোধী সহকর্মীদের ধন্যবাদ

    প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে দেশের ওপর বোঝা বলে উল্লেখ করেন এবং প্রতিবাদটির নিন্দে করার জন্য অন্যান্য বিরোধী সহযোগীদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমি প্রকাশ্যে এই বিরোধী সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা সত্য ও দেশের মর্যাদার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।” তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে হলে মানুষের হৃদয় জয় করতে হয়, মহিলা সাংসদদের পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করানো নয় (PM Modi)। বাজেট অধিবেশনের সময় লোকসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে কংগ্রেস মহিলা সাংসদদের তাঁর আসন ও ট্রেজারি বেঞ্চের কাছে পাঠিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলটি গঠনমূলক ভূমিকা নেওয়ার বদলে কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে (AI Summit)।

    কংগ্রেসের মিত্রদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে

    তিনি বলেন, “তাঁরা নিজেরাই সংসদে কার্যকর হতে পারেন না, তাই সহকর্মীদেরও কথা বলার সুযোগ দেন না। তাঁরা সংসদ চলতে দেয় না। এতে কংগ্রেসের মিত্রদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে, এবং তারা তা বুঝেছে। দিল্লিতে তারা যে নগ্নতা প্রদর্শন করেছে, তাতে তাদের সব মিত্র স্তম্ভিত হয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছে।” এর আগে আজ প্রধানমন্ত্রী মোদি শতাব্দী নগর নমো ভারত স্টেশনে মিরাট মেট্রো ও নমো ভারত ট্রেনের উদ্বোধন করেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উত্তরপ্রদেশ বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী-সহ অন্য আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী মিরাটে প্রায় ১২,৯৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং সেগুলি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন (AI Summit)।

     

  • US Military Strike Threat: ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াল ইরানে, সংঘর্ষ

    US Military Strike Threat: ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াল ইরানে, সংঘর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াল ইরানে (Iran)। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পাল্টা গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে (US Military Strike Threat)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং স্থগিত পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে এই অস্থিরতা নতুন করে সামনে এসেছে। অর্থনৈতিক সংকট ও অতীতের বিক্ষোভ দমন অভিযানের ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল কারণ।

    সরকারবিরোধী স্লোগান (US Military Strike Threat)

    শনিবার ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। পরে শিক্ষার্থীরা পাল্টা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এটি ছিল সাম্প্রতিক ক্ষোভের প্রকাশ। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তেহরানের শীর্ষ টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড়ের মধ্যে মারামারি শুরু হয় এবং মানুষ “বি শরাফ” (ফারসি ভাষায় যার অর্থ ‘লজ্জাজনক’) বলে চিৎকার করে। পার্সিয়ান ভাষার টিভি চ্যানেল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনালে’ প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বড় একটি জনতা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। পরে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষে কয়েকজন জখম হয়েছে বলে খবর।

    “খামেনেইর মৃত্যু হোক”

    বিক্ষোভকারীদের “খামেনেইর মৃত্যু হোক” এবং “কাজ শেষ করো” ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়। তারা প্রাক্তন শাহের প্রশংসা করে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও জানায়। ফার্স প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষ ইরানের পতাকা নাড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছে এবং মুখোশ পরা আর একটি দলের মুখোমুখি অবস্থান করছে। স্যুট পরিহিত ব্যক্তিরা বিক্ষোভকারীদের আটকে রাখার চেষ্টা করছে (US Military Strike Threat)। ১৮ ফেব্রুয়ারিতেও এএফপি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানিরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। তারা সারা দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় নিহতদের স্মরণে জড়ো হয়েছিল।

    উত্তেজনা চরমে

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বর্তমানে চরমে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সীমিত হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- ওমানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করলেও, ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ত্যাগ করতে হবে, এ বিষয়ে এখনও কোনও সমঝোতা হয়নি (Iran)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

    ইরানে বিক্ষোভ

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন অর্থনীতি ভেঙে পড়ার প্রতিবাদে দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামে। পরে আন্দোলন বিস্তৃত হয়ে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। খামেনেই নেতৃত্বাধীন সরকার কঠোর দমনপীড়নের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে (US Military Strike Threat)। ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ৩,০০০-এরও বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, এই হিংসা “জঙ্গি কার্যকলাপ” এবং ইরানের শত্রুদের প্ররোচনায় ঘটেছে (Iran)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৭,০০০-এরও বেশি। ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের অর্থনৈতিক দাবির বৈধতা স্বীকার করলেও “চিরশত্রু” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে (US Military Strike Threat)।

    ট্রাম্পের নির্দেশ

    ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ায় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পাঠিয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে গভর্নরদের সঙ্গে নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “তেহরান যদি চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে “খারাপ কিছু” ঘটবে। চুক্তির জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। গত বছর ব্যর্থ পারমাণবিক কূটনীতি ও ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল (Iran)।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরান জানিয়েছে, তারা শিগগিরই একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেবে। তবে ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রবীণ মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তি বিবেচনা করতে প্রস্তুত, যেখানে “সীমিত, প্রতীকী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ” অনুমোদিত হতে পারে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র শূন্য মাত্রার সমৃদ্ধকরণের দাবি করেনি।” খামেনেই সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে হামলা চালালে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে (US Military Strike Threat)। তাহলে কি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ইরানে হামলা করবেন? তা হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে (Iran)।

     

  • Yogi Adityanath: লগ্নি টানতে সিঙ্গাপুর-জাপানের উদ্দেশে রওনা যোগী আদিত্যনাথের

    Yogi Adityanath: লগ্নি টানতে সিঙ্গাপুর-জাপানের উদ্দেশে রওনা যোগী আদিত্যনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে রবিবার সিঙ্গাপুর ও জাপানের উদ্দেশে রওনা দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। এই সফরের লক্ষ্য হল বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার (PM Modi) করা এবং উত্তরপ্রদেশকে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে এই সফরকে সাংস্কৃতিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। গত আট বছরে রাজ্যে এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দর, ডিফেন্স করিডর ও শিল্পকেন্দ্র-সহ দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। এখন লক্ষ্য হল, আরও বেশি করে বিদেশি সংস্থা ও উন্নত প্রযুক্তি আনা, যাতে উন্নয়নের গতি বাড়ানো যায়।

    কী বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা (Yogi Adityanath)

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগ অনেকের কাছে মনে করিয়ে দেয় ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির কৌশলের কথা। বৈশ্বিক সফর ও ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সম্মেলনের মাধ্যমে মোদি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান এবং গুজরাটে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে আকৃষ্ট করেন। সুজুকি, হোন্ডা ও টয়োটার মতো জাপানি অটোমোবাইল সংস্থাগুলি সেই সময় গুজরাটে লগ্নি করে। সিঙ্গাপুরের নগর পরিকল্পনার ধারণাও অধ্যয়ন ও প্রয়োগ করা হয়। মোদি একবার বলেছিলেন, তিনি গুজরাটের মুখ হয়ে বিদেশে গিয়ে বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনতেন। যোগী আদিত্যনাথও উত্তরপ্রদেশের জন্য একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করছেন—সরাসরি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যকে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর জন্য প্রস্তুত গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরছেন (Yogi Adityanath)।

    রোডশোর আয়োজন

    মুখ্যমন্ত্রী ২২ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে পৌঁছবেন এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে থাকবেন। এই পর্যায়ে স্মার্ট সিটি উন্নয়ন, নগর পরিবহণ ব্যবস্থা, জল ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিনিয়োগকারী রোডশোর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে উত্তরপ্রদেশকে বিনিয়োগবান্ধব রাজ্য হিসেবে তুলে ধরা হবে। সিঙ্গাপুর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (SICCI) এবং ভারতের ফিকি (FICCI)-র মতো ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে (PM Modi)। পরিকাঠামো, লজিস্টিকস, আবাসন ও ডিজিটাল পরিষেবা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে (Yogi Adityanath)। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, বিশেষত যাঁদের শেকড় উত্তরপ্রদেশে। আধিকারিকরা মনে করেন, প্রবাসী ভারতীয়রা বৈশ্বিক সংস্থা ও দেশের সুযোগের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর, আধুনিক আবাসন ও দক্ষ জনপরিষেবার জন্য সিঙ্গাপুর সুপরিচিত—এই মডেল থেকে শিক্ষা নিতে চায় উত্তরপ্রদেশ।

    সফর করবেন জাপানও

    ২৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যোগী আদিত্যনাথ জাপানের টোকিও, ইয়ামানাশি, ওসাকা ও কিয়োটো সফর করবেন। টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে “জাপান-উত্তরপ্রদেশ পার্টনারশিপ ফর ম্যানুফ্যাকচারিং, মবিলিটি, অ্যান্ড টেকনোলজি” শীর্ষক এক বড় ব্যবসায়িক সম্মেলন। অটোমোবাইল, বৈদ্যুতিক যান, ইলেকট্রনিক্স, রেল, রাসায়নিক ও লজিস্টিকস খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন (Yogi Adityanath)। জাপান ভারতের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। উত্তরপ্রদেশের ইতিমধ্যে ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের সঙ্গে একটি সমঝোতা রয়েছে। শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বৌদ্ধ পর্যটন, যোগ ও আয়ুর্বেদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে (PM Modi)। সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলির একটি হল জাপানের উচ্চগতির ম্যাগলেভ ট্রেনে মুখ্যমন্ত্রীর ১০০ কিলোমিটারের পরীক্ষামূলক যাত্রা। এই ট্রেন চৌম্বকীয় লেভিটেশন প্রযুক্তিতে ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বেগে চলে এবং রেললাইনের স্পর্শ ছাড়াই চলাচল করে। উত্তরপ্রদেশ যেহেতু উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছে, এই অভিজ্ঞতা উচ্চগতির রেল সম্ভাবনা বুঝতে সহায়ক হবে (Yogi Adityanath)।

    বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে

    যোগীর এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হতে পারে গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (YEIDA) অধীনে ‘জাপান সিটি’ ও ‘সিঙ্গাপুর সিটি’ গড়ে তোলার অগ্রগতি। জাপান সিটি ৫০০ একর জমিতে সেক্টর ৫এ-তে এবং সিঙ্গাপুর সিটি ৫০০ একর জমিতে সেক্টর ৭-এ গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ জমি শিল্পের জন্য, ১২ শতাংশ আবাসনের জন্য, ১৩ শতাংশ বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এবং ৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হবে। এই প্রকল্পগুলি ইপিসি মডেলে বাস্তবায়িত হবে। জাপান ও সিঙ্গাপুরের পরিকল্পনা মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। দুই দেশের সংস্থাগুলিকে কারখানা ও অফিস তৈরির জন্য জমি দেওয়া হতে পারে। সফল হলে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে (Yogi Adityanath)। এই সফরে যোগী আদিত্যনাথ তাঁর ঐতিহ্যবাহী গেরুয়া কুর্তা-চোলা পরিধান করবেন। নাথ সম্প্রদায়ের প্রধান পুরোহিত হিসেবে গেরুয়া তাঁর নিয়মিত পোশাক। তবে এই প্রথম কোনও ভারতীয় সাংবিধানিক পদাধিকারী সরকারি সফরে গেরুয়া পোশাকে বিদেশ সফর করবেন (PM Modi)।

    গেরুয়া ত্যাগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক

    সমর্থকদের মতে, এটি ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। ভারতীয় ঐতিহ্যে গেরুয়া ত্যাগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। জাপান, যা বৌদ্ধ মন্দির ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত, ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক শেয়ার করে। উত্তরপ্রদেশে সারনাথ ও কুশীনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ তীর্থস্থান রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বৌদ্ধ পর্যটন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী টোকিও থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের একটি শান্ত মন্দিরেও যেতে পারেন। অনেকে মনে করেন, অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বন্ধনও এতে দৃঢ় হবে। যোগী সরকার জানিয়েছে, পরিকাঠামো ও ব্যবসার সুবিধার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে প্রায় ২৩ কোটি জনসংখ্যার এই রাজ্যে দ্রুত শিল্পোন্নয়ন অপরিহার্য (Yogi Adityanath)।

    জাপান থেকে বৈদ্যুতিক যান, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত উৎপাদন ও উচ্চগতির রেল ব্যবস্থায় বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর থেকে স্মার্ট সিটি, জল পরিশোধন ও লজিস্টিক পার্কে দক্ষতা আনার লক্ষ্য রয়েছে (PM Modi)। এই বিদেশ সফর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নজর থাকবে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির ওপর। সফল হলে এটি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যের পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে। একই সঙ্গে গেরুয়া পোশাক পরিহিত এক মুখ্যমন্ত্রীর বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ভারতের উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শেকড়ে দৃঢ় থাকার বার্তাও বহন করতে পারে (Yogi Adityanath)।

     

LinkedIn
Share