Tag: news in bengali

news in bengali

  • Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তনের হাওয়া পাকিস্তানে (Lahore Street Name Restoration)। দেশভাগের আট দশক পর ইসলামি রাষ্ট্রে কদর বেড়েছে হিন্দু-জৈন নামের! অমৃতসর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরে সম্প্রতি একাধিক ঐতিহাসিক এলাকার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একদা হিন্দু অধ্যুষিত লাহোরে কমপক্ষে ন’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মোড় ও এলাকার দেশভাগের আগে যে নাম ছিল,সেই নামই ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার। কয়েক দশক আগে ইসলামিকরণ নীতির সময়ে বদলে দেওয়া পুরোনো হিন্দু, জৈন ও ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ইসলামপুরা’-র নাম আবার ‘কৃষ্ণনগর’ এবং ‘বাবরি মসজিদ চক’-এর নাম ‘জৈন মন্দির চক’ করা হয়েছে।

    কেন এই পরিবর্তন

    প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আসলে শহরের বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করা। দেশভাগের আগে লাহোর ছিল বহুসাংস্কৃতিক শহর। হিন্দু, শিখ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতেন। সেই সময়ের বহু রাস্তা, মহল্লা, বাজার এবং চৌকের নাম সেই সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাক্ষী ছিল। কিন্তু ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানে নতুন জাতীয় পরিচয় গঠনের অংশ হিসেবে বহু নাম বদলে দেওয়া হয়। এবার সেই পুরনো নামই আবার ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপ কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য নয়, বরং লাহোরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক পরিচয়কে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।

    ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর প্রকল্প

    এই নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আসলে আরও বড় একটি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় লাহোরের ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ এবং পুরনো কুস্তির আখড়াও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান গ্রেটার ইকবাল পার্ক, যা আগে মিন্টো পার্ক নামে পরিচিত ছিল, সেখানে ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং আখড়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসময় পাকিস্তানের ক্রিকেটার ইনজামাম উল হক সেখানে খেলেছেন। দেশভাগের আগে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি লালা অমরনাথ-ও সেখানে অনুশীলন করতেন বলে জানা যায়। এছাড়া ঐতিহাসিক কুস্তির আখড়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিংবদন্তি পহেলওয়ান গামা পহেলওয়ান এবং ইমাম বক্স-এর নামও।

    সিন্ধু প্রদেশেও গৃহীত হতে পারে এই পদক্ষেপ

    এই পরিবর্তনগুলো উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই নতুন সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কোনও কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনও বড় ধরনের বিরোধিতা গড়ে তুলতে পারেনি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের মতে, পাক দিল্লি গেট-সহ লাহোরের প্রাচীর ঘেরা শহরের আটটি ফটকই পুনরুদ্ধার করা হবে। সূত্রমতে, নাম পরিবর্তন অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে পাকিস্তানের সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও মূল নামগুলো পুনর্বহাল করা হতে পারে।

    কার উদ্যোগে এই পরিবর্তন

    এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ প্রকল্পের আওতায়। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সমর্থনেই এই প্রকল্প এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজও এই ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধার প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। কেউ একে পাকিস্তানের অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের নতুন বিতর্ক

    এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পাকিস্তানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এটি লাহোরের বহুসাংস্কৃতিক অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দেশভাগের পর মুছে যাওয়া ইতিহাসকে পুনরায় সামনে আনার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ এটি। রাস্তার নাম বদল শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় — এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শহরের স্মৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের পরিচয়ের প্রশ্নও। বহু ক্ষেত্রে সরকারি নথিতে নাম বদলানো হলেও সাধারণ মানুষের মুখে পুরোনো নামই প্রচলিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদরা। সরকারের যুক্তি, ইউরোপের দেশগুলির মতোই পাকিস্তানে ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা উচিত। এর ফলে হেরিটেজ ট্যুরিজমের যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনি সরকারের কোষাগারের রাজস্ব জমা পড়বে

    ইসলামপুরা টু কৃষ্ণনগর

    ‘ইসলামপুরা’ এলাকার নাম পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে। দেশভাগের আগে ওই এলাকার নাম ছিল ‘কৃষ্ণনগর’। পরে পাকিস্তানের ইসলামিক পরিচয় জোরদার করার সময়ে ওই এলাকার নাম বদলে ‘ইসলামপুরা’ করা হয়। এ বার সেই পুরোনো নামই ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বাবরির রোষে ‘জৈন মন্দির চক’

    একইভাবে, ‘বাবরি মসজিদ চক’ আবার ‘জৈন মন্দির চক’ নামে পরিচিত হবে। এই ‘জৈন মন্দির চক’-এর ইতিহাসও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, লাহোরে এক সময়ে একটি ঐতিহাসিক জৈন মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার পরে পাকিস্তানে ক্ষোভ ছড়ায় এবং প্রতিশোধের আবহে ওই জৈন মন্দির আক্রমণ ও ভাঙচুর করা হয়। পরে এলাকার নাম বদলে ‘বাবরি মসজিদ চক’ রাখা হয়েছিল। এখন সেই নাম সরিয়ে ফের ‘জৈন মন্দির চক’ নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে।

    শুধু এই দুই জায়গাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি এলাকার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লক্ষ্মী চক’, ‘ধরমপুরা’, ‘রাম গলি’-র মতো এলাকা।

    একনজরে পরিবর্তিত নয়া নাম—

    ইসলামপুরা: কৃষ্ণনগর

    সুন্নাতনগর: সন্ত নগর

    মওলানা জাফর চক: লক্ষ্মী চক

    বাবরি মসজিদ চক: জৈন মন্দির চক

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    স্যর আগা খান চক: ডেভিস রোড

    আল্লামা ইকবাল রোড: জেল রোড

    ফাতিমা জিন্নাহ রোড: কুইন্স রোড

    বাগ-ই-জিন্নাহ: লরেন্স রোড

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    হামিদ নিজামী রোড — টেম্পল স্ট্রিট

    নিশতার রোড — ব্র্যান্ডরেথ রোড

    রেহমান গলি — রাম গলি

    গাজিয়াবাদ — কুমহারপুরা

    জিলানি রোড — আউটফল রোড

    শাহরাহ-ই-আবদুল হামিদ বিন বাদিস — এমপ্রেস রোড

  • Sona Pappu ED Custody: ২৮ মে পর্যন্ত হেফাজতে ‘কসবার আতঙ্ক’ সোনা পাপ্পু, আদালতে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য ইডির

    Sona Pappu ED Custody: ২৮ মে পর্যন্ত হেফাজতে ‘কসবার আতঙ্ক’ সোনা পাপ্পু, আদালতে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-কে আগামী ২৮ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। সোমবার প্রায় ৯ ঘণ্টার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার আদালতে পেশ করে তদন্তকারী সংস্থা দাবি করে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ জমি দখল ও তোলাবাজি চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল সোনা পাপ্পু।

    আদালতে ইডির বিস্ফোরক অভিযোগ

    আদালতে ইডির আইনজীবী দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে এবং প্রভাব খাটিয়ে কম দামে জমি ও সম্পত্তি দখল করাই ছিল সোনা পাপ্পুদের মূল কাজ। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই চক্রে সোনা পাপ্পুর পাশাপাশি আরও দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন— শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং জয় কামদার।

    ইডির দাবি—

    • ● পুলিশের এফআইআর এবং ইসিআইআর— দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বজিৎ পোদ্দারের নাম রয়েছে
    • ● তল্লাশিতে লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে
    • ● স্ত্রীর নামে অস্ত্র কেনার অভিযোগও উঠেছে
    • ● অস্ত্র কেনার পর কাঁকুলিয়া রোড এলাকায় অশান্তির ঘটনাও ঘটে

    ইডি আদালতে আরও জানায়, জোর করে জমি দখল করে বাজারমূল্যের অনেক কম দামে সম্পত্তি কিনে নেওয়া হত। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি ১ কোটি টাকায় এবং কসবায় প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পত্তি মাত্র দেড় কোটি টাকায় কেনার অভিযোগ রয়েছে।

    কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সোনা পাপ্পু তদন্তে বারবার অসহযোগিতা করেছে। সমন পাঠানো হলেও হাজিরা এড়িয়ে যায় বলে অভিযোগ। ইডির তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য।

    তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী—

    • ● এসপি কনস্ট্রাকশন নামে সংস্থায় জমা পড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকা
    • ● হেভেন ভ্যালি নামে অন্য একটি সংস্থায় জমা পড়ে প্রায় ৬.৮৩ কোটি টাকা
    • ● মোট ২১.৮৩ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে সোনা পাপ্পু ও তাঁর স্ত্রীর সংস্থাগুলিতে
    • ● ৩০টিরও বেশি সংস্থা খোলা হয়েছিল টাকা ঘোরানোর উদ্দেশ্যে

    ইডির দাবি, এসপি কনস্ট্রাকশন, কেপি কনস্ট্রাকশন, সুকৃতি ডেভলপার, একে কনস্ট্রাকশন-সহ একাধিক রিয়েল এস্টেট সংস্থার মাধ্যমে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ছোট ও মাঝারি নির্মাণ ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করা হত বলে দাবি ইডির।

    ‘হ্যাভিচুয়াল অফেন্ডার’ আখ্যা ইডির

    আদালতে ইডি সোনা পাপ্পুকে “হ্যাভিচুয়াল অফেন্ডার” বলে উল্লেখ করে। তদন্তকারী সংস্থা জানায়, ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর ১৮ কাঠা জমির একটি সম্পত্তি মাত্র ১.২৯ কোটি টাকায় কেনা হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫.৪২ কোটি টাকা।

    এছাড়া ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর কসবা এলাকায় ৩৬ ডেসিমেল জমি এবং ২০০০ বর্গফুট নির্মাণ-সহ একটি সম্পত্তি, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৭.৭৭ কোটি টাকা, সেটিও মাত্র ১.২০ কোটি টাকায় দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইডির দাবি, সম্পত্তির মালিককে ভয় দেখিয়ে এই দখলদারি চালানো হয়েছিল।

    বেআইনি নির্মাণ ও এলাকা দখলের অভিযোগ

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কসবা, ঢাকুরিয়া এবং রামলাল বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছিলেন সোনা পাপ্পু। অভিযোগ রয়েছে, কলকাতা পুরনিগমের ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে বহু বেআইনি নির্মাণের পিছনে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

    স্থানীয়দের দাবি—

    • ● প্রায় ৫০-৫৫টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ জমা পড়েছিল কলকাতা পুরনিগমে
    • ● বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকরা বিষয়টি জানলেও ব্যবস্থা নিতে পারেননি
    • ● তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়নি
    • ● বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, ভোটের সময় বিরোধীদের ভয় দেখানো এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও পালন করতেন সোনা পাপ্পু।

    তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ

    সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনা পাপ্পুর সঙ্গে তৃণমূলের একাধিক নেতার ছবি ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কসবার বিধায়ক জাভেদ খান এবং প্রাক্তন বিধায়ক তথা দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস কুমারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীর উপস্থিতিতে সোনা পাপ্পুর পারিবারিক অনুষ্ঠানের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে।

    ‘তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার’ সোনা পাপ্পু

    যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না, স্থানীয় মহলে সোনা পাপ্পুকে ‘তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার’ বলেই পরিচিত করা হত বলে দাবি এলাকাবাসীর। অভিযোগ, জয় কামদার এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে জোট বেঁধে জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং তোলাবাজির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন তিনি। বর্তমানে সেই সোনা পাপ্পুই ইডির জালে। তদন্তকারী সংস্থা এখন খতিয়ে দেখছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিলেন এবং কোটি কোটি টাকার লেনদেনের উৎস কোথায়।

  • Ramakrishna 651: “সকলেই কি খাঁটি হয়ে ওঁর কাছে এসেছে? ওঁকে আমরা কষ্ট দিই নাই? নরেন্দ্র-টরেন্দ্র আগে কিরকম ছিল, কত তর্ক করত?”

    Ramakrishna 651: “সকলেই কি খাঁটি হয়ে ওঁর কাছে এসেছে? ওঁকে আমরা কষ্ট দিই নাই? নরেন্দ্র-টরেন্দ্র আগে কিরকম ছিল, কত তর্ক করত?”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৩ই এপ্রিল

    ঈশ্বরকোটির কি কর্মফল, প্রারব্ধ আছে? যোগবাশিষ্ঠ

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) এখনও ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। পাগলী তাঁহাকে দেখিবার জন্য বড়ই উপদ্রব করে। পাগলীর মধুর ভাব। বাগানে প্রায় আসে ও দৌড়ে দৌড়ে ঠাকুরের ঘরে এসে পড়ে। ভক্তেরা প্রহারও করেন, — কিন্তু তাহাতেও নিবৃত্ত হয় না।

    শশী — পাগলী এবার এলে ধাক্কা মেরে তাড়াব।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (করুণামাখা স্বরে) — না, না। আসবে চলে (Kathamrita) যাবে।

    রাখাল — আগে আগে অপর পাঁচজন ওঁর কাছে এলে আমার হিংসে হত। তারপর উনি কৃপা করে আমায় জানিয়ে দিয়েছেন, — মদ্‌গুরু শ্রীজগৎ গুরু! — উনি কি কেবল আমাদের জন্য এসেছেন?

    শশী — তা নয় বটে, কিন্তু অসুখের সময় কেন? আর ও-রকম উপদ্রব।

    রাখাল — উপদ্রব সব্বাই করে। সকলেই কি খাঁটি হয়ে ওঁর কাছে এসেছে? ওঁকে আমরা কষ্ট দিই নাই? নরেন্দ্র-টরেন্দ্র আগে কিরকম ছিল, কত তর্ক করত?

    শশী — নরেন্দ্র যা মুখে বলত, কাজেও তা করত।

    রাখাল — ডাক্তার সরকার কত কি ওঁকে বলছে! ধরতে গেলে কেহই নির্দোষ নয়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (রাখালের প্রতি, সস্নেহে) — কিছু খাবি?

    রাখাল — না; — খাবো এখন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) মণিকে সঙ্কেত করিতেছেন, তুমি আজ এখানে খাবে?

    রাখাল — খান না, উনি বলছেন (Kathamrita)।

    ঠাকুর পঞ্চম বর্ষীয় বালকের ন্যায় দিগম্বর হইয়া ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। এমন সময়ে পাগলী সিঁড়ি দিয়া উঠিয়া ঘরের দরজার কাছে দাঁড়াইয়াছে।

    মণি (শশীকে আস্তে আস্তে) — নমস্কার করে যেতে বল, কিছু বলে কাজ নাই। শশী পাগলীকে নামাইয়া দিলেন।

    আজ নব বর্ষারম্ভ, মেয়ে ভক্তেরা অনেকে আসিয়াছেন। ঠাকুরকে ও শ্রীশ্রীমাকে প্রণাম করিলেন ও তাঁহাদের আশীর্বাদ লইলেন। শ্রীযুক্ত বলরামের পরিবার, মণিমোহনের পরিবার, বাগবাজারের ব্রাহ্মণী ও অন্যান্য অনেক স্ত্রীলোক ভক্তেরা আসিয়াছেন (Kathamrita)। কেহ কেহ সন্তানাদি লইয়া আসিয়াছেন।

    তাঁহারা ঠাকুরকে (Ramakrishna) প্রণাম করিতে উপরের ঘরে আসিলেন। কেহ কেহ ঠাকুরকে পাদপদ্মে পুষ্প ও আবির দিলেন। ভক্তদের দুইটি ৯।১০ বর্ষের মেয়ে ঠাকুরকে গান শুনাইতেছেন:

    জুড়াইতে চাই, কোথায় জুড়াই,
    কোথা হতে আসি, কোথা ভেসে যাই।
    ফিরে ফিরে আসি, কত কাঁদি হাসি,
    কোথা যাই সদা ভাবি গো তাই ॥

    গান   —   হরি হরি বলরে বীণে।

    গান  —   ওই আসছে কিশোরী, ওই দেখ এলো
    তোর নয়ন বাঁকা বংশীধারী।

    গান   —   দুর্গানাম জপ সদা রসনা আমার,
    দুর্গমে শ্রীদুর্গা বিনে কে করে উদ্ধা।।

  • RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণের সুরক্ষায় ঘটনাস্থল অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণের সুরক্ষায় ঘটনাস্থল অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Case) সংঘটিত নৃশংস অপরাধের তদন্তে প্রমাণকে সুরক্ষিত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, প্রমাণের সপক্ষে থাকা সমস্ত উপাদান যেন কোনোভাবেই নষ্ট বা বিকৃত না হতে পারে, তার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে (CBI) অবিলম্বে ঘটনাস্থল সম্পূর্ণভাবে সিল (Seal) করতে হবে।

    চিকিৎসক পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং এই বর্বরোচিত ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তকে নিশ্চিত করতে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ ও কঠোর নির্দেশনাসমূহ (RG Kar Case)

    কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানির সময় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে।

    ঘটনাস্থল সংরক্ষণ

    আরজি করে (RG Kar Case) যে নির্দিষ্ট সেমিনার রুম বা প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। তদন্তের স্বার্থে সিবিআই আধিকারিকরা ছাড়া আর কেউ যেন সেই চত্বরে প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাকেই।

    তথ্যপ্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা নিরসন

    ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে হাসপাতালের (RG Kar Case) পরিকাঠামো পরিবর্তন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল, আদালতের (Calcutta High Court) এই কঠোর নির্দেশের ফলে তার ওপর আইনি সিলমোহর পড়ল। আদালত সাফ জানিয়েছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, তা দেখাই এখন প্রথম কাজ।

    তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন (Status Report) আদালতে জমা দেওয়ার জন্য সিবিআই-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও প্রাসঙ্গিকতা

    আর জি করের (RG Kar Case) এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) এই প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ এবং সিবিআই-কে ঘটনাস্থল সুরক্ষার কড়া নির্দেশ আইনি প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই আইনি পদক্ষেপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

  • PM Modi: তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন মোদি?

    PM Modi: তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে (India Nordic Partnership) যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এই সম্মেলনে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠক সম্পর্কে জানান, “অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি, যা নর্ডিক অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্বের ক্রমবর্ধমান গভীরতা ও গতিশীলতা প্রতিফলিত করে।” এই সম্মেলনে ভারত এবং নর্ডিক দেশগুলি—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের নেতারা—ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি যৌথ রূপরেখা তৈরি করতে একত্রিত হন। আলোচনায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।বহুপাক্ষিক আলোচনার মূল বিষয়গুলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আলোচনা টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য সহযোগিতা জোরদারের মতো বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল।”

    ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক উত্তর ইউরোপে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে তুলে ধরে, যেখানে যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং টেকসই উন্নয়ন মডেলের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তঃআঞ্চলিক অংশীদারিত্বের মূল নীতিগুলি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও নর্ডিক দেশগুলি যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের মাধ্যমে একত্রিত।” মূল সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জলবায়ু পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিগত সংযুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয় (PM Modi)। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলিতে উত্তর ইউরোপের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করা হয় (India Nordic Partnership)।

    আইসল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদি

    প্রধানমন্ত্রী প্রথমে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিয়ার (Kristrun Frostadottir)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সবুজ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সম্পদ উন্নয়নে নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিরের সঙ্গে অত্যন্ত সুন্দর বৈঠক হয়েছে। ভারত আইসল্যান্ডের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গভীরভাবে মূল্য দেয়।” দুই নেতা নবায়নযোগ্য শক্তি, কার্বন ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই মৎস্য শিল্পে কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন (PM Modi)। আইসল্যান্ডের বিশেষ অর্থনৈতিক শক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্লু- ইকোনমি সম্পর্কিত ক্ষেত্রে আইসল্যান্ডের দক্ষতা প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া-ইএফটিএ (India-EFTA TEPA) বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ককে আরও গতি দেবে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, আলোচনায় উদ্ভাবন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সৃজনশীল অর্থনীতি, আর্কটিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ও ছিল (India Nordic Partnership)। তিনি বলেন, “দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করেছেন।” এরপর প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেট্টেরি অর্পোর (Petteri Orpo) সঙ্গে। দুই রাষ্ট্রনেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৫জি এবং ৬জি নেটওয়ার্ক, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল পরিকাঠামোয় অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, দুই নেতা ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও মতবিনিময় করেন (PM Modi)।

    বৈঠক ডেনমার্কের সঙ্গেও

    প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টি ফ্রেডেরিকসেনের (Mette Frederiksen) সঙ্গেও। দুই দেশের মধ্যে সবুজ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত এবং টেকসই উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনে সহযোগিতা বাড়াতেই হয় এই বৈঠক। পাঁচটি নর্ডিক দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ১.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি, এবং তারা সবুজ রূপান্তর মডেলের ক্ষেত্রে বিশ্বে অগ্রণী। প্রসঙ্গত, সোমবার সুইডেন থেকে নরওয়েতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। এটি ছিল তাঁর ১৫-২০ মে পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালি সফর নিয়ে গঠিত পাঁচ দেশের বিস্তৃত সফরের অংশ। নরওয়ের রাজধানীতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি (India Nordic Partnership) সফরের শেষ পর্যায়ে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন (PM Modi)।

     

  • Suvendu Adhikari: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর রোড-শোয়ে ব্যাপক ভিড়, ফলতায় স্বজন হারানোদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর রোড-শোয়ে ব্যাপক ভিড়, ফলতায় স্বজন হারানোদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কথা’ রাখলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ফলতায় (Falta Roadshow) পুনর্নির্বাচনের শেষদিন মঙ্গলবারের প্রচারে অংশ নিলেন তিনি। দিন দুই আগেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ফের ফলতায় আসবেন। করবেন প্রতিটি পঞ্চায়েত ছুঁয়ে একটি বড় পদযাত্রা। সেই মতো এদিন তিনি এলেন, করলেন রোড-শো-ও। এদিনের এই দীর্ঘ পদযাত্রার মাঝে ফলতার জন্য বিশেষ প্যাকেজও ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

    মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রা (Suvendu Adhikari)

    এদিন পদযাত্রা শুরু হয় ফলতার বঙ্গনগর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের হাসিমনগর সংলগ্ন কালীতলা মাঠ থেকে। রাজনৈতিক দিক থেকে এই জায়গাটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, ২৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের পর এই হাসিমনগরেই ভোট দিতে না-পারার অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ। তাই পুনর্নির্বাচনের আবহে সেই এলাকা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রা শুরু করাকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। এদিন ফলতায় পৌঁছে প্রথমেই স্থানীয় একটি মন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই একটি হুডখোলা গাড়িতে চড়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে শুরু করেন রোড-শো।

    নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। এদিনের সভায় রাজনৈতিক ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একুশের নির্বাচনের পর বহু বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। বহু পরিবার তাদের আপনজনকে হারিয়েছে। আমরা তাদের পাশে রয়েছি। নিহত ৩২১ জন কর্মীর পরিবারের একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।” ফলতা এবং ডায়মন্ড হারবার এলাকায় অতীতে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া বিজেপি কর্মীদের পুনর্বাসনের বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা বিগত দিনে আক্রান্ত হয়েছেন, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা যাঁদের ব্যবসা বা জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ আর্থিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফলতায় যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বা (Falta Roadshow) রুজি-রোজগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতুন সরকারে কেউ আতঙ্কে থাকবে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হবে (Suvendu Adhikari)।”

     

  • Supreme Court: জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও আরোগ্যহীন পথকুকুরদের মৃত্যু দিতেও পিছপা হওয়া উচিত নয় রাজ্য সরকারের, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও আরোগ্যহীন পথকুকুরদের মৃত্যু দিতেও পিছপা হওয়া উচিত নয় রাজ্য সরকারের, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দেওয়া নিজেদের নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা ও সরকারি বা সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানের আশপাশ থেকে পথকুকুর সরাতে হবে। বিভিন্ন আবেদন সত্ত্বেও আদালত এই রায়ে কোনও শিথিলতা বা পরিবর্তন আনতে অস্বীকার করে। আদালত আরও জানায়, রাজ্য সরকারের উচিত (Euthanasia) নয় জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও আরোগ্যহীন পথকুকুরদের মৃত্যু দিতেও পিছপা হওয়া।

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ (Supreme Court)

    বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, লোকালয়ে দুর্বল ও অসহায় মানুষদের যে বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা বিচারব্যবস্থা উপেক্ষা করতে পারে না। আদালতের মন্তব্যে “যোগ্যতমের বেঁচে থাকা” (Survival of the Fittest) তত্ত্বের উল্লেখ করে বলা হয়, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মানবজীবন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো জলাতঙ্কগ্রস্ত, আরোগ্যহীন বা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক কুকুরদের ক্ষেত্রে আইনসম্মত সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজন হলে মৃত্যুও দিতে হবে।

    আদালতের বক্তব্য

    আদালত জানায়, ছোট শিশুদের কুকুরে কামড়েছে, প্রবীণ নাগরিকদের ওপর হামলা হয়েছে, এমনকি বিদেশি পর্যটকরাও আক্রান্ত হয়েছেন। মনে হচ্ছে চার্লস ডারউইনের “যোগ্যতমের বেঁচে থাকা” তত্ত্ব বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে। সরকারি পদক্ষেপের অভাবে শিশু ও বয়স্কদের নিজেদের বাঁচার লড়াইয়ে একা ছেড়ে দেওয়া যায় না। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব (Supreme Court)।

    ডগ বাইটের পরিসংখ্যান

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশজুড়ে পথকুকুরে কামড়ানোর ঘটনা বাড়ছে। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে তিন মাসে ১,৪৮৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, উদয়পুরে ২০২৬ সালে ১,৭০০-র বেশি ঘটনা ঘটেছে। তামিলনাড়ুতে এ বছর ২,৪০,০০০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে মার্চ মাসেই ঘটে ছিল ৭১,০০০টি ঘটনা এবং ৩৪ জনের মৃত্যুও হয়েছে। এই সমস্যা এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গায়ও পৌঁছে গিয়েছে, যেমন ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যেখানে টার্মিনাল এবং রানওয়েতেও পথকুকুর দেখা গিয়েছে। এটি জননিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতার প্রমাণ।

    শীর্ষ আদালতের সাফ কথা

    রাষ্ট্র নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। আদালতও এই কঠোর বাস্তবতা থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারে না, যেখানে শিশু, আন্তর্জাতিক পর্যটক এবং প্রবীণ মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। সংবিধান এমন সমাজ কল্পনা করে না, যেখানে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের কেবল শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হবে। এছাড়া, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পশুচিকিৎসা পরিষেবা বৃদ্ধি, আশ্রয়কেন্দ্র শক্তিশালী করা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির সমন্বয়ে টিকাকরণ অভিযান-সহ বিস্তৃত সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপও করতে হবে। আদালতের নির্দেশ (Euthanasia) বাস্তবায়নের জন্য সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনও আধিকারিক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে এফআইআর বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না (Supreme Court)।

     

  • Sibi George: নরওয়ের সাংবাদিককে মুখের মতো দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক, কী বললেন সিবি জর্জ?

    Sibi George: নরওয়ের সাংবাদিককে মুখের মতো দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক, কী বললেন সিবি জর্জ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ের রাজধানী অসলোয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং বৈচিত্র্যের পক্ষে সওয়াল করল (Sibi George) বিদেশমন্ত্রক (MEA)।   সোমবার এই আলোচনা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফরের সময়। এই সময় সে দেশের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয় ভারতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে (Norway Journalist Row)। অসলোয় বিদেশমন্ত্রকের সেক্রেটারি (ওয়েস্ট) সিবি জর্জ নরওয়ের সাংবাদিকের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নরওয়ের এক সাংবাদিক বারবার ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, “আমরা কেন আপনাদের বিশ্বাস করব?”

    কী বললেন জর্জ (Sibi George)?

    এর জবাবে জর্জ বলেন, “আমাদের একটি সংবিধান আছে, যা জনগণের অধিকার এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। আমাদের দেশে নারীদের সমান অধিকার রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালেই আমরা নারীদের ভোটাধিকার দিয়েছিলাম। আমরা একসঙ্গে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, এবং তাঁরাও সেই স্বাধীনতা পেয়েছেন।” তিনি এও বলেন, “অনেক দেশে নারীদের ভোটাধিকার ভারতের বহু দশক পরে এসেছে। কারণ আমরা সমতা ও মানবাধিকারে বিশ্বাস করি। মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ কী? সরকার পরিবর্তনের অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার। আর সেটাই ভারতে হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা গর্বিত।” প্রশ্নোত্তর-পর্বে ওই সাংবাদিক বারবার বাধা দিলে জর্জ দৃঢ়ভাবে বলেন,
    “দয়া করে আমায় উত্তর দিতে দিন, বাধা দেবেন না। আপনি প্রশ্ন করেছেন—এটি আমার প্রেস কনফারেন্স। আপনি জানতে চেয়েছেন কেন একটি দেশ ভারতের ওপর ভরসা করবে, আমায় সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিন।”

    ভারতে রয়েছে আইনের শাসন

    ভারতের বহু ভাষাভিত্তিক এবং প্রাণবন্ত সংবাদমাধ্যমের প্রসঙ্গ তুলে জর্জ (Sibi George) বলেন, “আপনারা জানেন প্রতিদিন কত খবর প্রকাশিত হয়? শুধুমাত্র দিল্লিতেই অন্তত ২০০টি টিভি চ্যানেল রয়েছে—ইংরেজি, হিন্দি-সহ একাধিক ভাষায়। মানুষ ভারতের ব্যাপ্তি সম্পর্কে বোঝেন না।” তিনি বলেন, “ভারত এমন একটি দেশ, যে আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। আমরা সবসময় নিয়ম মেনে চলেছি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করি। এটাই ভারতের সুনাম।”

    কোভিড-১৯-পর্বে ভারতের সাহায্য

    কোভিড-১৯-পর্বে ভারতের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কার্যকলাপ এবং গণিত, সংস্কৃতি ও বিশ্ব ঐতিহ্যে ভারতের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন জর্জ। তিনি (Sibi George) বলেন, “চারদিকে তাকালেই আপনি ভারতের সংযোগ দেখতে পাবেন। আপনার ফোনে যে সংখ্যা ব্যবহার করেন, তার উৎপত্তিও ভারতে। ‘শূন্যে’র উৎপত্তিও ভারতে। দাবার উৎপত্তি ভারতে। এই সভ্যতা নিয়ে আমরা গর্বিত (Norway Journalist Row)। আজ বিশ্ব যে যোগব্যায়ামকে সম্মান করে, তারও জন্ম ভারতে। ভারতের মহাকাব্য ও প্রাচীন গ্রন্থ রয়েছে।”

     

  • Abhishek Banerjee: অভিষেকের সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরসভার নজরে, ২১টি বাড়ির নকশা তলব করে নোটিস, অবৈধ নির্মাণ থাকলেই ভাঙা হবে!

    Abhishek Banerjee: অভিষেকের সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরসভার নজরে, ২১টি বাড়ির নকশা তলব করে নোটিস, অবৈধ নির্মাণ থাকলেই ভাঙা হবে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্থাবর সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরনিগমের (KMC) আইনগত নজরদারির আওতায় এসেছে। তাঁর মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট ২১টি সম্পত্তির (21 Properties Plans) অনুমোদিত নকশা বা ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। মূল নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ থাকলে নিজেথেকেই ভাঙতে হবে, নয়তো প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জনসমক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল সম্পত্তির একটি খতিয়ান তুলে ধরেছিলেন। তার পরপরই কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না।

    ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নথি দেওয়ার নির্দেশ (Abhishek Banerjee)

    লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর সম্পত্তি ও পুরনিগমের আইনি ধারা অনুযায়ী বৈধ কিনা সেই মর্মে নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পারিবারিক সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সম্পত্তিগুলির বৈধতা যাচাই করাই পুরনিগমের মূল লক্ষ্য। কলকাতা পুরনিগমের ৯ নম্বর বোরো অফিসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবকটি ঠিকানায় (21 Properties Plans) নোটিস পাঠানো হয়েছে।

    পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা পুরসংস্থার বিল্ডিং আইনের ৪০১ ধারা (Section 401) মোতাবেক এই নোটিস জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পত্তিগুলির বৈধ কাগজপত্র ও নকশা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত নথি জোগাড় করতে না পারলে, নিয়মানুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করা হতে পারে।

    তথ্য আগেই এসে গিয়েছিল শুভেন্দুর হাতে

    গত রবিবার ফলতার এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, ‘‘কলকাতা পুরনিগম থেকে আমি নির্দিষ্ট তালিকা আনিয়েছি। কলকাতায় এবং আমতলায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ২৪টি বিলাসবহুল (21 Properties Plans) সম্পত্তি ও প্রাসাদোপম কার্যালয় রয়েছে।’’ পুরনিগমের অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, যেসব সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি ভবন এবং কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল আবাসন রয়েছে। তবে সুরক্ষার স্বার্থে পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার পুর প্রশাসন

    প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে উল্লেখ্য, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Abhishek Banerjee) সংস্থাটি ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির (CBI ও ED) নজরদারিতে রয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রাক্কালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেও পরবর্তী সময়ে তিনি এর সিইও (CEO) হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাঁর বাবা, মা এবং স্ত্রী এই সংস্থার ডিরেক্টর পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

    রাজ্যের বিগত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন এই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার স্বয়ং কলকাতা পুরনিগম এই সম্পত্তিগুলির নির্মাণগত বৈধতা খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

    নিজেস্ব নিয়মে নোটিশ জারি করেছে

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সম্পত্তি এবং পারিবারিক সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর কার্যালয়গুলিতে কলকাতা পুরনিগমের (KMC) নোটিস পাঠানো নিয়ে মুখ খুলেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পুরসভার এই আকস্মিক আইনি পদক্ষেপের দায় সম্পূর্ণভাবে নিজের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই নোটিস জারির বিষয়ে পৌর প্রশাসনের শীর্ষ স্তর বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব অবগত ছিল না। কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগ আইন ও নিয়মের নিজস্ব পরিধির মধ্যে থেকে এই নোটিস জারি করেছে। এটি কোনও রাজনৈতিক নির্দেশ বা মেয়রের দফতর থেকে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়।” ফিরহাদ আরও জানান, পুরসভার ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে পাঠানো এই নোটিসের বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে উল্লেখ করেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কোনও ভবনের নকশা বা নির্মাণে অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ যে রুটিন নোটিস পাঠায়, এটিও তেমনই একটি পদক্ষেপ।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভেতরের সমীকরণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Abhishek Banerjee) প্রকাশ্য বিবৃতির পরদিনই কলকাতা পুরনিগমের মতো একটি তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড যেভাবে সক্রিয় হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১টি সম্পত্তির নকশা তলব করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    এই পরিস্থিতিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের “কিছুই না জানার” এই বয়ান অত্যন্ত সুকৌশলী। একদিকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পুর প্রশাসন সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে দলের অন্দরে এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে (21 Properties Plans) কেন্দ্র করে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না তৈরি হয়, সেই কারণেই তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াটি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে এই আইনি নোটিসকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন পুরসভার অন্দরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পরেই এলাকা ছেড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী (TMC) জাহাঙ্গির খান। জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) গা ঢাকা দেওয়ার আগেই বড়সড় কোনও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন তাঁর মাথায় যাঁর আশীর্বাদী হাত ছিল, তৃণমূলের সেই ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বা ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়া (কমান্ডার) বন্দ্যোপাধ্যায় রাতারাতি ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ায় প্রমাদ গুণতে শুরু করেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। গ্রেফতারির আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে থাকা জাহাঙ্গির মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে ঘোষণা করেন, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’ তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক কিংবা ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা জানাননি ফলতার ‘বাদশা’।

    বিজেপির কাছে গোহারা (TMC)

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঙ্গা নিতে গিয়ে কার্যত মুখ পুড়িয়েছেন তৃণমূল অ্যান্ড কোং-এর (অন্তত, লোকে তো তাই বলে) কর্ণধার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে মুখ লুকিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা। অবশ্য, এর মধ্যে একদিন সহানুভূতি কুড়োতে এবং অবশ্যই জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আইনজীবীর সাজ-পোশাক পরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন মমতা। সেখানে নিজের কানে ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনে (এই প্রথম নয়, আগেও শুনেছেন, তবে এত জোরালোভাবে নয়), সেই যে কালীঘাটের বাড়িতে সেঁধিয়েছেন, তার পর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি টিভি কিংবা সংবাদপত্র মায় হ্যান্ডবিলেও। এই যখন স্বয়ং দলনেত্রীর দশা, তখন আর কোন ভরসায় ফলতার নির্বাচনী ময়দানে খেলতে নামেন জাহাঙ্গির! অগত্যা তিনিও মুখ লুকোলেন।

    জাহাঙ্গিরের বোধোদয়!

    ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন (TMC) পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গির এবং তাঁর দল তৃণমূলের বোতাম জ্বলজ্বল করবে। তৃণমূলের রাজত্বে কেউটে জাহাঙ্গির প্রথমবার নির্বাচনের সময় কোনও ইভিএমে টেপ আটকে দিয়েছিলেন পদ্ম-প্রতীকের পাশে, কোথাও আবার বিজেপি প্রার্থীর বোতামে লাগিয়ে দিয়েছিলেন আতর। ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানতেই এই ‘ডায়মন্ড হারবার দাওয়াই’ অ্যাপ্লাই করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’

    রাজ্যে পালাবদলের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেই জাহাঙ্গিরই বদলে গিয়ে ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’ হয়ে গিয়েছেন! মঙ্গলবারই ফলতায় রোড-শো করেন ‘সিংহম’ মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন তিনি। সেই সময় প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভালো থাকুক (TMC)। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলার কাছে দলা পাকানো কান্নাটা আটকে কোনওক্রমে ধরা গলায় তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’ জাহাঙ্গিরের এহেন ভোল বদলে যারপরনাই বিস্মিত ফলতায় তৃণমূলের ‘দুধেল গাই’রাও।

    প্রসঙ্গত, পুনর্নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই হাতকড়া পড়েছে জাহাঙ্গিরের ভায়রাভাইয়ের হাতে (Jahangir Khan)। গ্রেফতার হয়েছেন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, জাহাঙ্গির ভেবেছেন এবার হয়তো তাঁর পালা। তাই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পগার পার হয়েছেন ‘ঐতিহাসিক’ চরিত্র জাহাঙ্গির (TMC)।

    বেচারা! কারা যেন জাহাঙ্গিরকে গাছে তুলে মইটা কেড়ে নিল!

     

LinkedIn
Share