Tag: NIA

NIA

  • NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ২০১৪। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর রাজ্যে প্রথম তদন্ত শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই ঘটনার এক যুগ পর পশ্চিমবঙ্গে থানা পেল এনআইএ। সপ্তাহখানেক আগেই ক্যাবিনেট বৈঠকে থানা (NIA Police Station) তৈরির ছাড়পত্র মেলে। এবার তৈরি হল এনআইএ থানা। এবার থেকে আর রাজ্যের অন্য কোনও সাধারণ বা স্থানীয় থানার পরিকাঠামোর উপর তাদের নির্ভর করতে হবে না। নবান্নের তরফে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে । বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউটাউনের এনবিসিসি স্কোয়ারে এনআইএ-র নিজস্ব থানা কাজ শুরু করবে।

    এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি

    সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি। রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই একটি মাত্র থানার এক্তিয়ারেই থাকবে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ। অর্থাৎ, রাজ্যের যেকোনও প্রান্তে ঘটে যাওয়া অপরাধের তদন্তের প্রয়োজনে এই নির্দিষ্ট থানাতেই এফআইআর দায়ের বা মামলা রুজু করতে পারবে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। নতুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) বা ২০২৩ সালের ৪৬ নম্বর আইনের অধীনে রাজ্য সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই আইনের ২(১)(ইউ) ধারায় রাজ্য সরকারকে যেকোনও স্থানকে থানা হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল এই থানার অনুমোদন দিয়েছেন। রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। নবান্নের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির নম্বর হল ১৯৭৫-পিএল/পিবি/৪পি-০২/২০২৬।

    কোথায় হয়েছে এনআইয়ের থানা

    সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের এনআইএ আইনের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট অপরাধগুলির তদন্তের জন্যই মূলত এই থানা কাজ করবে। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া থ্রি-তে অবস্থিত এনবিসিসি স্কোয়ারের ১৬ তলায় এই থানার আনুষ্ঠানিক ঠিকানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে থানার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি পুলিশ স্টেশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল’। তার ঠিক পাশেই এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা হিসেবে ‘সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য থানার মতোই এই থানাতেও ওসি, সাব ইন্সপেক্টর, কনস্টেবলের মতো পোস্ট থাকে। এ রাজ্যে কোনও ঘটনায় এনআইএ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা থাকলে, তা তদন্ত করা হবে এই থানা থেকে। রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গে বেলডাঙার অশান্তির মামলা, মালদহের মোথাবাড়ি-কাণ্ড থেকে শুরু করে একাধিক মামলার তদন্ত করছে এনআইএ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের মামলাতেও একাধিকবার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ। সম্প্রতি রাজ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে থানা তৈরির বিষয়টিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্প্রতি অমিত শাহও রাজ্য সফরে এসে এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

    এনআইয়ের নিজস্ব থানার সুবিধা

    তৃণমূল সরকারের আমলেই থানা খুলতে চেয়েছিল এনআইএ। তবে বিভিন্ন সমস্যায় সেই থানা খোলা যায়নি বলে দাবি। তবে ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা উন্নতিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তিনমাসের মধ্যে ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় রাজ্যে খোলা হবে এনআইএ থানা। সেই সিদ্ধান্তের পরই খুলে গেল থানা। এতদিন রাজ্যে এনআইএ-র নিজস্ব কোনও পূর্ণাঙ্গ থানা ছিল না। ফলে তদন্তের প্রয়োজনে তাদের নানা আইনি এবং পদ্ধতিগত জটিলতার মুখে পড়তে হত। কোথাও তল্লাশি চালানো, কাউকে গ্রেফতার করা বা ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় থানাগুলির উপর নির্ভর করতে হত। অনেক ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়াতেও অহেতুক সময় নষ্ট হত বলে অভিযোগ ছিল। নতুন এই থানা চালু হওয়ার ফলে সেই পরিকাঠামোগত সমস্যা আর থাকবে না। এখন থেকে সরাসরি নিজেদের থানাতেই অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন এনআইএ আধিকারিকরা।

    তৈরি হবে এনআইএ আদালত-ও

    শুধু থানা নয় এনআইএ আদালতও তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সেই কাজ হবে বলে জানা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরি হবে। কোথায় হবে আদালত, তা ঠিক করবে কলকাতা হাইকোর্ট। এই আদালতে শুধুমাত্র এনআইএ মামলাগুলিরই শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে মামলাগুলির আরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে দেশজুড়ে এনআইএ-এর মামলাগুলোর জন‍্য সুনির্দিষ্ট ও পৃথক আদালত গঠন করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিচারভবনে মুখ্য বিচারকের এজলাসের উপর এনআইএ-এর আদালতের দায়িত্ব দিয়েছে রেখেছে হাইকোর্ট। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলায় তাদের মামলার সংখ্যাও অনেকটা বেড়েছে। এবার পৃথক থানা তৈরি হয়ে গেল। এবার আদালত গঠন হলে মামলার কাজ দ্রুত এগোনো সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এনআইএ সাধারণত সন্ত্রাসবাদ, দেশদ্রোহিতা, জালনোট কারবার বা বিস্ফোরক আইনের মতো গুরুতর এবং আন্তঃরাজ্য অপরাধের তদন্ত করে থাকে। নিজস্ব থানা না থাকায় অনেক সময় ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়া বা লকআপে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হত। এখন নিউটাউনের এই ঠিকানাই হবে রাজ্যে এনআইএ-র মূল কন্ট্রোল রুম। এখান থেকেই গোটা রাজ্যের যেকোনও প্রান্তের মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন তদন্তের কাজে গতি আসবে, তেমনই জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলাগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখাও অনেক বেশি সহজ হবে।

  • Hindus Under Attack: রাজস্থানে শিশু পাচারের অভিযোগ থেকে দিল্লি দাঙ্গা মামলার রায়, আইএস জঙ্গি নিয়োগ চক্রে চার্জশিট, আর কী?

    Hindus Under Attack: রাজস্থানে শিশু পাচারের অভিযোগ থেকে দিল্লি দাঙ্গা মামলার রায়, আইএস জঙ্গি নিয়োগ চক্রে চার্জশিট, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) ওপর হামলা। এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বহু অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর (Roundup Week) নির্যাতনের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ধীরে ধীরে গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ হিন্দুদের ওপর হওয়া হামলার প্রকৃত ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে উপেক্ষা করে এসেছে। এর পেছনে হিন্দুবিরোধী পক্ষপাতমূলক মনোভাব কাজ করছে বলেও দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য-সহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দুদের অস্তিত্ব ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্রমশ আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ১৯ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাবলির ভিত্তিতে তৈরি এই সাপ্তাহিক প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা অপরাধগুলির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা এবং এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে বিশ্বের আরও বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

    ধর্মীয় উত্তেজনায় চাঞ্চল্য (Hindus Under Attack)

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় উত্তেজনা এবং প্রশাসনিক অভিযানের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজস্থানে আদিবাসী শিশুদের পাচারের অভিযোগ, ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গায় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া, চেন্নাইয়ে হিন্দু মুন্নানির নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, বিহারে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, আইএস জঙ্গি নিয়োগ চক্রে এনআইএর চার্জশিট, তামিলনাড়ুর এক মন্দিরের জমি নিয়ে বিতর্ক এবং মহারাষ্ট্রে খাদ্য সুরক্ষা আইনে একটি বেকারি বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলি সামনে এসেছে।

    শিশু পাচারের অভিযোগ

    বিনামূল্যে শিক্ষাদানের টোপ দিয়ে রাজস্থানের উদয়পুর জেলা থেকে তামিলনাড়ুতে পাচার করা হচ্ছিল সাত আদিবাসী শিশুকে। খবর পেয়ে উদ্ধার করা হয় তাদের। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে দুজন মেয়ে এবং পাঁচজন ছেলে। তাদের বয়স সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে। গোয়া রেল পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করে। অভিযোগ, রাজস্থান, গুজরাট এবং গোয়া হয়ে তামিলনাড়ু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই পাচারের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ, ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে এই নেটওয়ার্ক কাজ করছিল (Hindus Under Attack)। এদিকে, ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গায় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর (Roundup Week) তাহির হুসেন-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দিল্লির একটি আদালত। এই মামলার রায়কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    বাছুর জবাইয়ের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে হিন্দু মুন্নানির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রী শিবাজি অভিযোগ করেন, বাছুর জবাইয়ের খবর পেয়ে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান এবং ঘটনাস্থলে পুলিশকে নিয়ে যান। অভিযোগ, এরপর প্রায় ২০০ জন মুসলিম ধর্মাবলম্বী সেখানে জড়ো হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁর গাড়ি কেড়ে নেওয়া হয়, দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটনাটি ঘটেছে বলেও অভিযোগ (Hindus Under Attack)। বিহারের ছাপরা শহরের একটি বেসরকারি স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক ইনাম রাজার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এক হিন্দু ছাত্রীর পরিবারের তরফে এমন অভিযোগ পেয়ে ওই শিক্ষককে ভগবান বাজার থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এই ঘটনায় দায়ের হয়েছে এফআইআর, চলছে তদন্তও। ঘটনার জেরে বেসরকারি ওই স্কুলটির ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

    এনআইএর চার্জশিট

    অন্যদিকে (Roundup Week), জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ পাঁচজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। অভিযোগ, তারা আইএস জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা বেঙ্গালুরুর যুবকদের চিহ্নিত করা, উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের ষড়যন্ত্রে জড়িত। তদন্তকারীদের দাবি, “ইকরা ক্যাম্প” নামে ব্যক্তিত্ব বিকাশ শিবির এবং নিয়মিত কোরআন পাঠ চক্রের আড়ালে মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তার ও নিয়োগের কাজ চলত (Hindus Under Attack)। তামিলনাড়ুর বেদারণ্যমের বেদারণ্যেশ্বরের মন্দিরের হাজার হাজার একর জমি এবং অন্যান্য সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে দখল, বিতর্ক বা আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে বলে সরকারি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। করুর ইনাম জমি বিতর্কের মধ্যেই এই বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

    বেকারি বন্ধ

    মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের মোশি এলাকার আকসা বেকারি বন্ধ করে দিয়েছে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন। খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ওই বেকারি পরিদর্শনের পর অবিলম্বে সেটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে বেকারির আড়ালে সেখান থেকে চালানো হচ্ছিল একটি অবৈধ গোমাংস কষাইখানা। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বলে খবর (Hindus Under Attack)। বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ ঘৃণাপ্রসূত অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ কাজ করে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষ প্রকাশ্য হলেও, আপাতদৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির, যেমন ভারতের, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি এক ধরনের সূক্ষ্ম বিদ্বেষ বিদ্যমান। এই পরিবেশই হিন্দুবিদ্বেষ এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে বলে অভিযোগ।

    দ্বৈত মানদণ্ড কেন?

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের সূক্ষ্ম ও দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না। তবে প্রচলিত আইন, নীতি এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন ঘটনার ধারা বিশ্লেষণ করলে তার উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলির সময় আতশবাজি বা পটকা ফাটানোর ওপর ধাপে ধাপে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, আপাতভাবে এই নিষেধাজ্ঞাকে পরিবেশ দূষণ রোধের পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর (Roundup Week) আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেই সিদ্ধান্তগুলির পক্ষে পর্যাপ্ত ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যার অভাব পর্যালোচনা করলে দ্বৈত মানদণ্ডের বিষয়টি জলের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল (India-Nepal Border) সীমান্তে যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। উত্তরপ্রদেশের রূপাইডিহা (Rupaidiha) সীমান্ত এলাকা থেকে এক মার্কিন নাগরিক-সহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ওয়ারিস পাঞ্জাব দে’ (Waris Punjab De)-র এক সদস্যও রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যৌথ অভিযানে বড়সড় সাফল্য

    গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (SSB) এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ বাহিনী রূপাইডিহা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা বৈধ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এড়িয়ে গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। সেই সময় একটি গাড়ি আটক করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কারা ধরা পড়েছে?

    ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিক্রমজিৎ সিং, যিনি খালিস্তানপন্থী সংগঠন ওয়ারিস পাঞ্জাব দে-র সদস্য বলে তদন্তকারীদের দাবি। এছাড়া ধরা পড়েছেন মার্কিন নাগরিক মনবীর সিং ধিলোঁ, যাঁর আদি বাড়ি পঞ্জাবের মোগা জেলায়। এ ছাড়া অভিযানে আরও তিন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের নাম—

    • ● সুরেশ কুমার পাঠক
    • ● দিলীপ উপাধ্যায়
    • ● রাহুল কুমার (গাড়ির চালক)

    তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই তিনজন সীমান্ত পারাপারের জন্য লজিস্টিক ও স্থানীয় সহায়তা দিচ্ছিলেন।

    কীভাবে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা?

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা বীরগঞ্জ-রূপাইডিহা (Birgunj-Rupaidiha) করিডর ব্যবহার করে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করেছিল। ভারত-নেপাল ১৯৫০ সালের শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই খোলা সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে চোরাচালান, মানবপাচার এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি।

    মার্কিন নাগরিক ধরা পড়ায় বাড়ল কূটনৈতিক গুরুত্ব

    ঘটনায় এক মার্কিন নাগরিকের উপস্থিতি বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটেনে বসবাসকারী কিছু খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ, প্রচার এবং সংগঠন বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খালিস্তানপন্থী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও বেড়েছে। সেই আবহেই এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

    নেপাল করিডর নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ

    ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, নেপাল বহুদিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি ও শত্রুভাবাপন্ন নেটওয়ার্কের জন্য একটি সম্ভাব্য ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাঠমান্ডুতে তুলনামূলক সহজ প্রবেশের সুযোগ এবং ভারত-নেপালের ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংগঠন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধারণা।

    এনআইএ-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

    ধৃত পাঁচজনকে নিরাপত্তার কড়া নজরদারিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

    তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—

    • ● অভিযুক্তদের ডিজিটাল যোগাযোগের নেটওয়ার্ক
    • ● অর্থের উৎস ও লেনদেনের পথ
    • ● ভারতে সম্ভাব্য যোগাযোগকারী ও সহযোগীদের পরিচয়
    • ● অনুপ্রবেশের মূল উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য টার্গেট

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, এই ঘটনায় সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে সক্রিয় খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ (Human Trafficking In Bengal) করিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে একটি বড় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তদন্তকারীদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং বাগদা সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র অবৈধ অনুপ্রবেশের কাজ চালিয়ে আসছিল। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মণ্ডল-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সদস্য। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করানো হতো।

    কীভাবে চলত অবৈধ অনুপ্রবেশ

    তদন্তে উঠে এসেছে, সীমান্ত (Indo-Bangladesh Border) পার হওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে সড়কপথে হাওড়া স্টেশনে নিয়ে আসা হতো। সেখান থেকে ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করে তাদের দিল্লি, মুম্বই, পুণে, সুরাট, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এনআইএ-র প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই চক্র শুধুমাত্র অবৈধ অনুপ্রবেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তারা এমন একটি সুসংগঠিত ট্রানজিট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, যার মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়েই দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ত অনুপ্রবেশকারীরা। গোটা চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং বিদেশি যোগসাজশ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    তদন্তকারী সংস্থার মতে, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে সহজে অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে আসায় সম্পূর্ণ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে এনআইএ। অনুপ্রবেশ ঠেকানো মোদি সরকারের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগেই এই কথা বারবার বলে এসেছেন বিজেপির নেতারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেলন, সরকার ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট এই নীতির মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-কে দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। উপদ্রুত এলাকায় ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং-এর কথা বলেছেন। প্রয়োজনে আরও আধুনিক যন্ত্র আনার কথাও হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ

    এই ঘটনাকে ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিষয়টি। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-র দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি না পাওয়ায় অনেক এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল। রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রায় ১,০২৫ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা সফরেরও কথা রয়েছে, যেখানে বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ৮৬৪ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গে। যার একটা বড় অংশ উত্তরবঙ্গের।

    প্রভাবশালী যোগাযোগ

    তবে তদন্তকারী মহলের একাংশের মতে, এত বড় মানবপাচার ও অনুপ্রবেশ চক্র কোনও প্রভাবশালী যোগাযোগ ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে এই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারির রাশ (India Bangladesh Border Security) আরও শক্ত করতে ইতিমধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের চেনা ছক সম্পূর্ণ বানচাল করতে এক অভিনব ও কঠোর যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে যাতে কোনওভাবেই অনুপ্রবেশ না ঘটতে পারে, তার জন্য নিশ্ছিদ্র ব্লু-প্রিন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে (Bengal Border Infiltration Plan)। সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম এলাকাগুলিতে নজরদারি দ্বিগুণ করা, সীমান্তে যে কোনও ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ করা, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় আরও মজবুত করা এবং সবচেয়ে বড় কথা, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যে কোনও গোপন বা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি গতিশীল ও মসৃণ করার উপর জোড় দেওয়া হয়েছে।

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকা কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Commander) রবীন্দ্র গঞ্জুকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরেন্দ্র গঞ্জু এবং মুকেশ গঞ্জু নামেও পরিচিত এই শীর্ষ মাওবাদী নেতার মাথার ওপর ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা (Jharkhand) হয়েছিল। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। লাতেহার জেলার চন্দওয়া থানার অন্তর্গত হেসলা মৌজার বানঝিটোলা গ্রামে পৈতৃক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার মাও নেতা (Jharkhand) 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূত্র মারফত জানা যায়, বহু বছর ধরে আত্মগোপন করে থাকা রবীন্দ্র গঞ্জু গোপনে নিজের গ্রামে ফিরেছেন। তার পরেই লাতেহার জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং কোবরা ২০৯ ব্যাটালিয়নের যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় ওই ২০ লাখি মাওবাদীকে। তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি পিস্তল, আরও একটি রাইফেল, ২৩৯ রাউন্ড গুলি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও নথি ভবিষ্যতের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার

    রবীন্দ্র গঞ্জু নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর আঞ্চলিক কমিটির সদস্য এবং স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এই সময় লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, চতরা, পালামু, গড়ওয়া, রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। ২০১৯-২০ সালের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বাধীন মাওবাদী বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল (Jharkhand)। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত, গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ করলেও, রবীন্দ্র গঞ্জু দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অনেকেই নিহত, গ্রেফতার অথবা আত্মসমর্পণ করায় তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন (Maoist Commander)।

    বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা

    লাতেহারের পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, রবীন্দ্র গঞ্জু ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা। পুলিশের দাবি, অন্তত ১৮ জন পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও, লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, পালামু, রাঁচি-সহ বিভিন্ন জেলার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৫৪টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে এই মামলার সংখ্যা ১৫৬ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।রবীন্দ্র গঞ্জুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, টহলদারি বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ, শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা, তোলাবাজি ও অবৈধ চাঁদা আদায়, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের অস্ত্র লুট, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ (Jharkhand)।

    সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর মামলা

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং তোলাবাজির একাধিক মামলায় রবীন্দ্র গঞ্জুর খোঁজ চালাচ্ছিল। তদন্তে জানা যায়, তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে তিনি নিজের গ্রামে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগে তাঁর বাড়ি বাজেয়াপ্ত ও সিল করে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মাওবাদী সংগঠনের আর্থিক জোগান বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন (Maoist Commander)। ঝাড়খণ্ডে গত এক দশকের একাধিক রক্তক্ষয়ী মাওবাদী হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর লাতেহারের চন্দওয়ার লুকাইয়া মোড়ে পুলিশের একটি টহলদার গাড়ির ওপর হামলায় একজন এএসআই এবং তিন জন হোমগার্ডের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, নিজের স্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই রবীন্দ্র গঞ্জু এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনকে এলাকায় নজরদারি চালানো এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।

    শক্তিশালী বিস্ফোরণেও তাঁর নাম

    ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি বারওয়াডিহ থানার কাটিয়া জঙ্গলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর নাম উঠে আসে। ওই হামলায় ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন, গুরুতর জখম হন ১৪ জন। বিস্ফোরক বিছিয়ে রেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাতেহার-লোহরদাগা সীমান্তবর্তী বুলবুল জঙ্গলে পরিচালিত “অপারেশন ডাবল বুলে”র তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম উঠে আসে। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের জুন মাসে এই মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ (Jharkhand)। এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুধাকরণের সঙ্গে যুক্ত তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম সামনে আসে। অন্য এক মাওবাদী কর্মীর তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং মাওবাদী সাহিত্য তদন্তকারীদের দেয় নতুন তথ্য। পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, “রবীন্দ্র গঞ্জুর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই গ্রেফতার মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা এবং তাদের অবশিষ্ট সাংগঠনিক ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে (Maoist Commander)।”

    পুলিশের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশের তরফে পঙ্কজ কুমার বলেন, “এলাকায় এখন হাতে গোনা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে—আত্মসমর্পণ করা অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর যে অভিযান চলছে, তার মুখোমুখি হওয়া।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্র গঞ্জুর গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁকে জেরা করা হলে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সুবিধা করে দিতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Jharkhand)।

     

  • Hindus Under Attack: হিন্দু নির্যাতন চলছেই, রাম মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার এক মুসলিম, আর কোথায় কী?

    Hindus Under Attack: হিন্দু নির্যাতন চলছেই, রাম মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার এক মুসলিম, আর কোথায় কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ-সহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা, এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week) উদ্বেগের। ২৮ জুন থেকে ৪ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার!

    ভারতে ধর্মীয় অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ২০১১ সালের বিধিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশোধন আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার গঙ্গোহ এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ সোহেলকে কর্নাটক থেকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা এবং সন্ত্রাসবাদ দমন শাখার যৌথ দল। অভিযোগ, তিনি অযোধ্যার রাম মন্দিরকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

    গরু জবাইয়ের চেষ্টা ভন্ডুল

    উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলার সারধানা এলাকায় গরু জবাইয়ের একটি চেষ্টাও ভন্ডুল করে দিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় মনীশ, দিলশাদ ও সারতাজ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। উদ্ধার হয়েছে প্রায় এক কুইন্টাল গোমাংস, একটি গরু এবং জবাই করার বিভিন্ন সরঞ্জাম। হায়দরাবাদের সমাজকর্মী এএস সন্তোষের অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তেলঙ্গানা সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আগাপে অনাথ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী সংক্রমণে আক্রান্ত অনাথ শিশুদের পরিচয় অর্থ সংগ্রহের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

    বিতর্কের মূলে কী

    কর্নাটকের প্রবেশিকা পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের পবিত্র জেনেউ ও কালাভা খুলে ঢোকার নির্দেশকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল পরীক্ষার নিয়ম নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক সমতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন। এদিকে, একটি বহুজাতিক রাসায়নিক ও প্লাস্টিক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মুম্বই শাখায় কর্মরত বহু প্রাক্তন কর্মীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া সাংগঠনিক পরিবর্তনের আড়ালে ভারতীয় হিন্দু পেশাজীবীদের পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামি লিগের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর রামের মূর্তি ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে (Hindus Under Attack)।

     

  • Saokat Molla Arrested: বাংলাদেশ পালানোর আগেই এনআইএ-র জালে! গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

    Saokat Molla Arrested: বাংলাদেশ পালানোর আগেই এনআইএ-র জালে! গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে পালানোর আগেই গ্রেফতার ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা (Saokat Molla Arrested)। পালিয়েও মিলল না রেহাই ৷ অবশেষে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র জালে ধরা পড়লেন শওকত। জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে কামালগাজি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে এনআইএ’র আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা অনেকদিন ধরেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শওকত এলাকা ছাড়া ছিলেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। শেষে গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয় বলে খবর। শওকত মোল্লার মেয়ে অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন যে তাঁর বাবা গ্রেফতার হননি, আত্মসমর্পন করেছেন৷

    বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা

    এনআইএ সূত্রে দাবি, তদন্তের চাপ বাড়তেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন শওকত মোল্লা। এমনকী, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলেও তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান। সীমান্তবর্তী কয়েকটি রুট নিয়েও খোঁজখবর নিচ্ছিলেন শওকত, এমনই দাবি এনআইএ-র (NIA Arrest Saokat)। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার এনআইএ তথ্য পায় যে শওকত আরও এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ বিএসএফ-কে সতর্ক করে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়। তবে শওকত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন বলে জানা যায়। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শওকত মোল্লা বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    কোথায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন শওকত

    এনআইএ সূত্রে খবর, দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা বাতিল হতেই কলকাতার কাছাকাছি একটি জায়গায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন শওকত। তদন্তকারীরা পরে জানতে পারেন, শওকত তৃতীয় এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছিলেন। তদন্তের স্বার্থে এনআইএ তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং সেই যোগাযোগের সূত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। সেই সূত্র ধরেই এনআইএ তাঁর গতিবিধি ট্র্যাক করে। শেষ পর্যন্ত কলকাতায় ফেরার চেষ্টা করার সময় এনআইএ শওকত মোল্লাকে আটক করে। সোনারপুরের কামালগাছি থেকে তাকে ধরা হয়েছে। এরপরই তাকে সরাসরি এনআইএ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ, ।

    কেন গ্রেফতার শওকত

    ভোটের আগে ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে তৃণমূল নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার ভোরে জীবনতলায় শওকত মোল্লার বাড়িতে পৌঁছন এনআইএ’র আধিকারিকরা। তবে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাড়িতে তালা ঝুলছে। এরপর তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালান। দীর্ঘ সময় ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ। তদন্তে সহযোগিতা না-করা এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারবার তলব করা হলেও হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ ওঠে দু’বারের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে। প্রথমে তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে জেরা করার পর সন্ধ্যায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শওকতের স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। এনআইএ-র এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করেছি। আজ, অর্থাৎ শনিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’

  • NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘোর বিপাকে ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লা (Saokat Mullah)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গিয়ে (NIA) ঘরে সেঁধিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা! একা হয়ে গিয়েছেন সওকত। মাথার ওপর থেকে ‘মমতা ব্র্যান্ডে’র ছাতাটা সরে যেতেই ফোঁসফাঁস করা বন্ধ করে দিয়ে সওকত এখন মিউমিউ করছেন! এহেন ‘ভাঙড়ের ত্রাসে’র আস্তানায় হানা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। নির্বাচনোত্তর হিংসা এবং বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সওকতের খোঁজে ক্যানিংয়ে পৌঁছয় এনআইএ। এদিন প্রথমে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও আধাসেনা। তার পরেই জীবনতলা এলাকার তাঁর বাড়িতে হানা দেয় এনআইএর বিশেষ দল৷ এদিন অবশ্য আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে সওকতকে পাননি। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে আটক করে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা।

    সওকতের বাড়িতে এনআইএ (NIA)

    এদিন সাত সকালেই এনআইএর দু’টি দল জীবনতলা এলাকায় সওকতের বাড়িতে পৌঁছয়। তদন্তকারীরা অনেকক্ষণ ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। খবরাখবর নেওয়া হয় সওকত কোথায় রয়েছেন, সেই ব্যাপারে। তৃণমূলের রাজত্বে ‘কেউটে’ থেকে পদ্ম-রাজে ‘হেলে’ হয়ে যাওয়া সওকত বাড়িতে নেই বলেই দাবি করেন পরিবারের লোকজন। তখনই তদন্তকারীরা ইমরান নামে তাঁর এর ছেলেকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান (NIA)। তাঁকে অবশ্য গ্রেফতার করা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে৷ এনআইএর একটি দল সওকতের হোটেল এবং অন্যান্য ‘ঠেকে’ তল্লাশি চালায়, জানার চেষ্টা করে তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে।

    নির্বাচনোত্তর হিংসায় এল সওকতের নাম

    গত ১৮ মার্চ ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া-বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। নির্বাচনোত্তর হিংসার একাধিক ঘটনার তদন্তেও নাম জড়িয়েছে সওকতের। সেই সূত্রেই তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, সওকত বর্তমানে কলকাতা কিংবা তার আশপাশের কোনও এলাকায় রয়েছেন (Saokat Mullah)। রাজনৈতিক মহলে সওকত পরিচিত মুখ। ভাঙড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দাপিয়ে ‘রাজ’ করছিলেন তিনি। একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের এই প্রাক্তন বিধায়কের। যদিও সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ (NIA) অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব৷

    সওকতের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ 

    সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। কয়লাপাচার মামলার তদন্তে একাধিকবার সওকতকে তলব করেছিল আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই৷ সেই সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল দীর্ঘক্ষণ ধরে। যদিও ওই মামলায় কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। এবার ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে এনআইএ হানা দিয়েছে সওকতের (Saokat Mullah) ডেরায়। তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়কের পরিণতি কী হয়, তা জানতে রাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন (NIA)।

     

  • NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনের তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, সংক্ষেপে এনআইএ (NIA)। ইতিমধ্যেই তারা চার্জশিটও জমা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে লস্কর-ই-তইবা (LeT), দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM), আল-কায়েদা (Al-Qaeda) ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠী, হামাস (Hamas) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য সম্পর্ক (Pahalgam Terror Attack Case) নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনআইএ।

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে হামাস যোগ (NIA)

    চার্জশিটে প্যালেস্তাইনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের উল্লেখ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  কারণ এই প্রথম পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য কার্যকরী সম্পর্কের তদন্তে এনআইএ এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসের নাম উল্লেখ করেছে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত একটি মামলায়।তদন্তকারীরা জানান, তদন্তের এই অংশটি (হামাস যোগ) আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সম্পর্কের প্রকৃতি, পরিসর ও ব্যাপ্তি নির্ধারণের চেষ্টাও চলছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি জম্মু-কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া কোনও জঙ্গি কার্যকলাপে কোনও রকমের সাহায্য, সমর্থন বা প্রভাব বিস্তার করেছে কি না।

    যেসব তথ্য খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্ত বৃহত্তর একটি চেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্যই হল অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চিহ্নিত করা এবং সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিবর্তিত ও বিকশিত হচ্ছে, তা বোঝা। এটা করতে গিয়েই এনআইএ একাধিক সূত্র অনুসরণ করছে (NIA)। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল প্রমাণ, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্তপারের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। এই সব তথ্য সম্ভাব্য সংযোগগুলির ব্যাপ্তি নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে। পহেলগাঁও হামলার পর গোয়েন্দা মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এনআইএ এই নয়া দিকটিতেই বেশি করে নজর দিচ্ছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সম্প্রতি হামাস এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন, যেমন লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছে।

    হামাসের আক্রমণের সঙ্গে মিল!

    এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই সংগঠনগুলির মধ্যে কোনও ধরনের সহযোগিতা, সমন্বয় বা কৌশল শেয়ার করা হয়েছিল কি না। শুধু তা-ই নয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এও জানার চেষ্টা করছে, পহেলগাঁও হামলায় হামাস-স্টাইলের কোনও কৌশলগত বৈশিষ্ট্য ছিল কি না। জানা গিয়েছে, ওই হামলার পরিকল্পনা, টার্গেট ঠিক করা, এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু মিল দেখা গিয়েছে (Pahalgam Terror Attack Case)। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের ওপর হামাসের আক্রমণের সঙ্গেও এর তুলনা করা হয়েছে (NIA)। যদিও এসব সাদৃশ্য সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তদন্তকারীরা বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে সব উপলব্ধ প্রমাণ মূল্যায়ন করে চলেছেন।

    এনআইএর চার্জশিট

    এনআইএর চার্জশিটে স্পষ্ট করা হয়েছে, সম্ভাব্য হামাস-যোগ প্রতিষ্ঠা করা এখনও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয়। আধিকারিকদের মতে, এই তদন্তের ফল পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক জেহাদি সংগঠনগুলির মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য দিতে পারে (Pahalgam Terror Attack Case)। কারণ এনআইএ পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে (NIA)।

     

  • Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    Karachi Bank: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত ফোনে অর্থায়ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাঙ্ক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ফের মিলল পাক-যোগের প্রমাণ! তদন্তকারীরা জেনেছেন, জঙ্গিদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনের উৎস পাকিস্তান। ২০২১ সালে আমদানি করা একটি চালানের সঙ্গেই সেটি এসেছিল ভারতে। এই চালানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছিল করাচির একটি ব্যাঙ্ক। অতীতেও সন্ত্রাস-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের এই ব্যাঙ্কের নাম। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ (NIA) এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।

    বাজেয়াপ্ত ২ ফোন (Karachi Bank)

    সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা জেনেছেন, পহেলগাঁও হামলায় জড়িত সন্ত্রাসবাদীরা দু’টি Xiaomi Redmi সিরিজের ফোন ব্যবহার করছিল। এর মধ্যে একটি ছিল Redmi 9T। ২০২১ সালে এটি আমদানি করা হয়েছিল পাকিস্তানে। অন্য ফোনটি ছিল Redmi Note 12, আমদানি করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ফোন দু’টি উদ্ধার হয় ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই, জম্মু-কাশ্মীরের দাচিগাম জঙ্গলে মুলনার মহাদেব এলাকায়। সেখানেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয় তিন জঙ্গি—ফয়সাল জাট ওরফে সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান এবং হামজা আফগানির কাছ থেকে। আরও জানা গিয়েছে, Redmi 9T ফোনটি পাকিস্তানের করাচির ক্লিফটন রোডের Tech Sirat Pvt Ltd নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা চালানের অংশ ছিল। Xiaomi Global-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চালানটি ১ জানুয়ারি ২০২১ সালে পাকিস্তানে পৌঁছেছিল।

    ফোন পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিদের হাতে

    এই চালানের লজিস্টিকস ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বড় ইসলামিক ব্যাঙ্ক ফয়জল ব্যাঙ্ক লিমিটেড (Faysal Bank Ltd)। চালান ডেলিভারির ঠিকানায় লেখা ছিল: “ফয়জল হাউস, মেন ব্রাঞ্চ, সাহারা-ই-ফয়জল, করাচি।” তদন্তকারীদের অনুমান, সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া, যেমন লেটার অফ ক্রেডিটের মাধ্যমে আমদানিতে অর্থায়ন করা হয়েছিল। ফোনটি ওই চালান থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে পরে পৌঁছয় লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গিদের হাতে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মধ্যে একজন বলেন, “পহেলগাঁও হামলায় ব্যবহৃত ফোনটি সম্ভবত এই চালান থেকেই পাচার হয়ে লস্কর-ই-তৈবার হাতে পৌঁছেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২১ সালে আমদানির পর থেকে ফোনটি চালুই করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার সময়ই সেটি প্রথম চালু হয়।”

    ফয়জল ব্যাঙ্কে জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট

    তদন্তকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, এখনও অব্দি ফয়জল ব্যাঙ্ককে সরাসরি পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে অতীতের বিভিন্ন সন্ত্রাসে অর্থায়ন-সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছিল পাকিস্তানের ওই ব্যাঙ্কটির নাম। ২০০৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফয়জল ব্যাঙ্কে লস্কর-ই-তৈবা এবং লাজনাত-আল-দাওয়া-সহ কয়েকটি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট ছিল। যদিও ব্যাঙ্কটির হোল্ডিং কোম্পানি সেই সময় স্পষ্ট জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই নেই। এও জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর তাদের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই ফোন চালু

    তদন্তকারীরা ৯/১১ হামলার পর প্রকাশিত পুরানো কিছু রিপোর্টের দিকেও নজর দিচ্ছেন। ওই প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানের কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই দেশেরই বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে, এর মধ্যে ফয়জল ব্যাঙ্কও ছিল।জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় ফোনটি পাকিস্তানেরই লাহোরভিত্তিক এয়ার লিঙ্ক কমিউনিকেশনস লিমিটেড আমদানি করেছিল।তদন্তকারীরা জেনেছেন, কেনার পর এই ফোনটিও কয়েক বছর চালু করা হয়নি। পহেলগাঁও হামলার কিছুদিন আগেই প্রথম চালু করা হয়।

    ফোনে মিলল ছবি

    ফোন দু’টিতে নিয়মিত কল আসা-যাওয়া কিংবা ইন্টারনেট যোগাযোগের তথ্যও মেলেনি। কারণ জঙ্গিরা মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের বদলে দূর-পাল্লার রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করত। তাই তারা নিশ্চিন্তে যোগাযোগ করতে পেরেছে এবং সাধারণ কল বা ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও ডিজিটাল ট্রেইল রেখে যায়নি। তদন্তকারীরা অবশ্য ওই ফোন দু’টি থেকে কিছু ছবি এবং মানচিত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ছিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন মেডোজ এবং আশপাশ এলাকার ছবিও। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জঙ্গিরা একটি তাঁবু পেতেছিল। এটি হামলার কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁবুটি এমন একটি উঁচু জায়গায় ফেলা হয়েছিল যেখান থেকে সহজেই নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখা যায়।

     

LinkedIn
Share