Tag: NIA

NIA

  • NIA: মালদায় জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাওয়ের তদন্তে ১২ মামলা দায়ের এনআইএ-র

    NIA: মালদায় জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাওয়ের তদন্তে ১২ মামলা দায়ের এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মালদায় (Malda) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাও করার ঘটনার তদন্তে ১২টি মামলা দায়ের করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)।

    এনআইএ-র বিবৃতি (NIA)

    গভীর রাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে এনআইএ-র তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের জন্য তারা ফের মালদা জেলার মোথাবাড়ি থানায় ৭টি এবং কালিয়াচক থানায় ৫টি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। গত ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ মালদায় এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এনআইএ-র তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই এই মামলাগুলির বিস্তারিত তদন্তের জন্য মালদায় পৌঁছে গিয়েছে।”

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার শীর্ষ আদালত মালদায় সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘেরাও সংক্রান্ত মামলাগুলি এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আমলাতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় ও সরকারি দফতরে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পানচোলির বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ১ এপ্রিলের ঘটনাসংক্রান্ত ১২টি মামলা হস্তান্তর করে (NIA)। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো একটি চিঠির ভিত্তিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে। ওই চিঠিতে একটি ভয়াবহ রাতের বিবরণ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন মহিলা এবং পাঁচ বছরের একটি শিশু-সহ জুডিশিয়াল অফিসারদের ন’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খাদ্য ও জল ছাড়াই আটকে রাখে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

    হোতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ

    মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে তিরস্কার করে। ঘটনার দিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন না ধরায় নারিয়ালাকে ক্ষমাও চাইতে বলে শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে বেঞ্চের নির্দেশ, গ্রেফতার হওয়া ২৬ জন অভিযুক্তকে মামলার নথিপত্র-সহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে, কারণ এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের ওপর ভরসা করা যাচ্ছে না (NIA)। আদালত এনআইএকে এই ঘটনার হোতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেয় এবং জানিয়ে দেয়, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে (Malda)।

    মূল অভিযুক্ত হেফাজতে

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা আদালতে জানান, মূল অভিযুক্ত মফাকেররুল ইসলাম এবং মৌলানা মহম্মদ শাহজাহান আলি কাদরি ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা রয়েছেন হেফাজতে। সেদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, এই ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা প্রকাশ করে এবং এটি শুধুমাত্র জুডিশিয়াল অফিসারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্বকেও চ্যালেঞ্জ করার শামিল। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ৭০০ জুডিশিয়াল অফিসার বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬০ লক্ষেরও বেশি আপত্তির নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে তাঁদের।

    সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে,  হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল এবং তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপিকে গ্রুপ কল করেছিলেন। পরে তাঁরা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে পৌঁছন এবং মধ্যরাতের পর আটক বিচারপতিদের মুক্ত করা হয় (NIA)। প্রধান বিচারপতি এও জানান, উদ্ধার হওয়ার পরেও জুডিশিয়াল অফিসারদের গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়, হামলা চালানো হয় লাঠি এবং ইট দিয়েও (Malda)।

  • NIA Raid: গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় হরিয়ানায় এনআইএ-র অভিযান, পাক-যোগ সন্দেহে আটক ৮

    NIA Raid: গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় হরিয়ানায় এনআইএ-র অভিযান, পাক-যোগ সন্দেহে আটক ৮

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-যোগ সন্দেহে গুপ্তচরবৃত্তির (NIA Raid) মামলায় বড়সড় অভিযান চালাল এনআইএ (National Investigation Agency)। হরিয়ানার পালওয়াল ও নুহ্ জেলায় একযোগে তল্লাশি চালিয়ে শনিবার মোট ৮ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, পালওয়ালের হাতিন এলাকার পওয়াসার গ্রাম এবং নুহ্ জেলার তৌরু এলাকায় একাধিক জায়গায় একসঙ্গে অভিযান চালানো হয়। পওয়াসার গ্রাম থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তৌরু এলাকা থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযানে এনআইএ-র পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং স্থানীয় স্পেশাল টাস্ক ফোর্সও যুক্ত ছিল। যাতে কেউ পালাতে না পারে এবং প্রমাণ নষ্ট না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি ছিল তদন্তকারীদের।

    রয়েছে পাকিস্তান যোগ

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, এক পাকিস্তানি নাগরিক শ্রীনগরের বাসিন্দা সেজে এই নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। সে মেওয়াট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে একটি গুপ্তচর চক্র তৈরি করার চেষ্টা করছিল। আটক ব্যক্তিরা সচেতনভাবে জড়িত ছিল কি না, তারা কোনও সংবেদনশীল তথ্য বিদেশি সংস্থার কাছে পাচার করেছে কি না খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী। ঘটনার পর মেওয়াট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের তদন্তে সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।

    দেশের ভিতরে গুপ্তচর চক্র

    হরিয়ানার পালওয়াল-মেওয়াত অঞ্চলে এক সন্দেহভাজন ‘আইএসআই এজেন্ট’ গ্রেফতারের পর গোটা এলাকাজুড়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তকারীরা প্রথমে ইরফান জেলদার (৩০)-এর বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন। জানা গিয়েছে, তাঁর ফোনে জম্মু ও কাশ্মীরের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। যদিও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাঁর মোবাইল ফোনটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নুহ্ সদর থানার অন্তর্গত সোহনা গ্রামে মহম্মদ ইউসুফ (৩৮)-এর বাড়িতেও হানা দেয় যৌথ বাহিনী। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং তাঁর ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় যোগাযোগের খোঁজে ডিজিটাল ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। ডিজিটাল ও ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তির সম্ভাব্য চক্রগুলিকে চিহ্নিত করে তা ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর এনআইএ। এই অভিযানই তার প্রমাণ।

  • Kaliachak Incident: আজই রাজ্যে তদন্তকারী দল! কালিয়াচকের ঘটনায় এনআইএ-কে তদন্তভার দিল নির্বাচন কমিশন

    Kaliachak Incident: আজই রাজ্যে তদন্তকারী দল! কালিয়াচকের ঘটনায় এনআইএ-কে তদন্তভার দিল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (NIA Kaliachak Incident) বিচারবিভাগের আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এনআইএ-কে (National Investigation Agency)। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এনআইএ-র একটি দল রাজ্যে আসার কথা।

    এনআইএ-র মাধ্যমে তদন্ত

    বুধবার রাতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন কালিয়াচকে (NIA Kaliachak Incident) তিন মহিলা-সহ সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখা হয়। অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে এমন লোকজনও ছিলেন, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তারা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, বলে খবর। গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছে আধিকারিকদের উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার অভিযানের সময় তাদের গাড়িতে হামলার চেষ্টা এবং রাস্তা অবরোধের ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কড়া অবস্থান নেয়। এটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির স্পষ্ট প্রমাণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক, বলে দাবি শীর্ষ আদালতের। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে নির্দেশ দেয়, সিবিআই বা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করাতে হবে। সেই অনুযায়ী এনআইএ তদন্ত শুরু করবে। এই ঘটনা বিচারকদের উপর ভয়ের প্রভাব ফেলবে বলে মামলার শুনানিতে জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

    এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ

    এই ঘটনায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এই নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। ঘটনায় জড়িত সকলকে চিহ্নিত করে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেন তিনি। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। এছাড়া, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনে তাঁদের পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

  • Jammu Kashmir: কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কোন অপরাধে দোষী আসিয়া আন্দ্রাবি?

    Jammu Kashmir: কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কোন অপরাধে দোষী আসিয়া আন্দ্রাবি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে জম্মু-কাশ্মীরকে আলাদা করতে চেয়েছিল আসিয়া আন্দ্রাবি। (Asiya Andrabi) সঙ্গে ছিল তার দুই সহকারী সোফি ফাহমিদা এবং নাহিদা নাসরিন। ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়েছিল এরা তিনজন। দীর্ঘ ৭ বছর মামলা চলার পর কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রী আসিয়া আন্দ্রাবিকে (Asiya Andrabi) সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের মামলায় আজীবন কারাদণ্ড দিল দিল্লির বিশেষ আদালত। একই মামলায় তার সহযোগী সোফি ফাহমিদা (Sofi Fehmeeda) এবং নাহিদা নাসরিনকে (Nahida Nasreen) ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আদালত এই সাজা ঘোষণা করে। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি, তিনজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা নিষিদ্ধ সংগঠন দুখতারান-এ-মিল্লাত-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে অংশ নিয়েছিল। এই সংগঠনটি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত থেকে পৃথক করার পক্ষে কাজ করত।

    কোন কোন ধারায় দোষী

    আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠন দুখতারান-এ-মিল্লাত (Dukhtaran-e-Millat)-এর মাধ্যমে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ ছড়াত। তদন্তে উঠে এসেছে, তারা বিভিন্ন বক্তব্য, ভিডিয়ো ও প্রচারের মাধ্যমে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রচার চালাত এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে পরোক্ষে সমর্থন করত। ২০১৮ সালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আসিয়া-সহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ, উস্কানিমূলক ভাষণ এবং কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পরে গত ১৪ জানুয়ারি আদালত ইউএপিএ (UAPA)-র একাধিক ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। দেশের মধ্যে অশান্তি তৈরি, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো অভিযোগের কারণে এনআইএ আন্দ্রাবির যাবজ্জীবনের আবেদন জানিয়েছিল, তা মেনেই এ দিন সাজা ঘোষণা করে আদালত। আন্দ্রাবি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র মতাদর্শগত স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সক্রিয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল। আদালতও সেই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েই এই কঠোর সাজা ঘোষণা করেছে।

    দুখতারান-এ-মিল্লাত ও আসিয়া আন্দ্রাবি

    দুখতারান-এ-মিল্লাত ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি কাশ্মীরভিত্তিক মহিলা সংগঠন, যার নেতৃত্বে ছিল আসিয়া আন্দ্রাবি (Asiya Andrabi)। ৬২ বছর বয়সি আসিয়া আন্দ্রাবি ‘দুখতারান-এ-মিল্লাত’ (DeM)-এর প্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি প্রথমে একটি সামাজিক সংস্কারমূলক গোষ্ঠী হিসেবে শুরু হয়। ১৯৯১ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্দা প্রথা বাধ্যতামূলক করার প্রচারাভিযানের মাধ্যমে সংগঠনটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধ তকমা দেয়। পরে ২০১৮ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) আন্দ্রাবিকে গ্রেফতার করে।

    জামাত-এ-ইসলামির সঙ্গে যোগ

    ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করা আন্দ্রাবি শ্রীনগরে হোম সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করে এবং সেখান থেকেই স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে। পরবর্তীতে দার্জিলিংয়ে স্নাতকোত্তর করার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবারের অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এর পরে সে ইসলামিক সাহিত্যচর্চার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা তার মতাদর্শে বড় প্রভাব ফেলে। পরে জামাত-এ-ইসলামির মহিলা শাখায় যোগ দেয় আসিয়া। ১৯৯০ সালে আশিক হুসেন ফাকতুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় আন্দ্রাবি। আশিক বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছে। দুই সন্তানের মা আন্দ্রাবিকে প্রথম ১৯৯৩ সালে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে একাধিকবার পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট (PSA)-এর আওতায় তাকে আটক করা হয়েছে।

    জাতীয় ঐক্য রক্ষায় কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান

    কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ভূমিকা বহুচর্চিত ও আলোচিত। পাকিস্তান, বিশেষ করে তার গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই যে এই জঙ্গি সংগঠনগুলি মারফত কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, তা-ও সর্বজনবিদিত। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের বিরামহীন সংঘর্ষে হাজার-হাজার প্রাণ যাচ্ছে উভয় পক্ষেই। এই আবহে কেন্দ্রের মোদি সরকার ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয়। কেন্দ্রীয় সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করে। এই সিদ্ধান্তের পরে কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। বিশেষ করে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কেন্দ্র সরকার যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছে, এই রায় সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আন্দ্রাবি-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে এই সাজা কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের নীতি ও অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এই মামলাটি কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই রায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

  • Bhangar Blast: ভাঙড় বিস্ফোরণের তদন্তভার নিচ্ছে এনআইএ, ভোটে বড়সড় ষড়যন্ত্রের অনুমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সক্রিয় পদক্ষেপ

    Bhangar Blast: ভাঙড় বিস্ফোরণের তদন্তভার নিচ্ছে এনআইএ, ভোটে বড়সড় ষড়যন্ত্রের অনুমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সক্রিয় পদক্ষেপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে (Bhangra Blast) ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তভার হাতে নিতে চলেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে এনআইএ সূত্রে জানা গেছে। ভোটের আগে সংবেদনশীল এলাকায় এই ভাবে বিস্ফোরণের কারণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের আগে বুথগুলিকে ভয়মুক্ত করতেই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশ।

    বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণ (Bhangra Blast)

    গত সপ্তাহে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের পশ্চিম বামুনিয়া গ্রামে এক বিকট বিস্ফোরণ (NIA) ঘটে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, সেখানে বোমা বাঁধার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরণের কিছু সময় পর উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় মসিউর কাজি নামে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, মসিউর দেগঙ্গার গাংনিয়া এলাকার তৃণমূলের বুথ সভাপতি ছিলেন এবং তিনি ভাঙড়ে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণে জখম হয়ে মারা যান।

    তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি

    এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই সুজয় মণ্ডল, যিনি পেশায় অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও সুরজ মোল্লা নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে কোনও বড়সড় নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। ঘটনাস্থলের অদূরেই তল্লাশি চালিয়ে ৮৪টি তাজা বোমা ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র (Bhangra Blast) উদ্ধার করা হয়েছে। এই বোমা কোন কাজে ব্যবহার করা হবে তার সন্ধান (NIA) করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

    এনআইএ-র ভূমিকা

    রাজ্য পুলিশ প্রথমে বিস্ফোরক আইনে (Explosive Substances Act) মামলা রুজু করেছিল। কেন্দ্রীয় নির্দেশের পর এনআইএ নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের করে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আইএসএফ (ISF)-এর দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এনআইএ-র (NIA) হস্তক্ষেপে এখন এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য রাজ্যে গত কয়েকবছরে খাগড়াগড়, পটাশপুর, এগরা, বারাসত, নানুর, সূতি, বেলডাঙা সহ একাধিক এলাকায় বাজি ও বোমা বিস্ফোরণের (Bhangra Blast) ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ রাজ্যে কর্মসংস্থানের কারখানা নয়, বোমা বারুদের কারখানা গড়ে উঠেছে।

  • India-Russia Relations: রাশিয়ার গোপন তথ্যে বাজিমাত! ভারতবিরোধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিদেশিদের ধরতে সফল এনআইএ

    India-Russia Relations: রাশিয়ার গোপন তথ্যে বাজিমাত! ভারতবিরোধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিদেশিদের ধরতে সফল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার (India-Russia Relations) গোপন তথ্যের উপর ভিত্তি করেই মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এনআইএ ছয় ইউক্রেনীয় এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। এনআইএ (NIA Arrest Foreigners) গত তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে আসছিল। অবশেষে রাশিয়ার শেয়ার করা তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ দিল্লি, লখনউ এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনা ফের ভারত-রাশিয়া দৃঢ় সম্পর্কের প্রমাণ দিল।

    রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যেই বাজিমাত

    এনআইএ সূত্রে খবর, রাশিয়ার গোয়েন্দারা এই বিদেশিদের নিয়ে গোপন তথ্য পাঠিয়েছিল ভারতকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিদেশিদের ধরে এনআইএ। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকেই ভারত হয়ে মায়ানমারে যাওয়া আসা করছে মার্কিন ভাড়াটে ম্যাথু ভ্যানডাইক। এনআইএ-র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে প্রায় তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে এনআইএ-র দল। পরে ভারতের তিনটি শহর থেকে ধরা হয়েছিল ভ্যানডাইক, ম্যাক্সিম হোনচারুক, পেট্রো হুবরা, সুকমানোভস্কি ইভান, স্টেফানকিভ মারিয়ান, স্লিভিয়াক তারাস এবং কামিনস্কি ভিক্টরকে। মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করা হয়েছিল কলকাতা থেকে।

    ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগ অভিযুক্তদের!

    মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার কজন আবার ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন আইরিশ সাংবাদিক চেয় বাওয়েস। তিনি দাবি করেন, ধৃত মারিয়ান স্টেফানকিভ ইউক্রেনের ইন্টেলিজেন্স সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও নাৎসি সংগঠন ‘রাইট সেক্টরের’ সঙ্গেও মারিয়ান যুক্ত ছিল বলে দাবি করেন বাওয়েস। এদিকে ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ ভাদিম রবিনোভিচ আবার দাবি করেছেন, এই মারিয়ান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট আরাটা ভলান্টিয়ারের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও ‘কোলো চস্তি’ নামে একটি এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা এই মারিয়ান। ভারতে ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের অধিকাংশই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন প্রাক্তন সাংসদ রবিনোভিচ। ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ দাবি করেন, মারিয়ান এবং তার সংগঠন একটা সময় ইউক্রেনে পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

    ভুল করে সীমান্ত পার করা যায়?

    অপরদিকে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করেছে, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে ‘ভুল’ করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও, আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত? রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

    ভ্যানের মতো ভাড়াটে সৈন্য ভয়ঙ্কর!

    ধৃতদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইকক। ভ্যানের নামে খোলা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটিতে তার পরিচয় ‘মিডিয়া ব্যক্তিত্ব’। ইউক্রেনে বাস করে বলে লেখা রয়েছে। সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে বিভিন্ন দেশে সরকার বদলের গোপন অভিযানে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে সে। ভেনেজুয়েলার উল্লেখও রয়েছে। ভ্যান লেখে, ‘ভেনিজুয়েলা, বর্মা (মায়ানমার), ইরান এবং অন্য স্বৈরাচারী শাসকদের বলব, আমরা আসছি। রাশিয়া, তোমাদের উৎখাত করতেও আসছি আমরা’। কয়েক মাস আগে করা একটি পোস্টে ভ্য়ান জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছে সে। ইলন মাস্কের ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা স্টারলিঙ্ক ব্য়বহারের উল্লেখও ছিল। ইরাকে যুদ্ধেও অংশ নেয় সে। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সেখানেই ছিল সে। মোটরসাইকেলে চেপে উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়া চষে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে ভ্যানের। লিবিয়ায় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের দলে যোগ দেয় সে। সেখানে ছ’মাস জেলও খেটেছে। ২০১১ সালে যুদ্ধ শেষ হলে, জেল পালিয়ে আমেরিকায় ফিরে যেতে সফল হয়। এর পর সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে শুরু হলে, তথ্য়চিত্র বানানোর অজুহাতে সেখানেও পৌঁছে যায় ভ্য়ান। আইএসআইএস-এর হাতে সেখানে দুই সাংবাদিক বন্ধু জেমস ফোলি এবং স্টিভেন সটলঅফকে হারায় ভ্যান। তাতেই পরিকল্পনা বদলে ফেলে সে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংগঠনও তৈরি করে ভ্য়ান, যারা ভিন্ন ভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে পরামর্শ দিত। ভ্যানডাইক দাবি করে, তার সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সরকারের কোনও যোগ নেই। তবে উল্লেখ্য বিষয়, সব ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার যেদিকে ঝুঁকে থাকে, ম্যাথু ভ্যানডাইকও সেই পক্ষের হয়েই ‘কাজ’ করে।

    ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক

     এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ধৃত ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিক একটি বড় দলের অংশ, যাদের মোট সংখ্যা প্রায় ১৪। এখন বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে—তারা এখনও মিয়ানমারে আছে নাকি অন্য কোথাও পালিয়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা ইউরোপ থেকে বড় পরিমাণ ড্রোন মায়ানমারে পাচার করতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এদিকে, ভারতে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এই তদন্তে তাদের দেশ সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তারা চান প্রক্রিয়াটি যেন “নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ” হয়। তবে মার্কিন দূতাবাস এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

  • NIA Arrests: কলকাতায় ধৃত মার্কিন ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক আসলে কি ‘সিআইএ মার্সেনারি’! ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা

    NIA Arrests: কলকাতায় ধৃত মার্কিন ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক আসলে কি ‘সিআইএ মার্সেনারি’! ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির ছক! মায়ানমারের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ৭ বিদেশি। সম্প্রতি ৬ ইউক্রেনীয় ও এক  মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইন ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক—ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যান ডাইককে ( Matthew Aaron Van Dyke)। ম্যাথিউ অতীতে একাধিক যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। সিআইএ-তে ও যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখান থেকেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সিআইএ-র হয়ে গোপন, কালো-তালিকাভুক্ত অভিযানের সদস্য হতে পারে এই ভ্যান ডাইক।

    বিমানবন্দর থেকে আটক

    ভ্যান ডাইককে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আটক করে ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন। একইসঙ্গে লখনউ ও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের আটক করা হয়। তাঁরা হলেন হুব্রা পেট্রো, স্লাইভিয়াক তারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টিফানকিভ মারিয়ান, হনচারুক মাকসিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর। এরা সকলেই পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তারা গুয়াহাটি হয়ে মিজোরামে যান এবং অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন। এনআইএ-এর দাবি, তারা কেবল পর্যটক ছিলেন না। বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা উত্তর-পূর্ব ভারতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মোট ১৫ জন বিদেশি নাগরিক এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত । আরও ৮ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের খোঁজ চলছে।

    যুদ্ধক্ষেত্রে ভ্যান ডাইক

    ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক প্রথম আলোচনায় আসেন লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়। তিনি বিদ্রোহীদের পক্ষে যুদ্ধ করেন এবং পরে মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাহিনীর হাতে বন্দি হন। ছয় মাস কারাবাসের পরও তিনি এই পথ ছাড়েননি। তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে সিকিউরিটি স্টাডিজ নিয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি সিআইএ (Central Intelligence Agency)-তে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পলিগ্রাফ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। লিবিয়ার পর তিনি সিরিয়ায় গিয়ে বিদ্রোহীদের সহায়তা করেন এবং পরে ইরাকে সক্রিয় হন। ২০১৪ সালে তিনি সনস অফ লির্বাটি (Sons of Liberty International) নামে একটি সংস্থা গঠন করেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তার কার্যকলাপ মায়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যা ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের কাছে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল।

    ভারতের জন্য সতর্কবার্তা

    এনআইএ-এর অভিযোগ, ভ্যানডাইক ও তাঁর সহযোগীরা ইউরোপ থেকে ড্রোন এনে ভারত হয়ে মায়ানমারে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া তাঁরা মিজোরামের সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে মায়ানমারে প্রবেশ করেন। অভিযোগ, এই দলটি ড্রোন প্রযুক্তি—বিশেষ করে ড্রোন পরিচালনা, সংযোজন ও জ্যামিং প্রযুক্তি—নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল মায়ানমারের সামরিক জুন্টার বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা। এই ঘটনা ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত। সংরক্ষিত এলাকায় বিদেশিদের প্রবেশ এবং সেগুলিকে সম্ভাব্য “প্রক্সি যুদ্ধের” ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    ভ্যানডাইক আদতে সিআইএ-র এজেন্ট!

    ভ্যান ডাইক সিআইএ-র এজেন্ট—এমন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তবে তাঁর কার্যকলাপ একটি বড় বাস্তবতা সামনে আনে— ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এমন কিছু কার্যক্রম, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এবং সার্বিকভাবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। গোয়েন্দাদের মতে, সিআইএ-র দুটি পৃথক ভাগ আছে। একটি ‘ইন্টেলিজেন্স গ্যাদারিং’ বা গুপ্তচরবৃত্তি অন্যটি ‘ব্ল্যাক অপস্’। প্রথম বিভাগ যেখানে গোপনে তথ্য জোগাড় করে, সেখানে দ্বিতীয় বিভাগটি আন-স্যাংশান্ড বা অননুমোদিত অপারেশনে (পোশাকি নাম ব্ল্যাক অপস্) অংশ নেয়। অর্থাৎ, যে কালো-তালিকাভুক্ত অপারেশগুলিতে সরাসরি যুক্ত হতে পারে না, বা অনুমতি দিতে পারে না সিআইএ। এমন ক্ষেত্রে মার্সেনারি বা ভাড়াটে সৈনিকদের ব্যবহার করে তারা। এটি ‘ডিপ স্টেট’-এর অংশ।  ধরা পড়লে দায় এড়ানোয় প্রথামাফিক নিয়ম। গোয়েন্দাদের দাবি, ভ্যান ডাইক সিআইএ-র ‘ব্ল্যাক অপস্’ (CIA Black Ops) সদস্য হতে পারে।

    কী বলছে এনআইএ?

    গোয়েন্দাদের এও ধারণা যে, এই ভ্যান ডাইক মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ হতে পারে। কী এই ডিপ স্টেট? বেআইনিভাবে অর্থ-অস্ত্র জোগান দিয়ে কোনও দেশে অস্থিরতা তৈরি করা এবং সেখানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানো।  এটাই হল ডিপ স্টেটের আসল উদ্দেশ্য। যা আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে করে এসেছে। এনআইএ-র দাবি, এই নেটওয়ার্ক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছিল, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। পুরো ঘটনায় আন্তর্জাতিক যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাথু ভ্যানডাইক এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাড়াটে সৈন্য। ‘সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি ভাড়াটে যোদ্ধা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সে। ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে গদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াই করা থেকে শুরু করে, ইরাকে আইএসআইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এই গোষ্ঠী বলে শোনা যায়।

    ভারতের স্পষ্ট বার্তা

    এই গ্রেফতারের মাধ্যমে ভারত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে—দেশের মাটি কোনোভাবেই বিদেশি সংঘাত বা প্রক্সি যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, তা যে দেশের নাগরিকই হোক না কেন। সোমবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউজ-এর বিশেষ আদালত অভিযুক্তদের ১১ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তাদের ২৭ মার্চ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

    ইউক্রেনের বিরোধিতা

    মায়ানমারে গিয়ে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৭ বিদেশি। তাদের মধ্যে ৬ জনই ইউক্রেনিয়ান। এই আবহে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করল, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে ‘ভুল’ করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত? ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের ৩ জনকে লখনউ এবং ৩ জনকে দিল্লি বিমানবন্দরে ধরেছিল ইমিগ্রেশন ব্যুরো। পরে তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

  • NIA Arrests: ভারতবিরোধী কার্যকলাপে সাহায্য! ইউক্রেনের ৬ ও এক মার্কিন নাগরিককে ধরল এনআইএ

    NIA Arrests: ভারতবিরোধী কার্যকলাপে সাহায্য! ইউক্রেনের ৬ ও এক মার্কিন নাগরিককে ধরল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সাত বিদেশিকে গ্রেফতার করল এনআইএ (National Investigation Agency)। তাঁদের মধ্যে ছ’জন ইউক্রেনের নাগরিক। এক জন আমেরিকার। সোমবার দিল্লিতে এনআইএ জানিয়েছে, মায়ানমারে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে ইউরোপ থেকে বেআইনি ভাবে ড্রোন নিয়ে আসারও। আদালত তাঁদের ১১ দিনের জন্য এনআইএ হেফাজতে (NIA Arrests) পাঠিয়েছে।

    ড্রোন পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল মায়ানমারে

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, অভিযুক্তেরা সকলেই বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তার পরে কোনও অনুমতি ছাড়াই মিজোরামের দিকে চলে যান তাঁরা। দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা লুকিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারেও চলে গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতবিদ্বেষী কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। তদন্তকারীদের অনুমান, ইউরোপ থেকে নিয়ে আসা ড্রোনও তাঁরা পৌঁছে দিয়েছিলেন মিজোরামে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইউরোপ থেকে অবৈধ উপায়ে ভারতে নিয়ে আসা হয়েছিল ড্রোনগুলি। তার পরে ভারত থেকেই পাঠানো হয়েছিল মায়ানমারের ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে। এনআইএ-র বক্তব্য, অভিযুক্তেরা কোন পথে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অপরাধের কোথায় কোথায় টাকা ঘুরেছে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এবং এর জন্য অভিযুক্তদের মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখতে চান তদন্তকারীরা। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন এনআইএ আধিকারিকেরা।

    লখনউ-দিল্লি-কলকাতা থেকে গ্রেফতার

    ভারতের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা মায়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে ধৃত সাত বিদেশির বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগেই সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হানা দিয়ে পাকড়াও করা হয়। অভিযুক্ত আমেরিকানকে ধরা হয় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে। বাকিদের মধ্যে তিন জনকে আটক করা হয় লখনউ বিমানবন্দর থেকে এবং তিন জনকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে। দিল্লির বাইরে যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁদেরও ইতিমধ্যে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক অভিযুক্তদের তিন দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরে হেফাজতের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করে ২৭ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।

  • Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরায় থাকা ডেটা পেতে চিনের দ্বারস্থ এনআইএ

    Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরায় থাকা ডেটা পেতে চিনের দ্বারস্থ এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলা হয় (Pahalgam Terror Attack)। অনুমান, ওই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল একটি গো-প্রো হিরো ১২ ক্যামেরা, যা অভিযানের সময় উদ্ধার করে সেনা। ক্যামেরার ব্যবহারিক প্রযুক্তি ও তথ্য জমা রয়েছে চিনের একটি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি ডিভাইসটির ক্লাউড মেমরিতে থাকা তথ্য পাওয়ার জন্য বেইজিংয়ের সাহায্য চেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারী সংস্থা জম্মুর একটি আদালতে দাখিল করা আবেদনে জানিয়েছে, ক্যামেরাটির তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি লেটার রোগেটরি (Letter Rogatory বা LR) জারি করা হচ্ছে। এটি এমন একটি অনুরোধ, যার মাধ্যমে ভিন দেশের কাছে তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়।

    গো-প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা (Pahalgam Terror Attack)

    সোমবার জম্মু আদালতের এক আদেশে বলা হয়েছে, “এই মামলার তদন্ত চলাকালে ওই জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বস্তুগত প্রমাণ এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস হল গো-প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা, যার সিরিয়াল নম্বর সি৩৫০১৩২৫৪৭১৭০৬। পহেলগাঁও  হামলায় জড়িত জঙ্গি মডিউলের হামলার পূর্ববর্তী নজরদারি, চলাচল এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ডিভাইসটি গুরুত্বপূর্ণ।” এই আদেশের মাধ্যমে আদালত এনআইএকে চিনের কাছে লেটার রোগেটরি পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। এর আগে,  এনআইএ নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত গো-প্রো ক্যামেরার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছেও যোগাযোগ করে ডিভাইসটির সাপ্লাই চেইন এবং অ্যাক্টিভেশন সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিল (Pahalgam Terror Attack)।

    ডিভাইসের পরবর্তী লেনদেন

    ভারতের আবেদনের জবাবে নেদারল্যান্ডসের ওই সংস্থা জানায়, তারা কেবলমাত্র ক্যামেরাটি উৎপাদন করে। ব্যবহারিক প্রযুক্তি চিনের কাছে রয়েছে। নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছে যে, তাদের কাছে ডিভাইসটির পরবর্তী লেনদেন বা শেষ ব্যবহারকারীর সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। তারা আরও জানায়, ডিভাইসটির অ্যাক্টিভেশন, প্রাথমিক ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের তথ্য চিনের ভৌগোলিক অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। ফলে ক্রেতা, শেষ ব্যবহারকারী এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য জানতে হলে চিনা কর্তৃপক্ষের বিচার বিভাগের সাহায্য প্রয়োজন (NIA)। এই কারণেই এনআইএ আদালতের কাছে আবেদন করেছিল এবং আদালত চিনের কাছে এলআর পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের মনোরম বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলা ভারত ও পাকিস্তানকে প্রায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত ৭ মে ভোরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালু করে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) জঙ্গি পরিকাঠামোর ওপর হামলা চালায়। পরে ১০ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই হামলায় জড়িত তিন জঙ্গি— সুলেমান শাহ, হামজা আফগানি (ওরফে আফগান) এবং জিবরান, ২২ এপ্রিল বাইসারান মেদোয় গুলি চালিয়ে ২৫ জন পর্যটক ও একজন পনি চালককে হত্যা করেছিল। পরে ২৮ জুলাই দাচিগাম বনাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তারা (NIA) খতম হয় (Pahalgam Terror Attack)।

  • Beldanga Case: বেলডাঙা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রামধাক্কা খেল মমতার সরকার

    Beldanga Case: বেলডাঙা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রামধাক্কা খেল মমতার সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা হিংসা মামলায় (Beldanga Case) সুপ্রিম কোর্টে রামধাক্কা খেল তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। ওই হিংসার ঘটনার তদন্ত করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ, সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ। বেলডাঙার ওই হিংসার ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট বলে দিয়েছিল, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে এই অশান্তির মোকাবিলা করবে। তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে, তাহলে এনআইএ তদন্তও হতে পারে। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দেশের শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার নিষ্পত্তি করে। অর্থাৎ, কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে আর হস্তক্ষেপ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। এর পাশাপাশি হাইকোর্টেই রাজ্যের মামলাটি পাঠানো হয়েছে। তবে ইউএপিএর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ সঠিক হবে কিনা, সেই গোটা বিষয়টি হাইকোর্ট দেখবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছিলেন শুভেন্দু (Beldanga Case)

    প্রসঙ্গত, বেলডাঙার (Beldanga Case) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরে হাইকোর্টে মামলা গেলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্র যদি এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন মনে করে, তাহলে সম্পূর্ণরূপে তাদের স্বাধীনতা থাকবে। হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টেও বহাল রয়েছে শুনে শুভেন্দু বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের আবেদন গ্রাহ্যই করেনি। এর ভিত্তিতে আবার ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। আমিই পিটিশনার ছিলাম। রাজ্যের আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট কোনও গুরুত্বই দেয়নি।”

    উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা

    ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিক খুনের অভিযোগে জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। অভিযোগ, ওই শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে দেহ জেলায় ফিরতেই উত্তেজনা ছড়ায় বেলডাঙায়। টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয় রাস্তা, রেল। শিয়ালদা-লালগোটা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনে বাঁশ ফেলে রেখেছিল বিক্ষোভকারীরা (Supreme Court)। বাঁশে মৃতদেহের ঝুলন্ত ছবিও দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বচসায় জড়িয়ে পড়েন স্থানীয়রা। খবর জোগাড় করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরাও। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ জনকে। ঘটনার তিনদিন পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় গিয়েছিলেন সাংসদ তৃণমূলের ইউসুফ পাঠান। উল্লেখ্য, বেলডাঙার অশান্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “শুক্রবার জুম্মাবার…সংখ্যালঘুদের কাছে একটা সেন্টিমেন্ট রয়েছে। সেখানে শুক্রবার অনেকেই নমাজ আদায় করতে এসেছে। এখানে কেউ যদি রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ পূরণ করার জন্য উসকে দেয়।”

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    বুধবার শীর্ষ আদালতের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “প্রায় এক মাস আগেই এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা ইতিপূর্বেই এফআইআর দায়ের করেছে (Beldanga Case)। এই মুহূর্তে ইউএপিএ ধারা প্রয়োগ করা উচিত কিনা, সে বিষয়ে আমরা কোনও মতামত দিচ্ছি না।” যদিও আদালতের নির্দেশ, এনআইএকে তদন্তের একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই রিপোর্টে জানাতে হবে বেলডাঙার ঘটনায় আদৌ ইউএপিএ প্রয়োগ করার মতো উপাদান মজুত রয়েছে কিনা। এদিন শুনানির সময় এনআইএ এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বেলডাঙা মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাজ্য প্রশাসন তাদের হাতে (Supreme Court) তুলে দিচ্ছে না। নথিপত্র হস্তান্তরের এই অসহযোগিতার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়েছে (Beldanga Case)।

LinkedIn
Share