Tag: NIA

NIA

  • Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরায় থাকা ডেটা পেতে চিনের দ্বারস্থ এনআইএ

    Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরায় থাকা ডেটা পেতে চিনের দ্বারস্থ এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলা হয় (Pahalgam Terror Attack)। অনুমান, ওই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল একটি গো-প্রো হিরো ১২ ক্যামেরা, যা অভিযানের সময় উদ্ধার করে সেনা। ক্যামেরার ব্যবহারিক প্রযুক্তি ও তথ্য জমা রয়েছে চিনের একটি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি ডিভাইসটির ক্লাউড মেমরিতে থাকা তথ্য পাওয়ার জন্য বেইজিংয়ের সাহায্য চেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারী সংস্থা জম্মুর একটি আদালতে দাখিল করা আবেদনে জানিয়েছে, ক্যামেরাটির তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি লেটার রোগেটরি (Letter Rogatory বা LR) জারি করা হচ্ছে। এটি এমন একটি অনুরোধ, যার মাধ্যমে ভিন দেশের কাছে তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়।

    গো-প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা (Pahalgam Terror Attack)

    সোমবার জম্মু আদালতের এক আদেশে বলা হয়েছে, “এই মামলার তদন্ত চলাকালে ওই জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বস্তুগত প্রমাণ এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস হল গো-প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা, যার সিরিয়াল নম্বর সি৩৫০১৩২৫৪৭১৭০৬। পহেলগাঁও  হামলায় জড়িত জঙ্গি মডিউলের হামলার পূর্ববর্তী নজরদারি, চলাচল এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ডিভাইসটি গুরুত্বপূর্ণ।” এই আদেশের মাধ্যমে আদালত এনআইএকে চিনের কাছে লেটার রোগেটরি পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। এর আগে,  এনআইএ নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত গো-প্রো ক্যামেরার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছেও যোগাযোগ করে ডিভাইসটির সাপ্লাই চেইন এবং অ্যাক্টিভেশন সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিল (Pahalgam Terror Attack)।

    ডিভাইসের পরবর্তী লেনদেন

    ভারতের আবেদনের জবাবে নেদারল্যান্ডসের ওই সংস্থা জানায়, তারা কেবলমাত্র ক্যামেরাটি উৎপাদন করে। ব্যবহারিক প্রযুক্তি চিনের কাছে রয়েছে। নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছে যে, তাদের কাছে ডিভাইসটির পরবর্তী লেনদেন বা শেষ ব্যবহারকারীর সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। তারা আরও জানায়, ডিভাইসটির অ্যাক্টিভেশন, প্রাথমিক ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের তথ্য চিনের ভৌগোলিক অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। ফলে ক্রেতা, শেষ ব্যবহারকারী এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য জানতে হলে চিনা কর্তৃপক্ষের বিচার বিভাগের সাহায্য প্রয়োজন (NIA)। এই কারণেই এনআইএ আদালতের কাছে আবেদন করেছিল এবং আদালত চিনের কাছে এলআর পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের মনোরম বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলা ভারত ও পাকিস্তানকে প্রায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত ৭ মে ভোরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালু করে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) জঙ্গি পরিকাঠামোর ওপর হামলা চালায়। পরে ১০ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই হামলায় জড়িত তিন জঙ্গি— সুলেমান শাহ, হামজা আফগানি (ওরফে আফগান) এবং জিবরান, ২২ এপ্রিল বাইসারান মেদোয় গুলি চালিয়ে ২৫ জন পর্যটক ও একজন পনি চালককে হত্যা করেছিল। পরে ২৮ জুলাই দাচিগাম বনাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তারা (NIA) খতম হয় (Pahalgam Terror Attack)।

  • Beldanga Case: বেলডাঙা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রামধাক্কা খেল মমতার সরকার

    Beldanga Case: বেলডাঙা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রামধাক্কা খেল মমতার সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা হিংসা মামলায় (Beldanga Case) সুপ্রিম কোর্টে রামধাক্কা খেল তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। ওই হিংসার ঘটনার তদন্ত করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ, সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ। বেলডাঙার ওই হিংসার ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট বলে দিয়েছিল, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে এই অশান্তির মোকাবিলা করবে। তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে, তাহলে এনআইএ তদন্তও হতে পারে। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দেশের শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার নিষ্পত্তি করে। অর্থাৎ, কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে আর হস্তক্ষেপ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। এর পাশাপাশি হাইকোর্টেই রাজ্যের মামলাটি পাঠানো হয়েছে। তবে ইউএপিএর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ সঠিক হবে কিনা, সেই গোটা বিষয়টি হাইকোর্ট দেখবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছিলেন শুভেন্দু (Beldanga Case)

    প্রসঙ্গত, বেলডাঙার (Beldanga Case) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরে হাইকোর্টে মামলা গেলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্র যদি এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন মনে করে, তাহলে সম্পূর্ণরূপে তাদের স্বাধীনতা থাকবে। হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টেও বহাল রয়েছে শুনে শুভেন্দু বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের আবেদন গ্রাহ্যই করেনি। এর ভিত্তিতে আবার ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। আমিই পিটিশনার ছিলাম। রাজ্যের আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট কোনও গুরুত্বই দেয়নি।”

    উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা

    ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিক খুনের অভিযোগে জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। অভিযোগ, ওই শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে দেহ জেলায় ফিরতেই উত্তেজনা ছড়ায় বেলডাঙায়। টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয় রাস্তা, রেল। শিয়ালদা-লালগোটা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনে বাঁশ ফেলে রেখেছিল বিক্ষোভকারীরা (Supreme Court)। বাঁশে মৃতদেহের ঝুলন্ত ছবিও দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বচসায় জড়িয়ে পড়েন স্থানীয়রা। খবর জোগাড় করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরাও। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ জনকে। ঘটনার তিনদিন পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় গিয়েছিলেন সাংসদ তৃণমূলের ইউসুফ পাঠান। উল্লেখ্য, বেলডাঙার অশান্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “শুক্রবার জুম্মাবার…সংখ্যালঘুদের কাছে একটা সেন্টিমেন্ট রয়েছে। সেখানে শুক্রবার অনেকেই নমাজ আদায় করতে এসেছে। এখানে কেউ যদি রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ পূরণ করার জন্য উসকে দেয়।”

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    বুধবার শীর্ষ আদালতের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “প্রায় এক মাস আগেই এনআইএকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা ইতিপূর্বেই এফআইআর দায়ের করেছে (Beldanga Case)। এই মুহূর্তে ইউএপিএ ধারা প্রয়োগ করা উচিত কিনা, সে বিষয়ে আমরা কোনও মতামত দিচ্ছি না।” যদিও আদালতের নির্দেশ, এনআইএকে তদন্তের একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই রিপোর্টে জানাতে হবে বেলডাঙার ঘটনায় আদৌ ইউএপিএ প্রয়োগ করার মতো উপাদান মজুত রয়েছে কিনা। এদিন শুনানির সময় এনআইএ এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বেলডাঙা মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাজ্য প্রশাসন তাদের হাতে (Supreme Court) তুলে দিচ্ছে না। নথিপত্র হস্তান্তরের এই অসহযোগিতার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়েছে (Beldanga Case)।

  • Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক কৌশল, পরিকাঠামো উন্নয়ন, মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং আত্মসমর্পণ নীতির সমন্বিত প্রয়োগ বামপন্থী চরমপন্থার (Naxals) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইতিবাচক ফল মিলেছে। রবিবার এ কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “৩১ মার্চের আগেই নকশাল সমস্যা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই যেন বিচ্ছিন্নভাবে না হয়।” রায়পুরে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে সভাপতিত্ব করে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযানকে একটি নিরবচ্ছিন্ন ‘গ্রিডে’র মাধ্যমে পরিচালনা করতে, যাতে এক অঞ্চল থেকে বিতাড়িত মাওবাদীরা প্রতিবেশী কোনও রাজ্যে আশ্রয় নিতে না পারে।’

    শাহ উবাচ (Naxals)

    বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, “ছত্তিশগড় এক সময় নকশাল (Naxals) হিংসার শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের অধীনে এখন এটি উন্নয়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।” তিনি বলেন, “ছত্তিশগড়ের যুবসমাজ খেলাধুলা, ফরেনসিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় অগ্রগতি করছে, পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করছে।” তিনি বলেন, “নকশালবাদ বহু প্রজন্মকে দারিদ্র্য ও অশিক্ষার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। ডাবল-ইঞ্জিন সরকার দেশ থেকে নকশালবাদের অভিশাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চেষ্টার কোনও কসুর করছে না, এবং এই সমস্যা এখন প্রায় শেষের পথে।” শাহ বলেন, “নিরাপত্তা ও উন্নয়ন – উভয় ক্ষেত্রেই ছত্তিশগড় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং নকশাল-প্রভাবিত এলাকার (Naxals) মানুষদের জন্য সমান উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।” বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ছত্তিশগড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “মোদী সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও সুযোগ – দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

    উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলের মানুষদের দেশের অন্যান্য অংশের মতোই যে উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত, এ কথাও ফের মনে করিয়ে দেন তিনি। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ সচিব। উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (ITBP) ও জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র শীর্ষ আধিকারিকরা, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও তেলঙ্গনার ডিজিপিরা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা (Naxals)। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই বলেন, “‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সমন্বিত কৌশল—যেখানে নির্ভুল নিরাপত্তা অভিযান, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট ফল দিচ্ছে।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে এবং অমিত শাহের দিশানির্দেশে ছত্তিশগড় দ্রুত ৩১ মার্চের মধ্যে নকশাল-মুক্ত রাজ্য হওয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে (Amit Shah)।

    গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল, যার মধ্যে সাতটি জেলা রয়েছে মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গনা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত কয়েক বছরে সেখানে জোরদার নকশাল-বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে চরমপন্থী আন্দোলন অনেকটাই দুর্বল হয়েছে (Naxals)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত ছত্তিশগড়ে সংঘর্ষে ৫০০-র বেশি নকশাল নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজুও রয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১,৯০০ নকশালকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ২,৫০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে (Amit Shah)। উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের (স্বরাষ্ট্র/ডিজিপি) উপস্থিতিতে রায়পুরে রবিবারের বৈঠকটি ছিল ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের জন্য শেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক।” সোমবার অমিত শাহ দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের জগদলপুরে তিনদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘বস্তার পান্ডুম মহোৎসব’-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন (Naxals)।

     

  • Murshidabad: বেলডাঙা হিংসা মামলায় রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনআইএ-র, বড় নির্দেশ ক্ষুব্ধ আদালতের

    Murshidabad: বেলডাঙা হিংসা মামলায় রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনআইএ-র, বড় নির্দেশ ক্ষুব্ধ আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেলডাঙা হিংসা মামলায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। এনআইএ-র (NIA) অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং তথ্য হস্তান্তর করেনি। আর এই জন্য অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে আদালত পরবর্তী শুনানিতে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) পুলিশ সুপারকে (SP) ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

    সরঞ্জাম হস্তান্তর করেনি পুলিশ (Murshidabad)

    এনআইএ (NIA) আদালতকে জানিয়েছে, বেলডাঙা (Murshidabad) থানা মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছ থেকে ক্রমাগত অসহযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। এনআইএ কলকাতা ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট এবং মুখ্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, বেলডাঙা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (IO) ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারির ঘটনার (কেস নম্বর ৫১/২০২৬) গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং বাজেয়াপ্ত সরঞ্জাম হস্তান্তর করেনি। পুলিশ নিস্ক্রিয় থাকার ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জেলার হিংসার ঘটনাটির তদন্তভার বর্তমানে এনআইএ গ্রহণ করেছে।

    পুলিশের এসকর্ট মেলেনি

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্ধারিত তারিখে অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা হয়নি। বহরমপুর (Murshidabad) সেন্ট্রাল কারেকশনাল হোমের সুপার একটি রিপোর্ট পেশ করে জানিয়েছেন, পুলিশের এসকর্ট বা পাহারা না পাওয়ার কারণে ৩১ জন বিচারাধীন বন্দিকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ

    আদালত স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, পূর্ববর্তী বিচার বিভাগীয় নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ এসকর্ট প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় অভিযুক্তদের হাজির করা যায়নি। আদালত মন্তব্য করেছে, এধরনের গাফিলতি তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং আদালতের নির্দেশের অবমাননা করে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত বেশ কিছু কঠোর নির্দেশ জারি করেছে। যথা-

    • ১. মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) পুলিশ সুপারকে (SP) এনআইএ-র অসহযোগিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যক্তিগতভাবে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
    • ২. বহরমপুর সেন্ট্রাল কারেকশনাল হোমের সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অভিযুক্তদের অবশ্যই আদালতে হাজির করা হয়।
    • ৩. মুর্শিদাবাদের এসপি-কে পরবর্তী শুনানির জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ এসকর্টের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • ৪. বেলডাঙা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (IO) ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে এবং গত ৩০ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশ কেন পালন করা হয়নি, তার লিখিত ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয়েছে।

    বিগত কয়েক বছর ধরেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর (NIA) মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলোতে পুলিশ চরম অসহযোগিতা করছে। আদালতের এই হস্তক্ষেপ প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাতের তালিকায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করল।

  • Beldanga Violence: বেলডাঙায় পৌঁছল এনআইএ, সঙ্গে ফরেন্সিক দল! স্বাগত জানালেন শুভেন্দু-সুকান্ত, বিজেপির দাবিই কী সত্যি?

    Beldanga Violence: বেলডাঙায় পৌঁছল এনআইএ, সঙ্গে ফরেন্সিক দল! স্বাগত জানালেন শুভেন্দু-সুকান্ত, বিজেপির দাবিই কী সত্যি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেলডাঙায় অশান্তির (Beldanga Violence) ঘটনার তদন্ত করবে এনআইএ ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে ৷ ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে কয়েক দিন আগে খুন হন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিক ৷ তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছতেই অশান্ত হয়ে ওঠে এলাকা ৷ দীর্ঘ দু’দিন ধরে অশান্তি হয় ৷ এরপর পরিস্থিতি খানিক নিয়ন্ত্রণে আসে ৷ এবার এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-কে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ৷ কেন টানা দু’দিন বেলডাঙায় অশান্তি হল, তা পরিকল্পিত ছিল কি না, কেন্দ্রীয় সংস্থা তা যাচাই করে দেখবে।

    এনআইএ-র প্রতিনিধিদলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ

    শনিবার সকালেই কেন্দ্রীয় সংস্থার ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল বেলডাঙা থানায় পৌঁছে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে এনআইএ-র কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। তদন্তকারীরা থানায় কেস ডায়েরি এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। এখনও পর্যন্ত বেলডাঙার ঘটনায় চারটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত-সহ ৩৬ জনকে। এনআইএ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে। এনআইএ-র প্রতিনিধিদলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরাও আছেন। সূত্রের খবর, সাত থেকে আট সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

    কী ঘটেছিল বেলডাঙায়

    ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্‌রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বাঙালি হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে আলাউদ্দিনকে। তার পর তাঁর দেহ ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ঝাড়খণ্ডের পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রাথমিক ভাবে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলেই দাবি করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে ১৬ তারিখ জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি, বিক্ষোভে ব্যাহত হয় শিয়ালদহ-লালগোলা ট্রেন চলাচলও।

    পরিকল্পিত ভাবে অশান্তি বেলডাঙায়

    বেলডাঙায় (Beldanga Violence) সে দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। প্রথম দিন পুলিশ বিক্ষোভ সরালেও পরের দিন সকাল থেকে বেলডাঙা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরে আদালতে দাবি করেছে, বেলডাঙার প্রথম দিনের বিক্ষোভ কিছুটা হলেও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু দ্বিতীয় দিন পরিকল্পিত ভাবে সেখানে অশান্তি করা হয়। রাস্তা অবরোধ এবং ট্রেন আটকে দেওয়ায় বহু মানুষ ভোগান্তির শিকার হন। এই সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারবে রাজ্য। তার পরেই তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

    পিএফআই আর সিমি-র মতো নিষিদ্ধ সংগঠন জড়িত

    এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ৷ তাঁরা দুজনেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ৷ এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এর আগেও মুর্শিদাবাদে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল ৷ সে সময় আমি কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম ৷ তাতে আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিল তা এখনও বহাল হয়েছে ৷ কিন্তু জেলা প্রশাসন সেই নির্দেশ মানেনি ৷ এরপর আবারও বেলডাঙায় হিংসার ঘটনা ঘটে ৷ এনআইএ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ৷ আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই ৷ বেলডাঙায় যা হয়েছে সেটা প্রতিবাদ নয়, দেশ বিরোধী আচরণ ৷ পিএফআই আর সিমি-র মতো নিষিদ্ধ সংগঠন এই অশান্তির নেপথ্যে আছে ৷”

    খুন নয় আত্মহত্যাই

    ঝাড়খণ্ডে গত সপ্তাহে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল, সেই পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ আত্মহত্যাই করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃত শ্রমিকের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের তদন্তে খুন বা কোনও ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এক বিবৃতিতে শনিবার জানানো হয়েছে, আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর পর তদন্তের অংশ হিসেবে এক সাব-ইন্সপেক্টর ঝাড়খণ্ডের পালামুতে গিয়েছিলেন। সেখানে ওই এলাকায় বসবাসকারী ৮ থেকে ১০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের বয়ান নেওয়া হয়। তবে তাঁদের কেউই খুনের কোনও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিজেপির দাবি, বেলডাঙার হিংসা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অভিযোগ করেন, এই অশান্তি স্বতঃস্ফূর্ত নয় এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, কারা উপকৃত হল এবং কেন প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ নিল না।

    সঠিক তদন্ত করবে এনআইএ, প্রকাশ্যে আসবে সত্য

    কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা সকলে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই ৷ সেদিন যেভাবে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল তার থেকে স্পষ্ট এর নেপথ্যে কোনও বড় চক্রান্ত ছিল ৷ এনআইএ রাজ্য পুলিশের আওতার বাইরে ৷ আমি আশা করি, তারা সঠিক তদন্ত করে লুকিয়ে থাকা সত্যটা প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে পারবে ৷ ” বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার তদন্তভার এনআইএ গ্রহণ করতেই রাজ্য পুলিশের কাছেও পৌঁছেছে একটি নির্দেশ। শুক্রবার পুলিশকে বিশেষ এনআইএ আদালতের নির্দেশ, অশান্তির ঘটনা সংক্রান্ত সমস্ত নথি যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে।

  • Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত পার থেকে সন্ত্রাসী হামলা বা দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক তছরুপ কিংবা ভিন্‌রাজ্যে গিয়ে ডাকাতি-খুন, ধর্ষণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার! দেশ জুড়ে বেড়ে চলা যাবতীয় অপরাধের সূচককে নিম্নমুখী করতে এবার কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) সাহায্য নিচ্ছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই দেশের পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’ তুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক লোকসভায় জানিয়েছে যে জাতীয় গোয়েন্দা গ্রিড বা ন্যাটগ্রিড (NATGRID)-এর আইটি প্ল্যাটফর্মে একটি অরগানাইজড ক্রাইম নেটওয়ার্ক ডেটাবেস (Organised Crime Network Database) তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং রাজ্যগুলির অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড (ATS)-এর মধ্যে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাস দমনে ন্যাটগ্রিড-এর উন্নত হাতিয়ারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘গাণ্ডীব’। যা বহু উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    ন্যাটগ্রিড কী

    এনআইএ এবং এটিএসের মতো সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তকারী এবং পুলিশি দলগুলির মধ্যে নিরাপদে তথ্য ভাগাভাগির কাজটি সহজতর করতে ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’ বা ন্যাটগ্রিড নামের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একগুচ্ছ সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার রিয়েল টাইম তথ্য যখন-তখন হাতে পেতে পারবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ‘গাণ্ডীব’ নামের এআই টুলটি এর সঙ্গেই কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে। ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ২০০৯ সালে ন্যাটগ্রিড-এর ধারণা প্রথম উঠে আসে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এটি গত বছর পুরোপুরি কার্যকর হয়। বর্তমানে শুধুমাত্র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (SP) পদমর্যাদার আধিকারিকরাই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। ন্যাটগ্রিড-এর মাধ্যমে অভিবাসন ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন, টেলিকম ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মেটাডেটা, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। আগে এই ধরনের তথ্যের জন্য বিভিন্ন দফতরে আলাদা করে আবেদন করতে হতো।

    এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত ন্যাটগ্রিড

    সম্প্রতি এই ন্যাটগ্রিডকে ‘ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার’ বা এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে কেন্দ্র। এতে দেশের ১১৯ কোটি বাসিন্দার পরিবারভিত্তিক তথ্য রয়েছে। একে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেন) তৈরির প্রথম ধাপ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে ন্যাটগ্রিডকে ব্যবহার করে অধিকাংশ ভারতবাসীর তথ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও এটিএসের মতো সংস্থার অফিসারেরা হাতে পেয়ে যাবেন, তা বলাই বাহুল্য। ২০১০ সালে ২০১১ সালের জনগণনার প্রথম পর্যায়ে এনপিআর-এর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয় এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছিল। এনপিআর একটি মৌলিক পরিচয় ও আবাসিক ডেটাবেস হিসেবে কাজ করে, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা ও গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ন্যাটগ্রিড যেখানে বিভিন্ন সংস্থার ডেটা একত্র করে, সেখানে এনপিআর সেই তথ্যগুলির মধ্যে পরিচয় যাচাইকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর গুরুত্ব কী?

    গাণ্ডীব হল ন্যাটগ্রিড-এর একটি উন্নত অ্যানালিটিক্স টুল, যা তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সংযোগের পদ্ধতিকে আরও আধুনিক করে তুলেছে। এই টুলটি ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং এনটিটি রেজোলিউশন-এর কাজে ব্যবহার করা যায়। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “যদি কোনও সন্দেহভাজনের ছবি পাওয়া যায়, সেটি গাণ্ডীব-এ আপলোড করা হলে টেলিকম কেওয়াইসি, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব। এতে তদন্তকারীদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে।”

    পুরাণে ‘গাণ্ডীব’-এর উল্লেখ

    মহাভারত অনুসারে, গাণ্ডীব ছিল পাণ্ডব অর্জুনের ঐশ্বরিক ধনুক। এই কারণেই অর্জুনকে ‘গাণ্ডীবধারী’ নামেও ডাকা হয়। ব্রহ্মার দ্বারা নির্মিত এই ধনুকে ছিল ১০৮টি অলৌকিক তার, যা দেবশক্তিতে পরিপূর্ণ বলে বিশ্বাস করা হয়। অগ্নিদেবকে খাণ্ডব বন দহন করতে সহায়তার সময় অর্জুন গাণ্ডীব লাভ করেন। এই ঘটনা অর্জুন ও গাণ্ডীবের সম্পর্কের সূচনা তো বটেই, পাশাপাশি দেবইচ্ছা পূরণে এই অস্ত্রের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে। এআই গাণ্ডীব টুল-ও গোয়েন্দাদের হাতে অর্জুনের ধনুকের মতো। গাণ্ডীব তথ্যগুলিকে নন-সেনসিটিভ, সেনসিটিভ এবং হাইলি সেনসিটিভ—এই তিন ভাগে ভাগ করবে। ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, আর্থিক লেনদেন, কর সংক্রান্ত তথ্য এবং রফতানি-আমদানি সংক্রান্ত ডেটাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাণ্ডীব মূলত ন্যাটগ্রিড-কে একটি সাধারণ ডেটা-অ্যাক্সেস প্ল্যাটফর্ম থেকে উন্নত এআই-চালিত গোয়েন্দা হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেছে, যেখানে একক অনুসন্ধান, দ্রুত সূত্র সন্ধান এবং বুদ্ধিমান বিশ্লেষণ সম্ভব হচ্ছে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর ব্যবহারে সন্ত্রাস দমন সহজ

    কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে দুঁদে গোয়েন্দাকর্তাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ২৬/১১-র মুম্বই হামলা বা তার পরবর্তী সময়ের নাশকতার প্রতিটা ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে এসেছে জঙ্গিরা। এ দেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে দিব্যি বিদেশে পালিয়েও গিয়েছে তাঁদের কয়েক জন। এই ব্যর্থতার মূল কারণ হল তথ্যের অভাব। তদন্তকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এ দেশের কিছু ‘বিশ্বাসঘাতক’ নাগরিকের সাহায্য পেয়ে এসেছে। সরকারের কাছে তাঁদের ব্যাপারে যে কোনও তথ্য নেই, এমনটা নয়। কিন্তু সেটা এতটাই ছড়ানো-ছেটানো যে, প্রয়োজনের সময় দ্রুত একসঙ্গে সেগুলি পেতে সমস্যা হচ্ছিল। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাশকতার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ ছেড়ে চম্পট দিচ্ছিল অভিযুক্তেরা। ন্যাটগ্রিড ও গাণ্ডীবের সাহায্যে তা বন্ধ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে কাজ করবে ‘গাণ্ডীব’

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, একসঙ্গে ২১ উৎসের তথ্য একত্রিত করে নিমেষে তদন্তকারীর প্রশ্নের জবাব দিতে পারে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির ‘গাণ্ডীব’। একটি উদাহরণের সাহায্যে এর কর্মপদ্ধতি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, কোনও সন্দেহভাজন জঙ্গির স্কেচ তৈরি করল জন্মু-কাশ্মীর পুলিশের এটিএস। এর পর তা ‘গাণ্ডীব’ প্ল্যাটফর্মে তুলে দিলেই ওই ছবির মতো দেখতে কোনও লোক এ দেশে আছেন কি না, তা বলে দেবে সংশ্লিষ্ট এআই টুল। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যাপারে তদন্তকারীদের আরও কিছু সাহায্য করবে ‘গাণ্ডীব’। সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবির সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক বা টেলি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থায় জমা করা ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ বা কেওয়াইসি ফর্মে সাঁটা ছবির সঙ্গে কোনও মিল আছে কি না তা-ও দ্রুত বলে দেবে ওই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি। ফলে দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নামতে পারবেন এটিএস এবং এনআইএ-র আধিকারিকেরা। এ-হেন ‘গাণ্ডীব’কে ন্যাটগ্রিডের মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ন্যাটগ্রিড আবার যুক্ত আছে এনপিআরের সঙ্গে। ফলে সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম মেধাভিত্তিক প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে ১১৯ কোটি বাসিন্দার মধ্যে থেকে অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পারবেন তদন্তকারীরা।

  • Delhi Red Fort Blast: দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে কাশ্মীরের জঙ্গলে বোমার পরীক্ষা করেছিল উমর! দাবি এনআইএ-র

    Delhi Red Fort Blast: দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে কাশ্মীরের জঙ্গলে বোমার পরীক্ষা করেছিল উমর! দাবি এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে গাড়ি-বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে কাশ্মীরের জঙ্গলে বোমার পরীক্ষা করেছিল দিল্লিকাণ্ডের আত্মঘাতী জঙ্গি উমর নবি! এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি এনআইএ-র। এই মামলায় ধৃতদের জেরা করে এমনটাই জানা গিয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই ধৃতদের নিয়ে অনন্তনাগ জেলায় গিয়ে পরীক্ষার জায়গায় চিরুনি তল্লাশি করে বেশ কিছু সামগ্রী পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এদিকে, দিল্লির লালকেল্লার ঘটনায় অষ্টম সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। জানা গিয়েছে, তার নাম বিলাল নাসের মাল্লা। ধৃত পেশায় একজন চিকিৎসক। থাকেন দিল্লিতে। আদতে, জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লার বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, বিলাল নাসের মাল্লা ডক্টর্স টেরর মডিউল বা হোয়াইট কলার টেরর মডিউল নেটওয়ার্কের অন্যতম সদস্য। আত্মঘাতী জঙ্গি উমরকে সে লুকোতে সাহায্য করেছিল।

    কে এই চিকিৎসক বিলাল নাসের মাল্লা?

    লালকেল্লা বিস্ফোরণকাণ্ডে মঙ্গলবার দিল্লি থেকে এনআইএ বিলাল নাসের মাল্লাকে গ্রেফতার করেছে। লালকেল্লা এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে বিলালের জড়িত থাকার বিষয়টি এনআইএ নিশ্চিত করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, লালকেল্লায় বিস্ফোরণ ঘটানো চিকিৎসক আত্মঘাতী চিকিৎসক-জঙ্গি উমরের সহযোগী ছিল চিকিৎসক মাল্লাও। এমনকী উমরকে আশ্রয় দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এনআইএ তদন্ত অনুসারে, বিলাল জেনেশুনে মৃত অভিযুক্ত উমর উন নবিকে লজিস্টিক (থাকা-খাওয়া) সহায়তা দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ নষ্ট করারও অভিযোগ রয়েছে। এনআইএ জনিয়েছে, প্রকৃত ষড়যন্ত্র ও আসামিদের পরিচয় গোপন করতে প্রমাণ নষ্ট করারও চেষ্টা করেছিল বিলাল।

    দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত ৮

    গত ১০ নভেম্বর সেই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। মৃত্যু হয়েছিল ১৫ জনের। কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। মামলাটির তদন্ত করছে এনআইএ। ওই মামলায় যুক্ত সন্দেহে এর আগে আল ফালাহ্ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুই চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল, শাহিন সঈদ ও আমির রশিদ আলিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। গ্রেফতার করা হয় বিলালি মসজিদের ইমাম মহম্মদ আসিফ ও ইলেক্ট্রিশিয়ান নজর কামালকে। সবার আগে, ফরিদাবাদ টেরর মডিউল ফাঁস করার সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল দুই চিকিৎসক আদিল রাথর এবং জসির বিলাল ওয়ানিকে। মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিলাল নাসের মাল্লা হল অষ্টম গ্রেফতারি। এই নেটওয়ার্কের বাকি সদস্যদের খোঁজে উপত্যকা জুড়ে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

    অনন্তনাগের জঙ্গলে বোমা পরীক্ষা উমরের

    এদিকে, বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে এনআইএ। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, দিল্লিতে বিস্ফোরণের আগে জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগের জঙ্গলে বোমা পরীক্ষা করেছিল আত্মঘাতী চিকিৎসক-জঙ্গি উমর মহম্মদ ওরফে উমর-উন-নবি। পরীক্ষা সফল হওয়ার পর দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয় সেই বোমা। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, মঙ্গলবার আদিল রাথর এবং জসির বিলাল ওয়ানিকে সঙ্গে নিয়ে আনন্তনাগের জঙ্গলে যায় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ এবং এনআইএ-র তদন্তকারীরা। বোমার পরীক্ষা করার জায়গাটি চিহ্নিত করা হয়। তদন্তকারীরা বোমা পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু উপাদান উদ্ধার করেছেন। তদন্তকারী ওই সূত্রের খবর, তল্লাশি অভিযানের সময় একটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে। তা থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, বোমার পরীক্ষার জন্য এই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়েছিল। অননন্তনাগের বিভিন্ন জঙ্গলেও তল্লাশি অভিযান চালানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

  • Delhi Blast: ফল বিক্রির নামে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল মুজাম্মিল, ৫ শহরে তল্লাশি, কাশ্মীরে গ্রেফতার ১

    Delhi Blast: ফল বিক্রির নামে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল মুজাম্মিল, ৫ শহরে তল্লাশি, কাশ্মীরে গ্রেফতার ১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে (Delhi Blast Investigation) পাঁচ শহর জুড়ে তাল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের মদত দিয়েচ্ছিল কারা কারা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আরও সক্রিয় হয়ে ময়দানে নেমেছে তদন্তকারী আধিকারিকরা (NIA)। ইতিমধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের ব্যবহৃত ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস কোথায় কোথায় সক্রিয় এবং কাদের থেকে সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে, তার সবটাই খোঁজ করছে তদন্তকারী অফিসাররা।

    মাসে ৮০০০ টাকার ঘর ভাড়া (Delhi Blast Investigation)

    বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে অভিযান চালিয়ে ১৯ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই যুবকের বাড়ি ভাতিইন্ডিতে। একাধিক পাকিস্তানের হ্যান্ডলের সঙ্গে যোগ পাওয়া গিয়েছে। অনলাইনে জঙ্গি কার্যকলাপের নানা পাঠ দেওয়া হতো বলে খোঁজ মিলেছে। সেই সঙ্গে ফোনের সূত্র ধরে একাধিক পাকযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

    ফরিদাবাদে বিস্ফোরক (Delhi Blast Investigation) উদ্ধারকাণ্ডে ধৃত মুজ্জামিল সম্পর্কে আরও চাঞ্চাল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। মুজ্জামিলের সঙ্গে চক্রের সঙ্গে যুক্ত ডাক্তার শাহিন সইদের বিয়ায়ের তথ্য সামনে উঠে এসেছে। ফরিদাবাদে তাদের আরও দুটি গোপন ডেরা ছিল। খোরি জামালপুর গ্রামের জুম্মা খানের থেকে একটি বাড়ি মুজাম্মিল ভাড়া নিয়েছিল। সেখানে ফলের ব্যবসা করবে বলেই এই বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। অপর দিকে স্থানীয় সহযোগিতায় জায়গা নিয়ে একটি বাড়িও নির্মাণ হয়েছিল। তবে জমির মালিক ছিলেন এক কৃষক। এই বাড়িটি আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে গ্রামের প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জুম্মা খানের বাড়িটিকেই মুজাম্মিল ভাড়া নিয়েছিল। এই বাড়িটিতে তিনটি বেড রুম ও একটি রান্নাঘর ছিল। কাঁচামালের কারখানার উপরে  তৈরি ঘরে থাকত মুজাম্মিল। এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে প্রতি মাসে মোট ৮ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে থাকত এই অভিযুক্ত। সদ্য এনআইএ জুম্মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই সমস্ত তথ্য উদ্ধার করেছে। জেরায় জুম্মা আরও বলে, একটা সময়ের পর গরমের জন্য কাশ্মীরি ফলের ব্যবসা চালানো কষ্টকর হচ্ছে। তবে মুজাম্মিলকে আগে থেকে জুম্মাকে জানতো না বলে জানিয়েছে।

    ডক্টর টেরর মডেলের সন্ধান

    সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Blast Investigation) মামলায় প্রত্যক্ষ মদতকারীদের খোঁজ করতে উত্তরপ্রদেশ, হারিয়ানা, জম্মু-কাশ্মীরের পাঁচটি বড় বড় শহরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। তার মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) লখনউ, কানপুর, সাহরানপুর, ফরিদাবাদ, জম্মু-কাশ্মীরে রয়েছে। তবে এই পাঁচ জায়গাকেই জঙ্গি মডিউলের আঁতুড়ঘর বলে সন্দেহ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিযুক্ত চিকিৎসক শাহিন সইদকে। এরপর তাকে লখনউ এবং কানপুরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ডক্টর টেরর মডেলে যারা অংশ নিয়েছিল বা সহযোগিতা করেছিল, তাদের সকলকেই খোঁজ করে তদন্তের আওতায় নিয়ে আসার কাজ করছে এনআইএ।

    ডিজিটাল ডিভাইসকে উদ্ধারের খোঁজ

    আপাতত প্রাথমিক ভাবে ডিজিটাল ডিভাইসকে উদ্ধার এবং সূত্র খোঁজের ব্যাপক তল্লাশি চালচ্ছে তদন্তকারী অফিসাররা (NIA)। আগে যে সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের ডিজিটাল ডিভাইস গুলিকে কোথায় কোথায় রেখে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। চিকিৎসকদের নেটওয়ার্ককে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যারা উচ্চ শিক্ষিত তাদের মধ্যে নিজেদের পেশার আড়ালে অবৈধ ষড়যন্ত্রের কাজ করছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই রকম বেশ কিছু উচ্চ শিক্ষিত ডাক্তার এবং গবেষকদের উপর কঠোর নজর রাখা হয়েছে। ধৃতদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং নেট ওয়ার্ক সম্পর্কে সমস্ত তথ্য খুঁজে বের করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশ এবং ফরিদাবাদের বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

    চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

    তদন্তকারীদের (NIA) সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের (Delhi Blast Investigation) বেশকিছু নেটওয়ার্ক আরও অনেকগুলি শহরে এখনও সক্রিয় রয়েছে। সাহারনপুরে যে গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে সেই একই গাড়িকে ব্যবহার করা হয়েছে বিস্ফোরণে। একই ভাবে কানপুরে গোপন আস্তানার খবর পাওয়া গিয়েছে। ফলে বিস্ফোরণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে যুক্ত এমন তালিকায় যাদের অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের সকলকেই আলাদা আলাদা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • Mumbai: ২৬/১১ হামলার ১৭ বছর পূর্ণ, সেদিন মুম্বইয়ে ঠিক কী ঘটেছিল? ফিরে দেখা

    Mumbai: ২৬/১১ হামলার ১৭ বছর পূর্ণ, সেদিন মুম্বইয়ে ঠিক কী ঘটেছিল? ফিরে দেখা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭ বছর পূর্ণ হল পাক-মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-এর জঙ্গিদের দ্বারা ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে (Mumbai) তাণ্ডব চালানোর। এই ঘটনা ঘটেছিল ২৬ নভেম্বর, ২০০৮ সালে। ঘটনাটি ২৬/১১ নামে পরিচিত। ওই জঙ্গি হামলায় ১০ জন জঙ্গির (Terror Attacks) একটি দল সারা দেশ এবং বিশ্বে তীব্র ধাক্কা দিয়েছিল। জঙ্গিরা ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে সমুদ্রপথে মুম্বই শহরে ঢুকেছিল। চার দিনের মধ্যে তারা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় ১৬৬ জনকে হত্যা করেছিল, জখম করেছিল ৩০০ জনকে।

    হামলার টার্গেটস্থল (Mumbai)

    হামলার টার্গেটস্থলগুলি খুব সুচিন্তিতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাতে সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি করা যায়। এর মধ্যে ছিল,  তাজ ও ওবেরয় হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, নরিম্যান হাউজে অবস্থিত ইহুদি কেন্দ্র, কামা হাসপাতাল, মেট্রো সিনেমা এবং লিওপোল্ড ক্যাফে।  কারণ এই জায়গাগুলোয় বিদেশিরা এবং মুম্বইয়ের কর্মজীবী মানুষের প্রচুর জনসমাগম হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার রেখে যাওয়া ক্ষত আজও সেই সব মানুষকে তাড়া করে ফিরছে, যাঁরা সেই ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। লিওপোল্ড ক্যাফে এবং নরিম্যান হাউজের গুলির দাগ, শহিদ সহকারী উপ-পরিদর্শক তুকারাম ওম্বলের স্মৃতির মূর্তি, যিনি একমাত্র জীবিত ধরা পড়া পাক জঙ্গি মহম্মদ আজমল আমির কাসভকে ধরতে গিয়ে প্রাণ বলি দিয়েছিলেন। দক্ষিণ মুম্বইয়ের এই রাস্তাগুলি আজও সেই নৃশংস জঙ্গি হামলার স্মৃতি জাগিয়ে রেখেছে (Terror Attacks)।

    লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি নিহত

    ন’জন লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি নিহত হয়েছিল, গ্রেফতার করা হয়েছিল কাসভকে। ২০১০ সালের মে মাসে কাসভকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দু’বছর পরে পুনের একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা যুক্ত কারাগারে ফাঁসি দেওয়া (Mumbai) হয় কাসভকে। ২৬/১১ হামলা বিশেষ করে এই বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লি বিস্ফোরণের পরিপ্রেক্ষিতে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে শেখা শিক্ষার একটি স্মারক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, এনএসজি মুম্বই আজ, বুধবার গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ায় ‘নেভারএভার’ থিমে একটি স্মরণসভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে, ২৬/১১ হামলার শহিদ, জীবিত এবং সকল ভুক্তভোগীদের শ্রদ্ধা জানাতে। এই অনুষ্ঠানটি আমাদের সম্মিলিত সংকল্পকে পুনর্ব্যক্ত করে যে এমন কোনও ঘটনা আর কখনও ঘটতে দেওয়া যাবে না।

    বিশেষ স্মারক অঞ্চল

    জানা গিয়েছে, একটি বিশেষ স্মারক অঞ্চল তৈরি করা হবে যেখানে বীরদের এবং সকল শহিদদের ছবি ও নাম প্রদর্শিত হবে, ফুলেল শ্রদ্ধা এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে সম্মান জানানো হবে এবং ‘লিভিং মেমরিয়াল’ নামে একটি নতুন ধারণা উপস্থাপন করা হবে, যা শ্রদ্ধা নিবেদনের মোমবাতির মোম দিয়ে তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়াও, মুম্বইয়ের ১১টি কলেজ এবং ২৬টি স্কুলে ‘নেভারএভার’ থিমের আওতায় শিক্ষার্থীদের শপথ গ্রহণ করানো হবে, যা শান্তি, সতর্কতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি তরুণ প্রজন্মের অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করবে (Mumbai)।

    গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া

    এদিন রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া সাজানো হবে তিরঙ্গা রঙের আলোয়। সেখানেও আলোকিত (Terror Attacks) হয়ে থাকবে ‘নেভারএভার’ শব্দটি। এদিকে, এনআইএ (NIA) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল ষড়যন্ত্রী তাহাউর রানা-সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে নতুন করে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। সূত্রের খবর, এটি করা হয়েছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (MLAT) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্টোবর মাসে। রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের পর তার জিজ্ঞাসাবাদের কয়েক মাস পর এই অতিরিক্ত প্রশ্নগুলি তোলা হয়েছে, যা ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র তদন্তে আরও অগ্রগতি আনতে সাহায্য করতে পারে।

    জঙ্গিদের নিকেশ অভিযান

    সেদিন জঙ্গিদের নিকেশ করতে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চালানো হয়েছিল অপারেশন (Mumbai)। অপারেশনে যোগ দিয়েছিল এনএসজি কমান্ডো, মেরিন কমান্ডো এবং পুলিশ। সেই দৃশ্যের লাইভ টেলিকাস্ট দেখেছিল তামাম বিশ্ব। বুধবার মুম্বই হামলার ১৭ বছর পূর্তিতে ট্যুইট করেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “২৬/১১-এর ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় শহিদ সকল সাহসী সেনা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। দেশ তাঁদের সাহস এবং ত্যাগের কথা কোনও দিনও ভুলবে না।” এত বছর পেরিয়ে গেলেও (Terror Attacks) আজও অধরা মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ডরা। একইভাবে আজও খোলা হাওয়ায় ছড়িয়ে রয়েছে সন্ত্রাসবাদের সেই আতঙ্ক। প্রতিটি ২৬/১১ যেন সেই আতঙ্ককে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়ে যায় (Mumbai)।

  • Delhi Blast: হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর বদলা নিতে চেয়েছিল জঙ্গি-চিকিৎসক উমর নবি! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    Delhi Blast: হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর বদলা নিতে চেয়েছিল জঙ্গি-চিকিৎসক উমর নবি! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১০ বছর আগে কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে খতম হওয়া হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির সঙ্গে দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী আত্মঘাতী জঙ্গি-চিকিৎসক উমর-উন-নবি ওরফে উমর মহম্মদের যোগসূত্র উঠে এল। সূত্রের খবর, বিস্ফোরণকাণ্ডে জড়িতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর বদলা নিতে চেয়েছিল ফরিদাবাদ ডক্টর্স টেরর মডিউলের অন্যতম সদস্য উমর-উন-নবি। উমর সম্পর্কে এমনই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

    বুরহানের মৃত্যুর বদলা নিতেই দিল্লিতে হামলা!

    ২০১৬ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মারা যায় কাশ্মীরি জঙ্গি বুরহান ওয়ানি। এর প্রতিশোধ নিতেই দিল্লির লালকেল্লা চত্বরে গাড়িতে আত্মঘাতী হামলা চালায় ‘জেহাদি চিকিৎসক’ উমর নবি। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, উমর নবি নিজেকে ‘আমির’ বলে প্রচার করত জঙ্গিদের মধ্যে। বলত সে তাদের নেতা। তদন্তে উঠে এসেছে, উমর-উন-নবিকে নিয়োগ করেছিল দিল্লির বিস্ফোরণে ধৃত আর এক জঙ্গি মুজাম্মিল শাকিল। এই মুজাম্মিল শাকিলকে নিয়োগ করেছিল মওলানা ইরাফান আহমেদ।

    ন’টি ভাষায় পারদর্শী ছিল জঙ্গি-চিকিৎসক উমর…

    হরিয়ানার ফরিদাবাদে গড়ে ওঠা ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’-এর সদস্যদের সন্ধান পায় পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্যতম হল মুজাম্মিল। তাকে জেরা করে দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড সম্পর্কিত পুলিশ বেশকিছু বিস্ফোরক নথি হাতে পেয়েছে। মুজাম্মিলের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, উমর ন’টি ভাষায় পারদর্শী ছিল। সবচেয়ে শিক্ষিত এবং চতুর ছিল। মুজাম্মিলের দাবি, উমরের যে ধরনের মেধা তাতে সে খুব সহজেই পরমাণু বিজ্ঞানী হতে পারত। তদন্তকারীদের মুজাম্মিল জানায়, বুদ্ধিমত্তা ও তাঁর দক্ষতার কারণে দলের সকলে উমরকে সমীহ করে চলত। উমর নিজেকে ‘আমির’ (স্বঘোষিত নেতা) বলে সম্বোধন করত। মুজাম্মিলের আরও দাবি, গোটা দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে সে একজন কর্মী মাত্র। তুলনাটা যদি উমর উন নবির সঙ্গে হয় তাহলে সে একেবারে মামুলি লোক। জঙ্গিরা দিল্লি বিস্ফোরণের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন আমির’।

    উমর-উন-নবির কাছে ছিল একটি বিশেষ সুটকেস!

    দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে ধৃত আর এক জঙ্গি শাহিন সঈদ। তাদের জেরা করেও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মূল অভিযুক্ত উমর-উন-নবির কাছে ছিল একটি বিশেষ সুটকেস, যেখানে ছিল বোমা তৈরির উপকরণ, রাসায়নিক ও সেগুলি মাপার সরঞ্জাম। বয়ান অনুযায়ী, আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al-Falah University) চিকিৎসক উমর উন নবি তার ক্যাম্পাসের ঘরেই ছোট আকারে রাসায়নিক পরীক্ষা চালাতেন। সেখানেই তিনি প্রস্তুত করেছিলেন সেই মিশ্রণ, যা পরে আইইডি বানাতে ব্যবহার করা হয়।

    নেল পালিশ রিমুভার, সুগার পাউডার দিয়ে তৈরি বোমা!

    ধৃতেরা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের জন্য যে বোমা গাড়িতে করে দিল্লিতে নিয়ে এসেছিল উমর, সেটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় ছিল। এই বোমা তৈরি করতে উমর নেল পালিশ রিমুভার, সুগার পাউডার ব্যবহার করেছিল। প্রাথমিক ভাবে ‘টেরর মডিউল’-এর সদস্যেরা চেয়েছিল হরিয়ানায় যে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা ছিল, সেগুলি জম্মু-কাশ্মীরে স্থানান্তরিত করা হোক। সেখানেই বড়সড় নাশকতার ছক ছিল উমরের। কিন্তু, ফরিদাবাদ টেরর মডিউলের পর্দাফাঁস হতেই প্রায় তিন হাজার বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। এক এক করে গ্রেফতার হয় হোয়াইট কলার টেরর মডিউলের কাণ্ডারীরা। ফলে, সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

LinkedIn
Share