Tag: One Nation One Election

One Nation One Election

  • One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর প্রথম ধাপ ২০৩৪-এর পরিবর্তে ২০২৯ সালেই শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে ভোটের সময়সূচি মিলিয়ে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ (One Nation One Election) সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি (JPC) বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, সরকারি আধিকারিক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করাতে কী ধরনের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রয়োজন, তা-ও খতিয়ে দেখছে কমিটি।

    কীভাবে ২২টি রাজ্যকে ২০২৯-এর ভোটচক্রে আনা হতে পারে?

    বিবেচনায় থাকা ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগের দুই বছরের মধ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচলপ্রদেশ, সিকিম এবং ওড়িশায় লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন হয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে বাকি কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় থাকলে এবং তারা এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিলে ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানের ১৭৪(২)(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন। সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধানসভা ভেঙে গেলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন নির্বাচন করতে হয়। এর ফলে কয়েকটি রাজ্যে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ কয়েক বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যেমন গোয়া, গুজরাট, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত মেয়াদ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, রাজস্থান ও ত্রিপুরায় এই মেয়াদ কমার পরিমাণ প্রায় চার বছর হতে পারে।

    একসঙ্গে নির্বাচনের পক্ষে কয়েক এনডিএ মুখ্যমন্ত্রী

    এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিমধ্যেই কয়েকটি এনডিএ-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন জানিয়েছেন। গোয়া, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচনগুলির সময়সূচি সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিধানসভার মেয়াদে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে দিল্লি সরকার প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় স্তরে নির্বাচনের সময়সূচি এক করার জন্য দিল্লির মেয়াদে উপযুক্ত সমন্বয় প্রয়োজন হলে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তা বিবেচনা করবে। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের সঙ্গে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন করতে হলে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ প্রায় এক বছর কমাতে হতে পারে। যৌথ সংসদীয় কমিটি ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, গুজরাট, দিল্লি, গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে। বিধানসভা আগাম ভেঙে দেওয়া, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন এবং নির্বাচনী সময়সূচি সমন্বয়ের সাংবিধানিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিরোধীদের আপত্তি: গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

    বিধানসভাগুলির মেয়াদ আগাম শেষ করার সম্ভাবনা সামনে আসায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচিত রাজ্য সরকারের মেয়াদ কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, দলের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। কংগ্রেস ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর বিরোধী। তাঁর দাবি, এই প্রস্তাব অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহির পরিপন্থী। কংগ্রেস ও ডিএমকে-র সাংসদরা ২০২৪ সালে সংসদে বিলগুলি পেশ করার সময়ই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও যৌথ সংসদীয় কমিটি-র সামনে হাজির হয়ে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। পাঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, মিজোরাম এবং তেলঙ্গানার মতো বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিতেও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তবে এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির মতো এই রাজ্যগুলির সরকারগুলি স্বেচ্ছায় বিধানসভার মেয়াদ কমাতে আগ্রহী হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    কী রয়েছে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বিলের প্রস্তাবে?

    ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ ব্যবস্থার জন্য ২০২৪ সালে সংবিধান (১২৯তম সংশোধনী) বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল আনা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। পরে ২৬৯ জন সাংসদ বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেন এবং ১৯৬ জন এর বিরোধিতা করেন। প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীতে ৮২, ৮৩, ১৭২ এবং ৩২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচনকে একটি নির্দিষ্ট সময়চক্রে নিয়ে আসা। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও সাধারণ নির্বাচনের পর লোকসভার প্রথম বৈঠকের পর যে বিধানসভাগুলি নির্বাচিত হবে, তাদের মেয়াদ প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা যেতে পারে, যাতে পরবর্তী সময়ে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ওই বিধানসভাগুলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিকল্পনার ভিত্তি মূলত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই কমিটি গঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও গবেষণার পর কমিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যৌথ সংসদীয় কমিটি-র মেয়াদ সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আরও আলোচনা ও পরামর্শের পরই ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ সামনে আসবে। ২০২৯ সালেই একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন হবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

  • One Nation One Election: ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা! ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবের পক্ষে যৌথ সংসদীয় কমিটি

    One Nation One Election: ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা! ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবের পক্ষে যৌথ সংসদীয় কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন চালু হলে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। এর ফলে দেশের জিডিপি ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে দাবি করলেন যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) চেয়ারম্যান পিপি চৌধুরী। সম্প্রতি, গান্ধীনগরে গুজরাট সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ (One Nation One Election) প্রস্তাবের পক্ষে এই বক্তব্য রাখেন। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের সমকালীন আয়োজন নিয়ে গঠিত ৪১ সদস্যের সংসদীয় কমিটি বর্তমানে সংবিধানের ১২৯তম সংশোধনী বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল খতিয়ে দেখছে। গুজরাট সফরের তৃতীয় দিনে কমিটির সদস্যরা মুখ্যসচিব এম কে দাস, বিভিন্ন দফতরের সচিব এবং বিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

    জিডিপি ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি

    বৈঠকের পর পিপি চৌধুরী জানান, গুজরাট সরকার এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে মতামত দিয়েছে, যা আগে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা রাজ্য সরকারকে একটি বিস্তৃত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছি, যা ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যগুলির জন্যও আদর্শ মডেল হতে পারে।” চৌধুরীর মতে, ওই রিপোর্টে শিল্প, শ্রমিকদের স্থানান্তর, কর্মসংস্থান, জিএসটি সংগ্রহ, পর্যটন, শিক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর একসঙ্গে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতিবিদদের মতে, একযোগে নির্বাচন হলে দেশের জিডিপি ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সেই অর্থ পরিকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্রকল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।”

    নির্বাচনী সংস্কার দেশের উপকারে আসা উচিত

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে জেপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “নির্বাচনী সংস্কার দেশের উপকারে আসা উচিত— এটাই প্রধানমন্ত্রী মোদির লক্ষ্য। সেই কারণেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিও একসঙ্গে নির্বাচন করার সুপারিশ করেছে।” তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক কাঠামো বা ফেডারেল ব্যবস্থার উপর এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেই মত দিয়েছেন দেশের ছয়জন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। চৌধুরীর কথায়, “তাঁরা জানিয়েছেন, এতে মৌলিক অধিকার, ফেডারেল স্ট্রাকচার বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কোনও লঙ্ঘন হবে না।”

    ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবকে সমর্থন

    চৌধুরী আরও জানান, কোবিন্দ কমিটির প্রায় ১৮ হাজার পাতার রিপোর্ট সরকার গ্রহণ করেছে। ওই রিপোর্টে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচন আয়োজনেরও সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “বারবার নির্বাচনের চক্র কমলে সরকার উন্নয়ন, দারিদ্র দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কাজে আরও বেশি সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে পারবে।” এর আগে আমেদাবাদে পৌঁছে তিনি বলেন, আইন কমিশন, নীতি আয়োগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে। এই বিষয়ে মতামত সংগ্রহের জন্য জেপিসি ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও কর্নাটক সফর করেছে। চৌধুরী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সব পক্ষের মতামত শোনা এবং সর্বসম্মত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করা।”

  • Finance Bill: লোকসভায় পাশ হল নয়া অর্থ বিল, এসেছে ৩৫টি বদল! জানেন কী কী?

    Finance Bill: লোকসভায় পাশ হল নয়া অর্থ বিল, এসেছে ৩৫টি বদল! জানেন কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  লোকসভায় পাশ হয়ে গেল নতুন অর্থ বিল ২০২৫ (Finance Bill)। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) এই নয়া অর্থ বিলকে করদাতাদের ক্ষেত্রে সুবিধেজনক বলে দাবি করেছেন এবং তিনি জানিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত আয়কর সংগ্রহে ১৩.১৪ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে বেশ কিছু তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই বিল পাশ করা হয়েছে যা বাস্তবসম্মত। লোকসভায় (Lok Sabha) মঙ্গলবার এছাড়াও একাধিক বিল পাশ করানো হয়েছে। ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নিয়ে জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটির (JPC) সময়সীমা ২০২৫-এর বর্ষাকালীন অধিবেশন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নিম্ন কক্ষে বয়লার বিলও পাশ হয়ে গিয়েছে।

    নয়া অর্থ বিলে সুবিধা

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) বলেছেন যে এই বিল করের স্থিতিশীলতা (Tax Certainty) নিশ্চিত করতে এবং ব্যবসা করার সুবিধা (Ease of Doing Business) বাড়াতে আনা হয়েছে। তিনি বলেছেন যে এই বিলে অভূতপূর্ব কর ছাড় (Tax Relief) দেওয়া হয়েছে এবং বিদেশি সম্পত্তির উপর কর সংগ্রহ বাড়ানোর জন্য নতুন নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। সীতারামন বলেছেন যে, এই বিলটি (Finance Bill) ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত (Viksit Bharat 2047) গড়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এর মাধ্যমে সরকার ট্যাক্স সংক্রান্ত একাধিক সংস্কার করেছে, যা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দেবে।

    অর্থ বিলে নানা বদল (Finance Bill)

    নয়া অর্থ বিলে বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি এবং মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশের উপর থেকে আমদানি কর বাতিল করা হয়েছে। এখন বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারির ৩৫টি যন্ত্রাংশ এবং মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ২৮টি যন্ত্রাংশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই পাওয়া যাবে। আয়কর রিটার্নের ১৪৩ (১) ধারায় নয়া নিয়ম চালু করা হয়েছে। আয়কর বিভাগ এখন থেকে গত বছরের জমা করা আয়কর রিটার্নে ভুল সংশোধন করবে এবং আগামী রিটার্নে এগুলি সংশোধিত হবে। নয়া বিল (Finance Bill) অনুযায়ী ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে অনলাইন বিজ্ঞাপনের উপরে ৬ শতাংশ ডিজিটাল ট্যাক্স বাতিল করা হবে।

    প্রয়োজনীয় সংশোধনী

    নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন যে, এবার থেকে করদাতারা তাদের বছরে ১২ লাখ টাকা আয় পর্যন্ত কর ছাড় পাবেন। গত কয়েক বছরে ব্যক্তিগত আয়কর সংগ্রহের হার ২০ শতাংশ হারে বেড়ে গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে অনুমান করা হয়েছে ব্যক্তিগত আয়কর সংগ্রহ হবে ১৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবর্ষের জন্য আয়কর সংগ্রহের পরিমাণ হতে পারে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে ১১ হাজার ১৬২ জন করদাতা তাদের রিটার্ন সংশোধন করে বৈদেশিক সম্পদের ফর্ম পূরণ করে ১১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকার সম্পদের ঘোষণা করেছেন।

    নতুন আয়কর আইন নিয়ে বিতর্ক

    নতুন আয়কর আইন নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, ১৯৬১ সালের আয়কর আইনে পরিবর্তন করবে নতুন বিল (Finance Bill)। বিল পেশ করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘আয়কর আইনের ধারা কমিয়ে ৫৩৬-এ নামিয়ে আনা হবে।’’ আয়করের নিয়ম সরল করবে নতুন বিল, এমনটাই মত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর। গত ১ এপ্রিল নির্মলা সীতারামন যে বাজেট পেশ করেছিলেন তাতে বেশ কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব এসেছিল। সেগুলির মধ্যে ৩৫টি গৃহীত হয়েছে। সেই সংশোধনী-সহ অর্থবিল (Finance Bill) হিসাবে বাজেটটি লোকসভায় পাশ হল। এর পর বাজেট রাজ্যসভায় পাশ হলেই বাজেট অধিবেশন শেষ হয়ে যাব। বাজেটে ৫০.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষের তুলনায় ৭.৪ শতাংশ বেশি।

    ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ 

    লোকসভায় ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নিয়ে জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটির (JPC) রিপোর্ট পেশ করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। JPC-র চেয়ারম্যান পিপি  চৌধুরী (PP Chaudhary) সংবিধান (১২৯তম সংশোধন) বিল ২০২৪ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধন) বিল ২০২৪-এর উপর রিপোর্ট পেশ করার জন্য সময়সীমা ২০২৫ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখেন, যা লোকসভা মঞ্জুর করেছে। সরকারের দাবি, এই বিল দেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুবিন্যস্ত করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হবে, যার ফলে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে করানো সম্ভব হবে।

    বয়লার বিল 

    লোকসভায় বয়লার বিল-ও পাশ হয়েছে, যা এর আগে রাজ্যসভা (Rajya Sabha) থেকে অনুমোদন পেয়েছিল। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal) এই বিলটি পেশ করেন। সরকারের বক্তব্য, এই বিল ব্যবসা করার সুবিধা বাড়াতে আনা হয়েছে, যা এমএসএমই সেক্টরের বয়লার ব্যবহারকারীদের সুবিধা দেবে। এই বিলে একাধিক পুরনো নিয়ম বাতিল করা হয়েছে এবং জন বিশ্বাস অ্যাক্ট ২০২৩-এর অধীনে অপরাধের জন্য শাস্তির নিয়ম সরল করা হয়েছে।

  • One Nation One Election: ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ কার্যকর করতে চাইছেন মোদি, কী এর উপকারিতা?

    One Nation One Election: ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ কার্যকর করতে চাইছেন মোদি, কী এর উপকারিতা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দেশ, এক নির্বাচন (One Nation One Election)। দীর্ঘদিন ধরেই এর পক্ষে সওয়াল করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোমবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বলেছিলেন, মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদেই এক দেশ, এক নির্বাচন কার্যকর করা হবে। এ সংক্রান্ত রিপোর্টও পেশ করেছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন কমিটি।

    কেন এক দেশ, এক নির্বাচন (One Nation One Election)

    বুধবার কোবিন্দ কমিটির সেই প্রস্তাব অনুমোদনও করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। জানা গিয়েছে, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেই পেশ করা হবে এ সংক্রান্ত বিলটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের এহেন প্রস্তাবের বিরুদ্ধাচরণ করতে শুরু করেছে বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন দল। তার পরেও বিলটি সংসদে পেশ করতে ও পাশ করাতে মরিয়া মোদি সরকার। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের যুক্তি স্পষ্ট। এক দেশ, এক নির্বাচন কার্যকর হলে বারবার ভোট করতে যে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়, তা বন্ধ হবে। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরেই লাগু হয়ে যায় আদর্শ আচরণবিধি। এই কারণে থমকে যায় উন্নয়নমূলক কাজকর্ম। উন্নয়নের গতির চাকা থমকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। এহ বাহ্য। ঘন ঘন নির্বাচন হলে ঝামেলা পোহাতে হয় ভোট কর্মীদের। তাদের প্রশিক্ষণের পেছনে ব্যয় হয় সময়, অর্থ। কাজকর্ম ফেলে তাঁদের যেতে হয় ভোট করাতে। এক দেশ, এক নির্বাচন হলে, এই তিন সমস্যাই মিটবে। তার পরেও অযথা বিরোধীরা হইচই করছেন বলে অভিযোগ।

    বিশ্বের অনেক দেশেই রয়েছে এই ব্যবস্থা

    অথচ, বিশ্বের অনেক দেশেই চালু হয়েছে এক দেশ, এক নির্বাচন (One Nation One Election) ব্যবস্থা। এই তালিকায় যেমন রয়েছে সুইডেন, বেলজিয়ামের মতো দেশ, তেমন রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাও। এই দেশগুলিতে জাতীয় ও রাজ্য নির্বাচন হয় একই সঙ্গে। বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশেও চালু রয়েছে এই ব্যবস্থা। এ তো গেল বিদেশের কথা। ভারতেও বেশ কয়েকবার একই সঙ্গে নির্বাচন হয়েছে লোকসভা ও বিধানসভার। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়। প্রথমবার নির্বাচন হয় ১৯৫২ সালে। তার পর থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়েছে, প্রতিবারই লোকসভার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন হয়েছে বিধানসভারও। দিব্যিই চলছিল এই ব্যবস্থা। গোল বাঁধে ১৯৬৮ ও ১৯৬৯ সালে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে গিয়েছিল কয়েকটি বিধানসভা। শুরু হয় অকাল নির্বাচন। তার পর থেকে আর এক সঙ্গে ভোট হয়নি। লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন হয়েছে আলাদা আলাদা সময়ে।

    এই ব্যবস্থায়ই বদল আনতে চান মোদি

    এই ব্যবস্থাতেই বদল আনতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আজ নয়, তিনি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় থেকেই। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি। সেই সময়ও তিনি এক দেশ, এক নির্বাচনের প্রস্তাব দেন। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপি যে ইস্তাহার প্রকাশ করেছিল, তাতেও এক দেশ, এক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় মোদি জমানায় সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। সেই দফায় জম্মু-কাশ্মীর থেকে রদ হয়েছিল ৩৭০ ধারা এবং ৩৫ এ ধারা। তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেই এক দেশ, এক নির্বাচন কার্যকর করতে কোমর কষে মাঠে নেমে পড়েছে মোদি সরকার। সোমবারই যার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গলায়।

    কোবিন্দ কমিটি

    তবে এক দেশ, এক নির্বাচন (One Nation One Election) কার্যকর করতে মোদি সরকার যে বদ্ধপরিকর, তার আঁচ মিলেছিল গত সেপ্টেম্বরেই। তখনও লোকসভা নির্বাচনের ঢের দেরি। মোদি সরকার ক্ষমতায় ফিরবে কিনা, তাও নিশ্চিত ছিল না। তা সত্ত্বেও, কার্যত দেশের স্বার্থেই এক দেশ, এক নির্বাচন প্রস্তাব কার্যকর করতে কোবিন্দের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে মোদি সরকার। সেই কমিটি কথা বলে দেশের ৩৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। আলোচনা করে অর্থনীতিবিদ এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। বিশ্বের যেসব দেশে এক সঙ্গেই সাধারণ নির্বাচন ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলির নির্বাচন হয়, সেসব দেশে কীভাবে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়, তাও খতিয়ে দেখে কোবিন্দ কমিটি। শেষমেশ দিন কয়েক আগে রিপোর্ট পেশ করে সেই কমিটিই। তার পরেই এ নিয়ে শুরু হয়েছে দেশজুড়ে চর্চা।

    কীভাবে কার্যকর করা হবে

    কোবিন্দ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দু’ধাপে কার্যকর করা যেতে পারে এই ব্যবস্থা। প্রথমে একযোগে হবে লোকসভা ও বিধানসভাগুলির নির্বাচন (One Nation One Election)। এর ঠিক ১০০ দিনের মধ্যে করা হবে দেশের সব পুরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচন। অবশ্য, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলির মেয়াদ, লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়া এবং রাষ্ট্রপতি শাসন জারি সংক্রান্ত বিষয়গুলি সংশোধন করতে হবে। সংশোধন করতে হবে সংবিধানের ৮৩ ও ১৭২ নম্বর ধারা। এই দুই ধারায় বলা হয়েছে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলির মেয়াদ কতদিনের হবে।

    কমিটি জানিয়েছে, শাসন ব্যবস্থাকে ব্যাহত না করে নির্বাচনগুলিকে একত্রিত করার জন্য টেকসই আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। মেয়াদ ফুরনোর আগে কোনও সরকারের বিলুপ্তি ঘটাতে হলে সেই জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। অথবা সুসঙ্গত নির্বাচন চক্রে সামিল করতে নির্বাচনের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদের সরকার গঠন করা যেতে পারে।

    বাড়বে ভোটার

    কোবিন্দ কমিটির রিপোর্টে এক দেশ, এক নির্বাচনের (One Nation One Election) সুখ্যাতি গাওয়া হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, একযোগে নির্বাচন হলে নির্বাচনী খরচ এক ধাক্কায় কমে যাবে অনেকটা। প্রশাসনিক বোঝাও হালকা হবে। বাড়বে ভোটারের সংখ্যাও। কমিটির বক্তব্য, বারবার নির্বাচন হলে অনেক সময়ই ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন ভোটাররা। কর্মসূত্রে যাঁরা বাইরে থাকেন, তাঁদের সমস্যাটা আরও বেশি। কাজের ক্ষতি করে মোটা টাকা গচ্চা দিয়ে বারবার ভোট দিতে ‘গাঁয়ে’ ফেরা তাঁদের পক্ষেও বোঝা স্বরূপ। এক সঙ্গে নির্বাচন হলে, এক ঢিলে তাঁরা মারতে পারবেন দুই পাখি। এক খরচে এবং এক ছুটিতেই লোকসভা ও বিধানসভার ভোট দিয়ে তাঁরা ফিরতে পারবেন কর্মস্থলে।

    ২০২৯ সালেই এক দেশ, এক নির্বাচন

    দেশে ফের লোকসভা নির্বাচন হবে ২০২৯ সালে। সে ক্ষেত্রে কী হবে সেই সব রাজ্যের, যেগুলিতে আগামী বছরই নির্বাচন রয়েছে? এই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু। কোবিন্দ কমিটির রিপোর্টে সেই প্রসঙ্গেরও অবতারণা করা হয়েছে। এবং কীভাবে এর সমাধান করা হবে, তাও বাতলে দেওয়া হয়েছে। যেসব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে ২০২৫ সালে, সেই সব রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ হবে চার বছরের। আবার কর্নাটকের মতো রাজ্য যেখানে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৮ সালে, সেখানে বিধানসভার মেয়াদ হবে মাত্রই কয়েক মাসের।

    আরও পড়ুন: মেডিক্যাল কলেজে কায়েম ‘থ্রেট কালচার’, জানুন এই সংস্কৃতি সম্পর্কে

    যদি কখনও কোনও কারণে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শও দিয়েছে কোবিন্দ কমিটি। সেক্ষেত্রে পরবর্তী মেয়াদকে এমনভাবে সীমাবদ্ধ করতে হবে যাতে তাকে মিলিয়ে (PM Modi) দেওয়া যায় পরবর্তী এক দেশ, এক নির্বাচনের (One Nation One Election) সঙ্গে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • One Nation One Election: ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাবে অনুমোদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার

    One Nation One Election: ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাবে অনুমোদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়ে দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা (PM Modi)। বুধবার এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মোদি সরকারের মন্ত্রিসভা। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেই পেশ করা হতে পারে বিলটি। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর এই ডেভেলপমেন্ট জানা গিয়েছে।

    কী বললেন মন্ত্রী (One Nation One Election)

    এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “এক দেশ, এক নির্বাচন বাস্তবায়িত করা হবে দুটি ধাপে।” তাঁর দাবি, এই প্রস্তাব বহু দলের সমর্থন পেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “এক দেশ, এক নির্বাচনের প্রস্তাব সমর্থন করেছেন ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ। এই প্রস্তাব সমর্থন না করলে চাপে পড়ে যেতে পারে বিরোধী দলগুলি।” তিনি বলেন, “একটি কমন ইলেকটোরাল রোল তৈরি হবে সব নির্বাচনের জন্য। কোবিন্দ প্যানেলের রেকমেন্ডেশন কার্যকর করতে একটা ইমপ্লিমেন্টেশন গ্রুপও তৈরি করা হবে।”

    এক দেশ, এক নির্বাচন

    প্রসঙ্গত, দেশের ৭৬টি রাজনৈতিক দলের সিংহভাগই এক দেশ, এক নির্বাচনের (One Nation One Election) প্রস্তাব সমর্থন করেছে। বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস, আপ এবং শিবসেনার একটা অংশ। তাদের বক্তব্য, এতে সুবিধা হবে কেন্দ্রের শাসক দলের। ১৮,৬২৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে হবে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচন। এজন্য সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির অনুমোদন প্রয়োজন হবে না।

    আরও পড়ুন: ভারত থেকে নেপালে নিয়ে গিয়ে শতাধিক হিন্দুকে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা, রুখল ভিএইচপি

    জোড়া হবে পুর ও পঞ্চায়েত নির্বাচনকেও

    পরবর্তী ধাপে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলির নির্বাচনকে সিঙ্ক্রোনাইজ করা হবে। এটি এমনভাবে করা হবে যাতে স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচনের ১০০ দিনের মধ্যেই। এক্ষেত্রে অন্তত অর্ধেক রাজ্যের অনুমোদন প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, এক দেশ, এক নির্বাচন বাস্তবায়িত করতে প্যানেল মোট ১৮টি সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ করেছে।

    প্রসঙ্গত, এক দেশ, এক নির্বাচনের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেও সওয়াল করে আসছে মোদি সরকার। তাদের যুক্তি, এতে একদিকে যেমন নির্বাচনের বিপুল ব্যয় কমবে, তেমনি বিভিন্ন সময় নির্বাচন হেতু আদর্শ আচরণ বিধি জারি (PM Modi) হওয়ায় যে উন্নয়ন থমকে যায়, তাও আর হবে না (One Nation One Election)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • One Nation One Election: ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ চালু হচ্ছে মোদি সরকারের এই মেয়াদেই!

    One Nation One Election: ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ চালু হচ্ছে মোদি সরকারের এই মেয়াদেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোদি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে জম্মু-কাশ্মীরে রদ হয়েছিল ৩৭০ ধারা। আর তৃতীয় মেয়াদে চালু হতে চলেছে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ (One Nation One Election)। জানা (NDA) গিয়েছে, এনডিএ সরকারের চলতি মেয়াদেই কার্যকর হয়ে যাবে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’। সূত্রের দাবি, অবশ্যই এটি চলতি মেয়াদেই কার্যকর হবে। এটি বাস্তব রূপ নেবে। এই সংস্করমূলক পদক্ষেপকে সব দলই সমর্থন জানাবে বলেও আশাবাদী ওই সূত্র।

    ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ (One Nation One Election)

    দীর্ঘদিন ধরেই ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর পক্ষে সওয়াল করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর যুক্তি, এতে লাভ হবে দুভাবে। এক, বারবার নির্বাচন করতে যে বিপুল খরচ হয়, তা কমবে। আর দুই, আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার কারণে বারবার যে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম থমকে থাকে, তা আর হবে না। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, বারংবার ভোট করাতে গিয়ে সরকারি কর্মী এবং প্রশাসনকে যে হ্যাপা পোহাতে হয়, তাও আর হবে না। দেশের রাজনৈতিক দলগুলিকেও ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর প্রস্তাব সমর্থন জানানোর আহ্বানও জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বিরোধীদের দাবি, মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ভাবনার পরিপন্থী। তাঁদের মতে, মোদি সরকার ঘুরপথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ধাঁচের ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে এ দেশে।

    আরও পড়ুন: অন্য কাশ্মীর! ৩৭ বছর পর দোরে দোরে ঘুরে প্রচার করছেন প্রার্থীরা

    কমিটির রিপোর্ট

    ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ (One Nation One Election) ব্যবস্থা চালু করা কতটা বাস্তবসম্মত, তা খতিয়ে দেখতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিল সরকার। গত মার্চ মাসেই সেই কমিটি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে। সূত্রের দাবি, ওই কমিটিও মত দিয়েছে এক দেশ, এক নির্বাচনের পক্ষে। ৪৭টিরও বেশি রাজনৈতিক দল কোবিন্দ কমিটির কাছে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছিল। এর মধ্যে ৩২টি দলই ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর ধারণাকে সমর্থন করেছে। সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছিল। সেখান থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে ২১ হাজার ৫৫৮টি। এর মধ্যেও ৮০ শতাংশ সায় দিয়েছে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর (One Nation One Election) পক্ষেই (NDA)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • PM Modi: স্বাধীনতা দিবসে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ ও ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নিয়ে সওয়াল মোদির

    PM Modi: স্বাধীনতা দিবসে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ ও ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নিয়ে সওয়াল মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এবার লালকেল্লা থেকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর মতে, ‘এখন আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ অর্থাৎ অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (Uniform Civil Code) পথে হাঁটতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে দেশে ভেদাভেদ হচ্ছে, সাধারণ মানুষ নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন, তা থেকে মুক্তি মিলবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে।’ একইসঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পাশাপাশি তিনি সওয়াল করেন এক দেশ এক নির্বাচনের ( One Nation One Election) পক্ষেও। 

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)  

    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”ভারতের একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি থাকা প্রয়োজন। আমরা একটি সাম্প্রদায়িক বিধি নিয়ে ৭৫ বছর বেঁচে আছি। এবার, বদলের সময় এসেছে। আমাদের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে চলতে হবে। তবেই ধর্মভিত্তিক বৈষম্য দূর হবে।” একইসঙ্গে এদিন ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ – এর উদ্যোগের সমর্থনে সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন মোদি । তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুবিন্যস্ত করতে এবং শাসনে অধিকতর দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্তের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে ঘন ঘন নির্বাচন দেশের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করে।  

    মোদি (PM Modi) বলেন, ”আজ দেশে যে কোনও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নির্বাচনের জন্য থেমে যায়। প্রতি তিন মাস অন্তর কোথাও না কোথাও ভোট হচ্ছে। কাজ শুরু হয়, ভোট আসে তারপর তা থেমে যায়। বারবার নির্বাচন উন্নয়নের পথে বাধা নিয়ে আসে।” মোদি বলেন, ”আমাদের অবিলম্বে এক দেশে এক নির্বাচনে পথে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আমি সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করব এই উদ্দেশে এগিয়ে আসুন। সরকার ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। একটি কমিশন তৈরি হয়েছে, যা ভালো রিপোর্ট দিয়েছে।” 

    আরও পড়ুন: “বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের অবশ্যই বাঁচাতে হবে”, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি

    নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য

    আগামী দিনে দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে ৭৮তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এদিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”দেশের শীর্ষ আদালতও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছে। একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরি সংবিধান নির্মাতাদের স্বপ্ন ছিল। যে আইনে ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করা হয়েছে, যে আইন উচ্চ বর্ণ-নিম্ন বর্ণের মধ্যে ফারাক তৈরি করে, আধুনিক সমাজে সেই আইনের কোনও জায়গা নেই।” 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Uniform Civil Code: আগামী ৫ বছরের মধ্যে কার্যকর হবে অভিন্ন নাগরিক বিধি, জানালেন অমিত শাহ

    Uniform Civil Code: আগামী ৫ বছরের মধ্যে কার্যকর হবে অভিন্ন নাগরিক বিধি, জানালেন অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃতীয়বারের জন্য মোদি সরকারের গঠন হলে সারাদেশে কার্যকর হবে অভিন্ন নাগরিক বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uniform Civil Code)। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘‘মোদি সরকার তৃতীয়বারের মেয়াদে এক দেশ-এক নির্বাচনকেও বাস্তবায়ন করবে। কারণ সারা দেশে একসঙ্গে নির্বাচন হওয়ার সময় এসেছে।’’ এর কারণ হিসেবে অমিত শাহ বলেন, ‘‘দেশের সমস্ত ভোট এক সঙ্গে হলে নির্বাচনের খরচ অনেক কমে আসবে।’’ প্রসঙ্গত, ভারতীয় জনতা পার্টির পূর্বতন ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই পার্টির অ্যাজেন্ডার মধ্যে রয়েছে ইউসিসি (Uniform Civil Code)। সম্প্রতি, বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডে তা চালুও হয়েছে।

    অভিন্ন নাগরিক বিধি

    অভিন্ন নাগরিক বিধি বা ইউসিসি (Uniform Civil Code) নিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘‘অভিন্ন নাগরিক বিধিকে কার্যকর করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশের স্বাধীনতার পরেই সংবিধান সভা আমাদের জন্য যে নীতিগুলি নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে অভিন্ন নাগরিক বিধিও। অমিত শাহের আরও সংযোজন, ‘‘সংবিধান সভার কেএম মুন্সি, রাজেন্দ্র প্রসাদ, বিআর আম্বেদকরের মতো আইনজ্ঞরা জানিয়েছিলেন যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে, ধর্মের ভিত্তিতে আইন থাকা উচিত নয়। এখানে একটি অভিন্ন নাগরিক বিধি চালু হওয়া উচিত।’’

    এক দেশ-এক নির্বাচন

    সাধারণভাবে দেশের বেশিরভাগ নির্বাচনই হয় গ্রীষ্মকালে। এপ্রিল মে মাস নাগাদ। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসন, সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের বেশ কষ্ট হয়, গরমের মধ্যে প্রচার সারতে, ভোটের কাজ করতে। তাই শীতকালের সময় বা বছরের অন্য কোনও সময় নির্বাচন করা সম্ভব কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে অমিত শাহ বলেন, ‘‘আমরা এটা নিয়ে ভাবতে পারি।’’ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছরই দেশের কোনও না কোনও রাজ্যে নির্বাচন হয়। এতে বিপুল খরচ হয়। এক দেশ-এক নির্বাচন বাস্তবায়িত হলে খরচ বাঁচবে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Rajnath Singh: “ক্ষমতায় এলেই এক দেশ, এক নির্বাচন চালু করবে এনডিএ”, আশ্বাস রাজনাথের

    Rajnath Singh: “ক্ষমতায় এলেই এক দেশ, এক নির্বাচন চালু করবে এনডিএ”, আশ্বাস রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এক দেশ, এক ভোটের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে সওয়াল করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে বিরোধীদের বাধায় এতদিন তা কার্যকর হয়নি। এবার বিজেপি ক্ষমতায় এসেই এক দেশ, এক ভোট চালু করবে।” কথাগুলি বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ (Rajnath Singh)। অন্ধ্রপ্রদেশের কাদাপা জেলার জামলামাদগু এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় ওয়াইএসআর কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, “দুর্নীতির নিরন্তর অনুশীলন করায় রাজ্যের ঋণের বহর ১৩.৫ লাখ কোটি টাকা।”

    কী বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী? (Rajnath Singh)

    ওয়াইএসআরসিপিকে আক্রমণ শানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের ওপর রাজ্যবাসী বিরক্ত। যদি এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসে, তাহলে অন্ধ্রপ্রদেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে।” রাজনাথ (Rajnath Singh) বলেন, “অন্ধ্রপ্রদেশে লোকসভার পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনও হচ্ছে। আমাদের দায়বদ্ধতা হল এক দেশ, এক নির্বাচন চালু করা। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশে চালু হয়ে যাবে এই ব্যবস্থা। এতে সময়ের পাশাপাশি বাঁচবে মানব শ্রমও।”

    কংগ্রেসকে নিশানা রাজনাথের

    প্রত্যাশিতভাবেই এদিন কংগ্রেসকেও আক্রমণ শানিয়েছেন রাজনাথ। বলেন, “যেভাবে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গিয়েছিল ডাইনোসোর, তেমনি করেই দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যাপট থেকে হারিয়ে গেল গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি। দশ বছর পরে যদি কোনও বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, সে পাল্টা জিজ্ঞাসা করবে কংগ্রেস দলটা কী।” কংগ্রেস প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমহা রাওকে অশ্রদ্ধা করে বলেও অনুযোগ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বলেন, “কংগ্রেস ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমহা রাওকে কোনওদিন সম্মান দেয়নি। তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার তাঁকে সম্মান করে। দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্ন পুরস্কারে ভূষিত করেছে তাঁকে।”

    আরও পড়ুুন: “মোদি সরকারের আমলেই সব চেয়ে বেশি চাকরি হয়েছে”, দাবি অর্থনীতিবিদের

    মোদি জমানায় যে দেশের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে, এদিন তাও মনে করিয়ে দেন রাজনাথ। বলেন, “ভারতীয় অর্থনীতির চাকা দ্রুত গড়াচ্ছে। নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বে অচিরেই আমরা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকার পঞ্চম থেকে তৃতীয় স্থানে চলে আসব।” মোদি সরকারের আমলেই যে দেশের ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার ওপরে উঠে এসেছে, তাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। মোদির কুশলী পদক্ষেপের জন্যই যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সাড়ে চার ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল, এদিন তাও মনে করিয়ে দেন রাজনাথ (Rajnath Singh)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

     

  • One Nation One Election: লোকসভার ভোট কি এগিয়ে আসবে! “এক দেশ এক নির্বাচন” নিয়ে অনুরাগ ঠাকুর কী বললেন?

    One Nation One Election: লোকসভার ভোট কি এগিয়ে আসবে! “এক দেশ এক নির্বাচন” নিয়ে অনুরাগ ঠাকুর কী বললেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দেশ এক নির্বাচন (One Nation One Election) প্রসঙ্গ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর খুব চর্চা বহুল প্রশ্নের উত্তর দিলেন। বিধানসভা নির্বাচন কি পিছিয়ে যাবে! নাকি লোকসভা ভোট এগিয়ে আসবে! এই নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কেন্দ্রীয় নীতির কার্যকারিতা নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    কী বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী (One Nation One Election)?

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র দেশে, এক দেশ এক নির্বাচন (One Nation One Election) কার্যকর করতে ৮ জনের একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করছেন। এই কমিটির সভাপতিত্ব করবেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এই কমিটি পর্যালোচনা করে, নীতিকে বাস্তবায়িত করবে বলে জানান অনুরাগ ঠাকুর। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এই নীতি কার্যকর হলে দেশে নির্বাচন সংক্রান্ত অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

    আসন্ন বিধানসভা এবং লোকসভা নিয়ে কী বললেন?

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এক দেশ এক নির্বাচন (One Nation One Election) প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আসন্ন লোকসভা এবং বিধানসভা নিয়ে বললেন যে, দেশে বিধানসভার নির্বাচনগুলি ঠিক করে রাজ্য। বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্র কিছু বলে না। যে সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীরা এখনও নির্বাচন নিয়ে কিছু বলেননি। সব কিছুতেই কেন্দ্রের উপর দায় চাপানো যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    কেন এক দেশ এক নির্বাচন প্রয়োজন?

    এক দেশ এক নির্বাচন (One Nation One Election) কার্যকর হলে কতটা লাভ জনক হবে এই নিয়ে মোদি সরকার স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। সারা দেশ জুড়ে এই যে এত নির্বাচনে খরচ, তাকে কম করা একান্ত প্রয়োজন। একটি ভোটার তালিকা থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পরিচালনা করলে সরকারি কর্মীদের তালিকা প্রস্তুত করার জটিলতা অনেক কমে যাবে। এই নীতিকে নীতি আয়োগ, আইন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন বিশেষ ভাবে সমর্থন করেছেন। যদিও বিরোধী দলগুলি এই নীতিকে মানতে চাইছেন না। তাঁদের দাবি, মোদি সরকার ঘুর পথে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ব্যবস্থাকে চালু করতে চাইছেন বলে বিশেষ অভিযোগ তুলেছেন।   

     

     দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share